• ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Cpim

রাজ্য

বিজেপি জন্মানোর আগে থেকে সিপিএম আছে, পরে তৃণমূল জন্মেছে', সেলিমের জবাব

রাজনীতিতে এ-টিম, বি-টিম-এর কটাক্ষ চিরকাল হয়ে এসেছে। বিরোধীরা তৃণমূলকে বিজেপির বি-টিম বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে। বৃহস্পতিবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমকে বিজেপির বি-টিম বলে দাবি করেছে। এদিন এই প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, বি-টিম ব্যাপারটা উনি ভাল বোঝেন। বিজেপি জন্মানোর আগে থেকে সিপিএম আছে। বিজেপি জন্মানোর পরে তৃণমূল জন্মেছে। ১৯৮০ সালে বিজেপি জন্মেছে। তার ২০ বছর পরে তৃণমূল জন্মেছে। এখন তিনি বলছেন কে কার বাবা, কে কার ব্যাটা।এদিন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দিকে নিশানা করেছেন অমিত শাহ। সিপিএমের রাজ্য় সম্পাদক বলেন, গরুপাচার কাণ্ডে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পুলিশ ও বিএসএফের নেক্সাস রয়েছে। গুজরাতে বসে, দিল্লিতে বসে পাচার প্রক্রিয়া চলে। আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবারের নাম জড়িয়েছে। গরুপাচারের জন্য দরজা খোলা হয়। কোটা রয়েছে বিজেপি ও তৃণমূলের। অথচ সীমান্তের গ্রামের বাসিন্দারা উঁচু গাছ চাষ করতে পারে না। সীমান্তের বাসিন্দাদের জীবনযন্ত্রনা রয়েছে। নানা বিধিনিষেধ আছে।সম্প্রতি রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে একজন খুনের পর ৮জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। পরে হাসপাতালে আরও ২ জন মারা যায়। এরপর উত্তরপ্রদেশে একই পরিবারের ৫ জনকে গলার নালি কেটে খুন করা হয়। বগটুইতে বিজেপির প্রতিনিধি দল ও উত্তরপ্রদেশে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল যায়। এরাজ্যে কিছু ঘটনা ঘটলেই উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে কেন তুলনা টানা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে কেন তুলনা হবে? আগে কোনও দিন হয়েছে কি? হাতরাস রয়েছে বলে হাঁসখালি হতে হবে? এসএসসির নিয়োগ ঘোষণা নিয়ে সেলিমের মত, তিনি চপ থেকে চাপে এসেছেন। দীর্ঘদিন লড়াই করেছে চাকরি পরীক্ষার্থীরা। রাস্তার ধারে পড়ে থেকে লাঠি খেয়েছে। শুধু এসএসসি নয় মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। আজ ঘোষণা করছেন। অথচ লক্ষ লক্ষ পদ খালি রয়েছে। কোনও স্কুলে একজন শিক্ষক। তিনিই রান্না করেন। তিনিই পড়ান। ২০১৬ সালে যে পদের ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেন তাঁরা গেলেন কোথায়। শিক্ষা দফতরের দুর্নীতিতে দুই মন্ত্রীই যুক্ত বলে অভিযোগ করেছেন সেলিম। সিবিআই তদন্ত নিয়ে সেলিম বলেন, দিল্লি সিবিআইয়ের নির্দেশ না পেলে এগোবে না।

মে ০৫, ২০২২
রাজ্য

সিপিএম 'ছাড়ছেন' অনিল কন্যা অজন্তা, তৃণমূলে যোগ জল্পনা তুঙ্গে

সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের মেয়ে অজন্তা বিশ্বাস কী সিপিএম ছাড়লেন? তিনি দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ নবীকরণ না করায় এই প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে। এর আগে তৃণমূলের মুখপাত্র জাগো বাংলায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রবন্ধ লিখে শিরোনামে এসছিলেন অজন্তা।রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা অজন্তা বিশ্বাস জাগো বাংলায় ওই প্রবন্ধ লেখার দরুন তাঁকে সিপিএম সাসপেন্ড করেছিল। তাঁর শাস্তির মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে বলে সিপিএম সূত্রের খবর। কিন্তু তিনি তাঁর সদস্যপদ নবীকরণ করেননি। সেক্ষেত্রে এখন আর তিনি সিপিএমের সদস্য রইলেন না। কলকাতা জেলা কমিটি বা অজন্তা নিজে এখনও এবিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। সেক্ষেত্রে তাঁর দল ছাড়়ার জল্পনা আরও বেড়েছে।সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদকের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অসম্ভব বলেই মানতেন ডান-বাম সব রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। তাঁর জমানায় সিপিএস নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট রাজ্যে সর্বোচ্চ বিধানসভার আসন পেয়েছিল। একসময় দলীয় মুখপত্র গণশক্তি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অনিল বিশ্বাস। তাঁর কন্যার দল ছাড়ার জল্পনায় সিপিএমে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছে। এরই মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে তাহলে কী অজন্তা ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেবেন?

এপ্রিল ২৬, ২০২২
রাজ্য

বামেদের আইন অমান্য আন্দোলনে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ধুন্ধুমার কান্ড বর্ধমান শহরে

পূর্ব বর্ধমান জেলা বামপন্থী গণসংগঠণের ডাকে আইন অমান্য ঘিরে প্রবল উত্তেজনা ছড়ালো বর্ধমান শহরে। মঙ্গলবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব সহ একাধিক দাবীতে আইন অমান্যর ডাক দেয় জেলার বামপন্থী গণসংগঠনসমূহ। বর্ধমান রেল স্টেশন থেকে মিছিল করে এসে কার্জনগেটে আইন অমান্য করে তারা। কার্জনগেটে পুলিশের একটি ব্যারিকেড ভেঙে দেয় তারা। দ্বিতীয় ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। কর্মসূচিতে ছিলেন সিপিএম নেতা অমল হালদার, সৈয়দ হোসেন,তাপস সরকার সহ অন্যান্যরা বামপন্থী নেতৃত্বরা। অমল হালদার জানান, আমরা একটার পর এক ব্যারিকেড ভেঙে আমাদের আইন অমান্য আন্দোলন করলাম, কিন্তু আইন অমান্য যে করছি! আমাদের দেশে কি আদও আইন বলে কিছু আছে? আনিশ খান মারা গেলো, বর্ধমানে তুহিনা বলে এক ছাত্রী মারা গেলো। আরও অবাক ব্যাপার সেই ছাত্রীর আত্ম্যহত্যায় প্রোরচনা দেওয়া আসামী এসডিও-র কাছে শপথ বাক্য পড়ে এলেন। তিনি মনে করেন এই মুহূর্তে আমাদের দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই।তিনি আরও বলেন, সোমবার রাতে রামপুরহাটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক গণহত্যায় প্রায় ১০ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়। একজন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান-র হত্যার বদলি ১০ টি তাজা প্রান চলে গেলো। তিনি জানান আজকের এই আইন অমান্য ২৮ ও ২৯ তারিখের ধর্মঘট কে সফল করার জন্য। ১২ দফা দাবী নিয়ে এই ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি বামজোট এই সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। সাধারণ মানুষকে দেশের এই ভয়াবহ দুর্দিনে এগিয়ে এসে ধর্মঘটে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।অমল হালদার আক্ষেপের সুরে বলেন সারা দেশে একের পর এক রাষ্টায়ত্ত কল কারখানা বন্ধ হচ্ছে। হু হু করে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন রাষ্টায়ত্ত কল কারখানা বেসরকারিকরন ও বিলগ্নিকরন হচ্ছে। মানুষ তাঁর ফসলের ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না। ক্ষেত মজুরদের কাজ বন্ধ সহ একাধিক দাবী তোলেন এই আইন অমান্য আন্দোলন থেকে।রামপুরহাট কান্ড নিয়ে বীরভূমের অবিসংবাদিত তৃণমূল নেতা অনুব্রত-র মন্তব্য নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বাম নেতা আমল হালদার জানান, অনুব্রত যা বলেছেন তা তিনি বিশ্বাস করেন না, কারন একটা বাড়িতে টিভি ফেটে আগুন লাগতে পারে, পর পর ১০-১২ টা বাড়িতে একসাথে টিভি ফেটে আগুন লেগে এত মানুষের মৃত্যু! তিনি আক্ষেপ করে বলেন এই পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে কোনও আইন নেই, গোটা পশ্চিমবঙ্গ তছনছ হয়ে গেছে।

মার্চ ২২, ২০২২
রাজ্য

এ এক ভিন্ন ছবি, বুথ চত্ত্বরে ভোট উৎসবে মাতলেন শাসক-বিরোধী দলের তিন প্রার্থী

পুর ভোটে ভোট লুট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে রবিবার সারাটি দিন সোচ্চার থাকে বিরোধীরা। কিন্তু তারাই মধ্যে এদিন সম্পূর্ন উল্টোচিত্র দেখা যায় পূর্ব বর্ধমানের কালনা পৌসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। এখানকার কালনা হিন্দু গার্লস হাই স্কুলের বুথ চত্ত্বরের বেঞ্চে এক সঙ্গে বসে হাসি ঠাট্টা করে খোশ মেজাজেই দিনটা কাটালেন তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএম প্রার্থীরা। যা দেখে শাসক ও বিরোধী সব দলের ভোটাররা ভিমড়ি খেয়ে যাবার মতন অবস্থা। কিন্তু তিন তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী বাগ, সিপিএম প্রার্থী শর্মিষ্ঠা বাগ ও বিজেপি প্রার্থী মামনি ঘোষ সেইসবকে কোন গুরুত্বই দিলেন না।বরং এক সুরেই তিন প্রার্থী জানিয়ে দিলেন, কোথায় কি হচ্ছে জানি না। তবে তাঁদের এলাকার ভোটাররা ভোট দিয়ে যাকে খুশি জেতাবেন। সেটাই তাঁরা মাথা পেতে নেবেন।পুরভোটে কালনা পুরসভার একাধিক বুথে ভোট লুট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয় সিপিএম ও বিজেপি দলের প্রার্থী ও এজেন্টরা । কিন্তু তারই মধ্যে ব্যতিক্রম থাকে কালনা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের হিন্দু গার্লস হাই স্কুলের বুথে বসে আড্ডার মাঝেই তৃণমূল, সিপিএম ও বিজেপি দলের প্রার্থীরা ভোটারদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টি দেখলেন। একই সঙ্গে ভোটসংক্রান্ত নিজেদের নানা কাজ ও যাঁকে ফোন করার তাও করলেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডে যখন শাসক-বিরোধীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত হাতাহাতি মারামারির উপক্রম তখন তৃণমূলের তনুশ্রী,সিপিএমের শর্মিষ্ঠা ও বিজেপির মামনি এক বঞ্চে একসঙ্গে বসে টিফিন সেরে চা খেয়ে রীতিমতো জমাটি আড্ডাও দিলেন। এনারই যেন বুঝিয়ে দিতে চাইলেন ভোট আসলে গণতন্ত্রের উৎসব।তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী বাগ বলেন, ভোট উৎসবে খুব ভালোভাবেই ভোট হচ্ছে। আমরা তিন প্রার্থী একসঙ্গে ভোট উৎসব এনজয় করছি। বিজেপির প্রার্থী মামনি ঘোষ দাস বলেন, সকাল থেকে চা,টিফিন সবই আমরা একসঙ্গে খেয়েছি। কোন বিরোধ নয়। নিজেদের মতন করেই আমরা একসঙ্গে ভোট করছি। কোন অসুবিধা হয়নি। সিপিএমের প্রার্থী শর্মিষ্ঠা নাগ সাহা বলেন, মানুষ যাকে ভালোবাসবে তাঁকেই বেছে নেবে। আমারা সেটাই চেয়েছি। ভোটাররা যে রায় দেবেন সেটা আমরা মাথা পেতে মেনে নেব। ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াটাই হওয়াটাই বড় কথা।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২
রাজ্য

পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও লুঠের পুরভোটের অভিযোগ তুললেন বিরোধীরা

পুর ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে দলীয় মুখপত্রে বার্তা দিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল। কিন্তু বাস্তবে রবিবার পূর্ব বর্ধমান সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় ঠিক তার উল্টোটাই ঘটলো। বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট দেওয়া, বিরোধী দলের এজেন্টের উপরে হামলা সবেতেই অভিযোগের আঙুল উঠলো শাসক দলের দিকে। এমন পুর ভোট দেখে তিতি-বিরক্ত ভোটাররাও। রাজ্যের যে ১০৮ টি পুরসভার নির্বাচন এদিন ভোট হয় তার মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া, দাঁইহাট, মেমারি ও গুসকরা পুরসভাও ছিল। এদিন ভোট শুরুর ঘন্টা খানেকের মধ্যেই গোলযোগ অশান্তি শুরু হয়ে যায় গুসকরা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে। গুসকরার শান্তিপুর পূর্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকা ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি বুধে ব্যাপক গণ্ডগোল বেঁধে যায়। বহিরাগতরা বুধে ঢুকে তৃণমূলের হয়ে ছাপ্পা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে স্বোচ্চার হয় সিপিএমের প্রার্থী ও এজেন্টরা। একই অভিযোগ তুলে স্বোচ্চার হন এলাকার ভোটাররাও। পুলিশের বিরুদ্ধে নিস্কৃয়তার অভিযোগ তুলে তাঁরা সবাই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। শুরু হয়ে যায় পুলিশকে লক্ষ করে ইট ছোড়া। ইটের আঘাতে চোট পান গুসকরা ফাঁড়ির আই সি অরুণ সোম সহ ৪ পুলিশ কর্মী। এর পরেই পুলিশ লাঠি চার্জ করে ও লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয়। এমন গোলযোগ অশান্তির জন্য প্রায় আধ ঘন্টা ভোট গ্রহন থমকে থাকে সংশ্লিষ্ট বুথে। গুসকরা পুরসভার ভোটে প্রতিদ্বন্দি সিপিএম, বিজেপি উভয় বিরোধী দলের প্রার্থী ও এজেন্ট দের অভিযোগ, বেলা বাড়তেই গুসকরা পুরসভার ১৬ টি ওয়ার্ডের সব বুথেরই দখল নিয়ে নেয় শাসক দলের বহিরাগত দুস্কৃতিরা। ওই দুস্কৃতিরা বিরোধী দলের প্রার্থী, এজেন্ট ও ভোটারদের বুথ থেকে বাইরে বের করে দিয়ে অবাধে ছাপ্পা দিয়ে গেছে। এমনই অভিযোগ এদিন করেছেন জেলা সিপিএম নেতা আলমগীর মণ্ডল ও গুসকরার বিজেপি নেতা পতিতপাবন হালদার।পৌরসভা নির্বাচনএকই ভাবে এদিন কালনা পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডেও গোলযোগ অশান্তির ঘটনা ঘটে। কালনা পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অম্বিকা মহিষমর্দিনী প্রাথমিক স্কুলের বুথের দরজা বন্ধ করে পুলিসের সামনেই তৃণমূলের হয়ে ছাপ্পা ভোট দেবার অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকদের ক্যামেরাতেও ধরা পড়ে ছাপ্পা ভোট দেবার ছবি। তা বুঝতে পেরেই মুখ ঢেকে বুথ থেকে ছুটে পালায় ওই ভুয়ো ভোটার। ছাপ্পা চলাকালীন ওই বুথে ভোট দিতে গিয়ে নিগৃহীত হয়ে এক ছাত্র বুথ চত্ত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। যদিও এইসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল প্রার্থী মৌসুমী কারফা। কালনা পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী শুভদেব হাজরা অভিযোগ করেছেন, কালনার শশীবালা স্কুলের বুথ ভোট শুরুর আগেই তৃণমূল কর্মীরা মারধোর করে তাঁকে বুথ থেকে বের করে দেয় যদিও তৃণমূল প্রার্থী সুনীল চৌধুরী এই অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। কালনা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডেও ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একাধীক বুথে ছাপ্পা ভোট দেওয়া নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সিপিএম প্রার্থী পিয়ালী মুখোপাধ্যায় সহ বাম নেতা কর্মীরা। পিয়ালীদেবী বলেন, ভোটের একদিন আগেই তৃণমূলের দুস্কৃতিরা তাঁকে ব্যাপক মারধোর করে, মাথা ফাটিয়ে দেয়। আর এদিন ভোট শুরুর প্রথম থেকেই তৃণমূলের দুস্কৃতিরা বুথে বুথে ঢুকে ভোট লুঠ শুরু করে দেয়। বাইক বাহিনী হঠাৎ কালনার মহিষমর্দিনী গার্লস স্কুলের বুথে ঢুকে ইভিএম ভেঙে দেয় বলে সিপিএমের অভিযোগ। বাইক বাহিনী সিপিএম প্রার্থী ও কর্মীদের মারধোরও করেছে বলে অভিযোগ। এইসবের জন্য ওই বুথে ভোট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছালে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। ভোট লুঠের জন্য পুলিশকে দায়ী করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সিপিএম প্রার্থী ও কর্মীরা। তাঁরা কালনার নিভূজি মোড়ে সড়কপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে দেয়। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বাম কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। পরে পুলিশ জোর-পূর্বক অবরোধ তুলে দেয়। মেমারি পুরসভার ভোটে তেমন কোন বড়সড় গোলযোগ আশান্তির অভিযোগ বিরোধীরা তোলেন না। তবে এদিন দুপুর ৩টে নাগাদ বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটে মেমারির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুরের ২১০ ও ২১২ নম্বর বুথে। বহিরাগতরা বুথ জ্যাম করে ছাপ্পা ভোট দিতে গেলে বিরোধী দলের প্রার্থী, এজেন্ট ও ভোটাররা একজোট হয়ে তা রুখে দেয়। তা নিয়ে স্কুল চত্ত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পৌরসভা নির্বাচনবর্ধমান পৌরসভার ভোটেও নির্বাচনের নামে ব্যাপক ভোটলুঠ ও বুথে বহিরাগতদের দাপাদাপির অভিযোগ উঠেছে। পুর-নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে বিকালে বর্ধমান সদর মহকুমাশাসকের দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে দেন বিজেপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা। প্রার্থীরা প্লাকার্ড হাতে সেখান মাটিতে বসে পড়েন। তার আগে পুলিশের সাথেও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বচসাও হয়। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায় তার জন্য মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে বিরাট পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। একই ভাবে ভোটগ্রহণের শেষে বর্ধমানের কার্জন গেটের সামনেও উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন সন্ধ্যায় কার্জন গেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল হয় বাম, বাম ছাত্র-যুব ও অন্যান্য গণসংগঠনের প্রতিনিধরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, পুরভোটে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য ভোট লুঠ করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে বামেরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কুশপুতুল পোড়ায়। বিক্ষোভের শেষে দলের নেতা অমল হালদার বলেন, জেলার ৬ টি পুরসভার ভোটেই নিরব সন্ত্রাস ও ভোট লুঠ চলেছে। গোটা রাজ্যেই ভোটলুঠ হয়ে হয়েছে। মানুষকে ভোটদানে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদেই তারা পথে নেমেছেন। এই কর্মসূচি চলাকালীন কিছু উচ্ছৃঙ্খল বাম সমর্থক সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কটু মন্তব্য করলে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরে অবশ্য উচ্চ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। তৃণমূলের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডু বলেন,যেমন সিপিএম তেমনই বিজেপি। সংগঠন নেই জনসমর্থনও নেই। শুধু অভিযোগ তুলেই বিরোধীরা পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার কৌশল নিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
কলকাতা

নির্বাচনের আগের দিন ভাটপাড়ায় সিপিএম প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত ভোটগ্রহণ

আগামিকাল ১০৮ টি পুরসভায় ভোটগ্রহণ। তার জন্য প্রস্তুতিও ছিল তুঙ্গে। নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন শাসক শিবির, বিরোধী শিবির। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে হয়েছে প্রচারাভিযান। কিন্তু নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘটল ছন্দপতন। ভোটের আগের দিন ভাটপাড়ায় শোকের ছায়া। আজ সকালে মারা গেলেন ভাটপাড়ার তিন নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআইএম প্রার্থী বাবলি দে। সেই কারণে বন্ধ থাকবে ভাটপাড়ার তিন নম্বর ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ। আপাতত কাউন্সিলর নির্বাচিত হবে না এই ওয়ার্ডে।সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তিন নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআইএম প্রার্থী বাবলি দের। জানা গিয়েছে গত বৃহস্পতিবার দুপুরবেলা তিনি নিজের ওয়ার্ডে প্রচারে বেরিয়েছিলেন তিনি। প্রচার চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। জানা যায় সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে তাঁর। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ এই দুইদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তারপর আজ ভোররাতে সেই বেসরকারি হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তাঁর মৃত্যুর কারণ আপাতত বন্ধ থাকবে ভাটপাড়া পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

আনিসের মৃত্যু দায় চাপিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুললেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম

পুর ভোটের প্রচারে বর্ধমানে এসে আনিস খানের মৃত্যু নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় তুললেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন,দোষীদের আড়াল করতে চাইছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী। বর্ধমান শহরের কালিবাজারে এক নির্বাচনী জনসভা হয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ।সেখানেই বর্ধমান পুরসভার ভোটে প্রতিদ্বন্দি দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বক্তব্য রাখেন ।সভায় সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী সহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখতে উঠেই মহম্মদ সেলিম রাজ্যে তোলপাড় ফেলা ইস্যু আনিস খানের মৃত্যু নিয়ে সরব হন । তিনি বলেন, প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী বললেন পুলিশ যায়নি। তারপর বললেন পুলিশ গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে নীচুতলার কয়েকজন পুলিশকে সাসপেন্ড করা হল। নিচুতলার পুলিশকে কেন সাসপেন্ড করা হল? তার উপরে তো হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার আছে।সেলিমের আরও অভিযোগ, ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলে দিলেন, পুলিশ যায়নি। কারণ যে কোন বড় ঘটনাকে খেলো করে দেখা ওনার স্বভাব। যখন বড় ঘটনা হয় তখন নীচুতলায় কোপ পড়ে। এই আনিসের ঘটনায় এস পি বা পুলিশ মন্ত্রী কি দায় এড়াতে পারেন?। তার প্রশ্ন, আনিসের বাবা আমতা থানায় ফোন করার ছয় ঘন্টা পর পুলিশ আসে। আজ পড়ুয়ারা কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদ করছিল। সেখানে শয়ে শয়ে পুলিশ চলে এলো? কেন কি হচ্ছে? শাসকদল বলছে, এই মৃত্যু নিয়ে বিরোধীরা ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে, সেলিমের প্রশ্ন, জল ঘোলা করল কারা?

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২
রাজনীতি

বর্ধমানের ভোট লুট নিয়ে পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি সিপিএমের যুব নেত্রীর

রাজ্যে ইতিমধ্যেই যে কটি পুরসভার নির্বাচন হয়েছে তার সবকটাতে তৃণমূলেরই জয় জয়কার। আর তৃণমূলের এই জয়কে ভোট লুটের জয় বলে দাবি করে সোচ্চার হয়েছে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারী হবে বর্ধমানসহ পূর্ব বর্ধমান জেলার ৬ টি পুরসভার ভোট।তার প্রক্কালে মঙ্গলবার ভোট লুট নিয়ে বর্ধমানের পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন সিপিএমের যুব নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডু সিপিএমের যুব নেত্রীর এই হুঁশিয়ারিকে পরাজয়ের আগে মান বাঁচানোর কৌশল বলে কটাক্ষ করেছেন।বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের আসনে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটে লড়েছিলেন মীণাক্ষী মুখার্জী। ভোটে পরাজিত হলেও সেই থেকে বাংলার রাজনীতিতে মীণাক্ষী এখন পরিচিত মুখ। বর্ধমানের পুরভোটে সেই মীণাক্ষীকে লড়াইয়ের মুখ হিসাবে সামনের সারিতে রেখেছেন সিপিএম নেতৃত্ব। এদিন বিকালে বর্ধমানের মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে যুব নেত্রী মীনাক্ষী বলেন, বিগত যে কটি পুরভোট হয়েছে সেই ভোটকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি। তাই বর্ধমান পৌরসভার ভোটে ভোট লুট আটকানোর জন্য তিনি তাঁর দলের কর্মী ও বাড়ির মা-বোনেদের তৈরি হওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের দিন বহিরাগতরা ভোট লুট করতে এলে যে পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে সেই সব পুলিশ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই অফিসেই থাকবে। বাইরে বের হতে দেবেন না। কারণ ওদের কাজ ওরা রাস্তায় করতে পারবে না। তাই ওদের অফিসেই রেখে দিন। দলের কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মীনাক্ষী আরও বলেন, এলাকার তৃণমূলের গুণ্ডা দুস্কৃতিরা যারা ভোট লুট করতে আসবে তাদের দাপটের সঙ্গে বলুন, এক মাঘে শীত যায় না। আজ ভোট লুট করতে এসেছ। কালকে এই পাড়া দিয়েই হেঁটে যেতে হবে। তখন পা নিয়ে হাঁটতে পারবে না।রাজ্যে পুর নির্বাচনকে প্রহসন করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এদিন প্রতিবাদে সামিল হয় বর্ধমানের সিপিআইএম নেতা ও কর্মীরা। তারা দলের যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জীর নেতৃত্বে পদযাত্রায় অংশ নিয়ে বিকালে বর্ধমানের মহকুমাশাসকের দপ্তরে সামনে হাজির হয়। সেখানে হওয়া সমাবেশেও বক্তব্য রাখেন মীণাক্ষী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মীনাক্ষী দাবি করেন, রাজ্যের চার কর্পোরেশনের ভোটে ব্যাপক বেনিয়ম হয়েছে। মৃত মানুষও ভোট দিয়েছেন। ভোটের দিন পিস্তল; মেশিন নিয়ে গুণ্ডারা দাপিয়ে বেড়িয়েছে।এর নামই কি ভোট? বর্ধমানে পুর পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, বর্ধমানে পুর পরিষেবা তলানিতে পৌছেছে। সময়ে এই পুরসভার ভোট যেমন হয়নি, তেমনই হয়নি কর্মী নিয়োগও। মীণাক্ষী মুখার্জী আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি বর্ধমান পৌরসভার ভোট শান্তিতে করাবার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি রাখেন।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
রাজ্য

শিক্ষাগুরু বাম প্রার্থীর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে বর্ধমানে পুরভোটের ময়দান চোষে বেড়াচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী

রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধ রয়েছে ঠিকই। তাবলে পুরভোটের যুদ্ধে নেমে শিক্ষাগুরু ও তাঁর ছাত্রের কেউই পারস্পরিক স্নেহ ভালবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ককে জলাঞ্জলি দিতে চান না। আর সেই কারণেই এবার বর্ধমান পৌরসভার ভোটে সবার নজর কেড়েছে গুরু শিষ্যের লড়াই।যে লড়াইয়ের শেষ ফল দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বর্ধমান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।রাজ্যের যে কটি পৌরসভার নির্বাচন ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে তার সবকটাতেই তৃণমূলেরই জয়জয়কার। এমন ঘাসফুল ঝড়ের মধ্যেই আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি হবে বর্ধমান পৌরসভা ৩৫ টি ওয়ার্ডের নির্বাচন। তার মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন নুরুল আলম ওরফে সাহেব। আর তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দি সিপিআইএম প্রার্থী লুৎফর রহমান মুন্সী। যুজুধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর বাড়ি একই ওয়ার্ডে। সেই ওয়ার্ডেরই দুবরাজদিঘী এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান মল্লিক দুবরাজদিঘী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক।আর সেই বিদ্যালয়েই পড়াশুনা করে বড় হয়ে ওঠা ছাত্র নুরুল আলম আজ তাঁর প্রতিদ্বন্দি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। একজন বয়সে প্রবীন হলেও আপাদমস্তক কমিউনিষ্ট। অপর জন তৃণমূলের তরুণ তুর্কী নেতা।সে যাইহোক ভোট যুদ্ধে অংশ নিয়ে দুজনের কেউ এই বিষয়টিকেই বেশী গুরুত্ব দিতে চান না। বরং দুজনেই চান ভোট যুদ্ধের ময়দানেও অটুট থাকুক গুরু ও শিষ্যের পারস্পরিক স্নেহ ও শ্রদ্ধার বন্ধন। তাই প্রতিদিন ভেটের প্রাচার নেমেই সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে শিষ্য নুরুল পৌছে গেলেন শিক্ষা গুরু লুৎফর রহমান মুন্সীর বাড়িতে। শিক্ষা গুরুর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে গুরুর কাছেও ভোট ভিক্ষা চাইলেন ছাত্র। পাল্টা শিক্ষা গুরুও তাঁর শিষ্যকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে আশীর্বাদ ও শুভকামনা জানালেন। একই সঙ্গে শিক্ষক লৎফর রহমান সবাইকে শুনিয়ে বললেন ,আজকের দিনে রাজনীতিতে আমার ছাত্র নুরুলের মত যুবশক্তির উঠে আসা প্রয়োজন রয়েছে। ভোটের দিন লুৎফর রহমান মুন্সী কিংবা তাঁর পরিবারের কেউ হয়তো নুরুল আলমকে ভোট দেবেন না। তবুও রাজনৈতিক সৌজন্যতার এই দৃশ্য চাক্ষুষ করে কার্যতই অবিভূত দুবরাজদিঘীর বাসিন্দারা। শিক্ষা গুরুর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে সোমবার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অলি গলি ঘুরে নুরুল সারলেন ভোটের প্রচার।নুরুল আলম এদিন বলেন, আমার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময়েই দলের সবাইকে রাজনৈতিক সৌজন্যতা বজায় রেখে চলার বার্তা দেন। নিজেকে বিনয়ী রেখে সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হবার কথা বলেন। সেই আদর্শেই আমি দীক্ষিত।শিক্ষা গুরু আমার প্রতিদ্বন্দি হলেও তিনি আমার গুরুই। তাই ভোট যুদ্ধে শিক্ষা গুরুর আশীর্বাদ মাথায় থাকাটাও বড় প্রাপ্তি। বাকিটা বিচার করবেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনতা জনার্দন। অন্যদিকে সিপিআইএম প্রার্থী লুৎফর রহমান মুন্সী বলেন, আমার ছাত্র নুরুল আলমের সৌজন্যতা বোধ আমায় মুগ্ধ করেছে। ওর ভবিষ্যৎ জীবন ভালো হোক এই শুভ কামনাই করছি। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস জানিয়েছেন, বর্ধমান পুরসভায় লড়াইটা মূলতই তাঁদের সঙ্গে সিপিএমেরই। তবে তিনি আশাবাদী বর্ধমান পৌরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরাই জয়ী হবেন।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
রাজ্য

প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভবিক্ষোভে কোনও প্রভাব পড়বে না, মন্তব্য তৃণমূল সাংসদ শতাব্দীর

পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থিদের নামের তালিকা তৃণমূল কংগ্রেস প্রকাশ করতেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়ে যায় ক্ষোভ বিক্ষোভ। যার ব্যতিক্রম পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও ঘটেনি। যদিও এইসব ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রদর্শনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছুই দেখছেন না তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। তাঁর মতে এইসব ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কিছু লাভ হবে না।শনিবার পূর্ব বর্ধমানের রায়নার ধারান বুড়োপীর প্রগতি সংঘের সরস্বতী পূজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন শতাব্দী রায়। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, পৌরসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব শুক্রবার দলের প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করছে। তারপর থেকে যাঁরা ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন তাঁদের উদ্দেশ্য করে শতাব্দী রায় বলেন, অনেকে ভেবে রাখে তাঁর প্রাথী হবেন। কিন্তু তাঁদের ভাবনা যখন মেলে না তখন একটা অভিযোগ তৈরি হয়। তাঁরাএখন কিভাবে অভিযোগটা প্রকাশ করবে সেটা তাঁদের উপর নির্ভর করছে। যদি দলের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে দলের ঘোষিত প্রার্থীকে মেনে নিয়েই তাঁদের কাজ করাটা উচিত।টিকিট পাওয়ার আশা তো সবারই থাকে। কিন্তু টিকিটতো সবাই পায় না। কিন্তু এখন কেউ টিকিট না পেলেই এই সমস্যাটা দেখা যায়। তিনি আরো বলেন, এই বিক্ষোভ দলের উপরে কোনো প্রভাব ফেলবে না।কারণ তৃণমূল কংগ্রেস দলে এখন বহু মানুষের সমর্থন রয়েছে। বহু ভালো মানুষের সমর্থনও রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি। তাই আমি মনে করি এইসব ক্ষোভবিক্ষোভে আগেও কোনও প্রভাব পড়েনি। আর এখনো কোনো প্রভাব পড়বে না।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূল- বিজেপিকে টেক্কা, পূর্ব বর্ধমানের ৬টি পৌরসভায় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা বামেদের, তৃণমূল বিধায়কের প্রার্থী তালিকা ফাঁস মেমারিতে

রাজ্য রাজনীতিতে ২০১১ সালে পালাবদলের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ভোটক্ষয় হয়ে চলেছিল বামেদের। সদ্য সমাপ্ত কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচনে সেইভোটক্ষয়ে কিছুটা লাগাম পরাতে সক্ষম হয় বামেরা। আসন সংখ্যার নিরিখে না হলেও ভোট প্রাপ্তির শতাংশ হারের বিচারে তিলোত্তমা কলকাতায় বিজেপিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে বামেরা। আর কলকাতা পুরভোটে অক্সিজেন পেয়েই এবার একদা বাম দুর্গ পূর্ব বর্ধমানের ছয়টি পৌরসভার নির্ফাচনেও জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া সিএপিএম। রাজ্য নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে পৌরসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা করে। এর ঠিক পরেই জেলার ৬ টি পৌরসভার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েই শাসক দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভোট প্রচারে নেমে পড়েন সিপিএম নেতা কর্মী ও প্রার্থীরা। শাসক নেতৃত্ব বামেদের প্রার্থি ঘোষণার বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিতে না চাইলেও বিধায়কের তৈরি করা প্রার্থী তালিকা নিয়ে মেমারির তৃণমূল শিবিরে এখন ক্ষোভ বিক্ষোভ চরমে উঠেছে। বাম আমলে বলিষ্ঠ সিপিএম নেতা বিনয় কোঙারের গড় হিসাবেই পরিচিত ছিল মেমারি। সেই মেমারির দলীয় কার্যালয়ে থেকেই এদিন মেমারি পৌরসভার ১৬টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে সিপিএম নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি কেউ এদিন প্রর্যন্ত তাঁদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারেনি ।প্রার্থীদের নাম ঘোষণা কেরেই নিবাসী সিপিআইএম জেলা নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, এদিন থেকেই তাঁরা ভোট যুদ্ধে নেমে পড়বেন। যেমন কথা তেমনই কাজ। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েই বাম নেতা কর্মীদের একদল দেওয়াল লিখন আর অন্য দল বাড়ি বাড়ি প্রচার চালানো শুরু করেদেন।তবে বামেদের আগে তৃণমূলের মেমারিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে না পারাটা শাসক দলের নিচু তলার কর্মীদের যথেষ্টই হতাশ করেছে। গত পৌরসভা নির্বাচনে মেমারি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী।৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী। এছাড়াও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিলেন পিডিএস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী ।বাকি সব আসনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থীরা।এখনও মেমারি পৌরসভা পরিচালনার দায়িত্বে তৃণমূলের মনোনীতরাই রয়েছেন।এদিকে দল মেমারি পুরসভার প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ না হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে মেমারির তৃণমূল বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্যের নির্দিষ্ট করা প্রার্থীদের নাম। যা নিয়ে মেমারির পৌর এলাকার তৃণমূল শিবিরে যথেষ্টই ক্ষোভ বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিক্ষুদ্ধদের দাবি, মেমারির বিধায়ক মধুসূদনবাবু নিজের অনুগতদের মেমারি পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।যাঁদের তিনি চিহ্নিত করেছেন তাঁদের নাম, ফোন নম্বার ও কোন ওয়ার্ডে কে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তার তালিকা নিজের বিধায়ক প্যাডে ছাপিয়েছেন। তাতে স্বাক্ষর ও শিলমোহর দিয়ে মধুসূদনবাবু ওই নামের তালিকার লোকজনকেই মেমারির প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করার জন্য সুপারিশ করে ১৭ জানুয়ারি রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছেন। ওই সুপারিশ পত্রে মেমারি পৌরসভার দুবারের চেয়ারম্যান ও বর্তমান অ্যাডমিনিস্ট্রেটর স্বপন বিষয়ীকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও তোলাবাজ বলে অবিহিত করেছেন। আর তা নিয়েই পৌরসভা ভোটের প্রাক্কালে মেমারি শহর জড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ব্যাপক ক্ষোভ বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার কথা। তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যদি মেমারির তৃণমূল বিধায়কের সুপারির করা ব্যক্তিদেরই পুরভোটে প্রার্থি করে তবে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হবে বলে মনে করছেন দলেরই অনেকে। তেমনটা হলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের লড়াইয়ে জমজমাট হবে মেমারি পৌরসভার নির্বাচন। ওই তালিকা বিষয়ে মেমারির বিধায়ক মধূসূদন ভট্টাচার্য্যের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন , নিজের অবজারভেশন মোতাবেক প্রার্থী প্রস্তাবপত্র তৈরী করে ছিলেন। তারপর দলের উচ্চ নেতৃত্ব জানিয়ে দেন তারাই মেমারি পর ভোটের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে সার্ভে করছেন। তাই তিনি আর তার প্রস্তাব পত্র রাজ্যে পাঠাননি। বর্তমান অ্যাডমিনিস্ট্রেটার স্বপন বিষয়ী সন্মন্ধে যেসব যে অভিমত লিখেছেন তার প্রসঙ্গে মধুসূদন বাবু বলেন ,অ্যালিগেশন নিয়ে পাবলিকের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে ওনার বিরুদ্ধে আমার পার্সোনাল অবজারভেশন আমি লিখেছি। স্বপন বিষয়ী যদিও বিধায়কের করা প্রার্থী নির্বাচন তালিকা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, দলের রাজ্য নেতৃত্ব যথা সময়েই মেমারির পৌর ভোটে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করবেন। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীন বিরোধ যখন তুঙ্গে সেই সময়েই মেমারির পর বর্ধমান, গুসকরা, কাটোয়া,কালনা ও দাঁইহাট পৌরসভার প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করেদেন সিপিএম নেতারা। এদিন বিকালে সিপিএমের পূর্ব বর্ধমানের জেলা দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে করে নেতারা ওইসব পৌরসভার বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তাপস সরকার, অপূর্ব চ্যাটার্জি সহ অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। বর্ধমান পৌরসভার নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য বামেদের এবারের প্রার্থী তালিকায় বেশ কিছু নতুন মুখ স্থান পেয়েছে। তালিকায় ফরোয়ার্ড ব্লকের ৪ জন এবং আর এস পির ২ জনের নাম রয়েছে। মোট ৩৫ টি ওয়ার্ডের প্রার্থীদের নাম ঘোষিত হয়েছে। দলের দুই ছাত্র নেতা অনির্বাণ রায়চৌধুরী; অতনু হুই; অরিন্দম মৌলিক; মুনমুন হালদারের মত তরুণ মুখের প্রতিনিধিরা রয়েছেন এবারের ভোট যুদ্ধে । ২০১৩ সালে বর্ধমান পুরসভা ভোটের দিন সকালেই সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সব প্রার্থী তুলে নেয় বামেরা। তারা জানিয়েছেন ; এবারে প্রশাসন তার দায়িত্ব পালন করুক।তা সত্বেও তারা শেষ অবধি ময়দানে থাকবেন।গুসকরা, কাটোয়া,কালনা ও দাঁইহাটের প্রার্থী তালিকায় বাম নেতৃত্ব পুরনোদের পাশাপাশি বহু নতুন মুখকে নিয়ে এসেছেন। একেবারে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই জেলার ৬ টি পৌরসভার প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
রাজ্য

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই মেমারি পুরসভার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ সিপিএমের

সিপিআইএম র প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চ্যাটার্জি, জেলা কমিটির সদস্য অভিজিৎ কোঙার, জেলা কমিটির সদস্য সনৎ ব্যানার্জি, প্রশান্ত কুমার কুমার, পিযুষ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে মেমারি পুরসভার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হল। শাসকদল না পারলেও পুরসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা সাথে সাথে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করল সিপিআইএম নেতৃত্ব।বৃহস্পতিবার মেমারির দলীয় কার্যালয়ে থেকে তারা পৌরসভার ১৬টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। যদিও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি কেউ এখনও পর্যন্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারেননি। সিপিআইএম নেতৃত্ব প্রার্থী ঘোষণা করেই জানিয়ে দেন এ দিন থেকেই তারা ভোট যুদ্ধে নেমে পড়বেন। শুরু করে দেবেন বাড়ি বাড়ি প্রচার।সিপিএমের প্রার্থী তালিকামেমারি পৌরসভা পরিচালনার দায়িত্বে এখন তৃণমূলের মনোনিতারাই রয়েছে। গত পৌরসভা নির্বাচনে মেমারি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী। এছাড়াও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিলেন পিডিএস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী। বাকি সব আসনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থীরা।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
রাজ্য

CPIM: ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে আইনজীবী প্রার্থী দিল সিপিএম

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বামেদের প্রার্থী হচ্ছেন শ্রীজীব বিশ্বাস। বুধবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে তাঁর নাম চূড়ান্ত হয়। এর পর দলের তরফে শ্রীজীবের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ৩১ বছরের শ্রীজীব পেশায় আইনজীবী। ছাত্রাবস্থা থেকেই বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেরই বাসিন্দা। চার মাসে আগে বিধানসভা ভোটে জোটের প্রার্থী হিসেবে ভবানীপুরে লড়েছিল কংগ্রেস। উপনির্বাচনেও ওই কেন্দ্রটি কংগ্রেসকে ছাড়ার কথা জানিয়েছিল বামেরা। সোমবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর উপস্থিতিতে বিধানভবনে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব বৈঠক করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভবানীপুরে বামেদের সমর্থনে ভোটে লড়াই করা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার এআইসিসি-র তরফে অধীরকে জানানো হয়, ভবানীপুরে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে না। কোনও প্রচারও করবে না। এর পরই রাতে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ভবানীপুর কেন্দ্রে বামেরা লড়বে বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বুধবার চূড়ান্ত হল শ্রীজীবের নাম।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Shovan : দীপ্সিতার জন্মদিনে শুভেচ্ছা 'দাদান' শোভনের

দীপ্সিতা ধর। খুব পরিচিত একটি নাম। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে যিনি হয়ে উঠেছিলেন সিপিআইএমের প্রার্থী তালিকার তারুণ্যের মুখ। সোমবার ছিল তার জন্মদিন। দীপ্সিতার এই বিশেষ দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানালেন দাদা শোভন গঙ্গোপাধ্যায়। শেয়ার করলেন দাদা-বোনের ছোট বেলার নানা টুকরো ছবি।আরও পড়ুনঃ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত বলিউড অভিনেত্রীসোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে শোভন লিখেছেন, শুভ জন্মদিন বোনু। ফ্রম দাদান। মোট চারটে ছবি শেয়ার করেছেন শোভন। নানা বয়সের নানা মুহূর্তের ছবি। পারিবারিক অ্যালবাম থেকে ছবি ঠাই পেয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। শুভেচ্ছা বার্তা ভেসে এসেছে এই বাম যুবনেত্রীর জন্য।আরও পড়ুনঃ অক্ষয় কুমারের স্টান্ট ভয় পান তাঁর স্ত্রী ট্যুইঙ্কল খন্নাপ্রসঙ্গত গায়ক শোভন দীপ্সিতার মাসতুতো দাদা। এর আগে বোনের হয়ে প্রচারে গান বাঁধতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। ভোটের সময় তার মাসির মেয়ের জন্য গান বাঁধতে দেখা গিয়েছিল শোভনকে। তবে সেই গানের মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ তুলে ধরতে চাননি এমনটাও জানান।

আগস্ট ১০, ২০২১
নিবন্ধ

Bidhan Chandra Roy: বিরোধী বিধান'-র জ্যোতি স্নেহ

ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের মুখ্যমন্ত্রী সময়কাল ও তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে বহু কথা আলোচিত হয়। কিন্তু তাঁর আপাত গম্ভীর চেহারার মধ্যে অসম্ভব রসবোধ নিয়ে সেভাবে চর্চা হয়না। মানুষটির অসামান্য ব্যক্তিত্বের আড়ালে যে অনবদ্য রসবোধ সম্পন্ন একটি চরিত্র লুকিয়ে থাকত তা ওনার মুখের অভিব্যক্তি দেখে একেবারেই আন্দাজ করা যেতনা। তাঁর রসবোধ নিয়ে বহু কাহিনি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। শোনা যায় বিধান রায় প্রায়ই মজার ছলে তাঁর রোগীদের বলতেনঃ# ডাক্তারবাবুরা যে যে ওষুধ লিখে দেবে তা অবশ্যই কিনবেন, কেননা দোকানদারদেরও তো বাঁচতে হবে।# ওষুধ কিনে বাড়ি ঢুকেই ওইগুলি ডাস্টবিনে ফেলে দেবেন কারণ আপনাকেও তো বাঁচতে হবে! তাঁর গম্ভীর ভাবে রসিকতা শুনে ডাক্তাখানার উপস্থিত সকলে হেসে অস্থির হতেন।জানা যায় তিনি ঘনিষ্টমহলে বলতেন, রোগ সারাতে হাসি খুব দরকার। হাসি রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়। মন প্রফুল্ল থাকলে অসুখ বোধ কম থাকে। তাঁর মতে আমাদের অসুখের সত্তর ভাগ শারীরিক বাকিটা মানসিক। বিধাসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়চিকিৎসক হবার বিশেষ ইচ্ছা ছোটবেলায় বিধান রায়ের ছিল না, তিনি একই সাথে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ফর্মের জন্য আবেদন করেছিলেন। ডাক্তারির ফর্মটা আগে আসায় ওটাতেই আবেদন করেন। কলেজ স্ট্রিট ওয়াইএমসিএ-তে তিনি থাকতেন। প্রবল অর্থাভাবের মধ্যেই তিনি ডাক্তারি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। রোগীর বাড়িতে বারো ঘণ্টায় আট টাকা পারিশ্রমিকে মেল নার্সের কাজ অবধি করেছেন। মেল নার্স কথাটি আজকাল তেমন শোনা যায় না। অর্থাভাবে কলকাতার রাস্তায় ট্যাক্সিও চালিয়েছেন। কাজের গুরুত্ব বোঝাতে একথা তৎকালীন রাইটার্সের কর্মীদের প্রায়সই তিনি বলতেন। আজকের সমাজিক মাধ্যম সেই সময়ে থাকলে তাঁকে ট্যাক্সি ড্রাইভার মুখ্যমন্ত্রী আখ্যা দিতে খুব বেশী দেরী করত না।বিধান চন্দ্র রায় ও জ্যোতি বসু-র রাজনৈতিক ভাবধারা ও রাজনৈতিক দল সম্পুর্ণ দুই মেরু তে অবস্থিত ছিল। একজন ডান পন্থী আরেকজন কট্টর বামপন্থী। কিন্তু তাদের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সন্মানবোধ ছিল দেখার মত। এই সম্পর্ক নিয়ে বহু কাহিনী লোক মুখে ছড়িয়ে পড়ে।জগদীশ চন্দ্র বোসের জন্ম শতবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর সাথে বিধান রায়জানা যায়, ১৯৫৪-তে বিধান চন্দ্র রায় তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দলনেতা জ্যোতি বসু। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষকদের জঙ্গি আন্দোলনে বেসামাল সরকার। বিধানসভায় প্রতিদিন বিরোধীদের ওয়াক আউট। স্তব্ধ বিধানসভার কাজ। বিড়ম্বনায় পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা অবস্থা তথৈবচ। জঙ্গি আন্দোলনের জন্য বিরোধী দলনেতা জ্যোতি বসুর বিরুদ্ধে জারি হল গ্রেফতারি পড়োয়ানা। জ্যোতি বসু তখন বিধানসভায়। বিধানসভার বাইরে পুলিশ তাঁর অপেক্ষায়। বেরোলেই গ্রেফতার করবে জ্যোতি বসুকে। খবরটা বিধান চন্দ্রর কানে যেতেই তিনি তাঁকে আলাদা করে ডেকে বললেন, রাতে বিধানসভায় থেকে যেতে। যাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার না করতে পারে। আর তাঁর কোনো অসুবিধা না হয় তার ব্যবস্থাও তিনি করলেন। বিধান রায়ের এহেন আচরণে কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা খুশি হননি। বিধান রায়ের বক্তব্য, আমার বিরোধী দলের হলেও উনি খুব বড়ো রাজনীতিবিদ। ওঁকেও প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতীক নেতাদের কাছে সৌজন্যবোধের এই নিদর্শন মানুষ আশা করেনা। শোনা যায়, বিধান রায় পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন যে, কোনও বিক্ষোভ হলেই জ্যোতিকে গ্রেপ্তার করে আগে জেলে ভরে দেবে। জ্যোতি বসু বারবার গ্রেপ্তার হয়ে আর জেলে গিয়ে তিতিবিরক্ত হয়ে একদিন বিধানচন্দ্রকে বললেন, আপনার পুলিশ যে কোনও আন্দোলন হলেই আমাকে ধরে কেন? বিধান রায় এতটুকু বিচলিত না হয়ে সহাস্যে উত্তর দিলেন তুমি তো জানো একটা প্রবাদ আছে When the storm came, tallest tree are the first hit. তা তুমিই তো একমাত্র সেই নেতা, তোমাকে গ্রেপ্তার করবে না তো, কাকে করবে? জ্যোতি বসু চুপচাপ শুনে চলে গেলেন। এইরকমই, জ্যোতি বসুকে আরেকটি বিতর্কে লজ্জিত করে দিয়েছিলেন বিধান রায়। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায় প্রচুর টাকা খরচ করে একটা নতুন অফিস বানান, তাতে আনা হয় সেগুন কাঠের এক রাজকীয় চেয়ার। জ্যোতি বসু বিধানসভায় এর তীব্র প্রতিবাদ করলে মুখ্যমন্ত্রী উঠে দাঁড়িয়ে বলেন তুমি এতে প্রতিবাদ করছ কেন? তুমিই তো এই মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে একদিন বসবে। তরুণ বিরোধী দলনেতা সাংঘাতিক লজ্জা পেয়ে বসে পড়লেন।সৌজন্যের এক অনন্য নজীর ১৯৫২-র বিধানসভা ভোটের কিছু আগে নির্বাচনী প্রচারসভা থেকে একে অপরকে তীব্র আক্রমণ করছেন বিধানচন্দ্র রায় এবং জ্যোতি বসু। একদিন ধর্মতলাতে বিধান রায়ের জনসভা। সেখানে পৌঁছে গাড়ি থেকেই তিনি দেখেন, জ্যোতি হেঁটে যাচ্ছেন। তাঁর সেক্রেটারি দিয়ে জ্যোতিকে ডেকে পাঠিয়ে বিধান রায় জানতে চান, তিনি কোথায় যাচ্ছেন? প্রত্যুত্তরে জ্যোতি বসু বলেন, আপনার সরকার ট্রামের ভাড়া বাড়িয়েছেন। আজ প্রতিবাদ মিছিল আছে, সেখানেই যাচ্ছি। শুনে বিধান রায় বলেন, খালি পেটে বিধান রায় আর কংগ্রেসকে হারানো যাবে না। গাড়িতে এসো, খানকয়েক লুচি আছে, দুজন মিলে উদ্ধার করি। তারপর তুমি গিয়ে বিধান রায়কে গালাগালি কর।রাধাকৃষ্ণান,সরোজিনি নাইডু ও প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর সাথে বিধান রায়১৫৫৩-এ গণনাট্য সংঘের জমিদারিপ্রথা উৎখাত নিয়ে ৫৯ টি নাটক চলাকালীন কংগ্রেস সরকার নিষিদ্ধ করে দেন। যদিও শোনা যায়, এতে বিধান রায়ের সায় ছিলনা। সেই বিবাদ শেষ অবধি বিধানসভা পর্যন্ত গড়ায়। বিধানসভা হলে বিরোধী দলনেতা জ্যোতি বসু বিধান রায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি হিটলারের মত আচরণ করছেন। এর উত্তর দিতে গিয়ে বিধান রায় স্মিত হেসে বলেন হ্যাঁ হিটলার স্তালিনের উত্তর দিচ্ছে। এই উত্তরের প্রত্যুত্তর না দিয়ে জ্যোতি বসু নিজের আসনে বসে পরেন। তবে বিধান রায়ের ব্যক্তিগত সচিব সরোজ চক্রবর্তী লিখেছেন, দুজনের মধ্যে সমঝোতা ছিল যে, ভোটের সময় কেউই একে অন্যের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে জনসভা করবেন না। ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচন ছাড়া আর কখনও কেউ এই চুক্তি ভাঙেননি। ডাঃ রায়ের বাড়িতে জ্যোতি বসু যখন কফি খেতে আসতেন ওঁর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনা করতেন, তখন দুজনে একেবারে অন্য মানুষ। আমি এই ঘটনা বহুবার দেখেছি।ইদানীং রাজনীতিতে ছোট বড়ো সব নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের মুখে কারণে অকারণে কটুক্তি আর অশ্রাব্য ভাষার বন্যা বইছে। অনেকের অশ্রাব্য ভাষা কানে পাতা দায়। একে অপরের প্রতি ন্যূনতম সৌজন্যবোধ নেই বললে অত্যুক্তি হবেনা। অথচ এটা তো হওয়ার ছিলনা। সল্টলেক উপ-নগরী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিধান চন্দ্র রায় ২৪ জুন ১৯৬২। রাইটার্সে বিধান রায়ের শেষ দিন। সেদিন এক সন্ন্যাসী তাঁর সাথে দেখা করতে এলে তাঁকে বলছিলেন, শরীর তেমন ভালো ঠেকছে না, কাল নাও আসতে পারি। মাথায় তখন অসহ্য যন্ত্রণা। পরের দিন বাড়িতে ডাক্তার শৈলেন সেন ও যোগেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকা হল। তাঁদের সিদ্ধান্ত হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। ৩০ জুন ডাক্তার রায় তাঁর প্রিয় বন্ধু ললিতমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বললেন, আমি তিরিশ বছর হৃদরোগের চিকিৎসা করে আসছি, আমার কতটা কী হয়েছে আমি তা খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি। কোনও ওষুধই আমাকে ভাল করতে পারবে না।১ লা জুলাই তাঁর জন্মদিন। সেদিনই তাঁর তিরোধান দিবস। ওই দিন তাঁর আত্মীয়স্বজনরা এলেন। পরিচারক কৃত্তিবাসের হাত থেকে এক গ্লাস মুসুম্বির রস খেলেন। বন্ধু সার্জেন ললিতমোহনকে দেখে খুশি হয়ে বললেন, ললিত আমার গুরুও বটে, ওর কাছ থেকে কত কিছু শিখেছি।তার পর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে বললেন, আমি দীর্ঘ জীবন বেঁচেছি। জীবনের সব কাজ আমি শেষ করেছি। আমার আর কিছু করার নেই। এর পর বললেন, আমার পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। তাঁর পরেই নাকে নল, ইঞ্জেকশন এবং ১১টা ৫৫ মিনিটে নাগাদ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুঃসংবাদ পেয়ে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের স্ত্রী বাসন্তীদেবী বলেছিলেন, বিধান পুণ্যাত্মা, তাই জন্মদিনেই চলে গেল। ভগবান বুদ্ধও তাঁর জন্মদিনে সমাধি লাভ করেছিলেন। দেহাবসানের কয়েক বছর আগে কেওড়াতলা মহাশ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লির উদ্বোধন করতে এসে বিধানচন্দ্র বলেছিলেন, ওহে আমাকে এই ইলেকট্রিক চুল্লিতে পোড়াবে। ২ জুলাই ১৯৬২ তাঁর সেই ইচ্ছা পূর্ণ করা হয়েছিল।আর যাঁরা তাঁর নিন্দায় সদা মুখর ছিলেন তাঁদের সম্বন্ধে জীবনসায়াহ্নে বলেছিলেন, আমি যখন মরব তখন ওই লোকগুলোই বলবে, লোকটা ভাল ছিল গো, আরও কিছু দিন বাঁচলে পারত।বিধান রায়ের মৃত্যুর পর ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে লেখা হয় first medical consultant in the subcontinent of India, who towered over his contemporaries in several fields? at his professional zenith he may have had the largest consulting practice in the world, news of his visit to a city or even railway station bringing forth hordes of would-be patients.জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জুলাই ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

সৌরভকে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ অশোকের

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ দিলেন শিলিগুড়ির সিপিএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। বুধবার নিজের ফেসবুক পেজে বিষয়টি পোস্ট করেন শিলিগুড়ির পুরপ্রশাসক। তাঁকে ক্রিকেটার হিসাবেই দেখতে চান তিনি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে বেহালার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে গিয়েছিলেন অশোক ভট্টাচার্য। সেখানে রাজনীতি ও ক্রিকেট নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয় সৌরভ ও ডোনার সঙ্গে। নিজের ফেসবুক পেজে এদিন অশোক ভট্টাচার্য লিখেছেন, তিনি ভারতের ক্রিকেট আইকন সৌরভ গাঙ্গুলীকে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সৌরভকে বলেছেন, ক্রিকেট তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। দেশের মানুষ চায় তা সৌরভের জনপ্রিয়তা যেন অক্ষুন্ন থাকে। সেই সঙ্গে শিলিগুড়ির ক্রিকেট নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শিলিগুড়ির ক্রিকেটের উন্নয়নে সবরকম সহযোগিতা করার আশ্বাস মহারাজের কাছ থেকে পেয়েছেন বলেও দাবী করেছেন অশোক ভট্টাচার্য। সময় পেলে সৌরভ শিলিগুড়িতে আসবেন, তাঁর বাসভবনে আসবেন বলেও তাঁকে কথা দিয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলী। ক্রিকেটের পাশাপাশি অশোক ভট্টাচার্যের সাথে রাজনীতি নিয়েও কথা হয়েছে সৌরভ জায়া ডোনার। ডোনা জানতে চেয়েছেন আসন্ন বিধানসভায় তিনি লড়ছেন কিনা। তারজন্য ডোনা আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন অশোক ভট্টাচার্য। সৌরভের বিজেপি যোগ নিয়ে বিস্তর জল্পনা ছড়িয়েছে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক। তারপর এক মঞ্চে দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে দেখা গিয়েছে সৌরভকে। সেই জল্পনার মাঝেই সৌরভের বাড়িতে অশোক ভট্টাচার্যের মধ্যাহ্নভোজন, আলোচনা। পরে সিপিএম নেতার ফেসবুকে পোস্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। ফেসবুকে অশোক ভট্টাচার্য লিখেছেন: আজ সৌরভ গাঙ্গুলির বাড়িতে বসে সৌরভ আর ডোনার সাথে অনেক গল্প হলো। শিলিগুড়ির খবর, ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হলো। আমি ইলেকশনে লড়ছি কিনা তাও জানতে চাইলো! তার জন্যে আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়ে রাখলো। রাজনীতির কথা প্রসঙ্গে আমার মত,ওর রাজনীতিতে যুক্ত না হওয়া, তাও বলেছি। কথা প্রসঙ্গে বলেছি ক্রিকেট ওকে জন প্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে গেছে। দেশের মানুষ চায় তা যেন অব্যাহত থাকে। ওর সাথে শিলিগুড়ির ক্রিকেট নিয়েও কথা হয়। ও সব রকম সহযোগিতা করবে। একবার এসব নিয়ে কথা বলতে শিলিগুড়িতে আসবে। তখন আমাদের বাড়িতে গিয়ে ওর কাকিমার সাথে দেখা করে আসবে বললো। ছবিটা তুলেছে ডোনা।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২০
রাজ্য

শিলিগুড়িতে একই মঞ্চে ডান - বাম উভয় পক্ষ

মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি উন্মোচনের মঞ্চে একই সারিতে দেখা গেল তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস জনপ্রতিনিধিদের। সোমবার শিলিগুড়ি কোর্ট মোড় লাগোয়া এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, শিলিগুড়ির সিপিএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য, মাটিগাড়া নকশালবাড়ির বিধায়ক শঙ্কর মালাকার সহ অনেকেই। পুরমন্ত্রী জানান, মানুষের হৃদয় থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাম মুছবে না। একই সঙ্গে রাজ্যপাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পদ অলংকৃত করার মতো ব্যক্তি উনি কি না তা জানি না। বলতে চাই ভগবান ওঁকে ক্ষমা করুন। কী বলছেন তা উনি নিজেও জানেন না। তিনি আরও বলেন, চায়ে পে চর্চা আসলে বিজেপির খরচা । দিলীপ ঘোষ কাকে কী সম্বোধন করছেন তা তাঁর রুচি ও সংস্কৃতির বিষয়। আমার নয়। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এই লড়াই নীতির লড়াই। ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই নয়। আরও পড়ুন ঃ সেবক হিসেবে বরাবর আপনাদের সঙ্গে থাকবঃ শুভেন্দু অশোকবাবু জানান, তারা পুরসভার তরফ থেকে সরকারি কর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পুর-প্রশাসনের শীর্ষে থাকা পুরমন্ত্রী আসায় তাঁরা খুশি বলে জানান তিনি। এর মধ্যে রাজনীতি নেই বলে দাবি তাঁর। মাটিগাড়া নকশালবাড়ির বিধায়ক শঙ্কর মালাকার বলেছেন, অতীতে তাঁকে কোনও সরকারি অনুষ্ঠা্নে ডাকা হত না। এখন তৃ্ণমূলের হুঁশ ফিরেছে। আগামীদিনে সেই হুঁশ রেখে তৃণমূল সরকার চললে সকলেরই ভাল হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নভেম্বর ৩০, ২০২০
বিবিধ

শ্রমজীবী মানুষের রান্নাঘর

অগণিত শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী দক্ষিণ দমদম এরিয়া কমিটি - ২, বেদিয়াপাড়া ১১নং ওয়ার্ড। কিংবদন্তী জননেতা জ্যোতি বসুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করেছে শ্রমজীবী মানুষের রান্নাঘর। ১০ টাকার বিনিময়ে শ্রমজীবী মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে দুপুরের খাবার। প্রতিদিন প্রায় দেড়শ শ্রমজীবী মানুষ এই রান্নাঘর থেকে খাবার সংগ্রহ করছে। অগনিত মানুষের আর্থিক সাহায্যে ও পার্টির তহবিল থেকেই এই শ্রমজীবী রান্নাঘর চালানো হচ্ছে। মধ্যাহ্নভোজে প্রতিদিন ভাত, সবজি, ডিম ছাড়াও সপ্তাহের কোনও কোনও দিন মাছ,মাংস দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭ টা থেকে কুপন দেওয়া হয়। একমাস এই শ্রমজীবী রান্নাঘর চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান দক্ষিণ দমদম এরিয়া কমিটি - ২, বেদিয়াপাড়া ১১নং ওয়ার্ড পার্টি কনভেনার কমরেড প্রশান্ত পাল। তিনি বলেন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী বরাবরই মেহনতী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। মানুষ যাতে দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারে তার জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০
দেশ

রাজ্যসভায় বিক্ষোভ দেখিয়ে সাসপেন্ড দুই তৃণমূল সাংসদ-সহ ৮

কৃষি বিল নিয়ে রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর উত্তপ্ত হয়েছিল রাজ্যসভা। ওয়েলে নেমে চলে নজিরবিহীন বিক্ষোভ। এর জেরে সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ৮ সাংসদকে এক সপ্তাহের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। তাঁরা হলেন তৃণমূলের ডেরেক ওব্রায়েন, দোলা সেন, আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং, কংগ্রেসের রাজু সাতাভ, রিপুন বোরা, সৈয়দ নাসির হুসেন, সিপিআইএমের কে কে রাগেশ ও এলামারান করিম। এই শাস্তির ঘোষণা করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু। এরপর বিরোধীদের বিক্ষোভে সকাল ১০টা অবধি মুলতুবি করা হয় অধিবেশন।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০
রাজ্য

কেশপুরে বোমাবাজি, নাবালক-সহ নিহত ২, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব জোরালো

আবার অশান্ত কেশপুর। রাজ্যে পালাবদলের আগে যে কেশপুর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কেশপুর হবে সিপিআইএমের শেষপুর! সেই কেশপুরেই এবার অস্বস্তিতে শাসক দল। এমনিতেই দলের নতুন জেলা, ব্লক, শহর কমিটি ঘোষণার পরেও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমে তো নি, বরং বেড়েইছে। ফলে বিধানসভা ভোটের আগে কেশপুরের ঘটনা তৃণমূলকে আরও চিন্তায় রাখল। ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর। ব্যাপক বোমাবাজিতে অশান্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের দামোদরচক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বোমাবাজি ও গুলিচালনার ঘটনায় এক নাবালক-সহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ৫ জন আহতকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন শেখ নাসির ও ১৪ বছরের শেখ মাজহার। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সেলিমের ভাই স্বর্ণশিল্পী নাসিরের আজ মুম্বাই ফেরার কথা ছিল। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ফলেই এই পরিস্থিতি। তবে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, এক সময়ের সিপিআইএমের হার্মাদরাই বিজেপির আশ্রয়ে থেকে এই হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দামোদরচক। লাগাতার বোমার শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতে ব্যাপক বোমাবাজি ও গুলিচালনার ফলে শেখ মাজহার ও শেখ নাসির গুরুতর জখম হন। জানা গিয়েছে, জখমদের প্রথমে কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা ওই দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তৃণমূলের দাবি, কেশপুরের ঘটনা জমি-জায়গা নিয়ে পারিবারিক বিবাদের ফল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, হামলাকারীরা সিপিএমের হার্মাদ। তারা কখনও তৃণমূল, কখনও বিজেপির আশ্রয় নেয়। এটা কোনও রাজনৈতিক ঘটনা নয়। তৃণমূল এতো বড়ো দল যে কে কোথায় মিছিলে হাঁটল তা কারও মনে থাকে না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সূত্রের খবর, কেশপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি ঘোষণা নিয়ে দলের অন্দরেই বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। অজিত মাইতি বলেন, ব্লক সভাপতি ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই। এসব কোনও বিষয়ই নয়। মৃতরা তৃণমূল সমর্থক বলে দাবি করেছেন জেলা সভাপতি। যদিও নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ব্লক সভাপতি উত্তম ত্রিপাঠী ও প্রাক্তন ব্লক সভাপতি সঞ্জয় পানের গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ লেগেই আছে। নিহতরা প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শিবিরের। যেখানে ঘটনা তার দেড় কিলোমিটারের মধ্যে থানা রয়েছে। বর্তমান ব্লক সভাপতির মদতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা বলে অভিযোগ। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ইন্তাজ আলি ওরফে ঝন্টু পলাতক। সে তৃণমূল কর্মী, ঘটনার পর শাসক দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। মেদিনীপুরে যে বাড়িতে সে গা ঢাকা দিতে চেয়েছিল সেই বাড়ির মালিক রামুকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তৃণমূলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সে পালিয়েছে। নিহতদের বাড়ির কাছেই তার বাড়ি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বিজেপিকে দায়ী করলেও বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, নিহতরা তৃণমূলের। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা তৃণমূলের আদর্শে বিশ্বাসী হতে পারে না। কোন দাদার হাত তাদের মাথার উপর আছে তা তদন্ত করে দেখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে এটাই চাই। বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অন্তরা ভট্টাচার্য বলেন, এই ঘটনার পিছনে বিজেপি নেই। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। তদন্তে তা প্রমাণ হবে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি এলে দেখতে পাবে কেশপুরে কত অস্ত্র মজুত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে পুলিশও পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ব্যর্থ হয়। অভিজ্ঞ মহলের মতে, শক্ত হাতে না ধরলে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে আগে এমন অশান্তি আরও বাড়তে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

নির্মলকে ঘিরে থানা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা, ডিম-জুতোর মালা! অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী উঠে এল?

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্মলকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে এবং গান বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়।বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক জন নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় এবং লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে।অন্যদিকে, শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ওই রাতের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছেন।গত ৯ অগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুদিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তাঁর সন্ধান পায় রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শ্মশানঘাটে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

বেরনোর সুযোগও পেলেন না! চামোলির সুড়ঙ্গে আচমকা জলস্রোত, মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আটকে আরও ২

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা তীব্র জলস্রোত ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও দুই শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চামোলির পিপলকোটির মায়াপুরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শিফট বদলের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জল ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতেই বেশ কয়েক জন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনার উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।আহত শ্রমিকদের স্থানীয় গোপেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকারী দল আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলস্তর কমিয়ে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী ভাবে এত বিপুল জল সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি সুমিত রায়ের, বুধবার পর্যন্ত গ্রেফতার নয়! পরের শুনানিতে কী হবে?

সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচের মেয়াদ বুধবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৯ অগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে সুমিত রায়ের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদনের শুনানি হয়। আদালতে সুমিতের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ জানান, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন তাঁর মক্কেল। গত আট দিনে তাঁকে ছয় বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। প্রতিবারই তিনি তদন্তকারীদের কাছে হাজির হয়েছেন এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন।সুমিতের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। একই সঙ্গে তদন্ত কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চায় আদালত।তদন্তের অগ্রগতি এবং জিজ্ঞাসাবাদে কী কী তথ্য উঠে এসেছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য সময় চান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। সোমবার পর্যন্ত সময় চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করে। এরপরই জানানো হয়, বুধবার মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। সেই পর্যন্ত সুমিত রায়ের গ্রেফতারির উপরও রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন সুমিত রায়। তবে শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলায় আগাম জামিন না মেলায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ওই মামলায় তাঁর গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।এ ছাড়াও জমি ও চাকরি সংক্রান্ত মামলার বাইরে সুমিতের বিরুদ্ধে আরও চারটি এফআইআর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণে গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। দ্রুত শুনানির আবেদনও করা হয়েছিল। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেননি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য ছিল, মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শোনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নিয়ম মেনেই পরে মামলাটি শুনানি হতে পারে।এই পরিস্থিতিতে সুমিত রায়ের জন্য আপাতত স্বস্তি এনে দিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। বুধবারের শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি এবং সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

বঙ্গবিভূষণ গেল, কয়েক ঘণ্টাতেই সুরবদল! নেতাজি মন্তব্যে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ অনন্ত মহারাজের

বঙ্গবিভূষণ সম্মান হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। সমাজমাধ্যমে ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কোনও অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যে কেউ মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক চলছিল। তাঁর বক্তব্যের পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, নেতাজিকে অপমান করলে তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর পর বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেয়। মমতা সরকারের আমলে গত ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।তবে সম্মান প্রত্যাহারের পরেও প্রথমে নিজের বক্তব্যের পক্ষেই সাফাই দিয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি ছিল, তিনি নেতাজিকে অপমান করেননি। ইতিহাসে থাকা কিছু তথ্যই তিনি মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, নিজের বক্তব্যে কোনও মনগড়া তথ্য বা মিথ্যা যোগ করেননি তিনি।অনন্ত মহারাজ আরও দাবি করেছিলেন, তিনি যে সময়ের কথা বলেছেন, সেই সময়ে তাঁর জন্মই হয়নি। তাই সেই ইতিহাস নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখাকে তিনি অপরাধ বলে মনে করেন না। তবে ভুল হয়ে থাকলে আইনি পথে শাস্তি দেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই অবশ্য তাঁর সুর বদলে যায়। সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিওবার্তায় অনন্ত মহারাজ বলেন, নেতাজির প্রতি সম্মান রেখেই তিনি দুঃখপ্রকাশ করছেন। তাঁর বক্তব্যের কোনও অংশে কেউ মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তার জন্য তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত বলেও জানান।ফলে বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের পর অনন্ত মহারাজের এই দুঃখপ্রকাশকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এক দিকে তাঁর আগের বক্তব্য, অন্য দিকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনাদুই অবস্থান নিয়েই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এখন এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কোনও আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয় কি না, সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

গুরুদ্বারের সামনেই সুখবীর বাদলকে কোপ! পেটে হামলার চেষ্টা, রক্তাক্ত প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের নন্দেদে অকালি দল প্রধান তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের উপর আচমকা হামলার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় তাঁর উপর ছুরি নিয়ে হামলা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। হামলায় হাতে চোট পেয়েছেন সুখবীর বাদল। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।জানা গিয়েছে, নন্দেদের একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। গুরুদ্বারের সামনেই আচমকা এক ব্যক্তি সুখবীর বাদলের দিকে এগিয়ে এসে হামলা করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, হামলাকারী তাঁর পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকর্মীদের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। হামলার সময় সুখবীর বাদলের হাতে চোট লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন।ঘটনার পর দ্রুত তাঁকে নন্দেদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। হামলার সময় তাঁর স্ত্রী তথা অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সুখবীর বাদলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে তাঁর ডান হাতে কাপড় বাঁধা দেখা যায়।হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর নাম যশপাল সিং বলে জানা গিয়েছে। তিনি নিহাঙ্গ শিখ বলে সূত্রের দাবি। হামলায় কৃপাণ ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। যশপাল সিং গত দুই বছর ধরে তখত শ্রী হাজুর সাহিব গুরুদ্বারে কাজ করছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে হামলার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।সুখবীর বাদলের উপর এই প্রথম হামলার চেষ্টা নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনায়ও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।ফলে নন্দেদের এই হামলার পর নতুন করে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কী কারণে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে হামলা করা হল এবং এর পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে আগুন! ছ’শো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা, আরও পাঁচশো আটক

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের আঁচ আরও বাড়ল। গত সোমবার বিধানসভা অভিযানের পর বৃহস্পতিবার ৬০০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনের নাম এফআইআরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরও প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর।গত প্রায় ২০ দিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন করছেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ প্রজন্ম। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চ-এর ব্যানারে চলছে লাগাতার বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে।আন্দোলনকারীরা নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করে অভিযোগের তদন্ত করা হোক। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তাঁরা।সোমবার বিধানসভা অভিযানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। এর পরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়। পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিজেপি রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দেয়।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে অনশনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালে আবগারি কনস্টেবল পদের শারীরিক পরীক্ষায় মৃত্যু হওয়া ১৯ জন চাকরিপ্রার্থীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দাবিও তুলেছেন।এই ইস্যুতে বিজেপির ছাত্র সংগঠনও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এখন শুধু ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, জাতীয় স্তরেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে জোট সরকারের শরিক কংগ্রেসের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির ছাত্র সংগঠন আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে সরকারি চাকরির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে। এক দিকে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, অন্য দিকে পুলিশের মামলা এবং বিরোধীদের চাপসব মিলিয়ে হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

‘আপনারা না পারলে আমরা করে দেখাব’, প্যাকেটজাত খাবার নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

প্যাকেটজাত খাবারে চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হলে তার গায়ে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা থাকা উচিতএই বিষয়টি ফের মনে করিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের গড়িমসি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। এমনকি কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাপের কারণে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র বা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা নরম মনোভাব দেখাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে পি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য জড়িত। তাই কোনও শিল্পগোষ্ঠীর চাপের কারণে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।মামলাকারীর পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পমহলের আপত্তি রয়েছে। সেই কারণেই খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়। মামলাকারীর আইনজীবী আরও জানান, গত ৭ মার্চ খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে অবশ্য শিল্পমহলের আপত্তির কথা আদালতে জানানো হয়। তাদের প্রস্তাব ছিল, প্যাকেটের গায়ে সরাসরি সতর্কবার্তা না দিয়ে প্রতিদিন কতটা অতিরিক্ত চিনি, নুন বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া উচিত, সেই পরিমাণ উল্লেখ করা যেতে পারে।কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ব্রিজেন্দর চাহার বিষয়টি আদালতে ব্যাখ্যা করেন। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কারণ, দেশের বহু প্রচলিত খাবারেই ঐতিহ্যগত ভাবে চিনি ও নুনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে।কেন্দ্রের এই যুক্তি শুনে আরও কড়া প্রশ্ন করেন বিচারপতিরা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে সুস্থ রাখার বিষয়টি কি সরকারের অগ্রাধিকার নয়? বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যখন বিষয়টি জড়িত, তখন আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলেই মত শীর্ষ আদালতের।আদালত স্পষ্ট করে জানায়, প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ফলে প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে আগামী দিনে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal