• ১২ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Court

রাজ্য

পঞ্চায়েত ভোটে হাইকোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশ

রাজ্য নয় দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে আদালতের নজিরবিহীন নির্দেশ। এবার পঞ্চায়েত ভোটেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলাকাত হাইকোর্ট। হাওড়ার উলুবেড়িয়ার একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।উলুবেড়িয়া ২ নম্বর ব্লকে কাশ্মীরা বিবি ও ওমজা বিবি নামের দুজন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগ, স্ক্রুটিনিতে তাঁদের ফর্ম বাতিল করে দেওয়া হয়। যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তা বিডিও অফিসে বিকৃত করা হয়। এমনকী বিডিওর কাছে অভিযোগ জানাতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি। এরপরই ন্যায্য বিচারের আশায় ওই দুই প্রার্থী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৭ জুলাই পঞ্চায়েতের নথি সংক্রান্ত তদন্তের রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে সিবিআইকে। ৮ জুলাই হবে পঞ্চায়েত ভোট।কেন রাজ্য পুলিশে আস্থা রাখলেন না বিচারপতি? বিচারপতি সিনহার যুক্তি, রাজ্য পুলিশকে এই তদন্তভার দেওয়া যাবে না। কারণ যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাজ্য সরকারি কর্মচারী। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআইকেই এই ভার দেওয়া প্রয়োজন।পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেছিলেন বিরোধীদের একাংশ। সেই মামলার শুনানিতে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, সে প্রসঙ্গেই বিচারপতি সিনহা মন্তব্য করেন, একটি নির্বাচন ঘিরে এত অভিযোগ। এটা রাজ্যের পক্ষে লজ্জার! রাজ্যের উচিত, আদালতের নির্দেশ মতো আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। অশান্তি, রক্তপাত, জীবনহানি হলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বিচারপতি সিনহার পর্যবেক্ষণ, অশান্তির জন্য যদি কোনও প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে না পারেন, তবে তাঁদের অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া উচিত কমিশনের।

জুন ২১, ২০২৩
রাজ্য

ধুতি-পাঞ্জাবিতে ভাইরাল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, কটাক্ষ কুণালের

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এখন বাংলার অতি পরিচিত নাম। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের এই বিচারপতি। শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগের ঘুঘুর বাসা ভাঙতে তৎপর তিনি। একদিকে চাকরি বাতিল করেছেন, আবার চাকরি দিয়েছেন তিনি। এককথায় সম্প্রতি হাইকোর্টে যুগান্তকারী নির্দেশ ও রায় দেওয়ার জন্য তিনি পূজিত হয়েছেন আবার সমালোচিতও হয়েছেন। এবার সেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কোচা দেওয়া ধুতি-পাঞ্জাবি পরা ছবি রীতিমতো ভাইরাল। তাঁর এই ভাইরাল ছবি পোস্ট করে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।বেশ কিছু দিন আগে রাজ্যের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে বিতর্কে জড়ান অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে দুটি নিয়োগ দুর্নীতির মামলা থেকে সরিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে তিনি যে দমবার পাত্র নয় সেটা তিনি বারে বারে বুঝিয়ে দিয়েছেন।অপূর্ব।বিচারপতিরা আর কী কী করেন দেখি।জলি এল এল বির বিচারক সৌরভ শুক্লা যেন মেয়ের জন্য কোন ব্র্যান্ড খুঁজছিলেন....শূন্য শব্দটিও ভাল।শূন্যদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর....কারা যেন শূন্য?? pic.twitter.com/NlXXGfuWIW Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) June 18, 2023শূন্য নামে একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের জন্য ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ছবি তুলেছেন অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। সেই ছবি টুইট করে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, অপূর্ব। বিচারপতিরা আর কী কী করেন দেখি। জলি এল এল বির বিচারক সৌরভ শুক্লা যেন মেয়ের জন্য কোন ব্র্যান্ড খুঁজছিলেন.শূন্য শব্দটিও ভাল। শূন্যদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর.কারা যেন শূন্য??অভিজ্ঞমহলের প্রশ্ন, কেন এই শূন্য় বললেন কুণাল? তাঁদের ব্যাখ্যা, বামেরা এখনও বিধানসভায় শূন্য। এদিকে সিপিএম সাংসদ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে। সম্ভবত এই কারণেই শূন্যের সঙ্গে শূন্য় মিলিয়ে কটাক্ষ করেছেন কুণাল। শেষমেশ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর!!

জুন ১৮, ২০২৩
রাজ্য

রাজু ঝা খুনের ঘটনায় বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

কয়লা মাফিয়া দুর্গাপুরের বাসিন্দা রাজু ঝা খুনের মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। চার মাসের মধ্যে তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। এই ঘটনার তদন্ত করছিল সিআইডি। বর্ধমানের শক্তিগড়ে ল্যাংচা হাবের সামনে গাড়ির মধ্যে বসে থাকা অবস্থায় গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন রাজু ঝা। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজু। বামফ্রন্ট আমলে তাঁর বেআইনি কয়লার রমরমা কারবার চলত। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর রাজু ঝা গ্রেফতারও হয়েছিলেন। গত ১ এপ্রিল খুন হয়েছিলেন কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা। তাঁর গাড়িতে ছিলেন গরুপাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত বীরভূমের আব্দুল লতিফ। কয়লা মাফিয়া ও গরুপাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত একই গাড়িতে কেন? উঠেছে এই প্রশ্ন। তাহলে রাজুর সঙ্গে লতিফের সঙ্গে কি লেনদেনের সম্পর্ক ছিল? তাও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিবিআইকে চার মাসের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

জুন ১৪, ২০২৩
রাজ্য

বাংলায় পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণা, আদালতে যেতে পারে বিজেপি

পঞ্চায়েত ভোট কবে সেই তা জল্পনার অবসান হল। রাজ্যে ৮ জুলাই এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচন। শুক্রবার এই ঘোষণা করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে দ্বিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোট হবে। বাকি ২২টি জেলায় হবে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোট।এবারও একদফাতেই রাজ্যে হবে পঞ্চায়েত ভোট। কমিশনের ঘোষণার পরই বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি চালু হয়ে গেল। শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন জমার কাজ, যার শেষ দিন ১৫ জুন। ২০ জুন মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন। রাজীব সিনহা জানিয়েছেন, ১১ জুলাই পঞ্চায়েত ভোটের গণনা হবে। ফল ঘোষণা ১৯ জুলাই।বিগত দুটি পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক হিংসার উদাহরণ রয়েছে বাংলায়। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি সহ অন্যান্য প্রায় সব তৃণমূল বিরোধী রাজনৈতিক দলই পঞ্চায়েত ভোট কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে করার দাবি তুলেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ভোটে সুরক্ষায় রাজ্য পুলিশ নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে চাইছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন? জবাবে কমিশনার রাজীব সিনহা জানান, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।বাংলার ২২টি জেলায় (যেসব জেলায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোট হবে) রয়েছে মোট ৩৩১৭ গ্রাম পঞ্চায়েত। মোট পঞ্চায়েত আসন ৬৩ হাজার ২৮৩। গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্বাচন কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৯৪।ভোটের দিন ঘোষণার পরই কমিশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কমিশনের ভোট ঘোষণার পদক্ষেপ একতরফা বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার। তাঁর দাবি, রাজ্য নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে আঞ্চলিক তৃণমূলের দলের ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এভাবে তাড়াতাড়ি পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেওয়ার সমালোনা করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরই এদিন দীর্ঘ টুইট পোস্টে সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। লিখেছেন, প্রথমবারের মতো, ব্লক, জেলা বা রাজ্য স্তরে একবারও সর্বদলীয় বৈঠক না করেই একতরফাভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। এক দফার নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। নির্বাচনের সময় হিংসা ও তার দরুন কোনও হতাহত হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা দায়ী থাকবেন, কারণ ভোটের ঘোষণায় তাড়াহুড়ো করা হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে এবং যথাযথ নিরাপত্তার বিবেচনা করা হয়নি।

জুন ০৯, ২০২৩
রাজ্য

বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হবেন অভিষেক, তদন্তেেও সহযোগিতা

আইনের উপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে। আমি যে কোন তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার সকালেই হাইকোর্টের বিচারপতি বিচারপতি অমৃতা সিনহা রায় দেন যে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এর পাশাপাশি আদালতে সময় নষ্টের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়। আদালতের এদিনের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানান আইনের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে, যে কোনও তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। এর পাশাপাশি অভিষেক জানান, ডিভিশন বেঞ্চ কিংবা সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা রয়েছে, তিনি অবশ্যই সেই আদালতের দ্বারস্থ হবেন। জরিমানা প্রসঙ্গে কার্যত তিনি বিচার ব্যবস্থাকে বিঁধলেন। তিনি বলেন, যাঁরা কথায় কথায় পিআইএল করে তাদের কোন জরিমানা করা হয় না, কনভয়ে মানুষের মৃত্যু হলে যাঁরা রক্ষাকবচের আবেদন করে , তাঁদের জরিমানা করা হয় না। আমি অধিকারকে সামনে রেখে বিচার ব্যবস্থার দ্বারস্থ হয়েছি বলে আমায় জরিমানা করা হল। প্রয়োজনে কর্মসূচি স্থগিত রেখে তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলেও জানিয়ে দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড।

মে ১৮, ২০২৩
রাজ্য

আদালতের নির্দেশে চরম অস্বস্তিতে অভিষেক, মোটা টাকা জরিমানা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ও কুন্তলেের

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে চরম অস্বস্তিতে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তাঁকে ও সাসপেন্ডেন্ট যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষকে ২৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই নির্দেশের পর তৃণমূলের সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ইডি বা সিবিআইয়ের কোনও বাধা নেই। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া নির্দশই বহাল রাখলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। বিচারপতি বদলালেও বিচার একই রইল।শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল ঘোষের চিঠি মামলায় এবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশই বহাল রাখলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতার সেই আর্জি খারিজ করে দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুন্তল ঘোষকে ২৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেছে আদালত। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই ও ইডি। তবে এই রায়ের প্রথমে বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চ ও পরে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন অভিষেক।

মে ১৮, ২০২৩
রাজ্য

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ের প্রতিবাদে পথে নামলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

এত দিন শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। লাগাতার আন্দোলন চলছে কলকাতার রাজপথে। এবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পথে নামলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। শনিবার শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে জড়ো হয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানান। সূত্রের খবর, ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় শিলিগুড়ি থেকে ৩৫০ জনের প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি হয়। শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলায় অ্যাপটিটিউট টেস্ট নেওয়া হয়েছিল বলে ওই চাকরিরত শিক্ষকদের দাবি। তাঁদের প্রশ্ন, হাইকোর্ট মাত্র কয়েকজনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কি করে এত বড় সিদ্ধান্ত নিল? এই রায়ের বিরোধিতায় প্রতিবাদ চলবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।উল্লেখ্য, গতকাল, শুক্রবার এক ধাক্কায় রাজ্যে কর্মরত ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে নিযুক্ত হয়েছিলেন ৪২ হাজার ৫০০ শিক্ষক। এই নিয়োগে ইন্টারভিউতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষায় অ্যাপটিটিউড টেস্টও নেওয়া হয়নি বলে ইন্টারভিউয়াররাই বিচারপতির কাছে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের চাকরি বহাল থাকে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ, রাজ্যকে তিনমাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে তা শেষ করতে হবে। আর যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে তাঁদের মধ্যে কেউ ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁরাও অংশ নিতে পারবেন বলে জানান বিচারপতি। তাছাড়া আগামী ৪ মাস চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষকরা স্কুলে গেলেও পার্শ্বশিক্ষকের বেতনের হারে বেতন মিলবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে শিলিগুড়িতে একজোট হয়েছেন বাতিল হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকরা।

মে ১৩, ২০২৩
রাজ্য

এক লপ্তে ৩৬ হাজার অপ্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল, নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নজিরবিহীন নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ৩৬ হাজার অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দিলেন বিচারপতি। এরা সবাই ২০১৪-এ টেট পরীক্ষায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। ইন্টারভিউয়াররা সাক্ষ্যে জানিয়েছেন নিয়োগের পরীক্ষায় অ্যাপটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়নি।বিচারপতির নির্দেশ, আগামী চার এই শিক্ষকরা স্কুলে গেলেও বেতন পাবেন প্যারা টিচারের বেতনের হারে। সম্পূর্ণ বপতন পাবেন না। পাশাপাশি রাজ্যকে এই তিন মাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে শেষ করতে হবে। তবে যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। অপ্রশিক্ষিত ১৪০ জন হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন। এঁরা কেউ নিয়োগ পাননি। সম্প্রতি আদালত প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায় যে কম নম্বর পেয়ে অনেক অপ্রশিক্ষিত প্রার্থী চাকরির সুপারিশপত্র পেয়েছেন। তার পরেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় প্যানেল বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ঢাকি সমেত বিসর্জন দিয়ে দেওয়া হবে। বিচারপতি আগেই জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো প্যানেল বাতিল করে দেবেন।সেবছর মোট নিয়োগ হয়েছিল ৪২ হাজার ৫০০ জনের। ২০১৪ সালে টেটের নিয়োগে দুর্নীতি রয়েছে বলে আদালতে মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। কেউ মেধার ভিত্তিতেও চাকরি পেলেও যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁদের বিষয়ে তদন্ত দাবি করেছিলেন এই আইনজীবী। এই মামলার তদন্তভার বর্তায় সিবিআইয়ের ওপর।

মে ১২, ২০২৩
রাজ্য

আদালতের নির্দেশে কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে তদন্তের দায়িত্বে দুই অবসরপ্রাপ্ত দুঁদে আইপিএস ও জাঁদরেল দময়ন্তী সেন

কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়েছে। জনতার রোষে আগুন ঝড়েছে, বেধড়ক মারধর খেয়েছে পুলিশ। এবার কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নজরদারিতে তদন্ত করবে বিশেষ তদন্তকারী দল। বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। এই বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি-র সদস্য করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল সিপি (১) দময়ন্তী সেন, প্রাক্তন সিবিআই কর্তা উপেন বিশ্বাস এবং প্রাক্তন আইজি পঙ্কজ দত্তকে। তদন্তের প্রয়োজনে এসআইটি মৃতদেহ দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতে পারবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ।সম্প্রতি ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে। যদিও পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই কিশোরী। তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। সিবিআই তদন্তের দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মৃতার পরিবার। পুলিশ নৃশংসভাবে দেহ টেনে নিয়ে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।এদিন আদালত বলেছে, ময়নাতদন্তের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। পুলিশের রিপোর্ট ও হাসপাতালের বয়ানে কিশোরীর দেহের ময়না তদন্তের সময় ভিন্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আদালত। সেইসঙ্গে এদিন বিচারপতি মান্থা আরও নির্দেশ, ওই কিশোরীর পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্য সরকারকে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ জুন। তারমধ্যে এই মামলায় গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পার্কস্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে আইপিএস দময়ন্তী সেনের ভূমিকা সমাজে সাড়া ফেলেছিল। বদলিও হতে হয়েছিল তাঁকে{ লালু প্রসাদ যাদবকে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন উপেন বিশ্বাস{ এই জাঁদরেল সিবিআই অফিসার ওই কেলেঙ্কারিতে এমনভাবে তদন্ত করেছিলেন আদালতেও ছাড় পাননি লালু। চাকরি থেকে অবসরের পর বাগদার বিধায়ক ও মন্ত্রী হয়েছিলেন। সাম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য ও আদালতে নথি পেশ হইচই ফেলে দিয়েছে। অস্বস্তি বেড়েছে শাসক দলের। প্রাক্তন আইজি পঙ্কজ দত্তকে নানা টিভি আলোচনায় সরকারকে কড়া সমালোচনা করতে দেখা যায়

মে ১১, ২০২৩
রাজ্য

মামলা সরল বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে, দ্রুত বিচারের আশায় তাকিয়ে বঙ্গবাসী

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এবার সরল মামলা। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে প্রাথমিকে নিয়োগ সংক্রান্ত ২টি মামলা সরিয়ে নিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। দুটি মামলাই স্থানান্তরিত হয়েছে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে।রাজ্যেরই এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই দিন থেকেই ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ওই অনুষ্ঠান নিয়ে। ওই সাক্ষাৎকারের তর্জমা বিচার করেই গত শুক্রবার ঐতিহাসিক নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পরে সুপ্রিম রায়ের পর অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাকি মামলাগুলিও তাঁর এজলাস থেকে সরে যেতে পারে।জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই অমৃতা সিনহার এজলাসে শুনানি হতে পারে। তবে রাজ্যের মানুষের মধ্যে এখন জোর চর্চা চলছে দুটি মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে। এই বিচারপতি মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। স্বভাবতই নতুন বিচারপতির ওপর একটু রহলেও চাপ থাকবে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়ে ছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।সব থেকে বড় প্রশ্ন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের স্টাইলে দ্রুত এগোতে পারবেন কি বিচারপতি সিনহা? সাধারণ মানুষ অভিজিৎবাবুর নির্দেশ বা রায় শোনার অপেক্ষায় থাকতেন। খুব দ্রুত হাইকোর্টে বিচারপ্রক্রিয়া করে রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।মামলা থেকে সরলেও গতকালও নিজের স্টাইলেই বক্তব্য রেখেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। মিডিয়ার সামনে মুখ বন্ধ করার কোনও লক্ষণই নেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। অভিজিৎবাবু বলেন, অভিষেকের নাম তো কুন্তলই বলেছে। যতদূর মনে পড়ছে আদালতে জমা নথিতেও তার উল্লেখ আছে। তাহলে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে কেউ কি পৃথিবীতে নেই? অভিষেকের নাম আকাশ থেকে পড়েনি। এক প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি বলেন, আগে যে ভাবে তাঁকে দুটি মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ফের তাঁকে একই কারণে বাকি মামলা থেকে সরিয়ে দিতেই পারে।

মে ০২, ২০২৩
রাজ্য

"সুপ্রিম কোর্ট যুগ যুগ জিও, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলবে,": বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিক নিয়োগের দুটি মামলা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত থেকে সরিয়ে নিয়েছে। সেই রায়ের পর থেকে দিনভর সবার মুখে একটাই নাম। রায়ের পক্ষে একদল হইহই করে নৃত্য করছে। আরেক দল মুখ গোমরা করে রয়েছে। প্রথমত প্রথম দিকে খবর রটেছিল সমস্ত মামলাই সরে যাচ্ছে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে। যদিও তিনি সেই আশঙ্কাই প্রকাশ করেছেন। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, আজ আমার মৃত্য়ু দিন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সবাইকে মানতে হয়। আমি তো নিজে সরছি না। পদত্যাগ করছি না। পালিয়ে যাওয়ার মানুষ আমি নই। আমার মন খারাপ নয়। ব্যক্তিগতভাবে কারও মন খারাপ হতে পারে। এই মামলা তো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে করিনি। আমার কাজের ধরন একরকম। এরপরে যে বিচারপতি আসবেন, তাঁর কাজের ধরন হয় তো অন্যরকম হবে। আমার ধারনা দুর্নীতি সংক্রান্ত সব মামলাই আমার হাত থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।তবে এখানেই থামেননি বিচারপতি। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, যখন বিচারপতি থাকব না, যাই করি না কেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলবে, অবসরের পরও। সুপ্রিম কোর্ট যুগ যুগ জিও।

এপ্রিল ২৮, ২০২৩
রাজ্য

রামনবমীর শোভাযাত্রার পর হনুমান জয়ন্তী, তিন কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে

রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে অশান্তির জেরে এখনও থমথমে হুগলির রিষড়া। রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে অশান্তি হয়েছে, উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা, হাওড়ার শিবপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে। এদিকে আগামী কাল, বৃহস্পতিবার হনুমান জয়ন্তী পালন করতে চলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। কলকাতা হাইকোর্ট এদিন রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে হনুমান জয়ন্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মতোয়েন করতে।কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে হনুমান জয়ন্তীতে বাংলায় তিন কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। জানা গিয়েছে, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতায় উপদ্রুত এলাকায় এই তিন কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বুধবার নাবান্নে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যে তিন কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি অশান্তি রুখতে বেশ কয়েকটি নির্দেশ জারির পথে রাজ্য প্রশাসন। বৃহস্পতিবারের কোনও শোভাযাত্রায় ১০০ জনের বেশি লোক থাকতে পারবে না। স্পর্শকাতর এলাকায় থাকবে ১৪৪ ধারা।এদিন, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থার থেকে বড় কিছু হতে পারে না। এই দুটি বিষয়কে সুনিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে কোথাও হিংসার সম্ভাবনা থাকলে রাজ্য সরকারকে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রয়োজনে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য করতে হবে কেন্দ্রকে। আদালত আরও বলেছে, মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে হিংসা কবলিত এলাকায় পুলিশ ও আধাসেনার রুট মার্চ অত্যন্ত দরকারি।

এপ্রিল ০৫, ২০২৩
কলকাতা

'বিচার ব্যবস্থাকে সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে,' বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বাড়িতে পোস্টার। পাশাপাশি গতকাল হাইকোর্টে বিক্ষোভ করে আইনজীবীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলে। এদিনও এজলাস বয়কট করেছে আইনজীবীদের একাংশ। পুরো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বাংলায় বিচার ব্যবস্থাকে সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিচারকদের সন্ত্রস্ত করে নিজেদের পথে আনার চেষ্টা হচ্ছে। এরকম হাইকোর্টে আগে দেখিনি। আমি ২৩ বছর আইনিজীবী ও ৫ বছর বিচারপতি আছি। বিচারপতি আরও বলেন, আমি শুনেছি শাসকদল প্রত্য়াখ্যান করেছে। কিন্তু কারা করছে তাঁদের আমরা চিনি। যা হয়েছে আপনারাও দেখেছেন আমি দেখেছি, সারা ভারত দেখেছে। শাসকদলের সবাই এটাকে ভাল বলেনি। এত সাহস কোন দুর্বৃত্তদের তাদের খুঁজে বের করতে হবে।হাইকোর্টে আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভ ও এজলাস বয়কট নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যে। বিচারব্যবস্থায় এমন ঘটনা মেনে নিতে পারেনি প্রবীণ আইনজীবীরা। বিশিষ্ট আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ বলেছেন, এমন ধরনের একটি ঘটনায় ওড়িষায় ২৬ জন আইনজীবীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টে গেলে একইরকম ভাবে এখানকার বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে। এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন অরুণাভ ঘোষ।

জানুয়ারি ১০, ২০২৩
রাজ্য

খুনের দায়ে প্রাক্তন বিধায়ক সহ ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা

প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ককে যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ দিল বিধান নগর এমপি, এমএলএ কোর্ট। ২০১০ সালে বাঁকুড়ার তালডাংরা থানার অন্তর্গত তৃণমূল কর্মী মদন খাঁ খুনের ঘটনায় গতকালই দোষী প্রমাণিত করা হয় প্রাক্তন সিপিআইএম এমএলএ মনোরঞ্জন পাত্র সহ মোট তিন জন। আজ, বৃহস্পতিবার বিধাননগর এমপি, এমএলএ আদালতে তাঁদের সাজা ঘোষণ করা হল। এই তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।এর পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। যদি দিতে না পারে তাহলে আরপ ছয় মাস সাজা।এমপি, এমএলএ কোর্টের পিপি ইনচার্জ সোমা মন্ডল জানান, ২০১০ সালে বাঁকুড়ার তালডাংরার প্রাক্তন এমএলএ মনোরঞ্জন পাত্র তৃণমূল কর্মী ইসমাইল খাঁয়ের বাবা মদন খাঁয়ের বাড়িতে যায়। যেটা আমরা অভিযোগে পেয়েছি তখনকার দিনে মদন খাঁ তৃণমূল পার্টি করতেন। মনোরঞ্জন পাত্র দলবল নিয়ে ওনার বাড়িতে গিয়েছিলেন উনাকে তৃণমূল থেকে সিপিএমে আসতে বলছিলেন সেই নিয়ে একটা বচসা তৈরি হয়। সেই সময় এই মনোরঞ্জন পাত্র, জিতেন পাত্র, আজবাহার খাঁ সহ আরো লোকজন ওনার বাড়িতে যায়। তারা গিয়ে ওনাকে চাপ দিতে থাকেন। উনি যখন এই ব্যাপারটা মানতে না চান তখন ওনাকে খুন করা হয়। ওনার বাড়িতে যারা ছিলেন তাদের সামনেই বাড়ির ভেতরে গুলি করা হয়। উনার বডি লোপাট করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এটা ছিল ২৯/৬/২০১০ এর ঘটনা। ৩০ তারিখে ছেলে ইসমাইল খাঁ তালডাংরা পিএসএ অভিযোগ জানায়। এই ঘটনায় মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে কেস শুরু হয়। কিছুটা সাক্ষী ওখানেই হয়ে গেছিল। বাদবাকি সাক্ষী সাক্ষ্য প্রমাণ আর্গুমেন্ট সবকিছু এমপি, এমএলএ কোর্টে সম্পন্ন হয়। এদিন মোট ২১ জনের মধ্যে তিন জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক। তিনজনের মধ্যে একজন হল প্রাক্তন সিপিআইএমের এম এলএ মনোরঞ্জন পাত্র, জিতেন পাত্র ও আজবাহার খান। গুলিটা আজবাহার খান চালিয়েছিলেন উনাদের নির্দেশে। বাকি ১৯ জনের ক্ষেত্রে তথ্য প্রমাণ সেভাবে সাপোর্ট করেনি সাক্ষীরা তাদেরকে সেইভাবে আইডেন্টিফাই করতে পারিনি যে ওখানে তারা হাজির ছিলেন বা কিছু সেই কারণে তাদেরকে এই মামলা থেকে খালাস করে দেওয়া হয়েছে। আজ বাকি তিনজনের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করল বিধান নগরএমপি, এমএলএ কোর্টে।

ডিসেম্বর ২২, ২০২২
শিক্ষা

ইংরেজিতেই সব থেকে বেশি অযোগ্য শিক্ষক, ভুয়োদের তালিকা প্রকাশ হতেই শোরগোল

আদালতের নির্দেশের ২৪ ঘন্টার মধ্যে অযোগ্য-ভুয়ো শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। গতকালই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তালিকা প্রকাশ করতেই তা দেখতে হইচই বেধে গিয়েছে।ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে ১৮৩ জন শিক্ষকের নাম তুলে দিয়েছে সেই তালিকায়। এরা ভুয়ো সুপারিশপত্রের ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁরা।ওই তালিকায় অযোগ্য শিক্ষকদের নাম, রোল নম্বর, আবেদনপত্রের নম্বর থেকে শুরু করে যে বিষয়ে শিক্ষকতার জন্য আবেদন করেছিলেন সবই প্রকাশ করা হয়েছে। অঙ্ক, বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল, পদার্থ বিজ্ঞান, জীবনবিজ্ঞানের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও রয়েছেন সেই তালিকায়।এদিন সন্ধেয় এই তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি। তালিকায় সবচেয়ে বেশি ভুয়ো শিক্ষক রয়েছেন ইংরাজি বিষয়ের। ১৮৩ জনের মধ্যে ৫৭ জন ইংরাজির শিক্ষক-শিক্ষিকা। ৩০ জন ভূগোলের, ২২ জন জীবন বিজ্ঞান, ২১ জন বাংলায়, অঙ্ক ও পদার্থ বিজ্ঞানে ১৮ জন করে এবং ইতিহাসে ১৭ জন রয়েছেন তালিকায়। ১৮৩ জনের নামের তালিকা ওয়েবসাইটে আপলোড করার পর শিক্ষামহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এনমকী ওই শিক্ষকরা কোন স্কুলে কর্মরত তা জানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

ডিসেম্বর ০১, ২০২২
রাজ্য

দেহরক্ষী হীন কেষ্ট, সুপ্রিম-রায়ে ইডি-র ডাকে দিল্লি চলল সহগল

একদিকে মানিক ভট্টাচার্য্য ও ২৬৯ জন বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের সাময়িক স্বস্থিদানের রায় দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট ঠিক সেই সমইয়েই, গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত, জেলবন্দি বীরভূমের বেতাজ বাদশা তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী রাজ্য সরকারের কনস্টবল পদে কর্মরত সহগল হোসেনের আবেদন খারিজ করে এক অন্য বার্তা দিল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট।পরিণাম স্বরুপ সহগলকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জেরা করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র আর কোনও বাধাই রইল না। উল্লেখ্য এর আগে সহগলকে দিল্লিতে ইডি-র অফিসে নিয়ে গিয়ে জেরার জন্য আসানসোলে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আবেদন করেছিল ইডি। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তারপর ইডি কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করে এবং কলকাতা হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে তদন্তকারী সংস্থার সেই আবেদনও বাতিল হয়ে যায়।কলকাতা হাইকোর্টে রায় জানার পর পরেই ইডি দিল্লির রউস অ্যাভিনিউ কোর্টের আবেদন করে। সেখানে সোমবার ইডির আবেদনে সম্মতি দিয়ে সহগলকে সহগলকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা করার অনুমতি দেয়। সেই রায়ের বিরোধিতা করে সহগলের আইনজীবী দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করে, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট রউস আদালতের এই নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তিকালীন স্থগিতাদেশ দেয়। এবং জানায়, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সহগলের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না ইডি। কিন্তু বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্টই আবার জানায়, গরু পাচার কান্ডে ধৃত সহগলকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আবার দিল্লিতে জেরা এড়াতে মড়িয়া সহগল দিল্লি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান। শুক্রবার সহগলের আর্জি খারিজ করে দিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরার আবেদনে শিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট।

অক্টোবর ২১, ২০২২
কলকাতা

মোমিনপুরের হিংসার ঘটনার তদন্তে সিট গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

মোমিনপুরের অশান্তির ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট(SIT) গঠনের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের নেতৃত্বে সিটের সদস্যরা কাজ করবে। তদন্তের গতি নিয়ে দু সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গত শনিবার মোমিনপুরের ময়ুরভঞ্জ রোডে ব্যাপক গোষ্ঠা সংঘর্ষ ঘটে। রবিবারও হিংসা অব্যাহত ছিল। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় মানুষ জখম হয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে আহত কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিককেও। ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছিল বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিল তাঁরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দেয় তাঁরা। এই হিংসার ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়েরও করে বিজেপি। তারই শুনানি ছিল এদিন।আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দলকে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ ও তাদের উদ্দেশ্য অনুসন্ধান করতে হবে। একইসঙ্গে হিংসার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও তা সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করে বহাল রাখার ব্যাপারেও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালত বলেছে, স্থানীয়রা কোনওভাবেই যেন আতঙ্কের মধ্যে না থাকে। পুলিশ পিকেটিংও চলবে। আদালতের নির্দেশ, ওই দিনের অশান্তির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।আদালতের নির্দেশের পর এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার নগরপাল বিনীত গোয়েল। তিনি বলেন, এলাকা এখন স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও নাগরিক ভয় পেলে বা আতঙ্কগ্রস্ত থাকলে অবশ্য পুলিশকে জানান, পদক্ষেপ করা হবে।

অক্টোবর ১২, ২০২২
রাজ্য

বেআইনিভাবে চাকরিপ্রাপ্তদের স্বেচ্ছায় ইস্তফার নির্দেশ, এসএসসি নিয়ে কড়া বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

বেআইনি ভাবে অযোগ্য নিয়োগকারীদের কোনও ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না, ফের নয়া নির্দেশ দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দুর্নীতির সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা হবে না। বেআইনি ভাবে স্কুলশিক্ষক এবং অ-শিক্ষক পদে কর্মরতদের উদ্দেশে বুধবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি এদিন বলেছেন, টাকা ঘুষ দিয়ে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁরা নিজেরাই চাকরি থেকে পদত্যাগ করুন। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ইস্তফার মেয়াদ। না হলে তাঁদের বরখাস্ত করা হবে। এঁরা যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও সরকারি চাকরি না পান সেই ব্যবস্থা করবে আদালত।রাজ্যে স্কুলশিক্ষক এবং অ-শিক্ষকদের নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির তদন্ত ও আদালতের নানা নির্দেশ নিয়ে তোলপাড়। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রচুর সংখ্যক সাদা খাতা জমা দেওয়া হয়েছে। কিছু খাতায় শুধুমাত্র পাঁচ-ছটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। তার পরও ওই চাকরিপ্রার্থীরা ৫৩ নম্বর পেয়েছেন। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র পরীক্ষায়ও একই জিনিস হয়েছে। আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কতজনকে সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে তা-ও জানতে চেয়েছেন বিচারপতি।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২
রাজ্য

সুপ্রিম স্বস্তি মানিকের, আপাতত গ্রেফতার নয় অপসারিত পর্ষদ সভাপতিকে

এক দিনের জন্য মানিকের স্বস্তি। ২৪ ঘন্টার জন্য মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের মতো কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না, টেট সংক্রান্ত সিবিআই তদন্ত মামলায় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামীকাল ফের শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। উল্লেখ্য, এদিন রাত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, আজ রাত ৮টার মধ্যে সিবিআই দফতরে হাজির হতে হবে প্রথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে। সহযোগিতা না করলে প্রয়োজনে সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে। তবে সুপ্রিম নির্দেশে কড়া পদক্ষেপ থেকে স্বস্তি পেয়েছেন মানিক। তবে তাঁকে হাজিরা দিতে হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২
রাজ্য

টেটের OMR শিট নষ্ট নিয়ে তদন্তের নির্দেশ, আজই সিবিআইতে হাজিরা মানিকের

এবার ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার উত্তরপত্র OMR শিট নষ্ট করা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মোট ১২ লক্ষের বেশি OMR শিট নষ্ট করার অভিযোগ করা হয়েছিল আদলতে। আদালত জানতে চায়, কেন এবং কার নির্দেশে সেগুলি নষ্ট করা হয়েছে? পর্ষদের জবাব, এর কোনও রেকর্ড নেই। মঙ্গলবার OMR শিট নষ্ট সংক্রান্ত মামলায় এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।এদিকে পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। তদন্তে সহযোগিতা না করলে প্রয়োজনে সিবিআই মানিক ভট্টাচার্যকে হেফাজতে নিতে পারে বলেও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন রাত ৮টার মধ্যেই মানিক ভট্টাচার্যকে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে হবে।শুনানিতে বিচারপতি অভিজিত্ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, OMR শিট অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে নষ্ট করা হয়েছিল, বাছাই করা সংস্থাকে নষ্ট করার বরাত দেওয়া হয়েছিল, তাই গোটাটা খতিয়ে দেখবে সিবিআই। এছাড়াও বিচারপতি জানান, ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে কাদের OMR শিট নষ্ট করা হয়েছে সেই তথ্য পর্ষদের জানা নেই। এদিকে পর্ষদের এই ভূমিকা মোটেই প্রত্যাশিত নয়। বলেছেন বিচারপতি।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • ...
  • 23
  • 24
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

দুর্গাপুরে জঙ্গলে নেহরুর মূর্তি! ২৪ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ কংগ্রেসের, বিজেপির পালটা দাবি—‘চোরা তৃণমূলীরাই দায়ী’

দুর্গাপুর, ৩০ আগস্ট: রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই এবার পৌঁছে গেল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ঘিরে বিতর্কে। দুর্গাপুরের একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে থেকে নেহরুর বিশাল মূর্তি ক্রেনের সাহায্যে তুলে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক পালটা দাবি করেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেসেরই একটি অংশ এবং চোরা তৃণমূলীরা।দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে দীর্ঘদিন ধরে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর একটি বড় মূর্তি ছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, শুক্রবার সেখানে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা তৈরি করতেই ক্রেন এনে নেহরুর মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেটি স্কুল সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।মূর্তি সরিয়ে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তাদের প্রশ্ন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতার মূর্তির সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হল?জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে কার্যত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ক্রেনের সাহায্যে নেহরুর মূর্তি উপড়ে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং সেই জায়গায় পরবর্তীতে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও ছিল।Press ReleaseThe Pradesh Congress strongly condemns the desecration of the statue of the countrys first Prime Minister, Pandit Jawaharlal Nehru; Shri @subhankar_cong demands the immediate reinstallation of the statue and the arrest of the culprits.Kolkata, August 30, 2026: pic.twitter.com/SImtSOHvX8 West Bengal Congress (@INCWestBengal) August 30, 2026দেবেশ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেহরুর মূর্তিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পূর্বের জায়গায় পুনঃস্থাপন করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কংগ্রেস।তবে কংগ্রেসের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পালটা অভিযোগ, কংগ্রেসেরই একটি অংশ গোপনে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে এবং সেই চোরা তৃণমূলীরাই নেহরুর মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।বিজেপি বিধায়কের দাবি, ঘটনার দায় বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং কারা মূর্তিটি সরিয়েছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা উচিত।নিজের বক্তব্যের পক্ষে অতীতের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দুর্গাপুরের এভিএল কার্যালয়ের সামনে একাধিক ইউনিয়ন অফিস ভাঙার সময় তাঁর হস্তক্ষেপেই রাজীব গান্ধীর মূর্তিটি রক্ষা পেয়েছিল। ফলে বিজেপি কখনও রাজনৈতিক নেতাদের মূর্তি ভাঙচুরকে সমর্থন করে না বলেও তাঁর দাবি।চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নেহরুর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। বরং যারা এই কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেও তাঁর দল রয়েছে।এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এবার সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসও। ৩০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নেহরুর মূর্তি সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা করেছেন।শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নেহরু শুধু কংগ্রেসের নেতা ছিলেন নাতিনি ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আধুনিক ভারত নির্মাণের অন্যতম প্রধান স্থপতি। তাঁর মূর্তি এভাবে সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া শুধুমাত্র একটি মূর্তির অবমাননা নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যের প্রতিও অসম্মান।তবে এই ঘটনার পিছনে কোন রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস। দলের দাবি, প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক।প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নেহরুর মূর্তি পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।ফলে দুর্গাপুরে নেহরুর মূর্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে কংগ্রেসের অভিযোগের নিশানায় বিজেপি, অন্যদিকে বিজেপির পালটা অভিযোগ তৃণমূলের দিকে। মূর্তি কে সরাল, কেন সরানো হল এবং ঘটনাটির পিছনে আসল কারণ কীএই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী, এবার সরাসরি আমলা-পুলিশের কাছে অভিযোগ! সপ্তাহে দু’দিন খুলছে দরজা

সরকারি পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ বা সমস্যা হলে এবার থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহে দুদিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন। এর জন্য আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওই দুই দিন আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে।এই সময়ে আধিকারিকদের যাতে বাইরে সরকারি কাজে যেতে না হয়, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে তাঁদের।সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করতে হবে। অফিসে এমন জায়গায় এই তথ্য রাখতে হবে, যাতে সহজেই তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর বা বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ওই তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নতুন ব্যবস্থার আওতায় একাধিক স্তরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ থাকবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শাসক, পুর কমিশনার, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের মতো আধিকারিকদের কাছে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকবে।বন দফতরের ক্ষেত্রেও একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান মুখ্য বনপাল, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল, মুখ্য বনপাল, বিভাগীয় বন আধিকারিক, অতিরিক্ত বিভাগীয় বন আধিকারিক এবং বনাঞ্চল আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে।রবিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। নতুন নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না এবং সরকারি আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে রাজ্যের কর্মীবর্গ দফতর।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি শনিবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য জনতার দরবারে বসেন। এবার সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা হল।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
দেশ

উত্তম-সত্যজিৎ স্মরণে মোদি, বাংলার দুই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলা চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমার এবং পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁদের অবদান এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি।উত্তম কুমার শুধু বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন না, তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগেরও অন্যতম প্রতীক। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি আজও কিংবদন্তির মর্যাদা পায়। তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের স্মারক হয়ে রয়েছে। সেই কারণেই উত্তম কুমারের নাম উচ্চারিত হলেই বাঙালির নস্টালজিয়ায় ফিরে আসে এক বিশেষ সময়।অন্যদিকে সত্যজিৎ রায় ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তাঁর সৃষ্টিশীলতা শুধু বাংলা বা ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেও তিনি তৈরি করেছিলেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়। পথের পাঁচালী থেকে শুরু করে একাধিক কালজয়ী ছবির মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদর্শকের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্মাণশৈলী, গল্প বলার ধরন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা।প্রধানমন্ত্রীর এই স্মরণে উঠে এসেছে বাংলা সংস্কৃতির দুই ভিন্ন ধারার দুই মহীরুহের অবদানের কথাই। একজন অভিনয়ের জাদুতে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন, অন্যজন ক্যামেরার ভাষায় ভারতীয় জীবনের গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন।উত্তম কুমার ও সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে রয়েছে। সময় বদলেছে, বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষাও। কিন্তু তাঁদের কাজের আবেদন এখনও অমলিন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন তাই কেবল দুই শিল্পীকে স্মরণ নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের সেই গৌরবময় অধ্যায়ের প্রতিও এক সম্মান প্রদর্শন।রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর #MannKiBaat-এর অনুষ্ঠানে উঠে এলেন বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমার। আপামর বাঙালির কাছে এ এক গর্বের মুহূর্ত, আবেগের মুহূর্ত।আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্র জগতের মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ভারতীয় ও বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি শিল্পী উত্তম কুমারের অনন্য প্রতিভা, অভিনয় দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও কালজয়ী অবদানকে স্মরণ করলেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলার মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।উত্তম কুমার শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়কই ননতিনি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর সৃষ্ট চরিত্র আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে।বাংলার সংস্কৃতি ও বাংলার গৌরবকে জাতীয় মঞ্চে যে সম্মান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

‘দাদাগিরি’র পর এবার ‘বিগ বস’, সৌরভের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু আজ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আজ, রবিবার থেকেই বাংলার টেলিভিশনের পর্দায় শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বিগ বস বাংলা। তবে এবারের আকর্ষণ শুধু প্রতিযোগীদের নিয়ে নয়। এই রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সঞ্চালকের আসনে। ক্রিকেটের মাঠে নেতৃত্ব দিয়ে যিনি এক সময় ভারতীয় ক্রিকেটের ছবিটাই বদলে দিয়েছিলেন, সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেই এবার দেখা যাবে বিগ বস বাংলার মুখ হিসেবে। প্রায় এক দশক পর বাংলায় ফিরছে অনুষ্ঠানটি।সৌরভের কাছে অবশ্য এই দায়িত্ব একেবারেই নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো সঞ্চালনা করেছেন তিনি। কিন্তু বিগ বস-এর চরিত্র আলাদা। এখানে শুধু হাসি-ঠাট্টা বা প্রতিযোগিতার সঞ্চালনা নয়, প্রতিদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন, মতবিরোধ, আবেগ, কৌশল এবং মানসিক চাপ, সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়াতে হবে সঞ্চালককে। সেই জায়গাতেই সৌরভের উপস্থিতি এবারের শোকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।এই খেলায় ব্যাট হাতে রান করার সুযোগ নেই। নেই প্রতিপক্ষের বোলিং পড়ে নেওয়ার সুবিধাও। বরং একই ছাদের নীচে থাকা একাধিক মানুষের আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক সমীকরণই হয়ে উঠবে মূল আকর্ষণ। কে বন্ধুত্বকে কাজে লাগাবেন, কে নিজের অবস্থান ধরে রাখবেন, কে চাপের মুহূর্তে ভুল করবেন, সেটাই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।শোয়ের নির্মাতারা প্রতিযোগীদের পরিচয় নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কৌতূহল ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখদের পাশাপাশি বিনোদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া জগতের একাধিক নাম নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা জানার জন্য দর্শকদের নজর থাকবে আজকের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের দিকে।স্টার জলসা এবং জিওহটস্টারে সম্প্রচারিত হবে এই নতুন অধ্যায়। ফলে আজ রাত থেকেই বোঝা যাবে, দাদা কি পারবেন ক্রিকেটের মাঠের মতোই টেলিভিশনের এই জটিল খেলাতেও নিজের ছাপ রাখতে? উত্তর খুঁজতেই আজ পর্দার সামনে বসবে বাংলা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃতের সংখ্যা সাতশো পেরিয়ে! প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ, বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত সাতশোর বেশি মানুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে বহু ভারতীয়ও রয়েছেন বলে খবর।বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পর উদ্ধারকাজ জোরদার হলেও পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদামাটির মধ্যে থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক দেহের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আবার বহু দেহ দাবি করার মতো পরিবারের কাউকেও পাওয়া যাচ্ছে না।এই পরিস্থিতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণ করাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপাল সরকারের আশঙ্কা, দেহগুলি দ্রুত পচে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হাসপাতালে এবং অন্যত্র এত বিপুল সংখ্যক দেহ রাখার মতো জায়গাও নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই পরিচয়হীন ও দাবিহীন মৃতদেহ গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে ২৩৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেহ একসঙ্গে রাখার কারণে হাসপাতালগুলিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেহ পচতে শুরু করেছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।তবে গণকবর দেওয়া হলেও মৃতদের পরিচয় যাতে পরে জানা যায়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি দেহ কবর দেওয়ার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা নেপালে এসে খোঁজ করলে তাঁদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।শুধু ডিএনএ নমুনাই নয়, প্রতিটি মৃতদেহের আলাদা পরিচয় নম্বরও রাখা হচ্ছে। দেহগুলি বিশেষ ব্যাগে ভরে কবর দেওয়ার সময় সেই ব্যাগে পরিচয় নম্বর এবং অবস্থানের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরে কোনও দেহ শনাক্ত হলে ঠিক কোন জায়গায় সেটি কবর দেওয়া হয়েছিল, তা জানা সম্ভব হবে।পরবর্তীকালে দেহ তুলে শনাক্তকরণ বা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে। সেই কারণে গণকবর খুব গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে না। প্রতিটি দেহের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দেহটি আলাদা করে তোলা যায়।গণকবরের কাছেও একটি কংক্রিটের ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে প্রতিটি মৃতদেহের পরিচয় নম্বর নথিভুক্ত থাকবে। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেও মৃতদের পরিচয় যাতে পুরোপুরি হারিয়ে না যায়, সেই ব্যবস্থাই করছে নেপাল প্রশাসন।এদিকে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও মৃতদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই এখন নেপাল প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

দেওয়ালে লেখা ছিল বিতর্কিত স্লোগান, রাত পেরোতেই সব সাদা! যাদবপুরে হঠাৎ কেন বদলে গেল ছবি?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়ালে বিতর্কিত স্লোগান লেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের কয়েকটি জায়গায় এমন কিছু লেখা ছিল, যা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। শুক্রবার যাদবপুরের আট বি এলাকায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ধরনের লেখালিখির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তার পরের রাতেই কয়েকটি বিতর্কিত লেখার উপর সাদা চুনকাম করা হয়।যাদবপুরের মুক্তমঞ্চের দেওয়ালে আগে একাধিক রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বক্তব্য লেখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি লেখায় সশস্ত্র হিংসার পক্ষে বক্তব্য এবং মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমর্থনে স্লোগান ছিল বলে অভিযোগ। সেই লেখাগুলি ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।ভারতীয় জনতা পার্টির ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই নকশালপন্থী মতাদর্শের সমর্থনে নানা ধরনের স্লোগান লেখা রয়েছে। সংগঠনের দাবি, ক্যাম্পাসে এমন লেখা থাকার পরেও দীর্ঘদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।সংগঠনের এক প্রতিনিধি একটি দেওয়াল দেখিয়ে দাবি করেন, সেখানে কমরেড কিষেণজিকে সমর্থন করে লেখা ছিল। পরে সেই লেখাটিও মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি ওঠে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানান। তার পরেই শনিবার রাতে কয়েকটি দেওয়ালে সাদা চুনকাম করতে দেখা যায়।তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশের বক্তব্য, দেওয়াল লিখন নিয়ে সমস্যা নতুন নয়। অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে বিভিন্ন ধরনের লেখা দেখা যায়। সেগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা লিখছেন, না কি বাইরের কেউ এসে লিখছে, তা সব সময় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে এমন কোনও স্লোগান থাকা উচিত নয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। পড়ুয়াদের লেখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গাও করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই নিয়ম আর আগের মতো কার্যকর থাকেনি বলে তাঁর দাবি।বিতর্কিত লেখাগুলি কে লিখেছিল, কখন লেখা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাতারাতি কয়েকটি লেখা মুছে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal