• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bengal

প্রযুক্তি

ভাইরাস ধ্বংসকারী মাস্ক আবিষ্কারে বাঙালি তরুণীর বিশ্বজয়

গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচার - উচ্চ-রেজোলিউশন চিত্র ও ভিডিও আকারে বিশ্বজুড়ে বিশ্ব সেরা শিল্পকর্ম পন্য এবং সাংস্কৃতিক নিদর্শন গুলির সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের একটি অনলাইন মিউজিয়াম। গুগল ফেব্রুয়ারি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করে এই ভার্চুয়াল মিউজিয়াম টি । এই মিউজিয়াম উচ্চ- রেজুলেশন চিত্র প্রযুক্তি ব্যবহার করে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। বিশ্ব সেরা দশটি শিল্পকর্ম, পন্য এবং সাংস্কৃতিক নিদর্শন গুলির দেখার জন্য গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচার এর মিউজিয়ামে প্রবেশ করলে দেখা মিলবে ভারতের গর্ব দিগন্তিকা বোস এর উদ্ভাবিত ভাইরাস ডিটারেন্ট মাস্ক ২০২০। তার উদ্ভাবিত মাস্ক টি গুগল এর মিউজিয়ামে উপস্থাপনে সহযোগিতা করেছে মিউজিয়াম অফ ডিজাইন এক্সিলেন্সের যাদুঘর মুম্বাই। গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচার মিউজিয়ামে দিগন্তিকার উদ্ভাবিত ভাইরাস ডিটারেন্ট মাস্ক এর মডেল সংরক্ষণ করেছে । সাথে উল্লেখ করেছে ভাইরাস ডিটারেন্ট মাস্ক,2020, উদ্ভাবক দিগন্তিকা বোস এর নাম । আরো উল্লেখ করেছে এই ধুলোমুক্ত এবং ভাইরাস-নিরোধকমাস্কটি ভারতের সতের বছর বয়সী কনিষ্ঠ তম উদ্ভাবক হিসাবে ডিজাইন টির প্রোটোটাইপ করেছেন দিগন্তিকা, মিউজিয়ামে আরো উল্লেখ করেছে যে তাঁর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জ্ঞানকে ব্যবহারিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োগ করে দিগন্তিকা আবিষ্কার করেছিলেন যে নেতিবাচক আয়নগুলি আমাদের চারপাশের বাতাসের সংস্পর্শে আসে তখন তারা বেশিরভাগ ভাইরাসকে ধ্বংস করে দেয়। সম্পূর্ণ ভাইরাস ধ্বংস নিশ্চিত করতে, একটি সাবান-জল মিশ্রণ দুটি রাসায়নিক ফিল্টারে যুক্ত করা হয়েছে যা গৃহীত বাতাসকে বিশুদ্ধ করে যার মধ্যে ভাইরাসের অবশিষ্ট ধ্বংস করে প্রবেশ করতে দেয়। এই ভাবে সমগ্ৰ উদ্ভাবন টির বর্ণনা দিয়েছে গুগল। দিগন্তিকা মেমরি ভি এম ইনস্টিটিউশন ইউনিট ২ এর দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। এতি মধ্যে তার এগারো টি উদ্ভাবনের জন্য এই বয়সেই উদ্ভাবক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে।দিগন্তিকা জানায় আমার খুব ভালো লাগছে এটা জানতে পেরে যে আমার উদ্ভাবিত ভাইরাস ধ্বংসকারী মাস্ক কে গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচার বিশ্ব সেরা দশটি অনুপ্রেরণামূলক ডিজাইনের মধ্যে স্থান দিয়েছেন গুগলের মিউজিয়ামে।

মে ০৭, ২০২১
রাজ্য

'নগরের নটী' পায়েল-তনুশ্রীদের হার নিয়ে বিজেপিকে তোপ তথাগতর

বেহিসেবি মন্তব্যে অনেক কাল ধরেই তাঁর বেশ নামডাক। তবে এত দিন তথাগত রায়ের সেই সব মন্তব্য ধাবিত হত বিজেপি-বিরোধীদের প্রতি। কিন্তু বঙ্গ দখলের লড়াই শেষ হতে সেই তথাগত রায়ের দিকে তোপ এ বার ধেয়ে গেল দলীয় নেতৃত্বের দিকে। বিজেপি-র তারকা প্রার্থীদের একাংশকে নাম করে নগরীর নটী বিশেষণ দেওয়া হোক বা দলীয় নেতৃত্বকে প্রভু হিসেবে উল্লেখ করা বাছা শব্দচয়নে শুধু কটাক্ষই নয়, বিজেপি নেতৃত্বকে প্রশ্নবাণেও বিদ্ধ করেছেন তিনি।মঙ্গলবার বিজেপি-র বর্ষীয়ান নেতা তথাগত টুইট করে দলের তিন তারকা প্রার্থী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পায়েল সরকার ও তনুশ্রী চক্রবর্তীকে টিকিট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওই তিন প্রার্থীর কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিব প্রকাশ, অরবিন্দ মেননের ভূমিকাকেও জিজ্ঞাসাচিহ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তথাগত মঙ্গলবার সকালে টুইট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, পায়েল, শ্রাবন্তী, পার্নো ইত্যাদি নগরীর নটীরা নির্বাচনের টাকা নিয়ে কেলি করে বেড়িয়েছেন আর মদন মিত্রর সঙ্গে নৌকাবিলাসে গিয়ে সেলফি তুলেছেন তাঁদেরকে টিকিট দিয়েছিল কে? কেনই বা দিয়েছিল? দিলীপ-কৈলাশ-শিবপ্রকাশ-অরবিন্দ প্রভুরা একটু আলোকপাত করবেন কি?এর পর তিনি আর একটি টুইট করে আগের বক্তব্যে একটু সংশোধন করেন। সেখানে তিনি জানান, পার্নো নয় ওই নামটি তনুশ্রী চক্রবর্তী হবে। তিনি প্রথমে ভুল করে লিখে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন তথাগত। রাজনীতিতে পোড় খাওয়া তথাগতর বেহিসেবি মন্তব্য নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য নিয়ে আগেও বহু বার সমালোচিত হয়েছেন তিনি। এ বার দলের দিকে তোলা তাঁর প্রশ্নে রীতিমতো অস্বস্তিতে দল। প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করলেও বিজেপি নেতাদের তরফে জানানো হয়েছে, এটা তথাগতর নিজের বক্তব্য। দলের মন্তব্য নয়।

মে ০৪, ২০২১
রাজ্য

মতুয়া ও রাজবংশীদের হাত ধরে কিছুটা মান বাঁচল বিজেপির

উত্তরে রাজবংশী। দক্ষিণে মতুয়া। প্রান্তিক, উপেক্ষিত দুই সমাজ অনেকটাই পাশে না থাকলেরাজ্য বিজেপির আসন সংখ্যা আরও বেশ কিছুটা কমতো বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। তাঁদের সমর্থনে ভর দিয়েই একটা সম্মানজনক সংখ্যায় পৌঁছে গিয়েছে গেরুয়া শিবির। না হলে আসনসংখ্যা হয়তো অর্ধশতকের আশপাশে আটকে যেত পদ্মের। ভোটের ফলাফলের বিন্যাস বলছে, মতুয়া ও রাজবংশী প্রভাবিত প্রায় প্রতিটি আসন জিতেছে বিজেপি। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা দুই সম্প্রদায়ের মানুষের প্রভাব রয়েছে এমন এলাকার ভোটবাক্সে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি রাজ্যের শাসকদল। ব্যতিক্রম একমাত্র উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া। মতুয়া ভোট ঘরে তুলতে দুই তরফেই দীর্ঘ লড়াই জারি রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার বেশ কিছু আসন জেতা-হারা নির্ভর করে মতুয়া ভোটের উপরে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির প্রিয় ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি রাজনৈতিক ক্ষমতার টানাপোড়েনে দুই ভাগে বিভক্ত। সেখানকার ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্যে রাজ্যের তরফের উন্নয়নকাজ অব্যাহত। অন্যদিকে আবার বিজেপির তরফেও রয়েছে নানা প্রতিশ্রুতি এবং এনআরসি ইস্যুতে মতুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে বনগাঁর উত্তর ও দক্ষিণ, বাগদা, গাইঘাটা জিতেছে বিজেপি। হাবড়া আসনে সামান্য ভোটে জিতেছেন খাদ্যমন্ত্রী। পাশের জেলা নদিয়ায় রানাঘাট উত্তরপূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, কৃষ্ণগঞ্জে মতুয়া ভোটের আধিক্য রয়েছে। সেখানে বিজেপি জিতেছে। মতুয়া নির্ণায়ক শক্তি এমন আসন হরিণঘাটা, কল্যাণী জিতেছে গেরুয়া শিবির। তবে তেহট্টে মতুয়া ভোট পেয়েছে তৃণমূল। উত্তরবঙ্গে গত লোকসভা ভোটেই ভাল ফল করেছিল বিজেপি। তার আগের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে যে কিছুটা হলেও হাওয়া রয়েছে তা বোঝা গিয়েছিল। এবার দেখা গেল রাজবংশী এবং কামতাপুরী সম্প্রদায়ের প্রভাব রয়েছে এমন আসনগুলি হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের।অন্যিদিকে, কোচবিহারের দিনহাটা, মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জ, মেখলিগঞ্জ, কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ আলিপুরদুয়ারের বেশ কিছু আসন জিততে পারেনি তৃণমূল। এগুলি সবই রাজবংশী ভোটার বেশি। তারাই নির্ণায়ক শক্তি। গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনেও প্রাণ গিয়েছে এখানকারই মানুষের। এখানে দলের মধ্যে খুবই ঝামেলা রয়েছে যা ভোটের আগেও মেটানো যায়নি। নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে ভোটের বাক্সে। আবার পাহাড়ের দার্জিলিং ও কার্সিয়াংসহ ডুয়ার্সের আদিবাসী অধু্যষিত একাধিক আসন জিতেছে বিজেপি। যেগুলি পকেটে না পুরতে পারলে মোট আসনের নিরিখে সংখ্যাটা একটুও ভারী বা ওজনদার মনে হত না। তথ্য ও পরিসংখ্যানের প্রশ্ন মতুয়া এবং রাজবংশী ভোট নিজেদের ঝুলিতে ভরতে না পারলে কম করে কুড়িটি আসন কম পেতে পারত বিজেপি। এই প্রান্তিক, উপেক্ষিত মানুষগুলির একটা বড় অংশই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মান বাঁচাল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মে ০৩, ২০২১
রাজ্য

ফল ঘোষণার দিন বৃষ্টিতে ভিজল বাংলা

ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল বাংলা। চরম অস্বস্তিতে ভুগছে বঙ্গবাসী। এর মাঝেই রাজ্যবাসীর জন্য সুখবর শোনাল হাওয়া অফিস। জানাল, আগামী পাঁচদিন বৃষ্টিতে ভিজবে রাজ্যের মাটি। রয়েছে ঝড়ের পূর্বাভাসও। বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৫ দিন অসম এবং মেঘালয়ে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। মে-র ৩ থেকে ৪ তারিখের মধ্যে ওডিশায় তুমুল বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সতর্কতা জারি হয়েছে বাংলার জন্যও। ২ থেকে ৫ মে পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে রবিবার সন্ধেয় কলকাতা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৫ দিন অসম এবং মেঘালয়ে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। মে-র ৩ থেকে ৪ তারিখের মধ্যে ওড়িশায় তুমুল বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সতর্কতা জারি হয়েছে বাংলার জন্যও। ২ থেকে ৫ মে পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে রবিবার সন্ধেয় কলকাতা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে। হাওয়া অফিস বলছে, মধ্যপ্রদেশের উপর একটি ঘূর্ণিঝড় অবস্থান করছে। এই রাজ্যের মধ্যভাগে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা আবহাওয়া দপ্তরের। ঘূর্ণিঝড়ের গতিমুখ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে রয়েছে। ফলে ২ মে থেকে ৫ মে এ রাজ্যের আর্দ্রতা বাড়বে। তাই বঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে প্রতি ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ইতিমধ্যে নবান্ন থেকে এ নিয়ে সতর্কতাও জারি হয়েছে। হাওয়া অফিস বলছে, সোমবার থেকে বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টি স্বস্তি দিতে পারে বঙ্গবাসীকে। নামতে পারে তাপমাত্রার পারদ।

মে ০২, ২০২১
রাজ্য

বাংলা থাকল নিজের মেয়ের হাতেই

সেই এক পায়েই বাংলা দখল করে দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট প্রচারের জনসভা থেকে এভাবেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাঙা পায়েই ময়দানে নেমেছিলেন জননেত্রী। কেন্দ্রের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদের প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যত একাই ২৯৪টি আসনে লড়েছেন। লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ওঠা গেরুয়া ঝড়কে বিধানসভা ভোটে একার নেতৃত্বে রুখে দিয়েছেন তিনি। সেই দীর্ঘ লড়াই আর আত্মত্যাগের আজ মধুর ফল পেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বিজেপিকে অনেকখানি পিছনে ফেলে ম্যাজিক ফিগারের অনেক বেশি আসন নিয়ে আরও একবার বঙ্গে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করল মমতার তৃণমূল সরকার। দিদির কাছেই রইল বাংলা। একুশের নির্বাচনের আগে অদ্ভুত এক দলবদলের আবহ তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের ঘরভাঙা নিয়ে একটা সময় দলের অন্দরেও চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামটাই যে বাংলার মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য যথেষ্ট ছিল, তা তৃতীয়বারের জন্য প্রমাণ করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। দলত্যাগীদের নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত হতে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং বলে দিয়েছিলেন, যাঁরা বেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের নিয়ে না ভেবে, যাঁরা দীর্ঘ দশ বছর জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়েই লড়াই জিতবেন। এমনকী নিজের গড় ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জও স্বেচ্ছায় নিয়েছিলেন। যে ভূমি আন্দোলন থেকে তৃণমূলের উত্থান হয়েছিল, সেই মাটিতেই জয়ের নয়া ইতিহাস গড়ার শপথ নিয়েছিলেন। বিজেপি প্রার্থী তথা পূর্ব মেদিনীপুরের ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীকে হারিয়ে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, তাঁর পক্ষে অসম্ভব কিছুই নয়। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে ইতিহাস গড়েছিলেন মমতা। ২০১৬ সালে সবুজ ঝড়ে উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। সেই মমতা সাম্রাজ্যের পতন ঘটাতে এবার একের পর এক বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এসে বঙ্গে প্রচার করেছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৮টি সভা করে গিয়েছেন। কিন্তু মমতার জনপ্রিয়তা, তাঁর প্রতি রাজ্যবাসীর বিশ্বাস, আস্থা-ভরসাকে টলাতে পারেননি শাহ-নাড্ডা-স্মৃতি ইরানিরা। কেন্দ্রীয় শক্তির চোখ রাঙানিকে কখনওই ভয় করেননি তিনি। বরং ভাঙা পা নিয়েই মিটিং-মিছিল, জনসভা চালিয়ে গিয়েছেন। দশ বছর পরও বিধানসভা ভোটে তিনিই ফ্যাক্টর, তা আজ স্পষ্ট হয়ে গেল। দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী যে ভারতীয় রাজনীতির সেরা নক্ষত্রদের মধ্যে অন্যতম, তা নিয়ে আর কোনও দ্বিধা রইল না।

মে ০২, ২০২১
রাজ্য

করোনায় রাজ্যে একদিনেই মৃত ৯৬ জন

ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় মারণ ভাইরাস প্রাণ কাড়ল রাজ্যের ৯৬ জনের। যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মৃত্যুর সংখ্যা রীতিমতো ভাঁজ ফেলেছে রাজ্যবাসীর। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যাও। স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন রাজ্যের ১৭,৪১১ জন। তাঁদের মধ্যে ৩,৯৩২ জনই উত্তর ২৪ পরগনার। অর্থাৎ দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে ফের প্রথম স্থানে ওই জেলা। দ্বিতীয় স্থানে কলকাতা। সেখানকারও তিন হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এদিন। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৯২৪ জন। তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। একদিনে নতুন করে করোনা থাবা বসিয়েছে সেখানকার ৯৭৩ জনের শরীরে। হাওড়া রয়েছে চতুর্থ স্থানে। একদিনে আক্রান্ত সেখানকার ৯২২ জন। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের করোনা গ্রাফও রীতিমতো ভয় ধরিয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের। সব জেলা থেকেই মিলেছে নতুন সংক্রমিতের হদিশ। ফলে রাজ্যের মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮,২৮, ৩৬৬।

এপ্রিল ৩০, ২০২১
রাজ্য

রাজ্যে জারি আংশিক লকডাউন বন্ধ শপিং মল-রেস্তরাঁ

করোনা মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ। মারণ ভাইরাস মোকাবিলায় এবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্য। আজ অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হল রাজ্যের সমস্ত সিনেমা হল, রেস্তরাঁ। বেঁধে দেওয়া হল বাজারের সময়সীমাও। প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারে রাজ্য। জেনে নিন আর কোন কোন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নবান্ন। সিনেমা হল, রেস্তরাঁ ছাড়াও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হল শপিং মল, বার, স্পা, বিউটি পার্লার, সুইমিং পুল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও জিম। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বা পড়াশোনার বিষয়েও এমন কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না, যেখানে প্রচুর মানুষের জমায়েতের সম্ভাবনা থাকে। বেঁধে দেওয়া হল বাজারের সময়সীমা। সকাল ৭টা থেকে ১০ টা ও বিকেলে ৩ টে থেকে ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বাজার। তবে ছাড় দেওয়া হয়েছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে। ভোটের ফল প্রকাশের দিন গণনাকেন্দ্রে জমায়েত করা যাবে না, বিজয় মিছিল করা যাবে না বলে আগেই নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেই নির্দেশ লাগু রাখল রাজ্য। নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। অর্থাৎ বলা যায়, করোনাকে রুখতে কার্যত আংশিক লকডাউনের পথেই হাঁটল রাজ্য। পরবর্তীতে আরও একাধিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারির আশঙ্কা করা হচ্ছে। জারি হতে পারে সম্পূর্ণ লকডাউন। আগেই করোনা রুখতে সোমবার থেকে দক্ষিণ দমদমের বাজারগুলি সপ্তাহে তিনদিন অর্থাৎ সোম, বুধ, শুক্রবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যা। প্রতিদিন কয়েকহাজার মানুষের শরীরে থাবা বসাচ্ছে ভাইরাস। একজন আক্রান্তের থেকে সংক্রমিত হচ্ছেন বহু মানুষ। সেই কারণেই কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের।

এপ্রিল ৩০, ২০২১
কলকাতা

প্রথমবার বিধানসভা ভোট দিচ্ছেন না বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

করোনা গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। স্ত্রী ও কন্যা ভোটের লাইনে দাঁড়ালেও ঘরবন্দি থাকবেন তিনি। সুস্থ থাকলেও এবারে ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে যাবেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। চিকিৎসকদের পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত ভলে আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর। এই প্রথমবার বিধানসভা ভোট দিচ্ছেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিদিনই নতুন নতুন পদক্ষেপ করতে হচ্ছে প্রশাসনকে। বাকি দুই দফার নির্বাচনের আগে বেশকিছু কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়েছে কমিশনকে। প্রচারে সংযত হয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এরমধ্যেই আজ সপ্তমদফা নির্বাচনের কলকাতার চারটি আসনে ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ হচ্ছে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রেও। এই কেন্দ্রের ভোটার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। অসুস্থতার কারণে গত লোকসভা নির্বাচনে ভোটের লাইনে দাঁড়াননি তিনি। স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য ও কন্যা সুচেতনা ভোট দিলেও যাননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এবার আগের তুলনায় কিছুটা সুস্থ থাকলেও করোনা পরিস্থিতির জন্য ভোট দিতে পারলেন না বুদ্ধবাবু।বুদ্ধবাবু যাতে ভোট দিতে পারেন সেজন্য আগেই কমিশনের কাছে আবেদন করেছিল পার্টি। কমিশনের পক্ষ থেকে পাম এভিনিউর বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণের আবেদন করা হয়। কিন্তু বুদ্ধবাবুর বয়েস যেহেতু আশির নিচে তাই ভোটগ্রহণ করতে অস্বীকার করে কমিশন। তখনই সিদ্ধান্ত হয় শরীর ভাল থাকলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করবেন তিনি। কিন্তু দিন যতো গড়াচ্ছে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করে ভোট না দিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বালিগঞ্জ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম নিজেও চাইছিলেন না বুদ্ধবাবু ভোট দিতে যান। তিনি বলেন, পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে বলতে পারবেন। করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না উনি বাড়ির বাইরে বেরোন। তার সঙ্গে একমত আলিমুদ্দিনের সিংহভাগ নেতৃত্ব। তবে সবটাই নির্ভর করছিল বুদ্ধবাবুর ওপর। সূত্রের খবর, শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শই মানলেন তিনি।

এপ্রিল ২৬, ২০২১
রাজ্য

আজ রাজ্যে সপ্তম দফার নির্বাচন

আজ রাজ্যে সপ্তম দফার নির্বাচন। ৫ জেলার ৩৪ আসনে হবে ভোটগ্রহণ। করোনা মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতাও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিন দক্ষিণ দিনাজপুরের ৬, পশ্চিম বর্ধমানের ৯, মালদহের ৬, মুর্শিদাবাদের ৯ এবং কলকাতার ৪টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ।আর এই ভোটগ্রহণের মাধ্যমেই একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। সেই তালিকায় যেমন রয়েছে রাজ্যের চার মন্ত্রী, তেমনই রয়েছেন অভিনেতা, তারকা এমনকী বিশিষ্ট ছাত্রনেতা। এরা হলেন,ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মলয় ঘটক, দেবাশিস কুমার, তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, ফুয়াদ হালিম, ঐশী ঘোষ।

এপ্রিল ২৬, ২০২১
রাজ্য

ভাঙড়ের চামড়া কারখানায় বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫

সাতসকালে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল ভাঙড়ের এক চামড়া কারখানা। ঘটনায় গুরুতর জখম ৫ জন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বিস্ফোরণের ঘটনা তীব্র আতঙ্ক স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।ঘড়িতে তখন প্রায় ৮টা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বালিগাদায় চামড়া কারখানায় সবে কাজ শুরু হয়েছে। এখানে চামড়া থেকে নানা সামগ্রী তৈরি হয়। সেসবই চলছিল রোজকার মতো। তবে আচমকাই প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে কারখানা। বোঝা যায়, বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্রাথমিক ধাক্কা কাটতেই দেখা যায়, অন্তত ৫ জন জখম হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে নিকটবর্তী নলবড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বিস্ফোরণে জখম ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। এই অবস্থায় কারখানা বন্ধের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।অভিযোগ, এই চামড়ার কারখানাটি অবৈধভাবে চলছে বহুদিন ধরে। এই এলাকায় অবৈধ কারখানা বন্ধের জন্য় পুলিশকে বারবার বলা হলেও, লাভ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।এদিন বিস্ফোরণের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে সব পরীক্ষা করে। তাদের প্রাথমিক অনুমান, চামড়া কাটার মেশিনের বয়লার থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতায় আতঙ্কিত আশেপাশের মানুষজন।

এপ্রিল ২৪, ২০২১
রাজ্য

জয়ের পর বাংলার মাটি ছুঁয়ে প্রণামের প্রতিশ্রুতি মোদির

করোনা আবহে বঙ্গে এসে নির্বাচনী প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করেছিলেন বৃহস্পতিবার। বদলে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় রাজ্যের ৫৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । কিন্তু জনসভার সেই চেনা মেজাজটাই নেই ভারচুয়াল প্রচারে। ফলে অনেকটাই নিষ্প্রভ শোনাল তাঁর বক্তৃতা। চিরাচরিত ভঙ্গিতে তৃণমূল সরকারকেও বিঁধতে শোনা গেল না মোদিকে। বাংলার আবেগ উস্কে ফের তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের বিখ্যাত রচনা ও আমার দেশের মাটির দুটি লাইন দিয়ে শুরু করলেন বক্তৃতা। টানা ৩০ মিনিটের বক্তব্যে নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা বারবার উল্লেখ করলেও একবারও দিদি, ও দিদি সুর শোনা গেল না মোদির কণ্ঠে। এই সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেননি মোদি।একুশের ভোটে বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি। এতদিন বারবার দিল্লি থেকে প্রচার করতে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপির শীর্ষ নেতারা। রাজ্যে ৮ দফা ভোটের মধ্যে ছটি দফার আগে তাঁরা এভাবেই প্রচার করেছেন। তবে সম্প্রতি দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় কিছুটা রাশ টানতে হয়েছে প্রচারে। প্রধানমন্ত্রী নিজে কোভিড সংক্রান্ত জরুরি বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় শুক্রবার বঙ্গের চার জায়গায় সশরীরে এসে নির্বাচনী প্রচার বাতিল করেছেন। বদলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তিনি নিজের বক্তব্য রেখেছেন। আর শুরুতেই সরাসরি আসতে না পারায় দলীয় কর্মী, সমর্থক থেকে আমজনতা সকলের কাছেই ক্ষমা চেয়েছেন মোদি। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির জন্য আপনাদের কাছে আসতে পারলাম না, ক্ষমাপ্রার্থী। তবে ২ মে জয়ের পর বাংলার মাটি ছুঁয়ে মাথা নত করে প্রণাম করব।ভাষণের গোড়ার দিকে বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে তাঁর বক্তব্য, বাংলার প্রতি কোণায় কোণায় গিয়ে জনতার কথা শুনেছি। বুঝেছি, তাঁরা কতটা আগ্রহী পরিবর্তনের জন্য। সোনার বাংলা তৈরির সংকল্প করছেন তাঁরা। আর মানুষের এই ইচ্ছাপূরণের সংকল্প নিয়েছি আমরা। এই নির্বাচন শুধু পরিবর্তনের জন্যই নয়। এই নির্বাচন নয়া আশা, আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন। এরপরই মোদি বলেন, গত ৬ দফার ভোটে বিজেপিকে সমর্থনের জন্য বাংলার নাগরিকদের ধন্যবাদ। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বঙ্গবাসীকে গুণ্ডামিমুক্ত, ভ্রষ্টাচারমুক্ত বাংলা উপহার দেবেন। যুব প্রজন্মকে চাকরি এবং মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। গতি পাবে থমকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের কাজ। বিজেপির ইস্তাহারে প্রকাশিত একাধিক পয়েন্ট নিয়ে ফের নির্বাচনী ভাষণ দিলেও তাৎপর্যপূর্ণভাবে করোনা সতর্কতা নিয়ে একটি কথাও শোনা গেল না তাঁর মুখে।

এপ্রিল ২৩, ২০২১
রাজ্য

বঙ্গে একদিনে নতুন করে আক্রান্ত প্রায় ১৩ হাজার

করোনার বেঙ্গল স্ট্রেনের দাপট। রাজ্যে লাগামহীন মহমারির সংক্রমণ। স্বাস্থ্যদপ্তরের নয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস নতুন করে থাবা বসিয়েছে মোট ১২,৮৭৬ জনের শরীরে।মারণ জীবাণুর বলি হয়েছেন ৫৯ জন। অনেকটা কমেছে সুস্থতার হার। মাত্র ৮৮.০১ শতাংশ। সংক্রমণের শীর্ষে কলকাতা। এখানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ২৮৩০। এরপরই কোভিড গ্রাফে উত্তর ২৪ পরগনার স্থান। এখানে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৮৫। এর মধ্যে বিধাননগরেও বাড়ছে সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যুতে চিন্তার ভাঁজ স্বাস্থ্যমহলে। রোগীদের সুরক্ষিত থাকতে ফের এখানকার সেফ হাউসগুলো খোলার পরিকল্পনা চলছে।রাজ্যে এই মুহূর্তে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। ৬ দফা ভোট শেষ, বাকি ২ দফা। এরই মাঝে সংক্রমণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়তে থাকায় কোভিড বিধি আরও কড়া করেছে নির্বাচন কমিশন। সমস্ত রোড শো, মিছিল বাতিল হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এগিয়ে এসেছে। জনসভা বাতিল করে অনেকেই ভারচুয়াল প্রচারে ঝুঁকেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছুতেই যেন লাগাম পরছে না করোনা সংক্রমণে। স্বাস্থ্যদপ্তরের নয়া পরিসংখ্য়ান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৫২, ৬৪৬ টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে করোনার। এর মধ্যে ৭.১০ শতাংশ রিপোর্টই পজিটিভ। এই মুহূর্তে রাজ্যে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ৭৪৭৩৭। তবে সংক্রমণের হার সর্বকালীন রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। এদিনই মুখ্যসচিবকে নেতৃত্বে রেখে টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে সাহায্যের জন্য গঠিত হয়েছে ওয়ার্কিং কমিটি। বিভিন্ন হাসপাতালে কোভিড বেড বাড়ানো হয়েছে। অক্সিজেন সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে, তার জন্য অন্য রাজ্যে অক্সিজেন পাঠানো আপাতত স্থগিত করতে চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ কত দ্রুত জয়ী হবে বাংলা, সেটাই এখন দেখার।

এপ্রিল ২৩, ২০২১
রাজ্য

একদিনে রাজ্যে আক্রান্ত ১০ হাজার ৭৮৪ জন

ভয়াবহ রূপ নিয়ে আছড়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে একদিনে বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পেরোল ১০ হাজার। রেকর্ড গড়ল গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যাও। সবমিলিয়ে ষষ্ঠ দফা নির্বাচনের আগে ভয়াবহ আকার নিল রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি।বুধবার স্বাস্থ্যদপ্তরের সন্ধের রিপোর্ট বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৭৮৪ জন। ফলে বাংলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯৫৬ জন। লাফিয়ে বাড়ছে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা। আজকের রিপোর্ট বলছে, বাংলায় এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৪৯৬ জন। যা মঙ্গলবারের তুলনায় ৫ হাজার ১১০ জন বেশি। এদিনের সরকারি হিসেব বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক সংক্রমিতের হদিশ মিলেছে কলকাতায় (২ হাজার ৫৬৮)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (২ হাজার ১৪৯)। চিন্তা বাড়াচ্ছে বাকি জেলাগুলিও। উদ্বেগ বাড়িয়েছে নিম্নমুখী সুস্থতার হারও। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৬১৬ জন। ফলে সুস্থতার হার কমে দাঁড়াল ৮৯.২৩ শতাংশ। বুধবার সুস্থতার শতকরা হার ছিল ৮৯.৮২ শতাংশ। ইতিমধ্যে রাজ্যে করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৬ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৫০ জন।চিন্তা বাড়াচ্ছে রাজ্যের মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের। সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায় (১৪)। এর ঠিক পরেই রয়েছে কলকাতা (১৩)। বাকিরা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, হাওড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও দুই মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এদিন রাজ্যের মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ হাজার ৭১০। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি।

এপ্রিল ২১, ২০২১
রাজ্য

বাইরে থেকে বাংলায় ঢুকতে হলে আরটি-পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক

ভোটের মরশুমে বহিরাগতরা এসে বাংলায় রোগ ছড়াচ্ছে। আর সেই কারণেই রাজ্যে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। জনসভায় একাধিকবার এমন দাবিই করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এবার তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, যাঁরা বাইরে থেকে আসতে চাইবেন, তাঁদের আরটি-পিসিআর টেস্ট করার পর বাংলায় পা রাখার অনুমতি দেওয়া হবে।তৃণমূল নেত্রীর দাবি, অন্তত ১০ হাজার মানুষ অন্য জায়গা থেকে এ রাজ্যে এসেছেন। যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সংক্রমিত। আর এঁদের কারণেই বাংলায় হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তাই বহিরাগতদের নিয়ে আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নন মমতা। পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, এরপর বড় কোনও অঘটন ঘটলে তার জন্য নির্বাচন কমিশনই দায়ী থাকবে।গত বেশ কয়েকদিন ধরে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বাংলার ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণ। লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে কমিশন ভোট প্রচারে লাগাম টানলেও করোনা রুখতে তা বিরাট কোনও ভূমিকা পালন করতে পারবে কি না, সে নিয়ে সন্দীহান ওয়াকিবহল মহল। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যের বাকি চার দফার ভোট একসঙ্গে করানোর দাবিও তুলেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত সূচিতেই হবে নির্বাচন। ফলে আগের মতোই চলবে জনসভা, রোড শো। আর সেই কারণেই বাড়ছে চিন্তা। স্বাস্থ্যদপ্তরের শনিবারের বুলেটিন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় কোভিড আক্রান্ত ৭,৭১৩ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ জন। মোট সংক্রমিতের সংখ্যা জানিয়েছে সাড়ে ৬ লক্ষ। ইতিমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বেড বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। উপসর্গ তীব্র হলে তবেই হাসপাতালে, মৃদু উপসর্গ থাকলে প্রয়োজনে সেফ হোমে পাঠানো হবে কোভিড রোগীদের।

এপ্রিল ১৮, ২০২১
রাজ্য

রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্ত সাড়ে ৬ লক্ষ পার, একদিনে মৃত্যু ৩৪ জনের

কোভিড-১৯ নিয়ে সাধারণ মানুষের অবহেলার সুযোগেই লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মতোই দিনে দিনে ভয়ংকর আকার ধারণ করছে বাংলার করোনার ছবিটাও। গতকালের তুলনায় শনিবার অনেকখানি বাড়ল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অতীত রেকর্ড ভেঙে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও।এদিন স্বাস্থ্যদপ্তরের দেওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার কবলে পড়েছেন ৭,৭১৩ জন। যার মধ্যে শহর কলকাতায় একদিকে আক্রান্ত ১,৯৯৮ জন। সংক্রমণের নিরিখে প্রত্যাশিতভাবেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। একদিনে সেখানে ১,৬৩৯ জনের শরীরে মারণ ভাইরাসের হদিশ মিলেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা একদিনে সংক্রমিতের সংখ্যা ৪৯১। হাওড়ায় একদিনে আক্রান্ত ৪৩২ জন। উল্লেখযোগ্যভাবে দৈনিক সংক্রমণ বেড়েই চলেছে বীরভূমে। একদিনে সেখানে আক্রান্ত ৪০৬ জন। এদিকে, করোনা আবহের মধ্যেও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে পাহাড়ে। ফলে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দার্জিলিংয়েও। ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১৪১ জনের শরীরে থাবা বসিয়েছে এই ভাইরাস। রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল ৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৫০৮ জন। গত কয়েকদিনের মতোই উদ্বেগ বাড়িয়ে ফের একলাফে অনেকখানি বাড়ল রাজ্যের অ্যাকটিভ কেসও। বর্তমানে করোনায় চিকিৎসাধীন ৪৫ হাজার ৩০০। একইসঙ্গে এই ভাইরাস এখনও কেড়ে চলেছে মানুষের প্রাণও। গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় করোনার বলি ৩৪ জন। প্রাণ হারিয়েছেন তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রহমান এবং পুরুলিয়ার প্রাক্তন সাংসদ বীর সিং মাহাতো। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১০ হাজার ৫৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯-এ।

এপ্রিল ১৮, ২০২১
কলকাতা

পয়লা বৈশাখে উত্তর কলকাতায় রোড শো মমতার, সঙ্গ দিলেন জয়া

কথা ছিল, বৈশাখের প্রথম দিনে দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে রোড শো করবেন। দক্ষিণ কলকাতার সব প্রার্থীদের হয়ে এদিনই ভোট প্রচার সেরে ফেলতেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ভবানীপুর, অর্থাৎ নিজের এতদিনের লড়াইয়ের জায়গা ছেড়ে এবার এগিয়ে দিয়েছেন দলের নির্ভরযোগ্য নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মূলত তাঁরই হয়ে প্রচারের কথা ছিল মমতার। তবে কোভিডের বাড়বাড়ন্তে সেই মিছিল বাতিল হয়েছে। তবে পয়লা বৈশাখের মতো উৎসবের দিন মোটেই ঘরে বসে কাটাননি নেত্রী। শুধু দক্ষিণ থেকে রোড শোর স্থান বদলে গেল উত্তর কলকাতায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে বেলেঘাটা থেকে বউবাজার পর্যন্ত রোড শো করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গী দলের তারকা প্রচারক জয়া বচ্চন, উত্তর কলকাতার তৃণমূল প্রার্থীরা।বেলেঘাটা থেকে বউবাজার এই অঞ্চলের মধ্যে মূলত চার বিধানসভা কেন্দ্র। বেলেঘাটা, চৌরঙ্গি এবং মানিকতলা। এই চার কেন্দ্রের প্রার্থীদের হয়ে দীর্ঘ পথে রোড শোর মধ্যে দিয়েই প্রচার সারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, সাধন পাণ্ডে, পরেশ পাল, বিবেক গুপ্তা। হুইল চেয়ারে বসেই লম্বা রাস্তা পাড়ি দিলেন নেত্রী। সঙ্গে হলুদ শাড়ি, দলের ঐতিহ্যবাহী লাল টুপিতে পাশেই সমাজবাদী পার্টি নেত্রী তথা তারকা প্রচারক জয়া বচ্চন। কিছুক্ষণ হাঁটার পর অবশ্য তিনি উঠে যান জিপে। অবশ্য মিছিলের মধ্যমনি তখন একজনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার দুধারে সমবেত জনতার উদ্দেশে কখনও তিনি হাত নাড়ছেন, কখনও হাত জোড় করে নমস্কার করছেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর রোড শো পৌঁছয় বউবাজার মোড়ে।এদিন মমতার পর রাস্তা থেকে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে জয়া বচ্চন বিজেপিকে বিঁধে বলেন, বাংলায় পরিবর্তন দরকার নেই। অনেক কাজ হয়েছে। মমতা থাকলে আরও কাজ হবে। পরিবর্তনের স্লোগান যাঁরা তুলছেন, তাঁদের কথায় কান দেবেন না। কোনও দরকার নেই পরিবর্তনের।

এপ্রিল ১৫, ২০২১
রাজ্য

নববর্ষে বাংলায় পরিবর্তনের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

পয়লা বৈশাখের সকালে বাংলায় টুইট করে রাজ্য তথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাঙালিদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একটি টুইটে তিনি প্রোটোকল মেনে সকলের সুখ এবং সমৃদ্ধি কামনা করলেন। আবার আরেকটি টুইটে উঠে এল রাজনীতির কথা। একটি ভিডিও পোস্ট করে নতুন বাংলা গড়ার বার্তা দিলেন। দিলেন পরিবর্তনের ডাক। সাতসকালে ফেসবুকে রাজ্যবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।পয়লা বৈশাখে সাতসকালে বাংলায় করা এক টুইটে প্রধানমন্ত্রী বলেন,বাংলার মানুষের ভালবাসা আর প্রাণস্পন্দন প্রকৃত অর্থেই মন ছুঁয়ে যায়। নতুন বছর সকলের জীবনে সুখ সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক, সকালে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হোন। পয়লা বৈশাখে ভারত এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাঙালিদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহও নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর টুইট,মঙ্গলময় উৎসব পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আমার সকল বাঙালি বন্ধুদের জানাই অগ্রিম আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ঈশ্বরের কাছে কামনা করি এই নতুন বছর প্রত্যেকের জীবনে বয়ে আনুক আনন্দ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি।শুভ নববর্ষ! টুইটে রাজ্যবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও।অরাজনৈতিক পোস্টে শুধু নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়ার পর পয়লা বৈশাখের সকালে রাজনৈতিক পোস্টও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলায় এবং ইংরেজিতে করা দুটি টুইটে তিনি লিখেছেন,পুণ্যভূমি পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষে নতুনের সূচনা হোক, রাজ্য প্রগতির পথে এগিয়ে যাক!

এপ্রিল ১৫, ২০২১
রাজ্য

রাজ্যে এল ৫ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন

গোটা দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে করোনা টিকার চাহিদাও। ইতিমধ্যেই টিকার ভাঁড়ারে টান পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য দপ্তরকে স্বস্তি দিয়ে মোট ৫ লক্ষ ডোজ করোনা টিকা পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যে।সম্প্রতি রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা জানিয়েছিলেন, দ্রুত যদি টিকার আরও ডোজ এসে না পৌঁছয় তবে করোনা পরিস্থিত আরও খারাপ হতে পারে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে জনঘনত্ব অনেক বেশি। করোনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। তাই এখানে দ্রুত বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকা দিতে না পারলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও আবেদন করা হয়, দ্রুত যাতে আরও টিকার ব্যবস্থা করা হয়।ইতিমধ্যেই টিকা নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠতে আরম্ভ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে বেশি করে টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে চাহিদা অনুযায়ী অবিজেপি দল শাসিত রাজ্যে তা দেওয়া হচ্ছে না। বার বার চেয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত টিকা ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় টিকার চাহিদাও প্রচুর বেড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে নতুন করে আরও ৫ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন আসছে রাজ্যে। যার মধ্যে ইতিমধ্যেই অ্যাস্ট্রোজেনেকার তৈরি ৩ লক্ষ কোভিশিল্ড ডোজ পুনের ল্যাব থেকে এসে পৌঁছেছে। বুধবার রাত্রের মধ্যেই ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিনের ২ লক্ষ ডোজ পৌঁছে যাবে। ফলে টিকার চাহিদা আপতত অনেকটাই পূরণ করা যাবে।

এপ্রিল ১৪, ২০২১
রাজ্য

ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি

ভোটের মরশুমে রীতিমতো চোখ রাঙাচ্ছে মারণ করোনা। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে সংক্রমিত ৪, ৩৯৮ জন। একদিনে করোনার বলি হয়েছেন ১০ জন। অর্থাৎ শনিবারের তুলনায় সামান্য হলেও কমেছে মৃত্যু। এদিনই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মন।স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ৪, ৩৯৮ জনের মধ্যে ১,১০৯ জনই কলকাতার। অর্থাৎ দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে এদিনও প্রথম স্থানে তিলোত্তমা। দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা। সেখানকারও একহাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এদিন। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১,০৪৭ জন। তৃতীয় স্থানে হাওড়া। একদিনে নতুন করে করোনা থাবা বসিয়ে সেখানকার ২৯৩ জনের শরীরে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা রয়েছে চতুর্থ স্থানে। একদিনে আক্রান্ত সেখানকার ২৮৮ জন। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের করোনা গ্রাফও রীতিমতো ভয় ধরিয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের। তবে এদিন নতুন আক্রান্তের হদিশ মেলেনি কালিম্পংয়ে। যদিও বাকি সব জেলা থেকেই মিলেছে নতুন সংক্রমিতের হদিশ। ফলে রাজ্যের মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬, ১৪, ৮৯৬। একদিনে করোনা রাজ্যের যে ১০ জনের প্রাণ কেড়েছে তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই উত্তর ২৪ পরগনার। অর্থাৎ দৈনিক মৃত্যুর নিরিখে প্রথম স্থানে ওই জেলা। দ্বিতীয়ে কলকাতা। একদিনে মৃত্যু হয়েছে সেখানকার ৩ জনের। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় করোনার বলি একজন। ফলে মোট করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০, ৪০০।

এপ্রিল ১১, ২০২১
রাজ্য

দৈনিক সংক্রমণ ৪ হাজার, ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মৃত ১২

রাজ্যে দৈনিক করোনা সংক্রমণ পেরিয়ে গেল ৪ হাজারে গণ্ডি। শেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৪০৪৩ জন নতুন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লক্ষ ১০ হাজার ৪৯৮এ। শতাংশের বিচারে দেখলে দৈনিক সংক্রমণের হারও বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। শেষ ২৪ ঘণ্টার বিচারে সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ১০.৯৭ শতাংশ।আক্রান্তের নিরিখে এখনও সর্বোচ্চ স্থানেই রয়েছে কলকাতা। শেষ ২৪ ঘণ্টায় শহরে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯৭ জন। এরপর রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮৭ জন। রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় সমান তালে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এর মধ্যে হাওড়া (২৮৯), হুগলি (১৯১), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (২৯১), পশ্চিম বর্ধমান (২৬৬) ও বীরভূম (২৭১) উল্লেখযোগ্য। এখন পর্যন্ত রাজ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৭৪২ জন। শুক্রবারে তুলনায় শেষ ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যুও। স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। এদের মধ্যে ৪ জন কলকাতার, ও ৫ জন উত্তর ২৪ পরগনার। মুর্শিদাবাদ, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে সমান তালে চলছে টিকাকরণের কাজও। এখনও পর্যন্ত ৭৬ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬৩৪ জন করোনার টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় টিকা পেয়েছেন ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৪০ জন।

এপ্রিল ১১, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 49
  • 50
  • 51
  • 52
  • 53
  • 54
  • 55
  • ...
  • 61
  • 62
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মিসবার ইস্তফায় পাকিস্তান ক্রিকেটে বিস্ফোরণ! ৭ ক্রিকেটার ছাঁটাইয়ের পর এবার বোর্ডে বড় ধাক্কা

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে একের পর এক ধাক্কায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান ক্রিকেট। টানা দুই ম্যাচে হারের পর দলের ভিতরে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাত জন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বদল করা হয়েছে কোচিং স্টাফেও। এর মধ্যেই জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবা উল হক। তাঁর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পৌঁছেছে বলে খবর।তবে বোর্ড এখনও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে মিসবা তাঁর নোটিশের সময়সীমা পালন করছেন। তাঁর ইস্তফাকে ঘিরেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটের সূত্রের দাবি, দল থেকে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিসবার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য হয়েও এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে সূত্রটির দাবি। এই ঘটনাই তাঁর পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।যে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সলমন আলি আঘা, মহম্মদ রিজওয়ান, আলি উসমান, ইমাম উল হক, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল এবং মহম্মদ ওয়াইস জাফর। পাশাপাশি প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সরফরাজ আহমেদকে। বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।বাকি টেস্ট ম্যাচগুলির জন্য নতুন কোচিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্বে আনা হয়েছে। বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন অ্যাশলি নফ। সূত্রের খবর, লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ব্যাটিং পরামর্শদাতার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবা।অন্য দিকে, বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জায়গায় বেশ কয়েক জন নতুন মুখকে দলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাইম আয়ুব বাট, আবদুল্লা ফজল এবং আরাফত মিনহাস। তাঁদের মধ্যে সাইম আয়ুব এবং আবদুল্লা ফজলকে টেস্ট দলেও রাখা হয়েছে। নতুনদের সম্মিলিত টেস্ট অভিজ্ঞতা এখনও খুবই কম।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ইতিমধ্যেই দুই শূন্য ব্যবধানে পিছিয়ে বাবরদের দল। সিরিজে এখনও একটি ম্যাচ বাকি।আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহ্যামে শুরু হওয়ার কথা সেই শেষ টেস্ট। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পাকিস্তানের সামনে এখন একমাত্র পথ জয়। তার আগেই নির্বাচক কমিটি এবং কোচিং ব্যবস্থায় এত বড় পরিবর্তন পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

‘নাচতে রাজি না হওয়ায় চাকরি গেল’, মহিলা বিচারককে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বর্ষীয়ান আইনজীবীর

দেশের বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পুরুষ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বহু মহিলা বিচারক তাঁর কাছে এসেছেন। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের বইয়ে যৌন হেনস্থাকে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ডার্টি সিক্রেট বলে উল্লেখ করেছেন।সম্প্রতি এক স্মারক বক্তৃতায় মাই ভিশন অব ইন্ডিয়া: ২০৪৭ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পেশাগত জীবনে বহু মহিলা বিচারকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন পুরুষ বিচারকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।এক মহিলা বিচারকের হয়ে মামলা লড়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন জয়সিং। তাঁর দাবি, ওই বিচারক তাঁকে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের কোনও বিচারপতি অবসর নেওয়ার সময় মহিলা জেলা বিচারকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হত। একই রঙের শাড়ি পরতে বলা হত এবং পুরুষ বিচারকরা খাবারের ঘরে ঢোকার সময় তাঁদের উপর ফুল ছড়ানোর মতো আচরণও করা হত।এই ধরনের প্রথার তীব্র সমালোচনা করেন জয়সিং। তাঁর মতে, উচ্চতর বিচারব্যবস্থার কিছু পদমর্যাদাভিত্তিক আচরণ মহিলা বিচারকদের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বলেও তিনি দাবি করেন।ওই মহিলা বিচারকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আরও একটি ঘটনার কথাও বক্তৃতায় জানান জয়সিং। তাঁর দাবি, এক বিচারক ওই মহিলা বিচারককে নিজের বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচতে বলেছিলেন। মহিলা বিচারক সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এর পর তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল বলে দাবি করেন জয়সিং। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং যৌন হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে বলেও বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন বিচারপতি ডি এস মুরলীধর। তাঁর মতে, সিনিয়র পুরুষ সহকর্মীদের আচরণের কারণে অনেক মহিলা বিচারক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।বিচারব্যবস্থার পদমর্যাদাভিত্তিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন মুরলীধর। একই অনুষ্ঠানে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি এবং তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।অন্য দিকে, আদালতের সময় কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মামলাকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা যে সামান্য সময়, তার বড় অংশ ধনী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলি ব্যবহার করে নেয়।বক্তৃতার শেষে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে আশাবাদী থাকার কারণও জানান জয়সিং। নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা তাঁকে প্রায়ই প্রশ্ন করেন, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও ভাল হবে বলে তিনি কেন মনে করেন। তাঁর উত্তর, ভারতের সংবিধানই তাঁর আশার জায়গা।জয়সিংয়ের বক্তব্য, যতদিন নাগরিকরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষা করতে পারবেন এবং শাসককে সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন, ততদিন আশার জায়গা থাকবে। তাঁর মতে, সংবিধান বর্তমান রূপে থাকলে সরকারের কোনও সংবিধান-বহির্ভূত পদক্ষেপকে আইনি ভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

‘মিথ্যা মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখবেন?’ সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার পর পুলিশকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল পুলিশ। একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া এই মামলায় শ্লীলতাহানির ধারাও রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের বেআইনি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুরসভার কর্মী ও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশকর্মীরাও ছিলেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জন পড়ে যান বলেও জানা যায়।এই ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দেন অভিষেক। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান জানান।অভিষেকের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা করে তাঁকে বা তাঁর দলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে কোনও নোটিস ছাড়াই দলের ১৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার পর তাঁর দফতরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও দমকলের তরফে সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, অন্য কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি।অভিষেক বলেন, তারাপীঠে আগুনে মানুষের মৃত্যুর সময় কিংবা আলিপুরে আগুনে ইভিএম নষ্ট হওয়ার সময় কেন একই ভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁর দফতরের ক্ষেত্রে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগও সরাসরি খারিজ করেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, কারও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। ঘটনার ভিডিয়ো তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ঘটনার দিন পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের সিঁড়ি থেকে টেনে নামিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি এমন মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়, তা হলে এত ভয় কেন?জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ও রাজ্য সরকারের উদ্দেশে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, মিথ্যা মামলা করে গ্রেফতার করে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা প্রয়োগ করলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলেই বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

ম্যাঙ্গানিজ মিশন: খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী বড় সাফল্য!

অশোকনগর তেলক্ষেত্রের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গ তার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আরও এক সম্পদ উন্মোচনের পথেঝাড়গ্রাম জেলায় ম্যাঙ্গানিজের বিশাল ভাণ্ডার! এই ভান্ডারের খোঁজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খনি ও খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর (Directorate of Mines Minerals) শিমুলপাল, লবনী, ভাণ্ডারচুয়া, চৌগা পাহাড়, হাসা ডুংরি, কার্কা, বেগুনডিহা, বীরমণ্ডল, বাঁশপাহাড়ি এবং সংলগ্ন ম্যাঙ্গানিজ-সমৃদ্ধ এলাকায় যৌথ প্রাথমিক জরিপ (reconnaissance survey) চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদের প্রকৃত সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে MOIL Limited এখন জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI), ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ মাইন্স (IBM) এবং WBMDTCL-এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। এর জন্য ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সময়কালে মাঠপর্যায়ের জরিপ বা ফিল্ডওয়ার্ক নির্ধারিত হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর ধরে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অব্যবহৃত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকৃত উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি সরকারের আমলে ঝাড়গ্রামের খনিজ সম্পদ অবশেষে তার যথাযথ গুরুত্ব ও স্বীকৃতি পেতে চলেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বিতর্কিত মিছিল ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস, কিন্তু কেন তড়িঘড়ি শুনানি নয়?

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে মিছিলের আগেই মামলাটির জরুরি শুনানি করার আবেদন মানেনি আদালত।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই মামলাটিও শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।প্রস্তাবিত মিছিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, দেশের রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকায় বড় জমায়েত বা প্রতিবাদ মিছিলের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।আবেদনকারীর আইনজীবী রিজান আহমেদ আদালতে জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনও মিছিলের অনুমতির জন্য কোনও আবেদন করা হয়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি মিছিলের আগে মামলাটির শুনানি করার জন্য বার বার আবেদন জানান। কিন্তু বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বরের আগে মামলাটি শুনতে রাজি হয়নি।আইনজীবী আদালতে আরও জানান, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। সেই সময় রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মিছিলটি কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানান।তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আগে থেকেই কোনও অঘটন ঘটবে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, আদালত এই মুহূর্তে ধরে নেবে যে প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করবেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই, এমন জোরালো পরিস্থিতিও আদালতের সামনে নেই বলে জানান তিনি।এর পর আইনজীবী দাবি করেন, আগের একটি আন্দোলনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনও দুষ্কৃতী বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আদালতে জানান।আবেদনকারীর আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি আইনি বিধি মানছে না এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিচ্ছে না।এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি মূলত সরকার ও পুলিশের দায়িত্ব। আবেদনকারীকে তাঁর উদ্বেগ কেন্দ্রীয় সরকার অথবা দিল্লি সরকারের কাছে জানাতে বলেন তিনি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি।মিছিলের আয়োজক সংগঠনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, সংগঠনটির কোনও নথিভুক্ত অফিস বা লেটারহেড নেই। ফলে তাদের সরাসরি মামলার পক্ষ করা সম্ভব হচ্ছে না।শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের আগেই মামলাটির শুনানি করার আবেদন গ্রহণ করেনি বেঞ্চ। ফলে মিছিলের আগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২০ বছরের মহাকাব্যের শেষ! হঠাৎই জাতীয় দলকে বিদায় মেসির, স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।মেসির অবসর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফুটবল থেকেও তাঁর মন কিছুটা সরে গিয়েছিল বলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবসরের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেই চারটি গোল করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তাঁর দল সাত-শূন্য ব্যবধানে জয় পায়।তার পরেও আচমকাই এল বড় ঘোষণা। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।মেসির এই সিদ্ধান্ত মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও সাফল্য এসেছে, কখনও এসেছে হতাশা। একাধিকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সেই অধরা ট্রফি নিজের হাতে তুলেছিলেন মেসি।আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ছবার অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির একাধিক নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে গোল ও সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। টানা নয়টি বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুধু সাফল্য নয়, রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসও। একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি।এবার সেই জাতীয় দলকেই বিদায় জানালেন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ফলে মেসির ফুটবলযাত্রা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর মহাকাব্যিক অধ্যায়।

আগস্ট ৩১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal