• ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার ২৫ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

UN

রাজ্য

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ প্রাক্তন ও বর্তমান পুরকর্তাকে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে জ্যোতিপ্রিয় যোগ

একদিকে রেশন বন্টন দুর্নীতি মামলা পাশাপাশি পুরনিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে জোরদার তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। উত্তর ২৪ পরগণার একের পর এক পুরসভার কর্তাদের তলব করছে ইডি। প্রাক্তন পুরপতি-উপ-পুরপতিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডির আধিকারিকরা।পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বরানগর পৌরসভার চেয়ারম্যান অপর্ণা মৌলিককে মঙ্গলবার ফের তলব করে ইডি। এদিন সকাল ১১ টা নাগাদ তিনি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে দফতরে হাজিরা দেন।প্রায় ছয় ঘন্টা পর তিনি ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে যান। বেরোনোর সময় তিনি বলেন, আজ কিছু ব্যক্তিগত নথি নিয়ে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এবং ২০১৬-১৭ সালের যে পুরসভা নিয়োগ হয়েছিল সেই নিয়ে আজ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অয়ন শীলের সাথে তাঁর কোন যোগাযোগ রয়েছে কিনা বা বরানগর পৌরসভার সাথে অয়নের কোন সংযোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে ইডি।এদিন টিটাগর পৌরসভার প্রাক্তন পৌর প্রধান প্রশান্ত চৌধুরী ইডি দপ্তরে আসেন। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসা করার জন্য তাঁকে তকব করে ইডি। এর আগে প্রশান্ত চৌধুরীর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তখন তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। প্রশান্ত চৌধুরী ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে জানান, তার যে দুটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল সেই মোবাইল ফোন ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছিল এবং ডেটা ট্রান্সফারের জন্য দেরি হল। তিনি যে সময় চেয়ারম্যান ছিলেন কিভাবে নিয়োগ হয়েছিল তা জানতে চাওয়া হয়। প্রশান্ত চৌধুরী এবং তার কোথায় কোথায় কত সম্পত্তি রয়েছে তার নথি খতিয়ে দেখা হয়।আগামীকাল ফের তাঁকে ডাকা হয়েছে।কামারহাটি পুরসভার চিপ ইঞ্জিনিয়ার তামাল দত্তকেও আজ ডাকা হয়েছিল পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে যান।একদিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত, একইসঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে পুরসভা কর্তাদের কি সম্পর্ক তাও খতিয়ে দেখছে ইডি।

নভেম্বর ০৭, ২০২৩
রাজ্য

ইডির নজরে উত্তর ২৪ পরগণার একাধিক পুরসভার পুরকর্তা, এখনও মুখে কুলুপ জ্যোতিপ্রিয়র

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা সহ একাধিক পুরকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বিভিন্ন পুরসভার কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, ফের জোরদার তদন্ত শুরু করছে ইডি। উত্তর ২৪ পরগনার ২৭টি পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা ইডির নজরে রয়েছে। এই জেলার পুরসভাগুলির কর্তা ও কাউন্সিলররা অনেকেই আবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি মাস্টারমাইন্ড অয়ন শীল। তিনি আবার শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতিতেও অভিযুক্ত। ইতিমধ্যে রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতেও তল্লাশি করেছে ইডি। রাজ্যে সব থেকে বেশি পুরসভা রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। এই জেলায় দীর্ঘ দিন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সূত্রের খবর, বিশেষত জেলার ২৭টি পুরসভার যেসব পুরপতি বা উপপুরপতি জ্যোতিপ্রিয়র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মূলত সেদিকেই নজর রয়েছে ইডির। ইডি মনে করছে, জ্যোতিপ্রিয় সম্পর্কে এঁরা অনেক তথ্য দিতে পারবে। নতুন তথ্য পেলে তদন্তের গতি বাড়বে। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই জেলার কাউন্সিলরদের সম্পত্তিও বেড়েছে হুহু করে। এদের অনেকের জীবনযাত্রার মান একেবারে আকাশ ছোঁয়া। সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদের অনেকেই জ্যেতিপ্রিয়র হাত ধরে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছেন। সূত্রের খবর, আগামী দিনে এই সমস্ত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে ইডি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন পুরকর্তা ও কাউন্সিলরকে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। এদের সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয়র যোগসূত্র রয়েছে বলেই ধারনা তদন্তকারীদের।এদিকে এখনও অবধি সেভাবে তদন্তকারীদের সামনে মুখে কুলুপ এঁটেছেন জ্যোতিপ্রিয়। সূত্রের খবর, মন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক অভিজিত দাসের ডায়েরিতে বালুদা বলে নাম উল্লেখ রয়েছে। ডায়েরিতে আছে নানা ধরনের লেনদেনের হিসেব। জ্যেতিপ্রিয়র ডাক নামও বালু। জানা গিয়েছে, জেরার সময় মন্ত্রী বলেছেন, ওই ডায়েরিতে কি লেখা আছে তা আমি জানি না। যাঁর ডায়েরি তিনি বলতে পারবেন। কে লিখেছে? কেন লিখেছে? আমি কিছুই জানি না। জেরার প্রথম দিন থেকেই একপ্রকার মুখ বন্ধ রেখেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

নভেম্বর ০৪, ২০২৩
উৎসব

কদর কমেছে মাটির প্রদীপের, হাল ছাড়তে নারাজ মৃৎশিল্পীরা

হাতে গোনা আর মাত্র ১২টি দিন, আর তারপরই সারা দেশ সহ বঙ্গ-ও আলোর রোশনাই ঝলমলে হয়ে উঠবে। ১২ নভেম্বর রবিবার ঘোর অমাবস্যায় অন্ধকারকে দুরে সরিয়ে আলো দিয়ে ঝকঝকে করতে মা কালী মর্তে আবির্ভূত হবেন। কিন্তু যাঁদের মাটির প্রদীপে ঝলমল করে বা করেছে উৎসবের আঙিনা, সেই মৃৎশিল্পীদের ঘরেই এখন অন্ধকার। সৌজন্যেঃ বৈদ্যুতিক মোমবাতি, টুনি লাইট।আহ থেকে পাঁচ সাত বছর আগেও কালি / শ্যামা পুজার আগের দিন ভূত চতুর্দশী-র সন্ধ্যায় চোদ্দ প্রদীপ জালানো হত। সেখান থেকে সময়ের বিবর্তনে চোদ্দটি মোমবাতি তে রুপান্তর হল। কালীপুজোর সময় মাটির প্রদীপের চাহিদা ভালোই থাকতো। বৈদ্যুতিক আলোর বিশেষ চায়না আলোর প্রাদুর্ভাবে কালীপুজোর মুখে গভীর চিন্তায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী, হরিরামপুর, কুশমন্ডি, তপন, গঙ্গারামপুর, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট ও হিলি সহ সারা রাজ্যের কুমোররা।মাটির প্রদীপের কদর কমতে থাকায় এই কাজ ছেড়ে অনেকেই অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। আলোর উৎসব তথা দীপাবলীতে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে মাটির প্রদীপ। প্রদীপের চাহিদা কমলেও হাল ছাড়েননি জেলার অনেক মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পীরা পুজোর নানা উপকরণের সঙ্গে মাটির তৈরি প্রদীপ তৈরি করে আসছেন বংশ পরম্পরায়।কিন্তু বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি বাজারে চলে আসায় প্রাচীন সেই মাটির প্রদীপ হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু বাজারে সেই প্রদীপের কম চাহিদা থাকায় প্রায় বন্ধের মুখে এই শিল্প।জেলার বিভিন্ন গ্রামের বহু কুমোর পরিবার আগে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে। মৃৎশিল্পীরা দীপাবলিকে সামনে রেখে ব্যস্ত নানা ধরনের প্রদীপ তৈরি করতে। তবে জেলার বংশীহারী ও গঙ্গারামপুরের বেশ কিছু মৃৎশিল্পীর গলায় আক্ষেপের সুর তাঁরা বলেন, আজকালকার ডিজিটাল যুগে যে হারে চায়না লাইট, টুনি বাল্ব ও নানা ধরনে এলইডি লাইট এসেছে সেই তুলনায় হাতে গড়া মাটির প্রদীপের বিক্রয় কমেছে। লাভ কম হলেও কুমোরদের আশা এই বছর তাঁরা লাভের মুখ দেখবেন। তাঁরা আরও বলেন, বর্তমানে মাটি ও খড়ির দামও বেড়েছে। কিন্তু প্রদীপের দাম বাড়ছে না। যা কোনও রকম খাওয়া খরচটা ওঠে। আগামী দিনে মাটির প্রদীপের চাহিদা বাড়বে বলে আশাবাদী জেলার মৃৎশিল্পীরা।

অক্টোবর ৩১, ২০২৩
রাজ্য

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তে গতি ইডির, সিজিওতে হাজির আমলাসহ পুরকর্মী

রেশন বন্টন দুর্নীতি মামলায় একদিকে রাজ্যের মন্রী সহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছে ইডি। পাশাপাশি পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। এদিন ইডি দফতরে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের আমলা জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়। মাঝে একবার ইডি অফিস থেকে বেরিয়ে খাবার খেয়ে আসেন তিনি। তারপরও দীর্ঘ ক্ষণ অফিসে ছিলেন তিনি।এদিন কামারহাটি পৌরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার তমাল দত্ত পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দফতরে হাজির হয়েছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনও জবাব না দিলেও সূত্রের খবর, তিনি সম্ভবত নথি জমা দিতে এসেছিলেন। এর আগে কামারহাটির পুরপ্রধান গোপাল সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কামারহাটি পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন।পুর নিয়োগ মামলায় ইতিমধ্যে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। ইডি তল্লাশি করে চলে যাওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম তথা ববি। কলকাতার মেয়রের দাবি ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তাঁর বাড়িতে ইডি পাঠিয়েছে বিজেপি। তিনি কেনও ভাবেই চুরির সঙ্গে যুক্ত নয় বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন ববি।। সম্প্রতি একাধিক পুরসভায় হানা দিয়েছে ইডি।

অক্টোবর ৩১, ২০২৩
রাজ্য

পুর-নিয়োগে পরীক্ষায় বাংলা ভাষা বাধ‍্যতামূলক করার দাবিতে কমিশনের দপ্তরে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি জমা বাংলা পক্ষর

যখন রাজ্য জুড়ে ইডি-সিবিআই এর সাঁড়াশি আক্রমণে পুর-নিয়োগে বেনিয়ম নিয়ে তোলপাড় রাজ্য, ঠিক সেই সময়-ই মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনে সাব-অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের যে প্রক্রিয়া এই মুহুর্তে চলছে তাতে ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের তালিকায় বহিরাগতদের সংখ্যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলা পক্ষ। বাংলা ও বাঙালির স্বার্থে এই সংগঠন যেখানেই বেনিয়মের কবলে বাঙ্গালি গর্জে উঠেছে। তাঁদের দাবী, বাঙালি আজ নিজ ভুমেই পরবাসী। বাঙালি নিজের মাটিতেই রাজ্য সরকারি চাকরিতে বঞ্চিত বলে দামি বাংলা পক্ষের।বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, বাংলায় মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনে-র চাকরির পরীক্ষা শুধুমাত্র ইংরেজিতে হয়, বাংলায় হয় না। বাংলার মাটিতে রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষা বাংলা ভাষায় হয় না। তাঁর আরও দাবী, বাংলায় ৮৬% মানুষ বাঙালি। বাংলা রাজ্য বাংলা ভাষার ভিত্তিতে তৈরি রাজ্য৷ কিন্তু বাংলায় সরকারি চাকরির পরীক্ষা বাংলায় দেওয়ার সুযোগ নেই। অথচ সব রাজ্যে রাজ্য সরকারি চাকরিতে সেই রাজ্যের মূল ভাষার পেপার বাধ্যতামূলক থাকে। রাজ্যের মূল ভাষা বাধ্যতামূলক করার ফলে চাকরিতে ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত হয়।বাংলা পক্ষ সংগঠন মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনে-র পরীক্ষায় বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে ২০২২ এর ২৬ শে ডিসেম্বর কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে ডেপুটেশন দেয়। কিন্তু আজ অবধি এর কোন সদর্থক পদক্ষেপ না হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে পুনরায় ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী সংগঠিত হল আজ মৌলালিতে কমিশনের অফিসে। বাংলা পক্ষর সাধারন সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় তথ্য সহ তুলে ধরেন, সাম্প্রতিক কলকাতা কর্পোরেশনের সাব-অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার-র পদের পরীক্ষায় অন্যরাজ্যের পরীক্ষার্থীদের সংখ্যাধিক্যের কথা। বাঙালি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হন। গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন আমাদের কাছে খবর আছে বাংলা বাধ্যতামূলকের ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রেখেছেন পৌর দপ্তরের উর্দুভাষী সচিব খলিল আহমেদ। অবিলম্বে এই ফাইলের বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে বলে জানান তিনি। যাদব পদবীর কেউ বাংলায় এসটি কিভাবে হন সে প্রশ্ন করতে হবে। তিনি আরও জানান, তাঁরা FIR করবেন। বাঙালি ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত এভাবে ধ্বংস কিছুতেই হতে দেবে না বাংলা পক্ষ।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে বলেন, দশ মাস পেরিয়ে গেছে প্রথম ডেপুটেশনের, বাঙালি চাকরিপ্রার্থীদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। পৌর পরিসেবা সরাসরি বাঙালি নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের ফলে যেমন চাকরির সুযোগ কমছে, তেমনি পরিষেবার ক্ষেত্রেও অসুবিধা হচ্ছে। এটা চলতে পারে না। অবিলম্বে বাংলা ভাষার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।এছাড়াও এদিনের বিক্ষোভ সভায় উপস্থিত ছিলেন, কলকাতা জেলার সম্পাদক অরিন্দম চ্যাটার্জী, উত্তর ২৪ পরগণা (শহরাঞ্চল) এর সম্পাদক পিন্টু রায়। উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা গ্রামীন সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার ও।প্রতিবাদ সভার শেষে মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান মাননীয় রজত কুমার বসুর সাথে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল কথা বলে। আলোচনা সদর্থক হয়েছে বলে জানানো হয়। WBCS এর মতো এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাতেও বাংলা বাধ্যতামূলক করাতে তারা সক্ষম হবেন বলে বাংলা পক্ষ নেতৃত্ব আশাবাদী।

অক্টোবর ১৩, ২০২৩
কলকাতা

ডেঙ্গুতে সল্টলেকে মৃত্যু, পুরনিগমের খোদ চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডের ঘটনা

সল্টলেকে এবছর প্রথম ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল। সল্টলেকের এই (AE) ব্লকের ৭৯১ নাম্বর বাড়ির বাসিন্দা ৬৬ বছরের পিনাক সরকার। গতকাল রাত ১০ টা ১৫ নাগাদ একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসাবে লেখা রয়েছে সিভিয়ার ডেঙ্গি সিন্ড্রোমের কথা।পরিবার সূত্রে খবর, গত মাসের ২৭ তারিখ পিনাক সরকারের জ্বর আসে। পরের দিন ২৮ অগাস্ট সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর পর কিছু সমস্যার কারণে তাঁকে ১৫ তারিখ ভর্তি করা হয় বাইপাস এর কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ২১ তারিখ রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে আজ সকালে মৃতের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছান বিধান নগর পৌর নিগমের চেয়ারম্যান তথা ৩১ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। সেখানে গিয়ে পৌর নিগমের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।সব্যসাচী দত্ত বলেন, এটা দুর্ভাগ্য যে আমার ওয়ার্ডেই আজকে মাঝ বয়সী এবং আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এটা খুব দুঃখজনক ঘটনা কিন্তু সব মানুষকেই বারবার করে অনুরোধ করছি আপনাদেরও জানাচ্ছি নিজের বাড়িটা পরিষ্কার রাখুন এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িতে যদি কেউ পরিষ্কার না রাখে দয়া করে অনুরোধ করুন। অনুরোধ কেউ রাখছেন না। এই একটা গলিতে অন্তত ১০-১২ জনের ডেঙ্গু হয়ে গিয়েছে। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্টে প্রভিশন আছে আপনার প্রেমিসেসের ভেতরে যেটা রয়েছে সেটা যদি আপনি ক্লিয়ার না করেন এফআইআর করে লিগ্যাল একশন নেওয়া।আসি যায় মাইনে পাই কাজ করলে ওভারটাইম চাই আর বলবো কিছু। কাজ হলে এরকম ভাবে মানুষ মারা যায়? আপনারা ছবি তুলেছেন বাড়ির ভেতরে আবর্জনা আছে সেই আবর্জনা দিনের পর দিন নয়, মাসের পর মাস নয় বছরের পর বছর ধরে আছে। কি করবো আমি? বলেন সব্যসাচী দত্ত।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধর-এর কাছাকাছি - তৃতীয় পর্ব

ঢুকে যখন পড়েছি একবার ছাড়াছাডি নেই আর! কোনোমতে ঘুষিয়ে ঘাষিয়ে সেই ভীড়ে ঠাসা সর্বোচ্চ গ্যালারীর পরিধি বেয়ে এগোতে লাগলাম অনীক আর আমি। কারো কোল ডিঙিয়ে, কারো বগলের তলা দিয়ে উঁকি মেরে, কোনো শালপ্রাংশু মহাভুজের পিঠের পিছন দিয়ে পিছলে গিয়ে, দুরধিগম্য এক অভিযানে ব্রতী হলাম আমরা এমন একটুকরো পা রাখার জায়গার সন্ধানে যেখান থেকে অন্তত এক চোখ দিয়েও দেখা যাবে সীমানাফটকে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কী মহানাট্য! লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে সড়রা মেরে শেষতক পৌঁছোতেও পারলাম সেই গ্যালারীর পশ্চিমতম প্রান্তে, আর হাডগোডভাঙ্গা দ-এর মতো বেঁকেচুরে কোনোমতে দাঁড়িয়ে দেখলাম সেখান থেকে দুই দেশের সীমান্তফটক আর মধ্যবর্তী নো ম্যানস ল্যান্ড দেখা যায় চমৎকার!সীমান্তচৌকির এই অনুষ্ঠান দেখার পরমোৎসাহ ছিল মূলত চিত্রা ও সুকন্যা-র; আমরা বাকিরা বিনে পয়সায় দুশো মজা দেখার মতলবে সামিল হয়েছিলাম হইহই করে। কিন্তু এ যা ভুতোভুতি কান্ড দেখছি, চিত্রা গ্যালারীর ভেতর ঠিকঠাক জায়গায় ঘাঁটি গাড়তে পেরেছে তো! আর সুকন্যা-রূপার উইকেট তো পড়ে গেছে প্রথম ওভারেই! নিজেরাও হাত-পা-গুলো আস্ত নিয়ে বেরোতে পারবো কি না কে জানে!চোখের সামনে সুবিশাল পাঁচতলা অশ্বক্ষুরাকৃতি দর্শনার্থী-গ্যালারি, খচাখচ ভরা হুয়া হ্যায়। গাঁকগাঁক করে দেশপ্রেম উগড়োচ্ছে মহাশক্তিমান সব সাউন্ডসিস্টেম, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উল্লসিত কলরোল আবেগাপ্লুত জনগনেশের। মধ্যিখানের মসৃন পিচঢালা রাস্তাটি বন্ধ ফটক পেরিয়ে গিয়ে পড়েছে নো ম্যানস ল্যান্ডে। সেই রাস্তায় বলিউডি দেশভক্তিগীতির তালে তালে তুমুল নৃত্যকলা প্রদর্শন করছেন শয়ে শয়ে উত্তেজিত দেশপ্রেমী সে দলে ঝুঁটিবাঁধা নবযুবক-ফাটাজিন্স তরুণী-পৃথুলা মাঝবয়সী পন্জাবিনী-ছকরাবকরা শার্টশোভিত চকচকে-টাক আঙ্কলজী, কে নেই! ভূমিতলের গ্যালারীর প্রথম কয়টি ধাপে সমাসীন কিছু বিদেশী অতিথি পরম কৌতুকভরে অবলোকন করছেন এই অমৃত মহোৎসব!সীমান্তের ওপাড়ের গ্যালারি খাঁ খাঁ করছে। রমজান মাস। উপবাসভঙ্গের সময় এখন। তাই বোধ হয় ওদিকের দেশপ্রেমীরা তেমন আসর জমান নি। মখমলি সবুজ ঘাসজমি ঘিরে অর্ধচন্দ্রাকার গ্যালারীটি আয়তনে এদিকের এই দানবিক নির্মাণের কাছে পঁচিশ গোল খাবে; তবে বেশ একটা সংযত ওল্ড ওয়ার্ল্ড চার্ম জড়িয়ে আছে ওয়াগা সীমান্তফটকের ওই দিকের পরিকাঠামোয়।নববর্ষের বৈকালিক সূর্য ঢলে পড়লো উল্টোদিকের গ্যালারীর আডালে। এখন ছাদেও উঠে এসেছেন বহু মানুষ। সুকন্যা-রূপাকে নিয়ে বাদশাদা ফিরে এলো কি? ঢুকতে পারলো? প্রবেশদ্বারগুলির কাছে চরম বিশৃঙ্খলা এখন মনে হচ্ছে অনেকখানি স্তিমিত। সোয়া পাঁচটা বেজে গেছে। চারটি দশাসই সারমেয় শান্ত পায়ে হেঁটে গেল তাদের হ্যান্ডলারদের পাশে পাশে; তার পরেই সতেজ সাবলীল পদক্ষেপে কদম কদম এগিয়ে গেলেন বি.এস.এফ-এর চার তরুণী সদস্যা সীমান্তফটকের কাছে গিয়ে পোজিশন নিলেন এঁরা সবাই।এবার অকুস্থলে অবতীর্ণ হলেন বি.এস.এফ-এর কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক। তাঁর পরবর্তী ক্রিয়াকলাপ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমাদের দেশাত্মবোধ জাগাতে কী না করলেন ভদ্রলোক লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে-দৌড়ে গিয়ে- ঢিল মারার ভঙ্গী করে সবাইকে অনুপ্রাণিত করলেন তাঁর বাজখাঁই গলায় দেওয়া স্লোগানে গলা মেলাতে। কত রকমভাবে যে গলা খেলালেন তিনি! আর থেকে থেকে অদ্ভুত এক কালোয়াতী ঢঙে ছো-ও-ও শব্দে মিনিটখানেক টান দিয়ে শেষে হা-আ-আ করে সংক্ষিপ্ত হুঙ্কার পাবলিক পুরো ফিদা সেই রণনির্ঘোষ শুনে!এই উচ্চকিত দেশভক্তির ফুটন্ত বাতাবরণে অনীক আর আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি বেশ! স্লোগানে তেমন গলা তোলা হয় নি একবারও। গ্যালারীতে উঠে এসে আমাদের ঘাড় ধরে ওপাড়ে ছুঁড়ে ফেলে না দ্যায়! তবে ভয়ে ভয়ে এধার ওধারে তাকিয়ে দেখে নিয়েছি, কাছাকাছি ইতস্তত বিক্ষিপ্ত আরো কিছু বাঙালী পরিবারের অবস্থাও তথৈবচ! জ্বলন্ত দেশপ্রেমের সাম্প্রতিক মাপকাঠিতে আমাদের বাঙালিদের নম্বর যে নেহাতই কম সে কথা মালুম হলো, তা সে আন্দামানের সেলুলার জেল-এর বন্দীতালিকায় মোট ৫৮৫ জনের মধ্যে ৩৯৮ জনই বাঙালী যতই না হোক!!প্রায় সাড়ে পাঁচটা। দৃপ্ত পদক্ষেপে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন একদল জওয়ান। তাঁদের তলোয়ার খেলানো.. অঙ্গসন্চালন.. আকাশমুখী পদবিক্ষেপ সবই বিস্ফারিতচক্ষে দেখার মতো। ভয় হচ্ছিল, নিজের পায়েই না কারো কপালে চোট লেগে যায়! উপস্থিত তিন-সাড়ে তিন লাখ জনতা উৎসাহে-রোমান্চে-গর্বে উদ্বেল! থেকে থেকে বজ্ররবে উছলে উঠছে জনসমুদ্র ভারতমাত্তা কি-ই ঝ্যায়! আমরা এখান থেকে দিব্যি দেখতে পাচ্ছি, ফটকের ওপারের ঘাসজমিতেও অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে রণরঙ্গ; তবে তাতে উত্তেজনা অনেক কম। শুরুতে ঢাউস ঢাক বাজাতে বাজাতে নেচে গেছেন জনাকয় ভাঙরা-শিল্পী, তাতে মৃদু হর্ষোল্লাস শোনা গেছে একটু একটু করে জমে ওঠা শখানেক দর্শকের ওমনি প্রবল প্যাঁক দিয়েছে এপাড়।ঠিক সাড়ে পাঁচটায় খুলে গেল দুদিকের ফটক। দুদেশের জওয়ানরা সেলাম ঠুকলেন পরস্পরকে খোলা হলো পতাকার দড়ির গিঁট টানটান করে কোনাকুনি দড়ি ধরে দাঁডিয়ে রইলেন দুপাড়ের সান্ত্রীরা ধীরে ধীরে নেমে এলো দুদেশের নিশান ভাঁজ করে রেখে দেওয়া হোলো পরদিন সকালে পুনর্বার ঝান্ডোত্তোলনের জন্য গড়গডিয়ে বন্ধ হয়ে গেল দুপাড়ের সীমান্তফটক, আজ রাতের মতো।অনুষ্ঠান শেষ। একটি প্রাত্যহিক রিচ্যুয়াল ঘিরে এই মাপের হাইপ ভাবা যায় না! স্লুইস গেট খুলে যাওয়া অতিকায় বাঁধের জলসমুদ্রের মতো দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে গ্যালারী। ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলাম দুজনে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে দুচোখ ভরে দেখলাম সীমান্তের ওপাড়ে দিনের সূর্যের ডুবে যাওয়া সেই একই হরিয়ালা শষ্যক্ষেত্র একই মাটি জল একই নীলাকাশ!নীচের বাগানে মানুষের মেলা সাজিয়ে রাখা পুরোনো বিমানের সামনে ফটো-সেশনের ভীড়কোনোমতে ফোনের লাইন পেতেই খুঁজে পাওয়া গেল বাকিদের। চিত্রা ভীড়ের চাপে চিঁডেচ্যাপটা হয়েও দেখতে পেয়েছে ভালোই! বাদশাদা-সুকন্যা-রূপা আমার আশাকে সম্মান জানিয়ে ফিরে এসেছিল ও ফাঁকতালে ভালো জায়গাতেই দাঁড়াতে পেরেছিল। সমবেত নৃত্যভুবনের মায়াবী পরিবেশে আত্মহারা হয়ে সুকন্যা ও রূপা গ্যালারীতেই বেশ দুপা নেচেও নিয়েছে শুনলাম। শুনে পরম আশ্বস্ত হওয়া গেল। সতীর পুণ্যে পতির পুণ্য! এই সুমহান দেশভক্তিমূলক নৃত্যসমাবেশে আমারও যাকে বলে মহত্বপূর্ণ যোগদান রয়ে গেল!বাইরে শাহী কিলা রেস্তরাঁয় পয়সাওয়ালা দর্শনার্থীদের ভীড়। একপাশে ছোট্ট মন্চে গাইছেন ঝিকিমিকি আলোজ্বলা পোশাকপডা গাইয়ে।রূপা প্রচন্ড ক্ষেপে রয়েছে ওকে ছেড়ে আমি ভিতরে ঢুকে যাওয়ায়। একগ্লাস কোল্ড কফি সেই উত্তপ্ত চিত্তে কিন্চিৎ ছায়াবিস্তার করলো। বিস্তর ঝামেলা গেছে আজ সারাদিন, বেশী গন্ডগোলের দরকার কী!ঝামেলার অবশ্য বাকি ছিল আরো! পার্কিংলট থেকে গাড়ি বেরোতেই লেগে গেল ঘন্টাখানেক, এমন বিচ্ছিরি যানজট! যে যেদিকে পারে গাড়ি ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যাননিয়ন্ত্রণের কোথাও কোনো নামগন্ধই নেই। অবশেষে একসময় ফেরার পথ ধরলো আমাদের ইনোভা ক্রিস্টা। পেটে তখন চুহাদের উন্মত্ত ছোটাছুটি; সারাদিন তো সেভাবে গুছিয়ে খাওয়াই হয় নি! গৌরব গাড়ি দাঁড় করালো মাঝপথে, বল্লে বল্লে ধাবা-য়।বেশ জম্পেশ ব্যাপার; পাশেই আছে সাবা সাবা ধাবা। বল্লে বল্লে আর সাবা সাবা মিলে বেশ জনচিত্তজয়ী পরিবেশ রচনা করে রেখেছে রাজপথের পাশে। ভিতরে প্রশস্ত চাতাল.. বাগান.. ফোয়ারা.. খাটিয়া বা কুর্সিতে ইচ্ছামতো বসার আয়োজন!টনটনে পা ছড়িয়ে বসে জম্পেশ খাওয়া হোলো চাওল-রাজমা - বেসন দা রোটি - মক্কি দা রোটি - সর্ষুঁ দা শাগ - পায়েস-লস্যি! প্রৌঢ সর্দারজী বাঙালী মেহমানদের খাতিরদারি করলেন দিল খুলে। পন্চনদ -এর দেশে প্রথম সন্ধ্যার পেটপুজো নেহাত মন্দ হলো না!আধঘন্টায় অমৃতসর শহর পুরোনো ও নতুন হাতধরাধরি করে দাঁডিয়ে পেরোলাম বিখ্যাত গুরু নানকদেব বিশ্ববিদ্যালয় তার পাশেই বিশাল উদ্যানশোভিত ক্যাম্পাসে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো আলোকিত এক অপরূপ সৌধ দেখে মুগ্ধ হলাম, জানলাম ওটি খালসা কলেজ! হোটেল গোল্ডেন সিরাজ ক্যাসল খুঁজে পেতে বেগ পেলেও জায়গাটা পছন্দ হোলো বেশ!কোন ভোরে উঠেছি সবাই! ঝটপট তাই বিছানায়। কাল সকাল সকাল উঠে সোজা স্বর্ণমন্দির!

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩
রাজ্য

উপাচার্য নিয়োগে জটিলতা কাটাতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, গঠন করা হবে সার্চ কমিটি

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল দ্বন্দ্ব চরমে চলছে। এরইমধ্যে অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগে আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল নবান্ন। রাজ্য সরকারের যুক্তি, আনন্দ বোস যে পদ্ধতিতে উপাচার্য নিয়োগ করেছেন তা আইনসম্মত নয়। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই এককভাবে উপাচার্য নিয়োগ করেছেন আচার্য। এদিন ছিল সেই মামলার শুনানি। নির্দেশে জানানো হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগের জন্য শীর্ষ আদালতই সার্চ কমিটি গঠন করে দেবে। সেই সার্চ কমিটিতে কাদের সদস্য করা হবে সে ব্যাপারে রাজ্য সরকার, রাজ্যপাল এবং ইউজিসি-কে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩ থেকে ৫ জনের নাম পাঠাতে হবে। সেই সুপারিশ করা নামের মধ্যে থেকে ব্যক্তিদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সার্চ কমিটি গঠন করবে। যে কমিটি স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে।সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজ্যপাল আচার্য হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের নিয়োগ কর্তা। অর্থাৎ তিনি অ্যাপয়ন্টিং অথরিটি। কিন্তু রাজ্যপাল উপাচার্যদের নির্বাচন কর্তা নন। কারণ, রাজ্যপালের কাছে কোনও সিলেকশন কমিটি নেই।এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৭ সেপ্টেম্বর।শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্য-রাজ্যপালের ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু আদালত তার মধ্যে ঢুকতে চায় না। আদালত স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের লক্ষ্যে শুধু পদক্ষেপ করবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধর-এর কাছাকাছি - দ্বিতীয় পর্ব

বৈশাখী উৎসব কাল রং ছড়িয়েছে সারা পন্চনদ জুড়ে; সেই রঙের স্বপ্নমায়া যেন জড়িয়ে আছে পথের দুধারের প্রকৃতিতে। পাকা গমের ক্ষেতে সোনালী আলো, তার মাঝে মাঝে গাছগাছালির সবুজ সঙ্গৎ। মধ্যদিনে গান বন্ধ করে নি পাখিরা; স্বাস্থ্যবান টিয়ার ঝাঁক ওড়াউডি করছে গাছে গাছে আর গমের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়.অমৃতসর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে হোটেলে না উঠে সরাসরি চলেছি চল্লিশ কি.মি. দূরে আটারি সীমান্তের দিকে, উল্টোদিকের পাকিস্তানী সীমান্ত ওয়াগা-র নামেই যা খ্যাতি পেয়েছে ওয়াগা বর্ডার রূপে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মুখোমুখি দুই দেশের সীমান্তচৌকিতে জাতীয় পতাকা অবনমনের অনুষ্ঠানটি দেখেই ফিরবো আমরা, তারপর পূর্বনির্ধারিত হোটেলে গিয়ে আশ্রয়গ্রহণ।নিদাঘদগ্ধ অপরাহ্নের নিষ্করুণ রৌদ্র গড়িয়ে নামছে দুপাশারি নিম-বট-অশ্বত্থের ডাল বেয়ে। প্রশস্ত সড়কের ডান পাশে একের পর এক পাঁচিলঘেরা সামরিক ছাউনি। পথে মাঝে মাঝেই পেরোচ্ছি পেছনের ডালাখোলা টেম্পো-ম্যাটাডর-ছোটোহাতি গাড়িদের; সেসব গাড়িতে বোঝাই হয়ে সীমান্তচৌকির অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছে তেরঙা টুপি-ফেট্টি-পতাকায় সজ্জিত তরুণ ভারত। পথের বাঁ ধারে মাঝে মাঝেই বিলাসবহুল দুর্দান্ত সব ফার্মহাউস বা অনুষ্ঠানস্থল বাগান-মূর্তি-স্থাপত্যের আড়ম্বরে যা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, দেখিয়ে দেয় সবুজ বিপ্লবোত্তর পন্জাব-এর সমৃদ্ধি-চিত্র।অকুস্থলের কাছাকাছি এসে লম্বা গাড়ির লাইনের পেছনে থেমে যেতে হোলো। গাড়ির আশেপাশে হাতে-গালে তেরঙা আঁকনেওয়ালা টুপি-ফেট্টি-আর্মব্যান্ড বেচনেওয়ালা ছোটোখাটো স্মারক- সি.ডি - টি-শার্ট গছানেওয়ালারা উপচে পড়লো। ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের পরিচিতিপত্র দেখিয়ে, গাড়ির আগাপাস্তালা চেকিংয়ের অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে, পৌঁছে গেলাম সীমান্তচৌকির কাছে বিশাল পার্কিংলটে। ওয়াশরুম - কাফেটারিয়া - ওয়েটিং শেড সবকিছু নিয়ে জমজমাট এক পরিকাঠামো সারথী গৌরব এখানেই আমাদের ভূমিস্থ করে সাময়িক বিদায় নিল।কাতারে কাতারে মানুষ; লম্বা লাইন এগোচ্ছে দ্রুত। বাইরের গেট-এর কাছে এসে দেখি পুরুষ ও মহিলাদের লাইন আলাদা করে দেওয়া হয়েছে, পৃথক জায়গায় তাদের শরীর তল্লাশির বন্দোবস্ত। সেই অবশ্যপালনীয় খিটকেলটি পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে বাদশাদা-অনীক-আমি আর খুঁজে পেলাম না আমাদের মহিলা ব্রিগেডকে!নিশ্চয়ই ঢুকে গ্যাছে ভিতরে! অনুষ্ঠানের সময় হয়ে আসছে; লোকজন প্রায় ছুটছে দুপাশ দিয়ে। কাজেই গ্যালারিতে জায়গা পেতে হলে কালক্ষেপ না করে এগোও। ওদের ফোন করতে গিয়ে দেখি ফোনের সিগন্যাল হাওয়া! তা হলে যোগাযোগ হবে কী করে! মহা মুশকিল হোলো তো!তিনজনে ফোন টেপাটেপি করতে করতেই পা চালাচ্ছি; হঠাৎ বাদশাদা ফোন পেল সুকন্যার কোথায় তোমরা, কোথায় তোমরা করতে করতেই সে ফোন কেটেও গেল। অতঃপর তিনজনেই প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, কখনো সখনো কানেকশন হচ্ছেও, কিন্তু কথা বলার আগেই কেটে যাচ্ছে। এই লাখখানেক লোকের ভীড়ে একসাথে না মিললে চিত্তির; কিন্তু ওরা যে কোথায় বোঝাই যাচ্ছে না! দাঁড়িয়ে যাবো কোনো এক জায়গায় নাকি এগোবো তাও ঠিক করতে পারছি না!এই কুনাট্য অভিনীত হোলো আরো প্রায় মিনিট দশেক। ততক্ষণে বন্যার মতো জনস্রোত বয়ে যাচ্ছে মূল অনুষ্ঠানস্থলের দিকে। দূর ছাই, নিশ্চয়ই ওখানেই পাবো ওদের। চলো এগোই। বলে প্রায় দৌড়োলাম তিনজনে।সামনেই বিশাল এক অট্টালিকাসম নির্মাণ, মাথায় লেখা INDIA; সামনে সুউচ্চ দণ্ডশীর্ষে বিশাল জাতীয় পতাকা উড়ছে পতপত করে। গ্রাউন্ড লেভেল-এর প্রবেশপথটি জনস্ফীতিহেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। প্রহরীর নির্দেশ, উঠে যাও পাশের সিঁড়ি দিয়ে ওপরের গ্যালারিতে। সে দিকে তাকিয়েই দেখি সিঁডির পাশে বিপন্ন মুখে দাঁড়িয়ে সুকন্যা আর রূপা!!হারানিধি ফিরে পেলেও সেলিব্রেশন-এর সময় নেই। চিত্রা কই? সে নাকি আমাদের দেরী দেখে একাই গুঁতিয়ে গাঁতিয়ে ঢুকে গেছে ভীড়ে ভীড়াক্কার গ্যালারিতে! দোষারোপ - পাল্টা দোষারোপের সময় নেই; তেডে সিঁড়ি বাইতে শুরু করলাম পাঁচজনে। ঠাসাঠাসি ভীড় প্রায় এগোনোই যায় না ভারতবর্ষের নানান প্রান্তের ভাষায় চিল্লামিল্লি ভেতর থেকে তারস্বরে মাইক উগরে দিচ্ছে জয় হো, জয় হো-ও .দোতলা তেতলার গ্যালারিতে তিলধারণের ঠাঁই নেই, ঢোকাই গেল না। চারতলার ল্যান্ডিংয়ে এসে স্নায়ুবিপর্যয় হোলো সুকন্যা-রূপার আর এক পা-ও যাবো না আমরা, মরবো নাকি এই ভীড়ে লোকের পায়ের তলায়!অনেক চেষ্টাতেও বোঝানো গেল না তাদের। অগত্যা বাদশাদা ওদের দুজনকে নিয়ে নামার পথ ধরলো। অনীক-এর হাত জাপটে ধরে আমি বল্লাম, যা থাকে কপালে, ফিরবো না। চলো দেখা যাক কী হয়!সর্বোচ্চতলার গ্যালারি প্রবেশপথের আগে সিঁড়িতে একদম ঠাসাঠাসি ভীড়, চরম বিশৃঙ্খলা। ওপরের লোকেরা ঢুকতে না পেরে নেমে আসতে চাইছে, নীচের লোকেরা চাইছে ওপরে উঠতে। কঘন্টা আগের দিল্লী-অমৃতসর উড়ানে মাঝের কিছুক্ষণ ভয়ানক এয়ার টার্বুলেন্স-এ পড়েছিল আমাদের বিমান; বারকয়েক মাঝআকাশে এয়ারপকেটে ধাঁইধপ্পাস পড়ে ভীষণ আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। আমি তখন ওয়াশরুমের ভেতর হাতল আঁকড়ে সিঁটিয়ে দাঁড়িয়ে! কিন্তু তখনো এতো ভয় লাগে নি, এই মূহুর্তে যতটা বিপন্নবোধ করছি। এখন আর নেমে যাওয়ারও সুযোগ নেই। বাংলা নববর্ষের বিকেলে, এই দূর সীমান্তচৌকিতে পদপিষ্ট হয়ে যাওয়াই কপালে লেখা ছিল!সারাক্ষণ কোনো ভীড় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বা ব্যবস্থা চোখেই পড়ে নি সেভাবে। চিৎকার.. কান্নাকাটি.. গালাগালি.. তার মধ্যেই দুজনে দুজনার হাত জাপটে ধরে, দাঁতে দাঁত চেপে, দেওয়াল ঘেঁষে ঘষটে ঘষটে, অ্যামিবার মতো ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া এদিক সেদিক বাড়িয়ে বাড়িয়ে, একসময় কোনোমতে উঠে এলাম সর্বোচ্চ গ্যালারির প্রবেশপথে। তারপর একঝটকায় ভিতরে। মাইকে তখনো অমায়িক নির্দোষ ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া, ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া..

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধরের কাছাকাছি, প্রথম পর্ব

নববর্ষের ফুরফুরে সকালে যখন হু হু করে ছুটছে আমাদের গাড়ি রাজারহাট-নিউটাউন এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে, লালপেডে শাড়িতে সুশোভিতা একঝাঁক বঙ্গললনার ছোট্ট পদযাত্রা চোখে পডলো; হাতে তাঁদের ঢাউস মাপের শুভ নববর্ষ লেখা তালপাতার পাখা। সকাল আটটার রোদ আটকাতেই অনেকে সে পাখা ব্যবহার করছেন ছাতার মতো। বঙ্গসংস্কৃতি উদযাপন করতে তাঁদের অভিমুখ সেন্ট্রাল মলের সামনের নববর্ষ মেলায় এটা যেমন বোঝা গেল, তেমনই সকাল আটটাতেই ঘামিয়ে দেওয়া এই রুদ্রবৈশাখকে ফাঁকি দিতে চলেছি হিমাচলের ওক-পাইন-দেওদারের ছায়ায় ছায়ায় এই ভাবেই মনটা গার্ডেন গার্ডেন হয়ে গেল!সস্ত্রীক বাদশাদা-অনীক-আমি মোট ছয়জনের নাতিদীর্ঘ বাহিনী। অমৃতসর দিয়ে শুরু করে হিমাচলপ্রদেশের পশ্চিমাংশটা সমঝে নেবো আগামী আটদিনে। প্ল্যানটা দানা বেঁধেছিল মাত্রই মাসখানেক আগে; তাই ফেরার পথে চন্ডীগড থেকে কালকা মেল-এর বাতানুকূল সেকেন্ড টায়ার-এর টিকিট কষ্টেসৃষ্টে পেয়ে গেলেও অমৃতসর অবধি যাওয়ার টিকিট আকাশপথেই কাটতে হোলো। চারমাস আগে ট্রেনের আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমাদের মতো উঠলো বাই তো বিনসর যাই- মার্কা উড়ুউডু মনদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। কটা পেশাজীবী মানুষ আর চারপাঁচমাস আগে থেকে আজকাল বেড়ানোর ছক সাজিয়ে উঠতে পারে!বাদশাদা-সুকন্যা আর অনীক-চিত্রা ভোর ভোর বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে আসছে বর্ধমান থেকে। রূপা আর আমি কাল সন্ধ্যেতেই চলে এসেছিলাম বারুইপুরের কাছে শ্বশুরবাডিতে। মেয়েও চলে এসেছিল হোস্টেল থেকে; তার সাথে সময় কাটিয়ে সকাল সকাল দুজনে চলেছি দমদম হাওয়াই আড্ডায়। আমাদের পৌঁছে দিয়ে সারথী মিঠু ফিরে যাবে বর্ধমান।3A গেট-এ নামলাম যখন, উড়ান-এর বাকি পৌনে দুঘন্টা। দুজনের দুটি সুটকেস, সাথে দুই পিঠব্যাগ। টিকিটের প্রিন্টআউট নিয়ে গেটের সি.আই.এস.এফ সান্ত্রী দেখছেন তো দেখছেনই। কী হোলো রে বাবা! আমার আধারকার্ড দেখে মিলিয়েছেন; রূপারটা বারবার উল্টাচ্ছেন ওনার তো টিকিট নেই।মানে? টিকিট হাতে নিয়ে স্মার্টলি দেখাতে গিয়ে আমার চক্ষুস্থির! টিকিট কেটে দিয়েছিলেন এক নিকটজন; রূপার পোশাকী নাম যে ইতি সরকার সেটা বোধ হয় জানা ছিল না তাঁর। ফলত টিকিটে নাম আছে রূপা সরকার। এদিকে আধারকার্ডে জ্বলজ্বল করছেন ইতি সরকার! আর এই মাসখানেক-এর মধ্যে আমরা কেউই একবারও শ্রীনয়ন মেলে তাকাই নি টিকিট-এর পানে!!সর্বনাশের মাথায় বাড়ি! কী হবে এবার! রূপা প্রায় কেঁদে ফেলে আর কি! অন্যেরা ইতিমধ্যে ভিতরে ঢুকে চেক ইন করে করে ফেলেছে। ফোন লাগালাম কাঁপা হাতে। শুনে ওদেরও আক্কেলগুডুম! ভিস্তারা-র কাউন্টারের মে আই হেল্প ইউ আসনের মহিলা প্রথমে সটান বলে দিলেন কিছু করার নেই । পরে অন্য এক ভদ্রলোকের সহায়তায় কাস্টমার কেয়ার-এ ফোন করে জানা গেল নামের বানান ভুল হলে ঠিক করে দেওয়া যেত, কিন্তু নাম পরিবর্তন অসম্ভব!রূপার টিকিট ক্যানসেল করে ইতি সরকার নামে নতুন টিকিট কাটো; গচ্চা যা যায় যাবে, কিছু করার নেই ! সে গুড়ে বালি; কলকাতা-দিল্লী আর দিল্লী-অমৃতসর দুটো উড়ানই পুরো ঠাসা। ভিস্তারা-র পরবর্তী দিল্লী যাত্রা অনেক বেলায়; আর বেশ কয়েকঘন্টা ট্র্যানজিট টাইম দিল্লিতে কাটিয়ে পরের অমৃতসর উড়ান ধরে পৌঁছাতে রাত দশটার কাছাকাছি হয়ে যাবে!মাথা ঝাঁঝাঁ করছে। কী করি! বাদশাদা আর অনীক ছোটাছুটি করছে ভিতরে, ফোনাফুনি চলছে, আর আশ্বাস পেয়ে চলেছি দেখছি আমরা, কিছু একটা ব্যবস্থা হবে নিশ্চয়ই!আচ্ছা, রূপার টিকিটটা ক্যান্সেল হলেই তো একটা সিট খালি হয়ে যাবে; সেখানেই তো জায়গা পেয়ে যাবে ইতি সরকার এটাই বলো না ওদের!এক একটা মিনিট এক এক ঘন্টা যেন! কলকাতা বিমানবন্দরের সাথে কোনো সূত্রে যোগাযোগ আছে এমন প্রায় সব বন্ধুকে ফোন করা হয়ে গেছে। উড়ান-এর সময় এগিয়ে আসছে। অবশেষে ভিস্তারা-র কর্মীরা সফল হলেন ঐ প্লেন-য়েই নতুন টিকিট কাটায়। গচ্চা গেল একগাদা; তবু..., যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!!ওয়েব চেক ইন করে দিয়েছে ওরা। হুড়মুড় করে ব্যাগপত্র জমা দিয়ে, সিকিউরিটি চেক করে, ঢুকে পড়লাম ভিতরে। বোর্ডিং শুরু হয় হয়। তা বলে মোমো না খেয়ে প্লেনে ওঠা যায় বুঝি! ওটা যে দমদম-এ এসে আকাশে ওড়ার আগে আমার অবশ্যপালনীয় মঙ্গলাচরণ! অতএব ওয়াও মোমো-র কাউন্টারে হামলে পড়লাম সবাই। কাউন্টার-বর্তিনী জানালেন ছপ্লেট ফ্রায়েড চিকেন মোমো পাকাতে বিশ মিনিট সময় দিতে হবে। আপাতত তৈরী আছে এক প্লেট। কিছু পরোয়া নেহি! ঐ এক প্লেটই ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে একটা করে মোমো দিয়ে মুখশুদ্ধি করে নিয়ে দে দৌড় বোর্ডিং লাইনের দিকে। তবে তার মধ্যেই পাশের বইয়ের দোকান থেকে রিডার্স ডাইজেস্ট আর আউটলুক ট্র্যাভেলার পত্রিকার সাম্প্রতিকতম সংখ্যাদুটি তুলে নিতে ভুল হয় নি।ভিস্তারা আমার বেশ পছন্দের বিমানসংস্থা। মাঝে তিন বছরের কোভিডকাল বাদ না সাধলে এতোদিনে এরা ইন্ডিগো-কে বেশ কড়া প্রতিদ্বন্দিতার মুখে ফেলে দিতো বলেই আমার বিশ্বাস। কালো চামড়ায় মোড়া মোটা গদীতে ডুবে গিয়ে পরবর্তী দুঘন্টায় দিল্লী পাড়ি দিলাম বইয়ের পাতায় চোখ রেখে। রসনাতৃপ্তির আয়োজনও নেহাত মন্দ ছিল না। তবে দিল্লিতে নেমে মাত্র মিনিট পঁয়তাল্লিশের ব্যবধানে অমৃতসর উড়ান ধরার জন্য যা ছুটতে হোলো টার্মিনাল থ্রি-র অন্তহীন অলিন্দ বেয়ে, সে আর বলার নয়! তবে ভিস্তারা-র গ্রাউন্ডস্টাফ প্রায় পরমপ্রভু-প্রেরিত মেষপালকের মতো সযত্নে আমাদের তাড়িয়ে নিয়ে গেলেন প্রার্থিত বিমান অভিমুখে। সেই পাগডি-অধ্যুষিত উড়ানে যেই না ঢোকা, গড়গড়িয়ে বিমানের দরজা গেল বন্ধ হয়ে; আবার আকাশচারী হলাম সবাই।একঘন্টার সংক্ষিপ্ত উড়ান; পবিত্রশহরগামী বলেই বোধ হয় খাবারটাও নিরামিষ দিল। মেজাজটা ঈষৎ খিঁচডে গেলেও বেশ নীচু দিয়ে ওড়ায় হরিয়ানা-পন্জাবের মাঠঘাট-সেচখাল-গ্রামগঞ্জ দেখতে দেখতে মন ভালো হয়ে গেল। বিমান অমৃতসরের মাটি ছুঁলো মসৃণভাবে।হিসেবমতো অমৃতসর পন্জাব-এর এক জেলাশহরমাত্র হলেও আন্তর্জাতিকস্তরে এর নিবিড় ধর্মীয়-সামাজিক-ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য বিমানবন্দরটি বেশ জোরদার.. সুন্দর.. গাম্ভীর্যপূর্ণ। এখান থেকে বার্মিংহাম-গামী আন্তর্জাতিক উড়ান চালু হয়ে গেছিল ভারতীয় বিমান-ইতিহাসের একেবারে ঊষাকালেই। বহু নিয়মিত ও চার্টার্ড ফ্লাইটের সতত আনাগোনা এখানে। ভ্রমণসূচী ঠিকঠাক জায়গা দিয়েই শুরু করেছি আমরা।মালপত্র পেতে দেরী হোলো না। বাইরে বেরিয়ে ড্রাইভারকে ফোন করতেই মিনিট দশেকের মধ্যেই ইনোভা ক্রিস্টা নিয়ে এসে হাজির ঝাঁকড়াচুলো বেঁটেখাটো চেহারার ড্রাইভার গৌরব। ঝটপট গাড়িবোঝাই হয়ে রওনা দিলাম চল্লিশ কি.মি. দূরে আটারি-ওয়াগা সীমান্তের উদ্দেশে। ঘড়িতে তখন বিকেল সাড়ে তিনটে । ড. সুজন সরকার, বর্ধমান।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

কেউ কথা রাখেনি, গল্প শুনে কফি খেয়ে ছবি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েই পগারপার!

টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কান পাতলেই তাঁকে দুর্মুখ, ঠোঁটকাটা সহ নানাবিধ বিশেষণ ভূষিত করতে শোনা যায়। আদতে তিনি শ্রীলেখা মিত্র সরলরেখায় চলতে অভ্যস্ত। কোনও বিষয়েই তাঁর ঢাকঢাক গুরুগুরু ব্যপারটা নেই। তিনি সোজা কথাটা সোজা ভাবেই বলতে অভ্যস্ত, তাতে বোমটা যত জোরেই ফাটুক। এর আগেও বহুবার তিনি যেমন ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও গরবর দেখলে সপাট জবাব দিয়েছেন, ঠিক তেমনই জ্বলে উঠেছেন পোষ্যদের (বিশেষ করে সারমেয়) অবহেলা নিয়েও। লকডাউনে পথ কুকুরদের অবহেলা নিয়ে বারবার শিরোনামে এসেছেন শ্রীলেখা। শ্রীলেখা মিত্র এর আগে বহুবার জানিয়েছেন, তিনি ফেবার পাওয়ার জন্য কখনই কারুর কাছে নিজেকে ফেবারিট করে তুলতে চাননি। কয়েকদিন আগেই টালিগঞ্জের এক রন্ধন পটীয়সী ঘোষীকা তাঁর প্রযোজক স্বামী কে নিয়ে করা কানাঘুঁশো অভিযোগ, প্রকাশ্য মিডিয়ায় সপাট জবাব দিয়ে শ্রীলেখা বুঝিয়ে দিয়েছেন সব ক্ষারক-ই ক্ষার নয়।একসময়ের টলিউডের জনপ্রিয় লাস্যময়ী নায়িকা, এখন পরিচালক, প্রযোজক এবং অবশ্যই একজন খ্যাতানামা অভিনেত্রী। সম্প্রতি তাঁর অভিনীত পরিচালিত বেশ কয়েকটা ছবি শিরোনামে উঠে এসেছে। উল্লেখযোগ্য ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা। কলকাতার শহরের ওপর আধারিত এই ছবিটি কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অবশ্যই দেখানো উচিত ছিল বলে মনে করেছিলেন ফিল্ম ক্রিটিক্স রা। সেই ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেও ছিলেন। অনেকেই সে সময় বলেছিলেন, যে অভিনেত্রী ভেনিস নিউ ইয়র্কে সমাদৃত তাঁর কি বা আসে যায় কলকাতাতে উপেক্ষা করলে। কিন্তু কিছু চলচ্চিত্র সমলোচক অনুপ্রেরণার আরাল থেকে মনে করেছিলেন, হ্যাঁ আসে! তাঁদের মতে, যখন অযোগ্যরা মঞ্চ দাপিয়ে বেড়ায় তখন অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তিদের কিছু এসে যায়।ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা মেলবোর্নের ভারতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। অবশেষে তিনি বাংলা সংস্কৃতির প্রানকেন্দ্র নন্দনে হাজির হন তাঁর নিজের প্রযোজিত, পরিচালিত ও অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি এবং ছাদ এর সৌজন্যে। এবং ছাদ শ্রীলেখার প্রযোজিত প্রথম শর্টফিল্ম। প্রযোজনা সংস্থা পসাম প্রোডাকশনস প্রযোজিত এবং ছাদ ছাড়াও আরও তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির অংশ জুড়ে একটি পূর্ণ দৈর্ঘের অ্যান্থোলজি ছবি তৈরি করার পরিকল্পনা শ্রীলেখার।এবং ছাদ ছবিটি নিয়ে তিনি প্রথম থেকেই বারবার বিড়ম্বনাই পড়েছেন। তিনি একাধিকার সামাজিক মাধ্যমে তাঁর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে প্রযোজকের জন্য আবেদন করতেও তাঁকে দেখা গেছে। অনেক ঘাত প্রতিঘাত, প্রত্যাখ্যান-র সিঁড়ি পেড়িয়ে তিনি সত্যিই ছাদ তুলতে পেরেছেন। আজ আক্ষরিক অর্থেই ছাদে উঠে শ্রীলেখা নিচের দিকে তাকিয়ে বলতে চাইছেন, তোমরা আমাকে বহু চেষ্টা করেও আমার ছাদে ওঠা আটকাতে পারলে না। সেই একগুচ্ছ অভিমান, আক্ষেপ, অবহেলা, বিশ্বাসঘাতকদের উদ্দেশ্যে গর্জে উঠেছে তাঁর কলম। তিনি সামাজিক মাধ্যমে উগরে দিয়েছেন সেই কথা।শ্রীলেখা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেনঃছবি তো বানিয়েছি নিজের পয়সায়, প্রচুর festival ঘুরলো। সামনেই আবার দিল্লি যাচ্ছি এবং ছাদ নিয়ে। ছবিটা বানিয়ে ইচ্ছে হয়েছিল আরো তিনটে শর্ট বানাবো তারপর অ্যান্থোলজি হিসেবে হল রিলিজ করব। নতুন পরিচালকের পাশে দাঁড়ান বলে যারা দাবি করেন তারা অনেকেই ফোন ধরেননি বা মেসেজের রিপ্লাই ব্যাক করেননি।। যারা করেছেন তারা কফি খেয়ে এবং খাইয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ছবির জন্য পয়সা দেবেন। এক ভদ্রলোক সামান্য কিছু টাকা এডভান্স করেছিলেন ছবি আরম্ভের দশ দিন আগে থেকে উনি ফোন ধরা এবং মেসেজের রিপ্লাই ব্যাক করা বন্ধ করে দিলেন। আমরা তার আগে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি লোকেশন রেইকি করেছি একটার্সদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেছি কিছু কিছু টাকা এডভান্সও দিয়েছিলাম। প্রডিউসার ভদ্রলোক তখন গায়েব। এখন উনি এবং উনার পরিবার আমার কাছে সেই যৎসামান্য এডভান্স যেটা দিয়েছিলেন যা কিনা পুরোটাই খরচ হয়ে যায় তা ফেরত চাইছেন। নিয়ম মতে সেই টাকা দেওয়ার কথা নয় আমাদের সময় পরিশ্রমের কোন মূল্যই দেয়া হয়নি। তাও বলেছি ফাইন্যান্সার পেলে বা প্রোডিউসার পেলে কিছু দেবো। উনি টাকাটা দেখলেন সময়ের পরিশ্রমের মূল্যটা দিলেন না। এর মধ্যে হলো আমার টাকা চোট। আমি দমবো না ছবি তো আমি করবই দরকার হলে নিজের ফিক্স ডিপোজিট ভেঙ্গে করব। সাথে থেকো।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৩
রাজনীতি

উনি (রাজ্যপাল!) ছোটো ছোটো পুতুল নিয়ে খেলছেন: ব্রাত্য বসু

শুক্রবার বিকালে বিকাশ ভবনে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেজিস্টারদের নিয়ে বৈঠক করলেন শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এদিন বিকাশ ভবনে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১২টা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টাররা। ছিলেন আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, কাজী নজরুল, মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি ওপেন, মুর্শিদাবাদ, রায়গঞ্জ, যাদবপুর, পঞ্চানন বার্মা, ডায়মন্ড হারবার, কন্যাশ্রী, কল্যাণী ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা।ব্রাত্য বসু বলেন, রেজিস্টারদের সঙ্গে রুটিন বৈঠক করেছি। এর আগেও ভিসিদের বৈঠক সঙ্গে করেছি। ইউনিভার্সিটিতে কি কি সমস্যা আর কিকি প্রয়োজন। আর পড়াশোনা কেমন চলছে? সেই নিয়েই মূলত বৈঠক।রাজ্যপালে ভূমিকা প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু বলেন, উনি ছোট ছোট পুতুল নিয়ে খেলছেন। যারা পুতুল হয়ে থাকতে চান তাদের বলবো একাডেমীর কথা ভাবুন। রাজ্য যে সম্মান দিচ্ছে সেটা ভাবুন। আপনারা কালকে যোগী নন। উচ্চ শিক্ষাকে নষ্ট করে দিয়ে যায় এই খেলায় কেন আপনারা সামিল হবেন। উনি বাংলার শ্রেষ্ঠত্ব ভাঙতে চাইছেন। মমতা ব্যানার্জি যতদিন আছেন এই মেরুদন্ড উনি ভাঙতে পারবেন না।আজ গোয়ালিয়র ঘাটে রাজ্যপালের সঙ্গে যে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যরা ছিলেন তাদের বলব একবার ভেবে দেখুন, আপনারা কিন্তু কালকা যোগী নন। পুতুল নাচের ইতিকথা কবে শেষ হবে জানি না। বলেন শিক্ষামন্ত্রী।রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ করায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যার বিরোধিতা করেছে রাজ্য সরকার। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, উনি বলতে চান উনি নিজে যাঁদের নিয়োগ দিয়েছেন। তাঁরা ধোয়া তুলসী পাতা বাকি সব অসৎ। মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু অর্থনৈতিক অবরোধের কথা বলেছেন , কোনও অধ্যাপকের বেতন বন্ধ হবে বলে জানাননি। সিপিএম এমন হলে হয়তো সন্তোষ দত্তের মত সমস্ত উপাচার্যকে বাড়ি থেকে কাজ করতে হতো কিন্তু আমরা তা করছি না তবে ধৈর্যের একটা সীমা আছে।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৩
ভ্রমণ

বিস্তীর্ণ দু'পাড়ে অসংখ্য বিদেহী আত্মার হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে নীরবে দানিয়ুব বয়ে চলেছে, যুগ যুগ ধরে

স্পন্দিত নদীজল ঝিকিমিকি করে...I দুকুলপ্রবাহিনী অতিকায় এক স্রোতস্বিনী... দশটি দেশের মাটি ছুঁয়ে চলা তার দুর্দম প্রবাহ... কত কবি-চারণ-গায়ক -নাট্যকারের সৃষ্টিসুখের জননী সেই পযস্বিনী আজ আমার দুচোখের সামনে... দানিয়ুব!পয়লা মে , ২০১৮, পূর্ব-মধ্য ইউরোপ আন্ডা-বাচ্চা নিয়ে সদলবলে ঘুরতে ঘুরতে আগের রাতে এসে পৌঁছেছি বুদাপেস্ট। হাঙ্গেরির রূপসী রাজধানী রাতের আলোয় যে মায়াকাজল বুলিয়ে দিয়েছে চোখে, তার ঘোর কাটতে না কাটতেই সকাল সকাল ছোট্ট বাসে আমরা পনের জন বেরিয়ে পরেছি আবার, দানিয়ুব -এর দুপাশে ছড়ানো যমজ নগরী বুদা ও পেস্ট -এর রূপ-রস-শব্দ-গন্ধ চেটেপুটে খেতে। সঙ্গে ফ্রেন্ড-ফিলোসফার-গাইড হিসেবে আমার কলেজজীবনের বন্ধু প্রবাল, গত চার বছর ধরে যে টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসের স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান হয়ে এ দেশে অধিষ্ঠান করছে!আজ থেকে চারদিন এদেশে জাতীয় ছুটি। পথেঘাটে যানবাহন কম, মানুষজন ফুর্তির মেজাজে দলে দলে রাস্তায়। সুন্দর পথঘাট... নয়নশোভন বাগান -ঝিল -বুলেভার্ড... ভীমকায় গীর্জা-স্মারকসৌধ-দুর্গ -প্রাসাদ ঘুরে দুপুরের মুখে এলাম দানিয়ুব -এর পূব পারে।কাতারে কাতারে মানুষ চড়া রোদে অধীর আগ্রহে বসে আছে নদীপারের বাঁধানো চত্বরে; একটু পরেই শুরু হবে চোখধাঁধানো এয়ার-শো। নদীতটে সুরম্য হর্ম্যরাজির মধ্যে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ইউরোপের বৃহত্তম পার্লামেন্ট বলে কথিত হাঙ্গেরিয়ান আইনসভা-- তার অপরূপ শুভ্র রাজসিক গরিমায় চোখ ধাঁধিয়ে যায়!কিন্তু এসব দেখতে আমরা আসি নি। আমাদের চঞ্চল পদবিক্ষেপের প্রাথমিক উদ্দেশ্য, ইউরোপ তথা আধুনিক মানবসভ্যতার সবচেয়ে মর্মান্তিক এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের স্মারকদর্শন-- Shoes on the Danube, চলতি কথায় The Shoe Memorial। চারের দশকের মাঝামাঝি। হিটলার হাঙ্গেরি জয় করে অপসারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী Miklos Horthy -কে; ক্ষমতায় এলো এক পুতুল সরকার, নেতৃত্বে Ferenc Szalasi, যাঁর চরম দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক বিশ্বাস হিটলারের কাছাকাছিই I ক্ষমতায় এসেই তিনি গঠন করলেন Arrow Cross Militia বাহিনী I এরা জার্মানি-পন্থী , চরম ইহুদী-বিরোধী I এদের প্রধান কাজই হলো ইহুদী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের খতম করা I ধনসম্পত্তি -পূর্বপুরুষের ভিটে ছেড়ে তাদের ঠাই হলো বুদাপেস্টের মনুষ্যেতর ইহুদী ঘেটো গুলিতে I সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রাউল ওয়ালেনবার্গ বা সুইস কনসাল Carl Lutz -এর মতো কিছু কুশলী মানবদরদী রাষ্ট্রদূত ও সমাজকর্মীর চেষ্টায় বেশ কয়েক হাজার ইহুদী প্রাণে বেঁচে অন্য দেশে পালাতে পারলেও, Arrow Cross -এর মৃত্যুদূতদের যথেচ্ছাচারে প্রলয় ঘটে গেল আর্থিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মানবিক সম্পর্কে সমৃদ্ধ হাঙ্গেরীয় ইহুদিদের গোষ্ঠী-জীবনে ! লক্ষ লক্ষ হাঙ্গেরীয় ইহুদিকে মৃত্যুমিছিলে সামিল করে পার করে দেওয়া হলো অস্ট্রীয় সীমান্ত , গ্যাস চেম্বারে প্রাণ দিলেন অগণন মানুষ ! ৪৪ -এর অক্টোবর থেকে ৪৫ -এর মার্চ রাজত্ব করেছিল Arrow Cross বাহিনী। এর মধ্যে ৪৪-এর ডিসেম্বর থেকে ৪৫ -এর জানুয়ারী -- বার বার ইহুদী ঘেটোগুলি থেকে বন্দুকের ডগায় তুলে আনা হয়েছিল কাতারে কাতারে ইহুদী নরনারী, এমনকি বয়স নির্বিশেষে শিশু-কিশোর-কিশোরী দেরও!দানিয়ুব-এর এই পূব পারে জলের ধারে জুতো খুলে রেখে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাজারে ইউরোপের সর্বত্র জুতো ছিল বড়ই প্রয়োজনীয় ও মহার্ঘ্য সামগ্রী!) নদীর দিকে পিছন ফিরে বেয়নেটধারী মৃত্যুদাতাদের দিকে তাকিয়ে সারি দিয়ে দাঁড়াতেন শিশু-মহিলা-যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে হতভাগ্য মানুষ (প্রধানতঃ ইহুদী ), তিনজন তিনজন করে মাঝের জনের দুই পায়ের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হতো দুপাশের দুজনের পা তারপর মাঝের মানুষটি শরীরে বুলেট নিয়ে উল্টে পরতেন দানিয়ুব -এর হিমশীতল জলে, সঙ্গে সঙ্গে বাকি দুজনও খরস্রোতে উল্টিপালটি খেতে খেতে শয়ে শয়ে মৃতদেহ ভেসে যেত কৃষ্ণসাগরের দিকে.....ঠিক কত প্রাণপ্রদীপ নিভে গিয়েছিল এভাবে? সঠিক হিসেব জানে না কেউ।তবে সংখ্যাটা সাড়ে তিন হাজারের কম নয়। ছেড়ে যাওয়া জুতোগুলি নিজেরাই ব্যবহার করত, বা বেচে পয়সা কামাতো মিলিশিয়া -বাহিনী!বিস্তীর্ণ দুপাড়ে অসংখ্য বিদেহী আত্মার হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে নীরবে দানিয়ুব বয়ে চলেছে, যুগ যুগ ধরে, শীতল ঔদাসীন্যে ....এলো ২০০৫ সাল। বিখ্যাত চিত্র পরিচালক Can Togay ও স্বনামধন্য স্হপতি Gyula Pauer উদ্যোগ নিলেন সেই সব হতভাগ্যের স্মৃতির উদ্দ্যেশ্যে এই মৃত্যুভূমিতে এক অভিনব নির্মানের, যা পরবর্তীকালে হয়ে উঠলো সারা ইউরোপের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে গড়ে ওঠা মহত্তম স্মারকগুলির একটি -- Shoes on the Danube!লোহা ঢেলে গড়া হলো ষাট জোড়া খুলে রাখা জুতো, সেই চারের দশকের রচনাশৈলীতে I ছোট্ট শিশুর মিষ্টি জুতুয়া... মায়ের হিল তোলা কেতাদুরস্ত জুতো ...সম্পন্ন ব্যবসায়ীর গম্ভীর বুটজুতো... ক্রীড়াপ্রেমী নওজোয়ানের তৎকালীন স্পোর্টস শু...সবই ছিল সেই পাদুকা -সম্ভারে, যা আজও মনে করিয়ে দেয় বয়স-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সেই মৃত্যুমিছিল। বাঁধানো নদীতটের কঠিন শিলায় সংবদ্ধ অনড় জুতোগুলি এলোমেলো চেয়ে আছে আকাশপানে। পিছনে ৪০ মিটার লম্বা ও ৭০ সে.মি. উঁচু এক পাথরের বেঞ্চি, যার তিন জায়গায় লোহার ক্রস লাগানো। লেখা আছে হিব্রু, হাঙ্গেরীয়, ও ইংরেজি ভাষায়-- To the memory of the victims shot into the Danube by Arrow Cross militia men in 1944 -45, erected 16 April 2005.আজও সেই সব হতভাগ্যদের উত্তরসুরীরা ফুল গুঁজে দিয়ে যান মৃত্যুঞ্জয়ী জুতোগুলির পেটে... জ্বালান মোমবাতি... আমাদের মতো উটকো ভ্রমনার্থীরা উদগত দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে ক্যামেরায় ক্লিক করেন...বিকেলের সূর্যের অস্তরাগ লালে লাল করে দেয় দানিয়ুবের বুক...যেমনটি হয়েছিল পঁচাত্তর বছর আগে...। এত জানে, তবু নদী কথা বলে না! ফ্যাসিবাদ মরে নি আজও ! Those who forget history, are condemned to repeat it!!ড. সুজন সরকার, বর্ধমান

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩
রাজ্য

বাঁকুড়ায় গাড়ি তাড়া করে এলোপাথাড়ি গুলি, মারাত্মক জখম বর্ধমানের তৃণমূল শ্রমিক নেতা

পাশের জেলার তৃণমূল নেতাকে গুলি। মঙ্গলবার দুপুরবেলা বাঁকুড়ায় রাস্তায় চলে গুলি। জানা গিয়েছে, এদিন বেলা দেড়টা নাগাদ একটি চার চাকা গাড়িতে চড়ে চালক সহ পাঁচ যুবক বাঁকুড়া দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক ধরে বাঁকুড়া থেকে দুর্গাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এই পাঁচজনই বাঁকুড়া জেলা আদালতে আইনি কাজে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি ধাওয়া করতে থাকে একটি বাইক। ওই বাইকে দুজন সওয়ারী ছিল বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। বাইক ধাওয়া করছে দেখা মাত্রই গতি বাড়ে চার চাকার। গাড়িটি বাঁকুড়া শহর লাগোয়া কেশিয়াকোল এলাকা ছেড়ে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছাকাছি আসতেই বাইকের পিছনে বসে থাকা যুবক দুহাতে দুটি বন্দুক নিয়ে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। গুলিতে গাড়িতেই জখম হন জিয়াবুল হক শেখ, নূর মহম্মদ শা ওরফে টগর এবং গোবিন্দ মণ্ডল নামে তিন যুবক। মাথায় গুলি লাগে নূরের। জখমদর ভর্তি করা হয় বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়াও তাদের সঙ্গে ছিল গলসির গোহগ্রামের সেখ রবিউল। গুরুতর জখম হন বাগাই।এর মধ্যে জিয়াবুলের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের দয়ালপুর গ্রামে। নূরের বাড়ি গলসির তেঁতুলমুড়ি গ্রামে। নুর গলসি ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের আইএনটিটিইউসির নেতা। গোবিন্দর বাড়ি বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি থানার পাবড়াডিহি গ্রামে। এদিকে গুলির আওয়াজে স্থানীয়রা চলে আসে। তাঁদের দেখেই দুস্কৃতীরা যে পথে এসেছিল সেই পথেই ফিরে যায়। পুলিশ বাঁকুড়া থেকে বেরোনোর সব রাস্তা ঘিরে ফেলে। তল্লাশি শুরু হয় বাঁকুড়া থেকে বেরোতে থাকা প্রতিটি বাস ও ছোট গাড়িতে। কেন তৃণমূল নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চলল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৩
কলকাতা

র‍্যাগিংয়ে মৃত ছাত্রের মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ মমতার, একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ছেলের অকাল মৃত্যুর শোক এখনও কাটেনি। দোষীদের সাজার দাবিতে সোচ্চার ছাত্রের বাবা মা। এরইমধ্যেই সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব়্যাগিংয়ে নিহত পড়ুয়ার মা, বাবা নবান্নে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। কথা বলতে বলতে এদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের মা। শান্তনা দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এরই মাঝে মৃতের মাকে তাঁর বাড়ির কাছে চাকরি এবং ভাইয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর তরফে মৃত ছাত্রের পরিবারকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, নিহতের স্মৃতিতে বগুলা গ্রামীণ হাসপাতালের নামকরণ করা হবে। ওই হাসপাতালেই বসানো হবে তার মূর্তি।গত ৯ আগস্ট রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের বারান্দা থেকে পড়ে দিয়ে স্নাতকস্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যু হয়। যা ঘিরে শোরগোল পড়ে য়ায়। ব়্যাগিংয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই নাবালক পড়ুয়ার। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্তে নেমে বর্তমান ও প্রাক্তনী মিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরই ১৩ জনকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তদের জেরায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের অনুমান, ব়্যায়গিংয়ের জেরেই ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে।ইউজিসি গাইডলাইন মেনে কেন যাদবপুরে সিসি ক্যামেরা নেই তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আতসকাচে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভমিকাও। স্টুডেন্টস অফ ডিন ও রেজিস্ট্রারকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে লালবাজার।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

শেষ ৩০ মিনিট ১০ জনে খেলেই ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন! বাগানিরা "সেই মাঠেই বদলা নিল"!

সবুজ মেরুন ব্রিগেড ডুরান্ডের গ্রুপ লিগে হারের মধুর বদলা নিলো ফাইনালে। চিরশত্রু ইস্টবেঙ্গলের কাছে লিগের ম্যাচে সাড়ে চার বছর অপরাজিত থেকে হারতে হয়েছিল মোহনবাগানকে। আজ রবিবাসরীয় ফাইনালের ডার্বিতে সেই লাল-হলুদকেই পরাজিত করে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হল সবুজ-মেরুন। এটি মোহনবাগানের ১৭ তম ডুরান্ড খেতাব। ইস্টবেঙ্গলকে টপকে মোহনবাগানই এই খেতাবের সর্বোচ্চ দাবিদার। এত দিন ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যৌথ ভাবে ১৬ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল মোহনবাগান। টিকেটের চূড়ান্ত অব্যবস্তা, টিকিটের হাহাকার, দীর্ঘদিন পর দুই প্রধান ফাইনালে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী সব মিলিয়ে রবিবারের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এক অস্ত্রবিহীন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।সাড়ে চার বছর ধরে টানা আটটি ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে লাল হলুদ ডুরান্ডের লিগ পর্বের ডার্বিতে জয়ের মুখ দেখে সমর্থকরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু সেই জয়ের রেশ কাটতে না কটতেই চিংড়ির কাছে পড়াজিত ইলিশ। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই যে ডার্বির মুকুট লাল হলুদের মাথায় গিয়েছিল তা আবার পাল তোলা নৌকা মশালর থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলো।ঠিক যেন রূপকথা, জয় মোহনবাগান 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/TNpEi1D1IJ Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) September 3, 2023খেলার ৬০ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখেন মোহনবানের অনিরুদ্ধ। লাল হলুদের বাম দিকের মাঝমাঠের প্লেয়ার যেখানে দাঁড়ায় ঠিক সেই জায়গায় ইস্টবেঙ্গালের সিভেরিয়ো একটি উচু বল হেডে ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন। ঠিক সে সময়-ই আচমকা বলের নাগাল পেতে অনিরুদ্ধ তাঁর ডান পা ওপরে তুললে সিভেরিয়োর মুখে লাগে। অনিচ্ছাকৃত ভুল হলেও ঐ ঘটনাতে মারাত্মক চোট পেতে পারতেন লাল হলুদ খেলোয়াড়। ফুটবলের নিয়মে এটি অমার্জনীয় অপরাধ। রেফারি অনিরুদ্ধকে হলুদ কার্ড দেখান, কিন্তু ওটি তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তখনো খেলার ৩০ মিনিট বাকি। ফলাফল গোলশূন্য, ম্যচের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে। বীনা মেঘে বজ্রপাত হয় বাগান শিবিরে, তখন বাগান গ্যালারীতে শ্মশানের নিস্তব্ধতা।মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র জয়সুচক গোলটি করেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরও ইস্টবেঙ্গল সেইভাবে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে ব্যার্থ হয়। ম্যাচের শেষ আধ ঘণ্টা সেই ভাবে বোঝাই গেলো না যে মোহনবাগান দশ জনে খেলছে। টানা আটটি ডার্বি জেতার পর হেরে গিয়ে আবার ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে যেটুকু সুতো ছেড়েছিল আবার গুটিয়ে নিলো মেরিনার্সরা।প্রথমার্ধে থেকেই দুদলের খেলাই উদ্দেশহীন লেগেছে। কোন আক্রমণ-ই সেইভাবে গোলমুখে দানা বাঁধলো না। দেখা গেলো না গোল লক্ষ করে জোরালো কোন শট। সৃজনশিলতা ও সৃষ্টিশীলতা যেমন ছিলো না তেমনই খেলায় প্রান প্রতিষ্টা করতে ব্যর্থ দুই দল-ই। দুই দলেরই দূর্বলতম জায়গা রক্ষণ। তাই যেকোনো আক্রমণ দেখেই মনে হচ্ছিল এই বুঝি গোল হয়ে গেলো। দুই দলই একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি।১৭তম ডুরান্ড জয় 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/REQZe95DAZ Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) September 3, 2023এইরকম হাইভোল্টেজ ম্যাচ গোল শুন্য থাকলে যা হওয়া উচিত তাই হচ্ছিল। দুই দলই বলের থেকে বেশী শরীরে ধাক্কা মারা পছন্দ করছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ ক্রমশ শারীরিক ফুটবলে পর্যবসিত হয়ে ওঠে। বুমোস, বোরহা, ক্রেসপো তিন তিন জন হলুদ কার্ড দেখে ফেলেন। ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলি, হাতাহাতির চুড়ান্ত পরিণতি অনিরুদ্ধ থাপা-র লাল কার্ড। তবে শেষ হাসি সবুজ-মেরুন-ই হাঁসে। দশ জনে হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মোহনবাগানের হয়ে জয়সূচক গোল করে যান পেত্রাতোস। অজি তারকার একক প্রচেষ্টার গোলেই শেষমেশ ডার্বি এবং ডুরান্ড জয় পায় বাগান।দশ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও মোহনবাগানকে আক্রমণের রাস্তা থেকে সরে আসতে দেননি কোচ ফেরান্দো। পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসাবে সেই সময় যেকোনও কোচই রক্ষণ বিভাগের খেলোয়াড় নামিয়ে খেলাটার গতি মন্থর করে দিতে চাইবে। বাগান কোচ ফেরান্দো তখন বুমোসের পরিবর্ত হিসাবে কামিংসকে নামান। অন্যদিকে লিস্টন কোলাসোকে নামান আশিক-কে তুলে নিয়ে। ফেরান্দো-র সেই সিদ্ধান্তগুলি কতটা সঠিক ছিলো তার প্রমান মিলে গেলো ১০ জন হবার ১০ মিনিট বাদেই।চিরকাল রেলায় আছে থাকবে মোহনবাগান 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/of6f1pSOq2 Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) September 3, 2023খেলার ৭০ মিনিটে গোল পাবার পর মোহনবাগান তাঁদেরকে নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে নেন। ১০ জনে খেলেও শেষমেশ ২০ মিনিট তাঁরা কোনও অঘটন ঘটাতে দেননি। লাল হলুদ খেলোয়াররা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও আসল কাজ করতে ব্যর্থ হয়। মোহনবাগানের রক্ষণ ভেদ করতে তাঁরা পারেননি। সেমিফাইনাল ম্যাচ জিতে মোহনবাগানিদের স্লোগান এই মাঠেই বদলা নেব শেষমেশ সত্যি হল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

রবিবারের মহারণে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, "এই মাঠেই বদলা নেব" স্লোগানে মেতেছে মেরিনার্স

১৯ বছর আগে ২০০৪-এ শেষ বারের মত ডুরান্ডের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল কোলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। দুরন্ত ভাবে টুর্নামেন্টে ফিরে আসা ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান রবিবারের ফাইনালের মহারণে মুখোমুখি। গ্রুপ পর্বে লাল-হলুদের কাছে হারের জ্বালা মেটাতে মরীয়া মেরিনার্সের নতুন স্লোগান এই মাঠেই বদলা নেব। সারা মাঠে বাগান সমর্থকদের হাতে এই স্লোগান লেখা প্লাকার্ড কিন্তু লাল-হলুদ শিবিরে শিহরণ তুলে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ফিনিক্স পাখির মতো জ্বলে ওঠা ইস্টবেঙ্গলের এখন রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘ। বহুদিনের ট্রফির ক্ষরা কাটাবার জন্য মরীয়া লাল-হলুদ শিবির ও।সল্টলেক স্টেডিয়ামে রবিবার আবার একটা ডার্বি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। প্রথম সেমিফাইনালের ইস্টবেঙ্গলের ধারা বজায় রেখে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মোহনবাগানও পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ জিতল। গোয়াকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ডুরান্ডের ফাইনালে উঠল তারা। উল্লেখ্য, প্রথম সেমিফাইনালে পাহাড়ি দল নর্থইস্টকে ট্রাইবেকারে পরাজিত করে ইতিমধ্যে ফাইনালে উঠে গেছে ইস্টবেঙ্গল।প্রথমঅর্ধের খেলার ১০ মিনিট সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি সবুজ-মেরুন কে। শুরু থেকেই খেলায় আধিপত্য ছিল গোয়ার। মাঝমাঠ থেকে ছোট ছোট পাস খেলে আক্রমণে উঠছিল তারা। খেলার শুরুতেই দুবার ইস্টবেঙ্গলের বক্সে ঢুকে পরেও গোল করতে ব্যার্থ হয় গোয়া। বারংবার আক্রমনের ফলে বেসামাল হতে থাকে বাগান রক্ষণ। ফলও পেয়ে যায় গোয়া হাতেনাতে। প্রথমার্ধের ২২ মিনিটের মাথায় নোয়া সাদাউই করা গোলে এগিয়ে যায় তারা। বাগান খেলোয়াড় হুগো বুমোসের মিস পাস ধরে সামনে অরক্ষিত যায়গা পেয়ে টানা দৌড়ে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান গোয়ার নোয়া সাদাউই। বাগানের দুই ডিফেন্ডার হেক্টর ইয়ুস্তে ও শুভাশিস বসু চোখে সেক্ষেত্রে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।খেলার গতির বিরুদ্ধে ৪২ মিনিটে মাথায় ম্যাচে ফিরে আসে মোহনবাগান। গোয়ার একটি গোলমুখী আক্রমণ প্রতিহত করে প্রতি আক্রমণ থেকে সাহাল আব্দুল সামাদ ডান দিক থেকে বক্সে ঢোকার মুখে তাঁকে অবৈধভাবে বাঁধা দেন গোয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। সামনেই ছিলেন রেফারি, পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করেননি। যদিও এই গোল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। টিভি রিপ্লেতে দেখে মনে হচ্ছিল গোয়ার ডিফেন্ডার বাশ দিয়েছেন বক্সের বাইরে। সেই একই দাবি গোয়ার ফুটবলারেরা ও অফিসিয়ালরা লাইন্সম্যান ও রেফারির কাছে করেন। কিন্তু রেফারি তাঁদের আবেদনে কর্নপাত করেননি। তিনি পেনাল্টির সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন। পেনাল্টি থেকে গোল করে কামিংস ম্যাচে সমতা ফেরান।দেখা হচ্ছে রবিবার! 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/F223NUyGti Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) August 31, 2023মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো দ্বিতীয়ার্ধে তাঁদের দলে একটি পরিবর্তন করেন। বুমোসকে তুলে নিয়ে তিনি পরিবর্ত হিসাবে আর্মান্দো সাদিকুকে নামান। এতে বাগানেরর আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পরিবর্তনের সাথে সাথে ফল মেলে, খেলায় প্রবলভাবে ফিরে আসে সবুজ ব্রিগেড। ক্রমশ দানা বাঁধতে তাঁদের আক্রমণ। ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় বাগান। সন্দেশ জিঙ্ঘনের বক্সের বাইরে মিস পাস করে বসেন, বল পেয়ে যান পরিবর্ত খেলোয়াড় সাদিকু। বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে জালে বল জড়িয়ে দেন।গোল খেয়ে আক্রমণের ঝাঁঝ ক্রমশ বাড়াতে থাকে গোয়া। গোলের সুযোগও তৈরি হলেও গোল করতে ব্যর্থ হয় গোয়া। ২-১ এগিয়ে থাকায় এগিয়ে যাওয়ায় ফেরান্দো কিছুটা রক্ষণাত্মক স্টেটেজিতে চলে যান। তিনি ব্রেন্ডন হামিলকে পরিবর্ত হিসাবে নামিয়ে রক্ষণভাগকে আরও আঁটসাঁটও করে দেন। গোয়া যেমন মরিয়া হয়ে গোল শোধ করে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছিল, বাগান তখন চিনের প্রাচীরের মত বজ্র আঁটুনি দিয়ে প্রতিহত করছিলো গোয়ার আক্রমণ। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের আশা, দীর্ঘদিনের ট্রফির ক্ষরা, গ্রুপ পর্বে জয়লাভ সব কিছু মাথায় রেখেও ইতিহাস কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ নিচ্ছে না। এর আগে কোলকাতার এই দুই প্রধান একই গ্রুপে খুব কমবারই ছিল। ১৯৯৩ এ দার্জিলিং গোল্ড কাপে একই গ্রুপে ছিল ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান। গ্রুপের খেলায় ইস্টবেঙ্গল ২-১ পরাজিত করে বাগানকে। ফাইনালে বদলা নেয় মোহনবাগান। ট্রাইব্রেকারে ম্যাচ জিতে নেয় ট্রফি ঘরে তোলে মোহনবাগান। ২০২৩ সালেও তাঁরা একই গ্রুপে! ১৯৩৩-র পুনরাবৃত্তি? না নতুন করে ইতিহাস রচনা? তাকিয়ে আছে খেলাপাগোল বাঙ্গালী।

আগস্ট ৩১, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

পিছিয়ে পরেও অনবদ্য 'কামব্যাক'! ডুরান্ড ফাইনালে লাল-হলুদ

ডুরান্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল। আবার এক মহারণের আসা জিইয়ে রেখে মোহনবাগানকে চ্যলেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো তারা। মঙ্গলবারের খেলাকে যদি এককথায় বর্ণিত করতে হয় তাহলে বলা ভালো হার না মানা হার। যতটাই ছন্নছাড়া ফুটবল তাঁরা খেলেছে ঠিক তটটাই অদম্য জেদ দেখা গেলো তাঁদের খেলায়।এ এক অন্য ইস্টবেঙ্গল। বিনা রণে না দিব সূচাগ্র মেদিনী। দু দুবার পিছিয়ে গিয়েও সেমিফাইনালের মত নকআউটের খেলায় এভাবে ফিরে এসে ম্যাচ জেতা যায়, তা যারা খেলা না দেখেছেন বিশ্বাস করানো যাবেনা। টানা খড়া চলছে ট্রফির, একটা সাফল্যের জন্য, জানপ্রান লড়িয়ে জয়ের জন্য ঝাঁপালেন সকলে। আজকের ম্যচে ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র পাওনা কার্লেস কুয়াদ্রাত। কুয়াদ্রাত-ই হয়ত বা এই নাছোড় মনোভাব করোনার মত ছড়িয়ে দিয়ে গেলেন দলের মধ্যে। টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে ইউনাইটেড কে হারিয়ে ডুরান্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল।এভাবেও ফিরে আসা যায়? একদম যায়! 👊We are the first finalists of #DurandCup 2023! ❤️💛#DurandCup #JoyEastBengal #EmamiEastBengal #NEUFCEEBFC pic.twitter.com/d0aoJZoyCi East Bengal FC (@eastbengal_fc) August 29, 2023তাঁদের রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ ও ফরোয়ার্ড-এর মধ্যে বোঝাপড়া এতটাই নড়বড়ে ছিল আজ যে, টানা তিন-চারটে পাস নিজেদের মধ্যে খেলতেই নাভিশ্বাস উঠেছে। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের কোনও কিছুই ঠিক যেন আজ ঠিক হচ্ছিল না। যার পরিণাম স্বরূপ দু দুটি গোল হজম করতে হল। ইস্টবেঙ্গলের অগোছালো খেলার সুযোগ নিয়ে সেই সময় বেশ ভাল ফুটবল খেলল নর্থইস্ট। বেশ কয়েকটি গোলের সুযোওগ তারা তৈরি করে।খেলার ২২ মিনিটের মাথায় প্রথম ধাক্কা দেয় নর্থইস্ট। বাঁ প্রান্তে বক্সের বাইরে থেকে বল নিয়ে ফাল্গুনী ডিপ করে ভিতরে ঢুকে এসে সামনে থাকা খেলোয়ারের উপর দিয়ে বক্সের ভিতরে হালকা করে বল ভাসিয়ে দেন লাল-হলুদ ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে হেডে গোলে বল জালে জড়িয়ে দেন করেন জাবাকো। ১-০ এগিয়ে যায় নর্থইস্ট ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের খেলা ১-০ পিছিয়ে মাঠ ছাড়েন লাল-হলুদ।দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু থেকেই তেরেফুঁড়ে খেলা শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। তাঁদের খেলায় দেখে অনেক সংগঠিত মনে হচ্ছিল। প্রথমার্ধের থেকে লাল-হলুদকে অনেল ভাল ফুটবল খেলতা দেখা যায়। যাখনিই মনে হচ্ছিলো ইস্টবেঙ্গল বুঝি সমতা ফেরাবে খেলায় ঠিক সেই সময়, খেলার ৫৬ মিনিটের মাঝমাঠ থেকে লম্বা থ্রু ধরে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ ভাগ কে দাঁড় করিয়ে রেখে এক অনবদ্য গোল করে ব্যবধান ২-০ করে দেন নর্থইস্টের ফাল্গুনী।𝙏𝙝𝙞𝙨 𝙬𝙞𝙣, 𝙩𝙝𝙞𝙨 𝙩𝙚𝙖𝙢... ❤️💛Our senior mens team has made it to the final of a top-flight #IndianFootball competition after 5️⃣ years! 👊#DurandCup #JoyEastBengal #EmamiEastBengal #NEUFCEEBFC pic.twitter.com/lEVuPFgDKP East Bengal FC (@eastbengal_fc) August 29, 2023২-০ পিছিয়ে পড়েও ইস্টবেঙ্গলের খেলার অগোছালো ভাব কিছুতেই কাটছিলো না। ভুল পাসে ভরা ম্যচ দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পরছিল দর্শকরা। ঠিক সেই রকম সময়েই ম্যাচের ৭৭ মিনিটের মাথায় আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় লাল-হলুদ। ইস্টবেঙ্গল খেলোয়াড় ক্লেইটন সিলভার ক্রস ধরে নাওরেমের গোল লক্ষ করে শট নেন, সেই শট নর্থইস্ট ডিফেন্ডার দীনেশ সিংহের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সজা গোলে। ব্যবধান কমতেই অন্য ইস্টবেঙ্গল দেখা মিলল। ক্রমশ চাপ বাড়াতে থাকে তাঁরা নর্থইস্ট অর্ধে। ক্লেইটন নামার পর আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। গোলের ব্যবধান কমে যাওয়ায় অনেকটা সেফ খেলার উদ্দশ্যে পাহাড়ি দল নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয়।সবাই যখন ধরে নিয়েছে ডুরান্ড ফাইনালে যাচ্ছে পাহাড়ি দল নর্থইস্ট ইউনাইটেড ঠিক তখনই চমক! অতিরিক্ত সময়ের ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে হেডে গোল করে কোলকাতা ডার্বির নায়ক নন্দকুমার সমতায় ফেরান লাল-হলুদকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ২-২ ফলে। খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। পেনাল্টিতে শুটআউটে ৫-৩ গোলে জয়লাভ করে ইস্টবেঙ্গল। টাইব্রেকারে ইস্টবেঙ্গলের নায়ক গোলরক্ষক প্রভসুখন। নর্থইস্টের তৃতীয় পেনাল্টি শট বাঁচিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে ফাইনালে তুললেন তিনি। ১৯ বছর আগে শেষবার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল লাল-হলুদ শিবির। ইতিহাসের কি পুনরাবৃত্তি হবে ২০২৩-এ? অপেক্ষায় লাল-হলুদ শিবির।

আগস্ট ২৯, ২০২৩
দেশ

মাসের শেষদিনে সাক্ষী থাকুন এক অভুতপূর্ব দৃশ্যর, দেখুন পূর্নিমার ‘নীল চাঁদ’

আগামী বৃস্পতিবার ৩১ অগস্ট পৃথিবীর আকাশ থেকে দেখা যাবে এক অভুতপূর্ব দৃশ্য! এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হবে পৃথিবীবাসি। ৩১ অগস্ট রাতের আকাশে নীল চাঁদ দেখার সৌভাগ্য হবে পৃথিবীবাসির। চন্দ্রালোকের মূর্ছনায় ভরে যাবে এই ধরাতল। হয়ত এরকমই কোনও এক জ্যোৎস্না রাতের অপুর্ব সুন্দর চাঁদের আলোয় মুগ্ধ হয়ে কবিগুরু গেয়ে উঠেছিলেন, চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে, উছলে পড়ে আলো। ও রজনীগন্ধা, তোমার গন্ধসুধা ঢালো॥ মহাজাগতিক নিয়মে অমাবস্যার ১৫ দিন পর পূর্নিমা তিথির আগমন হয়, সেক্ষেত্রে একই মাসে দুইবার পূর্নিমার মত বিরল ঘটনা খুব কমই দেখা যায়।শেষ এই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ২০১৮-র জানুয়ারি মাসে। ঠিক পাঁচ বছর পর ২০২৩ র অগস্টের ১ তারিখে দেখা গিয়েছিল সুপারমুন, ২৮শে আগস্ট দেখা যাবে নীল চাঁদ। যেকোনও পুর্নিমার রাতই মনোরম। চাঁদ, জ্যোৎস্না নিয়ে বাংলা গান ও কবিতা খুঁজতে বসলে রাত কাবার হয়ে যাবে। সাহিত্যপ্রেমীরা বলে থাকেন, চাঁদ বাংঙ্গালীর প্রেমের অবতার। যেকোনো পুর্নিমার চাঁদই জ্যোৎস্নায় পৃথিবীর আকাশ ভরিয়ে তোলে। একটি পুর্নিমার জন্য অপেক্ষা করতে হয় কমপক্ষে ৩০টি দিন। পুর্নিমাকে তো আর রোজ রোজ পাওয়া যায় না। এই অগস্টেই অপুর্ণ সাধ পুড়ন হতে যাচ্ছে,যদি না আকাশ মুখ ভার করে। জোড়া পূর্ণিমার মাসের শেষ দিনে আকাশ ভরা তারার মাঝে রানির মত বিচরণ করবে নীল চাঁদ।আগস্টে জোড়া পূর্ণিমা, আর এই দুটি পূর্ণিমাতেই সুপারমুন দেখা যাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, অগস্ট মাসের ১ লা দেখা গিয়েছিলো প্রথম সুপারমুনের। ভর সন্ধ্যায় পুব আকাশে মস্ত থালার মতো উজ্জ্বল চাঁদ উঠেছিল। মাসের শেষদিন ৩১ শেআবার সুপারমুন দর্শণ মিলবে। তবে এবারে পুর্নিমার রাতেদ আকাশে যে সুপারমুনের দেখা মিলবে তার রং হবে হালকা নীলাভ, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ব্লু মুন বলে অবিহিত করছেন।এর আগে লাল চাঁদ, গোলাপি চাঁদ, কমলা চাঁদের কথা শুনেছি বা দেখেছিও। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যখা, সূর্য রশ্মির প্রতিসরণে চাঁদের গায়ে যে রং পড়ে চাঁদ তারই প্রতিফলন পৃথিবীর ওপর পড়ে। বিভিন্ন সময় এই রঙের রকমফের হয়। লালচে আভা তৈরি করলেই ব্লাড মুন (Blood Moon) বলে। সাধারণত পূর্ণগ্রাস গ্রহণে লাল রশ্মির প্রতিসরণে চাঁদকে লালচে দেখায়। নীল চাঁদ কি সত্যিই নীল বর্ণের দেখতে হয়? পূর্ণিমার চাঁদের আকার সাধারণ দিনের থেকে বড় হয়, চাঁদের আকার দেখতে গোল থালার মতো। এর রঙ কোনভাবেই নীল নয়, পুর্নিমার চাঁদের রং দুগ্ধ সাদা ই বেশির ভার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। ব্লু মুন বা নীল চাঁদে এই নামের পিছনে অনেক গল্প চালু আছে। কেউ বলে থাকেন, ব্লু মুন হল হান্টার মুন, পুর্নিমার রাতে চাঁদের জ্যোৎস্নায় আগেকার দিনে রাতে শিকারিরা শিকার করতে বেরোতেন। তাই এমন নাম দেওয়া হয়েছিল। আবার অন্য অনেক ধারনাও প্রচলিত আছে। যে ধারনাই থাকুক না কেনো, বর্তমানে কোনও মাসে দুটি পূর্ণিমা পড়ে গেলে, দ্বিতীয়টিকে ব্লু মুন বলা হয়।

আগস্ট ২৮, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে মোহনবাগান, জিতেও রক্ষণ নিয়ে চিন্তা থেকেই গেলো বাগানের

ডুরান্ড সেমিফাইনালে মোহনবাগান। মুম্বাই সিটি এফসি কে হারিয়ে ডুরান্ডের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলো মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। সেমিফাইনালে তাঁরা ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। মোহনবাগানের হয়ে গোল করেন জেসন কামিন্স, মনবীর সিংহ ও আনোয়ার আলি। আগস্টের ৩১ শে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল ম্যাচে খেলবে মোহনবাগান। মুম্বাই সিটি এফসি হয়ে একমাত্র গোলটি করেন হর্হে দিয়াস।মুম্বাই সিটি এফসি প্রতি আক্রমনে বার বার ঝড় তুলে মোহনবাগানের রক্ষণ নিয়ে জোর প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে। মাঝমাঠ ও ফরোয়ার্ড নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা গেলেও, বাগানের রক্ষণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই গেলো। আনোয়ার আলি দলের শেষ গোলটি করলেও তাঁর ভুলে একটি গোল মোহনবাগান খেয়ে যেতেও পারত।Anwar Air Ali 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/epm7B6BrI3 Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) August 27, 2023মুম্বাই এফসি বরাবরই মোহনবাগানের কাছে একটা বড় গাঁট। সে জাতীয় লিগ হোক কি আইএসএল বা ডুরান্ড। রবিবার ডুরান্ড কোঃ ফাইনালে যুবভারতী স্টেডিয়ামে খেলার শুরুতেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান। খেলার সাত মিনিটের মাথাতেই পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। পেনাল্টি বক্সের ভিতরে কামিন্স মুম্বাই এফসি গোলকিপারকে টপকে গোলে বল ঠেলার মুহুর্তে মুম্বই এফসি গোলকিপার ফুর্বা লাচেনপা তাঁকে অবৈধ ভাবে বাধা দেন। সামনেই ছিলেন রেফারি, কোন বিলম্ব না করে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। পেনাল্টি থেকে মোহনবাগানের হয়ে তাঁর তৃতীয় গোলটি করেন অস্ট্রেলিয়ার স্ট্রাইকার কামিন্স।এগিয়ে যাওয়ার সেলিব্রেশন রেশ কাটতে না কাটতেই ২৮ মিনিটের মাথায় খেলায় সমতা ফেরাই মুম্বই। রক্ষণের ভুলে গোল খেয়ে বসে মোহনবাগান। বক্সের বাঁ দিকে নিজেদের ওয়ান টু ওয়ান পাস খেলে গ্রেগ স্টুয়ার্ট এবং অ্যালবার্ট নগুয়েরা, সেখান থেকে বল ধরে নগুয়েরা বক্সের মাঝামাঝি বল ভাসান। বাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথের বল ধরতে ঝাঁপালে তাঁর হাতে লেগে বল যায় মুম্বাই এফসি-র দিয়াসের কাছে। তিনি চেস্ট ট্রাপ করে বল জালে জড়িয়ে দেন। ফলাফল ১-১ হয়ে যায়।INTO THE SEMIS! 🔥💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/fMkhHX1wWX Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) August 27, 2023মুম্বাই এফসি ১-১ ফলাফল বেশীক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। আবার এগিয়ে যায় মোহনবাগান। কর্নার থেকে ভাসানো বল মুম্বইয় এসসি রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বিপন্মুক্ত করার চেষ্টা করলে বল চলে যায় বাগানের হুগো বুমোসের কাছে। তিনি সে বলে ধরে বক্সে ওপর ভাসিয়ে দেন অরক্ষিত অবস্থায় থাকা মনবীরকে। হেডে বল জালে পাঠাতে কোন ভুল করেননি হুগো। এগিয়ে গিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলে মোহনবাগান আক্রমণভাগ। প্রথমার্ধের শেষের দিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যার্থ হয় তাঁরা।দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ প্রতি-আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। দুই দলই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায়। মুম্বই এফসি খেলোরাররা মরিয়া হয়ে ওঠে গোল পরিশোধ করার জন্য। কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোল করে খেলায় সমতা ফেরাতে ব্যার্থ হয় তাঁরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ মিনিটে গোল করে আবার এগিয়ে যায় মোহনবাগান। এবার গোলদাতা আনোয়ার। মুম্বইয়ের ডিফেন্ডারকে ধোঁকা দিয়ে ডানদিকের দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন কেরলের ফুটবলার আশিক। বল গোললাইন পেরনোর আগেই ব্যাকপাস বাড়ান একেবারে অরক্ষিত যায়গায় থাকা আনোয়ারকে। নিখুঁত হেডে গোলকিপারকে কোনও সুযোগ না দিয়ে বল জালে পাঠাতে কোনও ভুল করেননি। আনোয়ার গোলটি করলেও এই গোলের ক্ষেত্রে পুর্ণ কৃতিত্ব আশিকের, তাঁর পাঠানো পাশে একেবারে ঠিকানা লেখা ছিলো বলে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মত।মুম্বাই এফসি গোলের ব্যবধান কমানোর মরিয়া চেষ্টা করলেও মোহনবাগানের গোলমুখ খুলতে তাঁরা সমর্থ হয়নি। তাঁদের মরিয়া প্রচেষ্টায় অনেক সময় মুম্বাইয়ের রক্ষণভাগ অরক্ষিত হয়ে উঠছিলো। মোহনবাগান প্রতি-আক্রমণে সাদিকু এবং মনবীর সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।

আগস্ট ২৭, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • ...
  • 60
  • 61
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ফলতায় ঐতিহাসিক 'ফল', মোদীর বার্তা— ‘গণতন্ত্র জিতেছে, ভয়-হুমকি পরাজিত’

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে আর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচন। বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার রেকর্ড ব্যবধানের জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন আলোড়ন। এক লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এই জয় শুধু একটি আসন দখলের সাফল্য নয়, বরং তা রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের উপর মানুষের সিলমোহর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।ফলাফল ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছাবার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, ফলতার মানুষ তাঁদের রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। গণতন্ত্রের জয় হয়েছে, ভয়ভীতি ও হুমকির রাজনীতি পরাজিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিপুল জয় পশ্চিমবঙ্গবাসীর বিজেপির প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন।এ বারের নির্বাচন ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল স্পষ্ট। রাজ্যে সদ্য গঠিত বিজেপি সরকারের আবহে ফলতায় গেরুয়া শিবিরের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে এত বিশাল ব্যবধান ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেককেই বিস্মিত করেছে। বিশেষ তাৎপর্যের বিষয়, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগেই কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেমে যায় চতুর্থ স্থানে, আর দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে সিপিএম।রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র দুসপ্তাহের মাথায় এই নির্বাচন হয়েছিল। গত ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই একাধিক জনমুখী প্রকল্প ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প চালু, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাত্রা, এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের মতো সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বার্তায় এই পদক্ষেপগুলির উল্লেখ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছে, তা সাধারণ মানুষের নজর এড়ায়নি। তাঁর কথায়, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গবাসী আমাদের উপর আরও একবার আস্থা রেখেছেন। আমরা আগামী দিনেও তাঁদের উন্নয়নের জন্য নিরন্তর কাজ করে যাব।ফলতার এই ফলাফল বিধানসভার অঙ্কে খুব বড় পরিবর্তন না আনলেও রাজনৈতিক তাৎপর্য যথেষ্ট। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে ২০৮ হয়েছে। তবে তার থেকেও বড় বার্তা হল সদ্য গঠিত বিজেপি সরকারের প্রতি জনসমর্থনের প্রাথমিক পরীক্ষায় গেরুয়া শিবির উতরে গেল স্বচ্ছন্দে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জয় স্পষ্ট করে দিল পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি ইউরোপ সফরে নেদারল্যান্ডসে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী যে আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন, তারই যেন বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল ফলতার ভোটবাক্সে।ফলতার রায় এখন শুধু একটি উপনির্বাচনের ফল নয়; তা পশ্চিমবঙ্গের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণের দিকনির্দেশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিজেপির দাবি, এ জয় পরিবর্তনের পথে রাজ্যের আরও এক ধাপ অগ্রগতি।

মে ২৪, ২০২৬
রাজ্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই মাঠের তালা খোলা! বর্ধমানে বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বহুদিন বন্ধ থাকা মোহনবাগান মাঠের তালা খোলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তির উঠেছে বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াই তিনি সাধারণের ব্যবহারের জন্য মাঠ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক মহল যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান মাঠটি সাধারণের জন্য বন্ধ ছিল। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পরিদর্শনে এসে মাঠটি তালাবন্ধ অবস্থায় দেখতে পান বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। এরপর তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মীদের তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠ খুলে দেওয়া হয় এবং স্থানীয়দের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিরোধীরা। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, বিধায়ক এখনও বুঝে উঠতে পারেননি কোন বিষয় তাঁর প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে আর কোনটা পড়ে না। তিনি ব্যঙ্গের সুরে বলেন, নতুন বই হাতে পাওয়া বাচ্চারা যেমন আগ্রহ নিয়ে পাতা উল্টে দেখে, ঠিক তেমনই নতুন বিধায়ক গলায় মালা পরে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে প্রতিদিন ছুটে বেড়াচ্ছেন।যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেছেন বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, এত বড় একটি মাঠ বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, এই মাঠ এলাকার মানুষের সম্পদ। শিশু থেকে প্রবীণ সকলে এখানে এসে খেলাধুলা করতে পারবেন, হাঁটাচলা করতে পারবেন। মানুষের স্বার্থেই মাঠ খুলে দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর কুমার নাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠ খোলার বিষয়ে তাঁকে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়েই মাঠ খুলে দেওয়া হয়েছে, যা সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এই মাঠে সকাল-বিকেল স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ চলে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীরাও এখানে নিয়মিত অনুশীলন করেন। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষক এক অধ্যাপক বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অধিকার ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার সীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ করে কি না এবং বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।

মে ২৪, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষমতা হারিয়ে রক্তক্ষরণে তৃণমূল, ‘একলা চলার’ কঠিন পরীক্ষায় মমতা

রাজনীতিতে পালাবদল ঘটেই থাকে। কেন্দ্রে বা রাজ্যে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে কোনো কোনো সময় অপ্রতিরোধ্য দেখায়। মনে হয় শাসন ক্ষমতায় থাকাটাই সেই রাজনৈতিক দলের কুক্ষিগত। কিন্তু, সময় বদলায়। ঐতিহাসিক নিয়মেই অতি ক্ষমতাধর শক্তিকেও ক্ষমতা থেকে সরতে হয়। দেশ, কাল ভেদের এই পরিবর্তনের বহু নিদর্শন ইতিহাসে রয়েছে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গ। স্বাধীনতার পর থেকে এই রাজ্যে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকেছিল কংগ্রেস। তারপর কংগ্রেস কে সরিয়ে ক্ষমতায় বসে বামফ্রন্ট। দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসন ক্ষমতায় ছিল সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন সরকার। অনেকেই ভাবতেন বাম শাসনের বোধহয় অবসান হবেনা। তা হয়নি। দীর্ঘ বাম শাসনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মসনদে বসে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসন ক্ষমতায় থাকাকালীন যে দলকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয় ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরে তাদের রক্তক্ষরণ শুরু হয়।এই পরিস্থিতি থেকেই শুরু হয় দল বদলের পালা। দেশ জুড়ে নেতা নেত্রীর ক্ষমতা হারানো দল থেকে ক্ষমতাসীন দলে যাওয়া অতি সাধারণ ঘটনা। মানুষ ও এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছে। তবে, এখান থেকে বিজয়ী দলের ও সমস্যা শুরু হয়। নেতা নেত্রীদের দল বদলের থেকে অতি দ্রুত এই যাওয়ার পালা শুরু হয় পরাজিত দলের নিচু স্তরের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। বাম আমলেও এই ঘটনা শুরু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্য জুড়ে সিপিএম এর ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকার লোভ, অর্থের লোভ ও সন্ত্রাস মূলত এই তিনটি কারণে সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসার পালা শুরু হয়। এর ফলে যারা দীর্ঘদিন তৃণমূলে ছিলেন তাদের সঙ্গে দল বদলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।সেই সময় তৃণমূলের মধ্যে সেই দ্বন্দ্ব এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছিল। যার প্রতিফলন হয়েছিল Red TMC বনাম Green TMC দ্বন্দ্বে। তৃণমূলের ১৫ বছর পরে ক্ষমতা থেকে সরায় নিচের তলার এই চলন শুরু হয়েছে। রাতারাতি, রাজ্যের আনাচে কানাচে বিজেপির পতাকা হাতে বহু জনকে দেখা যাচ্ছে যাদের এতদিন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গেই দেখা যেত। রাজ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিতে বার বার দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ও জানে দলের কোনো মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো ছিল না। ক্ষমতায় থাকার কারণে বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা ছিল। এই সুযোগে, সুবিধা পাওয়ার বন্দোবস্ত তৃণমূলকে একটা সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির সুবিধা দিয়েছিল।এখন ক্ষমতার বৃত্তে না থাকার কারণে দলের চেহারা ক্রমশ শীর্ণকায় হবে। এই কারণেই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইতে নামার জন্য বাম, কংগ্রেস ও আই এস এফ কে সঙ্গে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও, তিনি ভালোই জানেন যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল এই তিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে কী ব্যবহার করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ রাজ্যে ছিল না। সবটাই ছিল পেশীশক্তির ভিত্তিতে। কংগ্রেস ও বামেরা পাঁচ বছর বিধানসভার বাইরে ছিল। এই নির্বাচনে তাদের যেটুকু সাফল্য এসেছে তা তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই এসেছে। এখন তারা যদি তৃণমূলের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠবে।INDIA ব্লক টিঁকিয়ে রাখার জন্য কংগ্রেস এই রাজ্যে তৃণমূলের সুরে বিজেপি বিরোধীতা করলেও সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে আন্দোলনে নামবে না বলেই মনে হয়। অন্যদিকে, আই এস এফ বা বাম দলগুলি তো প্রকাশ্যেই তৃণমূল নেত্রী কে এই আহ্বানের জন্য রাজনৈতিক ভাবে বিঁধতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে মনে হয় ভালো, মন্দ যাই হোক তৃণমূল কে তা মেনে নিয়ে একলাই চলতে হবে। একলা পথ চলার কথাই নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় বলেছেন মমতা। এখন অন্যদের দিকে হাত বাড়ালেও তাঁকে একলাই চলতে হবে।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হিলারির পর এবার মার্কো রুবিও! হঠাৎ কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, বাড়ছে জল্পনা

প্রায় ১৪ বছর পর আবার কলকাতায় এলেন মার্কিন বিদেশসচিব। হিলারি ক্লিনটনের পর এবার শহরে পা রাখলেন মার্কো রুবিও। শনিবার সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। তারপর সোজা যান তালতলার মাদার হাউজে। সেখানে প্রায় দুঘণ্টা কাটানোর পর চিলড্রেনস হোমেও যান তাঁরা। এরপর তাঁর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে দেখার কথাও রয়েছে। কলকাতা সফর শেষ করে দুপুরেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন মার্কো রুবিও। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সমাজমাধ্যমে রুবিওর কলকাতা সফরের কথা জানান। তিনি লেখেন, মার্কিন বিদেশসচিবের এটি প্রথম ভারত সফর। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং কোয়াড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, শুধু কলকাতা ও দিল্লি নয়, আগ্রা এবং জয়পুরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে সরকার বদলের পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপি প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক বার্তা দিয়েছেন। দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে শিল্প বিনিয়োগ টানার কথাও বলেছেন তিনি।অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বারবার বিদেশি বিনিয়োগের উপর জোর দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিবের কলকাতা সফরকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অনেকের মতে, শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা হতে পারে।এছাড়াও সম্প্রতি লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটিতে চিনের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই আবহে মার্কিন বিদেশসচিবের ভারত সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিকেও নজর রয়েছে। অনেকের মতে, চিনকে কড়া বার্তা দিতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।সব মিলিয়ে মার্কো রুবিওর কলকাতা সফর যে শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, তার পিছনে বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৩, ২০২৬
দেশ

সীমান্তে বড় বদল! ড্রোন-ক্যামেরায় নজরদারি, ‘স্মার্ট বর্ডার’ নিয়ে বড় ঘোষণা অমিত শাহের

অনুপ্রবেশ রুখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে স্মার্ট বর্ডার তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিএসএফের বার্ষিক রুস্তমজি মেমোরিয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।অমিত শাহ বলেন, প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তে শুধুমাত্র জওয়ান মোতায়েন করে নজরদারি চালানো অত্যন্ত কঠিন। তাই এবার সীমান্ত পাহারায় ব্যবহার করা হবে আধুনিক প্রযুক্তি। সীমান্ত এলাকায় থাকবে ড্রোন, হাই রেজলিউশন ক্যামেরা এবং একাধিক আধুনিক নজরদারি যন্ত্র। পাশাপাশি বিএসএফ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান আরও শক্তিশালী করতে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, স্মার্ট বর্ডার তৈরি হলে সীমান্ত আরও দুর্ভেদ্য হয়ে উঠবে। অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস বদলের যে চেষ্টা চলছে, তাতেও অনেকটাই লাগাম টানা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং অসম সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের নীতিকে সমর্থন করেছে। প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও দাবি করেন শাহ।বাংলায় সরকার বদলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন কাঁটাতার বসানো নিয়ে জমি সমস্যার কারণে কাজ আটকে ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এরপর সম্প্রতি বাংলায় পুশব্যাক আইন কার্যকর করার ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এবার থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পুলিশ। পরে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তাঁদের বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।এই ঘোষণার পর মতুয়া সমাজের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিএএ-র আওতায় থাকা কোনও হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করা হবে না। বরং নিয়ম মেনে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।এর মধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকও করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরই শাহের স্মার্ট বর্ডার ঘোষণা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে ভাঙা হল যুবভারতীর বিতর্কিত মূর্তি! নিশীথের নির্দেশে সকালেই বড় পদক্ষেপ

অবশেষে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সামনে থাকা বিতর্কিত মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হল। শনিবার সকালে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নির্দেশ মেনে সেই কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই মূর্তি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্ক চলছিল। রাজ্যে সরকার বদলের পর সেই বিতর্কিত মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার।২০১৭ সালে সল্টলেকে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সংস্কারের সময় এই মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল। মূর্তিটিতে কোমর পর্যন্ত একটি শরীরের অংশ ছিল, তার উপরে বসানো হয়েছিল বিশ্ববাংলার প্রতীক। নীচে ফুটবলের উপর লেখা ছিল জয়ী। সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই মূর্তির নকশা তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে শুরু থেকেই এই মূর্তির অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বহু ফুটবলপ্রেমী। অনেকেই এটিকে অদ্ভুত ও অর্থহীন বলে সমালোচনা করেছিলেন।গত ১৭ মে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের ডার্বি ম্যাচ দেখতে যুবভারতীতে গিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মূর্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। নিশীথ বলেন, এরকম বিদঘুটে মূর্তি কেন বানানো হয়েছিল বুঝতে পারি না। আমার মনে হয় এই মূর্তি বসানোর পর থেকেই আগের সরকারের খারাপ সময় শুরু হয়েছিল। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মূর্তিটি সরিয়ে ফেলা হবে।ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়ে গেল। শনিবার সকালে মূর্তিটি ভেঙে ফেলার পর এখন সেখানে শুধু দুটি বুট এবং একটি ফুটবল দেখা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ওই জায়গায় কোনও বিখ্যাত ফুটবলারের মূর্তি বসানো হতে পারে। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।ডার্বির রাতেই নিশীথ জানিয়েছিলেন, এমন একটি মূর্তি বসানো হবে যা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অর্থপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণাদায়ক হবে। সেই কারণেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা শুরু করেছে ক্রীড়া দপ্তর।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

দেবরাজ ঘনিষ্ট তৃণমূল কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যু! ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য, সামনে এল ভয়ংকর অভিযোগ

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল স্বাস্থ্য সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।সঞ্জয় দাস রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান অদিতি মুন্সিও। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।এর মধ্যেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, সঞ্জয় দাসকে কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিচ্ছিল। এমনকি তাঁর কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। কিরণের দাবি, যারা এই চাপ দিচ্ছিল তারা আগে তৃণমূল করলেও এখন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত।তিনি বলেন, সঞ্জয় দাস নাকি ওই ব্যক্তিদের বলেছিলেন, এখন ১০ হাজার টাকা নিতে, পরে বাকি টাকা দেবেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। কিরণ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, সেই চাপই শেষ পর্যন্ত সঞ্জয়কে ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই সমর্থন করবে না। তবে যারা হুমকি দিয়েছিল, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিধাননগর পুরনিগমের একাধিক কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার। একদিন আগেই গ্রেফতার হয়েছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল পার্থ বর্মাও।এই পরিস্থিতির মধ্যেই সঞ্জয় দাসের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

চাকরিতে বড় বদল! পরীক্ষার্থীদের হাতে থাকবে ওএমআর কপি, দুর্নীতিতে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

রাজ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অতীতে শিক্ষা ও পুর নিয়োগে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্ত মামলার তদন্ত এখনও চলছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় এসেই স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার শিয়ালদহে রোজগার মেলায় যোগ দিয়ে নিয়োগ পদ্ধতিতে একাধিক বদলের কথা ঘোষণা করেন তিনি।বক্তব্যের শুরুতেই পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে বহু বদনাম হয়েছে। শিক্ষা থেকে পুর নিয়োগ একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এমনকি ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরিও বাতিল হয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দু জানান, এতদিন ওএমআর শিটে পরীক্ষা হলেও পরীক্ষার্থীদের সেই কার্বন কপি জমা দিয়ে দিতে হত। ফলে পরে নিজেদের উত্তর যাচাই করার সুযোগ থাকত না। এবার থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ওএমআর কপির কার্বন বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন বলে ঘোষণা করেন তিনি। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।এছাড়াও ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর কমানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মৌখিক পরীক্ষায় দুর্নীতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই সেই অংশে নম্বর কম রাখা হবে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে আর নিয়োগ হবে না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এদিনের রোজগার মেলায় ৫০ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী অংশ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, এতদিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্তরের বহু পরীক্ষাও ঠিকমতো হতে দেওয়া হত না। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আদর্শকে সামনে রেখেই এবার কেন্দ্রীয় সরকারের ধাঁচে রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হবে। নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

মে ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal