• ১৮ কার্তিক ১৪৩৩, শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Trinamool

রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ফ্রিজ মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, হাতছাড়া হতে চলেছে মমতার সাধের প্রতীক?

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও জোড়া ফুল প্রতীক ফ্রিজ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা মামলায় বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তৃণমূলের ভেতরে চলা উপদলীয় কোন্দলের জেরে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিজেদের লিখিত বক্তব্য পেশ করতে হবে এবং তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে কমিশনকে।দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এই সংক্রান্ত আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ জানায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা বজায় রাখতে দ্রুত এই বিরোধের সমাধান হওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, দলীয় কোন্দলের জের ধরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী জোড়া ফুল (Flowers Grass) প্রতীক ফ্রিজ বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। দুই বিরোধী গোষ্ঠীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, বিতর্ক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিকল্প নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণার ঠিক ১০ দিন পর কমিশনের এই সিদ্ধান্ত আসে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন দুই পৃথক গোষ্ঠীই নিজেদের প্রার্থী মনোনীত করেছিল।কমিশনের ওই নির্দেশিকায় বর্তমানে বিকল্প প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে দুই শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ফুটবলার প্রতীক নিয়ে এবং অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির নির্বাচন লড়ছে খাম (Envelope) প্রতীক নিয়ে। তবে দলের আসল মালিকানা ও নাম-প্রতীক কার দখলে যাবে, আগামী ৩ মাসের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে দেশের রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

ভয়ঙ্কর কাণ্ড! ঋতব্রত সহ ১০ বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজ? ৮ অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফয়সালা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে ১০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল (tmc)বিধায়কের বিধায়কপদ বাতিল সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন বসু। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের (supreme Court of India)বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আদালত আশা করছে স্পিকার শীর্ষ আদালতের বেঁধে দেওয়া তিন মাসের সময়সীমা যথাযথভাবে মেনে চলবেন। তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি গ্রহণ করে সর্বোচ্চ আদালত জানায়, নির্ধারিত সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে স্পিকার এই বিষয়ে আদালতের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলেই বিশ্বাস বলেই পর্যবেক্ষণ ডিভিশন বেঞ্চের।ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে কেন্দ্র করে। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মোট ১০ জন বিধায়ক দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে পৃথক অবস্থান গ্রহণ করলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে স্পিকারের কাছে তাদের বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদন জানান। দীর্ঘ দিন সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শুনানির সময় তাঁর হয়ে আইনজীবী কপিল সিবাল জানান, গত ৮ জুলাই আবেদন জমা পড়েছিল এবং সেই অনুযায়ী আগামী ৮ অক্টোবর তিন মাসের সময়সীমা পূর্ণ হচ্ছে। আদালত সব দিক পর্যালোচনা করে জানায় যে, স্পিকার আদালতের পূর্ব নির্ধারিত নীতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং তিনি সময়সীমার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন এমনটা প্রত্যাশিত। এর পর শীর্ষ আদালত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়।বর্তমানে বিধায়কদের বিধায়কপদ বাতিলের আবেদনের পাশাপাশি বিধানসভায় তাঁদের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা তুঙ্গে উঠেছে। ইতিপূর্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জমা পড়েছিল। পাশাপাশি, লোকসভাতেও তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সাংসদপদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যদিও সেখানে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ধার্য করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে বিধানসভার স্পিকার রথীন বসু কী অবস্থান নেন এবং বিক্ষুব্ধ ১০ বিধায়কের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন গভীর নজর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও বিরাট নাটক! ভোটে না লড়ার ঘোষণার পর তড়িঘড়ি কেন অবস্থান বদল মমতা ঘনিষ্ঠ রবিউল আলমের?

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও কি প্রার্থীহীন হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির? শনিবার সকাল থেকে এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয় জল্পনা। প্রথমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল করলেন রেজিনগরে মমতা গোষ্ঠীর তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানান, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচনী প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।রবিউলের কথায়, নতুন নির্বাচনী প্রতীক অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমার সিদ্ধান্তের কথা নেত্রীকে জানিয়েছি। কর্মীদের মাঠে-ময়দানে নামানো যাচ্ছে না। সিম্বল একটা বড় ফ্যাক্টর।বেলডাঙা থানায় যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদলতবে বেলা বাড়তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। রবিউল জানান, একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এরপর তিনি বেলডাঙা থানায় যান। সেখানে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর ফের নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।রবিউলের বক্তব্য, পাশে মাত্র ১০ জন কর্মী থাকলেও তিনি ভোটের লড়াই চালিয়ে যাবেন। নির্বাচনী প্রচারেও নামবেন বলে জানিয়েছেন রেজিনগরের এই প্রার্থী। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে রেজিনগরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি।নন্দীগ্রামে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহার, গ্রেফতার মিলন প্রধানএর আগে শুক্রবার নন্দীগ্রামে মমতা গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। পরে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপরই ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার হন মিলন প্রধান। তাঁর গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।নতুন নাম ও প্রতীক ঘিরে বদলেছে সমীকরণতৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রতীক অল্প সময়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সমস্যা নিয়ে রবিউলের মন্তব্যও সেই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন রবিউল আলম চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে থাকেন কি না, এবং প্রচারে দলের কর্মীরা কতটা সক্রিয় হন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উপনির্বাচনের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের, ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠীকেউই আসন্ন উপনির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা দলের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে প্রতীক সংক্রান্ত নির্দেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিবেচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক পরিচয় এবং আলাদা নির্বাচনী প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীকেই তিনটি করে পছন্দের দলের নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের বিকল্প জানাতে বলা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে সেই তালিকা জমা দিতে হবে। এরপর কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে দলীয় নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে।ততদিন পর্যন্ত উপনির্বাচনে কোনও গোষ্ঠীই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে বড় চমক মমতার, আসন্ন উপনির্বাচনে ২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা তৃণমূলের

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দলের তরফে জানানো হয়েছে, নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন সঞ্চিতা প্রধান (দে)। পাশাপাশি, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রাবিউল আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জল্পনার অবসান হল।দলের এই ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন শনিবারই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তারা ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে না। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তরফে মমতাকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে বিধানসভায় ফেরার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।১৫ বছর পর বিধানসভার বাইরে মমতা?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন মমতা। ২০১৬ সালে ফের ভবানীপুর থেকে জয় পান তিনি। ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর উপনির্বাচনে জিতে আবারও বিধানসভায় জায়গা করে নেন। তৃণমূল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করায় এবার দীর্ঘ ১৫ বছর পর তাঁকে বিধানসভার বাইরে থাকতে হতে পারে।কেন নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরদুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম থেকে ইস্তফা দেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। ভোটের গণনা ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর।তৃণমূলে গোষ্ঠীকোন্দল অব্যাহতপ্রার্থী ঘোষণার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদ আরও জটিল হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীদুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। উভয় শিবিরই দলের নিয়ন্ত্রণ, নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের স্বীকৃতি দাবি করেছে।১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বক্তব্য শোনে নির্বাচন কমিশন। বিদ্রোহী শিবিরের কাছে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমার আগে দলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হয়নি।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
কলকাতা

'জনতার দরবারে' অভিযোগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ ৩

জনতার দরবারে প্রোমোটারের অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে দমদমের প্রাক্তন উপপুরপ্রধান বরুণ নট্টকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকেও পাকড়াও করা হয়েছে।দমদমে তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। পুলিশের জালে দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বরুণ নট্ট। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে নয়নাশিস দাস ওরফে জনি এবং সুমন্ত ঘোষ ওরফে লাল্টুকে। ধৃত নয়নাশিস দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পর্ণা দাসের ছেলে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দমদম থানায় প্রোমোটার সুজয় মজুমদার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তোলাবাজি ও প্রতারণার কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর রাতেই বরুণ নট্ট, নয়নাশিস এবং সুমন্তকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার তিন জনকেই ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।তদন্তকারীদের মূল নজর এখন কয়েকটি প্রশ্নেঅভিযোগে যে তোলাবাজির কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে বরুণ নট্ট এবং তাঁর দুই ঘনিষ্ঠের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে সেই টাকা কীভাবে ও কার মাধ্যমে আদানপ্রদান হয়েছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হয়ে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন প্রোমোটার সুজয় মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর মাত্র দুদিনের মধ্যেই প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ তিন জনের গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, অভিযুক্তদের ভূমিকা ঠিক কতটা এবং আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি নাসবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।শুক্রবার আদালতে ধৃতদের পেশ করার পর পুলিশি হেফাজত পাওয়া যায় কি না এবং তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূলের সঙ্গে 'মধু চন্দ্রিমা' শেষ, দলের সব পদে ইস্তফা, এবার কি ঋত-ববির পথে?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার পারদ চড়ালেন প্রবীণ নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি-সহ দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। শনিবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা একটি চিঠিতে নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান চন্দ্রিমা।সূত্রের খবর, গত ৩ জুন তাঁকে যে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই পদ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার বিভিন্ন শাখা সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সিগনেটরি হিসেবে যে দায়িত্বে ছিলেন, সেখান থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।ইস্তফাপত্রে কারণের উল্লেখ নেইচন্দ্রিমার ইস্তফাপত্রে পদত্যাগের কোনও নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি কেবল কোন কোন সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়ছেন, সেই তালিকাই তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক মহলে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছেচিঠিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন হিসেবে উল্লেখ করেননি, যা অনেকের নজর কেড়েছে।জল্পনা বাড়াচ্ছে পুত্রের রাজনৈতিক অবস্থানইতিমধ্যেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পুত্র সৌরভ বসু তথাকথিত ঋতব্রতপন্থী নব্য তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে চন্দ্রিমার এই পদত্যাগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেতিনিও কি একই রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন?যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা থাকলেও, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।বদলে যাচ্ছে তৃণমূলের সাংগঠনিক সমীকরণ?সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ নিয়েও জোর চর্চা চলছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বাইপাস সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে নতুন ব্যানার টাঙানো হয়েছে, যেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে অরূপ রায়ের নাম রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি না থাকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়াও ওই কার্যালয়ে ঋতব্রত, সন্দীপন, ফিরহাদ হাকিম ও জাভেদ খানের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।নজরে রাজনৈতিক মহলচন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগ নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে তিনি ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক অবস্থান নেবেন বা কোনও নতুন শিবিরে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে রাজনৈতিক জল্পনা যতই তুঙ্গে উঠুক, পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

জুলাই ০৪, ২০২৬
রাজ্য

২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় গ্রেফতার আউশগ্রাম-২ তৃণমূল সভাপতি ও ছেলে, আদালতে মিলল শর্তসাপেক্ষ জামিন

পাঁচ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় নতুন মোড়। বিজেপি কর্মীর বাড়ি, দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শেখ আব্দুল লালন এবং তাঁর পুত্র শেখ আফজল রহমান ওরফে সঞ্জুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালত তাঁদের শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করায় আইনি মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর রাতে কলকাতার গড়ফা থানা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করে আউশগ্রাম থানার অধীন ছোড়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এলাকা ছেড়ে কলকাতায় আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁদের বাড়ি আউশগ্রাম থানার গেঁড়াই গ্রামে।এই মামলার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ১৯ মে, যখন আউশগ্রাম থানার ভুঁয়েড়া গ্রামের এক বিজেপি কর্মী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালের ৩ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ শেখ আব্দুল লালনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি লাঠি, রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়। পরিবারের মহিলারা বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।শুধু বাড়িই নয়, অভিযোগকারীর বাড়ির পাশেই থাকা কাপড়ের দোকানেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় সাত লক্ষ টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর প্রাণভয়ে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হন অভিযোগকারী। তাঁর আরও দাবি, পরবর্তী সময়েও অভিযুক্তরা এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ বজায় রেখেছিল এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই গত ২৫ মে একই মামলায় ভুঁয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা গৌতম আঁকুড়ে নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শেখ আব্দুল লালনের বিরুদ্ধে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে আউশগ্রাম থানায় মোট পাঁচটি পৃথক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। গ্রেফতারের আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর ছেলে পূর্ব বর্ধমান জেলা ও দায়রা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক অভিযোগের গুরুত্ব, ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুট এবং এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে সেই আবেদন খারিজ করে দেন।শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমানের মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারকের (সিজেএম) আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায় তদন্তকারী সংস্থা। অন্যদিকে, ধৃতদের আইনজীবী দাবি করেন, গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং পূর্বে কোনও নোটিসও দেওয়া হয়নি। সেই যুক্তিতে জামিনের আবেদন করা হয়।উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পুলিশি হেফাজতের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা, সাক্ষীদের প্রভাবিত না করা এবং মামলার প্রমাণ নষ্ট না করার শর্তে শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর পুত্রকে জামিন মঞ্জুর করা হয়।এদিকে, একই দিনে আউশগ্রামের আরও একটি মামলায় শেখ আব্দুল লালনকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তদন্তকারী অফিসার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলার সম্পূর্ণ নথিপত্র আদালতে উপস্থিত না থাকায় ভারপ্রাপ্ত সিজেএম আবেদনটি গ্রহণ না করে নিয়মিত আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। ফলে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো সম্ভব হয়নি এবং জামিনে মুক্তি পান তিনি।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের গুরুতর অপরাধের অভিযোগে বহু ক্ষেত্রে সিজেএম আদালত পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে। তাছাড়া জেলা আদালত ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশি হেফাজতের আবেদন নাকচ করে জামিন মঞ্জুর হওয়ায় বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।যদিও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং অভিযুক্তদের নির্ধারিত সমস্ত শর্ত মেনে চলতে হবে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বিদ্রোহের ঝড়ে বিপর্যস্ত তৃণমূল, অভিজ্ঞদের হাতে সাংগঠনিক হাল! জেলা কমিটিতে বড় রদবদল মমতার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধাক্কার মুখে পড়ার পর সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের ভিতরে অসন্তোষ, বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব সংকট ক্রমশ প্রকট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় ব্যাপক রদবদল করে নতুন জেলা সভাপতি ও চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।দলের বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসন তৃণমূলের দখলে রয়েছে। কিন্তু সেই বিধায়কদলেরও বড় অংশ বর্তমানে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সূত্রের দাবি, প্রায় ৬৫ জন বিধায়ক এখন তথাকথিত ভালো তৃণমূল শিবিরে সক্রিয়। লোকসভাতেও দলের সাংগঠনিক শক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনাই এখন নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ, একাধিক জেলায় নতুন মুখনতুন সাংগঠনিক তালিকায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন কুনাল ঘোষ। তাঁকে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্বের পাশে থেকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পুরস্কার হিসেবেই এই দায়িত্বকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদে আনা হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-কে। এতদিন এই দায়িত্ব সামলাতেন দেবাশিস কুমার।শ্রীরামপুর-হুগলি সাংগঠনিক জেলায় ফের আস্থা রাখা হয়েছে প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদার-র উপর। গত নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করে দেবাংশু ভট্টাচার্য-কে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন অসিত। তবে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। দেবাংশুর সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব বাড়ার আবহে আবারও অভিজ্ঞ অসিতের হাতেই সাংগঠনিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।বিদ্রোহীদের সরিয়ে বিশ্বস্তদের গুরুত্বদলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে একাধিক জেলার দায়িত্ব বণ্টনে। ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নাম জড়ানো পার্থ ভৌমিক-এর পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অমিত গুপ্ত-কে।হাওড়া সদর জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও সরানো হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী Arup Roy-কে। বর্তমানে তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।এছাড়াও পূর্ব বর্ধমান জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়-কে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি হয়েছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে গৌতম দেব-কে।অভিজ্ঞ নেতৃত্বেই ভরসারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সংকটকালে নতুন মুখের পরিবর্তে অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের সংগঠকদের উপরেই ভরসা রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের ভিতরে অসন্তোষ সামাল দেওয়া, বিদ্রোহীদের প্রভাব কমানো এবং কর্মীদের আবার সংগঠনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের পর যে হতাশা কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করা এখন তাঁদের প্রধান কাজ। একই সঙ্গে বিদ্রোহী শিবিরে চলে যাওয়া নেতা-কর্মীদের মোকাবিলা করে জেলা স্তরে দলের অস্তিত্ব মজবুত করাও বড় পরীক্ষার বিষয়।বিতর্কের কেন্দ্রে দলের ঠিকানাওরাজনৈতিক মহলে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যে ঠিকানা থেকে নতুন সাংগঠনিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেই দলীয় কার্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, ওই ভবনের মালিক মন্টু সাহা ইতিমধ্যেই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ফলে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি দলীয় পরিকাঠামো নিয়েও নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে তৃণমূল।সংগঠনের এই বড়সড় রদবদল আদৌ তৃণমূলকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাতে পারে কি না, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

জুন ১৭, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূলে ধষ! ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবিতে ৫০ বিধায়কের নতুন উদ্যোগ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একের পর এক সাংগঠনিক টানাপোড়েনের খবর সামনে আসছে। কোথাও পুরবোর্ডে ভাঙন, কোথাও আবার জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগসব মিলিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে একদল বিধায়কের সম্ভাব্য পদক্ষেপ।সূত্রের দাবি, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি তালিকা জমা দিতে পারেন। তাঁদের দাবি, তাঁরাই দলের প্রকৃত তৃণমূল ভাবধারার প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে দলের ভিতরে বিদ্যমান মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে।বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত মিলছে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, এই গোষ্ঠীর তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘটনাপ্রবাহের সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে মঙ্গলবারই আন্দোলনের কর্মসূচিতে নামার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই আবহে দলের একাংশের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।সূত্রের আরও দাবি, এই গোষ্ঠীর মুখ হিসেবে সামনে আসতে পারেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই তালিকায় দলের কয়েকজন পরিচিত মুখমদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষের নাম নেই বলেই জানা যাচ্ছে।এদিকে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায়। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, তাঁরা দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেন, সই জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের সূত্রপাত হয়েছিল এই দুই নেতার অভিযোগ থেকেই। তাঁর সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়।বহিষ্কারের পর তৃণমূলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কুণাল ঘোষ তাঁদের বিশ্বাসঘাতক বলেও কটাক্ষ করেন। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহেই ৫০ বিধায়কের সম্ভাব্য নতুন অবস্থানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।তবে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মঙ্গলবারের ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। স্পিকারের কাছে আদৌ কোনও তালিকা জমা পড়ে কি না এবং তার রাজনৈতিক অভিঘাত কতটা গভীর হয়, সেটাই এখন দেখার।

জুন ০২, ২০২৬
রাজ্য

কয়লার ভ্যান টানা থেকে উল্কার গতিতে উত্থান, আধুনা 'বর্ধমানের মহারাজ' পুলিসের জালে!

বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে বর্ধমানে নিয়ে আসায় পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাঁকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বর্ধমান থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে দাবি, খোকন দাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলাবাজি, হুমকি প্রদান, বেআইনি জলাজমি ও পুকুর ভরাট, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণে মদত এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।খোকন দাসের রাজনৈতিক উত্থানও দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়লা ও বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। বামফ্রন্ট আমলে বর্ধমান পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর পুরসভার টাউন প্ল্যানিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় তাঁর প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন খোকন দাস। তবে সেই সময় থেকেই ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিরোধীদের উপর হামলা এবং এলাকায় সন্ত্রাসের আবহ তৈরির অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিবেদনে তাঁর নাম উল্লেখ করে কঠোর পর্যবেক্ষণও করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।চলতি বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হলেও বড় ব্যবধানে পরাজিত হন খোকন দাস। এরপর রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। তদন্তকারী সংস্থার নজরও ক্রমশ তাঁর দিকে ঘুরে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পরাজয়ের পরেও বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোনে হুমকি দেওয়া এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সংক্রান্ত কিছু অডিও ক্লিপও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।রবিবার উত্তরপ্রদেশের দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয় এবং এরপর তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বাইরে অবস্থান করলেও শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীদের জাল এড়াতে পারেননি বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।খোকন দাসের গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই বর্ধমানে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শাসকদল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশকে তাঁর কাঞ্চননগরের বাড়ির সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, একজন সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে কীভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিকানা গড়ে উঠল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।এদিন বর্ধমানে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং গুন্ডামির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব পথে কাজ করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী নেতাদের নিশানা করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।এখন আদালতে খোকন দাসকে পেশ করার পর তদন্তকারী সংস্থা কী ধরনের হেফাজতের আবেদন জানায় এবং আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। বর্ধমানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারকারী এই নেতার গ্রেফতারি আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জুন ০২, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষমতা হারিয়ে রক্তক্ষরণে তৃণমূল, ‘একলা চলার’ কঠিন পরীক্ষায় মমতা

রাজনীতিতে পালাবদল ঘটেই থাকে। কেন্দ্রে বা রাজ্যে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে কোনো কোনো সময় অপ্রতিরোধ্য দেখায়। মনে হয় শাসন ক্ষমতায় থাকাটাই সেই রাজনৈতিক দলের কুক্ষিগত। কিন্তু, সময় বদলায়। ঐতিহাসিক নিয়মেই অতি ক্ষমতাধর শক্তিকেও ক্ষমতা থেকে সরতে হয়। দেশ, কাল ভেদের এই পরিবর্তনের বহু নিদর্শন ইতিহাসে রয়েছে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গ। স্বাধীনতার পর থেকে এই রাজ্যে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকেছিল কংগ্রেস। তারপর কংগ্রেস কে সরিয়ে ক্ষমতায় বসে বামফ্রন্ট। দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসন ক্ষমতায় ছিল সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন সরকার। অনেকেই ভাবতেন বাম শাসনের বোধহয় অবসান হবেনা। তা হয়নি। দীর্ঘ বাম শাসনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মসনদে বসে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসন ক্ষমতায় থাকাকালীন যে দলকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয় ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরে তাদের রক্তক্ষরণ শুরু হয়।এই পরিস্থিতি থেকেই শুরু হয় দল বদলের পালা। দেশ জুড়ে নেতা নেত্রীর ক্ষমতা হারানো দল থেকে ক্ষমতাসীন দলে যাওয়া অতি সাধারণ ঘটনা। মানুষ ও এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছে। তবে, এখান থেকে বিজয়ী দলের ও সমস্যা শুরু হয়। নেতা নেত্রীদের দল বদলের থেকে অতি দ্রুত এই যাওয়ার পালা শুরু হয় পরাজিত দলের নিচু স্তরের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। বাম আমলেও এই ঘটনা শুরু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্য জুড়ে সিপিএম এর ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকার লোভ, অর্থের লোভ ও সন্ত্রাস মূলত এই তিনটি কারণে সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসার পালা শুরু হয়। এর ফলে যারা দীর্ঘদিন তৃণমূলে ছিলেন তাদের সঙ্গে দল বদলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।সেই সময় তৃণমূলের মধ্যে সেই দ্বন্দ্ব এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছিল। যার প্রতিফলন হয়েছিল Red TMC বনাম Green TMC দ্বন্দ্বে। তৃণমূলের ১৫ বছর পরে ক্ষমতা থেকে সরায় নিচের তলার এই চলন শুরু হয়েছে। রাতারাতি, রাজ্যের আনাচে কানাচে বিজেপির পতাকা হাতে বহু জনকে দেখা যাচ্ছে যাদের এতদিন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গেই দেখা যেত। রাজ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিতে বার বার দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ও জানে দলের কোনো মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো ছিল না। ক্ষমতায় থাকার কারণে বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা ছিল। এই সুযোগে, সুবিধা পাওয়ার বন্দোবস্ত তৃণমূলকে একটা সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির সুবিধা দিয়েছিল।এখন ক্ষমতার বৃত্তে না থাকার কারণে দলের চেহারা ক্রমশ শীর্ণকায় হবে। এই কারণেই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইতে নামার জন্য বাম, কংগ্রেস ও আই এস এফ কে সঙ্গে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও, তিনি ভালোই জানেন যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল এই তিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে কী ব্যবহার করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ রাজ্যে ছিল না। সবটাই ছিল পেশীশক্তির ভিত্তিতে। কংগ্রেস ও বামেরা পাঁচ বছর বিধানসভার বাইরে ছিল। এই নির্বাচনে তাদের যেটুকু সাফল্য এসেছে তা তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই এসেছে। এখন তারা যদি তৃণমূলের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠবে।INDIA ব্লক টিঁকিয়ে রাখার জন্য কংগ্রেস এই রাজ্যে তৃণমূলের সুরে বিজেপি বিরোধীতা করলেও সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে আন্দোলনে নামবে না বলেই মনে হয়। অন্যদিকে, আই এস এফ বা বাম দলগুলি তো প্রকাশ্যেই তৃণমূল নেত্রী কে এই আহ্বানের জন্য রাজনৈতিক ভাবে বিঁধতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে মনে হয় ভালো, মন্দ যাই হোক তৃণমূল কে তা মেনে নিয়ে একলাই চলতে হবে। একলা পথ চলার কথাই নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় বলেছেন মমতা। এখন অন্যদের দিকে হাত বাড়ালেও তাঁকে একলাই চলতে হবে।

মে ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ভোটে হারের পর ডিগবাজি? ভাইরাল অডিওতে ‘বিজেপি নেতা’ খোকন দাস, বর্ধমানে তোলপাড়

বর্ধমান দক্ষিণের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে একটি ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে। সেই অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, আমিও এখন বিজেপি নেতা। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই জেলা রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে।বিজেপির দাবি, কাঞ্চননগরের একটি দুর্গামন্দির নির্মাণের কাজ করেও এক রাজমিস্ত্রি প্রাপ্য টাকা পাননি। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই ফোনে তাঁকে ধমক দেন খোকন দাস। ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, মন্দিরের হিসেব, ট্রাস্টের টাকা এবং ভোটে হারের প্রসঙ্গ তুলে কথা বলছেন তিনি। কথোপকথনের এক পর্যায়ে খোকন দাসকে বলতে শোনা যায়, তুই এখন সুযোগ নিয়ে লোককে ভয় দেখাচ্ছিস। আমরাও এখানে আছি। আর শুনে রাখ, আমিও এখন বিজেপি নেতা।যদিও এই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি জনতার কথা। তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, ওই কথোপকথনে স্পষ্টভাবে প্রাক্তন বিধায়কের হুমকির সুর ধরা পড়েছে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র কল্যাণ মাজি অভিযোগ করেন, ক্ষমতা হারিয়েও খোকন দাস এখনও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। তাই কখনও এফআইআরের ভয় দেখাচ্ছেন, আবার কখনও নিজেকে বিজেপি নেতা বলছেন।অন্যদিকে খোকন দাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অডিও নিয়ে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং মন্দির ও ট্রাস্টের নামে অপপ্রচার রোখার জন্যই পুলিশে জানানোর কথা বলেছিলেন। তাঁর আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট রাজমিস্ত্রি হিসেব না দেওয়ায় ট্রাস্টের পক্ষ থেকে টাকা আটকে রাখা হয়েছে।তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যদি অডিওর প্রথম অংশে নিজের কণ্ঠস্বর স্বীকার করে নেওয়া হয়, তাহলে একই অডিওতে থাকা আমিও বিজেপি নেতা মন্তব্যকে অস্বীকার করা হচ্ছে কেন? এই নিয়েই নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে জেলা রাজনীতিতে।

মে ১২, ২০২৬
রাজনীতি

‘৭–৫ নয়, ১২–০ চাই’— বাঁকুড়াকে বিজেপি-শূন্য করার রণসংকল্পে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

পাঁচ বছর আগের ঘাটতি মিটিয়ে বাঁকুড়াকে সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ায় আয়োজিত রণ সংকল্প সভা থেকে সেই লক্ষ্যই স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সোজাসাপ্টা বার্তা রাজ্য জয়ের পর এ বার বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভা আসনেই জয় চাই, কোনও রকম আপস নয়।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটিতে জিততে পেরেছিল তৃণমূল। বাকি আটটি চলে গিয়েছিল বিজেপির দখলে। ২০১৯ সাল থেকে জেলার দুই লোকসভা আসনই বিজেপির হাতে থাকলেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া লোকসভা পুনর্দখল করে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে শাসকদল। তবে এখনও শালতোড়া বিধানসভা বিজেপির দখলেই। সেই কারণেই রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্র থেকেই বিজেপি-শূন্য বাঁকুড়া-র ডাক দেন অভিষেক।সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ২০২১ সালে আপনারা আমাদের চারটি আসন দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে লোকসভায় চার থেকে ছয়ে পৌঁছেছি। এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপিও ছয়। কিন্তু এ বার দুটি ছয় মেরে ১২০ করতে হবে। স্পষ্ট করে দেন, ৭৫ বা কাছাকাছি ফল মানা হবে না, পূর্ণ জয়ই লক্ষ্য।বাঁকুড়া জেলার রাজনৈতিক বাস্তবতাও তুলে ধরেন অভিষেক। জেলার মোট ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কিছু অংশ অন্য জেলার লোকসভা এলাকায় পড়লেও ভোটের অঙ্কে বাঁকুড়া বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালের পর থেকেই সংগঠনের দুর্বলতা শুরু হয়েছিল বলে কার্যত স্বীকার করেন তিনি। তবে ২০২৪ সালে বাঁকুড়া লোকসভা পুনর্দখলের মাধ্যমে রুপোলি রেখা দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেতা।বক্তৃতায় খানিকটা অভিমানও ধরা পড়ে তাঁর গলায়। প্রত্যাশিত ভোট না পেলেও বাঁকুড়াবাসীর জন্য রাজ্য সরকার যে লক্ষ্মীর ভান্ডার, পানীয় জল প্রকল্পসহ নানা সামাজিক প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে, তা মনে করিয়ে দেন অভিষেক। খাদান শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়েও আশ্বাস দেন তিনি। জানান, আইনি জটিলতার কারণে বন্ধ থাকা পাথর খাদানগুলি চালু হলে অন্তত ২৫ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ৩১ মার্চের আগেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে, যার মধ্যে বাঁকুড়া জেলার প্রাপ্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ ছাড়া হলে জেলার উন্নয়নে গতি আসত বলেও দাবি করেন তিনি।বিজেপির বিরুদ্ধে রিপোর্ট কার্ড রাজনীতির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, আমরা আমাদের কাজের হিসাব নিয়ে মানুষের কাছে যাব। বিজেপি কী করেছে, তার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে ওদের মাঠে নামতে হবে। পাশাপাশি বিজেপি জিতলে বঞ্চনা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত, আর তৃণমূল জিতলে অধিকার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।বাঁকুড়ার সভামঞ্চে র্যাম্পে ঘুরে কর্মী-সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে অভিষেক বুঝিয়ে দেন আসন্ন নির্বাচনে বাঁকুড়া দখলই তৃণমূলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য। এখন দেখার, এই ১২০ রণহুঙ্কার বাস্তবে কতটা সফল হয়।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

মঞ্চ প্রস্তুত, ভিড় তৈরি—তবু কেন উড়তে পারল না মমতার হেলিকপ্টার? সামনে এল চাঞ্চল্যকর কারণ

মতুয়াগড়ে প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। মঞ্চ তৈরি, নিরাপত্তা মোতায়েন, রুটমার্চের পথ পুরোপুরি খালি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেনএই প্রত্যাশায় ঘিরে ফেলেছিল এলাকা। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তেই বদলে গেল পুরো সফরসূচি। হেলিকপ্টারে যাত্রা করার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হল না। বাধ্য হয়ে সড়কপথেই পৌঁছতে হল তাঁকে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্ধারিত হেলিকপ্টারের ইনস্যুরেন্স বা বিমা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে উড়ান বাতিল করতে হয়। এত বড় গলদ জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। যে সংস্থা হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষেবার দায়িত্বে ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিশ জারি হয়েছে।পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এদিন স্পষ্ট জানান, সংস্থারই দায়িত্ব ছিল হেলিকপ্টারের বিমা সঠিক সময়ে নবীকরণ করা। কিন্তু তারা দাবি করেছে, লন্ডনের একটি সংস্থার মাধ্যমে এই ইন্সুরেন্স করানো হয়। সময়ের ফারাকের কারণ দেখিয়ে তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার আগে বিমা নবীকরণ সম্ভব নয়। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে শেষ মুহূর্তে তৈরি হল এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।যেখানে সমস্ত প্রস্তুতি আঁটসাঁট, সেখানে এমন প্রশাসনিক ফাঁক চোখে লাগার মতোই। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আয়োজনের মাঝে এই ভুলে একপ্রকার অস্বস্তি ছড়িয়েছে প্রশাসনের মধ্যেই।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
কলকাতা

৯ দিনের মিশন! ব্যাগ গুছিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ অভিষেকের—তৃণমূলের ভিতরে কি চাপা উত্তেজনা?

ব্যাগ গুছিয়ে ৯ দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ুন, এই কদিন আর বাড়ি ফেরা চলবে নাসোমবারের বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত এমনই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন দলের নেতাদের। SIR-এর কাজ প্রায় শেষের দিকে, তবুও জেলার কাজের গতিপ্রকৃতি এবং দিদির দূত অ্যাপে তথ্য আপলোডে নিয়মিত ঢিলেমি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সেই কারণেই নতুন করে ১৩ জনের একটি বিশেষ টিম তৈরি করে দিলেন অভিষেক। এই সদস্যরা আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে দেখবেন SIR প্রকল্প ঠিকমতো হচ্ছে কি না, বিএলএ২রা কাজ কীভাবে সামলাচ্ছেন এবং অ্যাপে যেসব তথ্য তোলা দরকার, তা আদৌ ঠিকভাবে আপলোড হচ্ছে কি না।পার্টির তরফে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, যে সব নেতা বিএলএ২ হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের অ্যাপে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তথ্য ঠিকমতো তুলছেন না তাঁরা। অভিষেক এদিন বৈঠকে সেই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই ১৩ জন নেতাকে পৃথক পৃথক জেলায় পাঠানো হয়। তাঁদের বলা হয়েছে কোঅর্ডিনেটর। কাজ সম্পূর্ণ না হলে কেউ ফিরতে পারবেন না। জেলায় জেলায় তৃণমূলের তৈরি ওয়ার রুমেও যেতে হবে তাঁদের।এই তালিকায় রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, মানস ভুঁইয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বেচারাম মান্না, দিলীপ মণ্ডল, সুজিত বসু, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, উদয়ন গুহ, সামিরুল ইসলাম-সহ আরও কয়েকজন। তাঁদের মূল দায়িত্বমাঠ পর্যায়ে SIR কাজ গতি পাওয়া, অভিযোগ শুনে সমাধান করা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে প্রতিদিন রিপোর্ট দেওয়া।এদিকে বিজেপি মনে করছে, তৃণমূলের এই জরুরি মোতায়েন আতঙ্কেরই প্রমাণ। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা মন্তব্য করেছেন, যখন শিয়রে যম থাকে তখন এমনই উত্কণ্ঠা দেখা দেয়। তৃণমূলের মধ্যেও সেই একই অবস্থা। এখন অবিশ্বাস আর হতাশা বাড়বে। এটা গৃহযুদ্ধের আগের পর্ব। এভাবেই তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে।cরাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে অভিষেকের এই কড়া শৃঙ্খলাবিধান এবং সংগঠনকে আবার মাঠে নামানোর উদ্যোগদলের ভিতরে চাপা অস্থিরতারই প্রতিফলন। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে, এটি কেবলই সংগঠনের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার রুটিন ব্যবস্থা।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

RG Kar কাণ্ডে তৃণমূলের দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অভয়ার বাবার! উত্তাল রাজ্য

আরজি কর কাণ্ডে ফের নয়া মোড়! তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ নির্যাতিতার পরিবারের। টাকা দিয়ে রফা করতে চেয়েছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ!আরজি কর কাণ্ডে ফের নয়া মোড়! তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ নির্যাতিতার পরিবারের। টাকা দিয়ে রফা করতে চেয়েছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ! আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণীর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করতেই কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে পালটা বোমা ফাটালেন নির্যাতিতার পরিবার।কী অভিযোগ নির্যাতিতার বাবার? সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বলেন, আমাদের সঙ্গে উনি টাকা দিয়ে ব্যাপারটা মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাড়িতে আসেননি, তবে বলেছিলেন আপনাদের এত টাকা দিচ্ছি, ব্যাপারটা মিটিয়ে নিন। পাশাপাশি বেশ কিছু হোয়্যাটসঅ্যাপ চ্যাটও সাংবাদিকদের দেখান নির্যাতিতার বাবা। তিলোত্তমার মা-বাবা আরও অভিযোগ করেন, মাঝেমধ্যেই কুণাল ঘোষ তাঁদের ফোন ও মেসেজ করতেন। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কুণাল ঘোষও। তাঁর কথায়, তিলোত্তমার বাবা বলছেন আমি নাকি ফোন করে রফার চেষ্টা করতাম! এতদিন পর এসব বলছেন? কত বড় মিথ্যা বলছেন ভেবে দেখুন। আমি অনুরোধ করছি, কোর্টে গিয়ে মাননীয় বিচারকের কাছে সব প্রমাণ দিন। সাংবাদিকদেরও প্রিন্ট আউট দিয়ে দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবটা দিয়ে দিন। সবাই দেখুক কুণাল ঘোষ কী লিখেছিলেন। অকারণে রহস্য বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না।কোনও ভাবেই মেয়ের ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনার যে অঙ্গীকার তা থেকে আমাদের পিছু হটানো যাবে না। তৃণমূল সরকার বারে বারে যাতে ন্যায় বিচার না পাই তার চেষ্টা করেছে। এবার এক সন্তানহারা বাবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তৃণমূলেরই মুখপাত্র। তবে মেয়ের ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনবই। কোনও শক্তি সেই ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনার লড়াই থেকে আমাদের বিরত করতে পারবে না। কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে লড়াই হবে আইনি পথেই। এভাবেই বছর পেরোলেও মনোবল অটূট রেখে লড়াই জারির বার্তা দিলেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের বাবা।আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের। বুধবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে নির্যাতিতার বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই সংবাদমাধ্যমের সামনে আরজি করের নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ ছিল, CBI টাকা নিয়ে তদন্ত চেপে দিয়েছে। সিবিআইকে টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। কুণাল ঘোষ সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে বিষয়টা দেখাশোনা করেছেন। আরজি করের নির্যাতিতার বাবার এই মারাত্মক অভিযোগের ব্যাপারে আগেই কুণাল ঘোষ তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন তিনি।এর আগে গত সপ্তাহে নিহত চিকিৎসকের বাবাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, নিহত চিকিৎসকের বাবার প্রতি ম্পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে, তবে ইচ্ছেমতো বা অন্য কারও প্ররোচনায় মিথ্যে অভিযোগ করা যায় না। পাশাপাশি কুণাল ঘোষ সতর্ক করে বলেন,ক্ষমা না চাইলে আদালতে প্রমাণ হাজির করতে হবে। নোটিশ পাওয়ার পর চার দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র।কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি মিথ্যে ও নাটকের সব সীমা অতিক্রম করেছেন। আমি বুঝি, মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণায় থাকা এক বাবার বেদনা কতটা গভীর। কিন্তু তাই বলে ভিত্তিহীন অভিযোগ করলে প্রশ্ন উঠবেই। কার নির্দেশে বা কোন তথ্যের ভিত্তিতে এমন কথা বললেন? উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ডিউটিতে থাকা ৩১ বছর বয়সি এক চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। ঘটনায় এক সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরে সিবিআই তদন্তেও দোষী হিসাবে উঠে আসে সঞ্জয়ের নামই। শিয়ালদা আদালতে সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয়।নিহত চিকিৎসকের বাবা সিবিআই তদন্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সিবিআই শুধু কলকাতা পুলিশের সেই পুরনো তত্ত্বকেই প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। আমরা শুরু থেকেই ভিন্ন দাবি জানালেও সিবিআই আমাদের বক্তব্য উপেক্ষা করেছে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার সিবিআইকে ঘুষ দিয়েছে এবং কুণাল ঘোষই এই সমঝোতা করিয়েছেন।

আগস্ট ২১, ২০২৫
রাজ্য

২০২৬-এর আগে দুয়ারে সরকারের নয়া মডেল, কর্মসূচি ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’

২১ জুলাই শেষ হতেই নবান্ন থেকে নয়া কর্মসূচি ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দুয়ারে সরকারের মডেলে নয়া কর্মসূচি। একেবারের বুথ ভিত্তিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। তিনটে বুথ নিয়ে একটি কর্মসূচি। এই প্রকল্পকে নয়া চমক বলে দাবি করেছে বিরোধীরা।নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগে আমরা দুয়ারে সরকার কর্মসূচি চালু করেছিলাম। প্রায় ১০ কোটি মানুষ তাতে অংশ নিয়েছিলেন। সেই কর্মসূচির ৯০% কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১০% কাজ কিছু প্রকল্পে এখনও বাকি আছে। অনেকেই আবেদন করেছেন, আমরা সেই প্রকল্পগুলো ডিসেম্বর থেকে চালু করব, বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো যেসব প্রকল্প রয়েছে। দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন। জাতিগত শংসাপত্র, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি কর্মসূচি শুরু করছি যার নেতৃত্বে আমি, মুখ্য সচিব এবং ডিজিপি পুলিশ থাকবেন। এই কর্মসূচির নাম আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান। রাজ্য সরকারের তহবিলের উপর নির্ভর করে সরকারি বিভাগগুলির কাজ যথারীতি চলতে থাকবে। MGNREGA তহবিল আটকে রাখা হয়েছে, গ্রামীণ আবাস যোজনার তহবিল আটকে রাখা হয়েছে এবং রাস্তার তহবিলও বন্ধ করা হয়েছে। দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে মানুষ নিজেরাই এসে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতেন। আমরা অনেক সমস্যার সমাধান করতে পেরেছিলাম। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সবাইকে, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, যাঁরা দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।কেন এই নয়া কর্মসবূচি নিয়েছে রাজ্য? তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাড়ায় ছোট ছোট সমস্যা থেকে যায়, যেমন কোনও জায়গায় একটা কল বসানো দরকার বা একটা ইলেকট্রিক পোল বসানো দরকার। এই ধরনের বিষয়গুলো নজরে আনা দরকার। আমরা অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি, কিন্তু তবুও কিছু জায়গা হয়তো কোনও কারণে বাদ পড়ে গেছে। এই ধরনের ছোট ছোট সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা একটি নতুন কর্মসূচি আনছি। আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান। এই ধরনের উদ্যোগ দেশে এই প্রথম। দেখতে ছোট মনে হলেও এর বিস্তৃতি বিশাল। প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভরতার কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায় না। সব কাজ রাজ্য সরকারকেই করতে হচ্ছে।কোন পদ্ধতিতে এই কর্মসূচি রূপায়ণ হবে তাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচি দেশের মধ্যে প্রথম বাংসা চালু করছে বলেও দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান, দেশের প্রথম এই ধরনের কর্মসূচি। এটি একটি উদ্যোগ, যার লক্ষ্য হল গ্রামে গ্রামে ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করা। সরকারি অফিসাররা ক্যাম্পে থাকবেন, সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন। প্রতিটি ক্যাম্প ৩টি বুথ নিয়ে তৈরি হবে। অর্থাৎ একেকটি ইউনিট হবে একেকটি পাড়া। আমাদের ৮০,০০০-এরও বেশি বুথ রয়েছে, তাই এই পুরো কর্মসূচি সম্পূর্ণ করতে ২ মাস সময় লাগবে। প্রত্যেকটি বুথে অফিসাররা সারাদিন থাকবেন। নির্দিষ্ট একটি জায়গা থাকবে, যেখানে পাড়ার মানুষ তাদের এলাকা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি জানাতে পারবেন। অফিসারেরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ ঠিক করবেন।এই কর্মসূচির জন্য একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতি বুথে ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। মোট খরচ ৮,০০০ কোটিরও বেশি টাকা। পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ বা পৌরসভা যেমন কাজ করছে, তেমনই কাজ করবে। তবে এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই নতুন কর্মসূচি শুরু করছে। এই কর্মসূচি আগামী ২ অগস্ট থেকে শুরু হবে। একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে, যা চিফ সেক্রেটারির নেতৃত্বে কাজ করবে। জেলায় ও রাজ্যে আলাদা আলাদা টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হবে। শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য পুলিশও সহযোগিতা করবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী ২ মাস ধরে সরকার মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। দুর্গাপুজোর জন্য ১৫ দিনের ছুটি থাকবে, পরে আবার সময় বাড়ানো হবে। তবে সব বুথই কভার করা হবে। এই কর্মসূচির পাশাপাশি দুয়ারে সরকার কর্মসূচিও চালু থাকবে।

জুলাই ২৩, ২০২৫
রাজনীতি

“ভোটারদের গায়ে হাত পড়লে গণ আন্দোলন", চক্রান্ত বাংলাতেও! চরম হুঁশিয়ারি মমতার

বেশ কিছু দিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার ভোটার তালিকায় কারচুপি করছে বলে অভিযোগ করছে তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিজেপি বিরোধী দলগুলো। সোমবার একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসে হুঙ্কার ছাড়লেন তৃণমূল সুপ্রমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিহারে ৪০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও সেটাই করতে চাও? যদি এমনটা করার চেষ্টা করো, তাহলে আমরা ঘেরাও আন্দোলন শুরু করব। আমরা তীব্র প্রতিবাদে নামব। আমরা তোমাদের কারোর নাম বাদ দিতে দেব না, একজনকেও ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে দেব না_এরই পাশাপাশি বিজেপি সরকারের বাঙালিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতা বলেন, এই মুহূর্ত থেকেই শুরু হচ্ছে ভাষা আন্দোলন। ২৭ জুলাই থেকে, প্রতি শনিবার ও রবিবার মিছিল ও সভা করতে হবে-বাংলা ভাষার প্রতি যে হিংসা ও অবমাননা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এটা করতে হবে। কোনও পরিযায়ী শ্রমিক বা তাঁদের পরিবার যদি বলে তারা সমস্যায় আছে, তাহলে পাশে দাঁড়াতে হবে, আমাদেরও অবহিত করুন।

জুলাই ২১, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 14
  • 15
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

আমেরিকার ভোটে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জয়জয়কার! লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হলেন কেরলের নিত্যা

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল রিপাবলিকান শিবির। কংগ্রেসের দুই কক্ষ, সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল। অন্য দিকে, বিভিন্ন জায়গায় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এই নির্বাচনে বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকেরা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম কেরলে জন্ম নেওয়া নিত্যা রমন। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। এই জয়ের ফলে শহরটির প্রথম এশীয়-আমেরিকান মেয়র হলেন নিত্যা। প্রতিদ্বন্দ্বী কারেন বাসকে হারিয়ে ৫১.১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। বাস পেয়েছেন ৪৮.৩৩ শতাংশ।এই নির্বাচনে শুধু নিত্যাই নন, জয় পেয়েছেন আরও কয়েক জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অরুণা মিলার। ১৯৬৪ সালের ৬ নভেম্বর হায়দরাবাদে জন্ম তাঁর। মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় চলে যান অরুণা। পরে মিসৌরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৯ সালে স্নাতক হওয়ার পর দীর্ঘ দিন সরকারি চাকরি করেন তিনি। পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১০ সালে মেরিল্যান্ডের আইনসভায় নির্বাচিত হন অরুণা। ২০২২ সালে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসাবে মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন তিনি। এ বারও নির্বাচনে জয় পেয়েছেন অরুণা।এ বারের নির্বাচনে আরও এক নতুন মুখ পিয়া ডান্ডিয়া। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রায় ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন পিয়া। পেশায় শিক্ষাবিদ এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করতেন তিনি। পরে নিউ ইয়র্কের হারলেম এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হন। এই জয়ের ফলে ওই কেন্দ্র থেকে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসাবে মার্কিন কংগ্রেসে জায়গা করে নিলেন পিয়া।আমেরিকার রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এই সাফল্য নতুন করে নজর কেড়েছে। চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী কিংবা শিক্ষাবিদ নানা পেশা থেকে উঠে এসে রাজনীতির ময়দানে নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন তাঁরা। জন্ম বা বেড়ে ওঠা আমেরিকায় হলেও তাঁদের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সঙ্গে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

২০২১ সালে বেকসুর খালাস, পরে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত! তেজপালের সাজা নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় আপাতত কোনও স্বস্তি পেলেন না তেহেলকা পত্রিকার প্রাক্তন প্রধান সম্পাদক তরুণ তেজপাল। তাঁর ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। ফলে সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে তাঁর আবেদন বিচারাধীন থাকলেও আপাতত জেলেই থাকতে হবে তাঁকে।বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বম্বে হাই কোর্টের ৬ অগস্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন তেজপাল।২০১৩ সালে নিজের এক জুনিয়র সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল তেজপালের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে এই মামলায় বেকসুর খালাস করেছিল। কিন্তু সেই রায় খারিজ করে বম্বে হাই কোর্ট তাঁকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেয়।হাই কোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তেজপাল। তাঁর আবেদন ছিল, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত রাখা হোক। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আর্জিতে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত। ফলে ধর্ষণ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা আপাতত বহাল থাকল।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

বোমাতঙ্ক বম্বে হাই কোর্টে! নিশানায় অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’ও, তল্লাশি চালিয়ে কী পেল পুলিশ?

বম্বে হাই কোর্টে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ইমেল পাঠানোকে কেন্দ্র করে শুক্রবার মুম্বইয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল। ওই ইমেলে আদালত চত্বর, মহালক্ষ্মী রেসকোর্স এবং বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের বাংলো জলসায় হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। খবর পেয়েই তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে কোথাও সন্দেহজনক কিছু মেলেনি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।এই হুমকি ইমেলটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইমেল পাঠানোর পিছনে কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও বিপজ্জনক বস্তু বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।এর আগে গত ২ নভেম্বর, সোমবার মহারাষ্ট্রের একাধিক জেলা ও দায়রা আদালতেও বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ইমেল পাঠানো হয়েছিল। আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই খবর পাওয়ার পরেই সংশ্লিষ্ট আদালতগুলিতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।বোমা শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়কারী দলও তল্লাশিতে অংশ নেয়। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে পরীক্ষা চালানোর পরেও কোথাও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। পর পর আদালতে বোমা হামলার হুমকি এবং এ বার বম্বে হাই কোর্টের পাশাপাশি অমিতাভ বচ্চনের বাড়ির নাম উঠে আসায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

প্রাক্তন হকি অধিনায়কের বাড়িতে চুরি! নগদ-গয়নার সঙ্গে উধাও ১৯৮০ সালের অলিম্পিকের সোনার পদক

নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না তো ছিলই। এ বার চোরেদের হাত থেকে রেহাই পেল না অলিম্পিকের সোনার পদকও! প্রাক্তন ভারতীয় হকি অধিনায়ক এম এম সোমায়ার বাড়িতে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে ভারতীয় দলের জেতা সোনার পদক-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পদক চুরি গিয়েছে। পাশাপাশি নগদ টাকা এবং মূল্যবান গয়নাও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও ধরা পড়েনি অভিযুক্তেরা। উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া সামগ্রীও।বেঙ্গালুরুর হ্যাল থার্ড স্টেজ এলাকায় থাকেন সোমায়া। এলাকাটি ইন্দিরানগর থানার অধীনে। গত ২৮ অক্টোবর রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। সেই সময় পরিবারের সঙ্গে কোডাগুতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন হকি তারকা। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে চোরেরা সেখানে ঢুকে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা বাড়ির দরজা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁরাই ফোন করে সোমায়াকে বিষয়টি জানান। এর পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।পুলিশ সূত্রে খবর, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে পাওয়া সোনার পদক। এ ছাড়াও ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে পাওয়া রুপোর পদক এবং ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমস ও ১৯৮২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্রোঞ্জ পদকও চুরি গিয়েছে। অর্থাৎ, সোমায়ার দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক এখন চোরেদের হাতে।এ ছাড়া বাড়ি থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, সোনা ও রুপোর গয়নাও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।ঘটনার তদন্তে এলাকার বিভিন্ন বাড়ির নজরদারি ক্যামেরার ছবি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সোমায়ার বাড়ির উল্টো দিকের একটি বাড়ির ক্যামেরায় দুজন সন্দেহভাজনের ছবি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ২৮ অক্টোবর রাত ২টো ৩৪ মিনিট নাগাদ ওই দুজন সোমায়ার বাড়িতে ঢুকেছিল। একজনের পরনে ছিল নীল রঙের জামা, অন্য জনের লাল।অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং চুরি যাওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন সোমায়া। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তের জন্য দুটি বিশেষ দল তৈরি করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩১(৪) এবং ৩০৫ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।ভারতীয় হকির ইতিহাসে পরিচিত নাম এম এম সোমায়া। দীর্ঘ দিন দলের হাফ ব্যাক হিসেবে খেলেছেন তিনি। তিনটি অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বও সামলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে নাইরোবিতে পুজো কাপ জেতে ভারত। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে তাঁকে অর্জুন পুরস্কার দেওয়া হয়।দেশের হয়ে অলিম্পিকে সোনা জেতা এক ক্রীড়াবিদের বাড়ি থেকে সেই পদকই চুরি যাওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন ক্রীড়ামহল। যে পদক এক সময় দেশের সাফল্যের স্মারক ছিল, সেটি এখন কোথায়, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

প্রথমে স্ত্রীকে খুন, পরের দিন পার্টির নামে বাড়িতে ডেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড! কীভাবে সামনে এল ঘটনা?

স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অশান্তি। সেই রাগ থেকেই স্ত্রী-সহ তাঁর পরিবারের সাতজনকে খুনের অভিযোগ উঠল এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে। বেঙ্গালুরুতে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাত বছরের এক শিশুও। অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর। দুদিন ধরে পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে নিজের স্ত্রী সুনীতাকে খুন করেন ইন্দুশেখর। তার পর তাঁর দেহ কাপড়ে মুড়ে নন্দী পাহাড়ের কাছে ফেলে আসেন। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি যাতে কারও সন্দেহ না হয়, তার জন্য তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন অভিযুক্ত। প্রতিবেশীদের জানান, স্ত্রী বেড়াতে গিয়েছেন।এর পরের দিন আরও ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে নিজের বাড়িতে পার্টির জন্য আমন্ত্রণ জানান ইন্দুশেখর। তাঁরা স্ত্রীদের নিয়ে বাড়িতে আসেন। অভিযোগ, সেখানেই তাঁদের উপর হামলা চালান অভিযুক্ত। একে একে খুন করা হয় দুই শ্যালক, তাঁদের স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী, শাশুড়ি রূপবতী এবং শিবকুমারের সাত বছরের ছেলে পুনীতকে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শ্যালক ও শাশুড়ির সঙ্গে সুনীতার ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্য পছন্দ করতেন না ইন্দুশেখর। এই বিষয়টি নিয়েই তাঁর মনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমেছিল। সেই আক্রোশ থেকেই পরিবারের সকলকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্ত্রী সুনীতাকে শিলবাটার পাথর দিয়ে আঘাত করে খুন করেন অভিযুক্ত। পরে সেই একই পাথর ব্যবহার করে শ্যালক ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও খুন করা হয় বলে অভিযোগ। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির রক্তের দাগ মুছে ফেলতে রাসায়নিক ব্যবহার করেন তিনি। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছিল বলে মনে করছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার নলিনীর মা শ্রীরামপুরা থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে। এর পরেই গ্রেফতার করা হয় ইন্দুশেখরকে।অভিযুক্তের ব্যবহৃত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ওই গাড়িতে করেই দেহগুলি অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। খুনে ব্যবহৃত শিলবাটার পাথরও উদ্ধার করা হয়েছে।এ দিকে নন্দী পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে সাত বছরের শিশু পুনীতের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সেটিই প্রথম উদ্ধার হওয়া দেহ বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, জেরায় ইন্দুশেখর সাতজনকে খুনের কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর সমস্ত দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাকি দেহগুলির খোঁজেও তল্লাশি চলছে।এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ সাহায্য করেছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এমনকি অভিযুক্তের মেয়ের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি বাড়িতে এতগুলি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও প্রতিবেশীরা কেন কিছু বুঝতে পারলেন না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক অশান্তি থেকে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আপাতত অভিযুক্তের বয়ান, উদ্ধার হওয়া তথ্যপ্রমাণ এবং নিখোঁজদের খোঁজের উপরেই নির্ভর করছে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

১৮ বছরের অপেক্ষা শেষ করতে মরিয়া ভারত! নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছেন বুমরাহ-জাদেজা, পন্থকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে শেষ বার টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ভারত ২০০৮-০৯ মরসুমে। তার পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৮ বছর। এ বার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মরিয়া ভারতীয় দল। আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাই চোটের ঝুঁকি থাকলেও দলের প্রথম সারির ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ম্যাচে নামানো হচ্ছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়েও এই সিরিজ ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে দুটি চার দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন ভারতীয় টেস্ট দলের কয়েক জন নিয়মিত ক্রিকেটার। এ বার সেই প্রস্তুতি ম্যাচের তৃতীয়টিতে খেলতে নামবেন জসপ্রীত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাডেজা। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা এই ম্যাচের জন্য ভারত এ দলে যোগ দিয়েছেন দুজনেই। তাঁদের সঙ্গে দলে রয়েছেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও।দীর্ঘ দিন মাঠের বাইরে থাকার পর ম্যাচের ছন্দ ফিরে পেতেই বুমরাহ ও জাডেজাকে এই ম্যাচে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে দুজনের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি বলে মনে করছে ভারতীয় শিবির। অন্য দিকে, চোটের কারণে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে খেলতে পারবেন না প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। তাই তিনিও এই প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।তবে ভারতীয় শিবিরে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। তৃতীয় প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলতে পারছেন না ঋষভ পন্থ। এখনও পুরোপুরি চোটমুক্ত হতে পারেননি ভারতীয় দলের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। বর্তমানে তিনি রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে। তাঁর পরিবর্তে ভারত এ দলে জায়গা পেয়েছেন তিলক বর্মা।শেষ বার অগস্ট মাসে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলেছিলেন পন্থ। সেই ম্যাচেই তাঁর পাঁজরের পাশের পেশিতে চোট লাগে। নিউজিল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচেই পন্থের খেলার কথা ছিল। কিন্তু চোটের কারণে প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তৃতীয় ম্যাচ থেকেও ছিটকে গেলেন।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা প্রথম টেস্টের আগে পন্থ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কি না। তাঁকে নিয়ে চিন্তায় রয়েছে ভারতীয় শিবির। শুধু চোট সারলেই হবে না, নিউজিল্যান্ডের পরিবেশ ও পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যও কিছুটা সময় প্রয়োজন। প্রথম টেস্টের আগে কতটা ম্যাচ অনুশীলন করতে পারবেন পন্থ, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চাইছে ভারত। সেই লক্ষ্যেই বুমরাহ, জাডেজাদের প্রস্তুতি ম্যাচে নামানো হচ্ছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে পন্থের চোট কতটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

এসআইআর বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশনে বড় রদবদল! সীমা খন্নার ক্ষমতায় কাটছাঁট, নয়া নির্দেশ জারি

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ফের বড় পরিবর্তন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাজের দায়িত্ব বণ্টনে নতুন নির্দেশ জারি হয়েছে। এ বার থেকে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নার অধীনে থাকা বিভিন্ন বিভাগের ফাইল সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পবন কুমার শর্মার মাধ্যমে পাঠাতে হবে। গত ৪ নভেম্বর এই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। নির্দেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের সময় বার বার উঠে এসেছিল সীমা খান্নার নাম। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের কাজে তিনি অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছেন। এমনকি ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের ক্ষমতা কমিয়ে দিল্লি থেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে নতুন নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেকের প্রশ্ন, তবে কি সীমা খান্নার ক্ষমতা কিছুটা কমানো হল?যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশের ফলে সীমা খান্নার পদমর্যাদা বা রিপোর্ট করার নিয়মে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, সীমা খান্না আগেও ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পর্যায়ের আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট করতেন। এখনও সেই ব্যবস্থাই থাকছে। কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নতুন করে কাজের দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে।কেন বার বার বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের কাজের দায়িত্ব বণ্টন? গত কয়েক মাস ধরে এই বিষয়টি নিয়ে কমিশনের অন্দরেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে খবর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও কমিশনের অন্য দুই সদস্য বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধু কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে কাজের দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত একটি নির্দেশও ছিল।এর আগে চলতি বছরের ২৮ জুলাই কাজের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন নির্দেশ জারি হয়েছিল। সেই নির্দেশে তৎকালীন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের কাছ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব সরিয়ে সীমা খান্নার হাতে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি সরাসরি রিপোর্ট করার সুযোগ পান। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান কমিশনের দুই সদস্য।নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ডেপুটেশনে থাকা অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক আইএএস আধিকারিক ওই নির্দেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি কার্যকর হয়নি। ২৯ জুলাই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দুই নির্বাচন কমিশনার আলাদা ভাবে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দেন। পরের দিন, অর্থাৎ ৩০ জুলাই, তাঁদের যৌথ নির্দেশের পর ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি বলে জানিয়েছে কমিশন।এ দিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নতুন উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যাঁদের নাম এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকায় ওঠেনি এবং যাঁরা নতুন করে ভোট দেওয়ার যোগ্য হয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন ভোটারদের নাম তোলা এবং ভোটার তালিকায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। ওই তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ দিন ১২ ডিসেম্বর। জমা পড়া দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তি করতে হবে ২০২৭ সালের ১৬ জানুয়ারির মধ্যে। তার পর ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। এই নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর অভিযোগেও উঠে এসেছিল সীমা খান্নার নাম।অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৭ মে-র নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর প্রক্রিয়া বহাল রেখেছে। ফলে এক দিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এগোচ্ছে, অন্য দিকে কমিশনের অন্দরে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা-সহ ৭ পুরসভায় এখনই ভোট নয়! হাই কোর্টের নির্দেশে বড় ধাক্কা, কবে হবে নির্বাচন?

কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের সাতটি পুরসভায় এখনই হচ্ছে না নির্বাচন। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে পুরভোট নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কবে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই আদালত জানিয়ে দেয়, এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরসভাগুলির নির্বাচন নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। অর্থাৎ, আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত আইনি জট কাটাতে হবে। তার পরেই ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করে সরকার। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রথম থেকেই সরব হয়েছিল বিরোধী দলগুলি। তাদের আপত্তি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়।পুজোর ছুটির মধ্যে মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে ওঠে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানির পর আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মামলা মিটে যাওয়ার আগে পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাবে না। ফলে নভেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচন হতে পারে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে নির্বাচন হয়নি। কোথাও পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে, কোথাও আবার পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসকেরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দ্রুত নির্বাচন করানোর পক্ষে সওয়াল করে আসছিল রাজ্য সরকারও।আদালতের নির্দেশের পর এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশের পর এ বিষয়ে তাঁদের কিছু বলার থাকতে পারে না। তবে দীর্ঘদিন ভোট না হলে সাধারণ মানুষকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।হাই কোর্টের এই নির্দেশের পর কলকাতা, হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভায় কবে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আপাতত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal