• ৫ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ২৩ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Tokyo Olympics

খেলার দুনিয়া

Women Hockey : ‘‌চক দে ইন্ডিয়া’‌, অলিম্পিক হকির ইতিহাসে রানিরা

টোকিও অলিম্পিকে চক দে ইন্ডিয়া। ইতিহাস রানি রামপালদের। সোনা জয়ের অন্যতম ফেবারিট শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ১০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে ভারতীয় মহিলা হকি দল। আগের দিন গ্রেট ব্রিটেনের দর্পচূর্ণ করে সেমিফাইনালে উঠেছেন মনপ্রীতরা। এদিন অস্ট্রেলিয়ার দম্ভে আঘাত করে সেমিফাইনালে রানি রামপালরা। স্বর্ণযুগে ভারতীয় হকি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই একসময় অনিশ্চিত ছিল। পুল এর প্রথম ৩ ম্যাচে পরাজয়। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। গ্রুপ লিগে পরপর দুম্যাচে আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধ অবিশ্বাস্য জয়। তবুও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত ছিল না ভারতের সামনে। গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের কাছে আয়ারল্যান্ড হারলে তবেই শেষ আটের ছাড়পত্র পাওয়া যেত। ভাগ্য সহায় ছিল রানি রামপালদের। ব্রিটেনের কাছে আয়ারল্যান্ডের পরাজয় টোকিও অলিম্পিকে মহিলাদের হকিতে কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র এনে দিয়েছিল ভারতকে।কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের লড়াই সহজ ছিল না। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই এগিয়ে। তবুও গুটিয়ে থাকেননি রানি রামপালরা। আসলে গ্রুপ লিগের শেষ দুটি ম্যাচের পারফরমেন্স আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। অঘটনের স্বপ্ন দেখেছিলেন রানি রামপালরা। তাঁদের স্বপ্ন দেখা যে একেবারেই অমূলক ছিল না, প্রমাণ হয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলা উপহার দিল ভারত। রানি রামপালদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ সাক্ষাৎকার। ২০১৯ সালের আগস্টে টোকিও অলিম্পিকের টেস্ট ইভেন্টে ২২ ড্র হয়েছিল সেই ম্যাচ। আমরাও পারি, এই বিশ্বাস দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন কোচ সোয়ার্ড মারিজিনে।আরও পড়ুনঃ ৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরাম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ২ মিনিটেই গোল করার সুযোগ পেয়েছিল। ভারতীয় ডিফেন্ডারদের তৎপরতায় গোল পায়নি। ৯ মিনিটে রানি রামপালের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। উল্টে ২২ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ভারতকে এগিয়ে দেন পেনাল্টি কর্ণার বিশেষজ্ঞ গুরজিৎ কাউর। এরপর সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।আরও পড়ুনঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধুদ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের চাপ বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া। সুযোগও তৈরি করে। কিন্তু তিনকাঠির নীচে ভারতীয় গোলকিপার সবিতা পুনিয়া অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। ভারতীয় ডিফেন্সও দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়। ম্যাচে ৭ টি পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। অলিম্পিকে সোনা জয়ের অন্যতম ফেবারিটকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস রানি রামপালদের। অলিম্পিকে ভারতের মহিলা দলের সেরা সাফল্য ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকে। সেবারই প্রথম অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ভারতীয় মহিলা হকি দল। ৬ দলের মধ্যে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিল।

আগস্ট ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌‌PV Sindhu : প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধু

টোকিও অলিম্পিকে দেশকে পদক এনে দিলেন পিভি সিন্ধু। চীনের হে বিং জিয়াংকে ২১১৩, ২১১৫ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলেন। অলিম্পিকে প্রথম ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে ব্যক্তিগত বিভাগে দুদুটি পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন সিন্ধু। সেমিফাইনালে বিশ্বের একনম্বর তারকা তাই জুর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। সেমিফাইনালে হারলেও পদক জয়ের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি পিভি সিন্ধুর। ব্রোঞ্জের সম্ভাবনা ছিল। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ের এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকার প্রতিপক্ষ ছিল হে বিং জিয়াও। অলিম্পিকে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামার আগে পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে হে বিং জিয়াও এগিয়ে ছিলেন। এর আগে এই দুই শাটলার মুখোমুখি হয়েছিলেন ১৫ বার। বিং জিয়াও জিতেছিলেন ৯ বার, আর সিন্ধু জিতেছিলেন ৬ বার। অলিম্পিকে জিতে পরিসংখ্যান কিছুটা উন্নত করলেন সিন্ধু।আরও পড়ুনঃ স্বপ্ন শেষ, অলিম্পিক থেকে বিদায় বক্সার সতীশ কুমারেরপ্রথম গেমের শুরুতেই হে বিং জিয়াওয়ের বিরুদ্ধে ৪০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন পিভি সিন্ধু। সেখান থেকে সমতা ফেরান চীনের এই তারকা। একসময় ম্যাচের ফল ছিল ৮৮। এরপর ম্যাচের ওপর আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন পিভি সিন্ধু। পরপর ৬ পয়েন্ট তুলে নিয়ে ১৪৮ ব্যবধানে এগিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ২১১৩ পয়েন্টে প্রথম গেম জিতে নেন সিন্ধু। সেমিফাইনালে তাই জুর বিরুদ্ধে যে যে ভুল করেছিলেন এই ভারতীয় শাটলার, এদিন প্রথম গেমে সেই ভুল গুলি শুধরে নেন। স্ম্যাশ, নেট প্লে, ড্রপ শট নেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন। দ্বিতীয় গেমেও সিন্ধু ধারবাহিকতা দরে রেখেছিলেন। দারুণ শুরু করে ৪১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। কিন্তু দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসেন চীনের হে বিং জিয়াও। ১১৮ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় স্কোর ১১১১ করেন। সেখান থেকে আবার ম্যাচে এগিয়ে যেতে থাকেন সিন্ধু। শেষ পর্যন্ত ২১১৫ পয়েন্টে দ্বিতীয় সেট জিতে নেন এইই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা। আরও পড়ুনঃ স্ ৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরাপ্রথম ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিকে ব্যক্তিগত বিভাগে দুদুটি পদক জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন পিভি সিন্ধু। আর ভারতীয় হিসেবে দ্বিতীয়। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন কুস্তিগীর সুশীল কুমার। তিনি ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে একধাপ ভাল করে রুপো জিতেছিলেন। অন্যদিকে পিভি সিন্দু ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।

আগস্ট ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Hockey : ‌৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরা

১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকে শেষবার পদক এসেছিল ভারতের। ৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরা। গ্রেট ব্রিটেনকে ৩১ ব্যবধানে হারিয়ে অলিম্পিক হকির সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। পদকের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হল মনপ্রীতদের। সেমিফাইনালে ভারতের সামনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম।রিও অলিম্পিকে কোয়ার্টার ফাইনালে আকাশদীপের করা গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। বেলজিয়ামের কাছে ৩১ ব্যবধানে হেরে পদকের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল। এদিন গ্রেট ব্রিটেনকে হারিয়ে স্বপ্ন পূরণের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত।আরও পড়ুনঃ কিশোর কুমারের জন্মদিনে নতুন চমক আনছেন পুত্র অমিত গ্রুপ লিগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ছাড়া গোটা প্রতিযোগিতাতেই দারুণ খেলা উপহার দিয়ে এসেছে ভারত। গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন মনপ্রীতরা। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ভারতের। ১ মিনিটেই ডি বক্সের মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন মনদীপ। কিন্তু গ্রেট ব্রিটেনের ডিফেন্ডাররা এমনভাবে ঘিরে ধরেন, গোলে শট নেওয়ার সুযোগ পাননি। ৭ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। সিমরনজিৎ সিংয়ের পাস থেকে দলকে এগিয়ে দেন দিলপ্রীত সিং। শুরুতে গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় মনপ্রীতদের। ১৬ মিনিটে শুটিং এরিয়ায় বল পেয়ে ২০ করেন গুরজন্ত সিং।আরও পড়ুনঃ স্বপ্ন শেষ, অলিম্পিক থেকে বিদায় বক্সার সতীশ কুমারেরদ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে গ্রেট ব্রিটেন। বারবার আক্রমণে উঠে এলেও ভারতীয় ডিফেন্স ভেদ করতে পারছিল না। অবশেষে ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার কাজে লাগিয়ে স্যামুয়েল ওয়ার্ড ব্যবধান কমান। ম্যাচের শেষ দিকে ভারতকে চেপে ধরে গ্রেট ব্রিটেন। একের পর আক্রমণ তুলে নিয়ে আসলেও রুপিন্দার সিংদের তৎপরতায় তিন কাঠি ভেদ করতে পারেনি। ৫৪ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখে অধিনায়ক মনপ্রীত সিং মাঠের বাইরে চলে গেলেও ছন্দ হারায়নি বারত। ৫৭ মিনিটে গ্রেট ব্রিটেনের ম্যাচে ফেরার আশা শেষ করে দেন হার্দিক সিং। প্রতিআক্রমণে উঠে এসে নীলাকান্ত শর্মার কাছ থেকে বল পেয়ে দুরূহ কোন থেকে ৩১ করেন হার্দিক। একই সঙ্গে ৪৯ বছর পর অলিম্পিক হকির সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ভারত। শেষবার সেমিফাইনাল খেলেছিল ১৯৭২ সালে। মিউনিখ অলিম্পিকের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। আর ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকে ৬টা দল অংশ নিয়েছিল। কোনও সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।

আগস্ট ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Satish Kumar : স্বপ্ন শেষ, অলিম্পিক থেকে বিদায় বক্সার সতীশ কুমারের

অলিম্পিকে পুরুষদের বক্সিংয়ে স্বপ্ন শেষ ভারতের। পুরুষদের সুপার হেভিওয়েট ক্যাটেগরিতে কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বের ১ নম্বর তারকা উজবেকিস্তানের বাখোদির জালোলভের কাছে হের পদকের স্বপ্ন শেষ ভারতীয় এই বক্সারের। মহিলাদের বক্সিংয়ে লাভলিনা বগোঁগাইয়ের হাত ধরে একটা পদক নিশ্চিত হয়েছে। সুপার হেভিওয়েট ক্যাটেগরিতে ৯১ কেজি বিভাগে প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়েছিলেন সতীশ কুমার। সরাসরি নেমেছিলেন প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জামাইকার রিকার্ডো ব্রাউনকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন সতীশ কুমার। আর এক ধাপ এগোতে পারলে দেশের হয়ে পদক নিশ্চিত ছিল সতীশ কুমারের। কিন্তু শেষরক্ষা হল না উজেবেকিস্তানের বাখোদির জালোলভের কাছে হারায়। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুবারের ব্রোঞ্জজয়ী সতীশ। প্রথম ভারতীয় হিসেবে অলিম্পিকের সুপার হেভিওয়েট ক্যাটাগরির জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন সতীশ। তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশবাসী। বক্সিংয়ে শনিবার তিনি জিতলেই আরও একটি পদক নিশ্চিত হত ভারতের। কিন্তু বাখোদির জালোলাভের কাছে ৫০ ব্যবধানে উড়ে গেলেন সতীশ। জালোলাভের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি এই ভারতীয় বক্সার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাখোদির জালোলাভের বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ড থেকেই সুবিধা করতে পারেননি সতীশ। একবার তাঁর চোখে আঘাত লাগে। ম্যাচ ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা মানসিকতা দেখিয়ে লড়াই চালিয়ে যান। যদিও পেরে ওঠেননি। সতীশ কুমারের থেকে বাখোদির জালোলাভের উচ্চতা অনেক বেশি। সেই উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বাখোদির বার বার পাঞ্চ করে যান সতীশের ওপর। বিশ্বের ১ নম্বর তারকার পাঞ্চের জবাব দিতে পারেননি সতীশ। তাড়াচে বাখোদির জালোলাভকে দেখে মনে হচ্ছিল আত্মবিশ্বাসের শিখড়ে রয়েছেন। শুরু থেকেই জয়ের বিশ্বাস নিয়েই যেন কোর্টে নেমেছিলেন ৯১ কেজি বিভাগের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বক্সার। তাঁর খেলাতেও তারই ইঙ্গিত ছিল। সারাক্ষণ একটা হাত চালিয়ে সতীশকে ডিফেন্স করতে ব্যস্ত রাখেন। অন্য হাত দিয়ে ভারতীয় বক্সারের মুখে পাঞ্চ করে যান। তাতেই ব্যাকফুটে চলে যান সতীশ কুমার।

আগস্ট ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Olympics Hockey: আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল ভারত

অলিম্পিক হকিতে এগিয়ে চলেছে ভারত। গ্রুপ লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গতবারের সোনাজয়ী আর্জেন্টিনাকে ৩১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পাশাপাশি পুল এতে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করল।একপ্রকার কঠিন গ্রুপে রয়েছে ভারত। বর্তমান বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে রয়েছে আগের অলিম্পিকে সোনাজয়ী আর্জেন্টিনা। পুলের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতলেও অস্ট্রেলিয়াআর কাছে বড় ব্যবধানে হারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরের ম্যাচে স্পেনের বিরুদ্ধে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান মনপ্রীতরা। ৩০ ব্যবধানে জিতে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল। সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এদিন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল ভারত।আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত ছিল ভারতের। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় তুলে নিলেন মনপ্রীতরা। অলিম্পিকে যাওয়ার আগে আর্জেন্টিনায় প্রস্তুতি সফরে গিয়েছিল ভারত। শেষ ম্যাচে ৪২ ব্যবধানে জিতেছিল। যদিও সেই জয়ের কথা মাথায় রেখে মাঠে নামেননি মনপ্রীতরা। গুটিয়ে না থেকে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারত। ৪ মিনিটে প্রায় ভারতকে এগিয়ে দিচ্ছিলেন দলপ্রীত। খুব কাছ থেকে নেওয়া তাঁর ফ্লিক আটকে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার। ১৫ মিনিটে ড্রিবল করতে গিয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সিমরণজিৎ সিং। ১৭ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। স্কোরিং সার্কেলের মধ্যে লুকাস রোসিকে আটকে দেন ভারতীয় ডিফেন্ডাররা। প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। যদিও ভারতের আধিপত্য বেশি ছিল।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। ৪২ মিনিটে পরপর দুটি পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রুপিন্দাররা। ৪৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বরুণ কুমার। চতুর্থ কোয়ার্টারে নাটক জমে ওঠে। ৪৮ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্ণার পায় আর্জেন্টিনা। মাইকো ক্যাসেলা গোল করে সমতা ফেরান। অনেকেই মনে করছিলেন ম্যাচ হয়তো ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে। তখনই জ্বলে ওঠেন ভারত। ৫৭ মিনিটে বিবেক প্রসাদ সাগর গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ২ মিনিট পর আবার গোল ভারতের। ৮ নম্বর পেনাল্টি কর্ণার কাজে লাগিয়ে হরমনপ্রীত সিং ৩১ করেন। ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পেয়ে পুল এতে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করল ভারত।

জুলাই ২৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Deepika Kumari : তিরন্দাজিতে পদকের আশা জাগিয়ে রাখলেন দীপিকা কুমারী

তিরন্দাজিতে একের পর এক ব্যর্থতার পর আশার আলো দীপিকা কুমারী। মহিলাদের রিকার্ভ সিঙ্গলসে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলেন এই ভারতীয় তিরন্দাজ। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৬৪ ব্যবধানে তিনি হারান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার মুসিনোফার্নান্ডেজকে। অলিম্পিকের শুরু থেকেই একের পর এক ব্যর্থতা ভারতের। মিশ্র বিভাগ, দলগত বিভাগে ব্যর্থতার পর ব্যক্তিগত বিভাগেও ব্যর্থ তরুণদীপ রাই ও প্রবীণ যাদবরা। দেশের সম্মানরক্ষার দায়িত্ব ছিল দীপিকা কুমারীর ওপর। যদিও শুরুটা ভাল হয়নি এই ভারতীয় মহিলা তিরন্দাজের। আশা জাগিয়েও প্রথম সেট হেরে যান। ২৫ পয়েন্ট (৭+৯+৯) অর্জন করতে সক্ষম হন দীপিকা। অন্যদিকে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী ২৬ পয়েন্ট নিয়ে ওই সেট জিতে যান।পরের দুই সেটে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন দীপিকা কুমারী। দ্বিতীয় সেটের প্রথম শট থেকে ৮ পয়েন্ট পেলেও দীপিকার পরের দুটি শট লক্ষ্যভেদ করে। মোট কুড়ি পয়েন্ট অর্জন করেন ভারতীয় তিরন্দাজ। ওই সেটে ২৫ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয় আমেরিকার তিরন্দাজ। তৃতীয় সেট থেকে ২৭ পয়েন্ট (১০+৯+৮) অর্জন করেন দীপিকা। সেখানে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে ওই মোকাবিলা হেরে যান মার্কিন তারকা।ম্যাচের শেষ দুই সেটে দুই প্রতিযোগীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। চতুর্থ সেটে ২৪ পয়েন্ট অর্জন করেন ভারতীয় তিরন্দাজ। তিন শট থেকে যথাক্রমে ৯, ৬ ও ৯ পয়েন্ট পান দীপিকা। অন্যদিকে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে ওই সেট জেতেন আমেরিকার তিরন্দাজ। পঞ্চম সেটে দীপিকার হাত থেকে যথাক্রমে ৯, ৯ ও ৮ পয়েন্ট আসে। ২৬ পয়েন্ট অর্জন করে ওই সেট জিতে যান ভারতীয় তিরন্দাজ। পৌঁছে যান কোয়ার্টার ফাইনালে।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Praveen Yadav : তরুণদীপের পর অলিম্পিক থেকে বিদায় প্রবীণ যাদবেরও

তিরন্দাজির ব্যক্তিগত বিভাগে প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকেও শেষরক্ষা হল না ভারতের প্রবীন যাদবের। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বের ১ নম্বর তারকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যাডি এলিসনের কাছে হেরে অলিম্পিকের ব্যক্তিগত বিভাগ থেকেও বিদায় নিলেন।প্রথম রাউন্ডে বিশ্বের ২ নম্বর রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির গালসান বাজারঝাপভকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন প্রবীন যাদব। প্রথম সেটে প্রবীন যাদব স্কোর করেন ২৯। অন্যদিকে গালসান বাজারঝাপভ করেন ২৭। প্রথম সেট ২৯২৭ স্কোরে জিতে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে যান প্রবীন যাদব। দ্বিতীয় সেটে মরিয়া হয়ে ওঠেন গালসান বাজারঝাপভ। প্রথম দুটি শটে তিনি পারফেক্ট ১০ করেন। কিন্তু শেষ শটে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। দ্বিতীয় সেটে তাঁর পয়েন্ট দাঁড়ায় ২৭। অন্যদিকে প্রবীন যাদব সংগ্রহ করেন ২৮ পয়েন্ট। ২০ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছে যান ভারতীয় এই তিরন্দাজ।আরও পড়ুনঃ একনজরে টোকিও অলিম্পিক ভিলেজের অন্দরমহলকিন্তু প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম দুটি সেটে কিছুটা লড়াই করলেও তৃতীয় সেটে জঘন্য পারফরমেন্স প্রবীন যাদবে। প্রথম সেটে বিশ্বের ১ নম্বর তারকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যাডি এলিসন করেন ২৮ (৯+১০+৯) স্কোর। অন্যদিকে প্রবীণ যাদব করেন ২৭ (৯+৮+১০)। প্রথম সেট জিতে ২০ ব্যবধানে এগিয়ে যান ব্র্যাডি এলিসন। দ্বিতীয় সেটে প্রবীণ যাদব স্কোর করেন ২৬ (১০+৯+৭)। এলিসন করেন ২৭ (৮+১০+৯)। তৃতীয় সেটে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হন ভারতীয় তিরন্দাজ। এলিসন যেখানে স্কোর করেন ২৮ (৮+৯+৯)। প্রবীণ যাদব স্কোর করেন ২৬ (৮+৮+৭)। ৬০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান ব্র্যাডি এলিসন।আরও পড়ুনঃ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে পদকের আরও কাছাকাছি পিভি সিন্ধুপ্রবীণ যাদবের আগে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেন তরুণদীপ রাই। তবে তিনি ইজরায়েলের ইটে সানির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াই করেছিলেন। প্রবীণ যাদব কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি। মিক্সড ইভেন্টে দীপিকা কুমারীর সঙ্গে জুটি বেঁধে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পুরুষদের দলগত বিভাগেও ব্যর্থতা। তিরন্দাজি থেকে পদকের আশা প্রায় শেষ ভারতের।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Tarundeep Rai : তিরন্দাজির ব্যক্তিগত বিভাগের প্রি–কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় তরুণদীপ রাইয়ের

দলগত ও মিক্সড ইভেন্টের পর ব্যক্তিগত ইভেন্টেও ব্যর্থতা শুরু হল। ব্যক্তিগত ইভেন্টের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছলেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ তরুণদীপ রাই। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ইজরায়েলের। ইটে সানির সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করেও ৬৫ ব্যবধানে হেরে অলিম্পিক থেকে বিদায় নিতে হল।দলগত ইভেন্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে ব্যক্তিগত ইভেন্টের দারুণভাবে শুরু করেছিলেন ভারতের এই অভিজ্ঞ তিরন্দাজ। রাউন্ড অফ ৩২এ তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল ইউক্রেনের ওলেক্সি হুনবিন। তাঁকে ৬৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন তরুণদীপ রাই। ওলেক্সি হুনবিনের বিরুদ্ধে সেরা ছন্দে ছিলেন তিনি।আরও পড়ুনঃ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে পদকের আরও কাছাকাছি পিভি সিন্ধুপ্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ভারতীয় এই তিরন্দাজকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছিল। আর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তরুণদীপ। প্রথম সেটে তিনটি শটে তিনি সংগ্রহ করেন ২৪ স্কোর। অন্যদিকে ইটে সানি স্কোর করেন ২৮। প্রথম সেট জিতে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন ইজরায়েলি এই তিরন্দাজ। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তরুণদীপ। ২৭২৬ ব্যবধানে জিতে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সমতা ফেরান। তৃতীয় সেটে লড়াই আরও জমে ওঠে। দুজনই স্কোর করেন ২৭। তৃতীয় সেট অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ায় দুজনই ১ পয়েন্ট করে পান। চতুর্থ সেট জিতে এগিয়ে যান তরুণদীপ রাই। দুর্দান্ত পারফরমেন্সের ভিত্তিতে তিনি স্কোর করেন ২৮। অন্যদিকে ইটে সানি স্কোর করেন ২৭। চতুর্থ সেটের শেষে তরুণদীপ ৫৩ এগিয়ে যান।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াপঞ্চম সেটে লড়াই জমে ওঠে। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষরক্ষা করতে পারেননি তরুণদীপ রাই। ২৭২৮ ব্যবধানে পঞ্চম সেটে হেরে যান। দুজনের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৫৫। কিন্তু মোট স্কোরের বিচার এগিয়ে থাকার সুবাদে ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছে যান ইজরায়েলি তিরন্দাজ। আজই পুরুষদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রবীণ যাদব ও মহিলাদের সিঙ্গলস রিকার্ভে নামবেন দীপিকা কুমারী।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌India Women Hockey : গ্রেট ব্রিটেনের কাছেও হার, অলিম্পিক থেকে কার্যত ছিটকে গেলেন রানিরা

টানা ৩ ম্যাচ হেরে অলিম্পিক থেকে কার্যত ছিটকে গেল ভারতীয় মহিলা হকি দল। পুল এর ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের কাছে রানি রামপালরা হারলেন ৪১ ব্যবধানে।প্রথম ম্যাচে হল্যান্ডের কাছে ৫১ ব্যবধানে হেরেছিল ভারতীয় মহিলা হকি দল। দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির কাছে হার ২০ ব্যবধানে। পরপর দুটি ম্যাচ হেরে অনেকটাই ব্যকফুটে চলে গিয়েছিল ভারত। পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রাখতে গেলে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে জিততেই হত ভারতকে। কিন্তু রানি রামপালরা জ্বলে উঠতে ব্যর্থ।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াম্যাচের শুরু থেকেই গ্রেট ব্রিটেনের আধিপত্য। ২ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। হানা মার্টিন গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। শুরুতেই গোল হজম করে হতদ্যোম হয়ে পড়ের রানি রামপালরা। তবে ১২ মিনিটে পরপর দুটি পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। ১৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ভারতের সামনে। নবনীত কাউর গোলের সামনে ফ্রি হিট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ২ মিনিট পরেই ব্যবধান বাড়ায় গ্রেট ব্রিটেন। সেই হানা মার্টিন আবার গোল করেন। ২৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ব্যবধান কমান গুরজিৎ কাউর।আরও পড়ুনঃ পেগাসাস স্পাইওয়্যার! ভাবের ঘরে চুরি? আপনি কতটা সুরক্ষিত? আক্রান্ত কারা?দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা খেলায় ফেরে ভারত। শুরুতেই পরপর তিনটি পেনাল্টি কর্ণারও আদায় করে। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ৪১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় গ্রেট ব্রিটেন। পেনাল্টি কর্ণার থেকে ৩১ করেন লিলি ওসলে। এখানেই ম্যাচে ফেরার আশা শেষ হয়ে যায় রানি রামপালদের। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট তিনেক আগে ডি বক্সের মধ্যে শরীর দিয়ে বল আটকালে পেনাল্টি পায় গ্রেট ব্রিটেন। গ্রেস ব্যালসডন পেনাল্টি থেকে ৪১ করেন।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

PV Sindhu : কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে পদকের আরও কাছাকাছি পিভি সিন্ধু

গ্রুপ লিগে দুটি ম্যাচেই জয়। অলিম্পিকে মহিলাদের ব্যাডমিন্টনের সিঙ্গলসে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলেন পিভি সিন্ধু। পদক জয়ের পথে এগোলেন আরও একধাপ। পিভি সিন্ধু গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দারুণ ছন্দে রয়েছেন। ভারতীয় এই ব্যাডমিন্টন তারকার ঝড়ে উড়ে গিয়েছিলেন ইজরায়েলের কেসিনিয়া পোলিকারপোভা। জে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচেও ছন্দ ধরে রাখলেন। সিন্ধু এদিন চেয়াংকে হারালেন ২১৯, ২১১৬ ব্যবধানে।আরও পড়ুনঃ শিক্ষকদের মমতার উপহার উৎসশ্রী আসলে কী? জানুনএনগান চেয়াংয়ের পক্ষে খুব বেশি প্রতিরোধ করার সুযোগ ছিল না। প্রথম গেমে এদিন চেয়াংকে দাঁড়াতেই দেননি। শুরু থেকেই ম্যাচে লিড নিতে থাকেন সিন্ধু। একসময় ৫২ ব্যবধানে এগিয়ে যান। এরপর আস্তে আস্তে লিড বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২১৯ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন সিন্ধু। দ্বিতীয় গেমে অবশ্য কিছুটা খেলায় ফেরেন এনগান চেয়ুং। সিন্ধুর সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করতে থাকেন। একসময় ৬২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন সিন্ধু। সেখান থেকে টানা ৫ পয়েন্ট তুলে নিয়ে ৭৬ ব্যবধানে এগিয়ে যান চেয়ুং। দ্বিতীয় গেমের শেষ দিকে লড়াই দারুণ জমে ওঠে। কখনও এগিয়ে যান চেয়ুং, কখনও আবার সিন্ধু। শেষ পর্যন্ত ২১১৬ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান বিশ্বে ৬ নম্বর এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা। আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াগ্রুপের প্রথম ম্যাচে ইজরায়েলের কেসিনিয়া পোলিকারপোভাকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও সহজ জয়। গ্রুপ লিগে সহজ প্রতিপক্ষ পেলেও এবার আসল লড়াই কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে পদক জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করলেন পিভি সিন্ধু। রিও অলিম্পিকে রুপো জিতেছিলেন। টোকিও থেকে সোনা নিয়ে আসার স্বপ্ন। স্বপ্নপূরণের দিকে আরও একধাপ এগোলেন।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sania Mirza : টোকিও অলিম্পিক থেকে বিদায় সানিয়া মির্জার

টোকিও অলিম্পিকে মহিলাদের ডাবলসের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিল সানিয়া মির্জাঅঙ্কিতা রায়না জুটি। ইউক্রেনের যমজ বোন নাদিয়া কিচেনক ও লিয়ুদমিলা কিচেনক জুটির কাছে হারতে হল ০৬, ৭৬ (০৭), ৮১০ ব্যবধানে। প্রথম সেটে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েও শেষরক্ষা হল না। এদিন আবার মহিলাদের সিঙ্গলসে বড় অঘটন ঘটল। মহিলাদের সিঙ্গলসের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিলেন বিশ্বের ১ নম্বর তারকা অ্যাশলে বার্টি।দারুণভাবে শুরু করেছিলেন সানিয়া মির্জা ও অঙ্কিতা রায়না। যেভাবে শুরু করেছিলেন, মনে হচ্ছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা শুধু সময়ের অপেক্ষা। ইউক্রেনের যমজ বোন নাদিয়া কিচেনক ও লিয়ুদমিলা কিচেনকে প্রথম সেটে দাঁড়াতেই দেয়নি এই ভারতীয় জুটি। ৬০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় সেটেও দারুণভাবে এগোচ্ছিলেন সানিয়া ও অঙ্কিতা। একসময় ৫২ ব্যবধানে এগিয়ে যান। জয় নিশ্চিত ধরেই সাময়িক মনসংযোগ হারিয়ে ফেলে ভারতীয় জুটি। আর সেই সুযোগেই ঘুরে দাঁড়ান নাদিয়া কিচেনক ও লিয়ুদমিলা কিচেনক। সমতা ফিরিয়ে সেট টাইব্রেকারে নিয়ে যান। টাইব্রেকারে বাজিমাত করে ইউক্রেনের এই জুটি। শেষ পর্যন্ত ৭৬ (৭০) ব্যবধানে দ্বিতীয় সেট জিতে নেন নাদিয়া কিচেনক ও লিয়ুদমিলা কিচেনক।ম্যাচের ভবিষ্যত গড়ায় টাইব্রেকারে তৃতীয় সেটে। টাইব্রেকারে একসময় ৮০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউক্রেনের জুটি। সেখান থেকে দারুণ প্রত্যাবর্তন করেন সানিয়া ও অঙ্কিতা। টানা ৭ পয়েন্ট জিতে স্কোর ৮৭ করে ফেলেন। কিন্তু ভাগ্য এদিন সহায় ছিল না সানিয়াদের। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে তৃতীয় সেট ৮১০ পয়েন্টে হারতে হয়। ৩৪ বছর বয়সে নিজের চতুর্থ অলিম্পিক খেলতে নেমেছিলেন সানিয়া। গড়েছিলেন অনন্য নজির। কিন্তু স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না টোকিও অলিম্পিক। আর প্রথমবার অলিম্পিক খেলতে নেমে হতাশই হতে হলে অঙ্কিতা রায়নাকে। এদিকে, মহিলাদের সিঙ্গলসের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিলেন বিশ্বের ১ নম্বর তারকা অ্যাশলে বার্টি। তাঁকে ৬৪, ৬৩ স্ট্রেট সেটে সারিয়ে চমক দেখালেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৪৮ নম্বরে থাকা স্পেনের সারা সরিবেস।

জুলাই ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Mirabai Chanu : টোকিও অলিম্পিকে প্রথম পদক ভারতের

কর্ণম মালেশ্বরীকে ছাপিয়ে গেলেন মীরাবাঈ চানু। ২১ বছর পর এই ভারোত্তোলকের হাত ধরে অলিম্পিক থেকে পদক এল ভারতের। টোকিও অলিম্পিকে দেশকে প্রথম পদক এনে দিলেন মীরাবাই চানু। স্ন্যাচ বিভাগে ৮৭ কেজি ভার তুলেছিলেন। ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগে ১১৫ কেজি তোলেন। মোট ২০২ কেজি ভার তুলে রুপো জেতেন মীরাবাই চানু। এই ইভেন্টে ২১০ কেজি ভার তুলে নতুন অলিম্পিক রেকর্ড গড়েছেন চীনের হাউ ঝিউই।আরও পড়ুনঃ মরণোত্তর অঙ্গদানের শপথ অভিনেতার২০০০ সিডনি অলিম্পিকে মহিলাদের ১১০ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন কর্ণম মালেশ্বরী। এটাই অলিম্পিকে মহিলাদের ভারোত্তোলকে ছিল সেরা সাফল্য। টোকিওতে মালেশ্বরীকে ছাপিয়ে গেলেন মীরাবাই চানু। রিও অলিম্পিকে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছিল। অপেক্ষায় ছিলেন টোকিও অলিম্পিকের জন্য। ৫ বছর ধরে নিজেকে তিলে তিলে তৈরি করেছেন। টোকিও থেকে যে পদক আসতে পারে, ইঙ্গিতটা আগেই পাওয়া গিয়েছিল। এবছর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১৯ কেজি ভার তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। অলিম্পিকে অবশ্য ৪৯ কেজি বিভাগের ফাইনালে ১১৫ কেজির বেশি তুলতে পারেননি।আরও পড়ুনঃ চমৎকারী শ্রীফল, জানুন নানাবিধ উপকারস্ন্যাচে মীরাবাই চানু প্রথমে তুলেছিলেন ৮৪ কেজি। পরে ৮৭ কেজি তুলে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। জাতীয় প্রতিযোগিতায় স্ন্যাচে ৮৮ কেজি তুলেছিলেন। তাই টোকিওতে ৮৯ কেজির চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। কিন্তু সফল হননি। চীনের হাউ ঝিহুই স্ন্যাচে ৯৪ কেজি তুলে নতুন অলিম্পিক রেকর্ড গড়েন। যদিও এই বিভাগে তাঁর ৯৬ কেজি ভার তোলার বিশ্বরেকর্ড আছে।আরও পড়ুনঃ গোপনে ভারত ঘেষা তিব্বত ঘুরে গেলেন চিনা প্রেসিডেন্টক্নিন অ্যান্ড জার্কে শেষ পর্যন্ত চীনের হাউ ঝিহুইকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যান। কিন্তু ঝিহুইকে টপকাতে পারননি। ঝিহুই ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তুলেছিলেন ১১৬ কেজি। মীরাবাই ১১৫ কেজিতে থেমে যান। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ২০২ কেজি (৮৭ কেজি ও ১১৫ কেজি) তোলেন মীরাবাই। ঝিহুই তোলেন ২১০ কেজি (৯৪ কেজি ও ১১৬ কেজি)। ইন্দোনেশিয়ার আইসা উইন্ডি ক্যান্টিকা ১৯৪ কেজি ভার তুলে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। মনিপুরের এই ভারোত্তোলকের সাফল্যের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

জুলাই ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Dipika Kumari: ব়্যাঙ্কিং রাউন্ডে হতাশ করে কঠিন লড়াইয়ের সামনে দীপিকা কুমারী

তাঁকে ঘিরেই অলিম্পিকে তীরন্দাজিতে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখছে ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীরা। অথচ ব়্যাঙ্কিং অথচ রাউন্ডেই সেভাবে জ্বলে উঠতে পারলেন না দীপিকা কুমারী। বিশ্বের এই এক নম্বর মহিলা তীরন্দাজ ব়্যাঙ্কিং রাউন্ডে নবম স্থানে শেষ করেন। ভারতের সামগ্রিক পারফরম্যান্স কিন্তু খুব একটা স্বস্তিতে রাখছে না। পুরুষদের দলগত ও মিক্সড টিম ক্রমতালিকাতেও ভারত নবম স্থানেই রইল এদিনের রাউন্ডের পর।আরও পড়ুনঃ টোকিওতে কেন গেমস ভিলেজে থাকছেন না ১ নম্বর মহিলা টেনিস তারকা?বিশ্বের এক নম্বর মহিলা তীরন্দাজ নবম স্থানে শেষ করলেন ৬৬৩ পয়েন্ট নিয়ে। ১ নম্বর জায়গা দখল করেছেন কোরিয়ান আন সান। ৬৮০ স্কোর করে তিনি অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ব়্যাঙ্কিং রাউন্ডে নতুন রেকর্ড গড়েছেন, আগের ৬৭৩-এর স্কোর ভেঙে। ৬৯২-এর বিশ্বরেকর্ড অবশ্য বিশ্বের ৩ নম্বর কাং চে উংয়ের ঝুলিতে, যিনি ৬৭৫ পয়েন্ট নিয়ে এদিন শেষ করেছেন তিনে। দুই নম্বরে কোরিয়ারই জাং মিনহি (৬৭৭)। আন সানের কাছেই ২০১৯ সালে টোকিও টেস্ট ইভেন্টের ফাইনালে স্ট্রেট সেটে হেরেছিলেন দীপিকা। ব়্যাঙ্কিং রাউন্ডে ৭২টি তিরের মধ্যে ৩০টি এদিন পারফেক্ট টেন বা এক্স (সেন্টারের সবচেয়ে কাছে) মারেন দীপিকা। সেখানে আন সান মারেন ৩৬টি। এই রাউন্ডের মাধ্যমেই অলিম্পিকের বাছাই ঠিক হয়। কে কার বিরুদ্ধে তা চূড়ান্ত হয় সংশ্লিষ্ট স্থানের ভিত্তিতেই। প্রথম তিনে তিন কোরীয়। । দীপিকা দশম স্থানে থাকলে ভাল হত। তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে কোরিয়ান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হত না।আরও পড়ুনঃ পেগাসাস স্পাইওয়্যার! ভাবের ঘরে চুরি? আপনি কতটা সুরক্ষিত? আক্রান্ত কারা?দীপিকা কুমারী ৫৪ স্কোরে তাঁর ফাইনাল রাউন্ড শেষ করেন। ৭২ টি শটের পর তিনি নবন স্থানে পৌঁছন। পঞ্চম রাউন্ডে দীপিকা ৫৩ পয়েন্ট স্কোর করেছিলেন। এর ফলে সেকেন্ড হাফ নিয়ে তাঁর মোট স্কোর ৬০৯। ৬৬/৭২ স্কোর একটা সময় ছিল তাঁর। এরপরই দীপিকা এই স্থানে পৌঁছে যান। এদিকে এরই মাঝে অ্যান স্যান রেকর্ড গড়ে শেষ করেন ৬৭৩ পয়েন্চে। পরের রাউন্ডে দীপিকা মুখোমুখি ভুটানের কারমার।আরও পড়ুনঃ অলিম্পিকে নামছেন জকোভিচ, গড়তে পারেন নজিরভারতের পুরুষ তীরন্দাজদের মধ্যে উজ্জ্বল এবারই প্রথম অলিম্পিকে অংশ নেওয়া প্রবীণ যাদব। তিনি ব়্যাঙ্কিং রাউন্ডের পর রইলেন অভিজ্ঞ অতনু দাস ও তরুণদীপ রাইয়ের ওপরেই। ভারত পুরুষদের দলগত ও মিক্সড টিম ব়্যাঙ্কিংয়ে রয়েছে নবম স্থানে। এর ফলে দুটি ক্ষেত্রেই ভারতকে কোয়ার্টার ফাইনালে সামলাতে হবে শক্তিশালী কোরিয়ান চ্যালেঞ্জ। অলিম্পিকের ব়্যাঙ্কিং রাউন্ডে এদিন ইউমেনোশিমা পার্কে দাপট দেখিয়েছেন কোরিয়ার তীরন্দাজরা। আটে থাকা চাইনিজ তাইপের বিরুদ্ধে অলিম্পিক অভিযান শুরু করবে ভারতের মিক্সড টিম। এই বাধা টপকালেই শেষ আটে সামনে ইতিমধ্যেই বাই পাওয়া শীর্ষ বাছাই কোরিয়া।আরও পড়ুনঃ আক্রান্ত সিন্ধু, আঙুলের নখে শোভা পাচ্ছে অলিম্পিক রিংব্যক্তিগত ব়্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ৩০-এর মধ্যে শেষ করতে পারেননি ভারতীয় তীরন্দাজরা। ব়্যাঙ্কিং রাউন্ডে মাঝামাঝি পর্যন্ত অতনু দাস ও প্রবীণ যাদব দুজনেরই স্কোর ছিল ৩২৯। এক্স কাউন্টে অবশ্য এগিয়ে ছিলেন প্রবীণ। শেষ পর্যন্ত অতনুকে তিনি পেছনে ফেলে দেন। ব়্যাঙ্কিং রাউন্ডে ৩১তম স্থানে তিনি শেষ করেন। তাঁর সংগৃহীত পয়েন্ট ৬৫৬। অতনু শেষ করেন ৩৫ নম্বরে। এশিয়ান গেমসে রুপোজয়ী তরুণদীপ রাই তৃতীয় অলিম্পিকে ব়্যাঙ্কিং রাউন্ডে ৩৭তম স্থানে। দলগত নিরিখে ভারতের স্কোর ১৯৬১।

জুলাই ২৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Tokyo Olympics : ‌অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন প্রণতি নায়েক, সুতীর্থা মুখার্জিরা

সব জল্পনার অবসান। করোনার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে অবশেষে শুক্রবার শুরু হচ্ছে টোকিও ২০২০ অলিম্পিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে ভারতের পতাকা বহন করবেন পুরুষ হকি দলের অধিনায়ক মনপ্রীত সিং ও বক্সার মেরি কম। আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের ২০ জন অ্যাথলিট ও ৬ জন কর্তা হাজির থাকবেন।আরও পড়ুনঃ দীপার দীপ জ্বালিয়ে রাখলেন বাসচালক কন্যা প্রণতিগতবছরই অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার জন্য স্থগিত হয়ে যায়। এবছরও করোনার চোখরাখানি চলতে। তা সত্ত্বেও অলিম্পিক আয়োজন থেকে পিছিয়ে যায়নি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থা। টোকিওতে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে জাপানের স্থানীয় সময় রাত ৮.৩০ মিনিটে। ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই প্রতিযোগিতা শুরু হবে। ভারতীয় সময় ভোর ৫টায় তীরন্দাজির ব্যক্তিগত ইভেন্টে নামবেন দীপিকা কুমারী। ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় নামবেন অতনু দাস, তরুণদীপ রাই, প্রবীণ যাদবরা।আরও পড়ুনঃ আবার অলিম্পিক ভিলেজে করোনায় আক্রান্ত, চিন্তিত আয়োজক কমিটিপ্রথমদিনই ইভেন্ট থাকায় অনেক ভারতীয় অ্যাথলিট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে পারবেন না। শনিবার পুরুষ হকি দলের খেলা থাকায় শুধুমাত্র অধিনায়ক মনপ্রীত সিং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন। এছাড়া মার্চপাস্টে অংশ নেবেন মণিকা বাত্রা, শরথ কমল, জি সাথিয়ান ও সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়- এই চার টেবিল টেনিস খেলোয়াড়। এছাড়া থাকবেন দেশের একমাত্র জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক, ফেন্সার ভবানী দেবী, সাঁতারু সজন প্রকাশের পাশাপাশি লাভলিনা বরগোঁহাই, অমিত পাঙ্ঘল-সহ আটজন বক্সার। জুডো, ব্যাডমিন্টন, ভারোত্তোলন, টেনিস, হকি ও শুটিংয়ের কেউ থাকছেন না পরের দিন ইভেন্ট কিংবা অনুশীলন থাকায়।আরও পড়ুনঃ টোকিও অলিম্পিকে কে হবেন ভারতের পোস্টার বয়? জানতে পড়ুনভারত মার্চ পাস্টে রয়েছে ২১তম স্থানে। যে ছয় আধিকারিক মার্চ পাস্টে থাকবেন তাঁরা হলেন শেফ দ্য মিশন বীরেন্দ্র প্রসাদ বৈশ্য। ডেপুটি শেফ দ্য মিশন প্রেম ভার্মা, টিমের চিকিৎসক ডা. অরুণ বাসিল ম্যাথু, টেবিল টেনিস দলের ম্যানেজার এমপি সিং, বক্সিং কোচ মহম্মদ আলি কামার ও জিমন্যাস্টিক্স কোচ লক্ষ্মণ শর্মা।

জুলাই ২২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Deepika Kumari : দীপিকা কি পারবেন অলিম্পিকের ভাগ্য বদলাতে?‌

টোকিও অলিম্পিকে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাথলিটের সংখ্যা কম নয়। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ১২৬ জন অ্যাথলিট প্রতিনিধিত্ব করবেন। অনেকের মধ্যেই পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় অ্যাথলিটদের মধ্যে পোস্টার গার্ল কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সম্ভাবনা বেশি দীপিকা কুমারীর। তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন দেশবাসী।আরও পড়ুনঃ ইংল্যান্ড সিরিজ কোহলিদের কাছে বড় পরীক্ষা, বলছেন ইয়ান চ্যাপেলএখনও পর্যন্ত ভারতের সবথেকে সফল তীরন্দাজ দীপিকা কুমারী। যেভাবে তিনি উঠে এসেছেন, তাঁকে কিংবদন্তীর আসনে বসিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দারুণ সাড়া জাগিয়ে শুরু করেছিলেন এই ভারতীয় তীরন্দাজ। ২০১০ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে দুদুটি সোনা। একটা ব্যক্তিগত বিভাগে, অন্যটি । দলগত বিভাগে। ওই বছরই সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন দীপিকা কুমারী। বিশ্বকাপ ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। দ্রুত পৌঁছে গিয়েছিলেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বরে। তাঁর আগে কোনও ভারতীয় বিশ্বের শীর্ষস্থানে পৌঁছননি। কঠোর মনসংযোগ দেখিয়ে নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করেছিলেন দীপিকা কুমারী। যেভাবে নিজেকে তিনি শীর্ষস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাতে অনেকেই অনুপ্রাণীত হয়েছিলেন। ২০১০ সাল থেকে ভারতের মহিলা তীরন্দাজ দল রিকার্ভে যতগুলি পদক জিতেছে, প্রত্যেকটাতেই অংশীদার ছিলেন দীপিকা। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৫টি বিশ্বকাপ পদক দীপিকা কুমারীর ঝুলিতে, তার মধে ১১টি সোনার পদক। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই তীরন্দাজ সত্যিই প্রেরণার।আরও পড়ুনঃ চুক্তিপত্রে সই না করায় প্রতিবাদের ঝড় ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে, কর্তাদের পদত্যাগ দাবিদীপিকার মূল লক্ষ্য ছিল অলিম্পিক পদক। প্রথম অলিম্পিক খেলার সুযোগ পান ২০১২ সালে, লন্ডনে। মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিতে হয়েছিল দীপিকা কুমারীকে। লর্ডসে গ্রেট ব্রিটেনের অ্যামি অলিভারের কাছে ৬২ ব্যবধানে হেরে হতাশায় ভেঙে পড়ছিলেন। ২০১৬ রিও অলিম্পিকেও সাফল্য আসেনি। মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে চাইনিজ তাইপের ট্যান ইয়াটিংয়ের কাছে ৬০ ব্যবদানে হারতে হয়েছিল। ২০১৯ নভেম্বরে ব্যাঙ্ককে এশিয়ান কন্টিনেন্টাল কোয়ালিফায়ারে সোনা জিতে টোকিও অলিম্পিকের টিকিট পেয়ে যান দীপিকা। মাঝে শীর্ষস্থান হারালেও প্যারিসে অনুষ্ঠিত স্টেজ থ্রি বিশ্বকাপে তিনতিনটি সোনা জিতে জায়গা ফিরে পেয়েছেন। টোকিও অলিম্পিকে তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে দেশবাসী। সব প্রতিযোগিতায় সাফল্য আছে। এবার অলিম্পিকের পালা। দীপিকা কি পারবেন অলিম্পিকের ভাগ্য বদলাতে?

জুলাই ১৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Tokyo Olympics : ‌আবার অলিম্পিক ভিলেজে করোনায় আক্রান্ত, চিন্তিত আয়োজক কমিটি

টোকিও অলিম্পিক শুরু হতে বেশিদিন দেরি নেই। মাত্র ৫ দিন বাকি। এর মধ্যেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ। ২৪ ঘন্টা আগেই গেমস ভিলেজে আক্রান্ত হয়েছেন দুই অ্যাথলিট ও এক সাপোর্ট স্টাফ। এবার আরও তিনজনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। গেমসে অংশ নিতে আসা সব অ্যাথলিটদের প্রতিদিন কোভিড ১৯ টেস্ট করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সংক্রমণে বাড়তে থাকায় প্রশাসনের চিন্তা বেড়েই চলেছে।আরও পড়ুনঃ তারাপীঠ যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় মৃত্যু কলকাতার যুবকের, বরাত জোরে রক্ষা বন্ধুরঅলিম্পিক আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ফুটবলার থাবিসো মোনয়ানে ও কামোহেলো মাহলাস্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দলের ভিডিও অ্যানালিস্ট মারিও মাশার কোভিড টেস্টের রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে বলে জানানো হয়েছে। সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। করোনা আক্রান্তরা আপাতত দলের ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল দলের বাকি সদস্যদের আরও একবার কোভিড টেস্ট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আয়োজক জাপানের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল দলের অলিম্পিক অভিযান শুরু। তার আগে দলের দুই ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে মেক্সিকো এবং ফ্রান্সের মতো দল।আরও পড়ুনঃ নিশীথের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নচিহ্নশুধু অ্যাথলিটরাই নন, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্য রিয়ু সেয়ুং-মিনের কোভিড ১৯ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। অলিম্পিক শুরু হতে আর মাত্র ৫দিন বাকি। গেমস ভিলেজে এভাবে ধীরে ধীরে করোনা প্রভাব বিস্তার করায় চিন্তিত আয়োজক কমিটি। জাপানে যেভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই টোকিও সহ সংলগ্ন শহরগুলিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন। তা সত্ত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না সংক্রমণ। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক অ্যাথলিট এবং সাপোর্ট স্টাফ। তাই অলিম্পিকে অংশ নিতে আসা সব অ্যাথলিটের প্রতিদিন করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জুলাই ১৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Tokyo Olympics : দুধের স্বাদ ঘোলে মিটল দীপক খাবরার, প্রথম ভারতীয় হিসেবে যাচ্ছেন অলিম্পিকে

অলিম্পিকের মঞ্চে দাপিয়ে বেড়াবেন। ছোট থেকেই মনের মধ্যে স্বপ্নের জাল বুনতেন। কিন্তু প্রাথমিক ভিত ততটা মজবুত ছিল না। তাই বড় জিমন্যাস্ট হওয়ার স্বপ্ন রাজ্য পর্যায়েই থেমে যায় দীপক খাবরার। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটতে চলেছে এই প্রাক্তন জিমন্যাস্টের। টোকিও অলিম্পিকে আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সে বিচারক হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম ভারতীয় হিসেবে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। গতবছর মার্চ মাসে টোকিও অলিম্পিকে বিচারক হয়ে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন দীপক কুমার। কিন্তু অলিম্পিক স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আশঙ্কায় ভুগছিলেন। আবার ডাক আসবে তো? এবছর এপ্রিলে আবার চিঠি ইমেল পান অলিম্পিক সংস্থার কাছ থেকে। স্বপ্নপূরণ হওয়ায় খুশি দীপক খাবরা। তিনি বলেন, গতবছর মার্চে অলিম্পিকে বিচারক হিসেবে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। কিন্তু অলিম্পিক স্থগিত হয়ে যাওয়ায় খুব টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম। আশঙ্কা হচ্ছিল, আবার ডাক পাব কিনা। এবছর এপ্রিলে আবার আমন্ত্রণ পাই। অবশেষে অলিম্পিক যাওয়ার স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হচ্ছে। খেলোয়াড় হিসেবে যাওয়ার সুযোগ পাইনি। বিচারক হিসেবে তো যেতে পারছি। আমি সত্যিই খুব খুশি। ২০০০ সালে ১২ বছর বয়সে জিমন্যাস্টিক শুরু করেছিলেন দীপক। তিনি থাকতেন গুজরাটের সুরাটে। সুরাটে সেই সময় জিমন্যাস্টিকের পরিকাঠামো একেবারেই ভাল ছিল না। তা সত্ত্বেও নিজেকে তৈরি করছিলেন। ২০০৫ থেকে ২০০৯, টানা গুজরাটের রাজ্য চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। ২০০৭ গুয়াহাটিতে জাতীয় গেমসেও অংশ নেন। তবে সাফল্য পাননি। তারপরই খেলা ছেড়ে বিচারক হওয়ার রাস্তা বেছে নেন। এই ব্যাপারে তাঁকে অনুপ্রানিত করেন তাঁর কোচ কৌশিক বেদিওয়ালা। তিনিও জিমন্যাস্টিক্সের বিচারক। ২০১০ কমনওয়েলথ গেমসই ছিল বিচারক হিসেবে দীপকের প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কনিষ্ঠ বিচারক। প্রথম ভারতীয় হিসেবে ২০১৪ এশিয়ান গেমস ও যুব অলিম্পিকে বিচারকের দায়িত্ব পান। ২০১৮তেও এই দুটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত ২০টি বড় প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন দীপক খাবরা। অলিম্পিকে পৌঁছতে ১২ বছর সময় লাগল।

জুলাই ১৩, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক বাইচুংয়ের, ‘স্থানীয় রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল! যুবভারতীর ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ফুটবল ম্যাচ। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ভারতের মাঠে নামার খবরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিতর্কও। একদিকে এই ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে বিপুল খরচ এবং দেশের ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এর জন্য ঘরোয়া ফুটবল সূচি ও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়া সরাসরি ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি মাত্র প্রদর্শনী ম্যাচের পিছনে বিপুল অর্থ খরচ না করে সেই টাকা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত। বাইচুংয়ের মতে, এমন ম্যাচের পিছনে অর্থ ব্যয় করলে তা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে উল্টে পিছিয়ে দিতে পারে।বাইচুংয়ের কথায়, ম্যাচ বয়কট করলে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় ম্যাচ আয়োজনের আগে ফেডারেশনকে আরও সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বিপুল খরচ, প্রশ্নের মুখে ঘরোয়া ফুটবলকলকাতায় ব্রাজিলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের পর্যবেক্ষক দল যুবভারতী পরিদর্শনও করেছে। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে তাদের তরফে কিছু উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া কাঠামো নিয়ে। ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইএসএলের সূচি পিছিয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্লাবগুলির প্রস্তুতি এবং গোটা মরসুমের পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে ফিফা এশিয়ান কাপের বিষয়টিও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং অন্যান্য সূচির সংঘাতের কারণে ভারত এশিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই বলেই জানানো হয়েছে।বাইচুংয়ের প্রশ্নএক ম্যাচের জন্য এত টাকা কেন?বাইচুং ভুটিয়ার যুক্তি, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের ম্যাচ নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবতে হবে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এত বড় অঙ্কের অর্থ হাতে থাকে, তবে তা আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিনিয়োগ করা যায় না কেন? তাঁর মতে, সেই বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কমনওয়েলথ গেমস বা অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।এবার পাল্টা বার্তা ব্রাজিলেরভারতীয় ফুটবল মহলে যখন ম্যাচ বয়কট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন ব্রাজিলের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে এই ম্যাচ নিয়ে কী ধরনের বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ বিশেষ চিন্তিত নয়। ম্যাচের সূচি পরিবর্তনেরও কোনও সম্ভাবনা নেই।বয়কট নিয়ে ব্রাজিলের তরফে বিশেষ মাথাব্যথা নেই বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং এই ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।এশিয়ান কাপ থেকে ভারতের নাম প্রত্যাহারের বিষয়েও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ফুটবল পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাজিলের কলকাতা সফরকে যুক্ত করার কোনও কারণ দেখছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ভারত আমাদের সমর্থন করেছে, বলছে ব্রাজিলব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে রড্রিগো কেতানোও এই ম্যাচের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুরভারত বিশ্বকাপের সময়ে ব্রাজিলকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। কলকাতায় ম্যাচ আয়োজনকে তাই শুধু বাণিজ্যিক বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে দেখছে না ব্রাজিল।ব্রাজিলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ম্যাচে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চায়। অর্থাৎ ভারতের মাটিতে এসে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সারাই তাদের লক্ষ্য নয়; বরং ভালো পারফরম্যান্স করে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় তারা।স্টিমাচের কটাক্ষেও বাড়ছে বিতর্কব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতের প্রাক্তন কোচ ইগর স্টিমাচও। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঘরোয়া লিগ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার মধ্যে এখনও প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য তৈরি হয়নি। সেই সমস্যা সমাধান না করে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজন করা হলে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য উল্টে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।অর্থাৎ একদিকে বাইচুংয়ের আর্থিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে স্টিমাচের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো নিয়ে অভিযোগসব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের ম্যাচ এখন শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ নেই।ম্যাচ হবে, বিতর্কও চলবে?একদিকে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে ভারতকে দেখার স্বপ্নে ফুটবলপ্রেমীরা উত্তেজিত। অন্যদিকে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ, বিপুল খরচ, আইএসএলের সূচি এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচেরা।ব্রাজিলের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত বার্তা স্পষ্টতারা ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত এবং সূচি বদলের কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিতর্কও। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মাঠের ৯০ মিনিট কি সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে, নাকি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নগুলি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

দুই দশকের ডুরান্ডের আক্ষেপ ঘোচানোর লড়াই, ডার্বির আগে হাবাসের মন্ত্র—‘আবেগ নয়, বুদ্ধিই শেষ কথা’

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর থেকে সময় গড়িয়েছে, বদলেছে দল, কোচ, ফুটবলারকিন্তু লাল-হলুদ শিবিরের ডুরান্ড-খরা কাটেনি। ২২ বছর পর সেই আক্ষেপ মুছে ফেলার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চে প্রতিপক্ষ আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান।রবিবারের ডুরান্ড ফাইনাল তাই শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর তাগিদ, অন্যদিকে ডার্বির অতিরিক্ত উত্তেজনাসব মিলিয়ে ম্যাচের আবহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। তবে এই আবেগকেই নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।হাবাসের কাছে ডার্বি মানেই শুধু আবেগের লড়াই নয়, বরং মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব যতই বেশি হোক, তাঁর দলকে মাঠে নেমে এটিকে একটি সাধারণ ম্যাচের মতোই খেলতে হবে।হাবাসের কথায়, ডার্বিতে আবেগ থাকবেই। কিন্তু সেই আবেগ যদি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কৌশল এবং পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। তাই তাঁর লক্ষ্য আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে প্রায় ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কোন মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে হবে, কখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং কখন কৌশল বদলাতে হবেসেই বুদ্ধিমত্তাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় ধাক্কা পিভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার। চলতি ডুরান্ডে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন বিষ্ণু। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁর গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একাধিক বার সমস্যায় ফেলেছে।বিষ্ণুকে না পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে হাবাসকে। তাঁর জায়গায় প্রথম একাদশে বিপিন সিংয়ের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ভাবনায় রয়েছেন জেসিন টিকে। ডুরান্ডেই সিআইএসএফের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নিজের দাবিও জোরালো করেছেন তিনি।শুধু বিষ্ণু নন, ফাইনালে এফিয়ংকেও পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন হাবাস। বিদেশি স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে নামা যে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে সমস্যাকে সামনে রেখে অজুহাত তৈরি করতে তিনি একেবারেই রাজি নন।হাবাসের বক্তব্য, রেফারিং, প্রতিপক্ষ কিংবা দলের কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলার না থাকার মতো বিষয়কে সামনে রেখে ম্যাচের আগে অজুহাত খোঁজা অর্থহীন। মাঠে যে ফুটবলাররা থাকবেন, তাঁদের নিয়েই সেরাটা দিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে সক্ষম।অন্যদিকে, মোহনবাগানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন লাল-হলুদ কোচ। সবুজ-মেরুন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকেই বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করেছেন হাবাস। তবে নিজের দলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের উপরও তাঁর আস্থা অটুট। ফলে ফাইনালে দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ডার্বির উত্তাপের মধ্যেও অবশ্য প্রস্তুতির ধরন বদলে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালের আগে মাঠের অনুশীলন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। হাবাসের মতে, এই মুহূর্তে আরও একটি অনুশীলনের চেয়ে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া বেশি জরুরি। গত কয়েক দিনে ম্যাচের প্রস্তুতি এবং রিকভারির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া গিয়েছে। তাই ফুটবলারদের শরীরকে তরতাজা রাখাই এখন তাঁর অগ্রাধিকার।মাঠের বদলে হোটেলেই চলবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। জিমে অনুশীলন, ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ইনডোর সেশনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবে দল।সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনাল ইস্টবেঙ্গলের কাছে একাধিক কারণে বিশেষ। ২২ বছরের ডুরান্ড-খরা কাটানোর হাতছানি, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান, আবার ২০০৪ সালের ফাইনালের স্মৃতিও ফিরছে। কিন্তু ইতিহাস কিংবা আবেগ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না হাবাস। তাঁর কাছে হিসাবটা একেবারেই সরল৯০ মিনিট মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে, সঠিক মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনও অজুহাত ছাড়াই ট্রফির জন্য লড়াই করতে হবে।২২ বছর আগের সেই জয়ের স্মৃতি কি আবারও লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে? নাকি ডার্বির মঞ্চেই ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়বেউত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ডার্বির আগে ক্লান্তি-ক্ষোভ, তবু জয়ের জেদে মোহনবাগান! ফাইনালের মঞ্চে ‘মোমেন্টাম’-কেই অস্ত্র করছেন প্যানোস

তিন বছর পর ফের ডুরান্ড কাপের ফাইনালে কলকাতা ডার্বি। রবিবারের মহারণকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। একদিকে ইস্টবেঙ্গল, অন্যদিকে মোহনবাগানদুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ট্রফির পাশাপাশি সম্মানের প্রশ্নও জড়িয়ে। কিন্তু ফাইনালের আগে দুই দলের প্রস্তুতির ছবিটা একেবারেই এক নয়। বিশেষ করে শিলং থেকে কলকাতায় ফিরে আসার ধকল এবং ঠাসা সূচি নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস।সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে শিলং লাজংকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে মোহনবাগান। একইভাবে পেনাল্টি শুটআউটে জয় পেয়েছে ইস্টবেঙ্গলও। তবে লাল-হলুদ শিবিরের তুলনায় সবুজ-মেরুনের সমস্যা বেশি। কলকাতায় ম্যাচ খেলে ইস্টবেঙ্গল যেখানে ঘরের পরিবেশেই প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছে, সেখানে শিলং থেকে কলকাতায় ফেরার পথেই মোহনবাগান ফুটবলারদের পেরোতে হয়েছে নানা ঝক্কি।এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ম্যাচের ঘনঘটা। মাত্র ছদিনের মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে মোহনবাগানকে। ফলে অনুশীলন এবং বিশ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় সময় প্রায় মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের প্রস্তুতি কতটা ব্যাহত হয়েছে, তা নিয়ে কোনও রাখঢাক করেননি প্যানোস।গ্রিক কোচের বক্তব্যে স্পষ্ট, সূচি নিয়ে তাঁর অসন্তোষ যথেষ্ট গভীর। গ্রুপ পর্বে সবার উপরে থাকার পরেও তাঁর দলকে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, তা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। প্যানোসের কথায়, গ্রুপ পর্বে সেরা দল হওয়ার পরও তাঁদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তাতে তিনি এবং দলের ফুটবলাররা হতাশ।শুধু ম্যাচ খেললেই যে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয় না, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন মোহনবাগান কোচ। তাঁর বক্তব্য, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে ম্যাচ খেলে পরের ম্যাচের জন্য তৈরি হয়ে যাওয়া যায় না। শিলংয়ের ম্যাচের পর দলের অনুশীলনের সুযোগও হয়নি। ফলে ফুটবলারদের শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি ম্যাচের আগে কৌশলগত প্রস্তুতির ঘাটতিও থাকছে।তবে সমস্যার কথা বললেও ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি নেই প্যানোসের। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিকে সরিয়ে রেখে ফাইনালের মঞ্চে জয়ের জন্যই দলকে প্রস্তুত করছেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে মোমেন্টাম। ম্যাচের শুরু থেকে ছন্দ নিজেদের দখলে রাখতে পারলে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব।এবারের ডুরান্ডে মোহনবাগানের অভিযানও শুরু হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই সেই জয় ফাইনালের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে। কিন্তু প্যানোস অতীতের ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর মতে, গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আর ফাইনাল সম্পূর্ণ আলাদা। এবার এমন একটি ম্যাচ, যার পর আর পরের ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ নেইজিততেই হবে।মোহনবাগানের শক্তি বাড়িয়েছে বিদেশি ফুটবলারদের যোগদানও। নতুনদের নিয়ে আশাবাদী কোচ। তবে ফাইনালের মতো ম্যাচে শুধুমাত্র অভিজ্ঞতাই যে জয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে দলগত পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের মুহূর্তকে কাজে লাগানোই আসল।আর সেই দলগত লড়াইয়ের অন্যতম বড় ভরসা গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। পরপর দুই ম্যাচে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি বাঁচিয়ে মোহনবাগানকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোচ। বিশালের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ প্যানোস তাঁকে দেশের সেরা গোলরক্ষকদের একজন বলেই মনে করছেন।অন্যদিকে রবিবারের ডার্বি নিয়ে প্রবল উত্তেজিত মোহনবাগানের নতুন মুখ সমীর জেলকোভিচও। সবুজ-মেরুন জার্সিতে এটি তাঁর তৃতীয় ম্যাচ, আর কেরিয়ারের প্রথম কলকাতা ডার্বি। ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচের অংশ হতে পারাকে তিনি গর্বের বলে মনে করছেন। তবে শুধু ডার্বি খেলার অভিজ্ঞতা নয়, ট্রফি জিতেই সমর্থকদের সঙ্গে উৎসবে মাততে চান তিনি।দলে দেরিতে যোগ দিয়েও সতীর্থদের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন সমীর। মজার বিষয়, ইস্টবেঙ্গলের দানি র্যামিরেজের সঙ্গেও তাঁর আগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে ডার্বির প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারকে তিনি বেশ ভালোভাবেই চেনেন। তবে মাঠে বন্ধুত্বের কোনও জায়গা থাকবে নালক্ষ্য একটাই, মোহনবাগানের জয়।সব মিলিয়ে ডুরান্ড ফাইনালের আগে মোহনবাগানের সামনে রয়েছে এক অদ্ভুত সমীকরণ। একদিকে ক্লান্তি, ভ্রমণের ধকল, অনুশীলনের ঘাটতি এবং সূচি নিয়ে কোচের ক্ষোভ; অন্যদিকে ডার্বির উত্তেজনা, আত্মবিশ্বাস এবং ট্রফি জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে কোন দল নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারে, তার উপরই নির্ভর করবে ডুরান্ডের মুকুট কার মাথায় উঠবে। আর প্যানোসের বার্তা একেবারে পরিষ্কারঅজুহাত নয়, ডার্বিতে চাই ১০০ শতাংশ লড়াই এবং জয়।

আগস্ট ২২, ২০২৬
রাজ্য

পাহাড় নিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে বিমল গুরুংদের দীর্ঘ বৈঠক, তৈরি হল ‘শাহী নকশা’! গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?

পাহাড়ের উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন বিমল গুরুং, রোশন গিরি-সহ পাহাড়ের নেতারা। শনিবার দার্জিলিংয়ে এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। পাহাড়ের উন্নয়ন, কর্মসংস্কৃতি, পর্যটন এবং দীর্ঘদিনের গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।উত্তরবঙ্গ সফরে থাকা অমিত শাহ শনিবার দার্জিলিংয়ে পৌঁছন। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, গোর্খা নেতা বিমল গুরুং এবং রোশন গিরি-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দেন। পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন পর এই ধরনের ত্রিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ায় বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।পাহাড়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে অতীতে একাধিকবার আন্দোলন হয়েছে। সেই আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়েছে দার্জিলিং, এমনকি রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছে। এবার পাহাড়ের উন্নয়ন এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বৈঠকে পাহাড়ের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গতি আনার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়, তা নিয়েও মত বিনিময় হয়েছে।বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পাহাড়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ। গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে আগামী দিনে কী আলোচনা হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে বৈঠক থেকে এখনই গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। বরং সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পাহাড়ের সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়েছে।পাহাড়ের সমস্যাগুলি নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক পঙ্কজকুমার সিং। কমিটিতে আর কারা থাকবেন, কত জন সদস্য থাকবেন, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।অমিত শাহ জানিয়েছেন, সাংবিধানিক পথেই পাহাড়ের সমস্যার সমাধান করা হবে। পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের উন্নয়ন নিয়েও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। পাহাড়ে উন্নয়নের গতি বাড়ানো এবং প্রশাসনিক সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।বৈঠকে পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য গোর্খা টেরিটোরিয়াল প্রশাসনকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আগের সরকারের সময়ে পাহাড়ের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। নতুন সরকারের আমলে সেই সমস্যাগুলি কাটিয়ে উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।বিমল গুরুং এবং রোশন গিরিরাও সাংবিধানিক পথেই পাহাড়ের সমস্যার সমাধানের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে এই বৈঠকের পর পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আগস্ট ২২, ২০২৬
কলকাতা

নোটিস নয়, অনিয়ম দেখলেই হোটেল সিল! মির্জা গালিব স্ট্রিটের আগুনের পর বড় নির্দেশ অগ্নিমিত্রার

কলকাতায় বেআইনি হোটেল নিয়ে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কয়েক দিন আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি হোটেল ও অতিথিশালা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেলগুলি পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী জানান, শুধু নোটিস দিয়ে আর কাজ চালানো হবে না। অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজনে সরাসরি হোটেল সিল করে দেওয়া হবে।অগ্নিকাণ্ডের পর ধর্মতলা এলাকায় ইতিমধ্যেই ১৬টি হোটেল সিল করেছে দমকল। আরও ২৫টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার মার্কুইজ স্ট্রিটের বিভিন্ন হোটেল ঘুরে দেখেন অগ্নিমিত্রা। সেখানেই তিনি বেআইনি হোটেলের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের কথা জানান।মন্ত্রী বলেন, শুধু নোটিস দিয়ে কোনও লাভ হচ্ছে না। কোনও হোটেলে অনিয়ম ধরা পড়লে সেখানে অতিথিরা থাকলে তাঁদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। তার পরেও প্রয়োজন হলে হোটেল সিল করে দেওয়া হবে। তবে সমস্ত কাগজপত্র নিয়মমাফিক থাকলে পরবর্তী সময়ে সেই হোটেল আবার খোলার সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি।শহরে এত দিন ধরে কী ভাবে বেআইনি ভাবে হোটেল ও অতিথিশালা চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অগ্নিমিত্রা। এই বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি কাজকে আর কোনও ভাবেই নিয়মে পরিণত করা যাবে না।অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা যাতে ফের না ঘটে, তার জন্য শহরের হোটেলগুলির নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা জরুরি। কোনও হোটেলে নিয়মের ব্যত্যয় ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশই দিয়েছেন তিনি।অগ্নিমিত্রা বলেন, নোটিসে কোনও কাজ হয় না। অতিথি থাকলে ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। তার পর সিল করে দিন। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে তখন আবার খুলে দেওয়া যাবে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
দেশ

পাকিস্তান থেকে চলত সিম, বাংলাদেশে পৌঁছত হাওয়ালার টাকা! দিল্লিতে ধৃত শিলিগুড়ির প্রদীপ্তকে ঘিরে বড় রহস্য

দিল্লি থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে শিলিগুড়ির বাসিন্দা প্রদীপ্তকুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের দাবি, প্রদীপ্ত হাওয়ালা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পৌঁছে দেওয়া হত বলে অভিযোগ। সেই টাকা পরে পাকিস্তানি গুপ্তচর এবং তাদের সহযোগীদের কাছে পৌঁছত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তদন্তকারীদের নজরে আসার পর প্রদীপ্তের কাছ থেকে একটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। সেই সিমটি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হত বলে প্রাথমিক তদন্তে দাবি তদন্তকারীদের। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সিম কার্ডটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই সিমের মাধ্যমে কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হত এবং এর সঙ্গে হাওয়ালা চক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীদের দাবি, প্রদীপ্ত বর্তমানে দিল্লিতে থাকলেও তাঁর শিকড় শিলিগুড়িতে। নেপালকে করিডোর করে উত্তরবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত হাওয়ালার একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে থাকা কয়েক জনের সহযোগিতায় এই লেনদেন চলত কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।তদন্তকারীদের আরও দাবি, হাওয়ালার টাকার হিসাব মেলাতে প্রদীপ্তকে মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশে যেতে হত। সেই সূত্র ধরেই তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। এরপর তাঁর মোবাইল এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখে একাধিক বিষয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।প্রদীপ্তের সঙ্গে জাল নোট এবং সিম পাচার চক্রেরও যোগাযোগ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তবে এই অভিযোগগুলির কোনওটিই এখনও আদালতে প্রমাণিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলেই জানিয়েছে তদন্তকারী দল।অন্যদিকে, জাল নোট এবং সিম কার্ড পাচারের অভিযোগে ইসলামপুর থেকে গ্রেপ্তার ফজলে রাব্বি সিদ্দিকিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারীরা। শুক্রবার তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। ফজলে রাব্বি ইসলামপুরের তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি জাকির হোসেনের ভাই।ইসলামপুরের পাটাগোরা গ্রাম থেকে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ফজলে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সাপের বিষ পাচারের একটি মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রদীপ্তের সঙ্গে ফজলে রাব্বির কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনও যোগসূত্র থাকলে তার মাধ্যমে হাওয়ালা, জাল নোট এবং সিম পাচারের চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। প্রদীপ্তের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সিমের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের দিকেই এখন নজর তদন্তকারীদের।

আগস্ট ২২, ২০২৬
রাজ্য

ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় শওকত মোল্লার উপর আরও চাপ! চারজনের বিরুদ্ধে ইউএপিএ চাইল এনআইএ

ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা-সহ চারজনের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন প্রয়োগের আবেদন করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে বিচারক অনুপম মাইতির এজলাসে এই আবেদন করা হয়।জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি দেবাশিস মল্লিক চৌধুরি আদালতে আবেদন জানান। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারা প্রয়োগের আর্জি জানানো হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। এই আবেদন ঘিরে ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় নতুন করে চাপ তৈরি হল শওকত মোল্লা-সহ চার অভিযুক্তের উপর।চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় বোমা তৈরির কাজে যুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আরও এক জন গুরুতর আহত হন। ঘটনার তদন্তে নামে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের সময় শওকত মোল্লার নাম উঠে আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের।বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শওকত মোল্লাকে খুঁজছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। পরে সোনারপুরের কামালগাজি সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরিবারের দাবি ছিল, আত্মসমর্পণ করতে যাওয়ার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।গ্রেপ্তারের ৮৭ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই চার্জশিটে শওকত মোল্লাকেই বিস্ফোরণ মামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। মোট চারজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তদন্তকারীদের অভিযোগ, বোমা তৈরির কাজ শওকত মোল্লার নির্দেশেই চলছিল। বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যও তাঁর মোবাইল ফোন থেকে এলাকায় একাধিক নির্দেশ গিয়েছিল বলে দাবি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার। শওকতকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি।জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত চারজনের মধ্যে শওকত মোল্লাই ছিলেন মূল চক্রান্তকারী। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।এবার সেই মামলাতেই আরও কড়া আইনের ধারা প্রয়োগের আবেদন করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালত এই আবেদনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলের।

আগস্ট ২২, ২০২৬
রাজ্য

মুখ থেঁতলানো, শরীরে একাধিক ক্ষত! নিউটাউনে বস্তাবন্দি যুবকের দেহ ঘিরে রহস্য

নিউটাউনের স্বামীজি নগরে বস্তাবন্দি যুবকের দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। মৃতের নাম সৌরভ বিশ্বাস। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩২ থেকে ৩৫ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুতিন দিন আগেই তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মুখও থেঁতলানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।শনিবার সকালে স্বামীজি নগর এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় যুবকের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইকো পার্ক থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে মৃতের পরিচয় জানা যায়নি। পরে পুলিশ জানতে পারে, তাঁর নাম সৌরভ বিশ্বাস।তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক ভাবে ফুটেজে দেখা গিয়েছে, এক যুবক কাঁধে করে বস্তাবন্দি একটি দেহ নিয়ে এসে একটি দাঁড়িয়ে থাকা বাইকের পিছনে রেখে যায়। এরপর দেহের উপর ইট চাপা দিয়ে সে সেখান থেকে চলে যায়। রাতের অন্ধকারের কারণে ওই যুবকের মুখ স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাত প্রায় চারটে কুড়ি নাগাদ ওই যুবক সেখানে এসেছিল। দেহ ফেলে যাওয়ার পর প্রায় এক মিনিট সেখানে দাঁড়িয়েছিল সে। এরপর বাইকটি রেখে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। সকালে বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের শরীরে একাধিক ট্যাটু রয়েছে। তাঁর শরীরে বেশ কয়েকটি ক্ষতও পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সৌরভ প্রায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। ফলে নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, মৃতের পরিচয় এবং গত কয়েক দিনের তাঁর গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে বা কারা তাঁকে হত্যা করল এবং কেন দেহটি বস্তায় ভরে নিউটাউনে ফেলে যাওয়া হল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal