• ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Tmc

রাজ্য

‘ঝরা পাতা তৃণমূলে নয়’, কংগ্রেসের ‘বটগাছের’ ছায়ায় আসার ডাক অধীরের

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে হয়েছে। মমতা শিবিরের জন্য ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য খাম প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জোড়াফুল প্রতীক ও দলের পুরনো নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন।এই পরিস্থিতির মধ্যেই নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানান। রেজিনগর নিয়ে অবশ্য মমতার শিবিরের অবস্থান তখনও স্পষ্ট ছিল না।নন্দীগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল বা তৃণমূলের অন্য কোনও শিবিরের পরিবর্তে কংগ্রেসের পাশে আসা উচিত বিরোধীদের।অধীর বলেন, কংগ্রেস একটি বটগাছের মতো এবং তৃণমূল সেই বটগাছের ঝরা পাতা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করতে চান, তাঁদের কংগ্রেসের ছায়ায় আসা উচিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপি-বিরোধী ভোটার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে কংগ্রেসের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।তৃণমূলের নতুন প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করেন অধীর। তাঁর কথায়, মমতার শিবির ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক পেয়েছে এবং অন্য শিবির পেয়েছে খাম। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনাকেও তিনি তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে তুলে ধরেন। রেজিনগর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তবে সঞ্চিতা প্রধান দে কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন, সেই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ওই সাক্ষাৎ এবং তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।এর পর নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। মমতা জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হয়েছেন অধীর। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন এবং কমিশনকে বিজেপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন। তবে এটি অধীররঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ প্রতিনিধি দাবি করায় উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের কংগ্রেসকে সমর্থনএই তিনটি ঘটনা ঘিরে উপনির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রেজিনগরেও শেষ পর্যন্ত কী ছবি দেখা যাবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

খাম নিয়ে নতুন সংঘাত, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পথে আইএসএফ? কী বললেন নওশাদ

ঘাসফুল আপাতত বাইরে। নতুন নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস, আর প্রতীক খাম। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন বিতর্কে জড়াল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। কারণ, খাম প্রতীকটি আগে থেকেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই ভোটে লড়ার দাবি করেছে আইএসএফ। এবার সেই প্রতীকই ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নাম হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে খাম। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে আলাদা নাম ও প্রতীক। পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহার করা যাবে না।কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের নতুন প্রতীক সামনে আসার পরেই আপত্তি তোলে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, ২০২১ সাল থেকেই তাঁদের দল খাম প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়ছে। চলতি বছরেও ওই প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সেই পরিস্থিতিতে একই প্রতীক অন্য একটি দলকে কী ভাবে দেওয়া হল?শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নওশাদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গত ১০ মার্চ আইএসএফের খাম প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই ঋতব্রত শিবিরকে একই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।নওশাদ জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আইএসএফকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এই অভিযোগ নওশাদ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও ষড়যন্ত্রের কথা জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির অবশ্য নতুন প্রতীক নিয়ে সন্তুষ্ট। নন্দীগ্রামের ওই শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, তাঁরা খাম প্রতীক পেয়েছেন এবং সেই প্রতীক নিয়েই প্রচারে নামবেন। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন, আইএসএফের দাবি নির্বাচন কমিশন কী ভাবে বিবেচনা করবে এবং নন্দীগ্রামের ভোটে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কোন প্রতীকে লড়বেন। ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে কমিশন। এখন নওশাদ সিদ্দিকীর আপত্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে’, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ নিয়ে সরব শুভঙ্কর সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ফুল-ঘাস ফ্রিজ করে দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করলেন, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে টালবাহানা করে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও সংরক্ষিত ফুল-ঘাস প্রতীক আপাতত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।এই পরিস্থিতিতে শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই বিতর্কের সমাধান করা। কিন্তু মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর, স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ থাকে।কংগ্রেস সভাপতির মতে, ভারতের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। তাঁর কথায়, এই বহুদলীয় ব্যবস্থাই ভারতের বহুত্ববাদের প্রতিফলন। কংগ্রেস বরাবরই এই বহুত্ববাদে বিশ্বাসী।শুভঙ্কর সরকার মহারাষ্ট্রে শিবসেনার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গেও তৈরি করা হচ্ছে।তবে তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জায়গাটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মতাদর্শগত লড়াই থাকবেসংসদীয় গণতন্ত্রে এটাই কাম্য। কাউকে পরাজিত করতে হলে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই করব। কাউকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, সেটা বাংলার মানুষ তাঁদের ভোটের রায়ের মাধ্যমে করবেন।এরপরই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, আজ আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে। তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার খেলায় নেমেছে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ইঙ্গিত।একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই চলেছে এবং চলবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় দখল এবং রাজ্যে অপশাসনের অভিযোগও তোলেন তিনি।তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী পরিচয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কংগ্রেস মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার।শেষে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচন কমিশনের এই দলদাসসুলভ আচরণ গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

নিজে আঁকা জোড়াফুলই এখন হাতছাড়া! মমতাকে ঘিরে বিস্ফোরক তোপ রাহুলের, পাশে কেজরিওয়াল

নিজের হাতে আঁকা সেই জোড়াফুল প্রতীকই আপাতত ব্যবহার করতে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই পক্ষকেই পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে। এই সিদ্ধান্তের পরেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধীদের একাংশ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দল ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, শিবসেনা ও এনসিপির পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, একটি রাজনৈতিক দলই যদি চুরি হয়ে যেতে পারে, তা হলে কোটি কোটি মানুষের ভোট চুরি হওয়ার আশঙ্কাকেও অবিশ্বাস করার কারণ নেই।রাহুল আরও অভিযোগ করেছেন, ভোট চুরি এবং সরকার চুরির পর এবার দল চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হওয়া উচিত জনমত রক্ষা করা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কমিশন সেই ভূমিকা পালন করছে না। উল্লেখ্য, এগুলি রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে সমান সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।অন্যদিকে, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হয়েছেন আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনকে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তকে জন্মদিনের উপহার বলে কটাক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, এই ভাবে কি নির্বাচনে জিততে চাইছে বিজেপি?বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন জানায়, আপাতত কোনও পক্ষই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম এবং কমিশনের নির্ধারিত তালিকা থেকে বিকল্প প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।অর্থাৎ, আসন্ন উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকোনও পক্ষই পুরনো তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে পারবে না। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। দলের আসল নাম ও প্রতীক কোন পক্ষ পাবে, সেই বিষয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জোড়াফুল প্রতীকের ইতিহাস অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গেই গভীর ভাবে যুক্ত। বিভিন্ন পুরনো প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির সময় মমতা নিজেই জোড়াফুলের নকশা এঁকেছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি দলের প্রতীকের জন্য প্রথম জোড়াফুল আঁকেন বলে পুরনো সংবাদ প্রতিবেদনেও উল্লেখ রয়েছে।এই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে প্রতীক তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে, সেই প্রতীক নিয়েই এখন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দাবি-পাল্টা দাবি চলছে। আর নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে সেই জোড়াফুল আর দেখা যাবে না।তবে রাহুল গান্ধী বা অরবিন্দ কেজরিওয়াল মমতার পাশে দাঁড়ানোর যে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, তা থেকে আগামী দিনে বিরোধী দলগুলির মধ্যে কী ধরনের সমন্বয় তৈরি হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। জোড়াফুল বিতর্ককে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন চাপানউতোর তৈরি হয়েছে, তার পরবর্তী পর্বে নজর থাকবে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আসন্ন উপনির্বাচনের দিকে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

জোড়াফুল গেল! ঋতব্রতদের নতুন দলের নাম কী, কমিশনে জমা পড়ল তিন প্রতীকের প্রস্তাব

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে বিকল্প নাম ও প্রতীকের আবেদন করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত শিবিরের তরফে দুটি সম্ভাব্য দলের নাম এবং তিনটি সম্ভাব্য প্রতীকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ঋতব্রত শিবিরের পছন্দের দুটি নাম হল জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। এই দুটির মধ্যে যে কোনও একটি নামে উপনির্বাচনে লড়তে চায় তারা। প্রতীক হিসেবে খাম, টর্চ এবং ব্ল্যাকবোর্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য নাম ও প্রতীকের তালিকা চেয়েছিল। সেই মতো দলের তরফে দুটি নাম এবং তিনটি প্রতীকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন নাম এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের দাবিদার কে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে নথি জমা দিয়েছে। কমিশন দুই পক্ষের বক্তব্যও শুনেছে।এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আপাতত কোনও পক্ষকেই মূল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়তে হতে পারে।৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। দুই শিবিরই ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কিন্তু কোন নামে এবং কোন প্রতীকে প্রার্থীরা ভোটে লড়বেন, তা এখনও কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব কমিশনে পাঠিয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে এখন নজর রয়েছে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের ঘোষণার দিকে।সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ডের প্রস্তাব এবং সম্ভাব্য দুই দলের নাম নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন নাম এবং কোন প্রতীক বরাদ্দ হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

মমতার দলের নামেও এবার ‘মমতা’! কমিশনে গেল তিন প্রস্তাব, কী বদল আসছে?

ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে ভাবতে হয়েছে। কমিশন আপাতত কোনও পক্ষকেই মূল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনের আগে দুই শিবিরের কাছেই নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের তরফে নির্বাচন কমিশনে বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য তিনটি নামের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নামগুলির মধ্যে রয়েছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা এবং তৃণমূল কংগ্রেস মমতা। তবে এগুলির কোনওটিই এখনও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদিত নাম নয়।প্রতীক নিয়েও মমতা শিবিরে চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রতীক হিসেবে ফুটবল খেলোয়াড়ের ছবি এবং ক্রিকেট ব্যাটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের খেলা হবে স্লোগান ব্যাপক ভাবে আলোচনায় এসেছিল। সেই রাজনৈতিক স্মৃতির সঙ্গে নতুন প্রতীকের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা অবশ্য শিবিরের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও নির্বাচন কমিশনের কাছে বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছে জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক হিসেবে খাম, টর্চ এবং ব্ল্যাকবোর্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।অর্থাৎ, এক দিকে মমতা শিবিরের সম্ভাব্য নামের মধ্যে নিজের নাম রাখার চেষ্টা এবং খেলার সঙ্গে যুক্ত প্রতীকের প্রস্তাব, অন্য দিকে ঋতব্রত শিবিরের জাতীয়তাবাদী বা গণতান্ত্রিক তৃণমূলের মতো নামদুই পক্ষের প্রস্তুতিতেই আলাদা পরিচয় তৈরির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন নাম এবং কোন প্রতীক বরাদ্দ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।এর মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠক করার সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক মহলে নজর কেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর শিবির আপত্তি জানিয়েছে। সেই অবস্থানের মধ্যেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবিরও কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। দুই শিবিরের জমা দেওয়া নাম ও প্রতীক খতিয়ে দেখার পর কমিশন কোন পক্ষকে কোন নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের, ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠীকেউই আসন্ন উপনির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা দলের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে প্রতীক সংক্রান্ত নির্দেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিবেচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক পরিচয় এবং আলাদা নির্বাচনী প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীকেই তিনটি করে পছন্দের দলের নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের বিকল্প জানাতে বলা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে সেই তালিকা জমা দিতে হবে। এরপর কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে দলীয় নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে।ততদিন পর্যন্ত উপনির্বাচনে কোনও গোষ্ঠীই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

‘সংসদেও একসঙ্গে নয়’, কংগ্রেসকে নিয়ে মমতার বড় ঘোষণা! বদলাচ্ছে বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ?

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেসের সম্পর্কের টানাপড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই কেন্দ্রে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত সাড়া দেয়নি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা নিজে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে সমন্বিত ভাবে লড়াইয়ের কথা আলোচনায় আসে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। দলের রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্য ছিল, দুই কেন্দ্রে তাদের নিজেদের প্রার্থীদের সমর্থন করা উচিত তৃণমূলের।কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগে তৃণমূল কংগ্রেসের তাদের প্রার্থীদের সমর্থন করা উচিত। ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক লড়াই রয়েছে এবং সেই সময় দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও তাঁর বক্তব্যের কথা প্রকাশিত হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, ভবিষ্যতে সংসদের ভিতরে বা বাইরে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে আর কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে থাকবে না তৃণমূল কংগ্রেস।তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস যদি শুধুমাত্র বাংলার স্থানীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলে, তা হলে সংসদে তৃণমূলের সঙ্গে একসঙ্গে চলার বাধ্যবাধকতা নেই।অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফিকে প্রার্থী করেছে দল।কালীঘাট তৃণমূলও দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে।নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর বিধায়ক পদ ছাড়ার পর। অন্যদিকে রেজিনগরেও বিধায়ক পদ শূন্য হওয়ায় ভোট হচ্ছে। ফলে পুজোর আগে এই দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর তৃণমূল ও কংগ্রেসের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা এখন নজরে। বিশেষ করে সংসদে দুই দলের সমন্বয় এবং আগামী দিনের নির্বাচনে কোনও ধরনের সমঝোতা হবে কি না, মমতার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। তবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

প্রতীক না মিললে প্রচারেই যাবেন না মমতা? নন্দীগ্রাম-রেজিনগর ভোটের আগে বড় বার্তা

পুজোর আগেই রাজ্যে ফের ভোটের দামামা। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের প্রতীক-জট নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। তার মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।সূত্রের খবর, দলীয় বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রচারে যাবেন না। যদিও এটি এখনও তাঁর প্রকাশ্য ঘোষণা নয়। ফলে উপনির্বাচনের প্রচারে মমতার ভূমিকা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দুই শিবির আলাদা ভাবে প্রার্থী দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও দুই কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে একই দলের দুই শিবিরের প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।প্রতীক নিয়ে এই টানাপড়েনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দুই পক্ষের একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। কমিশনের কাছে দুই শিবিরই নিজেদের দাবি ও নথি জমা দিয়েছে। কিন্তু জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে মনোনয়ন পর্বের পাশাপাশি প্রতীক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।এই পরিস্থিতিতে রেজিনগরের কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে জট না কাটলে মমতা প্রচারে আসবেন না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। এই বক্তব্যের পরই মমতার প্রচার নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘিরে একাধিক পরিচিত নেতাকে দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। নন্দীগ্রামে ওই শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এতেসামূল হকের মনোনয়ন কর্মসূচিতেও দলীয় নেতাদের উপস্থিতি ছিল। ফলে দুই শিবিরের সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।কালীঘাট শিবিরের নন্দীগ্রাম প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র মনোনয়ন ঘিরে জেলার নেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক ভাবে কম ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। তবে এই উপস্থিতির ভিত্তিতে দলের চূড়ান্ত প্রচার কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।এরই মধ্যে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে বিজেপিও প্রচার শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থীর হয়ে মনোনয়ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তিনি উপনির্বাচনে তৃণমূলের ফল নিয়ে নিজের দাবি জানিয়েছেন। তবে সেটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।নন্দীগ্রাম আসনটি বরাবরই রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর হাইভোল্টেজ লড়াই হয়েছিল। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়ে পরে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রেজিনগরেও একই ভাবে বিধায়ক পদ খালি হওয়ায় উপনির্বাচন হচ্ছে।এখন মূল নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। জোড়াফুল প্রতীক কোন শিবির পাবে, দুই পক্ষকে একই প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, নাকি অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবেতা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের লড়াইয়ের সমীকরণও বদলাতে পারে।সব মিলিয়ে ৬ অক্টোবরের ভোটের আগে তৃণমূলের প্রতীক-জট এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে নামা না-নামা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং দুই শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

প্রতীক কার? তার আগেই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঋতপন্থী তৃণমূলের, বাড়ল টানটান উত্তেজনা

প্রতীক নিয়ে জটিলতার মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতপন্থী তৃণমূল। সোমবার সন্ধ্যায় দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। নন্দীগ্রামে এহেতাশ মুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখকে প্রার্থী করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির।উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। এক দিকে রয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল। ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই তৃণমূলের ভোটের লড়াই কতটা তীব্র হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।এই পরিস্থিতিতে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলও ইতিমধ্যে দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। ফলে দুই শিবিরের প্রার্থী ঘোষণার পর উপনির্বাচনের অঙ্ক আরও জটিল হয়েছে।এরই মধ্যে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। কে দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি দলের আর্থিক সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আইনি লড়াই চলছে।নন্দীগ্রাম নিয়ে অবশ্য আলাদা করে জল্পনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল, এই কেন্দ্রে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতে পারেন। ঋতপন্থী তৃণমূলের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁরা নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেবেন না। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না আসায় সোমবার ঋতপন্থী শিবির প্রার্থী ঘোষণা করে।প্রার্থী ঘোষণার পর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রতীকের প্রশ্ন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে তাঁদের দাবি। সেই কারণেই উপনির্বাচনে জোড়া ফুল প্রতীকেই লড়াই করবেন তাঁরা। নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।অন্য দিকে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলও জোড়া ফুল প্রতীকেই নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে। ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে দুই শিবিরই কি একই জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামবে?ঋতব্রত শিবির জানিয়েছে, ১৬ তারিখ নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সময়সীমার দিকে তাঁরা তাকিয়ে রয়েছেন। অন্য দিকে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ তারিখ। তার আগে কমিশন কী নির্দেশ দেয়, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সেই সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করতে পারে দুই শিবিরের প্রতীক ব্যবহার এবং নির্বাচনী প্রচারের পরবর্তী পরিস্থিতি।ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন শুধু প্রার্থী বনাম প্রার্থীর লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তৃণমূলের নাম, প্রতীক এবং দলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শিবিরের টানাপড়েনও ভোটের ময়দানে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ পর্যন্ত জোড়া ফুল প্রতীক কার হাতে থাকে এবং দুই শিবিরের লড়াই কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে বড় চমক মমতার, আসন্ন উপনির্বাচনে ২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা তৃণমূলের

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দলের তরফে জানানো হয়েছে, নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন সঞ্চিতা প্রধান (দে)। পাশাপাশি, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রাবিউল আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জল্পনার অবসান হল।দলের এই ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন শনিবারই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তারা ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে না। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তরফে মমতাকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে বিধানসভায় ফেরার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।১৫ বছর পর বিধানসভার বাইরে মমতা?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন মমতা। ২০১৬ সালে ফের ভবানীপুর থেকে জয় পান তিনি। ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর উপনির্বাচনে জিতে আবারও বিধানসভায় জায়গা করে নেন। তৃণমূল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করায় এবার দীর্ঘ ১৫ বছর পর তাঁকে বিধানসভার বাইরে থাকতে হতে পারে।কেন নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরদুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম থেকে ইস্তফা দেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। ভোটের গণনা ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর।তৃণমূলে গোষ্ঠীকোন্দল অব্যাহতপ্রার্থী ঘোষণার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদ আরও জটিল হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীদুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। উভয় শিবিরই দলের নিয়ন্ত্রণ, নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের স্বীকৃতি দাবি করেছে।১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বক্তব্য শোনে নির্বাচন কমিশন। বিদ্রোহী শিবিরের কাছে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমার আগে দলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হয়নি।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
কলকাতা

ঋতব্রত শিবির নয়, ফের তলব মমতা-পন্থী তৃণমূলকে! নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে নতুন মোড়

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফের তলব। তবে এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নয়, ডাকা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসকে। ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে তৃণমূলের দুই শিবিরই নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিল। তার পরেই মমতা-পন্থী শিবিরকে ফের ডাকার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টেয় কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসকে নির্বাচন কমিশনে ডাকা হয়েছে। প্রয়োজনে ১৭ সেপ্টেম্বরও ফের শুনানি হতে পারে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কমিশনের তরফে ইমেইল পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।কেন হঠাৎ কালীঘাট তৃণমূলকে ফের ডাকা হল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। সূত্রের খবর, ১২ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূল যে সমস্ত নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে, সেগুলি মমতা-পন্থী শিবিরকে দেওয়া হয়েছে। সেই নথিগুলি খতিয়ে দেখে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূলকে।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টের মধ্যে সেই লিখিত জবাব জমা দিতে হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রয়োজনে পরের দিন অর্থাৎ ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় নয়াদিল্লির অশোকা রোডের দফতরে ফের শুনানি হতে পারে। সেখানে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদের ডাকা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ১৬ সেপ্টেম্বরই নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ফলে তার ঠিক আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই তৎপরতা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস দুই শিবিরে ভাগ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক আলাদা শিবির তৈরি করেছেন বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল নিজেদেরই আসল দল বলে দাবি করছে।দলের নাম এবং প্রতীক কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এখন নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ দুই শিবিরই। এর আগে শিবসেনার ভাঙনের সময়ও দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আইনি এবং সাংগঠনিক লড়াই হয়েছিল। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও এখন একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের কোন শিবিরকে আসল দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার। অথবা কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে দলের নাম ও প্রতীক সাময়িক ভাবে আটকে রাখা হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।তবে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি। ১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানি এবং তার পরের পদক্ষেপেই তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে পরবর্তী ছবি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজনীতি

নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা বাম-কংগ্রেসের, কে কোথায়? এখনও প্রার্থী দেয়নি বিজেপি-তৃণমূল

সামনেই রাজ্যে দুর্গাপুজো। তার আগে রাজ্যে ফের ভোটের দামামা। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে রাজনৈতিক লড়াই। ইতিমধ্যেই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। রেজিনগরে প্রার্থী দিয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও। তবে এখনও বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা বাকি।বামফ্রন্ট নন্দীগ্রামে সিপিআই-এর শান্তিগোপাল গিরিকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে সিপিএমের হয়ে লড়বেন আইনজীবী সৈঈদ আসাদ আলি। শনিবার বামফ্রন্ট এই দুই নাম ঘোষণা করে। ইতিমধ্যে কংগ্রেসও ওই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রেজিনগরে দলের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন মিলন প্রধান। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এই দুই প্রার্থীর নাম অনুমোদন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। আরও পড়ুনঃ রবিবার মেট্টো চলাচল কোন দিকে কতক্ষণ বন্ধ থাকবে? অসুবিধায় না পড়তে এই খবর আগে পড়ুন অন্যদিকে রেজিনগরে আগেই প্রার্থী দিয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। প্রাক্তন বিধায়ক তথা দলের প্রধান হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই কেন্দ্রেই বাবরি মসজিদ নির্মানের কাজ করছেন হুমায়ুন কবির।তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপি দুই কেন্দ্রেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। যদিও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলছে এবং তালিকা দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। নন্দীগ্রামে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে একাধিক স্থানীয় নেতার নাম উঠে এসেছে। আরও পড়ুনঃ লাউয়ের গুণ জানলে চমকে যাবেন! শিশু থেকে বয়স্ক, কেন সবার পাতে থাকা উচিত এই সবজি? তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে টানাপোড়েন চলছে। গত কাল, দিল্লিতে তৃণমূলের দুই শিবিরই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে হাজির হয়েছিল। প্রতীক নিয়ে এখনও পর্যন্ত কমিশন কোনও ফয়সালা করেনি। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর, দুই কেন্দ্রেই তৃণমূলের চূড়ান্ত প্রার্থী এখনও ঘোষণা হয়নি।ফলে আপাতত প্রার্থী তালিকায় এগিয়ে বাম-কংগ্রেস এবং রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। বিজেপি ও তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পরই দুই কেন্দ্রের লড়াইয়ের পূর্ণ ছবি স্পষ্ট হবে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা হওয়ার কথা।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজনীতি

‘তৃণমূল কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়’, কমিশন থেকে বেরিয়ে ঋতব্রতের বিস্ফোরক বার্তা! প্রতীক নিয়ে মুখোমুখি দুই শিবির

তৃণমূলের প্রতীক কার? আসল দলই বা কোনটি? এই জোড়া প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দরজায় মুখোমুখি তৃণমূলের দুই শিবির। সকাল ১১টায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের পর ঠিক এক ঘণ্টা বাদে কালীঘাট শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কমিশন। ফলে জোড়া উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমিশনের এই শুনানি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।কমিশন থেকে বেরিয়েই অবশ্য আক্রমণের সুর চড়ালেন ঋতব্রত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে নিশানা করে তাঁর কটাক্ষ, না খাতা না বহি, জো মমতা ব্যানার্জি কহে ওহি সহি এ ভাবে কোনও গণতান্ত্রিক দল চলতে পারে না। তাঁর আরও দাবি, তৃণমূল কোনও পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটা তৃণমূলস্তরের কর্মীদের পার্টি। কমিশনের সামনে তাঁরা তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন বলে জানান ঋতব্রত।সূত্রের খবর, দলের পুরনো সাংগঠনিক কাঠামো, ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী-সহ একাধিক নথি কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। তাঁদের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মী-সমর্থন তাঁদের দিকে রয়েছে এবং সাংগঠনিক বৈধতার বিচারে তাঁরাই আসল তৃণমূল। অন্য দিকে কালীঘাট শিবিরের পাল্টা যুক্তি, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; তাঁর নেতৃত্বেই দল তৈরি, নির্বাচন লড়াই এবং সাংগঠনিক বিস্তার। ফলে প্রতীক বা দলের নিয়ন্ত্রণ অন্য কোনও গোষ্ঠীর হাতে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। এখন দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি খতিয়ে দেখে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কলকাতা

'জনতার দরবারে' অভিযোগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ ৩

জনতার দরবারে প্রোমোটারের অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে দমদমের প্রাক্তন উপপুরপ্রধান বরুণ নট্টকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকেও পাকড়াও করা হয়েছে।দমদমে তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। পুলিশের জালে দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বরুণ নট্ট। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে নয়নাশিস দাস ওরফে জনি এবং সুমন্ত ঘোষ ওরফে লাল্টুকে। ধৃত নয়নাশিস দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পর্ণা দাসের ছেলে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দমদম থানায় প্রোমোটার সুজয় মজুমদার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তোলাবাজি ও প্রতারণার কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর রাতেই বরুণ নট্ট, নয়নাশিস এবং সুমন্তকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার তিন জনকেই ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।তদন্তকারীদের মূল নজর এখন কয়েকটি প্রশ্নেঅভিযোগে যে তোলাবাজির কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে বরুণ নট্ট এবং তাঁর দুই ঘনিষ্ঠের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে সেই টাকা কীভাবে ও কার মাধ্যমে আদানপ্রদান হয়েছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হয়ে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন প্রোমোটার সুজয় মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর মাত্র দুদিনের মধ্যেই প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ তিন জনের গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, অভিযুক্তদের ভূমিকা ঠিক কতটা এবং আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি নাসবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।শুক্রবার আদালতে ধৃতদের পেশ করার পর পুলিশি হেফাজত পাওয়া যায় কি না এবং তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
রাজনীতি

জোড়াফুল কার? উপনির্বাচনের আগেই তৃণমূলের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন, দিল্লিতে মুখোমুখি দুই শিবির

১৬ সেপ্টেম্বরের আগেই সিদ্ধান্ত? প্রতীক ফ্রিজ নাকি এক পক্ষের হাতে তুলে দেবে কমিশনতুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনাএকদিকে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে চরম টানাপোড়েন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই যেন আরও বড় এক রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হয়ে গেল দিল্লিতে। প্রশ্ন এখন একটাইতৃণমূলের আসল দাবিদার কে? আর কার হাতে থাকবে সেই বহু-পরিচিত ঘাসের উপর জোড়াফুল?উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পরই তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত মেটাতে সক্রিয় হয়েছে নির্বাচন কমিশন। চলতি সপ্তাহেই দুই শিবিরকে দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে তলব করা হয়েছে। অর্থাৎ, এবার আর রাজনৈতিক দাবি-পাল্টা দাবিতে বিষয়টি আটকে থাকছে না। দুই পক্ষকেই কমিশনের সামনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও বৈধতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে হবে।বুধবার নির্বাচন কমিশনের সচিব অশ্বিনী কুমার মোহালের তরফে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কমিশনের সামনে ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। একই দিনে, মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হয়েছে।অর্থাৎ, এবার মুখোমুখি দুই পক্ষ, আর মাঝখানে নির্বাচন কমিশন।প্রশ্নের কেন্দ্রে একটাই প্রতীকতৃণমূলের প্রতীক নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার কার্যত ডেডলাইন-এর মুখে। কারণ, ১৬ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।এই সময়সীমাই কমিশনের সিদ্ধান্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, মনোনয়ন পর্ব শুরু হওয়ার আগেই প্রতীক নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে কমিশন। কারণ, ভোটের মাঠে একই দলের প্রতীক নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তা শুধু দুই শিবিরের সংঘাত নয়, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই জটিল করে তুলতে পারে।তাই এখন নজর ১২ সেপ্টেম্বরের দিকে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কমিশন কোন পথে হাঁটে, সেটাই হয়ে উঠতে চলেছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।কমিশনের সামনে দুটি রাস্তাএই পরিস্থিতিতে কমিশনের সামনে মূলত দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।প্রথম পথপ্রতীক স্থগিত।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিতে পারে কমিশন। সেক্ষেত্রে কোনও শিবিরই উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকেই বিকল্প প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামতে হবে।দ্বিতীয় পথএক পক্ষের হাতে প্রতীক।কমিশন চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে যেকোনও একটিকে তৃণমূলের স্বীকৃত শিবির হিসেবে বিবেচনা করে জোড়াফুল প্রতীক বরাদ্দ করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতীক পাওয়া পক্ষের রাজনৈতিক সুবিধা হবে বিরাট। আর অপর শিবিরকে কার্যত নতুন প্রতীক, নতুন পরিচয় এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ভোটে নামতে হবে।এখানেই লুকিয়ে রয়েছে উপনির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণের সম্ভাবনা।দৌড়ে এগিয়ে ঋতব্রত শিবির?কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক মহলে আর একটি প্রশ্ন ঘুরছেকার পাল্লা ভারী?ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এই মুহূর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। কারণ, তাঁদের দাবি অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন এখনও তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরেও তৃণমূলের একটি বড় অংশের জনপ্রতিনিধি তাঁদের পাশে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।প্রতীক সংক্রান্ত বিবাদে সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে কমিশনের সামনে ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম বড় হাতিয়ার হতে পারে এই সংখ্যার অঙ্ক।তবে সংখ্যার অঙ্কই শেষ কথা হবে কি না, সেটাই এখন দেখার।কারণ, কালীঘাটও যে লড়াই ছেড়ে দেবে না, তা বলাই বাহুল্য। দলের রাজনৈতিক পরিচয়, নেতৃত্বের বৈধতা এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণপ্রতিটি প্রশ্নেই পাল্টা যুক্তি নিয়ে কমিশনের সামনে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি থাকবে তাদের।প্রতীক হারালে ধাক্কা কোথায়?রাজনীতিতে প্রতীক শুধু একটি চিহ্ন নয়। ভোটারের কাছে সেটিই দলের পরিচয়, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসের অন্যতম প্রধান প্রতীকী ঠিকানা।সেই জায়গা থেকেই ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে যদি কোনও এক পক্ষ জোড়াফুলের স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তাহলে উপনির্বাচনের ময়দানে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে। বিশেষ করে যে পক্ষ প্রতীক পাবে, তারা তৃণমূল পরিচয়কে সামনে রেখে ভোট চাইতে পারবে। অপর পক্ষকে নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটারদের বোঝাতে হবেকেন তারাই প্রকৃত রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী।আর এখানেই কালীঘাটের জন্য তৈরি হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জযদি শেষ পর্যন্ত প্রতীক তাদের হাতে না থাকে।সুপ্রিম কোর্টে যাবে মামলা?কমিশনের সিদ্ধান্ত এক পক্ষের বিরুদ্ধে গেলে আইনি লড়াইয়ের দরজাও খুলে যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে প্রতীক-সংক্রান্ত এই বিরোধএমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।কিন্তু ততক্ষণে নির্বাচনী ক্যালেন্ডার থেমে থাকবে না। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা সামনে রেখে দুই শিবিরকেই দ্রুত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।ফলে আদালতের লড়াই চললেও উপনির্বাচনের মাঠে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হবে, সেটিই হয়তো পরবর্তী লড়াইয়ের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে।শেষ লড়াই কি তবে জোড়াফুল নিয়েই?নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এখন আর শুধুই দুটি বিধানসভা আসনের লড়াই নয়। তার আগেই তৈরি হয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কমিশনের সামনে দুই শিবিরের বক্তব্য, ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে সম্ভাব্য সিদ্ধান্তএই কয়েকটি দিনেই হয়তো স্পষ্ট হয়ে যাবে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে পরবর্তী অধ্যায়ের ছবি।জোড়াফুল কি থাকবে এক পক্ষের হাতে? নাকি আপাতত ফ্রিজ হয়ে যাবে দলের প্রতীক?উত্তর দেবে নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগেই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছেতৃণমূল নামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে জোড়াফুল?

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলেই বড় সিদ্ধান্ত! প্রার্থী দেবে না ঋত শিবির, জানালেন ঋজু দত্ত

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁরা কোনও প্রার্থী দেবেন না বলে জানাল ঋত শিবির। বুধবার বিধানসভার সামনে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা করেন আসল তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ঋজু দত্ত। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হলে তাঁদের শিবির ভোটে প্রার্থী দেবে না।ঋজু দত্ত বলেন, তাঁরা চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন এবং জিতে বিধানসভায় ফিরে আসুন। তাঁর কথায়, মমতা প্রার্থী হলে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও প্রার্থী দেওয়া হবে না।পুজোর আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে এই দুই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভিতরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি দুই পক্ষেরই। বর্তমানে দলটি কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত শিবিরএই দুই শিবিরে বিভক্ত বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা রয়েছে।দলের নাম এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কোন গোষ্ঠীর হাতে থাকবে, তা নিয়েও টানাপড়েন চলছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতেই নন্দীগ্রাম নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন ঋজু দত্ত। তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সে বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। ভবানীপুরেও দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই হয়েছিল। কিন্তু এবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী নেই। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা।অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থিতা নিয়ে কার্যত পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আবু তাহের। তাঁর দাবি, দলের সুসময়ের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এবং ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার উপনির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।আবু তাহেরের আরও দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নিজের বক্তব্যে তিনি ২০২১ সালের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তখন মমতা নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করেছিলেন। তাঁদের দীর্ঘ আন্দোলন এবং অতীতে করা একাধিক মামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।আবু তাহেরের বক্তব্য, বাম আমল থেকে তাঁরা নন্দীগ্রামে লড়াই করে এসেছেন। পরবর্তীকালে বিজেপির তরফেও তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, দলের সুসময় থাকাকালীন তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়নি। এখন দলের দুর্দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন তিনি।ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থিতা ঘিরে দুই ধরনের বার্তা সামনে এল। এক দিকে ঋত শিবিরের তরফে মমতাকে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা, অন্য দিকে আবু তাহেরের সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এই দুই বক্তব্যের জেরে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
কলকাতা

কাদের ফেরাবে তৃণমূল, কাদের নয়? কুণালের মন্তব্যে প্রকাশ্যে এল দলের অবস্থান

বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের মন্তব্য ঘিরে আরও জোরাল হয়েছে দলত্যাগী বিধায়ক ও সাংসদদের ঘরে ফেরার জল্পনা। তাঁর দাবি, তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া অনেক বিধায়ক এবং সাংসদ এখনও দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল বলেন, দল ছেড়ে যাওয়া সকলেই একই রকম নন। তাঁদের মধ্যে অনেকে এখনও যোগাযোগ রাখছেন। কয়েক জন বিধায়ক ও সাংসদ বিভিন্ন কারণে দল ছেড়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।কুণালের দাবি, বিধায়কদের মধ্যে কয়েক জন দুর্নীতি বা নানা অভিযোগ আড়াল করতে দল ছেড়েছেন। আবার কেউ পুরনো মামলার কারণে ভয় পেয়েছেন। কয়েক জনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা করে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই কারণেও অনেকে দল ছেড়েছেন বলে জানান কুণাল।আরও দাবি, দল ছেড়ে যাওয়া কয়েক জনের সঙ্গে তৃণমূলের এখনও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্যেও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন। তবে সবাইকে এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।কুণালের ব্যাখ্যা, দলত্যাগী কোনও বিধায়ককে প্রকাশ্যে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করানোর পর তাঁর এলাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হলে তৃণমূলের পক্ষে নিয়মিত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বর্তমানে বিজেপির কথা শুনছে। সাংসদদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।কুণাল আরও বলেন, দলত্যাগী কয়েক জন এখনও অন্য দলে থাকলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা তৃণমূলের পক্ষে সুবিধাজনক। কারণ, তাঁদের মাধ্যমে সেখানকার নানা খবরও পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।তবে সব নেতার জন্য তৃণমূলের দরজা খোলা নয় বলেও স্পষ্ট করে দেন কুণাল। কারও নাম না করে তিনি বলেন, বিশেষ কয়েক জন এমন কাজ করেছেন, যাঁদের আর দলে ফেরানোর প্রশ্ন নেই। তাঁরা কালীঘাটের আশপাশে এলে দলের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের গুড়-বাতাসা দিয়ে আপ্যায়ন করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।কুণালের এই মন্তব্যে তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা অনুব্রত মণ্ডলের পুরনো গুড়-বাতাসা মন্তব্যের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। ফলে তাঁর বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।এ দিকে কুণালের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কুণাল ঘোষ প্রায়ই বিতর্কিত মন্তব্য করে সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে আলোচনায় থাকার চেষ্টা করেন। উল্টে কুণালদের সঙ্গে থাকা অনেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও পাল্টা দাবি করেন তিনি।ফলে এক দিকে কুণাল ঘোষের দলত্যাগী বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি, অন্য দিকে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা বক্তব্যদুই মন্তব্য ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সত্যিই দল ছেড়ে যাওয়া কোনও বিধায়ক বা সাংসদ তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন কি না, এখন সেই প্রশ্নই সামনে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

হাইকোর্টের শর্ত উড়িয়ে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, শুভেন্দুর নির্দেশে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সভাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত ওই সভায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তারপরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হেস্টিংস থানায় এফআইআর করেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গতকাল ক্যাথিড্রাল রোডে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার অনুমতি দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্টের তরফে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন ক্যাথিড্রাল রোডের অন্তত একটি ফ্ল্যাঙ্ক সচল রাখার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু সভা চলাকালীন সেই নির্দেশ কার্যকর ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সময় পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। মঞ্চ থেকে তাঁর ইশারার পর রাস্তার অপর পাশে গাছের নিচে অপেক্ষারত বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক ব্যারিকেড অতিক্রম করে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার দুদিকেই মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের উভয় ফ্ল্যাঙ্ক কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। যান চলাচলও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বাস, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ত ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।ঘটনার পরই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশে রাস্তার একটি অংশ খোলা রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তাঁর কথায়, দেখলেন তো আজকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু একেবারে গাছের নিচে থাকা লোকজনদের ডেকে রাস্তা বন্ধ করিয়ে তিনি কী করলেন?এর পরেই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এফআইআর রেজিস্টার করতে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের বেআইনি কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং তা লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইও নতুন মাত্রা পেতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মমলা করে পুলিশ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 67
  • 68
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজোয় আজও ধূপ-ধুনোয় সেজে ওঠে ‘স্টিম সাহেব’, জলপাইগুড়ির বুকে ব্রিটিশ আমলের জীবন্ত স্মৃতি

জলপাইগুড়ি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নাম, স্টিম সাহেব। ব্রিটিশ আমলের কয়লা চালিত এই স্টিম রোলারকে ঘিরে এখনও আবেগ রয়েছে বহু মানুষের। প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরে পরম যত্নে পুজো করা হয় ঐতিহাসিক এই যন্ত্রটিকে।স্বাধীনতার বহু আগে সুদূর লন্ডন থেকে জলপাইগুড়িতে আনা হয়েছিল কয়লা চালিত এই স্টিম রোলার। ব্রিটিশ সাহেবদের হাত ধরে শহরে আসার কারণেই স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এর নাম হয়ে যায় স্টিম সাহেব। একসময় জলপাইগুড়ি থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর পর্যন্ত রাস্তা তৈরি ও মেরামতির কাজে নিয়মিত ব্যবহার করা হত এই রোলার।সেই সময়ের যান্ত্রিক প্রযুক্তির অন্যতম নিদর্শন ছিল এটি। রোলারের বয়লারে কয়লা দেওয়া থেকে শুরু করে স্টিয়ারিং ঘোরানোপুরো ব্যবস্থাটিই ছিল যান্ত্রিক পদ্ধতিনির্ভর। দেশভাগের পরেও দীর্ঘদিন নিজের দায়িত্ব পালন করেছে স্টিম সাহেব। তবে সময়ের সঙ্গে ডিজেল চালিত রোলারের ব্যবহার বাড়ায় ধীরে ধীরে গুরুত্ব কমতে থাকে এই পুরনো যন্ত্রটির। একসময় পূর্ত দপ্তরের এক কোণে অবহেলায় পড়ে ছিল এটি।১৯৬৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় রোলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটিকে উদ্ধার করে মেরামত করা হয়। সরকারি উদ্যোগে এরপর পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরেই স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় ঐতিহাসিক এই স্টিম রোলারকে। জানা যায়, কয়েক বছর আগে যে লন্ডন-ভিত্তিক সংস্থা এটি তৈরি করেছিল, তাদের পক্ষ থেকে রোলারটি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।তাই আজও জলপাইগুড়ির মাটিতেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্টিম সাহেব। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বর্তমান কর্মীদের পাশাপাশি বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীও নস্টালজিয়ার টানে ছুটে আসেন পূর্ত দপ্তরে।অবসরপ্রাপ্ত কর্মী পার্থপ্রতিম সেনের কথায়, স্টিম সাহেব এখনও তাঁদের কাছে এক জীবন্ত নস্টালজিয়া। বর্তমান কর্মী গৌতম দীক্ষিত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মধু সরকারও মনে করেন, এই ঐতিহ্য ও পরম্পরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও একইভাবে টিকে থাকুক। তাঁদের কাছে স্টিম সাহেব শুধু একটি পুরনো যন্ত্র নয়, বরং জলপাইগুড়ির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘ঝরা পাতা তৃণমূলে নয়’, কংগ্রেসের ‘বটগাছের’ ছায়ায় আসার ডাক অধীরের

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে হয়েছে। মমতা শিবিরের জন্য ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য খাম প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জোড়াফুল প্রতীক ও দলের পুরনো নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন।এই পরিস্থিতির মধ্যেই নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানান। রেজিনগর নিয়ে অবশ্য মমতার শিবিরের অবস্থান তখনও স্পষ্ট ছিল না।নন্দীগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল বা তৃণমূলের অন্য কোনও শিবিরের পরিবর্তে কংগ্রেসের পাশে আসা উচিত বিরোধীদের।অধীর বলেন, কংগ্রেস একটি বটগাছের মতো এবং তৃণমূল সেই বটগাছের ঝরা পাতা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করতে চান, তাঁদের কংগ্রেসের ছায়ায় আসা উচিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপি-বিরোধী ভোটার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে কংগ্রেসের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।তৃণমূলের নতুন প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করেন অধীর। তাঁর কথায়, মমতার শিবির ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক পেয়েছে এবং অন্য শিবির পেয়েছে খাম। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনাকেও তিনি তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে তুলে ধরেন। রেজিনগর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তবে সঞ্চিতা প্রধান দে কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন, সেই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ওই সাক্ষাৎ এবং তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।এর পর নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। মমতা জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হয়েছেন অধীর। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন এবং কমিশনকে বিজেপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন। তবে এটি অধীররঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ প্রতিনিধি দাবি করায় উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের কংগ্রেসকে সমর্থনএই তিনটি ঘটনা ঘিরে উপনির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রেজিনগরেও শেষ পর্যন্ত কী ছবি দেখা যাবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

খাম নিয়ে নতুন সংঘাত, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পথে আইএসএফ? কী বললেন নওশাদ

ঘাসফুল আপাতত বাইরে। নতুন নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস, আর প্রতীক খাম। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন বিতর্কে জড়াল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। কারণ, খাম প্রতীকটি আগে থেকেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই ভোটে লড়ার দাবি করেছে আইএসএফ। এবার সেই প্রতীকই ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নাম হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে খাম। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে আলাদা নাম ও প্রতীক। পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহার করা যাবে না।কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের নতুন প্রতীক সামনে আসার পরেই আপত্তি তোলে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, ২০২১ সাল থেকেই তাঁদের দল খাম প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়ছে। চলতি বছরেও ওই প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সেই পরিস্থিতিতে একই প্রতীক অন্য একটি দলকে কী ভাবে দেওয়া হল?শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নওশাদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গত ১০ মার্চ আইএসএফের খাম প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই ঋতব্রত শিবিরকে একই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।নওশাদ জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আইএসএফকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এই অভিযোগ নওশাদ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও ষড়যন্ত্রের কথা জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির অবশ্য নতুন প্রতীক নিয়ে সন্তুষ্ট। নন্দীগ্রামের ওই শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, তাঁরা খাম প্রতীক পেয়েছেন এবং সেই প্রতীক নিয়েই প্রচারে নামবেন। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন, আইএসএফের দাবি নির্বাচন কমিশন কী ভাবে বিবেচনা করবে এবং নন্দীগ্রামের ভোটে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কোন প্রতীকে লড়বেন। ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে কমিশন। এখন নওশাদ সিদ্দিকীর আপত্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে রোহিতের ভবিষ্যৎ কী? দলবদলের জল্পনার মধ্যেই মিলল তাঁর নিজের বার্তা

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেটমহলে নানা জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ঘিরে দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, রোহিত কি ফের মুম্বইয়ের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন? পাশাপাশি তাঁর অন্য কোনও আইপিএল দলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। সেই আলোচনাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ব্যাটিং কোচ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের হেড কোচ অভিষেক নায়ার।তবে এই জল্পনার সূত্রপাত কোনও ক্রিকেট ম্যাচে নয়, রোহিত শর্মার নতুন একটি রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা সেই অনুষ্ঠানের টিজারে রোহিত এবং অভিষেক নায়ারের কথোপকথনের একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে রোহিতের পোশাকের রং নিয়েই মজার ছলে শুরু হয় দলবদলের প্রসঙ্গ।টিজারে দেখা যায়, রোহিতের পরনে হলুদ পোশাক। সেই রং দেখে অভিষেক নায়ার মজা করে চেন্নাইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানতে চান, রোহিত কি তবে দল বদলানোর কথা ভাবছেন? কারণ হলুদ রং চেন্নাইয়ের সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন শুনে রোহিতও মজার ছলে পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, তাঁর পোশাকের রং সরষের মতো হলুদ।এর পরেই কথোপকথনে উঠে আসে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রসঙ্গ। অভিষেক নায়ার বলেন, সোনালি এবং হলুদ রঙের সঙ্গে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজিরও যোগ রয়েছে। ফলে রোহিত কি এবার কলকাতার দলে যোগ দেবেন, সেই ইঙ্গিতও মজার ছলে দেওয়া হয়।অভিষেকের প্রশ্নের মধ্যেই দর্শকদের একাংশ মুম্বইয়ের নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই সময় রোহিত মৃদু হেসে বলেন, চিরকাল। তাঁর এই এক শব্দের উত্তর থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে অনেকেই এই বক্তব্যকে দলবদলের জল্পনার প্রেক্ষিতে দেখছেন। তবে টিজারের এই কথোপকথন থেকে রোহিতের আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিতের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তাঁর নেতৃত্বে দলটি আইপিএলে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবেও রোহিতের সাফল্য রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে।এ বার ক্রিকেটের মাঠের পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে রোহিতকে। তাঁর নতুন অনুষ্ঠানের প্রথম টিজার প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টিজারে অভিষেক নায়ারের সঙ্গে রোহিতের কথোপকথনও সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।রোহিত সত্যিই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়বেন কি না, কিংবা অন্য কোনও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে আপাতত কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। তবে নতুন অনুষ্ঠানের টিজারে মুম্বই নিয়ে রোহিতের চিরকাল মন্তব্য দলবদলের জল্পনার মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছে। এখন দেখার, টেলিভিশনের মঞ্চে রোহিতের এই নতুন ইনিংস দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

সারা ঘরে বেলুন দিয়ে সাজানো, ফ্রিজে মেয়ের দেহ, পাশে চকলেট! ঘরে উদ্ধার বাবার ঝুলন্ত দেহ

গুজরাটের আমরেলি জেলায় এক পাঁচ বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু এবং তার বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ৪০ বছরের কিশোর ধনক তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে হিংমাশীকে হত্যা করার পর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘরের ভিতর থেকে তিনটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি মেয়েকে কেন হত্যা করেছিলেন, তারও ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনাটি আমরেলি জেলার সাভরকুণ্ডলা এলাকার হাদিদা গ্রামের। কিশোর ধনক নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী মঞ্জুবেন বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোন বন্ধ থাকায় তিনি তাঁর ভাইকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই কিশোরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়।এর পর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ ফ্রিজের ভিতর হিংমাশীর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, শিশুটিকে হত্যা করার পর তার দেহ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর আরও স্পষ্ট হবে।ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তদন্তকারীদের আরও ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরটি বেলুন ও মোমবাতি দিয়ে সাজানো ছিল। শিশুটির জন্য চকোলেটও রাখা হয়েছিল। এমনকি ফ্রিজের উপরে শুভ জন্মদিন হিংমাশী লেখা একটি কাগজ পাওয়া যায়। অথচ সেদিন হিংমাশীর জন্মদিন ছিল না। শিশুটিকে সাদা পোশাক পরানো হয়েছিল এবং মাথায় ওড়নাও দেওয়া ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফ্রিজের ভিতর কুশন রাখা ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ঘরে পুজোর আয়োজনও করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই সমস্ত বিষয় দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মেয়ের জন্য শেষবারের মতো জন্মদিন পালনের মতো একটি আয়োজন করেছিলেন কিশোর। তবে কেন এমন আয়োজন করা হয়েছিল, কেনই বা মেয়েটিকে হত্যা করা হল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। পুলিশের তরফে ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি চিরকুট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি চিরকুটে কিশোর তাঁর আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে নির্মাণকাজে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে সেখানে লেখা ছিল। তাঁর দাবি ছিল, ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকার বেশি পাওনা ছিল। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন।অন্য একটি চিরকুটে মেয়েকে হত্যা করার কারণ হিসেবে কিশোর এমন কথা লিখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পরে মেয়েকে যেন কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর একটি চিরকুটে নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে চিরকুটে লেখা কথাগুলি তদন্তের অংশ হিসেবেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরের স্ত্রী কয়েক দিন আগে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছন। সেখান থেকেই প্রথমে কিশোরের দেহ এবং পরে ফ্রিজের ভিতর শিশুকন্যার দেহের সন্ধান মেলে। ঘটনার পর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।আর্থিক সমস্যাই এই ঘটনার মূল কারণ কি না, শিশুকন্যাকে হত্যার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ঘরটি কেন জন্মদিনের মতো করে সাজানো হয়েছিলএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, চিরকুট এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য মিলিয়ে গোটা ঘটনার ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

মমতা পাশে দাঁড়াতেই বড় ধাক্কা! পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হলেন মিলন। শুক্রবার তাঁকে একটি পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি খুনের মামলায় তিনি অভিযুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বড় রাজনৈতিক ঘোষণাকে ঘিরে। তাঁর দলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। দেশের কথা এবং বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মমতার সেই ঘোষণার পরেই মিলন প্রধানের গ্রেফতারির খবর সামনে আসে। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এবং সেই মামলায় পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। ফলে গ্রেফতারির সঙ্গে পুরনো মামলার যোগ রয়েছে বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে।কংগ্রেস অবশ্য এই গ্রেফতারিকে স্বাভাবিক ভাবে দেখছে না। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার অর্থ বিজেপি কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে। তবে এটি অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; বিজেপির তরফে এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনও বক্তব্য এই ঘটনায় সামনে আসেনি।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের ঠিক আগে মিলন প্রধান সকাল থেকেই প্রচারে ছিলেন। তার পর তাঁকে হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় থানাগুলির কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।শুভঙ্কর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের কাছেও লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হবে, কেন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল এবং বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি কমিশনের নজরেও থাকা উচিত।অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র এই গ্রেফতারিকে প্রশাসনের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ প্রার্থী হলেই তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না, এমন কোনও নিয়ম নেই। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজন মনে হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি নন্দীগ্রামে মমতার কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন।এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে সেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পুরনো মামলায় গ্রেফতারিদুই ঘটনাই একই দিনে সামনে এসেছে। ফলে গ্রেফতারির সময় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও, পুলিশ জানিয়েছে পুরনো মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মিলন প্রধানের গ্রেফতারির ঘটনায় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের পর এই ঘটনায় নন্দীগ্রামের ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

পুজোর আগে সিকিমে বড় বিপদ! পাহাড় থেকে নামছে কাদা-পাথরের স্রোত, বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা

একটানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসের খবর মিলছে। কোথাও জাতীয় সড়ক বন্ধ, কোথাও হাইওয়ে অবরুদ্ধ। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকেরাও। পুজোর মরসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলেও।উত্তর সিকিমে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টি চলছে। শুক্রবার ভোরে সিকিম-শিলিগুড়ি যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বারডাংয়ের ২০ মাইল এলাকায় ধস নামে। রাস্তার উপর দিয়ে কাদা ও পাথরের স্রোত নামায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রী থেকে পর্যটক, সকলেই সমস্যায় পড়েন।গ্যাংটক জেলাতেও একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদাধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। ধসের কারণে বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও বাড়ি ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার কবি-টিংদা কেন্দ্রের বিধায়ক শেরিং টি ভুটিয়ার নেতৃত্বে একটি যৌথ দল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে।বোজোগহারি সংলগ্ন লুয়িং-রাঙ্কা সড়ক, লোয়ার বোজোগহারি, লিংডিং, হাইকোর্ট রোড, টিএনএ গেট, ভিআইপি কলোনি, আপার জেড-বোজোগহারি, পাংথাং-লিংডক সড়ক, পামরো গাঁও, লিং পারবিং, আপার ও মিডল লুয়িং, ফেনজং, রাঙ্কা, রকডং তিনটেক, দারাগাঁও, আপার বুরতুক, সিচে এবং আরিথাং-সহ একাধিক এলাকায় ধসের প্রভাব পড়েছে।বহু জায়গায় এখনও রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু বহুতলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। সিচের নিকাশি জল পরিশোধন কেন্দ্র এবং এনচে স্কুলের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কাছেও ধ্বংসস্তূপ জমে রয়েছে। ফলে ওই এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।উত্তর সিকিমেও ব্যাপক ধসের খবর এসেছে। ফেনসং, কবি এবং লিংচুম-টিংদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা ফের চালু করার কাজ চলছে। ধসপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির জল যাতে মাটির গভীরে ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ না করে, সে জন্য ত্রিপল বিছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ধসপ্রবণ এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাতে আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ৩২ মাইলের কাছে রাডাং এলাকাতেও ধসের কারণে রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার খবর মিলেছে।পূর্ব সিকিমের দুগা এলাকাতেও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। এই পথটি গ্যাংটকের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রাস্তা। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের সমস্যাও বেড়েছে।শুধু সিকিম নয়, নেপালেও ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জামিরেঘাটে ভূমিধসের কারণে পৃথ্বী হাইওয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। রাস্তার উপরের দিক থেকে বড় ধস নেমে কাঠমান্ডুগামী দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধাদিংয়ের ট্রাফিক পুলিশ প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, ধসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রাস্তা পরিষ্কার করতে সময় লাগতে পারে। কৃষ্ণভির এলাকাতেও ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।ভুটানেও কয়েকটি পাহাড়ি রাস্তায় বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। দোচুলা-ওয়াংদুয়ে সড়কের পেনজালুম দ্রুবচু এলাকায় একমুখী যান চলাচল শুরু হলেও পর্যটকদের সতর্ক হয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পানবাং-মাথাংগুড়ি সংযোগ সড়কের কিছু অংশও অবরুদ্ধ হয়েছে।সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথে ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পুজোর আগে পর্যটন শিল্প নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সময় পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। ফলে আগামী দিনে বৃষ্টি ও ধসের পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, তার দিকে নজর রাখছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে’, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ নিয়ে সরব শুভঙ্কর সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ফুল-ঘাস ফ্রিজ করে দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করলেন, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে টালবাহানা করে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও সংরক্ষিত ফুল-ঘাস প্রতীক আপাতত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।এই পরিস্থিতিতে শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই বিতর্কের সমাধান করা। কিন্তু মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর, স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ থাকে।কংগ্রেস সভাপতির মতে, ভারতের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। তাঁর কথায়, এই বহুদলীয় ব্যবস্থাই ভারতের বহুত্ববাদের প্রতিফলন। কংগ্রেস বরাবরই এই বহুত্ববাদে বিশ্বাসী।শুভঙ্কর সরকার মহারাষ্ট্রে শিবসেনার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গেও তৈরি করা হচ্ছে।তবে তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জায়গাটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মতাদর্শগত লড়াই থাকবেসংসদীয় গণতন্ত্রে এটাই কাম্য। কাউকে পরাজিত করতে হলে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই করব। কাউকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, সেটা বাংলার মানুষ তাঁদের ভোটের রায়ের মাধ্যমে করবেন।এরপরই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, আজ আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে। তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার খেলায় নেমেছে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ইঙ্গিত।একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই চলেছে এবং চলবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় দখল এবং রাজ্যে অপশাসনের অভিযোগও তোলেন তিনি।তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী পরিচয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কংগ্রেস মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার।শেষে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচন কমিশনের এই দলদাসসুলভ আচরণ গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal