• ১১ আষাঢ় ১৪৩৩, রবিবার ২৮ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Third Part

নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (তৃতীয় পর্ব )

তন্ময় থানায় ঢুকলো আর সোজাসুজি শ্রেয়ার কেবিনে এসে ঢুকলো, তখনও শ্রেয়া মন দিয়ে ওই কানের দুলটা দেখছিলো, তন্ময় ঢুকতেই সে সেটা টেবিলের উপরেই রেখে দিলো আর উঠে দাঁড়ালো সম্মানের খাতিরে।তন্ময়: আরে বসে পড়ো, এই মুহূর্তে তুমি লিডার।শ্রেয়া: কিন্তু স্যার আপনি তো আমার সিনিয়র।তন্ময়: সেসব পরে হবে, আগে আমার কিছু কথা আছে। বসো বলছি। শ্রেয়া চেয়ারে বসলো আর সামনেরটায় তন্ময়, তুমি হয়তো জানো না আমি তোমার দিদিকে ভালোবাসি। শ্রেয়া: জানি স্যার। ও আমায় সবই বলে।তন্ময়: জানো? তবে বলোনি কেন?শ্রেয়া: কারণ আমি চেয়েছিলাম দিদিই আমার পরিচয় দিক।তন্ময়: সব যখন জানাজানি হয়েই গেছে তখন আমি কি তোমাদের ওই দুজনের পরিবারে তৃতীয় সদস্য হতে পারি?শ্রেয়া: আমি আপনাকে নিজেই দাদার মতোই দেখি। তন্ময়: এদিকে আপনি বলে যাচ্চো। আজ থেকে তুমি বলবে আমায়।শ্রেয়া: আচ্ছা তাই হবে।তন্ময়: আর শ্রেয়া আর একটা ব্যাপার, নাহ থাক কাল বলবো, আগে আমি নিজে শিওর হই। চলো এবার নিজের ঘরে যাও, রাত হয়েছে অনেক।শ্রেয়া: আজ স্যার আবার পাহারায় বসেছে, আমি কি করে বাড়ি যাই। তন্ময়: বিগত দুদিন আমি বিশ্রাম নিয়েছি আজ তুমি নাও, বাড়ি যাও দিদির সাথে সময় কাটাও। কথা দিচ্ছি আমি ওই রাস্কেলকে ধরেই ছাড়বো।তন্ময় রাতের ডিনারটা সেরে নিলো থানার পাশের হোটেলটায়, এবার ওকে বেরোতে হবে রাতের এই শহরে টহল দিতে। ঠান্ডাটাও বেশ বেড়ে গেছে, বাইরে এখন ৬ ডিগ্রী। রাস্তায় বেরিয়ে একবার ভাবলো গার্গীকে ফোন করবে, এমন সময় তন্ময়ের ফোন নিজেই বেজে উঠলো, মৃদুল ফোন করেছে।তন্ময় ফোন ধরতেই শুনতে পেলো, স্যার বাঁচান আমায়! স্যার আমাকে মেরে ফেলবে..... স্যার!একটা প্রবল আর্তনাদে ফোন টা কেটে গেলো। তন্ময়ের বুক কাপছে, তাহলে কি মৃদুল আজকে শিকার হলো। তন্ময়ের আর ভাবার সময় নেই সে নিজের পিস্তল হাতে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়লো। রাতের অন্ধকার আর নিঃস্তব্ধ হাড় হিম করা পরিবেশ যে কোনো কারোর বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে বাধ্য। কিন্তু আজকে তন্ময়কে ওই অপরাধীর শেষ দেখতেই হবে ,আর নয়। তন্ময়ের জীপ রাতের অন্ধকার ভেদ করে এগিয়ে চলেছে, কিন্তু কই ? কোথাও কিছু নেই। তন্ময় নিজের জীবনে এত জটিল কেস কোনোদিন দেখেনি। এই কেস টার উপর সে জীবনের সবচেয়ে সময় খরচ করে ফেলেছে। এইসব ভাবতে ভাবতে সে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল হটাৎ তার গাড়ির সামনে এসে পড়ল গার্গী। সে সজোরে ব্রেক কষে গাড়িটা কোনমতে থামলো। গার্গী প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে, সে তন্ময়কে দেখতেই তার কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলো। তন্ময় জিজ্ঞেস করলো, কি হয়েছে?গার্গী: একটা বিভৎস দেখতে জন্তু আমার সামনে একটা লোককে মেরে খেয়ে ফেললো, এখন এখান থেকে তাড়াতাড়ি চলো নাহলে আমিও মরে যাবো।তন্ময়: আমি আছি তো। চলো আমিও দেখতে চাই পশুটাকে।গার্গী: প্লিজ তন্ময় চলো এখান থেকে।তন্ময়: গার্গী আমি এই কেসটার জন্য নিজের সম্মান হারিয়েছি আমি ওই জন্তুটাকে ছাড়বোনা। কোনো মতেই না।গার্গী: তন্ময় , প্লিজ তুমি পরেও তদন্ত করতে পারবে কিন্তু আজকে না। আমি দেখেছি কিরকম ভয়ানক ছিল ওর চোখ গুলো ।তন্ময়: এই জীপ টা নিয়ে এখান থেকে চলে যাও।আমি ওই পশুটাকে না দেখে যাবো না কোনোভাবেই।গার্গী: আমি তোমাকে একা ফেলে এখন থেকে কোনো ভাবেই যেতে পারিনা।তন্ময়: এটা আমার অর্ডার গার্গী। তুমি এখনই বেরিয়ে যাও এখান থেকে। আজকে আমি কোনোভাবেই যেতে পারবনা এখান থেকে।এই বলে তন্ময় এগিয়ে যেতে থাকলো সামনের দিকে, হাতে স্রেফ একটা পিস্তল। পিছনে না দেখলেও সে বুঝতে পারলো তার পিছনে পিছনে গার্গী আসছে। সে আবার বললো, গার্গী যাও এখান থেকে।কিন্তু কোনো সাড়া পেলনা। সে আবার বললো, গার্গী আমার কথা কি তুমি বুঝতে পারছনা? যাও এখান থেকে। তুমি থাকলে আমার কাজের অসুবিধা হবে। এবারেও কোনো উত্তর এলোনা। তোমার সাথে সাথে আমারও বিপদ বাড়বে, প্লিজ যাও।কিন্তু এবারেও কোনো উত্তর এলোনা।তন্ময় বিরক্ত হয়ে পিছন ফিরে তাকালো, কিন্তু যা দেখলো সেটা সে কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। হতবাক হয়ে সে শুধু দাড়িয়ে রইলো, যেনো নিজের সমস্ত শক্তি এক মুহুর্তের মধ্যে সে হারিয়ে ফেলেছে।তন্ময় দেখছে তার সামনে দাড়িয়ে শ্রেয়া, মুখে রক্ত, হাতেও রক্ত লেগে। তন্ময় বুঝতে পারলনা ব্যাপারটা। প্রথমে ভাবলো হয়তো শ্রেয়া কোনোভাবে আহত হয়েছে কিন্তু তারপরেই মনে হলো এই রক্ত শ্রেয়ার শরীরের নয় বরং এই রক্ত অন্যকারোর । তন্ময় বলে উঠলো, শ্রেয়া এটা কি?? তুমি এই অবস্থায়?? কি করেছ তুমি?শ্রেয়া বড়ই অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে তন্ময়ের দিকে,কোনো কথা বলছেনা। শুধু মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ হচ্ছে। হটাৎ শ্রেয়া জাপিয়ে পড়লো তন্ময়ের উপর। বড়ই হিংস্র তার দৃষ্টি, সে তন্ময়ের ঘাড়ে কামড় বসানোর চেষ্টায় রয়েছে সে, শুরু হলো ধস্তাধস্তি। দুজনেই দুজনকে সমানে সমানে পাল্লা দিয়ে চলেছে, সবে আজকের শ্রেয়াকে দেখলে চেনার উপায় নেই এই শ্রেয়াই সেই পুলিশ অফিসার যে দিনেরবেলায় সবার রক্ষাকর্তী আর রাতের অন্ধকারে আজ সে হয়ে উঠেছে এক পিশাচিনী । তন্ময় বহু কষ্টে শ্রেয়া লাথ মেরে দূরে ফেলে দিলো আর হাতড়ে নিজের পিস্তলটা মাটি থেকে হাতে তুলে নিল । আর তারপরেই সোজা উঠে দাঁড়িয়ে পিস্তল তাক করলো শ্রেয়ার দিকে, শ্রেয়া হিংস্র গর্জন করেই চলেছে।এখন শ্রেয়া তন্ময়ের গান পয়েন্টে। তন্ময় গুলি চালাতে যাবে এমন সময় কেও একজন সজোরে তন্ময়ের মাথায় পিছন থেকে মারলো কোনো রড জাতীয় পদার্থ দিয়ে। তন্ময় জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে ।যখন তন্ময়ের জ্ঞান ফিরলো তখন সে একটা ঘরে আধ শোয়া অবস্থায় পড়ে আছে। সে বুঝল তার হাত পা বাঁধা। সে চিৎকার করে উঠলো, শ্রেয়া এইগুলো কি ধরনের অসভ্যতা। তুমি জানো না আমি কে! আমি কি করতে পারি তোমার সাথেএমন সময় তন্ময়কে অবাক করে দিয়ে দরজা দিয়ে ঢুকলো গার্গী।তন্ময়: গার্গী তুমি?? শ্রেয়া কি তোমার সাথেও কিছু করেছে?? উত্তর দাও গার্গী। কোথায় সেই বিশ্বাসঘাতক? আমার হাত পা টা খুলে দাও একবার তারপর ওকে দেখছি আমি।গার্গী: তন্ময় ক্ষমা করো কিন্তু শ্রেয়া বিশ্বাসঘাতক নয়।তন্ময়: মানে? কি বলছো কি তুমি ?গার্গী: তোমার সাথে বিশ্বাসঘাকতায় আমি জড়িত।তন্ময় হতবাক হয়ে গেলো, তার মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না। এদিকে গার্গী বলে চললো, শ্রেয়া মানসিক ভারসম্যহীন। ওর মধ্যে একধরণের অদ্ভুত অসুখ আছে যেটা দেখা দেয় কয়েক বছর আগে একটা কেস সল্ভ করতে গিয়ে।তন্ময়: তুমি কি বলতে চাইছো ? কোন কেস?গার্গী: দাড়াও আমাকে শেষ করতে দাও। আমার কথা শেষ হলেই তুমি সব বুঝে যাবে। ওটা ছিল দুর্গাপুরের কেস। ওটা সল্ভ করার পর থেকেই ওর মধ্যে একটা পরিবর্তন আমি লক্ষ্য করেছিলাম। ধীরে ধীরে পরিস্থতি এমন হয় যে ওর মধ্যে দুটো সত্তা জেগে ওঠে, ১. সারাদিন সবার চোখের সামনে একজন কর্তব্যরতা পুলিশ কর্মী যে মানুষের সেবা করে, মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করে আর ২. রাত বাড়লেই সেই পুলিশ কর্মী হয়ে যায় একজন নরখাদক। হ্যাঁ তন্ময় তুমি ঠিকই শুনছো ওই সেই নরখাদক, সেই জন্তু। আমি জানতাম না গোটা ঘটনাটা , এই মাত্র কয়েকদিন আগেই সমস্ত জানতে পারি আর ভাবতে থাকি কিভাবে শ্রেয়া কে না জানিয়ে শ্রেয়ার মধ্যে থেকে সেই নরখাদক কে শেষ করবো। শ্রেয়া যে আমার নিজের বোন, ওকে আমি মরতে দিতে পারিনা।তন্ময়: কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব?গার্গী: সেটা আমিও বুঝিনি তন্ময়। কয়েকমাস আগে আমাদের গুদাম ঘরে যখন একটা লোকের আধ খাওয়া দেহ পেলাম তখন বুঝলাম আমার বোন রাতে পাহাড়া নয় বরং শিকারের খোঁজে বেরিয়ে যায়। আমি খোঁজ নিলাম, ডক্টর মাথুরের সাথে কনসাল্ট করলাম আর উনিই শ্রেয়ার অজান্তেই ওর অবচেতন মনের সব কথা বের করে এনে। শ্রেয়া একজন সৎ পুলিশ অফিসার কিন্তু ওর মনের কোনো এক গভীরে লুকিয়ে আছে ওই নরখাদক সত্ত্বা। ও এখনো ট্রিটমেন্টে রয়েছে। আর অবাক বিষয় গার্গী নিজেই জানেনা ও রাতের অন্ধকারে এইসব করে বেড়ায়। ও আমার কানের দুল পর্যন্ত খুঁজে পেয়েছে খুনের জায়গায় আর ভাবছে আমি নাকি খুন গুলো করছি।তন্ময়: কিছুই মাথায় ঢুকছেনা আমার ঠিক। এসব কি হচ্ছে কেন হচ্ছে? এসব সত্যিই হচ্ছে?গার্গী: হচ্ছে তন্ময়, হচ্ছে। ডক্টর মাথুর বলেছেন ওই দুর্গাপুরের কেস সলভ করতে গিয়ে যখন প্রায় ১৫ দিন শ্রেয়া ওদের হাতে বন্দি হয়েছিল তখন ওকে প্রতিরাতে এই মানুষের মাংস খেতে দেওয়া হতো। পেটের খিদে মেটাতে ওকে খেতেও হয়েছে সেসব আর অবশেষে যখন ওকে খুঁজতে খুঁজতে পুলিশ মূল অপরাধী পর্যন্ত পৌছালো ততদিনে বোন আমার মানুষের মাংসের স্বাদ পেয়ে গেছে।তন্ময়: গার্গী আমকে খুলে দাও। আমি কথা দিচ্ছি আমি তোমায় সাহায্য করবো। আর এই কথা তুমি আর আমি ছাড়া কেও জানবে না। ট্রাস্ট মি!গার্গী: আমি তোমায় বিশ্বাস করি তন্ময়, ভালোবাসি, প্লিজ আমার আর আমার বোনের পাশে থেকো। গার্গী তন্ময়ের সমস্ত বাঁধন খুলে দেয়, কিন্তু তন্ময় নিজেই ছিল বিশ্বাসঘাতক, সে নিজের সাফল্যের জন্য সব করতে পারে, নিজে বাঁধন মুক্ত হতেই সে পাশে পরে থাকা লাঠি দিয়ে গার্গীর মাথায় সজোরে আঘাত করে। গার্গী লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।তন্ময় বলে, সরি গার্গী, আমি তোমায় ভালোবাসি ঠিকই কিন্তু এই কেসটায় আমায় জিততেই হবে।তন্ময় ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসে আর মূল বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই গুদাম ঘরটায় যায়, ঘরে ঢুকে দেখে সামনে দাড়িয়ে শ্রেয়া। তন্ময় বলে ওঠে, শ্রেয়া সারেন্ডার করো, নাহলে এখনই আমি কিন্তু.... এক্ষুনি ফায়ার করবো।শ্রেয়া অতি ক্রুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তন্ময়ের দিকে আর ক্রমাগত গর্জন করতেই থাকে। এরপরের শ্রেয়া ছুটে আসে তন্ময়ের দিকে, তন্ময় একটা গুলি চালায় শ্রেয়ার হাতকে লক্ষ্য করে, কিন্তু সেটা লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়। শ্রেয়া দৌড়ে এসে তন্ময়ের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু হয় আবার লড়াই, তন্ময় আপ্রাণ চেষ্টা করে শ্রেয়াকে বাগে আনার কিন্তু শ্রেয়া যেন আরো বেশি শক্তিশালী এবারে। তাও তন্ময় কোনোভাবে শ্রেয়াকে দূরে ছুড়ে ফেলে আর পিস্তল তুলে নিয়ে গুলি চালাতে যায়, কিন্তু একি গুলি কোই?শ্রেয়া আবারো উঠে ওর দিকে দৌড়ে আসে, বিপদ বুঝে তন্ময় পালাতে যায় কিন্তু পা পিছলে মাটিতে পরে যায়, সাথে সাথেই শ্রেয়া ওর উপর ঝাঁপিয়ে পরে, তবে এবার আর তন্ময় কোনো প্রতিরোধের সুযোগটুকু পায়না, শ্রেয়া তন্ময়ের নুলি ছিঁড়ে ফেলে।২ মাস পর: তন্ময়ের মৃত্যুর পর গোটা ডিপার্টমেন্ট হাল ছেড়ে দেয়, শ্রেয়া নিজের ব্যার্থতার বোঝা মাথায় নিয়ে চাকরি ছেড়ে দেয় আর চলে যায় মুম্বাই, সেখানে তার কোনো এক কাকা আছেন। অবশ্য তাকে জোর করেই মুম্বাই পাঠায় গার্গী, সেখানে শ্রেয়ার ট্রিটমেন্ট করায় তার কাকা। গার্গী চাইলে নিজের বোনের ট্রিটমেন্ট করতেই পারতো কিন্তু সে চায়নি পুলিশ কোনোভাবে তার বোনকে সন্দেহ করুক। প্রায় ৬ মাসের ট্রিটমেন্টের পর শ্রেয়ার ভিতরের নরখাদক সত্তা সম্পূর্ণরূপে লোপ পায় শ্রেয়ার অজান্তেই আর এইভাবেই শেষ হয় জলপাইগুঁড়ির আতঙ্ক।ক্রমশ...... (পরের পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

এপ্রিল ২৭, ২০২৫
নিবন্ধ

ফারাও এর দেশ ঘুরে... (ভ্রমণ কাহিনী) তৃতীয় পর্ব

পরের দিনের প্রথম গন্ত্যব্য হল Cairo Museum। সত্যি কথা বলতে এত বড় মিউসিয়াম আমি আগে দেখিনি। শুনলাম এই মিউসিয়াম ভাল ভাবে পুরোটা দেখতে হলে প্রায় এক সপ্তাহ লাগবে। অত সময় আমাদের নেই, বোধকরি আমাদের মত যারা এখানে বেড়াতে আসেন তাদের সবার ক্ষেত্রেই এক সমস্যা ঘটে। তাই আমাদেরও ইচ্ছে যে অল্প সময় যতটা বেশি দেখে নেওয়া যায়। এই মিউসিয়াম ১৫০ থেকে ২০০ বছরের পুরনো। এটি দুটি তলায় ভাগ করা। নীচের তলায় সময়কাল ধরে (period wise) ঘর সাজানো রয়েছে, যেমন Old Kingdom, Middle Kingdom, New Kingdom ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় তলায় ঘর সাজান হয়েছে বিভিন্ন বিষয় অনুযায়ী, যেমন sarcophagus room, animal mummy room ইত্যাদি। তার মধ্যে দুটি ঘর হল বিশেষ আকর্ষণীয়, - Pharao Tut-Ankh-Amun এর ঘর, আর Royal Mummy room।কায়রো মিউজিয়ামমমি রুম ভাবতেই মনে পড়ে গেল, একটি বই এ পড়া সেই বিচিত্র অংশটির কথা। তখন ১৯ শতকের সময়। মিশর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ।সেই সময় থেকেই মমির খোঁজ চলছে। রাজা বা ফারও দের মমি না হলেও যে রকমই মমি হোক না কেন তাকে সমাধি থেকে বের করে আনা হচ্ছে, পরীক্ষা করা হবে এই অজুহাতে। জাহাজ ভর্তি মমি ও অন্যান্য সামগ্রী চলে যাচ্ছে ইউরোপ। প্যারিসেও যেত মমি সেই সময়। প্যারিসের বিভিন্ন বাড়িতে সেই মমিকে দেখার জন্য টিকিট কাটা হত। যেন সার্কাস হচ্ছে। ভাবলেই কেমন মনে রাগ জন্মে যে, অসহায় একটি মমি, সে যে মানুষেরই হোক না কেন, শেষ ঘুমে ঘুমিয়ে আছে, তাকে সবার সামনে দেখানটাই যেন ছিল গর্বের। আবার ইংল্যান্ডে যৌবন ধরে রাখার জন্য কোন মানুষ নাকি বিচার দিয়েছিলেন মমি গুঁড় করে ট্যাবলেট বানিয়ে খাবার। তাই হাজার হাজার মমি ইংল্যান্ড নিয়ে আসতো, তাদের গুঁড়ো করা হত আর বিভিন্ন লতাপাতা মিশিয়ে বড়ি বানিয়ে খেত। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি যে কি পরিমানে ইতিহাসের অবলুপ্তি ঘটেছে সেই সময়, আর কি পরিমান কুসংস্কারে ভরা ছিল তখনকার ইউরপীয়দের মন। কি ভাবে সমস্ত সুত্র কে নষ্ট করা হয়েছে শুধুমাত্র মজার খাতিরে। যেমন নষ্ট হয়েছে আমাদের সাঁচি স্তুপ বা অমরাবতি স্তুপ। তাতেও শিক্ষিত ইউরোপিয়ানরা যা সংগ্রহ করেছেন, তা এই মিউসিয়ামে আছে। মমি রুম এ যাবার আগে তাই বার বার এই কথা গুলোই মনে পড়ছিল।মিউসিয়ামে ঢুকতেই প্রথমেই চোখে পড়ে রসেত্তা পাথরটি। এই পাথরটি খুব সাধরন দেখতে কিন্তু এর ক্ষমতা সত্যি ই অসাধারন। তবে কায়রো মিউজিয়ামে যেটি আছে,সেটি একটি replica, আসল পাথরের অংশটি লন্ডনে আছে। এর গল্প হয়ত অনেকেই জানে। আর যারা জানেনা তাদের জন্য বলি, এই পাথরটি প্রথম আবিষ্কার হয় ১৭৯৯ সালে। সেই সময়ে ফ্রান্সের সম্রাট নেপলিয়ান মিশরে যুদ্ধ করছিলেন। তাঁরই এক সৈন্য এটি খুঁজে পায়। এটি হয়ত তখন রাশিদ বা রসেত্তা নামের একটা শহরের কোন মন্দিরের দেওয়ালে পিলার হিসেবে ছিল। খেয়াল করে দেখা যায় সেখানে কোন একটি বিশেষ বার্তা তিনটি ভাষায় লেখা আছে। প্রথমটি মিশরীয় হিয়েরগ্লিফ, তারপরে দেমতিক (Demotic) আর শেষে গ্রীক। এই পাথরটি আবিষ্কার হবার পরই মিশরের ভাষা কে পাঠ করার চেষ্টা শুরু হল। ফ্রান্সের পর এই অঞ্চল যখন ব্রিটিশদের দখলে আসে তখন তারা এই পাথর নিয়ে লন্ডন চলে যান। আর সেখানেই পাঠোদ্ধার পর্ব শুরু। আর সেই দিন থেকে মানে ১৮০২ সাল থেকে ওই পাথর লন্ডনে আর ১৮২২ নাগাদ একজন ফ্রেঞ্চ লিপি বিশারদ পাঠোদ্ধার সম্পূর্ণ করেন। এই মিউসিয়ামে তার একটা replicaআছে, আরও একটা replica, আলেক্সান্দ্রিয়া তে রাখা আছে, যে অঞ্চল থেকে আসলে এই পাথরটিকে খুঁজে পাওয়া যায়।রসেত্তা পাথরে তিন ভাষার লিপিফারাও Tut-Ankh-Amun এর জন্য একটি বিশেষ ঘর আছে, সেই ঘরটিতে ছবি তোলা নিষেধ। সেই ঘরটিতে Howard Carter এর খুঁজে পাওয়া প্রায় সব জিনিসই আছে। শুধুমাত্র ফারাও এর মমি করা দেহ আর তার একটি কফিন বা সারকাফাগাস রয়ে গেছে আসল সৌধ তে, যা আছে Valley of Kings এ। এই বিশেষ ঘরটি ফারাও এর সৌধ থেকে পাওয়া ৪০৩০ টি জিনিস দিয়ে সুন্দর করে সাজানো। ফারাও এর মমি করা দেহ থেকে ২০০ রকমের গয়না পাওয়া গেছে। সেগুলির বেশীরভাগই সোনা দিয়ে তৈরি। সোনার সাথে কিছু আধা-মুল্যবান (Semi-Precious) পাথর দিয়ে তৈরি। তার মধ্যে Carnelian বা Lapis Lazuli র ব্যবহার চোখে পড়ার মত। আমাদের হরপ্পা সভ্যতাতেও এই দুই পাথরের ব্যবহার বিশেষ ভাবে চোখে পরে, তার থেকে আবার আমরা এই সত্যে উপনীত হই, যে এই সমকালীন সভ্যতাগুলির মধ্যে যোগাযোগ ভাল ভাবেই রক্ষা করা হত। আজকের দিনে দাঁড়িয়েও অবাক হয়ে যেতে হয় সেই সব গয়নার নকসা ও রঙ সমন্বয় দেখে। এই ঘরেই রয়েছে ফারাও তুত-আঙ্খ-আমন এর সেই বিখ্যাত সোনার মুখোস, যা ১১ কেজি সোনা দিয়ে তৈরি । এই মুখোস দেখলে সত্যিই মনে হয় যে রাজা তুত খুব অল্প বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। এ ছাড়াও আছে রাজার শেষ কফিনটি বা সারকাফাগাস। এটিও নিরেট ৩ টন সোনা দিয়ে বানান হয়েছিল। রাজার ব্যবহৃত দুটি ছুরি আছে, একটি সোনার আর একটি লোহার ।এই ছুরি দুটি নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে, কারণ লোহা দিয়ে তৈরি ছুরি কি ভাবে লৌহ যুগের আগে পাওয়া যেতে পারে? এর কোন উত্তর সঠিক ভাবে জানা যায়না। কেউ বলে তখন লোহা ছিল, তখন প্রশ্ন জাগে তাহলে বাকি কোথাও তার ব্যবহার নেই কেন বা উল্লেখ ও নেই কেন? আবার কেউ বলেন পরে লৌহ যুগে কেউ আবার করে সমাধি খুলে সেই ছুরি রেখে আসেন। এও এক প্রকারে অসম্ভব, কারন মিশরীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী সমাধিস্ত হয়ে গেলে সেই সমাধি আর খোলা হবেনা কারণ তাতে আভিশাপ লাগবে। আর যদি কেউ খোলে সে হবে সমাধি চোর। সে সব জিনিস রেখে আবার একটা নতুন অপূর্ব ছুরি রেখে সমাধি বন্ধ করে বেরিয়ে আসবেনা। কারণ কার্টার যখন সমাধি আবিষ্কার করেন তখন তার মধ্যে প্রায় সবই সাজানো ছিল আর এও বিশ্বাস করা হয় যে তা আগে কখনই বের করা হয়নি।ফারাও, তুত-আঙ্খ-আমন এর দুটি ছুরিএছাড়াও আছে রাজার রাজমুকুট, যেখানে উচ্চ মিশর ও নিম্ন মিশরের দুই রক্ষাকর্তা দেবতার মুখ বসানো। এরা হলেন একজন কোবরা সাপ ও অন্যজন শকুনি পাখি । এদের চোখ গুলি স্ফটিক দিয়ে বানানো, আজও এতটাই উজ্জ্বল যে মনে হয় আমার দিকেই তাকিয়ে আছে যেন। আর সেই দৃষ্টি যেন অত্যন্ত রোষ পূর্ণ। তীব্র রাগ জমা করা আছে সেই চোখ গুলির মধ্যে।রাজা তুত এর প্রতিটি আঙ্গুল সোনার পাত দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছিলো, এই ঘরে সেগুলিও শোভা পাচ্ছে। এর সাথে আছে রাজার বুকের উপর বসানো ছিল একটি সৌভাগ্যের প্রতীক, যা একটি গুবরে পোকার আদলে তৈরি । যাকে স্কারাব (Scarab) বা খেপ্রিও (Khepri) বলা হয়ে থাকে।Scarab বা Khepri, মিশরীয়দের সৌভাগ্যের প্রতীকএই ঘরের ঠিক বাইরে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে রাজার সব কটি সারকাফাগাস। সব কটি সারকাফাগাস ই সোনার পাত দিয়ে মোড়া, ভিতরে হয় পাথর বা কাঠ দিয়ে তৈরি। আর একটি আছে নিরেট সোনার। যার ওজন ৩ টন। অসম্ভব সুন্দর দেখতে সেটি আর আজও সমান উজ্জ্বল।ফারাও, তুত-আঙ্খ-আমনের গয়না ও রাজমুকুটএ সবের সাথে আছে রাজার ব্যবহার করা একটি সোনার চেয়ার। চেয়ারটিতে সোনা ও আধা-মুল্যবান পাথর আর ফিয়ান্স (Fience an art material made from burnt silica and natural colours, specially used in ancient Egypt, Mesopotamia and Harappa) দিয়ে খোদাই করা এক অপূর্ব চিত্র। সেই চিত্রতে দেখা যাচ্ছে, রাজা তুত বসে আছেন আর তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর রানী আঙ্খ-সনামন। রানীর হাতে সুগন্ধীর পাত্র। হয়ত সেই সুগন্ধী রানী লাগিয়ে দিচ্ছেন রাজার গায়ে, পরম যত্নে ও ভালবাসায়। কি সুন্দর একটি ভালবাসার ছবি ধরা রয়েছে সেই চেয়ারটিতে। আজ সেই ছবির মানুষ দুজন কেউ ই নেই, একদিন ছিলেন, তবু তাদের ভালবাসার ছবি রয়ে গেছে, যুগ যুগান্তর ধরে।সোনার সারকফাগাসএর সাথেও আছে আলাবাস্টর পাথরের তৈরি ৪ টি ক্যানোপিক জার, যার মধ্যে রাজার দেহের কিছু অঙ্গ ভরে রাখা আছে, আর সেই জার গুলিকে পাহারা দিচ্ছেন স্বয়ং দেবী ইসিস।ফারাও তুত-আঙ্খ-আমনের সোনার চেয়াররাজার সব কটি সারকাফাগাস ভাল ভাবে বন্ধ করার পর সৌধ তে বসানো ছিল, একটি কালো পাথরের বেদীর উপর, কালো পাথর ও সোনা দিয়ে তৈরি আনুবিস বা শেয়াল দেবতা। এই দেবতা হলেন পরবর্তী জীবনে যাবার দেবতা। এই হল সত্যজিতের সেই শেয়াল দেবতা।ফারাও এর সোনার সারকফাগাসের মুখHoward Carter বলেছেন যে, রাজা তুত এর সৌধতে প্রথম বার প্রবেশের সময় হঠাৎ করে আনুবিসের এই মূর্তি দেখে তিনি এক রকম ভাবে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলেন। আনুবিস, রাজার পরবর্তী জীবনে প্রবেশের পথ কে সুগম ও সুনিশ্চিত করতে পাহারায় বসেছেন। সেখানে তাঁর নির্দেশ অমান্য করে, কার সাধ্যি। তবে সেই সাহস যখন কার্টার দেখিয়েছেন, সেটি যেন মোটেই আনুবিস পছন্দ করছেন না।আলাবাস্টার পাথরের ক্যানপিক জারএরপর আমরা Royal Mummy Room গেলাম। এই ঘরে ঢোকার জন্য আলাদা টিকিট লাগে। এখানে বর্তমানে ১২ টি রাজবংশীয় মমি রাখা আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ফারাও রামাসেস দ্বিতীয়, রানী হাতসেপ্সুট, বা ফারাও আমনহটেপ এর। প্রতিটি মমিই খুব সুন্দর করে সংরক্ষণ করা। কাঁচের লম্বা বাক্সের মধ্যে রাখা। বুক থেকে পা অবধি পাতলা সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা। কাপড়টি দিয়েই কোন কালে সেই মমি কে বেঁধে রাখা হয়েছিল, তার ফলে কাপড়টি বেশ মলিন হয়ে উঠেছে। এই ঘরে কথা বলা নিষেধ , ছবি তোলা ত বটেই। ঘুমন্ত রাজাদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য। এখানে ঢুকে একটা অন্য রকম অনুভূতি হয়। হাজার হাজার বছর আগেকার রাজা, সম্রাটরা আমার সামনে পরম শান্তিতে, পরম বিশ্বাসের সাথে ঘুমিয়ে আছেন। একদিন যারা সমগ্র মিশর রাজত্ব করেছেন, আজ আমার সামনে শুয়ে। ইতিহাসকে এভাবে কোনদিন চোখে দেখা সম্ভব, ভাবতে পারিনি। বিজ্ঞান ও ইতিহাস এর এত সুন্দর মেল বন্ধন দেখলে অবাক হয়ে যেতে হয়। অবাক হবার ঘোর কাটতে একটু সময় লাগল। তারপর ঘর টি ঘুরে দেখতে লাগলাম।দেবতা আনুবিস, যিনি ফারাও তুতকে পাহারা দিচ্ছিলেনসব থেকে সুন্দর ভাবে আছে ফারাও রামাসেস দ্বিতীয়ের মমি। তাঁর সাদা চেহারা, সাদা চুল তাঁকে সত্যিই গ্রীক দেবতার সাথে তুলনা করাতে বাধ্য করে। সত্যি মনে হয় যে এমন একজন মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে রাজত্ব করলে কি অসাধারণ হবে ব্যাপারখানা। চোখের উজ্জ্বলতাতেই ভক্তি এসে যেতে বাধ্য। এখানে একটা মজার ব্যাপার জানলাম। ফারাও রামেসেস এর হাত দুটি যেন একটু খোলা অবস্থায় রয়েছে, বুকের উপর লাগানো নেই। শোনা গেল যে, ফরাসী প্রত্নত্বত্তবিদের দল যখন এই মমি আবিষ্কার করেন ও সংরক্ষণের কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ রাজার হাত দুটি খুলে গিয়ে সোজা হয়ে যাবার চেষ্টা করে। প্রথমে সবাই খুব পেয়ে যান, তবে পরে বোঝা যায় যে, হয়ত রাজার দেহকে মমি প্রক্রিয়া শুরু হতে দেরী হয়, তাতে মৃত শরীর শক্ত (Rigor Mortis) হয়ে যেতে থাকে।প্রত্যেকটি মমি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে সংরক্ষিত। প্রায় প্রত্যেকটি মমির চুল, দাঁত, হাত-পা, নখ এতটাই স্পষ্ট আর পরিষ্কার যে মনেই হয়না তারা হাজার হাজার বছর আগে মৃত। এই রাজা, রানীদের দেখে বার বার একটা কথা খুব মনে হচ্ছিল যে, আমাদের দেশের ইতিহাসেও তো কত রাজা রানীর কথা পড়েছি শুনেছি। কিন্তু নিজের চোখে তাদের দেখার সুযোগ তো হয়নি বা ঘটার ও কথা নয়। তবে এই ঘরে শুয়ে থাকা রাজারা প্রত্যেকে ৪০০০ হাজার বছর আগে দাপটের সাথে রাজত্ব করেছেন, অথচ নিজের চোখের সামনে তাদের দেখতে পাচ্ছি। এই অনুভূতিটা খুব অন্য ধরনের। এই ঘরে এসে আবার যেন সময়ের হিসেব টা গুলিয়ে গেল। বার বার মনে হতে লাগল যে আমি বোধহয় টাইম মেসিনে চেপে ঘুড়ে বেড়াচ্ছি।এছাড়াও সারা মিউসিয়াম জুড়ে অসংখ্য সারকফাগাস, অসংখ্য মূর্তি দেখতে পেলাম। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রানী হাতসেপ্সুতের স্ফিংক্স মূর্তি। রাজা খুফুর একমাত্র ছোট্ট একটি মূর্তি। আর সেই রাজার মূর্তি যিনি পুরনো সাম্রাজ্যের পর উত্তর ও দক্ষিণ মিশর কে আবার এক সাথে যুক্ত করেছেন।আর আছে অসংখ্য আঁকা ছবি। তার মধ্যে সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য ও আমার প্রিয় একটি আপনাদের দেখার জন্য দিচ্ছি।এত সুন্দর রঙ এর ব্যবহার এত বছর আগে হতে পারে, এ যেন ধারনার বাইরেএই ঘর থেকে বেরিয়ে আমরা আরও অনেক ঘরে গেলাম। সেখানে কোথাও পশু পাখির মমি করে রাখা আছে, কোথাও আছে হরেক রকম গয়না। আর অনেক মমির মুখোস দেখলাম। সেগুলি অনেক গুলি ই সোনার তৈরি। গয়নার নকসা দেখলে সত্যি ভাবতে ইচ্ছে করে যে মিশরীয়রা অপূর্ব গুণের অধিকারী ছিলেন।কায়রো মিউসিয়াম থেকে বেরিয়ে আমরা চললাম ঝুলন্ত চার্চ দেখতে। মিশরীয়দের পর খ্রিষ্টানরা মিশরের দখল নেয়, আর তারও পরে মুসলিম রা। বাইবেলের গল্প অনুযায়ী, ছোট্ট যীশুকে বাঁচানোর জন্য মা মেরী পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। সেই সময় কায়রোতে একটি ছোট্ট গুহাতে বেশ কিছু দিন ছিলেন। সেই জায়গাতেই তৈরি হয়েছে এই চার্চ। মিশরে, এই খ্রিষ্টানদের বলে কপটিক খ্রিষ্টান। চার্চটি অপূর্ব ।দেখে বোঝা যায় যে অনেক দিনের পুরনো চার্চ। ভিতরের সমস্ত আসবাব পত্র কাঠ ও হাতির দাঁতের। রঙিন কাঁচের কাজও খুব সুন্দর।ঝুলন্ত চার্চচার্চ থেকে বেরিয়ে আমরা গেলাম Citadel of Salah-i-Din দেখতে। ইসলামিক শাসনে আসার পর মিশরকে রক্ষা করার দায়িত্ব আসে মুসলিম সুলতানদের হাতে। তারা সব সময় ধর্ম যুদ্ধ (crusade) বা খ্রিষ্টান দের হাত থেকে মিশর কে বাঁচাতে চেয়েছে। এর জন্যই সুলতান সালাহ দিন পাঁচিল দিয়ে পুর শহরকে ঘিরে ফেলতে চান। আর তার ফলেই তৈরি হয় নতুন শহর বা সিটাডেল। বর্তমানে এই অঞ্চলটি মিশরের সামরিক বাহিনীর হাতে তবে এই সিটাডেলের মধ্যে থাকা দুটি মসজিদ, মহম্মদ আলি মসজিদ ও আলাবাস্টার মসজিদ পর্যটকদের জন্য খুলে রাখা হয়েছে। অপূর্ব সুন্দর মসজিদ দুটি। রঙ্গিন কাঁচের কাজ, পাথরের কাজ সব মিলিয়ে অনবদ্য। Alabaster মসজিদ এর আকৃতি ঠিক যেন ইস্তাম্বুলের blue mosque এর মত।আলাবাস্টার মসজিদএই মসজিদ দুটিই পুরনো কায়রো শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে। আর অনেকটা উঁচুতে। লোক মুখে শোনা যায় যে গিজার পিরামিডের গা থেকে পাথর খুলে নিয়ে এই মসজিদ তৈরি হয়েছে। তবে সত্যি টা কি সেটা বোধহয় কেউ ই জানেনা। তবে এ কথা ঠিক যে পিরামিড ও এই মসজিদ সবই এক ধরনের পাথর দিয়ে তৈরি।এই মসজিদের উপর থেকে গোটা শহরটাকে দেখা যায় আর সেটা খুব সুন্দর দেখতে লাগে। ধূসর রঙের বাড়ির সারি, দূরে কালো রঙের নীল নদ, ও আর দূরে আকাশ ভেদ করে পরপর উচ্চতা অনুযায়ী দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর এক আশ্চর্য। ভাষায় সে দৃশ্য বর্ণনা করা হয়ত আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যেন চোখের সামনে স্বপ্ন নগরী ভেসে উঠছে।এখান থেকে আমরা গেলাম khan-e-Khalil বাজারে। এই বাজারটিও প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। এই বাজারে এলেই মনে হবে কলকাতার ধর্মতলায় এসে গেছি। জিনিসপত্রের দোকান ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন খাবারের দোকান। এখানে বেশ গড়গড়া টানার প্রচলন দেখতে পাওয়া গেল। মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে দোকানে বসে গড়গড়া টানা এখানকার রীতি। সন্ধ্যে হতেই ঝলমলিয়ে উঠল বাজার। কেউ গান গাইছে, কেউ ফেরী করছে জিনিস, কেউ মেহেন্দি পরাচ্ছে। সব মিলিয়ে বেশ জমজমাট। নির্ভেজাল মিশরীয় স্বাদ পেতে অবশ্যই এই বাজারে আসতে হবে। চারিদিকে মিশরীয় খাবারের গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভোজন রসিকরা এখানে এসে বেশ তৃপ্ত হবেন।খান-এ-খালিল বাজারআমরা প্রথমেই বসে গেলাম turkish coffee নিয়ে। সেটা কিছুটা হলেও আমাদের filter coffee-র মতই খেতে। কি সুন্দর ছোট ছোট স্টিলের কফি পটের মধ্যে করে দিয়ে গেল। সাথে কাপ। ঢালো আর খাও। এরপর খানিক বাজার করতে যাওয়া হল। এখানে সব রকম জিনিস পাওয়া যায়। দরদাম করতে পারলে কেল্লা ফতেহ। আর এসে দেখালাম মিশরীয়রা খুব বলিউডের ভক্ত। ফলে শাহ্রুখ খান বা আমিতাভ বচ্চন বলে আপনাকে সাদর আমন্ত্রন জানাবে। দেশে ফিরে বন্ধুদের উপহার দেবার জন্য কিছু কেনার হলে এইখানেই কেনা ভাল কারণ গিজা চত্ত্বরে বা অন্য কোথাও দাম বেশি হবার সম্ভাবনা।খান-এ-খালিল বাজারে পসরাএরপর আমরা আবার রাতের জন্য মিশরীয় খাবার-ই পছন্দ করলাম। ফালাফেল বা কোশারি ওখানকার খুব নাম করা পদ। খানিক টা আমাদের বিরিয়ানির মত, তাতে এত কিছু থাকে যে আমাদের একজনের পক্ষে তা একটু বেশীই হয়ে গেছিল। আর ফালাফেল আমাদের ডালের বড়ার মত খেতে। এরসাথে না না রকম চাটনি ইত্যাদি ও ছিল। ওখানে বসে খলা আকাশের নীচে মিশরীয় গান শুনতে শুনতে আমেজ টা ভালই আসছিল। তবে কায়রোর ট্রাফিক এর কথা মনে পড়াতে বাড়ি ফেরার রাস্তা ধরলাম........শ্রেয়া ঘোষ (বর্ধমান)ক্রমশ...

নভেম্বর ১৯, ২০২২

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে বড় বিস্ফোরণ! ক্ষোভে ফেটে পড়ে সরাসরি ফিফাকে কাঠগড়ায় তুলল ইরান

বিশ্বকাপে টানা তিনটি ম্যাচ ড্র করার পর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে ইরান। মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি এবার ফিফার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তুলেছে দলটি। অধিনায়ক মেহদি তারেমি এবং কোচ আমির ঘালেনোইর দাবি, আয়োজনের বিভিন্ন সমস্যার কারণে শুরু থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাঁদের। সেই পরিস্থিতির প্রভাব দলের পারফরম্যান্সেও পড়েছে বলে অভিযোগ।গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে এক-এক গোলে ড্র করার পর ড্রেসিংরুমে একটি আবেগঘন বার্তা লিখে রেখে যায় ইরান দল। সেই বার্তায় তারা জানায়, তাদের কাছে ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়, সম্মান এবং চরিত্রেরও পরীক্ষা। বার্তায় আরও বলা হয়, পয়েন্ট জেতা সম্ভব, কিন্তু সম্মান অর্জন করা যায় না। স্বচ্ছতা ও মর্যাদা নিয়েই ইতিহাসের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায় তারা। পাশাপাশি সিয়াটলের আতিথেয়তা এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়।এটি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার ড্রেসিংরুমে বার্তা রেখে যাওয়ার ঘটনা। এর আগেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর একই ধরনের বার্তা লিখেছিল ইরান দল।ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মেহদি তারেমি বলেন, এই বিশ্বকাপ তাঁদের কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক অভিজ্ঞতা। তাঁর অভিযোগ, শুরু থেকেই বিভিন্ন সমস্যার কথা জানানো হলেও ফিফার পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর সমাধান করা হয়নি। এমনকি ফিফার সভাপতি প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।ইরানের অভিযোগ, দলের বেশ কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক কর্মী ভিসা না পাওয়ায় প্রতিযোগিতার সময় দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। এর ফলে ফুটবলারদের যাতায়াত, অনুশীলন এবং শারীরিক পুনরুদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সমস্যা তৈরি হয়। তারেমির দাবি, একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এমন পরিস্থিতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, যদি কোনও দলকে বিদায় দিতেই হয়, তা মাঠের খেলায় হোক, আয়োজনের সমস্যার কারণে নয়।একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোচ আমির ঘালেনোইও। তাঁর অভিযোগ, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। যদি দলকে আরও আগে আয়োজক দেশে পৌঁছতে দেওয়া হত, তাহলে ফুটবলাররা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক ভালো অবস্থায় থাকতেন। ভবিষ্যতে কোনও দলের সঙ্গে এমন পরিস্থিতি যেন না হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।গ্রুপ পর্ব শেষে ইরানের পরের পর্বে ওঠা এখন অন্য ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফিফার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগও বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি বিজেপি বিধায়ক! অস্ত্রোপচারের পর কী জানালেন পাপিয়া অধিকারী?

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। শনিবার তাঁকে বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একই দিন তাঁর ডান হাতের একটি আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিধায়কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় হাসপাতালের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর জানানো হয়েছে।পাপিয়া অধিকারী জানান, তাঁর ডান হাতের মধ্যমা আঙুলে সংক্রমণ হয়েছিল। সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আঙুল ফুলে যায় এবং তীব্র যন্ত্রণার কারণে হাত নাড়াতেও অসুবিধা হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত। সেই কারণেই আর দেরি না করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে অস্ত্রোপচার চলে।অস্ত্রোপচারের পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে পাপিয়া অধিকারী বলেন, তিনি এখন অনেকটাই ভালো আছেন। একই সঙ্গে বাঙুর হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবারও প্রশংসা করেন তিনি। বিধায়কের কথায়, টালিগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় এই সরকারি হাসপাতাল তাঁর বাড়ির সবচেয়ে কাছের। এখানকার চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের কর্মীরা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করেছেন। অস্ত্রোপচার কক্ষের পরিষেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও তাঁর ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।পাপিয়া অধিকারীর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন দলের সহকর্মী এবং অনুগামীরা। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছেন তিনি। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
দেশ

হঠাৎ কেঁপে উঠল দিল্লি-সহ উত্তর ভারত! আতঙ্কে রাস্তায় মানুষ, কী জানাল ভূকম্প বিশেষজ্ঞরা?

শনিবার সন্ধ্যায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। সেই কম্পনের প্রভাব অনুভূত হয়েছে দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর-সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায়। পাশাপাশি পাকিস্তান, চিন, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানেও মাটি কেঁপে ওঠে। হঠাৎ কম্পন অনুভূত হওয়ায় বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর ও অফিস ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি।জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটা চার মিনিটে আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ছয় দশমিক দুই। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের কালাফগান এলাকার কাছাকাছি, ভূপৃষ্ঠের প্রায় দুইশো পনেরো কিলোমিটার গভীরে। গভীরতা বেশি হওয়ায় কম্পন বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অনুভূত হয়েছে।দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন টের পান বাসিন্দারা। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য বাড়ি ও অফিস থেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর জানানো হয়নি।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একই দিনে পাকিস্তানেও সকালে পাঁচ দশমিক পাঁচ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। পরে সন্ধ্যায় আবারও সেখানে কম্পন অনুভূত হয়। এ ছাড়া শনিবার সকালে হিমাচল প্রদেশের চাম্বা এলাকায় তিন দশমিক দুই মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়। তবে সেই ঘটনাতেও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।এক দিনের মধ্যে পরপর একাধিক ভূমিকম্পের ঘটনায় দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন এবং পরবর্তী আপডেটের অপেক্ষায় রয়েছেন।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

রিষড়ায় স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীর মর্মান্তিক পরিণতি! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

হুগলির রিষড়ায় এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত ব্যক্তি ওই মহিলার স্বামী। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।শনিবার সকালে রিষড়ার তিন নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনির একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বত্রিশ বছরের মণিকা ওঝার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর গলায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার সময় পাশের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল দম্পতির ছয় বছরের মেয়ে। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই তাঁরা মহিলার নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।প্রতিবেশীদের দাবি, শুক্রবার রাতে ওই বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসার শব্দ শোনা গিয়েছিল। জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকা দীপঙ্কর সরকার কয়েক দিন আগে বাড়ি ফিরেছিলেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে তদন্তকারীরা তাঁর সন্ধান শুরু করেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, মহিলার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তি মেট্রো লাইনে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। পরে তাঁর পরিচয় জানতে গিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তিনি রিষড়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দীপঙ্কর সরকার। এরপর থেকেই দুই ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তি এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে দীপঙ্করের মনে সন্দেহ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে দম্পতির ছয় বছরের শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিবেশীরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় গ্রেফতার আউশগ্রাম-২ তৃণমূল সভাপতি ও ছেলে, আদালতে মিলল শর্তসাপেক্ষ জামিন

পাঁচ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় নতুন মোড়। বিজেপি কর্মীর বাড়ি, দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শেখ আব্দুল লালন এবং তাঁর পুত্র শেখ আফজল রহমান ওরফে সঞ্জুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালত তাঁদের শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করায় আইনি মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর রাতে কলকাতার গড়ফা থানা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করে আউশগ্রাম থানার অধীন ছোড়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এলাকা ছেড়ে কলকাতায় আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁদের বাড়ি আউশগ্রাম থানার গেঁড়াই গ্রামে।এই মামলার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ১৯ মে, যখন আউশগ্রাম থানার ভুঁয়েড়া গ্রামের এক বিজেপি কর্মী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালের ৩ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ শেখ আব্দুল লালনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি লাঠি, রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়। পরিবারের মহিলারা বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।শুধু বাড়িই নয়, অভিযোগকারীর বাড়ির পাশেই থাকা কাপড়ের দোকানেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় সাত লক্ষ টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর প্রাণভয়ে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হন অভিযোগকারী। তাঁর আরও দাবি, পরবর্তী সময়েও অভিযুক্তরা এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ বজায় রেখেছিল এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই গত ২৫ মে একই মামলায় ভুঁয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা গৌতম আঁকুড়ে নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শেখ আব্দুল লালনের বিরুদ্ধে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে আউশগ্রাম থানায় মোট পাঁচটি পৃথক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। গ্রেফতারের আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর ছেলে পূর্ব বর্ধমান জেলা ও দায়রা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক অভিযোগের গুরুত্ব, ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুট এবং এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে সেই আবেদন খারিজ করে দেন।শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমানের মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারকের (সিজেএম) আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায় তদন্তকারী সংস্থা। অন্যদিকে, ধৃতদের আইনজীবী দাবি করেন, গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং পূর্বে কোনও নোটিসও দেওয়া হয়নি। সেই যুক্তিতে জামিনের আবেদন করা হয়।উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পুলিশি হেফাজতের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা, সাক্ষীদের প্রভাবিত না করা এবং মামলার প্রমাণ নষ্ট না করার শর্তে শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর পুত্রকে জামিন মঞ্জুর করা হয়।এদিকে, একই দিনে আউশগ্রামের আরও একটি মামলায় শেখ আব্দুল লালনকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তদন্তকারী অফিসার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলার সম্পূর্ণ নথিপত্র আদালতে উপস্থিত না থাকায় ভারপ্রাপ্ত সিজেএম আবেদনটি গ্রহণ না করে নিয়মিত আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। ফলে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো সম্ভব হয়নি এবং জামিনে মুক্তি পান তিনি।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের গুরুতর অপরাধের অভিযোগে বহু ক্ষেত্রে সিজেএম আদালত পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে। তাছাড়া জেলা আদালত ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশি হেফাজতের আবেদন নাকচ করে জামিন মঞ্জুর হওয়ায় বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।যদিও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং অভিযুক্তদের নির্ধারিত সমস্ত শর্ত মেনে চলতে হবে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

তারাতলা কাণ্ডে ফিরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এবার সরাসরি গ্রেফতারির দাবি কুণালের! বেঁধে দিলেন সময়সীমাও

তারাতলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ষোলো। এখনও জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল এবং এর জন্য কার গাফিলতি দায়ী, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এই ঘটনার জেরে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আর সেই আবহেই ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে সরব হলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ।এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, তারাতলার সংশ্লিষ্ট বহনের নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদনের নথিতে ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি থাকে, তাহলে এখনও কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।কুণাল ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নথি দেখিয়ে ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষরের কথা বলেছিলেন। তাই যদি তিনি সত্যিই দোষী হন, তাহলে আইন অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত। তিনি দাবি করেন, শনিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যেই এই পদক্ষেপ করা হোক। পাশাপাশি তিনি বলেন, ওই দিন বিকেলে একটি রাজনৈতিক বৈঠক রয়েছে। সেখানে যদি ফিরহাদ হাকিম কাউন্সিলরদের নিয়ে উপস্থিত হন, তাহলে ধরে নিতে হবে তাঁকে গ্রেফতার করার কোনও সদিচ্ছা নেই।তিনি আরও দাবি করেন, যদি ফিরহাদ হাকিমকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। অন্যদিকে, যদি তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে বোঝা যাবে সরকার সত্যিই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। দলের দাবি, কোনও রাজনৈতিক নেতার পক্ষে গ্রেফতারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার অধিকার নেই।শনিবার সকালে তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং কাউন্সিলর সামস ইকবালের বিরুদ্ধে তারাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

‘স্যাটা ভাঙা মার’ মন্তব্যেই বিপদ! হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নতুন বিতর্কে তোলপাড়

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্যাটা ভাঙা মার মন্তব্যের জেরে শনিবার সন্ধ্যায় বহরমপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি যুব মোর্চা এবং সামাজিক সংগঠন রাম সীতা সেবা মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন মন্তব্য সমাজে উত্তেজনা ছড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।শুক্রবার রেজিনগরে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিজেপি সরকার গঠন করেছে, তাতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁর অভিযোগ, মুর্শিদাবাদে পরাজিত হওয়ার পরেও কয়েক জন বিজেপি নেতা অযথা দাপট দেখাচ্ছেন। এরপরই তিনি বলেন, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তাহলে তিনি মুসলিমদের একজোট করে স্যাটা ভাঙা মার দেবেন। এমনকি তিনি আরও দাবি করেন, সেদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী বা পুলিশ সুপারের কথাও ভাববেন না। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।হুমায়ুন কবির অতীতেও একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিরোনামে উঠে এসেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় তাঁর একাধিক মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা হয়েছিল। পরে বিতর্কের জেরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নওদা এবং রেজিনগর দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন তিনি। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তাঁর ছেলের জন্য।এবারের বিতর্কিত মন্তব্যের পর বিজেপি যুব মোর্চা এবং অভিযোগকারী সংগঠনগুলির দাবি, একজন বিধায়কের এমন বক্তব্য কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

যাঁর নামে কাঁপত বারাবনি, আজ কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল পুলিশ! সামনে যা হল, তাতে চাঞ্চল্য

একসময় বারাবনির প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন অসিত সিং। সেই অসিত সিংকে শনিবার খালি পায়ে, হাফপ্যান্ট পরা এবং কোমরে দড়ি বাঁধা অবস্থায় পুলিশের পাহারায় দেখে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গৌরান্ডি এলাকায়। ধৃত নেতাকে সামনে পেতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। শুরু হয় বিক্ষোভ, ওঠে কঠোর শাস্তির দাবি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী সভায় হামলার মামলার তদন্তে ধৃত অসিত সিং, তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিং এবং সহযোগী আকবর আলমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই সময়ই বহু মানুষ সেখানে জড়ো হন। ধৃতদের দেখে বিক্ষোভ শুরু হয়। অনেকে চোর চোর স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, ধৃতদের লক্ষ্য করে চটি ছোড়া হয়। উত্তেজিত কয়েক জন পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ধৃতদের মারার চেষ্টাও করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই তদন্তের কাজ শেষ করে।এই মামলার সূত্রপাত দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়। অভিযোগ, গৌরান্ডিতে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী সভা ভণ্ডুল করতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর, বিজেপি কর্মীদের মারধর এবং মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। সেই মামলার তদন্তেই এদিন ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ডুবুরডিহি চেকপোস্ট থেকে অসিত সিং এবং তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে ধরা হয় আকবর আলমকে। এর আগে অসিত সিংয়ের আর এক ভাই পিন্টু সিংও গ্রেফতার হয়েছিলেন। ফলে এই মামলায় অভিযুক্ত মূল চক্রের প্রায় সকলেই এখন পুলিশের হেফাজতে।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বারাবনি এলাকায় অসিত সিং এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দাদাগিরি, অত্যাচার ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। এক সময় তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে, বারাবনি থানার মধ্যেই জন্মদিন পালন নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়।এবার একসময়ের সেই প্রভাবশালী নেতাকে পুলিশের হেফাজতে দেখে অনেকেই স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

জুন ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal