• ১৫ মাঘ ১৪৩২, সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Sri Lanka

খেলার দুনিয়া

তোলপাড় শ্রীলঙ্কা, সরকার বিরোধী টুইট করে কী বললেন জয়সূর্য, জয়বর্ধনেরা?‌

শ্রীলঙ্কায় চলছে অর্থনৈতিক সঙ্কট। বিভিন্ন দেশের কাছে ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা নিজেকে আর্থিক দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছিল। সেই সময় রাজাপক্ষের সমর্থকরা ও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় কমপক্ষে ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই হামলার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। মহিন্দা রাজাপক্ষে সোমবার টুইট করে সাধারণ মানুষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। টুইটারে তিনি লেখেন, সাধারণ জনগণকে সংযম দেখানোর জন্য অনুরোধ করছি। মনে রাখবেন যে হিংস শুধুমাত্র হিংসারই জন্ম দেয়। আমরা যে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছি তার একটি সমাধান দরকার, যা এই প্রশাসন সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজাপক্ষের এই টুইটের জবাবে প্রাক্তন ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা টুইটারে লেখেন, হিংসা শুধুমাত্র আপনার সমর্থকদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করার আগে গুন্ডারা প্রথমে আপনার অফিসে এসেছিল। লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা এই মুহূর্তে আইপিএল খেলতে ব্যস্ত। তিনিও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে লিখেছেন, কাপুরুষ ও বর্বর! নিরপরাধ ও শান্তিপূর্ণ শ্রীলঙ্কার প্রতিবাদকারীদের উপর আজকের আক্রমণের সারসংক্ষেপ এই দুটি শব্দ। আমাদের দেশে এমন নেতৃত্ব আছে ভেবে আমি হতাশ। এই কারণে ঐক্যবদ্ধ থাকা সকলের সাথে আমার হৃদয় রয়েছে।শুধু কুমার সাঙ্গাকারা কিংবা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাই নন, সনথ জয়সূর্য, মাহেলা জয়বর্ধনে, রোশন মহানামার মতো প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন। সনথ জয়সূর্য টুইট করে বলেছেন, আমি কখনই ভাবিনি যে মন্দিরের মুখে বাইরের গাছের তলায় নিরাপরাধ প্রতিবাদকারীদের এই ধরণের গুণ্ডামি দিনের বেলায় সংঘঠিত হবে। পুলিশকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তারা দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের নয়, দেশের জনগণকে রক্ষা করার জন্য এখানে এসেছে। এটাই রাজাপক্ষের শেষ সময়। মাহেলা জয়াবর্ধনে বলেছেন, এই গুণ্ডারা আজ সকালে নিরপরাধ শান্তিপূর্ণ সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে জড় হয়েছিল। এটা কীভাবে হতে পারে? পুলিশ এবং অন্যরা কেবল এটি দাঁড়িয়ে দেখেছে। রোশন মহানামা টুইটারে লিখেছেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও শক্তিশালী বিক্ষোভের ওপর হামলা দেখে আমি বিরক্ত। এটি সরকারী কর্তৃপক্ষের কাপুরুষতা এবং স্বৈরাচারীতা দেখায় কারণ জনতা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে জড়ো হয়েছিল।

মে ০৯, ২০২২
বিদেশ

গভীর সঙ্কটে পরশি দ্বীপরাষ্ট্রঃ শ্রীলঙ্কার কেন এই দশা? পরিত্রাণের উপায় খুঁজছে দেশটি

ঋণগ্রস্ত হলে কী বেহাল দশা হয় এখন দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি দেখে তা সহজেই অনুমান করা যায়। বিশ্ববাজার থেকে ঋণ ক্রমাগত ঋণ নিয়ে তার বোঝা বেড়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে চরম খাদ্য সংকটে দেশটি। রয়েছে জ্বালানি সংকটও। মোদ্দা কথা সমস্ত দিক থেকে কোমর ভেঙে গিয়েছে প্রতিবেশি দেশটির। তারওপর দুডজনের বেশি মন্ত্রী এই বোঝা বইতে না পেরে পদত্যাগ করেছেন। নিদারুণ সংকটে জেরবার শ্রীলঙ্কা। কিন্তু কেন দেখা দিল এই জেরবার পরিস্থিতি?সরকার বিরোধী বিক্ষোভে টালমাটাল সারা শ্রীলঙ্কা। ইতিমধ্যে ২৬ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। অর্থনৈতিক সঙ্কটে বেলাগাম মূল্যবৃদ্ধি। প্রতি কিলোগ্রাম চালের দাম ২২০ টাকা। প্রতিটি জিনিষে হাত দিলেই ছ্যাঁকা লাগছে। ১৯৪৮-তে স্বাধীনতা অর্জনের পর এই প্রথম এমন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের কবলে দেশটি। এর আগে এলটিটিই গেরিলা যুদ্ধে দেশটির নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল। এবার সামগ্রিক সঙ্কটের মধ্যে দেশটি। শ্রীলঙ্কা জ্বালানী নেই, বিদ্যুৎ নেই, খাবার নেই, এ এক চরম অরাজকতা। তার মধ্যে বিক্ষোভ দমন করছে সরকার। কয়েকশো বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারও করেছে সরকার। জনরোষ ঠেকাতে কার্ফু জারি করতে হয়েছে। কীভাবে পরিস্থিতি আয়ত্বে আসবে তা খুব কঠিন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।বিশ্বে এই দেশের ঋণের পরিমান কত, জানেন?বিশ্বের নানা ক্ষেত্র থেকে ঋণ নিয়ে দায়গ্রস্ত শ্রীলঙ্কা। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি নানা দেশ থেকেও ঋণ নিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। দীর্ঘ সেই তালিকা। শ্রীলঙ্কা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে নিয়েছে ১৪.৬ শতাংশ, আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড থেকে ঋণের পরিমান ৩৬.৪ শতাংশ। তাছাড়া প্রাথমিক ঋণদাতাদের মধ্যে রয়েছে জাপান, চিন এবং এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাঙ্ক(ADB)। প্রতিবেশি দেশের সঙ্কটে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত সরকার। ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ কিনতে সাহায্য করার জন্য। পাশাপাশি ডিজেল পাঠাচ্ছে ভারত। একইসঙ্গে ভারতের তরফে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্রেডিট বাড়ানো হয়েছে। ঋণ শোধ করার জন্য কেউ সময় বাড়িয়েছে, কোনও দেশ আবার চাপও বাড়িয়েছে।কী করে পরিত্রাণ পেতে চাইছে শ্রীলঙ্কা?ঋণের বোঝা কমাতে উদ্যোগী হয়েছে শ্রীলঙ্কা। আপাতত ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি শুধু অপরিহার্য পণ্য সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র। সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্র, বিশেষত খাদ্য ও জ্বালানী সঙ্কট তীব্র মাত্রা নিয়েছে। দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য আকাশছোঁয়ায় রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে দেশজুড়ে। সরকার মনে করছে, ঋণ শোধ করা এই মুহূর্তে খুব জরুরি। তবে এখন শ্রীলঙ্কা সরকারের ভান্ডারে রয়েছে ২.৩১ বিলিয়ন ডলার। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবও পড়েছে এই দেশে। কারণ বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ঋণগ্রস্ত দেশটির তাই আরও নাজেহাল অবস্থা। শেষমেশ দেশে অশান্তি এড়াতে সেনা মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

এপ্রিল ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌ক্রিকেটজীবনের মতোই সততা বজায় রাখলেন ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথ

সৎ, ভদ্র ক্রিকেটার হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন ভারতের প্রাক্তন জোরে বোলার জাগাভাল শ্রীনাথ। খেলার সময় কোনও ক্রিকেটারের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ তাঁকে কখনও করতে দেখা যায়নি। সততাই ছিল তাঁর চরিত্রের অন্যতম দিক। খেলা ছাড়ার পর এখন ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও সততা, নিরপেক্ষতা দেখিয়ে চলেছেন শ্রীনাথ। শ্রীনাথের সততার জন্যই ছাড় পেল না তার ক্রিকেটের আঁতুরঘর বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। ভারতশ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজে দ্বিতীয় টেস্ট আয়োজনের দায়িত্ব ছিল বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের। গোলাপি বলে দিনরাতে টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। টেস্টের প্রথম ঘন্টা থেকেই বল ঘুরতে শুরু করেছিল। চিন্নাস্বামীর উইকেটে ব্যাটসম্যানদের খেলা যথেষ্ট কঠিন ছিল। পরের দিকে উইকেটের কিছুটা উন্নতি হলেও ব্যাট ও বলের লড়াই অসম হয়ে উঠেছিল। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইশ গজ দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ম্যাচ রেফারি জাগাভাল শ্রীনাথ। ম্যাচের পর আইসিসির কাছে কড়া রিপোর্ট দিতে পিছপা হননি তিনি। আইসিসিকে দেওয়া রিপোর্টে চিন্নাস্বামীর উইকেটকে সাধারণের থেকেও খারাপ বলে উল্লেখ করেন শ্রীনাথ। শ্রীনাথের রিপোর্টের ভিত্তিতে চিন্নাস্বামীর উইকেট বিলোঅ্যাভারেজ রেটিং পেয়েছে। আইসিসির কাছে ম্যাচ রেফারি জাগাভাল শ্রীনাথ যে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন, তাতে তিনি লিখেছেন, চিন্নাস্বামীর উইকেটে প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরেছে। খেলার প্রতিটা সেশনে সেই ঘূর্ণি বেড়েছে। এই উইকেটে ব্যাট ও বলের ভাল লড়াই হওয়া সম্ভব ছিল না। শ্রীনাথের রিপোর্টের ভিত্তিতে চিন্নাস্বামীর পিচকে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। আইসিসির নিয়মে বলা রয়েছে, ম্যাচ রেফারির মতে যে স্টেডিয়ামের পিচ বিলোঅ্যাভারেজ, সেই স্টেডিয়াম একটি ডিমেরিট পয়েন্ট পাবে। যে পিচ খারাপ এবং খেলার একেবারেই অনুপযুক্ত, সেখানে যথাক্রনে তিন ও পাঁচ ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হবে। এই ডিমেরিট পয়েন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর। যদি কোনও স্টেডিয়ামে এভাবে পাঁচ বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়, তাহলে সেই স্টেডিয়ামের ওপর এক বছরের জন্য কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবে আইসিসি।

মার্চ ২০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বেঙ্গালুরুতে ২৩৮ রানে জয় ভারতের, টেস্ট সিরিজেও চুনকাম শ্রীলঙ্কা

ঘূর্ণি উইকেটে অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নের দুরন্ত শতরান। তা সত্ত্বেও পরাজয় আটকাতে পারল না শ্রীলঙ্কা। বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় টেস্টে ভারত জিতল ২৩৮ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা শেষ হল ২০৮ রানে। টি২০ সিরিজের পর টেস্ট সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ শ্রীলঙ্কা। ২০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান মজুবত করল ভারত।ভারতের ২৫২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ১০৯। ৯ উইকেটে ৩০৩ রান তুলে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে। শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৪৭। দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা তুলেছিল ২৮/১। শ্রীলঙ্কার পরাজয় যে সময়ের অপেক্ষা, দ্বিতীয় দিনেই ছবিটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। তৃতীয় দিন ইনিংস কতটা টেনে নিয়ে যেতে পারে, সেটাই ছিল দেখার। এদিন ডিনারের আগেই ইনিংস শেষ শ্রীলঙ্কার। আগের দিনের ১ উইকেটে ২৮ রান হাতে নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিস ও অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে দলকে ভালই টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৯৭। কুশল মেন্ডিসকে তুলে নিয়ে ভারতকে ব্রেক থ্রু এনে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।Great atmosphere, good win, thank you to all the fans for your support 🇮🇳🏆 pic.twitter.com/mmyGTFyIYt Virat Kohli (@imVkohli) March 14, 2022মেন্ডিস ফিরতেই ধস শ্রীলঙ্কার ইনিংসে। পরপর আউট হন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও ধনঞ্জয় ডিসিলভা। ম্যাথুজকে (১) তুলে নেন অশ্বিন। আর ধনঞ্জয় (৪) অশ্বিনের শিকার। নিরোসান ডিকওয়েলাকে নিয়ে আবার রুখে দাঁড়ান করুণারত্নে। অক্ষর প্যাটেলের বলে ডিকওয়েলা (১২) স্টাম্পড হন। চরিথ আসালঙ্কা করেন ৫। এরপরেই এম্বুলডেনিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন দিমুথ করুণারত্নে। শেষ পর্যন্ত ১৭৪ বলে ১০৭ রান করে যশপ্রীত বুমরার বলে বোল্ড হন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। করুণারত্নে ফিরতেই ধস নামে শ্রীলঙ্কার ইনিংসে। পরপর ফিরে যান এম্বুলডেনিয়া (২), সুরঙ্গা লাকমল (১) ও বিশ্ব ফার্নান্দো (২)। ৫৯.৩ ওভারে ২০৮ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ভারতের হয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৫৫ রানে ৪টি, যশপ্রীত বুমরা ২৩ রানে ৩টি, অক্ষর প্যাটেল ৩৭ রানে ২টি ও রবীন্দ্র জাদেজা ৪৮ রানে ১টি উইকেট নেন। স্পিনিং উইকেটেই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন যশপ্রীত বুমরা। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৭ রানে তুলে নিয়েছেন ৮ উইকেট। যদিও তিনি ম্যাচের সেরার পুরস্কার পাননি। দুই ইনিংসেই দুরন্ত ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচের সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শ্রেয়স আয়ারককে। সিরিজের সেরা হয়েছেন ঋষভ পন্থ।

মার্চ ১৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবার ব্যর্থ বিরাট কোহলি, ভারতের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টেও জয়ের পথে ভারত। ভারতের ২৫২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১০৯ রানে। প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩০৩ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে ভারত। জয়ের জন্য ৪৪৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা তুলেছে ২৮/১।আগের দিনের ৬ উইকেটে ৮৬ রান হাতে নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। তাদের ইনিংস যে দীর্ঘস্থায়ী হবে না, প্রথম দিনেই বোঝা গিয়েছিল। দিনের তৃতীয় ওভারে বুমরার বলে ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লসিথ এম্বুলডেনিয়া। ৯৫ রানের মাথায় শ্রীলঙ্কার সপ্তম উইকেটের পতন হয়। অষ্টম ও নবম উইকেট পড়ে ১০০ রানে। ৩৪তম ওভারে অশ্বিনের বলে সুরঙ্গা লাকমল (৯) বোল্ড হন। পরের ওভারেই ডিকওয়েলাকে (২১) তুলে নেন যশপ্রীত বুমরা। ৮ রান করে অশ্বিনের বলে স্টাম্পড হন বিশ্ব ফার্নান্দো। মাত্র ৩৫.৫ ওভারে ১০৯ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস। যশপ্রীত বুমরা ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন। দেশের মাটিতে এক ইনিংসে এই প্রথম ৫ উইকেট পেলেন বুমরা। অশ্বিন ও সামি ২টি করে উইকেট নেন।১৪৩ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিল ভারত। ওপেনিং জুটিতে ১০ ওভারে ওঠে ৪২। এরপরই ধাক্কা খায় ভারত। এম্বুলডেনিয়ার বলে আউট হন মায়াঙ্ক আগরওয়াল (২২)। অর্ধশতরানের আগে ফেরেন রোহিত শর্মা (৪৬)। ধনঞ্জয় ডিসিলভার বলে তিনি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের হাতে ক্যাচ দেন। ১১৬ রানের মাথায় আউট হন হনুমা বিহারী (৩৫)। জয়বিক্রমাকে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। বিরাট কোহলি আবার ব্যর্থ। ১৬ বলে মাত্র ১৩ রান করে তিনি জয়বিক্রমার নীচু হয়ে যাওয়া বলে এলবিডব্লু হন।কোহলি ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন ঋষভ পন্থ ও শ্রেয়স আয়ার। এই জুটিই ভারতকে ৩০০ রানের লিড এনে দেন। ৩১ বলে ৫০ রান করে আউট হন ঋষভ। ৮৭ বলে ৬৭ রান করেন শ্রেয়স। জাদেজা করেন ২২। অশ্বিন ১৩। ৯ উইকেটে ৩০৩ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে ভারত। শ্রীলঙ্কার হয়ে জয়বিক্রমা ৭৮ রানে ৪টি ও এম্বুলডেনিয়া ৮৭ রানে ৩ উইকেট নেন।জয়ের জন্য ৪৪৭ রানে লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই লাহিরু থিরিমানেকে (০) তুলে নেন যশপ্রীত বুমরা। দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা তুলেছে ১ উইকেটে ২৮। হার বাঁচাতে শ্রীলঙ্কার এখনও চাই ৪১৯। যা অসম্ভব এই শ্রীলঙ্কা দলের পক্ষে।

মার্চ ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

শ্রেয়সের ব্যাটে মান বাঁচল, বেঙ্গালুরু টেস্টে প্রথম দিনেই চালকের আসনে ভারত

দলের ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিয়েও সেঞ্চুরি পেলেন না শ্রেয়স আয়ার। ৯২ রানে থেমে গেল তাঁর দুরন্ত ইনিংস। তবে তাঁর সৌজন্যেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মান বাঁচাল ভারত। ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হল ২৫২ রানে। বেঙ্গালুরুর চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে নৈশালোকে গোলাপি বলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভারতশ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্ট। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় ভারত। নাটকীয়ভাবে রান আউট হয়ে ফিরে যান মায়াঙ্ক আগরওয়াল। তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে এলবিডব্লুর জোরালো আবেদন ওঠে। রান নেওয়ার জন্য তিনি দৌড় শুরু করেন। রোহিত নন স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে বেরিয়ে এসেও মায়াঙ্ককে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু ক্রিজে ফিরতে পারেননি মায়াঙ্ক (৪)। তাঁকে রান আউট হয়ে ফিরতে হয়। রোহিত শর্মাও বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হননি। ১৫ রান করে তিনি লসিথ এম্বুলডেনিয়ার বলে আউট হন। ২৯ রানে ২ উইকেট হারায় ভারত। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান হনুমা বিহারি ও বিরাট কোহলি। দুজনেই বেশ সতর্কভাবে ব্যাট করছিলেন। কোহলির ব্যাট থেকে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শটও দেখা যায়। প্রবীন জয়বিক্রমার বলে হনুমা বিহারীকে এলবিডব্লু আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার নীতিন মেনন। রিভিউ নিএ সে যাত্রায় বেঁচে যান হনুমা। তবে নিজের ইনিংসকে দীর্ঘায়িত করতে পারেননি। ২৭ তম ওভারে সেই জয়বিক্রমার বলেই আউট হন হনুমা (৩১)। পরের ওভারেই ধনঞ্জয় ডিসিলভার বলে ফিরে যান কোহলি (২৩)। পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। ক্রিজে নেমে পাল্টা আক্রমণের রাস্তা বেছে নেন ঋষভ পন্থ। ২৬ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৩৯ রান করে এম্বুলডেনিয়ার বলে আউট হন তিনি। আগের ম্যাচের নায়ক রবীন্দ্র জাদেজাও (৪) এই ম্যাচে রান পাননি। তিনিও এম্বুলডেনিয়ার শিকার। একের পর এক উইকেট পড়লেও অন্যপ্রান্ত আগলে রাখেন শ্রেয়স আয়ার। অশ্বিন (১৩), অক্ষর প্যাটেলরাও (৫) খুব বেশিক্ষণ শ্রেয়সকে সঙ্গ দিতে পারেননি। অক্ষর আউট হওয়ার পর শ্রেয়স বেশি স্ট্রাইক নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন। তাও শেষরক্ষা হল না। শেষদিকে সঙ্গী পাবেন না বুঝে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন। এগিয়ে গিয়ে প্রবীন জয়বিক্রমাকে বাউন্ডারির বাইরে ফেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন শ্রেয়স। ৯৮ বলে তিনি করেন ৯২। ২৫২ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। এম্বুলডেনিয়া ৯৪ রানে ৩ উইকেট নেন। প্রবীণ জয়বিক্রমা ৮১ রানে নেন ৩ উইকেট। ধনঞ্জয় ডিসিলভা ২টি এবং সুরঙ্গা লাকমল ১টি উইকেট নেন।ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কাও চরম বিপর্যয়ে পড়ে। শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ধাক্কা দেন যশপ্রীত বুমরা। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই তুলে নেন কুশল মেন্ডিসকে (২)। এক ওভার পরেই ফেরান লাহিরু থিরিমানেকে (৪)। ডিমুথ করুণারত্নেকে (৪) তুলে নেন মহম্মদ সামি। ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। সেই চাপ থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি। মিডল অর্ডারে কিছুটা লড়াই করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। ৮৫ বলে ৪৩ রান করে বুমরার বলে আউট হন। দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৮৬। নিরোসান ডিকওয়েলা ১৩ রানে ও লসিথ এম্বুলডেনিয়া ০ রানে ক্রিজে রয়েছেন। ভারতের হয়ে যশপ্রীত বুমরা ১৫ রানে ৩টি, মহম্মদ সামি ১৮ রানে ২টি ও অক্ষর প্যাটেল ২১ রানে ১টি উইকেট নিয়েছেন।

মার্চ ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে গোলাপি বল নিয়েই চিন্তা ভারতীয় শিবিরের

শনিবার বেঙ্গালুরুর চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে নৈশালোকে শুরু হচ্ছে ভারতশ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্ট। গোলাপি বলে খেলা হবে এই ম্যাচ। গোলাপি বলে এখনও সেভাবে সড়গড় হতে পারেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। তাই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে যথেষ্ট চিন্তিত ভারতীয় শিবির। ম্যাচের আগের দিন সহঅধিনায়ক যশপ্রীত বুমরার মুখেই শোনা গেল সেই চিন্তার কথা। এখন পর্যন্ত গোলাপি বলে মাত্র তিনটি টেস্ট খেলেছে ভারত। দেশের মাঠে একটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, আর একটা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। দুটি টেস্টে সহজে জিতলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গোলাপি বলের টেস্টে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল ভারতকে। মাত্র ৩৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বিরাট কোহলির দল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুতে গোলাপি বলের টেস্টে মাঠে নামার আগে মানসিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে ভারতীয় দল। ম্যাচের আগে বুমরা বলেন, পেশাদার ক্রিকেটারদের দ্রুত সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। গোলাপি বলে ফিল্ডিং করা একটা আলাদা রকমের অভিজ্ঞতা। যতটা সময় নিয়ে বল কাছে আসবে বলে মনে হয়, তার আগেই চলে আসে। দুপুরের দিকে বল বেশি স্যুইং হয় না। তবে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে সুইং বেশি হয়। এই সব খুঁটিনাটি বিষয় মাথায় রেখে, আলোচনা করেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। গোলাপি বলে আমরা বেশি টেস্ট খেলিনি। যখন খেলেছি, তখন কঠিন পরিস্থিতিতেও খেলেছি। তাই কোনও মাপকাঠি চূড়ান্ত হয়নি। যেটুকু অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং অন্যদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পেয়েছি তার ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গোলাপি বলের সঙ্গে আমরা ফিল্ডিং, বোলিং, ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত নই। রোজ রোজ তো গোলাপি বলে ক্রিকেট খেলি না। তাই কী ধরনের পরিবর্তন করতে হবে, সেটা মাঠে নেমেই ঠিক করব। প্রথম একাদশ কী হবে, তা খোলসা করেননি বুমরা। ম্যাচের আগে বাইশ গজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বুমরা বলেন, পিচের পরিস্থিতি দেখে ঠিক হবে কী কম্বিনেশন হওয়া উচিত। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামব। অক্ষর প্যাটেল আগের সিরিজেও দলে ছিল। বল ও ব্যাট দুটোতেই দলে অবদান রাখে। প্রথম একাদশে জায়গা পাবে কিনা সেটা এখনও বলা সম্ভব নয়। তিন সিমার না তিন স্পিনারে নামা হবে তা পিচ দেখেই চূড়ান্ত হবে। এদিকে, বেঙ্গালুরু টেস্টে মাঠে নামার আগে বড় ধাক্কা শ্রীলঙ্কা শিবিরে। দ্বিতীয় টেস্টেও খেলতে পারবেন না দুষ্মন্ত চামিরা। তবে তাঁর থেকেও বড় ধাক্কা ফর্মে থাকা পাথুম নিসাঙ্কার ছিটকে যাওয়া। ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি ২০ আন্তর্জাতিকে তিনি ঝোড়ো ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। শ্রীলঙ্কার এই ওপেনার মোহালি টেস্টেও অর্ধশতরান পেয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ৬১ রানে। কিন্তু পিঠের চোট তাঁকে ছিটকে দিল বেঙ্গালুরু টেস্ট থেকে। ভারত সফরে শ্রীলঙ্কার যে কয়েকজন কিছুটা সফল তাঁদের মধ্যে নিসাঙ্কা অন্যতম। শ্রীলঙ্কার অনভিজ্ঞ টেস্ট দলে নিসঙ্কার ব্যাটিং গড়ও ৪০-এর উপর। সিরিজে সমতা ফেরানোর লড়াইয়ে নামার আগে চোট সমস্যাও চ্যালেঞ্জ শ্রীলঙ্কার।

মার্চ ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌কোহলির শততম টেস্টে নজর কাড়লেন জাদেজা, স্পর্শ করলেন ৬০ বছরের পুরনো রেকর্ড

ভারত-শ্রীলঙ্কা মোহালি টেস্টে সকলের নজর ছিল বিরাট কোহলির দিকে। এটাই ছিল কোহলির শততম টেস্ট। মাইলস্টোনের ম্যাচে প্রাক্তন অধিনায়কের ব্যাটে স্মরনীয় কিছু দেখতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। শততম টেস্টে মাত্র ১ ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলেন কোহলি। হাফসেঞ্চুরিও করতে পারেননি। যাবতীয় নজর কেড়ে নিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। স্পর্শ করলেন ভারতীয় ক্রিকেটের ৬০ বছরের পুরনো রেকর্ড। তাঁর দাপটেই তিনদিনের কম সময়ে শ্রীলঙ্কাকে ইনিংস ও ২২২ রানে হারিয়ে টেস্ট সিরিজে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৭৪ রান তুলে ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল ভারত। রবীন্দ্র জাদেজা ১৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা তোলে ৪ উইকেটে ১০৮ রান। পাথুম নিসাঙ্কা ২৬ ও চরিথ আসালঙ্কা ১ রানে ক্রিজে ছিলেন। এদিন দলের ১৬১ রানের মাথায় আসালঙ্কাকে (২৯) তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ধাক্কা দেন যশপ্রীত বুমরা। দুওভার পরেই নিরোসান ডিকওয়েলাকে (২) তুলে নেন রবীন্দ্র জাদেজা। একই ওভারে ফেরান সুরঙ্গা লাকমলকে (০)। লাকমল ফেরার পরপরই পরিস্কার হয়ে যায় যে, বেশিদুর এগোতে পারবে না শ্রীলঙ্কা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির কিছুক্ষণ আগেই ১৭৪ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। পাথুম নিসাঙ্কা একা লড়াই করে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের হয়ে বুমরা ও অশ্বিন ২টি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে সাফল্যের পর বল হাতেও দু্র্দান্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়ে ৪১ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৬০ বছর পরে ভারতীয় ক্রিকেটে অনন্য নজির গড়লেন রবীন্দ্র জাদেজা। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ১৭৫ রান করেন তিনি। বল হাতে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে ৪১ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন। পর পর দুবলে বিশ্ব ফার্নান্ডো ও লাহিরু কুমারাকে আউট করে পাঁচ বছর পরে ফের টেস্টে এক ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন জাদেজা। একই টেস্টে ১৫০র বেশি রান ও ৫ উইকেটের কৃতিত্ব এর আগে রয়েছে দুই ভারতীয়র। ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভিনু মানকড় এক টেস্টে করেছিলেন ১৮৪ রান ও বল হাতে ১৯৬ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। তার ১০ বছর পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পলি উমরিগড় এক টেস্টে ১৭২ রান করেছিলেন ও ১০৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। ভারতীয় হিসেবে রবীন্দ্র জাদেজা এই তালিকায় তৃতীয় ক্রিকেটার যিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। ভারতীয়রা ছাড়া এই তালিকায় রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেনিস অ্যাটকিনসন, গ্যারি সোবার্স ও পাকিস্তানের মুস্তাক মহম্মদ। প্রথম ইনিংসে ৪০০ রানে এগিয়ে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কাকে ফলোঅন করায় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় ওভারেই হারায় লাহিরু থিরিমানেকে (০)। তাঁকে তুলে নেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে লড়াই করা পাথুম নিসাঙ্কা করনে মাত্র ৬ রান। তিনিও অশ্বিনের শিকার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬০ ওভারে ১৭৮ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। নিরোসান ডিকওয়েলা ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ করেন ২৮, ধনঞ্জয় ডিসিলভা ৩০, আসালঙ্কা ২০। ভারতের হয়ে অশ্বিন ৪৭ রানে ৪টি ও জাদেজা ৪৬ রানে ৪টি উইকেট নেন। এদিন কপিলদেবের ৪৩১ টেস্ট উইকেটের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন অশ্বিন।

মার্চ ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌প্রথম টেস্টে চালকের আসনে ভারত, আবার বিতর্কে দ্রাবিড়

মোহালিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় দিনেই চালকের আসনে ভারত। এদিন চা বিরতির পর ৮ উইকেটে ৫৭৪ রান তুলে ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা করেন রোহিত শর্মা। দুরন্ত ব্যাটিং রবীন্দ্র জাদেজার। ১৭৫ রানে অপরাজিত রইলেন তিনি। জবাবে দিনের শেষে ৪ উইকেটে ১০৮ রান। ভারতের ইনিংস ডিক্লেয়ার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিতর্কে আবার নাম জড়িয়েছে হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের। তাঁর জন্যই নাকি দ্বিশতরান হাতছাড়া হয়েছে রবীন্দ্র জাদেজার।এদিন মোহালিতে ফিরে এল ২০০৪ সালে ২৯ মার্চের স্মৃতি। মুলতানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই টেস্টে ভারতের নেতৃত্বে ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। দ্বিতীয় দিন চা বিরতির সময় ভরতের রান ছিল ৫৮৮/৪। শচীন তেন্ডুলকার ১৬৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। চা বিরতির পর ৩৫ বলে ২৯ রান করার পরেও শচীনকে দ্বিশতরান করার সুযোগ দেননি অধিনায়ক দ্রাবিড়। যুবরাজ আউট হতেই ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন। দ্রাবিড়। শচীন তখন ১৯৪ রানে অপরাজিত। দ্রাবিড় এখন ভারতের কোচ। এদিন জাদেজা যেভাবে ব্যাট করছিলেন, সেঞ্চুরি করতে বেশিক্ষণ সময় লাগত না। কিন্তু ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক অপেক্ষা করেনি। ইনিংস ডিক্লেয়ারের সিদ্ধান্ত দ্রাবিড়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। শচীন ও জাদেজার দ্বিশতরান থেকে বঞ্চিত হওয়ার নেপথ্যে থেকে গেলেন সেই রাহুল দ্রাবিড়। ১৮ বছর আগে তিনি ছিলেন অধিনায়ক আর এখন কোচ।আগের দিন ২২৮ রানের মাথায় ভারতের পঞ্চম উইকেট পড়েছিল। শ্রেয়স আয়ার ২৭ রানে আউট হওয়ার পর ঋষভ পন্থের সঙ্গে জুটি বাঁধেন রবীন্দ্র জাদেজা। দুজনের জুটিতে ওঠে ১০৪ রান। জাদেজাঅশ্বিন জুটিতে ওঠে ১৩০। ৬১ রান করে আউট হন অশ্বিন। ভারতের অষ্টম উইকেট পড়ে ৪৭১ রানের মাথায়। মাত্র ২ রান করে আউট হন জয়ন্ত যাদব। জাদেজামহম্মদ সামির নবম উইকেট জুটিতে ওঠে ১০৩। জাদেজা সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১৬০ বলে। ১৫০ রানে পৌঁছান ২১১ বলে। সামি ৩৪ বল খেলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন। রবীন্দ্র জাদেজা অপরাজিত থাকেন ১৭৫ রানে। খেলেন ২২৮ বল। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১৭টি চার ও ৩টি ছয়।চা বিরতির পর ইনিংস শুরু করে শ্রীলঙ্কা। ৪৮ রানে প্রথম উইকেট হারায়। লাহিরু থিরিমানেকে তুলে নেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। থিরিমানে ৬০ বলে ১৭ রান করেন। করুণারত্নে ৭১ বলে ২৮ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার শিকার। ৩৯ বলে ২২ রান করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ যসপ্রীত বুমরার বলে লেগ বিফোর হন।অশ্বিন ১৩ ওভারে ২১ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। রবীন্দ্র জাদেজা ৩০ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। যশপ্রীত বুমরা ২০ রান দিয়ে ১টি উইকেট দখল করেছেন।

মার্চ ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌শততম টেস্টে বড় রান করতে ব্যর্থ কোহলি, পন্থের দাপটে ভারত ভাল জায়গায়

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মার প্রথম টেস্ট। মাইলস্টোনের ম্যাচ বিরাট কোহলিরও। মোহালিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জীবনের শততম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন কোহলি। মাইলস্টোনের ম্যাচে অনেকেই কোহলির কাছ থেকে সেঞ্চুরি প্রত্যাশা করেছিলেন। তাঁর ভক্তদের হতাশ করলেন কোহলি। শততম টেস্টে বড় রান করতে ব্যর্থ। অধিনায়ক রোহিত শর্মাও নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন না। তা সত্ত্বেও প্রথম দিনের শেষে বড় রান ভারতের। ৬ উইকেটে তুলল ৩৫৭। সৌজন্যে ঋষভ পন্থ। যদিএ ধৈর্য হারিয়ে মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না ভারতীয় দলের এই উইকেটকিপার ব্যাটার। মোহালিতে আইএস বিন্দ্রা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। ভাল শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও রোহিত শর্মা। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৫২। এরপরই লাহিরু কুমারার বলে আউট হন রোহিত (২৯)। লোকেশ রাহুলের পরিবর্তে ওপেন করতে নামা মায়াঙ্ক আগরওয়াল ৩৩ রান করে এমবুলদেনিয়ার বলে লেগ বিফোর আউট হন। ৮০ রানের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন ভারতের দুই ওপেনার।চেতেশ্বর পুজারার বিকল্প হিসেবে হনুমা বিহারিকে তিন নম্বরে সুযোগ দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সুযোগের সদব্যবহার করলেন হনুমা। কোহলির সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টেনে নিয়ে যান। জুটিতে ওঠে ৯০। শততম টেস্টে কোহলির দিকে তাকিয়েছিলেন সকলেই। অনেকেই ভেবেছিলেন, দীর্ঘদিন বড় রান না পাওয়া কোহলি ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জ্বলে উঠবেন। ভাল শুরু করেও শেষরক্ষা করতে পারেননি। এমবুলদেনিয়ার স্পিনে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন কোহলি। ৭৬ বলে তিনি করেন ৪৫। এদিন টেস্ট ক্রিকেটে ৮০০০ রান পূর্ণ করেন তিনি। কোহলি যখন আউট হন ভারতের রান ১৭০। কোহলি আউট হওয়ার পরপরই ফেরেন হনুমা বিহারি। তিনি করেন ৫৮। শ্রেয়স আয়ারও (২৭) বড় রান পাননি।Listen in to what Virat Kohli has to say on his playing his landmark Test today. @Paytm #INDvSL | @imVkohli pic.twitter.com/MAtUcgJcVo BCCI (@BCCI) March 4, 2022৫ নম্বরে ক্রিজে নেমে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে ব্যাট করতে থাকেন ঋষভ পন্থ। ৭৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এরপর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। লসিথ এমবুলদেনিয়ার ১ ওভারে নেন ২২। ম্যাচের দ্বিতীয় নতুন বলে সুরঙ্গা লাকমলের ওভারে বোল্ড হন ঋষভ। ৯টি ৪ ও ৪টি ৬য়ের সাহায্যে ৯৭ বলে ৯৬ রান করে ঋষভ। রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে জুটিতে তোলেন ১০৪। এই নিয়ে ৫ বার নব্বইয়ের ঘরে আউট হলেন ঋষভ। দিনের শেষে ভারত ৮৫ ওভারে তোলে ৩৫৭/৬। রবীন্দ্র জাদেজা ৪৫ ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন ১০ রানে ক্রিজে রয়েছেন।

মার্চ ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকের আগে কেন চাপে নেই রোহিত?‌

সাদা বলের ক্রিকেটে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে ভারত। টি২০ ক্রিকেটে টানা তিনটি সিরিজ জিতেছে রোহিত শর্মার দল। গত বছরের শেষে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ দিয়ে শুরু। কিউয়িদের হোয়াইট ওয়াশ করার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও ৩০ ব্যবধানে জয়। মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও একদিনের সিরিজ জিতেছে ভারত। তবে ছন্দপতন লালবলের ক্রিকেটে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারতে হয়েছে ভারতকে। ঘরের মাঠে সামনে এবার শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া রোহিত শর্মার দল।দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজে হেরে আইসিসির বিশ্ব টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে ভারত। পয়েন্টের পার্সেন্টেজের বিচারে রয়েছে পঞ্চম স্থানে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২০ ব্যবধানে না জিতলে আরও পিছিয়ে পড়তে হবে। ফাইনালে ওঠার জন্য ভারতের সামনে রয়েছে ৯টি টেস্ট। এই ৯টি টেস্টেই জেতার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। অন্যদিকে, টি২০ সিরিজে বিধ্বস্ত হওয়ার পর টেস্ট সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। গতবছর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজ ১০ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। তারপর ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান বিরাট কোহলিরা। প্রথম টেস্ট জিতে ইতিহাস তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সিরিজ জেতা হয়নি। বাকি দুটি টেস্টে জিতে সিরিজ জেতে প্রোটিয়ারা। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অভিষেক হতে চলেছে রোহিতের। তাঁর লক্ষ্য অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টে ছাপ রাখতে। তবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শুধু দুটি টেস্টই নয়, লক্ষ্য সব টেস্ট জেতা। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টে খেলতে নামার আগে চাপে নেই হিটম্যান রোহিত। দলের ওপর ভরসা করছেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয় ছাড়া কিছু ভাবছেন না ভারতীয় দলের অধিনায়ক। তিনি বলেন, দল হিসেবে আমরা খুব ভাল জায়গায় আছি। এরজন্য বিরাটকে কৃতিত্ব দিতে হবে। ক্যাপ্টেন হিসেবে দলটা তৈরি করেছে। ওর সাফল্যকে ধরে রেখে আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আমি শুধু জয়ের কথা ভাবছি।দীর্ঘদিন পর চেতেশ্বর পুজারা ও অজিঙ্কা রাহানেকে ছাড়াই খেলতে নামবে ভারত। এই দুই ব্যাটারের জায়গা সহজে ভরাট হবে না বলে মনে করছেন রোহিত। তাঁর কথায়, পুজারা, রাহানের পরিবর্ত যারাই দলে আসুক তাদের কাজটা সহজ হবে না। দলের জন্য রাহানে ও পুজারার অবদান কখনও ভোলার নয়। দলকে প্রচুর ম্যাচে জিতিয়েছে। ভারতকে ১ নম্বর টেস্ট দল করার পেছনে ওদের বড় অবদান রয়েছে। চেতেশ্বর পুজরার জায়গায় তিন নম্বরে শ্রেয়স আয়ারের খেলার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে রাহানের জায়গায় হনুমা বিহারি কিংবা শুভমান গিলের মধ্যে একজন। এছাড়া দীর্ঘদিন পর আবার টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামতে চলেছেন রবীন্দ্র জাদেজা।

মার্চ ০৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌কোহলির ওপর চাপ বাড়ালেন শ্রেয়স, শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইট ওয়াশ ভারতের

বিরাট কোহলির ওপর কি চাপ বাড়িয়ে দিলেন নাইট রাইডার্সের নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার? টি২০ ক্রিকেট থেকে দিন দশেকের বিশ্রাম নিয়েছেন বিরাট কোহলি। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন শ্রেয়স আয়ার। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচেই অর্ধশতরান। তাঁর দাপটেই সিরিজের তৃতীয় টি২০ ম্যাচেও জিতল ভারত। ৬ উইকেটে হারাল শ্রীলঙ্কাকে। নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর শ্রীলঙ্কাকেও টি২০ সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ ভারতের। একই সঙ্গে টানা ১২টি টি২০ ম্যাচ জিতে আফগানিস্তান ও রোমানিয়ার বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করল ভারত। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনকা। আবেশ খান ও মহম্মদ সিরাজের দাপটে শুরুতেই বেসামাল হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার। প্রথম ওভারেই মহম্মদ সিরাজ তুলে নেন দানুষ্কা গুণতিলকাকে (০)। পরের ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ১০ বলে ১ রান করে আবেশ খানের বলে ভেঙ্কটেশ আয়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পাথুম নিসাঙ্কা। চতুর্থ ওভারে তৃতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কায চরিথ আসালঙ্কাকে (৪) তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে বেকায়দায় ফেলে দেন আবেশ খান। ২৯ রানে শ্রীলঙ্কার চতুর্থ উইকেটের পতন। নবম ওভারে জানিথ লিয়ানাগেকে (৯) তুলে নেন রবি বিষ্ণোই। ১২.১ ওভারে দীনেশ চান্দিমল (২৭ বলে ২২) আউট হলে শ্রীলঙ্কার স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৬০। এরপর শ্রীলঙ্কাকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক দাসুন শনাকা। ২৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৭৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। মারেন ৯টি চার ও ২টি ছয়। করুণারত্নে ১৯ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ১৪৬/৫। ভারতের যা ব্যাটিং শক্তি, এই রান তুলতে সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। শুরুতে রোহিত শর্মা ফিরে গেলেও সমস্যায় পড়তে হয়নি। ৯ বলে মাত্র ৫ রান করে দুষ্মন্ত চামিরার বলে আউট হন রোহিত। এই নিয়ে ৬ বার চামিরার শিকার হলেন ভারতীয় অধিনায়ক। ঈশান কিশান চোটের জন্য ছিটকে যাওয়ায় রোহিতের সঙ্গে এদিন ওপেন করতে নেমেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। সঞ্জুও (১২ বলে ১৮) বড় রান করতে পারেননি। দীপক হুডা ১৬ বলে ২১ রান করে আউট হন। ভেঙ্কটেশ আয়ারও (৫) ব্যর্থ। এরপর ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন শ্রেয়স আয়ার ও রবীন্দ্র জাদেজা। ৪৫ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে তিনি ২০৪ রান করলেন। তিন ম্যাচের টি২০ আন্তর্জাতিক সিরিজে বিরাট কোহলির সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এদিন ভেঙে দিলেন শ্রেয়স। তিনটি চারের সাহায্যে ১৫ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন রবীন্দ্র জাদেজা। ১৬.৫ ওভারে ১৪৮/৪ তুলে ম্যাচ জিতে যায় ভারত।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

শ্রেয়স–জাদেজা ঝড়ে উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা, টানা সপ্তম সিরিজ জয় ভারতের

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টি২০ সিরিজ জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইট ওয়াশ করার পর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও কি ৩০ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারবে ভারত? শ্রেয়স আয়ার ও রবীন্দ্র জাদেজার দুরন্ত ব্যাটিং ভারতকে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে ৭ উইকেটে জয় এনে দিল। ২০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। এই নিয়ে দেশের মাঠে টানা সপ্তমবার টি২০ সিরিজ জিতল।ধরমশালায় টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট করতে পাঠান রোহিত শর্মা। শ্রীলঙ্কা প্রথম ১০ ওভারে নিজেদের একেবারেই মেলে ধরতে পারেনি। রান তোলার গতি ছিল খুবই শ্লথ। শেষ ৩ ওভারে পাথুম নিসাঙ্কা ও দাসুন শানাকার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভারতকে চ্যালেঞ্জ ছুঁ্ড়ে দেয় শ্রীলঙ্কা। নির্ধারিত ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান। ২টি চার ও ৫টি ছয়ের সাহায্যে ১৯ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা। শেষ ৪ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৭২ রান। পাথুম নিসাঙ্কা ও দাসুন শনাকার পঞ্চম উইকেট জুটিতে ২২ বলে ওঠে ৫০। নিসঙ্কা অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ৪৩ বলে। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে এলবিডব্লু আউট হওয়ার আগে ৫৩ বলে করেন ৭৫ রান। নিসঙ্কা ১৯ তম ওভারের শেষ বলে আউট হলেও শ্রীলঙ্কাকে বড় রানে পৌঁছে দেন অধিনায়ক শানাকা। ১৯ বলে ৪৭ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ১৮৩/৫। ভুবনেশ্বর কুমার ৩৬ রানে ১টি, যশপ্রীত বুমরা ২৪ রানে ১টি, যুজবেন্দ্র চাহাল ২৭ রানে ১টি ও রবীন্দ্র জাদেজা ৩৭ রানে ১টি উইকেট দখল করেন।রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই রোহিতের (১) উইকেট হারায় ভারত। প্রথম ওভারের শেষ বলে তুলে নেন দুষ্মন্ত চামিরা। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে ১৬ রান করে ঈশান কিষাণ আউট হন। ভারতের রান তখন ৪৪। এরপরই শ্রেয়স আয়ার ও সঞ্জু স্যামসনের জুটি ভারতকে জয়ের দিকে এগিয়ে দেয়। ঝোড়ো ব্যাটিং করে তাঁরা জুটিতে তোলেন ৮৪ রান। ২৫ বলে ৩৯ রান করে আউট হন সঞ্জু স্যামসন। এরপর শ্রেয়সের সঙ্গে জুটি বেঁধে দুরন্ত ব্যাটিং করে ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। ১৭ বলে বাকি থাকতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। শ্রেয়স ৪৪ বলে ৭৪ ও জাদেজা ১৮ বলে ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে লজ্জার বিদায় গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের

গ্রুপ ১ থেকে প্রথম দল হিসেবে আগেই সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় জায়গার জন্য লড়াই অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে। দুই দলেরই ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট। নেট রান রেটে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে রয়েছে প্রোটিয়াদের থেকে। গ্রুপ লিগে সব ম্যাচ হেরে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার আশাও শেষ। বৃহস্পতিবার সম্মান রক্ষার লড়াই ছিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সম্মান রক্ষার লড়াইয়েও ব্যর্থ ক্যারিবিয়ানরা। শ্রীলঙ্কার কাছে ২০ রানে হারতে হল কায়রন পোলার্ডদের।আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট করতে পাঠান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড। লক্ষ্য ছিল শুরুতেই উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলা। কিন্তু ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যায় পাথুম নিসাঙ্কা ও কুশল পেরেরার দাপটে। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৪২। ২১ বলে ২৯ রান করে আন্দ্রে রাসেলের বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান কুশল পেরেরা। ক্যারিবিয়ানরা আশায় ছিল ম্যাচে ফেরার। কিন্তু তাদের ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন ব্যর্থ করে দেন পাথুম নিসাঙ্কা ও চরিথ আসালঙ্কা। জুটিতে ৯১ রান তুলে ক্যারিবিয়ানদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। ১৫.৩ ওভারের মাথায় ডোয়েন ব্র্যাভোর বলে আউট হন নিসাঙ্কা। ৪১ বলে তিনি করেন ৫১। শ্রীলঙ্কার রান তখন ১৩৩।নিসাঙ্কা আউট হওয়ার পর দলকে টেনে নিয়ে যান আসালঙ্কা। ৪১ বলে ৬৮ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি রাসেলের বলে হেটমায়েরের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। অধিনায়ক দাসুন শনাকা ১৪ বলে ২৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৮৯ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্দ্রে রাসেল ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন।দলে তাবড় তাবড় টি২০ বিশেষজ্ঞ ব্যাটার রয়েছে। তা সত্ত্বেও জয়ের জন্য ১৯০ রানের লক্ষ্য একেবারেই সহজ ছিল না ক্যারিবিয়ানদের কাছে। কারণ চলতি বিশ্বকাপে একেবারেই ফর্মে নেই ক্রিস গেল, আন্দ্রে রাসেল, কায়রন পোলার্ডরা। তার ওপর দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই ক্রিস গেল আউট। বিনুরা ফার্নান্ডোর বলে তিনি ১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। একই ওভারের শেষ বলে বিনুরা তুলে নেন এভিন লুইসকে (৮)। ২ ওভারের মধ্যে ১০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা। রস্টন চেজও (৯) দ্রুত ফেরেন। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান নিকোলাস পুরান ও শিমরন হেটমায়ের। ৩৪ বলে ৪৬ রান করে আউট হন পুরান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তখন ১১ ওভারে ৭৭। আন্দ্রে রাসেল (২), কায়রন পোলার্ডর (০), জেসন হোল্ডাররা (৮) ব্যর্থ। চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একমাত্র লড়াই করেন শিমরন হেটমায়ের। ৫৪ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে তোলে ১৬৯/৮ । শ্রীলঙ্কার হয়ে বিনুরা ফার্নান্দো, চামিকা করুনারত্নে ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ২ টি করে উইকেট পান।

নভেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World cup : বাটলারের দুরন্ত সেঞ্চুরিতে প্রথম দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড

প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই পা বাড়িয়েছিল ইংল্যান্ড। লক্ষ্য ছিল সুপার ১২র গ্রুপ লিগে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে সফল ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কাকে ২৬ রানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে এবছর টি২০ বিশ্বকাপে শেষ চারের ছাড়পত্র জোগাড় করে ফেলল। ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জস বাটলার। তাঁর দুরন্ত সেঞ্চুরির সুবাদেই জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে ইংল্যান্ড। চলতি টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি এল বাটলারের ব্যাট থেকে। শেষ বলে ছয় মেরে ৯৫ থেকে ১০১ রানে পৌঁছে অপরাজিত থাকেন তিনি। সেই সঙ্গে ৪ ম্যাচে ২১৪ রান করে তিনিই আপাতত চলতি বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক।টি২০ ক্রিকেটে টস জিতলেই পরে ব্যাট করা প্রায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে পরে ব্যাট করলে দুই ধরণের সুবিধা পাওয়া যায়। এক, টার্গেট দেখে ব্যাট করা। দুই, রাতের দিকে শিশির পড়লে বোলারদের বল গ্রিপ করতে অসুবিধা হয়। তাছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উইকেটে পরের দিকে ব্যাটে ভাল বল আসছে। সেকথা মাথায় রেখে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনাকা। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেন শ্রীলঙ্কার দুই বোলার চামিরা ও হাসারাঙ্গা। এই দুই বোলারের দাপটে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ৬ ওভারের মধ্যে ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারায়। হাসারাঙ্গা তুলে নেন জেসন রয় (৬ বলে ৯) এবং জনি বেয়ারস্টোকে (১ বলে ০)। অন্যদিকে দাওইদ মালানকে (৮ বলে ৬) ফেরান চামিরা।এরপরই ইংল্যান্ডকে টেনে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন জস বাটলার ও অধিনায়ক ইওয়িন মর্গ্যান। জুটি ওঠে ১১২ রান। ৩৬ বলে ৪০ রান করে হাসারাঙ্গার বলে আউট হন মর্গ্যান। একসময় ইংল্যান্ডের রান ছিল ১০ ওভারে ৪৭। বাটলার ও মর্গ্যানের দাপটে শেষ ১০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ১১৬। বাটলার প্রথম ৫০ করেন ৪৫ বলে। শেষ ৫০ করতে নেন মাত্র ২২ বল। ইনিংসের শেষ বলে ৬ মেরে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৬৭ বলে ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন বাটলার। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৬টি করে ৪ ও ৬। নির্ধারিত ২০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ১৬৩/৪। শ্রীলঙ্কার হয়ে হাসারাঙ্গা ২১ রানে ৪ উইকেট নেন।ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটাও ভাল হয়নি। তৃতীয় বলেই ফিরে যান দারুণ ছন্দে থাকা পাথুম নিসাঙ্কা (১)। ঝড় তোলার মুখে চরিথ আসালঙ্কাকে (১৬ বলে ২১) তুলে নেন আদিল রশিদ। এক ওভার পরেই ফেরান কুশল পেরেরাকে (৯ বলে ৭)। ইংল্যান্ডের মতোই ৬ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মধ্যে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা দলে জস বাটলারের মতো কোনও ব্যাটার নেই, যিনি দলকে উদ্ধার করতে পারতেন। আভিষ্কা ফার্নান্ডোকে (১৪ বলে ১৩) তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে আরও চাপের মধ্যে ফেলে দেন ক্রিস জর্ডন। ভানুকা রাজাপক্ষে (১৮ বলে ২৬) কিছুটা লড়াই করেন। তাঁকে ফেরান ক্রিস ওকস। অধিনায়ক দাসুন শনাকা (২৫ বলে ২৬) ও ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গার (২১ বলে ৩৪) লড়াই চাপে ফেলে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩৭ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

নভেম্বর ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : বর্ণবৈষম্যের প্রতিবাদে সামিল কুইন্টন ডিকক, জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

বিতর্ক পেছনে ফেলে আবার মাঠে ফিরলেন কুইন্টন ডিকক। দলের নির্দেশ মেনে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে হাঁটু গেড়ে বসে প্রতিবাদে সামিলও হলেন। তবে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারলেন। কুইন্টন ডিকক রান না পেলেও জয় আটকায়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ১ বল বাকি থাকতে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা জিইয়ে রাখল প্রোটিয়ারা। কাজে লাগল না ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার দুরন্ত হ্যাটট্রিক। দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের নায়ক ডেভিড মিলার। শেষ ওভারে দুটি ছক্কা মেরে দলকে জেতান তিনি।টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট করতে পাঠান দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। ২০ ওভারে ১৪২ রান তুলতে সমর্থ হয় শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন পাথুম নিসাঙ্কা। ৬টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে তিনি ৫৮ বলে ৭২ রান করেন । চরিথ আসালঙ্কা ২১ ও অধিনায়ক দাসুন শনকা ১১ রান করেন। শ্রীলঙ্কার বাকি কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার তাবরেজ শামসি ৪ ওভারে ১৭ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট দখল করেন। ডোয়েইন প্রিটোরিয়াস ৩ ওভারে ১৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন। এনরিখ নরকিয়া ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট পেয়েছেন।জয়ের জন্য ১৪৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার বোলারদের দাপটে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ার প্লেতে ওঠে মাত্র ৪০ রান। তার মধ্যে হারাতে হয় ২ উইকেট। ১০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৬২। কুইন্টন ডিকক ১০ বলে ১২ রান করে আউট হন। রেজা হেনড্রিকস ১১ রান করে আউট হন। দুজনেই চামিরার শিকার। ১৬ রান করে রান আউট হন ফান ডার ডুসেন। তেম্বা বাভুমা অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন। ৪৬ বলে তিনি করেন ৪৬। এইডেন মার্করাম করেন ১৯। ১৫তম ওভারের শেষ বলে মার্করামকে ১৯ রানে বোল্ড করেন হাসারঙ্গা। ১৮তম ওভারে নিজের চতুর্থ ওভারটি করতে এসে প্রথম দুই বলেই বাভুমা ও ডোয়েইন প্রিটোরিয়াসকে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এরপর প্রোটিয়াদের জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ডেভিড মিলার ও কাগিসো রাবাডা। শেষ দুই ওভারে প্রোটিয়াদের দরকার ছিল ২৫ রান। শেষ ওভারে ১৫। লাহিরু কুমারার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের কাছে পৌঁছে দেন ডেভিড মিলার। পঞ্চম বলে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন কাগিসো রাবাডা। ১৩ বলে ২৩ করে অপরাজিত থাকেন মিলার। ৭ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন রাবাডা।

অক্টোবর ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World Cup : অবশেষে রানে ফিরলেন ওয়ার্নার, স্বস্তি অস্ট্রেলিয়া শিবিরে

আইপিএলে চূড়ান্ত ব্যর্থ। নেতৃত্ব হারাতে হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। এমনকী সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে প্রথম একাদশ থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল ডেভিড ওয়ার্নারকে। টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচেও রান পাননি। তাঁকে প্রথম একাদশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠেছিল। ভরসা হারায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সুপার ১২র গ্রুপ লিগের তৃতীয় ম্যাচেই রানে ফিরলেন। স্বস্তি অস্ট্রেলিয়া শিবিরে। তাঁর দুরন্ত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারাল অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে সেমিফাইনালে ওঠার পথও প্রশস্ত করল।টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তৃতীয় ওভারে পাথুম নিসাঙ্কা (৭) ফিরে গেলেও দলকে এগিয়ে নিয়ে যান কুশল পেরেরা (২৫ বলে ৩৫) ও আসালাঙ্কা (২৭ বলে ৩৫)। পরপর দুওভারে এই দুই ব্যাটসম্যান ফিরে গেলে রান তোলার গতি কমে যায় শ্রীলঙ্কার। দারুণ বোলিং করেন অ্যাডাম জাম্পা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার ৬ উইকেটে ১৫৪ তোলে শ্রীলঙ্কা। ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন ভানুকা রাজাপক্ষ। অধিনায়ক দাসুন শনাকা ১২, পাথুম নিসঙ্কা ৭, ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা ও আবিষ্কা ফার্নান্দো ৪ রানে আউট হন। অ্যাডাম জাম্পা ৪ ওভারে ১২ রানে ২ উইকেট নেন। ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট দখল করেন মিচেল স্টার্ক। প্যাট কামিন্স ২টি উইকেট পেয়েছেন ৩৪ রানের বিনিময়ে।জয়ের জন্য ১৫৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ঝড়ের গতিতে রান তুলতে থাকেন দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। ৬.৫ ওভারে দলের ৭০ রানের মাথায় ২৩ বলে ৩৭ রান করে আউট হন ফিঞ্চ। এদিন টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন তিনি। তিন নম্বরে নামা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৫) সুবিধা করতে পারেননি। পরপর দুটি উইকেট পড়ে গেলেও মনসংযোগ হারাননি ডেভিড ওয়ার্নার। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৫ রান করে তিনি আউট হন। ওয়ার্নার যখন আউট হন, জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২৫। দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন স্টিভ স্মিথ (২৬ বলে অপরাজিত ২৮) ও মার্কাস স্টইনিস (৭ বলে অপরাজিত ১৬)। ১৭ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ তুলে ম্যাচ জিতে নেওয়ার পাশাপাশি নেট রান রেটও বাড়িয়ে রাখল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের সেরা হয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : আসালঙ্কা ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা জিতল ৫ উইকেটে

আসালঙ্কা ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ। সুপার ১২-র ম্যাচে মাহমুদুল্লার দলকে ৫ উইকেটে হারাল শ্রীলঙ্কা। অপরাজিত ৮০ রান করে ম্যাচের নায়ক চারিথ আসালঙ্কা। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান দানুস শনাকা। দারুণ শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার মহম্মদ নঈম ও লিটন দাস। দুজনের ব্যাটেই বাংলাদেশের ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত ছিল। আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি লিটন দাস। ১৬ বলে ১৬ রানগ করে তিনি লাহিরু কুমারার বলে আউট হন। সাকিবকে দেখে মনে হচ্ছিল বড় রানের জন্য ক্রিজে নেমেছেন। আসালঙ্কার এক ওভারে দুটি বাউন্ডারি মারাতে ছিল তারই ইঙ্গিত। প্রথম রাউন্ডে দারুণ ছন্দে ছিলেন সাকিব। ফর্মে থাকা বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডারের লেগ স্টাম্প ছিটকে দেন করুণারত্নে। ৭ বলে মাত্র ১০ রান করে তিনি আউট হন।অভিজ্ঞতার যে আলাদা মূল্য আছে বুঝিয়ে দিলেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম রাউন্ডে ব্যাটে রান ছিল না। আসল সময়ে জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ওপেনার মহম্মদ নঈমের সঙ্গে জুটি বেঁধে তোলেন ৭৩ রান। এই দুই ব্যাটারই বাংলাদেশকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন। ১৭তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর প্রথম বলে নঈম আউট হন। ৫২ বলে তিনি করে ৬২। আফিফ হোসেন ৭ রান করে রান আউট হন। ৩৭ বলে ৫৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টা ৪, ২টি ৬। অধিনায়ক মাহমুদুল্লা ৫ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৭১/৪ তোলে বাংলাদেশ।ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। চতুর্থ বলেই ফিরে যান কুশল পেরেরা (১)। নাসুম আমেদের বলে তিনি বোল্ড হন। এরপর দলের বিপর্যয় সামাল দেন পাথুম নিসাঙ্কা ও চরিথ আসালঙ্কা। জুটিতে ওঠে ৬৯। বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব আল হাসান। ২১ বলে ২৪ রান করে সাকিবের বলে বোল্ড হন নিসাঙ্কা। নিসাঙ্কাক আউট করে টি২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হয়ে গেলেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। টপকে গেলেন শাহিদ আফ্রিদিকে (৩৯)। একই ওভারে তুলে নেন আভিষ্কা ফার্নান্দোকে (০)। পরের ওভারেই ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে (৬) ফেরান সইফুদ্দিন।১১ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দলকে চাপ থেকে বার করে নিয়ে আসেন আসালঙ্কা ও ভানুকা রাজাপক্ষে। তাঁদের ৮৬ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে জয়ের পথে এগিয়ে যায়। ৩১ বলে ৫৩ রান করে নাসুম আমেদের বলে আউট হন রাজাপক্ষে। তিনি যখন আউট হন শ্রীলঙ্কার রান তখন ১৬৫। এরপর বাকি কাজ সারেন আসালঙ্কা। তিনি ৪৯ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৭ বল বাকি থাকতেই ১৭২/৫ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।

অক্টোবর ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

S‌AAF Championship : শ্রীলঙ্কার কাছে আটকে গিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সঙ্কটে ভারত

বাংলাদেশ তবু একটু শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কা? বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের থেকে ৯৮ ধাপ পিছিয়ে। এইরকম দলের কাছেও আটকে যেতে হল ভারতকে! শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচ গোলশূন্য ড্র করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন থেকে অনেকটাই দুরে সরে গেলেন সুনীল ছেত্রিরা। ফাইনালে যেতে গেলে লিগের বাকি দুটি ম্যাচ শুধু জিতলেই হবে না, অন্য ম্যাচের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন ফুটবলারের পারফরমেন্সে একেবারেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিম্যাক। তাই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেন। ফুটবলারদের পজিশনও বদল করে দেন। আগের ম্যাচে রক্ষণে দলকে একেবারেই নির্ভরতা দিতে পারেননি প্রীতম কোটাল। তাই এদিন রক্ষণ আমূল বদলে দেন। শুভাশিস বসুকে ডিফেন্সে নামিয়ে নিয়ে আসেন ইগর স্টিম্যাক। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে প্রীতম কোটালের পরিবর্তে সুরেশ সিংকে নামিয়ে রাহুল বেকেকে তাঁর সঙ্গে জুড়ে দেন। মাঝমাঠে ব্রেন্ডন, আক্রমণভাগে মনদীপ সিংদের প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি।একগুচ্ছ পরিবর্তন করেও হাল ফেরেনি ভারতের। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সুনীল ছেত্রিদের যে দাপট ছিল, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে সেই দাপট দেখা যায়নি। তার মাঝেই ম্যাচের ১৪ মিনিটে মন্দার রাওয়ের ক্রস থেকে গোল করার মতো সুযোগ এসে গিয়েছিল সুনীল ছেত্রির সামনে। শ্রীলঙ্কার গোলকিপার সুজন পেরেরা সুনীলের সেই প্রয়াস রুখে দেন। ২২ মিনিটে ডানদিক থেকে ভেসে আসা বলে অরক্ষিত অবস্থায় থেকেও হেডে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ লিস্টন কোলাসো। এটাই ছিল প্রথমার্ধের সবথেকে সহজ সুযোগ। এই দুটি সুযোগ ছাড়া প্রথমার্ধে বলার মতো আর কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ভারত। মাঝমাঠ থেকে সেভাবে বল সরবরাহ না হওয়ায় সুনীল ছেত্রিও জ্বলে উঠতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য কিছুটা খেলায় ফেরে ভারত। রিস্টন কোলাসো, উদান্ত সিং, অনিরুদ্ধ থাপারা একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন। ৬০ মিনিটে গোল করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। রিস্টন কোলাসোর পাস ৬ গজ বক্সের মধ্যে পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন অনিরুদ্ধ থাপা। দ্বিতীয়ার্ধে রিস্টন কোলাসোর জায়গায় আব্দুল সামাদ ও অনিরুদ্ধ থাপার পরিবর্তে ফারুখ চৌধুরিকে নামান ইগর স্টিম্যাক। ৭২ মিনিটে জটলার মধ্যে থেকে শ্রীলঙ্কার জালে বল পাঠান ফারুখ। কিন্তু শুভাশিস শ্রীলঙ্কার এক ফুটবলারকে ফাউল করায় সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ৮৯ মিনিটে কর্ণার থেকে ভেসে আসা বল সুনীল ছেত্রি হেডে নামিয়ে দিলে গোলকিপারের সঙ্গে হাতমেলানো দুরত্ব থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন শুভাশিস বসু। শেষ দিকে প্রবল চাপ রেখেও জয় আসেনি। পরপর দুম্যাচে আটকে গিয়ে গভীর সঙ্কটে পড়ে গেল ভারত।

অক্টোবর ০৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

S‌ri Lanka T20 Team : শ্রীলঙ্কার টি২০ বিশ্বকাপ দলে চমক রহস্যময় স্পিনার মহেশ থীক্ষণা

আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করল শ্রীলঙ্কা। দলে একাধিক চমক রয়েছে। বিশ্বকাপে দলকে যেমন নেতৃত্ব দেবেন দাসুন শনাকা। দলে সুযোগ পেয়েছেন সদ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ২১ বছর বয়সী মহেশ থীক্ষণা। এই রহস্যময় স্পিনার নাকি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার তুরুপের তাস হতে পারেন। এমনই মনে করছেন শ্রীলঙ্কার নির্বাচকরাআ। এছাড়াও নতুন মুখ প্রবীন জয়াবিক্রমা। তবে মিনোদ ভানুকার বাদ পড়াটা অন্যতম চমক।বলতে গেলে একপ্রকার ভাঙাচোরা দল নিয়েই এবার সংযুক্ত আরব আমীরশাহী ও ওমানে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে করোনাবিধি ভাঙার জন্য নির্বাসিত হয়েচেন নিরোশন ডিকওয়েলা, কুশল মেন্ডিস, দানুষ্কা গুণতিলকেরা। সিনিয়র ক্রিকেটাররা না থাকায় অপেক্ষাকৃত তরুণ ক্রিকেটারদের ওপরই ভরসা করতে হয়েছে নির্বাচকদের। দাসুন শনাকার নেতৃত্বেই তরুণ দল ভারতের বিরুদ্ধে শেষ দুটি টি২০ ম্যাচে জিতেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকাকেও একদিনের সিরিজে ২১ ব্যবধানে হারিয়েছে। সিরিজের প্রথম টি২০ ম্যাচেও জিতেছে। সুতরাং তরুণ দল ভরসা জোগাচ্ছে নির্বাচকদের।আরও পড়ুনঃ গোডাউনে বেআইনি গ্যাস সিলিন্ডার মজুতের দায়ে মেমারিতে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইসিসির কাছে টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ক্রিকেটারদের তালিকা জমা দেওয়ার শেষদিন ছিল। কিন্তু আনু্ষ্ঠানিকভাবে তা করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। ১৫ জনের দল ঘোষণার পাশাপাশি ৪ জন ক্রিকেটারকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। ঘোষিত ১৫ জনের দলে জায়গা পেয়েছেন : দাসুন শনাকা (অধিনায়ক), ধনঞ্জয় ডি সিলভা, আবিষ্কা ফার্নান্ডো, চরিথ আসালঙ্কা, কামিন্দু মেন্ডিস, ভানুকা রাজাপক্ষ, কুশল পেরেরা, দীনেশ চন্ডীমল, ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা, চামিকা করুণারত্নে, দুষ্মন্ত চামিরা, আকিলা ধনঞ্জয়, মহেশ থীক্ষণা, বিনুরা ফার্নান্দো, প্রবীণ জয়বিক্রমা। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রয়েছেন : নুয়ান প্রদীপ, পুলিনা থরঙ্গা, লাহিরু মাদুশঙ্কা, লাহিরু কুমারা।কুশল পেরেরার চোট ও অসুস্থতার কারণে মিনোদ ভানুকা শ্রীলঙ্কা দলে উইকেটকিপারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়নি। তবে চমক রহস্যময় স্পিনার মহেশ থীক্ষণা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে তাঁর অভিষেক হয়েছে। অভিষেক ম্যাচেই ৩৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন মহেশ থীক্ষণা। তাঁর সঙ্গেই ১৫ সদস্যের দলে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার প্রবীণ জয়বিক্রমা, আকিলা ধনঞ্জয় ও বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। জয়বিক্রমা দেশের হয়ে টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক খেললেও টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলেননি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন। তবে ঘরোয়া টি২০ খেলার অভিজ্ঞতা ভালই রয়েছে। জোরে বোলার নুয়ান প্রদীপকে রাখা হয়েছে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে। আইপিএলে আরসিবিতে থাকলেও প্লে অফ না খেলেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে যোগ দিতে হবে ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা ও দুষ্মন্ত চামিরাকে। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সুযোগ পেয়েছেন ভানুকা রাজাপক্ষ ও কামিন্দু মেন্ডিস। আর তেমন কোনও বড় চমক নেই শ্রীলঙ্কা দলে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

শেষ কি আমেরিকার দাপট? আইএমএফ রিপোর্টে চমক, মুখ খুললেন এলন মাস্ক

বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার একছত্র আধিপত্য কি শেষের পথে? সদ্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের রিপোর্ট সামনে আসার পর তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। আর সেই রিপোর্ট দেখেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন ধনকুবের এলন মাস্ক। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে শুরু করেছে।আইএমএফ তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ২০২৬ সালে গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবৃদ্ধির হিসাব তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের মোট আর্থিক বৃদ্ধিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। বিশ্ব জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। সেই তুলনায় আমেরিকার অবদান মাত্র ৯.৯ শতাংশ। ফলে তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে ডলারের দেশ।এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে চিনের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে ২৬.৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়ার দুই দেশ চিন এবং ভারত। একসঙ্গে এই দুই দেশের আর্থিক যোগদান দাঁড়াচ্ছে ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র এখন এশিয়ায়।আইএমএফের রিপোর্টে আরও দেখা গিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, জার্মানির মতো দেশগুলিও। তবে ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় এশিয়ার দেশগুলির প্রভাব যে দ্রুত বাড়ছে, তা স্পষ্ট।এই রিপোর্ট সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরেই এলন মাস্ক লেখেন, অবশেষে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করছে চিন ও ভারত।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এলন মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকার কড়া শুল্কনীতি এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির। চিন ও ভারতের উপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। অথচ আইএমএফের রিপোর্ট বলছে, আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছে এই দুই দেশই।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

মেঝেতে কিশোরী, উপর ঝুঁকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু! এপস্টেইন ফাইলসে ফাঁস চাঞ্চল্যকর ছবি

মেঝেতে শুয়ে রয়েছে এক কিশোরী। তাঁর উপর ঝুঁকে পড়ে আছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এপস্টেইন ফাইলসের সদ্য প্রকাশিত নথিতে এই ছবি সামনে আসতেই নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বহুদিন ধরেই যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এ বার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হল নতুন ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে আসায়।এপস্টেইন ফাইলস ঘিরে সামনে এসেছে ব্রিটেনের রাজপরিবারের নামও। গত বছরই জানা যায়, যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল প্রিন্স অ্যান্ড্রুর। সেই ঘটনার পর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস নিজের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর সমস্ত রাজকীয় উপাধি, সম্মান এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেন। রাজপরিবার থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় তাঁকে।এই পরিস্থিতিতেই গত শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত নথির নতুন একটি অংশ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে একাধিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক অজ্ঞাত পরিচয়ের কিশোরী মাটিতে শুয়ে রয়েছেন। তাঁর পাশে এবং উপর ঝুঁকে আছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। একটি ছবিতে দেখা যায়, কিশোরীর পেটের উপর হাত রেখেছেন তিনি। তবে ওই কিশোরী কে, ছবিগুলি কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।শুধু ছবি নয়, এই নথিতে উঠে এসেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে জেফ্রি এপস্টেইন ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মধ্যে ইমেলে যোগাযোগ হয়েছিল। সেই ইমেলে এপস্টেইন অ্যান্ড্রুকে লেখেন, তাঁর এক রুশ বান্ধবী রয়েছে, যিনি ২০ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে লন্ডনে থাকবেন। এপস্টেইনের দাবি ছিল, ওই মহিলার সঙ্গে নৈশভোজ অ্যান্ড্রু উপভোগ করবেন। তবে এই রহস্যময়ী রুশ মহিলার সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আদৌ কখনও দেখা হয়েছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি।নতুন করে সামনে আসা এই নথি ও ছবিকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ। এপস্টেইন কাণ্ডে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এবং বিতর্ক যে এখনও শেষ হয়নি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূলের মিছিলে ভাতারে বিধায়কের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগান, মুচকি হাসি বিরোধীদের

বিধানসভা ভোটের আগে প্রার্থী হওয়ার দাবিদারের লড়াই চরমে উঠেছে। ভাতারের তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলে চোর চোর স্লোগান উঠলো। তবে এই চোর চোর স্লোগান বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। ভাতারের তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেই এই চোর চোর স্লোগান উঠেছে মুহূর্মুহু। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন ভাতারের প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা। ভাতারের এই মিছিলে স্লোগান ওঠে, মানু চোর, শান্তনু চোর। কেন তাঁদের চোর বলা হচ্ছে? মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে গ্রামপঞ্চায়েত, সর্বত্র লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হচ্ছে। লুঠপাট চলছে। পকেট ভরছে নেতারা। তাদের দাবি, মানগোবিন্দ অধিকারীকে আর যেন বিধায়কপদের টিকিট না দেওয়া হয়। প্রার্থী করতে হবে বনমালী হাজরাকে।সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিধায়ক পদের টিকিট পাওয়া নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। কে হবেন বিধানসভার প্রার্থী, এখন সেই প্রতিযোগিতা চলছে। বর্ধমান জেলার প্রায় প্রতিটি জায়গায় দলের তরফে দুই পক্ষের মিছিল হয়। বর্ধমানে কখনও বিধায়ক খোকন দাসের নেতৃত্বের মিছিল হয়, আবার কখনও কাউন্সিলর রাসবিহারী হালদারের নেতৃত্বে পৃথক মিছিল হয়। ভাতারেও সেই অবস্থা চলছে। সেখানে একাংশ চাইছে মানু অধিকারী নয়, বনমালী হাজরাকে তৃণমূল প্রার্থী করুক। তবে তৃণমূলের মিছিলেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগানে মুচকি হাসছে বিরোধী শিবির।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

রক্তে ভাসল পাকিস্তান! একযোগে জঙ্গি হামলায় মৃত ১২০ ছাড়াল

পরপর গুলির শব্দ, তার পর একের পর এক বিস্ফোরণ। শনিবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।হামলা শুধু গুলি ও বোমাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সন্ত্রাসীরা কারাগারেও হামলা চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মাস্তুং জেলার একটি জেল ভেঙে প্রায় ৩০ জনেরও বেশি বন্দিকে পালাতে সাহায্য করেছে তারা। একই সঙ্গে নুস্কি জেলার আধাসামরিক বাহিনীর দফতরেও হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একাধিক নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাগুলি ঘটেছে বালোচিস্তানে। গত কয়েক মাস ধরেই এই এলাকায় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। শনিবারও একযোগে একাধিক জায়গায় হামলা চালানো হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়েটা, গোদার, মাস্তুং, নুস্কি, দালবানদিন এবং পাঞ্জগুর-সহ বালোচিস্তানের একাধিক জেলায় একসঙ্গে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার পরই পাল্টা অভিযানে নামে পাকিস্তানের সেনা। সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে সন্ত্রাসদমন অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৩৩ জনের বেশি জঙ্গিকে খতম করেছে পাক সেনা। শুধু শনিবারেই নিহত হয়েছে অন্তত ৯২ জন সন্ত্রাসী।যদিও এই হামলার দায় বালোচ লিবারেশন আর্মি এখনও স্বীকার করেনি, তবে হামলার দিনেই একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ওই সংগঠন। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান সরকার ও সেনার বিরুদ্ধে সংঘর্ষে বন্দুক হাতে অংশ নিচ্ছেন মহিলারাও। এই ছবি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

ভুল নাকি অপরাধ? গোমাংস কাণ্ডে অলি পাবের ক্ষমা চাওয়ায় প্রশ্ন

সায়ক চক্রবর্তীর গোমাংস বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। পাঁঠার মাংসের বদলে গোমাংস পরিবেশনের অভিযোগে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার দায়ে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এই ঐতিহ্যবাহী পাব। রবিবার সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে রেস্তরাঁর তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। এই ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।অলি পাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩০ জানুয়ারি রাতে রেস্তরাঁর এক কর্মী ভুলবশত একটি গুরুতর ভুল করে ফেলেন। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ওই কর্মীর ভুলের জন্য রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্রেতার ভাবাবেগে আঘাত লাগায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত।এদিকে সায়ক চক্রবর্তীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ অলি পাবের বেয়ারা শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারি ঘিরে শহরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একাংশ ওই কর্মীর পাশে দাঁড়ান, আবার অনেকে সেলেব ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে রেস্তরাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠতে থাকে, ভুল খাবার পরিবেশন করা কি অপরাধ, না কি কর্মীর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে বিষয়টিকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে অলি পাবের তরফে জানানো হয়, জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতেই রেস্তরাঁটি পরিচালিত হয়। আট দশকের ঐতিহ্য নিয়ে তারা গর্বিত বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেস্তরাঁর সমস্ত কর্মী ও সহযোগীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বার্তাও দেওয়া হয়।এর মাঝেই গুজব ছড়ায় যে এই ঘটনার জেরে অলি পাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই খবরে বহু নিয়মিত অতিথির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে রবিবারের বিবৃতিতে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, অলি পাব বন্ধ হচ্ছে না। বরং এই কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগের মতোই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে শুক্রবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে পরপর ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। যদিও বর্তমানে সেই পোস্টগুলি আর পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সেদিন রাতে সায়ক তাঁর দুই বন্ধু অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডুর সঙ্গে অলি পাব যান। তাঁরা মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। খাবার পরিবেশনের পর প্রথমে খিদের চোটে বিষয়টি বুঝতে পারেননি তাঁরা। পরে টেবিলে আরও একটি স্টেক আসতেই সন্দেহ হয়।সায়কের দাবি, তাঁরা একটি মাত্র স্টেক অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু বেয়ারা জানান, দুটি স্টেক অর্ডার করা হয়েছেএকটি মাটন এবং একটি বিফ। তখনই সায়ক প্রতিবাদ করেন। তাঁর কথায়, অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বচসার মধ্যেই বেয়ারা স্বীকার করেন যে তিনি ভুল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে রেস্তরাঁর মধ্যেই উত্তেজনা ছড়ায়। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সায়ক। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার ওই বেয়ারাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

গোমাংস বিতর্কে ইউটার্ন! বেয়ারার বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার সায়কের

রবিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। তাদের বক্তব্যে জানানো হয়েছে, কোনও ক্রেতার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। এই ক্ষমা প্রার্থনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী।অলি পাবের বিবৃতি প্রকাশের পরই সায়ক সোশাল মিডিয়ায় জানান, তিনি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, তিনি জনগণের উপর নির্ভরশীল এবং মানুষ যা বলবেন, সেটাই তিনি মেনে নেবেন। সেই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চাপের মুখেই নিজের অবস্থান বদল করলেন অভিনেতা।গত ২৪ ঘণ্টায় গোমাংস বিতর্ক ঘিরে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয় সোশাল মিডিয়ায়। ঘটনার সূত্রপাত একটি ভ্লগকে কেন্দ্র করে। সেই ভ্লগে রেস্তরাঁর এক বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন সায়ক। পরে অলি পাব এবং ওই কর্মীর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হন রেস্তরাঁর কর্মী শেখ নাসির উদ্দিন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। আদালতে তোলা হলেও শনিবার তিনি জামিন পাননি বলে খবর।এদিকে শনিবার রাতেই সায়কের বিরুদ্ধেও পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাট্যব্যক্তিত্ব জয়রাজ ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ ছিল, সায়কের বক্তব্য থেকে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার মধ্যেই রবিবার অলি পাব প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। তার পরই সায়ক নিজে থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।সায়ক চক্রবর্তী তাঁর পোস্টে লেখেন, অলি পাব শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েছে, তাই নতুন করে কোনও গল্প বানানোর প্রয়োজন নেই। তিনি স্বীকার করেন, রাগের মাথায় থানায় গিয়েছিলেন এবং সেই সময় তাঁর মাথা ঠিক ছিল না। তিনি জানান, তিনি কোনওদিন গোমাংস খাননি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। অলি পাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তিনি প্রত্যাহার করছেন বলেও স্পষ্ট করে দেন।অভিনেতা আরও লেখেন, রেস্তরাঁর ভুল নিয়ে তাঁর সমস্যা ছিল, কিন্তু তাঁর প্রতিক্রিয়াও হয়তো ভুল ছিল। সে জন্য তিনি দুঃখিত। ভবিষ্যতে ভ্লগ বা ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট বানাতে গিয়ে এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চান না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর হিন্দু-মুসলিম কোনও সমস্যা নেই। তিনি কেবল নিজের কিছু ব্যক্তিগত আচার মেনে চলতে চান। তাঁর কনটেন্ট আগেও মানুষের মধ্যে ঐক্যের কথা বলেছে, ভবিষ্যতেও বলবে। পুরো ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আবারও দুঃখপ্রকাশ করেন সায়ক।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

বাজেট ২০২৬–এ পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি: মেট্রোতে জোরালো বিনিয়োগ, গতি পাচ্ছে ফ্রেট করিডর

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিল কেন্দ্র সরকার। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মেট্রো রেল প্রকল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য সম্ভাবনাকে চাঙ্গা করতে ফ্রেট করিডর সম্প্রসারণে বরাদ্দএই দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হয়েছে রাজ্যের।মেট্রো রেলে গতি, শহুরে যাত্রায় স্বস্তির আশ্বাসবাজেটে কলকাতা মেট্রোর একাধিক চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিউ গড়িয়াএয়ারপোর্ট মেট্রো, জোকাএসপ্ল্যানেড লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।কেন্দ্রের দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে শহরের যানজট কমবে, যাত্রার সময় বাঁচবে এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ আরও জনপ্রিয় হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হলে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার যাত্রীদেরও সরাসরি উপকার হবে।কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণে ফের বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। শহর ও শহরতলির গণপরিবহণকে আরও গতিশীল করতে অরেঞ্জ লাইন, পার্পল লাইন ও গ্রিন লাইনের জন্য মোট ২,১৪১.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দকে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ শহুরে পরিবহণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।অরেঞ্জ লাইন: বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগে জোরনিউ গড়িয়ানেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযোগকারী অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ মূলত ভায়াডাক্ট নির্মাণ, স্টেশন অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ কলকাতা ও সল্টলেক-নিউ টাউনের সঙ্গে বিমানবন্দরের যাত্রা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পার্পল লাইন: জোকাএসপ্ল্যানেডে শহর-উপশহর সেতুবন্ধনজোকাএসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের জন্য সর্বাধিক বরাদ্দ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। এই লাইনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রথমবারের মতো মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ যাবে এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ, রোলিং স্টক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে। কেন্দ্রের দাবি, এই লাইনের কাজ দ্রুত শেষ হলে শহরের দক্ষিণ প্রান্তের যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় স্বস্তি মিলবে।গ্রিন লাইন: পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোতে গতি ফেরানোর চেষ্টাপূর্ব-পশ্চিম মেট্রো করিডর বা গ্রিন লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯.০০ কোটি টাকা। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর-৫ পর্যন্ত এই লাইন কলকাতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ অংশের প্রযুক্তিগত কাজ, স্টেশন ফিনিশিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।শহুরে পরিবহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবপরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি লাইনে বিনিয়োগ শুধু যাত্রী সুবিধা বাড়াবে না, বরং যানজট ও দূষণ কমাতেও বড় ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এই মেট্রো প্রকল্পগুলি।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬২৭-এ অরেঞ্জ, পার্পল ও গ্রিন লাইনের জন্য ঘোষিত বরাদ্দ কলকাতা মেট্রোকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।ফ্রেট করিডর: শিল্প ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্তবাজেট ২০২৬-এ পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (EDFC)-এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগ আরও শক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও লজিস্টিক হাবগুলিকে এই করিডরের সঙ্গে যুক্ত করতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।বিশেষ করে হলদিয়া বন্দর, দুর্গাপুরআসানসোল শিল্পাঞ্চল এবং কলকাতা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত মাল পরিবহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্যবিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট বরাদ্দ শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পূর্ব ভারতের প্রবৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। যদিও রাজ্য সরকার আরও বেশি বরাদ্দের দাবি তুলতে পারে, তবু মেট্রো ও ফ্রেট করিডরএই দুই ক্ষেত্রে ঘোষণাকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬এ পশ্চিমবঙ্গের জন্য মেট্রো রেল ও ফ্রেট করিডর সংক্রান্ত বিনিয়োগ রাজ্যের শহুরে জীবনযাত্রা ও শিল্প-বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে বলেই আশা।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফাঁকে কেন্দ্রের বাজেট: স্বস্তি সীমিত, হতাশা বিস্তৃত

রবিবার সংসদে ২০২৬২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। টানা নবমবার বাজেট বক্তৃতা করলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তাঁর সরকারের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট। তবে বাজেট বক্তৃতা শেষ হতেই স্পষ্টপ্রত্যাশার পাহাড়ের তুলনায় প্রাপ্তি অনেকটাই খর্ব।বাজেট পেশের আগেই ব্যয় বরাদ্দ ও করছাড় ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পমহলসর্বত্র উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদে ভাষণ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে প্রথামাফিক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর ক্রমশ স্পষ্ট হয়, বড় কোনও চমক নেই।বিশেষ করে রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাংলা কার্যত ব্রাত্য। পরিকাঠামো, শিল্প বা বিশেষ প্রকল্পকোনও ক্ষেত্রেই রাজ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা শোনা যায়নি। করদাতাদের ক্ষেত্রেও হতাশা চোখে পড়ার মতো। আয়কর কাঠামোয় তেমন কোনও বড় পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ছাড় ঘোষণা হয়নি।তবে সম্পূর্ণ হতাশার ছবি নয়। কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ফলে দৈনন্দিন জীবনে সীমিত হলেও স্বস্তি মিলতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বিমানের যন্ত্রাংশে শুল্ক কমানো হবে। এর ফলে বিমান সংক্রান্ত খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোওভেনের যন্ত্রাংশ-সহ বেশ কিছু বৈদ্যুতিন পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে ১৭টি ক্যানসারের ওষুধে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধও সস্তা হতে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কিছুটা কমবে বলেই আশা।পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও শুল্কছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি এবং সৌরশক্তিচালিত প্যানেলের দাম কমতে পারে। মোবাইল ফোন তৈরির কাঁচামালের উপর শুল্ক কমানোয় দেশীয় স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট সস্তা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।চামড়াশিল্পকে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার উচ্চ শুল্কের চাপে থাকা চামড়া রফতানিকারকদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা ও ভ্রমণের খরচ কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, স্বস্তির পাশাপাশি চাপও বাড়ছে কিছু ক্ষেত্রে। বিলাসবহুল ঘড়ি এবং বিদেশি মদের উপর কর বাড়ানো হয়েছে। ফলে এই সব পণ্যের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। কফি রোস্টিং ও ব্রিউইং মেশিনে ছাড় তুলে নেওয়ায় সেগুলিও আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সার, আমদানিকৃত টেলিভিশন সরঞ্জাম, ক্যামেরা এবং চিত্রগ্রহণ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাজেট বক্তৃতাজুড়ে আত্মনির্ভর ভারত ও বিকশিত ভারত-এর কথা বারবার উঠে এসেছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার দাবি করেছে কেন্দ্র। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাস্তবে এই বাজেটে এমন কোনও যুগান্তকারী ঘোষণা নেই, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।সব মিলিয়ে, ২০২৬২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট সীমিত স্বস্তি দিলেও বৃহত্তর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থএই মূল্যায়নই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal