• ১১ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Purba BArdhaman

রাজ্য

গোয়ালঘরের পাশে বোমা ফেটে আহত এক, আতঙ্ক বর্ধমানে

বাড়ির কাজ করার সময় গোয়াল ঘরের পাশে পরে থাকা বোমা ফেটে আহত হল এক ব্যক্তি। বর্ধমান শহরের বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ার ঘটনা। আহত ব্যক্তির নাম অসীম বিশ্বাস। রবিবার সকালে অসীম বাবু তার বাড়ির বাইরে থাকা গোয়াল ঘর ও গোয়াল ঘর সংলগ্ন এলাকা পরিস্কার করছিলেন। সেই সময় হঠাৎই বোমা ফাটে। বোমার আঘাতে আহত হন অসীম বাবু। তড়িঘড়ি তাঁকে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের পরিবেশ শৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পুরো জায়গাটিকে ঘিরে রাখা হয়েছে। আশেপাশে আরও বোমা রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এসে পৌঁছেছে ডি আই বি বোম স্কায়াডের সদস্যরাও। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, যে জায়গায় বোমা ফেটেছে সেই জায়গায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বিকালে খেলা করতে যেত। এই ঘটনা যদি বিকালে ঘটতো তা হলে প্রাণহানী হতে পারতো বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়াতে হবে। উল্লেখ্য, বছর খানেক আগে ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে রসিকপুর এলাকায় বোমা ফেটে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।বর্ধমানের রসিকপুরে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় এক শিশু। বোম বিস্ফোরণে এক শিশুর মৃত্যু হয়, জখম হয় আর এক শিশু। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। তারপর একটা বছর কেটে গেছে। অপরাধীরা ধরা পড়েনি।

মার্চ ২৭, ২০২২
রাজ্য

ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রীতে বাধা হয়ে দাঁড়ানোই, বাড়িতে বোমা মজুতের অভিযোগে গ্রেপ্তার চাষি-গ্রেপ্তারি নিয়ে ধোঁয়াসা

ওয়াকফ সম্পত্তিতে থাবা বসাতে চাওয়া প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হওয়া চাষির বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হল বোমা। রহস্যজনক সেই বোমা উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেপ্তার করলো ওই বাড়ির মালিক তথা চাষি ফিরোজউদ্দিন মল্লিককে। বর্ধমান থানার কৃষ্ণপুর পশ্চিমপাড়ার এই ঘটনা এলাকাবাসী মহলে তুমুল চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে। বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড উদ্ধার হওয়া বোমা গুলি এদিন বিকালে নিস্কৃয় করে। যদিও এলাকাবাসী ও ফিরোজউদ্দিনের পরিবার সদস্যরা দাবী করছেন, ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রী আটকানোর জন্যই প্রমোটার ও জমি দালালরা চক্রান্ত করেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন এলাকাবাসী।বর্ধমানের কেষ্টপুর গ্রামের এক প্রান্তে বাড়ি পেশায় চাষি ফিরোজউদ্দিন মল্লিকের। স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাড়িতেই থাকেন। ফিরোজউদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম মল্লিক এদিন বলেন,শুক্রবার অনেকটা রাতে তাঁদের বাড়িতে পুলিশ আসে। পুলিশ তাঁদের ঘুম থেকে তোলে। ঈব্রাহিম জানায় কি কারণে গভীর রাতে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে তা সে জানতে চায়। তখন পুলিশের একজন তাঁকে চড় মেরে বলে, তাঁদের বাড়িতে বোমা রাখা আছে। ফিরোজউদ্দিনের স্ত্রী সাকিলা বানু অভিযোগে বলেন,মধ্য রাতে তাঁদের বাড়িতে পুলিশ ঢুকে হুমকি দেয়। বাড়িতে থাকা অন্য মহিলাদেরও পুলিশ ধমকায়। সাকিলা বিবি দাবী করেন, তাঁদের পরিবার চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করে। পরিবারের কেউ রাজনীতিও করে না। চক্রান্ত করে কেউ ব্যাগে ৪টি বোমা ভরে নিয়ে এসে তাঁদের বাড়ির বাথরুমের ছাদে রেখে দিয়ে গিয়ে পুলিশকে ফোন করেছে। তাঁরা নির্দোশ বলে জানান সাকিলা বিবি।পুলিশ যদিও ফিরোজউদ্দিণের পরিবাবার সদস্যদের এইসব বক্তব্যকে কোন গুরুত্ব দেয় নি। বর্ধমান থানার সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জয় মণ্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়িতে বোমা মজুত রাখার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ ফিরোজউদ্দিন মল্লিককে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ দাবি করেছে, ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বোমার কারবারে সঙ্গে জড়িত। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন এই কারবারে জড়িত রয়েছে। এদিনই ধৃত ফিরোজউদ্দিন কে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। আরও বোমা উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িত বাকিদের হদিশ পেতে তদন্তকারী অফিসার এদিন ধৃতকে ৫ দিন পুলিশি হেপাজতে নেবার জন্য আদালতে আবেদন জানায়। ধৃতের আইনজীবী অবশ্য মিথ্য মামলায় ফাঁসানোর হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশি হেপাজতের বিরোধীতা করেন। দুই পক্ষের সওয়াল শুনে সিজেএম ধৃতকে ৪ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।এই ঘটনা কার্যতই হতবাক করে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। তাঁরা দাবী করেছেন, ফিরোজউদ্দিনের পরিবারটি সাতেপাঁচে থাকে না। প্রতিবেশী সোনেহারা বিবি ও সালমা বেগম বলেন, এই ঘটনার নিয়ে আমরা শুধু আতঙ্কিতই নই, বিস্মিতও হয়েছি। কারণ, ফিরোজউদ্দিনের পরিবার চাষবাস নিয়েই থাকে। এরকম কিছুতে ওদের জড়িত থাকাটা কোন ভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এলাকাসূত্রে এও জানা গিয়েছে ,একটি ওয়াকফ সম্পত্তি প্রমোটারদের বিক্রিতে বাঁধা দিয়েছিলেন ফিরোজউদ্দিন ও তাঁর পরিবার সদস্যরা। এলাকাবাসীর ধারণা, তার কারণেই প্রোমোটার ও জমির দালালরা ফিরোজ উদ্দিনের পরিবারকে ফাঁসাতে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মার্চ ২৭, ২০২২
রাজ্য

চরম অমানবিক, নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার বাবা

বাবার যৌন অত্যাচারের জেরে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লো নাবালিকা মেয়ে। এমনটা জেনে হয়তো অনেকেই হতবাক হবেন। কিন্তু বাস্তবেই হতবাক করে দেওয়ার মত এমন ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনায়। দিনের পর দিন ধর্ষণ করে নিজের নাবালিকা মেয়েকে অন্তঃসত্বা করে দেওয়ার অভিযোগে কুলাঙ্গার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে কালনা থানার পুলিশ। সুননির্দিষ্ট ধরায় মামলা রুজু করে পুলিশ শনিবার ধৃতকে পেশ করে কালনা মহকুমা আদালতে। নির্যাতিতা নাবালিকাকেও এদিন মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বিচারক ধৃত অভিযুক্তকে জেল হেফাজত ও তার মেয়েকে হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালিকার বাবার দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবী করেছেন এলাকাবাসী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনায় বাড়ি বছর পনোরো বয়সী নাবালিকার। কালনা থানার পুলিশের কাছে সে অভিযোগে জানিয়েছে, তাঁর বাবা গত দু-বছর ধরে তাঁকে ধর্ষণ করেছে। তাঁর মা বাইরে কাজে চলে গেলেই তাঁর বাবা তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করতো। তাঁর বাবা শুধু তাঁকে ধর্ষণ করেই খান্ত থাকেনি। হুমকি দিয়েছিল, তার কু-কীর্তির কথা কাউকে জানালে সে তাঁকে প্রাণে মেরে দেবে। সেই হুমকিতে ভীত হয়ে এতদিন কাউকে কিছু জানাতে পারেনি বলে নাবালিকা পুলিশকে জানায়। নাবালিকা পুলিশকে এও জানায়, দিনের পর দিন নিজের বাবার যৌন আত্যাচারের শিকার হতে হওয়ায় সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়। ডাক্তারের কাছে গিয়ে নাবালিকা জানতে পারে সে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়েছে। এরপরেই নাবালিকা কালনা থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। সে পুলিশের কাছে নিজের বাবার অভিযোগ দায়ের করে। তার ভিত্তিতে ধর্ষনের মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে পুলিশ নাবালিকার বাবাকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা মহলেও তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।

মার্চ ২৬, ২০২২
রাজ্য

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, অভিযোগের আঙুল উঠলো বন্ধুর দিকে

বিয়ে বাড়িতে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমানে। মৃত ছাত্রের নাম শেখ জিৎ (১৬)। বর্ধমানের সড়াইটিকর মন্সিপাড়ার এই ছাত্র এবছর বর্ধমান হাই মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে।শনিবার সকালে এলাকার একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্তায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। যদিও হাঁটু ভাঁজ করা অবস্তায় ছাত্রের পা মাটিতে ঠেঁকেছিল। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ছাত্র জিৎ আত্নহত্যা করেছে বলে মানতে চাননি তাঁর পরিবার। জিৎকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। ছাত্রেয় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কি তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্র শেখ জিৎ শুক্রবার তাঁদের পাড়ারই একটি বিয়ে বাড়িতে যায়।সেখানে সবার সঙ্গে সে নাচ-গান করে। বন্ধু শেখ শরিফের বাড়িতে রাতে ঘুমাতে যচ্ছে বলে বলে জিৎ তাঁর বাড়ির লোকজনকে জানায়। জিতের বাবা শেখ আল্লারাখা এদিন পুলিশকে অভিযোগে জানান, তাঁর ছেলে শুক্রবার পাড়ার একটি বিয়ে বাড়িতে যাবার সময় বলে যায় বাড়িতে আনন্দ করবো। রাতে বাড়িতে ফিরবো না। বন্ধু শেখ শরিফের বাড়িতে ঘুমাবো বলেও সে জানিয়ে যায়। এরপরই এদিন সকালে বাড়ির অদূরেএকটি গাছে ঝুলে থাকা অবস্থায় ছেলের দেহ উদ্ধার হয়৷ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা দেখেন ছেলের দেহ গাছে ঝুললেও হাঁটু ভাঁজ করা অবস্তায় তাঁর পা মাটিতে ঠেকে আছে।শেখ আল্লারাখা বলেন, পুলিশ ঘটনা বিষয়ে শরিফকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় রাত বারোটার সময় সে জিৎকে ঘর থেকে বার করে দিয়েছে। ঘর থেকে বের করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে শরিফ জানায়, তাঁর ঘুম পেলেই জিৎ উঠে পালিয়ে যাচ্ছিল। তাই সে জিৎকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার কথা জিতের বাড়িতে জানালে যদি বকাবকি করে তাই কাউকে কিছু জানায় নি বলে শরিফ বলে। ছেলের বন্ধুর এমন বক্তব্য রহস্যজনক ঠেকায় শেখ আল্লারাখা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার যথোপযুক্ত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।তদন্তে নেমে পুলিশ ছাত্রের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

মার্চ ২৬, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের কেষ্টপুর থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা রাখা নিয়ে প্রশ্ন অভিযুক্তের পরিবারের

পূর্ব বর্ধমানের কেষ্টপুর গ্রাম থেকে বোমা উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়াল। এই ঘটনায় পুলিশ ফিরোজউদ্দিন মল্লিক নামে এক গ্রামবাসীকে আটক করেছে। তাঁর পুত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ওই পরিবারটি কারও সাতেপাঁচে থাকে না। পুত্র ইব্রাহিম মল্লিকের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ এসে তাঁকে ঘুম থেকে তোলে। তাঁকে চড় মারা হয়। তারপর বলা হয় বাড়িতে বোম রাখা আছে। তাঁর মা সাকিলা বানুর দাবি, মধ্যরাতে পুলিশ এসে হুমকি দেয়। মেয়েদের ধমকায়। তাঁর দাবি, কেউ বোমা রেখেই পুলিশকে খবর দিয়েছে। তাঁরা এসবে জড়িত নন।এলাকার বাসিন্দা সোনেহারা বিবি, সালমা বেগমরা একদিকে আতঙ্কিত অন্যদিকে বিস্মিত। তাঁরা জানান, এই পরিবারটি চাষবাস নিয়ে থাকে। এরকম কিছুতে তাঁরা জড়িত থাকা কার্যত অসম্ভব। এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ওয়াকফের সম্পত্তি বিক্রিতে বাঁধা দেন এই পরিবারের সদস্যরা। এলাকাবাসীর ধারণা, প্রোমোটাররা সেকারণেই এইরকম কারসাজি করে থাকতে পারে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেন জানিয়েছেন, এটা নিয়ে একটি কেস করা হবে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত চলছে।

মার্চ ২৬, ২০২২
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর সক্রিয় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ, উদ্ধার আগ্নেআস্ত্র ও গাঁজা, গ্রেপ্তার ১১ দুস্কৃতী

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার বেআইনি বোমা, গুলি ও আগ্নেআস্ত্র উদ্ধারের জন্য রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়েই রাজ্য জুড়ে শুরু হয় পুলিশি অভিযান। অভিযান চালানো থেকে পিছিয়ে থাকেনি পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশও। জেলার বর্ধমান থানার পুলিশের অভিযানে আগ্নেআস্ত্র ও কার্তুজ সহ ধরা পড়েছে ভিন রাজ্যের দুই দুস্কৃতী। পুলিশ জানিয়েছে , ধৃতদের নাম সঞ্জয় কুমার ও ভোলা কুমার। ধৃতরা বিহারের ঔরাঙ্গাবাদ এলাকার বাসিন্দা। পুলিলের দাবী, ধৃতদের কাছ থেকে দুটি ইম্প্রোভাইস পাইপগান ও দুই রাউণ্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ শুক্রবার দুই ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারী অফিসার ধৃতদের ১২ দিন পুলিশি হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। সিজেএম ধৃতদের ৮ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা পুলিশের ডিএসপি অতনু ঘোষাল জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর রাতে বর্ধমান শহরের খাগড়াগড় এলাকায় দুই ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় টহলদারি পুলিশ তাদের পথ আটক।তল্লাশীতে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় দুটি ইম্প্রোভাইস পাইপগান ও দুই রাউণ্ড কার্তুজ। অতনু ঘোষাল বলেন ,জেরায় ধৃতরা কবুল করেছে, তারা বিহারের নাচ-গানের অনুষ্ঠানে নর্তকী নিয়ে যাওয়ার কাজ করে। কিন্তু তারা অস্ত্র নিয়ে কেন বর্ধমান এসেছিল সেই বিষয়টি নিয়ে পরিস্কার কিছু জানায় নি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ধৃতরা মহিলা পাচারের সঙ্গে যুক্ত। ধৃতদের নিজেদের হেপাজতে নিয়ে বর্ধমান থানাপ পুলিশ সেই রহস্যেরই কিনারা করতে চাইছে। বর্ধমানে আগ্নেআস্ত্র সহ দুই দুস্কৃতি ধরা পড়ার পাশাশাপি প্রচুর গাঁজা সহ ৪ গাঁজা কারবারী ধরা পড়েছে জেলার মন্তেশ্বর থানার পুলিশের অভিযানে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সৈফুদ্দিন শেখ, মিঠু শেখ, তৈয়ব আলি শেখ ও রাজা সিং।ধৃতদের মধ্যে প্রথম তিনজনের বাড়ি বর্ধমানের দেওয়ানদিঘী থানার নাড়াগোহালিয়া এলাকায়। চতুর্থ ধৃতের বাড়ি বিহার রাজ্যে।পুলিশের দাবী ধৃতদের কাছ থেকে ৪১ কেজির বেশী গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমানের মাদক আদালতে। বিচারক ধৃতদের মধ্যে সৈফুদ্দিন শেখ ও মিঠু শেখকে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজত ও বাকিদের জেল হেপাজতে পাটানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ,চলতি বছরের শেষ দিকে এসটিএফ ও জেলার পূর্বস্থলী থানার পুলিশ যৌথ ভাবে অভিযান চালিয়ে ট্রাকভর্তি গাঁজা সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। এই মামলার তদন্ত চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে মণিপুর থেকে গাঁজা ভর্তি ট্রাকটি পূর্বস্থলীতে এসেছিল।এই ঘটনার পর দুমাস কাটতে না কাটতে শুক্রবার ভোর রাতে মন্তেশ্বর থানার পুলিশের অভিযানে ফের গাঁজা সহ চারজন গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা পুলিশ কর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। ধৃতরা কোথা গাঁজা জোগাড় করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। কালনা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন ,গাঁজা সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গাঁজা কারবারী চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।একই ভাবে কাটোয়া থানার পুলিশও রাতভর অভিয়ান চালিয়ে অস্ত্রসহ ৫ দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম রাহুল শেখ,নওসাদ শেখ, হাসিবুল শেখ,বুলেট হাজরা ও মিঠুন শেখ। ধৃতদের মধ্যে প্রথম দুজনের বাড়ি কাটোয়া মহকুমার কেতুগ্রাম থানার মূলগ্রাম এলাকায়। হাসিবুল কাটোয়ার কেশিয়া মাঠপাড়া এলাকা বাসিন্দা। বাকি দুজনের বাড়ি কাটোয়ার কোশিগ্রাম ও গাঙ্গুলিডাঙ্গা এলাকায়৷ পুলিশের দাবি, পৃথক অভিযানে ধরাপড়া দুস্কৃতিদের কাছ থেকে চারটি দেশি পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ শুক্রবার ধৃতদের পেশ করে কাটোয়া মহকুমা আদালতে। বিচারক বুলেট হাজরাকে ৫ দিনের পুলিশি ও বাকি ধৃতদের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্চ ২৫, ২০২২
রাজ্য

প্রতিবাদীকে পিটিয়ে খুনে দুই অভিযুক্তের পুলিশ হেপাজত

অসামাজিক কাজের প্রতিবাদ করা ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল দুই অভিযুক্ত। ধৃতরা হলেন প্রশান্ত মহলাদার ও সোমনাথ মাজি। প্রশান্তর বাড়ি কাটোয়ার আখড়া গ্রামে। পাশের গ্রাম জগদানন্দপুরের বাসিন্দা আপর ধৃত সোমনাথের। কাটোয়ার নলহাটি গ্রামের পণ্ডিতপাড়ার মিহির পণ্ডিত (৪৫) কে পিটিয়ে খুনের আভিযোগে পুলিশ প্রশান্ত ও সোমনাথকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করে। খুনের ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ দুই ধৃতকে শুক্রবার কাটোয়া মহকুমা আদালতে পের করে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। বিচারক ধৃতদের চার দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিহির পণ্ডিতের স্ত্রী তিনবছর আগে মারা গিয়েছেন। তাঁর ছেলে তন্ময় কর্মসূত্রে বাইরে থাকে। মেয়ে মৌসুমীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মিহিরবাবুরা তিন ভাই। ছোট ভাই শিবু পণ্ডিত লিখিত অভিযোগে পুলিশকে জানিয়েছেন, রাধাগোবিন্দ জিউয়ের পুজো উপলক্ষে বুধবার রাতে জগদানন্দপুর গ্রামে যাত্রানুষ্ঠান ছিল। তাঁর দাদা মিহির পণ্ডিত গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে যাত্রা দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে আখড়া গ্রামের প্রশান্ত মহলাদার ও জগদানন্দপুর গ্রামের সোমনাথ মাজির সঙ্গে একপ্রস্থ ঝামেলা হয় মিহিরের। যাত্রা দেখে রাত প্রায় আড়াইটের পর মিহিরবাবু বাড়ি ফিরছিলেন । শিবু পণ্ডিত অভিযোগ করেছেন ,তাঁর দাদা মিহির পণ্ডিত যাত্রা দেখে যখন বাড়ি ফিরছিলেন তখন প্রশান্ত ও সোমনাথ নির্মম ভাবে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করে।মিহির পণ্ডিতকে হত্যার কারণ প্রসঙ্গে শিবু পণ্ডিত বলেন, তাঁদের প্রতিবেশী পরিবারের স্বামী পরিত্যক্তা এক মহিলার বাড়িতে রাতের অন্ধকারে যেতেন প্রশান্ত ও সোমনাথ। তাঁরা শিবু পণ্ডিতের বাড়ির উঠান দিয়ে ওই মহিলার বাড়িতে যাতায়াত করতো। শিবু বলেন, রাতের বেলায় বাইরের লোকজনের বাড়ির উঠান দিয়ে যাতায়াত করা মেনে নিতে না পেরে আমি ও আমার দাদা মিহির প্রতিবাদ করেছিলান। তার বদলা নিতেই রাতের অন্ধকারে মিহিরকে একা পেয়ে সোমনাথ ও প্রশান্ত পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজে সংগ্রহ করেছে। তাতেই ধরাও পড়েছে প্রশান্ত ও সোমনাথ রড ও লাঠি দিয়ে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে মারছে মিহিরকে। পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃত দুজনই মিহির পণ্ডিতকে পিটিয়ে খুনের কথা কবুল করেছে।

মার্চ ২৫, ২০২২
রাজ্য

কাশ্মীর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ, কফিনবন্দি দেহ ফিরছে বর্ধমানের দুই পর্যটকের

কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হল পূর্ব বর্ধমান জেলার দুই পর্যটকের। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলার কঙ্গন থানার গণ্ডুতে শ্রীনগর-লে এক্সপ্রেসওয়ের উপরে। দুর্ঘটনায় পর্যটকবাহী বাসে থাকা আরও প্রায় ২৫ জন পর্যটক জখম হয়েছেন। মৃতরা হলেন পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের তোড়কোনা গ্রামের মালতি কুণ্ডু (৫৫) ও গলসির ইরকোনা গ্রামের স্মৃতিকা হাজরা (৫২)। কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলার পুলিশ সুপার নিখিল বরকর সংবাদ মাধ্যম কে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে দুজন মারা গিয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা গিয়েছেন। খণ্ডঘোষ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ খণ্ডঘোষের তোড়কোনা থেকে একটি টুরিস্ট বাস ছাড়ে। ওই বাসে চড়ে বর্ধমান শহর, খণ্ডঘোষ, গলসি, বাঁকুড়ার ইন্দাস, শাসপুর থানা এলাকার ৬৪ জন পর্যটক উত্তরভারত ও কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অমৃতসর, হরিদ্বার, বেনারস হয়ে ৪ এপ্রিল পর্যটকদের বর্ধমানে ফেরার কথা ছিল। খণ্ডঘোষ থেকে রওনা হওয়ার পর বুদ্ধগয়া, এলাহবাদ, আগ্রা, বৃন্দাবন, কুরুক্ষেত্র হয়ে পর্যটকবাহী বাসটি মঙ্গলবার রাতে শ্রীনগরে পৌঁছায়। বুধবার শ্রীনগরে প্রকৃতিক দৃশ্য ঘুরে দেখার পর ফের বৃহস্পতিবারও পর্যটকরা দুটি ছোট বাসে চড়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য ঘুরে দেখার জন্য রওনা হন। ওই সময়েই একটি পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামল দত্ত জানিয়েছেন। শ্যামল বাবু বলেন, শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার খবর তোড়কোনা গ্রামে পৌছায়। এরপর খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই বাসটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উল্টে গিয়ে বেশ কয়েকফুট নিচে থাকা অন্য রাস্তায় আছড়ে পড়ে। তার জরেই বয়স্ক দুই পর্যটক প্রাণ খোয়ান বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।তোড়কোনা থেকে ছাড়া পর্যটকবাহী বাসের গাইড, ছিলেন তোড়কোনা গ্রামেরই বাসিন্দা অসীম চক্রবর্তী ওরফে খোকন। তিনি দাবি করেছেন, পর্যটকরা শ্রীনগর থেকে সেখানকার স্থানীয় বাসে চড়ে সাইডসিন দেখতে বেরিয়েছিলেন। ওই বাসটি বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার কবলে পড়লে দুজন মারা যান। ওই থাকা বাকি পর্যটকরা জখম হয় তাঁদের সবাইকে ওইদিন সন্ধের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। জখমদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মৃতদেহ নিয়ে বর্ধমানে ফিরে আসার ব্যাপারেও কাশ্মীরের পর্যটন বিভাগ সর্বতভাবে সাহায্য করছে। খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ জানান, ময়নাতদন্তের পর দ্রুত যাতে মৃতদেহ ফিরিয়ে আনা যায় তার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে শ্রীনগরে মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত হয়েছে। শনিবার সকালে বিমানে দেহগুলি কলকাতায় আনা হবে বলে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের কথায় জানা গিয়েছে।

মার্চ ২৫, ২০২২
রাজ্য

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী-কে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার এক যুবক

অপহরণের ঘটনার তদন্তে নেমে দুদিনের মধ্যে অপহরণকারীর ডেরা থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া ছাত্রীকে উদ্ধার করলো পুলিশ। পাশাপাশ পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার পুলিশ ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত যুবক রণি খান কেও গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম থানার পাটুলি শিবতলা এলাকায়। মেয়েকে উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য ছাত্রীর পরিবার বুধবার রায়না থানায় গিয়ে পুলিশকে কৃতজ্ঞতা জানান। পুলিশ জানিয়েছে,১৬ বছর বয়সী অপহৃত ছাত্রীর বাড়ি রায়না থানার হিজলনা পঞ্চায়েত এলাকায়। সে এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবী করে তাঁর বাবা গত রবিবার রাতে রায়না থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ছাত্রীর বাবা পুলিশ কে জানান, মাসির বাড়ি যাবার জন্য তাঁর মেয়ে রবিবার সকাল ৮ টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয়। তার পর থেকে তিনি তাঁর মেয়ের আর কোন খোঁজ পান না। বিভিন্ন আত্মীয় পরিজনের বাড়িতেও খোঁজ চালান। কিন্তু মেয়ের আর কোন হদিশ মেলে না। নাবালিকা মেয়েকে কেউ অপহরণ করেছে এমনটা ধরে নিয়ে এরপর তিনি ওইদিন রাতেই রায়না থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ছাত্রীর বাবার অভিযোগ পেয়েই নড়ে চড়ে বসে রায়না থানার পুলিশ। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নামেন পুলিশ অফিসার সফিউর রহমান। বিভিন্ন সূত্র মাধ্যমে খোঁজ খবর চালিয়ে তিনি নিশ্চিৎ হয় ছাত্রী উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম থানা এলাকায় রয়েছে। এর পরেই নাবালিকা ছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য মঙ্গলবার তিনি উত্তর ২৪ পরগনা মধ্যমগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মধ্যমগ্রাম থানার সহায়তা নিয়ে সফিউর রহমান সেখানকার পাটুলি শিবতলা এলাকা নিফাসী অপহরণকারী রণি খানের ডেরায় পৌছান। সেখান থেকে নাবালিকা ছাত্রীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি পুলিশ রনি খানকেও ধরে ফেলে।জেরায় ছাত্রীকে অপহরণের কথা কবুল করার পরেই পুলিশ রনি খান কে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার রাতেই নাবালিকা ওই ছাত্রী ও ধৃত অপহরণকারীকে নিয়ে রায়না থানায় পৌছান তদন্তকারী অফিসার সফিউর রহমান। ছাত্রীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে গোপন জবানবন্দি পেশের জন্য এদিনই তাকে হাজির করানো হয় বর্ধমান আদালতে। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ ধৃত অপহরণকারীকেও এদিন আদালতে পেশ করে। ৭০০ টাকার বন্ডে ধৃতর জামিন মঞ্জুর করে বিচারক ১৪ জুলাই ফের তাঁকে আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্চ ২৩, ২০২২
রাজ্য

নাকা চেকিংয়ে ব্যবসায়ীর গড়ি থেকে উদ্ধার আয় বহির্ভূত প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা

আয়কর দফতরের নজর এড়াতে পারলেও পুলিশের নজর এড়াতে পারলেন না ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার পুলিশের নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়া ব্যবসায়ীর গাড়ি থেকে উদ্ধার হল আয় বহির্ভূত প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। ওই বিপুল পরিমাণ টাকা পুলিশ বাজেয়াপ্ত করার পর খবর দেয় আয়কর বিভাগে। সরকারী নিয়ম মেনে পুলিশ এদিনই ওই টাকা আয়কর বিভাগের হাতে তুলে দেয়। ব্যবসায়ী ওই বিপুল পরিমাণ টাকা কোথা থেকে পেলেন ও কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন সেই বিষয়ে পুলিশ ও আয়কর বিভাগ উভয়েই খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি জেলার কাটোয়া মহকুমার কেতুগ্রামে। মঙ্গলবার সকালে তিনি তাঁর চারচাকা গাড়িতে চড়ে বাদশাহী রোড ধরে মঙ্গলকোটের নতুনহাটের দিক থেকে বর্ধমানের দিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময়ে ভাতার থানার পুলিশ বাদশাহী রোডে আলিনগর চৌরাস্তার মোড়ের কাছে নাকাচেকিং চালাচ্ছিল। ভাতার থানার ওসি সৈকত মণ্ডল জানিয়েছেন, পুলিশ ব্যবসায়ীর গাড়িতে তল্লাসি চালানোর সময় গাড়ির ভিতরে দুটি বড় ব্যাগ দেখতে পায়। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ দুটি ব্যাগের চেন খুলতেই দেখতে পায় ব্যাগ গুলির ভিতরে ভরা রয়েছে। ৫০০ ও ২০০ টাকার বাণ্ডিলের ওই টাকা গুনে দেখা যায় দুটি ব্যাগে মোট ৫৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ছিল। ও সি জানান, ওই টাকার উৎস সংক্রান্ত কোনও তথ্য ব্যবসায়ী দিতে না পারায় উদ্ধার হওয়া সমস্ত টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই টাকা এদিনই আয়কর বিভাগের হাতে তুলে দেয় ভাতার থানার পুলিশ।

মার্চ ২২, ২০২২
রাজ্য

বামেদের আইন অমান্য আন্দোলনে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ধুন্ধুমার কান্ড বর্ধমান শহরে

পূর্ব বর্ধমান জেলা বামপন্থী গণসংগঠণের ডাকে আইন অমান্য ঘিরে প্রবল উত্তেজনা ছড়ালো বর্ধমান শহরে। মঙ্গলবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব সহ একাধিক দাবীতে আইন অমান্যর ডাক দেয় জেলার বামপন্থী গণসংগঠনসমূহ। বর্ধমান রেল স্টেশন থেকে মিছিল করে এসে কার্জনগেটে আইন অমান্য করে তারা। কার্জনগেটে পুলিশের একটি ব্যারিকেড ভেঙে দেয় তারা। দ্বিতীয় ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। কর্মসূচিতে ছিলেন সিপিএম নেতা অমল হালদার, সৈয়দ হোসেন,তাপস সরকার সহ অন্যান্যরা বামপন্থী নেতৃত্বরা। অমল হালদার জানান, আমরা একটার পর এক ব্যারিকেড ভেঙে আমাদের আইন অমান্য আন্দোলন করলাম, কিন্তু আইন অমান্য যে করছি! আমাদের দেশে কি আদও আইন বলে কিছু আছে? আনিশ খান মারা গেলো, বর্ধমানে তুহিনা বলে এক ছাত্রী মারা গেলো। আরও অবাক ব্যাপার সেই ছাত্রীর আত্ম্যহত্যায় প্রোরচনা দেওয়া আসামী এসডিও-র কাছে শপথ বাক্য পড়ে এলেন। তিনি মনে করেন এই মুহূর্তে আমাদের দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই।তিনি আরও বলেন, সোমবার রাতে রামপুরহাটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক গণহত্যায় প্রায় ১০ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়। একজন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান-র হত্যার বদলি ১০ টি তাজা প্রান চলে গেলো। তিনি জানান আজকের এই আইন অমান্য ২৮ ও ২৯ তারিখের ধর্মঘট কে সফল করার জন্য। ১২ দফা দাবী নিয়ে এই ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি বামজোট এই সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। সাধারণ মানুষকে দেশের এই ভয়াবহ দুর্দিনে এগিয়ে এসে ধর্মঘটে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।অমল হালদার আক্ষেপের সুরে বলেন সারা দেশে একের পর এক রাষ্টায়ত্ত কল কারখানা বন্ধ হচ্ছে। হু হু করে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন রাষ্টায়ত্ত কল কারখানা বেসরকারিকরন ও বিলগ্নিকরন হচ্ছে। মানুষ তাঁর ফসলের ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না। ক্ষেত মজুরদের কাজ বন্ধ সহ একাধিক দাবী তোলেন এই আইন অমান্য আন্দোলন থেকে।রামপুরহাট কান্ড নিয়ে বীরভূমের অবিসংবাদিত তৃণমূল নেতা অনুব্রত-র মন্তব্য নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বাম নেতা আমল হালদার জানান, অনুব্রত যা বলেছেন তা তিনি বিশ্বাস করেন না, কারন একটা বাড়িতে টিভি ফেটে আগুন লাগতে পারে, পর পর ১০-১২ টা বাড়িতে একসাথে টিভি ফেটে আগুন লেগে এত মানুষের মৃত্যু! তিনি আক্ষেপ করে বলেন এই পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে কোনও আইন নেই, গোটা পশ্চিমবঙ্গ তছনছ হয়ে গেছে।

মার্চ ২২, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতারের দাবিতে হাতে চুড়ি ও শাড়ি নিয়ে প্রতিবাদ যুব কংগ্রেসের

অভিযুক্ত কাউন্সিলরের লুকিয়ে শপথ নেওয়ার ঘটনায় হাতে চুড়ি ও শাড়ি নিয়ে অভিনব প্রতিবাদে শামিল হল যুব কংগ্রেস। বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমাশাসকের অপসারণ ও অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলের গ্রেফতারের দাবি জানান প্রতিবাদীরা। সোমবার যুব কংগ্রেসের কর্মীরা মিছিল করে পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়। এরপর যুব কংগ্রেস কর্মীরা মহকুমাশাসকের অফিসের দিকে এগোলে পুলিশ তাদের আটকায়। রাস্তায় বসে পরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে যুব কংগ্রেস কর্মীরা। কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর তারা আবার মহকুমাশাসকের অফিসের দিকে যাবার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় আন্দোলনকারীদের। এই ঘটনায় পুলিশ ৬ জন যুব কংগ্রেস কর্মীকে আটক করেছে।তরুণী তুহিন খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বর্ধমান পুরসভার নব নির্বাচিত কাউনসিলর বসির আহমেদ ওরফে বাদশার বিরুদ্ধে। পুলিশ তাকে এখনও গ্রেপ্তার করেনি। অথচ গত ১৭ মার্চ বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমাশাসকের দপ্তরে গিয়ে শপথ নিলেন মূল অভিযুক্ত কাউন্সিলর। শনিবার এই খবর চাউড় হতেই ব্যাপক আলোড়ন পড়ে যায় বর্ধমান শহরে।উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ পুরসভার ফলাফল ঘোষণার দিন বর্ধমান শহরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ এলাকায় কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের বাড়িতে হামলা, শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ ওঠে এলাকার নব নির্বাচিত কাউন্সিলর বাদশা ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরই বাড়ি থেকে তুহিনার দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান থানার পুলিশ।পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ধমান থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করা হয় বসির আহমেদ সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ দেখায় বাম ছাত্র,যুব ও মহিলা সংগঠন। পাশাপাশি বিক্ষোভ আন্দোলনে নামে কংগ্রেসও। খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ অধীর চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরিবারের অভিযোগের পরিপেক্ষিতে পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৪ জন মহিলা ও ১জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করলেও বসির আহমেদ এখনও গ্রেপ্তার হন নি।এদিকে এই আবহের মাঝেই গত ১৬ মার্চ বর্ধমান পুরসভার নবনির্বাচিত ৩৩ জন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার শপথ নেন বর্ধমান সদর মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাসের কাছে। শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে হাজির হননি বসিরউদ্দিন আহমেদ ওরফে বাদশা। কিন্তু তারপরেই ১৭ মার্চ দ্বিতীয়ার্ধে তিনি মহকুমাশাসকের চেম্বারে গিয়ে শপথ নেন। শপথ নেবার খবর চাউড় হতেই শুরু হয় বিতর্ক।

মার্চ ২১, ২০২২
রাজ্য

পূর্ব বর্ধমানের এই গ্রামে দোল উৎসবে মেলে ১,০০০ টাকা দরে এক পিস রসগোল্লা

এক পিস রসগোল্লা এক হাজার টাকা! এটা কোন আজগুবি গল্পকথা নয়। পাঁচ শতাধিক বছরের প্রাচীন দোল উৎসবের মেলার সেরা আকর্ষণ হাজার টাকা পিসের পেল্লাই সাইজের রসগোল্লা। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ১ ব্লকের দোগাছিয়ার দোল উৎসবের এমনই মস্ত সাইজের মিষ্টি তৈরি হয়। দোল উৎসব উপলক্ষ্যে আগত অতিথিদের এমন বিশালাকার মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করাটাই দোগাছিয়া গ্রামের রেওয়াজ। তাই দোল উৎসব উপলক্ষ্যে দোগাছিয়া গ্রামের মেলায় যাঁরা মিষ্টির দোকান খুলে বসেন তাঁরা সবাই তৈরি করেন পেল্লাই সাইজের হরেক রকমের মিষ্টি। নজর কাড়া এমন মিষ্টি স্বচক্ষে একবার দেখার জন্যেও অনেকে মেলায় ভিড় জমান।দোগাছিয়া গ্রামের দোল উৎসবের মাহাত্ম্য নিয়ে এলাকায় নানা লোককথা প্রচলিত রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা নিখিলেশ রায়চৌধুরি ও দেবপ্রসাদ রায়চৌধুরি জানান, প্রায় সাড়ে পাচশো বছর আগের ঘটনা।বাংলায় তখন রাজত্ত্ব চালাতেন জমিদাররা। সেই সময় কালে দোগাছিয়া গ্রামে চারদিনের দোল উৎসবের সূচনা হয়।দোলে গ্রামের চৌধুরিপাড়ার মূল মন্দিরে হয় কৃষ্ণচন্দ্র, গুপীনাথ ও মদনমোহন মূর্তির পুজোপাঠ। মূল মন্দির থেকে কিছুটা দূরে থাকা দোলমন্দিরে চতুর্দোলা করে তিন দেবতার মূর্তি নিয়ে গিয়ে পুজো করা হয়। নিখিলেশ রায়চৌধুরি জানান, তাঁদেরই বংশের পূর্বপুরুষ শ্রীধর কর জমিদারী আমলে মন্দিরগুলি তৈরি করেন। পরবর্তীকালে নবাব আমলে তাঁদের পরিবার রায়চৌধুরি উপাধি লাভ করে। চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের কথায় জানা গিয়েছে, দোল উৎসব উপলক্ষ্যে গ্রামে হরিনাম সংকীর্তন সহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হয়, মেলাও বসে।দোগাছিয়া গ্রামে দোল উৎসবের মেলায় এদিন গিয়ে দেখা যায় মেলার মূল আকর্ষন মিষ্টি। দু-এক কেজি ওজনের মিষ্টি নয়। ১০০০ টাকা পিস দরের ৮ কেজি ওজনের রসগোল্লা মেলায় বিক্রির জন্য তৈরি করেছেন বিক্রেতারা। বড় বড় গামলায় সেইসব বিশালাকার মিষ্টি সাজিয়ে রাখেন বিক্রেতারা। এত বড় বড় মিষ্টি মেলায় আগত মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা তৈরি করেন মূলত এলাকার রীতি রেওয়াজকে মান্যতা দিয়েই। স্থানীয় বাসিন্দা সুধাকর ঘোষ ও কৃপেশ বিশ্বাস বলেন, জমিদারি আমল থেকেই দোল উৎসবে আমাদের গ্রামে আগত অতিথীদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হত। সেই রেওয়াজ এখনও চালু রয়েছে। আর তার কারণেই দোল উৎসব উপলক্ষে গ্রামে বসা মেলার সবথেকে বেশি প্রাধান্য পায় মিষ্টি।মেলায় মিষ্টির দোকান খুলে বসা ব্যবসায়ী তপন বিদ, প্রভাত ঘোষ জানান, দোগাছিয়া গ্রামের দোল উৎসবের মেলায় মিষ্টিই মূল আকর্ষন। তাই তাঁরা নজরকাড়া নানা মিষ্টি তৈরি করেন। এই বছর করেছেন ১০০০ টাকা পিস দরের ৮ কেজি ওজনের রসগোল্লা।এছাড়াও ৫০০, ৪০০, ২০০ টাকা পিস দামের মিষ্টিও মেলায় বিক্রীর জন্য তৈরি করেছেন। মিষ্টি কিনতে জেলা ছাড়িয়ে ভিন জেলার ক্রেতারাও মেলায় আসছেন। প্রবাত ঘোষ বলেন, , মেলায় বিক্রি-বাটাও খারাপ হচ্ছে না। দাম যাই হোক, খরিদ্দাররা সব ধরণের মিষ্টি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মেলার স্টলে বসেও দল বেঁধে হাজার টাকা দামের রসগোল্লা খাচ্ছেন।

মার্চ ২০, ২০২২
রাজ্য

জামালপুরে দোল খেলতে যাওয়ার সময় আক্রান্ত রাজ্য বিজেপি নেতা

শ্বশুর বাড়ির দোল উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবার পথে দুস্কৃতি হামলার শিকার হলেন রাজ্য বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবে। শুক্রবার বিকাল পৌনে চারটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার মসাগ্রাম রেল গেট এলাকায়। ঘটনা বিষয়ে এদিন সন্ধ্যায় জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কল্যান চৌবে। তাঁর অভিযোগের তীর যদিও তৃণমূলের দিকেই। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপি নেতার আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার উল্টোডাঙ্গা নিবাসী কল্যাণ চৌবে দলের উত্তর কলকাতার সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি রাজ্য বিজেপিরও সদস্য। জামালপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে কল্যান চৌবে জানিয়েছেন, শ্বশুর বাড়ির দোল উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এদিন তিনি জামালপুরের রাজারামপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। সামনের গাড়িতে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। পিছনের গাড়িতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যা। বিকাল পৌনে চারটে নাগাদ তাঁরা মেমারি তারকেশ্বর রোডে মসাগ্রাম লেবেল ক্রসিং এর কাছে পৌছান। কলাণবাবু দাবি করেছেন, তাঁর গাড়ির সামনে বিজেপির একটি পতাকা লাগানো ছিল। এছাড়াও ড্যাসবোর্ডে রাখা ছিল উত্তরীয় ও ব্যাচ। এইসব দেখেই মসাগ্রাম রেল গেট এলাকায় থাকা দুস্কৃতি দল তাঁকে প্রাণে মেরে দেবার উদ্দেশ্যে আচমকাই তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়। কল্যাণবাবু দাবি করেছেন, তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীরা কোনক্রমে তাঁকে ও তাঁর পরিবার সদস্যদের রক্ষা করেন। হামলায় তাঁদের দুটি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন কল্যাণ চৌবে। থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর ফের স্বপরিবার রাজারামপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিজেপি নেতা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজেপির নেতার আনা এই অভিযোগ কতটা সত্য তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন জেলা তৃণমূলের মুখপত্র প্রসেনজিৎ দাস। পাল্টা অভিযোগে তিনি বলেন, ওই বিজেপি নেতার বিরোধী গোষ্ঠীর লোকজনই হয়তো এইসব ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। পুলিশের তদন্তেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।

মার্চ ১৯, ২০২২
রাজ্য

বিদ্যুৎ চুরিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে গিয়ে কাটোয়ায় আক্রান্ত পুলিশ

বিদ্যুৎ চুরিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে গিয়ে আক্রান্ত হল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার বাঁধমুড়ো গ্রামে। এই গ্রামেই বাড়ি বিদ্যুৎ চুরিতে অভিযুক্ত আনসার মল্লিকের। তাঁর পরিবারের লোকজনের হামলায় জখম হন এএসআই আবদুল হাসিম হাজারি ও সিভিক ভলান্টিয়ার কৈলাস সাহা। জখমদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাতেই পাঠানো হয় কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে। এই ঘটনার পরেই পুলিশ বিদ্যুৎ চুরিতে অভিযুক্ত আনসার মল্লিক ও তাঁর পরিবার সদস্যদের সন্ধানে জোরদার অভাযানে নেমে পড়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, আনসার মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে হুকিং করে সাবমার্বিল পাম্প চালাচ্ছেন বলে বিদ্যুৎ দপ্তর থানায় অভিযোগ জানায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত আনসারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রজু করে। এদিন রাতে আনসারকে ধরতে বাঁধমুড়ো গ্রামে গিয়েছিলেন কাটোয়া থানার এসআই আবদুল হাসিম হাজারি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিভিক ভলেন্টিয়ার কৈলাস সাহা। তাঁরা আনসারকে ধরে যেই গাড়িতে তুলতে যাবেন ঠিক সেই সময় অভিযুক্তের তিন ছেলে, পুত্রবধূরা, আরও কয়েকজন আত্মীয় মিলে পুলিশের উপর চড়াও হয়। তারা পুলিশের কাছ থেকে জোরপূর্বক আনসারকে ছিনিয়ে নিয়ে পালায়। এরপর আনসারের পরিবারের মহিলারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট ছুড়তে শুরু করে। ইঁটের আঘাতে মাথা ফাটে এসআই আবদুল হাসিম হাজারির। জখম হয় সিভিক ভলান্টিয়ার কৈলাস সাহাও। কাটোয়া থানার এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, পুলিশের উপর হামলা চালানোর ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

মার্চ ১৮, ২০২২
রাজ্য

প্রেমিককে খুনের অভিযোগে প্রেমিকাসহ পরিবার সদস্যদের গ্রেফতার করলো পুলিশ

প্রেমিককে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হল প্রেমিকা।রেহাই পাননি প্রেমিকার বাবা, মা ,ও দাদা। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে মেমারি স্টেশন রোড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমিক শুভ শীলকে খুনের অভিযোগে ধৃতদের নাম প্রিয়াঙ্কা কির্তনিয়া, সুনীল কীর্তনিয়া, জয়মালা কীর্তনিয়া ও রাজীব কীর্তনিয়া। তাঁদের বাড়ি মেমারি পৌরসভার উদয়পল্লী দক্ষিণপাড়ে। এদিনই ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর ভাই রাজীবকে ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। সিজেএম ধৃত প্রেমিকা ও তাঁর ভাইকে ৪ দিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অপর ধৃত প্রেমিকার বাবা ও মাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে সোমবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।পুলিশ জানিয়েছে, মেমারির ৩ নম্বর ওয়াের্ডর পারিজাত নগরের শুভ শীলের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার দীর্ঘদিনের ভাব-ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। যদিও প্রিয়াঙ্কার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তা সত্বেও প্রেমিকার বাড়িতে মাঝেমধ্যেই যেত শুভ। প্রিয়াঙ্কার পরিবারের লোকজন বেশ কয়েকবার শুভকে সম্পর্ক ছাড়ার জন্য হুমকি দেয়। অন্যথায় তাঁকে খুন করা হবে বলে শাসানো হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রিয়াঙ্কার বাড়িতে যান শুভ। তারপর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছিল না। রাত দেড়টা নাগাদ প্রিয়াঙ্কার বাড়ি থেকে শুভর মাকে মোবাইলে ফোন করা হয়। শুভ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানানো হয়। খবর পেয়ে শুভর পরিবারের লোকজন প্রিয়াঙ্কার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, উঠানে তাঁর দেহ শায়িত রয়েছে। কাপড়ের পার দিয়ে তাঁর দুহাত বাঁধা। কোমরের একটু উপরে দড়ি বাঁধা রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। মৃতের বাবা অশোক শীল ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে তার পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে শুভকে খুন করেছে। অভিযোগ পেয়ে পরিকল্পনামাফিক খুনের ধারায় মামলা রুজু করেছে থানা।

মার্চ ১৭, ২০২২
রাজ্য

স্বাস্থ্যসাথীর ‘জালিয়াতি’ নিয়ে বর্ধমানে এবার তদন্তে নামলো স্বাস্থ্য দফতর ও সিআইডি

স্বাস্থ্যসাথীর জালিয়াতি নিয়ে এবার তদন্তে নামল পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দফতর। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার নির্দেশে জালিয়াতির তদন্তের জন্য বুধবার জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ(১) জগন্নাথ মণ্ডলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি এদিন থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের তদন্তের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে জালিয়াতি করার অভিযোগে কাটোয়া গাঁফুলিয়া গ্রাম নিবাসী সালেহার বিবি নামে একজনকে সোমবার দুপুরে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি গ্রেফতার হয়েছে বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে কাজে যুক্ত থাকা সালেহার বিবির জামাই নুরুল হাসান। তাঁরা এখন কাটোয়া থানায় পুলিস হেফাজতে রয়েছেন। ওই নার্সিংহোমের ডিরেক্টর আবির গুহকে পুলিশ থানায় দেখা করার জন্যে নোটিসও দিয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সিআইডির বর্ধমান শাখার একটি দল ওই নার্সিংহোমে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। পুলিশ ওই নার্সিংহোম থেকে পাওয়া ১২৩টি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের প্রতিলিপি স্বাস্থ্য দফতরকে জমা দিয়েছে। সেখানে পুলিশ জানিয়েছে, ৪২ জন রোগীর সন্ধান মিললেও বাকি ৮১টি কার্ডের প্রাপকদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন ,ওই ৮১টি কার্ডের ধরে যাবতীয় তথ্য খুঁজে বের করা হবে। কেন এতগুলি স্বাস্থসাথী কার্ড নার্সিংহোমে ছিল তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা প্রতিটি কার্ডের প্রাপককে ফোন করে তা যাচাই করে দেখতে চাইছেন।এই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধেই অভিযোগজেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার কথায় ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে আগেও স্বাস্থ্যসাথী নিয়েই অভিযোগ উঠেছিল। ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট আইন না মানায় ওই নার্সিংহোমকে বন্ধও করে দিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। সিআইডি জানিয়েছে, এ ব্যাপারে তারা একটি বিশদে রিপোর্ট ভবানী ভবনে পাঠাবে। সেখান থেকে নির্দেশ এলে সিআইডি তদন্তভার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ দিন ওই নার্সিংহোমের ডিরেক্টর আবির গুহ বলেন, তদন্তকারী সব দলের কাছেই সব রকমের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। কয়েক দিন পরেই তো তদন্ত রিপোর্ট বেরিয়ে যাবে।

মার্চ ১৬, ২০২২
রাজ্য

মন্ত্রীর ধমকানির তোয়াক্কা না করে কালনা পুরসভায় চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটাভুটি, তবু হল না বোর্ড গঠন

রাজ্যের মন্ত্রীর সামনেই তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন পুর ভোটে নির্বাচিত তৃণমূলেরই কাউন্সিলাররা। আর তার কারণেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান হতে পারলেন না দলের মনোনিত কাউন্সিলার আনন্দ দত্ত। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ রুখে দাঁড়িয়েও বাগে আনতে পারেননি দলের বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের। ভোটাভুটিতে ১৭ জন কাউন্সিলারের মধ্যে দলের বিক্ষুব্ধ ১২ জন কাউন্সিলার আনন্দ দত্তকে হারিয়ে দিয়ে তপন পোড়েলকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। যদিও পরে কালনার বোর্ড গঠন প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেওয়া হয়।এইসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদে সরাটা দিন উত্তপ্ত হয়ে থাকে কালনা পুরসভা অফিস চত্ত্বর। একইরকম ভাবে এদিন ক্ষোভের আঁচ ছড়ায় বর্ধমান পুরসভাতেও। ক্ষোভে শপথ গ্রহণেই অংশ নিলেন না দলের কাউন্সিলার অরুপ দাস।পুরভোটের পর পুরসভার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হওয়া নিয়ে তৃণমূলের এমন নজিরবিহীন। গোষ্ঠীদ্বন্দ প্রকাশ্যে চলে আসায় উৎফুল্ল বিরোধী শিবির।কালনা পুরসভা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানরাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের নিজের গড় হিসাবেই পরিচিত কালনা পুরসভা। সেখানকার একটা বড় অংশের দলীয় কাউন্সিলার দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় বেজায় চটেছেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। এদিন তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনে যাঁরা দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের সাসপেন্ড করা হবে বলেও স্বপনবাবু এদিন জানিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যের পুর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এদিন কলকাতায় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই ঘটনা নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যে যে পুরসভায় দলের মনোনীত কাউন্সিলারকে চেয়ারম্যান হতে না দিয়ে অন্যকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে সেই সব পুরসভায় অনাস্থা আনা হবে। শেষ পর্যন্ত দল কালনা পুরসভার বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে মঙ্গলবার বর্ধমান ও কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের নাম জানিয়ে দেওয়া হয়। বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান করা হয় পরেশ চন্দ্র সরকারকে। আর ভাইস চেয়ারম্যান করা হয় মৌসুমি দাসকে। অন্যদিকে দল কলনা পুরসভায় আনন্দ দত্তকে চেয়ারম্যান ও তপন পোড়েলকে। ভাইস চেয়ারম্যান মনোনিত করে। এই দুই পুরসভার নব নির্বাচিত কাউন্সিলারদের এদিন ছিল শপথ গ্রহন। কালনা পুরসভার কাউন্সিলারদের জন্য কালনার একটি হলে শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তৃণমূলের ১৭ জন কাউন্সিলার ও একজন বাম কাউন্সিলার সেখানে উপস্থিত হন। তবে শপথ গ্রহণের আগে থেকেই সেখানে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়ায়। এক পক্ষ দলের মনোনিত কাউন্সিলারকে চেয়ারম্যান মনোনীত করার দাবি তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। অপর পক্ষ দলের ঘোষিত চেয়ারম্যানের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়। এই খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌছান রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা কলনা পুরসভা ভেটে দলীয় পর্যবেক্ষক ও বিধায়ক অলোক মাঝি।কালনা পুরসভা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিক্ষোভঅনেক বুঝিয়েও এই দুই তৃণমূল নেতার কেউ-ই বিক্ষুব্ধদের বাগে আনতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হলের বাইরে দলের কর্মীদের নিয়ে ধর্ণায় বসে পড়েন কালনা পুরসভা ভোটের তৃণমূল পর্যবেক্ষ অলোক মাঝি । সময় গড়ানোর সাথে সাথে উত্তেজনা আরও চরমে ওঠে। কালনার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে উত্তেজনা সামাল দেয়। এরই মধ্যে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের সঙ্গে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায় কালনা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলার অনিল বসুর। বাকবিতণ্ডা চলার সময়েই তিনি আবার স্বপন দেবনাথের সামনেই ওই হলের দোতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ মারাতে উদ্যত হন । মন্ত্রীর চরম বিরোধীতা সত্ত্বেও শপথ গ্রহনের পর বিক্ষুব্ধ ১২ জন কাউন্সিলার চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটাভুটির দাবি তোলেন। ভোটা ভুটিতে তাঁরা দলের মনোনিত চেয়ারম্যান আনন্দ দত্তকে হারিয়ে দিয়ে তপন পোড়েলকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।তবে বিক্ষুব্ধদের দলের সিদ্ধান্তকে এই ভাবে চ্যালেঞ্জ ছোড়াটা বরদাস্ত করেননি তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষ তথা মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস এদিন সন্ধ্যায় জানিয়ে দেন, বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া তপন পোড়েলকে কালনা শহর সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। একই সঙ্গে তাঁকে দল থেকেও বহিস্কার করা হল বলে অরুপ বিশ্বাস জানিয়ে দেন।এদিন বর্ধমান পৌরসভার কাউন্সিলারদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও ক্ষোভ বিক্ষোভের আঁচ প্রকাশ্যে চলে আসে। ভেটে জিতে কাউন্সিলার হয়েও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হননি অরুপ বিশ্বাস ও বসির আহমেদ (বাদশা)। একটি ফৌজদারি মামলায় জামিন না পাওয়ার জন্য বসির আহমেদ শপথ নিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তবে বর্ধমান শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা নব নির্বাচিত কাউন্সিলার অরূপ দাস চেয়ারম্যান হতে না পারার ক্ষেভে এদিন শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে হননি বলে খবর। মঙ্গলবারই অরূপ দাস সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েদেন, দলের সিদ্ধান্তে তিনি অপমানিত হয়েছেন। তাই তিনি শহর তৃণমূল সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন। কাউন্সিলার পদ থেকে অব্যাহতি নিতে পারেন। যদিও দলীয় নেতৃত্ব অরুপ দাসের এই সব বক্তব্যকে কোন আমল দিতে চাননি।

মার্চ ১৬, ২০২২
রাজ্য

মিড ডে মিলের চাল ওজনে কম সরবরাহ নিয়ে বিডিওকে অভিযোগ শিক্ষকদের, শোরগোল পূর্ব বর্ধমানে

এতদিন স্কুলের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছিলেন অভিভাবকরা। এবার ঘটলো এর ঠিক উল্টোটাই। প্রাইমারি স্কুলে মিড ডে মিলের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে সোচ্চার হলেন খোদ শিক্ষকরাই। বৃহস্পতিবার এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। মিড ডে মিলের চাল কম দেওয়া নিয়ে এদিন সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ভাতারের বিডিওর কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এমন ঘটনা শেরগোল ফেলে দিয়েছে ভাতারের প্রশাসনিক মহল ও স্কুল পড়ুয়াদের অভিভাবক মহলে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মিড ডে মিলের চাল কম দেওয়া হচ্ছে বলে এদিন অভিযোগ তোলেন ভাতারের বরগুনা ও ভাতার অঞ্চলের বেশকিছু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। বিডিওকে লিখিত অভিযোগে তাঁরা জানিয়েছেন, ভাতার সমবায় সমিতি থেকে প্রাথমিক স্কুল গুলি মিড ডে মিলের চাল আসে। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে চাল থাকার কথা। কিন্তু সরবরাহকারী সংস্থা মিড ডে মিলের চালের যে সব বস্তা স্কুলে দিয়ে গেছে তাতে ৪ থেকে ১০ কেজি কম চাল কম রয়েছে এদিন পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের জন্য চাল দিতে গিয়ে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে বলে শিক্ষকা অভিযোগ করেছেন। তার পরেই তাঁরা মিড ডে মিলের চাল স্কুলে কম দেওয়ার বিষয়টি বিডিওর গোচরে আনার সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরে বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে শিক্ষকরা ঘটনার তদন্ত করে সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আর্জি জানান।ভাতার ব্লকে ৮৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, বেশ কয়েকমাস যাবৎ সরবরাহকারী সংস্থা কম ওজনের মিড ডে মিলের চালের বস্তা স্কুলে স্কুলে সরবরাহ করেছে। প্রথমে বিষয়টি সবাই বুঝে উঠতে পারেন নি। অতিমারির প্রভাব কমে যাওয়ায় স্কুল পুরোপুরি চালু হতেই বস্তায় চাল কম থাকার বিষয়টি সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে পরিস্কার হয়ে যায়। বলগোনা দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জ্বল নন্দী ও প্রতাপ দত্ত বলেন, আমরা চাই ব্লক প্রশাসন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে চাল সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা নিক। নয়তো মিড ডে মিলের চাল কম হওয়ার জন্য অভিভাবকরা শিক্ষকদের ভুল বুঝবেন।বিডিও অরুণ কুমার বিশ্বাস জনিয়েছেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাতার সমবায় সমিতির তরফে কেউ-ই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কোন প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেন।

মার্চ ১৫, ২০২২
রাজ্য

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে নজিরবিহীন জালিয়াতি বর্ধমানে, গ্রেফতার জালিয়াত শাশুড়ি ও জামাই

সাধারণ মানুষ নিখরচায় যাতে চিকিৎসা পরিষেবা পান তার জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা ঘটলো পূর্ব বর্ধমানে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা পরিবারের কারও অসুস্থ হয়ে পড়া বা অস্ত্রপচারের ঘটনা না ঘটলেও তাঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে মোটা টাকা।এমনই জালিয়াতি চক্রের পাণ্ডা সালেহার বিবি ও তাঁর সহযোগী মুন্সি নূর আলমকে সোমবার গ্রেফতার করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে নিয়েই পুলিশ এদিন বিকালে শহর বর্ধমানের খোসবাগানের একটি বেসরকারী নার্সিংহোমে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বেশ কিছু উপভোক্তার নামে থাকা স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড। এই ঘটনা জেলা প্রশাসনিক মহলেও শোরগোল ফেলে দিয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত সালেহার বিবির বাড়ি কাটোয়া ১ ব্লকের আলমপুর পঞ্চায়েতের গাঁফুলিয়া গ্রামে। আপর ধৃত মুন্সি নূর আলম সম্পর্কে সালেহারের জামাই। পুলিশ বর্ধমানের ওই নার্সিংহোম থেকে নূর আলমকে এদিন গ্রেফতার করে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীন) ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, গাঁফুলিয়া গ্রামের বেশ কিছু গরিব পরিবারের মহিলার কাছ থেকে তাঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সালেহার নিজের কাছে নিয়ে রাখেন। পরে সালেহার ও তাঁর সহযোগী মিলে জালিয়াতি করে ওইসব মহিলাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে অনুদানের মোটা টাকা তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। পুলিশ তদন্তে নামার পর অভিযোগের সত্যতা ধরা পড়লে সালেহার বিবিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় এই জালিয়াতি কাণ্ডে জড়িত সালেহারের জামাইকেও। জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন জানিয়েছেন, এটা বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা। এর তথ্য প্রমাণ আসার পর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাঁফুলিয়া গ্রামে থাকা সালেহার বিবির বাড়ি এদিন ঘেরাও করেন এলাকার বেশ কিছু বাসিন্দা । তা নিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। খবর পেয়ে কাটোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। সেখানে থাকা বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে জানায়,গত দেড়মাস ধরে সালেহার বিবি এলাকার মহিলা ও পুরুষের বলে চলেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তাঁকে জমা দিয়ে বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে গিয়ে চেকআপ করালেই মিলবে ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকার লোভে পড়ে গাঁফুলিয়ার বেশকিছু মহিলা তাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সালেহারকে জমা দেন। মেনকা বিবি নামে এক গ্রামবাসী বলেন, সালেহার বিবি বলেছিলেন তাঁর জামাই বর্ধমানের খোসবাগানের একটি নার্সিংহোমে কাজ করে। সেখানে একবার গেলেই হবে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে ১২ হাজার উঠবে। তা থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে যাঁর নামে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তাঁকে।এই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধেই অভিযোগসালেহারের কথা মতো মেনকা বিবি সপ্তাহ দুয়েক আগে বর্ধমানের ওই নার্সিংহোমে যান। পরে মেনকা বিবি জানতে পারেন তার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে ৬১,৬০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে রিজিয়া বিবি নামে এলাকার অপর মহিলা জানতে পারেন তাঁর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে ৭৫,৬০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি মেনকা বিবি ও রিজিয়া স্থানীয় পঞ্চায়েতে গিয়ে জানান। পঞ্চায়েতের এক কর্মী ওই দুই মহিলার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা করে তিনিও নিশ্চিত হন সত্যি সত্যি ওই মহিলাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে মোটা অঙ্কের সরকারি অনুদানের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত কর্মী এমনটা জানিয়ে দেওয়ার পর এদিন এলাকার লোকজন টাকা ফেরতের দাবিতে সালেহার বিবির বাড়িতে চড়াও হন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ১০ হাজার টাকার টোপ দিয়ে সালেহার বিবি ও তাঁর জামাই নূর আলম ৩৫ - ৪০ জনের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতি করেছে।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা বলেন, আমরাও প্রশাসনিক ভাবে এই ঘটনা বিষয়ে তদন্ত করবো। অন্যদিকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) প্রণব রায় বলেন ,ঘটনার কথা শুনেছি। এই বিষয়ে সবিস্তার খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

মার্চ ১৪, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 15
  • 16
  • 17
  • 18
  • 19
  • 20
  • 21
  • ...
  • 33
  • 34
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির শিল্পমহল শিল্পস্থাপনে যথেষ্ট আগ্রহী, দাবি মন্ত্রী তাপস রায়ের

রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল আগ্রহী বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পমহলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং জাপান, মিতসুবিশি-সহ বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা রাজ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর হাব, ডেটা সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একটি শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হারানো শিল্পগৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শিল্পনীতি, ল্যান্ড ব্যাংক, ল্যান্ড পলিসি, ইনসেন্টিভ স্কিম এবং Single Window ব্যবস্থাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন GoM বৈঠকের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি জানান।রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরও কিছু ক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এই প্রসঙ্গে তাপস রায় সরকারের Zero Tolerance নীতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যে কোনও ধরনের বেআইনি তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করবে। অতীতে এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইন অমান্য করে কেউ বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হানা দেয় কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ। ওই অফিসে বসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তিনি ও ডেরেক ওব্রায়েন অফিসে ছিলেন। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
কলকাতা

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে পুরসভার হানা, ভেঙে ফেলা হল তৃণমূলের সাইনবোর্ড! ধস্তাধস্তি, আটক ১২

তৃণমূলের দ্বিতীয় ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কলকাতায়। ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডকে বেআইনি বলে অভিযোগ তুলে সেটি খুলে দিল কলকাতা পুরসভা। অভিযান ঘিরে পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ পুরসভাকে জানায়, অভিষেকের দফতরের মাথায় লাগানো ওই বড় বিলবোর্ডটি নিয়ম মেনে বসানো হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকেরা বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছন।খবর পেয়ে দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-সহ কয়েক জন। পুরসভার আধিকারিকেরা যে নির্দেশের কপি নিয়ে এসেছিলেন, তার বৈধতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর প্রথম দফায় পুরকর্মীরা ফিরে যান।কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দফতরে পৌঁছন পুরসভার আধিকারিকেরা। এ বার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বাহিনী হেলমেট পরে দফতরের ভিতরে ঢোকে। যে অংশে সাইনবোর্ডটি ছিল, সেখানে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মী সিঁড়িতে বসে বা শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ছাদে পৌঁছন পুরকর্মীরা। সেখান থেকেই খুলে ফেলা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডটি। পরে তার ভাঙা অংশ ছাদেই পড়ে থাকতে দেখা যায়।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং রাজ্যের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পুরসভার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।অভিষেক বলেন, তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুমতি না দেওয়া, দলের নেতাদের আক্রমণ করা এবং পার্টি অফিস ও বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ঘাসফুলকে যত কাটা হবে, ততই তা বাড়বে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানের উপরে একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। অথচ শুধুমাত্র তাঁর দফতরের বোর্ডকেই কেন নিশানা করা হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি নির্মাণ ও অন্যান্য অবৈধ বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটছে তৃণমূল। অভিষেকের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করা হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতে তোলার উদ্যোগ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার বিষয়টি মেনশন করার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, এর আগে ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ের একাংশ বেআইনি নির্মাণ-এর অভিযোগে প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তার পর এ বার খোদ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল।ঘটনাস্থলে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি অবশ্য তেমন ছিল না। খবর ছড়ালেও বড় কোনও জমায়েত দেখা যায়নি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটে বাহিনী বাড়িয়ে দেয়। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় বিরোধী শিবিরও পিছিয়ে থাকেনি। অভিষেকের দফতরে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক উচ্চমার্গের চার্টার্ড মাফিয়া। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো সময় তাঁর নেই।সব মিলিয়ে, এক সময় তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ৯, ক্যামাক স্ট্রিট এখন নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাইনবোর্ড অপসারণকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ১২ জনকে আটক এবং আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিসব মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা, উদ্বেগে একাধিক পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন।বুধবার নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা ফুলে ওঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া পর্যটকেরা।কলকাতা থেকে নেপাল, তারপর আর কোনও খোঁজ নেইকলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই বাসিন্দা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দুজনেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন।২১ অগস্ট একটি ৩০ জনের দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন সুস্মিতা। কাঠমান্ডু পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোয়। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ দিকে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ।একই ভাবে ২১ অগস্ট নেপালে যাওয়া রিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূওনিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।সোনারপুরের লোপামুদ্রারও সন্ধান নেইদক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও নিখোঁজ। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, চিন সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।২১ অগস্ট ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল যান লোপামুদ্রা। বুধবার সকালেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।দুর্গাপুরের দুই দম্পতিকে ঘিরে উৎকণ্ঠাপশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও একাধিক পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দেবাশিস দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী এবং সঙ্ঘমিত্রা শিক্ষক।একই সঙ্গে দুর্গাপুরের তপোবন সিটি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতিও নিখোঁজউত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তারকেশ্বরের পর্যটকদের নিয়েও দুশ্চিন্তাহুগলির তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত এবং একই এলাকার ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের।স্নেহাশিসের স্ত্রী সোমা দত্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা অভিবাসন দফতরের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিলিগুড়ির সমরের খোঁজে কাঠমান্ডু পাড়ি দাদারদার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শান্তিনগর-বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলও নিখোঁজ। ১৬ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়।কৈলাস যাত্রার পথে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিপর্যয়ের পর আর কোনও খবর না মেলায় ভাইয়ের খোঁজে তাঁর দাদা ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।৬৮ বছরের অনিতাকে ঘিরেও উৎকণ্ঠাহাওড়ার আন্দুল হাটগাছা এলাকার ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বলে পরিবার জানিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর।মঙ্গলবার সকালে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল অনিতার। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ।প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবারনেপালের বিপর্যয়ের পর একের পর এক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার বিভিন্ন পরিবারে। কেউ শেষ ফোনকলের অপেক্ষায়, কেউ আবার আত্মীয়ের খোঁজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না পরিবারগুলির। উদ্ধারকাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরাকখন আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফোন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্বজনেরা।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩১ অগস্টের পরেও কি থাকবে চাকরি? ২৬ হাজার মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন যোগ্য প্রার্থীরা। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে। ফলে নতুন করে শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের নির্ভুল ভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংকটের কথা মাথায় রেখে যোগ্য শিক্ষকদের সাময়িক ভাবে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে যোগ্য শিক্ষকরা ফের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল।তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি মামলায় যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৬
রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal