• ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩, রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

News

রাজ্য

সুন্দরবনে অনন্য নজির, বাঘের হামলায় নিহত মৎস্যজীবীদের জন্য শহিদ বেদী

সুন্দরবনের জঙ্গল মানেই অনিশ্চয়তার জীবন। প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে নদী আর জঙ্গলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান হাজার হাজার মৎস্যজীবী। কিন্তু প্রতিটি যাত্রাই তাঁদের কাছে জীবন বাজি রাখার সমান। বাঘের হামলায় প্রাণ হারানোর ঘটনা এখানে প্রায় নিত্যদিনের বাস্তবতা। তবু অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবার সরকারি ক্ষতিপূরণ বা প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই নিহত মৎস্যজীবীদের সম্মান জানাতে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাঘের হামলায় প্রাণ হারানো মৎস্যজীবীদের শহিদের মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মৎস্যজীবীদের সংগঠন। তাঁদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দিতেই তৈরি করা হয়েছে সুন্দরবনের প্রথম শহিদ বেদী।সম্প্রতি জঙ্গলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হামলায় প্রাণ হারান মৎস্যজীবী বন্দনা দাস। স্বামী গৌতম দাসের সঙ্গে নৌকায় কাজের ফাঁকে রান্না করছিলেন তিনি। সেই সময় হঠাৎ জঙ্গল থেকে একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে টেনে নিয়ে যায়। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই স্ত্রীকে বাঘের মুখ থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন গৌতম দাস। তিনি বন্দনাকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে ভুবনেশ্বরীতে বন্দনা দাসের বাড়ির পাশেই নদীর ধারে নির্মিত হয়েছে সুন্দরবনের প্রথম শহীদ বেদী। স্থানীয়দের মতে, জীবিকার তাগিদে যাঁরা প্রাণ বিসর্জন দেন, তাঁদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।শুধু বন্দনা দাস নন, ভবিষ্যতে বাঘের হামলায় প্রাণ হারানো সকল মৎস্যজীবীর স্মৃতির প্রতীক হয়ে উঠবে এই শহিদ বেদী। সুন্দরবনের সংগ্রামী মানুষদের জীবনের ঝুঁকি, আত্মত্যাগ এবং সম্মানের দাবিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

আগস্ট ০২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘লিও, দয়া করে থেকো…’ মেসির উদ্দেশে ১৫ বছরের এনজোর আবেগঘন চিঠি ফের ভাইরাল, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

স্পোর্টস ডেস্ক | জনতার কথা২০১৬ সালে লিওনেল মেসিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে আবেগঘন চিঠি লিখেছিলেন কিশোর এনজো ফার্নান্দেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই চিঠি ফের ভাইরাল।২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেই সময় গোটা আর্জেন্টিনার মতোই ভেঙে পড়েছিলেন এক কিশোর ফুটবলারএনজো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজের ফুটবল-আইডল মেসিকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছিলেন। দশ বছর পর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই চিঠিই আবার ভাইরাল হয়েছে।চিঠিতে এনজো লিখেছিলেন, লিও, দয়া করে থেকে যাও। আমাদের ক্ষমা করে দাও। খেলাটা শুধু আনন্দের জন্য খেলো। তুমি আমাদের অসীম আনন্দ দিয়েছ। তোমার মতো কাউকে আর কখনও পাব না। সেই সময় তিনি অনুরোধ করেছিলেন, সমালোচকদের জন্য নয়, বরং কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের জন্য যেন মেসি জাতীয় দলে থেকে যান।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তভাগ্যের কী আশ্চর্য পরিহাস! যে কিশোর একদিন মেসিকে অবসর না নিতে অনুরোধ করেছিল, আজ সেই এনজোই আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মেসির তৈরি করা সুযোগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন এনজো। এখন দুজনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন।মেসি শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্ত বদলেছিলেন। এরপর আর্জেন্টিনা জেতে কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং আরও একাধিক আন্তর্জাতিক সাফল্য। সেই ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন এনজো ফার্নান্দেজও। ফলে ২০১৬ সালের সেই আবেগময় চিঠি এখন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে শুধুই একটি পোস্ট নয়, বরং স্বপ্ন, বিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের প্রতীক।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ফাইনালে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, সামনে এল চমকপ্রদ কারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে রবিবার স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই মহারণে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তবে সবার নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সিদ্ধান্ত।ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না।কুসংস্কারই সিদ্ধান্তের মূল কারণআর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মিলেই বিশ্বাস করেন যে তিনি যেভাবে পুরো বিশ্বকাপ চলাকালীন বুয়েনস আইরেসের সরকারি বাসভবন থেকেই প্রতিটি ম্যাচ দেখেছেন, সেই রীতি ভাঙলে দলের ভাগ্যে প্রভাব পড়তে পারে।তিনি নিজের এই ম্যাচ-ডে রুটিনকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। এমনকি একটি নির্দিষ্ট জ্যাকেটও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরেন, যা তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী আর্জেন্টিনার জন্য শুভ। তাই ফাইনালের মতো ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে সেই অভ্যাস বদলাতে নারাজ তিনি।আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে কাবালাআর্জেন্টিনায় ফুটবলকে ঘিরে কাবালা (Cbala) বা সৌভাগ্যের কুসংস্কার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করেন।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তবিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মিলেইও সেই সংস্কৃতিরই অংশ। তাঁর বিশ্বাস, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলবেন, ততক্ষণ আর্জেন্টিনার সৌভাগ্য অটুট থাকবে।ঐতিহাসিক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বরবিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে লামিনে ইয়ামালদের স্পেন, অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা।বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই মহারণের দিকে। আর সেই সময় দেশের প্রেসিডেন্ট মাঠে না থাকলেও, নিজের লাকি রুটিন বজায় রেখে টেলিভিশনের সামনে থেকেই দলের জন্য শুভকামনা জানাবেন হাভিয়ের মিলেই।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইংল্যান্ডকে হারিয়েই মাঠে যুদ্ধের বার্তা! আর্জেন্টিনার কাণ্ডে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, শাস্তির মুখে মেসির দল?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচ শেষের পর ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে মাঠের এক বিতর্কিত ঘটনাকে ঘিরে। জয়ের আনন্দে আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি ব্যানার হাতে মাঠে উদযাপন করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী মাঠে রাজনৈতিক বার্তা বা ব্যানার প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তাই এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কিছুক্ষণ দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও চলে। সেই সময়ই আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার হাতে মাঠে নামেন। সেখানে লেখা ছিল, মালভিনাস আমাদেরই। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে মালভিনাস নামে ডাকা হয়। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতেও একই স্লোগান ও ব্যানার দেখা গিয়েছিল।ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা বহু বছর ধরে সেটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। এই বিরোধ থেকেই উনিশশো বিরাশিতে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয় এবং দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেনের হাতেই থেকে যায়। সেই যুদ্ধে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি ফুটবল ইতিহাসেও জড়িয়ে রয়েছে। যুদ্ধের কয়েক বছর পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সেই আবেগ এখনও আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে গভীরভাবে রয়ে গেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।তবে এবার মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা সমস্যায় পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী খেলার মাঠে কোনও রাজনৈতিক বা ভূখণ্ড সংক্রান্ত বার্তা প্রকাশ করা যায় না। তাই ফিফা এই ঘটনার তদন্ত করে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসিকে আটকে রেখেও রক্ষা পেল না ইংল্যান্ড! স্কালোনির মাস্টারস্ট্রোকে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলেই ভাঙল স্বপ্ন

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। গোল না করেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি। স্কালোনির আক্রমণাত্মক পরিবর্তন ও টমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলই গড়ে দিল ম্যাচের ভাগ্য।বিশ্বকাপের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, লিওনেল মেসিকে আটকে দিতে পারলেই আর্জেন্টিনাকে থামানো সম্ভবএই ধারণা অনেক দলেরই ছিল। কিন্তু বর্তমান আর্জেন্টিনা সেই ধারণাকে একেবারে ভুল প্রমাণ করে দিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসিকে কার্যত গোলশূন্য রেখেও ২-১ ব্যবধানে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল স্কালোনির দল।এই ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, বরং আর্জেন্টিনার দলগত শক্তি, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং মানসিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।মেসিকে আটকে রাখার পরিকল্পনা সফল, তবুও হার ইংল্যান্ডেরম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল স্পষ্টমেসিকে যতটা সম্ভব খেলার বাইরে রাখা। মাঝমাঠে জায়গা না দিয়ে একাধিক ফুটবলারকে তাঁর উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে গোটা ম্যাচে খুব কমবারই ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সে ঢুকতে পেরেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।তবে মেসি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ডান প্রান্তে সরে গিয়ে আক্রমণের নতুন রাস্তা খুলে দেন। গোল করতে না পারলেও ম্যাচের দুই গোলের সূচনায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মেসি নয়, দলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তিএই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আর্জেন্টিনার মানসিকতায়। আগে দলের প্রায় সব আক্রমণ মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও এখন দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজদের মতো ফুটবলাররা।৮৪ মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরে। সেই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মেসির নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ হেড করে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।খাতায়-কলমে দুটি অ্যাসিস্ট মেসির হলেও গোল দুটির কৃতিত্ব সমানভাবে প্রাপ্য গোলদাতাদের। এই সমষ্টিগত শক্তিই বর্তমান আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।স্কালোনির সাহসী সিদ্ধান্ত বদলে দিল ম্যাচপ্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সংগঠিত ফুটবলে বারবার সমস্যায় পড়ছিল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ।কিন্তু গোল হজম করার পরেও স্কালোনি ভয় পাননি। বরং আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। রক্ষণভাগ থেকে একজন ফুটবলার তুলে অতিরিক্ত স্ট্রাইকার নামিয়ে দেন। ফলে ইংল্যান্ডের বক্সে ক্রমাগত চাপ তৈরি হতে থাকে।স্কালোনির এই সাহসী সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।টুখেলের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক মানসিকতাই কাল হলোইংল্যান্ডের হারের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে কোচ টমাস টুখেলের কৌশলগত ভুল।গোল করার পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি দলকে প্রায় পুরোপুরি নিজেদের অর্ধে নামিয়ে আনেন। অতিরিক্ত ডিফেন্ডার নামিয়ে ৫-৪-১ ফরমেশনে চলে যান। এমনকি হ্যারি কেনকেও রক্ষণ সামলাতে দেখা যায়।এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ডের আক্রমণ পুরোপুরি থেমে যায়। বলের দখল, ম্যাচের গতি এবং আত্মবিশ্বাসসবকিছুই ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনার দিকে চলে যেতে থাকে।আধুনিক ফুটবলে এক গোলের ব্যবধান কখনও নিরাপদ নয়। অথচ দ্বিতীয় গোলের খোঁজে না গিয়ে শুধুমাত্র লিড ধরে রাখার চেষ্টা করেই বড় মূল্য চুকাতে হলো টুখেলকে।ফাইনালের আগে বড় বার্তা দিল আর্জেন্টিনাম্যাচ শেষে সেন্টার সার্কেলে হাঁটু গেড়ে বসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন লিওনেল মেসি। সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে উদযাপনে মেতে ওঠেন। সেই দৃশ্য যেন একটি বার্তাই দেয়এই দল শুধু একজন সুপারস্টারের নয়, বরং ১১ জনের সম্মিলিত লড়াইয়ের প্রতীক।মেসি গোল না করলেও আর্জেন্টিনা জিততে পারেএই বিশ্বাস এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। নকআউট পর্বে একের পর এক ম্যাচে বিভিন্ন ফুটবলার দায়িত্ব নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, বরং প্রতিপক্ষের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তামেসিকে আটকালেই আর্জেন্টিনাকে থামানো যাবে, সেই ধারণার দিন শেষ।

জুলাই ১৬, ২০২৬
দেশ

মোদির সঙ্গে দিলীপ ঘোষের ‘বিশেষ বৈঠক’! আম-সন্দেশ উপহার, ১১ হাজার শূন্যপদ থেকে পঞ্চায়েত উন্নয়ন—কী কী আলোচনা হল?

নিজস্ব প্রতিবেদন: দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। সৌজন্যের নিদর্শন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলার আম ও সন্দেশ। তবে এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং শূন্যপদ পূরণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে বৈঠকে।সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের কাজকে আরও গতিশীল করতে দিলীপ ঘোষকে একাধিক দিকনির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দিলীপ জানান, বর্তমানে তাঁর দপ্তরে প্রায় ১১ হাজার পদ শূন্য। এই বিপুল শূন্যপদের কারণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির উপায় নিয়েও দুজনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের গুজরাটে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দিলীপ ঘোষকে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠনের পরামর্শ দেন। দেশের যেসব রাজ্যে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সফলভাবে কাজ করছে, সেই রাজ্যগুলিতে গিয়ে কাজ পর্যবেক্ষণ, আধুনিক প্রশাসনিক পদ্ধতি শেখা এবং প্রশিক্ষণ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। শুধু তাই নয়, দিলীপ ঘোষকেও ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তব চিত্র দেখে আসার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত প্রশাসনে নতুন কর্মপদ্ধতি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সংযোজন ঘটতে পারে।নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠক, ৫১ হাজার কোটি টাকার প্রসঙ্গদিল্লি সফরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও বৈঠক করেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই এই খাতে পশ্চিমবঙ্গকে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের নিরিখে উত্তরপ্রদেশের পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দেন, উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে অর্থের অভাব যাতে কোনও বাধা না হয়, সেদিকে কেন্দ্র নজর রাখবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।রেলমন্ত্রীর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎদিল্লি সফরের শেষপর্বে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দিলীপ ঘোষ। যদিও ওই বৈঠকের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবুও রাজ্যের পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত।রাজনৈতিক মহলে জল্পনাএকদিনেই প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন খাতে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এই বৈঠকগুলি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই দিল্লি সফর আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকৌশল ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

জুলাই ০১, ২০২৬
রাজ্য

বিকেলে বদলাবে আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর দাপট, উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

খাতায়-কলমে বর্ষা ঢুকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তার প্রভাব এখনও সেভাবে অনুভূত হচ্ছে না দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তবে মঙ্গলবার বিকেলের পর আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে জারি হয়েছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর সম্ভাবনাআবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলের পর দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।আবহাওয়াবিদদের মতে, স্থানীয়ভাবে মেঘ সঞ্চারের ফলে কালবৈশাখী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিকেল গড়াতেই আকাশের চেহারা বদলাতে পারে। ঝড়বৃষ্টির কারণে কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।নদিয়া-মুর্শিদাবাদেও বৃষ্টির পূর্বাভাসশুধু পশ্চিমাঞ্চল নয়, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টি বিচ্ছিন্ন ও স্বল্পস্থায়ী হতে পারে। ফলে বৃষ্টির পর কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় ফের অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হতে পারে।কলকাতার আকাশে কি মিলবে স্বস্তির ছোঁয়া?গত কয়েকদিন ধরে গরম ও গুমোট আবহাওয়ায় নাজেহাল কলকাতাবাসী। মঙ্গলবার শহরের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুরের পর থেকে মেঘের আনাগোনা বাড়তে পারে।হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বিকেল কিংবা সন্ধ্যার দিকে কলকাতার কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। যদিও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবুও এই বৃষ্টি শহরবাসীকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।উত্তরবঙ্গে বর্ষার দাপট অব্যাহতদক্ষিণবঙ্গ যখন বৃষ্টির অপেক্ষায়, তখন উত্তরবঙ্গে বর্ষা কার্যত পূর্ণ শক্তিতে সক্রিয়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়াও জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।ধস ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কাপাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি নদ-নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।এক নজরে আজকের আবহাওয়া* পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও পুরুলিয়ায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা।* ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।* নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বা।* কলকাতায় বিকেল বা সন্ধ্যায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।* দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।* পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা।বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে প্রবেশ করলেও দক্ষিণবঙ্গে এখনও তার পূর্ণ প্রভাব দেখা যায়নি। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে গরমে নাজেহাল মানুষের জন্য স্বস্তির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হচ্ছে।

জুন ১৬, ২০২৬
রাজ্য

হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাস খু.নের ঘটনায় ১৩ জন দোষী সাব্যস্ত, রায় মঙ্গলবার

সামসেরগঞ্জের জাফরাবাদ গ্রামে হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাস খু.ন কাণ্ডে ধৃত ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করলো জঙ্গিপুর আদালত। চলতি বছর তাঁদের নৃশংস ভাবে খুন করা হয়। এই মামলা রায়দান করা হবে মঙ্গলবার। রায়ের দিকে নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিপুর আদালতে এই মামলার শুনানি চলে। ফরেনসিক রিপোর্ট, একাধিক সাক্ষী, পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন আদালতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উঠে আসে। যার ফলে মামলা গুরুত্বপূণ মোড় নেয়। চলতি বছরের ১২ ই এপ্রিল সামসেরগঞ্জের জাফরাবাদ গ্রামে খুন করা হয় হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাসকে। সেই সময় হিংত্মাক আন্দোলন চলছিল ওই মুর্শিদাবাদের এই এলাকায়। দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে জঙ্গিপুর আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ১৩ জনকে। এদিন রায় ঘোষণা ও দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

ডিসেম্বর ২২, ২০২৫
দেশ

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের গুজব ছড়াল সোশ্যাল মিডিয়ায়, এষা দেওলের পাল্টা বার্তা ভাইরাল!

বলিউডে সকাল থেকেই হইচই। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একটাই খবর প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র! কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল সত্য। মৃত্যুর খবর মিথ্যে, এখনও লড়ে যাচ্ছেন হী-ম্যান। মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মেন্দ্রর কন্যা এষা দেওল নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে গুজবের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তিনি লিখেছেন, ভুয়ো খবর ছড়াবেন না। আমার বাবার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। অনুরোধ করছি, আমাদের পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। বাবার দ্রুত আরোগ্য কামনা করুন।জানা গিয়েছে, ৮৯ বছর বয়সি ধর্মেন্দ্রকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত তিনি রয়েছেন আইসিইউতে, রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে। অভিনেতার শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যাওয়াতেই সোমবার রাতে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে তাঁর চিকিৎসার জন্য। বর্তমানে ধর্মেন্দ্র রয়েছেন চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে।অভিনেতার স্ত্রী হেমা মালিনীও সোমবার রাতে এক্স (আগের টুইটার)-এ লেখেন, ধরমজির স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায়। চিকিৎসকেরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। ঈশ্বরের কৃপায় তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন। একই সঙ্গে সানি দেওলের টিমও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল, ভয়ের কিছু নেই।আগামী ডিসেম্বরেই ৯০ বছরে পা দেবেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। বয়স নব্বই ছুঁলেও বলিউডে এখনও সক্রিয় ধর্মেন্দ্র। করণ জোহরের রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি-তে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। জয়া বচ্চন ও শাবানা আজমির সঙ্গে তাঁর রোম্যান্টিক দৃশ্য তখনই প্রমাণ করে দিয়েছিল বয়স শুধু একটা সংখ্যা। সম্প্রতি তাঁর নতুন ছবি ইক্কিস-এর প্রথম ঝলকও প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে দর্শকরা দেখে অবাক হয়েছেন তাঁর উজ্জীবিত উপস্থিতি দেখে।তবে কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন ধর্মেন্দ্র। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল, তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকেরা তাঁর বয়সের কথা মাথায় রেখে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত গণমাধ্যমের সামনে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় রটানো মৃত্যুর গুজব ঘিরে নেটপাড়া সরগরম। ভক্তরা প্রার্থনা করছেন তাঁদের প্রিয় ধরম পাজি-র দ্রুত আরোগ্যের জন্য।

নভেম্বর ১১, ২০২৫
রাজ্য

বারুইপুরে রেসিং বাইকের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু পথচারীর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে রেসিং বাইকের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক পথচারীর। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম জয়ন্ত মন্ডল (৫০)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বারুইপুর থানার অন্তর্গত বিশালক্ষী তলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জয়ন্তবাবু। সেই সময় পিছন দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসে একটি রেসিং বাইক। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে ওই পথচারীকে। প্রবল আঘাতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর বাইকচালক পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা সক্রিয় হয়ে তাঁকে ঘাতক বাইকসহ ধরে ফেলে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে বারুইপুর থানার পুলিশ বাইকচালককে আটক করে। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অকস্মাৎ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা জানান, জয়ন্তবাবু শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। রোজকার মতো বাজার সেরে ফিরছিলেন, তখনই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় প্রায়ই বেপরোয়া বাইক দৌড় চলে। প্রশাসন এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের ঘটনা রোখা সম্ভব হবে বলে দাবি তাঁদের।এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে রাস্তায় রেসিং বাইকের দৌরাত্ম্য নিয়ে। পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারও গাফিলতি ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

সাময়িক বিরতি নিয়ে ফের তেড়ে ফুঁড়ে ফিরছে বর্ষা! আজও পুজোর কেনাকাটা ভেস্তে দেবে বৃষ্টি?

সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা বিরতি নেবে বর্ষা। রবিবার ও সোমবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে কম হবে। তবে ছিটেফোঁটা হালকা বৃষ্টি কিছু এলাকায় হতে পারে। এই সময়ে আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমও বাড়তে পারে। কিন্তু সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে আবারও বৃষ্টির মাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত রয়েছে। আজ কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সর্বত্র বৃষ্টি হবে না। পরিস্থিতি তেমন গুরুতর নয়, তাই সতর্কতা জারির প্রয়োজনও পড়েনি। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে আজ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে হলুদ সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারের কিছু জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিও নেমে আসতে পারে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

মন্দিরবাজারে মাটির দেওয়াল ধসে মা ও দুই মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার থানার কামারপাড়া এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তাঁর দুই মেয়ে। মৃতরা হলেন বৃহস্পতি কর্মকার (৪৩), তাঁর মেয়ে শিলা কর্মকার (১৫) এবং প্রিয়া কর্মকার (১০)। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে, যখন তারা তাদের মাটির বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ভোরবেলা হঠাৎ মাটির দেওয়াল ভেঙে পড়ায় তিনজনই চাপা পড়েন। স্থানীয়রা শব্দ শুনলেও প্রাথমিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সকালে দেওয়াল ধসে পড়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী নাইয়ারহাট হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর মন্দিরবাজার থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরনো মাটির দেওয়ালের দুর্বল গঠনই এই দুর্ঘটনার কারণ। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।এই ঘটনায় মন্দিরবাজারের বিধায়ক জয়দেব হালদার কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনাকে দায়ী করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলা আবাস যোজনার আওতায় ওই পরিবারকে বাড়ি দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তিন বছর আগে তৃতীয় কিস্তির টাকা আটকে না রাখলে বাড়িটি সম্পূর্ণ হতো এবং এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। বিধায়ক আরও বলেন, আমরা পরিবারের পাশে রয়েছি এবং তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাটির বাড়ির দুর্বল অবকাঠামোর কারণে এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। এই ঘটনা সরকারি আবাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, যোজনার টাকা সময়মতো দেওয়া হলে এই পরিবারের জীবন বাঁচানো যেত।মন্দিরবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৫
বিদেশ

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প, বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি! ভূকম্পন ভারতেও

আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে রবিবার গভীর রাতে ৬.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এ তথ্য জানিয়েছে।ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের বাসাউল (Bāsawul) শহরের প্রায় ২২ মাইল উত্তর দিকে এবং এর গভীরতা ছিল ৬.২ মাইল। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে এটি অনুভূত হয়।নানগারহার জনস্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র নাকিবুল্লাহ রহিমি জানান, ভূমিকম্পে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।প্রায় ২০ মিনিট পর একই প্রদেশে আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্রা ছিল ৪.৫ এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রকাশিত মানচিত্রে ভূমিকম্পের অবস্থান দেখানো হয়েছে।আফগানিস্তান ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি প্রায়ই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে ৬.৩ মাত্রার আরেকটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে তালেবান সরকারের হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৪,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হিসাবে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১,৫০০ জনের। এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে আফগানিস্তানের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল।ইউনিসেফ জানিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি নারী ও শিশু।এর আগে ২০২২ সালের জুন মাসে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, যাতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং দেড় হাজারের বেশি আহত হয়।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৫
রাজ্য

'দাগি' তালিকায় TMC কাউন্সিলরের নাম, হাইকোর্টে ফের মামলা করার হুঁশিয়ারি

অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ হতেই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর নাম। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষের নামও উঠে এসেছে দাগি তালিকায়। শনিবার প্রকাশিত তালিকায় ১,৮০৪ জনের মধ্যে রয়েছেন তিনিও। তালিকায় নিজের নাম দেখে ক্ষুব্ধ কুহেলি জানিয়েছেন, তিনি আগামী সোমবার ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।কুহেলি ঘোষ বলেন, আমি আগেই মামলা করেছিলাম। সিবিআই-কে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিলাম। আদালতে জানিয়েছিলাম, আমাকে যে কোনও তদন্তকারী সংস্থা ডাকুক। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে ডাকেনি। হঠাৎ করেই জানতে পারলাম তালিকা প্রকাশ হচ্ছে, আর সেখানে আমার নাম রয়েছে। কেন আমার নাম এসেছে, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়।তালিকার ৬৪৭ নম্বরে রয়েছে কুহেলির নাম। প্রথমে তিনি প্রাথমিক শিক্ষিকার পদে নিযুক্ত ছিলেন। পরে হাইস্কুলে শিক্ষিকার চাকরিও পান। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পুরনো প্রাইমারির চাকরিতে ফেরার জন্য সব নথি জমা দিলেও এখনও সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি। পরীক্ষা দিয়ে নিয়ম মেনে তিনি চাকরি পেয়েছেন বলেই দাবি করেছেন কুহেলি ঘোষ।শুধু কুহেলি ঘোষই নন, ওই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন একাধিক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নামও। তালিকার ৩১৬ নম্বরে রয়েছেন হুগলির খানাকুলের দাপুটে তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য বিভাস মালিক। তিনি তারকেশ্বরের একটি বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ১,৩৩২ নম্বরে রয়েছে তাঁর স্ত্রী সন্তোষি মালিকের নামও। তালিকায় আরও রয়েছে জেলা পরিষদের সদস্যা সাহিনা সুলতানার নাম।

আগস্ট ৩১, ২০২৫
রাজ্য

আজ ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস একাধিক জেলায়, আবহাওয়ার উন্নতি কবে থেকে?

মৌসুমী অক্ষরেখা আপাতত বাংলা থেকে সরে গিয়ে ওড়িশার উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প প্রবাহিত হচ্ছে পূবালী হাওয়ায়। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মৌসুমী অক্ষরেখা আবার বাংলার কাছাকাছি ফিরে আসতে পারে। বিশেষত মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস:রবিবার ও সোমবার আংশিক মেঘলা আকাশের পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা।দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।রবিবার ও সোমবার বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম হলেও জলীয় বাষ্পের কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অব্যাহত থাকবে।মঙ্গলবার মৌসুমী অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের কাছে এগিয়ে আসবে, ফলে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে।উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস:আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে রবিবার বিক্ষিপ্তভাবে দুএক জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ কমতে শুরু করবে।কলকাতার আবহাওয়াশহরে সকাল থেকেই আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তি আরও বাড়বে।আকাশ বেশিরভাগ সময় পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা, তবে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে।রবিবার হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে।সোমবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও হ্রাস পেলেও বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা বেশি থাকায় বৃষ্টি না হলে অস্বস্তি বাড়বে। মঙ্গলবার বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পরিমাণ ফের বাড়বে বলে পূর্বাভাস। সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কিছুটা কম হলেও মঙ্গলবার থেকে আবার বাড়তে পারে। আর উত্তরবঙ্গে রবিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সোমবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তির দিকে যাবে আবহাওয়া।

আগস্ট ৩১, ২০২৫
রাজ্য

শোভন–রত্নার ডিভোর্স মামলা খারিজ, কী জানাল আদালত?

কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ও রাজনীতিবিদ শোভন চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক দায়ের করা বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) মামলা খারিজ হয়েছে আলিপুর আদালতে। পাশাপাশি, স্ত্রীর (রত্না চট্টোপাধ্যায়) একসঙ্গে থাকার আবেদনটিও বাতিল করা হয়েছে। আইনি বিবাহবিচ্ছেদ না হলে, দাম্পত্যে আইনি বিচ্ছিন্ন অবস্থাই গণ্য হবে।২০১৭ সাল থেকে মামলাটি চলছে, দীর্ঘ আট বছর পর আদালতের এই রায় এসেছে।শোভন চট্টোপাধ্যায় তার আবেদনপত্রে রত্নার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিলেনযেমন: সন্তানদের দেখাশোনা না করা, অর্থ/সম্পত্তি তছনছ করা, মানহানির অভিযোগকিন্তু এসব প্রমাণ করতে পারেননি আদালতে। তাই রায় ফিরে গেছে।অন্যদিকে, রত্নার একসঙ্গে থাকার দাবি বা আবেদনের ক্ষেত্রেও আদালত সাড়া দেয়নি।ফলে সে দাবি খারিজ হয়েছে। আলিপুর আদালতের বিচারক স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে শোভনের অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণ যোগ্য নয়; তাই ডিভোর্স দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে, সেপারেট থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেনআইনে বিবাহিত আবারও একসাথে থাকার নির্দেশ নেই। একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছেডিভোর্সের আবেদনে যে যুক্তিগুলো দাখিল করা হয়েছিল, তাতে আদালত সন্তোষজনক প্রমাণ না পাওয়ায় শোভন এবং রত্নার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার রায় দিয়েছেন।

আগস্ট ২৯, ২০২৫
রাজ্য

'২৬-এর নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম থেকেই লড়বেন মমতা? BJP নেতার দাবি জোর চর্চায়!

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট। নন্দীগ্রামের রাজনীতি আবারও সরগরম। গতবছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর কঠিন লড়াইয়ে নন্দীগ্রাম হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দান। যদিও এবার ভোটে কিছুই নিশ্চিত নয়, কিন্তু সময় পেরোতেই মঞ্চ সাজাতে শুরু করেছেন দুই পক্ষের অনুগামীরা।গত নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভিযোগলোডশেডিং করে ভোট কারচুপিএখনও বিচারাধীন। সেই মামলার ফলাফল না এলেও, নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি আগেই শুরু হয়েছে। প্রশ্ন জাগেকি এবারও মমতা নন্দীগ্রাম থেকেই নামবেন?তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কৌশলের বাইরেতমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল দাবি করেছেন, ২০২৬-তেও মমতা নন্দীগ্রাম থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেই সঙ্গে তিনি BJPর জয়ী হওয়ার চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছেন।বিপরীতে, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের TMC সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ দাবি করেছেন, দলের মনোনয়ন বিষয়ে শুধু দলই জানে। তবে তিনি নিশ্চিতশুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রাম থেকে আসন ছাড়বেন। তার যুক্তি, শুভেন্দুর নিজের বুথ তালিতায় তৃণমূল জিতেছে, লোকসভা ক্ষেত্রেও তিনি তৃণমূলকে ৪১২ ভোটে এগিয়ে রেখেছেন, আর পঞ্চায়েত সমিতিতেও প্রায় ২৫০০ ভোটের লিড দিয়েছেনএসব তথ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন, শুভেন্দুর এখন নন্দীগ্রামে যা শক্তি সেটা তৃণমূলের পক্ষেই যাবে।

আগস্ট ২৯, ২০২৫
রাজ্য

RG Kar কাণ্ডে তৃণমূলের দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অভয়ার বাবার! উত্তাল রাজ্য

আরজি কর কাণ্ডে ফের নয়া মোড়! তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ নির্যাতিতার পরিবারের। টাকা দিয়ে রফা করতে চেয়েছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ!আরজি কর কাণ্ডে ফের নয়া মোড়! তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ নির্যাতিতার পরিবারের। টাকা দিয়ে রফা করতে চেয়েছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ! আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণীর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করতেই কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে পালটা বোমা ফাটালেন নির্যাতিতার পরিবার।কী অভিযোগ নির্যাতিতার বাবার? সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বলেন, আমাদের সঙ্গে উনি টাকা দিয়ে ব্যাপারটা মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাড়িতে আসেননি, তবে বলেছিলেন আপনাদের এত টাকা দিচ্ছি, ব্যাপারটা মিটিয়ে নিন। পাশাপাশি বেশ কিছু হোয়্যাটসঅ্যাপ চ্যাটও সাংবাদিকদের দেখান নির্যাতিতার বাবা। তিলোত্তমার মা-বাবা আরও অভিযোগ করেন, মাঝেমধ্যেই কুণাল ঘোষ তাঁদের ফোন ও মেসেজ করতেন। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কুণাল ঘোষও। তাঁর কথায়, তিলোত্তমার বাবা বলছেন আমি নাকি ফোন করে রফার চেষ্টা করতাম! এতদিন পর এসব বলছেন? কত বড় মিথ্যা বলছেন ভেবে দেখুন। আমি অনুরোধ করছি, কোর্টে গিয়ে মাননীয় বিচারকের কাছে সব প্রমাণ দিন। সাংবাদিকদেরও প্রিন্ট আউট দিয়ে দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবটা দিয়ে দিন। সবাই দেখুক কুণাল ঘোষ কী লিখেছিলেন। অকারণে রহস্য বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না।কোনও ভাবেই মেয়ের ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনার যে অঙ্গীকার তা থেকে আমাদের পিছু হটানো যাবে না। তৃণমূল সরকার বারে বারে যাতে ন্যায় বিচার না পাই তার চেষ্টা করেছে। এবার এক সন্তানহারা বাবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তৃণমূলেরই মুখপাত্র। তবে মেয়ের ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনবই। কোনও শক্তি সেই ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনার লড়াই থেকে আমাদের বিরত করতে পারবে না। কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে লড়াই হবে আইনি পথেই। এভাবেই বছর পেরোলেও মনোবল অটূট রেখে লড়াই জারির বার্তা দিলেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের বাবা।আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের। বুধবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে নির্যাতিতার বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই সংবাদমাধ্যমের সামনে আরজি করের নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ ছিল, CBI টাকা নিয়ে তদন্ত চেপে দিয়েছে। সিবিআইকে টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। কুণাল ঘোষ সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে বিষয়টা দেখাশোনা করেছেন। আরজি করের নির্যাতিতার বাবার এই মারাত্মক অভিযোগের ব্যাপারে আগেই কুণাল ঘোষ তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন তিনি।এর আগে গত সপ্তাহে নিহত চিকিৎসকের বাবাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, নিহত চিকিৎসকের বাবার প্রতি ম্পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে, তবে ইচ্ছেমতো বা অন্য কারও প্ররোচনায় মিথ্যে অভিযোগ করা যায় না। পাশাপাশি কুণাল ঘোষ সতর্ক করে বলেন,ক্ষমা না চাইলে আদালতে প্রমাণ হাজির করতে হবে। নোটিশ পাওয়ার পর চার দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র।কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি মিথ্যে ও নাটকের সব সীমা অতিক্রম করেছেন। আমি বুঝি, মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণায় থাকা এক বাবার বেদনা কতটা গভীর। কিন্তু তাই বলে ভিত্তিহীন অভিযোগ করলে প্রশ্ন উঠবেই। কার নির্দেশে বা কোন তথ্যের ভিত্তিতে এমন কথা বললেন? উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ডিউটিতে থাকা ৩১ বছর বয়সি এক চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। ঘটনায় এক সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরে সিবিআই তদন্তেও দোষী হিসাবে উঠে আসে সঞ্জয়ের নামই। শিয়ালদা আদালতে সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয়।নিহত চিকিৎসকের বাবা সিবিআই তদন্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সিবিআই শুধু কলকাতা পুলিশের সেই পুরনো তত্ত্বকেই প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। আমরা শুরু থেকেই ভিন্ন দাবি জানালেও সিবিআই আমাদের বক্তব্য উপেক্ষা করেছে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার সিবিআইকে ঘুষ দিয়েছে এবং কুণাল ঘোষই এই সমঝোতা করিয়েছেন।

আগস্ট ২১, ২০২৫
রাজ্য

জমি দখলের চেষ্টা তৃণমূল বিধায়ক ঘনিষ্ঠের, জোট বেঁধে তাড়ালেন মহিলারা

আবারও তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল করার অভিযোগ। এবার ঘটনাস্থল নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার খেয়াদাহ এক গ্রাম পঞ্চায়েতের হরপুর এলাকার।অভিযোগ, সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক ফিরদৌসী বেগমের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা সঞ্জীব হালদারের বিরুদ্ধে। হরপুর এলাকায় জোর করে সরকারি ওয়েটল্যাণ্ড দখল করার অভিযোগ।পাট্টাভুক্ত দখলকারি জমি দখল করে রেস্টুরেন্টে বানানোর চেষ্টা করলে এলাকার মহিলারা সেখানে উপস্থিত হয়ে সেগুলি ভেঙে দেয়। এমনকি তৃণমূল নেতার সাগরেদদের সেখানে তাড়িয়ে দেয়। সেই ভিডিও সোস্যাল মিডিয়াতে ভাইরালও হয়েছে।শুধুমাত্র হরপুর নয় খেয়াদাহ এক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন জায়গায় এভাবেই সরকারি জমি দখল করে ওয়েটল্যাণ্ডে কংক্রিটের নির্মাণ চলছে। যা দেখে না দেখার ভান প্রশাসনের।চাষীরা নিজেদের জমি ফিরে পেতে চায়! তবে আদৌ কি তাঁরা জমি ফিরে পাবেন নাকি কোন এক অজ্ঞাত কারণে আবারও চলবে এই জমি দখল! বলবে সময়।

আগস্ট ১৬, ২০২৫
ব্যবসা

এই ব্যাংকে আপনার অ্যাকাউন্ট আছে? বদলে গেছে নিয়ম, না জানলে মুশকিলে পড়বেন

স্বাধীনতা দিবস থেকে দেশের এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে একটি পরিষেবায় বেশ কিছু বদল আনা হয়েছে। গতকাল অর্থাৎ থেকে সেই নিয়ম পাল্টে গেছে।স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বদল আনা হয়েছে। আপনি যদি SBI- এর গ্রাহক হন তবে এই খবর জেনে নেওযয়া অত্যন্ত জরুরি।গতকাল অর্থাৎ ১৫ আগস্ট থেকে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ইমিডিয়েট পেমেন্ট সার্ভিস বা IMPS-এ বদল এনেছে। খুচরো গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই এই নিয়ম পাল্টেছে। তবে আপনি যদি স্টেট ব্যাংকের কর্পোরেট গ্রাহক হন তবে এই নিয়ম আপনার জন্য বলবৎ হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে। অনলাইনে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য আই এম পি এস পরিষেবা ব্যবহার করে থাকেন গ্রাহকরা। এক্ষেত্রে নতুন নিয়মে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আপনাকে কোন চার্জ দিতে হবে না। তবে ২৫০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ২ টাকা চার্জ দিতে হবে। ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে দিতে হবে ৬ টাকা। ২ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে দিতে হবে ১০ টাকা। এই ফি-র সঙ্গেই যুক্ত হবে জিএসটির খরচ। এস বি আই-এর কোন শাখা থেকে টাকা পাঠাতে চাইলে ১০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কোন চার্জ লাগবে না। তবে ১ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে দিতে হবে ২ টাকা। তেমনি ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লেনদেনে দিতে হবে ৪ টাকা। ২৫০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে দিতে হবে ৬ টাকা। তেমনি ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ১২ টাকা, দুই থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ২০ টাকা দিতে হবে। এর সঙ্গেই ফের যুক্ত হবে GST- এর খরচ।

আগস্ট ১৬, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

গল টেস্টে ভয়াবহ মুহূর্ত! রাহুলের শটে হেলমেটে বল, হাসপাতালে শ্রীলঙ্কার ওপেনার

ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই গলে তৈরি হল উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কেএল রাহুলের জোরালো সুইপ শটের বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করল শ্রীলঙ্কার ওপেনার নিশান মধুশকার হেলমেটে। শর্ট লেগে ফিল্ডিং করার সময় এই আঘাত পান তিনি। ঘটনার পর দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও। কনকাশন পরীক্ষা করার পর মধুশকাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে। প্রভাত জয়াসূর্যের করা ওভারের পঞ্চম বলটি রাহুল সুইপ করেন। বলটি ব্যাটের মাঝখান থেকে প্রচণ্ড গতিতে শর্ট লেগ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধুশকা বিপদ বুঝে দ্রুত মাথা নিচু করার চেষ্টা করলেও বলের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি তাঁর হেলমেটের মাঝামাঝি অংশে সজোরে আঘাত করে।আঘাতের পর বলটি ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। ফলে রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের ব্যাটাররা রান সম্পূর্ণ করেন। রাহুল অবশ্য প্রথমে রান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু করে দেওয়ায় রানটি সম্পূর্ণ করতে হয়। রান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুশকার দিকে ছুটে যান রাহুল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এরপর দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও এবং চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মধুশকার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তাঁকে আর মাঠে রাখা হয়নি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর চোটের প্রকৃতি বা গুরুতরতা এবং তিনি পরবর্তীতে এই টেস্টে ব্যাট করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মধুশকার চোটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় সরাসরি বল লাগার ঘটনায় ক্রিকেটে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুলের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় দল। প্রথম উইকেটে দুজনে ৬৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন।তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে ছন্দপতন ঘটে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সওয়াল। ৩৭ বলে ৩২ রানের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রাহুল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দুজনেই ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাড়িক্কল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করার পাশাপাশি রাহুলও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলে প্রথম সেশনেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।লাঞ্চের সময় ২৭ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০১ রান। একদিকে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট, অন্যদিকে মধুশকার চোটপ্রথম দিনের প্রথম সেশন তাই দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন ছবি তুলে ধরল। এখন সকলের নজর নিশান মধুশকার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাতঙ্গিনীর রক্তাক্ত পতাকা, বাঙালির হৃদয়ে অমর এই পাঁচ স্বাধীনতা সংগ্রামী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবীকে, তেমনই তাম্রলিপ্তের মাটিতে উঠে এসেছে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা স্বাধীনতার লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে উঠে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। ১১ আগস্ট ১৯০৮ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর নির্ভীকতা ও হাসিমুখ বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবলিদান বাংলার নারীশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুশীল ধারা-র। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের যুদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিদ্যুৎ বাহিনী, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রথম সর্বাধিনায়ক। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত এই সমান্তরাল সরকার তমলুক ও কাঁথি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকারের কার্যক্রম ছিল উল্লেখযোগ্য।এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান থেকে মাতঙ্গিনীর পতাকা হাতে মৃত্যুবরণ, আর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সংগঠিত প্রতিরোধ, এই সমস্ত অধ্যায় প্রমাণ করে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন বিপ্লবীর কাহিনি নয়। এটি ছিল অসংখ্য মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

নির্মলকে ঘিরে থানা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা, ডিম-জুতোর মালা! অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী উঠে এল?

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্মলকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে এবং গান বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়।বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক জন নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় এবং লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে।অন্যদিকে, শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ওই রাতের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছেন।গত ৯ অগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুদিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তাঁর সন্ধান পায় রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শ্মশানঘাটে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

বেরনোর সুযোগও পেলেন না! চামোলির সুড়ঙ্গে আচমকা জলস্রোত, মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আটকে আরও ২

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা তীব্র জলস্রোত ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও দুই শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চামোলির পিপলকোটির মায়াপুরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শিফট বদলের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জল ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতেই বেশ কয়েক জন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনার উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।আহত শ্রমিকদের স্থানীয় গোপেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকারী দল আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলস্তর কমিয়ে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী ভাবে এত বিপুল জল সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal