• ১১ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Match

খেলার দুনিয়া

‌IPL : কোহলি রান পেলেও হেরে গভীর সঙ্কটে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স

প্লে অফে যাওয়ার জন্য চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে জেতা জরুরি ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরের। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ধোনিদের কাছে ৬ উইকেটে হেরে গভীর সঙ্কটে বিরাট কোহলিরা। যদিও ম্যাচের শুরুটা দেখে মনে হয়নি কোহলিদের এই পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। ভাল শুরু করেও হারতে হল।শারজায় মাঝে মাঝেই মরু ঝড় দেখা যায়। শুক্রবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর ও চেন্নাই সুপার কিংস ম্যাচের আগে তেমনই মরু ঝড়। চারিদিক ধুসর। মরু ঝড়ের জন্য নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা পর টস। খেলা শুরু হয় ১৫ মিনিট দেরিতে। টসে জিতে চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত। এদিন পাহাড় প্রমাণ চাপ নিয়ে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রত্যাশা করেছিলেন, মরু ঝড়ের মতোই ঝড় উঠবে কোহলির ব্যাটিংয়ে। রান পেলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ক্যাপ্টেন। দলকে বড় রানের জন্য শক্ত ভিতও গড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাকিরা কাজে লাগাতে পারেননি।এদিন ভাল শুরু করেছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের দুই ওপেনার বিরাট কোহলি ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বিনা উইকেটে তোলে ৫৫। ১০ ওভারে ওঠে ৯২। ১০০ রানে পৌঁছয় ১১.১ ওভারে। ১৩.২ ওভারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের ওপেনিং জুটি ভাঙেন ডোয়েন ব্র্যাভো। তুলে নেন বিরাট কোহলিকে। ৬টি ৪ ও ১টি ৬এর সাহায্যে ৪১ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। কোহলির আগে ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। ১৬ ওভারের শেষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের রান ছিল ১ উইকেটে ১৩১। ১৭তম ওভারে দুটি উইকেট তুলে নেন শার্দুল ঠাকুর। পঞ্চম বলে আউট করেন এবি ডিভিলিয়ার্সকে। রায়নার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১১ বলে ১২ রান করেন তিনি। পরের বলেই আউট হন দেবদত্ত পাড়িক্কল। পাঁচটি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে ৫০ বলে ৭০ রান করে আউট হন তিনি। পাড়িক্কল আউট হওয়ার পর পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন টিম ডেভিড। সিঙ্গাপুরের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এদিন আইপিএল অভিষেক হল তাঁর। যদিও অভিষেকে নজর কাড়তে ব্যর্থ ডেভিড। ৩ বলে ১ রান করে দীপক চাহারের শিকার হলেন তিনি। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ডোয়েইন ব্র্যাভোর বলে জাদেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৯ বলে ১১ রান করেন তিনি। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৬ রানের বেশি এগোতে পারেনি বিরাট কোহলির দল। ডোয়েন ব্র্যাভো ৪ ওভারে ২৪ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট নেন। শার্দুল ঠাকুর চার ওভারে ২৯ রানের বিনিময়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন। দীপক চাহার একটি উইকেট দখল করেন।জয়ের জন্য ১৫৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিলেন চেন্নাইয়ের দুই ওপেনার রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও ফাফ ডুপ্লেসি। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৭১। রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ২৬ বলে ৩৮ করেন রুতুরাজ। পরের ওভারেই ডুপ্লেসিকে (২৬ বলে ৩১) তুলে নেন ম্যাক্সওয়েল। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান মঈন আলি ও অম্বাতি রায়ডু। মঈন ২৩ ও রায়ডু ৩২ রান করে আউট হন। চেন্নাইকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ধোনি (অপরাজিত ১১) ও সুরেশ রায়না (অপরাজিত ১৭)। ১৮.১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৭ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় চেন্নাই।

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌আবার জয়, দ্বিতীয় পর্বে অনেক বেশি ঝকঝকে লাগছে নাইট রাইডার্সকে

আইপিএলের প্রথম পর্বের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের কলকাতা নাইট রাইডার্সের আকাশপাতাল পার্থক্য। প্রথম পর্বে রীতিমতো ধুঁকছিল। একসময় মনে হচ্ছিল প্লে অফে ওঠাই কঠিন হয়ে যাবে নাইট রাইডার্সের। দ্বিতীয় পর্বে ছবিটা বদলে গেছে। অনেক ঝকঝকে লাগছে নাইটদের। আগের ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরকে হারানোর পর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে আবার জয়। রোহিত শর্মার দলকে মর্গানরা হারিয়েছে ৭ উইকেটে। জয়ের নায়ক সেই ভেঙ্কটেশ আয়ার। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ২০১৫ সাল থেকে শেষ ১৩টি সাক্ষাতে মুম্বইয়ের কাছে ১২টি ম্যাচেই হারতে হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। গত বছর আবু ধাবিতে হারতে হয়েছিল দুটি ম্যাচেই। ফলে নিঃসন্দেহে এদিনের জন্য তৃপ্তিদায়ক নাইটদের কাছে। রোহিত শর্মা ও কুইন্টন ডি ককের ওপেনিং জুটির সৌজন্যে ভাল শুরু করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আগের ম্যাচে ফিটনেসজনিত কারণে রোহিত শর্মা খেলেননি। এদিন আনমোলপ্রীত সিংয়ের জায়গায় তিনি ফের জুটি বাঁধেন ডি ককের সঙ্গে। রোহিতের ব্যাটিং টি ২০ বিশ্বকাপের আগে ভারতকে স্বস্তিতে রাখলেও সূর্যকুমার যাদব চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৩ করার পর এদিন ১০ বলে ৫ রানে আউট হলেন। পাওয়ারপ্লেতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দুই ওপেনার তোলেন ৫৬ রান। ৯.২ ওভারে ৭৮ রানে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ওপেনিং জুটি ভাঙেন সুনীল নারিন। চারটি চারের সাহায্যে ৩০ বলে ৩৩ রান করে আউট হন রোহিত শর্মা। কুইন্টন ডিকক করেন ৫৫। তিনি প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে আউট হন। ঈশান কিষাণ করেন ১৪। ১৫ বলে ২১ রান করে আউট হন কিয়েরণ পোলার্ড। ২০ ওভারে মুম্বই তোলে ১৫৫/৬। নাইট রাইডার্সের ফার্গুসন ২৭ রানে ২, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ৪৩ রানে ২ উইকেট নেন। জয়ের জন্য ১৫৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১০ ওভারে ১ উইকেটে ১১১ রান তুলে ফেলে কেকেআর। শুভমান গিল ১৩ রানে আউট হওয়ার পর কেকেআরের স্কোর ছিল ৩ ওভারে ১ উইকেটে ৪০। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৮৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও রাহুল ত্রিপাঠি। ১১.৪ ওভারে দলের ১২৮ রানের মাথায় ৩০ বলে ৫৩ করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আইয়ার। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৬.৬৬, চারটি চার ও তিনটি ছয় মারেন তিনি। শুরু থেকেই ছিলেন মারমুখী মেজাজে। রাহুল ত্রিপাঠির ইনিংসে রয়েছে আটটি চার ও তিনটি ছয়। রাহুলের এদিনের স্ট্রাইক রেট ১৭৬.১৯। ৯ ম্যাচে তাঁর মোট রান ২৬১, গড় ৩৭.২৮, স্ট্রাইক রেট ১৪৫। ২৯ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জেতে কেকেআর। ৪ ওভারে ৪৩ রানে তিনটি উইকেটই পেয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ। ৯ ম্যাচে কেকেআরের পয়েন্ট ৮, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সেরও আট। কিন্তু রোহিতের দল নেট রান রেটের কারণে চলে গেল ছয়ে।

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

I‌PL : সানরাইজার্সকে উড়িয়ে শীর্ষে উঠে এল দিল্লি ক্যাপিটালস

আইপিএলে চলছে সাপলুডোর খেলা। এই খেলায় কখনও এগিয়ে যাচ্ছে চেন্নাই সুপার কিংস। কখনও আবার দিল্লি ক্যাপিটালস। আগের ম্যাচ জিতে যেমন শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল চেন্নাই। বুধবার সানরাইজার্স হায়দরবাদকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে আবার শীর্ষে উঠে এল দিল্লি ক্যাপিটালস। টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতার মাশুল গুনতে হল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। আইপিএলের দ্বিতীয় পর্ব অনেক ক্রিকেটারের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার। টি২০ বিশ্বকাপে সুযোগ পাননি শিখর ধাওয়ান। নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত ভুল, প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর কাছে। তেমনি আবার নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ ছিল ঋদ্ধিমান সাহার কাছেও। নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ ঋদ্ধি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কিংবা আইপিএল, সবসময় অন্যের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকতে হয়েছে ঋদ্ধিমানকে। ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের দ্বিতীয় পর্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বেয়ারস্টো। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে ঋদ্ধি। বড় সুযোগ ছিল নিজেকে প্রমাণ করার। জ্বলে উঠতে ব্যর্থ ঋদ্ধি (১৭ বলে ১৮)। কাগিসো রাবাডার ১৪৩ কিমি গতিতে ধেয়ে আসা বাউন্সার পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে শিখর ধাওয়ানের হাতে। ঋদ্ধিমান সাহার মতো দিনটা সানরাইজার্সেরও ছিল না। গোটা দলেরই ব্যাটিং বিপর্যয়। প্রথম ওভারেই ডেভিড ওয়ার্নারকে (০) দিয়ে শুরু। তাঁকে তুলে নেন আনরচ নর্টিয়ে। অধিনায়ক উইলিয়ামসন (১৮), মণীশ পাণ্ডে (১৭), কেদার যাদবরাও (৩) ব্যর্থ। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই জোরে বোলার নর্টিয়ে, রাবাডা শুরুতেই ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন সানরাইজার্সের। অক্ষর প্যাটেলও দারুণ বোলিং করেন। আব্দুল সামাদ (২৮), হোল্ডার (১০), রশিদ খানদের (২২) সৌজন্যে ১৩৪/৯ রানে পৌঁছয় সানরাইজার্স। দিল্লির যা ব্যাটিং শক্তি, জয়ের জন্য এই টার্গেট একেবারেই কঠিন ছিল না। তার ওপর দারুণ ছন্দে রয়েছেন শিখর ধাওয়ান (৪২)। চোট কাটিয়ে দ্বিতীয় পর্বে ফিরে শ্রেয়স আয়ারও (অপরাজিত ৪৭) নিজেকে দুর্দান্তভাবে মেলে ধরলেন। ঋষভ পন্থও (অপরাজিত ৩৫) ছন্দ ধরে রেখেছেন। ফলে জিততে অসুবিধা হয়নি দিল্লির। ১৭.৫ ওভারে ১৩৯/২ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় দিল্লি। চলতি আইপিএলে কেন তারা সবথেকে ভারসাম্যপূর্ণ দল, বুঝিয়েই চলেছে দিল্লি ক্যাপিটালস।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌‌KKR vs RCB Match : মাইলস্টোনের ম্যাচে ব্যর্থ কোহলি, দ্বিতীয় পর্বে দারুণ শুরু কলকাতা নাইট রাইডার্সের

চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য জাতীয় দলের টি২০ ও আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরাট কোহলি। এটাই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে নেতা হিসেবে শেষ মরশুম। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কতটা হালকা হয়েছেন বিরাট কোহলি? আইপিএলের মাইলস্টোনের ম্যাচেও ব্যর্থ। ব্যর্থ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরও। কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে ৯ উইকেটে হেরে প্লে অফের ছাড়পত্র নিয়ে সঙ্কটে কোহলিরা। সোমবার আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন কোহলি। এদিন এলিট ক্লাবে প্রবেশ করলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ক্যাপ্টেন। পৌঁছে গেলেন ২০০ ম্যাচের মাইলস্টোনে। একই দলের হয়ে আইপিএলে এত ম্যাচ খেলার রেকর্ড অন্য কোনও ক্রিকেটারের নেই। মাইলস্টোনের ম্যাচে ভক্তদের হতাশ করলেন কোহলি। ৪ বলে ৫ রান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে এলবিডব্লুউ। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি।তখন থেকেই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছিল প্রতিপক্ষ কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের ভবিষ্যত নিয়ে। দলের সেরা বোলার না থাকা সত্ত্বেও চাপে পড়েনি নাইটরা। প্যাট কামিন্স এবারের আইপিএল থেকে সরে যাওয়ায় প্রথম একাদশে লকি ফার্গুসন সুযোগ পেয়ে যান। তাঁকে খেলানোটা সঠিক সিদ্ধান্ত। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের সবথেকে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান দেবদত্ত পাড়িক্কলকে (২২) দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তুলে নেন। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকেই দারুণ ছন্দে আন্দ্রে রাসেল। এস ভরতকে (১৬) শর্ট বলে তুলে নেওয়ার পর বৈচিত্র্য নিয়ে এসে একই ওভারে ইয়র্কারে ডিভিলিয়ার্সকে (০) তুলে নেওয়াটা মুন্সিয়ানার পরিচয়। টি২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে তাঁর সুযোগ পাওয়াটা যে ফ্লুক নয়, প্রমাণ করে দিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তীও। পরপর দুবলে ম্যাক্সওয়েল (১০) ও আইপিএল অভিষেককারী হাসারাঙ্গাকে (০) ফেরানোটা দক্ষতার পরিচয়। হ্যাটট্রিকের সামনেও পৌঁছে গিয়েছিলেন। অল্পের জন্য হয়নি। বরুন চক্রবর্তী ও আন্দ্রে রাসেলের দুরন্ত বোলিংয়ে ১৯ ওভরে মাত্র ৯২ রানে গুটিয়ে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। বরুণ চক্রবর্তী ১৩ রানে ৩টি ও আন্দ্রে রাসেল ৯ রানে ৩ উইকেট নেন।৯২ রানের লক্ষ্য একেবারেই কঠিন ছিল না কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে। দুই ওপেনার শুভমান গিল ও ভেঙ্কটেশ আয়ার দারুণ শুরু করেন। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৮২। ৪৮ রান করে যুজবেন্দ্র চাহালের বলে আউট হন শুভমান গিল। ১০ ওভারে ৯৪ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় নাইটরা। ভেঙ্কটেশ আয়ার ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ISL 2021-22 : ঘোষিত হল সূচি, আইএসএলে এটিকে মোহনবাগান–এসসি ইস্টবেঙ্গল প্রথম ডার্বি ২৭ নভেম্বর

ঘোষিত হল ২০২১-২২ মরশুমে আইএসএলের প্রথম পর্বের সূচি। ১১টি রাউন্ডের সূচি সোমবার প্রকাশ করেছে আইএসএলের আয়োজক কমিটি ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। ১৯ নভেম্বর উদ্বোধনী ম্যাচে গতবারের রানার্স এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে কেরালা ব্লাস্টার্স। এসসি ইস্টবেঙ্গল আইএসএল অভিযান শুরু করবে জামশেদপুর এফসি ম্যাচ বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। এবারের আইএসএলে প্রথম ডার্বি ম্যাচ হবে ২৭ নভেম্বর। প্রথম ডার্বি এসসি ইস্টবেঙ্গলের হোম ম্যাচ।এবারও গোয়াতেই হবে গোটা আইএসএল। মোট ১১৫টি ম্যাচ আয়োজিত হবে। এবারের আইএসএলে শনিবার থাকছে দুটি করে ম্যাচ। প্রথম ম্যাচ সন্ধে ৭.৩০ মিনিট থেকে। দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হবে রাত সাড়ে ৯টায়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলির ম্যাচ শুরু হবে সন্ধে সাড়ে ৭টাতেই। গতবারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বই সিটি এফসি ২০২১-২২ মরশুমের আইএসএল অভিযান শুরু করবে ২২ নভেম্বর এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। এব্যর এটিকে মোহনবাগান হোম ম্যাচ খেলবে ফতোরদার নেহেরু স্টেডিময়ামে। প্রথম পর্বে এটিকে মোহনবাগান ৬টি হোম ম্যাচ খেলবে। ১৯ নভেম্বর শুক্রবার উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিপক্ষ কেরালা ব্লাস্টার্স। ১ ডিসেম্বর সন্ধে সাড়ে ৭টায় মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ। ১১ ডিসেম্বর সন্ধে সাড়ে ৭টায় খেলা চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে। ২৯ ডিসেম্বর সন্ধে সাড়ে ৭টায় এটিকে মোহনবাগান খেলবে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। ৫ জানুয়ারি একই সময়ে এটিকে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ হায়দরাবাদ এফসি। ৮ জানুয়ারি হাবাসের দলের সামনে ওডিশা এফসি, এই খেলাটিও শুরু সন্ধে সাড়ে ৭টায়।এটিকে মোহনবাগান প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে তিলক ময়দানে ২৭ নভেম্বর, সন্ধে সাড়ে ৭টায়, এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। এটিকে মোহনবাগানের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচই ডার্বি। ৬ ডিসেম্বর ব্যাম্বোলিমের অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে এটিকে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ জামশেদপুর এফসি। ১৬ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে খেলবে এটিকে মোহনবাগান। ২১ ডিসেম্বর মোহনবাগানের ম্যাচ নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে, ফতোরদা স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে, প্রথম পর্বে ৫টি হোম ম্যাচ খেলবে এসসি ইস্টবেঙ্গল। লালহলুদের হোম গ্রাউন্ড এবার তিলক ময়দান। ২১ তারিখ প্রথম ম্যাচ এসসি ইস্টবেঙ্গলের জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে। ২৭ নভেম্বর এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ডার্বি। ৭ ডিসেম্বর এসসি ইস্টবেঙ্গল খেলবে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। ১২ ডিসেম্বর ম্যাচ কেরালা ব্লাস্টার্সের সঙ্গে। ৭ জানুয়ারি এসসি ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ গত মরশুমের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই সিটি এফসি। সব ম্যাচই সন্ধে ৭.৩০ থেকে। ৩০ নভেম্বর এসসি ইস্টবেঙ্গল প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে তিলক ময়দানে, ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে। লাল হলুদের দ্বিতীয় অ্যাওয়ে ম্যাচে ৩ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষ চেন্নাইন এফসি। ১৭ ডিসেম্বর এসসি ইস্টবেঙ্গল ফতোরদার নেহরু স্টেডিয়ামে খেলবে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র বিরুদ্ধে। ২৩ ডিসেম্বর লাল হলুদের চতুর্থ অ্যাওয়ে ম্যাচ ব্যাম্বোলিমের অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে। ৪ জানুয়ারি এই স্টেডিয়ামেই বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে পঞ্চম অ্যাওয়ে ম্যাচটি খেলবে এসসি ইস্টবেঙ্গল।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

I‌nd vs Eng Manchester Test : বাতিল টেস্ট ম্যাচ নিয়ে আইসিসি–কে চিঠি ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের

করোনা আতঙ্কে ভারতীয় ক্রিকেটাররা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ টেস্ট খেলতে চাননি। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ওল্ড ট্রাফোডের টেস্ট বাতিল করেছিল। বাতিল হওয়া পঞ্চম টেস্ট ফের কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড দফায় দফায় আলোচনায় বসেও কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। বল ঠেলে দেওয়া হয়েছে আইসিসি-র কোর্টে। বাতিল হওয়া ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্ট কবে ফের আয়োজন করা যায়, তার সমাধানসূত্র বের করতে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র এ খবর জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা আইসিসিকে চিঠি দিয়েছি বাতিল হওয়া টেস্ট ম্যাচের ভবিষ্যত জানতে চেয়ে।আরও পড়ুনঃ ২০০৮ সালের ২৬/১১র প্রসঙ্গ কেন তুললেন গাভাসকার?ইংল্যান্ড সফরের শেষদিকে ভারতীয় শিবিরে থাবা বসিয়েছিল করোনা ভাইরাস। চতুর্থ টেস্ট চলাকালীনই ভারতীয় দলের হেড কোচ রবি শাস্ত্রীর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শাস্ত্রীর সংস্পর্ষে আসা আরও তিন সাপোর্ট স্টাফকে লন্ডনের টিম হোটেলে আইসোলেশনে থেকে যেতে হয়। বাকি দল পঞ্চম টেস্ট খেলতে ম্যাঞ্চেস্টার রওয়া হয়। কিন্তু ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে পঞ্চম টেস্ট শুরু হওয়ার আগে সহকারী ফিজিও যোগেশ পারমারের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। কোহলিরা খেলতে না চাওয়ায় ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট বাতিল করা হয় বলে শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা বিবৃতি জারি করা হয়েছে।আরও পড়ুনঃ কী হবে ভারতইংল্যান্ড বাতিল টেস্টের ভবিষ্যত?ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্ট বাতিল হয়ে গেলেও সিরিজে ২১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারত। বাতিল হওয়া ম্যাচ ফের খেলা হলে ভালো, না হলে বিজয়ী ভারতকে ঘোষণা করা হবে, নাকি ইংল্যান্ডের পক্ষে ২২ ফলাফলে সিরিজে ইতি টানা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২২ সালে আবার ইংল্যান্ড সফরে যাবে ভারতীয় ক্রিকেট দল। ১ জুলাই ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথম টি২০ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও ইংল্যান্ড। দুই দলের মধ্যে পরের দুটি টি২০ ম্যাচ ট্রেন্টব্রিজ ও সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত হবে। ৩ ও ৬ জুলাই হবে এই দুটি ম্যাচ। এরপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদেরই মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ খেলবে ভারতীয় ক্রিকেট দল। ৯, ১২ এবং ২৪ জুলাই যথাক্রমে এজবাস্টন, কিয়া ওভাল ও লর্ডসে হবে মোকাবিলা। তারই ফাঁকে করোনা ভাইরাসের জেরে বাতিল হয়ে যাওয়া ভারত ও ইংল্যান্ড ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্ট আয়োজন করা সম্ভব কিনা, সে ব্যাপারে আই সি সির সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sunil Gavaskar : ২০০৮ সালের ২৬/‌১১–র প্রসঙ্গ কেন তুললেন গাভাসকার?‌

ভারতীয় দলের ফিজিও যোগেশ পারমারের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসায় ম্যাঞ্চেস্টারে ভারত ও ইংল্যান্ড পঞ্চম টেস্ট নিয়ে প্রথমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করে টেস্ট না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। জানা গেছে, আতঙ্কেই খেলতে চাননি ক্রিকেটাররা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড চায় ভবিষ্যতে বাতিল হওয়া টেস্ট ম্যাচ খেলতে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডও এই ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে। যদিও এই টেস্ট ম্যাচটি সিরিজের অংশ হবে না। বাতিল হওয়া টেস্ট আবার খেলা হবে, আর দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাসকার। আর এই ব্যাপারে তিনি উদাহরণ তুলে ধরেছেন, ২০০৮ সালের ২৬/১১র ঘটনা। মুম্বইয়ে সন্ত্রাস বাদী হামলার জন্য একদিনের সিরিজের দুটি ম্যাচ বাতিল হয়েছিল। পরে ভারতে এসে ইংল্যান্ড ওই দুটি ম্যাচ খেলেছিল। এই প্রসঙ্গে সুনীল গাভাসকার বলেছেন, দুই দেশের বোর্ড যে আবার বাতিল হওয়া টেস্ট ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছে, আমি মনে করি এটি সঠিক পদক্ষেপ হবে। ২০০৮ সালে ২৬/১১ সন্ত্রাস বাদী হামলার পর ইংল্যান্ড দল যা করেছিল তা আমাদের কখনই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সিরিজ শেষ করতে ওরা আবার পরে ফিরে এসেছিল। ইংল্যান্ড দল তখন বলতে পারত যে, ওরা ভারতকে নিরাপদ বোধ করছে না। আবার খেলতে ফিরে আসবে না। ইংল্যান্ড কিন্তু তা করেনি। সন্ত্রাসবাদীরা যখন মুম্বই আক্রমণ করেছিল, তারপরই সফরকারী ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে ভারতের কটকে ম্যাচ ছিল। হামলার কারণে শেষ ২ টি একদিনের ম্যাচ বাতিল হয়েছিল। ইংল্যান্ড তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে ফিরে আসে। যে সিরিজে ভারত ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল। সিরিজ শেষ করার ব্যাপারে তৎকালীন ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেভিন পিটারসেনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সুনীল গাভাসকার। তিনি বলেন, কখনই ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে কেভিন পিটারসেন সেই দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন প্রধান ব্যক্তি। কেভিন পিটারসেন যদি সেই সময়ে ভারতে আসতে অস্বীকার করতেন, তাহলে সফরটি সেখানেই শেষ হয়ে যেত। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পুনরায় ম্যাচ খেলার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে সুনীল গাভাসকার বলেন, বাতিল টেস্ট আগামী বছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের পর অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs ENG Test : আবার করোনার হানা ভারতীয় শিবিরে, পঞ্চম টেস্ট নিয়ে অনিশ্চয়তা

শুক্রবার থেকে ম্যাঞ্চেস্টারে ভারতইংল্যান্ড সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ টেস্ট শুরু হওয়ার কথা। ভারতীয় দলের সহকারী ফিজিও যোগেশ পারমার করোনা আক্রান্ত হওয়ায় শেষ টেস্ট নির্ধারিত সময়ে শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এর আগে রবি শাস্ত্রী এবং বোলিং কোচ ভরত অরুণ আক্রান্ত হন। বৃহস্পতিবার যোগেশ পারমারের রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই তড়িঘড়ি অনুশীলন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড। গতকাল ভারতীয় দল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুশীলন করে। কিন্তু এরপরই জানা যায় দলের সহকারী ফিজিও যোগেশ পারমারের করোনা পজিটিভ। এরপর আজ সকালে দলের সকলের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। রিপোর্ট না আসা অবধি সকলকে টিম হোটেলের ঘরেই থাকতে বলা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় দল আজ ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন করতে পারেনি। বাতিল হয়েছে প্রি ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সও। জানা গিয়েছে, সকালে গোটা দলের সঙ্গে কথা হয়েছে বিসিসিআই কর্তাদের। বিসিসিআই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ করেছে ফিজিও-র ব্যবস্থা করার জন্য। কারণ, রবি শাস্ত্রীর করোনা ধরা পড়ার পর আইসোলেশনে চলে গিয়েছিলেন বিরাটদের ফিজিও নীতীন প্যাটেল। ফলে তাঁর ভূমিকা পালন করছিলেন পারমার। এবার তাঁরও করোনা ধরা পড়ল। শাস্ত্রীর সংস্পর্শে আসার কারণে প্রধান ফিজিও নীতিন প্যাটেল আগেই আইসোলেশনে চলে যান। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ভারতীয় দলে আর কোনও ফিজিওই অবশিষ্ট রইল না। ওভালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২১ এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর ছাড়া বাকিদের টিভিতেই দেখতে হয়। ভারতের সব ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফ জোড়া ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন আগেই। ব্রিটেনে কোভিডের বিধিনিষেধ উঠে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেছে। তাই কড়াকড়ি বায়ো বাবল আর নেই। রবি শাস্ত্রী তাঁর একটি বইপ্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিম হোটেলে। এ জন্য তিনি বিসিসিআই বা ইসিবি, কারও কাছ থেকেই নাকি অনুমতি নেননি। তারপর থেকেই কোভিডের উপসর্গ দেখা দিতে থাকে ভারতের হেড কোচের মধ্যে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই অনুষ্ঠানে ভিড়ের মধ্যেই কোনও কোভিড আক্রান্তের সংস্পর্শে আসেন শাস্ত্রী।আপাতত ভারতীয় ক্রিকেটারদের বলা হয়েছে নিজেদের ঘরেই থাকার জন্য। টেস্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসিবি-র সঙ্গে কথা চালাচ্ছেন বিসিসিআই কর্তারা। ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ ভারতীয় দলের ভার্চুয়ালি প্রেস কনফারেন্স হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল। হেড কোচ রবি শাস্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে, সঙ্গে বোলিং কোচ ভরত অরুণ, ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধরও। এই পরিস্থিতিতে কেয়ারটেকার কোচের ভূমিকায় রয়েছেন ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর। তিনি বা বিরাট কোহলি ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন বলে ঠিক ছিল। কিন্তু সেই সাংবাদিক বৈঠক বাতিল হয়েছে। পারমার গতকাল অনুশীলনের পর কোভিড উপসর্গ অনুভব করেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর বিকেলে করোনা পরীক্ষা হতেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে।এর মাঝে বোর্ড সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলিও একটি অনুষ্ঠানে সিরিজের শেষ ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তার কথা জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না ম্যাচ আদৌ হবে কি না। তবে চাইব যাতে ম্যাচটা হয়। প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠকের সময় নির্ধারিত ছিল সন্ধে ৭:৩০এ। খেলোয়াড়রা আইসোলেশনে। খুব স্বাভাবিকভাবে সেই সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল হল। বোর্ডের কাছেও উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ ছিল। এই ম্যাচ আর পাঁচটা ম্যাচের মতো হলে শ্রীলঙ্কা সিরিজে যেমনটা ঘটেছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই পারত। মাঝে একআধখানা দিন অপেক্ষা করে শেষ টেস্ট খেলা যেত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে। এক্ষেত্রে, তেমনটা সম্ভব নয়। বহু কষ্টে বাকি আইপিএলের জন্য একটা ফাঁকা উইন্ডো পেয়েছে বিসিসিআই। টেস্ট সিরিজ শেষ হলেই শুরু আইপিএল। ক্রিকেটারদের এমনিই শ্বাস নেওয়ার সময় নেই। এর মধ্যেই ইসিবি থেকে বিরাটদের কাছে নাকি ভারতকে ওয়াকওভার দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। বিরাট এবং ভারতের আরেক তারকা রোহিত শর্মা বিসিসিআইকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছেন, তাঁরা কোনওভাবেই ম্যাচ ছাড়তে রাজি নন। প্রয়োজনে কোভিড আশঙ্কা নিয়েও মাঠে নামতে রাজি। একমাত্র ভারতকে সিরিজ জয়ী ঘোষণা করা হলে তবেই শেষ ম্যাচ ছাড়বেন। নয়তো দুই বোর্ড আলোচনা করে নতুন কোনও দিনক্ষণ স্থির করুক। ইংল্যান্ড ক্রিকেটার জস বাটলার বলেন, আমরা কাল নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি ম্যাচটা হবে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs ENG Test : ওভালে জিতে ইতিহাস কোহলিদের, সিরিজ জয়ের হাতছানি

দ্বিতীয় ইনিংসে ভেঙে পড়ার অভ্যাস ওভালেও বজায় রাখলেন জো রুটরা। আর তার জেরেই ভারতের কাছেও সিরিজ পরাজয়ের হাতছানি। সুবিধাজনক জায়গায় থেকেও ওভাল টেস্ট হেরে গেল ইংল্যান্ড। চতুর্থ টেস্টে ১৫৭ রানে জিতে সিরিজে ২১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। বোলারদের সম্মিলিত প্রয়াসই ভারতকে দুর্দান্ত জয় এনে দিল।জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল ৩৬৭। চতুর্থ দিনের শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল ৭৭/০। শেষ দিন জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৯০। হাতে ছিল ১০ উইকেট। ৪১তম ওভারে ১০০ রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর ইংল্যান্ড শেষ ২১০ রানে। লর্ডসের মতো ওভালেও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন আপে ধস নামিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বিরাট কোহলির ভারত। অস্ট্রেলিয়ার পর ইংল্যান্ডে এবার সিরিজ জয়ের হাতছানি ভারতের সামনে।আরও পড়ুনঃ বিজেপি নেতার মাকে খুনের তদন্তে অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার সিবিআইয়েরপ্রথম সেশনে ইংল্যান্ডের ২ উইকেট পড়ে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ধস নামায় অবশ্য রুটরা সমস্যায় পড়ে যান। শেষ সেশনে ভারতের দরকার ছিল ২ উইকেট। চা বিরতির পর ক্রেগ ওভার্টনকে বোল্ড করে দেন উমেশ যাদব। জেমস অ্যান্ডারসনকেও ২ রানে কট বিহাইন্ড করেন উমেশ। রিভিউ নিয়ে বাঁচতে পারেননি জিমি। ১৮.২ ওভারে ২ টি মেডেন নিয়ে ৬০ রানে ৩ উইকেট নিলেন উমেশ। যশপ্রীত বুমরার ২২ ওভারে ৯টি মেডেন-সহ ২৭ রানের বিনিময়ে নেন ২ উইকেট। রবীন্দ্র জাদেজা ৩০ ওভারে ১১টি মেডেন নিয়ে ৫০ রানে ২ উইকেট পান। শার্দুল ঠাকুরও ৮ ওভার হাত ঘুরিয়ে একটি মেডেন নিয়ে ২২ রানের বিনিময়ে পেলেন ২ উইকেট।আরও পড়ুনঃ বআইপিএলের নতুন ফ্রাঞ্চাইজি নেওয়া হতে পারে কোন কোন শহর থেকে?ওপেনিং জুটিতে ১০০ রান ওঠার পর এই পরাজয় শেষ টেস্টের আগে চিন্তায় ও চাপে রাখবে ক্রিস সিলভারউড, জো রুটদের। ২০১৬ তে ঢাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিং জুটিতে ১০০ রান ওঠার পরেও ৬৪ রানের মধ্যে ১০টি উইকেট হারিয়েছিল। চলতি বছরেও রুট-নির্ভর ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধস বারবার দেখা গিয়েছে। আমেদাবাদ টেস্টে ২ উইকেটে ৭৪ থেকে ১২২ রানে অল আউট হয়েছিল রুট-বাহিনী, ৩৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে। ওই টেস্টেই ৩ উইকেটে ৫০ থেকে ৮১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড, শেষ সাত উইকেট পড়েছিল ৩১ রানে। ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে ভারতের বিরুদ্ধেই তিন উইকেটে ১৩৮ থেকে ১৮৩ রানে শেষ হয়ে যায় রুটের দল। সাত উইকেট পড়ে ৪৫ রানে। তারপর এই ওভাল। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন হাসিব হামিদ ৬৩। বার্নস করেন ৫০, অধিনায়ক রুট করেন ৩৬।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌IND vs ENG Test : শার্দুল, ঋষভের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে জয়ের স্বপ্ন ভারতের

ওভালে চতুর্থ টেস্ট জিতে কি সিরিজে এগিয়ে যেতে পারবে ভারত? তেমন সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে। প্রথম দিনের ব্যর্থতা কাটিয়ে চতুর্থ দিনে ম্যাচের চালকের আসনে বিরাট কোহলির দল। ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে ৩৬৭। ভারতকে চালকের আসনে বসিয়েছে টেল এন্ডারদের দুরন্ত ব্যাটিং। ম্যাচের তৃতীয় দিনই ভারতের বড় রানের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পুজারারা। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে দলকে ৪৬৬ রানে পৌঁছে দেন টেল এন্ডাররা। আগের দিনের ৩ উইকেটে ২৭০ রান হাতে নিয়ে খেলতে নামে ভারত। বিরাট কোহলি ২২ ও রবীন্দ্র জাদেজা ৯ রানে ক্রিজে ছিলেন। দুজনই ভারতকে বড় রানের দিকে এগিয়ে নিয়ে থাকেন। কোহলি ও জাদেজার জুটিতে ওঠে ৫৯ রান। এরপরই ক্রিস ওকসের বলে লেগ বিফোর হন জাদেজা। ৫৯ বলে তিনি করেন ১৭ রান। ব্যাট হাতে আবার ব্যর্থ সহঅধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। মাত্র ৮ বল খেলে ক্রিস ওকসের বলে তিনিও লেগ বিফোর হন। ওকসের বলে একবার আম্পায়ার আউট দিয়েছিলেন রাহানেকে। কিন্তু ডিআরএস নিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যান। রাহানে যখন আউট হন ভারতের রান ২৯৬/৫। হাফ সেঞ্চুরি করার আগে মঈন আলির বলে স্লিপে ধরা পড়েন কোহলি (৪৪)। আবার বড় রান পেতে ব্যর্থ ভারত অধিনায়ক।এরপর ঋষভ পন্থ ও শার্দুল ঠাকুর দলকে টেনে নিয়ে যান। সপ্তম উইকেটে ঋষভ পন্থের সঙ্গে ১০০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে মজবুত জায়গায় দাঁড় করান শার্দুল। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও জ্বলে ওঠেন ভারতীয় দলের এই জোরে বোলার। প্রথম ইনিংসে ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৫৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন। একদিনের মেজাজে ব্যাট করে ৭২ বলে ৬০ রানের দুরন্ত ইনিংস উপহার দেন শার্দুল ঠাকুর। ৭টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন তিনি। জো রুটের বলে ক্রেগ ওভারটনের হাতে ধরা পড়েন শার্দুল। ম্যাচের দুই ইনিংসে অর্ধশতরান করে বিশ্ব ক্রিকেটের এক এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেছেন তিনি। ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে বিশ্বের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসে অর্ধশতরান করার বিরল নজির গড়েন। শার্দুল আউট হওয়ার পরপরই ফিরে যান ঋষভ পন্থ। ১০৬ বলে ৫০ রান করে তিনি মঈন আলির বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। এরপর ভারতকে ৪৬৬ রানে পৌঁছে দেন উমেশ যাদব (২৫) ও যশপ্রীত বুমরা (২৪)। ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিস ওকস ৩টি, মঈন ও রবিনসন ২টি করে এবং জো রুট, ক্রেগ ওভারটন ও অ্যান্ডারসন ১টি করে উইকেট পান। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত প্রথম ইনিংস ১৯১, দ্বিতীয় ইনিংস ৪৬৬। ইংল্যান্ড প্রথম ২৯০।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Lokesh Rahul : কেন জরিমানার কবলে পড়তে হল লোকেশ রাহুলকে?‌

লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর দুরন্ত সেঞ্চুরি জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল ভারতের। চলতি সিরিজে বলতে গেলে তিনিই ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম মুখ। ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। ব্যক্তিগত ৪৬ রানের মাথায় জেমস অ্যান্ডারসনের বলে আউট হতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন লোকেশ রাহুল। আম্পায়ারের অসন্তোষ প্রকাশ করে আর্থিক জরিমানার কবলে পড়েছেন ভারতীয় দলের এই ওপেনার। ওভালে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের ৩৪তম ওভারে বোলিং করছিলেন ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন। ওভারের শেষ বলে পরাস্ত হন লোকেশ রাহুল। তাঁর বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আবেদন জানান ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। অনফিল্ড আম্পায়ার আবেদন নাকচ করে দেন। তখন ডিআরএসের আশ্রয় নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট। টিভি আম্পায়ার রিপ্লে দেখে অনফিল্ড আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত বদলের পরামর্শস দেন। রিপ্লেতে একটা শব্দ শুনে টিভি আম্পায়ার মনে করেছিলেন অ্যান্ডারসনের বল লোকেশ রাহুলের ব্যাট স্পর্শ করে উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টোর হাতে পৌঁছেছে। ফলে রাহুলকে আউট দেওয়ার পরামর্শ দেন। আম্পায়ারের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি লোকেশ রাহুল। মাথা নাড়তে নাড়তে তিনি সাজঘরে ফেরেন। রাহুলের দাবি বল তাঁর ব্যাটে নয়, ব্যাট তাঁর প্যাডে লাগায় আওয়াজ হয়েছে।আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করা লোকেশ রাহুল আইসিসির কোড অফ কনডাক্টের ২.৮ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। তাই তাঁকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। ভারতীয় এই ওপেনারের ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। রাহুলের শৃঙ্খলার রেকর্ডে একটা ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়েছে। ম্যাচের অনফিল্ড আম্পায়ার অ্যালেক্স হোয়ার্ফ, রিচার্ড ইলিংওর্থ, তৃতীয় আম্পায়ার মাইকেল গফ ও ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রডের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত রাহুল মেনে নিয়েছেন। ওভাল টেস্টে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৭ রান করে আউট হয়েছিলেন লোকেশ রাহুল। দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন এই ভারতীয় ওপেনার। ডিআরএস সিদ্ধান্তে লোকেশ রাহুল যখন আউট হন, তিনি হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দুরে। ১০১ বল খেলে তিনি এই রান করেন। দারুণ ব্যাট করছিলেন। বড় রানের দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে ফিরে যেতে হয়। ওভালে ভারত ও ইংল্যান্ডের চতুর্থ টেস্টে দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। এর মধ্যেই লোকেশ রাহুলের শাস্তি পরিবেশ কিছুটা হলেও গম্ভীর করেছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে জরিমানার কবলে পড়তে হল।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

R‌abi Shastri : দুঃসংবাদ ভারতীয় শিবিরে, করোনায় আক্রান্ত হেড কোচ রবি শাস্ত্রী

ওভাল টেস্ট চলাকালীনই দুঃসংবাদ ভারতীয় শিবিরে। করোনায় আক্রান্ত বিরাট কোহলিদের হেড স্যার। তিনি হোটেলের রুমে আইসোলেশনে রয়েছেন। স্বভাবতই হেড কোচকে ছাড়াই রবিবার মাঠে আসতে হয়েছে কোহলিদের। শনিবার রাতে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি সব সাপোর্ট স্টাফের ল্যাটেরাল ফ্লো টেস্ট করা হয়। হেড কোচ রবি শাস্ত্রীর টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সঙ্গে সঙ্গে দলের মেডিকেল টিম রবি শাস্ত্রীকে আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয়। রবি শাস্ত্রীর পাশাপাশি দলের বোলিং কোচ ভরত অরুণ, ফিডিং কোচ আর শ্রীধর ও ফিজিও নীতিন প্যাটেলকেও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। রবিবার টেস্টের চতুর্থ দিন মাঠে নামার আগে ভারতীয় দলের সব ক্রিকেটারের দুবার ল্যাটেরাল ফ্লো টেস্ট পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট কোনও ক্রিকেটারের পজিটিভ না আসায় স্বস্তি মেলে। কোহলিদের মাঠে নামতে কোনও অসুবিধা হয়নি। তবে সাপোর্ট স্টাফদের এবার আরটি-পিসিআর পরীক্ষা হবে। সেই রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করবে তাঁদের গতিবিধি। ভারতীয় দলের মেডিক্যাল টিম সবুজ সঙ্কেত না দেওয়া পর্যন্ত সব সাপোর্টকে হোটেল রুমে আইসোলেশনে থাকবেন।কোহলিদের শনিবার রাতের পর রবিবার সকালেও ল্যাটেরাল ফ্লো টেস্ট হয়। ক্রিকেটারদের সকলের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় মাঠে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। যে প্রাথমিক পরীক্ষায় রবি শাস্ত্রীর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে তা একপ্রকার সেল্ফ টেস্ট কিট। ভারতীয় দলের প্রত্যেক সদস্যকেই তা দেওয়া হয়েছে। এই পরীক্ষার রিপোর্ট সব সময়ই সঠিক আসে, তা কিন্তু নয়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরটি-পিসিআর টেস্টেরই ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব জয় শাহ বলেছেন, শনিবার ফ্লো টেস্টে হেড কোচ রবি শাস্ত্রীর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আরটিপিসিআর টেস্ট করা হয়েছে। সেই টেস্টের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। ভারতীয় দলের চিকিৎসকরা কোচ রবি শাস্ত্রীকে আইসোলেশনে পাঠিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একইসঙ্গে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে বোলিং কোচ ভরত অরুণ, ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধর এবং ফিজিও নীতিন প্যাটেলকেও।সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ টেস্ট খেলতে মঙ্গলবারই ভারতীয় দলের ম্যাঞ্চেস্টার যাওয়ার কথা। রবি শাস্ত্রী সত্যিই করোনা আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে আরটিপিসিআর টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর। শাস্ত্রী ও অন্য সাপোর্ট স্টাফ, যারা আইসোলেশনে রয়েছেন তাঁদের রিপোর্ট পজিটিভ এলে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। দুদুটি আরটিপিসিআর টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তবেই তাঁরা দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল খেলার পর ভারতীয় দল যখন ছুটিতে ছিল তখনই ঋষভ পন্থের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরে সুস্থ হয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেন পন্থ। কিন্তু সেই সময় থেকে পন্থের ঘটনার থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিদিন ল্যাটেরাল ফ্লো টেস্ট করা হচ্ছে ভারতীয় দলের সদস্যদের। চতুর্থ টেস্ট শুরুর আগে টিম হোটেলে রবি শাস্ত্রী বই প্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে অনেক বহিরাগত অতিথি এসেছিলেন। সেখান থেকে শাস্ত্রীর সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs ENG Test : রোহিতের শতরানে ভর করে ঘুরে দাঁড়াল ভারত

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টেস্টে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ভারতের। রোহিত শর্মার দুরন্ত শতরানের সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিনের শেষে ভারত তুলেছে ৩ উইকেটে ২৭০। রোহিত ছাড়াও রান পেলেন চেতেশ্বর পুজারা ও লোকেশ রাহুল। ক্রিজে জমে গিয়েছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলিও। দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেই পারেন ভারতীয় সমর্থকরা।আরও পড়ুনঃ প্রতীক্ষার অবসান, বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি রোহিতেরপ্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের রাশ ফের ভারতের হাতে টেনে নিয়ে এলেন রোহিত শর্মা। হিটম্যানের দুরন্ত শতরানে ভর করে বড় লিডের দিকে এগোচ্ছে কোহলি ব্রিগেড। আগের দিনের দিনের বিনা উইকেটে ৪৩ রান হাতে নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ভারত। রোহিত ২০ ও লোকেশ রাহুল ২২ রানে ক্রিজে ছিলেন। দুই ওপেনারই এদিন সতর্কভাবে খেলা শুরু করেছিলেন। ৩৪ ওভারের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় ভারত। লোকেশ রাহুলকে (৪৬) তুলে নেন জেমস অ্যান্ডারসন। উইকেটের পেছনে তাঁর ক্যাচ ধরেন জনি বেয়ারস্টো। দ্বিতীয় সেশনে ভারতের কোনও উইকেট পড়েনি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় ভারতের রান ছিল ১০৮/১।আরও পড়ুনঃ বাইশ গজের বাইরে দুরন্ত ব্যাটিং বিরাট কোহলিরমধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরও ভারতীয় দুই ব্যাটসম্যানের ডিফেন্স টলাতে পারেননি ইংল্যান্ড বোলাররা। দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন রোহিত ও পুজারা। ১৪৫ বলে অর্ধ শতরান পূর্ণ করেন রোহিত। তার মধ্যে ছিল ৫টি বাউন্ডারি। জীবনের ৪৩তম টেস্টে ৭৪ তম ইনিংসে ২০৪ বলে শতরান পূর্ণ করলেন রোহিত। হাফ সেঞ্চুরি করার পর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। পরের ৫০ আসে মাত্র ৫৯ বলে। চা পানের বিরতিতে ১০০ রানে এগিয়ে যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত ১২৭ রান করে অলি রবিনসনের বলে ক্রিস ওকসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রোহিত। ভারতের রান তখন ২৩৬/২। একই ওভারের শেষ বলে পুজারাকে (৬১) তুলে নেন রবিনসন। মঈন আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হন। দিনের শেষে ভারত তুলেছে ২৭০/৩। দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারত এগিয়ে ১৭১ রানে। ক্রিজে রয়েছেন কোহলি (২২) ও জাদেজা (৯)।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Rohit Sharma : প্রতীক্ষার অবসান, বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি রোহিতের

দীর্ঘ ৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে বিদেশের মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরির মুখ দেখলেন রোহিত শর্মা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ওভালে পৌঁছে গেলেন সেই কাঙ্খিত শতরানে। রোহিত শর্মার দুরন্ত শতরানের সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ভারত। বড় রানের পথে বিরাট কোহলির দল। ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল রোহিত শর্মার। দেশের মাঠে ওই সিরিজে দুদুটি সেঞ্চুরি করে চমক দিয়েছিলেন। কিন্তু মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকতার অভাবে টেস্ট দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অবশ্য জায়গা পাকা করে নিয়েছিলে হিটম্যান। পরে টিম ম্যানেজমেন্ট রোহিতকে টেস্টে ওপেন করার পরামর্শ দেয়। ২০১৯ থেকে টেস্ট ক্রিকেটে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন রোহিত। লাল বলের ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে চমক দিয়েছিলেন। প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে ওপেনার হিসেবে প্রথম দুটি ইনিংসে করেছিলেন ১৭৬ ও ১৭২ রান। প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ওপেনার হিসেবে ১৯ ইনিংসে ১০৯৪ রান করেন রোহিত। এর মধ্যে ৪টি সেঞ্চুরি এবং ২টি হাফ সেঞ্চুরি। এশিয়ার প্রথম টেস্ট ওপেনার হিসেবে দ্রুততম ১০০০ রানের গন্ডি টপকে যান রোহিত। খেলেছিলেন মাত্র ১৭ ইনিংস। দেশের মাঠে সেঞ্চুরি এলেও বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরি অধরাই ছিল ভারতের এই ওপেনারের কাছে। যদিও অভিষেক হওয়ার পর বিদেশের মাটিতে খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি রোহিত। মাত্র ৬টি টেস্ট খেলেছেন। দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে খেলেছেন ১৬টি টেস্ট। শেষ পর্যন্ত ওভালে বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরির স্বপ্ন পূরণ হল রোহিতের। ইনিংসের ৬৪ তম ওভারে মঈন আলির বলে ৬ মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছন। সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে নেন ২০৪ বল। আগের দিনই রোহিত ১৫ হাজার আন্তর্জাতিক রান পূর্ণ করেছেন। প্রথম টেস্টে তিনি করেছিলেন ৩৬ ও ১২। দ্বিতীয় টেস্টে রোহিতের ব্যাট থেকে আসে ৮৩ ও ২১। লিডস টেস্টে তিনি ১৯ ও ৫৯ রানে আউট হয়েছিলেন। রোহিত ও লোকেশ রাহুল জুটি দলকে নির্ভরতা দেয়। চলতি সিরিজে এই নিয়ে তৃতীয়বার ভারতের ওপেনিং জুটি ৫০-এর বেশি রান যোগ করল। ট্রেন্ট ব্রিজে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে উঠেছিল ৯৭ ও ৩৪। লর্ডসের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে রোহিত-রাহুল জুটিতে ওঠে ১২৬, দ্বিতীয় ইনিংসে। হেডিংলেতে তৃতীয় টেস্টে ওপেনিং জুটি ১ রানে ভাঙলেও দ্বিতীয় ইনিংসে উঠেছিল ৩৪। ওভালে প্রথম ইনিংসে ২৮ রানের মাথায় আউট হয়েছিলেন রোহিত শর্মা। দলের ২৮ রানের মাথাতেই ফেরেন রাহুল। তবে এদিন ভারতের ওপেনিং জুটি ভাঙল ৮৩ রানের মাথায়।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs ENG Test : ‌দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ঐতিহাসিক লর্ডসে অবিস্মরনীয় জয় ভারতের

লর্ডস টেস্টের শেষ দিনে নতুন বলে দ্রুত ভারতের শেষ ৪ উইকেট তুলে নেওয়া লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ডের। অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালেন মহম্মদ সামি ও যশপ্রীত বুমরা। দুজনের অবিস্মরনীয় ইনিংস ভারতকে শুধু সঙ্কটজনক অবস্থা থেকে বার করে নিয়ে আসেনি, পৌঁছে দিয়েছিল জয়ের দোরগোড়ায়। সামিবুমরা জুটি শুধু দেশের মান বাঁচায় নি, কেড়ে নিয়েছিল রুটের মুখের গ্রাস। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ঐতিহাসিক লর্ডসে অবিস্মরনীয় জয়। ইংল্যান্ডকে ১৫১ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত।আরও পড়ুনঃ খেলা হবে দিবসে ডিজে বাজিয়ে চিয়ার লিডারদের মাঠে নাচানো নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্কটি২০ যুগে টেস্ট ক্রিকেট নাকি হারিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস ঘাটলে কথাটার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। একদিন আগেই টানটান উত্তেজনার ম্যাচে পাকিস্তানকে ১ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ভারতইংল্যান্ড টেস্টও পৌঁছে গিয়ে চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সে। প্রথম দিন থেকেই পেন্ডুলামের মতো দৌদুল্যমান। কখনও ভারতের দিকে, কখনও আবার ইংল্যান্ডের দিকে। পঞ্চম দিন তো একসময় মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ডের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন টিম ইন্ডিয়ার। নায়ক অবশ্যই মহম্মদ সামিযশপ্রীত বুমরা। ব্যাট হাতে এই দুজন পৌঁছে দিয়েছিল লড়াই করার জায়গায়। ক্রিকেট দেবতাও নিশ্চিতভাবে কুর্নিশ করবে সামিবুমরার প্রাইসলেস ইনিংস।আরও পড়ুনঃ এএফসি কাপের প্রথম প্রতিপক্ষ নিয়ে কেন সতর্ক হাবাস?তৃতীয় দিল শেষ বেলা থেকেই উত্তপ্ত লর্ডস। জিমি অ্যান্ডারসনকে একের পর এক বুমরার বাউন্সার দেওয়াকে কেন্দ্র করে। অ্যান্ডারসনের সঙ্গে বুমরার বাকযুদ্ধ। পরে বাটলারের সঙ্গে, যোগ দেন মার্ক উডও। উডের বাউন্সার হেলমেটে লাগতেই অন্য চেহারায় বুমরা। মুখে নয়, জবাব দিয়ে গেলেন ব্যাটে। লর্ডসেই ব্রিটিশ রাজের পতন ঘটাতে যেন বদ্ধপরিকর।ভারতের লড়াইয়ে ফেরার ভিত গড়ে দিয়েছিলেন চেতেশ্বর পুজারা ও অজিঙ্কা রাহানে। চাপে পড়লেই জ্বলে ওঠা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। চতুর্থ দিন ভারত যখন ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, রুখে দাঁড়ান পুজারারাহানে। দুজনে মিলে জুটিতে ১০০ রান তুলে দলকে প্রাথমিক বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। দুই ওপেনার রাহুল (৫), রোহিত (২১) দ্বিতীয় ইনিংসে দলকে ভরসা দিতে পারেননি। কোহলিও (২০)। দলের সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে রুখে দাঁড়ান পুজারা ও রাহনে। দুর্ভাগ্যের শিকার না হলে বড় রান পেতেন পুজারা (৪৫)। মার্ক উডের হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বল ব্যাটের কানায় লেগে রুটের হাতে। রাহানে (৬১) অবশ্য অর্ধশতরান হাতছাড়া করেননি।আরও পড়ুনঃ অবশেষে ইস্টবেঙ্গলকে চূড়ান্ত চুক্তিপত্রের সংশোধিত খসড়া পাঠাল শ্রী সিমেন্টচতুর্থ দিনের শেষে ভারতের রান ছিল ১৮১/৬। ক্রিজে ছিলেন ঋষভ পন্থ (১৪) ও ইশান্ত শর্মা (৪)। ঋষভের (২২) ওপর দায়িত্ব ছিলে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু পঞ্চম দিন সকালে দলকে বেশি টানতে পারেননি। ইশান্ত মূল্যবান ১৬ রান যোগ করেন। তিনি যখন ফিরে যান, দলের রান ২০৯। সকলেই ধরে নিয়েছিলেন, ভারতের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি শুধু সময়ের অপেক্ষা। এরপরই শুরু সামি (অপরাজিত ৫৬) ও বুমরার (৩৪) সেই অবিস্মরনীয় লড়াই। ইশান্ত ১৬ রানে লেগ বিফোর হতে ভারতের অষ্টম উইকেট পড়ে ২০৯ রানে। লিড তখন ১৮২। ইংল্যান্ড যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছে, তখনই রুখে দাঁড়ান সামি ও বুমরা। শেষ পর্যন্ত তাঁদের জুটি ভাঙতে পারেননি ইংল্যান্ডের বোলাররা। অসমাপ্ত নবম উইকেট জুটিতে সামি ও বুমরা যোগ করেন রেকর্ড ৮৯ রান। লাঞ্চের পর ৮ উইকেটে ২৯৮ তুলে যখন ইংল্যান্ডকে জেতার জন্য ২৭২ রানের টার্গেট ছুড়ে দিতে ইনিংস ডিক্লেয়ার করেন কোহলি, তখন সামি অপরাজিত ৫৬ রানে।আরও পড়ুনঃ ১২ ঘন্টার দীর্ঘ লড়াই শেষে ১২ তম ইন্ডিয়ান আইডল স্নিগ্ধ হাওয়া পবনদীপসামিবুমরা জুটি ব্যাট করার সময় বারবার মাথায় হাত দিচ্ছিলেন রুট। দেওয়াল লিখনটা তখনই হয়তো চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। চতুর্থ ইনিংসে ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে ভেঙে পড়ার ঐতিহ্য রয়েছে রুটের ইংল্যান্ডের। লর্ডসেও তার ব্যাতিক্রম নয়। ২৭১ রানে এগিয়ে থাকাটাই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল কোহলি ব্রিগেডকে। রুটদের ওপর শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ার রসদ ছিল ওই ২৭১র মধ্যে। প্রথম দুই ওভারে সামিবুমরা জুটি যেভাবে ইংল্যান্ডের ওপর আঘাত হেনেছিলেন, তা থেকে বেরিয়ে আসার মতো দক্ষতা নেই এই ইংল্যান্ড দলের। রুট (৩৩), বাটলার (২৫) কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই রক্তের স্বাদ পেয়ে গিয়েছিলেন বুমরা (৩/৩৩), সিরাজরা (৪/৩২)। শেষ পর্যন্ত ৫১.৫ ওভারে ১২০ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস।

আগস্ট ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

S‌unil Gavaskar : পুজারা ও রাহানের ব্যর্থতা নিয়ে কী বলছেন গাভাসকার?‌

একের পর টেস্টে ব্যর্থতা। দীর্ঘদিন ব্যাটে বড় রান নেই। চেতেশ্বর পুজারা ও অজিঙ্কা রাহানেকে নিয়ে চারিদিকে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এই দুই ক্রিকেটারের পরিবর্ত খোঁজার সময় এসেছে। সমালোচনায় বিদ্ধ চেতেশ্বর পুজারা ও অজিঙ্কা রাহানের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুনীল গাভাসকার, ভিভিএস লক্ষ্মনের মতো প্রাক্তনরা। সতীর্থ লোকেশ রাহুলও আড়াল করেছেন পুজারা ও রাহানেকে।রাহানে ও পুজারার পাশে দাঁড়িয়ে সুনীল গাভাসকার বলেছেন, ভারতের এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সহজে হাল ছাড়বে না। ভুললে চলবে না নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে রাহানেই সবচেয়ে বেশি রান করেছিল। দুই ক্রিকেটারই টেকনিক সমস্যায় ভুগছে। এরজন্য শুধু রাহানে ও পুজারাকে দোষ দিলে চলবে না। ওদের এই ব্যর্থতার জন্য দলের কোচিং স্টাফরাও দায়ী। ওরা তো সব দেখছে। কোথায় ভুল হচ্ছে কোচিং স্টাফরা তো জানে। তাহলে কেন ভুল শুধরে দিচ্ছে না। পুজারা, রাহানেকে ব্যর্থ বললে অতীতকে অপমান করা হবে।আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতা দিবসে হামলার ছক, রেহাই পেল না ৪ জইশ জঙ্গিগাভাসকারের মতো রাহানে ও পুজারার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্মণও। দেশের এই প্রাক্তন ব্যাটসম্যান বলেন, এই খারাপ ফর্ম থেকে কীভাবে বার হওয়া যায় তা চেতেশ্বর পুজারা ও অজিঙ্কা রাহানে ভালভাবেই জানে। তবে ওরা যেভাবে বারবার একই কায়দায় আউট হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। শেষ আট থেকে দশ মাস বিভিন্ন টেস্ট ম্যাচে একই ভাবে আউট হচ্ছে পুজারা ও রাহানে। দুজনের ব্যাটিং টেকনিকে ভুল হচ্ছে। দলের কোচিইং স্টাফদের দায়িত্ব নিতে হবে ভুল শুধরে দেওয়ার। বাইরের সমালোচনায় কান না দিয়ে আপাতত নিজেদের খেলার দিকে মনসংযোগ করতে হবে পুজারা ও রাহানেকে। আশা করছি টেকনিকে ভুল শুধরে এই সিরিজেই বড় রান করবে এই দুই ব্যাটসম্যান।আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ হাইতিট্রেন্ট ব্রিজে রাহানে ও পুজারা দুজনেই ব্যর্থ। লর্ডসেও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৩ বল খেলে মাত্র ৯ রান করেছেন চেতেশ্বর পুজারা। অন্যদিকে ২৩ বল খেলে ১ রান করে আউট হন অজিঙ্কা রাহানে। নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪ রান করে আউট হয়েছিলেন পুজারা। রাহানে করেছিলেন ৫। ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ হারানোর ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা নেওয়া পুজারা শেষ ১০টি ইনিংসে অর্ধশতরান পাননি। অন্যদিকে রাহানেও শেষ ৭ ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি পাননি। শেষ ১৫টি টেস্ট ইনিংসে ২৭.৮-র গড়ে ৩৮৯ রান করেছেন পূজারা। শেষ ১৪টি টেস্ট ইনিংসে রাহানের ব্যাট থেকে এসেছে ২৬৯ রান। ফলে ভারতীয় দল থেকে এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের বিদায় আসন্ন বলে ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করতে শুরু করেছে।আরও পড়ুনঃ এই শ্রাবণে...তোমার জন্যেদুই সতীর্থর পাশে দাঁড়িয়েছেন লোকেশ রাহুল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরমেন্স করে এসেছে পুজারা ও রাহানে। অনেক কঠিন ম্যাচ বার করেছে। এই ব্যর্থতা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসতে হবে, সেই কৌশল পুজারা ও রাহানের জানা আছে। রাহুল আরও বলেন, ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তাদেরই মাটিতে প্রতিদিন দলের সব ক্রিকেটার ভাল খেলবে, এর কোনও মানে নেই। দিনের শেষে দলগত পারফরমেন্সই আসল।

আগস্ট ১৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

I‌nd vs Eng Test : কোহলিদের সিরিজে এগিয়ে যাওয়া আটকে দিল বৃষ্টি

ভারতের কাছে ট্রেন্ট ব্রিজ বরাবরই পয়া মাঠ। ইংল্যান্ড সফরে ট্রেন্ট ব্রিজ কখনও খালি হাতে ফেরায়নি টিম ইন্ডিয়াকে। ২০১৮ সালে সিরিজ ৪১ ব্যবধানে হেরেছিল ভারত। একমাত্র জয় এসেছিল ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে। এবারও এই মাঠে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করার সুযোগ ছিল বিরাট কোহলিদের সামনে। বাধ সাধল বৃষ্টি। বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়ার জন্য টেস্টের পঞ্চম দিন এক বলও খেলা হল না। টেস্ট অমীমাংসিতভাবে শেষ হল।আরও পড়ুনঃ বার্সিলোনায় শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে কেঁদে ফেললেন লিওনেল মেসিজয়ের জন্য ২০৯ রান তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের শেষে ভারত ১ উইকেটে তুলেছিল ৫২। রোহিত শর্মা ও চেতেশ্বর পুজারা দুজনেই ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। শেষদিনে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৫৭ রান। ভারতের পক্ষে জেতা খুব একটা কঠিন ছিল না। কিন্তু বৃষ্টির জন্য জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল বিরাট কোহলিদের।আরও পড়ুনঃ অলিম্পিকের আগে ২৫ দিন অনুশীলন করতে পারেননি বজরং পুনিয়া। কারন জানেন?পঞ্চম দিনের প্রথম দুই সেশন বৃষ্টির জন্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও খেলার আশা জেগেছিল। বৃষ্টি থামলেও চা পানের বিরতির পর আবহাওয়ার উন্নতি হয়নি। আলোর অভাব দেখা দিয়েছিল। তাই দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার। স্বভাবতই বিরক্ত বিরাট কোহলি। শেষ দিনে একনাগাড়ে বৃষ্টি কোহলিদের সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বাধা হয়ে দাঁড়াল।

আগস্ট ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs ENG Test : ‌বুমরা, সামির ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, গুটিয়ে গেল ১৮৩ রানে

শুরুর ধাক্কা সামলাতে পারল না ইংল্যান্ড। জো রুটের লড়াকু ইনিংসও টেনে তুলতে পারল না দলকে। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই বেকায়দায় ইংল্যান্ড। তাদের প্রথম ইনিংস শেষ ১৮৩ রানে। ইংল্যান্ডকে ভাঙলেন যশপ্রীত বুমরা ও মহম্মদ সামি। বুমরা নিয়েছেন ৪ উইকেট, সামি ৩ উইকেট।আরও পড়ুনঃ বধূকে ধর্ষণের পর সোনার গয়না ও টাকা হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবকআইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় সংস্করণে পাঁচ টেস্টের সিরিজের প্রথম টেস্টে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে প্রথম একাদশের বাইরে রেখে মাঠে নেমেছে। ৪ স্বীকৃত জোরে বোলার নিয়ে খেলছে ভারত। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই ররি বার্নসকে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান যশপ্রীত বুমরা। বার্নস লেগ বিফোর হন। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ডম সিবলি ও জ্যাক ক্রলি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে জ্যাক ক্রলির (২৭) উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তাঁকে তুলে নেন মহম্মদ সিরাজ। তিনি আউট হন ২১ তম ওভারে।আরও পড়ুনঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে এসএফআই-এর কনভেনশনপরিবর্ত বোলার হিসেবে বল করতে এসে সিরাজ ব্রেক থ্রু দেন। ওভারের তৃতীয় বলে জ্যাক ক্রলির বিরুদ্ধে লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন ওঠে। আম্পায়ার আউট দেননি। রিভিউ নেন বিরাট কোহলি। এ যাত্রায় রক্ষা পান ক্রলি। ভারতের একটি রিভিউ নষ্ট হয়। ওভারের ষষ্ঠ বলে ক্রলির বিরুদ্ধে ক্যাচের জোরালো আবেদন ওঠে। নাকচ করে দেন আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো। কোহলিকে আবার রিভিউ নিতে অনুরোধ করেন উইকেটকিপার ঋষভ পন্থ। আগের রিভিউ নষ্ট হওয়ায় দোটানায় ছিলেন কোহলি। সিরাজের সঙ্গে কথা বলে শেষ পর্যন্ত রিভিউ নেন। রিপ্লেতে দেখা যায় বল ক্রলির ব্যাট ছুঁয়েই পন্থের হাতে জমা পড়েছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ভারত অধিনায়ক।আরও পড়ুনঃ বধূকে ধর্ষণের পর সোনার গয়না ও টাকা হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবকমধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর আবার ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। উইকেটে জমে যাওয়া ডম সিবলেকে (১৮) তুলে নেন মহম্মদ সামি। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক জো রুট ও জনি বেয়ারস্টো। সামির বলে বেয়ারস্টো (২৯) এলবিডব্লুউ হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস। একমাত্র লড়াই করেন অধিনায়ক জো রুট (৬৪)। সাম কারেন ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ইংল্যান্ডের শেষ ৭ উইকেট পড়ে ৪৫ রানে। চা বিরতির পর পড়ে ৬ উইকেট। ৪৬ রানে ৪ উইকেট নেন বুমরা, সামি ২৮ রানে নেন ৩ উইকেট।

আগস্ট ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত ঘুর্নীর পাক বোঝার আগেই ম্যাচ শেষ , ভারত ২-১ এ এগিয়ে

রবীন্দ্রোত্তর সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন ঝোলের সমুদ্র মন্থন করে হার-মাংসের অস্বিত্ত খুঁজে পেতে গেলে, ডুবুড়ি কে গামছা কিনে দিতে হবে। মোতেরার বা আধুনা নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম-এ দুই দলের ব্যাটসম্যানরা মনে হয় সেই গামছাটাই খুঁজছিলেন রানের অস্তিত্ত্ব সন্ধান করতে। তারা হিমসিম খেলেন ঘুর্নী পিচে। সারা ম্যাচে মাত্র দুটি অর্ধশতরান! খেলা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল কোলকাতার সিএবি দু দিনের লীগ হচ্ছে। ১২ ঘন্টাও স্থায়ী হলনা ম্যাচ!ভারতের দুই পেস বোলার ইশান্ত শর্মা এবং যশপ্রীত বুমরা এক বারও হাত না ঘুরিয়ে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়ে গেলো মাত্র ৩০.৪ ওভারে! ভূমিপুত্র অক্ষর পটেল ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন দুজনেই মাত্র ১৫ ওভার করে হাত ঘোরালেন এবং শেষ উইকেটটা ৩১তম ওভার করতে এসে তার চতুর্থ বলে তুলে নিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ইংল্যন্ডের দ্বিতীয় ইনিংস এক সেশনেরও (দু ঘণ্টার-ও কম) কম সময়ে শেষ হয়ে যাওয়াই এই ম্যাচের পিচের ভঙ্করতা স্পষ্ট করে দিয়েছে।এখনো পর্যন্ত যতগুলি পিঙ্ক টেস্ট (দিনরাতের) হয়েছে, তার প্রায় সব গুলোতেই পেস বোলারদের প্রাধান্যই বেশী দেখা গিয়েছে। স্পিন বোলাররা সেরকমভাবে হালে পানি পাননি, সর্বত্র গতির দাপটে কাহিল হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। ইডেনে হওয়া প্রথম দিন-রাতের পিঙ্ক টেস্টেও পেসারদেরই প্রাধান্য ছিল তারা ১৯টি উইকেট নিয়েছিলেন।পিচ নিয়ে বিদেশী মিডিয়াতে গেল গেল রব উঠেছে। এখনো পর্যন্ত তারা ঘূর্ণি পিচের থেকে বেশি মাত্রাই ইংরেজ ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলার অক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন। পেস বোলাররা সাহায্য ভারতের কোন মাঠের কোনও পিচেই সেভাবে পাননি কোনদিন, শোনা যায় সেই কারনেই ভারত সফরে প্রচণ্ড অনীহা ছিল প্রবাদ প্রতিম স্যর রিচার্ড হ্যাডলি এবং ইয়ান বোথামের, ভারতের পিচে কিছুটা সাহায্য সিম বোলাররা পান, বিপক্ষ্যে দুই ভয়ঙ্কর সিম বোলার জেমস অ্যান্ডারসন এবং স্টুয়ার্ট ব্রড রয়েছেন, যাঁরা অসম্ভব পারদর্শি দুদিকেই বল সুইং করাতে। সে কারণেই হয়ত পেস পিচের ঝুঁকি নিতে চাননি রবি শাস্ত্রী ব্রিগেড।প্রথম বল থেকেই বনবন করে বল ঘুরেছে। খুব কম বল-ই হাঁটুর ওপর উঠেছে। কখনো কখনো মনে হচ্ছিল ব্যাটসম্যানরা হয়ত সোজা হয়ে দাঁড়াতেই ভুলে গেছেন। প্রথম ইনিংসে ১১২ রানে ইংল্যান্ড শেষ হয়ে যায়। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন জ্যাক ক্রাউলি (৫৩), বাকি ব্যাটসম্যানরা কেউই কুড়ি রানের গণ্ডী পার করতে পারেননি। জবাবে ভারত প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান রোহিত শর্মার(৬৬), ভারত অধিনায়ক ২৭ রান করে জ্যাক লিচ এর বলে বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান। দ্বিতীয় দিন মাত্র চার ঘণ্টাতেই দু দলের ১৭টি উইকেটের পতন হয়। ভারতীয় ব্যটসম্যানরা যারা স্পিন বল খেলতে সিদ্ধহস্ত তারাও হিমসিম খেলেন, একটা উদাহরন-ই যথেষ্ট এটা বোঝানোর জন্য। জো রুটের মত একজন অনিয়মিত অফস্পিনারের বোলিং গড় ৬.২ ওভার ৩ মেডেন, ৮ রান ৫ উইকেট! এক সময় তো রুট কে মনে হচ্ছিল যেন মুথাইয়া মুরলীধরন বল করছেন। একের পর এক ভারতীয় ব্যাটসম্যান রুটের বলে দিসেহারা হয়ে সাজঘর থেকে ক্রিজে আসা-যাওয়া করছিলেন। মাত্র ৩৩ রানে এগিয়ে থেকে শেষ হয়ে যায় ভারতের প্রথম ইনিংস। যদিও ম্যাচের শেষে রোহিত শর্মার জানান এই পিচে সে রকম কোন জুজু ছিল না।বোলার্স ফুটমার্ক এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল যে আম্পায়ার কে বার বার গ্রাঊন্ডসম্যান ডেকে ক্ষত রিপেয়ার করতে হচ্ছিল। টেস্ট ম্যাচে প্রথম দিনেই এ দৃশ্য শেষ কবে দেখা গেছে সেটা নিয়ে গবেষনা চলতেই পারে। পিচের হাল এতটাই খারাপ তা অনুমান করে বিরাট কোহালি দ্বিতীয় ইনিংসে জোরে বোলারদের না এনে প্রথম থেকেই স্পিনারদের লেলিয়ে দিলেন। প্রথম ওভারের প্রথম বলে জ্যাক ক্রলি আউট হবার পর তৃতীয় বলে জনি বেয়ারস্টোও আউট হয়ে ফিরে যান।পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ছাড়া ভারতের ঘুর্নী উইকেটে অন্য দলের সাফল্য দুরবীন দিয়েও বড় একটা দেখা যায় না। অক্ষর এবং অশ্বিনের বল এই ঘুর্নী পিচে সামলানোর মত টেকনিক ইংল্যন্ড দলের ব্যটসম্যানদের ছিল না। কতক্ষণ তারা টেকে সেটাই বড় প্রশ্ন ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। এক সেশনও পার করতে পারলো না!৪৯ রানের টার্গেট অতিক্রম করতে ভারতকে বিশেষ আসুবিধা হয়নি। বিনা উইকেট তারা জয়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে যায়। সহজাত ভঙ্গীতে জো রুটের বলে ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করলেন রোহিত শর্মা (২৫) অপরদিকে শুভমন গিল ১৫ রান করে অপরাজিত থেকে যোগ্য সহয়তা করেন। এই জয়ের সৌজন্যে ১-০ পেছিয়ে থেকেও ভারত ২-১ ফলে সিরিজে এগিয়ে গেল। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

প্রয়াত দিয়েগো মারাদোনা, শোকার্ত ফুটবল বিশ্ব

প্রয়াত ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো মারাদোনা। জানা যায়, বুধবার নিজের বাড়িতে থাকাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০। অজস্র ম্যাচে তাঁর অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স সকলে মনে রাখবে। প্রথমেই যে ম্যাচের কথা না বললেই নয়, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। সেখানে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচে ৩-২ গোলে জয়লাভ করে। সেই ম্যাচে মারাদোনার অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স সকলেই মনে রাখবে। আরও পড়ুন ঃ ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্যে পথচলা শুরু বাইচুংয়ের ছেলে ইউজেনের এছাড়াও ১৯৮৭ সালে নাপোলি স্কুপ সিরিজ এ কোপা ইটালিয়া ডবলসের ফাইনালে তার অনবদ্য পারফরম্যান্স সকলের মন জয় করে নিয়েছে। এছাড়াও ১৯৮৮-৮৯ ইউয়েফা কাপ কোয়ার্টার ফাইনালে নাপোলি ৩-০ গোলে জুভেন্টাসকে পরাজিত করে। সেই ম্যাচেও মারাদোনার পারফরম্যান্স মনে রাখার মতো। ১৯৮৮-৮৯ এ ইউয়েফা কাপ সেমিফাইনালে তাঁর পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবি রাখে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে অসাধারণ খেলেছিলেন মারাদোনা। এছাড়াও ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ৪-০ গোলে গ্রিসকে পরাজিত করে। সেই ম্যাচেও মারাদোনার পারফরম্যান্স অনবদ্য। প্রয়াত হলেও মারাদোনার এই পারফরম্যান্স সকলে মনে রাখবে।

নভেম্বর ২৬, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

হাইকোর্টের শর্ত উড়িয়ে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, শুভেন্দুর নির্দেশে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সভাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত ওই সভায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তারপরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হেস্টিংস থানায় এফআইআর করেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গতকাল ক্যাথিড্রাল রোডে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার অনুমতি দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্টের তরফে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন ক্যাথিড্রাল রোডের অন্তত একটি ফ্ল্যাঙ্ক সচল রাখার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু সভা চলাকালীন সেই নির্দেশ কার্যকর ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সময় পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। মঞ্চ থেকে তাঁর ইশারার পর রাস্তার অপর পাশে গাছের নিচে অপেক্ষারত বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক ব্যারিকেড অতিক্রম করে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার দুদিকেই মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের উভয় ফ্ল্যাঙ্ক কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। যান চলাচলও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বাস, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ত ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।ঘটনার পরই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশে রাস্তার একটি অংশ খোলা রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তাঁর কথায়, দেখলেন তো আজকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু একেবারে গাছের নিচে থাকা লোকজনদের ডেকে রাস্তা বন্ধ করিয়ে তিনি কী করলেন?এর পরেই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এফআইআর রেজিস্টার করতে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের বেআইনি কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং তা লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইও নতুন মাত্রা পেতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মমলা করে পুলিশ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদহে রাতভর ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক! একাধিক লোকাল বাতিল, বদল ট্রেন পরিষেবায়

শিয়ালদহ স্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজের জন্য টানা সাত ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক নিতে চলেছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। পয়েন্ট কনভার্সন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজের জন্য শনিবার, ২৯ আগস্ট এবং রবিবার, ৩০ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে এই ব্লক নেওয়া হবে। এর জেরে ৩০ আগস্ট, রবিবার সকালে শিয়ালদহ শাখায় একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল এবং একটি ট্রেনকে নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই থামিয়ে দেওয়া হবে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ আগস্ট রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদহ স্টেশনের DN/Main Line-এর KM 0/19 থেকে KM 0/20 অংশে Point No. 208B/219A-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান 52 Kg DSS-কে 60 Kg DSS-এ রূপান্তর করা হবে। ট্র্যাকের ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্টও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।শুধু ট্র্যাক পরিবর্তন নয়, এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত কাজের অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিংয়ের প্রয়োজনীয় ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের সংশ্লিষ্ট লাইনে ট্রেন চলাচল এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, Track Circuit পরিবর্তনের কাজও ব্লকের সময় করা হবে। একই সঙ্গে Line No. 6 এবং Line No. 11-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট এই সময় প্রভাবিত থাকবে। এত বড় মাপের কাজ যাতে যাত্রী পরিষেবায় তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে, সে কারণেই সপ্তাহান্তের গভীর রাত থেকে ভোরের সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।বাতিল একাধিক লোকালএই পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ৩০ আগস্ট বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বাতিল থাকবে। রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ীশিয়ালদহহাবড়া: 33651 UP / 33652 DNশিয়ালদহকল্যাণী সীমান্ত: 31313 UP / 31316 DNশিয়ালদহডানকুনি: 32217 UP / 32218 DNশিয়ালদহরানাঘাট: 31615 UP / 31620 DNশিয়ালদহহাবড়া: 33653 UP / 33654 DNএছাড়াও Train No. 53172 DN (লালগোলাশিয়ালদহ)-কে ৩০ আগস্ট দমদম জংশনে (DDJ) শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। অর্থাৎ ওই দিন ট্রেনটি শিয়ালদহ পর্যন্ত না গিয়ে দমদম জংশনেই যাত্রা শেষ করবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনটির খালি রেক শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়ে আসা হবে।যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্তারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমানোর লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে এই কাজ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কর্মীদের সাইটে মোতায়েন রাখা হবে।শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, কাজটি নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং এবং কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সাময়িক পরিবর্তন সম্পর্কে জানাতে শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।রেলের দাবি, এই পয়েন্ট কনভার্সন ও ট্র্যাক নবীকরণের ফলে শিয়ালদহ স্টেশনের ট্র্যাক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দক্ষতা আরও বাড়বে। যদিও কাজের সময়সূচির কারণে রবিবার কিছু ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করতেই এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক জরুরি বলে জানিয়েছে রেল।তাই ৩০ আগস্ট যাঁদের শিয়ালদহমুখী বা শিয়ালদহ থেকে বিভিন্ন শাখায় যাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। সাময়িক এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতার আবেদনও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের রাখী উৎসব, আনন্দমুখর বিজয় তোরণ চত্বর

ভাই-বোনের ভালোবাসা, পারস্পরিক আস্থা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বর্ধমানে আয়োজিত হল রাখী উৎসব। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাখীর বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ। উৎসবকে ঘিরে বিজয় তোরণ (কার্জনগেট) চত্বরে এদিন পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। রাখী পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।রাখী বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। পথচলতি মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে দেন ক্লাবের সদস্যরা। একে অপরের মঙ্গল ও সুস্থ কামনায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বিভাজনের নানা প্রবণতার মধ্যে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। রাখী সেই বন্ধনেরই প্রতীক। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একসূত্রে বাঁধার বার্তা দিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।রাখী পরানোর পাশাপাশি এদিন শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন উপস্থিত সকলে। ছোট-বড় সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি কার্যত মিলন উৎসবে পরিণত হয়। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগে উঠে আসে একটাই বার্তা, সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমুক এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের সর্বস্তরে। বেঙ্গল প্রেস ক্লাব বছরে নানা ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান করে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নিবন্ধ

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল - 'বীণার মুর্ছনায় বিদ্রোহের মশাল'

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক সময়ের সীমা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক তেমনই এক অনন্য অধ্যায়যেখানে প্রজন্মের ব্যবধানকে ছাপিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা এবং এক গভীর মানবিক বন্ধন। যেমন একসময় বাংলা ছায়াছবির জগতে উত্তম না সৌমিত্রকে বড় এই বিতর্ক ছিল বাঙালির চিরন্তন আড্ডার বিষয়, তেমনই বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় রবি না কাজী নিয়েও চলেছে নিরন্তর তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু সাহিত্য-সমালোচকদের সেই তুলনা বা পাঠকের আবেগের লড়াইয়ের বাইরে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের নিজেদের সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকমসেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও স্থান ছিল না।আজকের দিনে ৭৭ বছর বয়সে, ১৯৭৬ -র ২৯ আগস্ট, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর প্রয়াণদিবসে তাই ফিরে দেখা যাক বাংলা সাহিত্যের দুই মহীরুহের সেই অসম্ভব সুন্দর সম্পর্ককেযে সম্পর্কে ছিল স্নেহের আশ্রয়, শ্রদ্ধার স্বীকৃতি, সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা এবং এক কবির প্রতি অন্য কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা। সময়ের স্রোত পেরিয়েও তাঁদের সেই সম্পর্ক আজও বাঙালির সাহিত্য-স্মৃতিতে এক উজ্জ্বল মানবিক অধ্যায় হয়ে আছে।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলির ব্যাখ্যা কেবল শব্দ দিয়ে করা যায় না, অনুভব করতে হয়। যেমন অনুভব করতে হয় শরতের আকাশে হঠাৎ ভেসে ওঠা মেঘ, বর্ষার প্রথম গন্ধ, কিংবা বহুদিন পর শোনা কোনো পরিচিত কণ্ঠস্বর।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কও তেমনই এক অনুভবের বিষয়।একজন তখন বাংলা সাহিত্যের আকাশে প্রায় সূর্যের মতো দীপ্তিমান। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে বিশ্বকবির অভিধা। অন্যজন তখনও তরুণঅস্থির, দুরন্ত, দুঃসাহসী, দুর্বার। তাঁর হাতে কলম, অথচ সেই কলমে যেন তরবারির ঝলকানি। একজনের কবিতায় শান্তির নদী, অন্যজনের কবিতায় ঝড়ের গর্জন। একজন যখন বীণার তারে আঙুল রাখেন, অন্যজন যেন বজ্রের বুক চিরে শব্দ তুলে আনেন।তবু আশ্চর্যএই দুই ভিন্ন স্রোত এসে কোনও এক মোহনায় যেন মিলেছিল!সেই মিলনের নামশ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা।রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মধ্যে কেবল একজন তরুণ কবিকে দেখেননি; তিনি দেখেছিলেন আসন্ন সময়ের স্পন্দন। আর নজরুল রবীন্দ্রনাথের মধ্যে শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত মহাকবিকে দেখেননি; দেখেছিলেন এমন এক আপনজনকে, যার সামনে মাথা নত করা যায়, অথচ নিজের কণ্ঠস্বরটিও অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।এই জায়গাটিই তাঁদের সম্পর্ককে এত অনন্য করে তোলে। যে তরুণ কবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ চিনেছিলেন ভবিষ্যৎ। নজরুলের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে যেন হঠাৎ আসা এক কালবৈশাখী। তাঁর শব্দে ছিল আগুন, তাঁর ছন্দে ছিল মার্চ করার শব্দ, তাঁর কবিতায় ছিল শিকল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা।বিদ্রোহী প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা সাহিত্য যেন এক মুহূর্তে নিজের পরিচিত আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য এক মুখ দেখতে পেল।বল বীরবল উন্নত মম শির!এই উচ্চারণ শুধু একটি কবিতার পঙ্ক্তি ছিল না। ছিল এক যুগের অবদমিত আত্মার বিস্ফোরণ।রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন সেই বিস্ফোরণের ভাষা। তিনি বুঝেছিলেন, তরুণ নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের মতো করে লিখতে হবে না। বরং বাংলা সাহিত্যের প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি রবীন্দ্র-প্রতিষ্ঠার বিশাল ছায়ার মধ্যেও নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র আকাশ তৈরি করবেন। তাঁদের যুগলবন্দী শুধুমাত্র দু-এক কথায় বর্ণনা করা মুর্খামী। রবি যদি বীনার আলাপ হন নজরুল ছিলেন ঝালা। দুইয়ে মিলেই একটি রাগের পূর্ণতা পায়।এই কারণেই নজরুলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের স্নেহে ছিল না কোনো অহংকার।ছিল এক প্রবীণ স্রষ্টার আনন্দযখন তিনি দেখেন তাঁর পরের প্রজন্ম তাঁর চেনা পথ ছেড়ে আরও দূরে, আরও অজানার দিকে হাঁটতে শুরু করেছে।বসন্ত: একজন কবির হাতে আরেক কবির আশীর্বাদ, নজরুল যখন কারাগারে, তখন তাঁর শরীর বন্দি হয়েছিল, কিন্তু তাঁর কবিসত্তা নয়। রাজবন্দি তরুণ কবি অনশনে। শরীর ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এই সংবাদে উদ্বিগ্ন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ও অস্থির হয়ে উঠেছিল।তিনি জানতেন, নজরুলের মধ্যে যে আগুন জ্বলছে, তা সহজে নেভার নয়। তবু একজন স্নেহশীল প্রবীণের মতো তাঁর মন চাইছিলএই তরুণ কবি বেঁচে থাকুন। তাঁর কণ্ঠ যেন থেমে না যায়।এই সময়েই বসন্ত গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এ যেন কেবল একটি বই উৎসর্গ করা নয়। এ একজন প্রবীণ কবির তরুণ কবির হাতে নিজের আশীর্বাদের একটি প্রদীপ তুলে দেওয়া।কারাগারের অন্ধকারে বসে নজরুল যখন সেই উৎসর্গের কথা জানলেন, তখন তাঁর কাছে সেটি ছিল এক অপার স্বীকৃতি। যে সময়ে রাষ্ট্র তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেই সময় বাংলা তথা বিশ্ব সাহিত্যের সর্বোচ্চ আসনে থাকা একজন মানুষ তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করছেন। এই স্বীকৃতির মূল্য কোনো পুরস্কারের চেয়ে কম ছিল না।শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু ভয় ছিল নানজরুলের সৌন্দর্য এখানেইতিনি রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু তাঁর সামনে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দেননি। এবং রবীন্দ্রনাথও সেটিই চেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে নজরুলের বিদ্রোহ কোনো অপরাধ ছিল না। বরং তিনি বুঝেছিলেন, যুগ বদলালে কবিতার ভাষাও বদলায়।একটি প্রজন্ম যে প্রশ্ন করতে চায়, আগের প্রজন্ম যদি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারে, তবে নতুন কবির জন্ম হয়।নজরুল সেই নতুন কবিতিনি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার জন্য লেখেননি; তিনি নিজের সময়কে প্রকাশ করার জন্য লিখেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথ সেই স্বাধীনতাটুকু তাঁকে দিয়েছিলেন। এই উদারতাই রবীন্দ্রনাথকে শুধু বড় কবি নয়, বড় মানুষও করে তুলেছিল।এক ফ্রেমে ধরা পড়েনি দুই মহীরুহআজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে বিস্ময় জাগেদুই কবি দেখা করেছেন, কথা বলেছেন, পরস্পরের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন; অথচ তাঁদের একসঙ্গে থাকা কোনো সুপরিচিত আলোকচিত্র আমাদের হাতে নেই।ইতিহাসের কাছে এ এক অদ্ভুত আফসোসএক ফ্রেমে যদি ধরা থাকত সেই দৃশ্য! এক পাশে শান্ত, শুভ্র, দীর্ঘকায় রবীন্দ্রনাথ। অন্য পাশে তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নজরুল। একজনের মুখে প্রশান্তি, অন্যজনের চোখে আগুন। ক্যামেরার একটি ক্লিক হয়তো ধরে রাখতে পারত বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সুন্দর এক সম্পর্কের দৃশ্যমান স্মৃতি। কিন্তু হয়তো নিয়তি চেয়েছিল, তাঁদের সম্পর্ক ছবি হয়ে না থেকে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকুক।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএক রসিকতার আড়ালে গভীর সত্যনজরুলের বিদ্রোহী শুধু পাঠ করা যায় না, অনুভব করতে হয়। তরুণ কবির কণ্ঠে যখন সেই কবিতা উচ্চারিত হয়েছিল, তখন তা নিছক শব্দ ছিল নাছিল এক বিস্ফোরিত আত্মপরিচয়। রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে নজরুল তাঁর কবিতা পাঠ করছেনভাবলেই দৃশ্যটি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।কবিতা শেষ।এক মুহূর্তের নীরবতা।তারপর প্রবীণ কবির হাসি, মুগ্ধতা, ভালোবাসা।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএই রসিকতার মধ্যে যেন লুকিয়ে আছে এক বিরাট সত্য। নজরুল রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করেননি। তিনি হত্যা করেছিলেন সেই ধারণাকেবাংলা কবিতার একমাত্র ভাষা একটিই। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়েও অন্য এক কণ্ঠস্বর পৃথিবী কাঁপাতে পারে। আর রবীন্দ্রনাথ সেই নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এমন উদারতা বিরল। অভিমানও ছিল, দূরত্বও ছিল।যে সম্পর্ক সত্যিকারের, সেখানে অভিমান থাকে।নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কেও হয়তো সেই মানবিক টানাপোড়েন ছিল। রাজনৈতিক উত্তেজনা, সময়ের অস্থিরতা, সাহিত্যিক মতপার্থক্যসবকিছু মিলিয়ে কখনও কখনও তাঁদের মধ্যে ভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।কিন্তু সেই দূরত্ব কখনও হৃদয়ের দূরত্ব হয়ে ওঠেনি। কারণ রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বিদ্রোহের মধ্যে নিজের প্রতি অসম্মান দেখেননি। আর নজরুলও রবীন্দ্রনাথের উপদেশকে শেষ পর্যন্ত একজন স্নেহশীল প্রবীণের উদ্বেগ হিসেবেই অনুভব করেছিলেন। এই জায়গাতেই তাঁদের সম্পর্কের মানবিক সৌন্দর্য। তাঁরা একমত ছিলেন না সব বিষয়ে। কিন্তু একে অপরকে ভালোবাসতে তাঁদের একমত হওয়ার প্রয়োজন হয়নি।সঞ্চিতা: শিষ্যের অর্ঘ্য১৯২৮ সালে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। নামটির মধ্যেও যেন শ্রদ্ধার এক নীরব সেতু ছিল। রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতাআর নজরুলের সঞ্চিতা। কিন্তু বইয়ের নামের এই সাদৃশ্যের চেয়েও বড় ছিল উৎসর্গের অনুভূতি। যে তরুণ কবি একদিন বিদ্রোহের ভাষায় নিজের পরিচয় ঘোষণা করেছিলেন, সেই তিনিই আবার নিজের সৃষ্টির অর্ঘ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রবীণ কবির দরজায়। এখানে কোনো আত্মসমর্পণ ছিল না। ছিল ভালোবাসা।ছিল বলাআপনাকে অস্বীকার না করেও আমি আমার নিজের পথের কবি।রবির বিদায়: যে শোক ভাষাকে স্তব্ধ করে দেয়১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। বাংলা আকাশ থেকে যেন একটি বিশাল আলো সরে গেল। রবীন্দ্রনাথ চলে গেলেন। এই মৃত্যু ছিল শুধু একজন কবির মৃত্যু নয়। একটি যুগের অবসান। আর সেই সংবাদ যখন নজরুলের কাছে পৌঁছেছিল, তখন তাঁর হৃদয়ের ভিতরে কী ঝড় উঠেছিল, তা কল্পনা করাও কঠিন। যে মানুষটি তাঁর প্রতিভাকে চিনেছিলেন, তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন, তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেনসেই মানুষটি আর নেই। নজরুলের শোক তাই ছিল আপনজন হারানোর শোক।তিনি লিখলেন, গাইলেন, কাঁদলেন।ঘুমাতে দাও শ্রান্ত রবিরেকী আশ্চর্য নিয়তি!যে তরুণ কবির কণ্ঠ একদিন রবীন্দ্রনাথের বিদায়ে বজ্রের মতো গর্জে উঠেছিল, সেই কণ্ঠই বছর ঘুরতেই অসুস্থতার অন্ধকারে স্তব্ধ হয়ে গেল।কণ্ঠ থেমে গেল।স্মৃতি মুছে যেতে লাগল।শব্দ, যে শব্দ দিয়ে তিনি সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়েছিলেন, সেই শব্দই তাঁর নিজের জীবনে একদিন নিঃশব্দ হয়ে গেল।এ যেন ইতিহাসের নির্মমতম কবিতা।দুই কবি, এক মানবতার গানরবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে পাশাপাশি রাখলে প্রথমে চোখে পড়ে তাঁদের পার্থক্য। রবীন্দ্রনাথশান্তি, সৌন্দর্য, প্রেম, প্রকৃতি, আত্মদর্শন। নজরুলবিদ্রোহ, সাম্য, সংগ্রাম, প্রেম, মুক্তি। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখা যায়, তাঁদের গন্তব্য একই। দুজনেই মানুষকে ভালোবেসেছেন। দুজনেই মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। দুজনেই ধর্ম, জাতি, সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখতে চেয়েছেন। তাই তাঁদের পথ আলাদা হলেও আকাশ ছিল এক।রবীন্দ্রনাথ হয়তো বলেছিলেনমানুষের হৃদয়কে সুন্দর করো।নজরুল যেন উত্তর দিয়েছিলেনমানুষের শিকলও ভেঙে দাও।একজন হৃদয়ের দরজা খুলেছেন, অন্যজন কারাগারের দরজা ভেঙেছেন। আর বাংলা সাহিত্য তাঁদের দুজনকেই গ্রহণ করেছে।দুই নক্ষত্রের দিকে তাকিয়েআজ এত বছর পরে যখন আমরা তাঁদের দিকে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল যেন একই আকাশের দুটি নক্ষত্র।তাঁদের আলো এক নয়।তাঁদের পথ এক নয়।তাঁদের ভাষাও এক নয়।কিন্তু অন্ধকারের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রত্যয়ের জায়গাটি একই।একজনের হাতে ছিল বীণা, অন্যজনের হাতে বিদ্রোহের মশাল।একজন বলেছিলেন ভালোবাসতে।অন্যজন বলেছিলেন ভয় না পেতে।একজন মানুষের অন্তরকে মুক্ত করেছেন, অন্যজন মানুষের মেরুদণ্ডকে সোজা করেছেন।আর তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক আমাদের শিখিয়েছেশ্রদ্ধা মানে নিজের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলা নয়; ভালোবাসা মানে একে অপরকে নিজের মতো করে বানিয়ে নেওয়া নয়। সত্যিকারের শ্রদ্ধা হল অন্যের স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়া। সত্যিকারের ভালোবাসা হল অন্যের আলোকে ভয় না পাওয়া। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের আলোকে ভয় পাননি। নজরুলও রবীন্দ্রনাথের মহিমার সামনে নিজের আলো নিভিয়ে দেননি।এই কারণেই তাঁদের সম্পর্ক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শুধু একটি অধ্যায় নয়এ এক অনন্ত মানবিক উপাখ্যান। যেখানে একজন প্রবীণ কবি তরুণ প্রতিভার মাথায় হাত রেখেছেন, আর এক তরুণ বিদ্রোহী কবি শ্রদ্ধায় সেই হাতের উষ্ণতা অনুভব করেছেন। সময় তাঁদের আলাদা করেছে।মৃত্যু তাঁদের দুজনকেই নীরব করেছে।কিন্তু তাঁদের কথারা আজও বেঁচে আছে।রবীন্দ্রনাথের গানে যখন সন্ধ্যা নামে, নজরুলের কবিতায় তখন ভোরের মিছিল শুরু হয়।একজনের সুরে মন শান্ত হয়।অন্যজনের শব্দে রক্ত গরম হয়ে ওঠে।আর আমরা বুঝতে পারিবাংলা সাহিত্যকে সম্পূর্ণ করতে দুজনেরই প্রয়োজন ছিল। একজন না থাকলে অন্যজনের মহিমা হয়তো এত স্পষ্ট হয়ে উঠত না। তাই আজও মনে হয়, দূর কোনো নক্ষত্রলোকের নীরব বারান্দায় হয়তো রবীন্দ্রনাথ বসে আছেন, হাতে তাঁর চিরপরিচিত বীণা। আর পাশে দাঁড়িয়ে নজরুলচোখে সেই দুরন্ত আগুন, হাতে তাঁর অমর মশাল। দুজনেই হয়তো একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।কোনো অভিমান নেই।কোনো প্রতিযোগিতা নেই।শুধু গভীর এক স্বীকৃতিতুমি তোমার মতো করেই এসেছিলে।তাই বাংলা ভাষা আজ এত সমৃদ্ধ।আর সেই কারণেই, তাঁদের ভালোবাসার গল্প শেষ হয় না।প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা সেই গল্প শুনিএকজন কবির স্নেহের গল্প, একজন বিদ্রোহীর শ্রদ্ধার গল্প, আর দুই মহীরুহের মধ্যে জন্ম নেওয়া এমন এক আত্মিক বন্ধনের গল্প,যেখানে বীণার সুর আর বিদ্রোহের মশালদুটিই শেষ পর্যন্ত মানুষেরই জয়গান গায়।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal