• ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রবিবার ২৪ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Lakshmi Puja

রাজ্য

বিসর্জনের মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষে জখম হয় দু'পক্ষের ৫ জন

লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জনের সময় মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের শিবদা গ্রামে। সংঘর্ষের ঘটনায় জখম হয় দুপক্ষের ৫ জন। পুলিশ আটক করে দুপক্ষের বেশ কয়েকজনকে। জখমদের চিকিৎসার জন্য গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তেজনা থামাতে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারস্বরে মাইক বাজিয়ে শিবদা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ঠাকুর নিয়ে বিসর্জনের শোভাযাত্রা বের হয়। সেই শোভাযাত্রা ঠাকুর গয়লাগড়ে বাগদিপাড়ার পুজো মণ্ডপের সামনে আসতেই দুপক্ষই প্রতিযোগিতা করে উচ্চস্বরে মাইক বাজাতে থাকে। যাকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হয়। বচসা ক্রমে রূপান্তরিত হয় সংঘর্ষে।আউসগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালেও ফের দুপক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিএসপি ডিএনটি বীরেন্দ্র পাঠকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়।তাদের উদ্ধার করে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে আউসগ্রাম থানার পুলিশ।

অক্টোবর ১২, ২০২২
রাজ্য

২০ বছর ধরে বাংলার এই জেলায় ১৮ হাত বিশিষ্ট লক্ষ্মী পুজিত হয়ে আসছে

সবে দশভুজার পুজো শেষ হল। এবার লক্ষ্মী পুজো। মালদার বামনগোলায় কুড়ি বছর ধরে অষ্টভুজা লক্ষ্মীর পুজো নিয়ে উৎসাহের অন্ত নেই। কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে ১৮ হাত বিশিষ্ট দেবী লক্ষ্মী পূজিত হন। বামনগোলা ব্লকের গাঙ্গুরিয়া সারদা তীর্থ আশ্রমে এই পুজোকে কেন্দ্র করেই ভিড় জমান ভক্তরা। সকালে মহালক্ষ্মী রূপে এবং রাতে কোজাগরী লক্ষ্মী রূপে পূজিত হবেন দেবী।স্বামী গ্রীয়াকানন্দজি মহারাজ জানিয়েছেন, ১৯৯৮ সালে এই আশ্রমের প্রতিষ্ঠা হয়। ২০০০ সাল থেকে তিনি ১৮ হাত বিশিষ্ট মহালক্ষ্মী পুজোর সূচনা করেন। তবে এখানে দেবী সকালে এক রূপে ও রাতে আরেকরূপে পুজিত হয়ে আসছেন। পুজো দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আশ্রমে আসেন।আশ্রম কর্তাদের মতে, দেবী এখানে লক্ষ্মী, মা দুর্গা, চণ্ডীসহ নানা রূপে পূজিত হয়ে থাকেন। সেই কাল্পনিক চিন্তাধারায় দেবীকে এখানে ১৮ হাত বিশিষ্ট হিসাবে পুজো করার প্রচলন হয়েছে।

অক্টোবর ০৯, ২০২২
রাজ্য

দুর্গাপুরের যৌনপল্লীর স্যাঁত স্যাঁতে গলির ঘরে ঘরে চলছে লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ

দুর্গাপুজো শেষ হলেও পুজোর রেশ চলতেই থাকে। পরিবার নিয়ে শ্বশুর বাড়ি ফিরে গেলেও প্রথম পুজো হয় মা লক্ষ্মীর। এই সময় কোজাগরী লক্ষ্মীর পুজো হয় বাংলায়।সাধারণ ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন চলছে। রবিবার এই পুজোর আয়োজন করেছিল দুর্গাপুরের কাদারোডের পতিতালয়ের যৌনকর্মীরাও। পরিবারের শান্তি কামনায় দুর্গাপুরের এই যৌনপল্লীতেও পূজিত হচ্ছেন মহালক্ষ্মী। ফল কাটা থেকে আলপনা সবই করেন যৌনকর্মীরা নিজেরাই। এতদিন যাদের অচ্ছুত বলে সামাজিক উৎসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, এবারে সেই যৌনপল্লীর মেয়েরা নিজেরাই পুজোয় ফল কাটেন৷ নিজেরাই ভোগ রান্না করেন, নিজেদের ইচ্ছামত পুজো করেন আবার পুষ্পাঞ্জলি দেন।স্বভাবতই নিষিদ্ধ পল্লী এলাকায় দুর্গাপুজোর পর আবারও ধুমধাম করে ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুজো। আলোকবিহীন স্যাঁত স্যাঁত গলির আনাচে কানাচে তাই এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ। আলোর ঝলকানি। তাঁরা জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়লে মনে শান্তি পান। তাঁদের পাঁচালী পড়তে ভালো লাগে।

অক্টোবর ০৯, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে দেরিয়াপুরে 'মণ্ডল পরিবারের' লক্ষ্মী পুজো এবছরে শতবর্ষে পদার্পন করলো

আজ রবিবার ৯ অক্টোবর ২০২২ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। দেবী লক্ষ্মী হলেন শান্তি, শ্রী ও সম্পদের প্রতীক। বাংলার ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর আয়োজন করা হয়। আমবাঙালীর মনে করে যে বাড়িতে মা লক্ষ্মীর বাস, সেখানে কখনও কোনোদিন অভাব আসবে না। সাধারনভাবে বৃহস্পতীবার কে লক্ষ্মীবার বলে মানা হয়। ওইদিন বাংলার ঘরে ঘরে নিরামিষ খাওয়ার চল। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের ধারণা ভক্তি ভরে রীতিনীতি মেনে লক্ষ্মীদেবীর পুজার্চনা করা হলে, দেবীর কৃপায় সংসার সর্বদা ধন-সম্পদের অভাব থাকবেনা।লক্ষ্মী মণ্ডপ ও প্রতিষ্ঠাতা কেদারনাথ মণ্ডলদক্ষিণবঙ্গে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর চল সবথেকে বেশী দক্ষিণ দামোদর এলাকায়। সেখানকার রায়না, আনগুনো, শ্যামসুন্দর, মেরাল, বোখরা, দেরিয়াপুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি লক্ষ্মী পুজোর ধুমধাম লক্ষ্য করা যায়। এবছর পূর্ব বর্ধমানের দেরিয়াপুরে মণ্ডল বাড়ির লক্ষ্মী পুজো ১০০ বছরে পদার্পণ করলো। ১৯২৩ এ মণ্ডল বংশের কেদারনাথ মণ্ডল এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পর এই পুজো দ্বায়িত্ব সামলেছেন গীতাপদ মন্ডল, শান্তিময় মন্ডল ও হরিনারায়ণ মন্ডলেরা। কালের নিয়মে একান্নবর্তী পরিবার ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ছোট হয়ে এলেও দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা ধূমধামের সাথে দেরিয়াপুরের মণ্ডল পরিবার এখনও একসাথেই করে আসছেন।বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সুজিত মণ্ডলপরিবারের সদস্য সুমিত মণ্ডল জানান, বর্তমানে পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮০ জন, তাঁদের অধিকাংশই কর্মসুত্রে গ্রামে না থাকলেও পুজো উপলক্ষে সকলে এই দুদিন একত্রিত হন দেরিয়াপুরে। পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় কুটুম্ব সকলে মিলে প্রত্যেক বছর প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন মানুষ পুজোর পরের দিন দেবীর ভোগ গ্রহণ করেন। সুমিত জানান এই পুজোর নানা দ্বায়িত্ব বাড়ির বড়দের সাথে তিনি ছাড়াও পরিবারের সদস্য সন্দীপন, স্বস্তিক, অনিরুদ্ধরাও ভাগ করে নেন। তাঁরা জানান, এবছরে ১০০ বছর উদযাপনের জন্য আত্মীয়সজন, বন্ধুবান্ধব মিলে প্রায় ৮০০ জনের বেশী মানুষ এই পুজোতে আমন্ত্রিত। তিনি আরও জানান শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে পরিবারের তরফ থেকে ১৫০ জন মানুষকে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

অক্টোবর ০৯, ২০২২
রাজ্য

রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো, আকাশছোঁয়া দর ফল-সবজির

রাত পোহালেই লক্ষ্মীপুজো। এটা কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। পূর্ব বাংলা থেকে আসা মানুষের মধ্যে আগে বেশি প্রচলন থাকলেও এখন এ পুজো বাংলার প্রতি ঘরে ঘরে। এদিন সকাল থেকেই তাই বর্ধমানের কার্জনগেট, বি সি রোড, নীলপুর, বাজেপ্রতাপপুর বা কালনাগেট, রথতলা বাজারে মানুষের ভিড়। গতকাল কার্ণিভালের জন্য শহর ছিল অবরুদ্ধ। আজ তাই বাজারে অনেক বেশি মানুষ। নিয়ম মেনে ফল আর ঠাকুর কিনছেন তাঁরা। এছাড়াও যাদের বাড়ি খিচুড়ি হবে তারা কিনছেন চাল, ডাল, সবজি।এবারে ফলের বাজার বেশ কিছুটা চড়া। ক্রেতারা বলছেন, প্রতিটা ফলের দাম আকাশছোঁয়া। আপেল, লেবু, পানিফল, নাসপাতি থেকে আখ সবের দাম বেশি। শাক আলু বা আনারসের দাম সবচেয়ে বেশি। তাদের কথায়, বচ্ছরকার দিনে ঠাকুরকে দিতে হয়। নিজেদেরও খেতে ইচ্ছে হয়। সেই সাধ আর সাধ্যের ফারাক বেড়েই চলেছে। তাই বাধ্য হয়ে কম পরিমাণেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।অন্যদিকে ফল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দাম বেশি থাকায় তাদেরও বিক্রি তুলনায় কম। কয়েকটি ফলের দাম তেমন বাড়েনি। যেমন, আপেল, মুসাম্বি লেবু। ঠাকুর বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রঙ কিংবা মুকুটের দাম বেড়েছে। তাই তাঁরা বাধ্য হয়েছেন দাম বাড়াতে।

অক্টোবর ০৮, ২০২২
নিবন্ধ

স্নেহময়ীর সংসার (ছোট গল্প)

সীমা আজ তুই বুটিক যাবি না তো? কি যে বলো মা! কাল লক্ষ্মী পূজো আজ কয়েকজন বড় কাস্টমার আসবে; আমি না থাকলে চলে?তাহলে পূজোর বাজার কখন হবে? ঠাকুর আনতে হবে।সব হবে জননী, এই সীমা যতক্ষণ আছে তোমার সব হবে। নো চিন্তা। মোটামুটি দুপুর ১টার মধ্যে সব কাজ গুটিয়ে ফেলব। তুমি ততক্ষণ রীনাদিকে নিয়ে আর দুচার জন মেয়ে কে নিয়ে পূজোর জায়গাটা ঠিক করে নাও। সাজানোর জিনিসপত্র তো আমাদের ঘরেই আছে। আর যেসব লাগবে সেসব কেনা আছে।তুমি ঠাকুরমশায়ের কাছ থেকে যে ফর্দ করে ছিলে সেটা সঙ্গে নিতে ভুলো না যেনো।হ্যাঁ রে হ্যাঁ মনে করে নিয়ে নেব ঠিক।কিন্তু নাড়ু, মুড়কি এইসব আমি বাড়িতে বানাবো বলে রাখলাম। কিন্তু কখন করবো? ভাত খেয়ে তো ওসব করা যাবে না।কালকেই হবে ওসব। দুদিন উপোস করার তো কোন প্রয়োজন নেই। কাল সবাই মিলে করে নেবো। তুমি শুধু বলে দেবে কিভাবে কি করতে হয়।তাই হবে; তুমি যখন বলে দিয়েছ তার তো অন্যথা হবার জো নেই। বলে হাসেন স্নেহময়ী দেবী। সীমাকে বলেন যা রেডি হয়ে নে, রীনা কে বলি তোর জলখাবার দিতে।ওকে! বলে সীমা বাথরুমে ঢুকল আর স্নেহময়ী দেবী ঢুকলেন রান্না ঘরে।এই বাড়িতে সীমারা তিনজন থাকে, সীমা, স্নেহময়ী দেবী, আর রীনা। বছর পাঁচ আগে সীমা রীনা কে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।ওরা তখন অন্য জায়গায় থাকতো। মা, মেয়ে মিলে হাতে তৈরি নানারকম ঘরসজ্জার জিনিস, শাড়ির কাজ, বিভিন্ন অলংকার বানিয়ে বিক্রি করত, সীমার কিছু চেনা মানুষ জনের মাধ্যমে। সেই সময় একদিন রাতে সীমা বাড়ি ফেরার পথে দেখে একজন মহিলা বসে কাঁদছে; রাস্তায় লোকজন খুব বেশি নেই, যারা আছে তারা না দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। সবাই ঝামেলার ভয় পায়। সীমার মনে হলো মহিলা এই এলাকার নয়, তাই এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইল কি হয়েছে। মহিলা যা বলল তার অর্থ তার দাদা তাকে ওখানে বসিয়ে রেখে আসছি বলে চলে গেছে।সীমা আরও কিছু কথা বলে জানতে পারে কি ঘটেছে।মহিলা স্বামী পরিত্যক্তা,নিঃসন্তান দাদার সংসারে থাকে। সুন্দর বনের দিকে একটা গ্রামে বাড়ি। দাদা বোনকে ভালোবাসলেও বৌদি একদম সহ্য করতে পারে না। বৌদির ভয়ে কিছু বলতেও পারে না বোনের হয়ে। এই কদিনে অশান্তি আরও বেড়েছে; কারণ মহিলা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে সংসারের কাজ কিছু করতে পারছিল না। আজ একটু সুস্থ হয়েছে তাই দাদা ডাক্তার দেখানোর কথা বলে শহরে নিয়ে এসেছে।এসব কথা শুনে সীমা পাশে চায়ের দোকানে জিজ্ঞাসা করে মহিলা কতক্ষণ ওখানে বসে আছে?দোকানদার বলে সেই বিকেল থেকে বসে আছে। সীমা তখন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। তখন থেকেই ওই মহিলা মানে রীনাদি ওদের সবসময়ের সঙ্গী।সীমার কাছে হাতের কাজ শিখে রীনা ও ওদের সাথে যোগ দিয়েছে। সীমাকে নিজের ছোট বোনের মত ভালোবাসে রীনা।সীমা বাথরুম থেকে বেরতেই রীনা বলল দিদি নাও তোমার খাবার রেডি তুমি খেয়ে নাও।হ্যাঁ খাচ্ছি বলে সীমা রেডি হতে ঘরে গেল।খেতে খেতে সীমা রীনাকে বলে দিল দুপুরে ও ফোন করলে রীনা যেন মা কে নিয়ে দোকানে চলে যায়।তুমি দুপুরে কিছু খাবে না? জিজ্ঞাসা করে রীনা।সে দেখা যাবে। তোমরা দুপুরে বারোটার মধ্যে খেয়ে নিও। একটু বিশ্রাম না নিলে মা বেড়োতে পারবে না।-----o-----ঠিক দুপুরে কাজের মাঝেই সীমা ফোন করে মনে করিয়ে দেয় একটার সময় আসতে হবে। সীমা কাজের মধ্যে ডুবে যায়। একবছর হলো এখানে বড়ো করে দোকানটা খুলেছে। এর আগে বাড়িতে বাড়িতে গিয়েই অর্ডার নিয়ে কাজ করতো। শহরের মহিলাদের মধ্যে যারা হাতে তৈরি জিনিস পছন্দ করে তাদের খুব পছন্দের এই স্নেহময়ীর সংসার। হ্যাঁ এটাই নাম দিয়েছে সীমা। হাতে তৈরি বিভিন্ন রকম গয়না, নানারকম কাজ করা পোষাক; ঘর সাজানোর বিভিন্ন রকম সামগ্রী এখানে পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন রকম আচার, বড়ি, মা ঠাকুমার সময়কার নানাবিধ খাবারও এখানে পাওয়া যায়। লক্ষ্মী পূজো উপলক্ষে অনেক নাম করা বাড়ি থেকে নাড়ু, মোয়া মুড়ি ইত্যাদি ঘর সাজানোর জিনিসপত্র, শাড়ির অর্ডার এসেছে। সেই সব কারখানা থেকে দোকানে এনে আজ কাস্টমারদের দেবে বলে সীমার দোকানে আসা।সীমা একজনকে অর্ডারের মাল বুঝিয়ে দিচ্ছে এমন সময় একজন বয়স্ক মহিলা আর সঙ্গে একজন অল্পবয়সী বৌদ্ধ দোকানে এটা ওটা দেখতে থাকেন। দেখতে দেখতে মহিলা হঠাৎ সীমার কাছে এসে বলেন...আরে তুমি সীমা না? সান্যাল বাড়ির বৌ! তুমি বুঝি এখানে কাজ করো? শুনেছিলাম......বলে কিছু একটা বলতে যাবেন এমন সময় দোকানের অন্য একজন সীমাকে ডাকে দরকার আছে বলে।যাই, বলে চলে গিয়ে সীমা ওই মহিলার হাত থেকে রেহাই পায়।মহিলা তখন ঠোঁট উল্টে বলেন কি জানি বাবা? ঠিক চিনলাম তো!সীমার মনটা হঠাৎ বিষন্ন হয়ে গেল। ওর ও চেনা লাগে ভদ্রমহিলাকে কিন্তু ঠিক মনে করতে পারে না, এমন সময় ফোন বেজে ওঠে... মা, তুমি এসে গেছো? একটু ভিতরে এসে বসো আমি ১৫ মিনিটের মধ্যে বেরোচ্ছিকাজ সেরে বাজারে বেরোয় ওরা। যেখান থেকে ওদের বাড়ির ঠাকুর নিত সেখানে আসে। জায়গাটা দেখে মা কেমন বিহ্বল হয়ে পড়ে খেয়াল করে সীমা। মায়ের চোখ যেন ছলছল করে ওঠে। সেটা খেয়াল করে সীমা বলে ওঠে দেখো, কোন দোকান থেকে কি নেবে; নিজের মনের মতো করে বাজার করো।ঠাকুর কোথা থেকে নেবে? বলে সীমা স্নেহময়ী র দিকে তাকাতেই ওনার পিছনদিকে একটু দূরে যাকে দেখলো তাকে দেখবে এখানে আশা করেনি সীমা। এই ক বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে তার চেহারায় তবুও চিনতে অসুবিধা হচ্ছে না। একটু যেন মনের কোথাও টনটন করে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে ওখান থেকে সরে গেল মাকে নিয়ে।-----o-----রাত প্রায় বারোটা, সীমা ঘরের লাগোয়া বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। আকাশে চতুর্দশীর চাঁদ, চারিদিক জ্যোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে । সীমার খুব পছন্দের এই সময় কিন্তু আজ পারছে না জ্যোৎস্নার স্রোতে গা ভাসাতে। এত আলোতেও ওর মনের আকাশ আজ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। ও ভাবছে কেন মানুষের জীবনের এত পরিবর্তন হয়! যদি এমন কিছু থাকত যার সাহায্যে আবার ফিরে পাওয়া যেত ছোটোবেলার দিনগুলো।মা, বাবা আর দাদার আদরের দুলালী সীমানা সেনগুপ্ত আজ তাহলে এত কষ্ট পেত না। খুব আদরের ছিল ও। ওরা দুই ভাইবোন - সীমান্ত আর সীমানা। সীমান্ত অত্যন্ত মেধাবী ছিল আর সীমানা ছিল মধ্য মেধার মেয়ে। তবে সীমানা মানে সীমার বিশেষ গুন ছিল ও খুব ভালো আঁকতে পারত। ছোটবেলা থেকেই সখ ছিল ড্রেস আর জুয়েলারী ডিজাইন করবে।দাদার আদরের ছোটো বোন ছিল। কিন্তু সেই দাদাকে হঠাৎ একটি অ্যাক্সিডেন্টে হারিয়ে ফেলে। আর তারপর থেকেই বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে। সীমা তখন কলেজে পড়ে।এরপর থেকেই যেন জীবনের আনন্দের দিন গুলি শেষ হতে শুরু করে। জীবন উল্টো স্রোতে বইতে থাকে। যে বাবা মা চাইত সীমা নিজের পায়ে দাঁড়াবে তারাই বিয়ের জন্য উঠে পরে লাগলো। ওর তখন ফাইনাল ইয়ার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের নেমন্তন্নে গিয়েছিল, সেখানে ওকে দেখে পছন্দ হয় ওই এলাকার নামকরা ব্যবসায়ী অসীম রায়চৌধুরীর। তার একমাত্র ছেলের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব আসে।সীমার বাবা মা প্রস্তাবটা আনন্দের সঙ্গে ও আগ্রহের সঙ্গে গ্রহন করেন। আর করবে নাই বা কেন; প্রত্যেক মা বাবা যেটা চায় মেয়ের জন্য ভালো ঘর ও সুদর্শন বর সেদিক থেকে এ যেন মেঘ না চাইতেই জল।বিশাল হার্ডওয়্যারের ও বিল্ডিং মেটেরিয়ালের ব্যবসা। দেখতেও সুন্দর অরিন। হ্যাঁ ওটাই পাত্রের নাম।যাইহোক সীমা সব স্বপ্ন বুকে চেপে এক গোধূলি লগ্নে অরিন রায়চৌধুরীর সাথে নিজের জীবন শুরু করেছিল। শ্বশুর বাড়িতে এসে প্রথমদিনেই বুঝতে পেরেছিল শাশুড়ি নামক মানুষটির কোনো গুরুত্ব নেই এই বাড়িতে। এ বাড়িতে সব চলে শ্বশুর মশায় ও তার বোন অনীতা অর্থাৎ পিসি শাশুড়ির কথায়। যদিও তিনি বিবাহিত তবুও দাদার উপর তার প্রভাব বড্ড বেশি। আর আছে সীমার ঠাকুমা শাশুড়ি, যে প্রায় অথর্ব কিছুই পারে না ছেলের বউ ছাড়া তবুও তাকে ভৎর্সনা করতেও ছাড়ে না। সীমার এসব খুব খারাপ লাগে কিন্তু কিছু বলত পারে না। যতই হোক নতুন বউ। আর ও সবকিছু না ঠিক মত জেনে বুঝে কিছু যে করতে নেই সেটা খুব ভালো করে জানে ও। তাই ও চুপচাপ থাকে। ওকে কেউ কিছু বলেনা। শুধু পিসি শাশুড়ি আসলে একটু সমস্যা হয় উনি সব বিষয়ে মতামত প্রকাশ না করে পারেন না। আর ঠেস দিয়ে কথা শোনানো যেন ওনার সহজাত। তবু ও কিছু বলেনা ওর রুচিতে বাধে।শ্বশুর বাড়িতে বেশ কয়েকমাস কেটে গেছে। সীমা এর মধ্যে একদিন অরিনকে ওর স্বপ্নের কথা বলে ছিল। অরিন শুনে হেসে বলেছিল ওসব ভুলে যাও। এখন তুমি আমাদের বাড়ির বৌ। আমাদের বাড়ির বৌ রা বাইরে গিয়ে কাজ করেনা। সীমা খুব অবাক হয়ে ছিল অরিনের মুখে এরকম কথা শুনে। এই যুগের ছেলে হয়েও কিভাবে এই ধরনের চিন্তা ভাবনা পোষণ করে!অরিন আরও বলে আমাকে যা বলেছ বলেছ আর যেন কাউকে কিছু বলতে যেওনা।না, সীমা আর কাউকে কখনো বলেনি। তবে আঁকা ও ছাড়তে পারেননি। আঁকতে ও শুধু ভালোই বাসে তা নয়, ওর আঁকা দিয়েই নিজের পরিচয় তৈরি করতে চায়। ওর বাবার কথা মত ও বিশ্বাস করে মনের ইচ্ছা প্রবল হলে সেটা পূরণ হয়।এইভাবে ওর জীবন বইতে থাকে শ্বশুর বাড়িতে। ও চেষ্টা চালায় সব রকম ভাবে মানিয়ে চলতে। রান্না ঘরে কাজ করতে গিয়ে শাশুড়ি মায়ের কাছে স্নেহের পরশ পায়। আর বোঝে কিভাবে মুখ বুজে সবার সুখ সুবিধার খেয়াল রাখেন মানুষটি। অথচ পরিবর্তে কারও কাছে প্রাপ্য সম্মান টুকুও পান না। পান থেকে চুন খসলেই শুধু গঞ্জনা জোটে। ধীরে ধীরে এর কারণ বুঝতে পারে। ওনার শ্বশুর মশায় গরীব বন্ধুর মেয়েকে পছন্দ করে এনেছিলেন ওনার গুণ দেখে। দেখতে অতি সাধারণ, লেখাপড়াও বেশী দুর করেননি। তাই ওনার তথাকথিত শিক্ষিত স্বামী কোনো দিন ওনাকে সঠিক মর্যাদা দিতে পারেন নি।সীমার শ্রদ্ধা হয় না দেখা দাদা শ্বশুরের প্রতি। উনি বুঝে ছিলেন কিভাবে সংসার ধরে রাখতে হয় সেটা মা পারবেন। তাই উনি বড়ছেলের বৌ করে এনেছিলেন শাশুড়ি মাকে।সীমার সঙ্গে শাশুড়ি মায়ের কথা খুব বেশি হয়না। তবুও বোঝে মানুষটা কতটা মমতাময়ী। একদিন দুপুরে সীমা নিজের ঘরে বসে একটা হারের ডিজাইন করছে, বাড়ি তখন মোটামুটি ফাঁকা। শাশুড়ি মা আসেন...সীমা কী করছো মা? বলেন দরজার বাইরে থেকে।সীমা তাড়াতাড়ি খাতা গুটিয়ে মা ভেতরে আসুন বলে বিছানা থেকে নামতে যাবে......না না তোমাকে নামতে হবে না। তুমি শুয়ে থাকো। সকাল বেলা বললে শরীরটা ভালো নেই তাই দেখতে এলাম।এখন ঠিক আছি। সকাল বেলা একটু গা ম্যাজম্যাজ করছিল। আপনি বসুন না।তুমি কি কিছু লিখছিলে? খাতার দিকে তাকিয়ে জানতে চান।না মানে লিখছিলাম না, আঁকছিলাম।তুমি আঁকতে জানো? কই দেখি যদি তোমার আপত্তি না থাকে কি আঁকছিলে দেখি।না না আপত্তি থাকবে কেন? এইতো দেখুন না বলে এগিয়ে দেয় খাতাটা।বাঃ... চমৎকার ডিজাইন করোতো তুমি। এমনিই আঁকলে? আচ্ছা তোমার বিয়ের গয়না গুলো কি তুমি নিজে ডিজাইন করেছ?মাথা নিচু করে থাকায় সত্যি টা বোঝেন উনি। বলেন এই গুণ কোনো কাজে লাগাতে পারবে না। বলে মুখটা কালো করেন।সীমা তখন বলে আসলে মা আমার দাদার মাধ্যমে এই ডিজাইনগুলো দু এক জন জুয়েলারের কাছে এগুলো পাঠাই।খুব সাবধান এসব যেন কেউ না জানে। এ বাড়িতে এসব জানতে পারলে কুরুক্ষেত্র বেধে যাবে। বলে উনি উদাস হয়ে যান। মনে হয় যেন কোনো কষ্ট চেপে রাখছেন।এইভাবে শাশুড়ি আর বৌমার মধ্যে সখ্যতা শুরু। দুপুর গুলো গল্প করে এঁকে কাটে। যদিও শাশুড়ি মা বেশীক্ষন বসতে পারেন না তার শাশুড়ির যন্ত্রনায়।এইভাবে দুবছর কেটে যায়। সীমার পিসি শাশুড়ি আর ঠাকুমা শাশুড়ি বাচ্চার জন্য পাগল করতে থাকে। কিন্তু শাশুড়ি মা কখনো কিছু বলেন না। এরমধ্যে সীমা আবিষ্কার করে ওর শাশুড়ি মায়ের গুনাবলী। খুব ভালো গান জানে, ভালো কবিতা লেখেন, আর দারুণ সেলাই জানেন।সীমার সঙ্গে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয় ওর শাশুড়ি মায়ের। চলতে থাকে দিন।ঠিক বছর দশ আগে লক্ষ্মী পূজার দুবার দিন আগে দুপুর বেলা ওর শাশুড়ি মা কে বলে বেরোয় ওর দাদার বন্ধু অমিতের সাথে দেখা করতে ওদের বাড়িতে। অমিত আর সুনন্দা দুজনেই সীমাকে খুব ভালোবাসে। ওদের বাড়িতে সীমা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়িতে খবর দিতে পারে না।সন্ধ্যাবেলা দোকান থেকে বাড়ি ফিরে সীমার শ্বশুর আর অরিন যখন সীমার খোঁজ করে তখন সীমার শাশুড়ি মা বলেন ও বাপের বাড়ি গেছে ওর মায়ের শরীর খারাপ শুনে।অরিন ফোন করে সীমাকে কিন্তু পায় না। রাত বাড়তে থাকে তখন ওর বাপের বাড়িতে ফোন করে জানতে পারে সীমা যায়নি ওখানে। ঠিক সেই সময় অমিতের সঙ্গে সীমা বাড়িতে ঢোকে।ব্যস শুরু হয় শ্বশুর, স্বামী, ঠাকুমা শাশুড়ির অকথ্য ভাষা। যা ও কখনো ভাবতেও পারেনি। ওকে কিছু বলার সুযোগ দেয় না উপরন্তু অমিতকে অপমান করে ওর স্বামী। ওর শ্বশুর আর অরিন দুজনেই ওকে তো নানা কথা শোনায় ওর শাশুড়ির গায়ে হাত তোলেন। অরিন দাঁড়িয়ে দেখে অথচ কোনো প্রতিবাদ করে না। সীমা সেটা মেনে নিতে পারে না।না আর সহ্য করতে পারে নি সীমা। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে থাকতে পারেননি ওর শাশুড়িও...... সেদিন জীবনে প্রথম রুখে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়ে বেরিয়ে আসেন সীমার হাত ধরে।সেদিন থেকেই সীমার যুদ্ধ শুরু। ওর এই যুদ্ধে পাশে পেয়েছে ওর মা বাবাকে আর অমিতদা সুনন্দা বৌদিকে। আর সীমার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন সীমার শাশুড়ি মা স্নেহময়ী দেবী। অমিত তো সীমার ডিজাইন বিক্রির ব্যবস্থা করেছিল সেটা আরও বাড়িয়ে দেয়। তার সাথে ওরা নিজেরা নানারকম জুয়েলারী তৈরি করতে লাগল। সীমার বেশ কিছু টাকা আগে থেকেই জমেছিল অমিতের সাহায্যে ব্যাঙ্ক থেকে কিছু লোন নিয়ে ছোটো করে একটা বুটিক খুললো। সুনন্দা যে স্কুলে পড়ায় সেখানে ওদের কাজ নিয়ে গিয়ে দেখায়। দিদিমনিদের খুব পছন্দ হয়। এইভাবে একটু একটু করে পরিচিত হতে থাকে ওদের কাজ। এরপর ওরা নিজেরাই দুঃস্থ মেয়েদের শেখাতে শুরু করে, ওদের আশ্রয় দেয়। ওর বাপের বাড়িতে ই শুরু করেছিল। আজ সীমার বাবা মা কেউ নেই। ওই বাড়িতেই ও গড়ে তুলেছে ওর ওয়ার্কশপ আর মেয়েদের থাকার জায়গা। আজ সীমার নিজের পায়ে দাঁড়াবার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আজ এই স্নেহময়ীর সংসারে সদস্য সংখ্যা চল্লিশ। সব সামলায় সীমা। আর ওয়ার্কশপে কিভাবে কাজ হবে কি হবে তার তদারকি করেন স্নেহময়ী দেবী। সীমা আজ সফল মহিলা।কিন্তু মনের কোনে একটা ঘরের স্বপ্ন সবমেয়েরই থাকে। সেটা সীমারও ছিল। আর অরিনকে ভালোবেসে ফেলেছিল। তাই আজ হঠাৎ অরিনকে দেখে বুকের ভেতর গোপন ব্যথাটা জেগে ওঠে।মনে হয় মানুষটা যদি একটু স্বাবলম্বী হতো বাবার হাতের পুতুল না হয়ে তাহলে হয়তো স্নেহময়ীর আসল সংসারটা সুন্দর হতো আর এই পরিচয়টা ওখান থেকেই গড়ে উঠত।সীমার চোখের জল যেন আজ বাঁধ মানছে না। এরমধ্যে কখন স্নেহময়ী দেবী এসে দাঁড়িয়েছেন সীমা বুঝতে পারে নি।ওর মাথায় হাত রাখেন... আমার ছেলেটাও ওর বাবার মত ঠুনকো আভিজাত্যের অহংকার নিয়েই রইলো। তোকে চিনতে পারলোনা। আমিই মনে হয় তোদের জীবনটা সাজাতে দিলাম না।মা একদম এসব কথা বলবে না। তুমি কেন নিজেকে দায়ী করছো! তোমার ছেলের মেরুদণ্ডটাই তৈরি হয়নি।সব বুঝলাম, কিন্তু তোর চোখে জল কেন? আজ বাবুকে দেখে কষ্ট হচ্ছে? আজও ভুলতে পারিসনি ওকে?অবাক চোখে তাকায় সীমা ওনার দিকে। আজ আবার নতুন করে চিনলো মাকে।সীমা জড়িয়ে ধরে ওর মাকে। আজ ওরা আর শাশুড়ি বৌমা নয়। সত্যি মা মেয়ে।স্নেহময়ী দেবী বলেন, আজ আমার সত্যি করে সংসার গড়ে উঠেছে। আমি আজ কতজনের মা। সব তোর জন্য সম্ভব হয়েছে। আজ আমরা কোন দুঃখ করবো না। আজ আমার লক্ষ্মী পূজো সার্থক।শ্রীমতি রাখি রায়

এপ্রিল ০৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

Maadurima : জনতার কথায় আড্ডায় মাধুরিমা চক্রবর্তী

লক্ষ্মীপুজো কেটে গেল। সামনে কালীপুজো। আগামী দিনে কী প্ল্যান রয়েছে জানালেন জীবন সাথী ধারাবাহিকের অভিনেত্রী নিধি বসু অর্থাৎ মাধুরিমা চক্রবর্তী।জনতার কথাঃ দুর্গাপুজোর পর কি আর ছুটি পাওয়া গেছে?মাধুরিমাঃ অসুস্থতার কারণে আমি লক্ষ্মীপুজোয় ব্রেক পেয়েছি। তবে সামনাসামনি কোনওরকমভাবে ব্রেক পাওয়ার কোনও জায়গা আছে আমার মনে হয় না। আমি একটা ভাইটাল ক্যারেক্টারের সঙ্গে জড়িত। একটা রেসপনসিবিলিটি তো রয়েছে।জনতার কথাঃ দর্শকদেরও তো চাহিদা বেড়ে গেছে। যার চরিত্র বেশি জনপ্রিয় তাকে বেশি করে দেখতে চায়।মাধুরিমাঃ অ্যাবসোলিউটলি। দেখো প্রেশার কিন্তু সব কাজেই থাকে। বাট এটাই তো আমাদের আলটিমেট পাওনা। লোক শুনতে চাইছেন, নেগেটিভ ক্যারেক্টারটাকেও এত ভালোভাবে পজিটিভলি দেখছেন।জনতার কথাঃ বাইরে বেরোলেও তো দর্শকদের কমেন্টস পাও।মাধুরিমাঃ যখন রাস্তাঘাটে বেরোই লোকজন ডেকে বলেন ভালো লাগে না তোমাকে অনস্ক্রিন দেখে অফস্ক্রিন আমি তোমার ফ্যান। সেগুলোই তো বড় পাওনা আমার। এগুলোই ভীষণভাবে ভালো লাগে।

অক্টোবর ২১, ২০২১
রাজ্য

Kojagori: নিশীথে বরদা লক্ষ্মীঃ জাগরত্তীতিভাষিণী

আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। শরৎ পূর্ণিমার দিনে বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো করা হয়। দুর্গাপুজার কয়েকদিন বাদেই আশ্বিন মাসের শেষের পূর্ণিমাতে যে লক্ষ্মী পুজো পালিত হয়, তাকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো বলা হয়। এই পুজা কোজাগরী নামে প্রচলিত হলেও অনেকেই এই কোজাগরী / কোজাগর কথার অর্থ জানেন না।কোজাগরী মানে কি?শরৎ-কালের পূর্ণিমার রাত্রিই সাধারণ ভাবে বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল রাত্রি বলে ধরা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাত্রে ধনসম্পদ, প্রাচুর্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির দেবী মা-লক্ষ্মী স্বর্গের বিষ্ণুলোক হতে ধরাধামে আসেন এবং মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কে জেগে আছ? এই প্রশ্ন করেন। নিশীথে বরদা লক্ষ্মীঃ জাগরত্তীতিভাষিণী।তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করোতি যঃ।।নিশীথে বরদাত্রী লক্ষ্মীদেবী কে জেগে আছ বলে সম্ভাষণ করেন। যে সেই রাতে লক্ষ্মীব্রত করে জেগে থাকে দেবী তার কাছ থেকে সাড়া পান এবং তার গৃহে প্রবেশ করে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করেন। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথি এবং ঐ তিথিতে অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপূজাকে যথাক্রমে কোজাগরী পূর্ণিমা এবং কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বলে অভিহিত করা হয়। কথিত আছে লক্ষ্মী দেবী ধরায় এলে, প্যাঁচা আনন্দিত মনে সারারাত কোলাহল করে বেড়ায় দেবীর সাথে। ভোরের আলো দেখে প্যাঁচা গাছের কোটরে ঢুকে পড়লে কাঠঠোকরা ওই কোঠর থেকে বেরিয়ে যায়। কাঠঠোকরাকে দেখে দেবী ভাবলেন ইনিই তাঁর বাহন। খুশি মনে মুকুট দিলেন কাঠঠোকরার মাথায়। জন্ম হলো এক চাকমা প্রবাদের- প্যাঁচায় কুড়কুড়ায়,খোড়ইল্যা সোনার তুক পায়।বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, কোজাগরী শব্দটির উৎপত্তি কো জাগতী থেকে। এর আক্ষরিক অর্থ কে জেগে আছো? আরও কথিত আছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সকলকে আশীর্বাদ দেন। কিন্তু যার বাড়ির দরজা বন্ধ থাকে, তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মী প্রবেশ করেন না ও সেখান থেকে ফিরে চলে যান। তাই লক্ষ্মী পুজোর রাতে জেগে থাকার রীতি প্রচলিত আছে। সারারাত জেগে লক্ষ্মী আরাধনাই এই পুজোর বিশেষত্ব। আবার প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, শরৎ পূর্ণিমার রাতে যে জেগে অক্ষক্রীড়া অর্থাৎ পাশা খেলেন, লক্ষ্মী তাঁকে ধনসম্পদ দান করেন। আবার দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গায় কিছু মানুষ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন অন্যের বাগান থেকে ফল বা শস্য চুরি করে থাকে। তাঁদের ধারণা, এর ফলে লক্ষ্মী তাঁদের আশীর্বাদ দেবেন।নানান রূপে লক্ষ্মী:লক্ষ্মীর মূর্তি পুজো ছাড়াও আরও নানান ভাবে লক্ষ্মীকে কল্পনা করে এদিন তাঁকে পুজো করা হয়। যেমন- আড়ি লক্ষ্মী। এ ক্ষেত্রে ধান ভর্তি ঝুড়ির ওপর কাঠের লম্বা দুটি সিঁদূর কৌটো লালচেলিতে মুড়ে মা লক্ষ্মীর রূপ দেওয়া হয়। আবার কলার পেটোর তৈরি নৌকা বানিয়ে লক্ষ্মী আরাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রথাকে কে সপ্ততরী বলা হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক নৌকার প্রতীক হল এই সপ্ততরী। অনেকেই পুজোর সময় এই সপ্ততরীতে টাকা, শস্য, হরিতকি, কড়ি, হলুদ রেখে মা লক্ষ্মীর উদ্দশ্যে নিবেদন করা হয়।আবার প্রকারভেদে সরায় (মাটির পাত্র) পটচিত্রের সাহায্যেও লক্ষ্মীপুজো করা হয়ে থাকে। যেমন-ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি সরা, সুরেশ্বরী সরা ও শান্তিপুরি সরা। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ্মীসরা আঁকা হয়। অঞ্চল ভেদে এই সরায় তিন, পাঁচ, সাতটি পুতুল আঁকা হয়। এতে থাকে লক্ষ্মী, জয়া ও বিজয়া-সহ লক্ষ্মী, রাধাকৃষ্ণ, সপরিবার দুর্গা ইত্যাদি। সুরেশ্বরী সরায় মহিষাসুরমর্দিনী আঁকা থাকেন আর এই সরার নীচের দিকে থাকেন সবাহন লক্ষ্মী। আবার কলার বের ও লক্ষ্মীর মুখ সমন্বিত পোড়া মাটির ঘটকেও অনেকে দেবী লক্ষ্মী রূপে কল্পনা করে পুজো করে থাকেন। এই ঘটে চাল বা জল ভরে সেটিকে লক্ষ্মী মনে করে পুজো করা হয়ে থাকে।

অক্টোবর ২০, ২০২১

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ক্ষমতা হারিয়ে রক্তক্ষরণে তৃণমূল, ‘একলা চলার’ কঠিন পরীক্ষায় মমতা

রাজনীতিতে পালাবদল ঘটেই থাকে। কেন্দ্রে বা রাজ্যে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে কোনো কোনো সময় অপ্রতিরোধ্য দেখায়। মনে হয় শাসন ক্ষমতায় থাকাটাই সেই রাজনৈতিক দলের কুক্ষিগত। কিন্তু, সময় বদলায়। ঐতিহাসিক নিয়মেই অতি ক্ষমতাধর শক্তিকেও ক্ষমতা থেকে সরতে হয়। দেশ, কাল ভেদের এই পরিবর্তনের বহু নিদর্শন ইতিহাসে রয়েছে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গ। স্বাধীনতার পর থেকে এই রাজ্যে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকেছিল কংগ্রেস। তারপর কংগ্রেস কে সরিয়ে ক্ষমতায় বসে বামফ্রন্ট। দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসন ক্ষমতায় ছিল সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন সরকার। অনেকেই ভাবতেন বাম শাসনের বোধহয় অবসান হবেনা। তা হয়নি। দীর্ঘ বাম শাসনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মসনদে বসে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসন ক্ষমতায় থাকাকালীন যে দলকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয় ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরে তাদের রক্তক্ষরণ শুরু হয়।এই পরিস্থিতি থেকেই শুরু হয় দল বদলের পালা। দেশ জুড়ে নেতা নেত্রীর ক্ষমতা হারানো দল থেকে ক্ষমতাসীন দলে যাওয়া অতি সাধারণ ঘটনা। মানুষ ও এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছে। তবে, এখান থেকে বিজয়ী দলের ও সমস্যা শুরু হয়। নেতা নেত্রীদের দল বদলের থেকে অতি দ্রুত এই যাওয়ার পালা শুরু হয় পরাজিত দলের নিচু স্তরের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। বাম আমলেও এই ঘটনা শুরু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্য জুড়ে সিপিএম এর ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকার লোভ, অর্থের লোভ ও সন্ত্রাস মূলত এই তিনটি কারণে সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসার পালা শুরু হয়। এর ফলে যারা দীর্ঘদিন তৃণমূলে ছিলেন তাদের সঙ্গে দল বদলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।সেই সময় তৃণমূলের মধ্যে সেই দ্বন্দ্ব এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছিল। যার প্রতিফলন হয়েছিল Red TMC বনাম Green TMC দ্বন্দ্বে। তৃণমূলের ১৫ বছর পরে ক্ষমতা থেকে সরায় নিচের তলার এই চলন শুরু হয়েছে। রাতারাতি, রাজ্যের আনাচে কানাচে বিজেপির পতাকা হাতে বহু জনকে দেখা যাচ্ছে যাদের এতদিন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গেই দেখা যেত। রাজ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিতে বার বার দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ও জানে দলের কোনো মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো ছিল না। ক্ষমতায় থাকার কারণে বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা ছিল। এই সুযোগে, সুবিধা পাওয়ার বন্দোবস্ত তৃণমূলকে একটা সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির সুবিধা দিয়েছিল।এখন ক্ষমতার বৃত্তে না থাকার কারণে দলের চেহারা ক্রমশ শীর্ণকায় হবে। এই কারণেই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইতে নামার জন্য বাম, কংগ্রেস ও আই এস এফ কে সঙ্গে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও, তিনি ভালোই জানেন যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল এই তিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে কী ব্যবহার করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ রাজ্যে ছিল না। সবটাই ছিল পেশীশক্তির ভিত্তিতে। কংগ্রেস ও বামেরা পাঁচ বছর বিধানসভার বাইরে ছিল। এই নির্বাচনে তাদের যেটুকু সাফল্য এসেছে তা তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই এসেছে। এখন তারা যদি তৃণমূলের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠবে।INDIA ব্লক টিঁকিয়ে রাখার জন্য কংগ্রেস এই রাজ্যে তৃণমূলের সুরে বিজেপি বিরোধীতা করলেও সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে আন্দোলনে নামবে না বলেই মনে হয়। অন্যদিকে, আই এস এফ বা বাম দলগুলি তো প্রকাশ্যেই তৃণমূল নেত্রী কে এই আহ্বানের জন্য রাজনৈতিক ভাবে বিঁধতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে মনে হয় ভালো, মন্দ যাই হোক তৃণমূল কে তা মেনে নিয়ে একলাই চলতে হবে। একলা পথ চলার কথাই নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় বলেছেন মমতা। এখন অন্যদের দিকে হাত বাড়ালেও তাঁকে একলাই চলতে হবে।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হিলারির পর এবার মার্কো রুবিও! হঠাৎ কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, বাড়ছে জল্পনা

প্রায় ১৪ বছর পর আবার কলকাতায় এলেন মার্কিন বিদেশসচিব। হিলারি ক্লিনটনের পর এবার শহরে পা রাখলেন মার্কো রুবিও। শনিবার সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। তারপর সোজা যান তালতলার মাদার হাউজে। সেখানে প্রায় দুঘণ্টা কাটানোর পর চিলড্রেনস হোমেও যান তাঁরা। এরপর তাঁর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে দেখার কথাও রয়েছে। কলকাতা সফর শেষ করে দুপুরেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন মার্কো রুবিও। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সমাজমাধ্যমে রুবিওর কলকাতা সফরের কথা জানান। তিনি লেখেন, মার্কিন বিদেশসচিবের এটি প্রথম ভারত সফর। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং কোয়াড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, শুধু কলকাতা ও দিল্লি নয়, আগ্রা এবং জয়পুরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে সরকার বদলের পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপি প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক বার্তা দিয়েছেন। দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে শিল্প বিনিয়োগ টানার কথাও বলেছেন তিনি।অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বারবার বিদেশি বিনিয়োগের উপর জোর দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিবের কলকাতা সফরকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অনেকের মতে, শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা হতে পারে।এছাড়াও সম্প্রতি লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটিতে চিনের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই আবহে মার্কিন বিদেশসচিবের ভারত সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিকেও নজর রয়েছে। অনেকের মতে, চিনকে কড়া বার্তা দিতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।সব মিলিয়ে মার্কো রুবিওর কলকাতা সফর যে শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, তার পিছনে বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৩, ২০২৬
দেশ

সীমান্তে বড় বদল! ড্রোন-ক্যামেরায় নজরদারি, ‘স্মার্ট বর্ডার’ নিয়ে বড় ঘোষণা অমিত শাহের

অনুপ্রবেশ রুখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে স্মার্ট বর্ডার তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিএসএফের বার্ষিক রুস্তমজি মেমোরিয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।অমিত শাহ বলেন, প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তে শুধুমাত্র জওয়ান মোতায়েন করে নজরদারি চালানো অত্যন্ত কঠিন। তাই এবার সীমান্ত পাহারায় ব্যবহার করা হবে আধুনিক প্রযুক্তি। সীমান্ত এলাকায় থাকবে ড্রোন, হাই রেজলিউশন ক্যামেরা এবং একাধিক আধুনিক নজরদারি যন্ত্র। পাশাপাশি বিএসএফ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান আরও শক্তিশালী করতে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, স্মার্ট বর্ডার তৈরি হলে সীমান্ত আরও দুর্ভেদ্য হয়ে উঠবে। অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস বদলের যে চেষ্টা চলছে, তাতেও অনেকটাই লাগাম টানা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং অসম সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের নীতিকে সমর্থন করেছে। প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও দাবি করেন শাহ।বাংলায় সরকার বদলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন কাঁটাতার বসানো নিয়ে জমি সমস্যার কারণে কাজ আটকে ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এরপর সম্প্রতি বাংলায় পুশব্যাক আইন কার্যকর করার ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এবার থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পুলিশ। পরে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তাঁদের বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।এই ঘোষণার পর মতুয়া সমাজের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিএএ-র আওতায় থাকা কোনও হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করা হবে না। বরং নিয়ম মেনে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।এর মধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকও করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরই শাহের স্মার্ট বর্ডার ঘোষণা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে ভাঙা হল যুবভারতীর বিতর্কিত মূর্তি! নিশীথের নির্দেশে সকালেই বড় পদক্ষেপ

অবশেষে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সামনে থাকা বিতর্কিত মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হল। শনিবার সকালে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নির্দেশ মেনে সেই কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই মূর্তি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্ক চলছিল। রাজ্যে সরকার বদলের পর সেই বিতর্কিত মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার।২০১৭ সালে সল্টলেকে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সংস্কারের সময় এই মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল। মূর্তিটিতে কোমর পর্যন্ত একটি শরীরের অংশ ছিল, তার উপরে বসানো হয়েছিল বিশ্ববাংলার প্রতীক। নীচে ফুটবলের উপর লেখা ছিল জয়ী। সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই মূর্তির নকশা তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে শুরু থেকেই এই মূর্তির অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বহু ফুটবলপ্রেমী। অনেকেই এটিকে অদ্ভুত ও অর্থহীন বলে সমালোচনা করেছিলেন।গত ১৭ মে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের ডার্বি ম্যাচ দেখতে যুবভারতীতে গিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মূর্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। নিশীথ বলেন, এরকম বিদঘুটে মূর্তি কেন বানানো হয়েছিল বুঝতে পারি না। আমার মনে হয় এই মূর্তি বসানোর পর থেকেই আগের সরকারের খারাপ সময় শুরু হয়েছিল। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মূর্তিটি সরিয়ে ফেলা হবে।ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়ে গেল। শনিবার সকালে মূর্তিটি ভেঙে ফেলার পর এখন সেখানে শুধু দুটি বুট এবং একটি ফুটবল দেখা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ওই জায়গায় কোনও বিখ্যাত ফুটবলারের মূর্তি বসানো হতে পারে। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।ডার্বির রাতেই নিশীথ জানিয়েছিলেন, এমন একটি মূর্তি বসানো হবে যা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অর্থপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণাদায়ক হবে। সেই কারণেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা শুরু করেছে ক্রীড়া দপ্তর।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

দেবরাজ ঘনিষ্ট তৃণমূল কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যু! ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য, সামনে এল ভয়ংকর অভিযোগ

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল স্বাস্থ্য সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।সঞ্জয় দাস রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান অদিতি মুন্সিও। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।এর মধ্যেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, সঞ্জয় দাসকে কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিচ্ছিল। এমনকি তাঁর কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। কিরণের দাবি, যারা এই চাপ দিচ্ছিল তারা আগে তৃণমূল করলেও এখন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত।তিনি বলেন, সঞ্জয় দাস নাকি ওই ব্যক্তিদের বলেছিলেন, এখন ১০ হাজার টাকা নিতে, পরে বাকি টাকা দেবেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। কিরণ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, সেই চাপই শেষ পর্যন্ত সঞ্জয়কে ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই সমর্থন করবে না। তবে যারা হুমকি দিয়েছিল, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিধাননগর পুরনিগমের একাধিক কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার। একদিন আগেই গ্রেফতার হয়েছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল পার্থ বর্মাও।এই পরিস্থিতির মধ্যেই সঞ্জয় দাসের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

চাকরিতে বড় বদল! পরীক্ষার্থীদের হাতে থাকবে ওএমআর কপি, দুর্নীতিতে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

রাজ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অতীতে শিক্ষা ও পুর নিয়োগে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্ত মামলার তদন্ত এখনও চলছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় এসেই স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার শিয়ালদহে রোজগার মেলায় যোগ দিয়ে নিয়োগ পদ্ধতিতে একাধিক বদলের কথা ঘোষণা করেন তিনি।বক্তব্যের শুরুতেই পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে বহু বদনাম হয়েছে। শিক্ষা থেকে পুর নিয়োগ একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এমনকি ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরিও বাতিল হয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দু জানান, এতদিন ওএমআর শিটে পরীক্ষা হলেও পরীক্ষার্থীদের সেই কার্বন কপি জমা দিয়ে দিতে হত। ফলে পরে নিজেদের উত্তর যাচাই করার সুযোগ থাকত না। এবার থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ওএমআর কপির কার্বন বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন বলে ঘোষণা করেন তিনি। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।এছাড়াও ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর কমানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মৌখিক পরীক্ষায় দুর্নীতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই সেই অংশে নম্বর কম রাখা হবে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে আর নিয়োগ হবে না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এদিনের রোজগার মেলায় ৫০ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী অংশ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, এতদিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্তরের বহু পরীক্ষাও ঠিকমতো হতে দেওয়া হত না। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আদর্শকে সামনে রেখেই এবার কেন্দ্রীয় সরকারের ধাঁচে রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হবে। নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

মে ২৩, ২০২৬
রাজ্য

উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গে পচা গরমে হাঁসফাঁস! কবে মিলবে স্বস্তি জানাল হাওয়া অফিস

উত্তরবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় আজ অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। পাহাড় ও ডুয়ার্সে আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি চলবে। সোমবার ও মঙ্গলবারও জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বুধবারের পর থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস।অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। উত্তরবঙ্গে যখন মুষলধারে বৃষ্টি চলছে, তখন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল মানুষ। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানে অস্বস্তি সবচেয়ে বেশি থাকবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার থেকে পাঁচ দিন দক্ষিণবঙ্গে গরম থেকে তেমন স্বস্তি মিলবে না। তবে এরপর দুই থেকে তিন ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমতে পারে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই ধীরে ধীরে কমতে পারে গরমের দাপট।কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতেও আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।বর্তমানে ওড়িশার উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। উত্তর প্রদেশ থেকে ওই ঘূর্ণাবর্ত পর্যন্ত একটি অক্ষরেখাও বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির জেরেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় এমন বড় ফারাক দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন আবহবিদরা।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

খাস কলকাতায় পাক গুপ্তচর চক্রের হদিস! জুতোর ব্যবসার আড়ালে চলত ভয়ঙ্কর খেলা

খাস কলকাতায় পাক গুপ্তচর চক্রের বড় পর্দাফাঁস করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। আইএসআই-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এন্টালির বাসিন্দা জাফর রিয়াজকে। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।জানা গিয়েছে, কলকাতায় জুতোর ব্যবসা করত জাফর। তার দুটি কারখানাও ছিল। কিন্তু সেই ব্যবসার আড়ালেই চলত গুপ্তচরবৃত্তির কাজ। নিজের নামে সিম কার্ড তুলে তা পাকিস্তানের গোয়েন্দা অফিসারদের হাতে পৌঁছে দিত সে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জাফরের বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা রাবিয়া জাফফার নামে এক মহিলার সঙ্গে। বিয়ের পর ২০১২ সাল পর্যন্ত তারা কলকাতাতেই থাকত। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে তারা লাহোরেই পড়াশোনা করছে।২০১২ সালে একটি পথ দুর্ঘটনার পর জাফরের ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়। আর্থিক সমস্যার কারণে স্ত্রীকে লাহোরে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় সে। এরপর থেকেই পাকিস্তানে তার যাতায়াত বাড়তে থাকে। এমনকি পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টাও করছিল বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে দাবি, এই সুযোগকেই কাজে লাগায় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। টাকার লোভ দেখিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে নামানো হয় জাফরকে।পরবর্তীতে কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে প্রথমে দিল্লি এবং পরে পঞ্জাবে ঘাঁটি গাড়ে সে। তবে শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২০২২ সালে পঞ্জাব পুলিশের বিশেষ অভিযানকারী দল জাফর ও তার সহযোগী মহম্মদ শামশেদকে গ্রেফতার করে। ধৃত শামশেদ বিহারের মধুবনির বাসিন্দা।তদন্তকারীদের দাবি, জাফর ভারতের বিভিন্ন সেনা ছাউনি, সামরিক দফতর এবং জওয়ানদের গতিবিধির ছবি ও ভিডিও তুলে সরাসরি আইএসআই-এর কাছে পাঠাত। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুয়ো পরিচয়ে ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে তার ওটিপি পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হত।সেই নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তানের গুপ্তচররা সুন্দরী মহিলাদের ছবি দিয়ে ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল তৈরি করত। এরপর ভারতীয় সেনার জওয়ানদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চলত। তদন্তকারীদের দাবি, এই গোটা হানি ট্র্যাপ চক্রের মূল মাথাদের অন্যতম ছিল জাফর।বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং গোটা নেটওয়ার্ক কতটা বড়, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

মে ২১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal