• ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রবিবার ১৪ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Khandaghosh

রাজ্য

রাসবিহারী ঘোষের জন্মভিটে সংরক্ষণ ও সংস্কারের লক্ষ্যে তাঁর পৈতৃক জমি পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের হাতে হস্তান্তর

বুধবার পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসক কার্যালয়ের বিবেকানন্দ মিটিং হলে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও স্যার রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটির যৌথ উদ্যোগে এক ঐতিহাসিক জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।স্বাধীনতা সংগ্রামী, আইনজ্ঞ, সমাজসংস্কারক স্যার রাসবিহারী ঘোষের পৈতৃক জমি আনুষ্ঠানিকভাবে পুর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের হাতে হস্তান্তর করা হল। এদিন পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসকের কার্যালয়ে বিবেকানন্দ মিটিং হলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্যার রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটি জমিটি জেলাশাসক ও কালেক্টরের হাতে তুলে দেন।পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক শ্রীমতী আয়েশা রানি এ., আইএএস এদিন বলেন এই জমি কেবল একটি সম্পত্তি নয়, এটি জাতি গঠনের এক জীবন্ত প্রতীক। আজকের এই হস্তান্তরের মাধ্যমে স্যার রাসবিহারী ঘোষের আদর্শ ও মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।এছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক পঞ্চানন দত্ত ও সদস্যগণ। তাঁরা রাসবিহারী ঘোষের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষার প্রসার ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন। উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের সুপার শ্রী সায়ক দাস (আই পি এস), পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (পর্যটন) শ্রী প্রতীক সিং আইএএস, বর্ধমান সদর দক্ষিণ-র মহকুমাশাসক শ্রী বুদ্ধদেব পান (ডাব্লু বি সি এস, এক্সি) ও পূর্ব বর্ধমান জেলা পর্যটন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আধিকারীক শ্রী মিলন তীর্থ সামন্ত (ডাব্লু বি সি এস, এক্সি)।স্যার রাসবিহারী ঘোষ একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। তাঁর জন্ম খণ্ডঘোষের তোরকোনা গ্রামে। অল্প বয়সেই অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীকালে ১৯০৭ সালে সুরাট অধিবেশনে তিনি কংগ্রেস পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।শুধু রাজনীতি নয়, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণেও তাঁর অবদান অনন্য। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি লক্ষাধিক টাকা দান করেছিলেন, যাতে আগামী প্রজন্ম জ্ঞান ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে পারে। তাঁর জীবন তাই কেবল একজন আইনজ্ঞের কৃতিত্বে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এক দেশপ্রেমিক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসংস্কারকের অমলিন উত্তরাধিকার হয়ে আজও সমুজ্জ্বল।ইতিহাসবিদদের মতে, স্যার রাসবিহারী ঘোষ ছিলেন প্রথম ভারতীয় যিনি ১৯০৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। আইনজীবী হিসেবে তাঁর মেধা ও শিক্ষা প্রসারে তাঁর অসামান্য ভূমিকা তাঁকে ভারতবর্ষের ইতিহাসে অনন্য আসন দিয়েছে।পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা, হস্তান্তরিত জমিটি ব্যবহার করা হবে স্যার রাসবিহারী ঘোষের জন্মভিটে সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জমিটিকে ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এই অনুষ্ঠান কেবল একটি জমি হস্তান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি সম্মান ও ঐতিহ্য রক্ষার এক প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্ধমান তথা সমগ্র বাংলার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এ উদ্যোগ নতুন অধ্যায় রচনা করবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫
রাজ্য

স্ত্রী পঞ্চায়েত প্রধান, দপ্তর সামলাচ্ছেন স্বামী, সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

যত গণ্ডগোল খণ্ডঘোষে। ফের খবরের শিরোনামে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের শাঁখারি গ্রাম পঞ্চায়েত। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে নিয়ে শাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে। টেবিলের উল্টো দিকে থাকা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন একজন ব্যক্তি। তার পাশে নির্লিপ্ত ভাবে বসে আছেন একজন মহিলা। শাঁকারি ১ নম্বর পঞ্চায়েতের ওই ছবি ঘিরেই রাজনৈতিক বির্তক তৈরি হয়েছে। ছবি ঘিরে হইচই শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। জানাগেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবির মহিলা শিউলি খাঁ। শাঁখারী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তার পাশে বসে যিনি দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সেই পুরুষটি হলেন প্রধানের স্বামী প্রসেনজিৎ খাঁ।বিরোধীদের অভিযোগ গ্রামে প্রতিদিন পঞ্চায়েত দপ্তরে বিকেল পর্যন্ত প্রধানের পাশে একটি চেয়ারে বসে থাকেন তাঁর স্বামী। পঞ্চায়েতের, কাজকর্মে আসা লোকজনের সঙ্গে তিনিই কথা বলেন। কলেজে ভর্তির জন্য শংসাপত্র কিংবা জমি সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে পঞ্চায়েত গিয়ে প্রধানের স্বামীর সঙ্গেই কথা বলতে হয় স্থানীয়দের। স্বামীর নির্দেশের পরেই প্রয়োজনীয় শংসাপত্র মেলে। তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করেন প্রসেনজিৎ খাঁ। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে তিনি স্ত্রীকে বাইকে করে সকালে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। আবার বিকেলে বাড়ি নিয়ে যান। তিনি পঞ্চায়েতের কোন কাজে হস্তক্ষেপ করেন না।বিজেপি জেলার সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তিনি শুধু পঞ্চায়েত অফিসে বসে থাকেন না। তার নির্দেশ ছাড়া কোন সার্টিফিকেট ইস্যু হয় না। এমনকি গাড়ির তেলের বিলও নিচ্ছেন প্রধানের স্বামী। সেই ছবিও দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিউলি খাঁ বলেন, তার স্বামী কোনদিনই অফিসের কাছে হস্তক্ষেপ করেন না। এটা মিথ্যে অভিযোগ। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, স্বামী প্রধানের কাছে যেতেই পারেন। তার মানে এই নয় প্রধানের কাজে তার স্বামী তদারকি করছেন।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২২
রাজ্য

আবাস যোজনার তালিকায় উপপ্রধানের নাম! তাঁর বিলাসবহুল অট্টালিকা নিয়ে কটাক্ষ বিরোধীদের

আবাস যোজনার তালিকা প্রকাশিত হতেই বিরোধীদের অভিযোগে শিলমোহর পড়লো পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে। আবাস যোজনার বাড়ি নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। বাম ডান সব আমলেই স্বজনপোষণ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ হয়েছে। শাসকদলের নেতারা কমবেশি অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতার জাহির করেছেন।কিন্তু খণ্ডঘোষের শাঁকারি গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশবপুর গ্রামে চুরি নয় রীতিমত পুকুর চুরি বললেও কম বলা হবে। এককথায় ডাকাতি হয়েছে। তাই নিয়ে সরব হয়েছেন শাসকদলের একাংশ।শাঁকারি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখ। গ্রামেই রয়েছে তার বিলাসবহুল চোখ ধাঁধানো চারতলা ইমারত। তবুও সদ্য প্রকাশিত আবাস যোজনার তালিকায় উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখের স্ত্রী সীমা সেখের নাম রয়েছে। এখানেই শেষ নয় পাশাপাশি তার মৃত বাবা সেখ মহসিন, ভাই আমনগীর সেখ ও আর এক ভাই আজমগীর সেখের নামেও আবাস যোজনার বাড়ি নথিভুক্ত হয়েছে। গোল বেঁধেছে এখানেই। এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অভিযোগ তারা গরিব হলেও তারা আবাস যোজনার বাড়ি পাচ্ছেন না। তাদের মাটির বাড়ি আছে,কারো মাটির বাড়ি ভেঙে গেছে। তবুও তাদের নামে আবাস যোজনার বাড়ি আসে নি।শাঁকারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শিউলী খাঁ বলেন, আমাকে কোন কাজ করতে দেওয়া হয় নি।আমাকে পুরোপুরি নিক্রিয় করে রাখা হয়েছে। উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখ নিজের খুশী মত সব ঠিক করেছে।এখানে আমার কোন ভূমিকাই নেই। এই বিষয়ে আমি উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছিলাম।এই বিষয়ে অভিযুক্ত উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তার সাফাই তিনি দলের কাজে ব্যস্ত থাকেন।অফিসে খুব একটা যান না। কে বা কারা এই লিস্ট করেছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি তার নজরে আসা মাত্র নাম বাতিলের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান। খণ্ডঘোষের বিডিও সত্যজিৎ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই সব নাম বাতিল করা হয়েছে।জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী পাকা বাড়ি থাকলে বা আর্থিক অবস্থা ভালো হল তিনি আবাস যোজনার বাড়ি পাবেন না। এই ক্ষেত্রে কি ভুল ভ্রান্তি হয়েছে প্রশাসন তা দেখছে। আর এটা আগেকার তালিকা।এই বিষয়ে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। চারতলা বাড়ির মালিক অথচ তার নামে আবাস যোজনার বাড়ি আসছে।প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো বলে তিনি হুঁশিয়ারী দেন।

ডিসেম্বর ১০, ২০২২
রাজ্য

খুদে স্কুল পড়ুয়াদের রসগোল্লা খাইয়ে রসগোল্লা দিবস পালন তৃণমূল নেতা অপার্থিব ইসলামের

ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখতে গ্রামের আটচালায় শতাধিক খুদে পড়ুয়াকে নিয়ে বসলো রসগোল্লার পাঠশালা। বাংলার রসগোল্লার খ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে। ২০১৮ সালে জিআই স্বীকৃতি মেলার পর থেকে প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর দিনটিকে রসগোল্লা দিবস হিসেবে পালিত হয় ঠিকই।কিন্তু এই বিশেষ দিনটির তাৎপর্য ও রসগোল্লা সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে খুদে পড়ুয়ারা এখনও সেভাবে ওয়াকিবহাল নয়। তা জানাতে মঙ্গলবার শতাধিক খুদে স্কুল পড়ুয়াকে রসগোল্লা খাইয়েই রসগোল্লার সৃষ্টি ইতিহাসের পাঠ দিলেন পূর্ব বর্ধমানে খণ্ডঘোষের জনপ্রতিনিধিরা। একবারে শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তাঁরা খুদে পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরলেন রসগোল্লার সৃষ্টি কর্তার পরিচিতি ও কাহিনী।বাংলার প্রসিদ্ধ মিষ্ঠান্ন গুলির অন্যতম হল রসগোল্লা। এই রসগোল্লা সৃষ্টির ইতিহাসও বহু প্রাচীন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী নদীয়া জেলার হারাধন ময়রাকে রসগোল্লার প্রথম সৃষ্টিকর্তা বলে ধরা হয়।তবে কলকাতার বাগবাজারের নবীনচন্দ্র দাস ওরফে নবীন ময়রাকে আধুনিক স্পঞ্জ রসগোল্লার প্রথম সৃষ্টিকর্তা বলে ধরা হয়।১৮৬৮ সালে নবীন ময়রাই গোটা পৃথিবীতে রসগোল্লার পরিচিতি ঘটিয়ে ছিলেন বলে ধরা হয়। তাই তাঁকেই রসগোল্লার কলম্বাস বলে উল্লেখ করা হয় ।ছানা, ময়দা ও চিনি সহযোগে তৈরি রসগোল্লা নিয়ে গর্ববোধ করেন না এমন কোন বাঙালি মেলাই ভার।এই রসগোল্লার জিআই স্বীকৃতি (Geographical Indication) পেতেও পশ্চিমবঙ্গকে মিষ্টি লড়াইয়ে সামিল হতে হয় ওড়িষ্যার সঙ্গে।শেষ পর্যন্ত বাংলাই ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর জয় করে জিআই স্বীকৃতি।রসগোল্লার এই গর্বের ইতিহাস খুদে পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরতে মঙ্গলবার বিকেলে খণ্ডঘোষের জনপ্রতিনিধিরা বাদুলিয়া গ্রামের পীড়তলার আটচালায় একটি শিক্ষা মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।সেই অনুষ্ঠানে শিক্ষকের ভূমিকায় সামিল হন খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সদস্য অপার্থিব ইসলাম।তাঁর সঙ্গে সহ শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেন অপর জেলাপরিষদ সদস্য তথা স্কুল শিক্ষক বিশ্বনাথ রায় ,সগড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুখেন্দু পাল ,স্কুল শিক্ষক অনাবিল ইসলাম এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী শেখ কামাল উদ্দিন। প্রায় শতাধিক স্থানীয় স্কুল পড়ুয়া আটচালায় রসগোল্লার ইতিহাস বিষয়ের পাঠ নিতে উপস্থিত হয়। তাদের সবার হাতে প্রথমে রসগোল্লা তুলেদেন আপার্থিব ইসলাম সহ অন্য সকল জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকরা।তাঁরা তার পর খুদে পড়ুয়াদের রসগোল্লা সৃষ্টির ইতিহাস নিয়ে পাঠদান শুরু করেন।তাঁরা রসগোল্লার সৃষ্টিকর্তার পরিচিতি,রসগোল্লা সৃষ্টির সময়কাল,কি কি উপকরণ দিয়ে কি ভাবে রসগোল্লা তৈরি হয় এবং ওড়িষ্যার সঙ্গে কতটা মিষ্টি যুদ্ধের পর বাংলার রসগোল্লা জিআই স্বীকৃতী লাভ করে,সেইসব কিছুই খুদে পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরেন।বাংলার গৌরবের রসগোল্লার ইতিহাস নিয়ে শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের পাঠদান অভিভাবক মহলের প্রশংসা কুড়োয়।পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তাঁদের দলীয় কর্মীদের ভোট রাজনীতির পাঠ দিচ্ছেন।তা না করে এমন সময়ে হঠাৎ করে গ্রামের আটচালায় খুদে পড়ুয়াদের রসগোল্লা নিয়ে পাঠদানের কি প্রয়োজন হল? এই প্রশ্নের উত্তরে অপার্থিব ইসলাম বলেন, বাংলার রসগোল্লা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। তার পর থেকে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার রসগোল্লার প্রসিদ্ধি। তার জন্য প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর রসগোল্লা দিবস পালিত হয়।এই রসগোল্লা দিবস পালনে শহর এলাকার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা উৎসাহ দেখালেও গ্রাম বাংলায় তেমনটা হয় না। সেই কারণে গ্রামের খুদে পড়ূয়ারাও জানতে পারে না কেন বাংলার রসগোল্লা বিখ্যাত? রসগোল্লা সৃষ্টির ইতিহাসটাই বা কি?অপার্থিব বাবু বলেন,আজকের খুদে পড়ুয়ারা বাংলার আগামী ভবিষ্যৎ। তাঁরা যদি বাংলার গর্বের রসগোল্লা সমন্ধে অন্ধকারে রয়ে থা তবে আগামী দিনে বাংলার রসগোল্লার ইতিহাসটাই মানুষের মনথেকে মুছে যাবে।সেটা যাতে না হয় তাই এদিন খুদে পড়ুয়াদের বোঝানো হয়।

নভেম্বর ১৫, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে পথ দুর্ঘটনায় নিহত এক ব্যক্তি

ক্যান্টারের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। মৃতের নাম শেখ আব্দুল রহিম(৬০)। মৃতের ছেলে শেখ নিজামুদ্দিন বলেন, আমার বাবার শংকরপুর বাজারে একটি চায়ের দোকান আছে। প্রতিদিনের মত মঙ্গলবার রাতে চায়ের দোকানেই ছিলেন। হঠাৎ একটি ক্যান্টার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানে ঢুকে যায়। দুর্টনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাবার। তড়িঘড়ি পৌঁছায় খণ্ডঘোষ থানা পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ মর্গে পাঠায়। আটক করা হয়েছে ঘাতক গাড়িটিকে। পলাতক গাড়ির চালক।

নভেম্বর ০৯, ২০২২
রাজ্য

প্রতিপদেই কালীপুজো! উল্টোপুড়ান বর্ধমানের এই গ্রামে, জানুন সেই কাহিনী

এই গ্রামে কালীপুজো হয় প্রতিপদে, আর্থাৎ পুজোর আগের দিন রাতে। গ্রামের নাম তরুল। পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষের এলাকায় এই তরুল গ্রাম। আড়াইশো বছরের বেশি সময় ধরে এভাবেই পুজো হয়ে আসছে।একটা বড় মাঠের মাঝখানে এই মন্দির। এখানেই নানা সহচর সহচরী নিয়ে দেবীর মূর্তি। জনশ্রুতি এই গ্রামের এক সাধিকাকে গ্রামের মানুষ দেবীর অংশ মনে করতেন। তাকে পুজো করা হয় এখানে। ভুত চতুর্দশীর রাতে ঘট তোলার পর পুজো শুরু হয়। সকালে হয় প্রসাদ বিতরণ। এই ভোগের পুরোটাই রান্না হয় তালপাতার জ্বাল দিয়ে। পরের দিন হাজার হাজার মানুষ ভোগের প্রসাদ খেতে আসেন। আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে মানুষের ঢল নামে।গ্রামবাসীরা জানালেন, এই পুজোর আসল মাহাত্ম খাওয়াদাওয়ায়। খাওয়াই এই পুজোর মূল ব্যাপার। একে একদিন আগে পুজো আর তারপর পাত পেতে হাজার হাজার মানুষের খাওয়া। দুটোই অভিনব।

অক্টোবর ২৪, ২০২২
রাজ্য

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করার অভিযোগে গ্রেফতার

এক যুবতীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগে রেজাউল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলো পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থাফনার পুলিশ। অভিযুক্ত রেজাউল হকের বাড়ি রায়না থানার অন্তর্গত বাবারকপুর এলাকায়। ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ।খণ্ডঘোষের ওই যুবতীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক করার পর অভিযুক্ত রেজাউল হক বিয়ে করতে অস্বীকার করে। যুবতী খণ্ডঘোষ থানায় রেজাউল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ দায়ের করেন। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত রেজাউল হককে মঙ্গলবার রাতে বর্ধমান এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২
রাজ্য

জমি জালিয়াতি, চিকিৎসককে আটক রাখলেন গ্রামবাসীরা

অন্যের জমি জালিয়াতি করে নিজের নামে রেকর্ড করানোর অভিযোগে একজন চিকিৎসককে আটক রাখলেন গ্রামবাসীদের একাংশ। সোমবার ঘটনাটি ঘটে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের কামালপুর এলাকায়।অভিযোগ কামালপুর এলাকার তিলডাঙা গ্রামের ২৪০ দাগের এক বিঘে জায়গা চিকিৎসক শান্ত কুমার মণ্ডল নিজের নামে রেকর্ড করে নেন ২০১৯ সালে।আসলে জায়গাটির মালিক দুষ্টু মাহাতো।দুষ্টু মাহাতোর নাতি হীরু মাহাতোর অভিযোগ আমরা তেমন লেখাপড়া জানি না। ৪৭ বছর আগে এই জায়গাটি কেনা হয়।দুষ্টু মাহাতোর নামে জায়গার দলিল আছে।এই জায়গার উপর একটি ক্লাবঘর ও মন্দির আছে।আমরা ভূমি সংস্কার দপ্তরে গিয়ে জানতে পারি জমির মালিক দুষ্টু মাহাতোর পরিবর্তে শান্ত কুমার মণ্ডল। তখন আমি ডাক্তারবাবুকে বলি আমাদের জমি আমাদের ফিরিয়ে দিতে।উনি আমাকে বলেন, জমিটি কিনতে হবে।এই নিয়ে ক্লাবে অনেকবার আলোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ডাক্তারবাবু জমি ফিরিয়ে দিতে রাজী হন।তারপর থেকে টালবাহানা করছেন।এই নিয়ে এলাকার তৃণমূল নেতা থেকে পঞ্চায়েত সদস্য সবাইকেই বিষয়টি জানানো হয়।কিন্তু কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দেয় নি।এদিন শান্ত কুমার মণ্ডল তিলডাঙা গ্রামে তার চেম্বারে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ঘিরে ধরে।জালিয়াতি করে জমি নেওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের একাংশ তাকে বিদ্যুতের পোলে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ গিয়ে শান্ত কুমার মণ্ডলকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।শান্ত কুমার মণ্ডলের বাড়ি কামালপুরে। পাশের গ্রাম তিলডাঙায় তার চেম্বার।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২২
রাজ্য

গভীররাতে সোনার দোকানের সাটার ভেঙ্গে দুঃসাহসিক চুরি

সোনার দোকানের সাটার ভেঙ্গে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের পাঠানপাড়া এলাকায়। বুধবার গভীররাতে খণ্ডঘোষের পাঠানপাড়া এলাকায় একটি সোনার দোকানের শাটার ভেঙে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়ে দোকানের ভিতরে লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার খবর পেয়ে কর্তব্যরত সিভিক ভলেন্টিয়ারা ছুটে গেলে একজন দুষ্কৃতি সিভিক ভলেন্টিয়ারদের লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছুটে যায়। কর্তব্যরত সিভিক ভলেন্টিয়াররা প্রাণ বাঁচাতে ছুটে পালিয়ে যান খণ্ডঘোষ থানার দিকে। তড়িঘড়ি খণ্ডঘোষ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী যায় ঘটনাস্থলে। ততক্ষণে দোকানের ভিতরে লুটপাট চালিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। সোনার দোকানের মালিকের দাবি তার দোকান থেকে আনুমানিক এক থেকে দেড় লক্ষ টাকার সোনার গহনা ও ক্যাশ কাউন্টারে থাকা ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা চুরি করে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সকাল থেকে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ চুরির ঘটনার শুরু করেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২২
রাজ্য

বালি চুরির র‍্যাকেটে যুক্ত পুলিশ, বিএলআরও, ডিএলআরও দের মাণিক ভট্টাচার্য্য করে দেওয়ার হুমকি বিজেপি সাংসদের

শনিবার পূর্ব বর্ধ মানের খণ্ডঘোষে দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, টেট দুর্নীতির অন্যতম নায়ক মাণিক বাবু যেমন পালিয়ে বেড়াচ্ছে, বালি চুরিতে যুক্তদের তেমনই অবস্থা হবে। খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম যদিও বিজেপি সাংসদের এইসব বক্তব্যকে পাগলের প্রলাপ বলে কটাক্ষ করেছেন।আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে এদিন খণ্ডঘোষের রূপসায় বিজেপির একটি দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে পৌরোহিত্য করেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, রাজ্যে এখন মহম্মদ বিনতুঘলকের সরকার চলছে, ডাকাত রাণীর সরকার চলছে। যা ইচ্ছে তাই করছে। এরপরেই পুলিশ ও প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সৌমিত্র খাঁ বলেন, কিছু থানার ওসি ৬০০ কোটি টাকা এবং বিএলআরও ও ডিএলআরও যাঁরা হাজার হাজার কোটি টাকার বালি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে আমি চিফ সেক্রেটারিকে চিঠি পাঠিয়েছি। ধরে রাখুন, তদের ঠিক মতো করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সেটা কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সি হোক বা রাজ্য সরকারের এজেন্সি হোক, ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ঠিক সময়ে এদের মাণিক ভট্টাচার্য্য করে দেব। প্রাইমারি টেট দুর্নীতির অন্যতম নায়ক মাণিক বাবু যেমন লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন, এদেরও সেই ব্যবস্থা করা হবে। এদের সমস্ত টাকা রাজকোষে জমা পড়বে।

আগস্ট ২৮, ২০২২
রাজ্য

দাগী দুস্কৃতির সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক ও তৃণমূল নেতার ছবি, সোচ্চার সিপিএম ও বিজেপি

গুলি ভর্তি পাইপগান সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়া এক দুস্কৃতি এখন গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে তৃণমূলের নেতাদের। ধৃত ওই দুস্কৃতির নাম সম্পদ জুই ওরফে বাবু। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সেহারাবাজারের পাওয়ার হাউস পাড়ায়। গত মঙ্গলবার ভোররাতে বর্ধমান-অরামবাগ রোডের ফকিরপুর ঢাল এলাকায় নাকা চেকিং চলার সময়ে সে পাইপগান ও কার্তুজ সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায়।বিজেপি ও সিপিএম নেতৃত্বের দাবি ধৃত সম্পদ জুই খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের অত্যন্ত ঘনিষ্ট একজন তৃণমূল কর্মী।যদিও বিরোধীদের এই দাবি মানতে চাননি খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক।রায়না থানার পুলিশ অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো ধৃতের রাজনীতির রং বিচার না করে তাঁকে ওইদিনই বর্ধমান আদালতে পেশ করে।বিচারক ধৃতকে পাঁচ দিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে পুলিশ খতিয়ে দেখছে সে ওই বেআইনি আগ্নেআস্ত্র কোথা থেকে পেল এবং কি উদ্দেশ্যে সে ওই আগ্নেআস্ত্র নিয়ে স্কুটিচেপে রাতে বাইরে বেরিয়ে ছিল।ধৃতের পুলিশি হেপাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রবিবার ফের তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে। তবে সম্পদকে এখন শ্রীঘর বাসেই থাকতে হবে বলে পুলিশ কর্তাদের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে।বগটুই কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বোমা, গুলি ও আগ্নেআস্ত্র উদ্ধারের জন্য রাজ্য জুড়ে পুলিশি তৎপরতা জারি রয়েছে। সেই মতো রায়না থানার পুলিশও তৎপরতা জারি রাখে। আর তাতেই পাইপগান ও কার্তুজ সহ সম্পদ জুই এর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।জেলা বিজেপির সহ- সভাপতি সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,সম্পদ জুই তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির সঙ্গে যুক্ত।এমনকি সে নিজেকে খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের ঘনিষ্ট বলেই এলাকায় জাহির করতো ।এই সম্পদ জুই কেই রায়না থানার পুলিশ ২০১৮ সালে প্রচুর গাঁজা সহ গ্রেপ্তার করেছিল।মাদক সংক্রান্ত সেই মামলায় সম্পদ জুই দীর্ঘদিন জেলও খাটে।তার পর অপকর্ম চালানোর জন্য সে তৃণমূলে ভিড়ে গিয়ে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল সেটাও সবাই জানে।। সেই সম্পদ জুই গত মঙ্গলবার রায়না থানার পুলিশের নাকা চেকিংয়ে গুলি ভর্তি পাইপগান ধরা পড়ে ।এই ঘটনা তুলে ধরে বিজেপি নেতা সৌম্যরাজ বাবু দাবি করেন , সম্পদ জুই শুধু যে তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি করতো এমনটা নয়। সে খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবিনচন্দ্র বাগেরও অত্যন্ত ঘনিষ্ট বলেই সবাই জানেন। তৃণমূলের নানা অনুষ্ঠানে তাঁকে বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের সঙ্গেই দেখা যেত।সেই সব ছবি এখনও সামাজিক মাধ্যমে ঘোরা ঘুরি করছে।পাশাপাশি সৌম্যরাজবাবু এও দাবি করেন,সম্পদ জুই গ্রেপ্তার হওয়ার পর আরও একবার প্রমান হয়েগেল বগটুই কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি আদৌ কোন কাজেই লাগেনি। তাই শাসক দলের লোকজন এখনও বেআইনি আগ্নেআস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মত স্পর্ধা দেখাচ্ছেন।অন্যদিকে খণ্ডঘোষ নিবাসী জেলা সিপিএম নেতা বিনোদ ঘোষ বলেন,পাইপগান সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়া সম্পদ জুই যে খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ ছিল সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাঘুরি করা ছবি থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।শুধু বিধায়কই নন,ছবিতে সম্পদ জুই এর গা ঘেঁষে খণ্ডঘোষের আর এক তৃণমূল নেতা সঞ্জীব হাজরা কেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বিনোদ বাবুর দাবি , এটা ব্যতিক্রমী কোন ঘটনা নয়। আসলে এই প্রথম রাজ্যে একটা সরকার চলছে যেটা সমাজ বিরোধী (Anti Social) দ্বারা পরিচালিত । সেই কারণেই শাসক দলের নেতা ও বিধায়কদের কাছাকাছি এখন দুস্কৃতি অথবা সমাজ বিরোধীরাই থাকছে ।এটাই বাংলার সব থেকে বড় লজ্জা বলে বিনোদ ঘোষ মন্তব্য করেন।বিরোধীরা এইসব অভিযোগ করলেও ছবি দেখার খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ বলেন,এটি সেহারাবাজারে হওয়া তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠানের ছবি। তবে আমার পাশে যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি যে সম্পদ জুই তা তিনি জানেন না। সম্পদ জুই কে তিনি চেনেনও না। অনুষ্ঠান চলাকালীন ওই ব্যক্তি কখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল সেটাও আমার আজানা। ছবিটা কিভাবে ছড়িয়ে গেল সেটাই বুঝতে পারছেন না বলে বিধায়ক নবীনচন্দ্রবাগ জানিয়েছেন। অপর তৃণমূল নেতা সঞ্জীব হাজরাও একই ভাবে জানিয়েদেন, সম্পদ জুই কে তিনি চেনেনই না। ওই ব্যক্তি তৃণমূলেরও কেউ নন। রাস্তার ধারে রাতে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠান চলার সময়ে কখন ওই ব্যক্তি তাঁর ও বিধায়কের পাশে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন সেটাও অজানা বলে সঞ্জীব বাবু জানিয়েছেন।

মে ১৪, ২০২২
রাজ্য

পুর্ব বর্ধমানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যাক্তি গ্রেপ্তার, এলাকায় চাঞ্চল্য

আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ। অভিযুক্তের নাম শ্রীমন্ত ঘাঁটি। এই অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি খন্ডঘোষ এর বীচখাঁড়া এলাকায়। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত্রে পূর্ব বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বর্ধমান বাঁকুড়া রোডের খণ্ডঘোষ এর মেটেডাঙ্গার কবরস্থান এলাকায় ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড গুলিও পাওয়া যায়। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি শ্রীমন্ত ঘাঁটিকে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে চেয়ে আজ বর্ধমান আদালতে পেশ করেন।খন্ডঘোষ থানার পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সম্পূর্ণ বিষয়টির তদন্ত করতে চান। কিসের উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে রাস্তার উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে।

মার্চ ২৯, ২০২২
রাজ্য

কাশ্মীর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ, কফিনবন্দি দেহ ফিরছে বর্ধমানের দুই পর্যটকের

কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হল পূর্ব বর্ধমান জেলার দুই পর্যটকের। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলার কঙ্গন থানার গণ্ডুতে শ্রীনগর-লে এক্সপ্রেসওয়ের উপরে। দুর্ঘটনায় পর্যটকবাহী বাসে থাকা আরও প্রায় ২৫ জন পর্যটক জখম হয়েছেন। মৃতরা হলেন পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের তোড়কোনা গ্রামের মালতি কুণ্ডু (৫৫) ও গলসির ইরকোনা গ্রামের স্মৃতিকা হাজরা (৫২)। কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলার পুলিশ সুপার নিখিল বরকর সংবাদ মাধ্যম কে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে দুজন মারা গিয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা গিয়েছেন। খণ্ডঘোষ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ খণ্ডঘোষের তোড়কোনা থেকে একটি টুরিস্ট বাস ছাড়ে। ওই বাসে চড়ে বর্ধমান শহর, খণ্ডঘোষ, গলসি, বাঁকুড়ার ইন্দাস, শাসপুর থানা এলাকার ৬৪ জন পর্যটক উত্তরভারত ও কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অমৃতসর, হরিদ্বার, বেনারস হয়ে ৪ এপ্রিল পর্যটকদের বর্ধমানে ফেরার কথা ছিল। খণ্ডঘোষ থেকে রওনা হওয়ার পর বুদ্ধগয়া, এলাহবাদ, আগ্রা, বৃন্দাবন, কুরুক্ষেত্র হয়ে পর্যটকবাহী বাসটি মঙ্গলবার রাতে শ্রীনগরে পৌঁছায়। বুধবার শ্রীনগরে প্রকৃতিক দৃশ্য ঘুরে দেখার পর ফের বৃহস্পতিবারও পর্যটকরা দুটি ছোট বাসে চড়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য ঘুরে দেখার জন্য রওনা হন। ওই সময়েই একটি পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামল দত্ত জানিয়েছেন। শ্যামল বাবু বলেন, শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার খবর তোড়কোনা গ্রামে পৌছায়। এরপর খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই বাসটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উল্টে গিয়ে বেশ কয়েকফুট নিচে থাকা অন্য রাস্তায় আছড়ে পড়ে। তার জরেই বয়স্ক দুই পর্যটক প্রাণ খোয়ান বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।তোড়কোনা থেকে ছাড়া পর্যটকবাহী বাসের গাইড, ছিলেন তোড়কোনা গ্রামেরই বাসিন্দা অসীম চক্রবর্তী ওরফে খোকন। তিনি দাবি করেছেন, পর্যটকরা শ্রীনগর থেকে সেখানকার স্থানীয় বাসে চড়ে সাইডসিন দেখতে বেরিয়েছিলেন। ওই বাসটি বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার কবলে পড়লে দুজন মারা যান। ওই থাকা বাকি পর্যটকরা জখম হয় তাঁদের সবাইকে ওইদিন সন্ধের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। জখমদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মৃতদেহ নিয়ে বর্ধমানে ফিরে আসার ব্যাপারেও কাশ্মীরের পর্যটন বিভাগ সর্বতভাবে সাহায্য করছে। খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ জানান, ময়নাতদন্তের পর দ্রুত যাতে মৃতদেহ ফিরিয়ে আনা যায় তার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে শ্রীনগরে মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত হয়েছে। শনিবার সকালে বিমানে দেহগুলি কলকাতায় আনা হবে বলে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের কথায় জানা গিয়েছে।

মার্চ ২৫, ২০২২
রাজ্য

নোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে গৃহবধূকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী ও মামাশ্বশুর

নোড়া দিয়ে মাথায় আঘত করে গৃহবধূকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হল স্বামী ও মামাশ্বশুর। ধৃতদের নাম বিজয় মুদি ও শ্রীকান্ত মুদি। তাঁদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার মাশিলা গ্রামে। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ রবিবার রাতে বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়ি রক্তমাখা নোড়াটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সোমবার ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ৮ মার্চ ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বধূর বাবার বড়ির সদস্যরা।পুলিশ জানিয়েছে, গৃহবধূ রেখা মুদির বাবার বাড়ি মাশিলা গ্রামে। তাঁর বাবা সঞ্জিৎ রুইদাস জানিয়েছেন, ভাব ভালবাসা করে তাঁর বড় মেয়ে রেখা বছর আটেক আগে যুবক বিজয়কে বিয়ে করে ।বিজয়ের আদি বাড়ি পুরুলিয়ায় হলেও সে মাশিলা গ্রামে মামার বাড়িতে থাকে। দম্পতির একটি ৬ বছরের ছেলে আছে। সন্দেহ করে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিজয় তাঁর স্ত্রী রেখার উপর নির্যাতন শুরু করে। শনিবার রাতে রেখা ঘরে শুয়ে ছিলেন। অভিযোগ সেই সময় বিজয় ও মামাশ্বশুর মিলে তাঁকে মারধর করা শুরু করে। নোড়া দিয়েও রেখার মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। নোড়ার আঘাতে মাথা ফাটে রেখার। খবর পেয়ে বাপেরবাড়ির লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনার দিনই রেখার বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ রেখার স্বামী ও মামা শ্বশুর কে গ্রেফতার করে।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২
রাজ্য

মাছ নয়, দিঘির জল থেকে উদ্ধার হল আস্ত একখানি মোটরবাইক

মাছ নয়, দিঘির জল থেকে উদ্ধার হল আস্ত একখানি মোটরবাইক। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের আমরাল দিঘী এলাকায়। দীঘিতে মাছ ধরার জন্য জাল টানা হলে দিঘির জলে কোথাও একটা জায়গায় বারবার জাল আটকে যেত। শনিবার ফের জাল নামানোর আগে দিঘির চাষিরা নিজেরা জলের তলায় সেই জায়গাটিতে নেমে দেখেন কেন বারবার এই জায়গায় জাল আটকে যায়। তারপর তারা দেখেন কোন একটা ভারী বস্তু জলের তলায় পড়ে রয়েছে। চাষীরা সেই বস্তুটি সঙ্গে রসার দড়ি বেঁধে জলের তলা থেকে দিঘির পারে টেনে তোলে দেখেন আস্ত একটি মোটর বাইক জলের তলায় পড়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা খণ্ডঘোষ থানায় খবর দেন, খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ মোটরবাইকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। তবে কিভাবে জলের তলায় মোটরবাইক এল, কেনই বা এল, সেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ।লকাই ঘোষ বলেন, মোটর বাইকটি কেন দিঘীর জলে ফেলে দিল তা নিয়ে রহস্য উন্মোচন হওয়া দরকার। স্থানীয় বাসিন্দা কৌশিক ঘোষ বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয় বাইকটি কার নামে আছে।তবে গ্রামের বাসিন্দাদের ধারণা এটা চোরাই বাইক।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২
রাজ্য

পুকুর থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত যুবকের দেহ খুনের অভিযোগে গ্রেফতার বন্ধু, তুলকালাম দক্ষিণ বর্ধমান

বন্ধুকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হল এক যুবক। ধৃতের নাম উত্তম রায়। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার শাঁকারি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় তার বাড়ি। বন্ধু প্রসেনদীপ রায়কে খুনের অভিযোগে পুলিশ বুধবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। খুনের ঘটনা বিশদে জানতে এবং বাকি জড়িতদের হদিশ পেতে তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে ৫ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। সিজেএম ধৃতের ৪ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।পুলিশ জানিয়েছে, শাঁকারি গ্রামের যুবক প্রসেনদীপ রায়ের বাড়ি শাঁকারি গ্রামেই। গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় সে বাড়ি থেকে বের হয়। গ্রামের ফুলশিরে পুকুরপাড়ে কয়েকজন বন্ধুর সাথে তাকে গল্পগুজব করতে দেখাযায়। তারপর রাতে প্রসেনদীপ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় তার খোঁজ শুরু করেন। পুকুরপাড়েও প্রসেনদীপের হদিশ পাওয়া যায় না। পরেরদিন দুপুরে ফুলশিংরে পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তখনই উদ্ধার হয় প্রসেনদীপের দেহ। তাঁর কান ও নাক দিয়ে রক্ত বেরিয়েছিল। ঘাড়ে কালশিটে দাগ ছিল। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। মৃতের পরিবারের দাবি, প্রসেনদীপকে খুন করা হয়েছে। এনিয়ে পরিবারের তরফে থানায় জানানো হয়। থানা ব্যবস্থা না নেওয়ায় মৃতের দাদা সন্দীপ রায় বর্ধমান সিজেএম আদালতে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রসেনদীপকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় প্রসেনদীপের বন্ধুরাই জড়িত। সিজেএম খুন ও প্রমাণ লোপাটের ধারায় কেস রুজু করে তদন্তের জন্য খণ্ডঘোষ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। অভিযোগে সন্দীপ জানান, একই গ্রামের হওয়া সত্বেও প্রসেনদীপকে তাঁরা অভিযুক্তদের সঙ্গে মেলামেশা করতে নিষেধ করেন। ঘটনার কয়েকমাস আগে প্রসেনদীপের সঙ্গে তাদের ঝগড়া হয়। ঘটনার ৫-৬ দিন আগে থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ফের মেলামেশা শুরু করেন তিনি। ঘটনার দিন রাতে উত্তম সহ কয়েকজনের সঙ্গে ফুলশিংরে পুকুর পাড়ে তাঁকে আড্ডা মারতে দেখা যায়। তাঁর বন্ধুরা মদ খাচ্ছিল। গ্রেপ্তারি এড়াতে উত্তম সহ ৫ অভিযুক্ত আগাম জামিনের আবেদন করে। সেই আবেদন খারিজ করে দেন জেলা জজ।

জানুয়ারি ২০, ২০২২
রাজ্য

Fake Land Deed: মৃত ব্যক্তির জমি রেজিস্ট্রি করে সম্পত্তি জলিয়াতির ভয়ঙ্কর অভিযোগ, গ্রেফতার 'জমি মাফিয়া'

ভূয়ো ব্যক্তিকে জমির মালিক সাজিয়ে জমি বিক্রির দলিল করে ভূমি দফতরে রেকর্ড করতে গিয়ে ধরা পড়লো এক জমি মাফিয়া। এই ঘটনা জানাজানি হতেই পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খণ্ডঘোষের শশঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের সালুন গ্রাম নিবাসী প্রতারিত ইন্দ্রজিৎ ঘোষের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জমি মাফিয়া মনোজকান্তি মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় আগে থাকতেন। সেখান থেকে ২০০৯ সালে তিনি সপরিবার খণ্ডঘোষের কামালপুর গ্রামে চলে এসে বসবাস শুরু করেছেন। জালিয়াতির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ শনিবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। অপরের জমি হাতিয়ে নেওয়ার চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত রয়েছে এবং চক্রে আরও কারা যুক্ত রয়েছে তা জানতে তদন্তকারী অফিসার এদিন ধৃতকে ৫ দিন পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান আদালতে। বিচারক যদিও ধৃতকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ চিমার পরিবর্তে কে? নতুন বিদেশি এসসি ইস্টবেঙ্গলেপ্রতারিত ইন্দ্রজিৎ ঘোষ এদিন জানিয়েছেন, খণ্ডঘোষের কামালপুর মৌজায় তাঁর ৬০ শতক চাষ জমি রয়েছে। ওই জমি তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ বিক্রি করেননি। অথচ জাল দলিল তৈরি করে ওই জমি বিক্রি হয়েছে বলে কুখ্যাত জমি মাফিয়া মনোজকান্তি মণ্ডল ব্লকের ভূমি দফতরে নথি দাখিল করেছে। ভূমি দফতরের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার রাতে খণ্ডঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত মনোজকান্তি মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে। ইন্দ্রজিৎবাবু এও দাবি করেন, আগে তাঁর ওই ৬০ শতক সম্পত্তির যাঁরা মালিক ছিলেন তাঁরা প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে মারা গিয়েছেন। তাঁদের জীবিত দেখিয়ে জাল ভোটার কার্ড তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। ইন্দ্রজিৎ বলেন, এমন জালিয়াতি করেই খণ্ডঘোষের প্রায় ১৬-১৭ জন ব্যক্তির সম্পত্তির বিক্রি দলিল করে নিয়েছে ধৃত জালিয়াত ব্যক্তি। ভূয়ো ভোটার কার্ড তৈরি চক্র এই জমি জালিয়াতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে ইন্দ্রজিৎ ঘোষ জানিয়েছেন। ইন্দ্রজিৎবাবু ছাড়াও খণ্ডঘোষের তিলডাঙ্গা এলাকার সুরজ মাহাতো জানিয়েছেন, তিলডাঙ্গা মৌজায় ২৪০ দাগে তাঁর দাদু দুষ্টু মাহাতোর নামে ১বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তিতে তাঁদের বাড়ি ঘর রয়েছে। ৫৫ বছর ধরে তাঁদের পরিবার সেখানে বসবাস করছে। দাদুর নামে সেই সম্পত্তির সরকারি দলিল ও পর্চা সব রয়েছে। দিন ১০ আগে তিনি জানতে পারেন তাঁদের সেই সম্পত্তি জনৈক চারুবালা মণ্ডলের নামে রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। সুরজ মাহাতো দাবি করেন, জাল দলিল তৈরি করে মনোজকান্তি মণ্ডল তাঁদের সম্পত্তি নিজের লোকের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছে। মনোজকান্তির কঠোর সাজার দাবি করেছেন সুরজ মাহাতো।আরও পড়ুনঃ নেতাইয়ে শুভেন্দুকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মুখ্যসচিব, ডিজির কাছে কৈফিয়ৎ চান রাজ্যপালধরা পড়ার পর মনোজকান্তি মণ্ডল সংবাদ মাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন, বহু বছর আগে মারা যওয়া ব্যক্তির ভোটার কার্ড জোগার করে তাঁকে জীবিত দেখিয়ে বর্ধমান রেজিস্ট্রি অফিস থেকে তিনি জমির বিক্রি দলিল করিয়ে নিয়েছেন। জালিয়াতি করেই একাধিক ব্যক্তির জমির বিক্রী দলিল করেছেন বলেও সংবাদ মাধ্যমের কাছে কবুলও করেন মনোজকান্তি। এই কাজে তাকে যাঁরা যাঁরা সাহায্য করেছে তাঁদের নামও তিনি জানান। পুলিশ তাদের বিষয়েও খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছে।আরও পড়ুনঃ রয় কৃষ্ণা করোনায় আক্রান্ত? স্থগিত এটিকে মোহনবাগানের ম্যাচখণ্ডঘোষ ব্লক বিএলআরও রহিত রঞ্জন ঠাকুর জানিয়েছেন, মনোজকান্তি মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তি একটা সম্পত্তি দুবার দলিল করে রেকর্ড করতে এসেছিল। দ্বিতীয়বার যখন রেকর্ড করতে আসে তখনই তার জালিয়াতি ধরা পড়ে। জালিয়াতি করে অপরের প্রায় ১৬ একরের মত সম্পত্তি মনোজকান্তি হাতিয়ে নেওয়ার কাজ হাসিল করতে চেয়েছিল বলে এখন অবধি জানা গিয়েছে। বর্ধমান রেজিস্ট্রি অফিসে (এডিএসআর ১) কিভাবে মনোজকান্তি জাল লোককে জমি মালিক সাজিয়ে দলিল তৈরি করতো তাঁর তদন্ত হলেই জালিয়াতির পর্দাফাঁস হয়ে যাবে বলে বিএলআরও জানিয়েছেন।

জানুয়ারি ০৯, ২০২২
রাজ্য

খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ কর্তাদের 'মানবতার' দিশা দেখালেন ইব্রাহিম ও তারাপদ

ধর্ম যার যাই হোক মনবতাই সবথকে বড় ধর্ম। শুধু মনে প্রাণে এ কথা বিশ্বাস করাই নয়, বাস্তবেও সেই পথই অনুসরণ করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন ইব্রাহিম মল্লিক ও তারাপদ রায়। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার প্রত্যন্ত গ্রাম উখরিদে পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস অভিন্ন হৃদয় এই দুই ব্যক্তির। তাঁদের একে অপরের প্রতি স্নেহ, ভালবাসা ও মানবিক হৃদয় বন্ধনে আবদ্ধ থাকা দেখে মুগ্ধ খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ বাবুরাও। আইনের রক্ষকরা অকপটে বলছেন, হ্যাঁ ,এটাই আমাদের দেশ। আমাদের সর্বধর্ম সমন্বয়ী মাতৃভূমি ভারতবর্ষের মাটতে এখনও বেঁচে আছে মানবতা। উখরিদ গ্রামের তারাপদ রায় বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। তাঁর শরীরও তেমন সুস্থ সবল নয়। তবে ইব্রাহিম মল্লিকও যে একেবারে সুস্থ তাও বলা যাবে না। ব্যাঙ্কের পাস বইটি হারিয়ে যাওয়ায় তারাপদবাবু সমস্যায় পড়েন। মনের মানুষ, কাছের মানুষ ইব্রাহিম মল্লিককে নিজের সমস্যার কথা জানান তারাপদবাবু। তা শুনে ইব্রাহিম পাশে থাকার আশ্বাস দেয় তারাপদ বাবুকে। সম্প্রতি বৃদ্ধ তারাপদবাবুকে সঙ্গে নিয়ে ইব্রাহিম স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে হেঁটেই হাজির হয় খণ্ডঘোষ থানায়। সেই সময়ে থানায় ডিউটি অফিসার হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন পিএসআই রিটন সেখ।ইব্রাহিম ও তারাপদ বাবু ডিউটি অফিসার রিটন বাবুর কাছে গিয়ে দাঁড়ান। রিটন বাবু জানান, তিনি থানায় আগত ওই দুই ব্যক্তির সমস্যার কথা জানতে চান । তখন তারাপদ রায় জানান, তাঁর ব্যাংকের পাস বইটি কিছুদিন আগে হারিয়ে গেছে। সেই কারণে তিনি ব্যাংকে লেনদেন করতে পারছেন না। সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যাংকে গিয়েছিলেন। ব্যাঙ্কের অফিসারা তাঁকে বলেছেন এই বিষয়ে থানা থেকে মিসিং ডায়েরি করা কপি আনতে হবে। রিটন বাবু জানান, তাঁর খারাপ লাগলো এই কথা ভেবে যে বৃদ্ধ তারাপদবাবু নিজেই ঠিকমত চলতে পারেন না।অথচ সেই ব্যক্তি প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে থানায় এসেছে একটা মিসিং ডায়েরি করতে।তাই বিলম্ব না করে বৃদ্ধার অবস্থা বুঝে সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটি মিসিং ডায়েরি করে জিডি নাম্বার কার্তিকবাবুকে দিয়ে দেন। ডিউটি অফিসার রিটন বাবু হতবাক হয়ে পড়েন থানায় তারাপদ রায়ের সমস্যা মিটিয়ে দিয়ে ইব্রাহিমের কাছে তার সমস্যার কথা জানতে চেয়ে। ডিউটি অফিসার বলেন, ইব্রাহিম সরল মনে জানায়, স্যার আমার কোন সমস্যা নেই।ব্যাঙ্কের পাস বই হারিয়ে যাওয়ায় তারাপদ দাদা খুব সমস্যা পড়ে গিয়েছিলেন। দাদা এতটা রাস্তা পেরিয়ে একা থানায় আসতে পারবেন না বলেছিলেন । তাই তারাপদদাদাকে সাহায্য করার জন্য তিনি স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে হেঁটেই দাদাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছেন। এই কথা শুনে অভিভূত হয়ে পড়া ডিউটি অফিসার রিটন সেখ কাছে ডেকে নেন তারাপদ বাবু ও ইব্রাহিম সেখকে। এই দুজনকে চেয়ারে বসিয়ে তাঁদের সঙ্গে আরও নানা কথা বলেন ডিউটি অফিসার। কথোপকথনে ডিউটি অফিসার রিটন সেখ জানতে পারেন পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন তারাপদ রায় ও ইব্রাহিম মল্লিক। তাঁরা একে অপরের সুখ -দুঃখের নিত্যসঙ্গী। বিপদে আপদে তাঁরা একে অপরের ভরসা। কোনও দিনের জন্য তারাপদবাবু ও ইব্রাহিম মল্লিক একে অপরের সঙ্গে বিভেদ অশান্তিতে জড়াননি। তাঁরা দুজনে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বোঝে না, ধর্মীয় সুড়সুড়ি বোঝে না। বুঝতে চানও না।খুশির ঈদ থেকে শুরু করে বখরিদ, মহরম, দুর্গাপুজো, কালীপুজো সবই তাদের কাছে এক বিশেষ মহাত্মের বলে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ বাবুদের জানান তারাপদ রায় ও ইব্রাহিম মল্লিক। যা শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান থানার ডিউটি অফিসার রিটন সেখ সহ অন্য পুলিশ বাবুরা। তাঁরা সবাই মুগ্ধ হয়ে ইব্রাহিম ও তারাপদকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তাঁদের ছবিও তোলেন। পুলিশ কর্তারা এদিন বলেন, তারাপদ ও ইব্রাহিমের এই স্নেহ ভালবাসার বন্ধন প্রমাণ করছে,স্বার্থান্বেষীরা চক্রান্ত যতই করুক না কেন মানবতা আজও বেঁচে আছে সর্বধর্ম সমন্বয়ী মাতৃভূমি ভারতবর্ষের মাটিতে খণ্ডঘোষ থানার ওসি প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, ইব্রাহিম মল্লিক ও তারাপদ বাবুর এই স্নেহের বন্ধন অটুট থাক। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক তাঁদের পারস্পরিক স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনের মায়াজাল।

জুলাই ২৮, ২০২১
রাজ্য

Suicide: বাবার মৃত্যুর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বহুতল হাসপাতাল থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী ছেলে

বাবার মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা পরেই বহুতল হাসপাতাল বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হল ছেলে। মৃতের নাম অশোক রুইদাস (২২)। বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার তোড়কনা গ্রামে। সে ইংরেজি অনার্সের তৃতীয় বর্ষে ছাত্র ছিল। অশোকের আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনার কথা জেনে স্তম্ভিত পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীরা।আরও পড়ুনঃ করোনায় আক্রান্ত ক্রুণাল পান্ডিয়া, স্থগিত ভারতশ্রীলঙ্কা ম্যাচমৃতর দাদা অলোক রুইদাস জানিয়েছেন, তাঁর বাবা কার্তিক রুইদাস (৫০) সম্প্রতি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রথম বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কার্তিক বাবু সুস্থ হননি। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় আট দিন আগে পরিবারের লোকজন কার্তিকবাবুকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে। সোমবার বিকাল ৫ টা নাগাদ দুর্গাপুরের হাসপাতালেই কার্তিক রুইদাসের মৃত্যু হয়। অলোক রুইদাস বলেন, বাবার মৃত্যু সংবাদ তাঁর ভাই অশোক-ই তাঁকে জানায়। মা ভেঙে পড়বে বলে আমরা মাকে বাবার মৃত্যু সংবাদ জানাইনি। তারই মধ্যে ওই দিন রাত সাড়ে নটা নাগাদ অশোক হঠাৎই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর বেশ কিছু সময় বাদ অশোক আমাকে ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে জানায় বাবার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী। মেসেজ আসার আধঘন্টা পর আলোক দেখেন তাঁর ভাই অশোক হাসপাতলের ৫ তলা বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে নীচে ঝাঁপ দিয়েছে। অশোককে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দাদা অলোক রুইদাস বলেন, ইংরেজি অনার্স নিয়ে পড়াশুনা শেষ করে ভাইয়ের ব্যাঙ্গালোরে পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। ওর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।আরও পড়ুনঃ স্পেনের বিরুদ্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ভারতখণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি শ্যামল দত্ত বলেন, সোমবার বিকেলে বাবার মৃত্যুর পর রাতে ওই হাসপাতালের পাঁচ তলা বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দিয়ে ছোট ছেলে অশোক রুইদাস আত্মঘাতী হয়। দুর্গাপুরের বিধাননগর থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এদিন ময়নাতদন্তের পর বাবা ছেলের মৃতদেহ একসঙ্গে তোড়কনার বাড়িতে আসে।

জুলাই ২৭, ২০২১

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

trinamool-organisational-reshuffle-kunal-ghosh-north-kolkata-president-arnab-bandyopadhyay

তৃণমূল কংগ্রেসে বড় সাংগঠনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের তরফে প্রকাশিত নতুন তালিকা অনুযায়ী উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে। এতদিন এই পদে ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও সরানো হয়েছে সায়নী ঘোষকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়।দলের অন্দরে চলা রাজনৈতিক আলোচনা এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে দলের মুখপাত্র এবং অন্যতম সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত কুণাল ঘোষ। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে সরব ছিলেন।অন্যদিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নানা রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক দায়িত্ব এখন কুণাল ঘোষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যুব সংগঠনের নেতৃত্বেও নতুন মুখ আনা হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনের লড়াইকে সামনে রেখে দল নতুন করে সংগঠন সাজানোর চেষ্টা করছে। সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই রদবদলের ফলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় কী প্রভাব পড়ে এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কীভাবে কাজ করেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৩, ২০২৬
বিদেশ

হরমুজ ঘিরে ভয়াবহ সংকট! ট্রাম্প-মোদি বৈঠকের আগে বাড়ছে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার আবহে আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে চলা জি-সাত সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে দুই নেতার। সূত্রের খবর, সম্মেলনের ফাঁকেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে পারেন মোদি ও ট্রাম্প। সম্ভাব্য বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।দীর্ঘ সময় পর দুই নেতার মুখোমুখি বৈঠক হতে চলেছে বলেও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণ করা হয়। বিশ্বের বহু দেশ, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলি এই জলপথের উপর নির্ভরশীল।ভারতের ক্ষেত্রেও হরমুজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই আসে। ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এদিকে সাম্প্রতিক কিছু সামুদ্রিক ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখন শুধু আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং তা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে মোদি ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক থেকে কী বার্তা উঠে আসে এবং আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় দুই দেশ কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে বিশ্ব কূটনৈতিক মহলের।

জুন ১৩, ২০২৬
দেশ

অবতরণের আগেই ভয়াবহ বিপর্যয়! অসমে বায়ুসেনার বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু পাঁচ সেনাকর্মীর

অসমের জোরহাটে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি পরিবহণ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পাঁচ সেনা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে জোরহাট বিমানঘাঁটিতে অবতরণের সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও পাঁচজনকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমোয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু ডেনিস আলম। নিহত সেনা কর্মীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেছে বায়ুসেনা।বায়ুসেনা সূত্রে খবর, শনিবার সকাল প্রায় দশটা নাগাদ একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময় বিমানটি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অবতরণের সময় জোরহাট বিমানঘাঁটির মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। এরপরই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিমানে।দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল ও উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও বিমানে থাকা পাঁচ সেনা কর্মীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা।অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, জোরহাটে বায়ুসেনার বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রাজ্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই অসমের কার্বি আংলং জেলায় একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বায়ুসেনার বিমান দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এল অসমে।দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো পাঁচ বায়ুসেনা কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। তাঁদের এই আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মত অনেকের।

জুন ১৩, ২০২৬
দেশ

ভূপেন্দ্র যাদবের পর অমিত শাহ! দিল্লিতে সুদীপের একের পর এক বৈঠকে তুঙ্গে জল্পনা

দিল্লিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিতি একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য হিসেবে। লোকসভায় বহু বছর তিনি তৃণমূলের দলনেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথাও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।সূত্রের দাবি, শনিবার দিল্লিতে পৌঁছে প্রথমে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। সেখানে বৈঠক শেষে তিনি অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন বলেও জানা যাচ্ছে। দুই নেতার মধ্যে কিছু সময় আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।এই বৈঠকের পর থেকেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নানা রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংসদদের অবস্থান এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রার শুরু থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। অতীতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য তৈরি হলেও পরবর্তীতে তিনি আবার তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে আসেন।দিল্লিতে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকগুলি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এর পিছনে বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৩, ২০২৬
রাজ্য

১১ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশি! মদন মিত্রের ফ্ল্যাট থেকে কী কী নিয়ে গেল ইডি?

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ফ্ল্যাটে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এই অভিযান চলে প্রায় ১১ ঘণ্টা। দিনের শেষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করে তদন্তকারীরা ফিরে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।মদন মিত্রের ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার সীতারাম পাহাড়ির দাবি, সকালে ইডি আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছে নিজেদের পরিচয় দেন এবং বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশির পর বেশ কিছু কাগজপত্র তাঁরা সঙ্গে করে নিয়ে যান। পাশাপাশি মদন মিত্রের খোঁজও করেন তদন্তকারীরা।সূত্রের খবর, শনিবার একেবারে ভোরবেলা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে মদন মিত্রের ফ্ল্যাটে পৌঁছন ইডির পাঁচ থেকে ছয় জন আধিকারিক। তবে অভিযান শুরু করতেই সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। জোকা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ফ্ল্যাটটি তালাবন্ধ থাকায় প্রথমে ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি তদন্তকারীরা।দীর্ঘ সময় ধরে ফ্ল্যাটের বাইরে অপেক্ষা করতে হয় ইডি আধিকারিকদের। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চাবির খোঁজ চলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং তল্লাশি শুরু করা সম্ভব হয়। এরপর ফ্ল্যাটের বিভিন্ন অংশে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হয়।শুধু জোকার ফ্ল্যাট নয়, একই সঙ্গে মদন মিত্রের ভবানীপুরের ফ্ল্যাটেও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে বিভিন্ন আর্থিক নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করতেই এই অভিযান বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তল্লাশির পর তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনের।

জুন ১৩, ২০২৬
কলকাতা

এবার ২৫০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ! অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর ঘিরে তোলপাড়

একের পর এক মামলা, তলব এবং তদন্তের মধ্যেই এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। আমফান পরবর্তী ত্রাণ বিতরণে প্রায় ২৫০ কোটির আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।অভিযোগকারীদের দাবি, ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি তৈরির জন্য উপভোক্তাদের ২০ হাজার টাকা এবং ঘর মেরামতের জন্য ৫ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ত্রাণ বণ্টন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, বহু পাকা বাড়িকে ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে সরকারি অর্থ দেওয়া হয়েছে। এমনকী একই পরিবারের বা একই ছাদের নীচে বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তির নামে আলাদা আলাদা করে আর্থিক সাহায্য মঞ্জুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। শুধু তাই নয়, সরকারি সাহায্যের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একাধিক উপভোক্তার নাম একই মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। একটি নম্বরে ১৩ জন এবং অন্য একটি নম্বরে ৮ জন উপভোক্তার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাঙ্ক শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ বিতরণের তথ্যও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের দাবি তুলেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। তাঁর অভিযোগ, ত্রাণ বণ্টনের নামে বৃহৎ আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে এবং তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।উল্লেখ্য, এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সম্প্রতি এক বিজেপি নেতা অভিযোগ করেছিলেন, প্রায় সাড়ে সাত বছর আগে তাঁর উপর হামলার ঘটনায় অভিষেকের ভূমিকা ছিল। সেই অভিযোগ নিয়েও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।নতুন এফআইআর দায়ের হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। আমফান ত্রাণ বণ্টনকে কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

জুন ১৩, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলে কি আরও এক বড় ভাঙন? দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকে সুদীপ, তুঙ্গে জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও উসকে দিল দিল্লির একটি বৈঠক। উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করায় নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। শনিবার দিল্লিতে পৌঁছেই তিনি ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান বলে সূত্রের খবর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্যতম অভিজ্ঞ সাংসদ হিসেবে পরিচিত। লোকসভায় বহু বছর তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে সেই দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও তখন প্রকাশ্যে কোনও অসন্তোষ দেখাননি সুদীপ।তবে বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরে বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ এবং সাংসদদের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সেই পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠককে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি ভবিষ্যতে কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়, তবে সেখানে সুদীপ গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠতে পারেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন সাংসদ নন, তিনি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন, তখন প্রথম সারির যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে সুদীপ অন্যতম। যদিও পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। একসময় তিনি দল ছেড়েও বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই ফিরে আসেন।সম্প্রতি তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সুদীপের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। ফলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখন নানা মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।তবে এই বৈঠক শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু দিল্লির এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা যে নতুন মাত্রা পেয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

জুন ১৩, ২০২৬
কলকাতা

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় পদক্ষেপ! মদন মিত্রের একাধিক ফ্ল্যাটে ইডির অভিযান

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুক্রবার ভোরে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। দক্ষিণেশ্বর এবং জোকার ফ্ল্যাটে একযোগে অভিযান ঘিরে সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, ভোরবেলা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে মদন মিত্রের বিভিন্ন ঠিকানায় পৌঁছন ইডি আধিকারিকরা। জোকা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে প্রথমে সমস্যার মুখে পড়তে হয় তদন্তকারীদের। ফ্ল্যাটটি তালাবন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় বাইরে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চাবির খোঁজ চলার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জোকার ওই ফ্ল্যাটে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মদন মিত্র নিয়মিত থাকেন না। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে তাঁকে সেখানে দেখা যায়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়।একই সময়ে দক্ষিণেশ্বর এবং ভবানীপুরের আরও একটি ঠিকানাতেও পৌঁছে যায় ইডির দল। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতেই এই অভিযান বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশির সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং নগদ অর্থের সন্ধান মিলেছে। পাশাপাশি একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কেও তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।শুধু মদন মিত্রের ঠিকানাই নয়, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এদিন একযোগে মোট আটটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। বেলেঘাটা মেন রোডে ঠিকাদার সঞ্জীব ঘোষের বাড়িতেও পৌঁছয় ইডির একটি দল। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বিভিন্ন সরকারি কাজের বরাত এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে কোনও অনিয়ম জড়িত ছিল কি না।পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগেও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় মদন মিত্রের একাধিক ফ্ল্যাটে এই তল্লাশি নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে।

জুন ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal