• ৩ আশ্বিন ১৪৩৩, মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

IS

রাজ্য

স্ত্রীর উৎকণ্ঠায় আকুল মুকুল পুত্র, ভ্রমণ সংস্থার ভূমিকা নিয়েও এবার সরব শুভ্রাংশু

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে এখনও বহু পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। সেই নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা তথা প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। এই পরিস্থিতিতে নেপালে নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ভ্রমণ সংস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে শুভ্রাংশু রায় দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় চলো যাই নামে একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে নেপালে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নেপালে পৌঁছনোর পর পর্যটকদের দায়িত্ব নেয় সম্রাট ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস। এরপর তিব্বত সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বে ছিল লাসা নামে একটি চিনা ভ্রমণ সংস্থা।ভ্রমণ সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নশুভ্রাংশুর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম এবং ভ্রমণ সংস্থা নিখোঁজ পর্যটকদের জীবিত না থাকার বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে। যদিও এই দাবি সত্যি ধরে নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।বিশেষ করে সম্রাট ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এবং লাসা সংস্থার মধ্যে শেষ কী কথোপকথন হয়েছিল, তা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু। পাশাপাশি যে বাসে নিখোঁজ পর্যটকদের থাকার কথা বলা হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বাসে থাকা প্রত্যেক পর্যটকের পাসপোর্ট ও ছবি প্রকাশ করে তাঁদের পরিচয় যাচাই করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিনিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে ভারত সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন শুভ্রাংশু রায়। তাঁর দাবি, চিন-তিব্বত সীমান্তে ওই দিন কতজন ভারতীয় পর্যটক ইমিগ্রেশন করেছিলেন, সেই তথ্য প্রকাশ করা হোক। এ বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।শুভ্রাংশুর আশঙ্কা, ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ঘটনাটিকে হয়তো যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর মরশুম সামনে রেখে পর্যটন ব্যবসার ক্ষতি এড়াতে যাতে ঘটনার প্রকৃত তথ্য কোনওভাবে চাপা না পড়ে, সেই বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।ডিএনএ পরীক্ষা নিয়েও উদ্বেগনিখোঁজ পর্যটকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে তা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবিও তুলেছেন শুভ্রাংশু। তাঁর বক্তব্য, পরীক্ষা হলে তা অন্তত দুবার এবং ভারত সরকারের উদ্যোগে করা উচিত। চিন ও নেপালের ব্যবস্থাপনায় ডিএনএ পরীক্ষা হলে প্রক্রিয়াটি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।এর পাশাপাশি, বিপর্যয়ের সঠিক সময় নিয়েও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু। ভারত, নেপাল না কি তিব্বত সীমান্ত কোন সময় ও কোথায় মূল ঘটনা ঘটেছিল, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। চিনে ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত থাকায় সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে আনারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।৩২ জনই সুস্থ আছেন, আশাবাদী শুভ্রাংশুসমস্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্ত্রী-সহ নিখোঁজ ৩২ জন পর্যটককে নিয়ে আশাবাদী শুভ্রাংশু রায়। তাঁর বিশ্বাস, নিখোঁজ ৩২ জনই হয়তো চীন-তিব্বত সীমান্তের কোনও অজানা এলাকায় নিরাপদে রয়েছেন।নিজের পরিবারের পাশাপাশি নিখোঁজ বাকি পরিবারগুলির কথাও উল্লেখ করে সকলের কাছে তাঁদের জন্য প্রার্থনা করার আবেদন জানিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কলকাতা

শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় যাত্রী পরিষেবায় রেলের বিরাট উদ্যোগ, একাধিক স্টেশনে সম্পূর্ণ নয়া কাজ

দৈনন্দিন যাত্রীদের যাত্রা আরও আরামদায়ক, সুবিধাজনক ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত করতে শিয়ালদহ ডিভিশন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন যাত্রী পরিষেবার উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। এরই অংশ হিসেবে শিয়ালদহ দক্ষিণ সেকশনের বিভিন্ন স্টেশনে সম্প্রতি একাধিক যাত্রীবান্ধব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।বাঘাযতীন স্টেশনে বুকিং অফিসের সামনে একটি নতুন যাত্রী শেড স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে টিকিটের জন্য লাইনে অপেক্ষারত যাত্রীরা বিশেষ করে বৃষ্টি ও প্রবল রোদের সময় যথেষ্ট স্বস্তি পাবেন। এছাড়াও, প্ল্যাটফর্ম নং ১ ও ২-এ স্পষ্ট ও সুদৃশ্য প্ল্যাটফর্মের নামের বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে যাত্রীরা সহজেই তাঁদের নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম চিহ্নিত করতে পারবেন।সুভাষগ্রাম স্টেশনে ফুট ওভার ব্রিজ (FOB)-এর শেড নির্মাণের কাজও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে আরও ভালো সুরক্ষা পাবেন এবং দৈনন্দিন যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে।এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ স্টেশনগুলিতে যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে শিয়ালদহ ডিভিশনের নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নত আশ্রয়, সহজ পথনির্দেশ এবং আরও সুবিধাজনক যাত্রার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবরকম প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে হঠাৎ অনিশ্চয়তা! কেন সূচি বদলের আবেদন দিল্লি পুলিশের?

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলন হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনের মধ্যেই ১৩ সেপ্টেম্বর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত ও আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ব্রিকস সম্মেলনে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াত থাকবে। তাঁদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য দিল্লিতে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে একই দিনে কয়েক হাজার দর্শককে নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ।এই কারণেই ম্যাচের দিন বদলের জন্য দিল্লি ক্রিকেট সংস্থাকে অনুরোধ করেছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। শুক্রবার কেন্দ্রীয় রেঞ্জের উপ-পুলিশ কমিশনার ডিডিসিএ-কে একটি চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থা থাকবে।পুলিশের আশঙ্কা, ১৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচ দেখতে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ হাজার দর্শক অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আসতে পারেন। ফলে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াতের সঙ্গে সাধারণ দর্শকদের বিপুল ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম এবং তার আশপাশের এলাকাতেও এমনিতেই যানবাহন ও পথচারীদের চাপ থাকে। ম্যাচের সময় অতিরিক্ত গাড়ি চলাচল এবং বিভিন্ন জায়গায় পার্কিংয়ের চাপ বাড়লে রাস্তার জায়গা আরও কমে যেতে পারে। ফলে যানজটের আশঙ্কাও বাড়বে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বিশেষ করে বিএসজেড মার্গ, মাতা সুন্দরী কলেজ, রাজঘাট এবং বাল ভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পার্কিং হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাশাপাশি অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, ডিডিইউ মার্গ, মিন্টো রোড, কমলা মার্কেট এবং সংলগ্ন এলাকাতেও যান চলাচলের উপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।শুধু যানজট নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পুলিশের কাছে বড় চিন্তার বিষয়। ব্রিকস সম্মেলনের কারণে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের বহু কর্মীকে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা পরিষ্কার রাখা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন জায়গায় পথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা সামলাতে হবে। তার মধ্যে হাজার হাজার দর্শকের ক্রিকেট ম্যাচ হলে বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছে পুলিশ।এই পরিস্থিতিতে ডিডিসিএ-কে ১৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলন শেষ হওয়ার পর সুবিধামতো অন্য কোনও দিনে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, ম্যাচের সূচি বদলানো হলে সীমিত সংখ্যক কর্মী দিয়েই নিরাপত্তা ও যান চলাচল আরও ভালো ভাবে সামলানো সম্ভব হবে।এখন ডিডিসিএ এই অনুরোধে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর ক্রিকেটমহলের। ম্যাচের দিন বদলাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ব্রিকস সম্মেলনের কারণে ১৩ সেপ্টেম্বরের ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

শেষ বার কথা হয়েছিল ২৫ আগস্ট রাতে, তারপরই নিখোঁজ! শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে বড় দাবি শুভ্রাংশুর

নেপালের বিপর্যয়ের পর প্রায় পনেরো দিন কেটে গেলেও এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূ এবং শুভ্রাংশুর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। তাঁকে নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। তবে শুভ্রাংশুর দাবি, শর্মিষ্ঠা সুস্থই রয়েছেন। তাঁর অনুমান, চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় হয়তো রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় নিখোঁজদের পরিবারগুলির মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।গত ২১ আগস্ট হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। নেপালে পৌঁছনোর পর কয়েক বার স্বামীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ আগস্ট রাতে শেষ বার শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা হয়েছিল শর্মিষ্ঠার। তার পরের দিন, ২৬ আগস্ট সকাল থেকেই হড়পা বানের কারণে নেপালের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। খবর পাওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন শুভ্রাংশু। কিন্তু আর কোনও ভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শর্মিষ্ঠার খোঁজে পরিবারের তরফে থানায় যোগাযোগ করা হয়। ভবানী ভবন, বিদেশ মন্ত্রক এবং দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালানো হলেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যেই শর্মিষ্ঠার ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফলে পরিবারের মধ্যে আরও বড় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।এর মধ্যেই গত সোমবার রাতে শুভ্রাংশুর ফেসবুকের ডিসপ্লে ছবি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। দেখা যায়, স্ত্রী শর্মিষ্ঠার সঙ্গে নিজের একটি ছবি ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে ছবিটি ছিল সাদা-কালো। নিখোঁজ শর্মিষ্ঠার কোনও খবর না পাওয়ার মধ্যে এমন ছবি কেন ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকে এটিকে অশুভ ইঙ্গিত বলেও মনে করতে থাকেন।এই বিষয়ে শুভ্রাংশুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন, এখনও শর্মিষ্ঠার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। কেন শুভ্রাংশু ওই ছবি দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলেও জানান।এর পর অবশ্য শুভ্রাংশু আবার তাঁর ডিসপ্লে ছবি বদলে দেন। ফলে শর্মিষ্ঠাকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা আরও বেড়ে যায়। যদিও পরিবারের তরফে এখনও কোনও দুঃসংবাদের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।শুভ্রাংশুর বক্তব্য অনুযায়ী, শর্মিষ্ঠা সুস্থ রয়েছেন এবং চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার কারণেই নিখোঁজদের পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তিনি। শর্মিষ্ঠার প্রকৃত অবস্থান কোথায়, তিনি নিরাপদে রয়েছেন কি না এবং কবে তাঁর সন্ধান মিলবে, এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে পরিবার।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

সঙ্গীত আকাশের ধ্রুবতারা: সুরের জাদুকর ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের জীবন ও কালজয়ী সৃষ্টির কোলাজ

বাংলা গানের স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং ভক্তিগীতি ও শ্যামা সঙ্গীতের প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্র ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য। বাংলা সঙ্গীত জগতের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেননি। আধুনিক গান দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও, পরবর্তীকালে তিনি আপামর বাঙালির হৃদয়ে ভক্তি ও সুরের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন।প্রথম রেকর্ড থেকেই সাফল্যের শিখরে ১৯৪০ সালে প্রণব রায়ের কথায় এবং সুবল দাশগুপ্তের সুরে পাইওনিয়ার কোম্পানির ব্যানারে তাঁর প্রথম বেসিক রেকর্ড প্রকাশিত হয় যদি ভুলে যাও মোরে, জানাবো না অভিমান। প্রথম গানেই তিনি বাঙালি শ্রোতাদের মণিকোঠায় জায়গা করে নেন। এর পর চলচ্চিত্রের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শহর থেকে দূরে ছবিতে রাধে ভুল করে তুই চিনলে না তোর প্রেমিক শ্যাম রায় গানটি গেয়ে তিনি তুমুল সাড়া ফেলেন।১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পাশের বাড়ি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি সলিল চৌধুরীর সুরে ঝিরঝির ঝিরঝির বরষায় গানটি তৎকালীন সময়ে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। এছাড়াও তাঁর গাওয়া মাটিতে জন্ম নিলাম, এই ঝিরঝির ঝির বাতাসে এবং ঝনন ঝনন বাজে-র মতো আধুনিক গানগুলো আজও শ্রোতাদের নস্টালজিক করে তোলে।সাধক রামপ্রসাদ ও শ্যামা সঙ্গীতের স্বর্ণযুগধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের সঙ্গীত জীবনের এক অবিস্মরণীয় কীর্তি হলো ১৯৫৬ সালের সাধক রামপ্রসাদ চলচ্চিত্রটি। এই ছবির মোট ২৪টি গানের মধ্যে ২৩টি গানই গেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে মা আমার রাজার মেয়ে, ডুব দে রে মন কালী বলে, এমন দিন কি হবে মা তারা এবং মন রে কৃষি কাজ জানো না গানগুলো প্রতিটি বাঙালি পরিবারে ভক্তিরসের জোয়ার এনেছিল।সঙ্গীত মহলে একটি প্রচলিত তথ্য হলো, তাঁর অনুজ পান্নালাল ভট্টাচার্যের কণ্ঠে ভক্তিরসের গভীরতা দেখে ধনঞ্জয় বাবু একটা সময় নিজেকে ভক্তিগীতি থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৬৬ সালে ভাইয়ের অকাল প্রয়াণের পর, পান্নালালের পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পাশাপাশি ভক্তিমূলক গানের ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি আবারও ভক্তিগীতি গাওয়া শুরু করেন।সুরকার ও অন্তরালের গীতিকারকণ্ঠশিল্পী পরিচয়ের বাইরেও তিনি ছিলেন এক অসামান্য সুরকার ও গীতিকার। মহাপ্রস্থানের পথে চলচ্চিত্রে তাঁর দেওয়া সুর আজও মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়। খুব কম মানুষই জানেন, তিনি নিজের পরিচয় আড়াল করে শ্রী পার্থ ও শ্রী আনন্দ ছদ্মনামে প্রায় ৪০০ গান রচনা করেছিলেন, যার অনেকগুলোতেই সুর দিয়েছিলেন এবং তাঁর ভাই পান্নালাল ভট্টাচার্যকে দিয়ে গাওয়ানো হয়েছিল।প্রথিতযশা শিল্পীদের চোখে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের বহুমুখী কণ্ঠস্বর ও রাগপ্রধান গানের ওপর অসামান্য দখল শুধু শ্রোতাদেরই নয়, সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের কিংবদন্তি শিল্পীদেরও বিস্মিত করেছিল:সলিল চৌধুরী (কিংবদন্তি সুরকার ও রচয়িতা): ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কণ্ঠের ক্ষমতা ও নিখুঁত তান নিয়ে সলিল চৌধুরী একবার মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন ধনঞ্জয়ের কণ্ঠের রেঞ্জ ও গায়কী এতটাই উঁচুদরের যে তাঁর কণ্ঠকে অনায়াসে মোহাম্মদ রফি বা তালাত মাহমুদের সমকক্ষ বলা যায়।লতা মঙ্গেশকর (সুর সম্রাজ্ঞী): হিন্দি ছবি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (১৯৫৩)-তে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের সাথে দ্বৈত গান গাওয়ার পর লতা মঙ্গেশকর তাঁর গায়নীতে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি ধনঞ্জয় বাবুকে মুম্বাইয়ে গিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে স্থায়ীভাবে প্লেব্যাক করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু বাংলার প্রতি টানে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য সেই প্রস্তাব বিনম্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও শ্যামল মিত্র: তাঁর সমসাময়িক এই দুই প্রথিতযশা শিল্পী বহু সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, রাগপ্রধান গান এবং ভক্তিগীতির ক্ষেত্রে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের যে তান ও তালের নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা তৎকালীন সঙ্গীত দুনিয়ায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।তাঁর আমর সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম কয়েকটি গানের উল্লেখ না করলেই নয়, মা আমার রাজার মেয়ে, ডুব দে রে মন কালী বলে, এমন দিন কি হবে মা তারা, মন রে কৃষি কাজ জানো না। শেষের গানটি পরে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিস এর জনপ্রিয় বাঙালি গায়ক অরিজিৎ সিং মানবজমিন (Manobjomin) নামক বাংলা একটি বাংলা চলচ্চিত্রে পুনরায় গেয়েছেন। এবং ভীষণ জনপ্রিয় হয় সে গান।১৯৯২ সালের ২৭ ডিসেম্বর এই সুরের জাদুকর না ফেরার দেশে চলে গেলেও, তাঁর সৃষ্টি আজও কোটি কোটি বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের সকালে ভোরের আলো আর সন্ধ্যায় ভক্তি আরতির সুর হয়ে বেঁচে আছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজনীতি

জোড়াফুল কার? উপনির্বাচনের আগেই তৃণমূলের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন, দিল্লিতে মুখোমুখি দুই শিবির

১৬ সেপ্টেম্বরের আগেই সিদ্ধান্ত? প্রতীক ফ্রিজ নাকি এক পক্ষের হাতে তুলে দেবে কমিশনতুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনাএকদিকে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে চরম টানাপোড়েন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই যেন আরও বড় এক রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হয়ে গেল দিল্লিতে। প্রশ্ন এখন একটাইতৃণমূলের আসল দাবিদার কে? আর কার হাতে থাকবে সেই বহু-পরিচিত ঘাসের উপর জোড়াফুল?উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পরই তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত মেটাতে সক্রিয় হয়েছে নির্বাচন কমিশন। চলতি সপ্তাহেই দুই শিবিরকে দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে তলব করা হয়েছে। অর্থাৎ, এবার আর রাজনৈতিক দাবি-পাল্টা দাবিতে বিষয়টি আটকে থাকছে না। দুই পক্ষকেই কমিশনের সামনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও বৈধতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে হবে।বুধবার নির্বাচন কমিশনের সচিব অশ্বিনী কুমার মোহালের তরফে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কমিশনের সামনে ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। একই দিনে, মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হয়েছে।অর্থাৎ, এবার মুখোমুখি দুই পক্ষ, আর মাঝখানে নির্বাচন কমিশন।প্রশ্নের কেন্দ্রে একটাই প্রতীকতৃণমূলের প্রতীক নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার কার্যত ডেডলাইন-এর মুখে। কারণ, ১৬ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।এই সময়সীমাই কমিশনের সিদ্ধান্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, মনোনয়ন পর্ব শুরু হওয়ার আগেই প্রতীক নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে কমিশন। কারণ, ভোটের মাঠে একই দলের প্রতীক নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তা শুধু দুই শিবিরের সংঘাত নয়, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই জটিল করে তুলতে পারে।তাই এখন নজর ১২ সেপ্টেম্বরের দিকে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কমিশন কোন পথে হাঁটে, সেটাই হয়ে উঠতে চলেছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।কমিশনের সামনে দুটি রাস্তাএই পরিস্থিতিতে কমিশনের সামনে মূলত দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।প্রথম পথপ্রতীক স্থগিত।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিতে পারে কমিশন। সেক্ষেত্রে কোনও শিবিরই উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকেই বিকল্প প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামতে হবে।দ্বিতীয় পথএক পক্ষের হাতে প্রতীক।কমিশন চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে যেকোনও একটিকে তৃণমূলের স্বীকৃত শিবির হিসেবে বিবেচনা করে জোড়াফুল প্রতীক বরাদ্দ করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতীক পাওয়া পক্ষের রাজনৈতিক সুবিধা হবে বিরাট। আর অপর শিবিরকে কার্যত নতুন প্রতীক, নতুন পরিচয় এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ভোটে নামতে হবে।এখানেই লুকিয়ে রয়েছে উপনির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণের সম্ভাবনা।দৌড়ে এগিয়ে ঋতব্রত শিবির?কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক মহলে আর একটি প্রশ্ন ঘুরছেকার পাল্লা ভারী?ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এই মুহূর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। কারণ, তাঁদের দাবি অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন এখনও তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরেও তৃণমূলের একটি বড় অংশের জনপ্রতিনিধি তাঁদের পাশে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।প্রতীক সংক্রান্ত বিবাদে সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে কমিশনের সামনে ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম বড় হাতিয়ার হতে পারে এই সংখ্যার অঙ্ক।তবে সংখ্যার অঙ্কই শেষ কথা হবে কি না, সেটাই এখন দেখার।কারণ, কালীঘাটও যে লড়াই ছেড়ে দেবে না, তা বলাই বাহুল্য। দলের রাজনৈতিক পরিচয়, নেতৃত্বের বৈধতা এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণপ্রতিটি প্রশ্নেই পাল্টা যুক্তি নিয়ে কমিশনের সামনে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি থাকবে তাদের।প্রতীক হারালে ধাক্কা কোথায়?রাজনীতিতে প্রতীক শুধু একটি চিহ্ন নয়। ভোটারের কাছে সেটিই দলের পরিচয়, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসের অন্যতম প্রধান প্রতীকী ঠিকানা।সেই জায়গা থেকেই ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে যদি কোনও এক পক্ষ জোড়াফুলের স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তাহলে উপনির্বাচনের ময়দানে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে। বিশেষ করে যে পক্ষ প্রতীক পাবে, তারা তৃণমূল পরিচয়কে সামনে রেখে ভোট চাইতে পারবে। অপর পক্ষকে নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটারদের বোঝাতে হবেকেন তারাই প্রকৃত রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী।আর এখানেই কালীঘাটের জন্য তৈরি হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জযদি শেষ পর্যন্ত প্রতীক তাদের হাতে না থাকে।সুপ্রিম কোর্টে যাবে মামলা?কমিশনের সিদ্ধান্ত এক পক্ষের বিরুদ্ধে গেলে আইনি লড়াইয়ের দরজাও খুলে যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে প্রতীক-সংক্রান্ত এই বিরোধএমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।কিন্তু ততক্ষণে নির্বাচনী ক্যালেন্ডার থেমে থাকবে না। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা সামনে রেখে দুই শিবিরকেই দ্রুত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।ফলে আদালতের লড়াই চললেও উপনির্বাচনের মাঠে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হবে, সেটিই হয়তো পরবর্তী লড়াইয়ের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে।শেষ লড়াই কি তবে জোড়াফুল নিয়েই?নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এখন আর শুধুই দুটি বিধানসভা আসনের লড়াই নয়। তার আগেই তৈরি হয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কমিশনের সামনে দুই শিবিরের বক্তব্য, ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে সম্ভাব্য সিদ্ধান্তএই কয়েকটি দিনেই হয়তো স্পষ্ট হয়ে যাবে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে পরবর্তী অধ্যায়ের ছবি।জোড়াফুল কি থাকবে এক পক্ষের হাতে? নাকি আপাতত ফ্রিজ হয়ে যাবে দলের প্রতীক?উত্তর দেবে নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগেই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছেতৃণমূল নামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে জোড়াফুল?

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ নেই, অপেক্ষা ডিএনএ রিপোর্টের! শুভ্রাংশুর নতুন ছবিতে বাড়ল উৎকণ্ঠা

নেপালে হড়পা বানের পর নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা রায়। প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। প্রশাসন থেকে বিদেশ মন্ত্রক, এমনকি কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসেও যোগাযোগ করেছেন পরিবার। কিন্তু এখনও কোনও ইতিবাচক খবর মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে স্ত্রী শর্মিষ্ঠাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সাদা-কালো ছবি নিজের প্রোফাইলের ছবি করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। সেই ছবি ঘিরেই নতুন করে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে ওই ছবি দেখে শর্মিষ্ঠার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অগস্ট। হাওড়ার একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে কয়েক জন সহযোগীর সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। ২৫ অগস্ট রাতেও স্বামীর সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু পরের দিন, ২৬ অগস্ট নেপালে হড়পা বান আসার পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর তাঁর সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ হয়নি।স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যান শুভ্রাংশু। নেপালের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে থাকেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরেও যোগাযোগ করেন।ভবানী ভবন থেকে স্থানীয় থানা, বিদেশ মন্ত্রকসব জায়গাতেই শর্মিষ্ঠার খোঁজে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি।এর মধ্যেই নেপালে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি পরিচয়হীন দেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।ফলে এক দিকে শর্মিষ্ঠার সন্ধান না মেলা, অন্য দিকে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষাসব মিলিয়ে পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। তার মধ্যেই শুভ্রাংশুর সাদা-কালো ছবি সামাজিক মাধ্যমে নজর কাড়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।শুভানুধ্যায়ীদের একাংশ ওই ছবিকে উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে শর্মিষ্ঠার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এবং নেপালে চলা অনুসন্ধানের পরেই গোটা বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
দেশ

অভিষেকের আপ্তসহায়কের অ্যাকাউন্টে এত টাকা এল কোথা থেকে? সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক দাবি

শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় আরও বিপাকে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। তাঁর অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা পড়েছিল বলে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছে রাজ্য। এর মধ্যে শুধু গত জুন মাসেই প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়ে বলেও আদালতে জানান রাজ্যের আইনজীবী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে সুমিত রায়ের জামিন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেখানেই সুমিতের আর্থিক লেনদেন নিয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়। এত বিপুল টাকার উৎস কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আদালতে সওয়াল করেন তুষার মেহতা। তাঁর দাবি, সেই কারণেই সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের নাম জড়িয়েছে। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে রক্ষাকবচ দেয়। এর পর গত কয়েক দিনে একাধিক বার তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়েছেন সুমিত। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে বলে রাজ্যের দাবি।এর আগের শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, তদন্তে সুমিত সহযোগিতা করছেন না। তাঁর বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তুষার মেহতা। তখন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চেয়েছিল, ওই লেনদেন নিয়ে সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কি না।রাজ্যের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুমিত একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমিতের আইনজীবী। বিষয়টি স্পষ্ট করতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের লিখিত রেকর্ড দেখতে চেয়েছিল।বুধবার সেই জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিয়ো আদালতে জমা দিয়েছে রাজ্য। পাশাপাশি তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার একটি রিপোর্টও মুখবন্ধ খামে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, জমি দুর্নীতির তদন্তে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তা নাকি হিমশৈলের চূড়ামাত্র। অর্থাৎ তদন্ত আরও এগোলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য।তবে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি টাকা জমার দাবি এখনও তদন্তের বিষয়। টাকার উৎস কী, কী ভাবে ওই লেনদেন হয়েছে এবং এর সঙ্গে জমি দুর্নীতি মামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে আরও চাপে অভিষেক! নিম্ন আদালতের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে গোয়েঙ্কা পরিবার

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে আরও আইনি চাপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ওই বাড়ির মালিক তথা গোয়েঙ্কা পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। মামলাটি উঠেছে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে।ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়িটির মালিক রমাদেবী গোয়েঙ্কা। ২০২০ সালে ওই বাড়ি নিয়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু মালিকপক্ষের অভিযোগ, চুক্তিতে যে শর্তগুলি ছিল, তার সবগুলি মানা হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে বাড়িটির দুটি তলা দখল করে রাখা হয়েছিল।মালিকপক্ষের আরও অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি না নিয়েই বাড়িতে হোর্ডিং বা বিলবোর্ড লাগানো হয়েছিল। শুধু দুটি তলাই নয়, সিঁড়ির নীচের অংশ, গ্যারাজ এবং ছাদও দখল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।এই অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিস ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নোটিসের উপর স্থগিতাদেশ দেয় নিম্ন আদালত। নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকেই এবার চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে মালিকপক্ষ।এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসের হোর্ডিং ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। হোর্ডিংটি অবৈধ বলে অভিযোগ তুলে তা সরাতে গিয়েছিলেন পুরসভার কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে পুলিশও ছিল। অভিযোগ, অফিসে ঢোকার সময় পুরসভার কর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়।এর পরেই পুলিশ ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ওব্রায়েন। অভিযোগ, অফিসে ঢোকার চেষ্টা ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও অফিসের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি চলে বলে অভিযোগ।সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে মামলা পৌঁছল কলকাতা হাইকোর্টে। নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মালিকপক্ষের এই আবেদনের ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। গোয়েঙ্কা পরিবারের অভিযোগ এবং হাইকোর্টে তাঁদের আবেদনের পর মামলাটির পরবর্তী গতিপথের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবে বিরাট টানাপোড়েন, কনভেনশনে ঘোষণা নয়া কমিটি, বর্তমান এক কার্যকর্তার পদত্যাগ, সরগরম সংবাদমহল

বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাব (বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব) -এর সদস্যদের এক বড় অংশের উদ্যোগে রবিবার কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছিল পারবীরহাটায় একটি হোটেলের সভাগৃহে। এই সংগঠনের বর্তমান কার্যকর্তাদের কার্যাবলী নিয়ে এই কনভেনশনে নানা প্রশ্ন ওঠে। বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব থেকে অন্যায় ভাবে ১৭ জন সদস্যকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এদিকে কনভেনশনে ২০২৬২০২৮ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। এদিকে জানা গিয়েছে, বর্তমান প্রেস ক্লাবের অন্যতম এক কার্যকর্তা কার্যকরী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। কার্যকরী কমিটির হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে লেফ্ট হয়ে গিয়েছেন সোমবার রাতে। অবশ্য এর আগেও তিনি বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। এদিনের কনভেনশন নিয়ে বিরাট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান জেলার সংবাদ মাধ্যমে।বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রেস ক্লাবের নয়া ভবন নির্মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক পার্থ চৌধুরী, জগন্নাথ ভৌমিক। ওই ভবন নির্মান করার জমি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকী জনৈক সদস্য ১০০ বস্তা সিমেন্ট দিয়েছিল, তাও সাধারণ সদস্যদের জানানো হয়নি বলে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে। এদিনের কনভেনশন থেকে বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব-এর ২০২৬২০২৮ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কার্যকরী কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন সদস্য মিথিলেশ রায় ও স্বরূপ মুখার্জী। প্রস্তাব সমর্থন করেন আব্দুস সবুর এবং উত্তম দাস। সভায় এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী অভিজিৎ তা, বিধায়ক সুভাষ পাত্র এবং সৌমেন কার্ফা। ছিলেন চিকিৎসক এস আর ব্যানার্জি, সমাজসেবী পূরব সাম, দেবজ্যোতি সিংহরায়, গৌরব সমাদ্দার, বিশ্বেশ্বর চৌধুরী, আইনজীবী রমেশ সিং। নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন পার্থ চৌধুরী। কার্যকরী সভাপতি হয়েছেন সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন প্রসেনজিৎ সামন্ত। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সুজাতা মেহারা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ঋষিগোপাল মণ্ডল, সহ-সম্পাদক পদে সন্তোষ দাস, ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রসূন সামন্ত, কোষাধ্যক্ষ পদে আমিনুর রহমান এবং অফিস সম্পাদক পদে কৌশিক সিনহা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারকনাথ রায়, শ্যামল মুখার্জী ও জগন্নাথ ভৌমিক। কার্যকরী কমিটির সদস্যরা হলেন বিশ্বনাথ পাল, অরূপ লাহা, বিজন ঘোষ, রাম নারায়ণ কুণ্ডু, সুজিত দত্ত, অভিজিৎ সাহা, সুদিন মণ্ডল, সুমিত ভগত, সুমনা সামন্ত, মানস দাস, বিশ্বজিৎ হাজরা, নয়ন রায়, মনোতোষ পোদ্দার, শেখ শাহজাহান, রঞ্জিত পণ্ডিত, তনুশ্রী ব্যানার্জী, উদিত সিংহ, ধীমান রায়, রাধামাধব মণ্ডল, অসিত রাউত, অতনু হাজরা। তবে সুজাতা মেহেরা সোশাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন তিনি কোনও পদে থাকতে চান না।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, মন্ত্রী কলিতা মাঝি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিধায়ক মানব গুহ, অরুণ হালদার, সুভাষ পাত্র, রাজু পাত্র, সৌমেন কার্ফা, অনাদি ঘোষ, শিবাশিস ঘোষ, কৃষ্ণ ঘোষ, গোপাল চট্টোপাধ্যায়, সৈকত পাঁজা, সিদ্ধার্থ মজুমদার ও প্রাণকৃষ্ণ তফাদার। এছাড়াও উপদেষ্টা মণ্ডলীতে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসাবে রয়েছেন সমাজসেবী অভিজিৎ তা, ড. এসআর ব্যানার্জী, পূরব শাম ও দেবজ্যোতি সিংহ রায়, পিপি সদন তা, এপিপি রমেশ কুমার সিং এবং শিক্ষাবিদ জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও সুদত্তা ব্যানার্জী। জেলার সব কটি মহকুমা থেকেই ১১৫ জন সাংবাদিক এই কনভেনশনে অংশ নেন। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পর অন্য কমিটি থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনে ‘বড় ভুল’! দুর্গার ১১ হাত দেখে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে সরকারি আমন্ত্রণপত্রে দুর্গার ছবি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সরকারি বিজ্ঞাপনে দশভুজার বদলে ১১ হাতের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম, বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা শুরু হয়।পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সেই বৈঠকের আগে সরকারি একটি আমন্ত্রণপত্র উদ্যোক্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। সেখানেই দুর্গার ১১ হাতের ছবি দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।প্রচলিত ধর্মীয় রীতিতে দেবী দুর্গাকে দশভুজা হিসাবেই দেখা হয়। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ছবিতে একটি হাত অতিরিক্ত দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আনেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি এই ছবি নিয়ে কটাক্ষও করেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা শুরু হয়।এর পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই তিনি এই ভুলের জন্য ক্ষমা চান।মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকালে একটি ত্রুটিপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ভুলের জন্য তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমা চেয়ে নেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক থাকবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, তিনি বিজ্ঞাপনটি দেখেননি। তবে তাঁর কথায়, কোনও সংস্থার ছাপার ভুল থেকেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সংশোধন করে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে এ দিনের বৈঠকে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের আগেই সরকারি বিজ্ঞাপনে দুর্গার ১১ হাতের ছবি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কই বিশেষ নজর কেড়ে নেয়। পরে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার পর সেই বিতর্কে আপাতত ইতি পড়ে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
বিদেশ

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে বড় খবর বাংলাদেশ থেকে! আরও দুই মামলায় জামিন, তবে এখনই মুক্তি নয়

বাংলাদেশ হাই কোর্টের নির্দেশে আরও দুটি মামলায় জামিন পেলেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। রবিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ এই জামিন মঞ্জুর করে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় পুলিশি কাজে বাধা এবং ভাঙচুরের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছিল। সেই দুই মামলাতেই এ দিন জামিন পেয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তবে এই জামিনের পরেও এখনই তাঁর জেলমুক্তি হচ্ছে না।চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন এখনও স্থগিত রয়েছে।বাকি চারটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় ইতিমধ্যেই হাই কোর্ট জামিন দিয়েছে। অন্য দুটি মামলায় জামিনের শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য হয়েছে। ফলে একাধিক মামলায় আইনি লড়াই এখনও চলছে।২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর জামিনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।এর পাশাপাশি হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের উপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগেও একাধিক মামলা হয়। সেই মামলাগুলির মধ্যেই কয়েকটিতে এখন আদালত থেকে জামিন মিলছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের।চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির ঘটনায় ভারতও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। দিল্লির তরফে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল।২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। সেই সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গ্রেফতার হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে।ভোটের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগোচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের একাধিক মামলায় জামিনের বিষয়টিও নতুন করে নজরে এসেছে।তবে দুই মামলায় জামিন পেলেও এখনও তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। ফলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কবে জেল থেকে মুক্তি পাবেন, তা নির্ভর করছে বাকি মামলাগুলির আদালত-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের উপর।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য আচমকা কড়া নিয়ম! বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় ঢুকতে লাগবে সরকারি অনুমতি

বন্যাবিধ্বস্ত নেপালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বলেন্দ্র শাহর সরকার। সরকারি অনুমতি ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন না বিদেশি সাংবাদিকেরা। সেখানে যেতে হলে সরকারি অনুমতিপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিও সঙ্গে রাখতে হবে।নেপালের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটেকোশি এবং ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিদেশি সাংবাদিকদের আগে সরকারি দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হবে। নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সেই আবেদন করতে হবে।আবেদনের সময় সাংবাদিকদের বৈধ ভিসা বা প্রবেশের অনুমতিপত্র-সহ পাসপোর্টের অনুলিপি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি যে সংবাদমাধ্যমে তিনি কাজ করেন, সেই সংস্থার সুপারিশপত্রও প্রয়োজন হবে। যে দেশ থেকে সাংবাদিক নেপালে এসেছেন, সেই দেশের দূতাবাস বা বিদেশ মন্ত্রকের সুপারিশপত্রও জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে সাংবাদিক হিসাবে নিজের পরিচয়পত্রও দেখাতে হবে।নেপাল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবেদন খতিয়ে দেখার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে। সেই অনুমোদনের মেয়াদ থাকবে ১৫ দিন। বিদেশি সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য একটি বিশেষ সাহায্যকেন্দ্রও চালু রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।তবে আচমকা বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে এত কড়া নিয়ম কেন জারি করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নেপাল সরকারের তরফে এর নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি। ফলে নতুন নির্দেশকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে চিনকে ঘিরে। কারণ, যে এলাকাগুলিতে বন্যার খবর সংগ্রহে বিধিনিষেধ জারি হয়েছে, তার একটি বড় অংশ উত্তর নেপালের তিব্বত সীমান্তের কাছে। এই কারণে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা থেকেই বিদেশি সাংবাদিকদের গতিবিধির উপর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে চিনের চাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।এর আগে বন্যাবিধ্বস্ত ওই এলাকায় বিদেশি সাহায্য নিয়েও নেপাল সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছিল বলে জানা যায়। পরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। এবার বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন নিয়ম জারি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের পর ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান নামে বলে জানা গিয়েছে। তার জেরে উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার জেরে বহু মানুষ নিখোঁজ এবং বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩৪৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের সন্ধান চলতে থাকায় এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতার মধ্যেই বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে নেপাল সরকারের নতুন নির্দেশিকা তাই নতুন করে নজর কেড়েছে। নিরাপত্তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে, তা নিয়ে এখন জল্পনা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

তারাপীঠে ভক্তদের জন্য সুখবর! পাঁচশো টাকার কুপন নয়, এবার মোবাইলেই মিলবে দর্শনের টিকিট

তারাপীঠ মন্দিরে দর্শনের নিয়মে বড় বদল। রবিবার থেকেই বন্ধ হয়ে গেল কাগুজে ভিআইপি কুপন। তার বদলে চালু হল ডিজিটাল টিকিটের ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট বুক করে ভক্তেরা এবার মা তারার ভিআইপি দর্শন করতে পারবেন।এতদিন তারাপীঠ মন্দিরে ভিআইপি দর্শনের জন্য পাঁচশো টাকার কাগুজে কুপন সংগ্রহ করতে হত। সেই কুপন নিয়ে ভক্তদের নির্দিষ্ট লাইনে দাঁড়াতে হত। এবার সেই ব্যবস্থায় বদল এনে পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যার কথা মাথায় রেখেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশাসন এবং মন্দির কমিটির বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভক্তদের সুবিধার জন্য কাগুজে কুপনের বদলে অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলক ভাবে পাঁচশো ভক্তের জন্য অনলাইনে ভিআইপি টিকিট বুকিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট সময় বেছে নিয়ে টিকিট কাটার ব্যবস্থাও চালু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, ডিজিটাল ব্যবস্থায় কাগুজে কুপনের ঝামেলা কমবে। একই সঙ্গে ভিআইপি দর্শনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে। রবিবার থেকেই নতুন পরিষেবা চালু হওয়ায় ভক্তদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গিয়েছে।কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে তারাপীঠে প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। সেই ভিড় সামলানো এবং দর্শনের ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল করতেই এবার নতুন পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।এক সেবাইত জানিয়েছেন, সকলের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এর ফলে তীর্থযাত্রীদের সুবিধা হবে। কৌশিকী অমাবস্যার দিন একটি বিনামূল্যের লাইন থাকবে এবং অন্য একটি লাইনে টাকা দিয়ে দর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।ওই সেবাইতের আরও দাবি, কৌশিকী অমাবস্যার দিন কোনও সেবাইত, মন্ত্রী বা আমলাও গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারবেন না। ফলে বিশেষ দিনে ভক্তদের দর্শন ব্যবস্থায় যাতে কোনও বৈষম্য না থাকে, সে দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।সব মিলিয়ে কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠ মন্দিরে দর্শন ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবেই দেখা হচ্ছে। এখন নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা কতটা সফল হয় এবং ভক্তদের কতটা সুবিধা হয়, সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৮.৪ ওভারেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে ভারত, বোলিংয়ে ঝড়—তবু ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভাবাচ্ছে হরমনপ্রীতদের

দুবাইয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে জয় ভারতের। বোলারদের দাপটে ম্যাচ একতরফা হলেও মাত্র ৫৬ রান তাড়া করতে গিয়ে তিন উইকেট হারানোয় প্রশ্ন উঠল ভারতের টপ অর্ডার নিয়ে। নকআউটের আগে এটাই এখন হরমনপ্রীতদের সবচেয়ে বড় চিন্তা।দুবাইয়ের আকাশে তখনও ম্যাচের উত্তাপ। কিন্তু মাঠে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার পরই যেন ফলাফল লেখা হয়ে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫৫। ভারতের সামনে লক্ষ্য ৫৬। ক্রিকেটের হিসাব বলছিল, এই রান তাড়া করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। শেষ পর্যন্ত হলও তাই।মাত্র ৮.৪ ওভারেই জয় তুলে নিল ভারত। পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপে নিজেদের দাপট আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল হরমনপ্রীত কৌরের দল।তবে এই জয় যতটা স্বস্তির, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ছোট্ট একটা অস্বস্তি। কারণ, ৫৬ রানের মতো মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতেও ভারতের টপ অর্ডারের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারশেফালি বর্মা, প্রতিকা রাওয়াল এবং স্মৃতি মন্ধানাদ্রুত ফিরে গেলেন। ম্যাচের গুরুত্বের নিরিখে যা হয়তো বড় সমস্যা নয়, কিন্তু নকআউটের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ভারতকে এই জায়গাটাই ভাবাবে।প্রথম বলেই ছক্কা, তারপরই থেমে গেল শেফালির ঝড়৫৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা। শেফালি বর্মা যেন শুরুতেই ঘোষণা করে দিলেনএই ম্যাচকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই।কিন্তু সেই ঝড় স্থায়ী হল না।মাত্র ১২ রানেই শেফালিকে ফিরিয়ে দিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে তিনিই পাকিস্তানের একমাত্র উল্লেখযোগ্য লড়াইটা উপহার দিলেন।এরপর তিন নম্বরে নেমে প্রতিকা রাওয়ালও ব্যর্থ। জেমাইমা রদ্রিগেজের জায়গায় এখনও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অপেক্ষায় থাকা প্রতিকা মাত্র ৪ রান করেই ফাতিমার শিকার। একই ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে সামান্য উত্তেজনা ফিরিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। কিন্তু সেই উত্তেজনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।মন্ধানার আউট নিয়েও রয়ে গেল প্রশ্নআগের ম্যাচে দুর্দান্ত শতরান। ফলে স্মৃতি মন্ধানার দিকে প্রত্যাশার চোখ ছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু এ দিন শুরু থেকেই তাঁকে কিছুটা মন্থর দেখাচ্ছিল।৯ রানেই ফাতিমা সানার বলে আউট হয়ে গেলেন মন্ধানা। যদিও তাঁর আউট নিয়ে বিতর্কের জায়গা থাকল। বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কিন্তু এই এশিয়া কাপে ডিআরএস না থাকায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অবশ্য আর কোনও বিপদ হতে দেননি হরমনপ্রীত ও দীপ্তি শর্মা।অভিজ্ঞতার ভারেই ম্যাচ শেষ করে দিল ভারতের মিডল অর্ডার। হরমনপ্রীত অপরাজিত থাকলেন ১৮ রানে, দীপ্তির অপরাজিত ইনিংস ১২ রানের। আর শেষটা এল অধিনায়কের ছক্কায়।৮.৪ ওভার। ৭ উইকেটের জয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও একটি সহজ সাফল্য।ভারত-পাকিস্তানফারাকটা ক্রমেই স্পষ্টমহিলাদের টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের আধিপত্য যে কতটা একপেশে, এই ম্যাচ তারই আরেকটি উদাহরণ।দুদল এখনও পর্যন্ত ১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। ভারত জিতেছে ১৫ বার, পাকিস্তান তিনবার। এশিয়া কাপে ছবারের সাক্ষাতে এটি ভারতের পঞ্চম জয়। ২০২২ সালে পাকিস্তানের জয়টি এখনও এই ফরম্যাটে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের শেষ সাফল্য।অর্থাৎ পরিসংখ্যানের খাতাতেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দাপট অটুট। কিন্তু এ দিন ভারতের আসল শক্তি ব্যাট হাতে নয়বল হাতে।চার স্পিনার, ৯ উইকেটদুবাইয়ে ঘূর্ণির সামনে অসহায় পাকিস্তানটস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ফাতিমা সানা। পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কারস্কোরবোর্ডে বড় রান তুলে ভারতকে চাপে ফেলা।শুরুটাও মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার সাবধানে খেলছিলেন। প্রথম উইকেটে ২৭ রানও উঠে গিয়েছিল। তারপরই ম্যাচের চেহারা বদলে গেল।ভারতীয় স্পিনাররা বল হাতে আসতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং যেন হঠাৎ পথ হারিয়ে ফেলল। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে মুনিবা আলিকে ফিরিয়ে শেফালি শুরু করলেন ধসের। তারপর একের পর এক উইকেট।পরের ১৩ ওভারে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপের পতন ছাড়া আর কিছুই দেখা গেল না। দুই ওপেনার বাদে কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারলেন না। মন্থর উইকেটে ভারতীয় স্পিনের মোকাবিলা করার কোনও উত্তরই যেন ছিল না পাকিস্তানের ব্যাটারদের কাছে। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানেই অল আউট পাকিস্তান।চরণি-রাওয়াতের ঘূর্ণিতে কাঁপল পাকিস্তানভারতের চার স্পিনার মিলে তুলে নিয়েছেন পাকিস্তানের নয়টি উইকেট। বাকি একটি রান আউট।সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শ্রী চরণি। চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে তিন উইকেট। চলতি বছরে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর উইকেট সংখ্যা এখন ৩৪। আর দুটি উইকেট পেলেই এক বছরে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি উইকেটের রেকর্ড তাঁর দখলে চলে আসবে।প্রেমা রাওয়াতও সমান বিধ্বংসী। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে তিন উইকেট।দীপ্তি শর্মা ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট। শেফালি বর্মার ঝুলিতেও এসেছে একটি উইকেট।অর্থাৎ পাকিস্তানের ১০ উইকেটের মধ্যে নয়টিই ভারতীয় স্পিনের শিকার। এটাই সম্ভবত ম্যাচের সবচেয়ে বড় ছবি।শুধু একটি জায়গাতেই অস্বস্তিবোলিং নিয়ে ভারতের চিন্তার কারণ প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে একটি ঘটনা নজরে পড়েছে। দুই পেসার ক্রান্তি গৌড় এবং নন্দিনী শর্মার বলে মুনিবা আলির ক্যাচ ফস্কেছেন প্রতিকা রাওয়াল। ক্যাচ দুটি ধরা পড়লে পেসারদের নামের পাশেও উইকেট থাকত।কোচ অমল মুজুমদারের কাছে সেটিও অবশ্যই নোট করার মতো বিষয়।তবে তার থেকেও বড় প্রশ্ন টপ অর্ডার।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার সুযোগও কি নষ্ট হল?ম্যাচ যখন কার্যত হাতের মুঠোয়, তখন ভারত চাইলে রিচা ঘোষ বা ভারতী ফুলমালিদের আগে নামিয়ে কিছুটা পরীক্ষা করতে পারত। কম রান তাড়া করার ম্যাচে তাঁদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত।ভারত অবশ্য সেই পথে হাঁটেনি।জয় এসেছে দ্রুত। কিন্তু নকআউটের আগে এমন ম্যাচেই তো বেঞ্চের শক্তি যাচাই করে নেওয়া যায়।আর এখানেই ভারতের সামনে প্রশ্নটা আরও স্পষ্টবোলিং যদি এতটাই শক্তিশালী হয়, ব্যাটিংয়ের প্রথম সারিও কি একই রকম ধারাবাহিক?নকআউটের আগে সতর্কবার্তাপাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারানোর জয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বরং ভারতীয় স্পিনাররা যে ভয়ঙ্কর ছন্দে রয়েছেন, তা প্রতিপক্ষের জন্য বড় সতর্কবার্তা।কিন্তু পাকিস্তানের মতো দুর্বল স্কোরের দলের বিরুদ্ধে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে যায়। বড় ম্যাচে সেই সুযোগ মিলবে না।আজ ৫৬ রান তাড়া করতে গিয়ে তিন উইকেট পড়েছেতবু জয় এসেছে অনায়াসে।কাল যদি লক্ষ্য হয় ১৫০ বা ১৬০, তখন?সেই কারণেই এই জয় ভারতের জন্য নিছক আর একটি জয় নয়। ৫৫ রানে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেওয়া যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনই টপ অর্ডারের অনিয়মিত ছন্দ নকআউটের আগে হরমনপ্রীতদের কপালে সামান্য ভাঁজও ফেলবে।দুবাইয়ে পাকিস্তানের রাতটা ছিল দুঃস্বপ্নের। ভারতের কাছে রাতটা ছিল স্বস্তির। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালেই ভবিষ্যতের বড় ম্যাচের জন্য একটি প্রশ্ন রেখে গেল এই জয়স্পিনাররা পথ দেখাচ্ছেন, এবার কি ব্যাটাররা সেই পথ ধরে শেষ পর্যন্ত হাঁটতে পারবেন?

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

পহেলগাঁওয়ের সেই হামলার নেপথ্যে কে? কাশ্মীরে সেনার গুলিতে লস্কর কমান্ডার ইয়াসিরের মৃত্যু

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার স্মৃতি এখনও দেশবাসীর মনে তাজা। এর মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে লস্কর-ই-তইবার কমান্ডার ইয়াসির নিহত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পহেলগাঁও হামলার অন্যতম চক্রী হিসেবে তার নাম উঠে এসেছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।সূত্রের খবর, কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় ইয়াসিরের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়েছিলেন নিরাপত্তাবাহিনীর গোয়েন্দারা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ইউসমার্গের জঙ্গলঘেরা পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু করে সেনার বিশেষ বাহিনী এবং ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস।তল্লাশি অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে ইয়াসিরের গুলির লড়াই শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইয়াসির গুলি চালায় বলে সূত্রের দাবি। পাল্টা জবাব দেয় সেনাও। বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলার পর ইয়াসির নিহত হয় বলে খবর।সূত্রের আরও দাবি, পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী হিসেবে পরিচিত সুলেমান মুসার গোষ্ঠীর সঙ্গে ইয়াসিরের যোগাযোগ ছিল। সে ওই গোষ্ঠীর সদস্যও ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রায় এক বছর আগে সেই গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে যায় ইয়াসির। এরপর আলাদা ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াসির নিরাপত্তাবাহিনী ও গোয়েন্দাদের নজরে ছিল বলে সূত্রের খবর। তার গতিবিধি এবং যোগাযোগের উপর নজর রাখা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত বুদগামের জঙ্গলঘেরা এলাকায় অভিযানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ইয়াসিরের সঙ্গে আর কার কার যোগাযোগ ছিল, তার নেটওয়ার্ক কতটা ছড়িয়েছিল এবং পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে তার ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তার যোগাযোগের সূত্র ধরে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।এর আগে গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে সেনার অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে জানা যায়। নিহতদের মধ্যে সুলেমান মুসা এবং তার দুই সঙ্গী ছিল বলে সূত্রের খবর। পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে ওই জঙ্গিদের যোগ থাকার অভিযোগও উঠেছিল।ইয়াসিরের মৃত্যুর পর পহেলগাঁও হামলার তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। তার যোগাযোগ এবং জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত এগোলে হামলার নেপথ্যের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

নয় দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক, নেপালে বাড়ল আশার আলো

কাঠমান্ডু: ভয়াবহ বন্যার জেরে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গে আটকে পড়ার নয় দিন পর অবশেষে জীবিত উদ্ধার হলেন দুই শ্রমিক। শুক্রবার আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় সাহ এবং কবীর মহার্জনকে। সুড়ঙ্গের প্রায় ১৭০ মিটার ভিতরে তাঁদের সন্ধান মেলে। তাঁদের উদ্ধারের ঘটনায় অন্য সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদেরও জীবিত উদ্ধারের আশা নতুন করে জোরালো হয়েছে।৩০ বছরের সঞ্জয় সাহ নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মেকানিক্যাল ফোরম্যান। গত ২৬ অগস্ট ত্রিশুলি উপত্যকায় বন্যা আছড়ে পড়ার সময় অন্য কর্মীদের বেরিয়ে যেতে সাহায্য করতে গিয়ে তিনি নিজেই আটকে পড়েন। পরবর্তী নয় দিন অন্ধকার সুড়ঙ্গেই কাটাতে হয় তাঁকে। উদ্ধারকারীদের তিনি জানিয়েছেন, মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখতে মন্ত্র জপ করতেন। সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল বলেও জানান তিনি।বন্যার সময় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষে সাধারণত চার থেকে ছজন কর্মী থাকলেও সেদিন সেখানে ৪০ থেকে ৪৫ জন ছিলেন বলে জানিয়েছেন সাহ। বিপদের খবর পেয়ে তিনি অন্যদের দ্রুত পালিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু নিজে আর বেরোতে পারেননি। তাঁর কথায়, এত বড় বিপদের সময় অন্যদের ফেলে পালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।উদ্ধার অভিযানও ছিল অত্যন্ত কঠিন। বন্যার স্রোতে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে সুড়ঙ্গের মুখ সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়। পুরনো মানচিত্র, উপগ্রহচিত্র, হেলিকপ্টারের ভিডিয়ো এবং এলাকার বিদ্যুতের খুঁটির অবস্থান দেখে উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের সম্ভাব্য অবস্থান নির্ধারণ করেন। এরপর শুরু হয় ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ।বিশাল আকারের পাথর সরাতে ব্যবহার করা হয় খননযন্ত্র। কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরি করতে হয়েছে। পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বার করতে পাম্প এবং নিকাশি পথও তৈরি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে একজন মানুষ যাতায়াত করতে পারে এমন সরু পথ তৈরি হয়।শুক্রবার ভোরে সুড়ঙ্গের গভীর থেকে উদ্ধারকারীরা ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পান। ডাকাডাকির পর ভিতর থেকে সাড়া মেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাহ এবং মহার্জনের কাছে পৌঁছে যান উদ্ধারকারীরা। একজনকে পিঠে করে এবং অন্যজনকে স্ট্রেচারে করে বাইরে আনা হয়। পরে দুজনকেই চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। মহার্জন হাত-পা নাড়াতে পারছিলেন না। তবে সাহের আঘাত গুরুতর নয় বলেই জানা যায়।তবে উদ্ধার অভিযান এখনও শেষ হয়নি। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৯০০ কর্মীর কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। শুধু আপার ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পেই প্রায় ১১৫ জন আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।ত্রিশুলি উপত্যকার অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও চলছে তল্লাশি। উদ্ধারকাজে নেপালের সেনা ও পুলিশের পাশাপাশি ভারত, চিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরাও সহযোগিতা করছেন। প্রযুক্তিগত তথ্য আদানপ্রদানের জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। সুড়ঙ্গের নকশা থেকে নিখোঁজ কর্মীদের ফোন নম্বরবিভিন্ন তথ্য দ্রুত উদ্ধারকারী দলগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।সঞ্জয় সাহ ও কবীর মহার্জনের জীবিত উদ্ধারের ঘটনা তাই শুধু দুটি প্রাণ বাঁচানোর সাফল্য নয়, সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকা আরও বহু মানুষের পরিবারের কাছে নতুন আশার আলো। উদ্ধারকারীরা এখন এমন একটি অংশের সন্ধান করছেন, যেখানে তুলনামূলক বেশি জায়গা এবং বেঁচে থাকার উপযোগী পরিস্থিতি থাকতে পারে।অন্যদিকে, নিখোঁজদের পরিবারের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি। আপার ত্রিশুলি-১ প্রকল্পের পরিবেশবিদ রাজিশ শ্রেষ্ঠার পরিবারও তাঁর ফেরার আশায় দিন গুনছে। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, বাইরে তাকালেই তাঁর মনে হয় ছেলে বুঝি ব্যাগ হাতে বাড়ি ফিরছে। সেই আশাতেই এখনও দিন কাটছে তাঁদের।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
টুকিটাকি

যেখানে আজ লাখো ভক্তের ঢল, সেখানেই একদিন জঙ্গলের মাঝে ৭০ জনেরও কম মানুষে শুরু হয়েছিল কৃষ্ণের জন্মোৎসব

আজ মথুরার আকাশে কৃষ্ণনাম। জন্মভূমির প্রাঙ্গণে ভক্তির ঢেউ। আলো, ফুল, মন্ত্রোচ্চারণ আর অসংখ্য মানুষের পদধ্বনিতে মুখর শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান। জন্মাষ্টমীর মধ্যরাত যত এগিয়ে আসে, ততই যেন অপেক্ষার প্রহর ঘন হয়কখন জন্ম নেবেন নন্দলাল, কখন বাজবে শঙ্খ, কখন খুলবে সেই পবিত্র মুহূর্তের দ্বার!কিন্তু আজকের এই বিপুল আয়োজনের দিকে তাকালে বিশ্বাস করাই কঠিন, একদিন এই একই জন্মভূমিতে কৃষ্ণের জন্মোৎসব ছিল নিভৃত, ছোট্ট এক আয়োজন। ছিল না লক্ষ মানুষের ভিড়, ছিল না আলোর ঝলকানি, ছিল না উৎসবের এত জৌলুস। ছিল শুধু কয়েকজন মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা আর এক গভীর স্বপ্নকৃষ্ণের জন্মভূমিতে তাঁর জন্মদিনকে নতুন করে উদযাপন করার স্বপ্ন।সেই গল্পের শুরু ১৯৫৭ সালে।তখন মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান আজকের মতো সুসজ্জিত ছিল না। চারদিকে ছিল অনেকটাই অনুন্নত, জঙ্গলঘেরা পরিবেশ। অসমতল জমির সেই প্রাচীন পরিসর পরিচিত ছিল কৃষ্ণ চবুতরা নামে। ইতিহাসের স্তর আর বিশ্বাসের আবরণে ঢাকা সেই ভূমিকে ঘিরে তখনও ভবিষ্যতের বিরাট জন্মোৎসবের কোনও আভাস যেন দৃশ্যমান ছিল না।জন্মাষ্টমীর প্রায় এক সপ্তাহ আগে হাথরাসের কবি গোপাল প্রসাদ ব্যাসের নেতৃত্বে সেখানে জড়ো হলেন কয়েকজন মানুষ। কোনও বিশাল মঞ্চ নয়, কোনও বিপুল জনসমাবেশ নয়কৃষ্ণকে ঘিরে কবিতা, আলোচনা আর অনুভবের এক ছোট্ট আসর। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৭০ জনেরও কম।সংখ্যার বিচারে হয়তো সামান্য। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে সেই জমায়েত ছিল অসামান্য।কারণ, কখনও কখনও বড় কোনও আন্দোলনের শুরু হয় না হাজার মানুষের গর্জনে; শুরু হয় মুষ্টিমেয় কয়েকটি মানুষের নীরব বিশ্বাসে। সেই দিনটিও যেন তেমনই এক দিন। কৃষ্ণকে নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করা হল, তাঁকে ঘিরে বলা হল নানা কথা। ভক্তেরা ভাগ করে নিলেন তাঁদের অন্তরের অনুভূতি। দিনের সেই আয়োজনে ছিলেন প্রায় ২৫ জন আয়োজক এবং ৪৫ জন ভক্ত।আজকের মথুরার সঙ্গে সেই ছবির কোনও মিল নেই। আজ জন্মাষ্টমীতে এখানে মানুষের ঢল নামে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তেরা ছুটে আসেন কৃষ্ণের জন্মভূমির টানে। কিন্তু সেই বিপুলতার বহু আগে, নিভৃত এক কোণে কয়েকজন মানুষ যেন ভবিষ্যতের সেই উৎসবের প্রথম প্রদীপটি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।আয়োজনটির পরিসর ছিল ছোট, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল বড়।তখন জন্মস্থানও ছিল অন্যরকম। পদ্মশ্রী মোহন স্বরূপ ভাটিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এই এলাকা ছিল জঙ্গলঘেরা এবং অসমতল। আধুনিক পরিকাঠামোর চিহ্ন ছিল না বললেই চলে। সেই জায়গাকেই নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার ও সমতল করার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন শহরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। কারও হাতে ছিল শ্রম, কারও হাতে ছিল সময়, কারও হাতে ছিল শুধু বিশ্বাসসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল জন্মভূমির চেহারা।একটি পরিত্যক্ত, অনুন্নত পরিসর ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে লাগল ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।১৯৫৭ সালে শুরু হল কেশবদেব মন্দির নির্মাণের কাজ। পরের বছর, ১৯৫৮ সালে, মন্দিরের উদ্বোধন হল। আর তার পর থেকেই জন্মাষ্টমীর আয়োজন ক্রমশ পেতে শুরু করল একটি নিয়মিত ও সুসংগঠিত রূপ।তারপর ইতিহাস এগিয়েছে নিজের গতিতে।একসময় যে জায়গায় কয়েকজন মানুষকে নিয়ে কৃষ্ণকে স্মরণ করে কবিতা পাঠের আসর বসেছিল, সেখানেই বছর ঘুরে জন্মাষ্টমী হয়ে উঠল বিরাট জনউৎসব। ছোট্ট সেই জমায়েতের জায়গা নিল অসংখ্য মানুষের সমাবেশ। কয়েক ডজন ভক্তের জায়গায় এল হাজার হাজার, তারপর লক্ষ মানুষের পদধ্বনি। আয়োজন বাড়ল, পরিকাঠামো বদলাল, উৎসবের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ল বহুদূর।তবু এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হয়তো অন্য কোথাও।উৎসব বদলেছে, সময় বদলেছে, জন্মস্থানের চেহারা বদলেছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে অগণিত। কিন্তু বদলায়নি কৃষ্ণকে ঘিরে মানুষের সেই অদৃশ্য টান।সেই টানই হয়তো ১৯৫৭-এর সেই ছোট্ট আসরের প্রাণ ছিল। আর আজও সেই টানেই মানুষ রাত জেগে অপেক্ষা করেন কৃষ্ণের জন্মমুহূর্তের জন্য।মথুরার রাত যখন গভীর হয়, মন্দিরচত্বর যখন কৃষ্ণনামে মুখর হয়ে ওঠে, তখন হয়তো ইতিহাসের সেই প্রথম দিনটির কথাও মনে পড়ে। মনে হয়, এত আলো, এত ভিড়, এত আয়োজনের বহু আগে কোথাও এক ছোট্ট প্রদীপ জ্বলেছিল। সেই প্রদীপের আলোয় ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষতাঁদের হৃদয়ে ছিলেন একমাত্র কৃষ্ণ।সেই কয়েকজনের বিশ্বাস আজ লক্ষ মানুষের উৎসব।সময়ের স্রোতে আয়োজনের আকার যতই বদলাক, কৃষ্ণের জন্মভূমির মাটিতে সেই প্রথম দিনের আবেগ যেন এখনও মিশে আছে। তাই জন্মাষ্টমীর রাতে মথুরার আকাশে যখন শঙ্খধ্বনি ওঠে, ভেসে আসে হরে কৃষ্ণ নাম, তখন মনে হয়উৎসব বড় হয়েছে, মানুষ বেড়েছে, জৌলুস বেড়েছে; কিন্তু লালাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা আজও সেই একই রকম নির্মল, একই রকম গভীর।যেন কয়েকজনের হাতে জ্বালানো সেই ছোট্ট প্রদীপ আজও জ্বলছেশুধু তার আলো পৌঁছে গিয়েছে অগণিত ভক্তের হৃদয়ে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
টুকিটাকি

বাল গোপাল থেকে দ্বারকাধীশ, কোথাও জগন্নাথ—জন্মাষ্টমীর আগে কৃষ্ণের পদচিহ্নে ভারতের ১০ তীর্থের গল্প

কোথাও তিনি ননীচোরা বালক, কোথাও মুরলীধর, কোথাও প্রেমের কৃষ্ণ, আবার কোথাও রাজাধিরাজ দ্বারকাধীশ। কোথাও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রাধার অমোঘ প্রেমকথা, কোথাও তিনি জগন্নাথকাঠের দারুবিগ্রহে অধিষ্ঠিত এক অনন্য দেবসত্তা। ভারতের মানচিত্রে কৃষ্ণ যেন একটিই নাম, অথচ তাঁর রূপের বিস্তার অসংখ্য।সামনেই জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। মন্দিরে মন্দিরে সাজসজ্জা, বিশেষ পুজো, নামসংকীর্তন, ভজন এবং রাতভর উৎসবের আয়োজন। কোথাও ফুলে সেজে উঠছে গর্ভগৃহ, কোথাও আলোর মালায় বদলে যাচ্ছে মন্দিরচত্বর। মধ্যরাতে যখন শঙ্খধ্বনি আর ঘণ্টার আওয়াজে ঘোষণা হবে কৃষ্ণজন্মের, তখন ভারতের নানা প্রান্ত যেন একই সুরে উচ্চারণ করবেহরে কৃষ্ণ।কিন্তু কৃষ্ণকে জানতে গেলে শুধু পুরাণের পাতা কিংবা গীতার শ্লোকের দিকে তাকালেই হয় না। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় ভারতের নানা প্রান্তের মন্দিরে, জনশ্রুতিতে, স্থাপত্যে, উৎসবে এবং মানুষের বিশ্বাসে। বৃন্দাবনের কুঞ্জ থেকে দ্বারকার সমুদ্রতট, পুরীর রথযাত্রা থেকে কেরলের গুরুবায়ুরপ্রতিটি তীর্থে কৃষ্ণ যেন নতুন করে জন্ম নেন।জন্মাষ্টমীর আগে সেই কৃষ্ণতীর্থগুলির কয়েকটি ঘুরে দেখা যাক।রাধারমণ মন্দির, বৃন্দাবনশালগ্রাম থেকে আবির্ভূত কৃষ্ণবৃন্দাবনের সরু গলি, পুরনো দালান আর অসংখ্য মন্দিরের ভিড়ে রাধারমণ মন্দিরের অবস্থান বিশেষ। গোপাল ভট্ট গোস্বামীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের ইতিহাস। বৈষ্ণব পরম্পরার বিশ্বাস অনুযায়ী, শালগ্রাম শিলা থেকেই আবির্ভূত হয়েছিল রাধারমণজির বিগ্রহ।মন্দিরের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী, ১৫৪২ সালে বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে এই আবির্ভাব ঘটে। সেই কারণেই রাধারমণকে ঘিরে বৃন্দাবনের ভক্তি-পরম্পরায় রয়েছে এক বিশেষ আবেগ।এখানে কৃষ্ণ যেন বিশাল রাজকীয় আড়ম্বরের দেবতা নন; বরং ঘরের আপনজন। ছোট্ট বিগ্রহ, নিবিড় সেবা আর শতাব্দী পেরিয়ে আসা আচারসব মিলিয়ে রাধারমণ মন্দিরে কৃষ্ণভক্তির এক অন্তরঙ্গ রূপ অনুভব করা যায়।বাঁকে বিহারী মন্দিরত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় মায়াবী কৃষ্ণবৃন্দাবনের কথা উঠলে বাঁকে বিহারী মন্দিরের নাম উচ্চারণ না করলে যেন শহরের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণের বিগ্রহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ অপরিসীম।প্রচলিত ইতিহাসে এই মন্দিরের সঙ্গে স্বামী হরিদাসের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। তাঁর সাধনা ও ভক্তির পরম্পরার মধ্য দিয়েই বাঁকে বিহারীর আরাধনা জনপ্রিয়তা পায়।এই মন্দিরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য জন্মাষ্টমীকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরের অন্য দিনগুলির তুলনায় কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনেই এখানে বিশেষ মঙ্গল আরতির আয়োজন করা হয়।বৃন্দাবনের অগণিত ভক্তের কাছে সেই মুহূর্ত যেন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়কৃষ্ণের জন্মের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার এক বিরল অনুভূতি।মদন মোহন মন্দিরযমুনার ধারে প্রাচীন বৈষ্ণব স্মৃতিযমুনার কাছাকাছি আদিত্য টিলার উপর দাঁড়িয়ে থাকা মদন মোহন মন্দির বৃন্দাবনের প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, আদিত্য আচার্য একটি বটগাছের নীচে মদন মোহনের বিগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মন্দির ও ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।লালচে ইটের নির্মাণ, ঊর্ধ্বমুখী শিখর এবং যমুনার কাছাকাছি অবস্থান মন্দিরটির আবহকে অন্যরকম করে তুলেছে। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, বৃন্দাবনের বর্তমান শহরের আড়ালে এখনও কোথাও লুকিয়ে রয়েছে কয়েক শতাব্দী আগের সেই বৈষ্ণব জনপদ।রঙ্গজি মন্দিরবৃন্দাবনে দক্ষিণ ভারতের স্থাপত্যের ছোঁয়াবৃন্দাবনের মন্দির বলতেই সাধারণত উত্তর ভারতীয় স্থাপত্যের কথা মনে আসে। কিন্তু রঙ্গজি মন্দির সেই ধারণাকে বদলে দেয়।শ্রীরঙ্গমের রঙ্গনাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দিরের কাজ শুরু হয় ১৮৪৫ সালে এবং ১৮৫১ সালে তা সম্পূর্ণ হয়। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব এখানে স্পষ্ট, যদিও তার সঙ্গে মিশেছে উত্তর ভারতের স্থানীয় শিল্পরীতি।বৃন্দাবনের এই মন্দির তাই শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, ভারতীয় স্থাপত্য-সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্রও। কৃষ্ণভক্তি যে কোনও একটি অঞ্চল বা ভাষার সম্পত্তি নয়রঙ্গজি মন্দির তারই এক স্থাপত্যিক প্রমাণ।দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকাবৃন্দাবনের বালক থেকে সমুদ্রতীরের রাজাবৃন্দাবনে কৃষ্ণ যেখানে গোপাল, মাখনচোর, বাঁশিওয়ালা; দ্বারকায় এসে সেই কৃষ্ণই যেন রাজাধিরাজ।গুজরাতের সমুদ্রতীরবর্তী দ্বারকা শহরের সঙ্গে কৃষ্ণের সম্পর্ক ভারতীয় পুরাণ-পরম্পরায় অত্যন্ত গভীর। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরা ত্যাগের পর কৃষ্ণ সমুদ্রের কাছাকাছি দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর রাজ্য গড়ে ওঠে।দ্বারকাধীশ মন্দির তাই কৃষ্ণের আর এক পরিচয়ের সামনে আমাদের দাঁড় করায়যিনি শুধু প্রেমিক বা রাখাল নন, তিনি রাষ্ট্রনায়ক, রাজা এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মৃতির কেন্দ্র।চারধামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে দ্বারকার গুরুত্বও আলাদা। মন্দিরের বর্তমান কাঠামো বহু শতাব্দীর পরিবর্তন, পুনর্নির্মাণ ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে আজকের রূপ পেয়েছে। ফলে দ্বারকাধীশ শুধু একটি মন্দির নয়, পুরাণ ও ইতিহাসের দীর্ঘ সংলাপেরও সাক্ষী।পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকৃষ্ণের অনন্য দারুরূপকৃষ্ণের রূপের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বিস্ময়করভাবে ধরা পড়ে ওড়িশার পুরীতে। এখানে তিনি জগন্নাথদাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে অধিষ্ঠিত।কাঠের তৈরি এই বিগ্রহ ভারতীয় মন্দির-সংস্কৃতির এক বিরল ঐতিহ্য। প্রতি বছর নবকলেবর-সহ নানা আচার, রথযাত্রা এবং শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় প্রথা জগন্নাথধামকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।বর্তমান মন্দিরের নির্মাণের ইতিহাসের সঙ্গে পূর্ব গঙ্গবংশের রাজা অনন্তবর্মন চোড়গঙ্গদেবের নাম যুক্ত। তবে মন্দিরের নির্মাণ ও সম্পূর্ণতার সময়কাল নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে।পুরীতে কৃষ্ণ যেন বৃন্দাবনের কিশোর নন, দ্বারকার রাজাও নন। তিনি এখানে জগন্নাথজগতের নাথ। তাঁর রূপে আঞ্চলিক সংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য, বৈষ্ণব ভাবনা এবং ভারতীয় ধর্মীয় পরম্পরার এক বিস্ময়কর সমন্বয় দেখা যায়।গুরুবায়ুর মন্দিরদক্ষিণের ভূলোক বৈকুণ্ঠকেরলের ত্রিশূর জেলার গুরুবায়ুরে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ কৃষ্ণতীর্থ। ভক্তদের কাছে এই স্থান ভূলোক বৈকুণ্ঠ নামে পরিচিত।মন্দিরের উৎপত্তিকে ঘিরে রয়েছে নানা পুরাণকথা ও কিংবদন্তি। গুরুবায়ুরাপ্পন নামে পূজিত কৃষ্ণের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নিজস্ব আচার, পুজোপদ্ধতি এবং গভীর ভক্তি-সংস্কৃতি।উত্তর ভারতের বৃন্দাবনের সঙ্গে এখানকার পরিবেশের বিস্তর পার্থক্য। ভাষা আলাদা, স্থাপত্য আলাদা, পুজোর রীতিও আলাদা। কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি মানুষের নিবেদন একই রকম গভীর।এখানেই হয়তো ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটি ধরা পড়েঅঞ্চল বদলালেও অনুভূতিটি বদলায় না।নিকুঞ্জবনমন্দির নয়, তবু রহস্যে মোড়া এক তীর্থবৃন্দাবনের সব পবিত্র স্থান যে মন্দির, তা নয়। নিকুঞ্জবন তার সবচেয়ে রহস্যময় উদাহরণগুলির একটি।ঘন গাছপালায় ঢাকা এই স্থানকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসের শেষ নেই। বৈষ্ণব ভাবধারায় রাধা-কৃষ্ণের নিকুঞ্জলীলা ও এই স্থানের সম্পর্কের কথা বলা হয়।স্থানীয় বিশ্বাসে সূর্যাস্তের পর নিকুঞ্জবনে প্রবেশ না করার রীতি রয়েছে। এই বিশ্বাসকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।দিনের আলোয় যেখানে বৃন্দাবনের আর পাঁচটি পবিত্র স্থানের মতোই মানুষের আনাগোনা, সন্ধ্যার পর সেই জায়গাটিই যেন অন্য এক আবহ ধারণ করে। ঘণ্টাধ্বনি বা আরতির বদলে সেখানে অনুভূত হয় নিস্তব্ধতাআর সেই নীরবতার মধ্যেই যেন বেঁচে থাকে বৃন্দাবনের পুরনো কাহিনি।প্রেম মন্দিরআধুনিক বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের লীলার আলোকচিত্রবৃন্দাবনের প্রাচীন মন্দিরগুলির পাশে প্রেম মন্দির তুলনায় নবীন। কিন্তু তার স্থাপত্য ও আলোকসজ্জার জাঁকজমক তাকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তুলেছে।জগদগুরু শ্রী কৃপালু জি মহারাজের উদ্যোগে ২০০১ সালে মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১২ সালে এর উদ্বোধন হয়। সাদা মার্বেলের বিশাল কাঠামো, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার দৃশ্য মন্দিরটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাইরের দেওয়ালে ৮৪টি প্যানেলে রাধাকৃষ্ণের লীলার বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।অর্থাৎ বৃন্দাবনের কয়েক শতাব্দী পুরনো স্মৃতির পাশে প্রেম মন্দির দাঁড়িয়ে রয়েছে আধুনিক সময়ের ভক্তির এক নতুন ভাষা হয়ে।বৃন্দাবনযেখানে শহরটাই যেন কৃষ্ণের গল্পএই তালিকার শেষে এসে আবারও ফিরতে হয় বৃন্দাবনে। কারণ বৃন্দাবনকে কেবল মন্দিরের শহর বলে বোঝা যায় না।এখানে গলি মানেই কোনও গল্প, ঘাট মানেই কোনও স্মৃতি, কুঞ্জ মানেই কোনও কিংবদন্তি। যমুনার জল, মন্দিরের ঘণ্টা, সন্ধ্যার আরতি, রাস্তার ভজন, ফুলের মালাসবকিছুর মধ্যেই যেন কৃষ্ণের উপস্থিতি।জন্মাষ্টমীর সময়ে সেই বৃন্দাবন আরও একবার বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমে মন্দিরে। কোথাও কীর্তন, কোথাও ভজন, কোথাও কৃষ্ণের জন্মলীলার আয়োজন। মধ্যরাত পেরিয়ে যখন কৃষ্ণজন্মের মুহূর্ত আসে, তখন মনে হয়হাজার হাজার বছর আগের কোনও পুরাণকথা বুঝি আবার বর্তমান হয়ে উঠল।ভারতের নানা প্রান্তে কৃষ্ণের নাম এক, কিন্তু তাঁর রূপ বহুরঙা। বৃন্দাবনে তিনি প্রেমের বাঁশিওয়ালা, দ্বারকায় রাজা, পুরীতে জগন্নাথ, গুরুবায়ুরে আপন গৃহদেবতা। কোথাও তিনি শালগ্রাম থেকে আবির্ভূত স্বয়ম্ভূ বিগ্রহ, কোথাও কাঠের দারুরূপ, কোথাও বা মন্দিরের গর্ভগৃহের নীরব অন্ধকারে জেগে থাকা বিশ্বাস।এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে সুন্দর সত্যটি লুকিয়ে আছেকৃষ্ণের রূপ বদলায়, মন্দির বদলায়, ভাষা বদলায়, আচার বদলায়; কিন্তু তাঁকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা বদলায় না।জন্মাষ্টমী তাই শুধু কৃষ্ণের জন্মদিন নয়। এ যেন ভারতীয় সংস্কৃতির সেই চিরন্তন উৎসব, যেখানে পুরাণ এসে মিশে যায় ইতিহাসে, ইতিহাস এসে মিশে যায় লোকবিশ্বাসে, আর বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক গভীর ব্যক্তিগত অনুভবে।সেই কারণেই জন্মাষ্টমীর রাতে ভারতের কোনও এক মন্দিরে যখন শঙ্খ বাজে, অন্য প্রান্তে কোনও ভক্ত যখন কৃষ্ণনাম জপ করেন, তখন দূরত্বটা আর থাকে না। বৃন্দাবন থেকে দ্বারকা, পুরী থেকে গুরুবায়ুরএকই সুরে যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটাই নামকৃষ্ণ।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 157
  • 158
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিনোদুনিয়া

‘মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন সময়ের থেকে এগিয়ে’—প্রয়াণে আবেগঘন শ্রীলেখা মিত্র

দুষ্টু-মিষ্টি নায়িকার মধ্যে ছিল আধুনিকতা, স্মার্টনেস আর এক আলাদা ফ্রেশনেসমিঠুকে স্মরণ করে লিখলেন শ্রীলেখাবর্ধমান: সত্তর-আশির দশকের বাংলা ছবির পরিচিত মুখ মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলা চলচ্চিত্রমহল। ৭১ বছর বয়সে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রবিবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী। প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি।মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর অভিনয়, সৌন্দর্য এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করছেন চলচ্চিত্রজগতের বহু মানুষ। সেই তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিঠুকে স্মরণ করে তাঁর লেখা দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে উঠে এসেছে এক দর্শকের ব্যক্তিগত মুগ্ধতাযে মুগ্ধতা শুধু অভিনয়ে নয়, মিঠুর পর্দার উপস্থিতি এবং নিজস্ব ব্যক্তিত্বকে ঘিরেও।শ্রীলেখার কথায়, মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন সময় থেকে এগিয়ে থাকা এক অভিনেত্রী। তাঁর চোখে মিঠুর আকর্ষণ ছিল এমন এক স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বে, যা পর্দায় আলাদা করে নজর কাড়ত। শ্রীলেখা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সত্তরের দশক থেকে আশি এবং নব্বইয়ের গোড়ার দিক পর্যন্ত মিঠু একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। মৌচাক, মর্জিনা আবদুল্লাহ, স্বয়ংসিদ্ধার মতো ছবিতে তাঁর উপস্থিতি আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।মিঠুর সৌন্দর্য নিয়েও অকপট শ্রীলেখা। বড় বড় চোখ, সেই চোখের অভিব্যক্তি, শিফন শাড়িতে তাঁর পর্দার উপস্থিতিসব মিলিয়ে মিঠুর মধ্যে তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক দুষ্টু-মিষ্টি নায়িকার পরিচিত ছাঁচের বাইরে থাকা এক আধুনিক মুখ। শ্রীলেখার মতে, সেই সময়ের অনেক অভিনেত্রী যেখানে নির্দিষ্ট একটি ইমেজ-এর মধ্যে নিজেদের আটকে রাখতেন, সেখানে মিঠু ছিলেন অনেকটাই অন্যরকম।তাঁর ভাষায়, মিঠু যেন সেই সময়ের পর্দায় এক ঝলক fresh airআধুনিক, স্মার্ট, চুলবুলি এবং নিজের মতো করে থাকা এক অভিনেত্রী।শুধু সৌন্দর্য নয়, মিঠুর স্বাভাবিক আকর্ষণকেও বিশেষভাবে মনে করেছেন শ্রীলেখা। তাঁর সঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নীতু সিংয়েরও কোথাও একটা মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। দুজনের মধ্যেই ছিল এমন এক effortless charm, যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করার প্রয়োজন পড়ত নাস্বাভাবিকভাবেই যা দর্শকের চোখে ধরা দিত।১৯৭২ সালে চিত্ত বসুর শেষ পর্ব ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। এরপর মর্জিনা আবদুল্লাহ, নিশিকন্যা, মৌচাক, স্বয়ংসিদ্ধা, হোটেল স্নো ফক্স-সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেন বাংলা ছবিতে। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিকের মতো অভিনেতাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন মিঠু।তবে জীবনের পরের পর্বে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগতের আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু। মুম্বইয়ে অনেকটাই অন্তরালে কাটছিল তাঁর জীবন। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অসুস্থতার পর থেমে গেল সেই জীবনযাত্রা।শ্রীলেখার পোস্টের শেষটুকু তাই হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার্ঘ্য। প্রিয় অভিনেত্রীকে বিদায় জানিয়ে তাঁর লেখামিঠু মুখোপাধ্যায় তাঁর খুব পছন্দের একজন অভিনেত্রী ছিলেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন শ্রীলেখা, পাশাপাশি সমবেদনা জানিয়েছেন মিঠুর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি।পর্দার আলো নিভে গিয়েছে। কিন্তু বড় বড় চোখ, স্বতঃস্ফূর্ত হাসি আর সেই স্বতন্ত্র freshnessস্মৃতির পর্দায় হয়তো আরও অনেকদিন জ্বলজ্বল করবেন মিঠু মুখোপাধ্যায়।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
রাজ্য

আগামীকাল থেকেই আবহাওয়ার মেগা বদল, তুফানি তান্ডব বাংলা জুড়ে, কোন কোন জেলায় তুমুল বৃষ্টিপাত?

আবারও বদলাতে চলেছে বঙ্গের আবহাওয়া। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।বঙ্গোপসাগরেও তৈরি হতে পারে প্রতিকূল পরিস্থিতি। সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই যারা সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদেরও দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও আবহাওয়ার পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে খোলা জায়গায় এবং গাছপালা বা দুর্বল কাঠামোর আশপাশে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাতেও প্রতিকূল আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের দুই প্রান্তেই আবহাওয়ার উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
রাজ্য

উৎসবের মরসুমের পুণ্যার্থীদের জন্য জ্যাকপট, তারাপীঠ যাবেন? বিরাট ঘোষণায় ছক্কা হাঁকাল পূর্ব রেল

উৎসবের মরসুমের আগে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকার ট্রেনযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর দিল পূর্ব রেল। দীর্ঘদিনের দাবির পর শিয়ালদহ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ব্যারাকপুরে এবার পরীক্ষামূলকভাবে থামবে ১৩১৮৭/১৩১৮৮ শিয়ালদহরামপুরহাটশিয়ালদহ মা তারা এক্সপ্রেস। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে এই নতুন স্টপেজ কার্যকর হবে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।পূর্ব রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিয়ালদহ থেকে রামপুরহাটগামী ১৩১৮৭ মা তারা এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে ব্যারাকপুর স্টেশনে পৌঁছবে। সেখানে এক মিনিট দাঁড়িয়ে সকাল ৭টা ৪২ মিনিটে রামপুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেবে।অন্যদিকে, রামপুরহাট থেকে শিয়ালদহগামী ১৩১৮৮ মা তারা এক্সপ্রেস প্রতিদিন বিকেল ৫টা ৫৩ মিনিটে ব্যারাকপুরে পৌঁছবে। এক মিনিটের বিরতির পর বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে শিয়ালদহের উদ্দেশে যাত্রা করবে।এই স্টপেজ চালু হওয়ায় ব্যারাকপুরের পাশাপাশি টিটাগড়, খড়দহ, পলতা-সহ আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন তারাপীঠ বা বীরভূমের অন্যান্য এলাকায় যেতে হলে অনেক যাত্রীকে প্রথমে শিয়ালদহ যেতে হত। কেউ কেউ নৈহাটি বা ব্যান্ডেল হয়ে সংযোগকারী ট্রেনের উপর নির্ভর করতেন। এবার ব্যারাকপুর থেকেই সরাসরি রামপুরহাটগামী ট্রেন ধরার সুযোগ মিলবে।বিশেষ করে তারাপীঠের মা তারার দর্শনে যাওয়া পুণ্যার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা সুবিধাজনক হবে। এতে যাতায়াতের সময় এবং অতিরিক্ত খরচ, দুটিই কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।রেল সূত্রে খবর, আপাতত যাত্রীদের চাপ এবং টিকিটের চাহিদা পর্যালোচনা করতে পরীক্ষামূলকভাবে এই স্টপেজ চালু করা হচ্ছে। স্থানীয় যাত্রী সংগঠন এবং নিত্যযাত্রীদের তরফেও রেলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির সঙ্গে দূরপাল্লার যোগাযোগ বাড়ানোই এই ধরনের সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য। ব্যারাকপুরে মা তারা এক্সপ্রেস-এর স্টপেজ চালু হলে প্রতিদিনের যাত্রীদের পাশাপাশি উৎসবের মরসুমে তারাপীঠগামী যাত্রীদেরও সুবিধা হবে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
রাজ্য

ছেলেকে হারিয়ে শোকে বুকে পাথর চেপে প্রচারে ঝড়! দেড় লাখের বেশি ভোটে জয়ে আত্মবিশ্বাসী ‘ঘরের মেয়ে’ হাসিরানি রথ

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচার যত জোরদার হচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা। রবিবার প্রচারে বেরিয়ে ভোটারদের কাছে বিজেপির পদ্ম প্রতীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানালেন দলের প্রার্থী হাসিরানি রথ। ভোটের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি তুলে ধরলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের গোবর্ধন পর্বত ধারণের প্রসঙ্গ। তাঁর বক্তব্য, শ্রীকৃষ্ণ যেমন এক আঙুলে গোবর্ধন পর্বত ধারণ করেছিলেন, তেমনই ভোটের দিন ইভিএমে একটি আঙুলের শক্তি দেখাতে হবে।নন্দীগ্রামে প্রচার চলাকালীন বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন হাসিরানি। নন্দীগ্রামকে নিজের বাড়ি বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এলাকার মানুষ তাঁকে যেভাবে আপন করে নিয়েছেন, তাতে তিনি অভিভূত। আগামী ৬ অক্টোবর ভোটের দিন ইভিএমে পদ্ম প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের কাছে আবেদন জানান তিনি।প্রচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, সেই সময় শুভেন্দু অধিকারীকে একাধিকবার হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকি সভা করার অনুমতি পেতেও তাঁকে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন হাসিরানি।এরপরই ৬ অক্টোবরের ভোটকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, ভোটের দিন ইভিএমে একটি আঙুলের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি নেতৃত্ব এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি সমর্থন জানানোর আবেদনও করেন তিনি।নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁকে ঘরের মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন হাসিরানি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়ে তিনি খুশি বলেও জানান বিজেপি প্রার্থী।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হওয়ার পর ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। বিজেপির তরফে প্রার্থী করা হয়েছে হাসিরানি রথকে। তিনি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগণনা ৯ অক্টোবর। বিজেপি, তৃণমূলের দুই শিবির, কংগ্রেস এবং বাম-সহ একাধিক রাজনৈতিক শক্তি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে প্রচার এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

একসময় পর্দায় ঝড় তুলেছিলেন, তারপর আচমকাই অন্তরালে! প্রয়াত মিঠু মুখোপাধ্যায়

বিনোদন জগতে ফের শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন বাংলা ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল সাতের দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর।মিঠু মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর পারিবারিক বন্ধু প্রবীর রায়। তাঁর কথায়, প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন অভিনেত্রী। মৃত্যুর সঠিক সময় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।অভিনেত্রীর প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। মিঠু মুখোপাধ্যায়ের ছবি ভাগ করে তিনি তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, অভিনেত্রীর স্মৃতি এবং তাঁর কাজ দীর্ঘদিন মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।সাতের দশকের বাংলা সিনেমায় মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ১৯৭২ সালে একটি বাংলা ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয়। এরপর মর্জিনা আবদুল্লা ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। মৌচাক, স্বয়ংসিদ্ধা, নিশিকন্যা-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। পরে হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেন তিনি।মিঠু মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সৌন্দর্য ও পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিও দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় ছিল। সেই সময় অনেকেই তাঁর সঙ্গে বলিউডের অভিনেত্রী রেখার তুলনা করতেন। বাংলা ছবির দর্শকদের একাংশের কাছে তিনি কলকাতার রেখা নামেও পরিচিত হয়ে ওঠেন।তবে জনপ্রিয়তার মধ্যেই ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। পরবর্তী জীবনে তাঁকে খুব বেশি প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহলও ছিল দর্শকদের মধ্যে।তাঁর অভিনয়জীবন খুব দীর্ঘ না হলেও বাংলা সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রেমিকা থেকে শুরু করে প্রাণবন্ত তরুণী, নানা ধরনের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।শেষ জীবনে অবশ্য সিনেমার আলো থেকে অনেক দূরে ছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর রবিবার রাতে মুম্বইয়ে তাঁর মৃত্যু হল। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় অধ্যায়ের ইতি ঘটল।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দেশ

এসআইআরের জট কাটতে ১২ বছর! সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে বিস্ফোরক দাবি নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া জট এখনও কাটেনি। এসআইআরের সময় নাম বাদ পড়া এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মোট ৩৮ লক্ষের বেশি আপিল জমা পড়েছে। তার মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমান গতিতে কাজ চললে সব আপিলের নিষ্পত্তি করতে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।কমিশনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মোট ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজারের মতো আপিল জমা পড়েছে। এর মধ্যে এসআইআরে নাম বাদ পড়া ভোটারদের ২২ লক্ষ ২১ হাজার ১১৮টি আবেদন রয়েছে। তাঁরা ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম ফেরানোর আবেদন করেছেন। অন্য দিকে, প্রায় ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে।এই বিপুল সংখ্যক আপিলের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র এক লক্ষের কিছু বেশি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আরও সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত গিয়েছে এবং তাঁদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্য দিকে, ৮ হাজার ৬৪৯টি আপিলে আবেদনকারীরা হেরে গিয়েছেন।কমিশনের হিসাব বলছে, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। বর্তমান গতিতে মাসে গড়ে প্রায় ২৫ হাজারের কিছু বেশি আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে। সেই হিসাবেই বাকি আবেদন শেষ করতে ১৪৬ মাসের মতো সময়, অর্থাৎ ১২ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে আপিলের শুনানি দ্রুত শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে। সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের ভিত্তিতে একটি করে ট্রাইব্যুনাল তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।শুধু ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো নয়, অনলাইনেও শুনানি করার অনুমতি চেয়েছে কমিশন। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যাতে নিজেদের বাসভবন বা অন্য নির্দিষ্ট জায়গা থেকে অনলাইনে শুনানি করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংশোধনের কথাও হলফনামায় জানানো হয়েছে।এসআইআরের সময় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল বলে কমিশনের তথ্য। তাঁদের মধ্যে ২২ লক্ষের বেশি ভোটার নিজেদের নাম ফেরানোর জন্য আপিল করেছেন। অর্থাৎ বাদ পড়া ভোটারদের একটি বড় অংশই এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাম পুনর্বহালের আবেদন করেছেন।ফলে এখন মূল নজর আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব এবং অনলাইন শুনানির ব্যবস্থা কার্যকর হলে মামলার গতি কতটা বাড়ে, সেটাই এখন দেখার। একই সঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের শুনানি এবং ভোটার তালিকায় নাম পুনর্বহালের প্রক্রিয়া নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ! মমতার মামলায় জরুরি শুনানির আর্জি মেনে নিল সুপ্রিম কোর্ট

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সেই মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার আবেদন গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সোমবার বিষয়টি উল্লেখ করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।নির্বাচন কমিশন গত ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী নির্দেশে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম এবং দলের নির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলের নাম, প্রতীক এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী উপনির্বাচনের জন্য দুই গোষ্ঠীকেই আলাদা নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। তাঁর আবেদনে কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। সেই মামলাটিই দ্রুত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানান কপিল সিব্বল।সোমবার আদালতে মামলাটি উল্লেখ করে কপিল সিব্বল কমিশনের সিদ্ধান্তের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের প্রক্রিয়া জুন মাসে শুরু হয়েছিল এবং জুলাইয়ে তাঁদের তরফে জবাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।সিব্বলের আরও বক্তব্য, নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাই মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন। তিনি কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছেন বলেও আদালতে জানান।এর পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, মামলাটি তালিকাভুক্ত হলে সব পক্ষই নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবে। আদালত বিষয়টি দ্রুত তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করবে বলেও জানানো হয়। অর্থাৎ জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করা হলেও সেই মুহূর্তে শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।এদিকে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর জন্য একটি নতুন নাম ও নতুন প্রতীক এবং অপর গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর করা হয়েছে।ফলে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর এবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। মামলাটি কবে তালিকাভুক্ত হয় এবং শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
কলকাতা

মমতার সমর্থন পাওয়ার পরেই গ্রেফতার, এবার হাইকোর্টে মিলন! কী চাইছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী?

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে আইনি জটিলতায় পড়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পাঁচটি মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবী মামলাটি উল্লেখ করেছেন। আগামীকাল মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা সামনে এসেছে। তাঁর আইনজীবীর দাবি, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে তাঁকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। আদালত মামলাটি শুনে অভিযোগগুলির গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে।মিলন প্রধানের গ্রেফতারিও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। শুক্রবার নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানান। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলনকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি পুরনো খুনের মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই মামলার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের আরও দাবি, ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে ছিলেন।এ ছাড়াও মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট এবং অস্ত্র আইনের মতো ধারায় মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন করে আরও একটি মামলা যুক্ত হওয়ার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে বিচারাধীন। তাঁর আইনজীবী নির্বাচনের আগে রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে আদালত এই আবেদন গ্রহণ করে কী নির্দেশ দেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একদিকে প্রার্থীর গ্রেফতারি, অন্য দিকে পাঁচ মামলায় হাইকোর্টে রক্ষাকবচের আবেদনদুই ঘটনাতেই নতুন করে নজর পড়েছে এই কেন্দ্রের দিকে। আগামীকাল শুনানি হলে মিলন প্রধানের আবেদনে আদালতের অবস্থান কী হয়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal