দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার আঁচ এবার পৌঁছল বিধানসভায়। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, কেউ কোনও সন্তের কথা গ্রহণ করবেন কি না, তা ব্যক্তিগত বিষয়। তবে ওই সন্ত কারও উপর নিজের মত চাপিয়ে দিতে চাননি বলেই দাবি করেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লিলুয়ায় একজন সন্ত এসেছিলেন। তিনি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। নিজের মতো করে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথাও বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যাঁর সেই বক্তব্য গ্রহণ করার, তিনি গ্রহণ করবেন, আর যাঁর গ্রহণ করার নয়, তিনি করবেন না। তাঁর দাবি, ওই সন্ত কারও উপর কোনও কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।সম্প্রতি লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় সভায় যোগ দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর মন্তব্যের পরেই শুরু হয় বিতর্ক।দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে বাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় চাপানউতোর। কংগ্রেসের তরফে ভবানীপুরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ, কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা ভবানীপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ান। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয় বলে দাবি।বিধানসভায় সেই প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনা নিয়ে তিনি কড়া মনোভাব প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কয়েক জনকে ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়াতে দেখেছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ করে তাঁদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এ রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা চলবে না।দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের বিরোধিতা যেমন হয়েছে, তেমনই তাঁর বক্তব্যের সমর্থনেও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত নিজের মত গ্রহণ বা না গ্রহণ করার বিষয়টিকেই সামনে আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও সন্তের বক্তব্য ভালো না লাগলে তা গ্রহণ না করার অধিকার মানুষের রয়েছে, কিন্তু সেই কারণে তাঁর ছবি পোড়ানো বা অন্য কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয়।এদিন বামেদেরও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তিনি কটাক্ষ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেই রাজনীতির কারণেই বামেদের রাজনৈতিক শক্তি কমেছে। একইসঙ্গে তিনি নিজের দলের বিধায়ক সংখ্যার প্রসঙ্গও টেনে আনেন এবং আগামী দিনে উপনির্বাচনের পর পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক তাই ধর্মীয় বিষয় ছাড়িয়ে রাজনৈতিক বিতর্কেও পরিণত হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সেই বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেল।