• ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৪ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Gymnast

রাজ্য

সারা ভারত আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় জিমনাস্টিক প্রতিযোগীতায় স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক জয় রাজমিস্ত্রির মেয়ে রোজিনার

সরা ভারত আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় জিমনাস্টিক প্রতিযোগীতায় অংশনিয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলো পূর্ব বর্ধমানের কন্যা রোজিনা মির্জা। ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এই প্রতিযোগীতা ২৯ মার্চ শুরু হয় পাঞ্জাবের অমৃতসরে। সেখানেই ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় চুড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীতা। প্রতিযোগীতায় সার্বিক ভাবে দ্বিতীয় স্থান লাভ করার জন্য বঙ্গতনয়া রোজিনা রৌপ্য পদক লাভ করেছে। এছাড়াও টেবিল ভল্টে প্রথম স্থান অর্জন করা ও টিম চাম্পিয়ান হওয়ার জন্যেও রোজিনা দুটি স্বর্ণ পদক ও ট্রফি লাভ করেছে। রোজিনার এই সাফল্যে খুশি তাঁর কোচ, পরিবার পরিজন ও গুরুনানক দেব ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। রোজিনা মির্জার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার নাড়ুগ্রাম পঞ্চায়েতের শংকরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মির্জা কাশেম আলী পেশায় রাজমিস্ত্রী। মা সাবিলা মির্জা সাধারণ গৃহবধূ। কাশেম আলীর তিন মেয়ের মধ্যে রোজিনা সবার ছোট। ছোট বয়স থেকেই রোজিনার জিমনাস্টিক্সের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তখন সে তাঁর কাকা মির্জা হাসেম আলীর সহযোগীতা নিয়ে গ্রামের মাঠে জিমনাস্টিক অনুশীলন করতো। ওই সময়েই জিমনাস্টিকে তাঁর প্রতিভার প্রকাশ ঘটতে শুরু করে। রোজিনা গ্রামের স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে। এর পর পরিবারের লোকজন তাঁকে কলকাতার সুকান্তনগর বিদ্যানিকেতনে ভর্তি করেন। সেখানে পড়াশুনার পাশাপাশি রোজিনা কলকাতার সাই (Aports Authority of India) জিমনাস্টিকের কোচিং নেওয়াও শুরু করে। কঠোর অনুশীলন চালিয়ে গিয়ে স্কুল জীবনেই রোজিনা জিমনাস্টিকে ৪ বার বেঙ্গল চাম্পিয়ান হয়। পরে ২০১৫ সালে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে রোজিনা স্বর্ণ পদক ছিনিয়ে নিয়ে আসে। কলকাতার স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর সেখানকার কলেজে বি, প্রথম বর্ষে ভর্তি হয় রোজিনা। কলকাতায় অনুশীলন করার সময়ে সে পায়ে গুরুতর চোট পায়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পায়ের চিকিৎসা চলে। তার কারণে তাঁর কলেজ যাওয়াও বন্ধ হয়ে থাকে। পায়ের চোট পুরোপুরি সারলে তারপর ২০২০ সালে রোজিনা পাঞ্জাবের গুরুনানক দেব ইউনিভার্সিটি অধীন অমৃতসরে খালসা কলেজে বি এ প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়। পাঞ্জাবে থেকে পড়াশুনা চালিয়ে যাবার পাশাপাশি সেখানে কোচের তত্বাবধানে রোজিনা জিমনাস্টিকের অনুশীলনও চালিয়ে যাচ্ছে।রোজিনা জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশন সরা ভারত আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় জিমনাস্টিক প্রতিযোগীতার আয়োজন করে। ২৯ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অমৃতসরে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিযোগীতায় দেশের ১৯২ টি বিশ্ববিদ্যালয়েয় প্রতিযোগীরা অংশ নেয়। রোজিনা জানায় সেই প্রতিযোগীতায় আর্টিস্টিক জিমনাস্টিকে সে মহিলা বিভাগে গুরুনানক দেব ইউনিভার্সিটির য়ে প্রতিনিধিত্ব করে। সেই প্রতিযোগীতায় সার্বিক ভাবে সে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে রৌপ্য পদক ও ট্রফি পায়। এছাড়াও টেবিল ভল্টে স্বর্ণ পদক ও টিম চাম্পিয়ান হওয়ার জন্যে আরও একটি স্বর্ণ পদক ও ট্রফি পয়েছে বলে রোজিনা মির্জা জানিয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরের প্রতিযোগীতায় পদক প্রাপ্তিতে রোজিনা যথেষ্টই খুশি। তবে এখন তাঁর লক্ষ দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পদক ছিনিয়ে আনা।

এপ্রিল ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Pranati Nayek : অলিম্পিকে হতাশ করলেন বাংলার মেয়ে প্রণতি নায়েক

টোকিও অলিম্পিকে খেলার ছাড়পত্র পাননি দীপা কর্মকার। দেশের জিমন্যাস্টিক্সের ব্যাটন ছিল প্রণতি নায়েকের হাতে। কিন্তু হতাশ করলেন এই বাঙালি জিমন্যাস্ট। সাবডিভিশন রাউন্ড থেকেই বিদায় প্রণতি নায়েকের।আরও পড়ুনঃ টোকিও অলিম্পিকে প্রথম পদক ভারতেরপরের রাউন্ডের জন্য যোগ্যতা অর্জন পর্বে সাবডিভিশন ১এ ১২ নম্বরে শেষ করেন প্রণতি। তাঁর মোট সংগৃহীত স্কোর ৪২.৫৬৫। প্রতিটি সাবডিভিশন থেকে ৮ জন করে জিমন্যাস্ট দ্বিতীয় রাউন্ডের ছাড়পত্র পাবেন। কিন্তু প্রণতি প্রথম আটের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারেননি। ফ্লোর এক্সারসাইজে ১০.৬৩৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন প্রণতি। এর মধ্যে ডিফিকাল্টিতে ৪.৪ ও একজিকিউশনে ৬.২৩৩। তুলনামূলকভাবে ভল্টে বেশি পয়েন্ট তুলে নেন। ভল্টে তাঁর সংগ্রহ ১৩.৪৬৬। ডিফিকাল্টিতে ৫ ও একজিকিউশনে ৮.৪৬৬। এই ভল্ট বিভাগই প্রিয় প্রণতির। আরও একবার ভল্ট দেওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু দ্বিতীয় প্রচেষ্টা নেননি।আরও পড়ুনঃ গোপনে ভারত ঘেষা তিব্বত ঘুরে গেলেন চিনা প্রেসিডেন্টআনইভেন বারে ৯.০৩৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ডিফিকাল্টিতে ৪.১ ও একজিকিউশনে ৪.৯৩৩। এই বিভাগে ২৩ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ২২ নম্বরে শেষ করেন প্রণতি। ব্যালান্স বিমে সংগ্রহ করেন ৯.৪৩৩ পয়েন্ট। ডিফিকাল্টিতে ৪.৫ ও একজিকিউশনে ৪.৯৩৩ সব সব মিলিয়ে তাঁর স্কোর দাঁড়ায় ৪২.৫৬৫। প্রথম সাবডিভিশনে তিনি শেষ করেন ১২ নম্বরে। সবচেয়ে বড় কথা সুযোগ থাকলেও দ্বিতীয়বার ভল্ট নেননি। অথচ ছোট থেকে এই ভল্টেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জিতে এসেছেন প্রণতিআরও পড়ুনঃ পোলিকারপোভাকে উড়িয়ে দারুণভাবে অলিম্পিক অভিযান শুরু করলেন সিন্ধুযে কোনও জিমন্যাস্টের আসল অস্ত্র হল ভল্ট। এই ভল্ট থেকেই আন্তর্জাতিক পদক আসে। ২০১৪ কমনওয়েলথ গেমস, ২০১৫ এশিয়ান গেমসে এই ভল্ট থেকেই ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন দীপা। ২০১৬ অলিম্পিক টেস্ট ইভেন্টে ও ২০১৮ তুরস্ক বিশ্বকাপে সোনা জিতেছিলেন। প্রণতি নায়েকের প্রথম আন্তর্জাতিক পদক এসেছিল এই ভল্ট থেকেই। ২০১৯ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। সেই ভল্টেই টোকিওতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট তুলে নিয়েও শেষরক্ষা হল না।

জুলাই ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Olympic: দীপা'র দীপ জ্বালিয়ে রাখলেন বাসচালক কন্যা প্রণতি

এই মুহূর্তে ভারতের ক্রীড়া আকাশে উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক। দ্বিতীয় ভারতীয় জিমন্যাস্ট হিসাবে প্রণতি নায়েক টোকিও অলিম্পিকে যাচ্ছেন। অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী প্রথম ভারতীয় জিমন্যাস্ট হলেন দীপা কর্মকার। ছোটবেলায় মাসীর বাড়িতে বেড়ে ওঠা প্রনতি তিন বোনের মধ্যে মধ্যমা। বাবা শ্রীমন্ত দূরপাল্লার বেসরকারি বাসের চালক। মাঝে মাঝেই অনেক দূরে বাস নিয়ে যেতে হত তাঁকে। মেয়েদের পড়াশোনার জন্য পিংলাতে তাঁদের মাসীর বাড়িতে দিয়ে আসেন।আরও পড়ুনঃ ২৫ বছর আগের যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিলেন দিলেন স্টারলিং ও হ্যারিকেনচরম আর্থিক অনটনের মধ্যে কেটেছে প্রণতির শৈশব। দুবেলা দু-মুঠো অন্ন যোগান দেওয়া যেখানে দূরহ কাজ, সেখানে জিমন্যাস্টিক বিলাসিতা মাত্র। চাম্পিয়ানরা সর্বদা কঠিন পরিস্থিতিতেই জেগে ওঠেন। তাঁরা স্থান কাল পাত্রের উর্দ্ধে। মহঃ আলি, মারাদোনা, পেলে, বেন জনসন, টাইসন...... উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না সেই সমস্ত তারকাদের নাম। তিন বোনের মধ্যমা প্রণতির চোখে ছিলো অন্য স্বপ্ন। মাটির কুঁড়ে ঘরে বড় হয়ে ওঠা প্রণতির লক্ষ্য ছিল অনেক দূরে নিবদ্ধ। খুব ছোটোতে পিংলা গ্রামেই তাঁর জিমন্যাস্টিকে হাতেখড়ি। সেখানকার এক প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শুভাশিষ চক্রবর্তীর হাত ধরেই তাঁর যাত্রা শুরু। জিমন্যাস্টিককে যোগাসন ভেবে অনুশীলন করতে করতে কখন যে তিনি জিমন্যাস্ট হয়ে গেছেন বুঝতেই পারেননি প্রণতি। মেদিনীপুর জেলা চাম্পিয়ান হওয়ার পর রাজ্য স্তরে প্রতিযোগিতার জন্য কলকাতায় আসেন। আরও আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন ছিল নিজেকে পরবর্তি স্তরে উন্নিত করার জন্য। তাই মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর বাবা তাঁকে সাই-এ (Sports Authority of India) নিয়ে আসেন। প্রাথমিক বাছাইপর্বে সাইয়ের নির্বাচকেরা তাঁকে বাতিল করে দেন। কিন্তু ওখানকার এক কর্মী দিলীপ বিশ্বাস রত্ন চিনতে ভুল করেননি। তিনি প্রনতিকে নিয়ে সরাসরি সাই-র ডাইরেক্টরের কছে হাজির হন। ডাইরেক্টর সুস্মিতা-ই কোচ মিনারা বেগমের কাছে পাঠান জিমন্যাস্টিক শিক্ষা লাভ করতে।আরও পড়ুনঃ জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর সাড়ে ২২ বছরের জেলশুরু হয় তাঁর স্বপ্নের ঘষামাজা। কোনও হস্টেল না পেয়ে স্টেডিয়াম সংলগ্ন এক পরিচিতের বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রবল আর্থিক অনটনের মধ্যে চলতে থাকে অনুশীলন। চাম্পিয়ানদের পথ কোনও দিনই সুগম হয় না। কঠিন অনুশীলন শেষে ভাড়া বাড়ি ফিরে ঘর মোছা, বাসন মাজা সহ অনেক কাজই তাঁকে করতে হত। মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তাঁর মা তাঁকে নিয়ে পিংলা ফিরে যাওয়া মনস্থির করেন। বেঁকে বসেন কোচ মিনারা বেগম। তাঁর বাড়ি হয়ে ওঠে প্রণতির পরবর্তী কয়েক বছরের ঠিকানা। জাতীয় মিটে সোনা পাওয়ার পর প্রণতি হস্টেল পান। মাথা গোঁজার জায়গা পেয়ে জিমন্যাস্টে পুরোমাত্রায় মনোনিবেশ করেন।তিনি বলেন মিনারা ম্যাডাম-ই আমাকে আমার বাবা-মায়ের কাছে না থাকার যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিয়েছিলেন। দিনে ছয় ঘন্টা অনুশীলন করতে হত ম্যাডামের কাছে। সকালে তিন ঘণ্টা ও বিকেলে তিন ঘণ্টা। প্রথমবার জাতীয় মিটে নেমে সোনা জেতার পর আমি হস্টেল পেয়ে যাই। প্রায় ১৯ বছর হস্টেলে আছি। প্রথম দিকে বাবা-মায়ের জন্য খুবই কষ্ট হতো। এখন জিমন্যাস্টিকই আমার ধ্যান-জ্ঞান। যখনই কোনও দুঃখ-কষ্ট পাই তখনই আরও অনুশীলনের জেদ বেড়ে যায়। সমস্ত মন খারাপ, রাগ, অভিমানকে জিমন্যাস্টিকে আরও ভাল পারফরম্যান্সে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করে যাই। তিনি জানান, কোচ মিনারা তাঁকে ছোট বেলায় শিখিয়েছিলেন, লক্ষ্য সবসময় উঁচু রাখতে। কখনও কেউ লক্ষ্য জিজ্ঞেস করলে অলিম্পিক খেলার কথা বলতে বলেছিলেন। বার বার সে কথা বলতে বলতে ওটাই তাঁর ধ্যান জ্ঞ্যান হয়ে গিয়েছে।আরও পড়ুনঃ ভোটপ্রচারে আসা নাড্ডার হেলিকপ্টার দেখতে যাওয়ার অপরাধে জরিমানাসাই থেকে মিনারা অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে সাইয়ের জিমন্যাস্টিক কোচ লক্ষণ শর্মা। তাঁর কাছে অন্যশীলন করেন প্রণতি। জিমন্যাস্টিক্সে সাফল্যের সুবাদে ভারতীয় রেলে চাকরি পেয়েছেন। পিংলায় নিজেদের বাড়ি ছিল না, মাসির বাড়িতে থাকতেন। চাকরির পয়সা জমিয়ে মেদিনীপুরে জমি কিনে বাড়ি বানিয়েছেন। ২০১৯ তে এশীয় আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সে ব্রোঞ্জ পান প্রণতি। সেখানে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় তখন অলিম্পিকের টিকিট পাননি। করোনা আতিমারির জন্য মে মাসের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বাতিল হওয়ায় এশিয়া কোটায় সুযোগ পেয়ে যান। তবে তাঁকে চিন্তায় রাখছে সঠিক প্রস্তুতির অভাব। লকডাউনে সেভাবে অনুশীলন করতে না পারায় খুবই চিন্তিত প্রণতি। তিনি বলছেন, লকডাউনে প্রায় একমাস বসে ছিলাম। ফিটনেসের ঘাটতি হচ্ছিল। ২ মাস ট্রেনিংয়ের সুযোগ পেয়েছি। আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। অতিরিক্ত চেষ্টা করতে গিয়ে চোট লেগে গেলে সমস্যায় পড়ে যাব। সামনে ২০২২ সালের কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমস আছে। সেটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন প্র্যাক্টিস করতে পারিনি। ছন্দে আসতে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগবে। সেখানে দুমাসে কতটা উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যেতে পারব সেটা দেখার।আরও পড়ুনঃ মনের ঘরের স্বজনচোট আঘাত জিমন্যাস্টিকদের নিত্য সঙ্গী। বহু জিমন্যাস্টের কেরিয়ার অকালেই শেষ হয়ে গিয়েছে আঘাতের কারণে। প্রণতি-র প্রাক্তন কোচ মিনারা এখনও সময় পেলেই তাঁকে ফোন করে নানা বিষয়ে সাবধান করেন। চোট বাচিয়ে অনুশীলন করার কথা বার বার স্মরণ করিয়ে দেন। অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনের পর সকলের আগে ফোনে শুভেচ্ছা জানায় দীপা কর্মকার। তিনিও প্রণতিকে বলেন নিজেকে বাঁচিয়ে প্র্যাক্টিস করিস। এই মুহূর্তে যেন কোনও চোট আঘাত না লাগে। দীপা কর্মকার, অরুণা রেড্ডির পর প্রণতি-ই তৃতীয় ভারতীয় মহিলা যাঁর আন্তর্জাতিক মিটে পদক আছে। অভিজ্ঞ দীপা মিউজিক নিয়েও তাঁর উত্তরসুরীকে সতর্ক করে দেন। প্রসঙ্গত, মিউজিক ফ্লোর জিমনাস্টিকের খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ অঙ্গ। মিউজিকটির সুরকার, প্রযোজক, গায়ক সব কিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, রিও অলিম্পিকে দীপা মিউজিক নিয়ে সমস্যায় পড়েন। সেকারণেই তিনি প্রণতিকে আগে থাকতেই সাবধান করে দেন। দীপা কর্মকারের ট্রাম্প কার্ড ছিল ছিল প্রোদুনোভা ভল্ট। তবে প্রণতি প্রচলিত ফ্রন্ট ও ব্যাক ৩৬০ ডিগ্রি ভল্ট করেন।আরও পড়ুনঃ নির্যাতিতাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করল জাতীয় মহিলা কমিশন প্রণতি জানান, বাবার অর্থনৈতিক অনটন ও সংসার চালাতে জেরবার অবস্থা দেখে ক্রমশ মনের ভিতরে একটা জেদ তৈরি হচ্ছিল। যখন অনুশীলণের অবসরে অন্যরা ডায়েট খাবার খাচ্ছে, তখন আমার জন্য মুড়ি। ক্ষিদের জ্বালা থেকে তৈরি হয়েছে নাছোড়বন্দা জেদ। তিনি জানতেন জবাব দেওয়ার একটাই জায়গা পারফরম্যান্স, পারফরম্যান্স-ই শেষ কথা বলে। তিনি নিজের কাছেই শপথ নেন, জিমন্যাস্টিকের মঞ্চে সে নিজেকে প্রমাণ করবেই। তিনি বলেন আমি উপলব্ধি করেছিলাম, জিমন্যাস্টিক ছাড়া সামনে আর কোনও রাস্তা খোলা নেই। এতেই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। সফল আমাকে হতেই হবে। আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের উপর হামলা, রণক্ষেত্র যাদবপুরপ্রণতির স্বপ্ন সফল হওয়ার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে। দীপা কর্মকারের পর তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় জিমন্যাস্ট হিসাবে অলিম্পিকে যোগ্যাতা অর্জন করেছেন। বাংলার প্রথম। টোকিওতে সাফল্যের মন্ত্র নিয়ে লক্ষণ শর্মার তত্বাবধানে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন সল্টলেকের সাই কমপ্লেক্সে।আরও পড়ুনঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে বড় হবে আইল্যাশ, কীভাবে ? জেনে নিনমাটির কুঁড়ে ঘর সঙ্গে অভাবের প্রতিবন্ধকতা সেখান থেকে অলিম্পিকের জিমন্যাস্ট ফ্লোর। ওই আর্থসামাজিক পরিবেশে থাকা কোনও মানুষের কাছে এটা কল্পনা করা আকাশকুসুম স্বপ্নেরই নামান্তর। হাল ছাড়েননি প্রণতি। কয়েকদিন আগে করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ় সম্পূর্ণ হয়েছে প্রণতির। জৈব সুরক্ষা বলয়ের ভিতরেই রয়েছেন। সময় পেলে ঘরের মধ্যেই টিভিতে সিনেমা দেখেন, গান শোনেন আর মেডিটেশন করে মনের জোর বাড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, অলিম্পিক্সে নিজের সেরাটা দেব। তারপর ফলাফল যা হওয়ার হবে।জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জুন ৩০, ২০২১
দেশ

রোহতকে কুস্তির আখড়ায় এলোপাথাড়ি গুলি, মৃত ৫

পুরনো শত্রুতার জেরে কুস্তির আখাড়ায় ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি আততায়ীর। আর তাতে প্রাণ হারালেন দুই মহিলা-সহ ৫জন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে এক শিশুও। শুক্রবার রাতে ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার রোহতকের মেহার সিং আখড়ায়। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে খবর।জানা গিয়েছে, রোহতকের একটি বেসরকারি কলেজের পাশে অবস্থিত ওই আখড়াটি। ঘটনার সময় সেখানে অনেকেই ছিলেন। ওই সময় আচমকাই ভিতরে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে এক ব্যক্তি। তাতেই মারা যান পাঁচজন। মৃতদের মধ্যে দুই মহিলার পরিচয় মিলেছে। তাঁদের নাম পূজা এবং সাক্ষী। এছাড়া প্রদীপ মল্লিক নামে এক ব্যক্তিও রয়েছেন। এর পাশাপাশি আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাতে রয়েছে এক শিশুও। ইতিমধ্যে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পুরনো শত্রুতার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে আততায়ীর পরিচয় এখনও জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চেয়ার নিয়ে বিধানসভায় নাটক! মমতার আসনে বসতে রাজি নন ঋতব্রত, কেন?

বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে বুধবার বিরোধী দলনেতার ঘর ঘিরে তৈরি হল এক অন্যরকম পরিস্থিতি। বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে প্রবেশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সচিবালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর তাঁকে ঘরের দায়িত্বও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে ঘরে ঢোকার পর একটি ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।ঘরে থাকা একটি চেয়ারে বসতে গেলে তাঁকে জানানো হয়, সেটি একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ার। সেই কথা শুনেই ওই আসনে বসতে অস্বীকার করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিতদের কাছে তিনি অন্য একটি চেয়ার আনার অনুরোধ জানান। পরে তাঁর জন্য বিকল্প আসনের ব্যবস্থা করা হয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কারণেই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাবুধবারের সাংবাদিক বৈঠকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন ঋতব্রত। তিনি জানান, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান পরিষদীয় লড়াইয়ের লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করা নয়। বরং দলের ভবিষ্যৎ পথচলায় তিনি চাইলে পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিধানসভায় যে নতুন পরিষদীয় গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে কিছু নেতার মতপার্থক্য থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের সম্মান অটুট রয়েছে। তিনি আরও জানান, দলের ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে মমতার সঙ্গে আলোচনা করার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁদের।উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। একাধিক বিধায়কের অবস্থান বদল এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে কেন্দ্র করে শুরু হয় জোর জল্পনা। সেই আবহেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।আরও পড়ুনঃ সই জাল বিতর্কে চাপ বাড়ছে অভিষেকের! গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে ছুটলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতাবুধবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁদের রাজনৈতিক যাত্রা এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের মূল শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, দল এবং দলের নেতৃত্বের পাশে এখনও বিপুল সংখ্যক সমর্থক রয়েছেন।সব মিলিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে একটি চেয়ারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনাই এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সই জাল বিতর্কে চাপ বাড়ছে অভিষেকের! গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে ছুটলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিধানসভার তথাকথিত সই জাল কাণ্ড। এই ঘটনায় এবার সরাসরি আইনি চাপে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তের মুখে পড়ে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং একই সঙ্গে সিআইডি-র তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চ তাঁর আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি শুনানির অনুমতি দিয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে পারে।সমস্ত বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের একটি চিঠিকে ঘিরে। ওই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেপুটি লিডার এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। চিঠিটি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়ার পর তা যাচাই করতে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে।তদন্তে উঠে আসে, তালিকাভুক্ত ৭০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ১৪ জনের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের জায়গায় শুধুমাত্র বড় হাতের অক্ষরে নাম লেখা রয়েছে। আরও কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।আরও পড়ুনঃ মূল উপড়ে তৃণ ভূপতিত! পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রতঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পর গত শনিবার সিআইডি-র একটি বিশেষ দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয়। সেই নোটিশে নির্দিষ্ট দিনে ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে হাজিরা না দিয়ে অভিষেক তদন্তকারী সংস্থার কাছে অতিরিক্ত সময় চান। এরপরই তিনি আইনি পথে এগিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।এই মামলার রাজনৈতিক দিকটিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাই প্রথম এই জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ তুলে বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ওই দুই বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক বিতর্ক নয়; বরং এটি রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং নেতৃত্বের প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে। একদিকে তদন্তের জাল ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে, অন্যদিকে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন।এখন সকলের নজর আগামী শুক্রবারের হাইকোর্ট শুনানির দিকে। আদালত সিআইডি-র তদন্তে হস্তক্ষেপ করে কি না, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পান কি না, এবং এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত কতদূর গড়ায়তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

'হেভিওয়েট'-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের 'কাকা'

বর্ধমানের রাজনীতিতে একসময় যাঁর নাম উচ্চারণ করতেই বিরোধী শিবিরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হতো, সেই খোকন দাসের বর্তমান পরিস্থিতি যেন একেবারেই ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। তোলাবাজি, হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে তাঁকে এমন এক অবস্থায় দেখা গেল, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হল বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে।একসময় বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় খোকন দাসের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁকে তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে ধরা হতো। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।গত ২৯ মে বর্ধমান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো, মোটা অঙ্কের টাকা তোলা দাবি করা, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনাতেও খোকন দাসের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।তদন্তে নেমে বর্ধমান থানার পুলিশ উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে তাঁর অবস্থানের খোঁজ পায়। এরপর গত ৩১ মে সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রানজিট রিমান্ডে সোমবার রাতে তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়, যাতে অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ২০২৫ সালের ৮ জুনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বর্ধমানের কাঞ্চননগর এলাকায় একটি বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা বৈঠক করছিলেন। সেই সময় খোকন দাসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে হামলা চালায় এবং কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে পরবর্তী ঘটনাকে ঘিরে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানেও তাঁদের উপর পুনরায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুধু মারধরই নয়, ১০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভয় দেখাতে আগ্নেয়াস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়েছিল।এই সমস্ত অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীদের মতে, অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিচার করে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে, খোকন দাসের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে আদালতে এখনও চূড়ান্ত রায় হয়নি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান।মঙ্গলবার আদালতে তাঁকে পেশ করা ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আদালত চত্বর ও বর্ধমান থানা এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।সব মিলিয়ে, যে নেতা একসময় এলাকায় নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন, আজ তাঁকেই জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে আদালতে যেতে হওয়ায় বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সকলের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

পুরসভা, সিআইডির পর এবার অভিষেকের বাড়িতে ইডি! নতুন করে চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বাড়ির নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন তদন্তসব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে তাঁকে নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এর মধ্যেই বুধবার বিকেলে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।সূত্রের খবর, বিকেল নাগাদ দুই ইডি আধিকারিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। তাঁদের হাতে একটি সমন সংক্রান্ত নথি ছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই এই নোটিস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।প্রথমে তদন্তকারী আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্য একটি ঠিকানায় যান। পরে জানতে পারেন তিনি সেখানে থাকেন না। এরপর তাঁরা কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় নথি পৌঁছে দেন বলে সূত্রের দাবি।তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অতীতে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে তাঁদের নাম উঠে এসেছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তেও অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁরা আইন মেনেই সমস্ত তদন্তে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।বুধবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং সমনের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজনীতি

'মূল' উপড়ে 'তৃণ' ভূপতিত! পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বুধবারের দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল। দীর্ঘ টানাপোড়েন, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং বিধানসভার সই-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত বিদ্রোহী শিবিরের হাতে চলে গেল। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তাঁর জন্য নির্ধারিত কক্ষও খুলে দেওয়া হয়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘরের চাবি তুলে দেন ঋতব্রতের হাতে।বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বর্তমানে ৫৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন তাঁদের হাতে রয়েছে বলেও তিনি জানান। আরও দুই বিধায়ক রাজ্যের বাইরে থাকলেও তাঁদের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই হিসেবে তৃণমূল পরিষদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যই এখন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য।নতুন বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেন যে, বিধানসভায় মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। পাশাপাশি ডেপুটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও সমর্থনের চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।তবে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও ঋতব্রত এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে। সেই কারণেই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের পরামর্শদাতা হওয়ার আহ্বান জানাবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দূরত্ব এখন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।ঋতব্রতের বক্তব্যে উঠে আসে বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখাও। তিনি বলেন, সরকারের ভুলের সমালোচনা যেমন করা হবে, তেমনই জনস্বার্থে গৃহীত ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করা হবে। তাঁর কথায়, মানুষ আমাদের বিরোধী আসনে বসিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করাই আমাদের কাজ। আমরা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করব।এই নাটকীয় পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের তরফে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার জন্য যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে আসে এবং পরবর্তীতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ, এই বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে নতুন করে আবেদন জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পিকার ঋতব্রত শিবিরের দাবি মেনে নেওয়ায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।অন্যদিকে, যখন বিধানসভায় ঋতব্রত নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা করছেন, ঠিক সেই সময় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব হারানো শুধু সাংগঠনিক ধাক্কাই নয়, বরং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল। এখন নজর থাকবে কালীঘাট শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি কতটা স্থায়ীভাবে ধরে রাখা যায়, তার উপর।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেকের বাড়ি নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের! সাত দিনের মধ্যে দিতে হবে সব তথ্য

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি নিয়ে চলা বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সম্পত্তির কোন কোন অংশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে এবং কোথায় নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরনিগমকে।বুধবার বিচারপতি স্মিতা দাস দে নির্দেশ দেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে পুরনিগমকে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আদালতে জানাতে হবে। সম্পত্তির কোন অংশে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, কতটা এলাকা সেই অভিযোগের আওতায় পড়ছে এবং কী ধরনের আপত্তি রয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ জমা দিতে হবে।আদালত আরও জানিয়েছে, পুরনিগমের রিপোর্ট জমা পড়ার পর সম্পত্তির মালিকপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। এরপর চার সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।জানা গিয়েছে, এই মামলায় শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন নয়, তাঁর মায়ের নামে থাকা কালীঘাটের একটি সম্পত্তিও আলোচনায় এসেছে। পুরনিগমের দাবি, ওই সম্পত্তির কিছু অংশে নির্মাণ সংক্রান্ত অনিয়ম থাকতে পারে। সেই কারণেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত। তাঁদের বক্তব্য, কোনও বেআইনি নির্মাণ হয়নি। তা সত্ত্বেও পুরনিগম নোটিস পাঠিয়েছে। সেই কারণেই নোটিস বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।আদালত স্পষ্ট করেছে, মামলার শুনানি চলাকালীন বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে পুরনিগম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সমস্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হবে।এই নির্দেশের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংক্রান্ত মামলাটি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুরনিগমের রিপোর্টে কী তথ্য সামনে আসে এবং আদালত পরবর্তী শুনানিতে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

বড় ধাক্কা তৃণমূলে! মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ, কালীঘাটে কী হল ভিতরে ভিতরে?

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, ঠিক সেই সময় কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। বুধবার তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়।দিনভর রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি নবান্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। এরপর কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান।দলীয় সূত্রের দাবি, গত কিছুদিন ধরেই মেয়র হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পুরসভার বিভিন্ন কাজকর্ম পরিচালনা নিয়ে তাঁর অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলেও আলোচনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। সেই কারণেই তিনি একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।মঙ্গলবারই কলকাতা পুরসভার এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ইস্তফার পর রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়ে যায়। সেই সময় ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্যও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। তিনি বলেছিলেন, তাঁরা একটি দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও একসঙ্গেই নেন। এরপর থেকেই তাঁর ইস্তফা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।বুধবার শেষ পর্যন্ত কালীঘাটে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ইচ্ছা জানান তিনি। প্রথমে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ফিরহাদ। পরে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাতৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মেয়র হিসেবে কাজ করতে নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই কারণেই তিনি সম্মানের সঙ্গে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বও তাঁর সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিয়েছে।ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব আপাতত পুর কমিশনারের হাতে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এদিকে চলতি বছরের শেষের দিকে পুরভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

‘মমতা আমাদের পরামর্শদাতা হোন’! বিধানসভা কাঁপানো মন্তব্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দাবি করা একদল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় উপস্থিত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান। তাঁর কথায়, মমতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তিনি জানান, গঠনমূলক বিরোধী রাজনীতি করতে গেলে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পরামর্শ প্রয়োজন এবং সেই জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান বিধানসভার কার্যক্রমের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলে তাঁদের মত। ঋতব্রতের দাবি, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত বহু বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁরা নিজেদের প্রকৃত পরিষদীয় প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠী বলে মনে করছেন।সাংবাদিক বৈঠকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কথা বলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁরা বিধানসভার ভিতরে গঠনমূলক বিরোধিতার পথেই হাঁটবেন। কোনও বিল বা প্রস্তাবের সঙ্গে মতভেদ থাকলে তাঁরা তার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, তবে শুধুমাত্র প্রতিবাদের জন্য সভা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে হাঁটবেন না।ঋতব্রতের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করতে চান তাঁরা। মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারের সমালোচনা যেমন করবেন, তেমনই ভালো উদ্যোগকে সমর্থনও জানাবেন।এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে চাওয়ার বার্তা এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal