• ২৭ পৌষ ১৪৩২, মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Diary

রাজ্য

বর্ধমানের হেরোইনের কারবারির ডেরায় ফের হানা এসটিএফের, উদ্ধার গোপন ডায়েরি

বর্ধমানের হেরোইনের কারবারির ডেরায় ফের বুধবার অভিযান চালালো এসটিএফ। গত ১০ জানুয়ারি স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) অভিযান চালিয়ে শহর বর্ধমানের উপকন্ঠে পাল্লা- শ্রীরামপুর এলাকায় নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য হেরোইন তৈরির কারখানার হদিশ পায়। অভিযানে উদ্ধার হয় ১৩ কেজি হেরোইন ও হেরোইন তৈরির উপকরণ সহ ২০ লক্ষাধিক টাকা এভং টাকা গোনার মেশিন। হেরোইন তৈরিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই দিনই এসটিএফ আধিকারিকরা বাবর মণ্ডল ও তাঁর ছেলে রাহুল মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। বর্ধমানের বাড়িতে বসে বাবর ও তাঁর ছেলে রাহুল হেরোইন কারবারের জাল দেশের যেখানে যেখানে ছড়িয়েছেন তার শিকড়ে পৌছতো চাইছেন এসটিএফ আধিকারিকরা। ধৃত দুজনকে হেফাজতে নিয়ে তারই উৎস সন্ধানে এদিন ফের বর্ধমানে অভিযানে চালান এফটিএফ আধিকারিক দল। একটি দল হানা দেয় বাবর মণ্ডলের গোপাল নগরের বাড়িতে। সেখানে বাবর মণ্ডলের স্ত্রী সাবিনা মণ্ডল ও ছোট ছেলে রাজ মণ্ডলকে নিয়ে এসটিএফ আধিকারিকরা বর্ধমানের বিবেকানন্দ কলেজ মোড় এহাকার বাড়িতে যায়। ঘন্টা খানেক ধরে বাবর মণ্ডলকে নিয়ে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায় এসটিএফ। তখনই বাড়িতে থেকে বহু মূল্যের বেশ কয়েকটি জায়গার দলিল উদ্ধার হয়। এছাড়াও একটি নীল রঙের ডাইরী উদ্ধার হয়েছে।এসটিএফ আধিকারিকদের দাবি, কোথায় কাদের কাদের হেরোইন সরবরাহ হত বর্ধমান থেকে তার তথ্য ওই ডাইরি থেকে পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি বাড়িতে থাকা একটি বিলাসবহুল দামী চারচাকা গাড়িটিও এদিন এসটিএফ সিজ করে নিয়ে যায়। সঙ্গে বর্ধমান থানার পুলিশও থাকে । এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেরোইন কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ৬ জন গ্রেফতার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উড়িষ্যা থেকে দুজন ও মনিপুর থেকে দুজনকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
নিবন্ধ

Diary of a young girl: মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)

ফোনটা পেয়ে আই পি এস অফিসার সুকৃতী রায় নিজেই গেলেন ঘটনাস্থলে,সঙ্গে দুজন অধস্তন সহকর্মীকে নিয়ে।বুঝলেন মেয়েটার শরীরে তখনও প্রাণ আছে।নিজের গাড়িতেই তুলে নিয়ে ছুটলেন হাসপাতাল রেখে গেলেন সহকর্মীদের।ঘটনাস্থলে চারজনকে ধরা হয়েছে।হাসপাতাল পৌঁছে মেয়েটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আবার গেলেন ঘটনাস্থলে যদি কিছু পাওয়া যায়,মেয়েটির পরিচয়,আপনজন কারো কোনো খোঁজ।ঘরে চারিদিক খূঁজে একটা সেল ফোন পেলেন ।কিন্তু কেনো জানিনা আরো কিছু পাওয়ার আশায় খূঁজে দেখ্তে লাগলেন । পেয়েও গেলেন একটা ডায়েরি।দুটো জিনিস নিয়ে ফেরেন নিজের অফিসে।বারবার মেয়েটার মুখটা মনে পড়ছে; কতই বা বয়স হবে কুড়ি একুশ।মুখে যেন একটা অব্যক্ত কষ্ট আর আতঙ্ক ছিলো মেশানো।ভাবতে....ভাবতে মেয়েটার ফোনটা বের করে অন করলেন। বাহ নামটা বেশ ভালো মিঠি।লাস্ট কয়েকবার বাবাকে ফোন করেছিল।বোধহয় ফোনটা রিসিভ হয়নি।কিন্তু কেনো? কে এই মেয়ে? কেনো এতবার বাবাকে ফোন করেছিল? কি বলতে চেয়েছিল?এইসব নানান প্রশ্ন আসছে মাথায়।নিজের ফোন থেকেই বাবার নং টা ডায়াল করলেন--দু তিন বার রিং হওয়ার পরহ্যালো,কে?আমি লালবাজার থেকে বলছি।লালবাজার? কে কেনো? গলাটা যেন কেঁপে গেল মনে হলো সুকৃতীরহ্যাঁ , আপনার মেয়ে মিঠি দাস?মিঠি? কে মিঠি? আমি কোনো মিঠিকে চিনিনা। বলে ফোনটা কেটে দিল।সুকৃতী অবাক হয়ে কিছুক্ষণ বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল; সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে।বেয়ারা কে ডেকে এক কাপ চা দিতে বলল।চা খেতে খেতে ডাযেরি টা খুলল...না রোজ লেখা নয়, হয়তো যে ঘটনা লিখে রাখতে মন হয়েছে সেটাই লিখে রেখেছে। মানে যে ঘটনা মিঠির মনে দাগ কেটেছে সেটা ও ওর লেখায় বন্দি করে রেখেছে।লেখা শুরু করেছে তখন ও ক্লাস নাইন। স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে নতুন নতুন জানা বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনার কথা লিখেছে।সুকৃতী পড়তে লাগল পাতা উল্টে, মিঠি নিজের প্রথম প্রেমের কথা লিখেছে।১২/০৮/২০০৯আমি এখন ক্লাস ইলেভেন এ পড়ি ।পড়ার বাইরে নাচ গান করতে আমার ভালো লাগে।স্কুলের স্বাধীনতা দিবসে একটা প্রগ্রাম হবে। সেইজন্য এখন রোজ রিহার্সাল চলছে। কদিন থেকেই খেয়াল করছিলাম ক্লাস টুয়েলভের সুজয় কিছু বলতে চাইছে ।আজ ও বলেই ফেলল। খারাপ না ছেলেটা। আমারও ভালই লাগে।যদিও আজ আমি কোনো উত্তর দিই নি।আবার ১২/০৮/২০০৯আজ সুজয় কে হ্যাঁ বলেছি।কিন্তু ভয় করছে খুব। মা তো আমাকে দেখেই বুঝবে তখন আমি মা কে কি বলবো। মা যে আমার মুখ দেখেই সব বুঝতে পারে ।আমার পড়া নষ্ট করলে হবে না। তাহলে মা কষ্ট পাবে।এরপর আবার বেশ কিছুদিন কিছুই লেখেনি । তারপর হঠাত্ লিখেছে মায়ের কি যেন হচ্ছে আমাকে ঠিক বলছে না। শরীরটা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বাবাও কদিন থেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলছে।বাবা মায়ের সম্পর্কটা খুব ভালো লাগে।সুজয়কে বললাম মায়ের কথা।ও যেন একটু অন্যরকম। মায়ের কথাটা গুরুত্ব দিলনা । আমার ভালো লাগেনি ওর এই ব্যবহার।এরপর বেশ কিছু পাতায় রয়েছে মিঠির সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের কথা।মা মেয়ের মধ্যে যে একটা বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক সেটা বোঝা যায় ওর লেখায়।সুজয়ের সঙ্গে ওর ঝগড়া হয়ে গেছে।ছেলেটা খুব স্বার্থপর । ওর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না।এরপর ওর মায়ের অসুস্থতার কথা লেখা আছে।বাড়িতে ঝড় চলছে। ও বাবা মা কে যতটা পারছে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে।এই ভাবে ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলো। খুব আনন্দ সেদিন ওদের । বাবা তো ভীষণ খুশি ওর রেজাল্ট এ। ও যে ওর বাবার স্কুলেই পড়ে ।এরপর ওর জীবনের সব থেকে কষ্টের ঘটনাটা ঘটে। ওর মা পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। তার প্রায় একমাস পরে ও আবার লেখে...মা চলে গেছে একমাস হয়ে গেল।আমি খুব একা হয়ে গেছি। বাবার দিকে তাকানো যাচ্ছে না। মানুষটা যেন কেমন হয়ে গেছে। আমার তো এখং কলেজে যাওয়া আছে অনেকটা সময় কেটে যায় ওখানে। বাবা স্কুল যাচ্ছে না এখনো ।খুব চিন্তা হচ্চে বাবার জন্য।বাবা মেয়ের সংসার চলছে কোনোরকমে। কলেজে যাওয়ার পথে সুনন্দর সঙ্গে পরিচয় হয় মিঠির ।খুব helpful ছেলে টা । বেশ ভালো কথা বলে।এরপর আবার চোখ আটকে যায় সুকৃতীর... ১২/০৩/২০১২বাবা কাল বিয়ের কথা বলছিল কাকে যেন। মনে হলো কোনো বন্ধুর সঙ্গেই কথা বলছিল।আজ সুনন্দ কে সে কথা বললাম। ও বলল ভয় কি আমি তো আছি। কি জানি কি হবে আমার তো খুব ভয় করছে। মা এর পর একমাত্র সুনন্দর সঙ্গে সব কথা বলতে পারি । ও আমাকে বোঝে খুব ভালো।দেখ যাক কি হয়। নাহলে বাবা কে বলতেই হবে।জীবন বয়ে চলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে মানুষের মধ্যে।মিঠির মাতৃহারা একাকী জীবনেও সেরকম জুড়ে যায় সুনন্দ।বেশ কিছু পাতায় লেখা ওর আর সুনন্দর কাটান অনেক ভালো মুহূর্তের কথা। সেগুলো পড়ে সুকৃতী ভাবে বেশ ভালো একটা সঙ্গ পায় মিঠি।এরপর বেশ কিছুদিন কিছুই লেখেনি। তারপর হটাত লেখে২৫/১২/২০১২আজ একটু বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছি বলে সুনন্দর সঙ্গে বেরিয়ে ছিলাম। বেশ ভালই কাটলো দিনটা; কিন্তু সন্ধ্যে বেলা বাড়ি ফিরে দেখি বাবার বন্ধু তিমির কাকু এসে বসে আছেন।তিমির কাকুর ছেলের সঙ্গেই আমার বিয়ের কথা হচ্ছে । ওনাকে দেখে আমার তো ভুত দেখার অবস্থা।যাই হোক রাতে কাকু আমাদের বাড়িতে থাকলেন আজ।২৬/১২/২০১২না আজ আর থাকতে পারলাম না। বাবাকে সব বললাম। সুনন্দর কথা শুনে বাবা তো কোনো কথা না বলে ঘরে চলে গেল। আর রাতে খেতেও উঠল না। আমি একটু আগে সুনন্দকে ফোনে সব বললাম ও দুদিন পর দেখা করবে বলল। এদিকে আমার পড়া মাথায় উঠেছে।আবার দুদিন পরে লেখা... ২৮/১২/২০১২আজ সুনন্দর সঙ্গে দেখা করলাম। ও যেটা বলছে আমি মানতে পারছিনা। ও বলছে বিয়ে করে নিতে। তারপর বাবা ঠিক মেনে নেবে। কিন্তু আমি এভাবে কিছু করতে চাই না। এদিকে সেদিনের পর থেকে বাবাও আমার সঙ্গে কথা বলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। আমি তবু বাবাকে বললাম একবার কথা বলতে সুনন্দর সঙ্গে। কিন্তু বাবা কোনো সাড়া দিল না। আজ মায়ের অভাব টা বড্ড বেশী করে অনুভব করছি।এভাবে বেশ কিছু দিন ওর মনের উদ্বেগের কথা লেখা। বাবার সঙ্গে এইনিযে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। একা কি করবে ঠিক করতে পারছে না। সেরকম কোনো বন্ধুও ওর নেই যার সঙ্গে পরামর্শ করবে।তারপর প্রায় মাস খানেক পরে লেখা ১৩/০২/২০১৩আজ এক সপ্তাহ হলো আমি আর সুনন্দ বিয়ে করেছি । বাবা মেনে নেয়নি। আমরা ওর এক মাসির বাড়িতে আছি। ও এই মাসির কাছেই মানুষ হয়েছে। কারণ ছোটবেলায় ওর মা বাবা মারা যান। মাসি বেশ ভালো । আমাকে মায়ের মতই আগলে রাখেন।বেশ কাটছে দিন গুলো।কিন্তু বাবার জন্য খুব মন খারাপ হয়। সুনন্দ তখন বোঝায় আমাকে।এরপর বেশ কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে ওদের সুখের কথাই লেখা।আবার... ১৫/০৮/২০১৩আমরা কলকাতার একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে উঠে এলাম। সুনন্দর কাজের সুবিধার জন্য।মাসি এলেন না ওনার বাড়ি ছেড়ে।আমাদের দিন গুলো বেশ কাটছে। আমার ভিতর কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে মনে হয়। মাকে আমার খুব মনে পরে। মা থাকলে আজ বাবা ঠিক মেনে নিত। বাবা কে ফোনে চেষ্টা করেছি, বাবা ধরেনি।আমি কনফার্ম না হয়ে সুনন্দ কে কোনো কিছু বলতে পারছিনা। ঠিক এর দুদিন পরের লেখা পরে সুকৃতী চমকে ওঠে......মানুষের জীবনে কার সঙ্গে কিভাবে পরিচয় হয় আর কাকে কখন কিভাবে কাজে লেগে যায় কেউ মনে হয় জানে না।সুকৃতীর ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হলো।যেখান টা পড়তে গিয়ে চমকে গেলো সেই ঘটনা মনে পরে গেল ওর---- মাস দু তিন আগে একদিন খুব প্রয়োজনে একটি শপিং মলে যায় সুকৃতী ।একদম অন্য ভাবে কাস্টমার হিসাবেই যায়।কিন্তু অবাক হয় একটি অল্পবয়সি বিবাহিত মেয়ে ওর কাছে এসে যখন ওর সঙ্গে কথা বলতে চাইল এবং বলল ও সুকৃতীর কথা পড়েছে কাগজে । সুকৃতীর বেশ ভালো লাগল। ঐ বয়সী মেয়েরা সাধারণত সিনেমার জগতের খবর রাখে । এই মেয়েটা যেন একটু আলাদা । তারপর ওর ফোন নং চাইলে সেটা দেয় মেয়েটা কে।এই যে সেই মেয়ে বুঝতেই পারেনি।ডায়েরি তে সেদিনের কথা লেখা আছে সব।এরপর চমক আর চমকনা কোনো তারিখ নেইআজ লিখছি যদিও ঘটনা কাল ঘটেছে,জা আমাকে আহত করেছে মানসিক ভাবে ।কাল একটা কিট এনে টেস্ট করি এবং খুব আনন্দের সঙ্গে সুনন্দকে রাতে খবরটা যখন দিলাম ও তো রীতিমত বিরক্ত হলো। আমি আকাশ থেকে পড়লাম ওর ব্যবহার দেখে। ও চায় না আমি মা হই। যেভাবে ও সেটা বলল মনে হলো যেন সব ভুল আমার। তারপর অবাক হলাম বেশ অনেকটা রাতে কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলছিল,মনে হলো যেন এই ব্যাপারেই বলছে।পরের লেখার তারিখ ২০/০৮/২০১৩আজ আমার জীবনের এমন একটা দিন যা আমাকে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আজ মনে হচ্ছে এরকম ভুল কেউ মনে হয় করে না। আমার ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। আমি আমার বাবাকে কষ্ট দিয়েছি । আজ ঈশ্বর আমাকে সেই শাস্তি দিচ্ছে।।সুনন্দর মনে কি আছে বুঝতে পারছি বলে মনে হচ্ছে; কিন্তু কোনো প্রমান না পেলে আমি কাকে কি বলবো?? আজ আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। জোর করে অ্যাবরেশন (abortion) টা করিয়ে দিল।সুনন্দ যে কোনো অফিসে কাজ করে না সেটা আমি বুঝতেই পারিনি। ও যে জঘন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত বুঝলাম ওর রাতে ফোনে কথা শুনে। ও বুঝতেই পারেনি যে আমি জেগে আছি।তাই ওর দলের কাউকে বলছিল আর না মালটা কে অনেকদিন সহ্য করলাম এবার দিয়ে দিতে হবে। শালা ভেবেছিলাম বাপটা মেনে নিলে কিছু মালকড়ি ঝেড়ে তারপর মালটাকে বিক্রী করবো। ধুর বাপটা শালা এখনো ডাকল না। এবার তো একদম সংসার করে ফেললাম। আর না এবার মালটা কে পথে নামাতে হবে। এসব শোনার পর আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল। কিছুক্ষণ ভাবলাম কি করবো এখন? কি ভাবে বাঁচব এবার এর হাত থেকে? হটাত মনে পরলো সুকৃতী ম্যাডামের কথা। মেসেজ করলাম ওনাকে ।এবার শুরু হয়েছিল সুকৃতীর সঙ্গে মিঠির যোগযোগ। না বেশিদিন না কারণ সুনন্দর তাড়া ছিল। আর আজ সেটাই ঘটল।মিঠি সুকৃতীর কথা মতোই সুনন্দর কথা গুলো রেকর্ড করে পাঠিয়ে দেয় ।এগুলো কিছুই সুনন্দ জানতে পারে না। আজ যে সুনন্দ মিঠিকে ওদের মতো করে ব্যবহার করতে চলেছে মিঠি সেটা বুঝে সুকৃতী কে জানায় আর এটাও বলে যে দেরি হলে ওর জীবন সংশয়।আজ সুনন্দ বন্ধুর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার নাম করে মিঠিকে নিয়ে বের হয়। তারপর নিয়ে যায় বেশ কিছুটা দুরে একট বাগান বাড়িতে । সেখানে তিন চার জন ছিলো। বেরনোর ঠিক আগে সুযোগ বুঝে ফোনটা নিয়ে নিয়েছিল মিঠি। ওখানে গিয়ে সব বুঝতে পারে তারপর কোনো ভাবে সুকৃতীকে ফোনটা করেছিল।শেষ মুহুর্তে ওরা পৌঁছে সব কটাকে হাতে নাতে ধরে।সুকৃতী মেয়েটার সাহস দেখে সত্যি অবাক হয়েছিল।বারবার এই কাজে যে কতটা রিস্ক আছে বুঝিয়ে ছিলো । বলেছিল ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু মেয়েটার একটা কথা ওকে চুপ করিয়ে দিয়েছিল-- ম্যাডাম আর যেন কেউ আমার মতো ওদের কাছে বোকা না হয়। আমাকে পারতেই হবে।তখন সুকৃতী ওকে একটা জিনিস দেয় জুতোর নিচে পরে রাখতে বাইরে যাবার সময়। সেই মতো মিঠি সব করেছিল। কিন্তু ও যে সঙ্গে করে মারাত্বক বিষটা সঙ্গে নেবে ভাবেনি। সুকৃতীর পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে যায় রাস্তায় জ্যাম থাকায়।আর তাতেই মেয়েটা শেষে এই পদক্ষেপ নিয়ে নেয়।সুকৃতী নিজেকেই দায়ী করে কিছুটা।মিঠির ডায়েরির কথা শেষ। তারপরেও কিছু ঘটনা থেকে যায় যেটা না বললে ডায়েরিটা যে কি ভাবে কাজে আসলো সেটা না বললে সম্পূর্ণ হয়না।ডায়েরিটা পড়ে সুকৃতীর মনটা বড়োই উতলা হয়ে উঠলো। পড়া হয়ে গেলে আবার ফোন করে মিঠির বাবাকে।হ্যালো প্লিস ফোনটা কাটবেন না। কিছু কথা আছে আপনার সঙ্গে।ও বলুনআপনার মেয়ে মিঠি মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। ও শেষ মুহুর্তে আপনার কাছে ক্ষমা চাইবার জন্য ফোন করেছিল।ওদিকে কোনো সাড়া না পেয়েহ্যালো শুনতে পাচ্ছেন??......হ্যাঁ বলুন বলুন,কোথায় আছে ও? আমাকে ঠিকানা তা দিন।সুকৃতী তখন ওনাকে ঠিকানা দিলেও ওখানকার পুলিশ স্টেশনে ফোন করে ।সেখানে ওর চেনা একজন অফিসার আছে। তাকে বলে মিঠির বাবা কে পৌঁছে দিতে ।আর ওনাকে ঐ অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে বলে রেখে দেয়।এরপর আবার হাসপাতাল যায়, মিঠির খবর নিতে।তখনো জ্ঞান ফেরেনি।ডাক্তার বাহাত্তর ঘন্টা সময় দিয়েছে।সুকৃতী বারবার ভাবে আর একটু যদি আগে পৌঁছাতে পারত তাহলে আজ মেয়েটার এই অবস্থা হতো না।এবার ফোনে খবর নেয় ধরা পড়া দলের। এই দলটা কে বেশ কিছুদিন ধরেই ধরার চেষ্টা চলছিল কিন্তু কিছুতেই পারছিল না ।আজ মিঠির সাহসের কারণে সম্ভব হল।অথচ মেয়েটাকে রক্ষা করতে পারল না।এইসব ভাবছে হসপিটাল করিডোরে দাঁড়িয়ে এমন সময় উদ্বেগপুর্ণ কন্ঠ কানে এলো।মিঠির বাবা চলে এসেছেন।আমার মেয়েটা কেমন আছে? কোথায় সে? কি হয়েছে? বলতে বলতে এগিয়ে আসে সুকৃতীর দিকে।সুকৃতী বলে আপনি শান্ত হয়ে বসুন।ও এখন এখানেই আছে ।চিন্তা করবেন না ।সব ঠিক হয়ে যাবে।সুকৃতীর হাতটা ধরে কেঁদে ফেলেন । আমায় মেয়ের প্রাণ টা ফিরিয়ে দাও ।আর আমি কিছু চাই না মা।তুমি শুধু আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে দাও।তুমিও আমার মেয়ের মতো ।আমি খুব ভুল করেছি । আমি যে বাবা, আমার দরজা ওর জন্য চিরকাল খোলা সেটা বলতে ভুলে গেছিলাম।সুকৃতীর মনে পরে গেলো নিজের বাবার কথা।আজ বাবা নেই,কিন্তু বাবাও ঠিক এই কথাটাই বলতেন।আমাদের অভিভাবকদের কাজ ভালো মন্দ টা বলে দেওয়া।তারপর সন্তান কোনটা বেছে নেবে সেটা তার ব্যাপার। ভুল করে যদি ভুল পথে যায় ও আমাদের দরজা সব সময় খোলা সন্তানের জন্য।আমরা যে বাবা মা।ভুল বুঝে যদি ফিরে আসতে চায় তাকে সাদরে গ্রহণ করা বাবা মায়ের কাজ।সুকৃতীর চোখটা ভিজে গেলো ।পুলিশ হলেও মনটা তো আছে ।এরপর মিঠি সুস্থ হয়ে বাবার সঙ্গে বাড়ি গেলো আর সুনন্দ আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা জেলে।জামিন অযোগ্য ধারায় কেস দিয়েছে সুকৃতী।শাস্তি ওরা পাবেই।পরিশেষে বলি মিষ্টি কথায় ভুলতে নেই। ভুল ধরা পড়লে এইভাবে সাহসের সঙ্গে এগোতে হয়।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

নভেম্বর ০৭, ২০২১

ট্রেন্ডিং

দেশ

১৯৭১-এর যুদ্ধনায়ককে কেন ডাকা হল এসআইআর শুনানিতে? মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বুকে কাঁপন ধরানো প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশকে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর শুনানিতে তলব করা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধানকে কেন পরিচয় প্রমাণের জন্য নোটিস পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সোমবার মুখ খুলল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যাডমিরাল প্রকাশ। তাঁর পোস্ট সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাডমিরাল প্রকাশের জমা দেওয়া এনুমারেশন ফর্মে পূর্ববর্তী এসআইআর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল না। সেই কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।এলাকার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার মেডোরা এরমোমিল্লা ডিকোস্টা জানান, এনুমারেশন ফর্মে ভোটারের নাম, এপিক নম্বর, আত্মীয়ের নাম, বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ও নম্বর, অংশ নম্বর এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে বিএলও অ্যাপের মাধ্যমে নতুন ফর্মের সঙ্গে পুরনো ভোটার তালিকার স্বয়ংক্রিয় মিল করা সম্ভব হয়নি। শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলেই এই ধরনের ক্ষেত্রে শুনানির জন্য ডাকা হয় বলে জানান তিনি।১৯৭১ সালের যুদ্ধে বায়ুসেনার পাঞ্জাব স্কোয়াড্রনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিমান চালিয়েছিলেন অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বীর চক্র পান। প্রায় ৪০ বছর নৌসেনায় কাজ করেছেন তিনি। ফাইটার স্কোয়াড্রন, এয়ার স্টেশন, আইএনএস বিরাট-সহ মোট চারটি যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করেছেন। নৌসেনাপ্রধান থাকাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারও করেছিলেন তিনি।নোটিস পাওয়ার পর কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অ্যাডমিরাল প্রকাশ লেখেন, এসআইআর ফর্মে যদি প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে ফর্ম সংশোধন করা উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, বিএলও তিনবার তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন, তখনই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া যেত। তাঁর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর স্ত্রী যথাক্রমে ৮২ ও ৭৮ বছর বয়সে পৌঁছেছেন, অথচ তাঁদের বাড়ি থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তাও আবার আলাদা আলাদা দিনে।এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বিতর্ক তীব্র হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফের জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ তথ্য না থাকলে বিএলও অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যাপিং করতে পারে না। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
বিদেশ

ইরানে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ভারতীয়রা? অভিযোগ উড়িয়ে মুখ খুলল তেহরান

খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। সেই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে খবর, অন্তত ছজন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু ভারতীয় নয়, বিক্ষোভ দমনের নামে অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও নাকি আটক করছে ইরানের প্রশাসন। এই অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই সব দাবি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলল তেহরান।মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে যে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ছজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁরা জড়িত ছিলেন। তবে এই খবরকে কার্যত ভুয়ো বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি।এক্স হ্যান্ডেলে একটি সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করে ইরানের রাষ্ট্রদূত লেখেন, ইরান নিয়ে বিদেশি বহু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি সকলকে নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্র থেকে খবর জানার অনুরোধ জানান। যদিও বাস্তবে ইরান থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত বন্ধ। পাশাপাশি বিদেশে ফোন করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। ফলে মৃত ও গ্রেপ্তারির প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা না করা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কাও ঘনীভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে যে কোনও মুহূর্তে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা, এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর এই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।আমেরিকার সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও মার্কিন প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, ইরানে হামলার বিকল্প ভাবছেন তিনি। তেহরান-সহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিতে আঘাত হানার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে ‘চুরি-ডাকাতি’র তুলনা ইডির

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। একটি পিটিশন দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিজে। অন্যটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই রাজ্য সরকারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি দক্ষিণ প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।ইডির দায়ের করা পিটিশনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডি অভিযানের সময় অযাচিত প্রবেশ এবং একটি ফাইল নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, ইডির কাজে যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।এই মামলায় নিজেদের যুক্তি জোরদার করতে ইডি অতীতের তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।পিটিশনে প্রথম যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তা ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির। সারদা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁদের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৭ মে-র। নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআইয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি ইডির।এতেই শেষ নয়। কলকাতা হাইকোর্টে একটি শুনানি ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বার্তা পাঠিয়ে জমায়েত করেছিলেন।এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে কোনও তথ্য যেন ডিলিট বা ক্লোন না করা হয়, সেই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা পাচার তদন্তে যুক্ত কোনও কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেন কলকাতা বা বাংলার কোনও থানায় এফআইআর গ্রহণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। শেক্সপিয়ার সরণী থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়েছে। সবশেষে আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

ইডি হানার পরই রাজ্যে বিশেষ বাহিনী! RAF নামল কলকাতায়

ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যে পাঠানো হল সিআরপিএফের বিশেষ বাহিনী। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিস এবং আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তিনি কিছু নথি ও হার্ডডিস্ক সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই ঘটনার পরেই রাজ্যে আসে সিআরপিএফের এক কোম্পানি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF।সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে এই এক কোম্পানি RAF বাংলায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত বাহিনীটিকে রাজারহাটের সিআরপিএফ ক্যাম্পে রিজার্ভে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে, অথবা কোনও বড় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এই RAF বাহিনীকে কাজে লাগানো হবে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা হিংসার ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হতে পারে এই বিশেষ বাহিনীকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় RAF-এর কাছে রয়েছে বিশেষ গাড়ি ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, যা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।এদিকে আইপ্যাক-কাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতর। সিবিআই সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ওই কমপ্লেক্সে কোনও আধাসেনা মোতায়েন ছিল না। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর সিজিও কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতের আবহে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ? এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় শীর্ষ আদালত

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং দোলা সেনের করা মামলার ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।এদিন এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যে চলা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা করে মামলা করেছিলেন দুই তৃণমূল সাংসদ। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সাংসদদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।শুনানিতে কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক গাফিলতি ও অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন বহু ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠাচ্ছে, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, বাংলার বহু ভোটারকে অযৌক্তিক ভাবে চিহ্নিত করে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কমিশনের তরফে যে সব অমিল বা লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সির কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই বাস্তবে অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি।আইনজীবীর এই যুক্তি শুনে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশে কমিশনের উদ্দেশে নোটিস জারি করা হয়। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জবাব দিতে তাদের দুসপ্তাহ সময় প্রয়োজন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই সপ্তাহের মধ্যেই হলফনামা জমা দিতে হবে।আদালত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

আরএসি নেই, ওয়েটিং নেই! বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলের

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। তারপরই বাংলা থেকে গড়াতে চলেছে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের চাকা। হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলবে এই নতুন প্রিমিয়াম ট্রেন। আগামী ১৭ জানুয়ারি মালদহ স্টেশন থেকে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ট্রেন চালু হওয়ার খবরে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে।এবার বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন নিয়ে বড় আপডেট সামনে আনল রেল। জানানো হয়েছে, এই ট্রেনে কোনও আরএসি বা ওয়েটিং লিস্ট টিকিট থাকবে না। শুধুমাত্র কনফার্ম টিকিটেই যাত্রা করা যাবে। অর্থাৎ টিকিট কাটলে সিট বা বার্থ নিশ্চিত থাকবেই।রেল সূত্রে খবর, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ন্যূনতম ভাড়া ধরা হয়েছে ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য। রাজধানী এক্সপ্রেস বা শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনের ভাড়া সামান্য বেশি হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য থাকবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ট্রেনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ থাকবে। পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও আলাদা কোটা থাকছে। ডিউটি পাস কোটার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।ভাড়ার হিসাব অনুযায়ী, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ৩এসি শ্রেণিতে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ধরা হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। ২এসি শ্রেণিতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে ৩ টাকা ১০ পয়সা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রতি কিলোমিটারে ৩ টাকা ৮০ পয়সা।যেহেতু ন্যূনতম ৪০০ কিলোমিটারের ভাড়া নেওয়া হবে, তাই ৩এসি শ্রেণিতে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রার জন্য খরচ পড়বে ৯৬০ টাকা। ২এসি শ্রেণিতে এই ভাড়া হবে ১২৪০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পড়বে ১৫২০ টাকা। এই ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত জিএসটি যোগ হবে।হাওড়া থেকে গুয়াহাটির দূরত্ব প্রায় ১০০০ কিলোমিটার। এই পথে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ২৪০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৩১০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পড়বে প্রায় ৩৮০০ টাকা।রেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে ২০০০ কিলোমিটার দূরত্বের যাত্রায় ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ৪৮০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৬২০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ৭৬০০ টাকা। ৩০০০ কিলোমিটার দূরত্বের ক্ষেত্রে ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ৭২০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৯৩০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পৌঁছবে প্রায় ১১ হাজার ৪০০ টাকায়।বর্তমানে হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলা সরাইঘাট এক্সপ্রেসে সর্বোচ্চ ভাড়া ৩এসি শ্রেণিতে ১৪১০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ১৯৮৫ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ৩৩২০ টাকা।সময়সূচি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে গুয়াহাটিগামী বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে এবং পরের দিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে গুয়াহাটিতে পৌঁছবে। গুয়াহাটি থেকে এই ট্রেন ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ এবং পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছবে। সপ্তাহে ছয় দিন এই ট্রেন চলবে। বৃহস্পতিবার ট্রেনটি চলবে না।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
রাজ্য

কাজের কাগজেই ভোটাধিকার! উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিকদের জন্য বড় ছাড় নির্বাচন কমিশনের

উত্তরবঙ্গের চা এবং সিঙ্কোনা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছাড় ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে এবার কাজের নথিই যথেষ্ট বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে বহু বাগান শ্রমিকের ভোটাধিকার পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হল।রবিবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে সংশ্লিষ্ট চা বা সিঙ্কোনা বাগানে কাজ করার প্রমাণপত্র জমা দিলেই হবে। তবে তার সঙ্গে বৈধ বাসস্থানের প্রমাণপত্র যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এই দুটি নথি থাকলেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আর কোনও সমস্যা হবে না।এই বিশেষ ছাড় শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের সাতটি জেলার জন্য প্রযোজ্য। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কোচবিহার জেলার চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকরাই এসআইআর পর্বে এই সুবিধা পাবেন।প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রথমে মোট ১১টি নথি নির্ধারণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরে আরও দুটি নথি যুক্ত করা হয়আধার কার্ড এবং বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত নথি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গের বহু চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকের কাছেই এই নথিগুলি নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা বাগানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আধুনিক পরিচয়পত্র অনেকের কাছেই অধরা।এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের সাত জেলার জেলাশাসকরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানান, যাতে বাগানের কাজের নথিকেই ভোটার তালিকাভুক্তির প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অবশেষে সেই দাবিতে সায় দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এর পাশাপাশি, রাজ্যের প্রান্তিক এবং বিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষের কথা মাথায় রেখে এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়াতেও বড় পরিবর্তন এনেছে কমিশন। ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার বা বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষও সহজে এসআইআর শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা হাইকোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতি কে? জানুন বিচারপতি সুজয় পালের পুরো প্রোফাইল

কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন বিচারপতি সুজয় পাল। এতদিন তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের বৈঠকে তাঁর নামেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়।প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম অবসর নেওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি সুজয় পাল। তার আগে এই পদে ছিলেন বিচারপতি সৌমেন সেন। পরে তাঁকে মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হলে সেই পদে আসেন বিচারপতি সুজয় পাল।বিচারপতি সুজয় পালের জন্ম একটি প্রবাসী বাঙালি পরিবারে। তবে তাঁর বেড়ে ওঠা মধ্যপ্রদেশে। তিনি এলএস ঝা মডেল স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে রাণি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকেই আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর ২০১১ সালে তিনি জব্বলপুরে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে তাঁর ছেলে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করায় তাঁকে তেলঙ্গানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২৬ মে বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির অবসরের পর আর কোনও বাঙালি বিচারপতি এই পদে আসেননি। সেই পরিস্থিতি এখনও বদলাল না। নতুন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ফের এক নতুন অধ্যায় শুরু হল বলে মনে করছেন আইন মহলের একাংশ।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal