• ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩, শনিবার ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Diary

রাজ্য

বর্ধমানের হেরোইনের কারবারির ডেরায় ফের হানা এসটিএফের, উদ্ধার গোপন ডায়েরি

বর্ধমানের হেরোইনের কারবারির ডেরায় ফের বুধবার অভিযান চালালো এসটিএফ। গত ১০ জানুয়ারি স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) অভিযান চালিয়ে শহর বর্ধমানের উপকন্ঠে পাল্লা- শ্রীরামপুর এলাকায় নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য হেরোইন তৈরির কারখানার হদিশ পায়। অভিযানে উদ্ধার হয় ১৩ কেজি হেরোইন ও হেরোইন তৈরির উপকরণ সহ ২০ লক্ষাধিক টাকা এভং টাকা গোনার মেশিন। হেরোইন তৈরিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই দিনই এসটিএফ আধিকারিকরা বাবর মণ্ডল ও তাঁর ছেলে রাহুল মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। বর্ধমানের বাড়িতে বসে বাবর ও তাঁর ছেলে রাহুল হেরোইন কারবারের জাল দেশের যেখানে যেখানে ছড়িয়েছেন তার শিকড়ে পৌছতো চাইছেন এসটিএফ আধিকারিকরা। ধৃত দুজনকে হেফাজতে নিয়ে তারই উৎস সন্ধানে এদিন ফের বর্ধমানে অভিযানে চালান এফটিএফ আধিকারিক দল। একটি দল হানা দেয় বাবর মণ্ডলের গোপাল নগরের বাড়িতে। সেখানে বাবর মণ্ডলের স্ত্রী সাবিনা মণ্ডল ও ছোট ছেলে রাজ মণ্ডলকে নিয়ে এসটিএফ আধিকারিকরা বর্ধমানের বিবেকানন্দ কলেজ মোড় এহাকার বাড়িতে যায়। ঘন্টা খানেক ধরে বাবর মণ্ডলকে নিয়ে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায় এসটিএফ। তখনই বাড়িতে থেকে বহু মূল্যের বেশ কয়েকটি জায়গার দলিল উদ্ধার হয়। এছাড়াও একটি নীল রঙের ডাইরী উদ্ধার হয়েছে।এসটিএফ আধিকারিকদের দাবি, কোথায় কাদের কাদের হেরোইন সরবরাহ হত বর্ধমান থেকে তার তথ্য ওই ডাইরি থেকে পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি বাড়িতে থাকা একটি বিলাসবহুল দামী চারচাকা গাড়িটিও এদিন এসটিএফ সিজ করে নিয়ে যায়। সঙ্গে বর্ধমান থানার পুলিশও থাকে । এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেরোইন কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ৬ জন গ্রেফতার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উড়িষ্যা থেকে দুজন ও মনিপুর থেকে দুজনকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
নিবন্ধ

Diary of a young girl: মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)

ফোনটা পেয়ে আই পি এস অফিসার সুকৃতী রায় নিজেই গেলেন ঘটনাস্থলে,সঙ্গে দুজন অধস্তন সহকর্মীকে নিয়ে।বুঝলেন মেয়েটার শরীরে তখনও প্রাণ আছে।নিজের গাড়িতেই তুলে নিয়ে ছুটলেন হাসপাতাল রেখে গেলেন সহকর্মীদের।ঘটনাস্থলে চারজনকে ধরা হয়েছে।হাসপাতাল পৌঁছে মেয়েটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আবার গেলেন ঘটনাস্থলে যদি কিছু পাওয়া যায়,মেয়েটির পরিচয়,আপনজন কারো কোনো খোঁজ।ঘরে চারিদিক খূঁজে একটা সেল ফোন পেলেন ।কিন্তু কেনো জানিনা আরো কিছু পাওয়ার আশায় খূঁজে দেখ্তে লাগলেন । পেয়েও গেলেন একটা ডায়েরি।দুটো জিনিস নিয়ে ফেরেন নিজের অফিসে।বারবার মেয়েটার মুখটা মনে পড়ছে; কতই বা বয়স হবে কুড়ি একুশ।মুখে যেন একটা অব্যক্ত কষ্ট আর আতঙ্ক ছিলো মেশানো।ভাবতে....ভাবতে মেয়েটার ফোনটা বের করে অন করলেন। বাহ নামটা বেশ ভালো মিঠি।লাস্ট কয়েকবার বাবাকে ফোন করেছিল।বোধহয় ফোনটা রিসিভ হয়নি।কিন্তু কেনো? কে এই মেয়ে? কেনো এতবার বাবাকে ফোন করেছিল? কি বলতে চেয়েছিল?এইসব নানান প্রশ্ন আসছে মাথায়।নিজের ফোন থেকেই বাবার নং টা ডায়াল করলেন--দু তিন বার রিং হওয়ার পরহ্যালো,কে?আমি লালবাজার থেকে বলছি।লালবাজার? কে কেনো? গলাটা যেন কেঁপে গেল মনে হলো সুকৃতীরহ্যাঁ , আপনার মেয়ে মিঠি দাস?মিঠি? কে মিঠি? আমি কোনো মিঠিকে চিনিনা। বলে ফোনটা কেটে দিল।সুকৃতী অবাক হয়ে কিছুক্ষণ বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল; সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে।বেয়ারা কে ডেকে এক কাপ চা দিতে বলল।চা খেতে খেতে ডাযেরি টা খুলল...না রোজ লেখা নয়, হয়তো যে ঘটনা লিখে রাখতে মন হয়েছে সেটাই লিখে রেখেছে। মানে যে ঘটনা মিঠির মনে দাগ কেটেছে সেটা ও ওর লেখায় বন্দি করে রেখেছে।লেখা শুরু করেছে তখন ও ক্লাস নাইন। স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে নতুন নতুন জানা বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনার কথা লিখেছে।সুকৃতী পড়তে লাগল পাতা উল্টে, মিঠি নিজের প্রথম প্রেমের কথা লিখেছে।১২/০৮/২০০৯আমি এখন ক্লাস ইলেভেন এ পড়ি ।পড়ার বাইরে নাচ গান করতে আমার ভালো লাগে।স্কুলের স্বাধীনতা দিবসে একটা প্রগ্রাম হবে। সেইজন্য এখন রোজ রিহার্সাল চলছে। কদিন থেকেই খেয়াল করছিলাম ক্লাস টুয়েলভের সুজয় কিছু বলতে চাইছে ।আজ ও বলেই ফেলল। খারাপ না ছেলেটা। আমারও ভালই লাগে।যদিও আজ আমি কোনো উত্তর দিই নি।আবার ১২/০৮/২০০৯আজ সুজয় কে হ্যাঁ বলেছি।কিন্তু ভয় করছে খুব। মা তো আমাকে দেখেই বুঝবে তখন আমি মা কে কি বলবো। মা যে আমার মুখ দেখেই সব বুঝতে পারে ।আমার পড়া নষ্ট করলে হবে না। তাহলে মা কষ্ট পাবে।এরপর আবার বেশ কিছুদিন কিছুই লেখেনি । তারপর হঠাত্ লিখেছে মায়ের কি যেন হচ্ছে আমাকে ঠিক বলছে না। শরীরটা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বাবাও কদিন থেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলছে।বাবা মায়ের সম্পর্কটা খুব ভালো লাগে।সুজয়কে বললাম মায়ের কথা।ও যেন একটু অন্যরকম। মায়ের কথাটা গুরুত্ব দিলনা । আমার ভালো লাগেনি ওর এই ব্যবহার।এরপর বেশ কিছু পাতায় রয়েছে মিঠির সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের কথা।মা মেয়ের মধ্যে যে একটা বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক সেটা বোঝা যায় ওর লেখায়।সুজয়ের সঙ্গে ওর ঝগড়া হয়ে গেছে।ছেলেটা খুব স্বার্থপর । ওর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না।এরপর ওর মায়ের অসুস্থতার কথা লেখা আছে।বাড়িতে ঝড় চলছে। ও বাবা মা কে যতটা পারছে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে।এই ভাবে ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলো। খুব আনন্দ সেদিন ওদের । বাবা তো ভীষণ খুশি ওর রেজাল্ট এ। ও যে ওর বাবার স্কুলেই পড়ে ।এরপর ওর জীবনের সব থেকে কষ্টের ঘটনাটা ঘটে। ওর মা পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। তার প্রায় একমাস পরে ও আবার লেখে...মা চলে গেছে একমাস হয়ে গেল।আমি খুব একা হয়ে গেছি। বাবার দিকে তাকানো যাচ্ছে না। মানুষটা যেন কেমন হয়ে গেছে। আমার তো এখং কলেজে যাওয়া আছে অনেকটা সময় কেটে যায় ওখানে। বাবা স্কুল যাচ্ছে না এখনো ।খুব চিন্তা হচ্চে বাবার জন্য।বাবা মেয়ের সংসার চলছে কোনোরকমে। কলেজে যাওয়ার পথে সুনন্দর সঙ্গে পরিচয় হয় মিঠির ।খুব helpful ছেলে টা । বেশ ভালো কথা বলে।এরপর আবার চোখ আটকে যায় সুকৃতীর... ১২/০৩/২০১২বাবা কাল বিয়ের কথা বলছিল কাকে যেন। মনে হলো কোনো বন্ধুর সঙ্গেই কথা বলছিল।আজ সুনন্দ কে সে কথা বললাম। ও বলল ভয় কি আমি তো আছি। কি জানি কি হবে আমার তো খুব ভয় করছে। মা এর পর একমাত্র সুনন্দর সঙ্গে সব কথা বলতে পারি । ও আমাকে বোঝে খুব ভালো।দেখ যাক কি হয়। নাহলে বাবা কে বলতেই হবে।জীবন বয়ে চলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে মানুষের মধ্যে।মিঠির মাতৃহারা একাকী জীবনেও সেরকম জুড়ে যায় সুনন্দ।বেশ কিছু পাতায় লেখা ওর আর সুনন্দর কাটান অনেক ভালো মুহূর্তের কথা। সেগুলো পড়ে সুকৃতী ভাবে বেশ ভালো একটা সঙ্গ পায় মিঠি।এরপর বেশ কিছুদিন কিছুই লেখেনি। তারপর হটাত লেখে২৫/১২/২০১২আজ একটু বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছি বলে সুনন্দর সঙ্গে বেরিয়ে ছিলাম। বেশ ভালই কাটলো দিনটা; কিন্তু সন্ধ্যে বেলা বাড়ি ফিরে দেখি বাবার বন্ধু তিমির কাকু এসে বসে আছেন।তিমির কাকুর ছেলের সঙ্গেই আমার বিয়ের কথা হচ্ছে । ওনাকে দেখে আমার তো ভুত দেখার অবস্থা।যাই হোক রাতে কাকু আমাদের বাড়িতে থাকলেন আজ।২৬/১২/২০১২না আজ আর থাকতে পারলাম না। বাবাকে সব বললাম। সুনন্দর কথা শুনে বাবা তো কোনো কথা না বলে ঘরে চলে গেল। আর রাতে খেতেও উঠল না। আমি একটু আগে সুনন্দকে ফোনে সব বললাম ও দুদিন পর দেখা করবে বলল। এদিকে আমার পড়া মাথায় উঠেছে।আবার দুদিন পরে লেখা... ২৮/১২/২০১২আজ সুনন্দর সঙ্গে দেখা করলাম। ও যেটা বলছে আমি মানতে পারছিনা। ও বলছে বিয়ে করে নিতে। তারপর বাবা ঠিক মেনে নেবে। কিন্তু আমি এভাবে কিছু করতে চাই না। এদিকে সেদিনের পর থেকে বাবাও আমার সঙ্গে কথা বলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। আমি তবু বাবাকে বললাম একবার কথা বলতে সুনন্দর সঙ্গে। কিন্তু বাবা কোনো সাড়া দিল না। আজ মায়ের অভাব টা বড্ড বেশী করে অনুভব করছি।এভাবে বেশ কিছু দিন ওর মনের উদ্বেগের কথা লেখা। বাবার সঙ্গে এইনিযে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। একা কি করবে ঠিক করতে পারছে না। সেরকম কোনো বন্ধুও ওর নেই যার সঙ্গে পরামর্শ করবে।তারপর প্রায় মাস খানেক পরে লেখা ১৩/০২/২০১৩আজ এক সপ্তাহ হলো আমি আর সুনন্দ বিয়ে করেছি । বাবা মেনে নেয়নি। আমরা ওর এক মাসির বাড়িতে আছি। ও এই মাসির কাছেই মানুষ হয়েছে। কারণ ছোটবেলায় ওর মা বাবা মারা যান। মাসি বেশ ভালো । আমাকে মায়ের মতই আগলে রাখেন।বেশ কাটছে দিন গুলো।কিন্তু বাবার জন্য খুব মন খারাপ হয়। সুনন্দ তখন বোঝায় আমাকে।এরপর বেশ কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে ওদের সুখের কথাই লেখা।আবার... ১৫/০৮/২০১৩আমরা কলকাতার একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে উঠে এলাম। সুনন্দর কাজের সুবিধার জন্য।মাসি এলেন না ওনার বাড়ি ছেড়ে।আমাদের দিন গুলো বেশ কাটছে। আমার ভিতর কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে মনে হয়। মাকে আমার খুব মনে পরে। মা থাকলে আজ বাবা ঠিক মেনে নিত। বাবা কে ফোনে চেষ্টা করেছি, বাবা ধরেনি।আমি কনফার্ম না হয়ে সুনন্দ কে কোনো কিছু বলতে পারছিনা। ঠিক এর দুদিন পরের লেখা পরে সুকৃতী চমকে ওঠে......মানুষের জীবনে কার সঙ্গে কিভাবে পরিচয় হয় আর কাকে কখন কিভাবে কাজে লেগে যায় কেউ মনে হয় জানে না।সুকৃতীর ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হলো।যেখান টা পড়তে গিয়ে চমকে গেলো সেই ঘটনা মনে পরে গেল ওর---- মাস দু তিন আগে একদিন খুব প্রয়োজনে একটি শপিং মলে যায় সুকৃতী ।একদম অন্য ভাবে কাস্টমার হিসাবেই যায়।কিন্তু অবাক হয় একটি অল্পবয়সি বিবাহিত মেয়ে ওর কাছে এসে যখন ওর সঙ্গে কথা বলতে চাইল এবং বলল ও সুকৃতীর কথা পড়েছে কাগজে । সুকৃতীর বেশ ভালো লাগল। ঐ বয়সী মেয়েরা সাধারণত সিনেমার জগতের খবর রাখে । এই মেয়েটা যেন একটু আলাদা । তারপর ওর ফোন নং চাইলে সেটা দেয় মেয়েটা কে।এই যে সেই মেয়ে বুঝতেই পারেনি।ডায়েরি তে সেদিনের কথা লেখা আছে সব।এরপর চমক আর চমকনা কোনো তারিখ নেইআজ লিখছি যদিও ঘটনা কাল ঘটেছে,জা আমাকে আহত করেছে মানসিক ভাবে ।কাল একটা কিট এনে টেস্ট করি এবং খুব আনন্দের সঙ্গে সুনন্দকে রাতে খবরটা যখন দিলাম ও তো রীতিমত বিরক্ত হলো। আমি আকাশ থেকে পড়লাম ওর ব্যবহার দেখে। ও চায় না আমি মা হই। যেভাবে ও সেটা বলল মনে হলো যেন সব ভুল আমার। তারপর অবাক হলাম বেশ অনেকটা রাতে কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলছিল,মনে হলো যেন এই ব্যাপারেই বলছে।পরের লেখার তারিখ ২০/০৮/২০১৩আজ আমার জীবনের এমন একটা দিন যা আমাকে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আজ মনে হচ্ছে এরকম ভুল কেউ মনে হয় করে না। আমার ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। আমি আমার বাবাকে কষ্ট দিয়েছি । আজ ঈশ্বর আমাকে সেই শাস্তি দিচ্ছে।।সুনন্দর মনে কি আছে বুঝতে পারছি বলে মনে হচ্ছে; কিন্তু কোনো প্রমান না পেলে আমি কাকে কি বলবো?? আজ আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। জোর করে অ্যাবরেশন (abortion) টা করিয়ে দিল।সুনন্দ যে কোনো অফিসে কাজ করে না সেটা আমি বুঝতেই পারিনি। ও যে জঘন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত বুঝলাম ওর রাতে ফোনে কথা শুনে। ও বুঝতেই পারেনি যে আমি জেগে আছি।তাই ওর দলের কাউকে বলছিল আর না মালটা কে অনেকদিন সহ্য করলাম এবার দিয়ে দিতে হবে। শালা ভেবেছিলাম বাপটা মেনে নিলে কিছু মালকড়ি ঝেড়ে তারপর মালটাকে বিক্রী করবো। ধুর বাপটা শালা এখনো ডাকল না। এবার তো একদম সংসার করে ফেললাম। আর না এবার মালটা কে পথে নামাতে হবে। এসব শোনার পর আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল। কিছুক্ষণ ভাবলাম কি করবো এখন? কি ভাবে বাঁচব এবার এর হাত থেকে? হটাত মনে পরলো সুকৃতী ম্যাডামের কথা। মেসেজ করলাম ওনাকে ।এবার শুরু হয়েছিল সুকৃতীর সঙ্গে মিঠির যোগযোগ। না বেশিদিন না কারণ সুনন্দর তাড়া ছিল। আর আজ সেটাই ঘটল।মিঠি সুকৃতীর কথা মতোই সুনন্দর কথা গুলো রেকর্ড করে পাঠিয়ে দেয় ।এগুলো কিছুই সুনন্দ জানতে পারে না। আজ যে সুনন্দ মিঠিকে ওদের মতো করে ব্যবহার করতে চলেছে মিঠি সেটা বুঝে সুকৃতী কে জানায় আর এটাও বলে যে দেরি হলে ওর জীবন সংশয়।আজ সুনন্দ বন্ধুর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার নাম করে মিঠিকে নিয়ে বের হয়। তারপর নিয়ে যায় বেশ কিছুটা দুরে একট বাগান বাড়িতে । সেখানে তিন চার জন ছিলো। বেরনোর ঠিক আগে সুযোগ বুঝে ফোনটা নিয়ে নিয়েছিল মিঠি। ওখানে গিয়ে সব বুঝতে পারে তারপর কোনো ভাবে সুকৃতীকে ফোনটা করেছিল।শেষ মুহুর্তে ওরা পৌঁছে সব কটাকে হাতে নাতে ধরে।সুকৃতী মেয়েটার সাহস দেখে সত্যি অবাক হয়েছিল।বারবার এই কাজে যে কতটা রিস্ক আছে বুঝিয়ে ছিলো । বলেছিল ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু মেয়েটার একটা কথা ওকে চুপ করিয়ে দিয়েছিল-- ম্যাডাম আর যেন কেউ আমার মতো ওদের কাছে বোকা না হয়। আমাকে পারতেই হবে।তখন সুকৃতী ওকে একটা জিনিস দেয় জুতোর নিচে পরে রাখতে বাইরে যাবার সময়। সেই মতো মিঠি সব করেছিল। কিন্তু ও যে সঙ্গে করে মারাত্বক বিষটা সঙ্গে নেবে ভাবেনি। সুকৃতীর পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে যায় রাস্তায় জ্যাম থাকায়।আর তাতেই মেয়েটা শেষে এই পদক্ষেপ নিয়ে নেয়।সুকৃতী নিজেকেই দায়ী করে কিছুটা।মিঠির ডায়েরির কথা শেষ। তারপরেও কিছু ঘটনা থেকে যায় যেটা না বললে ডায়েরিটা যে কি ভাবে কাজে আসলো সেটা না বললে সম্পূর্ণ হয়না।ডায়েরিটা পড়ে সুকৃতীর মনটা বড়োই উতলা হয়ে উঠলো। পড়া হয়ে গেলে আবার ফোন করে মিঠির বাবাকে।হ্যালো প্লিস ফোনটা কাটবেন না। কিছু কথা আছে আপনার সঙ্গে।ও বলুনআপনার মেয়ে মিঠি মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। ও শেষ মুহুর্তে আপনার কাছে ক্ষমা চাইবার জন্য ফোন করেছিল।ওদিকে কোনো সাড়া না পেয়েহ্যালো শুনতে পাচ্ছেন??......হ্যাঁ বলুন বলুন,কোথায় আছে ও? আমাকে ঠিকানা তা দিন।সুকৃতী তখন ওনাকে ঠিকানা দিলেও ওখানকার পুলিশ স্টেশনে ফোন করে ।সেখানে ওর চেনা একজন অফিসার আছে। তাকে বলে মিঠির বাবা কে পৌঁছে দিতে ।আর ওনাকে ঐ অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে বলে রেখে দেয়।এরপর আবার হাসপাতাল যায়, মিঠির খবর নিতে।তখনো জ্ঞান ফেরেনি।ডাক্তার বাহাত্তর ঘন্টা সময় দিয়েছে।সুকৃতী বারবার ভাবে আর একটু যদি আগে পৌঁছাতে পারত তাহলে আজ মেয়েটার এই অবস্থা হতো না।এবার ফোনে খবর নেয় ধরা পড়া দলের। এই দলটা কে বেশ কিছুদিন ধরেই ধরার চেষ্টা চলছিল কিন্তু কিছুতেই পারছিল না ।আজ মিঠির সাহসের কারণে সম্ভব হল।অথচ মেয়েটাকে রক্ষা করতে পারল না।এইসব ভাবছে হসপিটাল করিডোরে দাঁড়িয়ে এমন সময় উদ্বেগপুর্ণ কন্ঠ কানে এলো।মিঠির বাবা চলে এসেছেন।আমার মেয়েটা কেমন আছে? কোথায় সে? কি হয়েছে? বলতে বলতে এগিয়ে আসে সুকৃতীর দিকে।সুকৃতী বলে আপনি শান্ত হয়ে বসুন।ও এখন এখানেই আছে ।চিন্তা করবেন না ।সব ঠিক হয়ে যাবে।সুকৃতীর হাতটা ধরে কেঁদে ফেলেন । আমায় মেয়ের প্রাণ টা ফিরিয়ে দাও ।আর আমি কিছু চাই না মা।তুমি শুধু আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে দাও।তুমিও আমার মেয়ের মতো ।আমি খুব ভুল করেছি । আমি যে বাবা, আমার দরজা ওর জন্য চিরকাল খোলা সেটা বলতে ভুলে গেছিলাম।সুকৃতীর মনে পরে গেলো নিজের বাবার কথা।আজ বাবা নেই,কিন্তু বাবাও ঠিক এই কথাটাই বলতেন।আমাদের অভিভাবকদের কাজ ভালো মন্দ টা বলে দেওয়া।তারপর সন্তান কোনটা বেছে নেবে সেটা তার ব্যাপার। ভুল করে যদি ভুল পথে যায় ও আমাদের দরজা সব সময় খোলা সন্তানের জন্য।আমরা যে বাবা মা।ভুল বুঝে যদি ফিরে আসতে চায় তাকে সাদরে গ্রহণ করা বাবা মায়ের কাজ।সুকৃতীর চোখটা ভিজে গেলো ।পুলিশ হলেও মনটা তো আছে ।এরপর মিঠি সুস্থ হয়ে বাবার সঙ্গে বাড়ি গেলো আর সুনন্দ আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা জেলে।জামিন অযোগ্য ধারায় কেস দিয়েছে সুকৃতী।শাস্তি ওরা পাবেই।পরিশেষে বলি মিষ্টি কথায় ভুলতে নেই। ভুল ধরা পড়লে এইভাবে সাহসের সঙ্গে এগোতে হয়।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

নভেম্বর ০৭, ২০২১

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

বিলেতে ফের ‘দাদাগিরি’! ব্যাট হাতে মাঠে সৌরভ, সঙ্গী ব্রায়ান লারা—বাকিংহাম প্যালেসে বিশেষ চ্যারিটি ম্যাচ

কলকাতা: ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর। ফের ব্যাট হাতে ক্রিকেটের বাইশ গজে দেখা যেতে চলেছে মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক নয়, একটি বিশেষ চ্যারিটি ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নিতে চলেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। আর সেই ম্যাচের মঞ্চও যে কোনও সাধারণ ক্রিকেট মাঠ নয়লন্ডনের ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্যালেস।জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর আগেই ইংল্যান্ডের মাটিতে ফের ব্যাট হাতে দেখা যেতে পারে সৌরভকে। এই বিশেষ ম্যাচে তাঁর সঙ্গে মাঠে নামার কথা রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটার ব্রায়ান লারারও। ফলে দুই ক্রিকেট কিংবদন্তিকে একই ম্যাচে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনায় ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে তৈরি হয়েছে যথেষ্ট আগ্রহ।প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথরিনের আমন্ত্রণেই এই বিশেষ চ্যারিটি ম্যাচে অংশ নিতে লন্ডনে যাচ্ছেন সৌরভ। তাঁদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্রিকেটের মাধ্যমে একটি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বার্তা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।সূত্রের খবর, ম্যাচে খেলার জন্য সৌরভের সম্মতি পাওয়ার পরই প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলসের কমিউনিকেশন সেক্রেটারি লি থম্পসন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সৌরভের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচিত মুখ এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ায় অনুষ্ঠানের গুরুত্বও আরও বেড়েছে।তবে ম্যাচটি ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, সৌরভ ও লারা ছাড়াও আর কোন কোন প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটারকে মাঠে দেখা যাবে, কিংবা ম্যাচের ফরম্যাটই বা কী হবেএই মুহূর্তে তার কোনওটাই চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ক্রিকেটজীবনে ইংল্যান্ডের মাটিতেই তাঁর একাধিক স্মরণীয় অধ্যায় তৈরি হয়েছে। এবার সেই বিলেতেই ফের ব্যাট হাতে তাঁকে দেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নস্টালজিয়ায় ভাসছেন তাঁর অনুরাগীরা।আর প্রতিপক্ষ বা সতীর্থদের তালিকায় যদি ব্রায়ান লারার মতো কিংবদন্তির নাম থাকে, তাহলে সেই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যে আরও কয়েক গুণ বাড়বে, তা বলাই যায়। এখন শুধু অপেক্ষা আগামী সপ্তাহের ঘোষণারকবে, কীভাবে এবং কার কার সঙ্গে ফের ক্রিকেটের মঞ্চে দেখা যাবে দাদাকে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
বিদেশ

একদিকে বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে আকাশপথের জট! রূপপুরের ইউরেনিয়াম নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের?

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমান বাংলাদেশের পথে রওনা দিয়েছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার পরে ফের শুরু হয়েছে এই জ্বালানি সরবরাহ। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবারই বিশেষ বিমানটি ঢাকায় পৌঁছনোর কথা। এরপর কড়া নিরাপত্তায় ইউরেনিয়াম পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হবে।এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম নিয়ে আসার কথা ছিল একটি বিশেষ কার্গো বিমানের। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় সেই যাত্রা পিছিয়ে যায়। বাংলাদেশের এক মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়ে বিমানটি আসতে পারেনি। পরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিমান চলাচলের অনুমতি এবং রুট সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার সঙ্গে যুক্ত।জটিলতা কাটার পরে রাশিয়া বিকল্প পথ ব্যবহার করে জ্বালানি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। রুশ পরমাণু সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একাধিক বিশেষ কার্গো বিমানে ধাপে ধাপে এই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছবে।বাংলাদেশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট নয়টি চালানে রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছনোর কথা। এর মধ্যে সাতটি চালান দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এবং দুটি চালান প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার হবে। রসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা দুই হাজার চারশো মেগাওয়াট। রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরি এই প্রকল্প বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ধাপে ধাপে পৌঁছনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।পাকিস্তানের আকাশসীমা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়ে বাংলাদেশে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত। শেষ পর্যন্ত জট কাটিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুরের জন্য জ্বালানি পাঠানো শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়ার পথও পরিষ্কার হয়েছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
রাজ্য

গান্ধী জয়ন্তীতেই বিরাটিতে তাণ্ডব! বামেদের মঞ্চ ভাঙচুর, ইটবৃষ্টি, আক্রান্ত দীপ্সিতা—কাঠগড়ায় বিজেপি

গান্ধী জয়ন্তীর দিন বামেদের সভাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি। শুক্রবার সন্ধ্যায় বণিক মোড়ে সিপিএমের সভা চলাকালীন মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ছিঁড়ে দেওয়া হয় ব্যানার ও ফ্লেক্স। এমনকি গান্ধীর ছবিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় কয়েক জন বাম কর্মী আহত হন বলে জানা গিয়েছে। এক কর্মীর চোখেও গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ।সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপির লোকজনই এই হামলা চালিয়েছে। তাঁদের দাবি, সভা চলাকালীন আচমকা কয়েক জন সেখানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। মঞ্চ, চেয়ার ও অন্যান্য সামগ্রী ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীপ্সিতা ধরকে লক্ষ্য করে ইট ও চেয়ার ছোড়ার অভিযোগও তুলেছে সিপিএম।শুক্রবার বিরাটির বণিক মোড়ে গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে বামেদের সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য রাখার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই অশান্তি শুরু হয়। সভাস্থলে ভাঙচুরের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।সিপিএমের আরও অভিযোগ, পুলিশের সামনেই ভাঙচুর চললেও সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বাম কর্মীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতিও তৈরি হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এই ঘটনার পর সরব হন সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে সভায় গণ্ডগোল করা হয়েছে এবং বাম কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মহিলা কর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। এক কর্মীর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দীপ্সিতা বলেন, মঞ্চ ভেঙে দিলেও ওই জায়গাতেই ফের সভা হবে।তবে সিপিএমের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নন। তাঁর দাবি, সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। ফলে বিরাটির এই ঘটনায় হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।গান্ধী জয়ন্তীর দিনে বিরাটির বণিক মোড়ে বামেদের সভা ঘিরে এই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন তদন্তের দিকেই নজর। মঞ্চ ভাঙচুর, কর্মীদের আহত হওয়ার অভিযোগ এবং পুলিশের ভূমিকাসব মিলিয়ে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
রাজ্য

"২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙেনি! রিপোর্ট রয়েছে!" নন্দীগ্রাম থেকে বিস্ফোরক দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় পায়ে চোট নিয়ে হুইলচেয়ারে বসেই প্রচার চালিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল, ভাঙা পায়ে খেলা হবে স্লোগান। সেই ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর নন্দীগ্রাম থেকেই মমতার সেই চোট নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।শুভেন্দুর দাবি, ২০২১ সালের ওই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও ফ্র্যাকচার হয়নি। তাঁর কথায়, সামান্য চোট লেগেছিল। পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে তিনি প্রচার করেছিলেন বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। শুধু তাই নয়, তাঁর কাছে এই দাবির সমর্থনে নথি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে সেই নথি প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জও দিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। বিরুলিয়া বাজারের সভা থেকেই ২০২১ সালের সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, গাড়ির দরজা একটি লোহার বিমে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসে মমতার পায়ে লাগে। তাঁর মতে, সেখান থেকেই চোট পেয়েছিলেন মমতা। তবে পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছিল বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তা ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু।শুভেন্দু আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, হাসপাতালের নথিতে মমতার পায়ে ফ্র্যাকচার না থাকার কথা লেখা রয়েছে। সেই নথি তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। প্রয়োজন হলে চ্যালেঞ্জের মুখে সেই কাগজ দেখিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।তবে এই বিষয়টি নিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্যকে তাঁর রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০২১ সালের ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোট নিয়ে সে সময় নানা দাবি ও পাল্টা দাবি সামনে এসেছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়া রিপোর্টেও ওই ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়ার কথা উঠে এসেছিল।এ দিনের সভায় নিজের বিধায়ক পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন শুভেন্দু। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। পরে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই আসনেই আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনে শুভেন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন।শুক্রবারের সভায় শুভেন্দু বলেন, ভবানীপুরের আসন তিনি ছাড়েননি, কারণ সেখানে মমতা ফের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেতেন বলে তাঁর দাবি। নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভবিষ্যতেও থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।এর পরেই দুর্নীতি প্রসঙ্গেও ফের আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন শুভেন্দু। সুমিত রায়-সহ কয়েক জনের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বড় চোরও জেলে যাবে। তবে এই মন্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম করেননি তিনি। ফলে বড় চোর বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই সভা থেকে ২০২১ সালের পায়ের চোট এবং দুর্নীতিদুই পুরনো প্রসঙ্গ সামনে এনে শুভেন্দুর মন্তব্য ঘিরে তাই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে আটক অতিশী-সৌরভরা, মুম্বইয়ে শাবানা আজমি! জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কী হচ্ছে দেশজুড়ে?

দিল্লি ও মুম্বইদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরে একই দিনে জোরালো বিক্ষোভ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি-সহ একাধিক সংগঠন। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে পাঁচশোর বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। অন্য দিকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা জেল ভরো আন্দোলনেও জড়ো হন বহু মানুষ।দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এই কর্মসূচিতে আম আদমি পার্টির নেত্রী অতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ এবং সঞ্জয় সিং-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা অংশ নেন। তাঁদেরও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।বিক্ষোভের আগে নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। অনুমতি ছাড়া জমায়েত, মিছিল ও বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল।অন্য দিকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে জেল ভরো আন্দোলন হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং তালিকায় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।অভিজিৎ দীপকের দাবি, আন্দোলন থামবে না যতক্ষণ না তাঁদের দাবি মানা হচ্ছে। তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসকেও আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করার চ্যালেঞ্জ জানান। পুলিশ অবশ্য শিবাজি পার্কে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে।এই আন্দোলনে যোগ দেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি। পরে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এবং গায়ক বিশাল দাদলানিকেও মুম্বইয়ের কর্মসূচিতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের আন্দোলন আরও নজর কেড়েছে।দিল্লি ও মুম্বইয়ের এই দুই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এক দিকে দিল্লিতে পুলিশের ধরপাকড়, অন্য দিকে মুম্বইয়ে জেল ভরো আন্দোলনএকই দিনে দুই শহরের এই ছবি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
রাজ্য

নাম নিলেন না শুভেন্দু, তবু ‘বড় চোর’ নিয়ে কেন এত জল্পনা? নন্দীগ্রাম থেকে বড় বার্তা

বড় চোরও জেলে যাবে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের প্রচারসভা থেকে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তিনি। সুমিত রায়ের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ তোলার পরই বড় চোর নিয়ে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।প্রচারসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সুমিত রায়-সহ সব চোর জেলে গিয়েছে। এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, বড় চোর কবে যাবে? তাঁর দাবি, বড় চোরও জেলে যাবে। তবে এই মন্তব্যের সময় তিনি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নেননি। ফলে কাকে ইঙ্গিত করে তিনি এই কথা বলেছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।নন্দীগ্রামের এই প্রচারসভায় শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, দলটির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দুই কেন্দ্রেই জয় পাওয়ার পর তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে ফের উপনির্বাচন হচ্ছে। আগামী ৬ অক্টোবর ভোট এবং ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা হওয়ার কথা।শুভেন্দুর বড় চোর মন্তব্যের পর বিরোধী শিবির থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ধরনের মন্তব্যকে নির্বাচনী বক্তব্য বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত।অন্য দিকে কুণাল ঘোষও শুভেন্দুর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মদন মিত্র আবার পাল্টা মন্তব্য করে বলেছেন, শুভেন্দু কাকে উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছেন, তা সামনে আসতে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে করা মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ছে।তবে বড় চোর বলতে শুভেন্দু অধিকারী ঠিক কাকে বোঝাতে চেয়েছেন, তা তিনি প্রকাশ্যে জানাননি। ফলে নন্দীগ্রামের প্রচারসভা থেকে তাঁর এই মন্তব্য আপাতত জল্পনার বিষয় হয়েই থাকছে। উপনির্বাচনের আগে এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
রাজ্য

বক্সায় আজ বাঘিনির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন! কখন ছাড়া হবে, সামনে এল পুরো আয়োজন

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শুক্রবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ছাড়া হবে বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা তিন বছরের বাঘিনীকে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তাকে বিশেষ এনক্লোজার থেকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।বাঘিনীকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বক্সায়। জঙ্গলের নির্দিষ্ট এলাকায় তাকে ছাড়ার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। বক্সায় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডেও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। সেখানে জায়ান্ট পর্দায় বাঘিনীকে জঙ্গলে ছাড়ার দৃশ্য সরাসরি দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।তবে মুক্তির আগে বাঘিনীকে নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। রেডিয়ো কলার নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে ফের ঘুমপাড়ানি ওষুধ দিয়ে অচেতন করা হয়। এরপর রেডিয়ো কলার ঠিক করে দেওয়া হয়। বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বাঘিনী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও জানিয়েছেন, শুক্রবার বাঘিনীকে কোনও রকম চাপ দেওয়া হবে না। এনক্লোজারের দরজা খুলে রাখা হবে। নিজের ইচ্ছেমতো সে জঙ্গলে বেরিয়ে যাবে। এই পদ্ধতিতে নতুন পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে বাঘিনী।বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে বাঘিনীটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় বক্সায় আনা হয়েছে। বাঘের সংখ্যা বাড়ানো এবং বক্সার জঙ্গলে বাঘের স্থায়ী আবাস গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাঘিনীটির গতিবিধি ও শারীরিক অবস্থার উপর রেডিয়ো কলারের মাধ্যমে নজর রাখা হবে।বৃহস্পতিবারই বক্সায় পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে বন্যপ্রাণ পর্যটনেরও প্রসার ঘটতে পারে। সুন্দরবনের পাশাপাশি বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পেও বাঘকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা বাড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও-সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে মন্ত্রী ও প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হবে বড় অনুষ্ঠান। সেখান থেকেই জায়ান্ট পর্দায় দেখা যাবে বক্সার জঙ্গলে বাঘিনীকে মুক্ত করার মুহূর্ত।বহু বছর পর বক্সার জঙ্গলে বাঘ ফেরানোর এই উদ্যোগকে ঘিরে তাই উত্তরবঙ্গে উৎসাহ তুঙ্গে। বিহার থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বক্সায় পৌঁছনোর পর আজ সেই বাঘিনী প্রথম বার নিজের নতুন জঙ্গলে পা রাখবে। এখন নজর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকেই।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

পারভিনের চার বছরের অপেক্ষার অবসান! চিনা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা

তিরন্দাজির পর বক্সিং রিংয়েও ভারতের জয়জয়কার। এশিয়ান গেমসে একের পর এক সোনা আসছে ভারতীয় বক্সারদের হাত ধরে। শুক্রবার সকালে লভলিনা বরগোহাঁই সোনা জেতার পর এ বার সেই তালিকায় যোগ হল পারভিন হুডার নাম। চিনা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে মহিলাদের ৬৫ কেজি বিভাগে সোনা জিতলেন তিনি।পারভিনের এই জয় আরও বিশেষ। একই এশিয়ান গেমসে প্রথম বার ভারতের দুই মহিলা বক্সার সোনা জিতলেন। লভলিনার পর পারভিনও সোনার পদক জেতায় ভারতীয় বক্সিংয়ে তৈরি হল নতুন নজির।তবে পারভিনের এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। কয়েক বছর আগে এশিয়ান গেমসেই পদক জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু ডোপ পরীক্ষার ফলের কারণে সেই পদক কেড়ে নেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর তাঁর কেরিয়ারে বড় ধাক্কা আসে। প্যারিস অলিম্পিকেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।এর পর দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে তৈরি করেছেন পারভিন। প্রচারের আড়ালে থেকে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়েও সব কিছু তাঁর পক্ষে যায়নি। কমনওয়েলথ গেমসে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে পদক থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল তাঁকে।তবে সেই সব হতাশা পিছনে ফেলে শুক্রবার বক্সিং রিংয়ে নামেন পারভিন। শুরু থেকেই চিনা প্রতিপক্ষ চেন নিয়েন চিনের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে জিতে সোনা নিশ্চিত করেন ভারতীয় বক্সার।পারভিনের এই সোনা তাই শুধু একটি পদক নয়, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং কঠিন প্রত্যাবর্তনেরও ফল। যে প্রতিযোগিতায় এক সময় পদক জিতেও তা হারাতে হয়েছিল তাঁকে, সেই মঞ্চেই আবার সোনার পদক গলায় তুলে নিজের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখলেন পারভিন।এশিয়ান গেমসের ত্রয়োদশ দিনে ভারতীয় দলও একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে। লভলিনা এবং পারভিনের সোনার পর বক্সিংয়ে ভারতের দাপট আরও স্পষ্ট হল।

অক্টোবর ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal