• ৯ কার্তিক ১৪৩৩, বৃহস্পতি ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Defeat

রাজ্য

কাটোয়া বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে পর্যদুস্ত তৃণমূল সমর্থিত জোট, ব্যাপক জয় বিরোধীদের

কাটোয়া আদালতে বার অ্যাসোসিয়েশনের ভোটে পরাজিত হলেন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা। পুরো গোহারা হেরে গিয়েছে। এই নির্বাচনে বাজিমাত করেছে শাসকদল বিরোধী জোটের প্রার্থীরাই। জানা গিয়েছে, শুক্রবার এই নির্বাচনে মূল দুই প্রতিপক্ষ ছিল তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত অ্যাডভোকেট ডেভেলপমেন্ট কমিটি বনাম আইনজীবী কল্যানকারী জোট। টান টান উত্তেজনায় অনেক রাত পর্যন্ত ভোটগণনা হয়।মোট পাঁচটি পদের নির্বাচন ছিল। কাটোয়া বার আ্যসোসিয়েশনের এই নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬৮ জন। তার মধ্যে শুক্রবার ভোট দিয়েছেন ১৬৪ জন। বাকি ৪ জন ভোট দেননি। ১৬৪ টি ভোটের মধ্যে দুটি পোষ্টাল ব্যালটে ভোট।সভাপতি, সহ সভাপতি, সম্পাদক, সহ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ এই পাঁচটি পদে নির্বাচনের জন্য ভোট হয়। দুপক্ষের মোট ১০ জন প্রার্থী ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত জোটের প্রার্থী ছিলেন সভাপতি- শ্রীধর বন্দ্যোপাধ্যায়, সহ সভাপতি পদে উদয় মুখোপাধ্যায়, সম্পাদক পদে ভোটে লড়েন দেবাশীষ মণ্ডল, সহ সম্পাদক পদে ইমরান কাসেম এবং কোষাধ্যক্ষ পদে ছিলেন পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়।অপরদিকে আইনজীবী কল্যাণকারী জোট এর প্রার্থী সভাপতি ছিলেন অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, সহ সভাপতি পদে কিশলয় সাহা, সম্পাদক পদের জন্য সৌমেন সরকার, সহ সম্পাদক পদে মহম্মদ ইমদাদুল মণ্ডল এবং কোষাধ্যক্ষ পদের জন্য সুচন্দন সেন।এদিন মোট ৭ রাউন্ড গণনা হয়। গননার প্রথম থেকেই আইনজীবী কল্যাণকারী জোটের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকতে দেখা যায়। দুইপক্ষের সমর্থকদেরই অধীর আগ্রহে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। শেষপর্যন্ত জয়ী হন আইনজীবী কল্যাণকারী জোটের প্রার্থীরাই। বিগত দুটি নির্বাচনেই অবশ্য শাসকদল সমর্থিত আইনজীবী জোট পরাজিত হয়েছিল। জোটের পাঁচ প্রার্থীই ভাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বলে জানা যায়।তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী সেলের সভাপতি শেখ আসরফ আলির অভিযোগ, রাম, বাম ও কংগ্রেস একজোট হয়ে আমাদের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। সম্পাদক পদে জয়ী সৌমেন সরকার অভিযোগ নস্যাৎ করে দাবি করেন, আমরা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে লড়াই করেছি। এটা আইনজীবীদের সংগঠন। এর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই।

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

লুকা দাপটে তছনছ ডিফেন্স, লজ্জার হার এটিকে মোহনবাগানের

এটিকে মোহনাবাগানের একি হাল! আই লিগ দলের কাছে ৪২ গোলে হার! লুকা মাজসেনরা সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে আরও বড় লজ্জার মুখে পড়তে হত জুয়ান ফেরান্দোর দলকে। সবুজমেরুণ ডিফেন্সকে তছনছ করে দিলেন লুকা মাজসেন। দুটি গোল করলেন, করালেন একটি। এএফসি কাপে গ্রুপ লিগে দুর্দান্ত জয় দিয়ে শুরু করল সদ্য আই লিগ জেতা গোকুলাম এফসি।ম্যাচের শুরুটা দেখে মনে হয়নি এটিকে মোহনবাগানকে এইরকম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে। প্রথম থেকেই গোকুলাম এফসির বক্সে একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসে এটিকে মোহনবাগান। ২ মিনিটের মাথায় ডানদিক থেকে প্রবীর দাসের ভাসানো সেন্টারে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি রয় কৃষ্ণা। ৫ মিনিটে প্রবীর দাসের পাস থেকে আরও একটা গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রয় কৃষ্ণা। ১১ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর পাস থেকে ফাঁকায় বল পয়ে গিয়েছিলেন রয় কৃষ্ণা। কিন্ত বল জালে রাখতে পারেননি। সবথেকে সহজ সুযোগ এসে গিয়েছিল ১৮ মিনিটের মাথায়। জনি কাউকোর পাস থেকে বল ধরে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শট নিয়েছিলেন রয় কৃষ্ণা। বল দ্বিতীয় পোস্টের ভেতরে লেগে বেরিয়ে আসে। ২৯ মিনিটে জনি কাউকোর শট দারুণভাবে বাঁচান গোকুলাম গোলকিপার রক্ষিত দাগার।৩৫ মিনিটে ধাক্কা খায় এটিকে মোহনবাগান। গোকুলামের লুকা মাজসেনকে ট্যাকেল করতে গিয়ে হাঁটুতে চোট পান তিরি। তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হন জুয়ান ফেরান্দো। পরিবর্তে মাঠে নামান আশুতোষকে। ৩৬ মিনিটে আবার গোলের সুযোগ এসেছিল এটিকে মোহনবাগানের সামনে। বাঁদিক থেকে ডেভিড উইলিয়ামস গোল লক্ষ্য করে লম্বা শট নিয়েছিলেন। বল অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রথমার্ধে গোকুলাম এফসি দুএকবার প্রতিআক্রমণে উঠে এসে এটিকে মোহনবাগান গোলমুখে হানা দিয়েছিল। কিন্তু বাগান গোলকিপার অমরিন্দারকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেনি। প্রথমার্ধে ম্যাচের ফল থাকে গোলশূন্য।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই এটিকে মোহনবাগানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গোকুলাম এফসি। ৪৭ মিনিটে গোল করার মতো সুযোগও পেয়ে গিয়েছিল। বাঁদিক থেকে এমিল বেনির সেন্টারে ৬ গজ বক্সের মধ্যে থেকে বল গোলে রাখতে পারেননি লুকা মাজসেন। ৩ মিনিট পরেই তাহির জামানের মাইনাস থেকে গোল করে তিনি দলকে এগিয়ে দেন। এই অগ্রগমন বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি গোকুলাম এফসি। ৫৩ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর কর্ণার থেকে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়ে সমতা ফেরান প্রীতম কোটাল। ৫৭ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় গোকুলাম এফসি। বাঁদিক থেকে বল ধরে গতি বাড়িয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সের মধ্যে মাইনাস করেন ফ্লেচার। ডানপায়ের জোরালো শটে ২১ করেন রিশাদ।এটিকে মোহনবাগান প্রথমার্ধে যেরকম শুরু করেছিল, গোকুলাম এফসি দ্বিতীয়ার্ধে সেইরকম গতিতেই শুরু করে। লুকা, জামান, ফ্লেচাররা গতি দিয়ে ছাড়খার করে দেয় সবুজমেরুণ ডিফেন্সকে। তিরির অভাব বারবার চোখে পড়ছিল। এটিকে মোহনবাগানের রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ৬৫ মিনিটে ফ্লেচারের কাছ থেকে বল পেয়ে ৩১ করেন লুকা মাজসেন। ৮০ মিনিটে দুরন্ত ফ্রিকিক থেকে ব্যবধান কমান লিস্টন কোলাসো। ম্যাচের একেবারে শেষলগ্নে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল গোকুলাম। কাজে লাগাতে পারেনি। তাহলে লজ্জা আরও বাড়ত জুয়ান ফেরান্দোর দলের।

মে ১৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

রেকর্ড স্পর্শ করেও ভারতকে জেতাতে ব্যর্থ ঝুলন

অবসর প্রসঙ্গে ঝুলন গোস্বামীর মুখে বারবার একটা কথাই শোনা গেছে, যতদিন উপভোগ করব, খেলব। অবসর নিয়ে ভাবছি না। বয়সটা তাঁর কাছে কোনও বাধা আবার প্রমাণ করে দিলেন। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যন্ডের কেটি মার্টিনের উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী অস্ট্রেলিয়ার লিন ফুলস্টনের রেকর্ড স্পর্শ করলেন ঝুলন। দুজনেরই বিশ্বকাপে ৩৯টি করে উইকেট। রেকর্ড স্পর্শ করলেও দলকে জেতাতে ব্যর্থ ঝুলন। নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬২ রানে হারতে হল ভারতকে। মূলত ব্যাটিং বিপর্যয়ের জন্যই হারতে হল ভারতকে।টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান মিতালি রাজ। লক্ষ্য ছিল কম রানের মধ্যে বিপক্ষকে গুটিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬০ রান তোলে কিউয়িরা। যদিও শুরুটা ভাল হয়নি নিউজিল্যান্ডের। তৃতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে ফিরে যান সুজিয়ে বেটস (৫)। অধিনায়ক সোফিয়ে ডিভাইন (৩৫) যখন আউট হন, নিউজিল্যান্ডের রান তখন ৫৪। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান আমিলিয়া কের এবং অ্যামি স্যাটার্থওয়েট। দুজনের জুটিতে ওঠে ৬৭। কেরকে (৫০) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়। সর্বাধিক ৭৫ রান করেন স্যাটার্থওয়েট। ৪১ রানের কার্যকারী ইনিংস খেলেন উইকেটরক্ষক কেটি মার্টিন। ভারতের হয়ে সর্বাধিক চার উইকেট নেন পূজা বস্ত্রকার। ২টি উইকেট পান রাজেশ্বরী গায়েকোয়াড়। ১টি উইকেট নেন দীপ্তি শর্মা। স্লগ ওভারে বোলিং করতে কেটি মার্টিনকে তুলে নিয়ে লিন ফুলস্টনের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্পর্শ করেন ঝুলন গোস্বামী। আর একটি উইকেট পেলেই মহিলা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একক ভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির অধিকারি হবেন কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার।ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে ভারত। স্মৃতি মান্ধানা (৬), দীপ্তি শর্মারা (৫) রান পাননি। ইয়াস্তিকা ভাটিয়া করেন ২৮। অধিনায়ক মিতালি রাজ এবং হরমনপ্রীত কাউরের সৌজন্যে কিছুটা রুখে দাঁড়ায় ভারত। মিতালি (৩১) আউট হওয়ার সঙ্গেই আবার ধস নামে ভারতীয় ইনিংসে। একা লড়াই করেন হরমনপ্রীত কাউর। ৬৩ বলে ৭১ রান করেন তিনি। রিচা ঘোষ মাত্র একবল খেলেই আউট হন। স্নেহ রানা (১৮), পূজা বস্ত্রকাররা (৬) রান পাননি। ঝুলন করেন ১৫। ৪৬.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস।

মার্চ ১০, ২০২২
দেশ

পঞ্জাবে ঝাড়ু- ঝড়ে উড়ে গেল ক্যাপ্টেনের হাত

যাবতীয় জল্পনা ও বুথফেরত সমীক্ষা সত্যি করে পঞ্জাবে বিপুল জয়ের পথে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। পঞ্জাব জয় আপের পক্ষে খুব সহজ ছিল, এমনটা নয়। কারণ পঞ্জাবের রাজনীতিতে কংগ্রেস, অকালি দল, বিজেপির মত বাঘা বাঘা প্রতিপক্ষ থাকলেও তাদেরকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিপুল জয়ের দিকে কেজরিওয়ালের আপ। আম আদমি পার্টির এই জয়ের পিছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে।যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকে পঞ্জাবের সাধারণ মানুষ কংগ্রেসকে ক্ষমতায় এনেছিল, ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেখা গিয়েছে কংগ্রেস ও অকালি দলের কাজ করার পদ্ধতির মধ্য সাদৃশ্য রয়েছে। তাই সাধারণ জনগণ ধরেই নিয়ে ছিলে রাজ্যে দলের পরিবর্তন হলেও আপাতভাবে কোনও পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে সেখান কংগ্রেস -বিজেপির মত বড় দলগুলি ক্ষমতায় ছিল, তাই আপকে সুযোগ দিয়েছে পঞ্জাবের জনতা।আপ প্রধান তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পঞ্জাবে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বারবার নিজের দিল্লিতে তাঁর সরকারের কাজগুলি তুলে ধরেছিলেন। দিল্লিতে সরকারি শিক্ষাকেন্দ্রের উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যে উন্নয়ন, সস্তায় বিদ্যুৎ ও জলের মত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার কথা তুলে ধরেছিলেন কেজরিওয়াল। পঞ্জাবে বিদ্যুতের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি এবং সেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেকাংশেই বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে কেজরিওয়ালের দিল্লি মডেল সহজেই গৃহীত হয়েছে। আম আদমি পার্টি পঞ্জাবের মহিলা ও যুবদের বড় অংশের সমর্থন পেয়েছে। প্রত্যেক মাসে মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১ হাজার টাকা জমা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি আম আদমি পার্টি দিয়েছিল। ভোটবাক্সে তারই প্রতিফলন হয়েছে।একটি ফোন নম্বর চালু করে সাধারণ মানুষের থেকে মতামত নিয়ে প্রাক্তন কমিডিয়ান তথা সাংসদ ভগবন্ত মানকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে তুলে এনেছিল আপ। মানকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করায় বহিরাগত তকমা মুছে গিয়েছে।

মার্চ ১০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে জুয়ান ফেরান্দোর চোখ এখন সেমিফাইনালের দিকে

আইএসএলের শেষের দিকে দুরন্ত ছন্দে এগিয়েছে জামশেদপুর এফসি। এইরকম দলের বিরুদ্ধে ২ গোলের ব্যবধানে জেতাটা যে যথেষ্ট কঠিন হবে, সেকথা জানতেন জুয়ান ফেরান্দো। তা সত্ত্বেও স্বপ্ন দেখেছিলেন এটিকে মোহনবাগান কোচ। দলকে লিগ শীর্ষে তোলার, লিগশিল্ড জেতার। একইসঙ্গে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার। জামশেদপুর এফসির কাছে হেরে কোনও স্বপ্নই পূরণ হয়নি জুয়ান ফেরান্দোর। স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে সবুজমেরুণ কোচের চোখ এখন আইএসএলের সেমিফাইনালের দিকে।২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই জামশেদপুর এফসি ম্যাচ অতীত হয়ে গেছে জুয়ান ফেরান্দোর কাছে। সেমিফাইনালের কথা বলে ফুটবলারদের মোটিভেট করতে শুরু করেছেন সবুজমেরুণ কোচ। লিগ শিল্ড হাতছাড়া হলেও এখনও আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে, ফুটবলারদের এই কথা বলে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেছেন জুয়ান ফেরান্দো। জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে জেতা কঠিন হবে, সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন। ফেরান্দো বলেন, জামশেদপুর এফসির মতো দলের বিরুদ্ধে ২ গোলের ব্যবধানে জেতাটা সহজ হবে না, জানতাম। ওরা গোল করার পর কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়। ম্যাচে ফেরার জন্য আমরা সবকিছুই করেছিলাম, কিন্তু সফল হতে পারিনি। খুব খারাপ লাগছে। এবার সেমিফাইনাল নিয়ে ভাবতে হবে।চোটের জন্য জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি দলের সেরা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হুগো বোমাস। তাঁর না থাকাটা যে দলকে সমস্যায় ফেলেছে, মানতে নারাজ এটিকে মোহনবাগান কোচ। জুয়ান ফেরান্দো বলেন, কোনও একজন ফুটবলার ছিল না বলে অজুহাত দিতে চাই না। ফুটবলাররা সবরকম চেষ্টা করেছে। ওদের বক্সের সামনে প্রচুর পাস খেলেছি। একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ওদের রক্ষণভাগের দৃড়তার জন্য আমরা গোল পাইনি। সেমিফাইনালে সামনে লিগের দ্বিতীয় স্থানে থাকা হায়দরাবাদ এফসি। দারুণ লড়াই হবে, জানিয়েছেন জুয়ান ফেরান্দো। তাঁর কথায়, সেমিফাইনালে যতগুলো দল উঠেছে, সবাই যোগ্য দল হিসেবে উঠে এসেছে। চাপ তো থাকবেই। তবে হায়দরাবাদের মতো ভাল দলের বিরুদ্ধে খেলাটাও ভাল অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয় নক আউট পর্বে প্রতিটা ম্যাচই ভাল হবে। প্রত্যেক দলই জেতার চেষ্টা করবে। তবে মনে হয়, ২০টা ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পরে এ বার শেষ তিনটি ম্যাচ সবাই উপভোগ করার চেষ্টা করবে।

মার্চ ০৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

অসংখ্য গোলের সুযোগ নষ্ট করে হার দিয়েই আইএসএল অভিযান শেষ করল এসসি ইস্টবেঙ্গল

আইএসএলের শেষ ম্যাচ জিতে মান বাঁচাতে চেয়েছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। চেয়েছিলেন সমর্থকদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে। তাঁর সেই স্বপ্নপূরণ হল না। বলা যায় স্বপ্নপূরণ হতে দিলেন না তাঁর দলের স্ট্রাইকাররা। অসংখ্য গোলের সুযোগ নষ্ট করে আইএসএলে নিজেদের শেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসি-র কাছে ১-০ ব্যবধানে হারল এসসি ইস্টবেঙ্গল। এদিন প্রথম একাদশে একগুচ্ছ পরিবর্তন করে দল সাজিয়েছিলেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা। তা সত্ত্বেও বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে এদিন দুরন্ত ফুটবল উপহার দিল লালহলুদ ব্রিগেড। শুরু থেকেই বিপক্ষ রক্ষণকে চাপে রেখেছিলেন লালহলুদ জার্সি গায়ে প্রথম খেলতে নামা শুভ ঘোষ ও পেরোসেভিচ। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে এলেও গোল পাচ্ছিলেন না। এর মধ্যে ম্যাচের ২১ মিনিটে দিনের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন পেরোসেভিচ। বিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে ট্যাকেল করলে লুজ বল পেয়ে যান পেরোসেভিচ। বেঙ্গালুরু এফসি গোলকিপারকে একা পেয়েও তিনকাঠির মধ্যে বল রাখতে পারেননি তিনি।২ মিনিট পরেই এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু এফসি। বক্সের ভেতর ভেসে আসা বল পান সুনীল ছেত্রি। ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করেন। এই গোলের ক্ষেত্রে নতুন বিদেশি অনন্ত তামাংকে দায়ী করা যেতেই পারে। একটা নিরীহ সেন্টারের ফ্লাইট মিস করায় বল পেয়ে যান সুনীল ছেত্রী। ৩০ মিনিটে ব্যবধান বাড়াতে পারত বেঙ্গালুরু। উদান্ত সিংয়ের শট বারে লেগে ফিরে আসে। ৪১ মিনিটে আবার গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন পেরোসেভিচ। এরপরই তাঁকে তুলে নিয়ে মার্সেলো রিবেইরাকে নামান মারিও রিভেরা। রিবেইরাকে নামিয়েও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ৭০ মিনিটে বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত থ্রু পাস পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। দ্বিতীয়ার্ধে তিন কাঠির নিচে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন বেঙ্গালুরুর গোলকিপার লারা শর্মা। বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনিই ম্যাচের সেরা। ২০ ম্যাচে ১১ পয়েন্টে সবার নিচে লিগ শেষ করল এসসি ইস্টবেঙ্গল। মাত্র ১টি জয়। গোল করেছে ১১টি, হজম করেছে ৩৬টি।

মার্চ ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌ডার্বিতে ৫–৬ গোলের লজ্জায় পড়তে হবে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে? কী বললেন সমরেশ চৌধুরি‌

আইএসএলের প্রথম পর্বের ডার্বিতে এটিকে মোহনবাগানের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। শনিবার আবার দ্বিতীয় পর্বের ডার্বিতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ডার্বির ড্রেস রিহার্সাল একেবারেই ভাল হয়নি দুই দলের কাছে। এটিকে মোহনবাগান আগের ম্যাচে আটকে গিয়েছিল ওডিশা এফসির কাছে। অন্যদিকে, হায়দরাবাদ এফসির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। চলতি আইএসএলে ১৩ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটা ম্যাচে জয় পেয়েছে লালহলুদ। ৬টি হার, ৬টি ড্র। তুলনামূলকভাবে অনেক ভাল জায়গায় এটিকে মোহনবাগান। ১০ ম্যাচে চারটিতে জয়, চারটি ড্র। হার দুটি ম্যাচে। ডার্বিতে লালহলুদের জয়ের কোনও সম্ভাবনাই দেখছেন না লালহলুদ জার্সি গায়ে একসময় দাপিয়ে খেলা সমরেশ চৌধুরি।এসসি ইস্টবেঙ্গলের নাম শুনলেই রীতিমতো রেগে আগুন লালহলুদের এই ঘরের ছেলে। সমরেশ চৌধুরি বলছিলেন, এই এসসি ইস্টবেঙ্গল দল নিয়ে আলোচনা করতেই আমার ঘেন্না লাগছে। এটা কোনও দল হল? গোলকিপার থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার, একটাও ভাল ফুটবলার আছে। আমার তো মনে হয় লালহলুদ জার্সি গায়ে দেওয়ার কোনও যোগ্যতাই এদেন নেই। কোন ফুটবলারকে নিয়ে আলোচনা করব? কাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখবে সমর্থকরা?ডার্বিতে এসসি ইস্টবেঙ্গলের জয়ের কোনও সম্ভাবনাই দেখছেন না সমরেশ চৌধুরি। তিনি বলেন, ইস্টবেঙ্গলের অনেক দল দেখেছি। এইরকম দুর্বল দল কখনও দেখিনি। দুর্বল দল নিয়েও অতীতে লালহলুদ ডার্বি জিতেছে। এবার জেতার কোনও সম্ভাবনাই দেখছি না। এমনকি ড্র করতে পারে, এমন আশাও নেই। আমার তো মনে হয় ৫৬ গোলের লজ্জায় না পড়তে হয়। আক্রমমভাগ থেকে শুরু করে রক্ষণ, সব পজিশনেই হতশ্রী অবস্থা। তাছাড়া এই দলে কজন ফুটবলার ডার্বির আবেগ বোঝে? ডার্বিতে এই এসসি ইস্টবেঙ্গল নিয়ে আতঙ্কে আছি।এটিকে মোহনবাগানকে ডার্বিতে যে আটকানো কঠিন, মেনে নিয়েছেন সমরেশ চৌধুরি। তিনি বলেন, ওডিশা এফসির কাছে এটিকে মোহনবাগান আটকে গেলেও ওরা ভাল ছন্দে রয়েছে। আক্রমণভাগে রয় কৃষ্ণা, হুগো বোমাস, ডেভিড উইলিয়ামসের মতো ফুটবলাররা রয়েছে। এদের আটকানোর মতো ডিফেন্ডার লালহলুদে নেই। তাছাড়া প্রথম পর্বের ডার্বিতে এটিকে মোহনবাগানের কাছে উড়ে গিয়েছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে সবুজমেরুণ শিবির।

জানুয়ারি ২৭, ২০২২
বিদেশ

Netanyahu: ইজরায়েলে নতুন সুর্যের উদয়, অবসান একযুগের

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Netanyahu) এক যুগের শাসন শেষ হল ইজরায়েলে। রবিবার ১২০ আসনের সংসদে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত হলেন নফতালি বেনেট (Naftali Benette)। গত ১২ বছর ধরে ইজরায়েলের মসনদ সামলে এসেছেন সত্তরোর্ধ্ব নেতানিয়াহু। তবে ইদানিং তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। আর সে কারণেই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয় সে দেশে। অবশেষে সেই টালমাটাল পরিস্থিতির অবসান হল। নতুন সরকার গঠনে সম্মতি দিল ইজরায়েলের সংসদ।১২০ আসনের সংসদে এদিন ৫৯টি ভোট পড়ে নেতানিয়াহুর পক্ষে। নতুন জোট সরকার গড়ার পক্ষে ভোট পড়ে ৬০টি। সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, নাফতালি ইতিমধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে বহুলচর্চিত নাম বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় তিনি। ইজরায়েলে সব থেকে বেশি সময় ধরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তিনি। এবার সেই নেতানিয়াহু সংসদে বসবেন বিরোধী পক্ষের নেতা হিসাবে।একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনিদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গাজ়ায় বোমারু বিমানের হানাদারি নিয়েও তাঁর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এরপরই ধীরে ধীরে তাঁর ১২ বছরের গদি টলমল করা শুরু হয়। বাম-ডান নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে উদ্যোগী হয়। নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসনের অবসানের খবরে এদিন তেল আভিভের রাস্তায় নামে হাজার মানুষের ঢল। আনন্দে মাতোয়ারা তাঁরা।নেতানিয়াহু ছিলেন দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চরমতম উদাহরণ। অভিযোগ, বিরোধীদের দমনপীড়ন থেকে শুরু করে, সরকার ও প্রশাসনকে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। রবিবার সংসদের ভোটে জিতেই প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন ৪৯ বছরের বেনেট। আর তাঁর আগমনেই নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে ইতিহাস হয়ে থাকল ইজরায়েলের রাজনীতি। এই প্রথম ইহুদী (Jews) দেশের সরকারে যেমন অতি দক্ষিণপন্থীরা আছেন, তেমনই আরব মুসলিমরাও আছেন। অতি দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সে দেশে বসবাসকারী ২১ শতাংশ আরব মুসলিম (Islams)।২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ইজরায়েলের মসনদে বসেছিলেন নেতানিয়াহু। দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। জেরুজালেমের আদালতে তাঁর দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে, তাঁর জেলে যাওয়া এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। এছাড়াও তাঁর লিকুদ পার্টির (Likud Party) বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের দাবি, নেতানিয়াহুর বিদায়ে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করবে। ভারতের সঙ্গে বরাবর সুসম্পর্ক রয়েছে ইজরায়েলের (India-Israel)। সে দেশের পালাবদল নিয়ে এদিন রাতে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি বিদেশ মন্ত্রক থেকে। তবে কূটনৈতিক মহলের দাবি, ভবিষ্যতে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা।

জুন ১৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

স্টোকস-বেয়ারস্টোর ব্যাটিংয়ের জোরে ভারতকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড

ভারত: ৫০ ওভারে ৩৩৬/৬ (রাহুল ১০৮, পন্থ ৭৭, টপলি ২/৫০)ইংল্যান্ড: ৪৩.৩ ওভারে ৩৩৭/৪ (বেয়ারস্টো ১২৪, স্টোকস ৯৯, প্রসিদ্ধ ২/৫৮)ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী।কেএল রাহুলের শতরান কিংবা ঋষভ পন্থের ঝোড়ো ৭৭। পুণেতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কোনও কিছুই টিম ইন্ডিয়ার হার বাঁচাতে পারল না। জনি বেয়ারস্টোর দুরন্ত শতরান এবং বেন স্টোকসের ৯৯ রানের সৌজন্য ভারতের দেওয়া ৩৩৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা সহজেই পেরিয়ে গেল ইংল্যান্ড। আর এর ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনল ইংরেজরা।এদিন প্রথম ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৩৬ রান তোলেন বিরাটরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওয়ানডের মতোই দুরন্ত ব্যাটিং করেন দুই ইংরেজ ওপেনার। প্রথম উইকেটে ১১০ রান যোগ করেন জেসন রয় এবং জনি বেয়ারস্টো। এরপর ৫২ বলে ৫৫ রান করে আউট হন জেসন। কিন্তু তিন নম্বরে নামা বেন স্টোকস এদিন যেন দুরন্ত ছন্দে ছিলেন। বেয়ারস্টো এবং স্টোকস মিলে ১১৭ বলে ১৭৫ রান যোগ করেন। আর এই জুটিই বলতে গেলে ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। বেয়ারস্টো ১১২ বলে ১২৪ রান করেন। মারেন ১১টি চার ও ৭টি ছয়। উল্টোদিকে, মাত্র ১ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করেন বেন স্টোকস। মাত্র ৫২ বলে ৯৯ রানের ইনিংসে ইংরেজ অলরাউন্ডার মারেন ৪টি চার এবং দশটি ছয়। এরপর স্টোকস, বেয়ারস্টো এবং বাটলারের উইকেট দ্রুত পড়লেও তাতে ইংল্যান্ডের জয় আটকায়নি। শেষপর্যন্ত ৩৯ বল বাকি থাকতেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে কেউই তেমন দাগ কাটতে পারেননি। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা দুটি উইকেট এবং ভুবনেশ্বর একটি উইকেট পান। এর আগে দিনের শুরুতে কোহলি, কেএল রাহুল এবং ঋষভের ব্যাটে ভর করে স্কোরবোর্ডে তিনশোর উপর রান তুলতে সক্ষম হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। রাহুল করেছিলেন অনবদ্য ১০৮ রান। অন্যদিকে, ঋষভ করেন ৭৭ রান। অধিনায়ক কোহলিও ব্যাটে রান পান। তাঁর সংগ্রহ ছিল ৬৬ রান। কিন্তু সেই সব ইনিংসই চাপা পড়ে গেল বেয়ারস্টো-স্টোকসের ব্যাটিংয়ের সামনে। এই ম্যাচে ভারত হারায় সিরিজের শেষ ম্যাচটি হয়ে দাঁড়াল ফয়সলার। ওই ম্যাচ যাঁর, সিরিজ তাঁর।

মার্চ ২৬, ২০২১
বিদেশ

অবশেষে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন ট্রাম্প

নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেও কিছুতেই সেই ফলাফল মানতে চাইছিলেন না বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি ছিল, তিনিই জয়ী হয়েছেন। ভোটে কারচুপির অভিযোগও ্তুলেছিলেন তিনি। জো বাইডেনের কাছে একপ্রকার হার স্বীকার করেই নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়ে দিলেন, বিডেনের নতুন দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। টুইট করে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, লড়াই করুন, আমার বিশ্বাস আমরা জয়ী হবই। আমাদের দেশের স্বার্থে, আমি এমিলি ও তাঁর টিমকে বলছি, প্রোটোকল অনুযায়ী যা করার প্রয়োজন, তা করা হোক। এটা আমার টিমকেও বলেছি। আরও পড়ুন ঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনকে মানতে রাজি নন পুতিন উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চিঠি লিখে জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এমিলি মার্ফি জানান যে, ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া করতে রাজি ট্রাম্প প্রশাসন। এমিলির এই চিঠির পরই টুইট করেন ট্রাম্প। চিঠিতে এমিলি লিখেছেন, তিনি স্বাধীন ভাবেই আইন মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারও চাপের মুখে যে তিনি পড়েননি, সেকথাও উল্লেখ করেছেন এমিলি।

নভেম্বর ২৪, ২০২০

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, ইউনেস্কো মামলায় তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার দুপুর একটা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেন তিনি। তখন থেকেই CGO কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ। দুই কমিশনারেটের আধিকারিককে দেখা যায় সেখানে। বিকেল ৫টা ৬ মিনিট নাগাদ দফতর থেকে বেরোতেই তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় কলকাতা পুলিশ। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কুণাল আগরওয়াল।এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলি তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন একা নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইন্দ্রনীল ও মমতার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে।তদন্তকারীদের অভিযোগ, মাস আর্ট নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। পাসের দাম ছিল ১,৮০০ টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এইভাবে বিপুল অর্থ সংগ্রহ হলেও তার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির সঙ্গে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী মধুচ্ছন্দার যোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে।বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি তদন্তে নামে ইডিও। লালবাজারে তলব এড়ানোর অভিযোগের মধ্যেই আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয় আদালতে। এখন তদন্তকারীদের নজর সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, লেনদেন এবং তার প্রকৃত ব্যবহার খতিয়ে দেখার দিকে।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

দশকের পর দশক বেহাল রাস্তা, আজও দুর্ভোগ! খাটিয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন গ্রামবাসীরা

গ্রামের যাতায়াতের রাস্তা এতটাই বেহাল যে সেখানে প্রবেশ করতে পারে না কোনও জরুরি পরিষেবার যানবাহন। ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য ভরসা বলতে গ্রামবাসীদের কাঁধে চাপানো খাটিয়া। সোমবার সকালে এমনই এক অসহায় পরিস্থিতির ছবি সামনে আসতেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুরে। অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ব্লকপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় শুইয়ে কাঁধে করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পরেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ব্লকপাড়া গ্রামে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত। অন্যদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। প্রশাসন ও বিধায়ক, উভয় পক্ষের তরফেই দ্রুত চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।কয়েক দশকের দুর্ভোগ, সরু আলই এখন যাতায়াতের ভরসাব্লকপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক আগে এলাকায় মাটির রাস্তা ছিল। কিন্তু গ্রামের একটি বিশাল জলাশয়ের কারণে সেই রাস্তা ক্রমশ কেটে যেতে থাকে। বর্তমানে একসময়ের মাটির রাস্তা কার্যত সরু আলের আকার নিয়েছে। ভাঙাচোরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করাই এখন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।গ্রামবাসীদের দাবি, রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা আগেও বহুবার পেয়েছেন। বিশেষ করে ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। তাই এবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের মনে।হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি নিজে এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে।পেটের যন্ত্রণায় কাতর বৃদ্ধা, শেষ ভরসা খাটিয়াস্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্লকপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সি বেলি ঋষি সোমবার সকাল থেকেই পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। পরিবারের লোকজন জলপড়া দিয়েও তাঁর যন্ত্রণা কমাতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে খাটিয়ায় শুইয়ে তাঁকে কাঁধে করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।অসুস্থ বৃদ্ধার প্রতিবেশী সুমিতা মণ্ডল, বি ফল মণ্ডল ও অনিতা দাসদের অভিযোগ, গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের দাবি, রাস্তার অভাবে অনেক সময় ওঝা-গুনিনদের দ্বারস্থ হতে হয়। গ্রামে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তা থাকলেও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এদিন বৃদ্ধার পেটের যন্ত্রণা না কমায় বাধ্য হয়েই তাঁকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই রাস্তা তৈরির আশ্বাসএই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অজয় পাশোয়ান বলেন, তৎকালীন শাসকদলের উদাসীনতার কারণেই ব্লকপাড়া এলাকার এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রামের মানুষের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান অভিযোগের একাংশের বিরোধিতা করে জানান, যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখার পর তিনি ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সব মিলিয়ে, অসুস্থ বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ঘিরে ব্লকপাড়ার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যাটি ফের সামনে এসেছে। এখন গ্রামবাসীদের নজর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার দিকেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বিয়ের চার দিন আগে প্রি-ওয়েডিং শুটে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পূর্ববর্ধমানের ভাতারে মৃত তিন

বিয়ের বাকি আর মাত্র চার দিন। নতুন জীবনের সূচনার আগে হবু স্ত্রীকে নিয়ে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন যুবক। সেই উদ্দেশ্যেই দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে গুসকরার পথে রওনা দিয়েছিলেন হবু দম্পতি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা মুহূর্তে পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। স্করপিয়ো ও মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন হবু দম্পতি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ঝর্ণা মোড়ের কাছে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা হলেন ভাতার থানার ওরগ্রামের বাসিন্দা সাধুজামাল শেখ ওরফে বচ্চন (৪৭), বর্ধমানের কমলসায়েরের শেখ নওয়াজ (২৩) এবং জামালপুরের মশাগ্রামের সুদেব ঘোষ (২৮)। সাধুজামাল মোটরবাইকের আরোহী ছিলেন। অন্যদিকে, স্করপিয়োয় থাকা শেখ নওয়াজ ও সুদেব পেশায় ফটোগ্রাফার ছিলেন। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য তাঁদের সঙ্গে গুসকরার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বর্ধমানের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা হবু দম্পতি আসরফ মল্লিক ওরফে রাজা এবং জিন্নাতুর খাতুন।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানজমিতে উল্টে যায় স্করপিয়োপ্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমানের দিক থেকে একটি স্করপিয়োয় চড়ে গুসকরার দিকে যাচ্ছিলেন হবু দম্পতি ও দুই ফটোগ্রাফার। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে মোটরবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিয়োটি জাতীয় সড়কের পাশে একটি ধানজমিতে গিয়ে উল্টে পড়ে।বিকট শব্দে দুর্ঘটনা ঘটতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। মৃতদেহগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলিও আটক করেছে পুলিশ।ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমান পুলিশেরপুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জাতীয় সড়কের উপর আচমকা একটি ছাগল চলে আসায় সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে স্করপিয়োর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তার জেরেই মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বিয়ের আনন্দের আগে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাহবু দম্পতির বিয়ের আর মাত্র চার দিন বাকি। জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। গুসকরার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি তোলার জন্য দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন আসরফ ও জিন্নাতুর।কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই দুর্ঘটনা তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনায় ছেদ টেনে দিল। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আতঙ্ক, অন্যদিকে দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। যে যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নতুন জীবনের স্মৃতি তৈরি করা, সেই যাত্রাই হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরের পর গাইঘাটা! নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে, কী ঘটেছিল ভোররাতে?

উত্তর ২৪ পরগনা: নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ঘটনার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এক অভিযুক্ত যুবকের। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস, যিনি কল্যাণ দাস নামেও পরিচিত। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।লক্ষ্মীপুজোর দিন উদ্ধার কিশোরীর দেহ, ঘনীভূত হয় রহস্যপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত লক্ষ্মীপুজোর দিন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি ছিল বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহের তালিকায় আসেন প্রহ্লাদ দাস নামে এক যুবক। তিনি নির্যাতিতার আত্মীয় বলেও জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ঠিক কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত।ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতেই কি বদলে গেল পরিস্থিতি?তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশি সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার ভোররাতে সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।পুলিশের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পাল্টা গুলি চালানো হয়। তাতেই গুরুতর জখম হন প্রহ্লাদ দাস। এরপর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।যদিও গোটা ঘটনাক্রম সম্পর্কে পুলিশের এই বক্তব্যই এখনও মূল বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, গুলি চালানোর প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।বারুইপুরের ঘটনার সঙ্গে মিল, বাড়ছে চর্চাগাইঘাটার এই ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার তুলনা টানা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর এবার গাইঘাটার ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।পরপর দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের মৃত্যুর ধরন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে মিল থাকলেও, প্রত্যেকটির পরিস্থিতি ও প্রমাণ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তদন্তের পাশাপাশি উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ননাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে যেমন দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ জরুরি, তেমনই পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা নির্ধারণে ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।একদিকে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তের মৃত্যুর পরিস্থিতিদুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গাইঘাটার এই ঘটনা তদন্তের পর কোন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ঠিক কী ছিল এবং তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে? তার উত্তর মিলবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের পরেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal