কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়া থেকে কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের সূচনা করেন তিনি। প্রকল্প চালুর দিনেই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অ্যাকাউন্টে আর্থিক সাহায্যের টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা এবং আলুচাষিদের জন্যও একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। এ বার থেকে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রেও মিলবে সরকারি ভর্তুকি।এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যায় যেসব কৃষকের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, তাঁরা ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবেন। যাঁদের ক্ষতি আংশিক হয়েছে, তাঁদের দেওয়া হবে ৯০ হাজার টাকা। আর সামান্য ক্ষতি হলে মিলবে ৪০ হাজার টাকা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতেই এই আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।ভুতনির চরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার ৭৫০ জন কৃষককে বীজ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শুভেন্দু। পাশাপাশি প্রায় ৪ লক্ষ কৃষককে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৪৬ লক্ষ কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।কৃষক বন্ধু প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ৪০ শতকের বেশি জমি থাকলে কৃষকেরা বছরে ৬ হাজার টাকা করে পাবেন। বছরে দুটি কিস্তিতে এই টাকা দেওয়া হবে।তবে এ দিনের সভায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আলুচাষিদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা। আলু চাষের সমস্যা নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে রাজ্যের আলু অন্য রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হত। ফলে অনেক সময় আলু নষ্ট হত এবং ন্যায্য দাম পেতেন না চাষিরা।এর পরেই আলুচাষিদের জন্য বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বার থেকে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না। গাড়ি বা ট্রেনে আলু অন্য রাজ্যে পাঠালে প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হবে। এর ফলে আলুচাষিরা আরও সহজে ভিনরাজ্যে নিজেদের উৎপাদিত আলু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।শুধু তাই নয়, আলুকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, আলুচাষিদের বিমার জন্য যে টাকা জমা দিতে হয়, সেই অংশও মকুব করা হবে। কৃষকদের হয়ে সেই টাকা দেবে রাজ্য সরকার।বন্যার ক্ষতিপূরণ, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আর্থিক সাহায্য এবং আলু রফতানিতে ভর্তুকি একসঙ্গে একাধিক ঘোষণায় কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার এই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে কৃষক মহলের।