• ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Clash

বিনোদুনিয়া

পাপিয়ার ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টালিগঞ্জে বিস্ফোরণ! ইট-ডিমের লড়াইয়ে রণক্ষেত্র স্টুডিওপাড়া

টলিপাড়ার সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ঘোষণার মাত্র একদিনের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও চত্বর। বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ইট, পাটকেল এবং ডিম ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।বুধবার বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও প্রাঙ্গণ থেকে দীর্ঘদিনের ফেডারেশন ভেঙে নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, পুরনো কাঠামোর পরিবর্তে নতুন কনফেডারেশন তৈরি করা হবে এবং সংগঠনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনা হবে। একই সঙ্গে টলিউডে যোগ্য ও বৈধ কর্মীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। অবৈধভাবে বা নিয়ম না মেনে কাজ পাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান।এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সকালে স্টুডিও প্রাঙ্গণে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় স্টুডিওর ভিতরে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। পরে কাছাকাছি একটি মাঠে জটলা তৈরি হয় এবং সেখানেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়।এক পক্ষের অভিযোগ, সংগঠনের পদ এবং প্রভাব ধরে রাখার জন্য কিছু নেতা বহিরাগতদের নিয়ে এসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে পাল্টা স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানায় অপর পক্ষ। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল এবং ডিম ছুড়তে শুরু করে।ঘটনায় স্টুডিওপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের জেরে কিছুক্ষণ কাজকর্মও ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর টেকনিশিয়ানদের একাংশ বিদায়ী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, সংগঠনের আর্থিক বিষয় এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি টলিপাড়ার চলমান অস্থিরতা দূর করতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিও তুলেছেন অনেকেই।নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণার পরই যে ভাবে টালিগঞ্জে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তাতে আগামী দিনে টলিপাড়ার সাংগঠনিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

জুন ০৪, ২০২৬
রাজ্য

চারটার পরেই আগুন! বীরভূমে ভোটকেন্দ্রে তুমুল সংঘর্ষ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মারধর

বীরভূমের খয়রাশোল এলাকায় ভোট চলাকালীন হঠাৎই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। বিকেল চারটার পর থেকেই অশান্তির আশঙ্কা ছিল বলে আগে থেকেই সতর্ক করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়ে ওঠে। দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল ব্লকের বুধপুর গ্রামের একটি বুথে আচমকাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা খণ্ডযুদ্ধে পরিণত হয়।স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, ইভিএমে নির্দিষ্ট বোতাম চাপলেও অন্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট চলে যাচ্ছে। প্রায় দুইশো ভোট পড়ার পর এই বিষয়টি ধরা পড়ে বলে দাবি করেন গ্রামবাসীরা। এই অভিযোগ ঘিরে ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় এবং তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।খবর পেয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের আসার কথা জানানো হয়। কিন্তু তার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের তীব্র বচসা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ, স্থানীয়রা জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন এবং মারধরও করা হয়। এই ঘটনায় কয়েকজন জওয়ান ও গাড়ির চালক আহত হন। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এগোতে দেখা যায়। গোটা এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এপ্রিল ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে তাণ্ডব! ট্যাংরায় ৫০ জনের হামলায় রণক্ষেত্র এলাকা

ভোটের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা। গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে ট্যাংরা এলাকায় ভয়াবহ অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার রাত প্রায় সোয়া নটা নাগাদ পুলিন খাটিক রোডে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, একই পরিবারের তিন সদস্যকে বেধড়ক মারধর করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা বিক্রম খাটিক প্রতিদিনের মতো নিজের বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করতে যান। কিন্তু সেদিন সেখানে অন্য একটি গাড়ি রাখা ছিল। সেই গাড়ি সরাতে বলতেই দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন একসঙ্গে বিক্রম খাটিক ও তাঁর পরিবারের উপর চড়াও হয়।এই হামলায় গুরুতর আহত হন বিক্রম খাটিক, সাবিত্রী খাটিক ও সানি খাটিক। তাঁদের লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুধু মারধরই নয়, অভিযুক্তরা বাড়ির ভিতর ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলেও দাবি পরিবারের।বিক্রমবাবুর স্ত্রী প্রীতি খাটিক অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা এলাকার শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এর আগেও থানায় অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।পরিবারের দাবি, তারাও ওই দলের সমর্থক হিসেবেই পরিচিত। বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে খাটিক পরিবার। বিক্রম খাটিকের আর্জি, তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক, কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন ফের হামলার শিকার হতে পারেন।এই ঘটনায় ট্যাংরা থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভোটের আগে এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
রাজ্য

উত্তপ্ত বরাহনগর! হামলার অভিযোগে রাস্তায় বিজেপি, ফোন করলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

সোমবার রাতে বরাহনগরে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বরাহনগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।জানা গিয়েছে, বরাহনগরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের আমতলায় বিজেপির একটি সভা ছিল। সেই সভা শেষ হওয়ার পর হঠাৎই কয়েকজন দুষ্কৃতী সেখানে এসে বিজেপি কর্মীদের হুমকি ও গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। এরপর আচমকাই তাদের উপর হামলা চালানো হয়। বিজেপির দাবি, বন্দুকের বাট দিয়ে মারধর করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় তিন থেকে চারজন কর্মী আহত হয়েছেন।সজল ঘোষের অভিযোগ, তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত অজয় গুপ্তার নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এর আগেও ওই ব্যক্তি এবং তার সহযোগীরা বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। সে সময় পুলিশকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি। এরপর তিনি বিজেপি কর্মীদের নিয়ে বরাহনগর থানার সামনে পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান।বিক্ষোভ চলাকালীন সজল ঘোষকে ফোন করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল। ফোনে তিনি পুরো ঘটনা জানান এবং বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মনোজ আগারওয়াল তাঁকে আশ্বাস দেন যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সজল ঘোষ পরে জানান, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেছেন, ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভের পর পুলিশ জানায়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই জন্য বিজেপিকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে রাত পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলেই জানা গিয়েছে।

এপ্রিল ১৪, ২০২৬
কলকাতা

সিইও দফতরের সামনে রণক্ষেত্র! ঘেরাও, সংঘর্ষ, মারামারি—একাধিক মামলা, আটক বহু জন

সিইও দফতরের সামনে ঘেরাও, সংঘর্ষ এবং বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হেয়ার স্ট্রিট থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। জানা গিয়েছে, দুটি মামলাই পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।গত বুধবার দুপুরে বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ফর্ম ছয় জমা দেওয়া নিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়িয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ধস্তাধস্তি চলে। বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়েন তৃণমূল কর্মীরাও।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দিনভর উত্তেজনা চলার পর শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।অন্যদিকে আরও একটি মামলায় তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর, এক শিক্ষক নেতা-সহ মোট ছজনের নাম রয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সচিন সিংহ এবং শান্তি রঞ্জন কুণ্ডু। এছাড়াও বিএলও মঞ্চের মইদুল ইসলাম-সহ অন্যদের নামও রয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই মামলার ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত আঠারো জনকে আগাম গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বারো জনকে নোটিস পাঠিয়ে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশের দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের রোড শো ঘিরে উত্তেজনার ঘটনাতেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে দুটি আলিপুর থানায় এবং একটি কালীঘাট থানায় নথিভুক্ত হয়েছে।

এপ্রিল ০৪, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বাড়ির সামনে সংঘর্ষ! রোড শোতেই চরম অশান্তি

ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনই চরম উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে রোড শো চলাকালীন দুই রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।ঘটনাটি ঘটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনে। সেখানে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এগিয়ে আসতে হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।এ দিন রোড শো চলাকালীন তৃণমূল সমর্থকরা কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরাও। দুই পক্ষের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে।পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন অমিত শাহের কনভয় ওই এলাকায় পৌঁছয়। তখন জুতো ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। উত্তেজনার মধ্যে কনভয় এগোনো কঠিন হয়ে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহকে কনভয় থেকে নেমে যেতে হয়। পরে তিনি একটি ছোট গাড়িতে উঠে ওই এলাকা পার হন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।মনোনয়ন জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই ধরনের ঘটনার জেরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
বিদেশ

পাক–আফগান রক্তক্ষয়ী সংঘাত, পাকিস্তানের পাশেই আমেরিকা! ট্রাম্পের মন্তব্যে চাঞ্চল্য

ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে পাকআফগান সংঘাত। রক্তক্ষয়ী এই লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই যুদ্ধে ইসলামাবাদকেই সমর্থন করছে আমেরিকা। পাশাপাশি তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভালো। এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন এবং প্রয়োজন হলে হস্তক্ষেপ করবেন। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী একজন মহান নেতা এবং সে দেশের সেনা প্রধানকেও তিনি সম্মান করেন। পাকিস্তান ভালো কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ দপ্তরও পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছে। তাদের বক্তব্য, তালিবানের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে পাকিস্তানের। তালিবান সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি হামলা চালাচ্ছে, যা গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এতদিন তালিবানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি আমেরিকা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সমর্থন করে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করতে চাইছে ওয়াশিংটন।সংঘাতের সূত্রপাত গত রবিবার। পাকিস্তানের হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে পাক সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালায় আফগান বাহিনী। তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তানের অন্তত ১২টি সীমান্ত পোস্ট এখন তাদের দখলে। সেই হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এরপর শুক্রবার আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় পাল্টা আক্রমণ চালায় পাকিস্তান। দুই পক্ষই সেনা মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।পাকিস্তানের দাবি, কান্দাহার আকাশে তাদের যুদ্ধবিমান টহল দিচ্ছে। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, এবার সরাসরি যুদ্ধের পথে এগোবে দেশ। অন্যদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ।এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তালিবান তাদের আত্মঘাতী বাহিনী সক্রিয় করেছে বলেও খবর মিলেছে। ফলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
বিদেশ

ভোরে তেহরানে ভয়াবহ হামলা! যুদ্ধের মুখে ইরান–ইজরায়েল, সারা বিশ্বে চরম উত্তেজনা

যুদ্ধের আশঙ্কা আগেই করা হচ্ছিল। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আজ ভোরে ইরানের উপর বড়সড় হামলা চালাল ইজরায়েল। রাজধানী তেহরানে পরপর বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে শহর। হামলার পরই ইরান জুড়ে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন। একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স ছুটতে দেখা গেছে শহরের রাস্তায়।এই হামলার পর ইরানের পাল্টা জবাব আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইজরায়েলে সাইরেন বাজতে শুরু করেছে। হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান নিজেদের আকাশপথ খালি করে দিয়েছে। পরিস্থিতি যে কোনও সময় আরও ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে ভারত আগেই তাদের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল। আমেরিকা ও চিনও তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়তে বলেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অতর্কিতে হামলা চালাল ইজরায়েল। খবর অনুযায়ী, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে।আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা, ইজরায়েল একা এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। অনেকেরই ধারণা, আমেরিকার সমর্থনেই এই হামলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন রয়েছে। এই উপসাগরের মধ্যেই রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছয়। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, প্রয়োজন হলে তারা এই প্রণালী বন্ধ করে দেবে। তা হলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সেই কারণেই হরমুজ প্রণালীর পথ খোলা রাখা আমেরিকার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত বছরও ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। এবার নতুন করে হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পাল্টা জবাবে ইরান কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মত। যদি তা ঘটে, তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে এবং তার ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
কলকাতা

পতাকা লাগানো নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ! সখেরবাজারে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি

পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে রবিবার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হল বেহালার সখেরবাজারে। তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি থেকে শুরু করে ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ঘটনার জেরে ডায়মন্ড হারবার রোডে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।রবিবার সখেরবাজার মোড়ে বিজেপির একটি সভা ছিল। সেই সভায় বক্তব্য রাখার কথা ছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেবের। সভাকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এলাকায় দলীয় পতাকা লাগাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূলের কর্মীরা পতাকা লাগাতে বাধা দেন। তা থেকেই শুরু হয় বচসা। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়।ঘটনাস্থলের কাছেই রয়েছে তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের অফিস। অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ওই অফিসে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।এরপর বিপ্লব দেব সভায় বক্তব্য রাখার পর ফের অশান্তি ছড়ায় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির সভা শেষ হতেই তৃণমূল কর্মীদের দিকে আঙুল তুলে বিজেপি গন্ডগোল বাধায়। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, সভা ভন্ডুল করতেই তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপির সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে সভামঞ্চ। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীদের চেষ্টায় বেশ কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পরেও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তৃণমূলের বিধায়ক দেবাশিস কুমার ও রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশ যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমার বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, বাংলায় গণতন্ত্র রয়েছে বলেই বিজেপি মঞ্চ বাঁধতে পেরেছে। এসআইআর নিয়ে বিজেপির ষড়যন্ত্র কাজ করছে না বুঝেই পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য, এই ভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
রাজ্য

বিধায়কের হাত থেকেও ছিনতাই! ফর্ম সেভেন ঘিরে রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক ঝড়

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ তারিখে যদি বিজেপি কর্মীরা ইআরও অফিসে ফর্ম জমা দিতে আসে, তাহলে রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে ডিজে বাজিয়ে ভদ্রভাবে প্রতিবাদ জানাতে। আজ সেই ১৯ তারিখ। আর ঠিক এই দিনেই জেলায় জেলায় উত্তেজনার ছবি সামনে এল।এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি কেন্দ্রগুলিকে ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক বচসা ও হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে। আসানসোল, বনগাঁ থেকে চুঁচুড়া একের পর এক জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।আসানসোল দক্ষিণ থানার মহকুমাশাসক দফতরের সামনে হেয়ারিং কেন্দ্র ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ, একটি কালো গাড়িতে করে বিপুল সংখ্যক ফর্ম সেভেন নিয়ে এসেছিলেন বিজেপির নেতারা। বিষয়টি জানাজানি হতেই তৃণমূল নেতৃত্ব গাড়িটি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ, গাড়ির সামনের কাচ ভাঙচুর করা হয়। এর পর তৃণমূল ও বিজেপি নেতাদের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই ঘটনায় এক বিজেপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে বহু ফর্ম সেভেন জমা দিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।তৃণমূলের এক নেতা বলেন, যদি কোনও সমস্যা থাকে, তা হলে বিএলও বা ইআরও-র কাছে জানানো উচিত। কিন্তু হাজার হাজার ফাইল নিয়ে এসে অশান্তি করা হচ্ছে। বিজেপির এক ব্লক নেতা পাল্টা দাবি করেন, তিনি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে কাজ করতে দিচ্ছে না এবং ফাইল ছিনিয়ে নিচ্ছে।শুধু আসানসোল নয়, বনগাঁ উত্তর মহকুমাশাসক দফতরের সামনেও উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার হাত থেকে ফর্ম সেভেন ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন তৃণমূল কর্মীরা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।চুঁচুড়া সদর মহকুমাশাসক দফতরের শুনানি কেন্দ্রেও অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। সেখানে বিধায়ক অসীত মজুমদারের বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ফর্ম জমা দিতে আসা এক ব্যক্তির সঙ্গে ঠেলাঠেলি ও মারধর করা হয় এবং তাঁর ফর্ম ছিঁড়ে ফেলা হয়।এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি কেন্দ্রগুলিতে এই অশান্তির ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
রাজ্য

খালের বাঁধ, রাস্তা, শ্মশান—সবই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ! ময়নায় রাজনৈতিক ঝড়

সরকারি সেচ দফতরের জমি বেআইনি ভাবে বিক্রি করা হচ্ছেএই অভিযোগ তুলে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ তুলেছেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তমলুক ব্লকের শ্রীরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তেলিপোতা বাজার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।বিধায়কের দাবি, শ্রীরামপুর গ্রামের তেলিপোতা বাজার এলাকায় হাঁসুয়াখালি খালের বাঁধ সংলগ্ন রাস্তার পাশে দীর্ঘ অংশ জুড়ে বেআইনি ভাবে বেড়া দিয়ে জায়গা দখল করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই জায়গা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জ্যোৎস্না ভৌমিক ব্লক প্রশাসন ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, খালের বাঁধের ধারে যে রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতেন, সেই সরকারি জায়গা বেআইনি ভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি খালের পাশে থাকা শ্মশানের জমিও বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ। এই খবর পেয়ে ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।পরিদর্শনের পর অশোক দিন্দা অভিযোগ করেন, খালের পাড়ের জমি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য ছিল। অথচ তৃণমূল নেতারা মোটা টাকার বিনিময়ে সেই জমি বিক্রি করছেন। তাঁর দাবি, সরকারি জমির গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে বিডিও এবং ভূমি সংস্কার দফতরের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা ও তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি চিত্তরঞ্জন। তাঁর বক্তব্য, তেলিপোতা বাজারের কাছে ৭৬০ দাগের জমিটি সম্পূর্ণ রায়ত জমি এবং তিনি সহ পাঁচজন সেই জমি বৈধ ভাবে কিনেছেন। সেখানে কোনও রাস্তা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। চিত্তরঞ্জনের আরও বক্তব্য, খালের উল্টো দিকে ৭৬২ দাগে শ্মশানের জমি রয়েছে এবং যাতায়াতের জন্য আলাদা রাস্তা আছে। নিজেদের রায়ত জমি ঘিরে দেওয়াই হয়েছে, টাকার বিনিময়ে জমি বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা কী হয়, তা নিয়ে এখন তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ০৭, ২০২৬
বিদেশ

‘খুনিদের সরকার চাই না!’—চিৎকারে কেঁপে উঠল নেপাল, রাস্তায় তরুণদের সাথে ওলির কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধ

নেপালে ফের অশান্ত জেন জি আন্দোলন। গত সেপ্টেম্বরে যে জনবিক্ষোভ ইউএমএলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল, সেই আন্দোলনের তরুণেরা আবার পথে নামলেন। আর তাঁদের সামনে দাঁড়াতেই মাঠে নেমে পড়েছেন কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর নেতাকর্মীরা। দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের একাধিক জায়গা। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে বৃহস্পতিবার কয়েকটি এলাকায় কার্ফু জারি করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সিমারা চকে জড়ো হতে শুরু করেছিলেন জেন জি আন্দোলনকারীদের বড় একটি দল। যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ানো পরিবেশের মধ্যেই পুলিশ বলপ্রয়োগ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সিমারা বিমানবন্দরের দিকেও ততক্ষণে জমে উঠেছে ভয়ার্ত উত্তেজনা। সেখানে ইউএমএল নেতাকর্মীদের সঙ্গে জেন জি তরুণদের ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।সংঘর্ষের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ওলির দলের দুই শীর্ষ নেতামহেশ বসনেট এবং শঙ্কর পোখারেল। দুজনেই সেদিন কাঠমান্ডু থেকে বিমানে সিমারায় পৌঁছান একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে। তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন জেন জি-র জেলা সমন্বয়ক সম্রাট উপাধ্যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।বিমানবন্দরে মহেশ-শঙ্কর জুটি নামতেই জেন জি বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলেনখুনিদের সরকার চাই না। আর সেই স্লোগানকে ঘিরেই চোখের পলকে শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়া, ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কিসব মিলিয়ে এলাকাজুড়ে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়। আহত হন অন্তত ছয় জন জেন জি কর্মী। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় বাহিনী মোতায়েন করে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে জারি হয় কার্ফু। নেপালে ফের দাঁত-নখ বের করে উঠছে তরুণদের জেন জি আন্দোলনএটা যেন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

জমি বিবাদের মিমাংসা চলাকালীন ধুন্ধুমার, তৃণমূল বিধায়কের অফিসেই এই কান্ড!

তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা ও উত্তেজনায় ধুন্ধুৃমার কান্ড মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে। এই ঘটনায় জখম একাধিক।শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে খোদ জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের কার্যালয়ে। জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত ঝামেলা নিয়ে মীমাংসা বৈঠক চলছিল। আর তখনই তৃণমূলের দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ও মারপিট হয়। এতেই একাধিক আহত হয়। জখমদের মধ্যে রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকের রানীনগর অঞ্চলের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি খাইরুল ইসলামের ছেলেও রয়েছে।জানা গিয়েছে, একটি জায়গা রেকর্ড করা নিয়ে দফরপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান মঞ্জুর আলির লোকজনের সঙ্গে রানীনগর অঞ্চলের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি খাইরুল ইসলামের অনুগামীদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। শুক্রবার সেই বিবাদের মিমাংসা করার জন্য রঘুনাথগঞ্জে জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের কার্যালয়ে এসেছিল উভয়পক্ষ।আর সেখানে এসেই উভয় পক্ষের বচসা বেধে যায়। এরপর শুরু হয় হাতাহাতি, মারপিট।লোহার রড দিয়েও মারধর চলে বলে অভিযোগ। উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস। তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে জঙ্গিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জুন ০৬, ২০২৫
রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মেলনী ঘিরে ভাতারে বিশৃঙ্খলা, কোনওরকমে সামলালেন বিধায়ক

পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনীকে কেন্দ্র করে তুলকালাম পরিস্থিতি। গন্ডগোলের রেশ গড়িয়েছে বর্ধমান-কাটোয়া রাজ্য় সড়কে। রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিজয়ার অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত অশান্তি ও দ্বন্দ্বে চলতে থাকে বিশৃঙ্খলা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী নিজে পরিস্থিতি সামলাতে নাজেহাল হয়ে যান। নিজে পথে নেমে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষমেশ ভাতার হাউজিং মাঠে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। কোনওপ্রকারে অনুষ্ঠান শুরু হলেও উত্তেজনা চলতেই থাকে। ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অশোক হাজরাকে উত্তেজিত হতে দেখা যায়। ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশ অশোকবাবুকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন। সেই সময় মঞ্চের আশপাশে কর্মীদের একাংশ চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। মঞ্চে অশান্তি চলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে দিয়ে বিজয়া সম্মিলনী শেষ করে দিতে বাধ্য হন নেতারা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী বলেন, বিজয়া সম্মিলনী একটা মিলনের অনুষ্ঠান। আনন্দের বিষয়। তাই আমরা প্রথম থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব বলে ঠিক করেছিলাম। বক্তৃতা পর্ব রেখে অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত করতে চাইনি। বিশৃঙ্খলার বিষয়টি অবশ্য বিধায়ক এড়িয়ে যান। এ নিয়ে তাঁর সাফাই, বাইরে কি ঘটেছে সঠিক জানি না। অনুষ্ঠান সুষ্ঠ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই ভাতারে দলের সহ সভাপতি অশোক হাজরার সঙ্গে দলের একাংশের মনোমালিন্য চলছে। বিশেষ করে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অশোকবাবুর প্রভাব রয়েছে। দলের অভ্যন্তরের কিছু সমস্যা এমনিতেই চলছিল। বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে তা প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও অশোক হাজরার দাবি, বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে প্রচুর জনসমাগম হয়েছিল। অত্যাধিক ভিড়ের কারণে সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। তবে তারপর সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠান হয়েছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

বর্ধমান জেলা বিজেপির কার্যালয়ে তালা বিক্ষুব্ধদের, ধুন্ধুমার কাণ্ড

এর আগেও বর্ধমান জেলা বিজেপি কার্যালয়ে ভাংচুর হয়েছে। এবার একেবারে প্রতিষ্ঠা দিবসেই বিজেপির ওই জেলা কার্যালয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড। বৃহস্পতিবার বিজেপি কর্মী রাজু পাত্রের নেতৃত্বে একদল বিক্ষুব্ধ দলীয় কর্মী পূর্ব বর্ধমানের ঘোরদৌড়চটির জেলা কার্যালয়ের মূল গেটের সামনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পাশাপাশি সামনে চলে তুমুল বিক্ষোভ। দলের কার্যালয়ে আটকে পড়েন জেলা যুব মোর্চার সভাপতি পিন্টু সাম সহ অন্যারা। যথারীতি তালা খোলা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বচসা চলতে থাকে।বিক্ষুব্ধরা তালা না খোলায় হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে দেয় এক কর্মী। যা নিয়ে শুরু হয় হাতাহাতি। পিন্টু সামের নেতৃত্বে হাতুড়ি এবং লাঠি নিয়ে বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের নিয়ে তেড়ে যায় একদল কর্মী। এতেই পিছু হটে বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ। তারাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।সম্প্রতি বর্ধমান সদর জেলার সহ সভাপতি শ্যামল রায়কে শোকজ করার পর কোন্দল একেবারে প্রকাশ্যে আসে। যুব মোর্চার সভাপতি পিন্টু সাম বলেন, দলে থাকতে গেলে দলের নিয়মনীতি মেনেই চলতে হবে। দলই ঠিক করে কে কোন পদে থাকবে। তাই দলবিরোধী কোন কাজ আমরা বরদাস্ত করব না। বিক্ষুব্ধ রাজু পাত্রের অভিযোগ, অযোগ্য সভাপতি অভিজিৎ তা একদম নিস্ক্রিয়। ফলে দলীয় যে কাজ তা ব্যহত হচ্ছে। আন্দোলন গতি পাচ্ছে না। অভিজিৎ তায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে বিক্ষুব্ধরা। ২০২১ -এ ব্যাপক ভাংচুর হয়েছিল বিজেপির এই কার্যাকয়ে

এপ্রিল ০৬, ২০২৩
রাজ্য

পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে উল্টো পুরান বর্ধমানে! দলীয় কর্মিদেরই প্রকাশ্যে হুমকি বিধায়কের

পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে। রাজ্যে নেতৃত্বের নির্দেশে ইতিমধ্যেই রাজ্যে জুড়ে গুটি সাজাতে শুরু করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিজেপিকে কোনঠাসা করতে ছোট-বড় বিভিন্ন জনসভা থেকে আক্রমণ শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকে চিত্রটা ঠিক উল্টো। বিরোধীদের পরিবর্তে প্রকাশ্যে নিজের দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য হুমকি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধমান-উত্তরের বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক।রবিবার বর্ধমান ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল পক্ষ থেকে আয়োজিত শীতবস্ত্র প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিধায়ক তার দলের বেশ কয়েকজন নেতার নাম না করেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর কুত্তার দশা হবে বলে হুঁশিয়ারী করেন। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তাদের দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক বলেন, আমি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বলছি, খেলা শুরু হয়ে গেছে। জামালের (সেখ জামাল রায়ান ১ নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি) টিম রেডি আছে। তুমি তোমার দম নিয়ে রেডি হও। যেদিন বলবে, যে জায়গায় বলবে সেখানে দেখা হবে। কার কত প্লেয়ার আছে।বিধায়ক নিশীথ মালিকের এই মন্তব্যর পরেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে। তৃণমূলের অন্দরমহলেও শুরু হয় চাপান উতর। উল্টোদিকে এই মন্তব্যর পরিপেক্ষিতে ব্লকের জেলাপরিষদ সদস্য নরুল হাসান জানান, বিধায়ক অনেক পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। আমরা দলের পুরাতন কর্মী, দলের জন্মলগ্ন থেকে আছি। বিধায়ক ১১ সালের পর তৃণমূলে এসেছেন। উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশ সত্ত্বেও বিধায়ক পুরানো দিনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন না, তাদের প্রাপ্য সম্মান টুকুও দেন না। বিধায়ক নিশীথ মালিক নিজেই একজন অশিক্ষিত, তাই তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ছেড়ে নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন বলে দাবী নরুল হাসানের।বিজেপি অবশ্য গোটা বিষয়টি তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছে। বিজেপি নেতা সুধীররঞ্জন সাউ বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে এলাকায় রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের মধ্যেই লড়াই করবে। গোটা ব্লক দুর্নীতিতে ভরে গেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েতে গেলে পরিষেবা পাচ্ছেন না।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২২
রাজনীতি

উত্তপ্ত রায়না, শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়

ফের রায়নায় গণ্ডগোল। শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তেজনা ছড়ালো। মিছিলে না যাওয়ায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও তার স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠলো ব্লক সভাপতির অনুগামীদের বিরুদ্ধে।বুধবার বিকালে রায়না ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বাইক র্যালি ও পথসভার আয়োজন করা হয় রায়নার বৈঠারি গ্রামে। অভিযোগ সেই সভায় যোগ না দেওয়ায় কাইতি পঞ্চায়েতের প্রধান তনুজা বেগম ও তার স্বামী সেখ সিরাজকে মারধর করে ব্লক সভাপতির অনুগামীরা। বৃহস্পতিবার সকালে একটি স্কুটিতে করে পঞ্চায়েত অফিসে যাচ্ছিলেন তনুজা বেগম। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী সেখ সিরাজ। তিনি আবার রায়না ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কিষাণ মোর্চার সভাপতি। অভিযোগ, পঞ্চায়েতে যাবার সময় অসীম পালের লোকজন তাদের রাস্তা আটকায়। স্কুটি দাঁড় করিয়ে সেখ সিরাজকে মাটিতে ফেলে মারধর করে গ্রামেরই চার তৃণমূল কর্মী। রায়হান ওরফে বুড়ো, সাহারো, মনি ও মিরাজ এই চারজন হামলা করে বলে অভিযোগ। প্রধান তনুজা বেগম আটকাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এরা সকলেই তৃণমূল ব্লক সভাপতি অসীম পালের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেন প্রধান। তাদের আলমপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্রধান তনুজা বেগমকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সেখ সিরাজকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই অসীম পাল টেলিফোনে জানিয়েছেন, ওই প্রধান নিজেকে শাহেনসা মনে করেন। অঞ্চলের লোককে বিশেষ পাত্তা দেন না। অঞ্চলে যা কাজ হয় সবটাই নিজেদের সুবিধার্থে করে। প্রধানের বাড়িতে বসেই টেণ্ডার হয়। বাড়িতেই দুতিনজন কনট্রাকটর আছে তারাই সব কাজ করে বলে অভিযোগ। গ্রামে মসজিদে যাবার রাস্তা খারাপ অথচ প্রধানের বাড়ির সামনের রাস্তা ভালো। এটা এলাকাবাসীদের ক্ষোভের কারণ হতে পারে। এর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন সম্পর্ক নেই বলে জানান সভাপতি।বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, বিষয়টি শুনেছি। যে বা যারা প্রধানের উপর আক্রমণ করেছে পুলিশকে বলবো তাদের বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নিতে।

নভেম্বর ২৪, ২০২২
রাজ্য

আতঙ্ক কাটেনি সাঁইথিয়ার বহরাপুর গ্রামে, আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছেন অনেকে, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক

সাংগঠনিক ভাবে না স্বীকার না করলেও উত্তররোত্তর বেড়েই চলেছে গোষ্ঠী দ্বন্দ। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, পঞ্চায়েত ভোট যত এগিয়ে আছে নিজেদের দলের ভিতরেই এলাকা দখলের লড়াইয়ে বারুদের স্তুপে পরিণত হয়েছে গ্রাম বাংলা। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের জেরে সোমবার থেকে চাপা উত্তেজনা বীরভূম জেলার সাঁইথিয়ার কাছে বহরাপুর গ্রাম। সোমবার বোমাবাজির ফলে জখম হন ২ জন। আতঙ্ক ছড়িয়েছে বহরাপুরে সংলগ্ন এলাকা । গ্রামবাসিরা গ্রাম ছাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এখনও অবধি বীরভূম জেলা পুলিশ এই ঘটনায় মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে।বহরাপুর গ্রামে পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ তৃণমূলের সাঁইথিয়া ব্লক সভাপতি সাবের আলি খান এবং তৃণমূল নেতা তুষার মণ্ডলের গোষ্ঠীর সাথে ঝামেলার কারনেই এই দূর্ঘটনা। এখনও অবধি বহরাপুর ও তার আশপাসের এলাকা তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বম্ব স্কোয়াড। টহলদারি চলানো হচ্ছে। বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে জানান, গ্রামে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে, পুলিস সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করছে। মানুষের ভরসা ফেরাতে গ্রাম জুড়ে টানা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যাতে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে সেই দিকেও পুলিস নজর দিচ্ছে।যে দুজন বোমার আঘাতে আহত, তাঁদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। একজনকে আইসিইউ ভর্তি করা হয়েছে। সুত্র মারফত জানা যায়, আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসারা জন্য কলকাতা নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

নভেম্বর ১৫, ২০২২
রাজনীতি

গোষ্ঠী কোন্দলে লাগাম টানা যাচ্ছে না! শীর্ষ নেতৃত্বের হুঁশিয়ারী, নিষেধাজ্ঞা কাজ হচ্ছে না কিছুতেই

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হুঁশিয়ারী কিংবা নিষেধাজ্ঞা, তবু দলের গোষ্ঠী কোন্দলে লাগাম টানা যাচ্ছে না। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বিরুদ্ধে বুধবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পূর্ববর্ধমানের মেমারি ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ ইসমাইল। তিনি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে বলেন, চোরের মায়ের বড় গলা। সিপিএম ও বিজেপির লোকদের নিয়ে গ্রাম দখলের রাজনীতি করতে নেমেছেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী । তিনি আরো বলেন, যারা দুর্দিনে মার খেয়ে পার্টি করেছিল তাদেরকে তিনি সরিয়ে দিতে চাইছেন। দলকে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই তিনি ময়দানে নেমেছেন।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মেমারি ২ নম্বর ব্লকে মন্ত্রী সিদ্দিকুলা চৌধুর মেমারি ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হরিসাধন ঘোষের সমর্থনে র্যালিতে অংশ নেন। ওই র্যালি থেকে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন,মুখ্যমন্ত্রী ৭২ টি প্রকল্প চালু করেছেন মানুষের জন্য। বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাবো এসসি, এসটি মা বোন ভাইদের কি পান নি আমাদের জানান। কি করতে হবে আমাদের বলুন। দলের নেতারা কেউ কাটমানি খাবে না। আমরা চাঁদা তুলবো,বলে তুলবো।আমরা চাল আলু দিয়ে খিচুড়ি ভাত খাবো।আমি কাউকে কাটমানি খেতে দেবো না।আমি কাউকে চার পয়সা চাই নি।আপনারাও দেন নি।আমিও চাই নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন,দলের কথা, প্রশাসনের কথা বাইরে বলা উচিত নয়।এটা দল বিরোধী কাজ।দল এসব বরদাস্ত করবে না। মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঠাকুর ঘরে কে,আমি তো কলা খায় নি।কাটমানি নিয়ে আমি তো কারো নাম করে কিছু বলে নি।তাহলে ওর এত গায়ে লাগছে কেন। আমার কাছে তথ্য আছে তা যদি আমি প্রকাশ করি তাহলে উনি আর সাতগাছিয়া বাজারে মুখ দেখাতে পারবেন না।পাশাপাশি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও ওর বিরুদ্ধে অনেক তথ্য আছে।আমার কাছে যা খবর দল ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর আমি সিপিএমের ত্রাস ছিলাম।সুতরাং আমি বিজেপি বা সিপিএমের সঙ্গে সম্পর্ক রাখি না।

নভেম্বর ০৯, ২০২২
রাজ্য

দুয়ারে সরকারেরও গোষ্ঠীকোন্দল! বর্ধমানে পুরমাতার সাথে অশান্তি দলীয় নেতার

দুয়ারে সরকারেও শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের টাউনহলে দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা অশান্তি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর মিঠু সিংয়ের অনুগামীদের সঙ্গে ওই ওয়ার্ডেই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর মধ্যে চরম অশান্তি হয়। বিবদমান দুই গোষ্ঠীর ঝামেলা হাতাহাতিতে গড়ায়। কাউন্সিলরের এক অনুগামীকে বেড়ধক মারধর করা হয়। জখম তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীর নাম বাপ্পা ঘোষ। অশান্তির খবর পেয়ে টাউনহলের দুয়ারে সরকার শিবিরে ছুটে যান কাউন্সিলর মিঠু সিং। তার সঙ্গেও ফের ঝামেলা অশান্তি শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা গোলাব সোনকারের সঙ্গে টাউনহল চত্বরে প্রকাশ্যে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন কাউন্সিলর মিঠু সিং। পুলিশের সামনেই দুই গোষ্ঠী মারামারি করে।ঘটনার সূত্রপাত উপভোক্তাদের সাহায্যে ফর্ম পূরণ করাকে কেন্দ্র করে। কাউন্সিলর মিঠু সিংয়ের অনুগামীরা দুয়ারে সরকার শিবিরে উপভোক্তাদের সাহায্যে তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের ফর্ম পূরণ করে দিচ্ছিলেন। অভিযোগ এই নিয়ে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা গোলাব সোনকারের নেতৃত্ব কাউন্সিলরের অনুগামীদের উপর হামলা করা হয়। মারধর করা হয়।তবে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা গোলাব সোনকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবী করেন তারা কয়েকজন মিলে দুয়ারে সরকার শিবির কাজকর্ম দেখতে যান। তখন শোনেন ঝামেলা হয়েছে। উল্টে কাউন্সিলর তার সঙ্গে ঝামেলা অশান্তি করেন। তিনি বলেন, ভোটের সময় আমার বাইকে চেপে ওয়ার্ডে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করে মিঠু সিং। ছটের সময় কেন তার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা গম পেলো না? কেন জানতে গেলে উনি বলেন কৈফিয়ত দেবেন না। এলাকায় ড্রেন পরিস্কার হয় না। ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ।কাউন্সিলর মিঠু সিং বলেন বিধায়ক খোকন দাসকে গোটা বিষয়টি জানাবেন।তারপর পুলিশের দ্বারস্থ হবেন। তিনি আরো বলেন, ছমাস আগে যে বিজেপি থেকে তৃণমূলে এসেছে তার কাছে আমি কোন কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।আমি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে আছি।

নভেম্বর ০৩, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

৮.৪ ওভারেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে ভারত, বোলিংয়ে ঝড়—তবু ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভাবাচ্ছে হরমনপ্রীতদের

দুবাইয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে জয় ভারতের। বোলারদের দাপটে ম্যাচ একতরফা হলেও মাত্র ৫৬ রান তাড়া করতে গিয়ে তিন উইকেট হারানোয় প্রশ্ন উঠল ভারতের টপ অর্ডার নিয়ে। নকআউটের আগে এটাই এখন হরমনপ্রীতদের সবচেয়ে বড় চিন্তা।দুবাইয়ের আকাশে তখনও ম্যাচের উত্তাপ। কিন্তু মাঠে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার পরই যেন ফলাফল লেখা হয়ে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫৫। ভারতের সামনে লক্ষ্য ৫৬। ক্রিকেটের হিসাব বলছিল, এই রান তাড়া করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। শেষ পর্যন্ত হলও তাই।মাত্র ৮.৪ ওভারেই জয় তুলে নিল ভারত। পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপে নিজেদের দাপট আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল হরমনপ্রীত কৌরের দল।তবে এই জয় যতটা স্বস্তির, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ছোট্ট একটা অস্বস্তি। কারণ, ৫৬ রানের মতো মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতেও ভারতের টপ অর্ডারের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারশেফালি বর্মা, প্রতিকা রাওয়াল এবং স্মৃতি মন্ধানাদ্রুত ফিরে গেলেন। ম্যাচের গুরুত্বের নিরিখে যা হয়তো বড় সমস্যা নয়, কিন্তু নকআউটের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ভারতকে এই জায়গাটাই ভাবাবে।প্রথম বলেই ছক্কা, তারপরই থেমে গেল শেফালির ঝড়৫৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা। শেফালি বর্মা যেন শুরুতেই ঘোষণা করে দিলেনএই ম্যাচকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই।কিন্তু সেই ঝড় স্থায়ী হল না।মাত্র ১২ রানেই শেফালিকে ফিরিয়ে দিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে তিনিই পাকিস্তানের একমাত্র উল্লেখযোগ্য লড়াইটা উপহার দিলেন।এরপর তিন নম্বরে নেমে প্রতিকা রাওয়ালও ব্যর্থ। জেমাইমা রদ্রিগেজের জায়গায় এখনও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অপেক্ষায় থাকা প্রতিকা মাত্র ৪ রান করেই ফাতিমার শিকার। একই ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে সামান্য উত্তেজনা ফিরিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। কিন্তু সেই উত্তেজনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।মন্ধানার আউট নিয়েও রয়ে গেল প্রশ্নআগের ম্যাচে দুর্দান্ত শতরান। ফলে স্মৃতি মন্ধানার দিকে প্রত্যাশার চোখ ছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু এ দিন শুরু থেকেই তাঁকে কিছুটা মন্থর দেখাচ্ছিল।৯ রানেই ফাতিমা সানার বলে আউট হয়ে গেলেন মন্ধানা। যদিও তাঁর আউট নিয়ে বিতর্কের জায়গা থাকল। বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কিন্তু এই এশিয়া কাপে ডিআরএস না থাকায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অবশ্য আর কোনও বিপদ হতে দেননি হরমনপ্রীত ও দীপ্তি শর্মা।অভিজ্ঞতার ভারেই ম্যাচ শেষ করে দিল ভারতের মিডল অর্ডার। হরমনপ্রীত অপরাজিত থাকলেন ১৮ রানে, দীপ্তির অপরাজিত ইনিংস ১২ রানের। আর শেষটা এল অধিনায়কের ছক্কায়।৮.৪ ওভার। ৭ উইকেটের জয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও একটি সহজ সাফল্য।ভারত-পাকিস্তানফারাকটা ক্রমেই স্পষ্টমহিলাদের টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের আধিপত্য যে কতটা একপেশে, এই ম্যাচ তারই আরেকটি উদাহরণ।দুদল এখনও পর্যন্ত ১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। ভারত জিতেছে ১৫ বার, পাকিস্তান তিনবার। এশিয়া কাপে ছবারের সাক্ষাতে এটি ভারতের পঞ্চম জয়। ২০২২ সালে পাকিস্তানের জয়টি এখনও এই ফরম্যাটে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের শেষ সাফল্য।অর্থাৎ পরিসংখ্যানের খাতাতেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দাপট অটুট। কিন্তু এ দিন ভারতের আসল শক্তি ব্যাট হাতে নয়বল হাতে।চার স্পিনার, ৯ উইকেটদুবাইয়ে ঘূর্ণির সামনে অসহায় পাকিস্তানটস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ফাতিমা সানা। পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কারস্কোরবোর্ডে বড় রান তুলে ভারতকে চাপে ফেলা।শুরুটাও মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার সাবধানে খেলছিলেন। প্রথম উইকেটে ২৭ রানও উঠে গিয়েছিল। তারপরই ম্যাচের চেহারা বদলে গেল।ভারতীয় স্পিনাররা বল হাতে আসতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং যেন হঠাৎ পথ হারিয়ে ফেলল। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে মুনিবা আলিকে ফিরিয়ে শেফালি শুরু করলেন ধসের। তারপর একের পর এক উইকেট।পরের ১৩ ওভারে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপের পতন ছাড়া আর কিছুই দেখা গেল না। দুই ওপেনার বাদে কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারলেন না। মন্থর উইকেটে ভারতীয় স্পিনের মোকাবিলা করার কোনও উত্তরই যেন ছিল না পাকিস্তানের ব্যাটারদের কাছে। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানেই অল আউট পাকিস্তান।চরণি-রাওয়াতের ঘূর্ণিতে কাঁপল পাকিস্তানভারতের চার স্পিনার মিলে তুলে নিয়েছেন পাকিস্তানের নয়টি উইকেট। বাকি একটি রান আউট।সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শ্রী চরণি। চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে তিন উইকেট। চলতি বছরে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর উইকেট সংখ্যা এখন ৩৪। আর দুটি উইকেট পেলেই এক বছরে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি উইকেটের রেকর্ড তাঁর দখলে চলে আসবে।প্রেমা রাওয়াতও সমান বিধ্বংসী। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে তিন উইকেট।দীপ্তি শর্মা ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট। শেফালি বর্মার ঝুলিতেও এসেছে একটি উইকেট।অর্থাৎ পাকিস্তানের ১০ উইকেটের মধ্যে নয়টিই ভারতীয় স্পিনের শিকার। এটাই সম্ভবত ম্যাচের সবচেয়ে বড় ছবি।শুধু একটি জায়গাতেই অস্বস্তিবোলিং নিয়ে ভারতের চিন্তার কারণ প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে একটি ঘটনা নজরে পড়েছে। দুই পেসার ক্রান্তি গৌড় এবং নন্দিনী শর্মার বলে মুনিবা আলির ক্যাচ ফস্কেছেন প্রতিকা রাওয়াল। ক্যাচ দুটি ধরা পড়লে পেসারদের নামের পাশেও উইকেট থাকত।কোচ অমল মুজুমদারের কাছে সেটিও অবশ্যই নোট করার মতো বিষয়।তবে তার থেকেও বড় প্রশ্ন টপ অর্ডার।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার সুযোগও কি নষ্ট হল?ম্যাচ যখন কার্যত হাতের মুঠোয়, তখন ভারত চাইলে রিচা ঘোষ বা ভারতী ফুলমালিদের আগে নামিয়ে কিছুটা পরীক্ষা করতে পারত। কম রান তাড়া করার ম্যাচে তাঁদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত।ভারত অবশ্য সেই পথে হাঁটেনি।জয় এসেছে দ্রুত। কিন্তু নকআউটের আগে এমন ম্যাচেই তো বেঞ্চের শক্তি যাচাই করে নেওয়া যায়।আর এখানেই ভারতের সামনে প্রশ্নটা আরও স্পষ্টবোলিং যদি এতটাই শক্তিশালী হয়, ব্যাটিংয়ের প্রথম সারিও কি একই রকম ধারাবাহিক?নকআউটের আগে সতর্কবার্তাপাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারানোর জয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বরং ভারতীয় স্পিনাররা যে ভয়ঙ্কর ছন্দে রয়েছেন, তা প্রতিপক্ষের জন্য বড় সতর্কবার্তা।কিন্তু পাকিস্তানের মতো দুর্বল স্কোরের দলের বিরুদ্ধে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে যায়। বড় ম্যাচে সেই সুযোগ মিলবে না।আজ ৫৬ রান তাড়া করতে গিয়ে তিন উইকেট পড়েছেতবু জয় এসেছে অনায়াসে।কাল যদি লক্ষ্য হয় ১৫০ বা ১৬০, তখন?সেই কারণেই এই জয় ভারতের জন্য নিছক আর একটি জয় নয়। ৫৫ রানে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেওয়া যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনই টপ অর্ডারের অনিয়মিত ছন্দ নকআউটের আগে হরমনপ্রীতদের কপালে সামান্য ভাঁজও ফেলবে।দুবাইয়ে পাকিস্তানের রাতটা ছিল দুঃস্বপ্নের। ভারতের কাছে রাতটা ছিল স্বস্তির। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালেই ভবিষ্যতের বড় ম্যাচের জন্য একটি প্রশ্ন রেখে গেল এই জয়স্পিনাররা পথ দেখাচ্ছেন, এবার কি ব্যাটাররা সেই পথ ধরে শেষ পর্যন্ত হাঁটতে পারবেন?

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

শতবর্ষের মঞ্চে মোদীর মুখে জেন জি-র ভাষা! এসআরসিসির প্রাক্তনীদের নিয়ে বললেন, ‘ওজি’

দেশের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিল্লির শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিক্ষক দিবসের দিনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের যুব সমাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি এসআরসিসির প্রাক্তনীদেরও বিশেষ ভাবে সম্মান জানান তিনি। তাঁদের প্রশংসা করতে গিয়ে জেন জি-র প্রচলিত ভাষা ব্যবহার করে ওজি শব্দটিও বলেন প্রধানমন্ত্রী।এসআরসিসিতে দীর্ঘ ১৩ বছর পর গেলেন মোদী। এর আগে ২০১৩ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি এই প্রতিষ্ঠানে এসেছিলেন। সেই পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসআরসিসির যাত্রা শুরু হয়েছিল দরিয়াগঞ্জের একটি ছোট জায়গা থেকে। একশো বছরে সেই প্রতিষ্ঠান এখন বিশাল এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে এবং বহু প্রজন্মের পড়ুয়াকে পথ দেখিয়েছে।কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি স্যার শ্রী রামের কথাও স্মরণ করেন মোদী। তিনি বলেন, ১৯২৬ সালে শ্রী রাম এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একশো বছরে এই প্রতিষ্ঠান দেশকে বহু বিদ্বান, প্রশাসক, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারক দিয়েছে। আগামী ২৫ বছরে বিকশিত ভারতের যাত্রাতেও এসআরসিসির পড়ুয়ারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।এর পরেই এসআরসিসির প্রাক্তনীদের কৃতিত্বের কথা বলতে গিয়ে জেন জি-র পরিচিত শব্দ ব্যবহার করেন মোদী। তিনি বলেন, তরুণদের ভাষায় এসআরসিসির প্রাক্তনীরাই আসল ওজি। তাঁদের সাফল্য শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও তাঁরা প্রতিষ্ঠানের গৌরব বাড়িয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে দেশের যুব সমাজের সঙ্গে সরাসরি মত বিনিময়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মোদী বলেন, তিনি তরুণদের স্বপ্ন, তাঁদের সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের নিজেদের মুখ থেকে শুনতে চান। সেই লক্ষ্যেই বিজেপির তরফে জেন জি-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।এসআরসিসির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে মেট্রোয় সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়। ফলে একই দিনে মেট্রো থেকে শুরু করে এসআরসিসির মঞ্চদুই জায়গাতেই যুব সমাজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ নিয়ে বিশেষ নজর পড়ে।এসআরসিসির শতবর্ষ উপলক্ষে এর আগেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এপ্রিল মাসে কলেজের শতবর্ষ স্মরণে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এ দিনের অনুষ্ঠানে এসআরসিসিকে জাতীয় কর্পোরেট পরিচালন কেন্দ্রের মর্যাদা পাওয়ার জন্যও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই স্বীকৃতি পাওয়া একমাত্র কলেজ এসআরসিসি। শতবর্ষের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি, যুব সমাজ নিয়ে তাঁর বক্তব্য এবং প্রাক্তনীদের ওজি বলে প্রশংসাসব মিলিয়ে এ দিনের অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধ থামাতে মস্কোয় ট্রাম্পের দুই দূত! তার মধ্যেই তিন দিনের জন্য হামলা বন্ধ করল রাশিয়া

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ফের তৎপর আমেরিকা। সেই লক্ষ্যেই শনিবার মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। তাঁদের সফরের মধ্যেই বড় ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী তিন দিন ইউক্রেনে কোনও হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছে মস্কো।রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ এই সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বার বার আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে বড় কোনও সমাধান হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই ফের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা শুরু করেছে আমেরিকা।এর আগে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক বার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের মস্কো সফরকে নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ হিসাবেই দেখা হচ্ছে।শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, মার্কিন দূতেরা রাশিয়া সফরে থাকাকালীন কিয়েভের তরফে কোনও বিমান হামলা চালানো হবে না। একই সঙ্গে মস্কোকেও একই পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি। জেলেনস্কি বলেন, আলোচনা এবং মার্কিন দূতদের সফর সুষ্ঠু ভাবে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া উচিত।এর পরেই শনিবার রাশিয়ার তরফে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়। পুতিনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই তিন দিনের বিরতি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পরিণত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।জানা গিয়েছে, স্থায়ী ভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় গিয়েছেন স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। সেই প্রস্তাবে ঠিক কী রয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে এই সফরকে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী রবিবার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন দূতদের। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা। ফলে মস্কো এবং কিয়েভদুই জায়গাতেই আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর পথ খোঁজা হচ্ছে।তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগেও ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার কিয়েভের নিরাপত্তা পরিষেবার সদর দফতর-সহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে মস্কোর বিরুদ্ধে। পাল্টা রাশিয়ার ভূখণ্ডেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন।এই পরিস্থিতিতে পুতিনের তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই বিরতি কতটা কার্যকর হয় এবং এর পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কতটা এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

পহেলগাঁওয়ের সেই হামলার নেপথ্যে কে? কাশ্মীরে সেনার গুলিতে লস্কর কমান্ডার ইয়াসিরের মৃত্যু

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার স্মৃতি এখনও দেশবাসীর মনে তাজা। এর মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে লস্কর-ই-তইবার কমান্ডার ইয়াসির নিহত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পহেলগাঁও হামলার অন্যতম চক্রী হিসেবে তার নাম উঠে এসেছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।সূত্রের খবর, কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় ইয়াসিরের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়েছিলেন নিরাপত্তাবাহিনীর গোয়েন্দারা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ইউসমার্গের জঙ্গলঘেরা পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু করে সেনার বিশেষ বাহিনী এবং ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস।তল্লাশি অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে ইয়াসিরের গুলির লড়াই শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইয়াসির গুলি চালায় বলে সূত্রের দাবি। পাল্টা জবাব দেয় সেনাও। বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলার পর ইয়াসির নিহত হয় বলে খবর।সূত্রের আরও দাবি, পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী হিসেবে পরিচিত সুলেমান মুসার গোষ্ঠীর সঙ্গে ইয়াসিরের যোগাযোগ ছিল। সে ওই গোষ্ঠীর সদস্যও ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রায় এক বছর আগে সেই গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে যায় ইয়াসির। এরপর আলাদা ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াসির নিরাপত্তাবাহিনী ও গোয়েন্দাদের নজরে ছিল বলে সূত্রের খবর। তার গতিবিধি এবং যোগাযোগের উপর নজর রাখা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত বুদগামের জঙ্গলঘেরা এলাকায় অভিযানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ইয়াসিরের সঙ্গে আর কার কার যোগাযোগ ছিল, তার নেটওয়ার্ক কতটা ছড়িয়েছিল এবং পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে তার ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তার যোগাযোগের সূত্র ধরে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।এর আগে গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে সেনার অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে জানা যায়। নিহতদের মধ্যে সুলেমান মুসা এবং তার দুই সঙ্গী ছিল বলে সূত্রের খবর। পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে ওই জঙ্গিদের যোগ থাকার অভিযোগও উঠেছিল।ইয়াসিরের মৃত্যুর পর পহেলগাঁও হামলার তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। তার যোগাযোগ এবং জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত এগোলে হামলার নেপথ্যের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
শিক্ষা

‘শিক্ষাষ্টকম্’ মডেলের জাতীয় স্বীকৃতি, জাতীয় সম্মানে সম্মানিত পূর্ব বর্ধমানের জেলা শিক্ষা আধিকারিক

আনন্দ, সৃজনশীলতা আর সামগ্রিক বিকাশবিদ্যালয় শিক্ষার এই নতুন ভাবনাই এবার পেল জাতীয় স্বীকৃতি। পূর্ব বর্ধমানের জেলা শিক্ষা আধিকারিক পৌষালী চক্রবর্তীর পরিকল্পিত শিক্ষাষ্টকম্ মডেল জাতীয় স্তরে পুরস্কৃত হল। বিদ্যালয়কে শুধু পুঁথিগত শিক্ষার জায়গা না রেখে শিশুদের আনন্দ, সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগই এনে দিল এই বিশেষ সম্মান।৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর সভাগৃহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পৌষালী চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার ও শংসাপত্র। পূর্ব বর্ধমানের শিক্ষাক্ষেত্রে এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।শিক্ষাষ্টকম্ মডেলের মূল ভাবনা হলবিদ্যালয়ের সঙ্গে পড়ুয়াদের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে তোলা এবং শিক্ষার পরিবেশকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে কোনও পড়ুয়া মাঝপথে স্কুলছুট না হয়। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা কমানো এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।এই মডেলটি গড়ে উঠেছে আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর। ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রয়েছে পরিবেশ সচেতনতা, ডিজিটাল শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন বা স্কিলিং, শিক্ষাগত সহায়তা, স্বাস্থ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র পরীক্ষার ফল নয়একজন পড়ুয়ার সার্বিক বিকাশকেই এখানে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হয়েছে।এই মডেলের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিসরে এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে পড়ুয়ারা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাবে, আনন্দের সঙ্গে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। একইসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামাজিক সচেতনতার যোগসূত্রও তৈরি করছে শিক্ষাষ্টকম্।জাতীয় স্বীকৃতি পাওয়ার পর পৌষালী চক্রবর্তীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে এই উদ্যোগের নেপথ্যে থাকা সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা। তিনি বলেন, জেলাশাসকের সহযোগিতা না পেলে এই পুরস্কার আমরা পেতাম না। বিদ্যালয় পরিদর্শক থেকে শিক্ষকরা সবাই সঙ্গ দিয়েছেন। তাই এই পুরস্কার সবার সঙ্গেই ভাগ করে নিয়েছি।তবে জাতীয় সম্মানের আনন্দের মধ্যেও তাঁর নজর রয়েছে আরও বড় লক্ষ্যের দিকে। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ রোধের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও এখনও যে পথ অনেকটা বাকি, তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাল্যবিবাহ রোধ করতে পেরেছি অনেকটা। পুরোটা তো পারিনি। চেষ্টা করব আগামীতে শূন্য বাল্যবিবাহ করার জন্য।একদিকে স্কুলছুট রোধ, অন্যদিকে পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করে তোলা, তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার বিকাশ এবং সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতাএই সমস্ত লক্ষ্যকে একসূত্রে বেঁধেছে শিক্ষাষ্টকম্। আর সেই ভাবনাই এবার দিল্লির মঞ্চে পেল জাতীয় স্বীকৃতি। পূর্ব বর্ধমানের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই সম্মান তাই শুধু একজন আধিকারিকের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিদর্শক, প্রশাসন এবং পড়ুয়াদের সম্মিলিত প্রয়াসেরও স্বীকৃতি।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

এক মাসে ৮৯ শিশুর মৃত্যু! মালদহ মেডিক্যালে বড় পদক্ষেপ, সরানো হল হাসপাতালের সুপারকে

মালদহ মেডিক্যাল কলেজে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দপ্তর। বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সামনে আসার পর হাসপাতালের সুপার তথা এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি, প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর কারণ আলাদা ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কয়েক দিন আগে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এক দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, সরকারি হাসপাতালে কী ভাবে এত শিশুর মৃত্যু হল।এর পরেই স্বাস্থ্যভবনের তরফে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যায়। তদন্তের পরে তৈরি করা রিপোর্টে এক মাসে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৮৯ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান প্রলয় আচার্য জানিয়েছিলেন, শিশুমৃত্যুর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তদন্তে অপুষ্টিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা, জন্ডিস এবং কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে।বিশেষজ্ঞ দলের তরফে জানানো হয়েছিল, শিশুমৃত্যুর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পরেই এবার স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে পদক্ষেপ করা হল।শিশুমৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা আলাদা ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর। কোন শিশুর কী শারীরিক সমস্যা ছিল, হাসপাতালে কখন ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসার সময় কী পরিস্থিতি ছিল, সেই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।মালদহ মেডিক্যাল কলেজে এক মাসে এত শিশুমৃত্যুর তথ্য সামনে আসার পরেই হাসপাতালের পরিষেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে একাধিক চিকিৎসাগত ও শারীরিক কারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।এখন প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর পৃথক তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই গোটা পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ধস, আরও বড় বিপদ সামনে? গঙ্গা-পদ্মা মিশে গেলে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে বহু এলাকা!

নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ধসের জেরে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ কার্যত ব্যাহত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মেরামতের কাজ চলছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আজকের মধ্যেই রেললাইনের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ধসের ঘটনায় শুধু রেল যোগাযোগ নয়, ফরাক্কার ভাঙন নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।নিউ ফরাক্কা রেলস্টেশনের কাছে রেললাইনের এক দিকে রয়েছে ভাগীরথী বা হুগলি নদীর প্রবাহ, অন্য দিকে রয়েছে গঙ্গার মূল স্রোত বা পদ্মার দিক। স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের জায়গা হল, এই দুই জলধারার মধ্যের স্থলভাগের দূরত্ব এখন প্রায় দেড় কিলোমিটার বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।নদীভাঙন আরও বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে এই স্থলভাগের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গঙ্গা ও পদ্মার জলধারা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও দাবি বিশেষজ্ঞের।নদী বিশেষজ্ঞ কৌশিক চক্রবর্তীর দাবি, ফরাক্কা বাঁধ তৈরি হওয়ার পর থেকেই নদীর জলপ্রবাহ এবং চর তৈরির ক্ষেত্রে নানা পরিবর্তন দেখা যায়। তাঁর মতে, জল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাংলাদেশে জল সরবরাহ এবং ১৯৯৬ সালের জলচুক্তির পর পরিস্থিতির পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, এরপর নদীর গতিপথে চর তৈরি হওয়া এবং নীচের দিকে জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা যায়। কয়েক বছর পর থেকেই ভাঙন ভয়াবহ আকার নেয়।নিউ ফরাক্কার কাছে ভাঙন আরও বাড়লে তার প্রভাব শুধু রেললাইনের উপরেই পড়বে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মধ্যে রেল ও সড়ক যোগাযোগও দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে। ধুলিয়ান, বল্লারপুরের মতো এলাকাও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞের দাবি।রেললাইন মেরামত করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও নদীভাঙন ঠেকানো না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ নদীভাঙনের জেরে বসতি, রাস্তা, রেলপথ এবং চাষের জমি একসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।গঙ্গা ও পদ্মার জলধারা সত্যিই এক জায়গায় মিশে যাবে কি না, তা নিয়ে অবশ্যই আরও বিস্তারিত সমীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে নিউ ফরাক্কার কাছে নদীভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি যে উদ্বেগের, সে বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।কৌশিক চক্রবর্তীর দাবি, ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে ওই এলাকার ভৌগোলিক চরিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু জমি বা নদীর উপর সীমাবদ্ধ থাকবে না, সরাসরি অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।ফলে নিউ ফরাক্কার রেললাইন মেরামত হয়ে গেলেই যে গোটা সমস্যা মিটে যাচ্ছে, তা নয়। আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নদীভাঙন কী ভাবে ঠেকানো হবে এবং গঙ্গা-পদ্মার মাঝের বিস্তীর্ণ স্থলভাগকে কী ভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

চার বছর পর ফের অন্ধকারের আশঙ্কা? কয়লার মজুত তলানিতে, উৎসবের মরশুমে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা

চার বছর বাদে ফের কি বড় বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশে? কয়লার সরবরাহে সমস্যা এবং বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশের একাধিক বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম কয়লা মজুত রয়েছে বলে খবর।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বরের হিসাব বলছে, দেশের ৫০টি বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত সীমার মাত্র ৪৮ শতাংশ কয়লা মজুত রয়েছে। এই পরিমাণ কয়লায় বড়জোর ৯ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো সম্ভব বলে জানা গিয়েছে। ফলে কয়লার সরবরাহ দ্রুত না বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার ঘাটতির পিছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রথমত, আগস্ট মাসে প্রবল গরমের কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে।দ্বিতীয়ত, বর্ষার কারণে কয়লা উত্তোলন এবং সরবরাহে সমস্যা হয়েছে। এর ফলে দেশের সবচেয়ে বড় ৫০টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার মজুত কমেছে বলে খবর। বর্তমানে ওই কেন্দ্রগুলিতে প্রায় ২ কোটি ৮২ লক্ষ টন কয়লা রয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী মজুত থাকার কথা প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লক্ষ টন। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় মজুত অনেকটাই কম।এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কয়লার সরবরাহ না বাড়ানো হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ বার ২০২২ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এবার সেপ্টেম্বরে উৎসবের মরশুমে চাহিদা আরও বাড়লে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কয়লার গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি। মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আসে বলে জানা যায়। ফলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার সরবরাহ ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। কয়লার জোগানে দীর্ঘ সময় সমস্যা হলে তার প্রভাব সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর পড়তে পারে।তবে এখনই দেশে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মানতে চাইছে না কয়লা মন্ত্রক। মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লা সরবরাহের উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আন্তঃমন্ত্রক বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে।প্রয়োজনে কয়লা আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে বলে মন্ত্রক সূত্রে খবর। উৎসবের মরশুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে যাতে সরবরাহে বড় কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য আগেভাগেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।তবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার মজুত কম থাকা এবং সামনে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাএই দুই বিষয় একসঙ্গে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন দ্রুত কয়লার জোগান বাড়ানো যায় কি না, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal