• ৮ কার্তিক ১৪৩৩, মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Burdwan

রাজ্য

Municipal Administrator: বর্ধমানের পুর-প্রশাসক পদে প্রাক্তন সাংসদ, তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বর্ধমান পৌরসভার পুর-প্রসাশক পদে বদল। চিট-ফান্ড মামলায় বর্ধমান পৌরসভার পুর-প্রশাসক প্রনব চট্টোপাধ্যায়-এর সিবিআই গ্রেপ্তারির কারণে পুর-প্রসাশকের পদে বদল আনা হল। সোমবার আসানসোল সিজিএম আদালতে তোলার পর প্রনব চট্টোপাধ্যায়কে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এই মামলার পরবর্তী শুনানি চলতি মাসের ২৭ তারিখ হবে বলে জানানো হয়। মঙ্গলবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বদলের কথা জানান। তবে বাকি সদস্যদের কোনও বদল হচ্ছে না এই মুহুর্তে।আরও পড়ুনঃ ভুঁইফোর বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার মামলায় গ্রেফতার বর্ধমান পৌরসভার প্রশাসকপ্রনব চট্টোপাধ্যায়পর জায়গায় নিয়ে আসা হল প্রক্তন সাংসদ মমতাজ সঙ্ঘমিতা-কে। মমতাজ সঙ্ঘমিতা পেশায় ডাক্তার ও অধ্যাপক। তিনি ২০১৪-২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বর্ধমানদুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। মমতাজের স্বামী ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রক্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। তাঁর স্বামী নুরে আলম চৌধুরি ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বীরভূম জেলার মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন।মমতাজ সঙ্ঘমিতামমতাজ সঙ্ঘমিতার পিতা ছিলেন মনসুর হবিবুল্লাহ, তিনি ব্রামফন্ট সরকার পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার এবং প্রাক্তন আইনমন্ত্রী ছিলেন। ছোট থেকেই মার্ক্সবাদী আদর্শে বেড়ে ওঠা। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পরই তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন।আরও পড়ুনঃ সোমবারের তুলনায় আরও নামল পারদ, মরশুমের শীতলতম মঙ্গলবারপ্রনবকে অপসারিত করে মমতাজের স্থলাভিষিক্ত হওয়ায় মিশ্র পতিক্রিয়া শহরজুড়ে। সাধারণ মানুষের অনেকের-ই বক্তব্য প্রশাসক ও সহ-প্রসাশক দুটি পদেই বামফ্রন্ট-এর প্রক্তনীর লেবেল। তাহলে কি বর্ধমান শহরে আদি যোগ্য তৃণমূল নেতার অভাব? তৃণমূল নেতা সুজিত কুমার ঘোষকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জনতার কথা-কে বলেন, দল যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই শেষকথা। আমরা দলের অনুগত সৈনিক, দলের আনুশাসন মেনেই আমরা চলব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমর্থক জানান, এই সিদ্ধান্ত দলের বিরুদ্ধেই যাবে। সাংসদ হিসাবে তিনি চুড়ান্ত ব্যর্থ ছিলেন বলেই দ্বিতীয়বার তিনি পরাজিত হন বিজেপি পার্থীর কাছে। আবার দলের একাংশের বক্তব্য, মমতাজ সাংসদের দ্বায়িত্ব সামলে এসেছেন, বর্ধমান পৌরসভার কাজ করতে তাঁর কাছে খুব একটা সমস্যা হবে না।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২১
রাজ্য

CBI: ভুঁইফোর বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার মামলায় গ্রেফতার বর্ধমান পৌরসভার প্রশাসক

গ্রেপ্তার হলেন বর্ধমান পুরসভার প্রশাসক প্রণব চট্টোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, গতকাল রাতে সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করে। একটি ভুঁইফোর বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার মামলায় প্রণব চট্টোপাধ্যায়ের (ক্ষুদু) নাম জুড়ে যায়। সেই মামলাতেই তাঁকে বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আজ শুক্রবার সকালে আসানসোল সিবিআই কোর্টে তাঁকে তোলা হয়। এর সাথেই সিবিআইয়ের একটি দল হানা দিয়েছে বর্ধমানে প্রণবের বসতবাড়ি ও ঢলদিঘি সংলগ্ন তাঁর অফিসে। তাঁর অফিসেও দীর্ঘক্ষন তল্লাসি চালায় তদন্তকারি দলটি। সূত্র মারফত জানা যায় বর্ধমান সানমার্গ নামক একটি ভুঁইফোর বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই বর্ধমান পুরসভার বর্তমান প্রশাসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ওই বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থাটি তাঁর ঢলদিঘি অফিসে কিছুদিন ভাড়া ছিল। স্থানীয়দের ধারনা সে কারণেই হয়ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিয়ে গেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের সায়াহ্নে এসে মাত্র চার মাস আগে বর্ধমান পুরসভার প্রশাসক হিসেবে দ্বায়িত্ব পান প্রণব চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার প্রণবকে আসানসোল সিজিএম আদালতে তোলা হলে তাঁকে তিন দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ নিয়েছে আদালত।

ডিসেম্বর ১০, ২০২১
রাজ্য

BJP-TMC: এক ফ্রেমে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও বর্ধমানের তৃণমূল বিধায়ক, জল্পনা শুরু রাজনৈতিক মহলে

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বের হওয়ার পর থেকেই বিজেপি থেকে তৃণমল কংগ্রেসে যোগদানের হিরিক পড়ে গিয়েছে। রাজ্য স্তর থেকে জেলা স্তরে চলছে যোগদান পর্ব। এদিকে বর্ধমানে এক অনুষ্ঠানে জেলা বিজেপির এক নেতা পুষ্পস্তবক তুলে দিচ্ছেন তৃণমূল বিধায়কের হাতে। সৌজন্য়মূলক দৃশ্য মনে হলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে ছবিকে ঘিরে। ছবিটি নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন স্বয়ং অঞ্জন মুখোপাধ্যায়।সম্প্রতি বর্ধমানে এক অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, তৃণমূল নেতা ইন্তেকাব আলম ও শিবশঙ্কর ঘোষ। ওই অনুষ্ঠানে তৃণমূল বিধায়কের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন বিজেপি নেতা অঞ্জন মুখোপাধ্যায়। যদিও এই অনুষ্ঠান ছিল বর্ধমান ডিজ-এবেল্ড ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে। তবু দুই বিপরীত প্রান্তের রাজনৈতিক নেতৃত্ব হাজির থাকায় বিতর্ক সামনে এসেছে। তৃণমূল বিধায়ক ও অন্য তৃণমূল নেতারাই ছিলেন মঞ্চ আলো করে। তবে একাংশের বক্তব্য, উন্নয়ন যজ্ঞে এমন রাজনৈতিক সৌজন্য থাকাটাই স্বাভাবিক।২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন অঞ্জন মুখোপাধ্যায়। এর আগে তিনি ছিলেন আরএসপির যুব সংগঠনের রাজ্য নেতা। এবার তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে তাঁকে এক ফ্রেমে দেখা যাওয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বর্ধমানের একাধিক বিজেপি নেতা ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ গোয়ার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে চোটআঘাতে জর্জরিত এসসি ইস্টবেঙ্গলআরও পড়ুনঃ জোরে বোলার থেকে স্পিনার, আজাজকে দারুণ উপহার ভারতীয় দলের

ডিসেম্বর ০৬, ২০২১
রাজ্য

BMC: "বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঢোকার মুখে টোটোর দৌরাত্ম্য", ক্ষোভপ্রকাশ মন্ত্রীর

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান হওয়ার পর আধিকারিকদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরে নিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। রবিবার মন্ত্রী জানিয়ে দেন আগামি ৮ ডিসেম্বর রোগী কল্যান সমিতি প্রথম অফিসিয়াল বৈঠকে বসবে। এদিনের বৈঠকে হাসপাতালের সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে অবগত হন স্বপন দেবনাথ। ওই দিন কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে তাও এদিন স্থির হয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভুত উন্নতি করেছে। একথা বলেও স্বপন দেবনাথ জানিয়ে দেন, এখনও বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। স্বপন দেবনাথ বলেন, উন্নত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজ অব্যাহত থাকলেও তবু তো কিছু খামতি আছে, ঘাটতি আছে বেশ কিছু জায়গায়। সেগুলো নিয়ে আগামি ৮ তারিখের বৈঠকে আলোচনা হবে। এদিন আলোচনায় শিশু বিভাগ, এক্সরে, এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে ঢোকার মুখে টোটোর দৌরাত্ম্য রয়েছে। টোটোর জন্য হাসপাতালের প্রিন্সিপ্যাল পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যেতে পারছেন না। তাঁকে নেমে রাস্তায় যানজট সরাতে হচ্ছে। রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে ঢুকতে পারছে না। এখানে যানজট একটা বড় সমস্যা। এটা নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা দরকার। পিডব্লুডির সঙ্গেও কথা বলতে হবে।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২১
রাজ্য

Burdwan Municipality: লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে করোনা টিকাকরণ বর্ধমানে, চলছে শহর জুড়ে সার্ভে

সীমিত ক্ষমতার মধ্যে করোনা টিকাপ্রদানে রাজ্য খুব ভাল কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে দক্ষিণবঙ্গের বর্ধমান পুরসভা এলাকায় টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে চলছে দুয়ারে ভ্যাকসিন প্রকল্প। তাছাড়া শহরে যাঁরা এখনও করোনা ভ্যাকসিন নেননি তাঁদের খুঁজে বের করার জন্য সার্ভে করা হচ্ছে পুরসভার পক্ষ থেকে।করোনা সংক্রমণের নিরিখে এদিনও রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে কলকাতা। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুসারে রবিবার কলকাতায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৮ জন, তারপরই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায় ১৩০ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬২। গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১ জন। তার মধ্যে বর্ধমান শহরে মাত্র ১ জন। রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭১৫। এদিকে ওমিক্রণ ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সারা বিশ্বেই। যদিও রাজ্যে করোনা টিকারকরণের গতি অব্যাহত।বর্ধমানের উপ-পুরপ্রশাসক আইনুল হক বলেন, বর্ধমানে দ্রুত গতিতে চলছে কোভিড টিকাকরণের কাজ। ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছি। প্রথম ডোজে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লক্ষ ৬০ হাজার। এরইমধ্যে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ হয়েছে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার। শহরের বাইরের বহু মানুষ টিকা নিচ্ছেন। পুর এলাকায় এখন ২০টি টিকারকরণ শিবির চলছে। এর আগে ২৭টি শিবির ছিল। রাজ্যে যেন একজনও কোভিড টিকা থেকে বাদ না যায় সেকথা ঘোষণা করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনুল হক বলেন,, দুয়ারে ভ্যাকসিন প্রকল্পও শহরে চালু রয়েছে। অসুস্থ, শারীরিক ভাবে অক্ষম ও সিনিয়ার সিটিজেন-রা পৌরসভা-য় যোগাযোগ করলে আমাদের ভ্যাকসিন-ভ্যান তাঁদের বাড়ি গিয়ে টিকা দিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি একজনও কোভিড টিকাকরণ থেকে বাদ না পড়ে তার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করা হচ্ছে।

নভেম্বর ২৮, ২০২১
রাজ্য

Agriculture Act: কৃষি আইন বাতিল ঘোষণায় লাড্ডু বিতরণ বর্ধমানে

কেন্দ্রীয় কৃষি আইন বাতিল ঘোষণায় তৃণমূল সহ বিরোধী দলের নেতারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কৃষকদের অভিনন্দন জানাতে সোমবার বর্ধমানের বড়নীলপুর মেড়ে মানুষের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করা হয়। এই তিন আইন বাতিল করার জন্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বর্ধমানের তৃণমূল নেতা সুজিত ঘোষ।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন। অভিজ্ঞ মহলের মতে, আন্দোলনকারী কৃ্যক সংগঠন ও তৃণমূল কংগ্রেসের ক্রমাগত প্রতিবাদের ফলেই এই তিন কৃষি আইন বাতিল ঘোষণা করেছেন তিনি। সোমবার তৃণমূল নেতা সুজিত ঘোষ বলেন, আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যেপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাই। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় কালা কৃষি আইনের টানা প্রতিবাদ করেছেন। পথে নেমে তৃণমূল আন্দোলন করেছে। কৃ্যকদের কোনও সমস্যা হলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে ভাবে নির্দেশ দেবে সে ভাবেই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ব। আমরা কৃষকদের পাশে আছি। রাজ্য সরকার সবসময় কৃষকদের সঙ্গে থাকে। এদিকে দিল্লিতে আন্দোলনকারী কৃষকরা জানিয়ে দিয়েছে, শুধু মুখে ঘোষণা করলে হবে না কৃষি আইন বাতিলের পক্ষে সংসদে বিল আনতে হবে মোদি সরকারকে।

নভেম্বর ২১, ২০২১
রাজ্য

Tmc: অভিনেত্রী শুভশ্রীর বাবাকে হেনস্তা, স্কুলে স্যানিটাইজার টানেল বসানো নিয়ে তৃণমূলে বিবাদ

স্কুলে করোনা প্রতিরোধ করা নিয়েও দলীয় অন্তর্কলহ। সোমবার বর্ধমানে স্যানিটাইজার ট্যানেল বসানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যার ফলে আহত হয় তিন তৃণমূল কর্মী। তৃণমূল বিধায়ক প্রযোজক রাজ চক্রবর্তীর শ্বশুর তথা অভিনেত্রী শুভশ্রীর বাবা দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়কে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে বর্ধমান পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার মহম্মদ আলি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। দেবপ্রসাদবাবু নিজেকে চার নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেসের কনভেনার বলে দাবি করেছেন।জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকালে। দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়ের শ্যালিকা অনাবাসী ভারতীয় অনিতা গাটকারি স্থানীয় দুটি স্কুলে স্যানিটাইজার ট্যানেল দেবার জন্য মনস্থির করেন। সেই কারণে দেবপ্রসাদবাবু বর্ধমান শহরের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বর্ধমান দুবরাজদীঘি হাইস্কুল ও ছয় নম্বর ওয়ার্ডের রেলওয়ে বিদ্যাপীঠ স্কুলে যোগাযোগ করেন। দেবপ্রসাদবাবুর দাবি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই তার শ্যালিকা ও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার সকালে দুবরাজদীঘি হাইস্কুলে স্যানিটাইজার ট্যানেল বসাতে যান। অভিযোগ, তখন চার নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার মহম্মদ আলি ও তার ভাইপো তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা নুরুল আলম তাঁদের স্যানিটাইজার ট্যানেল লাগাতে বাধা দেয়। তাঁদের আপত্তি, ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি না নিয়ে কারও ব্যক্তিগত নামে স্যানিটাইজার ট্যানেল স্কুলে লাগানো যাবে না। এই নিয়ে বিবাদ চরমে ওঠে। এই বাগবিতণ্ডার মধ্যেই মহম্মদ আলি ও নুরুল আলমের নেতৃত্বে একদল তৃণমূল কর্মী তাঁদের উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, হাতে বন্দুক, লাঠি ও রড নিয়ে তাদের উপর আক্রমণ চালানো হয়। এই আক্রমণের মুখে পরে দেবপ্রসাদবাবুর সঙ্গে থাকা সেখ হায়দার আলি, সেখ খোকন, শশীরাম ও গোবিন্দা মাল নামে চার তৃণমূল কর্মী আহত হয়। স্যানিটাইজার ট্যানেলটিও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে দেবপ্রসাদ বাবু দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর শ্যালিকা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলে বলেছেন দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়।তাঁদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল আলম জানান, উনি কোনও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত একজনের নামে স্যানিটাইজার ট্যানেল লাগাতে এসেছিলেন। কোনও সরকারি স্কুলে কাজ করাতে গেলে ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। উনি তা না করে গায়ের জোরে এলাকায় নিজের কতৃত্ব কায়েম করতে এই কাজ করতে এসেছিলেন। তাই তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটিতে আলোচনা হবার পর স্যানিটাইজার ট্যানেল লাগানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিজেকে এই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বলেও দাবি করেন নুরুল আলম।যদিও এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নবকুমার মালিক জানিয়েছেন, দেবপ্রসাদবাবু আমার কাছে স্যানিটাইজার ট্যানেল লাগানোর জন্য লিখিত আবেদন করেছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে আমি ওনাকে এটি করতে বলেছিলাম। যেটা ঘটলো সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

নভেম্বর ১৫, ২০২১
রাজ্য

Durgapur: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা দুর্গাপুরে

চিকিৎসায় গাফিলতিতে মৃত্য়ুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুরে। মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলে। হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে মৃতের পরিবারের ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মৃতের পরিজনরা। পুলিশকে ঘিরে ধরে প্রবল দেখাতে থাকে। মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করতে থাকে পরিবারের লোকেরা। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্দুমার কান্ড ঘটে দুর্গাপুরের সোভাপুরের কাছে এক বেসরকারি হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার জেরে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশকে ঘিরে ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে দেয় মৃতের পরিবার-পরিজনরা। হাসপাতালের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে। ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে। ঠেলাঠেলি শুরু হয়ে যায় পুলিশের সঙ্গেও। হাসপাতালের গেটের সামনে বসে পড়ে প্রবল বিক্ষোভ শুরু করে দেয় মৃতের পরিবার পরিজনরা।মৃতের পরিবারের দাবি. যত ক্ষণ না চিকিৎসক আসছেন ততক্ষন তাঁরা বসে থাকবেন হাসপাতালের গেটের সামনে। এছাড়া তাঁরা ক্ষতিপূরণের দাবি করতে থাকেন। প্রবল বিক্ষোভের জেরে হাসপাতালে চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। বোঝাতে এলে পুলিশকে ঘিরে ধরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। গত ৮ নভেম্বর অন্ডালের কাজোড়ার কাজল মন্ডলকে বুকে ব্যাথা নিয়ে সোভাপুরের এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে ভর্তি করা হয় এই হাসপাতালে। অভিযোগ, বুধবার পর্যন্ত রুগী ভালো আছে বলে জানানো হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই হাসপাতাল থেকে খবর দেওয়া হয় রুগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, হাসপাতালে এসে দেখেন তাদেরকে প্রিয়জনের মৃত্য়ু হয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত চিকিৎসককে এসে ক্ষমা চাইতে হবে এই দাবিতে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয় হাসপাতাল গেটের সামনে, এরপরই শুরু হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসা, দু এক কথা হতে হতে শুরু হয়ে যায় ধস্তাধস্তি, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তাদেরকে ঘিরে ধরেও প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয় জনতার। গোটা ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে হাসপাতালের এক নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে উত্তপ্ত হয় হাসপাতাল চত্বর। দাবি ওঠে অবিলম্বে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। ফের চলতে থাকে বিক্ষোভ। পরিস্তিতির সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে দূর্গাপুর থানার পুলিশ। আটকে দেওয়া হয় হাসপাতালের বাকি রুগীদের পরিবার-পরিজনকে, পুলিশের মধ্যস্থাতায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও ক্ষতিপূরণ আর অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে চলতে থাকে বিক্ষোভ। মীমাংসা না হওয়া মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করে মৃতের পরিবারের সদস্যরা। প্রবল উত্তেজনা থাকায় হাসপাতাল চত্বরে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নভেম্বর ১১, ২০২১
রাজ্য

NEET: পূর্ব বর্ধমানের ফুল বিক্রেতার ছেলের সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক ২৫০১, মুখ উজ্জ্বল বাংলার

ফিজিকস ১৮০ মধ্যে ১৪৬, কেমিস্ট্রিতে ১৮০ মধ্যে ১৬৫, বায়োলজিতে ৩৬০ এর মধ্যে ৩৫০। পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার সেহারাবাজার সি কে ইনস্টিটিউশনের আকাশ পোদ্দারের সর্বসাকুল্যে প্রাপ্ত নম্বর ৭২০ মধ্যে ৬৬১। সর্বভারতীয় রেঙ্ক ২৫০১। পার্সেন্টাইল সর্বসাকুল্যে ৯৯.৮৪। হ্যাঁ নিট পরীক্ষায় আকাশের সাফল্যের খতিয়ান। সাফল্যের ধারাবাহিকতা অবশ্যই আছে। কেননা, ২০১৮ সালে মাধ্যমিকে আকাশের প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৭০০ মধ্যে ৬৭০, আর উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০০ মধ্যে ৪৮৬।কেউ ভাবতেই পারেন আকাশের সাফল্য ব্যতিক্রমী কেন? অবশ্যই ব্যতিক্রমী! কেননা সাফল্যের চূড়ায় উঠতে গেলে যে আনুষঙ্গিক অনুকূল পরিবেশের দরকার হয় আকাশের ক্ষেত্রে সেটা প্রায় ছিল না বললেই চলে! বাবা রায়নার সেহারাবাজার এর সামান্য একজন ফুল ব্যবসায়ী। স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ৫ জনের সংসার। দিনান্তে ফুল বিক্রি করে কটা টাকাই বা হয়। বিশেষ করে এই করোনাকালে সব অনুষ্ঠানই প্রায় বন্ধ। বন্ধ তাই ফুল কেনাও। বেঁচে থাকাটাই যাদের দুঃসহ ব্যাপার তাদের কাছে পড়াশোনা, সাফল্য এগুলো দিবাস্বপ্নের মতই। নুন আনতে পান্তা ফুরানো পরিবার না বললেও, শাক আনতে মাছ পুরানো পরিবার বলাই যায়। একাদশ শ্রেণিতে পাঠরত ভাইয়ের খরচাও তো কম নয়। তবুও অসম্ভব জেদ সঙ্গী করে হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যে স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড় টেনে সাফল্যের তীরভূমি তে পৌঁছে গেল আকাশ।পাঁচজনের দু-কামরা ঘরের একটি কোনই বরাদ্দ ছিল আকাশের পড়াশোনার জন্য। ইডেন গার্ডেন্সে যার খেলার ইচ্ছে তার প্র্যাকটিস ছোট্ট এক কানা গলিতে। একটি টিমটিমে লাইটের আলো, গোটা কতক পাঠ্যবই, জনা চারেক শিক্ষকের পরামর্শ আর বাবা মায়ের আশীর্বাদ পাথেয় করে আকাশের পথ চলা এবং সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া। নিশানায় অবিচল না থাকলে এই লক্ষ্যভেদ কখনোই সম্ভব নয়।বর্ধমান শহরের রাজা স্যার এবং সেহারাবাজার এর নীলlঙ্ক স্যারের কাছে কেমিস্ট্রি, বাঁকুড়ার আকুই গ্রামের প্রসেনজিৎ স্যারের কাছে ফিজিকস এবং বর্ধমান শহরেরই ২০০৭ এর ডাক্তারী পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম হওয়া কামিরুল ইসলামের শিক্ষিকা রুনু মুখোপাধ্যায়ের কাছে জুলজি ও বোটানি পড়েছে আকাশ। না, কোন অনলাইন বা অফলাইন কোচিং এর সঙ্গে যুক্ত ছিল না সে। অর্থ ছিল না, ছিলনা মানসিকতাও। তার কথায়, চারজন টিউশনি স্যার এবং বিদ্যালয়ের স্যারদের সাহায্য নিয়েই এই সাফল্য। স্যাররা না থাকলে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নই দেখতে পারতাম না। প্রথমদিকে পড়াশোনা সময় কম দিলেও শেষের দিকে ভীষণ রকমের পরিশ্রম করেছি। কোন কিছুর হিসেব করে নয়। প্রয়োজন মতো। বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা, জেঠু জেঠিমা দের আশীর্বাদ আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।ছাত্রের সাফল্যে স্বভাবতই খুব খুশি বায়োলজিক্যাল সাইন্স এর ম্যাডাম বর্ধমানের মালির বাগান এর রুনু মুখোপাধ্যায়। তিনি বললেন, হাই স্কুলের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বেদনা অনুভব করি না এই আকাশ দের জন্য। প্রতিবছরই বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী আমাদের পরামর্শ মেনে পরিশ্রম করে ডাক্তারি পড়ার ছাড়পত্র যোগাড় করে। এদের পাশে দাঁড়াতে পেরে বেশ আনন্দ হয়। আকাশের সাফল্য নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম। অত্যন্ত বিনয়ী ও অনুগত ছাত্র। ক্লাসের সময় শতকরা একশভাগ মনোযোগ দিত আর এটাই ওর সাফল্যের বড় দিক। ও অনেক বড় হবে। ওর কার্ডিওলজিস্ট হওয়ার স্বপ্ন যেন সফল হয়!পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত মাঠে যেত আকাশ। ক্যাপ্টেন হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি প্রথম পছন্দ হলেও, ক্রিকেটার হিসেবে তার আদর্শ ভারতীয় দলের হিটম্যান রোহিত শর্মা। প্রিয় গায়ক অরিজিত সিং এর গান শোনা এবং গাওয়া আকাশের আর এক শখ।প্রায় ৩৫ বছর আগে বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে রোজগারের একমাত্র বাহন ছোট্ট ফুলের দোকানটি করেছিলেন বাবা। বিয়ের সিজনে বা বিভিন্ন ধরনের পুজো-অনুষ্ঠানের সময়ে মাঝেমধ্যে আকাশকেও বাবার দোকানে বসতে হতো। ফলের আসায় ফুল বিক্রি! দুর্মূল্যের বাজারে সামান্য রোজগারে শিক্ষাদিক্ষা, খাওয়া পরা ও রোগ ব্যাধির ব্যালেন্স করা দুরূহ ব্যাপার। তাই জীবনটাকে অন্যরকমভাবে অনুভব করেছে সে।ডাক্তারিকে পেশা হিসেবে পছন্দ করার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই বললো, আমি আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান। আমাদের মত পরিবারগুলির কি কষ্ট আমরা জানি। চিকিৎসার খরচও প্রচুর। আমি চাই কোন গরিব মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। ডাক্তার হয়ে আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। সর্বোচ্চ শিক্ষা নিয়ে নিজের গ্রামে ফিরে আসবো। আর্থিক দারিদ্রতার মতো কঠিন বাস্তবের সামনে দাঁড়িয়েই আমার এই ডাক্তারি পড়ার সিদ্ধান্ত। গরিব পরিবারের ছেলে মেয়েদের জন্য আমার বার্তা শুধু বই পড়ে যাও। স্কুলের স্যারেরা সাহায্য করবেনই। লক্ষ্যে স্থির থাকো। পরিশ্রম করে যাও। হতাশ নাহলে লক্ষ্যভেদ হবেই।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী তাহলে কার্ডিওলজি? অবশ্যই! ট্রাকে থাকছি। দৌড়ানো বন্ধ করছি না। আমাদের তো একটাই রাস্তা। আকাশের দিকে তাকিয়ে আকাশের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিকূলতার মেঘ সরিয়ে ফুলের সুগন্ধের মতই আকাশের ঝলমলে হাসি ছড়িয়ে পড়ল চতুর্দিকে।শ্রী অনিবার্য

নভেম্বর ০৭, ২০২১
রাজ্য

Rabiranjan: প্রয়াত বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, ছিলেন বিডিএ-র চেয়ারম্যান

প্রয়াত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ছিলেন রাজ্যের কারিগরী শিক্ষা, বিজ্ঞান ও জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী। ২০১১ সালে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় সিপিএমের দাপুটে নেতা নিরুপম সেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছিলেন। তারপর ২০১৬-তে ফের এই কেন্দ্র থেকে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০২১-এ তাঁকে টিকিটই দেয়নি দল। তবে তিনি বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান পদে ছিলেন দীর্ঘ দিন।জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রবিরঞ্জনবাবু হাই সুগার ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থার কারণে কলকাতায় বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসারত অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে বর্ধমানে। শোকজ্ঞাপন করেছেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন তিনি।

নভেম্বর ০২, ২০২১
রাজ্য

Raids for Crackers: পূর্ব বর্ধমানে অভিযান চালিয়ে প্রচুর বাজি উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার ৪

কালীপুজো ও দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো ও বিক্রি রুখতে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রচুর শব্দবাজি উদ্ধার করার পাশাপাশি ৪ জন বাজি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাজ্যের সর্ব্বোচ্চ আদালত যে কোনও ধরণের বাজি বিক্রি ও পোড়ানো নিষিদ্ধ করছে। শুধুমাত্র প্রদীপ অথবা মোমবাতি জ্বেলে দীপাবলি পালন করায়ছাড় দিয়েছে আদালত। আদালতের সেই নির্দেশ কার্যকর করতে শুক্রবার অভিযান আরও জোরদার করলো পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার মেমারি থানার পুলিশ মেমারির গৌরীপুরের একটি বাজি কারখানায় হানা দিয়ে দুটি বস্তায় মজুত করে রাখা ৫০ কেজি শব্দ ও আতসবাজি উদ্ধার করেছে।এছাড়াও ওই কারখানা থেকে ৫০ কেজির বেশি বাজি তৈরির উপকরণও পেয়েছে। উদ্ধার হওয়া সবকিছু বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি পুলিশ অবৈধভাবে বাজি তৈরির অভিযোগে ওই কারখানার মালিক বাদল মুর্মুকে গ্রেপ্তার করেছে। একই দিনে শক্তিগড় থানার পুলিশ একটি দোকানে হানা দিয়ে ৫ কেজি শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করেছে। নিষিদ্ধ বাজি বিক্রির অভিযোগে পুলিশ জগন্নাথ খাঁ ও বনমালি হালদার নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও জেলার মাধবডিহি থানার পুলিম বৃহস্পতিবার রাতে বিনোদপুর এলাকার নিতাই মণ্ডলের বাড়িতে হানা দিয়ে ২ কেজি লঙ্কা বাজি, ১০টি গাছ বাজি, ২৫০টি শব্দবাজি ও ১৫টি তুবড়ি বাজি উদ্ধার করেছে। পুলিশের দাবি, বাজি বিক্রি সংক্রান্ত বৈধ কোনও নথিপত্র ধৃতদের কেউই দেখাতে না পারার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ শুক্রবার ধৃতদের পেশ করে বর্ধমান আদালতে। জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় সিজেএম যদিও ধৃত সকলের জামিন মঞ্জুর করেন।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
রাজ্য

Road Rollers : চারটে রোড রোলার গায়েব, ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো বর্ধমান পৌরসভার অন্দরে

এক আধটা নয়। গায়েব হয়ে গিয়েছে বর্ধমান পৌরসভার চার চারটে রোড রোলার। যা জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান পৌরসভার প্রশাসনিক মহলে। বর্ধমান পৌরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান প্রণব চট্টোপাধ্যায়ও রোড রোলার গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। কারা গায়েব করলো পৌরসভার রোড রোলার? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পৌরসভার অন্দরে।নতুন প্রশাসকমণ্ডলী বর্ধমান পৌরসভার দায়িত্ব নেয় মাস দুয়েক আগে। তারপর থেকে শহর জুড়ে শুরু হয়েছে বকেয়া থাকা বেশ কিছু কাজ। শুধু তাই নয়। পৌরসভার অনেক আর্থিক হিসেবনিকেশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবারের বারবেলায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পৌছায় পুরসভার গোডাউনে থাকা চারটি রোলারই গায়েব হয়ে গিয়েছে।পুর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান প্রণব চট্টোপাধ্যায় এদিন চারটি রোলার গায়েব হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে নেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রোড রোলার তো আর পকেটে ভরে নিয়ে যাওয়ার জিনিস নয়। আইনি পথেই এর বিহিত করা হবে। চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, আগামী শনিবারের মধ্যেই এর তত্বতালাশ তাঁরা করে ফেলবেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন প্রশাসক বোর্ড দায়িত্ব নেবার আগে প্রায় তিনবছর সরকারি আধিকারিক বর্ধমান পৌরসভা চালিয়েছেন। এর আগে পাঁচ বছর বর্ধমান পৌরসভার ক্ষমতায় ছিল শাসকদলের বোর্ড।এই বিষয়ে জেলার বিজেপি নেতা সন্দীপ নন্দী কটাক্ষ করে বলেন, এরপর বর্ধমান শহরের নাগরিকরা কোনওদিন শুনবেন গোটা বর্ধমান পৌরসভাটাই গায়েব হয়েগেছে। বর্ধমান পৌরসভায় দীর্ঘদিন যাবৎ দুর্নীতিরাজ চলছে। এখন আবার রোড রোলারও চুরি হয়ে যাচ্ছে। পৌর নির্বাচনে বর্ধমানের মানুষ এইসব ঘটনার যোগ্য জবাব দেবেন বলে সন্দীপবাবু দাবি করেছেন।

অক্টোবর ২৮, ২০২১
রাজ্য

Crime: সোনা-রুপো ও টাকা ছিনতাই গলসিতে, উদ্ধার মুর্শিদাবাদে, গ্রেফতার চার

স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে থাকা সোনা,রুপো ও নগদ টাকা ভর্তি ব্যগ ছিনতাই করে পালানোর ঘটনায় গ্রেফতার হল চার দুস্কৃতী। পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার পুলিশ মুর্শিদাবাদের সালার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে ওই চার দুস্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা হল মহম্মদ আলি শেখ ওরফে কচি, জিয়ারুল শেখ, রতন শেখ ও বিপ্লব কর্মকার। ধৃতদের মধ্যে রতন ও বিপ্লব মুর্শিদাবাদের সালার থানা এলাকার বাসিন্দা। অপর দুই ধৃতদের মধ্যে কচি গলসির শশঙ্গা ও জিয়ারুল ভাতার থানার বামশোর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি ধৃতদের কাছ উদ্ধার হয়েছে ৫১ গ্রাম সোনা, ২.৫ কেজি রুপো ও নগদ ২ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা।সুনির্দিষ্ট ধারার মামলা রুজু করে পুলিশ রবিবার চার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে টিআই প্যারেডেরও আবেদন জানায়। বিচারক ধৃতদের জেল হেপাজতে পাঠিয়ে ৬ নভেম্বর ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ধৃতদের টিআই প্যারেড করানোর আবেদনও বিচারক মঞ্জুর করেছেন।পুলিশ জানিয়েছে, গলসির ছালালপুর এলাকার বাসিন্দা সওকত মোল্লা ওরফে স্বপন পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী। গলসির ভুঁড়িডাঙ্গা এলাকায় তাঁর একটি গয়নার দোকান রয়েছে। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৭৫ মিনিট নাগাদ সওকত মোল্লা তাঁর দোকান বন্ধ করে বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগে ৪ ভরি সোনার অলংকার, ৩ কেজি রুপো ও নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিল। রাত ৮ টা নাগাদ তিনি যখন ছালালপুরের মোরাম রাস্তা ধরে যাচ্ছিলেন তখন দুই দুস্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। ভয় দেখিয়ে দুস্কৃতিরা ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা সোনা, রুপো ও টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে বাইকে চেপে পালায়। এই খবর পাবার পরেই নড়েচড়ে বসে গলসি থানার পুলিশ। বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং চালিয়ে পুলিশ ওই দুস্কৃতীদের লোকাল ইনফরমার ইব্রাহিম মল্লিক ওরফে স্বপন নামে এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ওই দুই ছিনতাইকারীসহ তাঁদের গ্যাংটিকে চিহ্নিত করে।তদন্ত চালিয়ে পুলিশ এও জানতে পারে ছিনতাইকারীরা মুর্শিদাবাদের সালার এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে। এরপর সালারে অভিযান চালিয়ে পুলিশ কয়েক দফায় ছিনতাইকারী গ্যাংয়ের চার জনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকেই উদ্ধার হয় ছিনতাই হওয়া সোনা, রুপো ও নগদ টাকা। ঘটনার ৭২ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ ছিনতাইকারীদের জালে পোরায় স্বস্তিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

অক্টোবর ২৪, ২০২১
রাজ্য

Murder: রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার নিখোঁজ যুবকের মৃতদেহ

রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার হল নিখোঁজ এক যুবকের মৃতদেহ। এই ঘটনা জানাজানি হতেই শুক্রবার চাঞ্চল্য ছড়ায় পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ১ ব্লকের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়। মৃতর নাম শাহাজান শেখ(৩৩)। তাঁর বাড়ি স্থানীয় নসরতপুর পঞ্চায়েতের পারুলডাঙ্গা গ্রামের পূর্বপাড়ায়। ময়নাতদন্তের জন্য এদিনই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন যুবককে প্রাণে মেরে দিয়ে কেউ রেল লাইনের ধারে ফেলে দিয়ে পালিয়েছে। পুলিশ যুবকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।আরও পড়ুনঃ আরপিএফের বিরুদ্ধে জুলুমবাজির অভিযোগ, প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন পূর্বস্থলীর ব্যবসায়ীরাপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় তাঁত শ্রমিক ছিলেন শাহাজান শেখ। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও চার শিশু সন্তান ছাড়াও অন্য সদস্যরা রয়েছেন। পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে শাহাজান বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেনি। সারারাত নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার সকালে রেল লাইনের ধারে শাহাজানের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পড়ে থাকে। সেই খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে মৃতদেহ শনাক্ত করেন। মৃতের ভাই আহম্মদ শেখ জানান, সমুদ্রগড় স্টেশনের ৪ নম্বর লাইনের ধারে তাঁর দাদার মৃতদেহ পড়েছিল। ওই লাইন দিয়ে কোনও ট্রেন চলে না। সেই কারণে তাঁরা মনে করছেন কোনও দুর্ঘটনায় তাঁর দাদা শাহাজান শেখ মারা যায়নি। তাঁর দাদাকে প্রাণে মেরে দিয়ে কেউ ওই লাইনের ধারে দেহ ফেলে দিয়ে পালিয়েছে। শাহাজানের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের দাবি করেছে পরিবার।

অক্টোবর ০৮, ২০২১
রাজ্য

Allegations against RPF: আরপিএফের বিরুদ্ধে জুলুমবাজির অভিযোগ, প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন পূর্বস্থলীর ব্যবসায়ীরা

দাবি মতো টাকা দিতে অস্বীকার করায় এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠলো আরপিএফের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছড়ায় পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী স্টেশান এলাকায়। ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষজন আরপিএফের জুলুমবাজির প্রতিবাদে ট্রেন আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে দেন। তা নিয়ে স্টেশন চত্ত্বরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। সেই খবর পেয়ে পূর্বস্থলী থানার আইসির নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ও পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষোভ সামাল দেন। আরপিএফের মারধরে জখম সেলুন মালিক জুয়েল শেখকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় পূর্বস্থলী ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। প্রতিবাদে এদিন দুপুর পর্যন্ত জারি থাকলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে।পূর্বস্থলী স্টেশন বাজার এলাকার ব্যবসায়ী বিজন দত্ত এদিন বলেন, গত দুবছর ধরে রেল স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ীদের উপরে চুড়ান্ত জুলুমবাজি চালানো শুরু করেছে আরপিএফ। দোকানে একটা পেরেক পুঁতলেও আরপিএফকে পয়সা দিতে হয়। এদিন পূর্বস্থলী স্টেশন বাজারে থাকা সেলুনের মালিক জুয়েল শেখ তাঁর দোকানের একটি ঝাঁপ সারানোর প্রস্তুতি নিতেই আরপিএফ পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তাঁর কাছে এসে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। জুয়েল শেখ তা দিতে অস্বীকার করায় আরপিএফ বাহিনী তাঁকে প্রচণ্ড মারধর শুরু করে। এমনকি জোরপূর্বক জুয়েল শেখকে সকালের আপ ট্রেনে চাপিয়ে নিয়ে আরপিএফ অফিসে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে আরপিএফ বাহিনী। তা দেখে সমস্ত ব্যবসায়ীরা রুখে দাঁড়ায়। তাঁরা আপ ট্রেন অবরোধ করে রাখেন। মিনিট দশেক অবরোধ চলে। সেই খবর পেয়ে পূর্বস্থলী থানার আইসি এবং পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌছান। তাঁদের সাথেও আরপিএফ বাহিনী বাকবিতণ্ডা শুরু করে দেয়। প্রতিবাদ চরম আকার নিলে শেষ পর্যন্ত জুয়েল শেখকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় আরপিএফ।এর পর জুয়েলকে পূর্বস্থলী ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। অপর বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এনেছেন আরপিএফের বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ, এলাকার সবজি চাষিদের মান্থলি টিকিট করা থাকে। তবুও তাঁরা যখন সবজি অন্যত্র বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রেনে তোলেন তখন চাষিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার দাবি করে আরপিএফের লোকজন। টাকা না দিলে ট্রেনে সবজি তুলতে দেওয়া হয় না। আরপিএফের এমন কাজ-কারবারের জন্য চাষিদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এদিনের ঘটনার প্রতিবাদে স্টেশন এলাকার সবজি বাজার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। এদিনের ঘটনা নিয়ে আরপিএফ বাহিনীর কোন সদস্য সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা বলতে চাননি। তবে পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় আরপিএফের বিরুদ্ধে এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি জানান, আরপিএফ সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। তা জানার পর এদিন সকালে তিনি স্টেশন বাজারে এসেছিলেন। আরপিএফ বাহিনী তাঁর সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেছে। আরপিএফ যে অরাজকতা চালাচ্ছে তা চলতে দেওয়া হবে না বলে বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েদেন।

অক্টোবর ০৮, ২০২১
রাজ্য

crops wasted: শষ্যগোলা পূর্ব বর্ধমানে কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট, মাথায় হাত কৃষকদের, রইল বিস্তারিত তথ্য

নিম্নচাপের জেরে হওয়া বৃষ্টিপাত ও জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার ফলে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ১৯৩ কোটি টাকা ছাড়ালো। এছাড়াও ক্ষতি হয়েছে সেচ দফতরেরও। তাদের ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকা। সব থেকে বেশী ক্ষতি হয়েছে জেলার অজয় তীরবর্তী এলাকায় ধান ও আনাজ চাষে। আনাজে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্যোগের কারণে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্লক দফতর থেকে পাঠানো রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় ৭১৮ টি বাড়ি পুরোমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১৩০০ টি বাড়ির। প্রণী দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী গরু মারা গিয়েছে ১৮ টি। ২২০০টি মুরগি খামারের ক্ষতি হয়েছে। সেচ দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ১০ কোটি টাকা।সেচ দফতরের দাবি, দামোদরের জলে গলসি, খণ্ডঘোষে ও ভাগীরথীর ধারে অগ্রদ্বীপে বাঁধের যে ক্ষতি হয়েছে তারই পরিমাণ ২কোটি টাকা। এছাড়াও অজয়ের জলের তোড়ে আউশগ্রামের সাঁতলা ও কেতুগ্রাম ২ ব্লকে চারটি জায়গাতে বাঁধ ভেঙেছে। পাশাপাশি মঙ্গলকোটের নবগ্রাম, পালিগ্রামেও বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। কেতুগ্রামের অংশ বাদ দিয়ে আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের প্রায় ৩ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার ও তৈরির জন্য পাঁচ কোটি টাকা খরচ ধরেছে সেচ দফতর। এই কাজ খুব দ্রুত শুরু করতে চাইছেন সেচ দফতরের কর্তারা।জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়ের বাঁধ ভেঙে কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার কারণে আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রামে কৃষিজমির প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। ওই সব এলাকায় জমিতে বালি ও পলি পড়ে গিয়েছে। জলে ভেসে আসা পানা মঙ্গলকোটের জমিতে জমে গিয়ে চাষের ক্ষতি করেছে।জেলা কৃষি দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী জেলার মোট ১৬টি ব্লকের ৬২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪০৪টি মৌজায় চাষজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ওই সব এলাকার আউশ ধানের চাষ হওয়া ১৪৪ হেক্টর জমির মধ্যে ১১২ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৬০ টন আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে। যার ক্ষতির পরিমান ১০ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। একই ভাবে আমন চাষ হওয়া ৪০০০৪ হেক্টর জমির মধ্যে ২০০০৮ হেক্টর জমির চাষে ক্ষতি হয়েছে। আনাজ চাষ হওয়া ৯৮৭ হেক্টর জমির মধ্যে ৫১৩ হেক্টর পরিমাণ জমির আনাজ চাষের ক্ষতি হয়েছে। ১ লক্ষ ৪০ টন আমন ধানে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। যার আর্থিক ক্ষতি ধরা হয়েছে ১৮৬ কোটি ৮৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ২০০ টাকা। কৃষি দফতরের আশঙ্কা ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

অক্টোবর ০৮, ২০২১
রাজ্য

Sarbamangala Temple: ৩০০ বছরের পুরনো বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট প্রতিষ্ঠার সঙ্গেই রাঢ়বঙ্গে দামামা বাজল শারদ উৎসবের

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মায়ের ঘট উত্তোলন ও প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে মহালয়ার পরদিন থেকে শারদ উৎসবের সূচনা হয়ে গেল রাঢ়বঙ্গে। বৃহস্পতিবার থেকে নবমী পর্যন্ত চলবে পুজো। তবে রাজ আমলের রীতি মেনে পুজো হলেও কোভিড বিধি মেনে এবারও সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ভক্তদের ভিড় জমানোয় নিষেধাঞ্জা বলবৎ রেখেছে সর্বঙ্গলা ট্রাস্টি বোর্ড। বৃহস্পতিবার রীতি মেনে বর্ধমান শহরের কৃষ্ণসায়র থেকে রুপোর ঘটে জল ভরে সেই ঘট ঘোড়ার গাড়িতে চাপিয়ে শোভাযাত্রা ও বাদ্যযন্ত্র সহযোগে নিয়ে যাওয়া হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মন্দিরের পুরোহিত অরুণ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে দেবী সর্বমঙ্গলার জন্য ঘটে জল ভরে আনার নিয়ম রয়েছে। কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী ঘাট থেকে ঘটে জল ভরে সেই ঘট মন্দিরে নিয়ে গিয়ে এদিন প্রতিষ্ঠা করা হল। কৃষ্ণসায়র থেকে ঘট আনার জন্য শোভাযাত্রা করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরোহিত জানান, ঘটস্থাপনের পর থেকে নবমী পর্যন্ত পুজো চলবে। সঙ্গে হবে চণ্ডীপাঠ ও দেবীকে ভোগ নিবেদন। সর্বমঙ্গলা মায়ের পুজো শুরু নিয়ে বর্ধমানে নানা কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। প্রচলিত কাহিনী অনুসারে জানা যায়, বহুকাল পূর্বে বর্ধমানের বাহিরসর্বমঙ্গলা অঞ্চলে জেলেদের জালে একটি অদ্ভূত দর্শন পাথর উঠে আসে। কিছুটা শিলার মত দেখতে ওই পাথর দিয়েই তখনকার দিনে গুগলি, শামুক থেঁতো করতেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই শিলা যে আদতে দেবী মূর্তি, তা পরে বুঝতে পারেন এলাকার এক পুরোহিত। কাহিনী অনুসারে আরও জানা যায়, সেই সময় দামোদর নদ লাগোয়া চুন তৈরির কারখানার জন্য শামুকের খোলা নেওয়ার সময় শিলামূর্তিটি চলে যায় চুন ভাটায়। তখন শামুকের খোলের সঙ্গে শিলামূর্তিটি পোড়ানো হলেও মূর্তির কোনো ক্ষতি হয়নি। সেই রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পাওয়া মাত্রই বর্ধমানের তৎকালীন রাজা শিলামূর্তিটিকে নিয়ে এসে সর্বমঙ্গলা নামে পুজো শুরু করেন। ঐতিহাসিক মতে বর্ধমানের মহারাজা শ্রী কীর্তিচাঁদ ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে সর্বমঙ্গলা মায়ের পুজোর জন্য মন্দিরটি নির্মাণ করান। কিন্তু এই মন্দিরে থাকা মাতা সর্বমঙ্গলার মূর্তিটি মন্দিরের থেকেও বেশি প্রাচীন। অনেকের মতে মূর্তিটি ১০০০ বছর পুরোনো, আবার কারও মতে ২০০০ বছরের পুরনো। এই মূর্তিটি হল কষ্টিপাথরের অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী মহিষমর্দিনী। যাঁর দৈর্ঘ্যে বারো ইঞ্চি, প্রস্থে আট ইঞ্চি। মন্দিরে রুপের সিংহাসনে দেবী আসীন থাকেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হবার পরে বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজা উদয় চাঁদ ১৯৫৯-তে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন, তাঁদের হাতে এই প্রাচীন মন্দিরটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন ও তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত সেই ট্রাস্টি বোর্ডই এই মন্দিরের দেখাশোনা করে। আগে সন্ধি পুজোয় কামান দাগা হতো, মেষ, মহিষ ও ছাগ বলি হতো। এখন আর হয় না। পূর্বে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে সন্ধিপুজোয় কামানের আওয়াজ শুনে আশেপাশের সমস্ত জমিদার বাড়িতে সন্ধিপুজো শুরু হতো। নবমীতে নব কুমারি মায়ের পুজোর রীতি আজও চালু রয়েছে।

অক্টোবর ০৭, ২০২১
রাজ্য

Fever and Respiratory Infections: পূর্ব বর্ধমানে শিশুদের জ্বর-শ্বাসকষ্ট জনিত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর

কোভিডের লক্ষণ না থাকলেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে জ্বরে আক্রন্ত শিশু ভর্তির সংখ্যা। প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুর সংখ্যা ১৪০ জন। তার মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে ৩৭ জন ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৯৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। কোন শিশুর মৃত্যুর খবর এখনও পর্যন্ত নেই বলে যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জেলার কালনা ও কাটোয়া হাসপাতালের পাশাপাশি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও শিশু ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বাড়ায় উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুদের চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বিশেষ ওয়ার্ডও চালু করা হয়েছে।বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহ দুয়েক আগে পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজন শিশু জ্বর নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হত । কিন্তু গত দুসপ্তাহ যাবৎ দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ জন জ্বরে আক্রান্ত শিশু বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তাঁদের অনেকের জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্টের সমস্যাও থাকছে। তবে চিকিৎসাধীন কোন শিশুর কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ ধরা পড়েনি।বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কৌস্তুভ নায়েক জানিয়েছেন, এই সময় আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে শিশুদের সমস্যা হয়। তবে তার কারণে এই বছর শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশী। শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ৬৪ বেডের একটি ওয়ার্ড নির্দিষ্ট করা হয়েছে।এছাড়াও সোমবার থেকে অক্সিজেন পরিষেবা যুক্ত ২০ বেডের একটি ওয়ার্ডও চালু করা হয়েছে। শিশুদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তার, নার্স ও গার্ডের সংখা বাড়ানো হয়েছে। চিকিৎসক কৌস্তভ নায়েক জানিয়েছেন, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের কোভিড পরীক্ষাও করা হচ্ছে।চিকিৎসাধীন শিশুদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেও কৌস্তুভ নায়েক দাবী করেছেন।বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি কালনা মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও শিশুদের ব্যাপক হারে জ্বরে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। কালনা মহকুমা হাসপাতালের সুপার চিকিৎসক অরুপ রতন করণ সোমবায় জানান, চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত ছয় দিনে প্রবল জ্বর ছাড়াও সর্দি, কাশি, উপসর্গ নিয়ে ১৫১ জন শিশু তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হয়। কিছু বাচ্চার শ্বাসকষ্ট উপসর্গও থাকে। যদিও হাসপাতালে সব শিশুর কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া শিশুদের সঙ্গে বাড়িতে কোভিড বিধি মেনেই মেলামেশার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১
রাজ্য

Indecency: বর্ধমানে রোগিনীর শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয়কে গণধোলাই, গ্রেফতার

রোগিনীকে শ্লীলতাহানী করার অভিযোগে বেসরকারী নার্সিংহোমের এক ওয়ার্ডবয়কে গণধোলাই দিল রোগিনীর পরিজনরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বেলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শহর বর্ধমানের বোরহাট এলাকায়। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। রোগিনীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় বাপ্পা সরকারকে গ্রেফতার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের এক তরুণীকে তাঁর পরিবারের লোকজন গত বুধবার বর্ধমানের বোরহাটের নার্সিংহোমে ভর্তি করে। ওই নার্সিংহোমেরই ওয়ার্ডবয় বাপ্পা সরকার চিকিৎসাধীন তরুণীর শ্লীলতাহানি করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। তরুণীর পরিবারের আত্মীয় বাসুদেব ঘোষ এদিন জানান, তুরুণী নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন থাকাকালে বুধবার রাতে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে ওয়ার্ডবয় বাপ্পা সরকার। এমনকি বাপ্পা নোংরামি করার জন্য তরুণীকে জেনারেল ওয়ার্ড থেকে কেবিনে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে। এইসব কারণে অসুস্থ তরুণী ভয়ে বৃহস্পতিবার চিকিৎসকের অমতেই ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হয়। বাড়ি ফিরে তরুণী নার্সিংহোমের ওয়ার্ডবয় বাপ্পার কুকীতির সবিস্তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। তরুণীর মুখ থেকে সবকিছু শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পরিবারের লোকজন।এদিন তরুণীর পরিবাররের বেশ কিছু সদস্য বোরহটের ওই নার্সিংহোমে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান।পরে তাঁরা অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় বাপ্পা সরকারকে ধরে গণধোলাই দেয়। বাপ্পা নিজের দোষ কবুল করেছে বলে তুরুণীর পরিবারের দাবি। ক্ষমা চাইলেও তাঁর রেহাই মেলেনি। তরুণীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত বাপ্পা সরকারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে । নার্সিংহোম মালিক অনিমেষ সরকার বলেন, তাঁদের নার্সিংহোমের ফিমেল ওয়ার্ডে চার জন মহিলা স্টাফ থাকে। তারপরেও এমন ঘটনা কী করে ঘটতে পারে তার কিছুই তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১
রাজ্য

Buried Body: মাকে খুন করে ঘরের মেঝেতে দেহ পুঁতে রেখে দিয়েছিল ছোট ছেলে, খুঁড়তেই উদ্ধার কঙ্কাল

বৃদ্ধা মাকে খুন করে ঘরের মেঝেতে দেহ পুঁতে রেখে সেই ঘরেই দুবছর ধরে বসবাস করছে ছোট ছেলে।বৃদ্ধা সুকরানা বিবির ছোট ছেলে সহিদুল আলি ওরফে নয়নের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন ছোট বৌমা রুপসুনা বিবি। শেষ পর্যন্ত ছোট বৌমার আনা সেই অভিযোগই সত্যি প্রমান হল। মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হওয়া সাহিদুলের দেখানো জায়গা মতো বুধবার ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে খোঁড়া হয় তাঁর ঘরের মেঝে। ফুট চারেক মেঝে খোঁড়ার পরেই বেরিয়ে আসে মানব দেহের হাড়গোড় ও মাথার খুলি। যা দেখে এদিন কার্যত শিউরে ওঠেন বর্ধমান থানার হাঁটুদেওয়ানের পীরতলা ক্যানেলপাড় এলাকার বাসিন্দাা। উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় ও মাথার খুলি বৃদ্ধা সুকরানা বিবির কিনা তা নিশ্চিৎ হতে পুলিশ উদ্ধার হওয়া হাড় ও খুলি ময়না তদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।আরও পড়ুনঃ বর্ধমানে বৃদ্ধা মাকে খুন করে দেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ছেলেবৃদ্ধা সুকরুনা বিবির বড় ছেলে কিসমত আলির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বর্ধমান থানার পুলিশ হাঁটুদেওয়ান পীরতলা এলাকার সহিদুল আলিকে আটক করে। তাঁকে বর্ধমান থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। জিজ্ঞাসাবাদে মাকে খুন করে ঘরের মেঝেতে দেহ পুঁতে দেওয়ার কথা সাহিদুল আলি স্বীকার করার পরেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এদিন সহিদুলকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর দেখানো জায়গা মতো পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘরের মেঝে খোঁড়ার পরেই উদ্ধার হয় মানবদেহের হড়গোড় ও মাথার খুলি। তারপরেই পুলিশ খুন ও খুনের পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করে এদিনই ধৃত সাহিদুলকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান। বিচারক ধৃতকে ৭ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ তালিয়ান লিগে খেলা ডিফেন্ডার এবার এসসি ইস্টবেঙ্গলেপুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৫৮ বয়সী সুকরানা বিবি তাঁর ছোট ছেলে নয়নের সঙ্গে হাঁটুদেওয়ান পীরতলা এলাকার বাড়িতেই থাকতেন। পেশায় লরি চালক বড় ছেলে কিসমত অন্যত্র থাকেন। সুকরানা বিবি বেড়াতে যেতে খুব ভালবাসতেন। মাঝে মধ্যেই তিনি বেড়াতে বেরিয়ে পড়তেন। মায়ের বেড়াতে বেরিয়ে যাওয়াটা পছন্দ করতো না ছোট ছেলে সহিদুল আলি। মা ও ছোট ছেলের মধ্যে এইসব ছাড়াও নানা কারণে অশান্তিও হত। এই অবস্থার মধ্যেই ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে সুকরানা বিবির আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েও মা সুকরানা বিবির হদিশ পান না বড় ছেলে কিসমত আলি। এরপর ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি বর্ধমান থানায় তাঁর মায়ের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত ডাইরি লিপিবদ্ধ করেন।আরও পড়ুনঃ বৃষ্টিস্নাত দক্ষিণবঙ্গে রেল ও রাস্তা অবরোধে নাকাল সাধারণ মানুষকিসমত আলি জানান, তাঁর ছোট ভাই সহিদুলের স্ত্রী রুপসুনা বেশ কয়েকমাস হল শিশু সন্তানদের নিয়ে ভাতারের এরুয়ার গ্রামে বাপের বাড়িতে গিয়ে রয়েছে। ভাতৃবধূকে ছোট ভাইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি গত সোমবার এরুয়ার গ্রামে রুপসুনার বাপের বাড়িতে যান। কিসমত আলি বলেন, ওই দিনই রুপসুনার কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছোট ভাই সহিদুল তাঁদের বৃদ্ধা মা সুকরুনা বিবিকে খুন করে দেহ ঘরের মেজেতে পুঁতে দিয়েছে। সহিদুল প্রাণে মেরে দিয়ে তাঁকেও মাটিতে পুঁতে দিতে পারে এমন আশঙ্কার কথা রুপসুনা তাঁর ভাসুরকে জানায়। একই সঙ্গে রুপসুনা তাঁর ভাসুরকে জানিয়ে দেয় সে আর তাঁর স্বামীর কাছে আর ফিরে যাবে না। ভাতৃবধূর কাছ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শোনার পরেই কিসমত আলি মঙ্গলবার তাঁর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানান।আরও পড়ুনঃ পূজার ছলে ভুলে থাকিকিসমতের অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে বর্ধমান থানার পুলিশ। হাঁটুদেওয়ান পীরতলা এলাকায় দ্রুত পৌছে পুলিশ সহিদুল আলিকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। পুলিশের দাবি জেরায় সহিদুল জানায়, ঘটনার আগে বেশ কিছু দিন ধরে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে তাঁর অশান্তি চলছিল। ঘটনার দিন মায়ের সঙ্গে বচসা চলার সময়ে মুগুর দিয়ে সে তাঁর মায়ের মাথায় আঘাত করে। মা ঘরের ভিতরে ছিটকে পড়ে। এরপর মায়ের মৃত্যু নিশ্চিৎ করতে তিনি তাঁর মায়ের গলা টিপে ধরেন। বৃদ্ধা মা রুকসুনা বিবি মারা যাওয়ার পর ঘরে ধুপকাটি জ্বালিয়ে সহিদুল কাজে বেরিয়ে যায়। পরে বাড়ি ফিরে এসে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে সহিদুল তাঁর মায়ের মৃতদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে দেয়। এদিন সহিদুলকে তাঁর মাকে খুনের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মা নোংরা পথে চলে গিয়েছিল। মাকে বারণ করলেও মা কথা শুনতেন না। তাই মাকে মেরে দিয়ে ঘরের মেঝেতে পুঁতে দিয়েছি। যদিও এইসব অভিযোগই অসত্য জানিয়েছেন বৃদ্ধার বড় ছেলে সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • 18
  • 19
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

স্কুলে ফিরুক পাস-ফেল, মোবাইল নিষিদ্ধের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

স্কুলশিক্ষায় একাধিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার উপরে জোর দিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি (NCC) এবং এনএসএস (NSS) চালু করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটানোও জরুরি।রবিবার রামনগরে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন মুখ্যমন্ত্রী।স্কুলশিক্ষার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা এবং পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এবং আধুনিক ভাষার সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচিত করে তোলার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার পরিসর শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপেও গুরুত্ব দিতে হবে।প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি এবং এনএসএস ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্রের চর্চাও স্কুলে থাকা উচিত। পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভা খুঁজে বের করে তা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শিক্ষানীতি নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল। ব্রতচারী কার্যক্রম বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভাষা ও শব্দের ব্যবহার নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজনীতি

জেল থেকে ফিরেই হুমকির অভিযোগ! আমোদপুরে তৃণমূল নেতাকে দড়ি বেঁধে ঘোরালেন স্থানীয়রা

বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার আমোদপুরে এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। জামিনে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের বিভিন্ন জনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর পর পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযুক্তের নাম তাহিরুল শেখ। তিনি সাঁইথিয়া ব্লকের ভ্রমরকোল অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি। ঘটনার খবর পেয়ে আমোদপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।ঘটনার সূত্রপাত সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের দিন। অভিযোগ, ওই দিন ভ্রমরকোল অঞ্চলের ৬৮ নম্বর বুথে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক দেবাশিস ওঝার ছেলে, নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ বিজেপির কয়েকজন নেতাকে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা তাহিরুল শেখের নাম জড়ায়। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রায় দুমাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।বিজেপির অভিযোগ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের দলের কর্মীদের হুমকি দিতে শুরু করেন তাহিরুল। রবিবার বেলার দিকে তিনি আমোদপুর লাগোয়া ঈশ্বরপুর গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সাধুর বাড়িতে যান। সেই খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে ধরে কোমরে দড়ি বেঁধে আমোদপুর বাজার এলাকায় ঘোরান। পরে তাঁকে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির হাতে তুলে দেওয়া হয়।বিজেপির ভ্রমরকোল মণ্ডল সভাপতি সুদীপ ঘোষের দাবি, ভোটের দিন তাহিরুলের নেতৃত্বে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়েছিল। তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, জামিনে মুক্তির পর ফের বিজেপি কর্মীদের হুমকি দিচ্ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সেই খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরা তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইউনুসের বক্তব্য, বিজেপি অনেক জায়গাতেই পুলিশের মদতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করছে। তবে আমোদপুরের এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের দিন বিজেপি নেতাদের মাথা ফাটানোর অভিযোগের জেরেই তাহিরুল জনরোষের মুখে পড়েছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। আমোদপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং ঘটনার নেপথ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

রং-তুলিতে সমাজের মুখ আঁকা থামল! প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, বয়স ৮৭

ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে ১৪ মাসের লড়াই, সঙ্গে মূত্রনালির সংক্রমণকলকাতার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস শিল্পীর। চিত্রকলার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও রেখেছিলেন স্বতন্ত্র ছাপ।বাংলার শিল্পজগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী। রবিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বিরল ধরনের ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বিশিষ্ট শিল্পী। তার উপর মূত্রনালির সংক্রমণ এবং শারীরিক নানা জটিলতা ক্রমশ তাঁর অবস্থাকে সংকটজনক করে তোলে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ মাস ধরে মাইলোপ্রোলিফেরেটিভ নিওপ্লাজম নামে এক ধরনের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। চলছিল কেমোথেরাপিও। শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সংক্রমণের কারণে সেপসিসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন বর্ষীয়ান শিল্পী।ফরিদপুর থেকে কলকাতা, শিল্পী হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে জন্ম যোগেন চৌধুরীর। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। পরিবারের পরিবেশও তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর মা সুন্দর আল্পনা আঁকতেন। মায়ের সেই শিল্পচর্চা ছোট্ট যোগেনের মনে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিল।দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। এই শহরেই শুরু হয় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা। কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টে পড়াশোনা করেন তিনি। শিল্পশিক্ষা শেষ করে হাওড়া জেলা স্কুলে অঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। শিল্পচর্চার পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৫ সালে প্যারিসে পাড়ি দেন যোগেন চৌধুরী। ইউরোপীয় শিল্পধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয় সেই সময়। ভারতীয় শিল্পের ঐতিহ্য এবং পাশ্চাত্যের আধুনিক শিল্পভাবনার সংমিশ্রণ তাঁর কাজকে স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারির কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।ব্যঙ্গ, সমাজ ও রাজনীতিক্যানভাসে ধরা পড়ত সময়ের ছবিযোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সমাজ ও রাজনীতির নানা অসংগতি তুলে ধরার ক্ষমতা। তাঁর ছবিতে কেবল রং, রেখা কিংবা অবয়বের প্রকাশ ঘটত না; ফুটে উঠত সমকালীন সমাজের নানা প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব ও বাস্তবতা। ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি সমাজের অসংগতিগুলিকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করতেন। সেই স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ইউরোপীয় আধুনিক শিল্প আন্দোলনের প্রভাব তাঁর কাজে লক্ষ করা যায়। তবে প্রভাবের মধ্যেও নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণ করেছিলেন তিনি। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষের অবয়ব, অভিব্যক্তি এবং সামাজিক বাস্তবতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম প্রশংসিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।দুর্গাপুজোর শিল্পভাবনাতেও ছিল তাঁর ছোঁয়াক্যানভাসের বাইরেও বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দুর্গাপুজোর থিম এবং প্রতিমা-ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে বেহালা নূতন দল দুর্গাপুজোর প্রতিমার স্কেচ তৈরি করেছিলেন এই শিল্পী। পরের বছর ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক পার্ক সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমার চালচিত্রের নকশাতেও তাঁর শিল্পভাবনার প্রতিফলন ঘটেছিল।বাংলার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শিল্পের যে বিস্তৃত পরিসর তৈরি হয়েছে, সেখানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথাগত শিল্পচর্চা থেকে জনপরিসরের শিল্পবিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় রেখেছিলেন তিনি।শিল্পের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেওচিত্রকর হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনও ছিল যোগেন চৌধুরীর। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সাল পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সংসদীয় রাজনীতিতে উপস্থিতি তাঁকে অন্য পরিচিতিও দিয়েছিল।তবে তাঁর দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে শিল্পচর্চা। রং, রেখা ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজকে দেখার যে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তিনি তৈরি করেছিলেন, তা ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে হারালেন বাংলা তথা ভারতের শিল্পজগতের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৃষ্টি, শিল্পভাবনা এবং সমাজকে দেখার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনেও শিল্পপ্রেমীদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকবে। মানুষটি চলে গেলেন, কিন্তু ক্যানভাসে রেখে গেলেন সময়, সমাজ ও মানুষের বহু না-বলা কথার চিহ্ন।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
দেশ

হস্টেলে আত্মহত্যা রুখতে বিশেষ ফ্যান! অতিরিক্ত ওজন পড়লেই খুলে যাবে, বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন

সুরাট: পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় অভিনব উদ্যোগ বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়েরছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হস্টেলের ঘরে বিশেষ প্রযুক্তির সিলিং ফ্যান বসাল গুজরাটের সুরাটের বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় (Veer Narmad South Gujarat University)। আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি এই বিশেষ ফ্যানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি স্প্রিং মেকানিজম। ফ্যানে অতিরিক্ত ওজন পড়লে সেটি খুলে নীচে নেমে আসবে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে ফ্যানকে আত্মহত্যার কাজে ব্যবহার করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ সিলিং ফ্যানের পরিবর্তে বিশেষ ব্যবস্থাযুক্ত এই ফ্যান ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হল, কোনও পড়ুয়া চরম মানসিক সংকটের মুহূর্তে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সেই ঝুঁকি কমানো।বিশেষ স্প্রিং ব্যবস্থার কারণে নির্দিষ্ট সীমার বেশি ওজন পড়লে ফ্যানটি তার মাউন্টিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি। এর ফলে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা নির্ভর করবে যন্ত্রটির নকশা, নির্ধারিত ওজনসীমা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের উপর।#WATCH | Surat, Gujarat | Veer Narmad South Gujarat University installs anti-suicide ceiling fans, with special spring mechanism, in hostels, designed to detach under excessive weight and cut off the power supply. https://t.co/1GM7E91n3K ANI (@ANI) October 24, 2026শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক পড়ুয়াই মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, কাউন্সেলিং এবং সময়মতো সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থাও জরুরি।বিশেষ ফ্যান বসানোর এই উদ্যোগ হস্টেলের নিরাপত্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বিকল্প প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়পড়ুয়াদের পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজনে দ্রুত পেশাদার সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal