• ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রবিবার ৩১ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bengali People

নিবন্ধ

Daughter: কন্যা রুপেন সংস্থিতা

নীল আকাশের মহাসাগরে যখন সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে দিত কেউ, শরৎ তার অরুণ আলোর অঞ্জলি দিয়ে ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায় খেলতো লুকোচুরির খেলা, শিউলিবনের বুক উঠতো চঞ্চল হয়ে--- তখনই একদিন খবরকাগজে পাতাজোড়া পুজোয় চাই নতুন জুতো, আর শারদীয়া আনন্দমেলার আনকোরা নতুন বিজ্ঞাপনে প্রফেসর শঙ্কু বয়ে আনতেন দেবীপক্ষের প্রথম আলোর চরণধ্বনি।সেই মোলায়েম পূজো পূজো গন্ধ বাড়তে বাড়তে একসময় ম ম করতো চরাচর। স্কুল ঝাঁপ ফেললেই জলপাইগুড়ির বন্ধুমহল, সেজে ওঠা পাড়ার মন্ডপ, নিতাই পালের আস্তানায় অপরূপা মৃণ্ময়ী মাতৃপ্রতিমাদের ফেলে রেখে-- পর্যায়ক্রমে ট্রেন-বাস-গোযান বাহিত হয়ে, পঞ্চমী কি ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় পৌঁছে যেতাম বর্ধমান থেকে গোটা তিরিশ কি.মি. দূরে নারায়ণপুর গ্রামে।আরও পড়ুনঃ শারদঅর্ঘ্যপরের চারদিন কোথা দিয়ে যে কেটে যেত আরতি-অঞ্জলি-পূজো-প্রসাদের পৌনঃপুনিকতায়! গ্রামের গুটিকয় বন্ধুর সাথে সেরে ফেলতাম ফেলে আসা বারো মাসের সালতামামি; আর এই সব করতে করতেই কোথা দিয়ে পূজো শেষ। ঢাকিরা বোল তুলত -- ঠাকুর থাকবি কতক্ষণ ঠাকুর যাবি বিসর্জন! দশমীর নিশুতি রাতে বিসর্জনের পর বুকটা সত্যি খাঁ খাঁ করতো অজয় নদের শূণ্য চরের মতো, খেতে বসে বার বার ঢোঁক গিলে সামলে নিতাম উপচে আসা চোখের জল।বড় হয়ে পূজো শেষের এই মনখারাপটা কেটে গেল। মনকে সহজেই বোঝাতে পারতাম-- মা তো যাননি কোথাও; আছেন তো সারাক্ষণ আমার পাশেই!তুমি যে চেয়ে আছো আকাশ ভরে,নিশিদিন অনিমেষে দেখছো মোরে...চলমান জীবনের প্রতি পলে আজ অনুভব করি তাঁর কল্যাণময়ী স্পর্শ। মণ্ডপের মৃণ্ময়ী মাতৃমূর্তি চিন্ময়ীরূপে অনুক্ষণ আচ্ছন্ন করে রাখেন চেতন ও মনন।আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণুপূজো আসে, পূজো যায়..... ২০০২ -এ তিস্তা এলো আমাদের ঘরে। তার পৃথিবীর আলো দেখার আগে নানা জটিলতার জন্য চারবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে হয়েছিল রূপার; কিন্তু আগেভাগে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ জেনে ফেলতে ব্যাকুল হইনি আমরা কেউই। মেয়ের মুখ প্রথম দেখার শুভক্ষণটি মনে হয়েছিল জীবনের সেরা মুহূর্ত, যে স্বাদের ভাগ হবে না কোন দিনও!পূজোমন্ডপ হরগৌরীতলায় হামাগুড়ি দিয়ে... হোমের কৃষ্ণতিলক হাতের তেলো দিয়ে কপালময় লেপে নিয়ে... বাবার কাঁধে চড়ে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় সামিল হয়ে... ঢাকের গায়ে ছোট্ট হাতের এলোমেলো চাঁটি মেরে... নবমীর দুপুরে হোমাগ্নির ধোঁয়ায় চোখ কচলে লাল করে... ভোরের শিউলি বিছানো গাছতলায় ফুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে, একটু একটু করে পাপড়ি মেললো আমার ছোট্ট তিস্তা।আরও পড়ুনঃ তোমাদের মনের মতো রঙীন পূজাবার্ষিকী-- আনন্দমেলাসন্ধ্যারতির সময়, ঢাক-কাঁসর-ঘণ্টা-সানাই-র ঐকতানে, ফুলের মালা-দীপের আলো-ধুপের ধোঁয়ার প্রেক্ষাপটে, আত্মজার মধ্যে যেন আজ ফুটে উঠতে দেখি জগন্মাতার অগ্নিময়ী রূপকল্পেরই এক প্রোজ্জ্বল খন্ডাংশ। মনে হয় মা উমা যেন ঘরের মেয়েটি হয়ে খেলে বেড়াচ্ছেন আমাদের ছোট্ট ঘরে। শরনাগতদীনার্তপরিত্রাণপরায়ণা সর্বস্যার্তিহরা দেবী নারায়ণী যেন ভালবাসার টানে আলো করছেন আমাদের আতুর আঙিনা.... তাই তোমার আনন্দ আমারপর, তুমি তাই এসেছ নীচে....আরও পড়ুনঃ পুজো শুরু হয়ে গেলঅবাক হয়ে দেখি, কাকতালীয়ই হবে নিশ্চয়, আমার স্কুল-কলেজ-কর্মস্থলের বেশীর ভাগ সমবয়সী বন্ধুরই ঘর আলো করছে এক একটি কন্যাসন্তান। তাদের মেয়েবেলার উজ্জ্বল সংকেত ভেসে আসে আন্তর্জালে। এদের সব্বার মধ্যে জ্যোতির্ময়ী মহামায়ার পরমা শক্তির উদ্বোধন হোক, মেধা-প্রতিভা-সাফল্যের পবিত্র হুতাশনে পূব আকাশ উঠুক রাঙা হয়ে!লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ১৬, ২০২১
নিবন্ধ

Durga Puja: পুজো শুরু হয়ে গেল

আধো ঘুমের মধ্যে ঢ্যাম কুড়কুড় ঢাকের আওয়াজ কানে আসছিল অনেকক্ষণ ধরেই, শেষ পর্যন্ত চোখ খুলতেই হোলো। আধখোলা জানালার ওপারে ফর্সা আকাশ... সামান্য ফুরফুরে হাওয়া... মনে পড়ে গেল আজ সপ্তমী --- সাড়ে ছটার মধ্যে স্নান সেরে তৈরী হয়ে নেওয়া চাই, সোয়া সাতটায় কলাবউ স্নান করিয়ে ঘট আনতে যেতে হবে।দাঁত মাজা ... মুখ ধোওয়া... বাথরুমে চার পাঁচ মগ জল ঢেলে কাকস্নান ... তারপর নতুন কাপড় পড়ে নিয়ে সোজা চাতোর-এ। চাতোর হোলো চত্বর-এর অপভ্রংশ, আমাদের পারিবারিক পুজোর ঠাকুরতলা ও সংলগ্ন খোলা জায়গাটুকু। শতাব্দীপ্রাচীণ এক বিরাট অশ্বথ্থ গাছের ছায়ায় (আমার নব্বই-ছুঁইছুঁই বাবাও শৈশবে একে এই চেহারাতেই দেখেছেন) এই দেবীমন্ডপে মা হরগৌরী পূজিত হয়ে চলেছেন --- ঠিক কত বছর কেউ জানে না, শদুয়েক বছর আগে পর্যন্ত পাওয়া গেছে লিখিত প্রমাণ।আরও পড়ুনঃ শারদঅর্ঘ্যসবুজ-গোলাপী কাঠের পালকি ( এরও বয়সের গাছপাথর নেই , কারণ আমি জ্ঞান হওয়া ইস্তক ঠিক এমনটিই দেখছি একে) পুকুরে চুবিয়ে এনে নামানো হয়েছে মন্ডপের সামনে। পাড়ার দুই কিশোর স্নান সেরে ফর্সা কাপড়ে গামছা-সহ তৈরী তাকে কাঁধে নিতে। আমার কৈশোরে বছর ছয়েক আমিও বাহক হয়েছি এই চতুর্দোলার। এক প্রজন্ম থেকে দোলা বওয়ার দায়িত্ব বর্তাচ্ছে পরের প্রজন্মে, যুগ যুগ ধরে।নানা বয়সী কাকীমা-মাসিমা-বৌ-ঝি-কাচ্চাবাচ্চায় জমে উঠেছে চাতোর। পুরোহিত বুড়োদা ও তন্ত্রীধারক নুপুরদা ধরাধরি করে কলাবউকে শুইয়ে দিল দোলায়। তারপর ঢাকের বাদ্যি আর কাঁসরঘন্টার ঝনঝনাৎকারের মধ্যে রওনা হলাম সবাই --- শুরুতেই ধুনুচি হাতে এক দাদা, তার পর পালকিতে কলাবউ, তার পিছে আম্রপল্লবসহ শূণ্য পিতলের কলসী কাঁখে আমরা তিনজন, পিছু পিছু বাজনদার-পুরোহিত-ছেলেমেয়ে-এঁড়িগেঁড়ির দল।আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণুগ্রামের পথে সাতসকালের এই শোভাযাত্রা এঁকেবেঁকে এগিয়ে চললো কারো সাষ্টাঙ্গ প্রণাম, কারো জোড়হাতের নমস্কার নিতে নিতে। মাঝপথে সিংহবাড়ির মন্ডপের সামনে থেমে গিয়ে পালকিতে তুলে নেওয়া হোলো তাঁদের কলাবউকেও। পদযাত্রা শেষ হোলো গ্রামের মাধ্যমিক স্কুলের পাশে বাঁধাপুকুরে গিয়ে।পুরোনো দিনে গ্রামের পানীয়জল ও পুজোর ক্রিয়াকর্মের জন্য ব্যবহৃত হতো এই চতুষ্কোণ পুকুরটি; একমাত্র এটিতেই ছিল শাণবাঁধানো ঘাট --- তাই এর নাম বাঁধাপুকুর। ঘাটের শানে পালকি ও ঘট নামানো হোলো; কলাবউ ও পুজোর সামগ্রী নিয়ে চার পুরোহিত নেমে গেলেন হাঁটুজলে; চলতে লাগলো মন্ত্রোচ্চারণ; ধুনুচির ধোঁয়া পাক খেতে খেতে উঠতে লাগলো উপরপানে।বাজিয়ে-রা ঢাক মাটিতে নামিয়ে হাঁফ ছাড়ছে, ঘাম শুকোচ্ছে গামছা নেড়ে নেড়ে। মাঝবয়সী পুরুষেরা চেয়ে আছে পুজোপাঠের দিকে, কেউ কেউ ধোঁয়া ওড়াতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। কুচোকাঁচাগুলো বেশীরভাগই বেঢপ মাপের রঙবেরঙের পোশাকে ছুটোছুটিতে মত্ত ... খেলনাপিস্তলে ক্যাপ ফাটছে চটরপটর... একটু বড় মেয়েরা চুড়িদার-স্কার্ট-ঘাগরা সামলাতে ব্যস্ত... চড়া লিপস্টিক-ঝুটো গয়না-শিরোভূষণে গরবিনী... কারো কারো চোখে রহস্যময়ী হাসির ঝিলিক.... নবীন কিশোরের দল জটলা করে আছে একটু দূরে, তাদের মনোযোগ মূলতঃ এদিকপানেই...আরও পড়ুনঃ তোমাদের মনের মতো রঙীন পূজাবার্ষিকী-- আনন্দমেলাবাঁধাপুকুর থইথই করছে; সেই আটাত্তরের বন্যার পর এতো জল দেখি নি আর কখনো। দফায় দফায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে এবার, ঘাটের প্রথম পৈঠে অবধি ডুবে আছে তাই। চারদিক সবুজে সবুজ; কচুরিপানা-পাতাঝাঁঝি-শাপলা-ঢোলকলমীরা দখল নিয়ে নিয়েছে অনেকখানি জলের। দুটো শালুক ফুটে রয়েছে খুব কাছেই। আর পাতাঝাঁঝির ছোটো ছোটো সাদা ফুলে সমাচ্ছন্ন ঘাটের সামনেটা। ভীমরুল-মৌমাছি-প্রজাপতি ঘুরছে ফুলে ফুলে; জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে উড়ছে লাল-হলুদ-নীল জলফড়িং। পুকুরের ওপাশে ভেসে আছে জলচর পাখি অনেকগুলো। কটা ফিঙে আর বাঁশপাতি উড়ছে ফরফরিয়ে। জলের ওপর জেগে থাকা শুকনো ডালে এত কলরবের মধ্যেও অটল স্থৈর্যে বসে আছে উজ্জ্বল নীল একটা মাছরাঙা।এইসব দেখছি, আর চোখ চলে যাচ্ছে পুকুরের পাশে একটা পাকুড়গাছের দিকে। একসময় ঐ গাছটি নাকি এ গ্রামের প্রিয় আত্মাহুতিস্থল ছিল--- অনেক মানুষ (তার মধ্যে ছোটোবেলায় দেখা আমাদের এক পুরোহিতঠাকুরও ছিলেন) ঐ গাছের ডাল থেকে ঝুলে পড়ে ভবসংসারের মায়া কাটিয়েছেন। ওঁরা কি দেখছেন, অদৃশ্য থেকে, আজকের এই প্রাণের মেলা?এসবের মধ্যেই পুজোপাঠ শেষ। কলাবউরা উঠে এলেন পালকিতে; পেতলের কলসিতে জল ভরে নিয়ে আম্রপল্লব স্থাপন করে মাথায় তুলে নেওয়া হোলো। গামছার ওপর ভারী কলসি সামলাতে সামলাতে পা মেলালাম পদযাত্রায়। ঠাকুরপুকুরের পাশ দিয়ে, পথের পাশে ঘাস চিবোতে থাকা গরু-ভেড়া-ছাগলদের কৌতুহল উদ্রেক করে, নবপত্রিকা চললেন মন্ডপের দিকে। পথের ওপর ভীষণ মন খারাপ করে শুয়ে বসে থাকা নেড়িগুলো সচকিত হয়ে ছুটলো সামনে সামনে। বাগ্দীপাড়ার মুখে দুটি বৌ পথে জলের ঘটি রেখে উপুর হয়ে প্রণাম করলো কলাবউদের--- এই ক্ষণিকের বিরতিটুকু ছাড়া চতুর্দোলা ফিরে এলো তরতরিয়ে।পুজো শুরু হয়ে গেল।লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ১৪, ২০২১
নিবন্ধ

Durga Puja: বাজলো তোমার আলোর বেণু

বেলা এগারোটা। চেম্বার থেকে বেরিয়ে একটু হেঁটে যাচ্ছিলাম কাছেই। পথে রিক্সা -টোটো-গাড়ি -স্কুটার -বাইক মিলে সে এক হৈ হৈ কান্ড। কান ফাটানো হর্ন ..পথচারীর ক্যাঁচর ম্যাচর ..অ্যাম্বুলেন্সের ঢেউখেলানো আর্তনাদ ..হ্যান্ডমাইকে ইঁদুরমারা বিষ-বটতলার বই -দাদের মলম ....পথের সব গ্যাঞ্জাম সরীসৃপের মতো এপাশ ওপাশ কাটিয়ে এগোচ্ছি। পিঠে মাখামাখি হয়ে আছে মোলায়েম রোদ। ভারী মিঠে তার ছোঁয়া সারা গায়ে এক সুখানুভূতি ছড়িয়ে দিচ্ছে , ছোটবেলার মায়ের আদরের মতো। লহমায় মিলিয়ে যাচ্ছে চারপাশের সব কোলাহল। সকাল থেকে আজ নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ... বাতাসে কেমন একটা পুজো পুজো গন্ধ, ভাদ্রের শুরু থেকেই যে গন্ধে মন উড়ু উড়ু বাঙালীর, শিলচর থেকে শিকাগো.. এডিলেড থেকে এডিনবরা....বাঙালী এক বিদঘুটে জাত, বছরের শুরুতে ক্যালেন্ডার পেয়েই সবার আগে যারা দেখে নেয় এবার পুজো কবে... যাদের অর্থনীতি জাগে বছরে একবারই, এই পুজোকে ঘিরে ... যাদের বার্ষিক দিনপঞ্জী দুভাগে ছড়ানো, পুজোর আগে আর পরে... যাদের মন উসখুস করতে শুরু করে যখনি শ্রাবনের ভরা নদীর কোলে হাসতে শুরু করে শুভ্র কাশের গুচ্ছ! ক্ষান্তবর্ষণ ভোরে পুজোর গন্ধ ভাসতে থাকে মৃদুমন্দ... সে সুবাস দিগদিগন্ত ছেয়ে ফেলে দেখতে দেখতে... যে দিকে চাই পুজো পুজো গন্ধে আকুল করে... চোখের সামনে যেন বদলে যায় মাঠ -ঘাট -ঘরগেরস্তালী... প্রেমেন মিত্তিরের ভাষায়--সব কিছু তার অন্যরকমমানুষ-মাটি-জল,চোখ দিয়ে যে দেখতে জানেতার কাছে কেবল!বছর তিরিশ আগে যখন আমাদের বাস শুরু হয়েছিল বর্ধমানের এই পাড়ায়, কাকডাকা ভোরে রোজ ঘুম ভাঙিয়ে যেত পথের এক গাইয়ে-- জাগো নগরবাসীমুখ করো হাসি হাসিজাগিয়া লও কৃষ্ণনাম রে..।কোনো দিন মুখ দেখি নি তার। আশ্বিনের গোড়ায় সে গান বদলে যেত আগমনীতে--- এবার আমার উমা এলে আর ঘর পাঠাব না বলে বলুক লোকে মন্দ...। আধো ঘুমে সে গান শুনে গলার কাছে কী একটা যেন আটকে যেত... মা আসছেন..পুজো আসছে!মা দুর্গা তো বাঙালীর ঘরের মেয়ে-- সারা বছর উড়নচন্ডী ভুলো স্বামীর ছন্নছাড়া সংসার দশ হাতে সামলে রাখা অসামান্যা, ছেলেপিলে বগলে নিয়ে কটা দিনের জন্য বাপের বাড়িতে হাঁফ ছাড়তে আসা ছাপোষা বউটি! সিংহবাহিনী দশপ্রহরণধারিনী তো নামেই, বাঙালীর কল্পনায় তো আজন্মকাল-- উমারে রাখিয়া বুকেচুমা দিয়া চাঁদমুখেগিরিরানী কেঁদে কেঁদে কয়মা তোরে বিদায় দিতেকাতর আতুর চিতেসদা ভয় কি জানি কী হয়!ভোরের হাওয়ায় আগমনীর সুরে যখন ভেসে আসে-- যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী, উমা নাকি বড় কেঁদেছে / দেখেছি স্বপন নারদবচন মা মা বলে কেঁদেছে-- বাঙালীর ঘরে ঘরে মাঝবয়সিনী মায়েদের চোখের পাতা বুঝি আজো ভিজে আসে, পাশে শুয়ে ঘুমে কাদা আত্মজার অনাগত দিনের কথা ভেবে!বাঙালী হরপার্বতী পরিবারকে কোনদিনই সোনার সিংহাসনে হীরের গয়না পরিয়ে সাজিয়ে রাখে নিI আশুতোষ মহেশ্বরকে ভিখারী শিব বলে অনুযোগ করতে, বা সিদ্ধিদাতা বিনায়ককে নাদাপেটা গনশা বলে মস্করা করতে বাঙালীর বাধে নি কোনো দিনI আটপৌরে মলিন বাঙালী মা নির্দ্বিধায় উচ্চারণ করতে পারে-- যদি আসে মৃত্যুঞ্জয় / উমা নেবার কথা কয় / মায়ে ঝিয়ে করব ঝগড়া...মা দুর্গা তাই আমাদের এ খেলাঘরে ছড়িয়ে থাকেন অনুক্ষণ! তিনি আমাদের প্রানের দেবতা। মহালয়ার ভোরের আলোকধারায় যখন মেতে ওঠে ভুবন, বেজে ওঠে তাঁর আলোর বেণু.. অরুণবীনায় সে সুর বাজে.. অন্তরে সে সুর ছেয়ে যায়...বিশ্বকর্মাপুজোয় বিসর্জনের বাজনা মিলিয়ে যেতে না যেতেই বাঙালী শুনতে পায় ঢাকের বোল, আমাদের সবার ছোটবেলা মাখামাখি হয়ে আছে যে ঢ্যাম কুড় কুড় বাদ্যিতে। ভোরবেলা হাঁটতে বেরিয়ে দেখি উঠতি বয়সের গাছ পথের ধারে ছড়িয়ে রেখেছে একরাশ কমলাহৃদয় শুভ্র শেফালী। সে শিউলিগাছ আরেকটু লায়েক হলে তার গুঁড়ি নিঃশেষে ঢেকে যায় সাদা রোমের হাজারো শুঁয়োপোকায়। শহর ছাড়ালেই ক্ষেতের আলে - নদীর কোলে - পথের কার্নিশে ঢেউখেলানো কাশের সমুদ্র... ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা... ভ্রমর মধু ফেলে উড়ে বেড়ায় সেই আলোয় মেতে... শেষবর্ষার ভরন্ত মেঠো নদীর বুকে চখাচখির মেলা! বুকের মাঝে ছুটির পাখিটা ছটফট করে রোজ। খাঁচায় বন্দী, পালাতে পারে না তাই। পেশাগত জীবন যতই দানাপানি দিক না তাকে, এ পাখির তবু ছুটির আকাশ চাইই চাই! ছেলেবেলা ফিরে আসে যেন-- ওরে যাব না আজ ঘরে রে ভাই যাব না আজ ঘরে... আজ বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি কাটবে সকল বেলা...! আর এই মায়াবী মন হারানো খেয়ালী হাওয়ার ভোরেই চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীরূপে আবাহন!যতই তিনি সৃষ্টিস্থিতিবিনাশানাং শক্তিরূপে সনাতনী হোন, আসলে বাঙালীর চোখে তিনি শুধুই গুনাশ্রয়ে গুনময়ী নারায়ণী মা-টি আমাদের-- আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে যাঁর মহিমা থাকে উদ্ভাসিত হয়ে, বিশ্বজগৎ মণিভূষণ হয়ে ঘিরে রাখে যাঁর চরণ! পরীক্ষার ফলপ্রকাশের দিন ... বিদেশমুখী বিমান মাটির মায়া কাটানোর মুহুর্তে... মধ্যরাতে শত্রুমনোভাবাপন্ন নেড়ি-সংকুল আঁধার পথ পাড়ি দেওয়ার সময়... এমনকি ভিড়বাসে ভয়ানক প্রকৃতির ডাকের সাথে লড়াই -এর মতো প্রাকৃত পটভূমিকায়ও আকুলভাবে যাঁকে ডাকা চলে!!জগজ্জননী মহামায়ার সাথে বাঙালীর সম্পর্ক কী বুঝবে তারা, যারা বানিজ্যিক বিজ্ঞাপনে মাল্টি-টাস্কিং আধুনিকা-র রূপকল্পে মা দুর্গার ছবি দেখে হুলুস্থুল বাধায়... যারা পুজোয় বাঙালীর আমিষভোজন দেখে নাক সিঁটকোয় আর ম্লেচ্ছ বর্বর ভাবে... যারা বিকাশ ভট্টাচার্যের দুর্গা সিরিজ দেখে নি... যাদের কোনদিন এইচ.এম.ভি. শারদঅর্ঘ্য ছিল না... ছিল না পুজোয় চাই নতুন জুতো... অনিঃশেষ শারদীয়া সাহিত্য... অতুলনীয় মন্ডপ-সৌকর্য... ডাকের সাজে ঝলমলে সাবেকী প্রতিমা... সাঁঝবাতির আলোয় সিঁদুরখেলা....মহালয়ার রাত পেরোলেই অখিল বিমানে তাঁর জয়গান... নিশার শেষে আগমনীর আলোয় শরতের আকাশবীনা গানের মালা বিলাবে চরাচর জুড়ে...আজি শংখে শংখে মঙ্গল গাওজননী এসেছে দ্বারে ... !লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ০৫, ২০২১

ট্রেন্ডিং

সম্পাদকীয়

বুলেট থেকে ব্যালট, সন্ত্রাস থেকে স্বপ্ন: মাওবাদ দমনের ভারতীয় মডেল

পরিবর্তন২০০৯ সাল । কেন্দ্রে ইউ পি এ সরকার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং লেফ্ট উইং এক্সট্রিমিজমকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় বিপদ বলে চিহ্নিত করেছিলেন। কিন্তু, মাওবাদী সন্ত্রাসকে দমন করা যায় নি। বছর ঘুরতেই ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়ারাতে মাওবাদী সন্ত্রাসের ভয়াবহ চেহারা দেখেছিল ভারতবর্ষ। মাওবাদী আক্রমণে সেদিন ৭৬ জন সিআরপিএফ জোয়ান নিহত হন। পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে মাওবাদী সন্ত্রাস। দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদীদের আক্রমণে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা উধাও হয়ে যায়। স্বাধীন দেশে যে সরকারি শাসন থাকে তা ওই সমস্ত অঞ্চলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে । ২০১৪ সালে দেশে রাজনৈতিক পালাবদল হয়। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। ক্ষমতায় আসার পরেই মাওবাদী সন্ত্রাস সম্পর্কে জিরো টলারেন্স নীতি নেয় সরকার। মাওবাদী দমনে কৌশলগত নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন আসায় ক্রমশ মাওবাদীরা কোনঠাসা হতে থাকে। অবশেষে ২০২৬ সালের ৩০ শে মার্চ সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ ঘোষণা করেন মাওবাদী সন্ত্রাস থেকে মুক্ত হয়েছে ভারত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণায় যে বিষয়গুলি স্পষ্ট হয় তা হলো, মাওবাদী সন্ত্রাস দমনে কোন কৌশলী নীতির প্রয়োজন ছিল । সেই নীতি সফলভাবে রূপায়ণের জন্য কতটা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা প্রয়োজন ছিল। সেই দায়বদ্ধতার লক্ষ্য ছিল, মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যের সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক রঙ নির্বিশেষে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যৌথ কৌশল রচনা ও নিরাপত্তা অভিযানের সাফল্যকে সুসংগঠিত করে মাওবাদী দমনে সামনের দিকে এগিয়ে চলা। এই সু-সংহত, নিবিড় ও নিপুণ কৌশলী পরিকল্পনার ফলেই মাওবাদী সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে দেশ।সাফল্যের সুচনাঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশে, তামিলনাড়ু যেখানে যেখানে মাওবাদীরা ঘাঁটি গেড়েছিল সেখানে সেখানেই তাদের গতিবিধি সংকুচিত হতে থাকে। ক্রমশ তারা পালিয়ে কেন্দ্রীভূত হয় ছত্তিশগড়ে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকারের সু- কৌশলী নিরাপত্তা অভিযানে সেখানেও সাফল্য আসতে শুরু করে। ছত্তিশগড়ে ২০২৪ সালে ২,৭৬২ জন মাওবাদী সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ২০২৫ এর ৩০শে মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান। ২০২৪ সাল থেকে দেশ জুড়ে ৪,৮৩৯ জন মাওবাদী সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। ২০২৪-২০২৬ এই দুবছরে ২,২১৮ জন মাওবাদী গ্ৰেফতার হয়। ২০২৫ সালে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদী সন্ত্রাস মুক্ত হবে ভারত। ২০১৩ সালে দেশে ১২৬টি জেলা ছিল মাওবাদী অধ্যুষিত। তথাকথিত রেড করিডোর বিছিয়ে ছিল ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশে, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উড়িষ্যার কিছু কিছু অঞ্চলে। ২০২১ সালে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার গভীরে ৪০৬টি নতুন সিআরপিএফ ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পরেই মাওবাদী দমন অভিযানে গতি আসে। একসময় এই এলাকাগুলোতে সরকারি প্রশাসনের উপস্থিতি না থাকায় আইনের শাসন ছিল না। ফলে ওই সমস্ত এলাকায় মাওবাদীরা সমান্তরাল প্রশাসন গড়ে তোলে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ছত্তিশগড়ের বস্তারে। বস্তারে প্রায় ৪২,০০০ স্কোয়ার কিলোমিটার জায়গা জুড়ে মাওবাদীদের দাপট চলতে থাকে। কোর এলাকায় নতুন সিএপিফ ক্যাম্পের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণ, স্কুল স্থাপন এবং পাব্লিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম চালু হয়। রাস্তা তৈরি হওয়ায় খনির কাজেও গতি আসে। মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিশগড়ের নারায়নপুর থেকে বিজাপুরের খনি উত্তোলনের দ্রব্য নিয়ে ট্রাক চলাচল শুরু হয়। মা একসময় কল্পনার বাইরে চলে গিয়েছিল। অতি দূর্গম ও অতি প্রান্তিক এলাকায় বাইরের জগতের এই টাটকা বাতাসের ঝলক পৌঁছতেই সেখানকার বদ্ধ জীবনেও আশা , আকাঙ্খা জাগতে শুরু করে। মাওবাদীদের দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তির সম্ভাবনাও জোরালো হতে থাকে। পুনর্বাসন২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই কেন্দ্রীয় সরকার মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ১৭,৫৮৯ কি মি রাস্তা তৈরি, ৩,৫০০০ মোবাইল টাওয়ার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। অতিদ্রুত সেই কাজ এগোতে থাকে। রাস্তা এবং মোবাইল সংযোগ বিস্তারের ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল ও পৌর এলাকায় পৌঁছনোর সুবিধা হয়ে যায়। এরফল পাওয়া যায় ২০২০ সাল থেকেই ছত্তিশগড় এলাকায় মাওবাদীদের অবাধ চলাচল বন্ধ হতে শুরু করে। ওই সময় থেকেই মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও অন্যান্য কমিটির বৈঠক এর সংখ্যা কমতে থাকে। মাওবাদীদের দুর্বলতা এবং কোনঠাসা অবস্থা বিচার করে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ ঘোষণা করেন, মাওবাদীদের সম্পর্কে সরকারের নীতি খুব পরিষ্কার। যারা সরকারের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করবে তাদের সঙ্গে কথা হতে পারে, কিন্তু, যারা বুলেটেই বিশ্বাস রাখবে তাদের উত্তর সরকার বুলেটেই দেবে । এরই পাশাপাশি, হিংসা ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরলে তাদের জন্য পুনর্বাসন নীতি ঘোষণা করে সরকার। নীতি অনুযায়ী সমর্পন করলে ৫০,০০০ টাকা এবং অবিবাহিতা ও বিধবা মাওবাদী সদস্যা দের জন্য এক লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়। এছাড়াও অস্ত্র সহ সমর্পন করলে অস্ত্রের মান অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করে সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মাওবাদীদের সাধারণ সম্পাদক বাসব রাজুর মৃত্যুর পাশাপাশি এই পুনর্বাসন নীতির ফলে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের সংখ্যা অতি দ্রুত বাড়তে থাকে।নতুন ভোরসম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ সংসদে জানিয়েছেন, ভারতবর্ষ এখন মাওবাদ মুক্ত। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের একগুচ্ছ পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারের লক্ষ্য হলো, যে অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করে মাওবাদীর প্রভাব বাড়িয়েছিল তা দূর করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবে অন্য নামে, অন্য চেহারায় এই ভুল রাজনীতি আর ফেরার চেষ্টা না করতে পারে। সালিমা টেটে ও মমতা হাঁসদা, নাম দুটো আজ আমাদের অতিপরিচিত। সালিমা ঝাড়খন্ডের আর মমতা পশ্চিম মেদিনীপুরের আদিবাসী কন্যা। এখন প্রথমজন ভারতীয় মহিলা হকি দলের এবং দ্বিতীয় জন ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের অতি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যা। দুজনেই প্রমাণ করেছেন জঙ্গল, পর্বত ঘেরা প্রত্যন্ত জায়গায় সুযোগ পৌঁছলে কি হতে পারে। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় ওই সব অঞ্চলে উন্নয়নের ধারায় স্কুল, কলেজ, ক্রীড়া কেন্দ্র, মুক্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা, নিবিড় ঘরকন্না ও গর্বিত জীবনবোধ ছড়াতে থাকলেই সন্ত্রাস, হিংসা শেষ করে যে নতুন ভোর এসেছে তার আলো অন্ধকার দূর করে এগোতে থাকবে।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

চশমা ভেঙে চোখে আঘাত! শোভনের গাড়িতে মিন্টোপার্কের হাসপাতালে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরে তাঁকে মিন্টো পার্ক এলাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁকে দেখতে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সূত্রের খবর, নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সোনারপুরে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। সেই ঘটনায় তাঁর চশমা ভেঙে যায় এবং চোখে আঘাত লাগে বলে জানা গিয়েছে।প্রথমে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসকদের কাছে অভিষেক জানান, চোখে আঘাত লাগার পাশাপাশি শরীরের একাধিক জায়গাতেও চোট পেয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা প্রথমে তাঁর চোখের পরীক্ষা ও চিকিৎসা করেন। পরে অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষাও করা হয়।অভিষেকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার সময়ও অভিষেককে কিছুটা ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।দুই হাজার পনেরো সালের পাঁচ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে একটি কর্মসূচিতে তাঁকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে। দুই হাজার তেইশ সালের ছাব্বিশ মে ঝাড়গ্রামে কুড়মি বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একই বছরের চার অক্টোবর দিল্লিতে আন্দোলনের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে পুলিশ সরিয়ে নিয়ে যায়। ত্রিপুরাতেও একবার তাঁর কনভয় দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।সোনারপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হামলার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

মে ৩০, ২০২৬
দেশ

অভিষেকের উপর হামলায় সরগরম দেশ! খাড়্গে-অখিলেশের বিস্ফোরক বার্তায় চাপে বিজেপি?

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার জাতীয় রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সোনারপুরের ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সরব হয়েছে ইন্ডিয়া জোটের নেতারাও। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন।সামাজিক মাধ্যমে মল্লিকার্জুন খাড়্গে লিখেছেন, সোনারপুরে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁর দাবি, অভিষেক ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা প্রতিহিংসার রাজনীতিরই উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।খাড়্গে আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সব বিরোধী দলের নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও হিংসার কারণ হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি দাবি করেন, এত সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না থাকা গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর কথায়, ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।এদিকে আগামী ছয় জুন ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সেই বৈঠক নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জল্পনা চলছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্তরে বিরোধী শিবির আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারে। ইন্ডিয়া জোটের আসন্ন বৈঠকের আগে এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

ওপরের নির্দেশে অভিষেকের চিকিৎসা হচ্ছে না! বিস্ফোরক অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে সেখানে ঠিকমতো চিকিৎসা করা হচ্ছে না বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, উপর মহল থেকে নির্দেশ আসার কারণেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।হাসপাতাল থেকে অভিষেককে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, আমরা এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি। এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। উপর থেকে বলে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা না করতে। একই অভিযোগ তিনি একাধিকবার করেন। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।এরপর হাসপাতাল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বের করে আনা হয়। তাঁকে বেশ ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। ধীরে ধীরে গাড়িতে ওঠেন তিনি। গাড়িতে তাঁর পাশে বসেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। গাড়িতে বসে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে নিতে দেখা যায় অভিষেককে। তারপর তাঁকে নিয়ে অন্য একটি হাসপাতালে রওনা দেয় গাড়ি।এর আগে সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়, ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। হামলার পরেও তিনি নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন।সেই সময় অভিষেক বলেন, ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। সোনারপুরের এই ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু উচ্চ আদালত নয়, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাব।পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিষেককে নিরাপদে সেখান থেকে বের করে আনে। এরপর তাঁকে চিকিৎসার জন্য বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মে ৩০, ২০২৬
রাজ্য

কালো পতাকা, ‘চোর-চোর’ স্লোগান, তারপর ডিম! সোনারপুরে অভিষেককে ঘিরে চাঞ্চল্য

সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হেনস্থার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কালীঘাট থেকে সোনারপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকেই তাঁর কনভয় ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।কামালগাজি এলাকায় সিগন্যালে অভিষেকের কনভয় দাঁড়াতেই কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ তাঁর গাড়ির সামনে এসে কালো পতাকা দেখান। এরপর শুরু হয় চোর-চোর স্লোগান। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।এরপর সোনারপুরে যে তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অভিষেক যাওয়ার কথা ছিল, সেই এলাকার রাস্তায় বহু মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। স্থানীয়দের একাংশকে ডিম প্রস্তুত রাখার কথাও বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ।পরে গাড়ি থেকে নেমে বাইকে করে ওই কর্মীর বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তিনি হেলমেট পরেন। তবে ভিড়ের কারণে কিছু দূর যেতেই বাইক আটকে যায়।সেই সময় আচমকাই অভিষেককে লক্ষ্য করে পরপর ডিম ছোড়া শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিড়ের মধ্য থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক মন্তব্যও করা হয়।অভিযোগ, পরে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামা ছিঁড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁকে ঘিরে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষ দেখুন। আমি হাইকোর্টে যাব। পুলিশের কোনও নিরাপত্তা নেই। এখানে ইট, পাটকেল, ডিম ছোড়া হচ্ছে। আমি ব্রাহ্মণ সন্তান, আমি কি বাংলাদেশি?ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

জামা ছিঁড়ে দিল বিক্ষোভকারীরা, সঞ্জুর বাড়িতে বসেই হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা অভিষেকের

সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচির কথা আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল এবং ই-মেলও করা হয়েছিল। তবু ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ছিল না।সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছনোর পথে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভের মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।সাদা জামায় ডিমের দাগ নিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক। তিনি বলেন, ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। আমি সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে যাব না, যতক্ষণ না বাহিনী এসে আমাকে উদ্ধার করছে।তিনি আরও বলেন, আমি চাইলে এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমি চলে গেলে সঞ্জুর বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার হতে পারে। তাই বাহিনী না আসা পর্যন্ত আমি এখানেই থাকব।ঘটনার জন্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, আগে থেকে সব জানানো সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি।সোনারপুরের এই ঘটনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান অভিষেক। তিনি বলেন, এই ঘটনার দিকে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু উচ্চ আদালত নয়, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাব। দরকার হলে নিজেই আবেদনকারী হিসেবে মামলা করব। সংবিধান আমাকে সেই অধিকার দিয়েছে।ঘটনাস্থলে অভিষেকের সঙ্গে মাত্র দুজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তাঁদের দাবি, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কোনও রকমে তাঁকে নিরাপদে সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পরে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতেই স্থানীয় থানার আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর আবেদন করা হয়।পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মে ৩০, ২০২৬
রাজ্য

‘আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক!’ সোনারপুরে হামলার পর বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচির কথা আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল এবং ই-মেলও করা হয়েছিল। তবু ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ছিল না।সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছনোর পথে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভের মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।সাদা জামায় ডিমের দাগ নিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক। তিনি বলেন, ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। আমি সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে যাব না, যতক্ষণ না বাহিনী এসে আমাকে উদ্ধার করছে।তিনি আরও বলেন, আমি চাইলে এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমি চলে গেলে সঞ্জুর বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার হতে পারে। তাই বাহিনী না আসা পর্যন্ত আমি এখানেই থাকব।ঘটনার জন্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, আগে থেকে সব জানানো সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি।সোনারপুরের এই ঘটনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান অভিষেক। তিনি বলেন, এই ঘটনার দিকে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু উচ্চ আদালত নয়, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাব। দরকার হলে নিজেই আবেদনকারী হিসেবে মামলা করব। সংবিধান আমাকে সেই অধিকার দিয়েছে।ঘটনাস্থলে অভিষেকের সঙ্গে মাত্র দুজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তাঁদের দাবি, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কোনও রকমে তাঁকে নিরাপদে সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পরে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতেই স্থানীয় থানার আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর আবেদন করা হয়।পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

কার সই কে করল? তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে সন্দেহ, তদন্তে নেমেছে সিআইডি

তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা, উপনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া সমর্থনপত্রে সই নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কার সই কে করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তদন্তে নেমেছে সিআইডি। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই তৃণমূলের অন্দরেও বাড়ছে অস্বস্তি।বিধানসভার পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই তদন্তের গতি বাড়ে। বৃহস্পতিবার রাতেই একাধিক বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডি আধিকারিকরা। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের স্বাক্ষর যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা।তদন্তের অংশ হিসেবে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে যান তদন্তকারীরা। শুক্রবার সকালে বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও পৌঁছয় সিআইডির একটি দল।বাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা তাঁকে ৬ মে তিনি কোথায় ছিলেন তা জানতে চান। তিনি জানান, সেদিন তিনি নিজের এলাকায় ছিলেন এবং কোনও বৈঠকে যোগ দেননি। তাঁকে একটি নথিতে থাকা সই দেখানো হলে তিনি দাবি করেন, সেটি তাঁর স্বাক্ষর নয়। এই বক্তব্য সামনে আসার পরই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, কোনও বেআইনি কাজকে সমর্থন করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, বাহারুল ইসলাম যে স্বাক্ষরটি দেখেছেন, সেটিকে তিনি নিজের সই বলে স্বীকার করেননি।অন্যদিকে তাপস মাইতি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা স্বাক্ষরটি তাঁরই। ফলে একই ঘটনায় দুই ধরনের বক্তব্য সামনে আসায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এদিকে বোলপুরে গিয়ে বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার স্বাক্ষরের নমুনাও সংগ্রহ করেছে সিআইডি। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে ছোট এবং বড় হরফে তাঁর একাধিক নমুনা সই নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, শপথ গ্রহণের সময় চন্দ্রনাথ সিনহা বাংলায় স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সমর্থনপত্রে তাঁর নামে অন্য ভাষায় স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সব মিলিয়ে সই বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই বাড়ছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষেরও। সিআইডির তদন্তে আগামী দিনে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মে ৩০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal