• ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩, শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

BJP

দেশ

২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে খেলেন জল

নয়াদিল্লি: টানা ২৬ দিন অনশন করার পর অবশেষে অনশন ভাঙলেন সমাজকর্মী ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরগাঁওয়ের মেডান্তা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁদের উপস্থিতিতেই অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক।সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর সহায়তায় কাপ থেকে জল পান করছেন ওয়াংচুক। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমোও। অনশন ভাঙার পর ওয়াংচুক বলেন, আমি কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত যে আজ আমার অনশন ভাঙতে পারছি। আপনাদের ধন্যবাদ। স্ত্রী গীতাঞ্জলির উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি তাঁর পাশে থেকেছেন।অনশন ভাঙার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তায় ওয়াংচুক জানান, ২৬ দিন পর তিনি অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন অথবা চিঠির মাধ্যমে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর একাধিক শর্ত নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান ওয়াংচুক।আরও পড়ুনঃ দুই ঘণ্টার অপেক্ষার পর অবশেষে নাড্ডার সাক্ষাৎ! সিজেপিকে কী আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্ভাব্য হিংসার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কী কী শর্তে তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন, তা শীঘ্রই একটি পৃথক ভিডিও বার্তায় বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের কোথাও যাতে কোনও ধরনের হিংসার ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন ওয়াংচুক।ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ওয়াংচুককে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে হবে এবং দ্রুত তাঁর হারানো ওজন ফিরে পেতে হবে। তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।এর আগে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা প্রতিবাদের মধ্যেই তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালেও তিনি তাঁর অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যান।END OF HUNGER... BEGINNING OF ACCOUNTABILITY...!Sonam Wangchuk ends his fast after 26 days upon getting assurance from the government and members of parliament of all political parties that the issue of accountability in the failing examination system will be discussed on the pic.twitter.com/0C9YX5VlsL Sonam Wangchuk (@Wangchuk66) July 24, 2026বুধবার ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে নাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত। তাঁর আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়েও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন তিনি।আরও পড়ুনঃ পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পথে সিজেপি, যন্তর মন্তরে তুমুল ধুন্ধুমারগত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে ছিলেন ওয়াংচুক। পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের জবাবদিহির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের জেরে তাঁর অনশন জাতীয় স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।এদিকে, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের যাতে একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।Sonam Wangchuk ji has ended his fast after my colleagues, Shri @JPNadda ji and Shri @DrJitendraSingh ji met him at Medanta Hospital, Gurugram, and assured him of the governments commitment to address the concerns.Wangchuk jis decision to end his fast reflects his trust in the pic.twitter.com/T5KGB4X25b Piyush Goyal (@PiyushGoyal) July 24, 2026প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের মতো গুরুতর মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মধ্যেই সোনম ওয়াংচুক তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভাঙায় আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ২৪, ২০২৬
দেশ

এনসিপিআই থেকে সরাসরি বিজেপি? সুদীপ-কাকলিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ বিদ্রোহী সাংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, এনসিপিআই সাংসদ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই কি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা আবার দল বদল করবেন? তাঁরা কি এবার বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন?সূত্রের খবর, এনডিএ-তে এনসিপিআই সাংসদদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে সুদীপদের সাংসদ পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই আইনি বিতর্ক এড়াতেই বিদ্রোহী সাংসদদের সরাসরি বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে বলে জানা গিয়েছে।এই ২০ জন সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন জল্পনার কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শুক্রবার তাঁর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক হতে পারে বলে সূত্রের খবর।সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে সর্বদলীয় বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদদের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। কালীঘাট তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি প্রতীকী ওয়াকআউট করে। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, এনসিপিআই এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়া সত্ত্বেও কেন তাদের সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হল?এই বিতর্কের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, এনসিপিআই সাংসদদের বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা কি সেই জটিলতা কাটানোরই একটি উপায়?এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ওদের দলের যিনি নেতা আছেন, তিনি বলতে পারবেন। আমি বিজেপির কথা বলতে পারি। আমি এনডিএ-র নেতা নই। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একা লড়ে জয়ী হয়েছে। কোনও শরীকের প্রয়োজন হয়নি। যদিও বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবুও সুদীপ-কাকলিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে।

জুলাই ২২, ২০২৬
রাজ্য

অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ! থানায় গিয়ে কী জানালেন বিজেপি নেতার স্ত্রী?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ উঠল। বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের স্ত্রী মৌসুমী দাস ঘোষ।অভিযোগকারিণীর দাবি, গত শনিবার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ কার্যালয় ভাঙচুরের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।মৌসুমী দাস ঘোষের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই তিনি লাগাতার হুমকি পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, সামাজিক মাধ্যমে অভিষেকের ডিজিটাল যোদ্ধারা তাঁকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করছেন। এই কারণে গত দুদিন ধরে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন।সোমবার সকালে তিনি বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে আমতলার পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।পাশাপাশি তিনি ২০১৮ সালে তাঁর স্বামী অভিজিৎ দাসের উপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর দাবি, সেই সময় মারধরের ফলে তাঁর স্বামীর দুটি পা ভেঙে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা পুলিশি নিরাপত্তার দাবিও জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমফানের ত্রাণ বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস নোদাখালি থানায় লিখিত অভিযোগ করে দাবি করেছিলেন, বজবজ ২ ব্লকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ত্রাণ দুর্নীতি হয়েছে এবং ভুয়ো নথি তৈরি করে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জুলাই ২০, ২০২৬
কলকাতা

‘টাটা আসবে, আদানিও আসবে’! বাংলার শিল্প নিয়ে বড় ঘোষণা, চর্চায় শমীকের মন্তব্য

ডানকুনিতে নতুন শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্যে ছয়শো কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা করল লাক্স-কোজ়ি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই বাংলার শিল্প, বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য।তিনি জানান, লাক্স পরিবারের কর্ণধার নিজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে শিল্প সম্প্রসারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর দাবি, এখন বহু শিল্পপতি নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে পাহাড়, নদী এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্পের আরও বড় বিস্তার সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই সরকার এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং শিল্পমন্ত্রীর উদ্দেশে সিঙ্গুরের বিষয়েও নজর দেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর মতে, শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে সিঙ্গুরের গুরুত্ব এখনও অপরিসীম।বাংলার পরিচয় প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাঙালি হওয়া যায় না। যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পশ্চিমবঙ্গে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন এবং রাজ্যের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, তাঁরাও বাংলারই মানুষ।তিনি আরও দাবি করেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ বাড়বে। দেশ-বিদেশের একাধিক সংস্থা নতুন প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, শিল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মতো অনুকূল পরিবেশ খুব কম রাজ্যেই রয়েছে।একই সঙ্গে তিনি বলেন, এখন আর শিল্প করতে কোনও ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারও জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় তৈরি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

জুলাই ১১, ২০২৬
রাজ্য

রাজ্যের কোষাগার চাঙ্গা করতে দিল্লি অভিযান! বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের আর্থিক চাপ কমাতে ও কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বাড়াতে বাদল অধিবেশনে দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বাংলার বাড়ি প্রকল্প ও অন্যান্য সামাজিক প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। আসন্ন সংসদের বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রীদের দিল্লিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রের কাছ থেকে বকেয়া ও অতিরিক্ত বরাদ্দ আদায়ই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বাড়ছে আর্থিক চাপবর্তমানে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের জন্য প্রায় ১,৯২০ কোটি টাকা রাজ্যের কোষাগার থেকে ব্যয় হচ্ছে। পূর্ববর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগের জেরে কেন্দ্রীয় অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্য নিজস্ব তহবিল থেকেই প্রকল্পটি চালিয়ে আসছিল।এবার নতুন সরকার চাইছে, এই প্রকল্পকে আবার প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনা (PMAY-G)-র আওতায় ফিরিয়ে আনা হোক অথবা অন্তত এক বছরের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হোক। সেই দাবিতে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।১৬ লক্ষ উপভোক্তার জন্য কেন্দ্রীয় অংশের দাবিসূত্রের খবর, প্রায় ১৬ লক্ষ উপভোক্তার জন্য কেন্দ্রের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত ছাড় করার আবেদন জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনায় সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প ব্যয়ের ৬০ শতাংশ বহন করে কেন্দ্র এবং ৪০ শতাংশ দেয় রাজ্য। সেই কেন্দ্রীয় অংশ দ্রুত মঞ্জুর করার আবেদনই জানাবে রাজ্য সরকার।সামাজিক প্রকল্পে বাড়তি ব্যয়রাজ্যে বর্তমানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত-সহ একাধিক সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে রাজ্যের কোষাগারের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতেই বাদল অধিবেশন চলাকালীন দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার।গুরুত্বপূর্ণ বিষয়* বাদল অধিবেশনে দিল্লিতে যাবেন বিভিন্ন দফতরের রাজ্য মন্ত্রীরা।* কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা।* বাংলার বাড়ি প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের কাছে বিশেষ আর্থিক সহায়তার আবেদন।* প্রায় ১৬ লক্ষ উপভোক্তার জন্য PMAY-G-এর কেন্দ্রীয় অংশ দ্রুত মঞ্জুরের দাবি।* সামাজিক প্রকল্প ও ঋণ পরিশোধের কারণে রাজ্যের আর্থিক চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ।

জুলাই ০৪, ২০২৬
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় সাফল্য! বিজেপি কর্মী খুনে গ্রেপ্তার আরও এক অভিযুক্ত

বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল তদন্তকারী দল। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাওড়া জেলা পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের যৌথ অভিযানে শ্যামপুর এলাকা থেকে শেখ সৈফুদ্দিন নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই খুনের ঘটনায় মোট একান্ন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এর আগে দশ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আরও বহু অভিযুক্ত এখনও পলাতক। সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া শেখ সৈফুদ্দিনের নাম অভিযোগপত্রে ছিল। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।শনিবার নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি জানান, খুনের ঘটনায় কাউকে ছাড়া হবে না। প্রয়োজন হলে লুকিয়ে থাকা অভিযুক্তদেরও খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।গত সতেরো জুন রাতে বাগনানের বাঁটুল গ্রামের বাসিন্দা এবং বিজেপির বুথ স্তরের এক পদাধিকারী প্রশান্ত দে খুন হন। বিজেপির অভিযোগ, একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের দাবি, ফোনে তাঁদের জানানো হয়েছিল যে প্রশান্তকে খুন করা হয়েছে এবং কেউ সেখানে গেলে তাকেও ছাড়া হবে না।এই ঘটনায় স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এখনও অধরা বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে এবং আদালতে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হবে। তাঁর বক্তব্য, দোষীদের এমন শাস্তি হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না পায়।

জুন ২৮, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি বিজেপি বিধায়ক! অস্ত্রোপচারের পর কী জানালেন পাপিয়া অধিকারী?

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। শনিবার তাঁকে বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একই দিন তাঁর ডান হাতের একটি আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিধায়কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় হাসপাতালের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর জানানো হয়েছে।পাপিয়া অধিকারী জানান, তাঁর ডান হাতের মধ্যমা আঙুলে সংক্রমণ হয়েছিল। সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আঙুল ফুলে যায় এবং তীব্র যন্ত্রণার কারণে হাত নাড়াতেও অসুবিধা হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত। সেই কারণেই আর দেরি না করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে অস্ত্রোপচার চলে।অস্ত্রোপচারের পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে পাপিয়া অধিকারী বলেন, তিনি এখন অনেকটাই ভালো আছেন। একই সঙ্গে বাঙুর হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবারও প্রশংসা করেন তিনি। বিধায়কের কথায়, টালিগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় এই সরকারি হাসপাতাল তাঁর বাড়ির সবচেয়ে কাছের। এখানকার চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের কর্মীরা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করেছেন। অস্ত্রোপচার কক্ষের পরিষেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও তাঁর ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।পাপিয়া অধিকারীর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন দলের সহকর্মী এবং অনুগামীরা। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছেন তিনি। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

‘স্যাটা ভাঙা মার’ মন্তব্যেই বিপদ! হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নতুন বিতর্কে তোলপাড়

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্যাটা ভাঙা মার মন্তব্যের জেরে শনিবার সন্ধ্যায় বহরমপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি যুব মোর্চা এবং সামাজিক সংগঠন রাম সীতা সেবা মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন মন্তব্য সমাজে উত্তেজনা ছড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।শুক্রবার রেজিনগরে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিজেপি সরকার গঠন করেছে, তাতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁর অভিযোগ, মুর্শিদাবাদে পরাজিত হওয়ার পরেও কয়েক জন বিজেপি নেতা অযথা দাপট দেখাচ্ছেন। এরপরই তিনি বলেন, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তাহলে তিনি মুসলিমদের একজোট করে স্যাটা ভাঙা মার দেবেন। এমনকি তিনি আরও দাবি করেন, সেদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী বা পুলিশ সুপারের কথাও ভাববেন না। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।হুমায়ুন কবির অতীতেও একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিরোনামে উঠে এসেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় তাঁর একাধিক মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা হয়েছিল। পরে বিতর্কের জেরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নওদা এবং রেজিনগর দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন তিনি। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তাঁর ছেলের জন্য।এবারের বিতর্কিত মন্তব্যের পর বিজেপি যুব মোর্চা এবং অভিযোগকারী সংগঠনগুলির দাবি, একজন বিধায়কের এমন বক্তব্য কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বাগনান খুনে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক নির্দেশ! ‘পাতালেও লুকোলেও রেহাই নেই’

বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে খুনের ঘটনায় মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মামলার কোনও অভিযুক্তই রেহাই পাবে না। পুলিশের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, বাকি অভিযুক্তরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। একই সঙ্গে মৃতের পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি নিয়ম মেনে মৃতের বড় মেয়েকে বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।গত সতেরো জুন হাওড়ার বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে খুন হন। অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাছাড়া ছিলেন স্থানীয় তৃণমূলের উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইসলাম। ওই দিন তাঁর বাড়ির সামনে কয়েক জন বিজেপি কর্মী জড়ো হয়ে কাটমানি ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, উপপ্রধান ও তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রশান্ত দেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সকলকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে পুলিশের উপর ভরসা রাখতে বলেন। প্রয়োজনে তদন্তে অপরাধ তদন্ত বিভাগ কাজ করবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। পরে এই ঘটনার তদন্তভার অপরাধ তদন্ত বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হয়েছিল।শনিবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসনের দেওয়া আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মৃতের বড় মেয়ের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো ঘটনার উপর তাঁর নজর রয়েছে। পুলিশের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, মোট একান্ন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যেই দশ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি একচল্লিশ জনকেও দ্রুত গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষ করে দ্রুত চার্জশিট জমা দিতে হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।মৃতের বড় মেয়ে রিম্পা দে জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে অস্থায়ী চাকরি দিয়েছেন। তাঁর পরিবারের চিকিৎসার বিষয়েও সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মৃতের আর এক মেয়ে বলেন, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আতঙ্ক কাটবে না। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে তাঁরা কিছুটা ভরসা পেয়েছেন। প্রশান্ত দের স্ত্রীও জানান, তাঁরা চান দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। অপরাধ তদন্ত বিভাগের তদন্তে তাঁদের আস্থা রয়েছে এবং দ্রুত বিচার হবে বলেই তাঁরা আশা করছেন।এদিন মহরম উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ। তিনি জানান, কোথাও অস্ত্র প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটেনি। আইন মেনে সব কিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পুলিশকেও তিনি ধন্যবাদ জানান।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

মাসে ৩ হাজার টাকা, পড়াশোনায় ৫০ হাজার! মহিলাদের জন্য বাজেটে একের পর এক বড় ঘোষণা

রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে মহিলাদের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। নারী নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়িক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। বাজেট ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা অনুদান পাবেন। এই প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবর্ষে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিধবাদের মাসিক ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবার থেকে তাঁরা প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন। আশাকর্মীদের পারিশ্রমিকও বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালু রাখতে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একাধিক সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা মিলবে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও শিশুর পুষ্টির জন্য এককালীন ২১ হাজার টাকা অনুদানের কথাও বলা হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে রোগীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করা হয়েছে অবিবাহিত ছাত্রীদের জন্য। স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁরা এককালীন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। উচ্চশিক্ষায় পড়ুয়াদের ঝরে পড়ার হার কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এই প্রকল্পের জন্য চলতি বছরে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও মহিলাদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি সমস্ত নিয়োগে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে বিশেষ স্কোয়াড গঠন করা হবে। মাতঙ্গিনী ও রানি শিরোমণির নামে দুটি মহিলা ব্যাটালিয়ন তৈরি করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমায় অন্তত একটি করে মহিলা পরিচালিত থানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।ব্যবসার ক্ষেত্রেও মহিলাদের এগিয়ে দিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ক্লাউড কিচেন গড়ে তোলার জন্য নতুন নীতি আনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ২ লক্ষ যুবক-যুবতীকে ব্যবসা শুরু করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে এবং বাকি ৫ লক্ষ টাকা সুদবিহীন ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে।বাজেটের এই একাধিক ঘোষণার ফলে রাজ্যের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক ক্ষমতায়ন আরও জোরদার হবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

জুন ২২, ২০২৬
রাজ্য

ঘাটালবাসীর কপাল খুলল! বাজেটে বিশাল ঘোষণা, এবার কি সত্যিই শেষ হবে বন্যার যন্ত্রণা?

ঘাটালবাসীর বহু বছরের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্যা ও জলযন্ত্রণায় জর্জরিত এলাকার মানুষ এবার স্থায়ী সমাধানের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।ঘাটাল অঞ্চল মূলত শীলাবতী, কংসাবতী এবং দ্বারকেশ্বর নদের শাখা নদী ঝুমিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। অতীতে জমিদারি আমলে বন্যার জল আটকাতে বিভিন্ন এলাকায় সার্কিট বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। সেই বাঁধগুলির সাহায্যে নিচু এলাকা বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত এবং কৃষিজমির পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব হয়েছিল।কিন্তু সময়ের সঙ্গে জমিদারি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলেও সেই পুরনো বাঁধগুলি রয়ে যায়। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু বাঁধ দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে প্রতি বছর বর্ষার সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। অন্যদিকে নদীতে জমতে থাকা পলির কারণে জলধারণ ক্ষমতাও ক্রমশ কমেছে। তার ফলেই বন্যার ঝুঁকি বছর বছর বেড়েছে।এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করতেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্থানীয়দের আশা, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে এবং জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে।এর আগে তৃণমূল সরকার বারবার অভিযোগ করেছিল যে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তার অভাবেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। গত লোকসভা নির্বাচনের সময়ও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। ঘাটালের সাংসদ দেব তথা দীপক অধিকারী প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, এলাকার মানুষকে বন্যার হাত থেকে মুক্তি দিতে না পারার দায় তিনি অনুভব করছেন।এরপর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজও শুরু হয়েছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।এই ঘোষণার পর ঘাটালজুড়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বহু মানুষের প্রশ্ন, এতদিনের প্রতীক্ষার পর এবার কি সত্যিই শেষ হবে বন্যার দুর্ভোগ? প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত এগোয় এবং তার বাস্তব ফল কতটা পাওয়া যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন ঘাটালবাসী।

জুন ২২, ২০২৬
কলকাতা

‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর নায়ককে সম্মান, কলকাতায় রাস্তার নাম বদলে চমক

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার সুরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন কলকাতা পৌরনিগমের কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে তিনি কলকাতা পৌরনিগমকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, প্রকৃত নায়কদের সম্মান জানানোর সময় এসেছে।গোপাল মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে বেশি পরিচিত, কলকাতার বউবাজারের মলঙ্গা লেন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের পরিবারের একটি পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল কলেজ স্ট্রিটে। পেশায় কসাই হওয়ায় তিনি গোপাল পাঁঠা নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন।১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র পর কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং নামে পরিচিত। সেই সময় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গোপাল পাঁঠাকে ঘিরে প্রচলিত বিভিন্ন বর্ণনায় দাবি করা হয়, তিনি নিজের দলবল নিয়ে আক্রান্ত হিন্দুদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন। এই কারণেই অনেকের কাছে তিনি সাহস ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন।গত বছর গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-এ নিহতদের স্মরণে আয়োজিত একটি পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই মিছিলে তাঁর হাতে ছিল গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ছবি। পরে আলিপুরে গোপাল পাঁঠার একটি মূর্তিরও উন্মোচন করা হয়েছিল।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তার নামকরণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে ইতিহাস ও রাজনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে।উল্লেখ্য, গোপাল পাঁঠার জীবন ও ১৯৪৬ সালের কলকাতার ঘটনাবলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমানসে কৌতূহল রয়েছে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা বিতর্কও। তবে নতুন করে রাস্তার নামকরণের সিদ্ধান্ত তাঁকে আবারও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এল।

জুন ২১, ২০২৬
দেশ

লোকসভায় তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন! ২৮-এর দলে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের দাপট, অভিষেককে ঘিরে সঙ্কুচিত মমতার অনুগত বলয়

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে নজিরবিহীন ভাঙনের জেরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার লোকসভাতেও দলের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য বিদ্রোহী অবস্থান নেওয়ায় সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।দলীয় সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরেই সাংসদদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। সেই অসন্তোষেরই প্রকাশ ঘটে দিল্লিতে একাধিক বৈঠকে। প্রথমে রবিবার গভীর রাতে গোপন বৈঠক এবং পরে সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। এরপরই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র প্রতি সমর্থন জানাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।এই বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। কাকলির দাবি, প্রায় ২০ জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এবং তাঁরা সম্মিলিতভাবে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, খলিলুর রহমান, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, শর্মিলা সরকার, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, আবু তাহের, কালীপদ সোরেন, জুন মালিয়া, সাজদা আহমেদ, ইউসুফ পাঠান, দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার এবং পার্থ ভৌমিক। এছাড়াও শত্রুঘ্ন সিংহ, প্রতিমা মণ্ডল ও মিতালি বাগের অবস্থান নিয়েও জল্পনা চলছে।অন্যদিকে, তৃণমূলের মূল নেতৃত্বের পাশে আপাতত যাঁরা রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, সায়নী ঘোষ, মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজ়াদের নামও দলনেত্রীর অনুগত শিবিরে শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মালা রায়ও এখনও নেতৃত্বের দিকেই ঝুঁকে রয়েছেন।এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত লোকসভায় তৃণমূলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। এক সময় যে সংসদীয় দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্তৃত্ব ছিল নিরঙ্কুশ, সেখানে এখন সংখ্যার বিচারে তাঁর অনুগত শিবির অনেকটাই সঙ্কুচিত বলে দাবি বিরোধী মহলের।বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যদি কেউ এনডিএ-তে যোগ দিতে চান, তবে তাঁদের আগে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন এবং সেই জনাদেশকে অন্য রাজনৈতিক শিবিরের পক্ষে ব্যবহার করা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।একইভাবে কীর্তি আজ়াদও গোটা ঘটনাকে বিজেপির পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০ জন সাংসদের সমর্থনের যে দাবি করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং বৈঠকে উপস্থিত সাংসদের সংখ্যা অনেক কম ছিল এবং অধিকাংশ সাংসদ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি।তবে দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের ধারাবাহিক বৈঠক এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমশ জটিল করে তুলছে। লোকসভায় তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অবস্থান, দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সামনে তৈরি হওয়া এই নতুন চ্যালেঞ্জ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জুন ০৯, ২০২৬
কলকাতা

বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের! এবার কাদের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে সিবিআই? প্রকাশ্যে নতুন নির্দেশিকা

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, আধিকারিক বা কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কোনও অভিযোগের তদন্ত করতে গেলে আর রাজ্যের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে না। তবে রাজ্য সরকারের কর্মী বা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে হলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আগের মতোই রাজ্যের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। সোমবার প্রকাশিত এক নতুন নির্দেশিকায় এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা অথবা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও অভিযোগ বা অপরাধের তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সরাসরি করতে পারবে। এমনকি কোনও মামলায় কেন্দ্রীয় কর্মী বা কেন্দ্রীয় সংস্থার যোগসূত্র থাকলে সেই মামলায় যুক্ত বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালানোর ক্ষমতা থাকবে তদন্তকারী সংস্থার।তবে রাজ্য সরকারের কোনও কর্মী, আধিকারিক বা রাজ্যের অধীনস্থ সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমতি বাধ্যতামূলক থাকবে। অর্থাৎ এই ধরনের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আগে রাজ্য সরকারের সম্মতি নিতে হবে।সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় আমলা এবং আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র অতীতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি, সমবায় সমিতির অর্থ তছরূপ এবং আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।সেই ঘোষণার পরই স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শাখা এই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সরাসরি তদন্ত করতে পারবে এবং কোন ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমতি নিতে হবে।নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দিল্লি স্পেশ্যাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট আইন অনুযায়ী রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত পরিচালিত হয়। সেই আইনের বিধান মেনেই এই সম্মতি ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।নবান্ন সূত্রে খবর, এই নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নতুন নির্দেশিকা ভবিষ্যতে দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ফলে রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুন ০৮, ২০২৬
কলকাতা

‘ভাইপোর লোক’, ‘ডাকাত’, ‘জেল নিশ্চিত’— শুভেন্দুর মন্তব্যের পর বিস্ফোরক তরুণজ্যোতি

রাজারহাট গোপালপুরে এক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে ডাকাত শব্দ ব্যবহার করে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তিনি কারও নাম নেননি, তবে তাঁর মন্তব্যের পর সেই ডাকাত আসলে কে, তা নিয়ে শুরু হয় জোর রাজনৈতিক জল্পনা। পরে রাজারহাট গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সেই রহস্যের পর্দা সরানোর দাবি করেন।রবিবার সন্ধ্যায় রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভার উদ্যোগে আয়োজিত একটি রক্তদান শিবিরে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রথমে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির প্রশংসা করেন। এরপর তিনি বলেন, ২০২৬ সালে রাজ্যের মানুষ কার্যত দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছেন। সেই কারণেই খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বেও মানুষ ঘরে বসে না থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।তরুণজ্যোতির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, তাঁকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে মানুষ এমন একজনকে পরাজিত করেছেন, যাকে তিনি ডাকাত বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়েছেন, ছোট ছোট কাজ কেড়ে নিয়েছেন এবং বহু মামলা দিয়ে বিরোধীদের হয়রানি করেছেন। একুশের পর রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।তবে একই সঙ্গে তিনি কর্মী-সমর্থকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনই ব্যবস্থা নেবে। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, যে ডাকাত-এর কথা তিনি বলছেন, তার বিষয়টি পুলিশমন্ত্রীর উপর ছেড়ে দিতে।মুখ্যমন্ত্রী নাম না বললেও পরে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী আসলে দেবরাজ চক্রবর্তীর কথাই বলেছেন। তরুণজ্যোতির অভিযোগ, দেবরাজ এক সময় প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেখান থেকে তাঁর বিপুল সম্পত্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক।তরুণজ্যোতি আরও বলেন, তিনি কখনও দেবরাজের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর প্রশ্ন, স্ত্রীর নামে এত সম্পত্তি এল কোথা থেকে? দেবরাজ চক্রবর্তী এখন কোথায়, কেন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, আজ না হোক কাল, দেবরাজ চক্রবর্তীকে জেলে যেতেই হবে।শুভেন্দুর মন্তব্য এবং তরুণজ্যোতির এই দাবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

জুন ০৮, ২০২৬
রাজনীতি

অনুব্রতের দুর্গে অসন্তোষের আগুন! অজয়ের পাড়ের থেকেও দ্রুত গতিতে ভাঙছে তৃণমূল!

বীরভূম জেলা তৃণমূলে ক্রমশ বাড়ছে অস্বস্তি। একের পর এক নেতার প্রকাশ্য অসন্তোষ এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা দলীয় অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিংহের পর এবার জেলা কোর কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চাইলেন দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কোর কমিটির সদস্যপদই নয়, জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত আশিসবাবু কখনও প্রকাশ্যে দলবিরোধী অবস্থান নেননি। তাই তাঁর এই পদক্ষেপকে নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।প্রাক্তন বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি দল ছাড়ছেন না। বরং তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে চান। তবে সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সাধারণ কর্মীর ভূমিকায় ফিরে যেতে আগ্রহী তিনি।উল্লেখযোগ্যভাবে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, অভিজিৎ সিংহ যে কারণ দেখিয়ে কোর কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি সেই বক্তব্যের সঙ্গেই একমত। কয়েকদিন আগেই অভিজিৎ সিংহ অভিযোগ করেছিলেন, বীরভূম জেলা কোর কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং সংগঠনের কাজে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না। সেই অভিযোগ ঘিরে তখনই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।এরপর কোর কমিটির আর এক সদস্য কাজল শেখও প্রকাশ্যে কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সরাসরি কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। সেই বিতর্ক থামার আগেই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূম দীর্ঘদিন ধরেই অনুব্রত মণ্ডলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই জেলাতেই যদি কোর কমিটির সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তাহলে তা জেলা সংগঠনের ভিতরে গভীর সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্তরে তৃণমূল নেতাদের পদত্যাগ ও সাংগঠনিক অসন্তোষের খবর সামনে আসার আবহে বীরভূমের ঘটনাপ্রবাহকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম রাজনীতির এক পরিচিত নাম। বামফ্রন্টের শক্তিশালী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ২০০১ সালে রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এরপর টানা প্রায় পঁচিশ বছর ওই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় দেখা গিয়েছিল।এদিকে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশের ঘটনাকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে বিজেপি। দলের বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, এটা কেবল শুরু। যাঁরা এতদিন চুপ ছিলেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।সব মিলিয়ে, অভিজিৎ সিংহ, কাজল শেখ এবং এবার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বীরভূম জেলা তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের স্রোত ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। এখন রাজ্য নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দুর পূর্ণ মন্ত্রিসভায় বড় চমক! চিকিৎসক, আদিবাসী নেতা থেকে প্রথমবারের বিধায়ক, কারা পেলেন দায়িত্ব?

লোকভবনে সোমবার গঠিত হল রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে শপথ নিলেন মোট পঁয়ত্রিশ জন বিধায়ক। পূর্ণমন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী এই তিন স্তরে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় যেমন রয়েছেন বর্ষীয়ান নেতারা, তেমনই জায়গা পেয়েছেন একাধিক নতুন মুখ এবং প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কেরাও।রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভায়। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, দক্ষিণবঙ্গ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধিদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সামাজিক এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।মন্ত্রিসভার অন্যতম চমক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পেশায় চিকিৎসক শারদ্বত প্রথমবার নির্বাচনে লড়েই জয়ী হন এবং এবার সরাসরি পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন। একইভাবে খড়দহের কল্যাণ চক্রবর্তীও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন।দীর্ঘদিনের সংগঠক এবং দলের পুরনো মুখদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ময়ুরেশ্বরের দুধকুমার মণ্ডল পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজ্যে দল শক্তিশালী হওয়ার অনেক আগেই তিনি সংগঠনের কাজ করতেন। কুলটির অজয় পোদ্দারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পুরস্কার হিসেবেই এই দায়িত্ব বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।জঙ্গলমহল থেকেও একাধিক প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গোপীবল্লভপুরের রাজেশ মাহাতো, নয়াগ্রামের অমিয় কিস্কু এবং আউশগ্রামের কলিতা মাজি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। প্রথমবার নির্বাচনে জয়ী হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় বিশেষভাবে আলোচনায় কলিতা মাজি।উত্তরবঙ্গ থেকেও একাধিক মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফালাকাটার দীপক বর্মন, শিলিগুড়ির শঙ্কর ঘোষ, কুমারগ্রামের মনোজ কুমার ওরাওঁ পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। পাশাপাশি তুফানগঞ্জের মালতী রাভা রায় স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের আরও কয়েকজন বিধায়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।নতুন মন্ত্রিসভায় শ্রীরামপুরের ভাস্কর ভট্টাচার্য, বলাগড়ের সুমনা সরকার, সোনামুখীর দিবাকর ঘরামী, কাকদ্বীপের দীপঙ্কর জানা-সহ একাধিক নতুন মুখ জায়গা পেয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর এই মন্ত্রিসভা থেকেই আগামী দিনের প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়ে গেল। এখন নজর থাকবে কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব পান এবং সরকারের কাজ কত দ্রুত গতিতে এগোয়, তার দিকে।

জুন ০১, ২০২৬
রাজ্য

শুভেন্দুর ‘টিম বেঙ্গল’ সম্পূর্ণ: ৩৫ নতুন মুখের শপথে ৪১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা, আজই হতে পারে দফতর বণ্টন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সোমবার বড়সড় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সাক্ষী থাকল রাজ্য। কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার ৩৫ জন নতুন সদস্য শপথ গ্রহণ করলেন। রাজ্যপাল আরএন রবি তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর ফলে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪১।বন্দেমাতরম ও জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। নতুন মন্ত্রীদের অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অধিকাংশকেই দেখা যায় ধুতি-পাঞ্জাবি বা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে।পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে কারা শপথ নিলেন?মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তাপস রায়, মনোজ ওরাওঁ, অর্জুন সিংহ, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, দীপক বর্মন, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, অরূপ কুমার দাস, স্বপন দাশগুপ্ত, কল্যাণ চক্রবর্তী, শঙ্কর ঘোষ, অজয় পোদ্দার এবং দুধকুমার মণ্ডল।স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীমন্ত্রিসভায় স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মালতি রাভা রায়, রাজেশ মাহাতো এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, শপথ নিলেন ১৯ প্রতিমন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন অশোক দিন্ডা, কৌশিক চৌধুরী, জুয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, শান্তনু প্রামাণিক, উমেশ রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘরামি, চাঁদ বাউড়ি, গার্গী দাস ঘোষ, অমিয় কিস্কু, কলিতা মাজি, বিরাজ বিশ্বাস, সুমনা সরকার, আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা, দীপঙ্কর জানা-সহ একাধিক নেতা।কার হাতে কোন দফতর?শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হলেও কোন মন্ত্রীকে কোন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলেই নবান্নে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টন করে দিতে পারেন। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।৯ মে থেকে ১ জুন: দ্রুত বিস্তার শুভেন্দু সরকারেরউল্লেখ্য, গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর সঙ্গে শপথ নিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতর বণ্টন করা হয়েছিল। এবার আরও ৩৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রশাসনিক পরিসর অনেকটাই বিস্তৃত করল রাজ্য সরকার।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল, সামাজিক গোষ্ঠী এবং সাংগঠনিক স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই বৃহৎ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। এখন দেখার, দফতর বণ্টনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের কী রূপরেখা তুলে ধরেন।

জুন ০১, ২০২৬
রাজ্য

অভিষেকের পর কল্যাণ! পরপর হামলায় বিস্ফোরক মমতা, বিজেপিকে বললেন ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী’

পরপর দুদিনে দুই তৃণমূল সাংসদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ ও হেনস্তার ঘটনার পর রবিবার হুগলির চণ্ডীতলায় আক্রান্ত হন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুই ঘটনার পর সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তৃণমূলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংসদের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনাগুলি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিজেপিকে গণতন্ত্র হত্যাকারী বলেও কটাক্ষ করেছেন।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং লোকসভায় দলের অন্যতম প্রধান মুখ। অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্বে রয়েছেন। এই দুই নেতার উপর পরপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই তুলে ধরেছেন মমতা।শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ধস্তাধস্তির ঘটনায় তাঁর পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রবিবার চণ্ডীতলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। তাঁর দিকে ঢিল ছোড়া হয় এবং চোর স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।এই ঘটনাগুলির পর তৃণমূল কংগ্রেসও সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করে। দলের দাবি, ঘটনাগুলি পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে হাসপাতাল-সংক্রান্ত বিতর্কও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সোনারপুরের ঘটনার পর তাঁকে শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষার পর ভর্তি করার প্রয়োজন দেখেননি। এই বিষয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।পরপর দুই সাংসদের উপর হামলার অভিযোগ, হাসপাতাল বিতর্ক এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক আক্রমণকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মে ৩১, ২০২৬
রাজ্য

‘দুয়ারে অন্নপূর্ণা’: ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে মাঠে শুভেন্দু, বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে সরকারি প্রতিনিধি

অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে সংশয় ও আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে সরাসরি আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষের অযথা দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। আবেদনপত্র পূরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকেই প্রতিনিধি উপভোক্তাদের বাড়িতে পৌঁছে যাবেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন।শনিবার সকালে বিধাননগরে একটি জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ টিকাকরণ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, প্রকল্পের ফর্ম নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারে কেউ যেন কান না দেন। তাঁর কথায়, সরকারের লক্ষ্য হল প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে নির্ভুলভাবে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।সম্প্রতি সরকারের প্রকাশিত অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ১১ পাতার দীর্ঘ এই ফর্মে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের আর্থিক ও সামাজিক তথ্য, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি এবং জমিজমা সম্পর্কিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এই কারণে বহু মানুষের অভিযোগ, আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। অনেকের আশঙ্কা, এত নথি জোগাড় করা এবং তথ্য পূরণ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন হতে পারে।এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবেদনকারীদের কোনও অসুবিধার মুখে পড়তে হবে না। তিনি বলেন, আগামী বুধবার থেকেই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আর্থিক সহায়তা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় সরকারি প্রতিনিধি গিয়ে আবেদনপত্র পূরণের কাজে সহযোগিতা করবেন। ফলে আবেদনকারীদের একা এই প্রক্রিয়া সামলাতে হবে না।শুভেন্দুর বক্তব্যে আরও উঠে আসে প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টি। তাঁর মতে, সরকারের উদ্দেশ্য হল শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য মহিলাদের এই সুবিধার আওতায় আনা। তাই তথ্য যাচাইয়ের জন্যই আবেদনপত্রে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কোনও অযোগ্য ব্যক্তি বা ভুয়ো আবেদনকারী যাতে প্রকল্পের সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রকাশিত সংকল্পপত্রে অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা যোজনা। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অন্নপূর্ণা যোজনাও তারই অংশ।সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে যাঁরা আয়করদাতা, সরকারি চাকরিজীবী, নিয়মিত বেতনভোগী অথবা পেনশনপ্রাপক, তাঁরা এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন। এই যোগ্যতা যাচাইয়ের কারণেই আবেদনপত্রে পরিবারের আর্থিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।ফর্মের জটিলতা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার দাবি উঠেছে। এর আগে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-ও আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করেছিলেন। এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে সামনে এসে জানিয়ে দিলেন, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা হতে দেওয়া হবে না। তাঁর বার্তা স্পষ্ট অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পৌঁছবে যোগ্য মহিলাদের দোরগোড়ায়, আর আবেদনপত্র পূরণের দায়িত্বে থাকবে সরকারের প্রতিনিধিরাই।

মে ৩১, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 54
  • 55
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

নিট বিতর্কে রাতারাতি বড় সিদ্ধান্ত! এক ধাক্কায় বদলে যাচ্ছে পরীক্ষা ব্যবস্থা, সরানো হল বহু আধিকারিক

নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, আগামী এক মাসের মধ্যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির প্রশাসনিক কাঠামো, পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হবে। ভবিষ্যতে যাতে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মের কোনও সুযোগ না থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।সংবাদ সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্থার সাতচল্লিশ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। যদিও এই দাবির বিষয়ে সরকারি স্তরে বিস্তারিত ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকাও নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে বর্তমান ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।দেশের বিভিন্ন জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা এই সংস্থার কাজকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনেরও পরিকল্পনা হয়েছে। প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে এই কমিটি সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন কাঠামো তৈরি করা হবে।নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ তীব্র হয়েছে। দিল্লিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনে বহু পড়ুয়া, অভিভাবক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই দ্রুত সংস্কারের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র।এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে বিদ্যমান আইনে সংশোধনের খসড়াও অনুমোদন করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংঘবদ্ধভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দশ কোটি টাকা জরিমানার বিধান আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় অনিয়মে সাহায্যকারী ব্যক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের বিরুদ্ধেও কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে নির্দোষ পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনওভাবেই আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন, সেই বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এদিকে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় রয়েছেন। ফলে আগামী দিনে কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে গোটা দেশের।

জুলাই ২৪, ২০২৬
কলকাতা

নিট আন্দোলনে বড় চমক! দিল্লির যন্তর মন্তরে যোগ দিচ্ছেন মমতা, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের আবহে এবার দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সোমবার তিনি আন্দোলনস্থলে উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে একুশে জুলাইয়ের সভা থেকেই আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। প্রয়োজনে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পরই তাঁর এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরাও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এবার সেই আন্দোলনে সরাসরি যোগ দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালেও এবার দলনেত্রীর সরাসরি উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি বিরোধী ইস্যুগুলিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, দিল্লি সফরে তিনি বিরোধী শিবিরের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিজেপির তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। আবার বিরোধী রাজনৈতিক মহলের অন্য অংশ থেকেও মমতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে নিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিল্লির আন্দোলন এখন আরও বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

জুলাই ২৪, ২০২৬
দেশ

কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক শেষ, তবু অনড় অবস্থান! এক সিদ্ধান্তেই আটকে গোটা আলোচনা

কেন্দ্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষ হলেও সমাধানের কোনও পথ এখনও তৈরি হয়নি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকের পর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই দাবি থেকে তাঁরা এক ইঞ্চিও সরবেন না। আগামীকাল দুপুর দুটোয় আবার কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বৈঠক হবে।বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার যদি সত্যিই এই আন্দোলনের সমাধান করতে চায়, তাহলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতেই হবে। এই দাবির থেকে কম কোনও প্রস্তাবে তাঁরা রাজি নন বলেও তিনি জানান।আন্দোলনকারীদের দাবি, বৈঠকে কেন্দ্র কয়েকটি বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে কেন্দ্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে আগামীকাল পর্যন্ত সময় চেয়েছে।এদিকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তবে সেই প্রসঙ্গ তুলে আন্দোলন থামানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন অভিজিৎ দিপকে। তাঁর বক্তব্য, এই আন্দোলন আর কোনও এক ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি দেশের যুবসমাজের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তাই একমাত্র পদত্যাগের সিদ্ধান্তই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।সংগঠনের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রানকার দাবি, সরকার আন্দোলনকারীদের দুটি দাবিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। নিট পরীক্ষাকে ঘিরে আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি এখনও ঝুলে রয়েছে। সেই কারণেই আগামীকালের বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।

জুলাই ২৪, ২০২৬
কলকাতা

বিধানসভায় বড় মোড়! কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস, শেষমেশ যা বললেন নিজেই

পরপর দুদিনের উত্তেজনার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্পিকারের চেয়ারকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস এনেছেন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ। স্পিকার রথীন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, সেই নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও কুণাল ঘোষ স্পষ্ট দাবি করেছেন, তিনি স্পিকারের চেয়ারকে অসম্মান করতে চাননি। যদি তাঁর আচরণে এমন কোনও ধারণা তৈরি হয়ে থাকে, তার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।গত দুদিন ধরে বিধানসভার ভিতরে শাসক দলের দুই শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বুধবার নিজের নাম থাকা সত্ত্বেও বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান কুণাল ঘোষ। সেই সময় বিধানসভায় ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। পরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয় এবং মার্শাল ডেকে সভাকক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।বৃহস্পতিবারও সেই ঘটনার রেশ বজায় থাকে। অধিবেশন শুরু হওয়ার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আগের দিনের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে চাইলে স্পিকার বলেন, আগের দিনের ঘটনা অত্যন্ত কলঙ্কজনক। এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন কুণাল ঘোষের শিবিরের বিধায়কেরা। এরপর শুক্রবার পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস আনেন।জবাবে কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি কখনও স্পিকারের চেয়ারকে অসম্মান করেননি। তিনি একজন নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ চেয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দলের তরফে নাম পাঠানো হলেও তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই তিনি প্রতীকী প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে স্পিকারের প্রতি কোনও অসম্মান দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল না বলেই তিনি জানান।স্পিকার রথীন্দ্র ঘোষ নোটিস গ্রহণ করার পাশাপাশি দুই পক্ষকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে এই বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুলাই ২৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

শাহরুখ কি সত্যিই পড়ুয়াদের পাশে? ভাইরাল পোস্ট ঘিরে সামনে এল চমকে দেওয়া সত্য!

নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। যন্তর মন্তরে টানা আন্দোলন করছেন বহু পড়ুয়া। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রতিবাদ চলবে। এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বহু মানুষ। চলচ্চিত্র জগতের একাধিক তারকাও নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন।এই পরিস্থিতিতেই সমাজমাধ্যমে শাহরুখ খানের নামে একটি পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন। পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।তবে পরে জানা যায়, ভাইরাল হওয়া পোস্টটি শাহরুখ খানের সরকারি সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়নি। অন্য এক ব্যবহারকারীর তৈরি একটি স্ক্রিনশটকে অনেকেই সত্যি বলে প্রচার করতে শুরু করেন। শাহরুখের সরকারি প্রোফাইলে এমন কোনও পোস্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।ভাইরাল হওয়া বার্তায় পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ ছিল। কিন্তু সেই বার্তার সত্যতা মেলেনি।ঘটনার পর শাহরুখের অনুরাগীদের একাংশ ভুয়ো পোস্ট ছড়ানোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, কোনও তারকার নামে ভুয়ো বার্তা ছড়ানো বিভ্রান্তি তৈরি করে। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে শাহরুখ খান প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফলে ভাইরাল পোস্টটি যে ভুয়ো, সেটিই এখন স্পষ্ট।

জুলাই ২৪, ২০২৬
দেশ

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বড় ঝড়! রাতারাতি সরানো হল শিক্ষা সচিব, কড়া বার্তা কেন্দ্রের

নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা দফতরে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন করল। শিক্ষা সচিবের পদ থেকে সরানো হয়েছে বিনীত যোশীকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নরেশ গাঙ্গোয়ারকে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রের তরফে এই বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।চলতি বছরের জানুয়ারিতে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিনীত যোশী। এবার তাঁকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলশিক্ষা দফতরের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন টি কে অনিল কুমার। এর আগে তিনি গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিব ছিলেন।বিনীত যোশী দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অধিকারী। তিনি মণিপুরের মুখ্যসচিব ছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থার প্রথম মহাপরিচালকের দায়িত্বও সামলেছেন। শিক্ষা মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ডেও গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।নতুন শিক্ষা সচিব নরেশ গাঙ্গোয়ার পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক আধিকারিক। এর আগে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দফতরের সচিব ছিলেন। শিক্ষা প্রশাসনেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাজস্থানের স্কুলশিক্ষা দফতরেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। রাজধানীতে লাগাতার বিক্ষোভ হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষা দফতরে এই বড় পরিবর্তন ঘটল। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই একের পর এক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

জুলাই ২৪, ২০২৬
কলকাতা

দুই ছেলের পর এবার ইডি দপ্তরে মদন মিত্রের স্ত্রী! তদন্তে কি মিলবে বড় সূত্র?

নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার ইডি দপ্তরে হাজির হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র। শুক্রবার সকালে ছোট ছেলে শুভরূপ মিত্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন। সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই তিনি ইডি দপ্তরে প্রবেশ করেন।কয়েক দিন আগে মদন মিত্রের স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে তলব করেছিল ইডি। সেই অনুযায়ী বুধবার ছোট ছেলে শুভরূপ মিত্র এবং বৃহস্পতিবার বড় ছেলে স্বরূপ মিত্র তদন্তকারীদের সামনে হাজিরা দেন। দুজনকেই দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বৃহস্পতিবারই স্বরূপ জানিয়েছিলেন, শুক্রবার তাঁর মা ইডির ডাকে হাজিরা দেবেন। সেই অনুযায়ী অর্চনা মিত্র এদিন তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হন।ইডি সূত্রের দাবি, টিটাগড় পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে একশো পঁচিশ জনের চাকরি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই মদন মিত্রের নাম উঠে আসে। এরপর তাঁর বাড়ি, অফিস-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয় এবং তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, নিয়োগের বিনিময়ে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না। সেই কারণেই ব্যাঙ্কের নথি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মদন মিত্রের পরিবারের কাছে চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার অর্চনা মিত্রের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামী ঊনত্রিশ জুলাই মদন মিত্রকেও আবার ইডি দপ্তরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই ২৪, ২০২৬
কলকাতা

‘২০৩১ সালে সুদ-সহ হিসেব নেব’ মন্তব্যেই বড় বিপদ! অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন মামলা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর একটি প্রকাশ্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।জানা গিয়েছে, রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে করা তাঁর বক্তব্যকে ঘিরেই এই মামলা করা হয়েছে। সেই বক্তব্যের ভিডিওও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সম্প্রতি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়ে বুলডোজার অভিযান চালানো হয়। ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ওই ভবনের সমস্ত বৈধ নথি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র ক্ষমতার অপব্যবহার করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।সেই সময় অভিষেক বলেন, প্রতিটি কাজেরই প্রতিক্রিয়া রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, তিনি বেঁচে থাকলে দুই হাজার একত্রিশ সালে সুদ-সহ সব ফিরিয়ে দেবেন। এই মন্তব্যকে হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।এর আগেও বিভিন্ন মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা ও বালি পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ, সই জালিয়াতি-সহ একাধিক বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিভিন্ন মামলায় তাঁকে তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। এবার সেই তালিকায় আরও একটি নতুন মামলা যুক্ত হল।

জুলাই ২৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal