• ১২ বৈশাখ ১৪৩৩, সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Adhar

রাজ্য

বাংলাদেশি নকল পাসপোর্টে সাহায্য়! জাল আধার ও ভোটার কার্ড তৈরির বড় চক্র ফাঁস বারাসতে

ভুয়ো আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড তৈরির অভিযোগে বারাসাত নবপল্লী বয়েজ স্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে সমীর দাস নামে এক মুদি দোকান ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল বারাসাত থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর দীর্ঘদিন ধরে জাল আধার কার্ড তৈরি করে বাংলাদেশীদের পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার সহযোগিতা করত এই সমীর দাস। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে পুলিশে কর্তব্যরত এবং অন্য ছেলে ডাক্তার। যে ছেলে পুলিশে রয়েছেন তারই সহযোগিতা নিয়ে বাবা সমীর দাস জাল আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড তৈরি করে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট তৈরি করে দিত কিনা তারই তদন্ত শুরু করেছে বারাসাত থানার পুলিশ।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৫
রাজ্য

আধার বাতিল বিতর্ক, এবার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

আধার কার্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক জোরদার। তার মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই চিঠিতে সমস্যা সমাধানে হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন মমতা। তুলে ধরা হয়েছে মানুষের বিড়ম্বনার বিষয়টিও।মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, আমি আধার কার্ডের বেপরোয়া বাতিলের তীব্র নিন্দা করছি, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের তপশিলি জাতি ও উপজাতি এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও পূর্ব তদন্ত বা পরামর্শ ছাড়াই আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করার কেন্দ্রের একতরফা সিদ্ধান্ত। লোকসভা নির্বাচনের আগে নির্ধারিত উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি থেকে যোগ্য সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত রাখতেই এই অশুভ চক্রান্ত। আমরা সবাই ভারতের নাগরিক। প্রতিটি বাসিন্দা রাজ্য সরকারের উন্নয়মূলক প্রকল্পের সুবিধাগুলি পেতে পারেন, তাদের আধার কার্ড থাকুক বা না থাকুক।হঠাৎ আধার বাতিলে মতুয়ারা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ বলে দাবি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর। সোমবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তাঁর দাবি, মতুয়াদের সবচেয়ে বেশি আধার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তফশিলি এবং সংখ্যালঘুদের ওপরও অত্যাচার হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, অসমের মতো ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির ভাবনা নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু তিনি বাংলায় এনআরসি করতে দেবেন না। পশ্চিমবঙ্গে ডিটেইনশন ক্যাম্প হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন মমতা।আধার বাতিলের সমস্যা নিয়ে তফশিলি ফেডারেশন তাঁকে চিঠিও লিখেছে। মতুয়া থেকে শুরু করে অনেকক্ষেত্রে রাজ্যকে না জানিয়ে ডিএম-কে না জানিয়ে আধার কার্ড বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার গুণ্ডামি করে এনআরসি করার পরিকল্পনা করেই আধার কার্ড বাতিল করছে বলে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনে একটি দল পাঠানোর ভাবনাও রয়েছে জোড়া-ফুলের।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪
রাজ্য

আধার কার্ড ছাড়াই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন মানুষ, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

না জানিয়ে অনেকের আধার কার্ডের লিঙ্ক কেটে দেওয়া হচ্ছে। বর্ধমানের জামালপুরের ৫০ জনের কাটা হয়েছে। বীরভূমেও কাটা হচ্ছে। আগে বলেছিল আধার না থাকলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হবে না। তুমি কোন অধিকারে না জানিয়ে আধার কার্ড বাতিল করছ? লজ্জা লাগে না। ভোটের আগে মানুষ যাতে ব্যাঙ্কের ঋণ, ব্যাঙ্কের মাধ্যমের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা না পায়, বিনামুল্যে রেশন না পায় তার জন্য তোমাদের চক্রান্ত। আমি পরিস্কার বলে যাচ্ছি নো আধার কার্ড। আধার কার্ড না থাকলেও আমাদের কোন প্রকল্প বাতিল হবে না।আধার কার্ড নিয়ে রবিবার সিউড়িতে এভাবেই কেন্দ্রকে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আধার কার্ডের তোয়াক্কা না করে প্রয়োজনে নতুন পোর্টাল বানিয়ে প্রকল্পের টাকা মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কার্ডের মাধ্যমে রাজ্য সরকার চালিয়ে যাব। আর দিল্লির মুখকে ভোঁতা করে দেব। আপনারা ভয় পাবেন না। আমি আছি। বাংলার একটি প্রকল্পও বাতিল হবে না। যদি দেখি আধার কার্ড নিয়ে ওদের কোন ছলনা আছে তাহলে বাংলার একটি প্রকল্পকেও আমি আধারের সঙ্গে সংযোগ করতে দেব না। যাদের আধার কার্ড বাতিল করা হচ্ছে তারা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। বিকল্প কি করা যায় আমরা দেখব। আর ব্যাঙ্ক যদি মনে করে আধার কার্ড না হলে টাকা দেব না। দরকার হলে ব্যাঙ্ক ছাড়াই কাজ করব। আমাদেরও তো কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক আছে। আমদের অন্যান্য সংস্থা আছে। কোন মানুষ যাতে সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন সেটা দেখার গ্যারেন্টি রইল আপনাদের কাছে। এন আর সি নিয়ে মানুষকে সাবধান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আবার এনআরসি করতে শুরু করছে। আবার ক্যা ক্যা শুরু করেছে। মাসখানেকের মধ্যে ভোট ঘোষণা হবে। তার আগে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে সেটা দেখার জন্য সকলকে করছি।এক দেশ, এক ভোট প্রসঙ্গে মমতা বলেন, কেন্দ্র বলছে ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন। তার মানে কি রাষ্ট্রপতি শাসন? আমরা বুঝে নেব। লড়ে নেব। দেখিয়ে দেব আমরা খেলতেও জানি, আদায় করে নিতেও জানি। তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, আর কেন্দ্রের কাছে ভিক্ষা চাইব না। মাথা নত করব না। তবে চ্যালেঞ্জ তো করবই। আমাদের টাকা তুমি তুলে নিয়ে যেতে পারবে না। রাজ্যের টাকা রাজ্য পাবে।অনুব্রত মণ্ডলের জেল বন্দি প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, যদি কেউ মনে করে বিনা বিচারে জেলে পুড়ে ভোট করবেন তাহলে মানুষ ক্ষমা করবে না। নির্বাচন কমিশন যদি বিজেপির হয়ে কাজ করে তাহলে আমরাও আন্দোলন করে বুঝে নেব। জরুরি অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধি প্রায় ২১০০ লোককে জেলে ভোরে রেখেছিলেন। ভেবেছিলেন আমরা সবটাই জিতব। কিন্তু হেরে গিয়েছিলেন দুর্ভাগ্যবশত। এখন কংগ্রেস সিপিএম আর বিজেপি দুর্ভাগ্যবশত বাম শাম রাম এক হয়ে গিয়েছে। এদের মানুষ ক্ষমা করবে না।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৪
নিবন্ধ

ধৌলাধর-এর কাছাকাছি - তৃতীয় পর্ব

ঢুকে যখন পড়েছি একবার ছাড়াছাডি নেই আর! কোনোমতে ঘুষিয়ে ঘাষিয়ে সেই ভীড়ে ঠাসা সর্বোচ্চ গ্যালারীর পরিধি বেয়ে এগোতে লাগলাম অনীক আর আমি। কারো কোল ডিঙিয়ে, কারো বগলের তলা দিয়ে উঁকি মেরে, কোনো শালপ্রাংশু মহাভুজের পিঠের পিছন দিয়ে পিছলে গিয়ে, দুরধিগম্য এক অভিযানে ব্রতী হলাম আমরা এমন একটুকরো পা রাখার জায়গার সন্ধানে যেখান থেকে অন্তত এক চোখ দিয়েও দেখা যাবে সীমানাফটকে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কী মহানাট্য! লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে সড়রা মেরে শেষতক পৌঁছোতেও পারলাম সেই গ্যালারীর পশ্চিমতম প্রান্তে, আর হাডগোডভাঙ্গা দ-এর মতো বেঁকেচুরে কোনোমতে দাঁড়িয়ে দেখলাম সেখান থেকে দুই দেশের সীমান্তফটক আর মধ্যবর্তী নো ম্যানস ল্যান্ড দেখা যায় চমৎকার!সীমান্তচৌকির এই অনুষ্ঠান দেখার পরমোৎসাহ ছিল মূলত চিত্রা ও সুকন্যা-র; আমরা বাকিরা বিনে পয়সায় দুশো মজা দেখার মতলবে সামিল হয়েছিলাম হইহই করে। কিন্তু এ যা ভুতোভুতি কান্ড দেখছি, চিত্রা গ্যালারীর ভেতর ঠিকঠাক জায়গায় ঘাঁটি গাড়তে পেরেছে তো! আর সুকন্যা-রূপার উইকেট তো পড়ে গেছে প্রথম ওভারেই! নিজেরাও হাত-পা-গুলো আস্ত নিয়ে বেরোতে পারবো কি না কে জানে!চোখের সামনে সুবিশাল পাঁচতলা অশ্বক্ষুরাকৃতি দর্শনার্থী-গ্যালারি, খচাখচ ভরা হুয়া হ্যায়। গাঁকগাঁক করে দেশপ্রেম উগড়োচ্ছে মহাশক্তিমান সব সাউন্ডসিস্টেম, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উল্লসিত কলরোল আবেগাপ্লুত জনগনেশের। মধ্যিখানের মসৃন পিচঢালা রাস্তাটি বন্ধ ফটক পেরিয়ে গিয়ে পড়েছে নো ম্যানস ল্যান্ডে। সেই রাস্তায় বলিউডি দেশভক্তিগীতির তালে তালে তুমুল নৃত্যকলা প্রদর্শন করছেন শয়ে শয়ে উত্তেজিত দেশপ্রেমী সে দলে ঝুঁটিবাঁধা নবযুবক-ফাটাজিন্স তরুণী-পৃথুলা মাঝবয়সী পন্জাবিনী-ছকরাবকরা শার্টশোভিত চকচকে-টাক আঙ্কলজী, কে নেই! ভূমিতলের গ্যালারীর প্রথম কয়টি ধাপে সমাসীন কিছু বিদেশী অতিথি পরম কৌতুকভরে অবলোকন করছেন এই অমৃত মহোৎসব!সীমান্তের ওপাড়ের গ্যালারি খাঁ খাঁ করছে। রমজান মাস। উপবাসভঙ্গের সময় এখন। তাই বোধ হয় ওদিকের দেশপ্রেমীরা তেমন আসর জমান নি। মখমলি সবুজ ঘাসজমি ঘিরে অর্ধচন্দ্রাকার গ্যালারীটি আয়তনে এদিকের এই দানবিক নির্মাণের কাছে পঁচিশ গোল খাবে; তবে বেশ একটা সংযত ওল্ড ওয়ার্ল্ড চার্ম জড়িয়ে আছে ওয়াগা সীমান্তফটকের ওই দিকের পরিকাঠামোয়।নববর্ষের বৈকালিক সূর্য ঢলে পড়লো উল্টোদিকের গ্যালারীর আডালে। এখন ছাদেও উঠে এসেছেন বহু মানুষ। সুকন্যা-রূপাকে নিয়ে বাদশাদা ফিরে এলো কি? ঢুকতে পারলো? প্রবেশদ্বারগুলির কাছে চরম বিশৃঙ্খলা এখন মনে হচ্ছে অনেকখানি স্তিমিত। সোয়া পাঁচটা বেজে গেছে। চারটি দশাসই সারমেয় শান্ত পায়ে হেঁটে গেল তাদের হ্যান্ডলারদের পাশে পাশে; তার পরেই সতেজ সাবলীল পদক্ষেপে কদম কদম এগিয়ে গেলেন বি.এস.এফ-এর চার তরুণী সদস্যা সীমান্তফটকের কাছে গিয়ে পোজিশন নিলেন এঁরা সবাই।এবার অকুস্থলে অবতীর্ণ হলেন বি.এস.এফ-এর কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক। তাঁর পরবর্তী ক্রিয়াকলাপ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমাদের দেশাত্মবোধ জাগাতে কী না করলেন ভদ্রলোক লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে-দৌড়ে গিয়ে- ঢিল মারার ভঙ্গী করে সবাইকে অনুপ্রাণিত করলেন তাঁর বাজখাঁই গলায় দেওয়া স্লোগানে গলা মেলাতে। কত রকমভাবে যে গলা খেলালেন তিনি! আর থেকে থেকে অদ্ভুত এক কালোয়াতী ঢঙে ছো-ও-ও শব্দে মিনিটখানেক টান দিয়ে শেষে হা-আ-আ করে সংক্ষিপ্ত হুঙ্কার পাবলিক পুরো ফিদা সেই রণনির্ঘোষ শুনে!এই উচ্চকিত দেশভক্তির ফুটন্ত বাতাবরণে অনীক আর আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি বেশ! স্লোগানে তেমন গলা তোলা হয় নি একবারও। গ্যালারীতে উঠে এসে আমাদের ঘাড় ধরে ওপাড়ে ছুঁড়ে ফেলে না দ্যায়! তবে ভয়ে ভয়ে এধার ওধারে তাকিয়ে দেখে নিয়েছি, কাছাকাছি ইতস্তত বিক্ষিপ্ত আরো কিছু বাঙালী পরিবারের অবস্থাও তথৈবচ! জ্বলন্ত দেশপ্রেমের সাম্প্রতিক মাপকাঠিতে আমাদের বাঙালিদের নম্বর যে নেহাতই কম সে কথা মালুম হলো, তা সে আন্দামানের সেলুলার জেল-এর বন্দীতালিকায় মোট ৫৮৫ জনের মধ্যে ৩৯৮ জনই বাঙালী যতই না হোক!!প্রায় সাড়ে পাঁচটা। দৃপ্ত পদক্ষেপে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন একদল জওয়ান। তাঁদের তলোয়ার খেলানো.. অঙ্গসন্চালন.. আকাশমুখী পদবিক্ষেপ সবই বিস্ফারিতচক্ষে দেখার মতো। ভয় হচ্ছিল, নিজের পায়েই না কারো কপালে চোট লেগে যায়! উপস্থিত তিন-সাড়ে তিন লাখ জনতা উৎসাহে-রোমান্চে-গর্বে উদ্বেল! থেকে থেকে বজ্ররবে উছলে উঠছে জনসমুদ্র ভারতমাত্তা কি-ই ঝ্যায়! আমরা এখান থেকে দিব্যি দেখতে পাচ্ছি, ফটকের ওপারের ঘাসজমিতেও অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে রণরঙ্গ; তবে তাতে উত্তেজনা অনেক কম। শুরুতে ঢাউস ঢাক বাজাতে বাজাতে নেচে গেছেন জনাকয় ভাঙরা-শিল্পী, তাতে মৃদু হর্ষোল্লাস শোনা গেছে একটু একটু করে জমে ওঠা শখানেক দর্শকের ওমনি প্রবল প্যাঁক দিয়েছে এপাড়।ঠিক সাড়ে পাঁচটায় খুলে গেল দুদিকের ফটক। দুদেশের জওয়ানরা সেলাম ঠুকলেন পরস্পরকে খোলা হলো পতাকার দড়ির গিঁট টানটান করে কোনাকুনি দড়ি ধরে দাঁডিয়ে রইলেন দুপাড়ের সান্ত্রীরা ধীরে ধীরে নেমে এলো দুদেশের নিশান ভাঁজ করে রেখে দেওয়া হোলো পরদিন সকালে পুনর্বার ঝান্ডোত্তোলনের জন্য গড়গডিয়ে বন্ধ হয়ে গেল দুপাড়ের সীমান্তফটক, আজ রাতের মতো।অনুষ্ঠান শেষ। একটি প্রাত্যহিক রিচ্যুয়াল ঘিরে এই মাপের হাইপ ভাবা যায় না! স্লুইস গেট খুলে যাওয়া অতিকায় বাঁধের জলসমুদ্রের মতো দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে গ্যালারী। ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলাম দুজনে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে দুচোখ ভরে দেখলাম সীমান্তের ওপাড়ে দিনের সূর্যের ডুবে যাওয়া সেই একই হরিয়ালা শষ্যক্ষেত্র একই মাটি জল একই নীলাকাশ!নীচের বাগানে মানুষের মেলা সাজিয়ে রাখা পুরোনো বিমানের সামনে ফটো-সেশনের ভীড়কোনোমতে ফোনের লাইন পেতেই খুঁজে পাওয়া গেল বাকিদের। চিত্রা ভীড়ের চাপে চিঁডেচ্যাপটা হয়েও দেখতে পেয়েছে ভালোই! বাদশাদা-সুকন্যা-রূপা আমার আশাকে সম্মান জানিয়ে ফিরে এসেছিল ও ফাঁকতালে ভালো জায়গাতেই দাঁড়াতে পেরেছিল। সমবেত নৃত্যভুবনের মায়াবী পরিবেশে আত্মহারা হয়ে সুকন্যা ও রূপা গ্যালারীতেই বেশ দুপা নেচেও নিয়েছে শুনলাম। শুনে পরম আশ্বস্ত হওয়া গেল। সতীর পুণ্যে পতির পুণ্য! এই সুমহান দেশভক্তিমূলক নৃত্যসমাবেশে আমারও যাকে বলে মহত্বপূর্ণ যোগদান রয়ে গেল!বাইরে শাহী কিলা রেস্তরাঁয় পয়সাওয়ালা দর্শনার্থীদের ভীড়। একপাশে ছোট্ট মন্চে গাইছেন ঝিকিমিকি আলোজ্বলা পোশাকপডা গাইয়ে।রূপা প্রচন্ড ক্ষেপে রয়েছে ওকে ছেড়ে আমি ভিতরে ঢুকে যাওয়ায়। একগ্লাস কোল্ড কফি সেই উত্তপ্ত চিত্তে কিন্চিৎ ছায়াবিস্তার করলো। বিস্তর ঝামেলা গেছে আজ সারাদিন, বেশী গন্ডগোলের দরকার কী!ঝামেলার অবশ্য বাকি ছিল আরো! পার্কিংলট থেকে গাড়ি বেরোতেই লেগে গেল ঘন্টাখানেক, এমন বিচ্ছিরি যানজট! যে যেদিকে পারে গাড়ি ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যাননিয়ন্ত্রণের কোথাও কোনো নামগন্ধই নেই। অবশেষে একসময় ফেরার পথ ধরলো আমাদের ইনোভা ক্রিস্টা। পেটে তখন চুহাদের উন্মত্ত ছোটাছুটি; সারাদিন তো সেভাবে গুছিয়ে খাওয়াই হয় নি! গৌরব গাড়ি দাঁড় করালো মাঝপথে, বল্লে বল্লে ধাবা-য়।বেশ জম্পেশ ব্যাপার; পাশেই আছে সাবা সাবা ধাবা। বল্লে বল্লে আর সাবা সাবা মিলে বেশ জনচিত্তজয়ী পরিবেশ রচনা করে রেখেছে রাজপথের পাশে। ভিতরে প্রশস্ত চাতাল.. বাগান.. ফোয়ারা.. খাটিয়া বা কুর্সিতে ইচ্ছামতো বসার আয়োজন!টনটনে পা ছড়িয়ে বসে জম্পেশ খাওয়া হোলো চাওল-রাজমা - বেসন দা রোটি - মক্কি দা রোটি - সর্ষুঁ দা শাগ - পায়েস-লস্যি! প্রৌঢ সর্দারজী বাঙালী মেহমানদের খাতিরদারি করলেন দিল খুলে। পন্চনদ -এর দেশে প্রথম সন্ধ্যার পেটপুজো নেহাত মন্দ হলো না!আধঘন্টায় অমৃতসর শহর পুরোনো ও নতুন হাতধরাধরি করে দাঁডিয়ে পেরোলাম বিখ্যাত গুরু নানকদেব বিশ্ববিদ্যালয় তার পাশেই বিশাল উদ্যানশোভিত ক্যাম্পাসে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো আলোকিত এক অপরূপ সৌধ দেখে মুগ্ধ হলাম, জানলাম ওটি খালসা কলেজ! হোটেল গোল্ডেন সিরাজ ক্যাসল খুঁজে পেতে বেগ পেলেও জায়গাটা পছন্দ হোলো বেশ!কোন ভোরে উঠেছি সবাই! ঝটপট তাই বিছানায়। কাল সকাল সকাল উঠে সোজা স্বর্ণমন্দির!

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধর-এর কাছাকাছি - দ্বিতীয় পর্ব

বৈশাখী উৎসব কাল রং ছড়িয়েছে সারা পন্চনদ জুড়ে; সেই রঙের স্বপ্নমায়া যেন জড়িয়ে আছে পথের দুধারের প্রকৃতিতে। পাকা গমের ক্ষেতে সোনালী আলো, তার মাঝে মাঝে গাছগাছালির সবুজ সঙ্গৎ। মধ্যদিনে গান বন্ধ করে নি পাখিরা; স্বাস্থ্যবান টিয়ার ঝাঁক ওড়াউডি করছে গাছে গাছে আর গমের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়.অমৃতসর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে হোটেলে না উঠে সরাসরি চলেছি চল্লিশ কি.মি. দূরে আটারি সীমান্তের দিকে, উল্টোদিকের পাকিস্তানী সীমান্ত ওয়াগা-র নামেই যা খ্যাতি পেয়েছে ওয়াগা বর্ডার রূপে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মুখোমুখি দুই দেশের সীমান্তচৌকিতে জাতীয় পতাকা অবনমনের অনুষ্ঠানটি দেখেই ফিরবো আমরা, তারপর পূর্বনির্ধারিত হোটেলে গিয়ে আশ্রয়গ্রহণ।নিদাঘদগ্ধ অপরাহ্নের নিষ্করুণ রৌদ্র গড়িয়ে নামছে দুপাশারি নিম-বট-অশ্বত্থের ডাল বেয়ে। প্রশস্ত সড়কের ডান পাশে একের পর এক পাঁচিলঘেরা সামরিক ছাউনি। পথে মাঝে মাঝেই পেরোচ্ছি পেছনের ডালাখোলা টেম্পো-ম্যাটাডর-ছোটোহাতি গাড়িদের; সেসব গাড়িতে বোঝাই হয়ে সীমান্তচৌকির অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছে তেরঙা টুপি-ফেট্টি-পতাকায় সজ্জিত তরুণ ভারত। পথের বাঁ ধারে মাঝে মাঝেই বিলাসবহুল দুর্দান্ত সব ফার্মহাউস বা অনুষ্ঠানস্থল বাগান-মূর্তি-স্থাপত্যের আড়ম্বরে যা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, দেখিয়ে দেয় সবুজ বিপ্লবোত্তর পন্জাব-এর সমৃদ্ধি-চিত্র।অকুস্থলের কাছাকাছি এসে লম্বা গাড়ির লাইনের পেছনে থেমে যেতে হোলো। গাড়ির আশেপাশে হাতে-গালে তেরঙা আঁকনেওয়ালা টুপি-ফেট্টি-আর্মব্যান্ড বেচনেওয়ালা ছোটোখাটো স্মারক- সি.ডি - টি-শার্ট গছানেওয়ালারা উপচে পড়লো। ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের পরিচিতিপত্র দেখিয়ে, গাড়ির আগাপাস্তালা চেকিংয়ের অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে, পৌঁছে গেলাম সীমান্তচৌকির কাছে বিশাল পার্কিংলটে। ওয়াশরুম - কাফেটারিয়া - ওয়েটিং শেড সবকিছু নিয়ে জমজমাট এক পরিকাঠামো সারথী গৌরব এখানেই আমাদের ভূমিস্থ করে সাময়িক বিদায় নিল।কাতারে কাতারে মানুষ; লম্বা লাইন এগোচ্ছে দ্রুত। বাইরের গেট-এর কাছে এসে দেখি পুরুষ ও মহিলাদের লাইন আলাদা করে দেওয়া হয়েছে, পৃথক জায়গায় তাদের শরীর তল্লাশির বন্দোবস্ত। সেই অবশ্যপালনীয় খিটকেলটি পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে বাদশাদা-অনীক-আমি আর খুঁজে পেলাম না আমাদের মহিলা ব্রিগেডকে!নিশ্চয়ই ঢুকে গ্যাছে ভিতরে! অনুষ্ঠানের সময় হয়ে আসছে; লোকজন প্রায় ছুটছে দুপাশ দিয়ে। কাজেই গ্যালারিতে জায়গা পেতে হলে কালক্ষেপ না করে এগোও। ওদের ফোন করতে গিয়ে দেখি ফোনের সিগন্যাল হাওয়া! তা হলে যোগাযোগ হবে কী করে! মহা মুশকিল হোলো তো!তিনজনে ফোন টেপাটেপি করতে করতেই পা চালাচ্ছি; হঠাৎ বাদশাদা ফোন পেল সুকন্যার কোথায় তোমরা, কোথায় তোমরা করতে করতেই সে ফোন কেটেও গেল। অতঃপর তিনজনেই প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, কখনো সখনো কানেকশন হচ্ছেও, কিন্তু কথা বলার আগেই কেটে যাচ্ছে। এই লাখখানেক লোকের ভীড়ে একসাথে না মিললে চিত্তির; কিন্তু ওরা যে কোথায় বোঝাই যাচ্ছে না! দাঁড়িয়ে যাবো কোনো এক জায়গায় নাকি এগোবো তাও ঠিক করতে পারছি না!এই কুনাট্য অভিনীত হোলো আরো প্রায় মিনিট দশেক। ততক্ষণে বন্যার মতো জনস্রোত বয়ে যাচ্ছে মূল অনুষ্ঠানস্থলের দিকে। দূর ছাই, নিশ্চয়ই ওখানেই পাবো ওদের। চলো এগোই। বলে প্রায় দৌড়োলাম তিনজনে।সামনেই বিশাল এক অট্টালিকাসম নির্মাণ, মাথায় লেখা INDIA; সামনে সুউচ্চ দণ্ডশীর্ষে বিশাল জাতীয় পতাকা উড়ছে পতপত করে। গ্রাউন্ড লেভেল-এর প্রবেশপথটি জনস্ফীতিহেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। প্রহরীর নির্দেশ, উঠে যাও পাশের সিঁড়ি দিয়ে ওপরের গ্যালারিতে। সে দিকে তাকিয়েই দেখি সিঁডির পাশে বিপন্ন মুখে দাঁড়িয়ে সুকন্যা আর রূপা!!হারানিধি ফিরে পেলেও সেলিব্রেশন-এর সময় নেই। চিত্রা কই? সে নাকি আমাদের দেরী দেখে একাই গুঁতিয়ে গাঁতিয়ে ঢুকে গেছে ভীড়ে ভীড়াক্কার গ্যালারিতে! দোষারোপ - পাল্টা দোষারোপের সময় নেই; তেডে সিঁড়ি বাইতে শুরু করলাম পাঁচজনে। ঠাসাঠাসি ভীড় প্রায় এগোনোই যায় না ভারতবর্ষের নানান প্রান্তের ভাষায় চিল্লামিল্লি ভেতর থেকে তারস্বরে মাইক উগরে দিচ্ছে জয় হো, জয় হো-ও .দোতলা তেতলার গ্যালারিতে তিলধারণের ঠাঁই নেই, ঢোকাই গেল না। চারতলার ল্যান্ডিংয়ে এসে স্নায়ুবিপর্যয় হোলো সুকন্যা-রূপার আর এক পা-ও যাবো না আমরা, মরবো নাকি এই ভীড়ে লোকের পায়ের তলায়!অনেক চেষ্টাতেও বোঝানো গেল না তাদের। অগত্যা বাদশাদা ওদের দুজনকে নিয়ে নামার পথ ধরলো। অনীক-এর হাত জাপটে ধরে আমি বল্লাম, যা থাকে কপালে, ফিরবো না। চলো দেখা যাক কী হয়!সর্বোচ্চতলার গ্যালারি প্রবেশপথের আগে সিঁড়িতে একদম ঠাসাঠাসি ভীড়, চরম বিশৃঙ্খলা। ওপরের লোকেরা ঢুকতে না পেরে নেমে আসতে চাইছে, নীচের লোকেরা চাইছে ওপরে উঠতে। কঘন্টা আগের দিল্লী-অমৃতসর উড়ানে মাঝের কিছুক্ষণ ভয়ানক এয়ার টার্বুলেন্স-এ পড়েছিল আমাদের বিমান; বারকয়েক মাঝআকাশে এয়ারপকেটে ধাঁইধপ্পাস পড়ে ভীষণ আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। আমি তখন ওয়াশরুমের ভেতর হাতল আঁকড়ে সিঁটিয়ে দাঁড়িয়ে! কিন্তু তখনো এতো ভয় লাগে নি, এই মূহুর্তে যতটা বিপন্নবোধ করছি। এখন আর নেমে যাওয়ারও সুযোগ নেই। বাংলা নববর্ষের বিকেলে, এই দূর সীমান্তচৌকিতে পদপিষ্ট হয়ে যাওয়াই কপালে লেখা ছিল!সারাক্ষণ কোনো ভীড় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বা ব্যবস্থা চোখেই পড়ে নি সেভাবে। চিৎকার.. কান্নাকাটি.. গালাগালি.. তার মধ্যেই দুজনে দুজনার হাত জাপটে ধরে, দাঁতে দাঁত চেপে, দেওয়াল ঘেঁষে ঘষটে ঘষটে, অ্যামিবার মতো ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া এদিক সেদিক বাড়িয়ে বাড়িয়ে, একসময় কোনোমতে উঠে এলাম সর্বোচ্চ গ্যালারির প্রবেশপথে। তারপর একঝটকায় ভিতরে। মাইকে তখনো অমায়িক নির্দোষ ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া, ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া..

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধরের কাছাকাছি, প্রথম পর্ব

নববর্ষের ফুরফুরে সকালে যখন হু হু করে ছুটছে আমাদের গাড়ি রাজারহাট-নিউটাউন এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে, লালপেডে শাড়িতে সুশোভিতা একঝাঁক বঙ্গললনার ছোট্ট পদযাত্রা চোখে পডলো; হাতে তাঁদের ঢাউস মাপের শুভ নববর্ষ লেখা তালপাতার পাখা। সকাল আটটার রোদ আটকাতেই অনেকে সে পাখা ব্যবহার করছেন ছাতার মতো। বঙ্গসংস্কৃতি উদযাপন করতে তাঁদের অভিমুখ সেন্ট্রাল মলের সামনের নববর্ষ মেলায় এটা যেমন বোঝা গেল, তেমনই সকাল আটটাতেই ঘামিয়ে দেওয়া এই রুদ্রবৈশাখকে ফাঁকি দিতে চলেছি হিমাচলের ওক-পাইন-দেওদারের ছায়ায় ছায়ায় এই ভাবেই মনটা গার্ডেন গার্ডেন হয়ে গেল!সস্ত্রীক বাদশাদা-অনীক-আমি মোট ছয়জনের নাতিদীর্ঘ বাহিনী। অমৃতসর দিয়ে শুরু করে হিমাচলপ্রদেশের পশ্চিমাংশটা সমঝে নেবো আগামী আটদিনে। প্ল্যানটা দানা বেঁধেছিল মাত্রই মাসখানেক আগে; তাই ফেরার পথে চন্ডীগড থেকে কালকা মেল-এর বাতানুকূল সেকেন্ড টায়ার-এর টিকিট কষ্টেসৃষ্টে পেয়ে গেলেও অমৃতসর অবধি যাওয়ার টিকিট আকাশপথেই কাটতে হোলো। চারমাস আগে ট্রেনের আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমাদের মতো উঠলো বাই তো বিনসর যাই- মার্কা উড়ুউডু মনদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। কটা পেশাজীবী মানুষ আর চারপাঁচমাস আগে থেকে আজকাল বেড়ানোর ছক সাজিয়ে উঠতে পারে!বাদশাদা-সুকন্যা আর অনীক-চিত্রা ভোর ভোর বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে আসছে বর্ধমান থেকে। রূপা আর আমি কাল সন্ধ্যেতেই চলে এসেছিলাম বারুইপুরের কাছে শ্বশুরবাডিতে। মেয়েও চলে এসেছিল হোস্টেল থেকে; তার সাথে সময় কাটিয়ে সকাল সকাল দুজনে চলেছি দমদম হাওয়াই আড্ডায়। আমাদের পৌঁছে দিয়ে সারথী মিঠু ফিরে যাবে বর্ধমান।3A গেট-এ নামলাম যখন, উড়ান-এর বাকি পৌনে দুঘন্টা। দুজনের দুটি সুটকেস, সাথে দুই পিঠব্যাগ। টিকিটের প্রিন্টআউট নিয়ে গেটের সি.আই.এস.এফ সান্ত্রী দেখছেন তো দেখছেনই। কী হোলো রে বাবা! আমার আধারকার্ড দেখে মিলিয়েছেন; রূপারটা বারবার উল্টাচ্ছেন ওনার তো টিকিট নেই।মানে? টিকিট হাতে নিয়ে স্মার্টলি দেখাতে গিয়ে আমার চক্ষুস্থির! টিকিট কেটে দিয়েছিলেন এক নিকটজন; রূপার পোশাকী নাম যে ইতি সরকার সেটা বোধ হয় জানা ছিল না তাঁর। ফলত টিকিটে নাম আছে রূপা সরকার। এদিকে আধারকার্ডে জ্বলজ্বল করছেন ইতি সরকার! আর এই মাসখানেক-এর মধ্যে আমরা কেউই একবারও শ্রীনয়ন মেলে তাকাই নি টিকিট-এর পানে!!সর্বনাশের মাথায় বাড়ি! কী হবে এবার! রূপা প্রায় কেঁদে ফেলে আর কি! অন্যেরা ইতিমধ্যে ভিতরে ঢুকে চেক ইন করে করে ফেলেছে। ফোন লাগালাম কাঁপা হাতে। শুনে ওদেরও আক্কেলগুডুম! ভিস্তারা-র কাউন্টারের মে আই হেল্প ইউ আসনের মহিলা প্রথমে সটান বলে দিলেন কিছু করার নেই । পরে অন্য এক ভদ্রলোকের সহায়তায় কাস্টমার কেয়ার-এ ফোন করে জানা গেল নামের বানান ভুল হলে ঠিক করে দেওয়া যেত, কিন্তু নাম পরিবর্তন অসম্ভব!রূপার টিকিট ক্যানসেল করে ইতি সরকার নামে নতুন টিকিট কাটো; গচ্চা যা যায় যাবে, কিছু করার নেই ! সে গুড়ে বালি; কলকাতা-দিল্লী আর দিল্লী-অমৃতসর দুটো উড়ানই পুরো ঠাসা। ভিস্তারা-র পরবর্তী দিল্লী যাত্রা অনেক বেলায়; আর বেশ কয়েকঘন্টা ট্র্যানজিট টাইম দিল্লিতে কাটিয়ে পরের অমৃতসর উড়ান ধরে পৌঁছাতে রাত দশটার কাছাকাছি হয়ে যাবে!মাথা ঝাঁঝাঁ করছে। কী করি! বাদশাদা আর অনীক ছোটাছুটি করছে ভিতরে, ফোনাফুনি চলছে, আর আশ্বাস পেয়ে চলেছি দেখছি আমরা, কিছু একটা ব্যবস্থা হবে নিশ্চয়ই!আচ্ছা, রূপার টিকিটটা ক্যান্সেল হলেই তো একটা সিট খালি হয়ে যাবে; সেখানেই তো জায়গা পেয়ে যাবে ইতি সরকার এটাই বলো না ওদের!এক একটা মিনিট এক এক ঘন্টা যেন! কলকাতা বিমানবন্দরের সাথে কোনো সূত্রে যোগাযোগ আছে এমন প্রায় সব বন্ধুকে ফোন করা হয়ে গেছে। উড়ান-এর সময় এগিয়ে আসছে। অবশেষে ভিস্তারা-র কর্মীরা সফল হলেন ঐ প্লেন-য়েই নতুন টিকিট কাটায়। গচ্চা গেল একগাদা; তবু..., যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!!ওয়েব চেক ইন করে দিয়েছে ওরা। হুড়মুড় করে ব্যাগপত্র জমা দিয়ে, সিকিউরিটি চেক করে, ঢুকে পড়লাম ভিতরে। বোর্ডিং শুরু হয় হয়। তা বলে মোমো না খেয়ে প্লেনে ওঠা যায় বুঝি! ওটা যে দমদম-এ এসে আকাশে ওড়ার আগে আমার অবশ্যপালনীয় মঙ্গলাচরণ! অতএব ওয়াও মোমো-র কাউন্টারে হামলে পড়লাম সবাই। কাউন্টার-বর্তিনী জানালেন ছপ্লেট ফ্রায়েড চিকেন মোমো পাকাতে বিশ মিনিট সময় দিতে হবে। আপাতত তৈরী আছে এক প্লেট। কিছু পরোয়া নেহি! ঐ এক প্লেটই ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে একটা করে মোমো দিয়ে মুখশুদ্ধি করে নিয়ে দে দৌড় বোর্ডিং লাইনের দিকে। তবে তার মধ্যেই পাশের বইয়ের দোকান থেকে রিডার্স ডাইজেস্ট আর আউটলুক ট্র্যাভেলার পত্রিকার সাম্প্রতিকতম সংখ্যাদুটি তুলে নিতে ভুল হয় নি।ভিস্তারা আমার বেশ পছন্দের বিমানসংস্থা। মাঝে তিন বছরের কোভিডকাল বাদ না সাধলে এতোদিনে এরা ইন্ডিগো-কে বেশ কড়া প্রতিদ্বন্দিতার মুখে ফেলে দিতো বলেই আমার বিশ্বাস। কালো চামড়ায় মোড়া মোটা গদীতে ডুবে গিয়ে পরবর্তী দুঘন্টায় দিল্লী পাড়ি দিলাম বইয়ের পাতায় চোখ রেখে। রসনাতৃপ্তির আয়োজনও নেহাত মন্দ ছিল না। তবে দিল্লিতে নেমে মাত্র মিনিট পঁয়তাল্লিশের ব্যবধানে অমৃতসর উড়ান ধরার জন্য যা ছুটতে হোলো টার্মিনাল থ্রি-র অন্তহীন অলিন্দ বেয়ে, সে আর বলার নয়! তবে ভিস্তারা-র গ্রাউন্ডস্টাফ প্রায় পরমপ্রভু-প্রেরিত মেষপালকের মতো সযত্নে আমাদের তাড়িয়ে নিয়ে গেলেন প্রার্থিত বিমান অভিমুখে। সেই পাগডি-অধ্যুষিত উড়ানে যেই না ঢোকা, গড়গড়িয়ে বিমানের দরজা গেল বন্ধ হয়ে; আবার আকাশচারী হলাম সবাই।একঘন্টার সংক্ষিপ্ত উড়ান; পবিত্রশহরগামী বলেই বোধ হয় খাবারটাও নিরামিষ দিল। মেজাজটা ঈষৎ খিঁচডে গেলেও বেশ নীচু দিয়ে ওড়ায় হরিয়ানা-পন্জাবের মাঠঘাট-সেচখাল-গ্রামগঞ্জ দেখতে দেখতে মন ভালো হয়ে গেল। বিমান অমৃতসরের মাটি ছুঁলো মসৃণভাবে।হিসেবমতো অমৃতসর পন্জাব-এর এক জেলাশহরমাত্র হলেও আন্তর্জাতিকস্তরে এর নিবিড় ধর্মীয়-সামাজিক-ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য বিমানবন্দরটি বেশ জোরদার.. সুন্দর.. গাম্ভীর্যপূর্ণ। এখান থেকে বার্মিংহাম-গামী আন্তর্জাতিক উড়ান চালু হয়ে গেছিল ভারতীয় বিমান-ইতিহাসের একেবারে ঊষাকালেই। বহু নিয়মিত ও চার্টার্ড ফ্লাইটের সতত আনাগোনা এখানে। ভ্রমণসূচী ঠিকঠাক জায়গা দিয়েই শুরু করেছি আমরা।মালপত্র পেতে দেরী হোলো না। বাইরে বেরিয়ে ড্রাইভারকে ফোন করতেই মিনিট দশেকের মধ্যেই ইনোভা ক্রিস্টা নিয়ে এসে হাজির ঝাঁকড়াচুলো বেঁটেখাটো চেহারার ড্রাইভার গৌরব। ঝটপট গাড়িবোঝাই হয়ে রওনা দিলাম চল্লিশ কি.মি. দূরে আটারি-ওয়াগা সীমান্তের উদ্দেশে। ঘড়িতে তখন বিকেল সাড়ে তিনটে । ড. সুজন সরকার, বর্ধমান।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
দেশ

Pan-Aadhar Link: প্যান-আধার লিঙ্ক হয়নি? আপনার জন্য স্বস্তির খবর

প্যান-আধার কার্ড এখনও সংযুক্ত করাননি? চিন্তা নেই। আপনার জন্য সুখবর রয়েছে। করোনা আবহের কথা মাথায় রেখে ফের একবার বাড়ানো হল প্যান ও আধার কার্ড সংযুক্ত করার সময়সীমা। শুক্রবার নতুন ডেডলাইন ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্যান ও আধার কার্ডের সংযুক্তিকরণ সম্পন্ন করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। এবার সেই সময়সীমা বাড়ানো হল।আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২-এর ৩১মার্চের মধ্যে প্যান ও আধার কার্ড সংযুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ আরও ৬ মাস বাড়ানো হল সময়সীমা। এই সময়সীমা বাড়ানো না হলে আয়করের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই করোনা পরিস্থিতিতে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।এই নিয়ে চলতি বছরে চতুর্থবার প্যান ও আধার কার্ড সংযুক্তিকরণে সময়সীমা বাড়ানো হল। এর আগে জুলাই মাসেও সংযুক্তিকরণে সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্যই জুলাই মাসে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
রাজ্য

Adhar : আধার কার্ড তৈরিতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রতিষ্ঠান মালিক

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে নতুন আধার কার্ড তৈরি ও সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক ব্যক্তি। ধৃত ব্যক্তির নাম খোকন শেখ ওরফে ফরজ। পূর্ব বর্ধমানের কালনা শহরের কাঁসারিপাড়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানেই খোকন আধার কার্ড তৈরির ব্যবসা ফেঁদেছিল। প্রতারিতদের অভিযোগের ভিত্তিতে কালনা থানার পুলিশ মঙ্গলবার সেখান থেকেই খোকন শেখকে গ্রেপ্তার করে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বুধবার ধৃতকে পেশ করে কালনা মহকুমা আদালতে। বিচরক ধৃতকে ৫ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ অহীন্দ্র মঞ্চে কর্মিসভায় বিজেপিকে কয়েক হাত মমতারপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন মাস ধরে কালনা শহরের কাঁসারিপাড়ার ভাড়া বাড়িতে আধার কার্ড তৈরির কারবার চালাচ্ছিল খোকন শেখ। অভিযোগ, সেখানে বসেই আধার কার্ড তৈরির জন্য সাধারণ ও গরীব মানুষজনের কাছ থেকে তিনি ৬০০ ও তার বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছিল। এই বিষয়ে স্থানীয় দীপঙ্কর রায় সহ বেশ কিছু বাসিন্দা মঙ্গলবার প্রতিবাদে সরব হন। তা নিয়ে উত্তেজনা চরমে উঠলে কালনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি পুলিশ খোকন শেখের প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে। তাতে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় পুলিশ খোকন শেখকে গ্রেপ্তার করে ।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২১
কলকাতা

রাজধানী এক্সপ্রেস মামলায় ৭ দিনের এনআইএ হেপাজত ছত্রধরের

ভুবনেশ্বর-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস মামলায় তৃণমূল নেতা ছত্রধর মহাতোর এনআইএ হেপাজতের মেয়াদ বাড়ল। আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে এনআইএ বিশেষ আদালত। রবিবার লালগড়ে ছত্রধরের বাড়িতে হানা দিয়ে ৪০ জনের এনআই দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সেদিন এনআইএ বিশেষ আদালত বন্ধ থাকায় ছত্রধরকে তোলা হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে । ১৪ দিনের হেপাজত চাওয়া হলেও ২ দিনের এনআইএ হেপাজত দেয় ব্যাঙ্কশাল আদালত।বাম আমলে পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নেতা ছত্রধরকে জেল থেকে ছাড়ার দাবি ওঠে। ২০০৯-এর ২৭ অক্টোবর সেই দাবিতে ঝাড়গ্রামের বাঁশতলা স্টেশনে রাজধানী এক্সপ্রেস আটকানো হয়। মামলা দায়ের হয় ছত্রধরের বিরুদ্ধেও। ২০০৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের হয়। যেখানে লালগড়ের সিপিএম নেতা প্রবীর মাহাতো খুনের ঘটনায় ছত্রধর-সহ মোট ৩৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা দায়ের হয়। ২০১০ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। পরে ছত্রধর জামিনও পান। এনআইএ-র দাবি, রাজধানী এক্সপ্রেস মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েক জন ছত্রধরের নাম নিয়েছেন। তাই ছত্রধরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারবার ডাকা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি আসছিলেন না। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের হেপাজত মঞ্জুর করে এনআইএ বিশেষ আদালত।

মার্চ ৩০, ২০২১
রাজ্য

ভোট মিটতেই এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার ছত্রধর মাহাতো

প্রথম দফার ভোট মিটতেই ছত্রধর মাহাতোকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। শনিবার রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ লালগড়ে আমলিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ছত্রধরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাতে তাঁর বাড়িতে প্রায় ৪০ জনের একটা দল এসেছিল বলে খবর। ছত্রধরের ৪ জন নিরাপত্তা রক্ষী রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁদের সরিয়ে গেঞ্জি ও গামছা পরিহিত অবস্থায় ছত্রধরকে তুলে নিয়ে যান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। সেই সময় ধস্তাধস্তি হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের। ছেলে ধৃতীপ্রসাদ জানান, কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখায়নি এনআইএ। শুধু বলেছে রাজধানী এক্সপ্রেস আটকানোর ঘটনায় প্রচুর তথ্য রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যেতে হবে। কাকভোরে গ্রেপ্তার করার পরেই তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।অনেক দিন ধরেই নজরে রয়েছেন ছত্রধর। শালবনির কোবরা শিবিরে ছত্রধরকে ৩ বার জেরা করেছিল এনআইএ। এর পর ১৫ মার্চ কলকাতায় এনআইএ-র কার্যালয়ে নতুন করে জেরা করা হয় তাঁকে। পরের দিন, অর্থাৎ ১৬ মার্চ তাঁকে জেরার জন্য কলকাতায় তলব করা হয়। দাঁতে ব্যথা হচ্ছে জানিয়ে ওই দিন হাজিরা দেননি ছত্রধর। যদিও ১৭ মার্চ লালগড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় হাজির হয়ে বক্তৃতাও করেছিলেন তিনি।ছেলে ধৃতিপ্রসাদ জানিয়েছেন, শনিবার রাতে যখন বাড়ি থেকে ছত্রধরকে নিয়ে যায় এনআইএ তখন লালগড় থানায় ফোন করা হলেও, পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। ২০০৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর লালগড় থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ছত্রধর। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল। বেশ কিছু মামলা থেকে মুক্ত হলেও কয়েকটি মামলার বিচার চলছে। হাইকোর্ট সাজা কমানোয় জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ফেব্রুয়ারিতে লালগড়ের আমলিয়া গ্রামের বাড়িতে ফেরেন ছত্রধর। তার বেশ কয়েক দিন পর নতুন করে ২০০৯ সালে লালগড়ে সিপিএম কর্মী প্রবীর মাহাতো খুন ও ঝাড়গ্রামের বাঁশতলায় ভুবনেশ্বর-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস আটকের ঘটনার তদন্ত শুরু করে। সেই সূত্রেই ছত্রধরকে গ্রেপ্তার করল এনআইএ।

মার্চ ২৮, ২০২১
রাজনীতি

ভোল পালটে ছত্রধর মাহাতোকে দলে যোগ দেওয়ার বার্তা দিলীপের

ছত্রধর মাহাতোকে জেলে ঢুকিয়েছিল তৃণমূল সরকার। ভোট আসছে বলে তাকে আবার জেল থেকে বের করে আনা হয়েছে। সোমবার গোপীবল্লভপুরে জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে আসেন দিলীপ ঘোষ।সেখানেই একথা বলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছত্রধর মাহাতোকে বলছি, আপনি যে লড়াই মানুষের জন্য করেছেন, যাঁর জন্য করেছেন তিনি আপনাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন। আরও পড়ুন ঃ খেজুরিতে শুভেন্দুর কী বার্তা? কর্মসূচি বাতিল তৃণমূলেরও এবার ভোটের স্বার্থে আপনাকে জেল থেক বের করে রাজ্য কমিটিতে পদ দিচ্ছেন। আপনার স্ত্রীকে চাকরি দিয়েছেন। ভুলে যাবেন না, দিদিমণি আপনাকে বোকা বানিয়েছেন। উনি সারা রাজ্যের মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন।এসব বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। এরপর ছত্রধরের উদ্দেশে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য দিলীপের, আপনি আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আমরা যা বলি তাই করি।

নভেম্বর ২৪, ২০২০

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

‘বাংলায় গুন্ডারাজ’—কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

আসানসোলে কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল। এই ঘটনায় শাসকদলকে আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলায় গুন্ডারাজ চলছে এবং ভয় দেখানো, মারধর ও খুন এখন শাসক দলের চরিত্রে পরিণত হয়েছে। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মৃতের পরিবারের নিরাপত্তা ও আর্থিক সাহায্যের কথাও বলেছেন।মৃত কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের অভিযোগ, ভোট পরবর্তী হিংসার জেরেই এই মৃত্যু। তাঁদের দাবি, রাতে বাড়ি ফেরার সময় কিছু দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে মারধর করে, যার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে এটি ব্যক্তিগত বিবাদের ফল বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া রিপোর্টেও পুলিশ জানিয়েছে, এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সরাসরি যোগের প্রমাণ মেলেনি।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে একটি জায়গায় গাড়ি দাঁড় করানো নিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে দেবদীপের বচসা হয়। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে মারধর করা হয়। পরে অন্য একটি জায়গাতেও তাঁর সঙ্গে ঝামেলা বাধে এবং অভিযুক্তরা তাঁকে অনুসরণ করে। শেষ পর্যন্ত তাঁর বাড়ির সামনে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেখানেই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়ে যান।পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মনে করেছিলেন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং নজরদারি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে কড়া নজরদারি! পাড়ায় পাড়ায় বাইকে টহল দেবে বাহিনী

প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই দ্বিতীয় দফার জন্য প্রস্তুতি আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। এবার একশো বিয়াল্লিশটি কেন্দ্রকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। রবিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পুলিশ ও বাহিনীকে বিস্তারিত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।কমিশন জানিয়েছে, ভোটে কোনও অশান্তি যাতে না হয়, তার জন্য পাড়ায় পাড়ায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এবার অলিগলিতেও পৌঁছে যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোট একশো ষাটটি মোটরবাইকে জওয়ানরা টহল দেবেন। প্রতিটি বাইকে থাকবেন দুজন করে জওয়ান। কোথাও কোনও গোলমাল দেখা দিলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।দ্বিতীয় দফার ভোটে মূল লক্ষ্য হল শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ। সেই কারণে ভোটের আগে থেকে গণনা পর্যন্ত কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কোথায় কত বাহিনী থাকবে, কোথায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করা হবে, সবকিছুর খুঁটিনাটি পরিকল্পনা করা হয়েছে।বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বাড়তি নজর রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু ভোটকেন্দ্রেই নয়, ভোটারদের যাতায়াতের পথেও নজরদারি জোরদার করা হবে। প্রয়োজন হলে সেখানে নজরদারি যন্ত্র বসানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং অফিসার, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। এছাড়াও বিশেষ পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।এদিকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকও বিভিন্ন জেলায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। রবিবার তিনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপে গিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
দেশ

ভয়াবহ সতর্কবার্তা! আসছে শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, বাড়বে দাবদাহ

প্রকৃতি কি ভয়ংকর রূপ নিতে চলেছে? ইউরোপের আবহাওয়া সংস্থা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস এবং আমেরিকার ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে তেমনই আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় একশো চল্লিশ বছর পর পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। অনেকেই একে মেগা এল নিনো বা সুপার এল নিনো বলেও উল্লেখ করছেন।এই পরিস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান গরমে দেশের বহু জায়গায় তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁইছুঁই। বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ শহরগুলির তালিকায় ভারতের একাধিক শহর জায়গা করে নিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বিহারের ভাগলপুর, ওড়িশার তালচের এবং পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল তাপমাত্রার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। এই সব জায়গায় পারদ চুয়াল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, নাগপুর, ভোপাল ও ভুবনেশ্বরেও তীব্র গরমে নাজেহাল পরিস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলেও তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রির নিচে নামছে না।এল নিনো এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যখন প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ওঠে। এর ফলে সারা বিশ্বের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন ঘটে। সাধারণত এই প্রভাব কয়েক মাস থাকে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এই এল নিনো তখনই শক্তিশালী হতে পারে যখন ভারতে বর্ষাকাল থাকে। ফলে মৌসুমি বায়ুর উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। আগের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, শক্তিশালী এল নিনোর সময় দেশে বৃষ্টিপাত কমে যায়। এতে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতিও চাপে পড়তে পারে।আবহাওয়াবিদদের মতে, সাম্প্রতিক অতীতের উষ্ণতম বছরগুলির রেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে। কয়েক বছর আগেই দেশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের নজির তৈরি হয়েছিল। এবার যদি মেগা এল নিনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়, তবে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের পরেই অশান্তি! অস্ত্র রাখার ডাক অধীরের, বাড়ছে বিতর্ক

প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত হিংসার খবর সামনে আসছে। আসানসোলে এক কংগ্রেস কর্মী খুনের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে এক পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, মানুষকে নিজেদের রক্ষা করতে হলে প্রস্তুত থাকতে হবে।শনিবার গভীর রাতে বহরমপুর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে এই হামলার ঘটনা ঘটে। কৃষ্ণ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কৃষ্ণ ঘোষ-সহ তাঁর পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, রাতে বাড়ি ফেরার সময় কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করে এবং শারীরিক ভাবে হেনস্থা করে। এরপর কিছুক্ষণ পরেই বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, আক্রান্ত পরিবার তাঁর সঙ্গে আগে সৌজন্য বিনিময় করেছিল। তবে তারা কোন দলের সমর্থক, তা তিনি নিশ্চিত নন। তাঁদের সাধারণ মানুষ বলেই উল্লেখ করেন তিনি।এরপর তিনি এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুষ্কৃতীদের মোকাবিলা করতে হলে ঘরে ঘরে লাঠি বা অস্ত্র রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।এই ঘটনায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। বহরমপুর শহরের এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
কলকাতা

প্রচারের মাঝেই তৃণমূলের গান! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শুভেন্দু, পুলিশের দিকে তোপ

শনিবার বিকেলে ভবানীপুরে প্রচারে বেরিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পদযাত্রা করে জনসংযোগ চালাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই মাইকে বেজে ওঠে তৃণমূলের নির্বাচনী গান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, অনুমতি নিয়ে করা কর্মসূচির মধ্যেই কেন অন্য দলের গান বাজানো হবে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।তিনি কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুভেন্দুর দাবি, তাঁকে প্রচারের সময় বিভিন্ন বিধিনিষেধ মানতে বলা হয়েছে এবং তিনি তা মেনেও চলেছেন। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে মাইকে অন্য দলের গান বাজানোয় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কথাও জানান।নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর কেন্দ্রেই তাঁর লড়াই। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। শেষ দফার প্রচারে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছিলেন। সেই সময় এই ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, তাঁকে কিছু এলাকায় প্রচারে যেতে দেওয়া হয়নি, তা তিনি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এভাবে অন্য দলের প্রচার চালানো তিনি মেনে নেবেন না বলেই স্পষ্ট জানান।এদিকে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই কালীঘাট ও আলিপুর থানার ওসি বদলি করেছে। শুভেন্দুর দাবি, তাঁদের কর্মসূচির জন্য সব জায়গায় অনুমতি দেওয়া হয়নি। এতে তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।অন্যদিকে তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যাবে এবং ফলাফলেই সব উত্তর মিলবে।ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
রাজ্য

বিকেলেই তাণ্ডবের আশঙ্কা! কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা

দাবদাহের মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর জন্য কমলা সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দপ্তর। রবিবার বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় আগামী কয়েকদিন ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।আবহাওয়াবিদদের মতে, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং উত্তর চব্বিশ পরগনায় প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় প্রায় ষাট কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সোমবারও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে।কলকাতার আবহাওয়ায় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে। রোদের তেজও থাকবে তীব্র। তবে বিকেলের দিকে আকাশে পরিবর্তন আসতে পারে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার গতিতে দমকা হাওয়া বইতে পারে।দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আগামী মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঝড়বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বুধবারের মধ্যে তাপমাত্রা তিন থেকে চার ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে।উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় সত্তর থেকে একশো দশ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
দেশ

ট্রাম্পের উপর হামলায় কড়া প্রতিক্রিয়া মোদির! কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

ওয়াশিংটনের নৈশভোজে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, গণতন্ত্রে হিংসার কোনও জায়গা নেই।শনিবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে নৈশভোজ চলাকালীন আচমকা গুলি চালায় এক বন্দুকবাজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এক যুবক পরপর গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই ঘটনায় ট্রাম্প অক্ষত রয়েছেন। দ্রুত তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-সহ অন্যান্যরা। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার ছয়শো অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক, অভিনেতা-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। নৈশভোজের পর ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই এই ঘটনায় হুলুস্থুল পড়ে যায়।ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ওয়াশিংটনের হোটেলে হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সকলেই সুস্থ রয়েছেন জেনে তিনি আশ্বস্ত। তাঁদের সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন কামনাও করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান, গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই এবং এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা হওয়া উচিত।এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হামলাকারী কে, কীভাবে তিনি কড়া নিরাপত্তা ভেঙে ভিতরে ঢুকলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই হামলার পিছনে কোনও বড় যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনও যোগ নেই এবং এটি একক হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
দেশ

ক্যামেরা থামল চিরতরে! রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া দেশজুড়ে

প্রখ্যাত চিত্র সাংবাদিক রঘু রাই আর নেই। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ভুগছিলেন তিনি। বেশ কয়েকদিন ধরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রবিবার ভোরে তাঁর মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছে পরিবার। বিকেল চারটে নাগাদ নয়াদিল্লির লোধি শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে এই খবর জানানো হয়েছে।প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ছবির জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রঘু রাই। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ শিল্পমহল ও সংবাদজগত। সংবাদ সংস্থাকে তাঁর পুত্র নিতিন রাই জানিয়েছেন, দুই বছর আগে তাঁর প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও পরে সেই রোগ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্প্রতি ক্যানসার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যায়। বয়সজনিত নানা সমস্যাও ছিল। বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল তিরাশি বছর।ভারতের নানা রূপ তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। অনেকের মতে, তাঁর তোলা ছবিগুলিতে যেন জীবনের স্পন্দন ছিল। প্রতিটি ছবি যেন নিজের গল্প বলত। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছেন ইন্দিরা গান্ধী, দলাই লামা, মাদার টেরেসা-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। উনিশশো চুরাশি সালের ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের তাঁর তোলা ছবি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের নানা মুহূর্তও তিনি লেন্সবন্দী করেছেন।উনিশশো পঁয়ষট্টি সাল থেকে তিনি পেশাগত ভাবে ছবি তোলা শুরু করেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র তেইশ। এক বছর পর তিনি একটি সংবাদপত্রে প্রধান চিত্র সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন এবং প্রায় এক দশক সেখানে কাজ করেন। পরে কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাতেও কাজ করেন। উনিশশো একাত্তর সালে বিখ্যাত ফরাসি চিত্রগ্রাহকের নজরে আসে তাঁর কাজ এবং তা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়। কর্মজীবনে একাধিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। উনিশশো বাহাত্তর সালে তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal