• ২ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

TMC

রাজ্য

এবার 'বেসুরো' তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল

এবার বেসুরো বর্ধমান পূর্বের তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল। তিনি বলেন, দল এই বিপদের মুহূর্তে একজোট হচ্ছে না। খোকন দাস, জিতেন্দ্র তিওয়ারি বোমা ফাটিয়েছেন। এরা সবাই এক নম্বর সৈনিক। দলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে বাধ্য হয়ে সবাই বোমা ফাটাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন,দলের মধ্যে যারা তোলাবাজ, যারা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে তারাই দলে ভাল পদ পাচ্ছে। এটা নিয়েই তৃণমূলের যাঁরা প্রকৃত কর্মী তাঁদের ক্ষোভ বাড়ছে। আরও পড়ুন ঃ জোয়ারে আসে, ভাটায় চলে যায়, নাম না করে বেসুরোদের তোপ মমতার প্রশান্ত কিশোর সম্পর্কে সুনীল মণ্ডল বলেন, ও বাংলার রাজনীতি নিয়ে কি বোঝে? সাংগঠনিক শক্তি যদি কোনও দলে মজবুত না হয় তাহলে সে দল বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। যে পয়সা নিয়ে রাজনীতি করে সে কি বোঝে। ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে কখনও যুদ্ধ জয় করা যায় না। ওই স্তাবকেরা কথা বলবে, আদেশ দেবে সেটা মেনে নেব না। ওর থেকে আমাদের লেখাপড়া ও রাজনৈতিক শিক্ষা বেশি। এইভাবে দল চলতে পারে না। প্রয়োজনে দল ছাড়ারও হুমকি দেন তিনি। যদিও ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বলেছেন, শুভেন্দুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়। এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। সুনীল মণ্ডল দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পরেই বুধবার সকালে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ছবি দিয়ে পোস্টার পড়েছে কাঁকসা থানার সামনে এবং তাঁর বাড়ির আশেপাশে।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
রাজ্য

জোয়ারে আসে, ভাটায় চলে যায়, নাম না করে বেসুরোদের তোপ মমতার

এবার কোচবিহারে দাঁড়িয়ে নাম না করে শুভেন্দু অধিকারী-সহ দল বিরোধীদের নেতাদের উদ্দেশ্যে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কোচবিহারে দলীয় জনসভার মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, একটা, দুটো নেতা আছে যারা জোয়ারে আসে, ভাটায় চলে যায়। যারা প্রথম থেকে দলে ছিলেন তাঁরা দলের সঙ্গেই আছেন। রাজ্যের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে আটকাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নেতাদের বলেছেন নিচু তলার কর্মীদের আরও দায়িত্ব দিতে। আরও পড়ুন ঃ সুব্রত বক্সি-কেষ্টকে ফোন করছে বিজেপি, বিস্ফোরক মমতা উল্লেখ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসুরো গাইতে শুরু করেছেন দলের একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক। তাঁদের অধিকাংশেরই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামীও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। এদিন নাম না করে দলের সমস্ত বিক্ষব্ধদের কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, থাকার ইচ্ছা না থাকলে দল থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। তৃণমূল মানুষের জন্য কাজ করে। যারা সারা বছর মানুষের সঙ্গে ছিলেন, দলের সঙ্গে ছিলেন তাঁরা দলেই আছেন। কাকে ভোটে টিকিট দেওয়া হবে না হবে সেটা দল কাজের ভিত্তিতে ঠিক করে। যারা ভালো কাজ করেন তাঁরা গুরুত্ব পাবেন। যারা জানে দল টিকিট দেবে না তাঁরা চলে যাচ্ছে, ভাবছে যদি টাকাটা কমে যায়, যদি জেলে পাঠিয়ে দেয়, তাই বিজেপিতে নাম লেখাচ্ছে। কিন্তু আমরা আদর্শ বদলাই না। আদর্শ বদলানো যায় না। কাপড় জামা বদলানো যায়।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
রাজনীতি

কোচবিহারকে রক্ষা করুন, নইলে বাংলা রক্ষা পাবে না, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনে হারতে হয়েছিল দলকে। জিতেছিলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিশীথ প্রামাণিক। বুধবার কোচবিহারে দলীয় জনসভার মঞ্চ থেকে নাম করে সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে বিজেপিকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, লোকসভা নির্বাচনে ভোটে জিতে অশান্তি করছে বিজেপি। শান্ত কোচবিহারকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। নিশীথ প্রামাণিকের নাম না করে এদিন মমতা বলেন, আমরা যাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম বিজেপি তাঁকে নিয়ে এসেছে। যেন পুরনো বোতলে নতুন মদ। যে জিতেছে সে এখন গুণ্ডামি করছে। আরও পড়ুন ঃ নাম না করে দলের বিদ্রোহীদের আক্রমণ মমতার এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন বিজেপি, ভেদাভেদ, ভাগাভাগির রাজনীতি করছে। রাজবংশী- বাঙ্গালিদের মধ্যে ঝামেলা বাঁধাতে চাইছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষকেও এদিন আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, নাম নিতেও লজ্জা করে। বলছে ডিসেম্বরের পর মারবে। ওদের মুখে খালি ভাংচুর-মারামারির কথা, খাদ্য-বস্ত্রের কথা নেই। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাদের এদিন ফের বহিরাগত বলেছেন তিনি। বলেছেন, বিজেপি বহিরাগতদের রাজ্যে আনছে। আরএসএস গুণ্ডারা রাজ্যে আসছে। চম্বলের ডাকাত আসছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থনের আবেদন এদিন কোচবিহারবাসীকে জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেছেন, লোকসভা ভোটে আমাদের ভোট দেন নি। তাতে আমার কোনও অভিমান নেই। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারকে ওদের হাত থেকে রক্ষা করুন। কোচবিহার থেকেই শুরু হয় বাংলা। কোচবিহার রক্ষা না পেলে বাংলাও রক্ষা পাবে না।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
রাজ্য

সুব্রত বক্সি-কেষ্টকে ফোন করছে বিজেপি, বিস্ফোরক মমতা

কোচবিহারে দলীয় জনসভার মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, দলের রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুব্রত বক্সি ও বীরভূমে দলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন করেছেন বিজেপি নেতারা। তাঁর কথায়, বিজেপি কোথায় গেছে বুঝুন। ওদের এতটুকু সৌজন্যতা বোধ নেই। আমার দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে ফোন করেছিল বিজেপির এক নেতা। বলছে, আপনার সঙ্গে কথা আছে, বসতে চাই। কেষ্টকেও ফোন করেছিল দিল্লি থেকে। কেষ্ট আমাকে কাল ফোন করে বলল, দিদি আমাকে বলছে আপনার সঙ্গে বসতে চাই। কেষ্ট বলে দিয়েছে আমি তৃণমূল করি, আপনাদের সঙ্গে বসব কেন? আরও পড়ুন ঃ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বললে চলে যাব , ফের বেসুরো জিতেন্দ্র এদিন জাতীয় সঙ্গীত বদল বিতর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, বিজেপি বলছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনগনমণ বদলে দেবে। জাতীয় সঙ্গীত বদলে দেবে। যেন হাতের মোয়া। ক্ষমতা থাকলে বদলে দেখাক। ওরা রবীন্দ্রনাথকেও জানে না। কবে কোথায় রবিঠাকুরের জন্ম জানে না। বলছে বিশ্বভারতী নাকি রবি ঠাকুরের জন্মস্থান! বুধবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানের জনসভা থেকে বিজেপির উদ্দেশ্যে হুঙ্কার ছেড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, চলে আসুন যুদ্ধ হয়ে যাক, রাজনৈতিক যুদ্ধ। আপনাদের সঙ্গে থাকবে গুণ্ডা, আমাদের সঙ্গে মানুষ। দেখি কারা যেতে। মমতা এদিন দাবি করেন, তিনি রাজবংশী, অলচিকি ভাষা জানেন। এই দুই ভাষায় তিনি কবিতা লিখেছেন।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
রাজ্য

সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বললে চলে যাব , ফের বেসুরো জিতেন্দ্র

কয়েকদিন ধরেই দলের সঙ্গে মতবিরোধ চলছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারির। এর জেরে জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে তৃণমূল। বুধবার এমন জল্পনা নিজেই উস্কে দিয়েছেন আসানসোল পুরসভার প্রধান প্রশাসক তথা বিধায়ক জিতেন্দ্র। আসানসোলে দলের শ্রমিক সংগঠনের মঞ্চ থেকে তিনি সটান জানিয়েছেন, এটিই হয়তো জেলা সভাপতি হিসেবে তাঁর শেষ বক্তব্য। তিনি এমনও জানান, আপাতত তৃণমূলের কোনও সভা বা শ্রমিক সংগঠনের বৈঠকে তাঁকে দলের পক্ষ থেকে যোগ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে তিনি যে জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ ছাড়তে তৈরি, তা জানিয়ে প্রকাশ্য সভাতেই জিতেন্দ্র বলেছেন, সিদ্ধান্তি নিয়েছি, বললে চলে যাব। কিন্তু মানুষের সঙ্গেই থাকব। আরও পড়ুন ঃ সাঁতরাগাছি পাখিরালয়ের পরিবেশ নষ্ট করায় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবেশবিদের মানুষের কাছে তাঁকে প্রতিশ্রুতি এবং দায়বদ্ধতা পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়ে জিতেন্দ্র বলেছেন, তাঁকে আর ভয় দেখিয়ে রাখা যাবে না। তাঁর প্রকাশ্য ঘোষণা, এক সময়ে তো সিদ্ধান্ত নিতেই হবে! আর ভয় দেখিয়ে রাখা যাবে না। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বললে চলে যাব। কিন্তু মানুষের সঙ্গেই থাকব। মানুষের বাইরে তো আর থাকতে পারব না। আমি কোনও মন্ত্রীকে দেখে দল করিনি। দল করেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে। পাশাপাশি নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে জিতেন্দ্রবাবু বলেন, শুভেন্দু ৬ মাস গুলির সামনে লড়াই করেছে। মমতার পর তৃণমূলে সবচেয়ে জনপ্রিয় শুভেন্দু। তাই উচিত ছিল শুভেন্দুর সঙ্গে দলের যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল তা মিটিয়ে নেওয়ার। কিন্তু যেখানে আমাদের মতো ছোট নেতাদের সমস্যাই মেটায় না সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর সমস্যা কী মেটাবে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে তৃণমূলের বিধায়ক হয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে আসানসোলকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তোলেন জিতেন্দ্র। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ওই মর্মে জিতেন্দ্র চিঠি পাঠানোর পর সোমবার থেকেই চাপানউতোর শুরু হয়। সমস্যা মেটাতে শীর্ষ নেতৃত্ব মঙ্গলবার কলকাতায় ববির সঙ্গে জিতেন্দ্রকে বৈঠকে যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক হয়নি। জিতেন্দ্র প্রথমে রাজি হলেও পরে বেঁকে বসেন। জানা যায়, একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার জিতেন্দ্র জানিয়েছিলেন, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর যা কথা হয়েছে, তাতে উত্তরবঙ্গ সফর সেরে মমতা বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফেরার পর ১৮ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার তাঁকে ডাকা হতে পারে। কিন্তু সেই ডাকের আগেই বুধবার রীতিমতো বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসলেন এলাকায় ডাকাবুকো বলে জিতেন্দ্র।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
কলকাতা

তৃণমূল বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

১৮ দিন আগেই মন্ত্রীত্ব ছেড়েছিলেন। তখন থেকেই বিধায়ক পদ ও দল থেকে তাঁর ইস্তফা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। এবার তৃণমূল বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় গিয়ে তিনি ইস্তফাপত্র জমা দেন। সেখানে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকায় বিধানসভার সচিবের হাতে ইস্তফাপত্র দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। কিন্তু অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শুভেন্দুর ইস্তফাপত্র গৃহীত হচ্ছে না। কারণ, বিধানসভার সচিবের ইস্তফাপত্র গ্রহণের এক্তিয়ার নেই।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
রাজ্য

বিজেপির দেওয়া চাকরির প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যা বলে আক্রমণ মমতার

জলপাইগুড়ির অরবিন্দ ব্যায়ামাগার পাঠাগার ও ক্লাব ময়দানের জনসভা থেকে বিজেপিকে লাগাতার আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়। বলেন, ওরা বাংলায় এক নতুন ধর্ম এনেছে, ঘৃণ্য ধর্ম। কুৎসার ধর্ম। এভাবে ওরা বাংলাকে ধ্বংস করতে চায়। বাংলার মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলতে চায়। এরপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, তিনি কোনওভাবেই বিজেপির এহেন আচরণ বরদাস্ত করবেন না। তবে এর জন্য রাজ্যবাসীরকে পাশে চেয়েছেন তিনি। সকলে মিলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার পরিস্থিতি ভয়ংকর হবে, ইঙ্গিতে এদিন তা-ও বোঝান মুখ্যমন্ত্রী। আরও পড়ুন ঃ পাহাড়ের সমস্যার সমাধান করতে পারলে আমরাই পারবঃ মমতা এদিন চাকরির প্রতিশ্রুতি কার্ড ইস্যুতে তিনি বলেন, চাকরির প্রতিশ্রুতি বলে কিছু হয় না। ওটা পুরোটাই প্রতারণা, মিথ্যে। এরপরই কেন্দ্রের একাধিক প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষকে মনে করিয়ে দেন তিনি। প্রশ্ন করেন, আদৌ কারও অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রের ১৫ লক্ষ টাকা গিয়েছে কি না। দাবি করেন, মোদি সরকারের আমলে ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে। এদিন দিলীপ ঘোষের ডিসেম্বরের পর মারব মন্তব্যের পালটা দেন মমতা। বলেন, মেরে দেখাক, আমার গায়ে আঘাত করতে আমিও প্রত্যাঘাত করব।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২০
রাজনীতি

নাম না করে দলের বিদ্রোহীদের আক্রমণ মমতার

৩৬৫ দিন যাঁরা এই ১০ বছর মানুষের সঙ্গে ছিলেন তাঁদেরই পরীক্ষায় বসতে হবে। বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁত করলে তৃণমূলে তাঁদের কোনও জায়গা নেই। জলপাইগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মিসভায় দলবিরোধীদের স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমি বড় বা ও বড় সেটা বড় নয়। ১০ বছর পার্টির খেয়ে, ১০ বছর সরকারে থেকে সরকারের খেয়ে নির্বাচনের সময় এর সঙ্গে ওর সঙ্গে বোঝাপড়া যাঁরা করে আমি তাঁদের বরদাস্ত করি না। গোষ্ঠীকোন্দল মেটাতে দলীয় কর্মীদের বার্তা দিলেন, পুরনো-নতুন মিলে কাজ করুন। এ বড় না বি বড় বা সি বড় সেটা দেখার দরকার নেই। যুদ্ধ যখন আসে তখন যুদ্ধ জয় করাটাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। আরও পড়ুন ঃ শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতাকে বহিষ্কার দলনেত্রী আরও বলেন, আপনাদের লক্ষ্য হবে বিজেপি নামক পার্টিটাকে বাংলা থেকে দূর করে দেওয়া। আগামিদিনে বাংলাই পথ দেখাবে। রাষ্ট্রপতি শাসন করে দেখাও না, আমার কাজ অনেক কমে যাবে। আমি ঘুরে ঘিরে মিটিং-মিছিল করব আর তোমাদের সব ভোট নিয়ে নেব। আমরা আন্দোলন করে উঠে আসা লোক, মার খেয়ে উঠে আসা লোক। আমার শরীরে এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে মার খাইনি। কাজেই রক্তাক্ত অবস্থায় লড়াই করে এসেছি। মানুষের জন্য লড়াই করতে আমি পিছপা হব না।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২০
রাজ্য

পাহাড়ের সমস্যার সমাধান করতে পারলে আমরাই পারবঃ মমতা

আমি গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি দিইনি, তাই ওখানে জিতিনি। পাহাড়ের সমস্যা সমাধান করলে আমরাই করব। ওরা পারবে না। গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে জলপাইগুড়ির এবিপিসি ময়দানের জনসভা থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধী বিজেপি বরাবর গুরুংদের পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা রাজ্য ভাগের পক্ষে। আর তাই ক্ষমতায় এলে গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন নেতারা। তাই ২০১৪ এবং ২০১৯এর লোকসভা ভোটে পাহাড় থেকে তৃণমূল নয়, জিতেছেন বিজেপি প্রার্থীরাই। আরও পড়ুন ঃ জেএমবি জঙ্গিদের দিয়ে ভোটে জিততে চাইছে তৃণমূলঃ দিলীপ মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির এবিপিসি ময়দানের জনসভা থেকে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, ৬ বছর ধরে ওরা গুরুংদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছে গোর্খাল্যান্ড করে দেবে বলে। তাই ২০১৪এ একবার পাহাড়ে জিতেছে, কিন্তু প্রতিশ্রতি রাখেনি। আবার ২০১৯এ বিজেপি জিতেছে। আমরা কিন্তু গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি দিইনি, তাই আমরা জিতিওনি। এরপরই তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, পাহাড়ের সমস্যা সমাধান করতে পারলে একমাত্র আমরাই পারব। বিজেপি পারবে না, ওদের দ্বারা হবে না।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২০
রাজ্য

আমাকে যারা আক্রমণ করছেন ভোটের বোতামে তাঁরা টের পাবেন, বিস্ফোরক শুভেন্দু

মঙ্গলবার হলদিয়ায় সতীশ সামন্তের জন্মদিন উপলক্ষ্যে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে অরাজনৈতিক সভায় যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি এদিন ছিল মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দুরও জন্মদিন। সভার শুরুতে সতীশ সামন্তের আত্মবলিদানের কথা বলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তারপরই তাঁর গলায় শোনা যায়, কটাক্ষের সুর। কারোর নাম না করে একের পর এক আক্রমণ শানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, হলদিয়া ভবনে আমি যেতাম না। প্রাসাদে ওঠার অভ্যাস আমার নেই। নন্দীগ্রাম আন্দোলন কোনও দল বা ব্যক্তির আন্দোলন ছিল না। ছিল মানুষের আন্দোলন। আরও পড়ুন ঃ দ্বন্দ্ব মেটাতে জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ফিরহাদ, থাকতে পারেন পিকেও তিনি এদিনও বলেন, অনেকে বলছেন, আমি পদের লোভে এগোচ্ছি। আমার পদের লোভ নেই। আমি অনেক লড়াইয়ের সাক্ষী। তাঁর কথায়, সতীশ সামন্তকে বহিরাগত বলে ভাবতেন না নেহেরু। আমরা আগে ভারতীয়, তারপর বাঙালি। এমনকি ব্যক্তি আক্রমণ নিয়েও মুখ খোলেন শুভেন্দু। বলেন, কেউ কেউ আমাকে ব্যক্তি আক্রমণ করেছেন। কয়েক দিন পরে মানুষ গিয়ে যখন ভোটের বোতাম টিপবে, আপনাদের অবস্থাও অনিল বসু, লক্ষ্মণ শেঠদের মতো হবে। তবে সরাসরি তৃণমূলকে নাম না করলেও পরোক্ষভাবে বলেন, গণতন্ত্রের মানে ফর দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল। কেন ফর দ্য পার্টি, অফ দ্য পার্টি, বাই দ্য পার্টি হবে। এদিনের মঞ্চ থেকে সুর চড়িয়ে বলেন, এখানে তিন ধরণের লোক এসেছে। প্রথমত, যারা আমাকে ভালোবাসেন, দ্বিতীয়ত, সতীশ সামন্তের আত্মবলিদানের কথা শুনতে, তৃতীয়ত, আমার রাজনৈতিক অবস্থান শুনতে। তবে আমি পদ ছাড়ার পরও আমার সভায় লোক এসেছে। আমার সভায় লোক আনতে কোনও দলের দরকার পরে না। এই লোককে তৃণমূল বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম-এর পদাধিকারীরা আনেনি। এই জনগণের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। শুভেন্দুর পরিবার সমগ্র বাংলার পরিবার। শুভেন্দুর দাবি, ভাষণ নয়, রেশন দিতে হবে। এছাড়াও তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন আমি অকৃতদ্বার কেন? তাদের বলি এখনকার রাজনীতিবিদদের দেখে আমি অকৃতদ্বার নই। আমি সতীশ সামন্তদের দেখে অকৃতদ্বার। সবশেষে শুভেন্দুর গলায় শোনা যায়, তাম্রলিপ্ত সরকার জিন্দাবাদ। সতীশ সামন্ত জিন্দাবাদ। বন্দেমাতারম। ফলে এদিনের অরাজনৈতিক সভা থেকে শুভেন্দু আবারও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন না। ফের জিইয়ে রাখলেন জল্পনা।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২০
কলকাতা

বিজেপির অভিযোগ নস্যাৎ করে টুইট ডেরেকের

তৃণমূলের রিপোর্ট কার্ডের পাল্টা ফেল কার্ড প্রকাশ করেছিল বিজেপি। তাঁদের সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে মঙ্গলবার টুইট করেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন। বিগত বছরগুলির কাজের খতিয়ান দিয়ে তিনটি কার্ড টুইট করেছে তৃণমূল সাংসদ। তিনি লিখেছেন, নিচের ৩টে গ্রাফিক্সে দেখুন কতটা এগিয়ে বাংলা, ভাঁওতাবাজি নয়, কথা দিয়ে কথা রাখা। এই কারণেই সবাই আবার দিদিকে চায়। গতকাল ফেল কার্ড প্রকাশ করে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে না, সবদিক থেকেই ১০টা বছরের অপচয়। আরও পড়ুন ঃ পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবি বিদ্যুৎমন্ত্রীর বলেন, তৃণমূলের ১০ বছরের ব্যর্থতা একটা বুকলেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু রুটিন ইনভেস্টমেন্ট আর কিছু মউকে সামনে এনে দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে যা দেখানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বা শিল্পমন্ত্রীর তরফ থেকে আসলে তার ১ শতাংশ হয়েছে। গত ৫০ বছর ধরে বামফ্রন্টের আমলে এবং তারপর তৃণমূলের ১০ বছর যদি ধরা হয়, তাহলে সবটা পরিষ্কার বোঝা যাবে। তৃণমূল যে গত ১০ বছরের কাজের খতিয়ান মানুষের সামনে পেশ করেছে, তা সত্যের থেকে বহুদূরে।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২০
কলকাতা

পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবি বিদ্যুৎমন্ত্রীর

বঙ্গধ্বনির হাত ধরে প্রত্যেক ওয়ার্ডে পৌঁছে যাচ্ছে রাজ্য সরকারের ১০ বছরের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড। অন্যদিকে, বিজেপির যুব মোর্চার তরফেও ব্লকে ব্লকে শুরু হয়েছে চাকরির প্রতিশ্রুতি কার্ডে রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়াও। ৭৫ লক্ষ যুবকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে বিজেপির যুব মোর্চা। আর এবার তৃণমূল ভবন থেকে রাজ্যে কর্মসংস্থানের ছবি তুলে ধরলেন বিদুত্মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এক কোটি মানুষের বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে এই রাজ্যে। বাম আমলের তুলনায় রাজ্য এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে অনেক স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, সে কথা বললেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চ্যাটার্জী। তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে জানালেন, ১০০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুতের কথা। আগে যেখানে রাজ্যে ৩০০-র বেশি লো ভোল্টেজ পকেট ছিল, এখন সেখানে সেই সংখ্যাটা ২০-তে এসে ঠেকেছে। সৌরবিদ্যুতেও বাংলা অনেক এগিয়ে বলে দাবি করেন মন্ত্রী। রাজ্যে অচিরেই যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প শুরু হতে চলেছে, তার সৌজন্যে গোটা পূর্বাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশ ভাল জায়গায় থাকবে বাংলা, এ কথাও মনে করিয়ে দেন। আরও পড়ুন ঃ তৃণমূলের ফেল কার্ড প্রকাশ বিজেপির দেশে যেখানে বেকারত্ব বাড়ছে সেখানে রাজ্যে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনি আরও বলেন, সিলিকন ভ্যালিতে যা কর্মসংস্থান হবে তা হায়দরাবাদ, ব্যাঙ্গালুরুকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে তার ধারনা। পাশাপাশি বিভিন্ন আইটি হাবের কর্মসংস্থানের হিসেবও এই সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া, গতিধারা প্রকল্পে ২৮ হাজারেরও বেশি যুবক যুবতীদের গাড়ি দেওয়া হয়েছে স্ব উপার্জনের জন্য বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, ৬ লক্ষ যুবকযুবতীদের স্বনির্ভর হওয়ার ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বিদুত্মন্ত্রী। এছাড়া, ক্ষুদ্র অতিক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পে রাজ্য এগিয়ে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতবর্ষে রাজ্য একনম্বরে রয়েছে। বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, তাজপুরে সমুদ্র বন্দরে ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের কথা জানান মন্ত্রী।পাশাপাশি, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিদুত্মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলিকে বিক্রি করে দিচ্ছে বিজেপি। ভারতবর্ষকে বিক্রি করে দিচ্ছে বিজেপি।পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া, বিএসএনএল, সহ লাভজনক সংস্থা বিক্রি করছে বিজেপি। বলেও তোপ দাগেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি, রেলের ৪০০ স্টেশনকে বেসরকারিকরন করারও অভিযোগ আনেন তিনি। এছাড়া এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে সোলার সিস্টেমে ১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করেছে রাজ্য বলেও জানান বিদ্যুত্মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি, ২৩ জেলার ১০০ শতাংশ বিদ্যুত্ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তৃণমূলের আমলে বেড়েছে সাব স্টেশন বলেও জানান বিদ্যুত্মন্ত্রী। এছাড়া, বিভিন্ন স্কুল কলেজে ১৫০০ বেশি সোলার বিদ্যুত্ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি পুরুলিয়া ১০০০ মেগাওয়াটের নতুন প্রকল্পের কথাও জানান বিদ্যুত্মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২০
কলকাতা

তৃণমূলের 'ফেল কার্ড' প্রকাশ বিজেপির

রাজ্যে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যের নেতৃত্বে গত দশ বছরে কী কী কাজ হয়েছে, তা নিয়ে গত সপ্তাহে নিজেদের রিপোর্ট কার্ড পেশ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসকদলের তাবড় মন্ত্রীদের উপস্থিতি গত বৃহস্পতিবার এই রিপোর্ট কার্ড পেশ করে শাসকদল। বাড়ি বাড়ি ওই রিপোর্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে তৃণমূল। আরও পড়ুন ঃ ভাল আছেন বুদ্ধদেব, মঙ্গলবার ফিরছেন বাড়ি কিন্তু তৃণমূলের এই রিপোর্ট কার্ডকে কটাক্ষ করে এবার পাল্টা ফেল কার্ড প্রকাশ করল বিজেপি। সোমবার বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত এই কার্ড প্রকাশ করেন। বিজেপির এই ফেল কার্ডয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে রাজ্য সরকার উন্নয়নের সবকটি ক্ষেত্রে ডাহা ব্যর্থ হয়েছে। কোনও প্রতিশ্রুতি তাঁরা রাখতে পারে নি। এদিন স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, রাজ্যে বুজরুগির সরকার চলছে। দুর্নীতিগ্রস্তদের সরকার চলছে।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২০
রাজ্য

আসানসোলের জন্য কেন্দ্রের স্মার্ট সিটির অর্থ না পেয়ে ফিরহাদকে চিঠি জিতেন্দ্রর

রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে বিস্ফোরক চিঠি পাঠিয়েছিন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। পুরমন্ত্রীকে আসানসোলের পুরপ্রশাসক লিখেছেন, রাজ্যের সিদ্ধান্তেই কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে আসানসোল। মেলেনি স্মার্ট সিটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দু-হাজার কোটি টাকা। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা দেবে রাজ্য সরকার, রাজ্যের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি। রানিগঞ্জ গার্লস কলেজ ও রানিগঞ্জ টিডিবি কলেজ এর গভর্নিং বডি থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আরও পড়ুন ঃ ২০২১-এ মুক্তির স্বাদ দেবে ঈশ্বর, ফের বিস্ফোরক শুভেন্দু এ বিষয়ে ফিরহাদের মন্তব্য, স্মার্ট সিটির প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারে পুরোটাই ভাওতা। এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ৫০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার দেবে ৫০ শতাংশ। ওটা প্রোপাগান্ডা মাত্র। পুরসভাকেই উদ্যোগ নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে উনি কতটা উদ্যোগ নিয়েছেন তা আমার জানা নেই। তবে আমরা কোনওদিনই উন্নয়নের সঙ্গে রাজনীতি মেশাইনি।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২০
রাজ্য

২০২১-এ মুক্তির স্বাদ দেবে ঈশ্বর, ফের বিস্ফোরক শুভেন্দু

মানুষের সঙ্গে কোনওদিন বিশ্বাসঘাতকতা করিনি, করবও না৷ রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গিয়ে করা বেশ কয়েকটি মন্তব্যে তাঁকে ঘিরে জল্পনা আরও উস্কে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে আরও বললেন, আশা করব ঈশ্বর আমাদের ২০২১ সালটা খুব ভাল দেবে, মুক্তির সাল দেবে, আনন্দের স্বাদ দেবে৷ আরও পড়ুন ঃ রাজ্যে এখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি কৈলাসের, পাল্টা সরব তৃণমূল রবিবারই শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে দলের সাধারণ সম্পাদক কণিষ্ক পণ্ডাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল৷ আর সেদিন বিকেলেই কারও নাম না করেই ফের অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে একের পর এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন, আমি মানুষের সঙ্গে কোনওদিন বিশ্বাসঘাতকতা করব না৷ মানুষের উপরে যদি অন্যায়, অত্যাচার হয়, বেকার যুবকরা যদি কর্মসংস্থান না পেয়ে যন্ত্রণায় কাতরায়, কৃষকরা যদি যন্ত্রণায় কাতরায়, যদি মানুষের মধ্যে উন্নয়নের জন্য আরও প্রত্যাশা থাকে, তাহলে শুভেন্দু অধিকারী সেটা করবে৷

ডিসেম্বর ১৪, ২০২০
রাজ্য

রাজ্যে এখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি কৈলাসের, পাল্টা সরব তৃণমূল

রাজ্যে এখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুললেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এ দিন তিনি বলেন, বাংলায় আতঙ্ক ছড়াতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর পায়ের তলা থেকে জমি সরে গিয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে ক্ষমতা দখল করতে চাইছেন। আমার মনে হয়, বাংলার সংস্কৃতিতে আতঙ্ক বা ভয় বেমানান। মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে সে জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করব। এও আর্জি করব, আতঙ্ক ও হিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে এখন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করুন। আরও পড়ুন ঃ গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে যে সমর্থন করবে, তাকেই আমারা ভোট দিয়ে জিতিয়ে আনবঃ গুরুং অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর পাল্টা অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য,ঘুরে ঘুরে প্রলাপ বকছেন। প্ররোচনা দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা। দুয়ারে সরকার ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন বাংলার মানুষ। তা মসৃণভাবে চলুক তা চাইছে না বিজেপি। তাঁরা ঘুরে ঘুরে অশান্তি ছড়াচ্ছেন। সারা ভারত থেকে নেতা এনে এখানে অস্থিরতা তৈরি করছেন। উন্নয়ন থেকে নজর ঘোরাতে চাইছেন। আমপান ও লকডাউনের সময় ত্রাণশিবিরে পাওয়া যায়নি এদের। এখন ক্ষমতার জন্য এসব করছেন। ডায়মন্ড হারবারের ইট-পাটকেল পড়েছে কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও মুকুল রায়ের গাড়িতে। যাঁরা দিলীপ ঘোষকে সরাতে তৎপর। পরিকল্পিত চিত্রনাট্যে কাজ করছে বিজেপি।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২০
রাজ্য

বিজেপি কার্যালয়ে আগুন, দেওয়াল লিখন নিয়ে অশান্তি, দিনভর উত্তপ্ত বর্ধমান

বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন, দেওয়াল লিখন নিয়ে অশান্তি, তৃণমূল অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমান শহর। বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ শানিয়েছে। রবিবার দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়েছে শহরে। বর্ধমান শহরের শালবাগান এলাকায় বিজেপির মন্ডল কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায়, পথ-অবরোধ করে। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি শালবাগান থেকে নীলপুর বাজারের পথে রাস্তার পাশে বিজেপির ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডল কার্যালয়ের উদ্বোধন হয়। বিজেপির অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতীরা তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে পুড়ে যায় চেয়ার, টেবিল, ফ্লেক্স ও কিছু আসবাবপত্র। এর প্রতিবাদে দলীয় কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করেছেন। বিজেপি কর্মী পিঙ্কি সাহা বলেন, এর বিহিত চাই। দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। অন্যদিকে তৃণমূল নেতা অনন্ত পাল বলেন, তৃণমূল এই রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এদিকে রবিবার দুপুরে শহরের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাতছালা পীরতলা এলাকায় দেওয়াল লিখন নিয়ে অশান্তি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এদিন কয়েকজন বিজেপি কর্মী তাদের দেওয়াল লেখা কালি দিয়ে মুছে দেয়। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সনৎ বক্সী জানান, এদিন বিজেপি কর্মীরা জোর করে দেওয়াল লেখা শুরু করে। তাঁদের দলীয় প্রতীক ঘাসফুলের উপর কালি লেপে দেওয়া হয়। এলাকার দলীয় কর্মী সমর্থকরা খবর পেয়ে তাঁদের তাড়া করলে সবাই পালিয়ে যায়। বিজেপি তৃণমূলের অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে। বিজেপির বক্তব্য, তাঁদের দেওয়াল লেখার উপর তৃণমূল গায়ের জোর খাটিয়ে লিখেছে। স্থানীয় বিজেপি নেত্রী শুক্লা মণ্ডলের অভিযোগ, রবিবার ভাতছালায় দলীয় কর্মীরা দেওয়াল লিখতে গেলে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা তাঁদের আক্রমণ করে। বাইক ভাঙচুর করে। মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।বিজেপির লেখা দেওয়ালে কালি দিয়ে দেয়। এই ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বর্ধমান থানার পুলিশ। অন্যদিকে বর্ধমান শহরের জাতীয় সড়কের ধারে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ফ্লেক্স ছিড়ে দেওয়া হয়, দরজা-জানালার কাঁচ ভাঙা হয়। বাইরে থেকে লোক এনে ঝামেলা করছে বিজেপি। বিজেপির জেলা যুব সভাপতি শুভম নিয়োগী এই অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, তৃণমূলের অনেক গোষ্ঠী আছে। এছাড়া দাদার অনুগামীরাও আছেন। তাদেরই কারও কাজ হতে পারে। বিজেপি কোনওভাবেই এই ঘটনায় য়ুক্ত নয়।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২০
রাজ্য

প্রয়াত রাধিকারঞ্জন প্রামাণিক, শোকপ্রকাশ মমতার

প্রয়াত হলেন একদা সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া রাধিকারঞ্জন প্রামাণিক। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ৮৮ বছর বয়সে রবিবার ভোরে মথুরাপুরের পাঁচ বারের সাংসদের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকবার্তা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পরিবারকে জানিয়েছেন সমবেদনা। মথুরাপুর লোকসভায় ১৯৮৯ থেকে শুরু করে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাম প্রার্থী হিসেবে টানা পাঁচ বার জিতেছেন রাধিকারঞ্জন। কিন্তু ২০০৩ সালে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হন এবং পরের বছর তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ২০০৪ সালে তৃণমূলের টিকিটে মথুরাপুর থেকে দাঁড়ালেও জিততে পারেননি। হেরে যান বাম প্রার্থী বাসুদেব বর্মনের কাছে। তারপর আর টিকিট পাননি। সাংসদ হওয়ার আগে দুদফায় পর পর তিন বার করে মোট ছবার মগরাহাট পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন রাধিকারঞ্জন। প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের মে মাসে দুর্নীতি এবং দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করে সিপিএম। যদিও রাধিকারঞ্জনের অভিযোগ, সাংসদ উন্নয়ন তহবিলের টাকা পার্টির কাজে লাগাতে চেয়েছিল দল। সেই টাকা না দেওয়াতেই দল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আরও পড়ুন ঃ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বটতলার উকিল বলে কটাক্ষ দিলীপের রাধিকারঞ্জনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাধিকা তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকায় মানুষের সেবা করেছেন। পরিণত বয়সে প্রথাগত বামপন্থী রাজনীতি ছেড়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে বৃহত্তর গনতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছিলেন। সেই সূত্রে তিনি আমার ঘনিষ্ঠ দলীয় সহকর্মী ছিলেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজনীতিক রাধিকারঞ্জনের মৃত্যু রাজনীতির জগতে বড় ক্ষতি বলেও উল্লেখ করেছেন মমতা।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২০
কলকাতা

অভিমান মেটাতে রাজীবকে দলে বাড়তি দায়িত্ব দিতে চায় তৃণমূল নেতৃত্ব

অভিমান মেটাতে এবার বেসুরোমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রে রবিবার এই তথ্য জানা গিয়েছে। রাজীবকে দলের নতুন প্রজন্মের মুখ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, রবিবার দুপুরে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলা বাড়িতে পার্থ-রাজীব-পিকের যে বৈঠক হয়েছে তা সফল। এই বৈঠকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাবতীয় অভিমানের কথা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শোনেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর। এর পরেই আলোচনার সমস্ত বিষয় বস্তু জানানো হয় দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সমস্ত কিছু আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অভিমান মেটাতে রাজীবকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হবে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় খুবই ভালো সংগঠক, কাজের মানুষ। সেক্ষেত্রে তাঁর দাবি মেনে তাঁকে দলে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, দলের ভিতরের দুর্নীতি এবং স্তাবকতা নিয়ে এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজীব। আরও পড়ুন ঃ নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় তিন আইপিএস আধিকারিককে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনের জন্য তলব যদিও বৈঠকের পর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু জানাননি। তিনি শুধু বলেছিলেন, আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও আলোচনা হবে। অন্যদিকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে ডোমজুড় এবং বালি হল্টে রবিবারও প্রচুর পোস্টার লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাতে লেখা ছিল,আমরা সবাই রাজীব পরিবার,আমরা রাজীব দার অনুগামী। এ বিষয়ে মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,আমি আমার ব্যক্তিগত প্রচারে বিশ্বাসী নই। কারা এসব পোস্টার লাগাচ্ছে তা আমার জানা নেই। এইসব কাজকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করিনা।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২০
রাজনীতি

শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতাকে বহিষ্কার

শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী জানিয়ে দিয়েছেন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সম্পাদক কণিষ্ক পন্ডাকে দল বিরোধী কাজের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি সেই নির্দেশ তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বকে জানিয়ে দিতে বলেছেন। রবিবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কণিষ্ক পন্ডা শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বিগত কয়েকদিনে একাধিকবার শুভেন্দুর পাশে থাকার কথা বলেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের এই তৃণমূল নেতা। শুধু তাই নয়, শুভেন্দুকে সমর্থন করে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কনিষ্ক। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই দল বিরোধী কাজের অভিযোগ তুলেছিলেন শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ এই নেতা। শেষমেষ দল তাঁকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল। ইতিমধ্যে রাজ্যের একাধিক তৃণমূল বিধায়ক, নেতা নানাভাবেই শুভেন্দুকে সমর্থন করে বক্তব্য পেশ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী দলে না থাকলে দলের সমূহ ক্ষতি হবে। যদিও সেই সব নেতাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে যেভাবে দলের একাংশ ক্ষোভপ্রকাশ করছে তাতে দলের বিপদ ক্রমশ বাড়ছে। বিভ্রান্ত হচ্ছেন তৃণমূলের নীচুতলার নেতা-কর্মীরা।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 46
  • 47
  • 48
  • 49
  • 50
  • 51
  • 52
  • ...
  • 58
  • 59
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal