• ২ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

TMC

রাজ্য

তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যাকে মারধরে গ্রেপ্তার ২ বিজেপি কর্মী

তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যাকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বিজেপির দুই কর্মী। ধৃতদের নাম মুক্তিপদ কোলে ও চরণ দাস। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার বেরুগ্রাম অঞ্চলের হৈবতপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। জামালপুর থানার পুলিশ সোমবার রাতে বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার জেরে হৈবতপুর গ্রামে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়েছে। বেরুগ্রাম অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি সেখ আব্দুস সালাম যদিও দাবি করেছেন, ধৃত দুইজনই তৃণমূলের কর্মী। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাঁদের বিজেপি কর্মী তকমা দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুনঃ গুগল পিসেমশাই জন্মদিনের তারিখ ভুল বলছে মনামীরপুলিশ জানিয়েছে, জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা অঞ্জনা দলুই সোমবার রাত সাড়ে ৮ টা নাগাদ ১০০ দিনের কাজ নিয়ে এলাকার তৃণমূল কার্যালয়ে কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। অভিযোগ সেই সময় বিজেপির লোকজন রড, লাঠি প্রভৃতি নিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায়। পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যাকে মারধর করা হয়। চোখে আঘাত লাগলে তিনি সংজ্ঞা হারান। তাঁর সোনার হার, কানের দুল ও মোবাইল খোয়া যায়। আক্রান্ত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায় দলের কর্মীরা। ঘটনার কথা জানিয়ে ওই রাতেই অঞ্জনা দলুই জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিজেপির দুজনকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারী অফিসারের কাছে সপ্তাহে ১ দিন হাজিরা এবং অভিযোগকারী ও ঘটনার সাক্ষীদের ভীতি প্রদর্শন না করার শর্তে সিজেএম ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

জুলাই ১৩, ২০২১
কলকাতা

Bhatpara: ভরসন্ধেয় ভাটপাড়ায় গুলি

ফের উত্তপ্ত ভাটপাড়া। মঙ্গলবার বিকেলে পুরসভা কম্পাউন্ডে চলল গুলি। পুরসভার ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে ভাটপাড়া থানা। অভিযোগ উঠেছে, থানার নাকের ডগায় এক দুষ্কৃতী গুলি চালিয়ে চম্পট দিল, অথচ পুলিশ তাকে পাকড়াও করতে পারলো না! জানা গিয়েছে, পুরসভা কম্পাউন্ডে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম কাউন্টার আছে। সেখানে তৃণমূল কর্মী সৌরভ অধিকারীর সঙ্গে এক যুবকের বচসা চলছিল। বচসা থেকে দুপক্ষের মধ্যে মারপিট বেঁধে যায়। সৌরভকে বেধড়ক মারে ওই যুবক। এমনকী, সৌরভকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ওই যুবক। যদিও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ওই তৃণমূল কর্মী।আরও পড়ুনঃ কাঁকুড়গাছিতে নিহত বিজেপি কর্মীর ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টেরআক্রান্ত তৃণমূল কর্মী সৌরভ অধিকারী ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর হিমাংশু সরকারের ছায়াসঙ্গী। ঘটনার সময় বিদায়ী কাউন্সিলর হিমাংশু সরকার পুরসভায় ছিলেন। আক্রান্ত সৌরভকে নিয়ে তিনি ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সৌরভকে ছেড়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গুলি কাণ্ডে জড়িত যুবকের পুলিশ খোঁজ চালাচ্ছে। যদিও ঘটনার কারণ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চায়নি আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী ও বিদায়ী কাউন্সিলর হিমাংশু সরকার। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কাজিয়ায় জেরেই মারপিট এবং গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। যদিও গোষ্ঠী দ্বন্দের তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন পুর প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য মুকসুদ আলম।

জুলাই ১৩, ২০২১
রাজ্য

Mongalkote: মঙ্গলকোটে শুটআউট -নিহত তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি

পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে গুলি করে খুন। বাইক দাঁড় করিয়ে কাছ থেকে গুলি চালিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। মৃত ব্যক্তির নাম অসীম দাস। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের সিওর গ্রামে তাঁর বাড়ি। তিনি মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। গূলি লাগার পর রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন অসীমবাবু। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মঙ্গলকোট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।আরও পড়ুনঃ পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অভিনব প্রতিবাদ, ডোঙার সাহায্যে জল সেচ তৃণমূল বিধায়কেরএদিকে, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে গুলি করে মারার ঘটনা জানাজানি হতেই মঙ্গলকোটজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়েই মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী-সহ অন্য তৃণমূল নেতারা মঙ্গলকোট হাসপাতালে পৌঁছে যান। একইভাবে ঘটনার কথা জানার পর জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। দুষ্কৃতীদের খোঁজে পুলিশ পার্শ্ববর্তী জেলার সীমান্তে জোরদার নজরদারি চালানোর পাশাপাশি অভিযুক্তদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালানো শুরু করেছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায় জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।আরও পড়ুনঃ তিন রাজ্যে বজ্রপাতে মৃত ৬৮, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীরজানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মত এদিন সন্ধ্যায় কাশেমনগর বাজার থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে একাই সিওর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন অসীম দাস। পথে বাড়ির কাছেই সিওর মোড়ের কাছে কেউ দাদা বলে ডেকে অসীম দাসের মোটরসাইকেল দাঁড় করায়। এরপরেই খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। উত্তেজনা চরমে ওঠায় এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।আরও পড়ুনঃ ইংল্যান্ডের স্বপ্ন চুরমার করে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিতৃণমূল নেতা অসীম দাসকে খুনের ঘটনায় বিজেপির যোগসাজোস রয়েছে বলে দাবি করেছেন মঙ্গলকোটের তৃমূলের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী। একই অভিযোগ করে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের মুখপত্র দেবু টুডু বলেন, ভোটে হেরে যাওয়ার বদলা নিতে মঙ্গলকোটের বিজেপি কর্মীরা এখন সন্ত্রাস ও খুনের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে। খুনিরা কেউ পার পাবেনা বলে দেবু টুডু জানিয়েদেন। মঙ্গলকোট বিধানসভার পর্যবেক্ষক তথা বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন,অসীম দাস দক্ষ সংগঠক ছিলেন। বিজেপির লোকজনই পরিকল্পনা করে তাকে খুন করেছে। মৃতর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বুধবার মঙ্গলকোট যাচ্ছেন বলে অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন। যদিও বিজেপির বর্ধমান পূর্ব (গ্রামীণ) জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অনীল দত্ত পাল্টা দাবি করেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। তা ধাপাচাপা দিতেই তৃণমূলের নেতারা বিজেপির দিকে আঙুল তুলছে। পুলিশ সঠিক তদন্ত করেলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে বিজেপি নেতা অনিল দত্ত মন্তব্য করেছেন।

জুলাই ১২, ২০২১
রাজ্য

Petrol Hike: পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অভিনব প্রতিবাদ, ’ডোঙার' সাহায্যে জল সেচ তৃণমূল বিধায়কের

জ্বালানির আঁচে জ্বলছে গোটা দেশ। ১০০ পেরিয়েছে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম। ডিজেলের দামও ১০০ ছুঁইছুঁই। জ্বালানির এই অগ্নিমূল্যের প্রভাবে সংকট তীব্র হবে রাজ্যের কৃষিক্ষেত্র। সেচের কাজে পাম্প মেশিন ছেড়ে চাষিদের ফের ডোঙা ব্যবহারেই ফিরতে হবে। সোমবার রথযাত্রার দিন ডোঙায় জল সেচ করে নিজের চাষজমি কর্ষণ কাজের শুভারম্ভ ঘটিয়ে সেই বার্তাই দিলেন বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিক। বিধায়কের এই বার্তা রাজ্যের শস্যগোলা বলে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষক মহলকেও ভাবিয়ে তুলেছে। তবে বিধায়কের এদিনের কর্মকাণ্ডকে নাটক বলেই মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।বর্ধমান ২ ব্লকের গোবিন্দপুর পঞ্চায়েতের হাটকান্ডা গ্রামে বাড়ি বিধায়ক নিশীথ মালিকের। তাঁর পরিবারের সকলেই কৃষিজীবী। পরিবারের চাষবাস বিধায়ক নিজেই দেখেন । বরাবরই জমিতে নেমে চাষ-আবাদের কাজ তিনি নিজেই তদারকি করেন ।প্রতিবছরের মতো এবছরও রথযাত্রা উৎসবের দিন বিধায়ক নিশীথ মালিক তাঁদের পারিবাবিক চাষ জমির কর্ষণ কাজ শুরু করেন । এদিন বাড়িতে থাকা সাবেকি আমলের ডোঙা কাঁধে নিয়েই বিধায়ক জমির উদ্দেশ্যে রওনা নেন । বহুকাল পর ডোঙা নিয়ে নিশীথ মালিককে চাষের জমির দিকে যেতে দেখে এলাকার অন্য চাষিরা কার্যত তাজ্জব বনে যান । ডোঙা নিয়ে জমিতে পৌছে বিধায়ক নিশীথ মালিক প্রথমে ডোঙার সাহায্যে তাঁদের ধান জমিতে জল সেচ করেন। এর পরেই শুরু হয় তাঁর জমির কর্ষণ কাজ। কর্ষণ কাজ পুরোপুরি শেষ হবার পর জমিতে আউশ ধান রোয়ার কাজ শুরু হবে।বেশ কয়েক বছর ধরে পাম্প মেশিনের সাহায্যে জমিতে জল সেচ করে চাষাবাদের কাজ করে আসছেন নিশীথ মালিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু হঠাৎ করেই পাম্প মেশিন ছেড়ে বাবা ঠাকুরদার আমলের ডোঙা নিয়ে জমিতে কেন জল সেচ করতে হল? এই প্রশ্নের উত্তরে বিধায়ক নিশীথ মালিক বলেন, দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস এখন অগ্নিমূল্য। পেট্রোলের লিটার প্রতি মূল্য ১০০ পার হবার পর এখন ডিজেলও ১০০ ছুঁইছুঁই । অগ্নিমূল্য জ্বালানি তেল পাম্প মেশিনে ভরে জল সেচ করে ধান চাষ করতে গেলে চাষের খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। খরচ বেড়ে গেলে চাষিরা চাষ করেও লাভের মুখ দেখতে পাবেন না। নিশীথ বলেন, পেট্রোপণ্যের এমন মূল্য বৃদ্ধির কারণে তিনি বাবা ঠাকুরদার আমলে সেচের কাজে ব্যবহৃত ডোঙা দিয়েই তাই জমিতে সেচের কাজ সারলেন ।একই সঙ্গে তিনি জেলার কৃষিজীবী মহলকে এই বার্তাও দিলেন, কেন্দ্রে মোদি সরকারের দৌলতে পেট্রোল, ডিজেলের দাম এখন যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে সবাইকেই এবার সেই ডোঙা নিয়েই চাষের কাজে ফিরতে হবে । ডোঙা নিয়ে জমিতে জল সেচ করাটা একপ্রকার তাঁর পেট্রৌপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ বলেও এদিন বিধায়ক নিশীথ মালিক মন্তব্য করেন। তৃণমূল বিধায়কের এমন প্রতিবাদকে নাটক বলে বলে কটাক্ষ করেছেন জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রবাল রায়। তিনি দাবি করেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থের কথা কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার ভাবে বলেই কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠাচ্ছেন। কৃষকদের প্রতি দরদ থাকলে নাটক, প্রতিবাদ ছেড়ে এই রাজ্যের সরকার নিজেদের অংশের কর কমাচ্ছেন না কেন? পাল্টা সেই প্রশ্ন রেখেছেন জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি।

জুলাই ১২, ২০২১
রাজ্য

Nischinda: মহিলাকে কটুক্তির প্রতিবাদ করায় পঞ্চায়েত সদস্যাকে মারধরের অভিযোগ নিশ্চিন্দায়

প্রতিবাদীকে মারধর করার অভিযোগে উত্তেজনা নিশ্চিন্দায়। শনিবার রাতে এক গৃহবধুকে মদ্যপ অবস্থায় কটুক্তি করেছিল কয়েকজন দুষ্কৃতী। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেন তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা। তার জেরেই রবিবার সকালে ওই দুষ্কৃতীরা এসে নিশ্চিন্দার সাঁপুইপাড়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা রূপা মন্ডলকে বেধড়ক মারধর করে। বাদ যাননি তাঁর স্বামী মনোজ মন্ডলও। চারটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পঞ্চায়েত সদস্যা নিশ্চিন্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার নিশ্চিন্দার পূর্ব আনন্দনগরে।রবিবার ওই পঞ্চায়েত সদস্যা অভিযোগ করেন, কিছু ছেলে মদ খেয়ে শনিবার রাতে পাড়ার এক মহিলাকে কটুক্তি করছিলো। আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। তখনকার মতো ছেলেগুলি চলে গেলেও রবিবার সকালে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে ওরা আমার উপর চড়াও হয়। আমার স্বামী বাধা দিতে গেলে ওকেও মারধর করে। দোকান ভাঙচুর করে। খুনের হুমকি দেয়। ওরা সব চকপাড়া এলাকার ছেলে। এই ঘটনার খবর পেয়ে এদিন সেখানে ছুটে যান ডোমজুড়ের তৃণমূল বিধায়ক কল্যান ঘোষ। তিনি বলেন, দুষ্কৃতীদের কোন দল হয় না। এই দূষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এলাকায় কোনওভাবেই দুষ্কৃতীরাজ বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনার পরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জুলাই ১১, ২০২১
কলকাতা

Cyber Crime: পুলিশকর্তার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতার ছেলে

পুলিশকর্তার মেয়ের ছবি দিয়ে নেটমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগে বারাসত থেকে গ্রেপ্তার করা হল তৃণমূল নেতার ছেলেকে। ধৃতের নাম অর্কদীপ কুণ্ডু। তাঁর বাবা দীপক কুণ্ডু উত্তরপাড়া-কোতরং পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কো-অর্ডিনেটর।আরও পড়ুনঃ পায়েল মুখার্জীর হিন্দি সিনেমা বিশেষ সম্মানে ভূষিতখোদ পুলিশকর্তার মেয়ের মোবাইল নম্বর এবং ছবি ব্যবহার করে নেটমাধ্যমে অর্কদীপ আপত্তিকর পোস্ট করেছিল বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ ওঠে, ওই কাণ্ডের পর থেকে এই রাজ্য তো বটেই, ভিনরাজ্য, এমনকী, অন্য দেশের নম্বর থেকেও ফোন করে বিরক্ত করা হয় ওই তরুণীকে। তরুণীর দাবি, ফোন করে এবং মেসেজ পাঠিয়ে তাঁকে কুরুচিকর মন্তব্যও করা হয়। তার জেরে গত ১২ জুন বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার প্রায় এক মাসের মাথায় শনিবার রাতে বারাসতের নবপল্লির একটি আবাসনে বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম বিভাগ এবং বারাসত থানার পুলিশ যৌথভাবে হানা দেয়। ওই আবাসনেই অর্কদীপ আত্মগোপন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

জুলাই ১১, ২০২১
রাজনীতি

Minister WB: বিজেপিকে রুখতে ঝাঁড়ফুক বা পানিপোড়া, নাহলে ৭০-৮০ ডিগ্রির দাওয়াই, হুঙ্কার রাজ্যের মন্ত্রীর

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়পেট্রোপণের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচীতে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভারতের কু-পুত্র বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। রবিবার নিজের বিধানসভা এলাকা পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রাম ও সাতগেছিয়া বাজার এলাকায় হওয়া দলের প্রতিবাদ কর্মসূচীতে যোগ দেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। সেই কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখতে উঠে নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিকে কার্যত তুলোধনা করেন গ্রন্থাগার মন্ত্রী। মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। সারা রাজ্যের পাশাপাশি এদিন পেট্রোপণ্যের লাগামছাড়া মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মন্তেশ্বরের সাতগেছিয়া ও কুসুমগ্রামে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় । সেই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এদিন আরও বলেন, সেই সব গ্রাম আমি চিনি যেখানে বিজেপির কর্মীরা অনেক মুসলমান বাড়ির সামনে কাঁফন রেখেছিল। যারা রেখেছিল তারাও মুসলমান। তাদেরও টুপি আছে, দাড়িও আছে।নামাজ তারাও পড়ে। তবে তারা কুড়ি হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে গিয়েছে। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ওইসব বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্য করে এরপরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা প্রথমে ওদের ঝাড়ফুঁক তেল ও পানি পোড়া দেব । তাতে যদি ঠিক হয়ে যায় তো ঠিক আছে। না হলে ৭০ ডিগ্রি বা ৮০ ডিগ্রির বিষয়টি পরে ভেবে দেখা হবে।পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচীতে যোগ দিয়ে এইসব বিস্ফোরক মন্তব্য করার পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভারতের কু-পুত্র বলেও কটাক্ষ করেন রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবিধানের শপথ নেওয়া রাজ্যের একজন মন্ত্রী যে ভাষায় দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আপমান করছেন তা কার্যত নজিরবিহীন। একই সঙ্গে কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে এই রাজ্যে বিরোধীদের নিকেশ করতে চায় শাসক দল।তারই ইঙ্গিত স্বরুপ মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ঝাড়ফুঁক, তেলপোড়া, পাণি পোড়া, ৭০ডিগ্রি, ৮০ডিগ্রির প্রসঙ্গ তুলেছেন। তবে এই সব হুঁশিয়ারী দিয়ে লাভ কিছু হবে না। কারণ দেশের আইনি শাসন ব্যবস্থা অনুযায়ী বিরোধীদেরও রাজনীতি করার ও মত প্রকাশের আধিকার রয়েছে।

জুলাই ১০, ২০২১
রাজ্য

Jago Bangla: ২১ জুলাই থেকে দৈনিক হচ্ছে তৃণমূলের মুখপত্র

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র জাগো বাংলা দৈনিক আকারে প্রকাশিত হতে চলেছে। ২১ জুলাই শহিদ দিবসের দিন নবরূপে জাগো বাংলার আত্মপ্রকাশ করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার এক টুইট বার্তায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নবরূপে জাগো বাংলার প্রকাশের কথা ঘোষণা করেছেন।২০১৫ থেকে তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলা সাপ্তাহিক আকারে প্রকাশ শুরু হয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল মানুষের জনসমর্থন পেয়ে তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতাসীন হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার দলের সংবাদপত্রও সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটে লিখেছেন, প্রথম থেকেই এই পত্রিকা বাংলার মানুষের মনের কথা তুলে ধরছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টিভঙ্গীর কথা অবিচল ভাবে তুলে ধরে বাংলার মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে। এবার এই পত্রিকা নবকলবরে প্রকাশ হবে।Jago Bangla has resonated with the people of #Bengal ever since its inception. Delivering the vision of @MamataOfficial it has steadily made its way into the hearts of people pan-state.As @jago_bangla gets a fresh make over, stay tuned to find out more!#NaboRupeJagoBangla Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) July 10, 2021এখন জাগো বাংলার সম্পাদক তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দৈনিক সংবাদপত্রের মতোই এই কাগজে দেশ-বিদেশ, রাজ্য, খেলা সমস্ত বিষয়ই স্থান পাবে। এছাড়া দলের কর্মসূচিও থাকবে এই সংবাদপত্রে। বিশেষ করে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প তুলে ধরা হবে। এরাজ্যে সিপিএমের মুখপত্র হিসাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে গণশক্তি পত্রিকা। ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে সাধারণের মধ্যে গণশক্তির জনপ্রিয়তাও যথেষ্ট কমে যায়।এবারেও ২১ জুলাই ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দিনই তিনি নবরূপে জাগো বাংলার সূচনা করবেন। ইতিমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় পত্রিকার প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, মুখপত্র দৈনিক প্রকাশ হওয়ার ফলে জনসংযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

জুলাই ১০, ২০২১
রাজনীতি

মুকুলের দলবদল, ৬৪ পৃষ্ঠার তথ্যপ্রমাণ অধ্যক্ষকে পাঠিয়েছেন শুভেন্দু

বিধানসভার পিএসি কমিটির চেয়ারম্যান হলেন কৃষ্ণনগরের বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়। তৃণমূল ভবনে তিনি প্রকাশ্যে দলনেত্রীর উপস্থিতিতে দলবদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। বিজেপির দাবি, পিএসি কমিটির যে ৬ জনের সদস্যের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছিল তাতে মুকুল রায়ের নাম ছিল না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর হুঙ্কার, চেয়ারম্যান হয়েও সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে পারবেন না মুকুল রায়।মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ নিয়ে এদিনও হুঙ্কার ছেড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা বলেন, ইতিমধ্যে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে আমি ৬৪ পৃষ্ঠা তথ্যপ্রমাণ সমৃদ্ধ অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেছি। আগামী ১৬ তারিখ ২টোর সময় তিনি শুনানিতে ডেকেছেন। আমি আমার তথ্যপ্রমাণের সমর্থণে অধ্যক্ষের শুনানিতে থাকব। এটাও আমরা জানি, বিগত দিনে একজন বিধায়কের বিরুদ্ধে বামফ্রণ্ট পরিষদীয় দল অভিযোগ করেছিল। ২৩ বার হেয়ারিং হয়েছে, শুনানি শেষ হয়নি। ১৬ তারিখটা আসছে তারপর যেখানে গেলে বিচার হবে সেই বিচার ব্যবস্থার দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপির পরিষদীয় দল। আমার স্থির বিশ্বাস, যে মুকুল রায়কে চেয়ারম্যান করেছে তাঁর সদস্যপদ রাখতে পারবে না তৃণমূল কংগ্রেস।এদিকে এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ভোটাভুটি হলেও মুকুল রায় পিএসির চেয়ারম্যান হবে। যদিও একথাও বলেছিলেন মুকুল রায় তো বিজেপির সদস্য। কেন তিনি বিজেপি ছাড়লেন? সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৃণমূল ভবনে মুকুল রায় বলেছিলেন, পরে লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেবেন। এর আগে বহু বিধায়ক দলবদল করলেও বিধায়ক পদে থেকে গিয়েছেন। এবার যে তা হবে না সেই চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, মুকুল রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। দল ছাড়ার সব প্রমাণ আছে।

জুলাই ০৯, ২০২১
রাজ্য

Human Rights : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদের পূর্ব বর্ধমানে আসা নিয়ে তুঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির তর্জা

ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা নিয়ে খোঁজ খবর নিতে এই রাজ্য চষে বেড়াচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল। সোমবার কমিশনের প্রতিনিধিদন পূর্ব বর্ধমান জেলার ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে আসেন। বিমলজিত উপ্পল ও আই আর কুরিলসের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রতিনিধি দল এদিন প্রথম বর্ধমান সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে এক প্রস্থ বৈঠক সেরে তাঁরা বিকেলের দিকে সোজা পৌছে যান জামালপুর থানার নবগ্রামে। পরে সন্ধ্যায় তাঁরা রায়নার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।আরও পড়ুনঃ চূড়ান্ত ট্রায়ালে সাফল্য, ডেল্টা প্রজাতি রুখতে সক্ষম কোভ্যাক্সিন!ভোটের ফল প্রকাশের পর দিন অর্থাৎ গত ৩ মে নবগ্রামেই রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছিলেন দুই তৃণমূল কর্মী শাজাহান শা (৩০)ও বিভাস বাগ (২৭) এবং এক বিজেপি কার্যকর্তার মা কাকলি ক্ষেত্রপাল (৪৭)। একই দিনে নিহত হন রায়না থানার সমসপুর নিবাসী তৃণমূল সমর্থক গনেশ মালিক (৬০)। নবগ্রাম উড়িষ্যা পাড়ায় বিভাস বাগের বাড়ি। আর কাকলি ক্ষেত্রপালের বাড়ি পাশের পাড়া ষষ্ঠিতলায়। অপর নিহত সাজু শেখের বাড়ি জামালপুরের ভেড়িলি গ্রামে। নবগ্রামে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল ১২ জন । তারা সকলেই এখন জামিনে মুক্ত। রায়নার সমসপুরের গনেশ মালিককে হত্যার ঘটনাতেও ৮ জন গ্রেপ্তার হন । দো-ভাষীকে সঙ্গে নিয়ে কড়া পুলিশ পাহারায় কমিশনের প্রতিনিধিরা এদিন জামালপুরের তিন নিহতের বাড়িতে পৌছান।আরও পড়ুনঃ বিপদসংকুল ও ভয়ঙ্কর সাচ পাস অভিযানের অভিজ্ঞতাজাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল গত ৩ মে নবগ্রামে নিহত হওয়া তিন জনের বাড়িতে গিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।পাশাপাশি ওইদিন নবগ্রামে কি ঘটনা ঘটেছিল তার সবিস্তার তথ্যও তাঁরা সংগ্রহ করেন। এরপর কমিশনের প্রতিনিধিরা রায়নার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।আরও পড়ুনঃ মেসি জাদুতে আচ্ছন্ন কোপা, শেষচারে আর্জেন্টিনানিহত বিভাষ বাগের স্ত্রী ঝর্ণা বাগ বলেন, সেদিন কী ঘটনা ঘটেছিল তা কমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁর কাছে জানতে চান । বিভাষ বাগ কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাও জানতে চায় ।সরকারি কোনও সাহায্য পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে ঝর্ণাদেবী কমিশণের প্রতিনিদিধের বলেন তিনি ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন । একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবিকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে রাখেন ঝর্ণাদেবী । তবে চাকরির বিষয়টি নিয়ে আশ্বাস কিছু মেলেনি বলে ঝর্ণাদেবী জানিয়েছেন । একইভাবে কাকলি ক্ষেত্রপাল ও শাজাহন শাহের বাড়িতে গিয়েও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সেদিনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই অতি সক্রিয়তা নিয়েই পূর্ব বর্ধমান জেলায় তুঙ্গে উঠেছে তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক তর্জা। রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী তথা আসানসোল দক্ষিনের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলরবিবার কালনায় দলের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ইস্যুকে সামনেএনে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান।আরও পড়ুনঃ দাম্পত্যে ইতি। বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত লাগান খ্যাত ভুবনেরতৃণমূল কংগ্রেস, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর বর্ধমানসহ রাজ্য জুড়ে আক্রান্ত হচ্ছে বিজেপি কর্মীরা। আদালত নির্দেশ দেওয়ার পর এখন পুলিশ ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের বাড়ি পৌছে দিচ্ছে। অগ্নিমিত্রা দাবি করেন, নির্যাতনের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে আসা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের টিমও এই রাজ্যে ছাড়া পাচ্ছে না। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রীকে মানেন না , মানবাধিকার কমিশনকেও মানেন না। এখন আদালতকেও মানছেন না বলে অগ্নিমিত্রা পল কটাক্ষ করেন। বিজেপি নেত্রীর এহেন মন্তব্যের কঠোর বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।আরও পড়ুনঃ গানওয়ালার গান চুরির অভিযোগ, ক্ষোভপ্রকাশ সামাজিক মাধ্যমেতৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র তথা পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু এই প্রসঙ্গে বলেন, বিধানসভা ভোটে পরজয়টা বিজেপির নেতা নেত্রীরা কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না। সেই জন্য ওরা এখন নানা ভাবে রাজ্য সরকারের বদনাম করার জন্যে উঠেপড়ে লেগেছে । তাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশন, তপশিলি কমিশন এদের এই রাজ্যে পাঠাচ্ছে। দেবু টুডু দাবি করেন, এরা কোনও সরকারের নিরপেক্ষ কোনও এজেন্সি নয়। এরা রাজনৈতিক দল বিজেপির এজেন্সি মাত্র। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশন, তপশিলি কমিশন শুধু বিজেপির দালালি করছে। ওরা শুধু বিজেপির নেতা কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলে চলে যাচ্ছে । প্রশাসনিক কোনও লেবেলের সঙ্গে কথা বলছে না , সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলছে না। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সিটিং করে শুধু কাজ করছে । জাতীয় মানবাধিকার কমিশন , মহিলা কমিশন, তপশিলি কমিশন এ সবই বিজেপির শাখা সংগঠন বলে দেবু টুডু দাবি করেন । একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, ওদের কথা কে শুনবে।আরও পড়ুনঃ গলসিতে আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতিরতৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র দেবু টুডুর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে কশুর করেনি জেলা বিজেপি নেতৃত্ব । বিজেপির পূর্ব বর্ধমান কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, দেবু টুডুর বক্তব্য থেকেই পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস আসলে দেশের সাংবিধানিক কোন ব্যবস্থাকেই মানে না। অগ্নিমিত্রা পল ঠিকই বলেছেন, এই রাজ্যে স্বৈরাচারী, অত্যাচারী সরকার চলছে। অন্যদিকে জেলা বিজেপির সহ- সভাপতি প্রবাল রায় বলেন , আজকে যিনি মুখ্যমন্ত্রী তিনি ও তাঁর দলের অন্য রাজ্য নেতারা সিপিএমের রাজত্ব কালে কথায় কথায় ৩৫৬ ধারা, মানবাধিকার কমিশন চাই ইত্যাদি ইত্যাদি বলতেন। এখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তৃণমূলের নেতা, হার্মাদ ও জেহাদিদের আসল চরিত্র গুলি বুঝে আদালতকে জানাচ্ছে। এটাই তৃণমূলের বড্ড খারাপ লাগছে।

জুলাই ০৫, ২০২১
রাজনীতি

বিধানসভায় কৌশলী তৃণমূল, কড়া নির্দেশ বিধায়কদের

এবারের বিধানসভায় এক ঝাঁক নতুন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক রয়েছেন। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাঁদের পাঠ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সমস্ত বিধায়ক এদিন হাজির ছিলেন। দলীয় বিধায়কদের নানা ভাবে সতর্ক করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে দল। এবার এককভাবে বিজেপি ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই সাংসদ পদত্যাগ করায় বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ। কিন্তু এবার বিধানসভায় বাম-কংগ্রেসের কোনও বিধায়ক নেই। লড়াই সরাসরি। রাজ্যপালের বাজেট ভাষণের দিন বিজেপির ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ বুঝিয়ে দিয়েছে কোমর বেধে নামবেন শুভেন্দু অধিকারীরা। তাই বিশেষ কৌশল নিতে চলেছে তৃণমূল। জুঝতে গেলে পড়াশুনা দরকার তাও এদিন বিধায়কদের অবগত করেছে তৃণমূল।দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, নতুন বিধায়করা লাইব্রেরী ব্যবহার করুক, জানুক। তাঁরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করুক। বুঝতে অসুবিধা হলে নেতৃত্বরা তাঁদের বুঝিয়ে দেবে। বিজেেপি বিধায়করা অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও দলীয় বিধায়কদের সংযত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে নেতৃত্ব। কোনওভাবেই না জেনে বিধানসভায় কিছু বলা যাবে না। জেনে নিতে হবে। নির্দেশ দলের।এদিনের বৈঠকে বিধানসভায় সময়মত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে দলীয় নেতৃত্বে। পার্থবাবু বলেন, শেষ সময় পর্যন্ত থাকতে হবে। বিধানসভায় প্রতিদিন হাজির হতে হবে। পরিষদীয় বৈঠকে হাজির ছিলেন শোনদেব চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, নির্মল ঘোষ। বৈঠকে ছিলেন না মদন মিত্র। মুকুল রায় খাতায়কলমে বিজেপির বিধায়ক। তিনিও হাজির ছিলেন না পরিষদীয় সভায়।ভূয়ো ভ্যাকসিনের নায়ক ভূয়ো আইএএস দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের ছবি প্রকাশ পেতেই বিড়ম্বনা বেড়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নামতে হয়েছে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ওই ছবিকে হাতিয়ার করে ক্রমাগত তোপ দাগছে গেরুয়া শিবির। এবার সামাজিক কর্মসূচিতে বিধায়কদের যাওয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিল দল। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, কোন অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে আয়োজক সংস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। কারা আসবেন সেখানে সেই তালিকা দেখে নিতে হবে। তারপর তাঁরা সেই অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন।

জুলাই ০৫, ২০২১
রাজনীতি

Abhijit Mukherjee: আজই তৃণমূলে প্রণব-পুত্র?

জল্পনা চলছিল অনেক দিন ধরেই।এবার মনে হয় তা সত্যি হতে চলেছে। সোমবারই হয়তো তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। বিকেল ৪টের সময় তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এই বৈঠকেই হয়তো অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করতে পারেন।আরও পড়ুনঃ গলসিতে আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতিরকয়েকদিন ধরেই জঙ্গিপুরের প্রাক্তন সাংসদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। গত ৯ জুন প্রণব-পুত্র অভিজিৎ তাঁর জঙ্গিপুরের বাসভবনে তৃণমূলের জেলা সভাপতি, জঙ্গিপুরের সাংসদ-সহ একাধিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপরই জেলাজুড়ে জল্পনা ছড়ায়, তা হলে কি প্রণবপুত্রও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে উদ্যত। বুধবারের সেই বৈঠকে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান, তৃণমূল জেলা সভাপতি আবু তাহের, বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস, দুই মন্ত্রী আখরুজ্জামান ও সাবিনা ইয়াসমিন-সহ জেলার আরও একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা।আরও পড়ুনঃ দাম্পত্যে ইতি। বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত লাগান খ্যাত ভুবনেরঅভিজিৎ একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, এই মুহূর্তে তিনি তৃণমূলে যাচ্ছেন না। এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তবে কংগ্রেসের এই নেতা বিষয়টি যতই বিভ্রান্তি বলে উড়িয়ে দিন না কেন, জেলার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থেকেই যায়। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জুলাই ০৫, ২০২১
রাজনীতি

Srabanti Tathagata: বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী শ্রাবন্তীর ইলেকশন এজেন্টকে নিয়ে প্রশ্ন তথাগতর

এবার বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের চিফ ইলেকশন এজেন্ট সোহেল দত্তকে প্রশ্ন তুললেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়। বর্ষীয়াণ এই বিজেপি নেতা এর আগেও একাধিক টুইট করে দলকে সতর্ক করেছেন। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন।রাজ্য কার্যকরি কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে হাজির ছিলেন তথাগত রায়। রাজ্যে বিজেপির পরাজয়ের কারণ নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছেন। চিঠি পাঠিয়ে শলা-পরামর্শও দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্বকে। এবার শ্রাবন্তীর চিফ ইলেক এজেন্টের রাজনৈতিক সত্ত্বা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপি নেতা।টুইটে কি ছবি পোস্ট করেছে তথাগত রায়?Is this true? pic.twitter.com/AhuS5LNhQw Tathagata Roy (@tathagata2) July 4, 2021রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত বক্সীকে নিজের হাতে মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছেন সোহেল।কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছবি রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে।রাজ্যের আরেক মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন, পাশে দাঁড়িয়ে এই অভিনেতা।তৃণমূলের রাজ্য সভার সাংসদ সুভাশিস চক্রবর্তীকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে প্রকাশ্য মঞ্চে। অবশ্যই মুখে হাসি লেগে রয়েছে।এনআরসি ও সিএএ বিরোধী মিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সোহেল।এই পাঁচটি ছবি পোস্ট করে তথাগত রায় প্রশ্ন তুলেছেন, এটা কি সত্য?টুইটে তথাগত লিখেছেন, এটি হচ্ছে সোহেল দত্ত বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের চিফ ইলেকশন এজেন্ট। বাকিটা আপনারা বিচার করুন। বর্ষীয়ান বিজেপি নেতার এই পোস্ট ঘিরেই বিতর্ক দানা বেধেছে। উল্লখযোগ্য বিষয় বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে।আরও পড়ুনঃ চূড়ান্ত ট্রায়ালে সাফল্য, ডেল্টা প্রজাতি রুখতে সক্ষম কোভ্যাক্সিন!নির্বাচনপর্ব মিটবার কিছু দিন পর বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায় দল ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন। বিজেপির একাংশ দল ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিতে চাইছেন বলেও তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছেন। এদিকে তৃণমূলের কালচারাট ইউনিটের রাজ্য সভাপতি রাজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দলে যে কেউ ফিরতে পারেন, স্বাগত। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, বিজেপি খতিয়ে না দেখেই বিভিন্ন লোককে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিল নির্বাচনে। সেই প্রশ্ন উঠছে দলের মধ্য থেকেও।

জুলাই ০৫, ২০২১
রাজ্য

BJP MLA: সোনামুখীতে আক্রান্ত বিজেপি বিধায়ক

রাজ্যে ফের আক্রান্ত বিজেপি বিধায়ক। রবিবার দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হন বাঁকুড়ার সোনামুখীর বিফায়ক দিবাকর ঘরামি। জানি গিয়েছে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা দিবাকরবাবুর গাড়ির উপর লাঠি নিয়ে হামলা করে। নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় রক্ষা পান বিজেপি বিধায়ক। যদিও দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন বিজেপি কর্মী। জখম সকলকেই সোনামুখী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। যথারিতি এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। আরও পড়ুনঃ গানওয়ালার গান চুরির অভিযোগ, ক্ষোভপ্রকাশ সামাজিক মাধ্যমেজানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধেবেলা মানিকবাজারের কাষ্ঠসাঙা গ্রামের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সোনামুখীর (Sonamukhi) বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি। তিনি সেখানে কথাবার্তা বলার পর ফেরার পথে মানিকবাজারের কাছে দুষ্কৃতী হামলার মুখে পড়েন।চলে গো ব্যাক স্লোগান।দুপক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে অনেকের মাথা ফেটে যায়, কেউ বা হাতে-পায়ে চোট পেয়েছেন। ঘটনার পরও রাতভর সেখানে উত্তেজনা জারি ছিল। বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষের খবর মিলেছে একাধিকবার। যদিও এই ঘটনায় তৃণমূলের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, সবটাই বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। এলাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। ঘটনার কথা টুইট করে তীব্র নিন্দা করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, একজন বিধায়কও অবিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর জঙ্গলরাজে নিরাপদ নন।Sonamukhi MLA Dibakar Gharami attacked by TMC goons today at Manikbajar Panchayat area.7 BJP party members accompanying him were seriously injured alongside others had to be referred to Bankura Medical College.An MLA is not even safe in the Non-MLA CMs jungle raj. Horrific pic.twitter.com/Q8UpJqVeTP Suvendu Adhikari শুভেন্দু অধিকারী (@SuvenduWB) July 4, 2021উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে একের পর এক বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের আক্রান্ত হওয়ার, ঘরছাড়া হওয়ার খবর আসছে রাজ্যজুড়ে। এই নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে দরবারও করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যে এসেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা। হামলার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদেরও। এই পরিস্থিতিতে ফের একবার আক্রান্ত হলেন বিজেপি বিধায়ক।

জুলাই ০৫, ২০২১
কলকাতা

Suvendu Adhikari: তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রধান হাতিয়ার ভুয়ো ভ্যাকসিন-কাণ্ড

ভুয়ো ভ্যাকসিন-কাণ্ডে যখন সরব রাজ্য রাজনীতি। ঠিক তখনই এই ভ্যাকসিন-কাণ্ডকেই শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে প্রধান হাতিয়ার করে তুলতে তৎপর বিজেপি শিবির। ভোট পরবর্তী হিংসার ইস্যু আগে থেকেই ছিল। বাড়তি হাতিয়ার হিসেবে এ বার ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ড হাতে পেয়ে গিয়েছে বিজেপি। তার মধ্যে আবার বেনজির সংঘাতের আবহে শুরু হয়েছে রাজ্যের বিধানসভা অধিবেশন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মোটামুটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, আসন্ন সময় এই ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডই প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে গেরুয়া শিবিরের। ধৃত দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের ঘনিষ্ঠতা অভিযোগ তুলে বিধান ভবনের ভিতরে এবং বাইরে, তৃণমূলের যাত্রাপথ যতটা সম্ভব দুর্বিসহ করা বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।আরও পড়ুনঃ প্রেম-বিরহ-সম্পর্কের জটিল বীজগণিত X=প্রেমশনিবার সকাল থেকে হেস্টিংসে বিজেপির কার্যালয়ে শুরু হয়েছে বিধায়কদের কর্মশালা। প্রথমবার নির্বাচিত একাধিক বিধায়কদের আচরণ বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে কেমন হওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয় নিয়েই চলছে এই কর্মশালা। স্যারের ভূমিকায় রয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের দুজনেরই একটা দীর্ঘ সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে বিধানসভায়। এ দিনের বৈঠকে প্রথমে বিধায়কদের ক্লাস নেন দিলীপবাবু। এরপর ওঠেন শুভেন্দু। আগামী সময় রাজনৈতিকভাবে ঠিক কোন ইস্যুতে শাসকদের নিশানায় নিতে হবে, সেটা স্পষ্ট করে দেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।শুভেন্দুর সাফ করে দেন, ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডই আগামী সময় মূল আক্রমণের হাতিয়ার হতে চলেছে বিজেপির। তিনি বিধায়কদের জানান, ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে সুর সপ্তমে তুলতে হবে বিধায়কদের। তাঁর কথায়, ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে এমন তীব্র আন্দোলন করতে হবে, যাতে শাসকদের কান ঝালাপালা হয়ে যায়।

জুলাই ০৩, ২০২১
রাজনীতি

Kesh Family: তৃণমূলের প্রতি বিতশ্রদ্ধ আউশগ্রামের কেশ পরিবারের সদস্য ভাঙলেন শহিদবেদী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়বাম আমলে কেশবাড়ি গণহত্যার স্মরণে তৈরি হওয়া শহিদবেদী ভেঙে দিলেন শহিদ পরিবারেরই সদস্য অনন্ত কেশ। শুক্রবার কেশবাড়ি গণহত্যার দিনে এমন ঘটনা চাক্ষুষ করে কার্যতই হতবাক হয়ে যান পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বেলারি গ্রামের বাসিন্দারা । শহীদবেদী ভেঙে দিয়ে এদিন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই অনন্ত কেশ অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলেও তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আরও পড়ুনঃ পঞ্চায়েতে টেন্ডার ডাকায় কাটমানি ইস্যুতে উত্তপ্ত গলসিআউশগ্রামের বেলারি গ্রামের কেশ পরিবারের সদস্য কমলাকান্ত কেশ কংগ্রেস নেতা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,১৯৮৫ সালের ২ জুলাই সিপিএমের দুস্কৃতিরা তৎকালীন কংগ্রেস নেতা কমলাকান্ত কেশের বাড়ি ঘেরাও করে। অভিযোগ সিপিএমের ওই দুস্কৃতীরা অনন্তবাবুর বাবা কমলাকান্ত কেশ এবং তাঁর দুই দাদা অশোক ও অসীম কেশকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন বাড়ির ছোট ছেলে অনন্ত কেশ। এই গণহত্যার স্মরণে পরবর্তীকালে বেলারি গ্রামে বিল্বগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ের সামনে তৈরি হয় একটি শহিদবেদী। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে প্রতি বছর ২ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শহীদস্মরণ আনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত।নসেই শহিদবেদীই এদিন অনন্ত কেশ শাবল দিয়ে ভেঙে দেন।আরও পড়ুনঃ আধপোড়া-নগ্ন মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার বর্ধমানে, তদন্তে পুলিশশহিদবেদী ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে অনন্ত কেশ জানা, তাঁদের পাড়ায় সরকারি জায়গার ওপর থাকা নিকাশিনালাগুলি অবরোধ করে ঘর করেছে কয়েকজন। তার কারণে নালা সংস্কার করা যাচ্ছে না। অথচ এলাকার তৃণমূল নেতাদের মদতে জোর করে তাঁদের জায়গার ওপর দিয়ে নালা কেটে জলনিকাশি করা হচ্ছে। অনন্ত বাবু জানান, এইসব নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন বলে তাঁকে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে জানিয়েও তিনি সুবিচার পাননি। অনন্ত কেশ আরও বলেন, বর্তমান শাসকদল একসময়ে তাঁদের অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কোন প্রতিশ্রুতিই রাখেনি।তাহলে শুধু লোক দেখানো শহিদস্মরণ করেই বা কি লাভ , আর কেশ পরিবারের নিহতদের নামে শহিদবেদী করে রেখেই বা কি লাভ । তাই বিতশ্রদ্ধ হয়ে শহীদবেদী ভেঙে দিয়েছেন বলে অনন্ত কেশ এদিন মন্তব্য করেন । আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতঅনন্ত কেশের তোলা অভিযোগ প্রসঙ্গে বিল্লগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফাল্গুনী গোস্বামী বলেন, এদিনের এই ঘটনার নিন্দা করছি। দলের পক্ষ থেকে অনন্ত কেশকে পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। দল কেশ পরিবারের সদস্যদের যথার্থ সম্মান দিয়েছে। অনন্ত কেশ মিথ্যা অভিযোগ করছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডু বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। দেবু টুডু বলেন , প্রকৃত কি কারণে কেশ পরিবারের ওই সদস্য বিতশ্রদ্ধ তা জানি না । তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেস পরিবারকে সম্মান দিয়ে চলেছেন ।

জুলাই ০২, ২০২১
রাজনীতি

Abhishek-Tweet: তুষার মেহতার অপসারণ চেয়ে মোদিকে চিঠি তৃণমূলের

দিল্লি সফরে গিয়ে নারদকাণ্ডে সিবিআইয়ের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু! আর এখান থেকেই শুরু বিতর্ক। অবিলম্বে সলিসিটর জেনারেলকে অপসারণের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল। যদিও তৃণমূলের এমন দাবিকে অস্বীকার করেছেন মেহতা। তাঁর দাবি, শুভেন্দু এসেছিলেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি।মেহতার এই সাফাই মানতে নারাজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর দাবি, তুষার মেহতার বাসভবনে শুভেন্দু অধিকারী থাকাকালীন সিসিটিভি প্রকাশ্যে আনা হোক। আগাম না জানিয়ে কি শুভেন্দু তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলেন? Reports state that Mr Adhikari entered Honble SGs residence in the presence of a cavalcade of officers and stayed there for nearly 30 minutes. Does that imply that a meeting was indeed due?As the episode gets murkier, one can only hope that the truth shall surface. (2/2) pic.twitter.com/MiVeCz5CB1 Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) July 2, 2021টুইটারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) লেখেস, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গোপন বৈঠকের জল্পনা খারিজ করেছেন মেহতা। অধিকারী মহাশয় থাকাকালীন তাঁর বাড়ির নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করলেই তা বিশ্বাসযোগ্য হবে। সর্বোপরি সলিসিটর জেনারেলকে আগাম না জানিয়ে কি তাঁর বাড়িতে চলে গেলেন শ্রীযুক্ত অধিকারী? অভিষেক (Abhishek Banerjee) আরও লেখেন, জানতে পেরেছি আধিকারিকদের সঙ্গে সলিসিটর জেনারেলের অফিসে প্রায় ৩০ মিনিট কাটিয়েছেন শ্রীযুক্ত অধিকারী। বৈঠক কি আগে থেকে ঠিক করা ছিল? পুরো ঘটনাই অস্পষ্ট। আশা করি সত্য প্রকাশ্যে আসবে। আরও পড়ুনঃ ফের জম্মুর আকাশে পাক ড্রোনসলিসিটর জেনারেল পদ থেকে তুষার মেহতার অপসারণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে,সারদা ও নারদ মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। ওই মামলায় সিবিআইয়ের আইনজীবী তুষার। দুই মামলায় অভিযুক্তের সঙ্গে কেন সাক্ষাৎ করেছেন তিনি? গোটা ঘটনায় শুক্রবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta) বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন,আগে থেকে না জানিয়ে গতকাল দুপুর ৩টে নাগাদ আমার বাসভবনে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় আমার কর্মীরা তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। তাঁকে চা পানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বৈঠক শেষের পর আমার ব্যক্তিগত সচিব তাঁর আসার খবর দেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারব না বলে শুভেন্দু অধিকারীকে অনুরোধ করার কথা জানিয়ে দিই ব্যক্তিগত সচিবকে। সে কারণে ক্ষমাও চাই। আমার ব্যক্তিগত সচিবকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। জোরাজুরি না করে রওনা দেন। ফলে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

জুলাই ০২, ২০২১
রাজ্য

Devanjan Dev's Bodyguard: দেবাঞ্জনের দেহরক্ষীর সঙ্গে রাজ্যপালের ছবি! তদন্ত চায় তৃণমূল

গতকালই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ভূয়ো টিকাকাণ্ডে আরও ছবি থাকতে পারে। থাকলে তা শীঘ্রই প্রকাশ পাবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভূয়ো করোনা টিকাকরণে অভিযুক্ত ভূয়ো আইএএস দেবাঞ্জনের নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে রাজ্যপালের ছবি প্রকাশ্য আনল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় ওই ছবি দেখিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কার কাছে যেত খাম ও সঙ্গে উপহার? তাও তদন্তকারী দলকে খতিয়ে দেখতে বলবে তৃণমূল কংগ্রেস। জানিয়ে দিলেন সুখেন্দুবাবু। আরও পড়ুনঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে বড় হবে আইল্যাশ, কীভাবে ? জেনে নিনবৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে দেবাঞ্জনের দেহরক্ষী অরবিন্দ বৈদ্যর দুটি ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর দেখানো একটি ছবিতে অরবিন্দকে দেখা যাচ্ছে দেবাঞ্জনের সঙ্গে, আরেকটি ছবিতে অরবিন্দ রাজ্য জগদীপ ধনকরের পরিবারের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, এই অরবিন্দ দেবাঞ্জনের নিরাপত্তা কর্মী। তিনি কী করে রাজ্যপালের ব্যক্তিগত পরিসরে থাকতে পারেন। ওই ছবিতে সবাই রয়েছেন হাসিমুখে। তাঁদের পিছনেই অরবিন্দ।আরও পড়ুনঃ দীপার দীপ জ্বালিয়ে রাখলেন বাসচালক কন্যা প্রণতি শুধু ছবি দেখিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ। সুখেন্দুবাবু বলেন, এই নিরাপত্তা কর্মীর মাধ্যমে বিশেষ ব্যক্তির কাছে খাম যেত, যেত কিছু উপহারও। ইতিমধ্যে ভূয়ো টিকার তদন্তে সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি দেখা গিয়েছিল দেবাঞ্জন দেবের। এবার রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা কর্মীর ছবি সামনে আনায় বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল।আরও পড়ুনঃ আধপোড়া-নগ্ন মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার বর্ধমানে, তদন্তে পুলিশসুখেন্দুশেখর বলেন, রাজভবনে যিনি আলোকিত করে বসে আছেন তাঁর ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে দেবাঞ্জনের নিরাপত্তা কর্মীকে। তদন্তকারী সংস্থার গোচরে আনতে চাই বিষয়টা। আমরা চাই সমস্ত তথ্য উঠে আসুক। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, টিকাকাণ্ডের সঙ্গে মানুষকে যাঁরা অসুবিধায় ফেলতে চেয়েছেন তিনি যত গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন রেহাই পাবেন না। এই ছবি যদি সত্যি হয় তাহলে তা দেশের পক্ষে ভয়ঙ্কর। জৈন ডায়েরির পাতায় জগদীপ ধনকড়ের নাম ছিল এদিনও দাবি করেন তিনি।আরও পড়ুনঃ নির্যাতিতাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করল জাতীয় মহিলা কমিশন রাজ্যপাল পদে যোগ দেওয়ার পর থকেই রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত লেগেই রয়েছে জগদীপ ধনকরের। রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত এখন একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে গিয়েছে। তৃণমূল নেতার দাবি, সুরেন্দ্র জৈন হাওলাকাণ্ডের মাথা ছিলেন। পরশু দিন তাঁর মৃত্যু হয়েছে আর তারপর ৪৮ ঘণ্টা নীরব রয়েছেন রাজ্যপাল। জমি কেলেঙ্কারিতেও তিনি জড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, এত দুর্নীতির অভিযোগ কোনও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ছিল না। এমন অভিযুক্ত লোককে রাজ্যপাল হিসাবে নিয়োগ করা উচিত নয়। অবিলম্বে বরখাস্ত করা প্রয়োজন। এবিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করব। পাশাপাশি দুই সংসদে আইন অনুযায়ী পন্থা নেব।

জুলাই ০১, ২০২১
রাজনীতি

FINE: ভোটপ্রচারে আসা নাড্ডার হেলিকপ্টার দেখতে যাওয়ার অপরাধে জরিমানা

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়ঘরে ফেরার জন্য ঘরছাড়া বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের কাছ থেকে বিভিন্ন রেটে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ উঠলো তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, মঙ্গলকোটের বিজেপি কর্মীদের ঘরে ফিরতে গেলে তৃণমূল নেতাদের গুনতে হচ্ছে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। আর বিধানসভা ভোটের নির্বাচনী প্রচারে আসা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার হেলিকপ্টার দেখতে যাওয়ার অপরাধে জরিমানা গুনতে হচ্ছে দশ হাজার টাকা । ঘরছাড়া থাকা মঙ্গলকোটের ঝিলু-২ পঞ্চায়েতের বনপাড়া গ্রামের বিজেপি সমর্থক সান্তনা পাল জেলা প্রশাসনের কাছে এমনই অভিযোগ দায়ের করতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।আরও পড়ুনঃ Euro 2020: ২৫ বছর আগের যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিলেন দিলেন স্টারলিং ও হ্যারিকেনপেশায় মোটরভ্যান চালক বিজেপি সমর্থক সান্তনা পালের অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের লোকজন তাঁর ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে দেওয়ার পাশাপাশি লুটপাটও চালায়। তাঁর মোটর ভ্যানটিতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হয়। পরে মোটরভ্যানটি ফেলে দেওয়া হয় পুকুরের জলে। সান্তনা পাল বলেন, এই ঘটনার পর আতঙ্কে সপরিবারে তিনি বাড়িছাড়া হন। সম্প্রতি স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা তাঁকে ফোন করেন। ওই নেতা তাঁক বলেন, গ্রামের বাড়িতে ফিরতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। এমনটা শোনার পর বাধ্য হয়ে তিনি জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তারপর জেলা প্রশাসনে নির্দেশে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ গত রবিবার তাঁকে তাঁর নিজের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যায়। তবে ভাঙচুর হওয়া বাড়ি বসবাসের অনুপযুক্ত থাকায় এখন তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই রয়েছেন বলে এদিন সান্তনাবাবু জানান।আরও পড়ুনঃ নির্যাতিতাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করল জাতীয় মহিলা কমিশন রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া সান্তনা পালের অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। তাঁর আরও অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষনার পর বনপাড়া গ্রামের বহু বিজেপি কর্মী ও সমর্থক ঘরবাড়ি ছাড়া হয়। ওই সমস্ত বিজেপি কর্মীদের ফোন করে জানানো হয় মোটা টাকা জরিমানা গুনলে তবেই তাদের বাড়ি ফিরতে দেওয়া হবে। বিজেপির নেতাকর্মীদের স্তর অনুযায়ী তৃণমূলের তরফ থেকে জরিমানার একটা রেট ঠিক করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপির বুথ এজেন্ট হলে তাঁদের ঘরে ফেরার জন্যে ৪০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। জরিমানার টাকা জোগাড় করতে এখন হিমসিম খেতে হচ্ছে ঘরছাড়াদের। বনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রমেশ পাল, সুকান্ত পাল প্রমুখ বিজেপি কর্মীরাও একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা বলেন , গ্রামে ফেরানোর শর্তে এক তৃণমূল নেতাকে তাঁদের ২১ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। বনপাড়া গ্রামের এক মহিলার অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের প্রচারে হেলিকপ্টারে চড়ে নতুনহাটে এসেছিলেন জেপি নাড্ডা। তাঁর স্বামী সেই হেলিকপ্টার দেখতে গিয়েছিলেন। সেই অপরাধে তাঁকে দশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে।আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের উপর হামলা, রণক্ষেত্র যাদবপুরএই সমস্ত অভিযোগগুলি উঠছে মূলত বনগ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি উজ্জ্বল শেখের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁর দাবি, হয়তো ভুল করে দু একটা ছেলে ডিস্টার্ব করেছে। আমি তাদের নিষেধ করেছি। তবে কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি। অন্যদিকে মঙ্গলকোটের তৃণমূল বিধায়ক তথা ব্লকের সভাপতি অপূর্ব চৌধুরি বলেন, যারা এমন কাছ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ টাকা চাইলে তাঁকে জানানোর কথাও তিনি বলেন।সান্তনা পালের অভিযোগপত্র (FIR)

জুন ৩০, ২০২১
রাজ্য

রাস্তার ধারের বহুমূল্য গাছ বিক্রি করার অভিযোগ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে গাছের পর গাছ কেটে পাচার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।গাছ কাটার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সোমবার পঞ্চায়েতের একাংশ সদস্য, ব্লকের বিডিও,পঞ্চায়েত প্রধান -সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছেন প্রশাসনের কর্তারা । জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের চারজন সদস্য এদিন জানান, তাদের পঞ্চায়েত এলাকায় দামোদরের উপরে রয়েছে হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতু।জামালপুরের দিক থেকে সেই সেতু পেরিয়ে কালাড়াঘাট হয়ে রায়না যাওয়ার জন্যে রয়েছে পূর্ত দপ্তরের সড়কপথ।সেই সড়কপথে কালাড়াঘাটের একটি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কের পর থেকে উচিতপুরের আগের সেতু এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে অনেক পুরনো গাছ রয়েছে। এই গাছ কাটার জন্যে বন দপ্তর ও পূর্ত দপ্তরের কাছ থেকে লিখিত কোনও অনুমতিও নেওয়া হয়নি। গাছ কেটে বিক্রি সংক্রান্ত কোনও টেন্ডারও পঞ্চায়েত করেনি। অথচ বিগত ৪- ৫ দিনে পূর্ত দপ্তরের সড়ক পথের দুই ধারে থাকা প্রকাণ্ড ও মূল্যবান প্রায় ৪০ টি গাছ কেটে পাচার করে দেওয়া হয়েছে । পঞ্চায়েত সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও প্রশাসনের কাছে জানিয়েছেন জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের সদস্যরা। আরও পড়ুনঃ ভগবানের সুরের ভাঁজে হৃদয় ভিজছে সকলেরঅভিযোগকারী পঞ্চায়েত সদস্য হারাধন পাত্র ও সঞ্চয়িতা বাগ এদিন বলেন,বিগত ২০-২৫ দিনের মধ্যে বজ্রপাতে জামালপুর ব্লকের ৭ জন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃক্ষ ঘাটতি ও দূষণ বৃদ্ধি মূলত কোনও এলাকায় বজ্রপাত বৃদ্ধির অন্যতম একটা কারণ। এইসব জানার পরেও খোদ পঞ্চায়েত কর্তাদের পরিচালনাধীনে বেআইনিভাবে বৃক্ষ নিধন হচ্ছে। এই অপরাধ যারা করছেন তাঁদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত । জামালপুরের শুড়েকালনা নিবাসী তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতা প্রদীপ পাল বলেন,পঞ্চায়েত সদস্যদের অভিযোগ যুক্তি সংগত।এই বিষয়ে প্রদীপ পাল বলেন, পূর্ত দপ্তরের সড়ক পথের ধারে থাকা গাছ কাটার ব্যাপারে জামালপুর ২ পঞ্চায়েত কোনও নিয়মকানুন মানার তোয়াক্কা করেনি।যারা এই কাজে যুক্ত রয়েছে তাদের সবার শাস্তি হওয়া দরকার। প্রদীপ পাল আরও বলেন, সরকার স্বচ্ছভাবে পঞ্চায়েত চালানোর কথা বলেলেও জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য না হওয়া কয়েকজন ব্যক্তি এখন পঞ্চায়েতের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়েছেন। ওইসব স্বার্থান্বেষীদের অঙ্গুলি হেলনেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অন্ধকারে রেখে পঞ্চায়েতের পরিচালনাধীনে বেআইনি কাজকর্ম হচ্ছে। তার প্রতিবাদস্বরূপ মঙ্গলবার জামালপুর ২ পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে বলে প্রদীপ পাল জানিয়েছেন। আরও পড়ুনঃ ভুয়ো ভ্যাকসিন-কাণ্ডে দেবাঞ্জনকে জঙ্গিদের থেকেও ভয়ঙ্কর বললেন মুখ্যমন্ত্রী সদস্যদের আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান উদয় দাস বলেন,পঞ্চায়েতের ওই এলাকায় ৩৪ টি গাছ কাটার ব্যাপারে চলতি জুন মাসের ১১ তারিখে একটি রেজোলিউশন হয়। কিন্তু গাছকাটা সংক্রান্ত সব নিয়ম মানতে না পারার কারণে এই ব্যাপারে আর এগনো হয়নি। তবে ওই গাছগুলোর পাহারাদার অর্থাৎ পাট্টাদার নিমাই মালিক নিজে দায়িত্ব নিয়ে গাছগুলি সম্প্রতি কেটেছেন। গাছ কেটে বিক্রি করে নিমাইবাবু ৩৫ হাজার টাকা এদিন পঞ্চায়েত অফিসে জমা দিয়ে গিয়েছেন বলে উদয় দাস জানান। কিন্তু পঞ্চায়েত-সহ অন্য সমস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লিখিত অনুমতি না নিয়ে একজন পাহারাদার কিভাবে পূর্ত দপ্তরের সড়কপথের ধারে থাকা গাছগুলি কেটে বিক্রি করলেন তার কোনও উত্তর উপ- প্রধান এদিন দিতে পারেননি। বেআইনিভাবে গাছ কেটে বিক্রি করার অর্থ পঞ্চায়েত কেন গ্রহণ করলো ? এর উত্তরে উপ -প্রধান বলেন, তিনি পঞ্চায়েতের নিয়ম কানুনের ব্যাপারে বিশেষ কিছু জানেন না। বিজেপির জামালপুর বিধানসভার আহ্বায়ক জীতেন ডকাল বলেন, যেসব গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে তার মূল্য বেশ কয়েক লক্ষ টাকা হবে। অথচ বলা হচ্ছে ওই সব গাছের মূল্য নাকি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা । আসলে পুরোটাই একটা ঘোটালা। ঘোটালায় মদত না থাকলে বেআইনিভাবে গাছ কেটে বিক্রি করার অর্থ পঞ্চায়েত গ্রহণ করতো না। আর এখন উপ- প্রধান বলছেন তিনি নাকি কিছুই জানেন না। জীতেনবাবু এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, উপ-প্রধানের কথা মতো এটা যেন চোরে-চোরে ভাগ বাটোয়ার মতোই ব্যাপার। জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন,তিনি অভিযোগপত্র পেয়েছেন। অভিযোগের তদন্ত করার জন্যে পুলিশকে বলা হয়েছে। গাছ কাটার বিষয়ে কোনও অনিয়ম থাকলে আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুন ২৯, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 38
  • 39
  • 40
  • 41
  • 42
  • 43
  • 44
  • ...
  • 58
  • 59
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal