• ১২ ভাদ্র ১৪৩৩, মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Sir

দেশ

এসআইআর নিয়ে শুনানি, তারপরই হুমকি! অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নিরাপত্তা নিয়ে বড় পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের

এসআইআর প্রক্রিয়ার পর বিবেচনাধীন ভোটারদের নামের নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। সেই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নিরাপত্তা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠল। হুমকি, পথ দুর্ঘটনা এবং বাড়িতে চিঠি আসার অভিযোগের পর বিষয়টি পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। এবার নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।অবসরপ্রাপ্ত ওই বিচারপতির ছেলে তাঁর বাবার নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত আপিলের শুনানির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর বাবা এবং পরিবারের সদস্যরা হুমকির মুখে পড়ছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে প্রভাব বিস্তার করতেই এই ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।আবেদন অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পথে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি একটি পথ দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে পুলিশের তরফেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কয়েক দিন পর রাজারহাটের বাড়িতে একটি হুমকি চিঠি পৌঁছয়। পরে কলকাতার বাড়িতেও একই ধরনের হুমকি চিঠি আসে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও তাঁর পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত এবং বাড়তি নিরাপত্তার আবেদন করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চ জানায়, নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যেতে পারেন।শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির আবেদনটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে। ফলে এখন অবসরপ্রাপ্ত ওই বিচারপতি এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে হাইকোর্ট কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর থাকবে।এসআইআর সংক্রান্ত আপিলের দায়িত্বে থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে ঘিরে হুমকি ও নিরাপত্তার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পথ দুর্ঘটনা এবং পরপর হুমকি চিঠির অভিযোগের পর সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
দেশ

ভোটের আগে বড় ধোঁয়াশা! বিচারাধীন ভোটাররা কি ভোট দিতে পারবেন? স্পষ্ট জানাল আদালত

পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল। রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে এবং যাঁদের আবেদন এখনও বিচারাধীন, তাঁদের যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে, আপাতত বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি জানান, মোট ৬০ লক্ষ ৪ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। এখনও প্রায় ১৮২৩টি মামলা প্রযুক্তিগত কারণে মুলতুবি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।বিচারপতি বাগচী জানান, প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। যাঁদের নাম ৬, ৭ এবং ৮ এপ্রিল বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে, তাঁরা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন।রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, কিছু এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় থাকা সব ভোটারই এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অথচ এমন ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যেন সব মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন এখনও বিচারাধীন এবং তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, এই প্রশ্ন ওঠেই না। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের উপর কোনওরকম চাপ সৃষ্টি করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়।এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এবং তারা তাদের ভোটাধিকার চায়। এই সময় অন্য পক্ষের আইনজীবী জনসংখ্যার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন। পাল্টা জবাবে কল্যাণ বলেন, বাংলাকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা উচিত নয়।মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতে আইনের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে বলেন, যাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছে বা যাঁরা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই দাবি খারিজ করা হয়।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি বাগচী জানান, বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য আদালতের কিছু সময় প্রয়োজন। দুই পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
কলকাতা

বাংলায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ, তবু শীর্ষে নয়! তালিকার শীর্ষে কোন রাজ্য জানলে চমকে উঠবেন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই নিয়ে রাজ্যে ক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং উদ্বেগের ছবি সামনে এসেছে। তবে অবাক করার বিষয়, নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় বাংলা শীর্ষে নেই।তথ্য বলছে, এই তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে খসড়া তালিকাতেই প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। ফলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বাংলায় মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতেও বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। সেখানে প্রায় ৭৪ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।কেরলে প্রায় ৯ লক্ষ নাম বাদ গেছে। পুদুচেরিতে মোট ভোটারের তুলনায় প্রায় ১ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এই রাজ্যগুলির মধ্যে অসমে এই প্রক্রিয়া হয়নি।বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে গুজরাটে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে। সেখানে প্রায় ৭৭ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। শতাংশের হিসাবে গুজরাট বাংলাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।মধ্যপ্রদেশে প্রায় ৩৪ লক্ষ, রাজস্থানে প্রায় ৩১ লক্ষ এবং ছত্তিশগড়ে প্রায় ২৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই সব রাজ্যেও শতাংশের হিসেবে নাম বাদ পড়ার হার বাংলার থেকে বেশি।তবে সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উত্তরপ্রদেশে। সেই কারণে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে দেরি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সময় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করছে বলে জানা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই তথ্যকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।

এপ্রিল ০৭, ২০২৬
দেশ

এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ! রাতেই প্রকাশ পাবে সম্পূরক তালিকা

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়। এর আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, বিচারবিভাগের তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই মতো জুডিশিয়াল অফিসারদের নজরদারিতে কাজ চলছে। শুনানিতে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৯ লক্ষের বেশি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়, বাকি প্রায় ছাব্বিশ হাজার আবেদনও খুব শীঘ্রই মিটিয়ে ফেলা হবে এবং সোমবারের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে।আদালতে জানানো হয়, বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও মালদহে প্রায় আট লক্ষ মানুষের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনকারীদের স্বীকৃতি পত্র দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রত্যেক আবেদনকারীকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নোডাল অফিসারের উপর থাকবে।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি চিঠি দেখানোর জন্য আদালতে মোবাইল ব্যবহার করেন, যা নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। একইসঙ্গে অ্যাপিল ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো ও বিচারকদের পারিশ্রমিক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ওয়েবসাইটে আবেদন জমা দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে জমা দেওয়া নথির কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি।আদালত জানায়, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের বক্তব্য অবশ্যই শোনা উচিত এবং কেন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা জরুরি এবং সেই দিকেই নজর রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে ভোটাধিকার দেওয়া যাবে না।রাজ্যের তরফে আবেদন করা হয়, যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, তাঁদের অন্তত ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই চলছে এবং যাঁরা অসন্তুষ্ট, তাঁরা আপিল করতে পারেন।শুনানিতে রাজনৈতিক বিতর্কও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্য আদালতে তুলে ধরা হয়। কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে পাল্টা একটি ভিডিও দেখিয়ে অভিযোগ করা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ট্রাইব্যুনাল দ্রুত সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিকভাবে নথি যাচাই করা হবে। প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলা হয়েছে এবং সমস্ত আবেদন ডিজিটাল স্বাক্ষর সহ প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালত আরও জানায়, শুধুমাত্র কলকাতায় নয়, জেলা স্তরেও আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের দফতর থেকেও আপিল জমা নেওয়া যাবে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে রসিদ দিতে হবে।কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার রাতের মধ্যেই সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পোর্টালে আপলোড করা হবে। একটি বিশেষ ক্ষেত্রে নন্দলাল বসুর নাতির আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৯ তারিখের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৩ এপ্রিল।

এপ্রিল ০৬, ২০২৬
রাজ্য

কালিয়াচকের পর ফের উত্তপ্ত মালদহ! জাতীয় সড়ক অবরোধে তীব্র বিক্ষোভ

কালিয়াচকের ঘটনার পর মালদহে পরিস্থিতি এখনও অশান্ত। বুধবারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ি এলাকায় নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের কাছে সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েন স্থানীয় মানুষ। জাতীয় সড়কের উপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু হয়। কয়েকটি জায়গায় বাঁশ ফেলে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে।এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।এর আগের দিন কালিয়াচকে একই ইস্যুতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সাতজন বিচারককে একটি সরকারি দফতরে আটকে রাখেন। তাঁদের মধ্যে মহিলা বিচারকরাও ছিলেন। দীর্ঘ সময় ঘেরাওয়ের পর গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।এই ঘটনার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং নতুন করে মঙ্গলবাড়ি এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
কলকাতা

প্রার্থী হয়েও ভোটার তালিকায় নাম নেই! হাইকোর্টে চাঞ্চল্য, সুপ্রিম কোর্টে ছুটছেন কংগ্রেস প্রার্থী

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হলেও তাঁর নাম নাকি এসআইআর তালিকায় নেই। এই বিষয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁর আইনজীবী।মামলাকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একজন প্রার্থী হয়েও যদি তাঁর নাম ভোটার যাচাইয়ের তালিকায় না থাকে, তা হলে তা গুরুতর বিষয়। পাশাপাশি আরও জানানো হয়, এই সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। তাই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেই আবেদন করা হয়।তবে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টেই হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, এই ধরনের মামলার শুনানি কোনও হাইকোর্ট করতে পারবে না। কলকাতা হাইকোর্ট শুধু প্রশাসনিক দিকটি দেখছে। তাই আবেদনকারীকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী পয়লা এপ্রিল মহতাব শেখ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাবেন।এই ঘটনার মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রার্থীও এখনও এসআইআর তালিকায় বিবেচনাধীন রয়েছেন। কাজল শেখ এবং শশী পাঁজার নাম দ্বিতীয় তালিকায় উঠে এলেও এখনও আরও কয়েকজনের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে এই বিষয়টি বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভোটারকে আলাদা করে যাচাইয়ের জন্য রেখেছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার একাংশে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি।এই নিয়ে জনসভা থেকেও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির প্রভাবে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে বা জটিলতা তৈরি করছে।এদিকে সূত্রের খবর, এই বিষয় নিয়ে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে চলেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ভোটের আগে এই বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ৩০, ২০২৬
কলকাতা

ষাট লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলে! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উত্তরে বাড়ল ধোঁয়াশা

এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ষাট লক্ষ। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ইতিমধ্যেই দশ লক্ষ ভোটারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ভোটের আগে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিবেচনাধীন ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এড়িয়ে গেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।এর আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও বিবেচনাধীন ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনও দিশা দিতে পারেননি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ কুমার জানান, বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি পরীক্ষা করে দেখার কাজ করছেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং সেখানে জানিয়েছেন যে দশ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে বাকি পঞ্চাশ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা উচিত।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত আটাশ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকার পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। প্রার্থীদের মনোনয়নের আগের দিন পর্যন্ত এই তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে বলে নির্দেশ রয়েছে। ফলে বিবেচনাধীন ভোটারদের অনেককেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে তাঁদের ভোটাধিকার রয়েছে কি না তা জানার জন্য।এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটের ঘোষণা করা উচিত নয়। তবে নির্বাচন কমিশন আগামী সপ্তাহেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে পারে বলে জল্পনা চলছে। অর্থাৎ ভোটের সময় একেবারেই সামনে চলে এসেছে। হাতে সময় খুবই কম। এখনও পর্যন্ত মাত্র দশ লক্ষ ভোটারের নথি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, বাকি বিপুল সংখ্যক ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি বাকি। এত কম সময়ে এই বিশাল কাজ শেষ করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেও এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে বিবেচনাধীন লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঝুলে রইল।

মার্চ ১০, ২০২৬
রাজ্য

ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, দিনহাটায় অনশনে বসলেন উদয়ন গুহ

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করল তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন একই ইস্যুতে কোচবিহারের দিনহাটায় গণ অনশনে বসলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। সোমবার তাঁর নেতৃত্বে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।উদয়ন গুহ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির ইঙ্গিতে নির্বাচন কমিশন সাধারণ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। অনেক ভোটারের নাম আবার অমীমাংসিত তালিকায় রেখে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই দিনহাটায় গণ অনশন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নামে বহু ভোটারের নাম অমীমাংসিত তালিকায় রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী দিনহাটায় ইতিমধ্যেই বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তার উপর আরও বহু নাম এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।জেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে দুই লক্ষ সাতত্রিশ হাজারেরও বেশি নাম। এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন উদয়ন গুহ।অনশন শুরু করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতায় দলের নেতা কর্মীরা অবস্থান করছেন। বিজেপির চাপে পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন সাধারণ ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে অথবা তাঁদের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রেখে মানসিক চাপ তৈরি করছে। বিচারাধীন তালিকার নিষ্পত্তি কবে হবে, সে বিষয়ে কমিশন স্পষ্ট করে কিছু জানাচ্ছে না। সেই কারণেই দিনহাটায় এই গণ অনশন শুরু করা হয়েছে।বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই তাদের সবচেয়ে নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এত পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন তিনি কখনও দেখেননি বলেও দাবি করেন।উদয়ন গুহর অভিযোগ, বিজেপির সুবিধা হবে কি না সেই দিকেই নজর রেখে কমিশন কাজ করছে। তবে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ অনেক বেশি সচেতন। এই ধরনের চক্রান্তকে কীভাবে প্রতিহত করতে হয় তা বাংলার মানুষ জানে।রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি যে দাবি করছে, সেই প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন উদয়ন গুহ। তিনি বলেন, যাঁরা এই দেশে জন্মেছেন তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে। যদি সত্যিই রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু সেই অজুহাতে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না।তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেখানে বিজেপি দুর্বল সেখানে পরিকল্পনা করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তাঁদের আন্দোলন। অনশন কতক্ষণ চলবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে উদয়ন গুহ বলেন, শরীরে যতক্ষণ শক্তি থাকবে ততক্ষণ তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। ভোটের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে এই বিতর্ক ও আন্দোলন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

মার্চ ০৯, ২০২৬
দেশ

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, সরাসরি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ! নতুন করে বিতর্কে এসআইআর

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ল। এসআইআর ইস্যুতে আবারও শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন একদল আবেদনকারী। সোমবার কলকাতায় যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, ঠিক সেই সময় দিল্লিতে শীর্ষ আদালতে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।যাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের পক্ষ থেকেই এই মামলা করা হয়েছে। তাঁদের হয়ে আইনজীবী হিসেবে আবেদন করেছেন মেনকা গুরুস্বামী। তিনি দ্রুত শুনানির আবেদনও জানিয়েছেন।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই আবেদন করা হয়। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাধারণত সরাসরি আবেদন করা যায় না। তখন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং তাঁদের জমা দেওয়া নথিও গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।আদালত জানিয়েছে, মঙ্গলবার এসআইআর সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই আবেদনটিও শোনা হবে।এদিকে রবিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার সকাল থেকেই তিনি একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বামফ্রন্ট, বিজেপি, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে বিভিন্ন দল নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে। সূত্রের খবর, আলোচনার সময় বারবার শীর্ষ আদালতের প্রসঙ্গ তুলেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের সময় জ্ঞানেশ কুমার নাকি বলেন, আপনারাই যখন শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন, তখন আবার ষাট লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করছেন কেন।তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ভোটার তালিকায় যে অসঙ্গতি রয়েছে তা এখনও পুরোপুরি সংশোধন করা হয়নি। আনম্যাপড ভোটারদের বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের পক্ষ থেকে কমিশনকে জানানো হয়েছে, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়।চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আরও দাবি করেন, এই বিষয়গুলি শুনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, আপনারা তো শীর্ষ আদালতে গিয়েছেন।ভোটের আগে এসআইআর ইস্যু ঘিরে এই আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

মার্চ ০৯, ২০২৬
রাজ্য

ভোটার তালিকায় মৃত্যু ঘোষণা, সরকারি পরিষেবা বন্ধের আশঙ্কায় দিশেহারা পরিবার

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় মৃত! এমনই অবিশ্বাস্য ঘটনার অভিযোগ উঠেছে কালনা পুরসভার বারো নম্বর ওয়ার্ডে। খসড়া ভোটার তালিকায় নামের পাশে মৃত বলে উল্লেখ করা হলেও, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আর নামই নেই বিয়াল্লিশ বছরের পূর্ণ সাহার। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।পূর্ণ সাহা পেশায় দিনমজুর। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী। অভিযোগ, এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও খসড়া তালিকায় তাঁর নামের পাশে মৃত বলে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নিজেই কালনা পুরসভায় যান এবং ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহের চেষ্টা করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়ে বসে প্রশাসন। তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়, ভোটার তালিকায় জীবিত হিসেবেই নাম তোলা হবে।কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, তাঁর মা ও স্ত্রীর নাম থাকলেও পূর্ণ সাহার নাম নেই। ফলে জীবিত থেকেও সরকারি ভাবে মৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে তাঁর পরিবারের। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। ইতিমধ্যেই নানা হেনস্থা ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ।এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তৃণমূলের দাবি, পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের হাতে, তাই দায় তাদেরই। পাল্টা বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে নিয়োগ পাওয়া বুথ স্তরের কর্মীরাই এই ধরনের ভুল করছেন। সাধারণ এক দিনমজুরের জীবনে প্রশাসনিক ভুল কত বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, জেলায় জেলায় চাঞ্চল্য! কোথায় কত নাম বাদ গেল জানলে চমকে উঠবেন

অবশেষে প্রকাশিত হল এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা। আপাতত অফলাইনে তালিকা প্রকাশ হয়েছে। ডিএম ও বিডিও অফিসে পৌঁছে গিয়েছে হার্ড কপি। ব্লকে ব্লকে বিএলও-দের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সেই তালিকা। তাঁরা তালিকা সংগ্রহ করে বুথের দিকে রওনা দিচ্ছেন। খুব শিগগিরই রাজ্যবাসী বুথে গিয়ে নিজের নাম মিলিয়ে নিতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইনদুইভাবেই তালিকা দেখার সুযোগ থাকবে, তবে এখনও পর্যন্ত অফলাইনেই তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। জেলায় জেলায় বুথে তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নন্দীগ্রাম থেকে ঠাকুরনগর, সর্বত্র একই ছবি। তালিকা সামনে আসতেই কোথায় কত নাম বাদ গেল, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে। কোথাও বিএলও জানাচ্ছেন, নাম বাদ যায়নি। আবার কোথাও অভিযোগ উঠছে, বিএলও-র নিজের নামই অমীমাংসিত তালিকায় চলে গিয়েছে।নন্দীগ্রামের চড়কেন্দ্রমারির এক বুথের বিএলও জানিয়েছেন, তাঁর হাতে যে তালিকা এসেছে তাতে ৯৫৩ জন ভোটারের নাম রয়েছে। খসড়া তালিকার সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকার কোনও বড় পার্থক্য নেই বলেই তিনি দাবি করেছেন। তবে ২১৯ নম্বর বুথের বিএলও জানিয়েছেন, কিছু নাম বাদ গিয়েছে। যদিও বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া অধিকাংশের নাম রয়েছে বলেই তাঁর দাবি। অন্যদিকে নন্দীগ্রামের এক ব্লকের এক বিএলও অভিযোগ করেছেন, তাঁর নিজের নামই মীমাংসিত তালিকায় নেই। অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। তিনি জানিয়েছেন, ২৭ বছর ধরে চাকরি করছেন, সমস্ত নথি রয়েছে, বানানেও ভুল নেই, পাসপোর্টও আছে। তবু কেন তাঁর নাম বিচারাধীন হল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।বাঁকুড়াতেও বুথে বুথে চূড়ান্ত তালিকা টাঙানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ৩ হাজার ৩০০ জনের নাম বাদ পড়েছে। খসড়া তালিকায় ১ লাখ ৩২ হাজার নাম বাদ গিয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ জনের নাম বাদ পড়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। ৭০ নম্বর বুথে বাদ গিয়েছে ৩ জনের নাম। অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার নাম।উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৩১ হাজার ১৬৯ জন। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ৯৭১ জনের নাম বাদ পড়েছে। ঠাকুরনগরে সবথেকে বেশি নাম আনম্যাপড হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ৩০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে সেখানে। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন বহু বাসিন্দা।কলকাতার উত্তর অংশে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতায় খসড়া তালিকায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩০৬ জনের নাম ছিল। চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৯ জনের নাম। অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে ৭৮ হাজার ৬৫৭ জনের নাম।মুর্শিদাবাদে অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৬ লাখ নাম। চূড়ান্ত তালিকায় কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তর ২৪ পরগনায় অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার নাম। পশ্চিম মেদিনীপুরে অমীমাংসিত তালিকায় প্রায় ১ লাখ নাম রয়েছে। নদিয়ায় প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ৬০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে এবং অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার নাম।এদিকে এখনও পর্যন্ত অনলাইনে তালিকা প্রকাশ হয়নি। জানা গিয়েছে, দুপুর গড়িয়ে যেতে পারে অনলাইনে তালিকা প্রকাশ পেতে। তালিকা প্রকাশ হলে দুটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাজ্যবাসী নিজেদের নাম খুঁজে দেখতে পারবেন। ফলে এখন সবার নজর অনলাইনে প্রকাশের দিকেই।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
রাজ্য

মৃত্যুর ছায়া এসআইআর প্রক্রিয়ায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চাকরি দিতে এগোল রাজ্য

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া বা এসআইআর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্ন-এ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার জেরে মৃত বা চরম হয়রানির শিকার পরিবারগুলির একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে।এসআইআর ঘিরে বিতর্ক শুরু হয় একটি আত্মহত্যার ঘটনার পর। পরে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬। কেউ আত্মহত্যা করেছেন, আবার কারও স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর-জনিত আতঙ্কই এর মূল কারণ। শাসকদলও একাধিক ক্ষেত্রে একই অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।সূত্রের খবর, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির একজন সদস্যকে হোম গার্ড পদে নিয়োগ করা হবে। ইতিমধ্যেই জেলা ভিত্তিক তালিকা তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু মৃতদের পরিবার নয়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ ও হয়রানির অভিযোগ থাকা আরও পাঁচটি পরিবারকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। সেই পরিবারগুলির একজন সদস্যও চাকরি পাবেন বলে জানা গিয়েছে।তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই চাকরির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। হোম গার্ড পদে কম বেতন, পেনশন ও গ্র্যাচ্যুইটির অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবছর চাকরি নবীকরণ করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নবীকরণ না হওয়ায় বহু কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। সিভিক ভলান্টিয়ারদের ক্ষেত্রেও এমন উদাহরণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বড় ধাক্কা, ঝুলে রয়েছেন ষাট লক্ষ ভোটার, শেষ মুহূর্তে কী হতে চলেছে

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা সাত কোটি ছেষট্টি লক্ষ সাতত্রিশ হাজার পাঁচশো উনত্রিশ। তবে চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকতে পারে প্রায় সাত কোটি আট লক্ষ মানুষের। অর্থাৎ প্রায় আটান্ন লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক মাস আগে প্রকাশিত খসড়া তালিকাতেও একই সংখ্যক নাম বাদ পড়েছিল। তাই প্রশ্ন উঠছে, চূড়ান্ত তালিকায় আদৌ কোনও বড় পরিবর্তন হচ্ছে কি না।ভোটারদের তিনটি ভাগে দেখা হচ্ছে। প্রথমত যাঁরা অনুমোদিত, দ্বিতীয়ত যাঁদের বিষয় এখনও অমীমাংসিত, এবং তৃতীয়ত যাঁদের নাম বাদ পড়েছে। অনুমোদিত ভোটারদের ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। বাদ পড়াদের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট কারণ থাকলে বিতর্ক কম। কিন্তু সবচেয়ে বড় জট তৈরি হয়েছে অমীমাংসিত ভোটারদের নিয়ে।ভারতের নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রায় ষাট লক্ষ ছয় হাজার ভোটার অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছেন। এঁদের ক্ষেত্রে নথিতে যুক্তিগত অসঙ্গতি রয়েছে অথবা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। কোথাও যাচাই হলেও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এই ভোটারদের নাম আপাতত চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে, তবে অমীমাংসিত হিসেবেই। এতে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় বাড়ছে।এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন, কমিশনের পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দল রাস্তায় আন্দোলন ও আইনি লড়াই দুটিই করবে। অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র আইনি পদক্ষেপের ফলেই একাধিক তালিকা প্রকাশের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ্যে আসা উচিত। তিনি কমিশনকে সব তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিতর্কে ভারতীয় জনতা পার্টিও কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।ভোটাধিকার নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সামনে নির্বাচন, তার আগে বিপুল সংখ্যক ভোটার কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, আর ভোট দেওয়ার পর যদি যাচাইয়ে নাম বাতিল হয় তবে দায় কার হবে, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদি অমীমাংসিতদের বড় অংশ বাদ পড়ে, তাহলে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা এক কোটিরও বেশি হতে পারে।সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বিশেষ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে এবং তিনি হস্তক্ষেপ না করলে আরও প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারত। ফলে অনেকের মতে, অমীমাংসিত ষাট লক্ষ ভোটারের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন তিনি।কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, আপাতত অমীমাংসিত ভোটাররাও ভোট দিতে পারবেন। ভোটের দফার আগে একটি সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা থেকেই স্পষ্ট হবে কারা বৈধ ভোটার হিসেবে থাকবেন এবং কারা বাদ পড়বেন। বিষয়টি ইতিমধ্যেই আইনি পর্যায়েও পৌঁছেছে এবং প্রয়োজন হলে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও আরও শুনানি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নথি যাচাইয়ে ব্যস্ত বিচারকরা, কার্যত থমকে গেল বারাসত আদালতের স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়া

নথি যাচাইয়ের বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকায় বারাসত আদালতের অধিকাংশ বিচারক আগামী নয় মার্চ পর্যন্ত আদালতে উপস্থিত থাকবেন না বলে জানা গিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত ধাক্কা খেয়েছে। বারাসত আদালতে মোট পনেরো জন বিচারকের এজলাস বসে। একজন জেলা বিচারক-সহ মোট আট জন অতিরিক্ত জেলা বিচারক নথি যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাকি বিচারকদের উপরেই সমস্ত আদালতের দায়িত্ব এসে পড়েছে। অর্থাৎ ছয় জন বিচারককে পনেরোটি আদালতের কাজ সামলাতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে বিচার ব্যবস্থায় তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, এই পরিস্থিতিতে মামলাকারীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বহু মামলার নিষ্পত্তির সময় ঘনিয়ে এলেও শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে। কোথাও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন থাকলেও বিচারক না থাকায় সাক্ষীরা আদালতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক কষ্টে সাক্ষী হাজির করেও শুনানি না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে। মামলাগুলি আবার কবে স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন আইনজীবীরা।পাবলিক প্রসিকিউটর বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, আপাতত নয় তারিখ পর্যন্ত এই সমস্যা চলবে এবং পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কিছু মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও বিচারক অনুপস্থিত থাকায় সেগুলিও এগোচ্ছে না। বিচারকরা যতদিন নথি যাচাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকবেন, ততদিন আদালতে এই অচলাবস্থা চলবে বলেই মত তাঁর।অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর শ্যামলকান্তি দত্ত জানান, নিম্ন আদালতের বহু বিচারক নথি যাচাইয়ের কাজে চলে যাওয়ায় দ্রুত বিচার আদালতগুলিকে একসঙ্গে একাধিক মামলার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। সেখানে নিজেদের মামলার পাশাপাশি অন্য মামলাও সামলাতে হচ্ছে। ফলে জামিন সংক্রান্ত কাজ ছাড়া অন্য শুনানি প্রায় বন্ধ। বহু মামলার নিষ্পত্তির সময় পার হয়ে গেলেও শুনানি এগোচ্ছে না এবং সাক্ষীরা এসে ঘুরে চলে যাচ্ছেন।এই পরিস্থিতিতে বারাসত আদালত এলাকায় আইনজীবী ও মামলাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হলে মামলার জট আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর বৈঠক ঘিরে নতুন ঝড়, গ্রেফতারের দাবিতে মনোজ পন্থকে নিশানা বিজেপির

মুখ্যসচিব পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মনোজ পন্থ। বর্তমানে মুখ্যসচিব পদে রয়েছেন নন্দিনী চক্রবর্তী। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ার আবহে এবার বিতর্কে জড়ালেন মনোজ পন্থ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের ও গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। অভিযোগ, নির্দিষ্ট এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির অভিযোগের জবাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে এসআইআর যাচাইয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বৈঠক হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে। ওই বৈঠকে মনোজ পন্থকে কেন পাঠানো হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের। কিন্তু সেই বৈঠকে মনোজ পন্থও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়েই সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, কোন ক্ষমতাবলে মনোজ পন্থ বৈঠকে ছিলেন এবং এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।বিজেপির এই অভিযোগের জবাবে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়েই মনোজ পন্থ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত সমন্বয় বৈঠকে একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালসহ অন্য আধিকারিকরাও ছিলেন। ফলে এই উপস্থিতি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে বলেই মত রাজ্য সরকারের।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
রাজ্য

চূড়ান্ত তালিকার আগে বড় ধাক্কা, এক এলাকাতেই বাদ পড়তে পারে সাড়ে আট হাজার ভোটার

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মুখে পৌঁছালেও জটিলতা কাটছে না। আগামী আটাশ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু নথি জমা দেওয়ার পরও বহু ভোটার অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এর মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, বিপুল সংখ্যক নথি এখনও আপলোড হয়নি। নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে লক্ষ্মীপুর এলাকায়, যেখানে প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুতির লক্ষ্মীপুর এলাকার বহু ভোটার এই অভিযোগ সামনে এনে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে ছুটে এসেছেন। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেওয়ার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী নির্বাচনী আধিকারিক সেই নথি আপলোড করেননি। ফলে বৈধ ভোটার হয়েও তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।ভোটারদের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে যে তেরো ধরনের নথি জমা দেওয়ার কথা, তার মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি তাঁরা জমা দিয়েছেন। অভিযোগ, এক থেকে পঁচানব্বই নম্বর বুথ পর্যন্ত বহু ভোটারের নথি আপলোড হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে এই তথ্য জানার পরই তাঁরা দ্রুত কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। হাতে সময় খুব কম থাকায় কী হবে তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ভুলের কারণে লক্ষাধিক বৈধ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। নির্বাচনী আধিকারিক ও সহকারী আধিকারিকদের গাফিলতির জেরে বহু নথি আপলোড হয়নি বলে অভিযোগ। কমিশন সূত্রে খবর, অন্তত এক লক্ষ চোদ্দ হাজার ভোটারের নথি জমা পড়েনি বা আপলোড হয়নি বলে দাবি উঠেছে। ফলে সেই সব নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে এই পরিস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ বাড়িয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
কলকাতা

বড় নির্দেশ হাইকোর্টের, এসআইআর ঘিরে রাজ্যের সব বিচারকের ছুটি বাতিল

এসআইআর সংক্রান্ত কাজ এবার বিচার বিভাগের তদারকিতেই হবে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সমস্ত বিচারকের ছুটি বাতিল করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অসুস্থতা ছাড়া কোনও বিচারক ছুটি নিতে পারবেন না। এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে বড় দায়িত্ব বিচার বিভাগের উপর দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।এসআইআর-এর কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিম্ন আদালতের কাজ স্বাভাবিক রাখতে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। হাইকোর্ট প্রত্যেক জেলায় জেলা বিচারক, জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারকে নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় আড়াইশো বিচারকের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের তরফে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় একজন করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক চাওয়া হয়েছিল এবং সেই তালিকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে পাঠিয়েছেন।জানা গিয়েছে, মাদক ও পকসো সংক্রান্ত আদালতের প্রায় একশো বিচারক এবং অন্যান্য মামলার দেড়শো বিচারকের নাম এই তালিকায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, বিশেষ পর্যবেক্ষক, পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জেলা বিচারক বা অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের বিচার বিভাগীয় আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে এবং তাঁদের কাজে কোনও বাধা বা অসম্মান বরদাস্ত করা হবে না। সব প্রশাসনিক স্তরকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাজে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
রাজ্য

ফাঁস অডিওতে বড় দাবি, টাকা দিলেই ভোটার তালিকায় নাম, বাগদায় তোলপাড়

উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদা এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মাথাপিছু টাকা দিলেই ভোটার তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন এক বুথ স্তরের আধিকারিক। এই আবহে একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও ভাইরাল অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযুক্ত বুথ স্তরের আধিকারিকের নাম চন্দ্রকান্ত মণ্ডল। তিনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেও জানা গিয়েছে। ভাইরাল অডিওতে শোনা যায়, এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য মাথাপিছু দশ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। মোট ছয় জনের নাম তোলার কথা উল্লেখ করে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মাইক্রো পর্যবেক্ষকের নাম করে এই টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর প্রাক্তন বিধায়ক দুলাল বর ইমেলের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।যাঁদের নাম তোলার জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, ওই পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি এ দেশে এসেছেন এবং বিভিন্ন উপায়ে পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছে। দুই হাজার দুই সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের কারও নাম ছিল না বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর। বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার আবহে পরিবারের সদস্যদের নাম তুলতে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আধিকারিক। তাঁর দাবি, প্রযুক্তির সাহায্যে কণ্ঠস্বর নকল করে এই অডিও তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-র মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তরুণ ঘোষ জানান, কেউ অন্যায় করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, শাসকদলের মদতেই এই ধরনের কাজ হচ্ছে। যে পরিবারকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত, হঠাৎ সক্রিয় নির্বাচন কমিশন, কী ঘটতে চলেছে জানেন?

দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপ এখন শেষের পথে। বিহারে এই কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ আরও বারোটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কাজ চলছে। শুরুতে এই প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। কবে শুরু হবে বা আদৌ সব রাজ্যে হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে এবং কমিশনও পরবর্তী পদক্ষেপে এগোতে শুরু করেছে।বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কাজ এখনও শুরু হয়নি, সেই সব জায়গার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জনের জন্য আগাম সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ পরিকাঠামো, কর্মী ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আগে থেকেই গুছিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী এপ্রিল মাস থেকে বাকি থাকা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এই বিশেষ পরিমার্জনের কাজ শুরু হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করার উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।মেটা বিবরণ: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। বিহারের পর বাকি রাজ্যগুলিতে এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে কাজ, প্রস্তুতির নির্দেশ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
কলকাতা

চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়নি কেন? জবাব চাইল কমিশন

এসআইআর ও ভোটার তালিকা পরিমার্জন নিয়ে দিল্লিতে প্রশ্নের মুখে বাংলার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কাজ বিলম্বের দায় রাজ্যের ওপর চাপাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের প্রস্তুতি নিয়েও চাইল রিপোর্ট।ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দিল্লিতে প্রশ্নের মুখে পড়লেন বাংলার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, জাতীয় নির্বাচন কমিশন-এর ফুল বেঞ্চের বৈঠকে তাঁকে একাধিক বিষয়ে জবাব দিতে হয়।কমিশনের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য যে পদমর্যাদার আধিকারিকদের চাওয়া হয়েছিল, রাজ্য সময়মতো তা দেয়নি। তার ফলেই ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। এই বিলম্বের দায় রাজ্যের ওপরই চাপিয়েছে কমিশন।তবে মুখ্যসচিব বৈঠকে জানান, রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে এক দফতর থেকে অন্য দফতরে আধিকারিকদের দ্রুত সরানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু কমিশনের দাবি, যেসব আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজ্য গড়িমসি করছে।এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের দরবারে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। রাজ্যকে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে বলা হলেও তা জমা পড়েনি বলে অভিযোগ। চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। এই সমস্ত বিষয়েই ব্যাখ্যা চাইতে মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছিল। সমন মেনে তিনি দিল্লিতে হাজির হন এবং বৈঠকে অংশ নেন।এদিনের বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভোটের আগে নির্দেশিকা অনুযায়ী আধিকারিক বদলির কী অবস্থা, তা জানতে চেয়েছে কমিশন। প্রশাসনিক প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।রাজ্য সরকার যে রিপোর্ট দেবে, তার ভিত্তিতেই কত দফায় ভোট হবে, তা নির্ধারণ করবে কমিশন। পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো পাওয়া গেলে ভোটের দফা কমানো সম্ভব হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

দিল্লিতে বিতর্কিত মিছিল ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস, কিন্তু কেন তড়িঘড়ি শুনানি নয়?

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে মিছিলের আগেই মামলাটির জরুরি শুনানি করার আবেদন মানেনি আদালত।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই মামলাটিও শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।প্রস্তাবিত মিছিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, দেশের রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকায় বড় জমায়েত বা প্রতিবাদ মিছিলের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।আবেদনকারীর আইনজীবী রিজান আহমেদ আদালতে জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনও মিছিলের অনুমতির জন্য কোনও আবেদন করা হয়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি মিছিলের আগে মামলাটির শুনানি করার জন্য বার বার আবেদন জানান। কিন্তু বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বরের আগে মামলাটি শুনতে রাজি হয়নি।আইনজীবী আদালতে আরও জানান, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। সেই সময় রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মিছিলটি কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানান।তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আগে থেকেই কোনও অঘটন ঘটবে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, আদালত এই মুহূর্তে ধরে নেবে যে প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করবেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই, এমন জোরালো পরিস্থিতিও আদালতের সামনে নেই বলে জানান তিনি।এর পর আইনজীবী দাবি করেন, আগের একটি আন্দোলনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনও দুষ্কৃতী বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আদালতে জানান।আবেদনকারীর আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি আইনি বিধি মানছে না এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিচ্ছে না।এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি মূলত সরকার ও পুলিশের দায়িত্ব। আবেদনকারীকে তাঁর উদ্বেগ কেন্দ্রীয় সরকার অথবা দিল্লি সরকারের কাছে জানাতে বলেন তিনি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি।মিছিলের আয়োজক সংগঠনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, সংগঠনটির কোনও নথিভুক্ত অফিস বা লেটারহেড নেই। ফলে তাদের সরাসরি মামলার পক্ষ করা সম্ভব হচ্ছে না।শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের আগেই মামলাটির শুনানি করার আবেদন গ্রহণ করেনি বেঞ্চ। ফলে মিছিলের আগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২০ বছরের মহাকাব্যের শেষ! হঠাৎই জাতীয় দলকে বিদায় মেসির, স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।মেসির অবসর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফুটবল থেকেও তাঁর মন কিছুটা সরে গিয়েছিল বলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবসরের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেই চারটি গোল করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তাঁর দল সাত-শূন্য ব্যবধানে জয় পায়।তার পরেও আচমকাই এল বড় ঘোষণা। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।মেসির এই সিদ্ধান্ত মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও সাফল্য এসেছে, কখনও এসেছে হতাশা। একাধিকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সেই অধরা ট্রফি নিজের হাতে তুলেছিলেন মেসি।আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ছবার অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির একাধিক নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে গোল ও সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। টানা নয়টি বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুধু সাফল্য নয়, রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসও। একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি।এবার সেই জাতীয় দলকেই বিদায় জানালেন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ফলে মেসির ফুটবলযাত্রা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর মহাকাব্যিক অধ্যায়।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
কলকাতা

অভয়ার মামলায় বড় স্বস্তি নির্মলের, জামিন পেলেন প্রাক্তন বিধায়ক! তবু এখনই জেলমুক্তি নয়

অভয়ার মামলায় জামিন পেলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। একই দিনে জামিন পেয়েছেন অভয়ার প্রতিবেশী কাকু সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ও। তবে জামিন পেলেও এখনই জেল থেকে বেরতে পারবেন না নির্মল। কারণ, তোলাবাজি ও লটারি সংক্রান্ত অন্য দুই মামলায় তাঁর জেল হেফাজতের নির্দেশ আগে থেকেই রয়েছে।১৩ অগস্ট বালাসোর থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অভয়ার মামলায় নির্মল ঘোষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। মোট ১৫ দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার পর আরও দুদিনের হেফাজত শেষ করে সোমবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়। পুলিশ ফের তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। তবে সেই আবেদন খারিজ করে আদালত নির্মলকে জামিন দেয়।অস্ত্র আইনের একটি মামলাতেও নির্মলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। সেই আবেদনও আদালত খারিজ করে দিয়েছে। ফলে অভয়ার মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন বিধায়ক।অন্য দিকে, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কেও হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। আদালত সেই আবেদন খারিজ করে তাঁকেও জামিন দিয়েছে। আদালতে সঞ্জীবের আইনজীবী অভয়ার বাবার পুরনো একটি ভিডিয়োর বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সেই ভিডিয়োয় অভয়ার বাবা জানিয়েছিলেন, ঘটনার দিন সঞ্জীব তাঁর সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন।পালটা অভয়ার বাবার আইনজীবী দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই ধরনের ভিডিয়ো ক্লিপ আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সঞ্জীবকে জামিন দেয় আদালত। এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন অভয়ার বাবা শেখররঞ্জন দেবনাথ। তবে তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।আর জি করের ঘটনার পর অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ তাঁর অনুগামীদের নিয়ে শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, তাঁর নির্দেশেই দ্রুত দাহকার্য করা হয়েছিল। পরিবারের সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সেই সময়ও নানা প্রশ্ন উঠেছিল।রাজ্যে পালাবদলের পর এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তে দ্রুত সৎকারের কারণ এবং সেই সময় কারা কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় নির্মল ঘোষের পাশাপাশি পানিহাটির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামও সামনে এসেছে।তবে অভয়ার মামলায় আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় দুজনেই আপাতত জামিন পেয়েছেন। নির্মলের ক্ষেত্রে অবশ্য অন্য মামলায় জেল হেফাজতের নির্দেশ থাকায় অভয়ার মামলায় জামিন পেলেও এখনই তাঁর জেলমুক্তির সম্ভাবনা নেই।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
কলকাতা

১৪ বছর পর আদালতে বিস্ফোরক দাবি! বরুণ বিশ্বাস খুনে প্রথম বার প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম বাবার মুখে

সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুনের ১৪ বছর কেটে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই মামলায় সোমবার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য গ্রহণ হল। বনগাঁ ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের এজলাসে সাক্ষ্য দেন বরুণের বাবা জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাস।বয়সের ভারে এখন ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না জগদীশবাবু। সেই অবস্থাতেই ছেলের খুনের মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হন তিনি। তাঁর সাক্ষ্য ঘিরেই নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আদালতে প্রথম বার বরুণ বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সরকারি আইনজীবী।উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার সুটিয়ায় বরুণ বিশ্বাসকে ২০১২ সালের ৫ জুলাই খুন করা হয়। তাঁর দাদার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল। এই মামলায় মোট ৭৬ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর আগে ৩৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল। সোমবার ৩৮ নম্বর সাক্ষী হিসেবে আদালতে নিজের বক্তব্য জানান বরুণের বাবা।এই মামলায় এখনও পর্যন্ত আট জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক জনের বিচার কিশোর আদালতে হয়েছে এবং তাঁর সাজাও হয়েছে। এক জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ছয় জনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।সম্প্রতি বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারকে সঠিক বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। মামলায় নতুন করে বিশেষ সরকারি আইনজীবীও নিয়োগ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এ দিন বরুণের বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হল।আদালতে বিচারক নিজে বরুণের বাবার সামনে বসে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণের পর বিশেষ সরকারি আইনজীবী দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বরুণের বাবা আদালতে দাবি করেছেন, তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ষড়যন্ত্র করে তাঁর ছেলেকে খুন করিয়েছেন। কয়েক জনের কাছ থেকে তিনি এই কথা জানতে পেরেছিলেন বলেও আদালতে জানিয়েছেন বলে দাবি সরকারি আইনজীবীর।সরকারি আইনজীবীর আরও বক্তব্য, বরুণ বিশ্বাসকে যে গুলি চালিয়েছিল, তার বিচার কিশোর আদালতে হয়েছে এবং সাজাও হয়েছে। তবে এই ঘটনায় আরও যারা ষড়যন্ত্রে যুক্ত বলে অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এখনও চলছে। দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।অন্য দিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী নির্মাল্য সাহা জানান, বরুণের বাবার সাক্ষ্য গ্রহণে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন। তাঁর দাবি, এ দিনই প্রথম আদালতে বরুণের বাবা এক প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম করেছেন। এর আগে পুলিশ বা সিআইডির কাছে তিনি এই নাম জানিয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে আসামিপক্ষও বিচারপ্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।১৪ বছর ধরে চলা এই মামলায় বরুণ বিশ্বাসের বাবার সাক্ষ্য তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আদালতে করা অভিযোগের সত্যতা এখনও বিচারাধীন। সাক্ষ্য, নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখার পরই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেকের অফিসে ফের পুলিশ-দমকল! পাঁচ-ছ’তলায় কী মিলল, কেন সন্তুষ্ট নন আধিকারিকরা?

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে সোমবার ফের পৌঁছলেন পুলিশ ও দমকলের আধিকারিকেরা। অফিসের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের পর সোমবার ফের পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।দমকলের আধিকারিকেরা জানান, নিয়ম মেনেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাততলা ভবনটির একতলা থেকে শুরু করে প্রতিটি তলায় গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচ ও ছতলার অফিসে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, তা বিস্তারিত ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষার সময় কয়েকটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আধিকারিকেরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। অভিযোগ, স্প্রিঙ্কলার ব্যবহার করা যায়নি। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি আগুনের সতর্কবার্তা দেওয়ার অ্যালার্মও বাজেনি বলে জানা গিয়েছে।দমকলের এক আধিকারিক জানান, এই ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ভবনের প্রতিটি তলায় একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সেগুলি কার্যকর থাকবে কি না, সেটিই মূলত পরীক্ষা করা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, সাততলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পাঁচ ও ছতলায় থাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আধিকারিকদের কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।অন্য দিকে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে তৃণমূল। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক ভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদেরও নানা ভাবে নিশানা করা হচ্ছে।বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অবশ্য পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন এমন অবস্থানে ছিলেন যেন তিনি সকলের ঊর্ধ্বে। এখন প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পুলিশ গিয়েছিল। বেআইনি বিলবোর্ড খোলার বিষয়কে কেন্দ্র করে সে দিন সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তার কয়েক দিনের মধ্যেই ফের পুলিশ ও দমকলের আধিকারিকেরা অফিসে পৌঁছনোয় স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুরে জঙ্গলে নেহরুর মূর্তি! ২৪ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ কংগ্রেসের, বিজেপির পালটা দাবি—‘চোরা তৃণমূলীরাই দায়ী’

দুর্গাপুর, ৩০ আগস্ট: রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই এবার পৌঁছে গেল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ঘিরে বিতর্কে। দুর্গাপুরের একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে থেকে নেহরুর বিশাল মূর্তি ক্রেনের সাহায্যে তুলে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক পালটা দাবি করেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেসেরই একটি অংশ এবং চোরা তৃণমূলীরা।দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে দীর্ঘদিন ধরে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর একটি বড় মূর্তি ছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, শুক্রবার সেখানে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা তৈরি করতেই ক্রেন এনে নেহরুর মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেটি স্কুল সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।মূর্তি সরিয়ে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তাদের প্রশ্ন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতার মূর্তির সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হল?জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে কার্যত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ক্রেনের সাহায্যে নেহরুর মূর্তি উপড়ে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং সেই জায়গায় পরবর্তীতে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও ছিল।Press ReleaseThe Pradesh Congress strongly condemns the desecration of the statue of the countrys first Prime Minister, Pandit Jawaharlal Nehru; Shri @subhankar_cong demands the immediate reinstallation of the statue and the arrest of the culprits.Kolkata, August 30, 2026: pic.twitter.com/SImtSOHvX8 West Bengal Congress (@INCWestBengal) August 30, 2026দেবেশ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেহরুর মূর্তিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পূর্বের জায়গায় পুনঃস্থাপন করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কংগ্রেস।তবে কংগ্রেসের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পালটা অভিযোগ, কংগ্রেসেরই একটি অংশ গোপনে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে এবং সেই চোরা তৃণমূলীরাই নেহরুর মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।বিজেপি বিধায়কের দাবি, ঘটনার দায় বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং কারা মূর্তিটি সরিয়েছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা উচিত।নিজের বক্তব্যের পক্ষে অতীতের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দুর্গাপুরের এভিএল কার্যালয়ের সামনে একাধিক ইউনিয়ন অফিস ভাঙার সময় তাঁর হস্তক্ষেপেই রাজীব গান্ধীর মূর্তিটি রক্ষা পেয়েছিল। ফলে বিজেপি কখনও রাজনৈতিক নেতাদের মূর্তি ভাঙচুরকে সমর্থন করে না বলেও তাঁর দাবি।চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নেহরুর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। বরং যারা এই কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেও তাঁর দল রয়েছে।এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এবার সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসও। ৩০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নেহরুর মূর্তি সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা করেছেন।শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নেহরু শুধু কংগ্রেসের নেতা ছিলেন নাতিনি ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আধুনিক ভারত নির্মাণের অন্যতম প্রধান স্থপতি। তাঁর মূর্তি এভাবে সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া শুধুমাত্র একটি মূর্তির অবমাননা নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যের প্রতিও অসম্মান।তবে এই ঘটনার পিছনে কোন রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস। দলের দাবি, প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক।প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নেহরুর মূর্তি পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।ফলে দুর্গাপুরে নেহরুর মূর্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে কংগ্রেসের অভিযোগের নিশানায় বিজেপি, অন্যদিকে বিজেপির পালটা অভিযোগ তৃণমূলের দিকে। মূর্তি কে সরাল, কেন সরানো হল এবং ঘটনাটির পিছনে আসল কারণ কীএই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী, এবার সরাসরি আমলা-পুলিশের কাছে অভিযোগ! সপ্তাহে দু’দিন খুলছে দরজা

সরকারি পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ বা সমস্যা হলে এবার থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহে দুদিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন। এর জন্য আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওই দুই দিন আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে।এই সময়ে আধিকারিকদের যাতে বাইরে সরকারি কাজে যেতে না হয়, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে তাঁদের।সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করতে হবে। অফিসে এমন জায়গায় এই তথ্য রাখতে হবে, যাতে সহজেই তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর বা বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ওই তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নতুন ব্যবস্থার আওতায় একাধিক স্তরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ থাকবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শাসক, পুর কমিশনার, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের মতো আধিকারিকদের কাছে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকবে।বন দফতরের ক্ষেত্রেও একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান মুখ্য বনপাল, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল, মুখ্য বনপাল, বিভাগীয় বন আধিকারিক, অতিরিক্ত বিভাগীয় বন আধিকারিক এবং বনাঞ্চল আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে।রবিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। নতুন নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না এবং সরকারি আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে রাজ্যের কর্মীবর্গ দফতর।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি শনিবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য জনতার দরবারে বসেন। এবার সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা হল।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
দেশ

উত্তম-সত্যজিৎ স্মরণে মোদি, বাংলার দুই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলা চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমার এবং পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁদের অবদান এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি।উত্তম কুমার শুধু বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন না, তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগেরও অন্যতম প্রতীক। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি আজও কিংবদন্তির মর্যাদা পায়। তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের স্মারক হয়ে রয়েছে। সেই কারণেই উত্তম কুমারের নাম উচ্চারিত হলেই বাঙালির নস্টালজিয়ায় ফিরে আসে এক বিশেষ সময়।অন্যদিকে সত্যজিৎ রায় ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তাঁর সৃষ্টিশীলতা শুধু বাংলা বা ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেও তিনি তৈরি করেছিলেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়। পথের পাঁচালী থেকে শুরু করে একাধিক কালজয়ী ছবির মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদর্শকের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্মাণশৈলী, গল্প বলার ধরন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা।প্রধানমন্ত্রীর এই স্মরণে উঠে এসেছে বাংলা সংস্কৃতির দুই ভিন্ন ধারার দুই মহীরুহের অবদানের কথাই। একজন অভিনয়ের জাদুতে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন, অন্যজন ক্যামেরার ভাষায় ভারতীয় জীবনের গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন।উত্তম কুমার ও সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে রয়েছে। সময় বদলেছে, বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষাও। কিন্তু তাঁদের কাজের আবেদন এখনও অমলিন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন তাই কেবল দুই শিল্পীকে স্মরণ নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের সেই গৌরবময় অধ্যায়ের প্রতিও এক সম্মান প্রদর্শন।রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর #MannKiBaat-এর অনুষ্ঠানে উঠে এলেন বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমার। আপামর বাঙালির কাছে এ এক গর্বের মুহূর্ত, আবেগের মুহূর্ত।আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্র জগতের মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ভারতীয় ও বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি শিল্পী উত্তম কুমারের অনন্য প্রতিভা, অভিনয় দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও কালজয়ী অবদানকে স্মরণ করলেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলার মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।উত্তম কুমার শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়কই ননতিনি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর সৃষ্ট চরিত্র আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে।বাংলার সংস্কৃতি ও বাংলার গৌরবকে জাতীয় মঞ্চে যে সম্মান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal