সম্প্রতি নজরুল মঞ্চে অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা সবার প্রিয় সংগীতশিল্পী কেকের প্রয়াণ হয়েছে এবং তার জন্য সঙ্গীতপ্রেমীরা বিভিন্ন রকম এই শহরে তাঁকে সম্মান জানিয়ে ইভেন্টের আয়োজন করেছে ইতিমধ্যে। তেমনই এক সন্ধ্যার সাক্ষ্য থেকে গেল কলকাতাবাসী। দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন এভিনিউয়ের কাছে গ্যালারি গোল্ডে এই বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।এখানে লাইভ আর্ট এর মাধ্যমে ৪৫ জন শিল্পী কেকে কে স্মরণ করলেন তাঁর গানের মাধ্যমে। প্রখ্যাত শিল্পী অ্যানি আহমেদ যিনি হইচই এর চরিত্রহীন ওয়েব সিরিজে গান করেছিলেন তিনি বহু গানের মাধ্যমে প্রয়াত শিল্পীকে সম্মান জানালেন।
রানা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত সৌমেন চট্টোপাধ্যায়ের প্রযোজনায়, শ্রী দে লা আর্ট-এর উপস্থাপনায় মুক্তি পেয়েছে অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের শেষ ছবি পঞ্চভূজ। এই ছবিরই আজ স্পেশাল স্ক্রিনিং হবে নিউটাউনের নজরুল তীর্থে। উপস্থিত থাকবেন ছবি পরিচালক, প্রযোজক, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়, কন্যা সায়না চট্টোপাধ্যায় (ডল) সহ অন্যান্যরা।ছবিটি নিয়ে অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা জানিয়েছেন, আমার বাবার শেষ ছবি পঞ্চভূজ। সবাই প্লিজ হলে গিয়ে দেখুন।এদিকে প্রযোজক সৌমেন চট্টোপাধ্যায় অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের নামে একটি তারার নামকরণ করেছেন। কোনো বাঙালি অভিনেতাকে এইভাবে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো এটাই প্রথম। নিজের নামে একটি তারার নামকরণের আবেদন করেছিলেন অভিষেকই। প্রয়াত অভিনেতার অনুরোধ রেখেছেন তিনি। মোনোসেরস বা ইউনিকর্ন নক্ষত্রপুঞ্জের একটি তারার নামকরণ করা হয়েছে অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। তারাটির ম্যাগনিউটিউড ১৬.৪৪ ম্যাগ। গত ১৭ এপ্রিল তারাটির নামকরণ করা হয়েছে। তারাটি সাইনা এবং সংযুক্তার জন্য জ্বলছে বলেও সোসাইটির তথ্য থেকে জানা গেছে।
ইন্ডিয়ান পারফর্মিং রাইট সোসাইটি লিমিটেড সবসময় তাদের সদস্যদের সুবিধা নিয়ে চিন্তিত। ১৯৬৯-এ এর সূচনা থেকে কম্পোজার, গীতিকার ও পাবলিশার্সের স্বত্ব রক্ষা করে আসছে। প্রতিভাবান ক্রিয়েটরদের তাদের স্বত্ব ও সুযোগ সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের ফলে পীড়িত হওয়া দেখাটা সত্যিই অস্বস্তিকর এবং এই পরিস্থিতি সঠিক করতে সংশোধনমূলক প্রতিকারের প্রতি তাদের চিন্তাভাবনা জোগায় আইপিআরএস।একটি যৌক্তিক কপিরাইট সোসাইটি হিসেবে আইপিআরএস এর সদস্যরা মহামারি চলাকালীন কতটা আর্থিক দুর্বিপাকের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন সেই বিষয়ে তারা সচেতন ছিল। পাশাপাশি সোসাইটি পর্যবেক্ষণ করেছে তাদের সদস্যদের বহু সংশয় ও অনুসন্ধান এই দ্রুত রূপান্তরশীল মিউজিক ল্যান্ডস্কেপে।এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতেই, একটি উদ্যোগ চালু করা কথা ভাবা হয়েছে এর সদস্যদের তথ্যাভিজ্ঞ, শিক্ষিত ও সবল করতে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সদস্যদের কাছে পৌঁছনো হল আইপিআরএস-এর প্রধান উদ্দেশ্য।এই অভিমুখে যাত্রা শুরু করে আইপিআরএস সিদ্ধান্ত নেয় এর সদস্যদের জন্য একগুচ্ছ ওয়ার্কশপ চালু করবে।এসব প্যান-ইন্ডিয়া ওয়ার্কশপ হবে আইপিআরএস সদস্যদের চোখ-খোলার জন্য দুর্দান্ত বিষয়, যা তাদের সৃজনশীল যাত্রা ও কেরিয়ারে সুবিধা দেবে। এই নলেজ ওয়ার্সশপ যার নাম লার্ন অ্যান্ড আর্ন সফলভাবে শুরু হয়েছে কলকাতায়। এই ওয়ার্কশপ চেন্নাই ও হায়দরাবাদের মতো সঙ্গীতপ্রেমীদের শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে এরকম দুর্দান্ত লার্ন অ্যান্ড আর্ন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মে মাসের প্রথমদিকে। শিল্পকলার অন্যান্য ফর্ম যেমন সাহিত্য, নাটকের পাশাপাশি কলকাতার রয়েছে উজ্জ্বল মিউজিক্যাল লিগ্যাসি, এজন্য কলকাতার মুকুটে যুক্ত হয়েছে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানীর রঙিন পালক। বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক আইকন যেমন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সত্যজিৎ রায়ের মতো আইকনিক চরিত্র এই সিটি অব জয়-এর অসাধারণ আবেদনে অন্য মাত্রা যুক্ত করেছেন। যেমন প্রত্যাশিত, বাংলার ঋদ্ধ মিউজিক্যাল ঐতিহ্য একত্র হয়েছিল ক্লাসিক্যাল, ফোক, বাংলা রক মিউজিক প্রভৃতি জঁরের কয়েকজন সবচেয়ে শক্তিশালী মিউজিক্যাল ক্রিয়েটরের সৃষ্টি শুনতে এবং এঁদের সঙ্গে ছিলেন জঁর-নির্ধারিত স্বাধীন শিল্পীরা - যাঁরা এই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের জন্য এসেছিলেন। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ক্রেমে ডে লা ক্রেমে শৈলী, বিশেষ করে বাংলা থেকে, যার অন্তর্ভুক্ত টপ-লাইন কম্পোজার, গীতিকার, পাবলিশার এবং আইপিআরএস-এর সব প্রখ্যাত সদস্যরা এই সাক্ষাৎকে করে তুলেছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়ার্কশপের আলোচনার মূল বিষয়ের কেন্দ্রে ছিল মিউজিক ও এই সংক্রান্ত ক্ষেত্রে কপিরাইট যেমন লাইসেন্সিং, উদিত প্রবণতা এবং ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, এবং ক্রিয়েটরদের স্বত্ব, অধিকার ও তাদের সঠিক বকেয়া সম্পর্কে আইপিআরএস-এর ভূমিকা।ক্যাম্পেনের প্রশংসা করে প্রখ্যাত গীতিকার ময়ূর পুরী জানিয়েছেন, আইপিআরএস হল মিউজিক সম্প্রদায়ের সবচেয়ে উচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। আজ, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি যত দিন যাচ্ছে বিকেন্দ্রীকৃত হচ্ছে প্রতিদিন। যেমন আমাদের দূরদর্শী চেয়ারপার্সন জাভেদ আখতার সাব বলেছিলেন, আইপিআরএস-এ আমাদের সবার জন্য আমাদের বৈচিত্র্যময়তা ও ইনক্লুশন স্থির করা খুব জরুরি। লার্ন অ্যান্ড আর্ন হল পূর্ণ-দিনের একটি সিরিজ, বহু-শহরের ওয়ার্কশপ ডিজাইন করা হয়েছে আমাদের সদস্যদের সবল করতে শুধু বেঁচে থাকতে নয়, বরং এই ক্রিয়েটার সম্প্রদায়ে অংশ নিতে। এই প্রথম এই মাপের এবং ব্যাপক কনটেন্টের মহাকাব্যিক প্রচেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়েছে সম্প্রদায়কে একত্র করতে এবং আমরা আশা করি এর থেকে হাজার হাজার মিউজিক ক্রিয়েটর লাভবান হবেন।
ইংল্যান্ডনিউজিল্যান্ড টেস্টের খেলা তখন ২৩ ওভার শেষ হয়েছে। মাঠের মধ্যেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়লেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে। স্টেডিয়ামের বড় জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটে উঠল শেন ওয়ার্নের ছবি। ২৩ সেকেন্ড ধরে করতালি গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে। প্রয়াত কিংবদন্তী স্পিনার শেন ওয়ার্নকে এভাবেই শ্রদ্ধা জানাল লর্ডস।কেন এই ২৩ সংখ্যাটা বেছে নেওয়া হয়েছিল? এই নম্বরটাই ছিল শেন ওয়ার্নের প্রিয়। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে শুরু করে বিগ ব্যাশ, আইপিএল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, সব ধরণের ম্যাচেই ২৩ নম্বর জার্সি গায়ে খেলেছিলেন শেন ওয়ার্ন। তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই ২৩ সংখ্যাটা বেছে নেওয়া হয়েছিল। ওয়ার্নের মৃত্যুর পর তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে লর্ডসের কমেন্ট্রি বক্সের নাম রাখা হয়েছে তাঁর নামে। ইংল্যান্ডনিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্টেও এবার ফিরে এল তাঁর স্মৃতি। লর্ডস কখনও তাঁকে খালি হাতে ফেরায়নি। লর্ডসে চারটি টেস্ট খেলেছেন ওয়ার্ন। তিনটিতে জিতেছেন। একটা ড্র। লর্ডসে ৪ টেস্ট খেলে নিয়েছেন ১৯ উইকেট।শেন ওয়ার্নকে শ্রদ্ধা জানানো হলেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে বিপর্যয়ে নিউজিল্যান্ড। জেমস অ্যান্ডারসন ও ম্যাথু পটের দাপটে প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেল মাত্র ১৩২ রানে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে উইল ইয়ংকে (১) ফেরান জেমস অ্যান্ডারসন। ২ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। টম লাথামকে (১) আউট করেন অ্যান্ডারসনই।৭.১ ওভারে ডেভন কনওয়ে স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে আউট হন দলগত ৭ রানের মাথায়। কনওয়ে ৭ বলে ৩ রান করেন। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও ব্যর্থ। ৯.৫ ওভারে দলের ১২ রানের মাথায় তিনি আউট হন ২২ বলে ২ রান করে। এই টেস্টেই অভিষেক হওয়া ম্যাথু পটস টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই পেলেন উইলিয়ামসনের উইকেট। প্রথম ঘণ্টায় ১১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে কিউদের স্কোর ছিল মাত্র ১২। ১৭.৫ ওভারে ড্যারিল মিচেলকেও ফেরান পটস। মিচেল ৩৫ বল খেলে ১৩ রান করেন। ২৭ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ষষ্ঠ উইকেটটি পড়ে ২১.৫ ওভারে ৩৬ রানের মাথায়। পটসের তৃতীয় শিকার টম ব্লান্ডেল। মিচেলের মতো তাঁকেও বোল্ড করেন পটস। ব্লান্ডেল ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি। ৪৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। কলিন গ্র্যান্ডহোম ও টিম সাউদি কিছুটা রুখে দাঁড়ান। সাউদিকে (২৬) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন অ্যান্ডারসন। আজাজ প্যাটেলকে (৭) ফেরান পটস। ট্রেন্ট বোল্টকে (১৪) তুলে নেন বেন স্টোকস। ৬৬ রানে ৪ উইকেট নেন অ্যান্ডারসন। ১৩ রানে ৪ উইকেট পটসের।
দল বদলের বাজারে ইস্টবেঙ্গল যাতে পিছিয়ে না পড়ে তার জন্য ক্লাব কর্তাদের দল গঠনের ব্যাপারে পুরো স্বাধীনতা দিল ইমামি। বুধবার ইমামির কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের কর্তারা। বৃহস্পতিবার আবার এক দফা আলোচনা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। সেই বৈঠকেই দল গঠনের দায়িত্ব ক্লাব কর্তাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে ইমামি।এদিনের বৈঠকে লালহলুদ কর্তারা কোন কোন ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করেছেন তা বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছেন ইমামির কর্তাদের। আগামী মরশুমের দল গঠনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইমামির সঙ্গে এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তাই কোনও টেকনিক্যাল টিমও গঠন করা যায়নি। তাই দুই পক্ষের কর্তারা আলোচনা করেই আপাতত দল গঠনের কাজে এগোবেন। নতুন কোম্পানিতে কত শতাংশ শেয়ার কাদের কাছে থাকবে, তা নিয়ে বিস্তারিত কোনও আলোচনায় হয়নি। তবে শোনা যাচ্ছে পুরো স্পোর্টিং রাইটসের পরিবর্তে শুধু ফুটবল রাইটস ইমামির হাতে তুলে দিতে পারে ইস্টবেঙ্গল। সামনের সপ্তাহে কার্যকরী কমিটির বৈঠকে বসবেন লাল হলুদ কর্তারা। সেই বৈঠকে শেয়ারের ব্যাপারে আলোচনা হবে। তারপর ইমামি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ইস্টবেঙ্গল। লালহলুদ কর্তারা চাইছেন চুক্তির বিষয় চূড়ান্ত করে নতুন কোম্পানি তৈরি করতে। মনতোষ হাতছাড়া হলেও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য খুশির খবর। লাল হলুদের সঙ্গে অনেক দূর কথা এগিয়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ ফিফা বিশ্বকাপে ভারতের জার্সিতে খেলা জিতেন্দ্র সিং-এর। গত আইএসএলে জামশেদপুরের হয়ে লিগ শিল্ড জয়ী জিতেন্দ্র সিং-এর কাছে ইস্টবেঙ্গল ছাড়াও অফার রয়েছে অন্যান্য ক্লাবের। একাধিক আইএসএল-এর ক্লাব তাঁকে পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পুরোটাই এজেন্টের সঙ্গে খাতিয়ে দেখছেন জিতু। ইস্টবেঙ্গল মনমতো প্রস্তাব দিলে বেশি ক্লাবের চুক্তি পত্রে সই করতে বেশি সময় নেবেন না তিনি। এদিকে, আশুতোষ মেহতাকে কলকাতা লিগের জন্য অধিনায়ক ঘোষণা করতে পারে এটিকে মোহনবাগান। সহ অধিনায়ক বাছা হতে পারে অভিজ্ঞ কোনও বাঙালি ফুটবলারকে।
সামনের মরশুমে দিয়েগো কোস্তাকে কি খেলতে দেখা যাবে সবুজমেরুণ জার্সি গায়ে? শোনা যাচ্ছে স্পেনের এই বিশ্বকাপারকে দলে নেওয়ার জন্য আসরে নেমেছে এটিকে মোহনবাগান কর্তারা। বেশ কিছুধিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল দিয়েগো কোস্তাকে দলে নেওয়া হতে পারে। তাঁর এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন কর্তারা। তবে এখনও চূড়ান্ত কিছু হয়নি। কোস্তাকে দলে নিতে গেলে বিশাল অঙ্কের বেতন দিতে হবে এটিকে মোহনবাগানকে। স্পেনের এই বিশ্বকাপার মার্কি ফুটবলার হওয়ায় আইএসএলের নিয়ম তা আটকাবে না। স্পেনের জার্সি গায়ে ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন দিয়েগো কোস্তা।বর্তমানে ফ্রি ফুটবলার হিসেবে রয়েছেন দিয়েগো কোস্তা। এই মুহূর্তে তিনি কোনও ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন। গতবছর ব্রাজিলের অ্যাটলেটিকো মিনেইরোতে ছিলেন। এই ক্লাবের হয়ে ব্রাজিলীয় সিরি এ লিগ, কোপা ডো ব্রাজিল জিতেছিলেন। গত মরশুমে মিনেইরোর হয়ে ৭টি গোল করেছিলেন দিয়েগো কোস্তা। ব্রাজিলের প্রথম ডিভিশন থেকে ভারতে তিনি আইএসএল খেলতে আসবেন কিনা, সে নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাছাড়া কোস্তার বিপুল বেতন এটিকে মোহনবাগান মেটাতে পারবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তবে এটিকে মোহনবাগান কর্তারা হাল ছাড়ছেন না।আসলে ডেভিড উইলিয়ামস ও রয় কৃষ্ণার এটিকে মোহনবাগান ছাড়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। নতুন মরশুমে মুম্বই সিটি এফসিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি। শনিবার সবুজমেরুণের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে উইলিয়ামসকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। রয় কৃষ্ণার কাছেও মুম্বই সিটি এফসির প্রস্তাব আছে। এখন দেখার তিনি মুম্বইয়ের প্রস্তাব গ্রহন করেন কিনা।দিয়েগো কাস্তা ছাড়াও আরও দুজন বিদেশি ফুটবলারের দিকে নজর রয়েছে এটিকে মোহনবাগান কর্তাদের। সার্বিয়ার জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার প্রিয়োভিচ ও জাপানের ইউমা সুজুকির এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা। কাশিমা অ্যান্টলার্সের হয়ে খেলা ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড সুজুকির প্রতি বেশি আগ্রহী এটিকে মোহনবাগান। তবে জাপানি সুজুকিকে আনতে বড় সমস্যা হবে ট্রান্সফার ফি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কাশিমা অ্যান্টলার্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সুজুকি। তাঁকে দলে নিতে গেলে ১০ কোটি টাকার বেশি ট্রান্সফার ফি দিতে হতে পারে। জানা গিয়েছে, সবুজমেরুন কর্তারা নাকি সেই টাকা দিতে রাজি।
শ্রী সিমেন্ট সরে যাওয়ার পর আইএসএলে খেলার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই লগ্নিকারী সংস্থার খোঁজে ছিল ইস্টবেঙ্গল। বেশ কয়েকটা সংস্থার সঙ্গে কথা বললেও কেউ এগিয়ে আসেনি। অবশেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে ইমামি গ্রুপ স্পনসর করতে রাজি হয়েছে। তার আগে সৌরভ গাঙ্গুলি কথা বলেছিলেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে। কিন্তু লালহলুদের সঙ্গে জোট বাঁধার কোনও ইচ্ছেই নাকি নেই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের।বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। কয়েকদিন আগে সৌরভ গাঙ্গুলি নিজের মুখেই জানিয়েছিলেন, ম্যান ইউয়ের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। দিন দশবারোর মধ্যে ছবিটা পরিস্কার হয়ে যাবে। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের গাঁটছড়া বাঁধার পুরো বিষয়টা সৌরভই দেখছিলেন। তিনিই ছিলেন মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্বে।সৌরভ গাঙ্গুলি চুক্তির ব্যাপারে বলেছিলেন, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটা স্পনসরের সঙ্গেও কথা হয়েছে। ১০১২ দিনের মধ্যেই বিষয়টা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আগে বিষয়টা চূড়ান্ত হোক, তারপর পরিস্কারভাবে জানাতে পারব। আর ম্যাঞ্চেস্টার যদি আসে, তাহলে মালিক হিসেবেই আসবে, স্পনসর হিসেবে নয়।আরও পড়ুনঃ কীর্তি-র কীর্তি তে বন্যাবিধ্বস্ত দুর্গতদের মুখেও হাসি, এ এক অন্য আমলার কাহিনিযদিও ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে এখনও কোনও কিছু এগোয়নি। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত সংবাদপত্র দ্য সানএ ইস্টবেঙ্গল ও ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের চুক্তি নিয়ে একটা প্রতিবেদন বেরিয়েছিল। এই বিষয়ের সত্যতা জানার জন্য ম্যান ইউকে একটি মেল পাঠানো হয়েছিল নিউজ নাইন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে। নিউজ নাইনকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই খবরের কোনও ভিত্তি নেই। আইএসএলের কোনও ক্লাবের জন্য বিড করার পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। বর্তমান যা পরিস্থিতি, অদূর ভবিষ্যতেও ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার কোনও সম্ভাবনা নেই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের।মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিনিয়োগকারী সমস্যা কাটিয়ে উঠেছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ইনভেস্টার পাওয়ার আগে থেকেই দল গোছানোর কাজ শুরু করেছিল লালহলুদ। ইমামি নয়া বিনিয়োগকারী হিসেবে ঘোষণা হওয়ার পর সেই কাজে আরও গতি এসেছে। নতুন উদ্যোমে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন লালহলুদ কর্তারা।
আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের খেলা নিয়ে যখন ঘোর অনিশ্চয়তা চলছিল, এগিয়ে এসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শ্রী সিমেন্টকে ইনভেস্টর হিসেবে এনে দিয়েছিলেন। শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আবার লালহলুদের মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়ালেন সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই। তাঁর উদ্যোগেই লগ্নিকারী সংস্থা হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত হল ইমামি গ্রুপ। আজ নবান্নে মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেন, ইমামি গ্রুপের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেই ইস্টবেঙ্গল এবার আইএসএলে খেলবে। এদিন ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের পাশাপাশি নবান্নে হাজির ছিলেন ইমামির প্রতিনিধিরাও।বেশ কয়েকমাস ধরেই বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের গাটঁছাড়া বাঁধার জল্পনা চলছিল। কিন্তু চূড়ান্ত কিছু হচ্ছিল না। শোনা যাচ্ছিল বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপ লালহলুদে লগ্নি করতে পারে। তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বেশ কয়েক দফা কথা হয় লালহলুদ কর্তাদের। ইস্টবেঙ্গলের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়ে গিয়ে পুরো বিষয়টা জটে আটকে যায়। এরপর শোনা যাচ্ছিল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার কথা। তার আগেই ইমামি গ্রুপের সঙ্গে চূক্তি চূড়ান্ত হল। বুধবার নবান্নে ইস্টবেঙ্গল এবং ইমামি গ্রুপের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি ইমামি গ্রুপকে ইস্টবেঙ্গলে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই ইস্টবেঙ্গলে বিনিয়োগ করতে রাজি হয়ে যায় ইমামি গ্রুপ। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, আজ দুই পক্ষের কর্তারা আমার এখানে চা খেতে এসেছিল। সেখানেই বিনিয়োগের ব্যাপারে দুই পক্ষের কর্তাদের সঙ্গে কথা হয়। দুপক্ষই রাজি হয়েছে। ইমামি বিনিয়োগ করায় ইস্টবেঙ্গলের আইএসএলে খেলার যে সমস্যা হচ্ছিল, সেই সমস্যা মিটে যাবে। ইমামি গ্রুপকে ক্লাবে স্বাগত জানিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার। আবার ক্লাবের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। দেবব্রত সরকার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। শুধু ইনভেস্টর এনে দেওয়ায়ই নয়, যেভাবে ক্লাবের সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকেন, সেটা বাংলার আর কোনও মুখমন্ত্রী আগে ভাবেননি। আমি ইমামি গ্রুপকেও ধন্যবাদ জানাব। আশা করব আগামী দিনে আমাদের ক্লাব ইমামির সাহায্যে সাফল্য পাবে। শোনা যাচ্ছে শুধু আইএসএলের জন্যই ইমামি ইস্টবেঙ্গলকে স্পনসর করবে। অন্য স্পনসরের অধীনে কলকাতা লিগ আর আইএফএ শিল্ড খেলবে ইস্টবেঙ্গল।
সমাজসংস্কারক ও ভারতের নবজাগরণের পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায়ের জন্মের সার্ধ দ্বিশত জন্মবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাল নববারাকপুর শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে। স্থানীয় কৃষ্টি প্রেক্ষাগৃহ সংলগ্ন অস্থায়ী প্রাঙ্গণে এই বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।রাজা রামমোহন রায়ের প্রতিচ্ছবিতে মালা ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন নববারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান প্রবীর সাহা, উপপুরপ্রধান স্বপ্না বিশ্বাস, লেনিনগড় শিক্ষা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার রায়, কলোনী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ডঃ অনিরুদ্ধ বিশ্বাস, ডাঃ পঙ্কজ কুমার অধিকারী, কবি মেঘমালা বসু সহ এলাকার বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা, প্রাক্তনী ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগন। রাজা রামমোহন, পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র, স্বামী বিবেকানন্দ, মহাত্মা গাঁধী মত মনীষিদের ভাবনা চিন্তাধারা যত বেশি করে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরলে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে চলতে ও শিখতে পারবে। এলাকার উন্নয়ন হবে। সমাজ তত সুন্দর ভাবে এগিয়ে চলবে। রবিবার সকালে নববারাকপুর পুরসভাও যথাযথ মর্যাদার সাথে বাংলার নবজাগরণের রূপকার রাজা রামমোহন রায়ের জন্মের সার্ধ দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উদযাপন করে পুরসভা প্রাঙ্গণে। অনুষ্ঠানের শুরুতে খালি গলায় উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন শিক্ষক বাচিক শিল্পী অম্লান দাশগুপ্ত। এরপর পুরপ্রধান, উপপুরপ্রধান সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পুরকর্মীরা মালা ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ভারতপথিককে। সবমিলিয়ে বিশেষ আয়োজন করে শ্রদ্ধা জানানো হল রাজা রামমোহন রায় কে।
মোহনবাগানের পর কলকাতার দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে আই লিগ জেতার সুযোগ ছিল মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সামনে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না। গোকুলাম এফসির কাছে ২১ ব্যবধানে হেরে আই লিগ জেতার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল সাদাকালো ব্রিগেডের কাছে। ভারতীয় ফুটবলে কেরালা আবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল।মহমেডানের কাছে কাজটা অবশ্য সহজ ছিল না। ১৭ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে মহমেডানের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল গোকুলাম এফসি। অন্যদিকে, মহমেডানের পয়েন্ট ছিল ১৭ ম্যাচে ৩৭। গোকুলামকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ড্র করলেই চলত। অন্যদিকে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না মহমেডানের সামনে। মহমেডান জিতলে গোকুলামের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হত। কিন্তু মুখোমুখি সাক্ষাতের বিচারে তারা চ্যাম্পিয়ন হত। এই আশা পূরণ হল না মহমেডানের।প্রথমবার আই লিগ জেতার স্বপ্নে এদিন হাজার হাজার সাদাকালো সমর্থক যুবভারতীতে হাজির হয়েছিলেন। বাংলার দলকে সমর্থন জানাতে হাজির ছিলেন ইস্টবেঙ্গলমোহনবাগান সমর্থকরাও। ম্যাচের শুরু থেকেই মহমেডানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল গোকুলাম এফসি। ম্যাচের ৩ মিনিটে একটা ফ্রিকিকও আদায় করে নেয়। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ২ মিনিট পর মহমেডানও একটা ফ্রিকিক পেয়েছিল। কিন্তু মার্কাস জোশেফের প্রয়াস ব্যর্থ হয়।২০ মিনিটের পর আস্তে আস্তে খেলায় ফেরে মহমেডান। বেশ কয়েকটি আক্রমণ তুলে নিয়ে আসে। ২৩ মিনিটে মার্কাস জোশেফের একটা হেড বাইরে যায়। ২ মিনিট পরেই জোশেফ ও মনোজ মহম্মদের যুগলবন্দীতে সুযোগ এসে গিয়েছিল মহমেডানের সামনে। কিন্তু গোকুলামের ডিফেন্ডাররা বল বিপদমুক্ত করে দেন। ২৮ মিনিটে সফিউল রহমানের সেন্টার মার্সাস জোশেফ হেড করতে ব্যর্থ হলে বল যায় নিকোলা স্টোনাজোভিচের কাছে। কিন্তু তিনি বল তিন কাঠির মধ্যে রাখতে পারেননি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে আস্তে আস্তে খেলায় ফেরে গোকুলাম এফ সি। ৪০ মিনিটে আব্দুল হাক্কুর সেন্টার লুকা মাজসেন বুক দিয়ে নামিয়ে জোরালো ভলি করলে বল বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৪২ মিনিটে গোল খেতে খেতে বেঁচে যায় মহমেডান। মহমেডান গোলকিপার জোথানমাউইয়াকে এগিয়ে আসতে দেখে তাঁর মাথার ওপর দিয়ে শট করেছিলেন রোনাল্ডো ফ্লেচার। বল অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোকুলাম এফসি। আক্রমণে ঝড় তুলে ৪৯ মিনিটে এগিয়েও যায়। প্রতি আক্রমণে উঠে এসে মাঝমাঠ থেকে ডানদিকে রশিদকে বল বাড়ান লুকা মাজসেন। গতিতে মহমেডানের তিন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ডানপায়ের কোনাকুনি শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রশিদ। লিড অবশ্য বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি গোকুলাম এফসি। ৫৭ মিনিটে গোকুলামের বক্সের বাঁদিকে ফ্রিকিক পায় মহমেডান। মার্কাস জোশেফের ফ্রিকিক আজহারউদ্দিন মল্লিকের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়।তিন মিনিট পর আবার এগিয়ে যায় গোকুলাম। সেই প্রথম গোলের অ্যাকশন রিপ্লে। আবার প্রতি আক্রমণে উঠে এসে মাঝমাঠ থেকে ডানদিকে বল বাড়ান লুকা মাজসেন। এমিল বিনি বল ধরে এগিয়ে গিয়ে ডানপায়ের কোনাকুনি শটে ২১ করেন। ৭৪ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মহমেডান। মার্কাস জোশেফের দুর্বল হেড গোকুলাম গোলকিপারের হাতে যায়। বাকি সময়ে আর সমতা ফেরাতে পারেনি। আই লিগ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় সাদাকালো ব্রিগেডের।
উত্তম মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল আড্য কলা তীর্থম এবং প্রয়াসের সতেরো তম বার্ষিক অনুষ্ঠান। অভিরূপ সেনগুপ্তের নির্দেশনায় বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি, অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরাও নৃত্য পরিবেশন করেন। রঙ বাহার আর মেরি আওয়াজ হি পেহচান হ্যায় শীর্ষক দুটো বিশেষ প্রযোজনা উপস্থাপনা করা হয়। এরপর সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের প্রয়াস সম্মান দেওয়া হয় ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের। বিশেষ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অলকানন্দা রায়, রোহন ভট্টাচার্য, দেবলীনা কুমার প্রমুখ। পরে রায়া ভট্টাচার্য, অভিরূপ সেনগুপ্ত, ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় মিলে বিশ্ব শান্তির উপর এক বিশেষ প্রযোজনা পরিবেশন করেন। প্রথম নিবেদনে ছিল সংস্থার ছাত্র-ছাত্রীদের নৃত্য পরিবেশন। মঙ্গলাচরণ, জয় ভগবতী, আঙ্গিকাম, গুরু ব্রহ্ম, মক্ষ, মাণিক্য বীণা তারপর অভিরূপ সেনগুপ্ত লতা মঙ্গেশকরের গান লুকা ছুপি-তে নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর সংস্থাটি দেবলীনা কুমার, দেবযানী কুমার, রোহন ভট্টাচার্য, অর্ণব দত্ত, নিখিল জৈন, সুলগ্না রায় ভট্টাচার্য এবং তাঁর মাকে প্রয়াস সম্মান প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় ঋদ্ধি বন্দোপাধ্যায়, রায়া ভট্টাচার্য, অভিরূপ সেনগুপ্ত এবং বিশেষ বাচ্চাদের নিয়ে বিশেষ প্রযোজনা মঙ্গল বার্তা এর মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাও মেরি আওয়াজ হি পেহেচান নামে তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে লতা জিকে তাদের শ্রদ্ধা জানায়। এত ভালো একটি অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে উপস্থিত দর্শকরা সত্যিই খুব খুশি।
ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে মহমেডান স্পোর্টিং। অধরা মাধুরী স্পর্শ করার হাতছানি। ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবার আই লিগ জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে। সামনে শুধু একটা ধাপ। শনিবার গোকুলাম এফসিকে হারালেই আই লিগ ঘরে তুলবে সাদাকালো ব্রিগেড। প্রথম দিকে দুরন্ত ছন্দে এগোলেও মাঝে হঠাৎ ছন্দপতন হয়েছিল মহমেডানের। লিগ জয়ের দৌড় থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল। তারপর আবার ছন্দে ফেরে। তবে আগের ম্যাচে শ্রীনিধি ডেকানের কাছে গোকুলাম এফসির পরাজয়ই মহমেডানের সামনে চ্যাম্পিয়নের সুযোগ এনে দিয়েছে। শনিবার গোকুলাম এফসির বিরুদ্ধে মহমেডানের ম্যাচ কার্যত ফাইনাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে মহমেডানকে জিততেই হবে। অন্যদিকে, আই লিগ খেতাব ধরে রাখতে গেলে ড্র করলেই চলবে গোকুলাম এফসি। আন্দ্রে চেরনিসভ দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের পরিবেশই বদলে দিয়েছেন। তাঁর কোচিংয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পর কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় মহমেডান। অল্পের জন্য ডুরান্ড কাপে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। চেরনিসভের হাত ধরেই এবার আই লিগ জেতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করছেন সাদাকালো সমর্থকরা। গোকুলামের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে মহমেডান কোচ চেরনিশভ বলেন, চ্যাম্পিয়নের লড়াইয়ে নতুন করে সুযোগ পাওয়াটা একেবারেই আমাদের জন্য সহজ ছিল না। গোকুলামন আমাদের থেকে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। আমরা ক্রমগত চেষ্টা করে গেছি এই ব্যবধান কমিয়ে নিয়ে আসার। শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছে খেতাব জয়ের সুযোগ এসেছে। আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৈরি। শেষ ম্যাচে আই লিগের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হচ্ছে, এটা ভারতীয় ফুটবলের জন্যও ভাল বিজ্ঞাপন। প্রথম পর্বে গোকুলামের সঙ্গে ১১ ড্র করেছিল মহমেডান। এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মহমেডান কোচ। কারণ এবার যুবভারতীতে প্রায় ৪০ হাজার দর্শকের সমর্থন থাকবে মহমেডানের দিকে। সাদাকালো কোচ বলেন, সমর্থকদের সামনে খেলাটা আমাদের কাছে অবশই একটা বড় সুবিধা। গোকুলামের জন্য কখনওই এত সংখ্যক মহমেডান সমর্থকের সামনে খেলাটা সহজ হবে না। এত বড় সংখ্যক সমর্থকের সামনে হোম টিমের বিরুদ্ধে খেলেটা কোনও দলের কাছেই খুব একটা সহজ বিষয় নয়। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে আমাদের ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে।
বিধায়ক পদে শপথ নিলেন বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয়। তবে বিধায়ক পদে শপথ নিলেও শপথগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক থেকেই গেল। শপথ বাক্য পাঠ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না। রাজ্যপাল বিভেদ চাইছনে বলে ডেপুটি স্পিকার দাবি করেছেন।প্রায় ১ মাস হতে চলল বাবুল সুপ্রিয় বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে জয় পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর শপথগ্রহণ নিয়ে জটিলতা শুরু হয়। প্রথমে শপথের ফাইলে সই না করেই ফেরত পাঠিয়ে দেন রাজ্যপাল। বিতর্ক বাড়লে রাজ্যপাল জানিয়ে দেন শপথবাক্য পাঠ করাবেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বাবুলকে শপথ বাক্য পাঠ করাতে চাননি। ফের বিতর্ক শুরু হয়। শেষমেষ এদিন শপথ বাক্য পাঠ করান তিনি। যদিও শপথ অনুষ্ঠানের সময় বিধানসভায় নিজের ঘরে বসেছিলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিকে ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি শপথ বাক্য পাঠ করাতে চাইনি। রাজ্যপাল আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছেন। অর্থাৎ বাবুলরে বিধায়ক পদে শপথ হওয়ার পরও বিতর্ক কিন্তু পিছু ছাড়ল না।
নাটকের জন্য একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম টাইমস অফ থিয়েটার-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হল কলকাতা প্রেস ক্লাবে। গুগল প্লে স্টোরে এই অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিল্পব দাশগুপ্ত, শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমিত্র বসু, জগন্নাথ বসু, উর্মিমালা বসু, অংশুমান ভৌমিক, মুরারি রায়চৌধুরী, প্রদীপ মিত্র, সঞ্চয়িতা ভট্টাচার্যর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।টাইমস অফ থিয়েটার প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নাটক নিয়ে কাজ করতে করতেই আমাদের মনে হয়েছিল যে নাটকের জন্য এমন কিছু করা দরকার যা নাটককে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দেবে। রোজকার জীবনে নাটক যেন বন্ধুর মতো থাকে। তাই টিওটি রেডিও অ্যাপ তৈরি হল। টিওটি রেডিও অ্যাপে সারাদিন নাটক, নাটক নিয়ে আলোচনা, নাটকের গল্প, নাটকের গান, নাটকের কুইজ, ছোটদের নাটক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। টিওটি রেডিও অ্যাপের কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি নেই। বিশ্বের যেকোনও প্রান্ত থেকে এই অ্যাপের মাধ্যমে যুক্ত থাকা যাবে।
১৯০৮ সালের ৮ মে মাতৃ দিবস পালনের সূচনা হয়েছিল। আনা জার্ভিস নামে এক আমেরিকান মহিলা তাঁর প্রয়াত মায়ের সম্মানে গির্জায় উপাসনার আয়োজন করেন। সেই থেকেই নাকি শুরু হয় Mothers Day পালন। সেই থেকে সারা বিশ্ব জুড়ে প্রতি বছর এই দিনটি মাতৃ দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। মাতৃ দিবসে মা তথা ইন্টিরিয়র ডিজাইনার গৌরী খানকে ভালোবাসা উপহার দিলেন মেয়ে সুহানা খান। এদিন মায়ের জন্য বিশেষ উপহার এনেছিলেন শাহরুখ-গৌরী কন্যা। একটা সাদা এবং গোলাপী ফুলের তোড়া মাকে উপহার দিয়েছেন সুহানা। শুধু তাই নয়, ভালোবাসা জানিয়ে একটি নোটে আরিয়ান খানের বোন লিখেছেন, শুভ মাতৃ দিবস মা, ভালোবাসি, তোমার সুহানা। এ দিন ফুলের তোড়ার ছবি শেয়ার করার পাশাপাশি মেয়ে সুহানা খানের একটি না দেখা ছবিও সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেন গৌরী খান। এই পোস্ট দেখে নেটিজেনরা খুবই খুশি। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির কমেন্ট বক্সে মা ও মে দুজনকেই ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। কমেন্ট করেছেন অনেক সেলিব্রিটিরাও।
বৃহস্পতিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। শ্রেয়স আয়ারদের কাছে ম্যাচটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্লে অফের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে গেলে জিততেই হত নাইট রাইডার্সকে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ। প্রাক্তন সৈনিক কুলদীপ যাদবের স্পিনেই বেসামাল নাইটরা। তাঁর ঘূর্ণিতে ভেঙে পড়ল নাইটদের মিডল অর্ডার। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১৪৬ তুলল নাইট রাইডার্স। ১৪ রানে ৪ উইকেট নিলেন কুলদীপ। গত বছর আইপিএলে প্রথম পর্বে ৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছিল। শেষ ৭ ম্যাচের মধ্যে ৫টিতে জিতে প্লে অফের টিকিট জোগাড় করে নিয়েছিল নাইটরা। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা অতীতে রয়েছে নাইট রাইডার্সের। এদিন দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারল না। টানা ৪ ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে জয়ে ফেরার লক্ষ্যে এদিন প্রথম একাদশে তিনটি পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল নাইট রাইডাস। প্রথম একাদশে ফেরানো হয় অ্যারন ফিঞ্চ। এছাড়া এদিন প্রথম সুযোগ দেওয়া হয় বাবা ইন্দ্রজিৎ ও হর্ষিত রানাকে। প্রথম একাদশে ফেরার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফিঞ্চ। একবার জীবন পেয়েও মাত্র ৩ রান করে আউট হন। টস জিতে এদিন নাইট রাইডার্সকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। দ্বিতীয় ওভারে চেতন সাকারিয়ার দ্বিতীয় বলে অ্যারন ফিঞ্চের ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি রভম্যান পাওয়েল। পরের বলেই অবশ্য ফিঞ্চের (৩) স্টাম্প ছিটকে দেন সাকারিয়া। প্রথম একাদশে ফিরেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। এদিন ওপেনিংয়ে ফেরানো হয়েছিল ভেঙ্কটেশ আয়ারকে (৬)। তিনিও দলকে নির্ভরতা দিতে ব্যর্থ। অষ্টম ওভারে পরপর দুবলে বাবা ইন্দ্রজিৎ (৬) ও সুনীল নারাইনকে (০) তুলে নিয়ে নাইটদের মিডল অর্ডারে ভাঙন ধরান কুলদীপ যাদব। এরপর নীতিশ রানাকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দাঁড়ান অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার (৩৭ বলে ৪২)। পরপর দুবলে শ্রেয়স ও আন্দ্রে রাসেলকে (০) তুলে নিয়ে আবার নাইটদের চাপে ফেলে দেন কুলদীপ। শেষ পর্যন্ত নীতিশ রানা (৩৪ বলে ৫৭) ও রিঙ্কু সিংয়ের (১৬ বলে ২৩) সৌজন্যে ১৪৬/৯ রানে পৌঁছয় নাইট রাইডার্স। দুরন্ত বোলিং করে ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন কুলদীপ। ১৮ রানে ৩ উইকেট মুস্তাফিজুরের।
অবশেষে শ্রী সিমেন্টের কাছ থেকে স্পোর্টিং রাইটস ফিরে পেল ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবারই সরকারিভাবে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের হাতে ফিরিয়ে দিলেন শ্রী সিমেন্টের কর্তারা। একই সঙ্গে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়ে গেল দুই পক্ষের মধ্যে। যদিও লালহলুদের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। বুধবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে সরকারিভাবে ক্লাবের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে। কোয়েস সরে যাওয়ার পর ২ বছর আগে ইস্টবেঙ্গলের লগ্নিকারী সংস্থা হয়ে এসেছিল শ্রী সিমেন্ট। তাদের হাতে ফুটবল দলে সত্ব ছেড়ে দেন। এই নিয়ে একটা খসড়া চুক্তি হয়েছিল দুই পক্ষের মধ্যে। কিন্তু চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। শ্রী সিমেন্ট ক্লাবের নানা বিষয়ে শর্ত আরোপ করেছিল। এর মধ্যে ক্লাব তাঁবুতে সদস্যসমর্থকদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও ছিল। চুক্তিকে এমন কয়েকটা শর্ত ছিল, যাতে ক্লাবের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা খর্ব করা হয়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। ইস্টবেঙ্গল কর্তারা চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই করতে রাজি হননি।এই অবস্থায় গত মরশুমের শুরুতে শ্রী সিমেন্টের কর্তারা জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা দল গঠন করবেন না। অনেক টালবাহনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে দল গঠন করতে রাজি হয়। শেষ মুহূর্তে দল গঠন করে আইএসএলে খেলতে নামে। পরে জানিয়ে দেয়, এই মরশুমে তারা আর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে নতুন করে লগ্নি করবে না। এবং স্পোর্টিং রাইটসও ফিরিয়ে দেবে। সেইমতো মঙ্গলবার চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়ে গেল। শ্রী সিমেন্ট যে আর থাকবে না, লালহলুদ কর্তারাও জানতেন। তাই তাঁরা নতুন লগ্নিকারী সংস্থার খোঁজে নেমেছেন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে অনেকদূর কথাবার্তা এগিয়েছে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের। লালহলুদের শীর্ষ কর্তারাও দুদুবার বাংলাদেশ ঘুরে এসেছেন। এই মাসে আরও একবার যাওয়ার কথা। শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় এখন আর নতুন লগ্নিকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে সমস্যা নেই। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন লালহলুদ সদস্যসমর্থকরা।
এপার বাংলার ফুটবলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ওপার বাংলা। মাসখানেক ধরেই ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে বসুন্ধরা কিংসের গাঁটছড়া বাঁধার খবর শোনা যাচ্ছে। লালহলুদে লগ্নি করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছে বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপ। যারা বাংলাদেশে তিনতিনটি ক্লাবকে স্পনসর করছে। এবার এপার বাংলার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে এগিয়ে আসছে ওপার বাংলার ঐতিহ্যশালী ক্লাব ঢাকা মহমেডান। শুক্রবার দুই ক্লাবের কর্তাদের সঙ্গে এই ব্যাপারে প্রাথমিক কথা হয়েছে। কলকাতার মহমেডান স্পোর্টিং কর্তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কলকাতায় এসেছেন ঢাকা মহমেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ও ফুটবল সচিব আবু হাসান চৌধুরি প্রিন্স। শুক্রবার বিকেলে তিনি মহমেডান ক্লাব তাঁবুতে আসেন। এবার বাংলার মহমেডানের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। দুই ক্লাবের কর্তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। আপাতত ঠিক হয়েছে দুই ক্লাবের মধ্যে যুব ফুটবলার বিনিময় হবে। মহমেডান স্পোর্টিং যদি আইএসএলে খেলে, তাহলে সবদিক দিয়ে সাহায্য করবে ওপার বাংলার ঢাকা মহমেডান। এমনকি, ভবিষ্যতে স্পনসর হিসেবে যুক্ত হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। দুই পক্ষের বৈঠকের পর ঢাকা মহমেডানের ফুটবল সচিব তথা ক্লাব ডিরেক্টর আবু হাসান চৌধুরি প্রিন্স বলেন, মাঝে আমাদের ক্লাবের অবস্থাও ভাল ছিল না। সম্প্রতি আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এপার বাংলার মহমেডানও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আজ দুই পক্ষের মধ্যে কথা হয়েছে। আমরা একসঙ্গে পথ চলতে চাই। আপাতত যুব ফুটবলার বিনিময়ের ওপর জোর দিচ্ছি। মহমেডান মাঠ সংস্কার হচ্ছে। সংস্কারের পর যেদিন উদ্বোধন হবে, সেদিন ঢাকা মহমেডানের প্রাক্তন ফুটবলার ও এপার বাংলার মহমেডানের প্রাক্তন ফুটবলারদের মধ্যে একটা ম্যাচ আয়োজন হবে। আর মহমেডান যদি আইএসএলে খেলে তাহলে, সর্বোতভাবে সাহায্য করব। দুই ক্লাবের গাঁটছড়া বাঁধার ব্যাপারে এপার বাংলার মহমেডানের সচিব দানিশ ইকবাল বলেন, দীর্ঘদিন দুই ক্লাবের মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল না। আমরা সম্পর্ক স্থাপনের দিকে এগোচ্ছি। একসঙ্গে পথ চলার কথা ভাবছি। অদূর ভবিষ্যতে যুব ফুটবলার বিনিময় হবে। তারপর ধাপে ধাপে এগোব।
সামনের মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের স্পনসর হিসেবে কি দেখা যাবে বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপকে? সে রকমই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাস খানেক আগে লালহলুদ কর্তাদের আমন্ত্রণে ভারতে এসেছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের শীর্ষ কর্তা। বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সায়েম শওভন আনভিকে কলকাতায় ডেকে এনে ক্লাব তাঁবুতে জমকালো সংবর্ধনা দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। ক্লাবের আজীবন সদস্যপদও তুলে দেওয়া হয়। তখন থেকেই একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল যে, বসুন্ধরা গ্রুপকে স্পনসর হিসেবে পেতে চান তাঁরা। কলকাতাতেই স্পনসরশিপের ব্যাপারে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছিল দুই পক্ষের। দ্রুত চুক্তি সারতে আগ্রহী ছিল দুপক্ষই। তাই লালহলুদ কর্তাদের ঢাকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র লিমিটেডের কর্তারা। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে লালহলুদের দুই শীর্ষ কর্তা বাংলাদেশ যান। বসুন্ধরা গ্রুপে সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার ও রূপক সাহা। আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছিল। কলকাতায় ফিরে এসে চুক্তির পথ মসৃণ করতে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন লালহলুদ কর্তারা। এরপর আবার জরুরি ভিত্তিতে লালহলুদ কর্তাদের আলোচনার আমন্ত্রণ জানান বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সায়েম শওভন আনভি। বৃহস্পতিবারই আইনজীবী নিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছেন এক শীর্ষ কর্তা। বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তাদের সঙ্গে লালহলুদের সেই শীর্ষ কর্তার একপ্রস্থ বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার আবার আলোচনায় বসবেন বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সায়েম শওভন আনভির সঙ্গে। চুক্তির জন্য বাংলাদেশের যে যে আইনি প্রক্রিয়া সারতে হবে, সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কোন পদ্ধতিতে বসুন্ধরা গ্রুপ লালহলুদে অর্থ লগ্নি করবে, তা চূড়ান্ত হবে।হঠাৎ কেন ইস্টবেঙ্গলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠল বসুন্ধরা গ্রুপ? ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান স্পনসর শ্রী সিমেন্ট সামনের মরশুমে যে আর থাকবে না, এটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। এই অবস্থায় নতুন লগ্নিকারী সংস্থার খোঁজে ছিলেন লালহলুদ কর্তারা। তাঁরা যোগাযোগ করেন বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তাদের সঙ্গে। বসুন্ধরাও এমন একটা ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়, যাদের এশিয়ান লেভেলে পরিচিতি আছে। বসুন্ধরা গ্রুপ চায় ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের পরিচিতি আরও বাড়াতে। বাংলাদেশে তিনটি বড় ক্লাবকে স্পনসর করছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এবার বিদেশের মাটিতে পা রাখতে চায়।
গত বছরের শেষদিকে তিনি মহমেডান স্পোর্টিংয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়ার পর সোমবার প্রথম ক্লাবে এলেন ইরফান পাঠান। ক্লাবে প্রথম পা রেখেই জানিয়ে দিলেন, অদূর ভবিষ্যতে তিনি মহমেডানকে আইএসএলে দেখতে চান। সোমবার আই লিগে কেঁকড়ে এফসির সঙ্গে ম্যাচ ছিল মহমেডান স্পোর্টিংয়ের। ক্লাব তাঁবুতে বসে সন্ধেয় সমর্থকদের সঙ্গে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং দেখেন ইরফান পাঠান। ম্যাচ দেখতে বসার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ইরফান। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে উঠে এল একাধিক প্রশ্ন। তার মধ্যে যেমন ছিল রাজনীতি, তেমনই ছিল ক্রিকেট। তবে মহমেডানকে নিয়ে নিজের ইচ্ছের কথা জানাতে ভোলেননি ইরফান পাঠান। সম্প্রতি অনেক ক্রিকেটারকে রাজনীতিতে আসতে দেখা গেছে। তিনিও কী অদূর ভবিষ্যতে রাজনীতিতে পা রাখবেন? প্রথমেই এই প্রশ্ন ধেয়ে এসেছিল ইরফান পাঠানের দিকে। ইরফান জবাবে বলেন, ২০১৫ সাল থেকে অনেকেই রাজনীতিতে নামার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। আমি যাইনি। তবে রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে রয়েছে। দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। তবে এখনই রাজনীতিতে নামার ব্যাপারে কিছু ভাবছি না। মহমেডানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন। ক্লাবের খবর রাখবেন না, তা কি কখনও হয়? গড়গড় করে বলে গেলেন সাদাকালো ব্রিগেডের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স। তিনি বলেন, টানা ৪ ম্যাচ জিতে আগের ম্যাচে হেরেছে। মার্কাস জোসেফ দারুণ খেলছে। এই ছন্দটা ধরা রাখুক মহমেডান। আই লিগ জিতছে, এটা দেখতে চাই। আইএসএল নিয়েও ক্লাব কর্তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শীঘ্রই মহমেডানকে আইএসএলে দেখতে চাই। পরের বার এসে যেন স্টেডিয়ামে বসে মহমেডানের আইএসএল ম্যাচ দেখতে পাই। সারা ভারতে এমন কোনও ফুটবলপ্রমী নেই, যে মহমেডানের নাম শোনেনি। ১৪১৫ বছর বয়স থেকে কলকাতায় আসছি। তার আগেই মহমেডানের নাম শুনেছি। ১৩১ বছর বয়স এই ক্লাবের। এইরকম ঐতিহ্যশালী ক্লাবের অ্যাম্বাসাডর হতে পেরে গর্বিত। উঠে এল ভারতীয় ক্রিকেটের কথা। ইরফান বলছিলেন, ভারতে প্রতিভার অভাব নেই। ঠিক সময় এই দলের প্রত্যেকে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা রাখে। বিশ্বের সেরা বোলিং লাইনআপ হওয়ার ক্ষমতা আমাদের দলের বোলারদের রয়েছে। ভারতীয় বোলারদের যে প্রতিভা রয়েছে, বিশ্বের কোনও দলের বোলারদের সেই প্রতিভা নেই। ঋষভ পন্থের প্রশংসা করে ইরফান বলেন, জাতীয় দলে ঋদ্ধি ফিরতে পারবে কিনা জানি না। ওর পরিবর্তে যে এসেছে, সেই ঋষভ পন্থ কিন্তু অনেক বড় ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।