• ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Police

রাজ্য

শান্তিনিকেতন থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি অনুব্রত মন্ডল

অবশেষে পুলিশি জেরার মুখোমুখি বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। সাত দিন পর তিনি বোলপুরের এসডিপিও অফিসে যান। ওই চত্বটরে শান্তিনিকেতন থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলে। বিকেল ৩ টে ২০ মিনিট নাগাদ অনুব্রত সেখানে আসেন। এর আগে পুলিশ ২বার বোলপুর তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির ওই সদস্যকে তলব করে। অনুব্রত মন্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বোলপুরের আইসি লিটন হালদারকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। সেই অডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় বয়ে যায়। এদিকে বোলপুরের আইসির দুটো মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কে ভাইরাল করল ওই অডিও তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। প্রথম দফায় অনুব্রত ক্ষমা চেয়েছেন, সেই চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। পরে অনুব্রতর আইনজীবী এআইয়ের অডিও বলে দাবি করেন। অনুব্রত অনুগামীরা বোলপুর আইসির তুলোধোনা করেন। আপাতত শান্তুনিকেতন থানায় অনুব্রত।

জুন ০৬, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে মোবাইল প্রাপ্তি পুন্যার্থীদের, পুজো দিতে গিয়ে খোয়া গিয়েছিল

তারাপীঠে মা তারার পুজো দিতে এসে কারও মোবাইল হয় চুরি হয়ে গিয়েছিল। নয় তো গিয়েছিল হারিয়ে। এমন প্রায় ৩১ টি মোবাইল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই মোবাইল পুন্যার্থীদের হাতে ফিরিয়ে দিল তারাপীঠ থানার পুলিশ। ওই মোবাইলগুলির অনেকগুলো আবার সুদূর কলকাতা, হাওড়া, হুগলী এমনকি বিহারের পুন্যার্থীদের। রয়েছে মন্দিরের পূজারীর মোবাইলও। খোয়াও যাওয়া মোবাইল ফেরত পেয়ে খুশি সকলেই।সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ এখন রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের অন্যতম তীর্থক্ষেত্রের জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে বিহার, ঝাড়খণ্ডের বেশি সংখ্যক মানুষ তারাপীঠে মা তারার পুজো দিতে আসেন। মন্দিরে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। বিশেষ দিনে সেই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ভাদ্রমাসের কৌষিকী অমাবস্যায় সেই সংখ্যা পাঁচ লাখে পৌঁছে যায়। পুন্যার্থীরা যখন মা তারার দর্শনের জন্য ব্যস্ত থাকেন সেই সুযোগে হাত সাফাই করে একদল দুষ্কৃতী। ফলে পুণ্য করতে এসে মোবাইল খুইয়ে হতাস হয়ে ফিরে যান পুন্যার্থীরা। মোবাইল খুইয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন, আর তা ফিরে পাবেন না। কিন্তু পুলিশের সাইবার সেল এবং তারাপীঠ থানার উদ্যোগে তা সম্ভব হওয়ায় সকলেই খুশি। তাঁদেরই একজন বিহারের নওদা জেলার বাসিন্দা রাজীব নেহার। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে তারাপীঠে এসেছিলাম। মন্দির সংলগ্ন আঘোর আশ্রমে উঠেছিলাম। রাত্রে জানালা থেকে দুটো মোবাইল চুরি হয়ে যায়। একটা মোবাইল অনেক পুরনো তাই কোন কাগজ ছিল না। আরেকটা একদম নতুন ছিল। সেই কারণে একটি মোবাইল চুরির অভিযোগ করেছিলাম। ফোনটা যে ফিরে পাব ভাবিনি। কিন্তু তারাপীঠ থানার সহযোগিতায় ফোনটা ফিরে পেলাম।মন্দিরের সহযোগী পূজারী চন্দন কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, মাস চারেক আগে তারাপীঠের রাস্তা থেকে মোবাইল ফোন হারিয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তারাপীঠ থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। সেই ফোন ফিরে পেলাম। পুলিশের উদ্যোগ ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।বীরভূম জেলা পুলিশ হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করে প্রাপকের হাতে ফিরিয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয় কয়েক বছর আগে। ফিরিয়ে দেওয়া অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল প্রাপ্তি। সেই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই ৩১ জনের মোবাইল প্রাপ্তি হল শনিবার। মোবাইল ফিরে পেয়ে পুলিশকে সাধহুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

মে ২৫, ২০২৫
কলকাতা

এবার এভারেস্টের শৃঙ্গ জয় করে তাক লাগালেন কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল

এভারেস্ট জয় করে কলকাতা ফিরলেন কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল লক্ষীকান্ত মন্ডল। তাকে স্বাগত জানাতে কলকাতা বিমানবন্দরে উপস্থিত হন বর্তমান কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বার্মা সহ কলকাতা পুলিশের একাধিক অধিকর্তা। চলতি সপ্তাহের সোমবার এভারেস্টের শীর্ষে পা রাখেন এই বাঙালি। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তৃতীয় ব্যাটালিয়নের এই কনস্টেল তিনি। বর্তমানে কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মার দেহরক্ষী হিসাবে নিযুক্ত তিনি। লক্ষ্মীকান্ত এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে এভারেস্ট অভিযানে রওনা হয়েছিলেন। যাত্রা শুরুর আগে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মনোজ বর্মা সহ কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের আধিকারিকেরা।সোমবার এভারেস্ট জয়ের পর লক্ষ্মীকান্তকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। যেদিন কলকাতা বিমানবন্দরে ছেলেকে অভ্যর্থনা জানাতে আসে তাঁর বাবা মাও।

মে ২৪, ২০২৫
রাজ্য

কলকাতা পুলিশ সেজে সোনা গয়না লুট, দুই পান্ডা গ্রেফতার

কোলকাতা পুলিশ পরিচয় দিয়ে লুট। এই ঘটনায় কর্নাটকের কুখ্যাত বিদর গ্যাংয়ের দুই পন্ডা গ্রেফতার। গত ৯ ই মার্চ একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার অভিযোগ দায়ের হয় বাগুইআটি থানায়। তদন্ত নেমে পুলিশ বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং সনাক্ত করে অপরাধীদের। বেশ কিছু তথ্য ধরে পুলিশ জানতে পারে মহারাষ্ট্রের লাটুর জেলায় ইউসুফ আলী এবং হাসলি নাসের দুজন গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ সেখানে হানা দেয় এবং এই দুজনকে গ্রেফতার করে পরবর্তী ক্ষেত্রে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। বাগুইআটি থানায় হেফাজতে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে এরা কর্নাটকের কুখ্যাত বিদর গ্যাংয়ের অন্যতম পন্ডা। এখনও পর্যন্ত এদের নামে কলকাতা এবং জেলা মিলিয়ে ত্রিশটিরও বেশি এরকম অভিযোগ জমা হয়েছে। কিন্তু কোনও ভাবে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে এরা বয়স্ক মানুষজনদের কলকাতা পুলিশের পরিচয় দিত এবং নির্জন জায়গায় গাড়ি আটকে বয়স্ক মানুষজনদেরকে বলতো আপনাদের কাছে যে সোনা গয়না এবং টাকা পয়সা আছে সেগুলো আমাদের ব্যাগে দিয়ে দিন। সামনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে আমরা কলকাতা পুলিশের সদস্য নির্দিষ্ট জায়গায় এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ান আপনারা আপনাদের জিনিস ফেরত পেয়ে যাবেন। এই ভাবেই গায়ের অলংকার থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু হাতিয়ে নিত এই গ্যাং। এবং এই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকেই প্লাস্টিক দেয়া হতো বলতো এই প্লাস্টিকের মধ্যে রাখতে। এইভাবে দেখত বাইকে করে দুজন কখনও তিনজন যুবক পুলিশ লেখা স্টিকারে এই চক্র চালাতো। বাইকে করে একটু এগিয়ে যেতেই চার চাকা গাড়ি আসতো জামা পাল্টিয়ে তারা গাড়িতে উঠে যেত। গাড়ি থেকে অন্য ব্যক্তি নেমে সেই বাইক নিয়ে চম্পট দিয়ে পালিয়ে যেত। কলকাতা এবং জেলা মিলিয়ে একাধিক থানায় এই অভিযোগ জমা হয়েছে। দিনের পর দিন এই চক্র সক্রিয় হচ্ছে অথচ পুলিশ তাদের খোঁজ পাচ্ছিল না। শেষমেশ বাগুইআটি থানার পুলিশ এই চক্রে দুই পাণ্ডাকে গ্রেফতার করে বাকিদের খোঁজ চালাচ্ছে।

এপ্রিল ২৫, ২০২৫
রাজ্য

সামসেরগঞ্জে বাবা ছেলে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার দুই

র্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জে বাবা ও ছেলে খুনে গ্রেফতার দুই। এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন বীরভূম ও সুতি এলাকা থেকে কালু নাদাব ও দিলবার নাদাব নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওয়াকাফ বিক্ষোভের মাঝেই ১২ এপ্রিল কুপিয়ে খুন করা হয় হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস নামে দুই পিতা ও পুত্রকে। জানা গিয়েছে ধৃতদের বাংলাদেশ পালানোর পরিকল্পনা ছিল। এখন পর্যন্ত ২২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১০৯৩ টি সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ফেক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। সমগ্র পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশ বিএসএফ সিআরপিএফ টহলদারি করেছে। আর নতুন করে কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এপ্রিল ১৫, ২০২৫
রাজ্য

প্রাণ বাঁচানোর তাগিদ, মুর্শিদাবাদ থেকে গঙ্গা পার হয়ে মালদার বৈষ্ণবনগর

নৌকায় নদী পার হয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেন কয়কশো মানুষ। মুর্শিদাবাদের অশান্তির পরিবেশ থেকে জীবন বাঁচাতে গঙ্গা পার হয়ে অসংখ্য আতঙ্কিত মানুষ আশ্রয় নিল মালদার বৈষ্ণবনগর থানার পারলালপুর এলাকায়। রবিবার সকাল হতেই ধুলিয়ান গঙ্গার ঘাট থেকে নৌকা করে শতাধিক মানুষেরা প্রাণ বাঁচাতে মালদায় এসে আশ্রয় নেয়। মালদার পারলালপুর হাইস্কুলে নির্যাতিত মানুষদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে প্রশাসন। এদিন চোখে মুখে একরাশ আতঙ্ক নিয়ে ধুলিয়ানের বাসিন্দা পারুল মন্ডল, নমিতা মন্ডলেরা বলেন, দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি সব লুট করে নিচ্ছে। বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাড়ির জলের ট্যাংকিতেও বিষ মিশিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা করে মালদায় এসে জীবন বাঁচিয়েছি। কয়েকদিন ধরে ধুলিয়ান সহ আশেপাশের এলাকায় দুষ্কৃতীদের তান্ডবে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাড়িতে চাল নেই, রান্নার গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছে। কোনও কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একদল দুষ্কৃতী প্রকাশ্যে তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত মহিলারা নিজেদের জীবন বাঁচাতেই নৌকায় নদী পার করেই মালদায় চলে আসছেন। এদিন আমাদের মতোন অসংখ্য মানুষ ধুলিয়ান থেকে নৌকা করে মালদার পারলালপুর হাইস্কুলে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরবাড়ি সব পড়ে আছে। বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র লুট করেছে দুষ্কৃতীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনরকম সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এখন সবাই জীবন বাঁচাতেই এদিক সেদিক ছুটছে। এদিন ধুলিয়ানের বেদবনা এলাকার বাসিন্দা অনন্ত সন্ন্যাসী বলেন, আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। গবাদি পশু লুট করেছে দুষ্কৃতীরা। হঠাৎ করে কেন এরকম অরাজকতা তৈরি হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। দিনদুপুরে হাতে অস্ত্র নিয়ে তান্ডব চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। মূলত মহিলাদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। গত তিনদিন ধরে বাড়ির বাইরে বের হতে পারি নি। দিনমজুরি করে সংসার চালায়। হাতে কাজ নেই। বউ, ছেলে , মেয়ে নাতিনাতনি সবাই রয়েছে । কাজ না করলে সংসার চালবে কি করে? কিন্তু এই অশান্তির পরিস্থিতিতে বাড়ির বাইরে বের হতে পারছি না। তার মধ্যে ওরা দল বেঁধে শনিবার রাতে বাড়িতে ঢুকে সমস্ত কিছু লুট করে নিয়েছে। অল্পের জন্য আমরা পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছি। শনিবার রাতের এমন ঘটনার পর এদিন সকালে কোনরকমে নৌকা করে গঙ্গা নদীর ঘাট পার হয়ে মালদার পারলালপুর হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। জানি না কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। ঘরবাড়ি সবই চলে গেল। পার পারলালপুর এলাকার বাসিন্দা শ্রীমন্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, সকাল থেকেই অসংখ্য মানুষ ধুলিয়ানের গঙ্গার ঘাট হয়ে নৌকা করে মালদার পারলালপুরে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ স্কুলে উঠেছেন । আবার কেউ নিজেদের আত্মীয়র বাড়িতে ছুটে গিয়েছেন। এইসব মানুষদের আপাতত খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটা আন্দোলনের নামে এরকম অরাজকতা চলছে । অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনরকম কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মালদা সদর মহকুমা শাসক পঙ্কজ তামাং জানিয়েছেন, ধুলিয়ান থেকে নৌকা করে এখনো পর্যন্ত ১৭০ জন মানুষ পারলালপুর হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। মুর্শিদাবাদের কয়েকটি এলাকায় বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। এসব মানুষদের প্রশাসনিক ভাবে খাওয়ার সহ ত্রাণ বিলির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্কুল ক্যাম্পে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৫
রাজ্য

ওয়াকফ নিয়ে প্রতিবাদে উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ

অশান্ত মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে মুর্শিদাবাদের অশান্তি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেনা নামানোর আবেদন জানান তিনি। শুভেন্দুর সেই আবেদনে মান্যতা দিল দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি আদালত এদিন বলেন, মুর্শিদাবাদে শান্তি-সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনাই এখন প্রথম অগ্রাধিকার। বিএসএফকে ডাকা হলেও কাজ করতে দেয়নি জেলাশাসক এমনই অভিযোগ রাজ্যের বিরোধী দলনেতার আইনজীবীর। এরপরই কোন কোন জেলা স্পর্শকাতর জানতে চান বিচারপতি। রাজ্যের তরফে এদিনের সওয়াল-জবাবে জানানো হয়েছে গোটা ঘটনায় ১৩৮ জন গ্রেফতার, এডিজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে অবস্থান জানতে চান হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। গ্রন্থাগার মন্ত্রী বলেছেন অশান্তি ছড়িয়ে দেবে হবে, বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্যের বিরোধী দলনেতার। এপ্রসঙ্গে গতকাল আমতলা থানার উল্লেখ। সরকারের তরফে যে বক্তব্য পেশ করা হচ্ছে তা ঠিক নয়, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর আইনজীবীর। সওয়াল জবাব শেষে বিরোধী দলনেতার আবেদনকে মান্যতা দিয়ে অশান্ত মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। শান্তি ফেরাতে পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, এমনটাই জানানো হয়েছে আদালতের তরফে।

এপ্রিল ১২, ২০২৫
রাজ্য

ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ, বাবা-ছেলে সহ মৃত ৩

কাল সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদের সুতির সাজুর মোদের আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি এবং সেইগুলিতে গুরুতর জখম অবস্থায় চুতির কাশেম নগরের ইজাজ আহমেদ ২১ বছরের যুবক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে তাকে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কা জনক অবস্থা থাকা সত্বেও মেডিকেল বোর্ড গঠন করার পরে আজ তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ধুলিয়ানে ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক হামলা এবং লুটপাট চালায় ধুলিয়ানের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে। গোটা রাত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর তার বাড়ি থেকে পিতা এবং পুত্রের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহাকুমার হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শামসেরগঞ্জ এর জাফরাবাদ এর বাসিন্দা পিতা হরগোবিন্দ দাস (৭৪)এবং পুত্র চন্দন দাস (৪০)। তাদের বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। Ui বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, বাড়তি ঢুকে হামলা চালিয়ে খুন করা হয়েছে দুজনকে।

এপ্রিল ১২, ২০২৫
রাজ্য

মালদা চাকরি হারাদের আন্দোলনে উত্তপ্ত

মালদা: মালদায় চাকরি হারাদের ডিআই অফিস ঘেরাও ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। ডি আই অফিসে তালা মেরে বিক্ষোভ চাকরি হারাদের। আর তাতে বাধা দিতেই পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি চাকরি হারাদের। ঘটনা ঘিরে আজ সকাল থেকেই চরম উত্তেজনা মালদাহের অতুলচন্দ্র মার্কেট এলাকায় অবস্থিত ডি আই অফিস চত্বরে। ইংরেজবাজার শহরের অতুল মার্কেট সংলগ্ন জেলা শিক্ষা দপ্তরে ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাক দেয় যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মী মঞ্চ।এদিন শতাধিক চাকরিহারা তরুন, তরুনীরা মিছিল করে জেলা শিক্ষা দপ্তরের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতেই পুলিশি বাধার মুখে পড়ে বলে অভিযোগ । আর তারপরেই শিক্ষা দপ্তরের ভেতরে ঢুকেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন চাকরিহারা প্রার্থীরা। সেই সময় পুলিশের সাথে ঘস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। রীতিমতো চরম উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হয় জেলা শিক্ষা দপ্তর চত্বরে। রাজ্য সরকার ও শিক্ষা দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও এদিন প্রতিবাদে সোচ্চার হোন চাকরিহারা প্রার্থীরা। পাশাপাশি পুলিশি বাঁধার মুখে প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা শিক্ষা দপ্তরের সামনেই অবস্থান-বিক্ষোভে বসে পড়েন প্রতিবাদীরা।

এপ্রিল ১০, ২০২৫
রাজ্য

বড়মা মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি, প্রশ্নের মুখে পুলিসের ভূমিকা

শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহী বড় মা কালী মন্দিরে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল বারাসতো। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই চুরির ঘটনায় পুলিসি নিরাপত্তা প্রশ্নচিহ্নের মুখে। গোটা ঘটনাটি ধরা পড়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। আর সেই ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, একটি বারমুডা ও নীল জামা পরে, মাথায় টুপি দেওয়া এক মাঝবয়সী যুবক বড় মা কালী মন্দিরের প্রণামী বাক্স নিয়ে টানাটানি করছে। এরপর মন্দিরের রেলিংয়ের সঙ্গে বাঁধা থাকা প্রণামী বক্সের শিকল ভাঙল। সেই সময় রাস্তা দিয়ে বাইক যাওয়ায় সে আড়াল হতে চলে যায় পাশের গলিতে। এর কয়েক সেকেন্ড পর ফিরে এসে বুকে করে আগলে প্রণামি বক্সটি নিয়ে দৌড় দেয়। সাতসকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মন্দিরের পুরোহিত বিদ্যাধর সৎপতি বলেন, প্রণামী বাক্সে অনেক টাকা ছিল। সেটি তুলে নিয়ে সব টাকায গায়েব করে দিয়েছে এক দুষ্কৃতী। আর প্রনামী বক্স পড়েছিল পাশের একটি জঙ্গলে। পুলিস এসে তা উদ্ধার করেছে। বারাসাত শহরে মাঝে মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটছে। এবার আমাদের মন্দিরও রেহাই পেল না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বেড়ছে শহরবাসীর।

মার্চ ২২, ২০২৫
কলকাতা

নিউটাউন থানায় মহিলা সাব ইন্সপেক্টরকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই

শুক্রবার সন্ধ্যায় ২ যুবক মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি নিয়ে সেক্টর ফাইভের দিক থেকে নিউটাউনের দিকে আসিছল। তখন বলাকা আবাসনের কাছে অত্যন্ত বেপরোয়া হবে গাড়ি চালাচ্ছিল বলে এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে। গাড়িটি একটা গাড়িকে ধাক্কাও মারে। ওই দুজনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে আসে গাড়িসহ। দুই অভিযুক্তকে যখন থানায় কর্মরত অবস্থায় ডিউটি অফিসার সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা নাম জিজ্ঞাসা করে তখন ওই মহিলা অফিসারের গায়ে হাত দিয়ে মারধর করে এবং পোশাকের দড়ি ধরে টানাটানি করে। এরপরেই পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত দুই যুবককে এদিন বারাসাত আদালতে তোলা হয়।

মার্চ ১৫, ২০২৫
রাজ্য

সিভিকদের বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ মালদায়, চালককে বেধরক মারধরের ভিডিও ভাইরাল

এর আগেও নানা ক্ষেত্রে সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। আরজি কর কাণ্ডে সিভিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এবার ঘটনার ক্ষেত্র মালদা। সিভিক ভলেন্টিয়ারের দাদাগিরি চলল!তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় গাড়ি চালককে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কর্তব্যরত তিন সিভিক ভলেন্টিয়ার্সের বিরুদ্ধে।সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরাল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেলাবাড়ি নাকা পয়েন্টে। জখম গাড়ি চালক। হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন চালক। জখম গাড়ি চালকের নাম রুহুল আলী। তার বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুরের বাংরুয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,গাড়ি চালক ব্যবসায়ীদের গরু ডালখোলা হাট থেকে নিয়ে আসছিলেন। সঙ্গে ছিল গাড়ির মালিক। ভেলা বাড়ি নাকা পয়েন্টে তিন সিভিক গাড়ি আটকান। এক হাজার টাকা দাবি করেন। চালক পাঁচশ টাকা দিতে চাইলে সেই টাকা নিতে অস্বীকার করেন সিভিক। এরপর তিন জন সিভিক চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাকা পয়েন্টের ভিতরে ঘরে ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করে। চালকের হাতে আঘাত লাগে। হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে চিকিৎসা করান চালক।

মার্চ ০৮, ২০২৫
রাজ্য

বড়সড় দুর্ঘটনা মালদায়, টোটোকে ট্রাকের ধাক্কায় মৃত ৩, জখম ১

মালদায় মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় তিনজন মৃত, আহত এক। বৃহস্পতিবার মালদার গাজলের হিয়াঘর এলাকায় ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে এক অজানা গাড়ি ধাক্কা দেয় টোটোকে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। একজন গুরুতর আহত হয়। যদিও ঘাতক গাড়িটির খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টা নাগাদ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেওতলা এলাকার বেশ কিছু লোকজন গাজোলে যাচ্ছিল। কেউ যাচ্ছিল মাছ বিক্রি করতে, কেউ বা আবার আড়ৎ থেকে সবজি কিনতে যাওয়ার জন্য যাচ্ছিল। গাজোল যাওয়ার পথেই গঙ্গারামপুরগামী অজানা গাড়ি ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলে গাজোল থানার পুলিশ ছুটে যায়। মৃতদেহগুলোকে উদ্ধার করে গাজোল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। আহত ব্যক্তিকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কা জনক। নাম নিজামুদ্দিন সেখ, বয়স ৫৫ । অন্যদিকে মৃতরা হলেন ললিত ভুইমালি (৬০), আলতাফ হোসেন (৪২), শামসুদ্দিন শেখ (৬০)।

মার্চ ০৬, ২০২৫
শিক্ষা

নকলে বাধা উচ্চ মাধ্যমিকে, ধুন্ধুমার মালদার বৈষ্ণবনগর থানার চামাগ্রাম হাইস্কুল

উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরেজি পরীক্ষার দিন নকল করতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ধুন্ধুমার মালদার বৈষ্ণবনগর থানার চামাগ্রাম হাইস্কুল। অভিযোগ,নকলে বাধা দেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের একাংশ সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের মারধর করে বলে অভিযোগ। এমনকি অফিস ঘরের চা তৈরীর গরম জল হুড়োহুড়ির মধ্যে শিক্ষকদের গায়ে পড়েও জখম হন কয়েকজন। বুধবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় এমন ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে চামাগ্রাম হাইস্কুল চত্বরে। পরে ঘটনার খবর পেয়ে ওই স্কুলে পৌঁছায় বৈষ্ণবনগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও ইংরেজি পরীক্ষা পরে সুষ্ঠু মতো সম্পন্ন হলেও, আতঙ্কে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষিকারা। এই হামলার ঘটনায় ৬ জন শিক্ষক জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ। যাদের মধ্যে দুইজনকে বৈষ্ণবনগর থানার বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছে।এদিকে এদিন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার তদারকি করতে মালদা এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কাউন্সিল সভাপতি চিরঞ্জিত ভট্টাচার্য। তিনিও পরীক্ষার শেষে ওই স্কুলে পরিদর্শনে যান এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এই হামলার বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জেলা শিক্ষা দপ্তরের কাছে চেয়ে পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কাউন্সিল সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর চামাগ্রাম হাইস্কুলে সিট পড়েছে কান্দিটোলা হাইমাদ্রাসা, চর সুজাপুর হাইস্কুল এবং পারলালপুর হাইস্কুলের। পরীক্ষা শুরুর সময় মেন গেটের সামনে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি চালাচ্ছিলেন কয়েকজন শিক্ষক। সেই সময় পরীক্ষার্থীদের একাংশ তল্লাশি চালানোর প্রতিবাদ জানিয়ে আচমকায় কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আর তাতেই পরীক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ মধ্যে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে যায় । পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ।চামাগ্রাম হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক বিলাশচন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, এদিন ইংরেজি পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে স্কুলের মেনগেট দিয়ে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রবেশ করছিল, তখন মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে কয়েকজন শিক্ষক তাদের তল্লাশি চালাচ্ছিল। সেই সময় তল্লাশি চালাতে বাঁধা দেয় একাংশ পরীক্ষার্থীরা। তখনই হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং সে সময় কয়েকজন শিক্ষকের ওপর একাংশ পরীক্ষার্থীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তখনকার মতো বিষয়টি মিটে গেলেও পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগেই হঠাৎ করে একদল পরীক্ষার্থী স্কুলের অফিস ঘরে ঢুকেই গোলমাল শুরু করে। প্রতিবাদ করাতেই শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়। কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করা হয়। সেই সময় টেবিলের চা তৈরির জন গামলায় গরম জল ছিল। সেটিও কয়েকজন শিক্ষকদের গায়ে এসে পড়ে। চামাগ্রাম হাই স্কুলের শিক্ষকদের বক্তব্য, পরীক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু পরবর্তী পরীক্ষাগুলিতে এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। রীতিমতো নকলে বাঁধা দেওয়ার কারণেই এদিন একাংশ পরীক্ষার্থীরা এই অশান্তি সৃষ্টি করেছে। পুরো বিষয়টি জেলা শিক্ষা দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পর এদিন দুপুরে চামাগ্রাম হাইস্কুলে গিয়ে পৌঁছায় পশ্চিমবঙ্গ হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কাউন্সিল সভাপতি চিরঞ্জিত ভট্টাচার্য । কথা বলেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে। চিরঞ্জীববাবু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এমন ঘটনা কখনো আশা করা যায় না। শিক্ষকেরা পরীক্ষার্থীদের নকলে বাধা দেওয়ার জন্যই তল্লাশি চালানোর কাজ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে শিক্ষকদের ওপর একাংশ পরীক্ষার্থীদের হামলা সেটা অত্যন্ত জঘন্য কাজ। ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা দপ্তরের কাছে পুরো রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছি। সবদিক দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে বহিরাগত কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মার্চ ০৫, ২০২৫
রাজ্য

গাড়ি উল্টে তরুণীর মৃত্যু, শেষমেশ গ্রেফতার বাবলু যাদব, বাকিরা অধরা

রবিবার গভীর রাত্রে পানাগড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় হুগলির চন্দননগরের সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের(২৭)। এই মৃত্যুর ঘটনায় পানাগড়ের কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগ ওঠে। যে সাদা রংয়ের গাড়িতে করে ওই যুবতীকে কটুক্তি করার অভিযোগ ওঠে সেই গাড়ির মধ্যে ছিলেন গাড়ির মালিক বাবলু যাদব। রবিবার দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া বাবলু ও গাড়িতে থাকা বাকিরা। কাঁকসা থানার পুলিশ বাবলু যাদব সহ বাকিদের সন্ধানে মঙ্গলবার বাবলু যাদবের বাড়িতে যায় এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল। ঘটনার চার দিনের মাথায় বাবলু যাদবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।অভিযুক্ত বাবলু যাদবকে গ্রেফতার করলেও বাকিরা এখনও অধরা। পুলিশের বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করেছে। আসানসোলের নিঘা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, ওই ঘটনায় প্রথমে ইভটিজিংয়ের দাবি করেছিল পরিবার। যদিও পুলিশ ইভটিজিংয়ের তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছে। বরং পুলিশ দাবি করা হয়েছে, দুটি গাড়ির রেষারেষির জেরেই ঘটে দুর্ঘটনা। সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের মা এদিন বলেছেন, যদিও গ্রেফতার হয়েছে একজন। বাকিদেরও গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করুক। আমি চাই সেদিনের ঘটনায় যাঁরা ছিলেন সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। পুলিশ কি আগে সেভাবেব তৎপরল হয়নি। ওই গাড়ির একজনকে গ্রেফতার করল। আমি সন্তানহারা হয়েছি। আমি চাই ছেলে বা মেয়ে হোক নির্বিশেষে সুরক্ষা থাকে। নিজের খুশি মত বাইরে বের হতে পারে। কেউ অসুস্থ হলে বাইরে ওষুধ আনতে কেউ যেতে পারবে না। সমাজে নিরাপত্তা পাওয়া তো অধিকার। কেন এই নিরাপত্তা পাব না। প্রত্যেককে নিরাপত্তা দেওয়া হোক।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
রাজ্য

পানাগড়ে তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবলু যাদব কে? তদন্তে সিআইডি

রবিবার গভীর রাত্রে পানাগড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় হুগলির চন্দননগরের সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের(২৭)। এই মৃত্যুর ঘটনায় পানাগড়ের কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগ ওঠে। যে সাদা রংয়ের গাড়িতে করে ওই যুবতীকে কটুক্তি করার অভিযোগ ওঠে সেই গাড়ির মধ্যে ছিলেন গাড়ির মালিক বাবলু যাদব। রবিবার দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া বাবলু ও গাড়িতে থাকা বাকিরা। কাঁকসা থানার পুলিশ বাবলু যাদব সহ বাকিদের সন্ধানে মঙ্গলবার বাবলু যাদবের বাড়িতে যায় এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল। ঘটনার দুদিন কেটে গেলেও এখনও বাবলু যাদবকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার বাসিন্দাদের। কেন এই বাবলু যাদব কে এখনও পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারছে না? সেই নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।কে এই বাবলু যাদব ?স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রায় দশ বছর আগে পানাগড়ে আসে বাবলু যাদব। পানাগড় বাজারের কাওয়ারি মার্কেটে এক ব্যক্তির দোকানে কাজ শুরু করে। সেখান থেকে পরে লোহার যন্ত্রাংশ অল্প পরিমাণে কেনা বেচার ব্যবসা শুরু করে। মূলত ছোট এবং বড় গাড়ির স্প্রিং পাতির ব্যবসা করতো বাবলু। পরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক বাংলাদেশের ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পানাগড়ে কাওয়ারি মার্কেটে মূলত পুরনো গাড়ির স্পেয়ার পার্টস কেনা বেচার বিরাট এলাকা জুড়ে ব্যবসা চলে। অবৈধ গাড়ির কেনা বেচা হয় সমস্তটাই পুলিশের নজর এড়িয়ে। মূলত এখানে ভিন রাজ্য থেকে বড় এবং ছোট গাড়ি কিনে এনে সেগুলিকে কাটাই করে তার সমস্ত যন্ত্রাংশ আলাদা করার পর লোহার কেজি দরে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকেই গাড়ির স্প্রিং পাতি কিনে সেগুলি অবৈধভাবে বাংলাদেশ পাচার করত বাংলাদেশী এক ব্যবসায়ীর হাত ধরে। এই ব্যবসা শুরু করার পর মাত্র দু বছরের মধ্যে রীতিমত ফুলে ফেঁপে ওঠে এই বাবলু যাদব। কাওয়ারি মার্কেটের মধ্যে একজন বড় ব্যবসায়ী হিসেবে তার পরিচিতি বাড়ে। স্প্রিং পাতির ব্যবসার সাথে চোরাই গাড়ি ও পুরনো গাড়ি কিনে সেগুলি বেআইনিভাবে কাটাই করে শুরু হয় আরো একটি ব্যবসা। পুলিশের নজর এড়িয়ে রমরমিয়ে চলতো তার ব্যবসা। গত এক বছর আগে ভিন রাজ্য থেকে একটি লরি কিনে এনে পানাগড় বাইপাসের ধারে একটি ফাঁকা জায়গায় লরিটি কাটাই করার সময় বুদবুদ থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে ধরে। বাবলু যাদবের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। বুদবুদ থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় বাবলু যাদব ও তার সঙ্গী সাথীরা। বাজেয়াপ্ত হয় ভিন রাজ্যের একটি গাড়ির বিভিন্ন পার্টস ও লরির যন্ত্রাংশ।আদালতে পেশ করার পর তারা পরে জামিনে মুক্তি পায়। রবিবার গভীর রাত্রে সেই বাবলু যাদব গাড়ির মধ্যে ছিলেন বলে দাবি করেছেন এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল। যদিও এসিপি জানিয়েছেন তারা বাবলু যাদবকে শীঘ্রই গ্রেফতার করবে। অন্যদিকে মঙ্গলবার কাঁকসা থানার ঘটনার তদন্তে নামে সিআইডি আধিকারিকরা। এদিন কাঁকসা থানায় আটক হওয়া দুর্ঘটনাগ্রস্থ দুটি গাড়ি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি গাড়ি দুটির ছবি ও নমুনা সংগ্রহ করেন সিআইডি আধিকারিকরা। পাশাপাশি পানাগড়ের রাইস মিল মোরে দুর্ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন তারা। এদিন কাঁকসা থানার পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গোটা এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় দুই সিভিক ভলেন্টিয়ারকে। যদিও এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে সিআইডির হাতে অফিসিয়ালি কোনও তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার বিকেলে কাঁকসা থানায় আসেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি ইস্ট অভিষেক গুপ্তা। এদিন তিনি দুর্ঘটনা গ্রস্থ গাড়ি দুটি খতিয়ে দেখেন। এদিন সাংবাদিকরা ডিসিপি-কে ঘটনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে গেলে। সাংবাদিকদের উপর ক্ষুব্ধ হন ডিসিপি অভিষেক গুপ্তা।এদিন তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র মিডিয়া সন্ত্রাসের কারণে। মিডিয়ায় খবর দেখে সকলে গা ঢাকা দিয়েছে। তার দাবি, সংবাদ মাধ্যমে সোমবার সকাল থেকে যে খবর দেখানো হয়েছে তা সত্য নয়। সোমবার আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি দাবি করেন কোনরকম ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা ঘটেনি। রেষারেষির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। সেই কথা মঙ্গলবার বিকেলে কাঁকসা থানায় এসে ফের দাবি করেন ডিসিপি।পুলিশ জানিয়েছে, ১০৫ ও ৩০৪ ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।গত রবিবার গভীর রাত্রে হুগলির চন্দননগর থেকে সুতন্দ্রা চ্যাটার্জি একটি ছোট গাড়িতে করে চালকসহ পিছনে তিনজনকে সাথে নিয়ে বিহারের গয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। সেখানে তাদের একটি নাচের অনুষ্ঠান ছিল। বুদবুদের আগে জাতীয় সড়কের ধারে একটি পেট্রোল পাম্পে তারা গাড়িতে তেল ভরার পর। জাতীয় সড়ক ধরে আসানসোলের দিকে যাওয়ার সময় একটি সাদা রঙের ছোট গাড়ি থেকে ৫ জন যুবক তাদের কটুক্তি করে বলে অভিযোগ ওঠে। দুটি গাড়ির মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়। এরপরই সাদা গাড়িতে থাকা পানাগড়ের বাসিন্দাদের গাড়ি ধাওয়া করে সুতন্দ্রার চার চাকাটি। পানাগড় বাজারের রাইস মিল রোডে সাদা গাড়িটি রাইস মিল রোডে ঢোকার মুখে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেখানে দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যায় সুতন্দ্রা।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৫
রাজ্য

মদ্যপ যুবকদের গাড়ির তাড়াতে দুর্ঘটনায় মৃত্য যুবতীর, পুলিশের পাল্টা দাবি!

নারী সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে রাজ্য। এবার জাতীয় সড়কে তরুণীর গাড়ি লক্ষ্য করে ধাওয়া মদ্যপ যুবকদের। পালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় তরুণীদের গাড়িটি। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা ওই তরুণীর। যদিও আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দাবি, দুটি গাড়ি রেষারেষি করছিল। কটূক্তি বা তাড়া করার বিষয়টি মানতে চায়নি পুলিশ।চন্দননগরের বাসিন্দা সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়। পেশায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্মী সুতন্দ্রা। রবিবার মাঝ রাতে তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে একটি গাড়ি করে চন্দননগর থেকে গয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন সুতন্দ্রা। সুতন্দ্রাদের গাড়ি চালকের দাবি, পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদে পৌঁছে তেল ভরার জন্য তাঁরা একটি পেট্রোল পাম্পে গিয়েছিলেন। পেট্রোল পাম্প থেকে তেল ভরার পরেই তাঁদের গাড়িকে ধাওয়া করে অন্য একটি গাড়ি।সেই গাড়িতে ছিল পাঁচ যুবক। ওই যুবকরা প্রত্যেকে মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। সুতন্দ্রাকে তারা কটুক্তি করতে থাকে, এরপরই সুতন্দ্রাদের গাড়ি ধাওয়া করতে শুরু করে যুবকদের গাড়িটি। কোনওক্রমে গাড়ি নিয়ে পালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রাস্তার পাশের দোকানে ধাক্কা মারে সুতন্দ্রাদের গাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি উল্টে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় এবার সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সুতন্দ্রাদের গাড়িতে থাকা প্রত্যেকেই চোট পেয়েছেন।পরবর্তী সময়ে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ। তবে অভিযুক্তরা এখনও অধরা রয়েছে। জাতীয় সড়কের CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।পেট্রোল পাম্প থেকেই বারে বারে সাদা গাড়িটি আমাদের গাড়িটিকে ওভারটেক করে। যখন তেল ভরে পেট্রোল পাম্প থেকে গাড়ি নিয়ে বেরোতে যায় তখনই আমাদের গাড়িটিকে বাঁ দিকে চেপে দেয় কিছু দূর গিয়ে আচমকা ব্রেক কষে। তরুণী মৃত্যুতে বিস্ফোরক বয়ান গাড়ির চালকের। দুর্ঘটনার পর ওই গাড়ি চালক দাবি করেন, পেট্রোল পাম্প থেকে বেরোনোর পরেই ওদের গাড়িটা আমাদের গাড়িতে এসে ধাক্কা দেয়। ম্যাডামের দিকে হাত নেড়ে অশ্লীল ইঙ্গিত করছিল ওরা। আমি গাড়ি থামালে ওরা ম্যাডামকে নামিয়ে তুলে নিয়ে চলে যেতে পারত। এদিকে গোটা ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছে মৃতার মা। মাত্র ৮ মাস আগেই স্বামীকে হারিয়েছেন। এবার পথদুর্ঘটনায় মেয়ের মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই বাকরুদ্ধ। হুগলির চন্দননগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাড়ুয়া রায়পাড়ার পুরোনো দোতলা বাড়িতে আজ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরু একচিলতে গলির ধারে বাড়িটির বাইরে এলাকার মানুষজন এবং মিডিয়ার ভিড়। নিজস্ব ট্রুপ নিয়ে প্রোগ্রাম করতে বেরিয়েছিলেন ওই বাড়ির মেয়ে বছর ২৭ এর সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়। গন্তব্য ছিল গয়া। গতকাল রাতেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৫
রাজ্য

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অশ্লীল ছবি নাবালিকার, মালদায় গ্রেফতার চারজন

নাবালিকাকে খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অশ্লীল ছবি তোলার অভিযোগে পুরাতন মালদা থানা এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করলো ঝাড়খণ্ডের রাঁচি জেলার পুলিশ। সোমবার পুরাতন মালদার কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেফতার করেছে রাঁচি জেলার পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় আরও একজন গা ঢাকা দেওয়াই তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দুইজন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া এবং বাকি দুইজন একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিন ধৃত চারজনকে মালদা আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন জানাই রাঁচি পুলিশ। ঝাড়খন্ডের রাঁচি জেলার নাগরি থানার অন্তর্গত আঙ্গোর রোড এলাকার একটি হোটেলেই পুরাতন মালদার ওই নাবালিকার ছবি তোলার পর ব্ল্যাকমেলের অভিযোগের ওঠে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। ওই নাবালিকার পরিবার পরবর্তীতে মালদায় এসে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জিরো এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুরাতন মালদা থানার পুলিশ রাঁচি জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগপত্র পাঠিয়ে দেয়। তারপরেই ওই জেলার পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয় রাঁচি পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরাতন মালদা থানার মঙ্গলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর এলাকার এক চিকিৎসক তার ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়েকে গত বছর নভেম্বর মাসে রাঁচিতে নিয়ে যান একটি স্কুলে ভর্তির বিষয়ের জন্য। সেই সময় রাঁচির যে হোটেলে ওই চিকিৎসক তার মেয়েকে নিয়ে উঠেছিলেন, সেই হোটেলে পুরাতন মালদা পুরসভা এলাকার ওই পাঁচজন যুবক ছিল। তারাও নিজেদের কাজে রাঁচিতে গিয়েছিল। সেই সুবাদে একে অপরের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর সেই সময় রাতে ওই চিকিৎসক তার মেয়েকে হোটেল রুমে রেখে, বাইরে খাবার আনতে যান। তখন এই পাঁচ যুবক ফন্দি এঁটে ওই নাবালিকাকে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। অচৈতন্য অবস্থায় ওই নাবালিকার অশ্লীল ছবি মোবাইলে তোলা হয়। পরে ওই নাবালিকাকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়। ৮ নভেম্বর এই ঘটনার পর ওই নাবালিকা রাঁচির হোটেলে অসুস্থ বোধ করে। তড়িঘড়ি চিকিৎসক বাবা মেয়েকে সঙ্গে করে নিয়ে মালদায় চলে আসেন। এরপর থেকে শুরু হয় ওই পাঁচ যুবকের ব্ল্যাকমেলের কর্মকাণ্ড। ঘটনার পর থেকেই কয়েকদিন ধরেই পুরাতন মালদার ওই পাঁচ যুবক ওই নাবালিকাকে ফোন করে মোটা টাকার দাবি করে। এরপরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই নাবালিকা। মেয়ের মানসিক পরিস্থিতির বিষয়ে সন্দেহ হতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন চিকিৎসকের পরিবার। এরপরই গোটা ঘটনার কথা বলে ফেলেন ওই নাবালিকা। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের লোকেরা গত ১১ নভেম্বর পুরাতন মালদা থানায় এলাকার পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে পুরাতন মালদা থানার পুলিশ জিরো এফআইআর-এর মাধ্যমে রাঁচি জেলার নাগরি থানায় সেই অভিযোগপত্র পাঠিয়ে দেয়। শুরু হয় তদন্ত। দুই মাস কেটে যাওয়ার পর জানুয়ারির মাসেই অভিযুক্তদের নামে ওয়ারেন্ট জারি করে রাঁচি আদালত। তারপরেই এদিন রাঁচি জেলার পুলিশ পুরাতন মালদা থানার সহযোগিতা নিয়ে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। একজন পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতদের নাম, অভিষেক দত্ত, সোমনাথ শর্মা, শান্তনু মন্ডল এবং অর্কপ্রভ দত্ত। এদের বাড়ি পুরাতন মালদা পুরসভার চিতোরপুর এবং তৈলমুন্ডাই এলাকায়। এদিকে ওই নাবালিকার পরিবার জানিয়েছেন, মেয়েকে যখন রাঁচিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই সময় পুরাতন মালদার এই পাঁচ যুবক একই হোটেলে উঠেছিল। নিজেদের এলাকার বলেই পরিচয় হয়। এরপরে ওই চারজন এরকম কাণ্ড ঘটবে ভাবতেই পারা যায়নি। নাবালিকাকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য মোটা টাকা দাবিও করেছিল অভিযুক্তরা। ওই নাবালিকা যদি রাঁচিতে ঘটনার কথা বলতো, তাহলে হয়তো সেখানে পুলিশকে অভিযোগ জানাতে যেত। পরবর্তীতে মালদায় ফিরে আসার পর বিষয়টি জানতে পারা যায়। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হই। যদিও এদিন মালদা আদালতে যাওয়ার পথে এক অভিযুক্ত অর্কপ্রভু দত্ত জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। এরকম কোনও ঘটনায় ঘটেনি। পুরাতন মালদা থানার পুলিশ জানিয়েছে, এক নাবালিকাকে মোবাইলে অশ্লীল ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে রাঁচি জেলার পুলিশ মালদায় এসেছিল। সংশ্লিষ্ট থানার সহযোগিতা নিয়ে চারজন যুবককে গ্রেফতার করে ট্রানজি রিমান্ডে রাঁচিতে নিয়ে গেছে ঝাড়খণ্ডের পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৫
কলকাতা

ভিন রাজ্যের দুই কুখ্যাত গ্যাংস্টার গ্রেফতার কলকাতায়, জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের

গতকাল গভীর রাতে চিংড়িঘাটা থেকে জামশেদপুরের কুখ্যাত গ্যাংস্টার মনোজ বিবার ও বিশাল বিবারকে গ্রেফতার করল বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল ধৃত এই দুই ভাই জামশেদপুরে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তাতে জখম হন ওখানকার ব্যবসায়ী। ঘটনার পর গা ঢাকা দিতে কলকাতায় চলে আসে। প্রথমে ট্রেনে করে সাঁতরাগাছিতে নামে সেখান থেকে তাদের গন্তব্য ছিল নিউটাউনে তার পরিচিত এক ব্যক্তির বাড়ি। কিন্তু চিংড়িঘাটার কাছে তাদের গতিবিধির সন্দেহজনক মনে হয়। বিধাননগর দক্ষিণ থানার টহলদারি গাড়ি নাকা চেক করছিল সেই সময়। সেই সময় পালানোর চেষ্টা করে এই দুই ভাই। সেখান থেকে অগ্নেয়াস্ত্র সহ মনোজ বিবর ও বিশাল বিবরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে তাদের সঙ্গে আর কেউ ছিল কিনা এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিধাননগর পুলিশের পক্ষ থেকে জামশেদপুর পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং তাদেরকে জামশেদপুর পুলিশের হাতে তুলে দেবে বিধান নগর পুলিশ, এমনটাই সূত্রের খবর। ফের ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতী এখানে ধরা পড়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পরেছে রাজ্য পুলিশের।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৫
রাজ্য

আজব কান্ড মালদায়, স্ত্রীকে ভিডিও কল করে আত্মঘাতী স্বামী

স্ত্রীকে ভিডিও কল করে আত্মঘাতী হলো স্বামী। মঙ্গলবার রাত এগারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদা থানার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই নম্বর বিমল দাস কলোনি এলাকায়। এই ঘটনায় বৌমা জৈতিকা মন্ডল সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে ছেলেকে আত্মহত্যার প্ররোচনা এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত যুবকের বাবা স্বাধীন হালদার। রাতেই পুলিশ ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। পুলিশের স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুরজিৎ হালদার (২৩)। ওই যুবক পেশায় দর্জির কাজ করতেন। গত নয় মাস আগে প্রেম করে মুর্শিদাবাদ জেলার নিমতিতা এলাকার বাসিন্দা জৈতিকা মন্ডলের সাথে তার বিয়ে হয় সুরজিৎ-এর। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই শশুর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যায় ওই গৃহবধূ বলে অভিযোগ। মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, জামাইবাবুর সাথে জৈতিকার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এনিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একটা মনোমালিন্য চলছিল। এরই মধ্যে এদিন সুরজিৎ তার স্ত্রীকে ভিডিও কল করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটায়। মৃত যুবকের বাবা স্বাধীন হালদার পেশায় ফাস্টফুড বিক্রেতা। তিনি বলেন, সাহাপুর ঝন্টুমোড়ে আমার তেলেভাজার দোকান রয়েছে। এই দোকানে আমার স্ত্রী মিঠু হালদারও ব্যবসা দেখেন। এদিন রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে দেখি ছেলের ঘরের দরজা বন্ধ। জানালা দিয়ে উঁকি মারতে দেখি ছেলে সিলিঙে গলায় গামছা জড়িয়ে ঝুলছে। এরপর দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখি ঝুলন্ত দেহের উল্টোদিকেই মোবাইলে ভিডিও কল চলছে। মোবাইলের এই ভিডিও কলের অপরপ্রান্তে রয়েছে পুত্রবধূ জৈতিকা মন্ডল। তার সামনেই আমার ছেলে ভিডিও কল করে লাইভ সুসাইড করেছে। মৃতের এক দিদি মৌসুমী হালদার জানিয়েছেন, গত ৮ মাস আগে বিয়ে করেছিল ভাই সুরজিৎ। ওদের বিয়েটা হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয় হয় এবং প্রেম করে। ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার নিমতিতা এলাকায়। কিন্তু দুই মাস সংসার করার পর ভাইয়ের স্ত্রী ওর বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিল। ভাইয়ের স্ত্রীর চরিত্র ভালো ছিল না। জৈতিকার সঙ্গে তার জামাইবাবুর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেটা জানতে পেরেই ভাই প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু তারপর থেকেই ভাইকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করা হচ্ছিল। এদিন রীতিমতো কুড়ি মিনিট মোবাইলে ভিডিও কল করে লাইভ সুসাইডের ঘটনাটি ঘটায় আমার ভাই। সেই সময় ইচ্ছে করলেই জৈতিকা মন্ডল ফোন করে আমাদের জানাতে পারতো। তাহলে আমরা ভাইকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারতাম। কিন্তু সেটা করা হয়নি। তাই পুরো ঘটনাটি নিয়ে ভাইয়ের স্ত্রী ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে পুরাতন মালদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 16
  • 17
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

গল টেস্টে ভয়াবহ মুহূর্ত! রাহুলের শটে হেলমেটে বল, হাসপাতালে শ্রীলঙ্কার ওপেনার

ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই গলে তৈরি হল উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কেএল রাহুলের জোরালো সুইপ শটের বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করল শ্রীলঙ্কার ওপেনার নিশান মধুশকার হেলমেটে। শর্ট লেগে ফিল্ডিং করার সময় এই আঘাত পান তিনি। ঘটনার পর দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও। কনকাশন পরীক্ষা করার পর মধুশকাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে। প্রভাত জয়াসূর্যের করা ওভারের পঞ্চম বলটি রাহুল সুইপ করেন। বলটি ব্যাটের মাঝখান থেকে প্রচণ্ড গতিতে শর্ট লেগ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধুশকা বিপদ বুঝে দ্রুত মাথা নিচু করার চেষ্টা করলেও বলের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি তাঁর হেলমেটের মাঝামাঝি অংশে সজোরে আঘাত করে।আঘাতের পর বলটি ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। ফলে রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের ব্যাটাররা রান সম্পূর্ণ করেন। রাহুল অবশ্য প্রথমে রান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু করে দেওয়ায় রানটি সম্পূর্ণ করতে হয়। রান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুশকার দিকে ছুটে যান রাহুল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এরপর দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও এবং চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মধুশকার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তাঁকে আর মাঠে রাখা হয়নি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর চোটের প্রকৃতি বা গুরুতরতা এবং তিনি পরবর্তীতে এই টেস্টে ব্যাট করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মধুশকার চোটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় সরাসরি বল লাগার ঘটনায় ক্রিকেটে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুলের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় দল। প্রথম উইকেটে দুজনে ৬৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন।তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে ছন্দপতন ঘটে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সওয়াল। ৩৭ বলে ৩২ রানের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রাহুল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দুজনেই ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাড়িক্কল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করার পাশাপাশি রাহুলও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলে প্রথম সেশনেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।লাঞ্চের সময় ২৭ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০১ রান। একদিকে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট, অন্যদিকে মধুশকার চোটপ্রথম দিনের প্রথম সেশন তাই দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন ছবি তুলে ধরল। এখন সকলের নজর নিশান মধুশকার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাতঙ্গিনীর রক্তাক্ত পতাকা, বাঙালির হৃদয়ে অমর এই পাঁচ স্বাধীনতা সংগ্রামী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবীকে, তেমনই তাম্রলিপ্তের মাটিতে উঠে এসেছে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা স্বাধীনতার লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে উঠে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। ১১ আগস্ট ১৯০৮ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর নির্ভীকতা ও হাসিমুখ বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবলিদান বাংলার নারীশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুশীল ধারা-র। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের যুদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিদ্যুৎ বাহিনী, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রথম সর্বাধিনায়ক। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত এই সমান্তরাল সরকার তমলুক ও কাঁথি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকারের কার্যক্রম ছিল উল্লেখযোগ্য।এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান থেকে মাতঙ্গিনীর পতাকা হাতে মৃত্যুবরণ, আর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সংগঠিত প্রতিরোধ, এই সমস্ত অধ্যায় প্রমাণ করে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন বিপ্লবীর কাহিনি নয়। এটি ছিল অসংখ্য মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

নির্মলকে ঘিরে থানা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা, ডিম-জুতোর মালা! অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী উঠে এল?

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্মলকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে এবং গান বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়।বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক জন নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় এবং লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে।অন্যদিকে, শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ওই রাতের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছেন।গত ৯ অগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুদিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তাঁর সন্ধান পায় রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শ্মশানঘাটে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

বেরনোর সুযোগও পেলেন না! চামোলির সুড়ঙ্গে আচমকা জলস্রোত, মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আটকে আরও ২

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা তীব্র জলস্রোত ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও দুই শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চামোলির পিপলকোটির মায়াপুরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শিফট বদলের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জল ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতেই বেশ কয়েক জন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনার উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।আহত শ্রমিকদের স্থানীয় গোপেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকারী দল আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলস্তর কমিয়ে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী ভাবে এত বিপুল জল সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal