• ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

India

খেলার দুনিয়া

World Cup : আবার কবে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেল ভারত?‌ জানতে পড়ুন

২০২৩ সালে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ভারত। আগে থেকেই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে আছে। ৩ বছর পর আবার বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেল ভারত। তবে একদিনের নয়, ২০২৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে টি২০ বিশ্বকাপ। তবে এককভাবে নয়, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। ২০৩১ সালে আবার বিশ্বকাপ আয়োজন করবে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে। তবে ২০২৯ সালে এককভাবে আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসির ইভেন্টের সূচি আগে থেকেই চূড়ান্ত ছিল। পরবর্তী ১০ বছর অর্থাৎ ২০৩১ সাল পর্যন্ত আবার নতুন সূচি ঘোষণা করল আইসিসি। ২০২৪ সালে আবার হবে টি২০ বিশ্বকাপ। যৌথভাবে আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আমেরিকা। জুন মাসে হবে এই প্রতিযোগিতা। আমেরিকায় ক্রিকেট প্রসারের উদ্দেশ্যে আইসিসি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমেরিকাকে জুড়ে দিয়েছে। ২০১৭ সালের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতা আবার ফেরানো হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানে হবে এই প্রতিযোগিতা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে হবে টি২০ বিশ্বকাপ। পরের বছর একদিনের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া। ২০২৮ সালে টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। পরের বছর আবার ভারতে হবে আইসিসির প্রতিযোগিতা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। অক্টোবর মাসে হবে এই প্রতিযোগিতা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল বাদে ১১ বছর পর আবার কোনও আইসিসির প্রতিযোগিতা আয়োজন করার সুযোগ পাবে ইংল্যান্ড। ২০৩০ সালে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে। কোন দেশ প্রতিযোগিতার আয়োজনের দায়িত্ব পাবে, তা নিলামের মাধ্যমে ঠিক হয়েছে। সৌরভ গাঙ্গুলি, মার্টিন স্নেইডেন, রিকি স্কেরিটকে নিয়ে আইসিসি একটা সাবকমিটি তৈরি করেছিল। বিভিন্ন দেশ প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, সেই প্রস্তাবের যাবতীয় নথিপত্র যাচাই করে এই কমিটি আয়োজকদের নাম সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে আইসিসি আয়োজক বেছে নিয়েছে। ৮টি ইভেন্টের জন্য ১৭টি দেশের মোট ২৮টি প্রস্তাব জমা পড়েছিল।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Hardik Pandya : ‘‌১০ টাকার ম্যাগি খাওয়া ক্রিকেটার ৫ কোটি টাকার ঘড়ি পরছেন!‌’‌

শেষ কবে বাইশ গজে ভাল পারফরমেন্স করে সংবাদের শিরোনামে এসেছেন হার্দিক পান্ডিয়া? তথ্যটা জানতে গেলে পরিসংখ্যানবিদদের সাহায্য নিতে হবে। মাঠের মধ্যে পারফরমেন্স না থাকলেও বাইরে কিন্তু দারুণ খেলছেন হার্দিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবসময় দারুণ জনপ্রিয়। টি২০ বিশ্বকাপ চলাকালীনও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন হার্দিক। তবে পারফরমেন্স করে নয়। তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন ভারতীয় দলের এই অলরাউন্ডার। তবে মাঠে পারফরমেন্স করে নয়, দুবাই থেকে বহুমূল্যের ঘড়ি কিনে দেশে ফিরে। মুম্বই বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগের কর্তারা নাকি তাঁর ৫ কোটি টাকা মূল্যের ঘড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। হার্দিক অবশ্য এই ঘটনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনিতেই হার্দিকের দামী ঘড়ির প্রতি আলাদা নেশা রয়েছে। বহুমূল্যের ঘড়ি দেখলেই সংগ্রহে রাখার ইচ্ছে জন্মায়। তাঁর সংগ্রহে প্রচুর ঘড়ি রয়েছে। যার ছবি বহুবার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন হার্দিক। দুবাইতে গিয়ে দামী ঘড়ির লোভ সামলাতে পারেননি। কিন্তু তাঁর কাছে ঘড়ির ইনভয়েস না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। টি২০ বিশ্বকাপ খেলে সোমবার সকালে মুম্বই বিমানবন্দরে ফেরেন হার্দিক পান্ডিয়া। বিমানবন্দরে ফেরার পর শুল্ক বিভাগ তাঁর ৫ কোটি টাকা মূল্যের ঘড়ি বাজেয়াপ্ত করে বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হার্দিক। তাঁর দাবি, তিনি নিজেই শুল্ক বিভাগের কর্তাদের কাছে দুবাই থেকে কেনা জিনিসপত্র জমা দিয়েছেন সেগুলির শুল্ক নির্ধারণের জন্য। টুইট করে হার্দিক পান্ডিয়া জানিয়েছেন, ১৫ নভেম্বর সোমবার সকালে মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর ল্যাগেজ সংগ্রহ করি। তারপর নিজেই বিমানবন্দরে কাস্টমস কাউন্টারে গিয়েছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দুবাই থেকে আমি কোন কোন জিনিস কিনেছি, তার বিস্তারিত বিবরণ কাস্টমস অফিসারদের দিয়েছি। বলেছি, এই জিনিসগুলির যতটা পরিমান শুল্ক হবে, তা দিতে আমি তৈরি। আর ঘড়িটার দাম ৫ কোটি টাকা নয়, দেড় কোটি টাকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর জানানোর পরো রীতিমতো ট্রোলড হচ্ছেন হার্দিক। কেউ কেউ লিখেছেন, ১০ টাকার ম্যাগি খেয়ে বড় হওয়া হার্দিক এখন ৫ কোটি টাকার ঘড়ি পরছেন। এটা না করে ফিটনেসে নজর দিলে দেশের লাভ হত।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Cricket : রাহুল দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ

রাহুল দ্রাবিড়ের পরিবর্ত হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ডিরেক্টরের দায়িত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। ভিভিএস লক্ষ্মণকে এই পদে চেয়েছিলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। প্রাথমিকভাবে রাজি ছিলেন না ভিভিএস লক্ষ্মণ। অবশেষে তিনি রাজি হয়েছেন। রাহুল দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন তিনি। ৪ ডিসেম্বর কলকাতায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বাৎসরিক সাধারণ সভায় সরকারিভাবে লক্ষ্মণের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি শিলমোহর পড়বে।একসময় রাহুল দ্রাবিড় ভারতীয় সিনিয়র দলের হেড কোচ হতে রাজি ছিলেন না। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধানের দায়িত্বে থাকতেই আগ্রহী ছিলেন। পরে সৌরভ গাঙ্গুলির অনুরোধে তিনি রবি শাস্ত্রীর পরিবর্তে বিরাট কোহলিদের দায়িত্ব নিতে রাজি হন। দ্রাবিড় ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচের দায়িত্ব নেওয়ায় জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ডিরেক্টরের পদ খালি হয়েছিল। ভারতীয় বোর্ড কর্তারা প্রথম থেকেই চেয়েছিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণকে এই পদে বসাতে। কিন্ত তিনি রাজি ছিলেন না। আসলে তিনি হায়দরাবাদ ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে আসতে ইচ্ছুক ছিলেন না। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব নিলে বছরে প্রায় ২০০ দিন বেঙ্গালুরুতে তাঁকে থাকতে হবে। তাছাড়া অন্যান্য দায়িত্বও ছাড়তে হবে। যেমন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মেন্টরের পদ, টিভি কমেন্ট্রি, সংবাদপত্রে কলাম লেখা ইত্যাদি দায়িত্ব।এরপর লক্ষ্মণকে রাজি করাতে আসরে নামেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি বারবার লক্ষ্মণের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে শেষ পর্যন্ত রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব নেবেন বলে ইতিমধ্যেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মেন্টরের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। টিভি চ্যানেলের সঙ্গে তাঁর ধারাভাষ্য দেওয়ার যে চুক্তি ছিল, সেই চুক্তিও ছিন্ন করেছেন। বাংলার ব্যাটিং পরামর্শদাতার দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নিয়েছেন। শুধু জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব সামলানোই নয়,। ভারতীয় এ দলের এবং ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের দায়িত্বও সামলাতে হবে ভিভিএল লক্ষ্মণকে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা চেয়েছিলেন দেশের দুই কিংবদন্তীকে ক্রিকেটের সেরা দুটি জায়গাতে বসাতে। সেই লক্ষ্যে তাঁরা সফল।

নভেম্বর ১৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

U-19: সংসারে চরম অভাব–অনটন, দেশের হয়ে খেলার লক্ষ্যে পূর্ব বর্ধমানের তরুণীর অদম্য লড়াই

দীর্ঘদিন আগেই বাবা মারা গেছেন। মায়ের কাছে বেড়ে ওঠা। সেই মেয়ের চোখে একরাশ স্বপ্ন বড় ক্রিকেটার হওয়া। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের মেয়ে শ্রীলেখা রায়। স্বপ্নপূরণ হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে বাংলার এই মহিলা ক্রিকেটার।ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময়ই স্ত্রী ও কন্যাকে ছেড়ে চলে যান শ্রীলেখা রায়ের বাবা। মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন তিনি। ৮ বছর আগে মারা গিয়েছেন। ছোট থেকেই মায়ের কাছে মানুষ হয়েছে শ্রীলেখা। বাবাকে হারানোর পর রাস্তার ধারে ঘুঘনি বিক্রি করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। তবু খেলার নেশা তাকে কখনও ছাড়েনি। বাড়ির কাছে ছেলেদের ক্রিকেট খেলা দেখেই উৎসাহিত হয়েছিল ছোট্ট শ্রীলেখা। একদিন হাজির হয় অগ্রগামী ক্লাবে অনির্বান হাজরা ও নীলকন্ঠ পাঁজার কাছে। সেখানেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি শ্রীলেখা রায়ের। জেলা ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরমেন্সের পর জায়গা হয় দমদম বিডব্লুসিসি ক্লাবে। এখানেই শ্রীলেখা রায়কে ঘষে মেজে তৈরি করেন বাংলা মহিলা ক্রিকেটের দুই মুখ মিঠু মুখার্জি ও বিনীতা রায় মৌলিক। ২০১৫ সাল থেকেই এই কোচিং সেন্টারে প্রথাগত ক্রিকেট শিক্ষা শুরু।বাংলার বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ না পেয়ে ২০১৭ সালে শ্রীলেখা পাড়ি দেয় মিজোরামে। দুটি মরশুম সেখানে কাটিয়ে আবার ফিরে আসে বাংলায়। এই মরশুমে বাংলার জার্সি গায়ে খেলছে শ্রীলেখা। তার নজরকাড়া পারফরমেন্সের সুবাদে এবছর মহিলাদের অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যালেঞ্জার ট্রফিতে খেলার সুযোগ পায়। চ্যালেঞ্জারে মোট চারটি দল অংশ নিয়েছিল। ভারত এ, বি, সি এবং ডি। ভারত এ দলে ছিল শ্রীলেখা। দুটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। একটা ম্যাচে ৩ ওভার এবং অন্য ম্যাচে ৫ ওভার বোলিং করার সুযোগ এসেছিল। ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭ রান করেছিল বাংলার এই অলরাউন্ডার।মা কলকাতায় বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে। সামান্য আয় দিয়েই মেয়ের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শ্রীলেখা রায় বলছিল, যেদিন সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পাব, সেদিনই আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। অর্থের অভাবে খেলার সরঞ্জাম কিনতে পারে না শ্রীলেখা। চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি খেলে ফিরে আসার পর শ্রীলেখার বাড়িতে ছুটে গেছেন ভাতার থানার ওসি। তুলে দিয়েছেন খেলার সরঞ্জাম। ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। শ্রীলেখার জন্য গর্বিত ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের মানুষ। গ্রামের মানুষকে আরও গর্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় শ্রীলেখা।

নভেম্বর ১৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli : একদিনের ম্যাচে কবে নেতৃত্ব ছাড়ছেন বিরাট কোহলি?‌ বড় ইঙ্গিত দিলেন রবি শাস্ত্রী

আগেই ঘোষণা করেছিলেন বিশ্বকাপের পরই টি২০ ক্রিকেটে দেশকে আর নেতৃত্ব দেবেন না। সেই মতো রোহিত শর্মার হাতে টি২০ দলের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। একদিনের ম্যাচেও বিরাট কোহলির হাতে নেতৃত্ব থাকবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার আগেই সসম্মানে একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বিরাট কোহলি। এমনই জানিয়েছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। পাশাপাশি টি২০ বিশ্বকাপে দেশের ব্যর্থতার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে আবার কাঠগড়ায় তুলেছেন রবি শাস্ত্রী। সংবাদ মাদ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘদিন জৈব সুরক্ষা থাকার ফলে ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিল। এটাই ব্যর্থতার মূল কারণ। ঠাসা ক্রীড়াসূচির কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার টানা ৬ মাস বাড়ির বাইরে। এমন অনেক ক্রিকেটার রয়েছে, যারা তিন ধরণের ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলেছে। ফলে সব মিলিয়ে বছরে ২৫ দিনের বেশি বাড়িতে কাটানোর সময় পায়নি। মানসিক ক্লান্তি নিয়ে সেরাটা দেওয়া যায় না। যেটা হয়েছিল পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচে। সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডের উচিত, ক্রিকেটারদের মানসিক ক্লান্তির কথা মাথায় রেখে ক্রীড়াসূচি তৈরি করা। বিশ্বকাপে ভারতের ব্যর্থতার পর কপিলদেবও ঠাসা ক্রীড়াসূচি, সঠিক সূচি নির্ধারণের কথা বলেছিলেন। কপিলদেবের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন রবি শাস্ত্রী। শুধু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনা করেই থেমে থাকেননি রবি শাস্ত্রী। বিরাট কোহলির নেতৃত্ব নিয়েও বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিরাট কোহলি খুব তাড়াতাড়িই একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবে। কোহলি টেস্ট ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের কেরিয়ার আরও দীর্ঘায়িত করতে চায়। তাই টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভালভাবে মনোনিবেশ করার জন্য একদিনের ক্রিকেটেও নেতৃত্ব ছেড়ে দেবে। তবে কবে কোহলি একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন, সে বিষয়ে খোলসা করে কিছু বলেননি রবি শাস্ত্রী। সামনের বছর জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ খেলে নেতৃত্ব ছাড়তে পারেন কোহলি।

নভেম্বর ১২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : ‌কোহলি–শাস্ত্রী জুটির পরিসমাপ্তি, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পরিসংখ্যান

টি২০ ক্রিকেটে ভারতীয় দলের আর্ম ব্যান্ড হাতে আর মাঠে নেতৃত্ব দিতে দেখা যাবে না বিরাট কোহলিকে। বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেন হিসেবে কোহলির ছিল শেষ ম্যাচ। কোচ হিসেবে রবি শাস্ত্রীরও এটাই ছিল শেষ ম্যাচ। শাস্ত্রীকোহলি জুটির সেরা সাফল্য ইংল্যান্ডের মাটিতে ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাটেতে দুদুবার টেস্ট সিরিজে হারিয়েছে ভারত। তবে আসল জায়গায় ব্যর্থ। আইসিসির কোনও প্রতিযোগিতায় দেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেনি এই জুটি। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রীর পরিসংখ্যান। ২০১৭ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত থেকে টি২০ ক্রিকেটে দেশের দায়িত্ব তুলে নেন বিরাট কোহলি। তারপর থেকে তিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৫০টি টি২০ ম্যাচে। সোমবার বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিরুদ্ধেই কোহলির ছিল অধিনায়ক হিসেবে ৫০ তম ম্যাচ। ৫০ তম ম্যাচে দলকে জয় এনে দিলেও বিশ্বকাপে ব্যর্থতার তকমা গায়ে সেঁটেই নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে হল কোহলিকে। দেশকে ৫০টি টি২০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৩০টিতে জয় এনে দিয়েছেন কোহলি। হেরেছেন ১৬টিতে। ২টি ম্যাচ টাই হয়েছে। আর ২টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। কোহলির পূর্বসূরী মহেন্দ্র সিং ধোনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৭২ ম্যাচে। জিতেছিলেন ৪১টি ম্যাচ। ২৮টি ম্যাচে হারতে হয়েছিল। ১ট ম্যাচ টাই, ২টি ম্যাচে কোনও ফলাফল হয়নি। অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি ৫০টি টি২০ ম্যাচে রান করেছেন ১৫৭০। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসেবে জীবনের শেষ টি২০ ম্যাচে ব্যাট হাতে মাঠে নামেননি কোহলি। টি২০ ক্রিকেটে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী অধিনায়কদের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তিনি। তবে অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম ১ হাজার টি২০ রানের মালিক বিরাট কোহলি। মাত্র ৩০টি ইনিংসে তিনি এই মাইলস্টোনে পৌঁছেছিলেন। অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক হাফ সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন কোহলি। এই বিশ্বকাপে তাঁকে টপকে গেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও নিউজিল্যানন্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। পাকিস্তান, বাংলাদেশ বাদে সব টেস্ট খেলিয়ে দেশের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ জেতারও নজির রয়েছে বিরাট কোহলির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর জুটি হিসেবে দেখা যাবে না অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রীকে। কোচ হিসেবে শাস্ত্রীর জমানায় ভারত ৪৩টি টেস্ট খেলেছে। জিতেছে ২৫টি এবং হেরেছে ১৩টিতে। একদিনের ক্রিকেটে ৭৬টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ৫১টিতে, হেরেছে ২২টি। টি২০ ক্রিকেটে ৬৪টি ম্যাচে ভারতকে কোচিং করিয়েছেন শাস্ত্রী। জয় এসেছে ৪২টিতে এবং হার ১৮টিতে।

নভেম্বর ০৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : ‌নিময়রক্ষার ম্যাচে নামিবিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ ভারতের

রবিবারই নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান ম্যাচের পরেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের ভাগ্য। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে সোমবারের ম্যাচ ছিল নিয়মরক্ষার। সেই নিয়মরক্ষার ম্যাচে নামিবিয়াকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে এবারের টি২০ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল ভারত। ভারতের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিলেন। তবে বোলাররাও এদিন দারুণ বোলিং করেন। টস জিতে এদিন নামিবিয়াকে ব্যাট করতে পাঠান ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩২ রানের বেশি তুলতে পারেনি নামিবিয়া। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে নামিবিয়া তোলে ৩৪/২। ৪.৪ ওভারে ৩৩ রানের মাথায় মাইকেল ভ্যান লিঞ্জেনকে তুলে নেন মহম্মদ সামি। ৫.৩ ওভারে রবীন্দ্র জাদেজা আউট করেন ক্রেগ উইলিয়ামসকে (০)। ৯.১ ওভারে ৪৭ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় নামিবিয়া। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকায় বড় রান তুলতে পারেনি। ২৫ বলে সর্বাধিক ২৬ রান করেন ডেভিড উইসে। স্টিফেন বার্ড করেন ২১। অধিনায়ক এরাসমাস আউট হন ১২ রানে। জান ফ্রাইলিঙ্ক ১৫ বলে ১৫ ও রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ৬ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। রবীন্দ্র জাদেজা ১৬ রানে ৩টি, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ২০ রানে ৩টি, যশপ্রীত বুমরা ৪ ওভারে ১৯ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট পান।ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মা। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৮৬। ৯.৫ ওভারের মাথায় জ্যাঁ ফ্রাইলিঙ্কের বলে আউট হন রোহিত শর্মা। ৭টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ৩৭ বলে ৫৬ রান করে আউট হন রোহিত। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। এদিন বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টি ২০ আন্তর্জাতিকে ৩ হাজার রানের মাইলস্টোন পেরোলেন রোহিত শর্মা। প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন বিরাট কোহলি। চলতি বিশ্বকাপে মার্টিন গাপটিল ও রোহিত শর্মা টি ২০ আন্তর্জাতিকে তিন হাজার রান পূর্ণ করলেন। চলতি বিশ্বকাপে তৃতীয় তথা কেরিয়ারের ১৫তম টি ২০ অর্ধশতরান পূর্ণ করে ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিলেন লোকেশ রাহুল। টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানও করলেন রাহুল। তবে নিজে না নেমে বিরাট কোহলি তিনে কেন সূর্যকুমার যাদবকে নামালেন তা নিয়ে চলছে চর্চা। লোকেশ রাহুল চারটি চার ও দুটি ছয়ের সাহায্যে ৩৬ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৯ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন সূর্যকুমার যাদব। ২৮ বল বাকি থাকতে ১ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। ম্যাচের সেরা রবীন্দ্র জাদেজা।

নভেম্বর ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : ‌‌পরের বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের জন্য কী পরামর্শ দিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ?‌

এবছর টি২০ বিশ্বকাপে ষষ্ঠ বোলারের অভাবে ভারতকে যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম দুটি ম্যাচে। পাকিস্তান ম্যাচে তো একটা উইকেটও তুলতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ২টি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হয়েছিল। যদি দলে ষষ্ঠ বোলার থাকত, হয়তো তাঁর হাত ধরেই ব্রেক থ্রু আসতে পারত। পরের বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে যাতে ষষ্ঠ বোলারের অভাবে ভারতকে ভুগতে না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্ণণ। পাশাপাশি ষষ্ঠ বোলারের অভাব কীভাবে মেটানো যায়, সে পরামর্শও দিয়েছেন ভারতীয় দলের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিভিএস লক্ষ্মণ বলেছেন, ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপে ভারতকে সাফল্য পেতে গেলে এমন কয়েকজন ব্যাটারকে দলে নিতে হবে, যারা বল করতে পারে। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ভারতকে ষষ্ঠ বোলারের অভাবে ভুগতে হয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়ার ফিটনেস নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ষষ্ঠ কিংবা সপ্তম বোলার হাতে থাকলে অধিনায়কের ওপর চাপ অনেক কমে যায়। দলে এমন ব্যাটার নিতে হবে যে অস্ট্রেলিয়ায় টি২০ বিশ্বকাপে ২ ওভার বল করতে পারবে। অস্ট্রেলিয়ায় পরের বছর টি২০ বিশ্বকাপে এই বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশে পেসাররা বেশি সাহায্য পাবে। বল বেশি সুইং না করলেও উইকেটে গতি ও বাউন্স থাকবে। তাই ভারতকে এমন কয়েকজন পেসার দলে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লক্ষ্ণণ, যাদের বলে গতি আছে। ভারতীয় দলের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় বল খুব বেশি সুইং করবে কিনা সে ব্যাপারে আমি ততটা নিশ্চিত নই। তাই দলে এমন জোরে বোলার রাখতে হবে, যাদের বলে গতি আছে। যে উইকেট থেকে গতি ও বাউন্স আদায় করে নিতে পারবে। লক্ষ্ণণ মনে করছেন যার বলে বৈচিত্র্য রয়েছে, সেই জোরে বোলার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাফল্য পাবে। পাশাপাশি ঈশান কিষানের মধ্যে ভারতের টি২০ দলের ওপেনার হওয়ার দক্ষতা আছে বলে মনে করছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে ঈশান কিষানকে তিনি ওপেনার হিসেবে দেখতে চান। লক্ষ্মণ বলেন,ঈশান যেরকম খেলে, তাতে পাওয়ার প্লের ফিল্ডিংয়ের সুবিধা নিতে পারবে। ওর মধ্যে দারুণ প্রতিভা রয়েছে। সাহসী শট খেলার ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষ। ভয়ডরহীন ভাবে শট খেলতে পারে। বড় ওপেনার হওয়ার সব গুন ওর মধ্যে রয়েছে। যদিও ভারতীয় দলে এই মুহূর্তে ওপেনার হিসেবে রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল রয়েছে, তবে ঈশানকে টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে ব্যবহার করবে, যেটা ওদের ব্যাপার।

নভেম্বর ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

t20 World Cup : দেশের খেলার চেয়ে আইপিএলকে বেশি প্রাধান্য কোহলিদের?‌ গর্জে উঠলেন প্রাক্তন ক্রিকেট মহাতারকা

টি২০ বিশ্বকাপে ভারত সেমিফাইনালে উঠতে না পারায় ফুঁসছে গোটা দেশ। ক্রিকেটপ্রেমীরা থেকে শুরু করে প্রাক্তন ক্রিকেটার, প্রত্যেকেই হতাশ। ভারতের বিপর্যয় নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছে। শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিরাট কোহলিদের বিদায়ে গর্জে উঠেছেন প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক কপিলদেব। তাঁর মতে, দেশের হয়ে খেলার চেয়েও ক্রিকেটাররা আইপিএলকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কপিলদেব বলেছেন, ক্রিকেটাররা যদি দেশের হয়ে খেলার চেয়ে আইপিএলকে বেশি প্রাধান্য দেয়, তখন আমরা কী বলত পারি? ক্রিকেটারদের তাদের দেশের হয়ে খেলার জন্য অবশ্যই গর্বিত হওয়া উচিত। আমি ক্রিকেটারদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জানি না তাই বেশি কিছু বলতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি প্রথমে দেশের হয়ে খেলাটাই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। তারপর ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে খেলা। আমি বলছি না যে ক্রিকেটাররা আইপিএলে খেলবে না। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার দেশের হয়ে খেলাটাকে বেশি গুরুত্ব দেয় না, আইপিএলে খেলাটাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে বিষয়টি দেখতে হবে। এখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব আরও ভালভাবে পরিকল্পনা করে দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই টি২০ বিশ্বকাপে আমরা যে ভুল করেছি তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেটাই হবে আমাদের কাছে বড় শিক্ষা। পরের বছরই আবার বসবে টি২০ বিশ্বকাপের আআসর। কপিলদেব মনে করেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের উচিত পরের বিশ্বকাপের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করা। প্রাক্তন এই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক বলেন, এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সময়। এখন থেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুরু করা উচিত। এমন নয় যে বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে মানেই ভারতীয় দলের ক্রিকেটও শেষ হয়ে গেছে। বসে না থেকে এখন থেকেই পরিকল্পনা করুক। আইপিএলের পরপরই বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে। ক্রিকেটাররা একেবারেই বিশ্রাম পায়নি। এই বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডেরও সমালোচনা করতে দ্বিধা করেননি কপিলদেব। তিনি বলেন, আমি মনে করি আইপিএল এবং টি২০ বিশ্বকাপের মধ্যে কিছুটা ব্যবধান থাকা উচিত ছিল। যাতে ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পেত। তবে আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের প্রচুর এক্সপোজার রয়েছে। ক্রিকেটাররা তার সঠিক প্রয়োগ করতে পারেনি। প্রত্যেক ক্রিকেটারের উচিত এই ব্যর্থতার দায় নেওয়া। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০১২ সালের পর এই প্রথম আইসিসির কোনও প্রতিযোগিতা থেকে ভারত এত তাড়াতাড়ি বিদায় নিয়েছে।

নভেম্বর ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : ‘‌ব্যাগ–পত্তর গুছিয়ে বাড়ি চলে যাব’‌, কেন এমন কথা বললেন রবীন্দ্র জাদেজা?

টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে সেমিফাইনালের রাস্তা কঠিন করে ফেলেছে ভারত। পরপর দুটি ম্যাচে আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নেট রান রেট অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছেন বিরাট কোহলিরা। যদিও সেমিফাইনালে যাওয়ার রাস্তা মোটেই সুগম নয়। জটিল অঙ্কের ওপর নির্ভর করছে ভারতের সেমিফাইনালের ভাগ্য। রবিবার আফগানিস্তানের কাছে নিউজিল্যান্ড হারলে শেষ চারের ছাড়পত্র মিলবে বিরাট কোহলিদের। কারণ নেট রান রেটে আফগানিস্তানের থেকে এগিয়ে ভারত। আর নিউজিল্যান্ড জিতলে কোনও সম্ভাবনাই থাকবে না। ভারত কি শেষ পর্যন্ত পাবে সেমিফাইনালের টিকিট? স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ম্যাচের সেরা রবীন্দ্র জাদেজার কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল, আফগানিস্তানের কাছে নিউজিল্যান্ড হারলে ভারতের সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ এসে যাবে। আর নিউজিল্যান্ডের কাছে আফগানিস্তান হারলে কী করবেন? হাসতে হাসতে রবীন্দ্র জাদেজা উত্তর দেন, আবার ব্যাগপত্তর গুছিয়ে বাড়ি চলে যাব। এছাড়া আর কী করব। রবীন্দ্র জাদেজার এই জবাব সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনরাও যথেষ্ট মজা পেয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজার কথা শুনে। পরপর দুটি ম্যাচে আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। ৪ ম্যাচে কোহলিদের পয়েন্ট ৪। ৬ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে নিউজিইল্যান্ড। ৪ পয়েন্ট আফগানিস্তানের। নেট রান রেটে তারা ভারতের থেকে পিছিয়ে রয়েছে। পরপর দুটি ম্যাচে আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নেট রান রেটে নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে ভারত। তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ড জিতলে ভারতের সব প্রয়াস ব্যর্থ হয়ে যাবে। তবে এখনও আশা ছাড়ছে না ভারতীয় শিবির। যতই হোক ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা। কখন অঘটন ঘটে যায়, কেউ বলতে পারবে না। সেই অঘটনের আশায় বসে আছে ভারতীয় শিবির। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে মজা করছিলেন মহম্মদ সামি, যশপ্রীত বুমরাআ, রবীন্দ্র জাদেজারা। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনেও জাদেজার সেই কৌতুক। জাদেজার স্পিনের সামনে দঁাড়াতেই পারেনি স্কটল্যান্ড। দুবাইয়ের আবু জায়েদ স্টেডিয়ামের বাইশ গজের সুবিধা দারুণ কাজে লাগিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা। ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে স্কটল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। তিনিই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন। ম্যাচের পর জাদেজা বলেন, দুবাইয়ের উইকেটে বোলিং দারুণ উপভোগ করেছি। বল যথেষ্ট ঘুরছিল। ব্যারিংটনের উইকেটটাই আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এইভাবে খেললে কোনও দলই হারাতে পারবে না।

নভেম্বর ০৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : রোহিত–রাহুলের সৌজন্যে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে গেল ভারত

ভারত কি পারবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ছাড়পত্র আদায় করতে? ভাগ্য ঝুলে রয়েছে সুতোর ওপর। সামনে অনেক জটিল অঙ্ক। শেষ ম্যাচে শুধু নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জিতলেই হবে না, নির্ভর করতে হবে নিউজিল্যান্ডআফগানিস্তান ম্যাচের দিকে। জটিল অঙ্কে ঢোকার আগে শুক্রবার স্কটল্যান্ডকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে নেট রান রেট অনেকটাই ভাল জায়গায় নিয়ে গেল। স্কটল্যান্ডের তোলা ৮৫ রান টপকে গেল মাত্র ৬.৩ ওভারে। নেট রান রেটে আফগানিস্তানকে টপকাতে ভারতকে জিততে হত ৭.১ ওভারে। আর নিউজিল্যান্ডকে নেট রান রেটে টেক্কা দিতে ভারতকে জিততে হত ৮.৫ ওভারে। দুই দলকেই টপকে গেল কোহলি ব্রিগেড।দুর্বল প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে যেভাবে জ্বলে উঠলেন লোকেশ রাহুলরোহিত শর্মারা, প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারলে সেমিফাইনাল ভাগ্য সুতোর ওপর ঝুলত না। তার ওপর টস ভাগ্যও এদিন কোহলি সহায় ছিল। এবারের টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম টস জিতলেন কোহলি। টস জিতে স্কটল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান। লক্ষ্য নেট রান রেটের কথা মাথায় রেখে অঙ্ক কষে খেলা।স্কটল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কা দেন যশপ্রীত বুমরা। তৃতীয় ওভারে তুলে নেন কাইল কোয়েৎজারকে (১)। ষষ্ঠ ওভারে জর্জ মুনসেকে (২৪) তুলে নেন মহম্মদ সামি। এরপরই শুরু হয় রবীন্দ্র জাদেজার ভেলকি। রিচি বেরিংটন (০), ম্যাথু ক্রস (২), জ্যাঁ লিয়াস্ককে (২১) তুলে নিয়ে স্কটল্যান্ডের মিডল অর্ডারে ধস নামান। ক্রিস গ্রেভসকে (১) ফেরান রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ১৭তম ওভারে ৩ উইকেট হারায় স্কটল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ১৭.৪ ওভারে মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে যায়। রবীন্দ্র জাদেজা ও মহম্মদ সামি ১৫ রানে ৩টি করে উইকেট পান।নেট রান রেট বাড়ানোর লক্ষ্যে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন ভারতের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মা। ১৬ বলে ৩০ রান করে পঞ্চম ওভারের শেষ বলে আউট হন রোহিত। ভারতের রান তখন ৭০। পরের ওভারের শেষ বলে আউট হন লোকেশ রাহুল। ১৯ বলে ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। ৬.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৮৯ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।

নভেম্বর ০৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : হঠাৎ কেন অভিমানী রোহিত শর্মা?‌ জানতে পড়ুন

টি২০ বিশ্বকাপের পর সীমিত ওভারের ক্রিকেটের নেতৃত্ব পাকাপাকিভাবে যে তাঁর হাতেই আসছে, বুঝে গেছেন রোহিত শর্মা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে তেমন ইঙ্গিতও পেয়েছেন। দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি মানসিকভাবে তৈরি। এখন শুধু সরকারিভাবে দায়িত্ব পাওয়ার অপেক্ষায়।পরপর দুটি ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ভারতের কাছে। আগের ম্যাচে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিলেও অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। ভারতীয় দলের পারফরমেন্স নিয়ে চারিদিকে সমালোচনার ঝড়। সমালোচনা হওয়ায় যথেষ্ট অভিমানী রোহিত। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর তিনি বলেন, করোনার জন্য এখন আমাদের জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তার মধ্যেই টানা ক্রিকেট খেলতে হচ্ছে। কঠিন পরিস্থিতিতে পড়াটা স্বাভাবিক। মাঠে নেমে লড়াই করতে গেলে মানসিকভাবে তরতাজা থাকতে হয়। মানসিকভাবে তরতাজা না থাকলে কখনও কখনও সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হয়ে যায়। বিশ্বকাপে প্রথম দুটি ম্যাচে আমরা ফোকাস ঠিক রাখতে পারিনি। এর অর্থ এই নয় যে আমরা খারাপ ক্রিকেটার। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ভাল ক্রিকেট উপহার দিয়ে এসেছি। দুটি ম্যাচে ভুল করেছিলাম। সেই ভুল শুধরে আফগানিস্তানে ঘুরে দাঁড়িয়েছি।রোহিত আরও বলেন, বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল, ঋষভ পন্থ, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, আমি দীর্ঘদিন ধরে দেশের হয়ে খেলছি। আমাদের কাজ কী, আমরা জানি। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কে কেমন খেলল, সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না। দেশের হয়ে কোন ক্রিকেটার কেমন খেলতে সেটাই দেখতে হবে। আফগানিস্তান ম্যাচ জিতলেও ফাইনালের কথা এখন মাথাতেই রাখতে চাইছেন না রোহিত। তিনি বলেন, ফাইনালের কথা ভাবছিই না। আফগানিস্তাননিউজিল্যান্ড ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে আমাদের ভাগ্য। ওই ম্যাচটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আফগানিস্তানে বিরুদ্ধে ম্যাচের পরই জানতে পেরেছিলেন রাহুল দ্রাবিড় হেড কোচের দায়িত্ব নিচ্ছেন। নতুন কোচকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রোহিত বলেন, দ্রাবিড় ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তী। এবার অন্য ভুমিকায় ফিরছেন। স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা দ্রাবিড়ের কোচিংয়ে খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।

নভেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World cup : রেকর্ড পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে জয় এনে দিলেন রোহিত–রাহুল

পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের কাছে পরপর দুম্যাচে পরাজয়ের পর অবশেষে টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল ভারত। বুধবার আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে হারাল ৬৬ রানে। আফগানদের বিরুদ্ধে জিতে সেমিইফাইনালের আশা জিইয়ে রাখল বিরাট কোহলির দল। যদিও সেমিফাইনালের ছাড়পত্র পেতে গেলে অনেক জটিল অঙ্ক পার করতে হবে ভারতকে। এবারের বিশ্বকাপে টস ভাগ্য একেবারেই সহায় নয় বিরাট কোহলির। আগের দুটি ম্যাচে টস হারার পর এদিনও টস হারেন। টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় আফগান অধিনায়ক মহম্মদ নবি। আগের দুটি ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ান রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল। শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন ভারতের দুই ওপেনার। এই ম্যাচে রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলের যুগলবন্দী চোখে আঙুল দেখিয়ে দিল নিউজিল্যান্ড ম্যাচে রোহিতকে তিনে নামিয়ে ওপেনিং জুটি ভাঙার বড় ভুল। ওপেনিং জুটিতে ১৪০ রান যোগ করেন রোহিতরাহুল। টি২০ বিশ্বকাপে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ। ৪৭ বলে ৭৪ রান করে করিম জানাতের বলে মহম্মদ নবির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রোহিত। রোহিত আউট হওয়ার পর তিন নম্বরে নামা ঋষভ পন্থকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান লোকেশ রাহুল। শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৬৯ রান করে তিনি গুলবাদিন নইবের বলে বোল্ড হন। কোহলির পরিবর্তে এদিন চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন হার্দিক পান্ডিয়া। ক্রিজে এসে তিনি ঝড় তোলেন। ১৩ বলে ৩৫ রান করে হার্দিক অপরাজিত থাকেন। চার নম্বরে নামা ঋষভ পন্থ ১৩ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ভারত ২ উইকেট হারিয়ে তোলে ২১০। জয়ের জন্য ২১১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি আফগানিস্তান। ১৩ রানের মধ্যে আফগানিস্তানের দুই ওপেনার মহম্মদ শাহজাদ (০) ও হজরতুল্লাহ জাজাই (১৩) ফিরে যান। শাহজাদকে আউট করেন মহম্মদ শামি, বুমরাহ তুলে নেন জাজাইয়ের উইকেট। পাওয়ারপ্লে-র ৬ ওভারের শেষে আফগানদের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৪৭। এরপর রহমানুল্লাহ গুরবাজ ১৯ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার শিকার হন। গুলবদিন নঈব (১৮) ও নাজিবুল্লাহ জারদানকে (১১) আউট করেন অশ্বিন। ১১.৫ ওভারে ৬৯ রানের মধ্যে পড়ে পঞ্চম উইকেট। এরপর জয়ের সম্ভাবনা না থাকলেও নেট রান রেটের কথা মাথায় রেখে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন করিম জানাত ও অধিনায়ক মহম্মদ নবি। মহম্মদ নবিকে (৩২ বলে ৩৫) তুলে নেন মহম্মদ সামি। একই ওভারে রশিদ খানকে (০) ফেরান। ২২ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন করিম জানাত।

নভেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌T20 World Cup : আফগানিস্তান ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে গেলেন বিরাট কোহলি!‌

পরপর দুম্যাচে পরাজয়। এবারের টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আশা অনেকটাই ক্ষীণ। এমনিতেই চাপে ছিলেন। তার ওপর সতীর্থদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে সমালোচনার শিকার হয়েছেন। দুটি ম্যাচে হেরে ঘরে বাইরে রীতিমতো কোনঠাসা ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এতটাই চাপে রয়েছেন যে, আফগানিস্তান ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনেই এলেন না। পাঠিয়ে দিলেন ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরকে! বিরাট কোহলির সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেই অনেকবার তিনি ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে আসেননি। কখনো সহকারী অধিনায়ককে পাঠিয়েছেন, কখনও সতীর্থ কোনও ক্রিকেটারকে। কখনও আবার ব্যাটিং কোচ কিংবা ফিল্ডিং কোচকে। কিন্তু টি২০ বিশ্বকাপে যে পরিস্থিতিতে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে এলেন না, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মঙ্গলবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কোহলিসহ গোটা টিম যে যথেষ্ট চাপে রয়েছে, সেটা পরিস্কার। সেমিফাইনালে যেতে গেলে বাকি তিনটি ম্যাচ শুধু জিতলেই হবে না, নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নেট রান রেটও বাড়িয়ে রাখতে হবে। ভারতীয় শিবির অবশ্য নেট রান রেট, জটিল অঙ্ক এসব মাথায় রাখছে না। ভাল খেলার ওপরই মনোযোগ দিচ্ছে। সেকথাই শোনা গেছে ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরের মুখে। শুনতে অবাক লাগবে, পরপর দুটি ম্যাচে ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও তাঁদের কাঠগড়ায় তুলতে রাজি নন বিক্রম রাঠোর। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। সূর্যকুমার যাদবকে আবার প্রথম একাদশে ফেরানো হতে পারে। দীর্ঘদিন পর আবার দেশের হয়ে টি২০ ক্রিকেটে মাঠে দেখা যেতে পারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে, বরুণ চক্রবর্তীর জায়গায়। ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওপেনিং থেকে সরানো হয়েছিল রোহিত শর্মাকে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আবার ওপেনিংয়ে ফিরছেন ভারতীয় দলের সহঅধিনায়ক। হার্দিক পান্ডিয়াকে প্রথম একাদশে রাখা হবে কিনা, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। প্রথম দুটি ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা প্রসঙ্গে রাঠোর বলেন, দলে যথেষ্ট ব্যাটিং গভীরতা রয়েছে। কিন্তু আমরা পরিকল্পনা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। তাছাড়া দুটি ম্যাচেই প্রথমে ব্যাট করতে হওয়ায় অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। ব্যাটাররা বড় শট খেলতে পারেনি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী বিক্রম রাঠোর।

নভেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli : মানুষ এতটা নীচে নামতে পারে!‌ কোহলির ১০ মাসের শিশু কন্যাক ধর্ষণের হুমকি!‌

দেশের হারে মন খারাপ হতেই পারে। তাই বলে ক্রিকেটারদের পরিবারকে টেনে নিয়ে আসতে হবে? তাও আবার ১০ মাসের শিশু কন্যাকে! পশুরও অধম ছাড়া তাদের আর কীই বা বলা যেতে পারে। মানুষ যে এত নীচে নামতে পারে সত্যিই কল্পনার অতীত। সতীর্থ মহম্মদ সামির পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিরাট কোহলির ১০ মাসের শিশু কন্যা ভামিকাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনই জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ইনজামাম উল হক।কিছু লোক ভারতীয় ক্রিকেট দলের বন্ধুত্বকে হজম করতে পারেনি। তারা অত্যন্ত নিম্ন রুচির পরিচয় দিয়েছে। মহম্মদ সামির পাশে দঁাড়াননোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরাট কোহলিকে যেমন ট্রোল করা হয়েছে, তেমনই কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মার দশ মাসের শিশু কন্যা ভামিকাকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে। ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি বরাবরই অত্যন্ত সাহসী মন্তব্য করে থাকেন। যা ভুল মনে করেন, তার বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নেন। চলতি টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ধর্মের কারণে মহম্মদ সামিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল মহম্মদ সামি নাকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেরাটা দেননি। সামির সমালোচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে কোহলি বলেছিলেন, কাউকে তার ধর্ম নিয়ে আক্রমণ করা আমার কাছে সবচেয়ে খারাপ কাজ। নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রত্যেকেরই তাদের মতামত জানানোর অধিকার আছে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনও কারও ধর্ম নিয়ে বৈষম্যের কথা ভাবিনি। প্রতিটি মানুষের কাছে তাঁর নিজের ধর্ম অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং পবিত্র জিনিস। সেটা তাঁর ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমরা মাঠে নেমে ব্যক্তিগতভাবে কী করি, কতটা পরিশ্রম করি, কেউ জানে না। যারা মাঠের বাইরে বসে সামিকে আক্রমণ করেছে, তারা মেরুদণ্ডহীন। সামনে এসে কথা বলার সাহস নেই। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হারের পরে কোহলির ১০ মাসের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ইনজামাম উল হক তীব্র ভাষায় নিন্দা করে সকলকে এই বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের ইউ টিউব চ্যানেলে ইনজামাম বলেছেন, শুনেছি বিরাট কোহলির মেয়েকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সকলকে বুঝতে হবে এটা শুধু একটি খেলা। আমরা হয়তো বিভিন্ন দেশের হয়ে খেলছি কিন্তু আমরা একই সম্প্রদায়ের একটি অংশ। কোহলির ব্যাটিং বা তার অধিনায়কত্বের সমালোচনা করার অধিকার আপনার আছে কিন্তু একজন ক্রিকেটারের পরিবারকে টার্গেট করার অধিকার কারো নেই। কিছুদিন আগে মহম্মদ সামির সঙ্গে এমনই ঘটনা ঘটেছিল। জয়পরাজয় খেলার একটি অঙ্গ। কোহলির পরিবারকে আক্রমণ করতে দেখে আমি গভীরভাবে আহত হয়েছি। টুইটারে এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

নভেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : কোহলির ওপর চরম অসন্তুষ্ট কপিলদেব, সমালোচনা করে কী বললেন?‌

পরপর দুটি ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে ভারতের কাছে। এই অবস্থায় কিউয়িদের কাছে হারের পর ম্যাচের শেষে বিরাট কোহলি বলেছিলেন, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যে ধরণের সাহসী ক্রিকেট খেলার দরকার ছিল, তা আমরা খেলতে পারিনি। মাঠে নামার আগে থেকেই শরীরী ভাষায় পিছিয়ে ছিল দলের ক্রিকেটাররা। সতীর্থদের সম্পর্কে এই ধরণের মন্তব্য কখনোই কাম্য নয়। কোহলির এই মন্তব্য ঘিরে চারিদিকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভারতের প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক কপিলদেব বলেছেন, অধিনায়ক বিরাট কোহলির কাছ থেকে এই ধরণের মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। কোহলির সমালোচনা করে কপিলদেব বলেছেন, কোহলির মতো বড় মাপের অধিনায়কের কাছ থেকে এই ধরণের মন্তব্য কখনোই কাম্য নয়। এটি একটি দুর্বল বিবৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা যদি এইরকম থাকে আর অধিনায়কের চিন্তাধারা যদি এইরকম হয়, তাহলে দলের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো খুবই কঠিন। মনোবল ফিরিয়ে নিয়ে আসা এককথায় অসম্ভব। আমরা সবাই জানি কোহলি জেতার জন্য সবসময় মরিয়া থাকে। রানের জন্য ক্ষুধার্ত থাকে। তবে এই ধরণের মন্তব্য করে ঠিক করেনি। ওর মুখে এই কথা শুনে আমার অবাক লেগেছে। হারের হতাশা থেকেই হয়তো কথাটা বলে ফেলেছে। আমরা সাহসী হতে পারিনি, এমন কথা বলা একজন অধিনায়কের কখনোই বলা উচিত নয়।এই অবস্থায় দলের মনোবল ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য দলের কোচ রবি শাস্ত্রী এবং মেন্টর মহেন্দ্র সিং ধোনিকে বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কপিলদেব। তিনি বলেছেন, দলের এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে আমার বন্ধু রবি শাস্ত্রী ও মহেন্দ্র সিং ধোনিকে অনুরোধ করছি দলের মনোবল ফেরানোর উদ্যোগ নিতে। এই মুহূর্তে ধোনির কাজ হল ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে ওদের আত্মবিশ্বাস ফেরানো। সেমিফাইনালের ছাড়পত্র পেতে গেলে ভারতকে বাকি তিনটি ম্যাচে জিততেই হবে, পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডকে আফগানিস্তানের কাছে হারতে হবে। তাহলেই সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।ভারতকে যে এইরকম অন্য দলের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হবে, মেনে নিতে পারছেন না কপিলদেব। তিনি বলেন, অন্য দলের পারফরমেন্সের ওপর নির্ভর করে আমাদের সেমিফাইনালে যেতে হবে, আমি এটা একেবারেই পছন্দ করছি না। যদি সেমিফাইনালে যেতেই হয়, তাহলে নিজের যোগ্যতায় যাও। অনেক পারফরমেন্সের ভিত্তিতে নিজেদের আশা করতে হবে, এটা ভাল ব্যাপার নয়।

নভেম্বর ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup‌: নিউজিল্যান্ডের কাছেও লজ্জার হারে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা কার্যত শেষ ভারতের

তাবড় তাবড় বিশেষজ্ঞরা বিরাট কোহলিদের ওপর বাজি ধরেছিলেন। এবারের টি২০ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে। প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে সেই দলেরই কিনা সেমিফাইনালের সম্ভাবনা কার্যত শেষ! মেনে নিতে কষ্ট হলেও এটাই বাস্তব। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৮ উইকেটে হেরে শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেল ভারতের। সেমিফাইনালে যেতে গেলে বাকি তিনটি ম্যাচে কোহলিদের শুধু জিতলেই হবে না, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের হারের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। এদিন টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ম্যাচের আগের দিন কোহলি বলেছিলেন, টি২০ ক্রিকেটে টস বড় ফ্যাক্টর। কথাটা ভুল বলেননি ভারত অধিনায়ক। আইপিএল থেকে দেখা গেছে দুবাইয়ে বেশিরভাগ ম্যাচে রান তাড়া করা দল জয়ী হয়েছে। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। দলে প্রথম একাদশে বদল, কম্বিনেশন বদল করেও নিজেদের বদলাতে পারল না ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে দুটি পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল ভারত। সূর্যকুমার যাদবের পিঠে হঠাৎ ব্যথা হওয়ায় প্রথম একাদশে ঈশান কিষাণ। ভুবনেশ্বর কুমারের বদলে শার্দূল ঠাকুর। ওপেনিং জুটিতেও বদল। লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ঈশান কিষাণ। রোহিত শর্মা তিন নম্বরে, চারে অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তাতেও শ্রী ফিরল না ভারতীয় ব্যাটিংয়ে। পাকিস্তান ম্যাচে বাঁহাতি বোলারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ ভারতীয় ব্যাটাররা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। বাঁহাতি জোরে বোলার ট্রেন্ট বোল্ট শুরুতেই তুলে নেন ঈশান কিষাণকে। তৃতীয় ওভারে বোল্টকে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে মিচেল স্যান্টেনারের হাতে ধরা পড়েন ঈশান (৮ বলে ৪)। পরের বলেই রোহিত শর্মার ক্যাচ ফেলে দেন অ্যাডাম মিলনে। ষষ্ঠ ওভারে লোকেশ রাহুলকে (১৬ বলে ১৮) তুলে নেন টিম সাউদি। এক ওভার পরেই ইস সোধির বলে আউট রোহিত (১৪ বলে ১৪)। একাদশতম ওভারের প্রথম বলে বিরাট কোহলি (১৭ বলে ৯) আউট হতেই চাপে পড়ে যায় ভারত। সেই চাপ থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি। কোহলিকে ফেরান ইস সোধি। দুবাইয়ের উইকেটে বল ব্যাটে আসে। তা সত্ত্বেও ইস সোধি, মিচেল স্যান্টেনারের মতো বোলারদের সামলাতে হিমসিম খেলেন কোহলিরা। ঋষভ পন্থও (১৯ বলে ১২) শট খেলতে ভুলে গেছেন। হার্দিক পানন্ডিয়া (২৪ বলে ২৩) ও রবীন্দ্র জাদেজার (১৯ বলে ২৬) সৌজন্যে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১১০/৭ তোলে ভারত। দুরন্ত বোলিং করে ৪ ওভাআরে ২০ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন বোল্ট। ৪ ওভারে ১৭ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন ইস সোধি। যত দুর্বল প্রতিপক্ষই হোক না কেন, ১১০ রান হাতে নিয়ে লড়াই করা কঠিন। পারেনি ভারতও। মার্টিন গাপটিল (১৭ বলে ২০) ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই তাঁকে সাজঘরে পাঠান যশপ্রীত বুমরা। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান। ড্যারেল মিচেল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। দলের ৯৬ রানের মাথায় মিচেলকে (৩৫ বলে ৪৯) বুমরা তুলে নিলেও কিউয়িদের জয় আটকায়নি। ১৪.৩ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড (১১১/২)। ৩১ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন কেন উইলিয়ামসন। যশপ্রীত বুমরা ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। ভারতের বিরুদ্ধে শুধু ৮ উইকেটে জেতেনি নিউজিল্যান্ড। নেট রান রেটও বাড়িয়ে রেখেছে।

অক্টোবর ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : নিউজিল্যান্ডে বিরুদ্ধে বোলিং করবেন কোহলি?‌ প্রথম একাদশ নিয়ে ধোঁয়াশা ভারতের

রবিবার দুবাইয়ে টি২০ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে ভারত। এই ম্যাচের ওপর ভারতের সেমিফাইনালের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে। এই রকম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে প্রথম একাদশ নিয়ে ধোঁয়াশা রাখলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।সবথেকে বড় প্রশ্ন হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞ হার্দিককে নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বসানোর দাবি তুলেছেন। পাকিস্তান ম্যাচে কাঁধে চোট পেলেও ভারতীয় দলের এই অলরাউন্ডার ফিট। বুধবার নেটে ব্যাটিংবোলিং করেছিলেন। শনিবারও নেটে পুরোদমে অনুশীলন করেন। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বোলিং করতে পারবেন না বলে কোহলি জানিয়ে দিয়েছেন। তবে হার্দিককে প্রথম একাদশে রাখা হবে কিনা, সে প্রসঙ্গে কিছু বলেলনি ভারতীয় দলের অধিনায়ক।ভুবনেশ্বর কুমারের জায়গায় শার্দুল ঠাকুরকেও খেলানোর দাবি উঠেছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিন শার্দুলের ব্যাপারে কোহলি বলেন, শার্দুল ঠাকুরকে খেলানোর বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টের মাথায় রয়েছে। তবে শার্দুল প্রথম একাদশে থাকবে কিনা, এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। তবে ভুবনেশ্বর কুমারেরও পাশে দাঁড়িয়েছেন কোহলি। তিনি বলেন, পাকিস্তান ম্যাচে ব্যর্থতার জন্য একজনকে দায়ি করা ঠিক হবে না। যেসব বোলারদের নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অতীতে ওরা দলকে বহু ম্যাচে জিতিয়েছে। প্রতিদিন মাঠে নেমে বিপক্ষের সব উইকেট তুলে নেওয়া সম্ভব নয়। পাকিস্তান ম্যাচের ভুলত্রুটিগুলো চিহ্নিত করেছি। ভুল শুধরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামব।টি২০ ক্রিকেটে টস সবসময়ই ফ্যাক্টর। সেকথা মনে করিয়ে দিয়েছেন বিরাট কোহলি। তিনি বলেন, টি২০ ক্রিকেটে টস সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ফ্যাক্টর হবে। তবে টসে যাইহোক না কেন, দল সব ধরণের পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি। পাকিস্তান ম্যাচের পর এক সপ্তাহ বিশ্রাম পেয়েছে ভারত। কোহলির লক্ষ্য, ভুল শুধরে মাঠে নামা। নিউজিল্যান্ডের জন্য পরিকল্পনা তৈরি ভারতীয় শিবিরের। তাঁর বিশ্বাস, মাঠে নেমে পরিকল্পনা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে জেতা সম্ভব। নিজে বোলিং করবেন কিনা, সে প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ষষ্ঠ বোলার হিসেবে দুওভার বল করতেই পারি। পাকিস্তান ম্যাচে যদি আমরা আগে ফিল্ডিং করলে দুওভার বোলিং করতাম। কোহলি ধোঁয়াশা রাখলেও ভারতীয় দলে প্রথম একাদশে রদবদলের সম্ভাবনা আছে। ঈশান কিষানকে খেলানো হতে পারে।

অক্টোবর ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

TWO World Cup-Kohli : সামির সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ কোহলির, বললেন মেরুদণ্ডহীন

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় জঘন্য ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছিল মহম্মদ সামিকে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সামির সমালোচকদের তীব্র ভাষায় সমালোচনা করলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। সমালোচকদের মেরুদণ্ডহীন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রায় একসপ্তাহ পর মুখ খুললেও কোহলির এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।এতদিন মহম্মদ সামির পায়ে দাঁড়িয়ে কোনও বিবৃতি দেননি ভারতীয় দলের কোনও সদস্য। সামির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র একটা ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। ভারতীয় বোর্ড ক্রিকেটারদের নির্দেশ দিয়েছিল সামির সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন কোনও মন্তব্য না করে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কোহলি সামির সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করেছেন। কোহলি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোনও কাউকে এভাবে আক্রমণ করা যায়, ভাবতেই পারি না। যারা সামিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ করেছে, তারা মেরুদণ্ডহীন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরণের মানুষ আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে, এটা খুবই খারাপ। আমাদের সাহস রয়েছে, চারিত্রিক দৃঢ়তা আছে। এমন কিছু মানুষ রয়েছে, যাদের কোনও সাহস নেই, ভাল কাজ করার ক্ষমতা নেই, শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যকে আক্রমণ করে। আমরা মাঠে নেমে যা করতে পারি তা করার ক্ষমতা নেই।কোহলি আরও বলেন, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে সামনাসামনি বলার সাহস নেই। নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যজনকে নিয়ে আক্রমণ করে। অন্যকে নিয়ে মজা করা এখন অনেকের কাছেই বিনোদন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ হিসেবে খারাপ কাজ করতেও অনেকে পিছপা হচ্ছেন না। মাঠে নেমে আমরা কী করতে চাই তা আমাদের সকলের কাছেই পরিষ্কার। প্রত্যেকের চারিত্রিক দৃঢ়তা সম্পর্কেও আমরা ওয়াকিবহাল। মাঠে নেমে আমরা যা করে, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কুৎসা ছড়ায়, তারা ভাবতেই পারি না। তাই ওইসব মানুষকে আমরা পাত্তা দিই না। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আক্রমণ করা খুবই জঘন্য কাজ। হতাশা থেকেই তারা এসব করে থাকে।সামির পাশে দাঁড়িয়ে কোহলি আরও বলেন, যারা সামিকে আক্রমণ করেছে, তারা জানে না ভারতকে কত ম্যাচে ওরা জিতিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে বুমরার পাশাপাশি সামি আমাদের প্রধান বোলার। গত কয়েক বছর ধরে সামি ভারতীয় দলের জন্য যা করেছে তা সবাই দেখে নিতে পারে। দেশের প্রতি সামির আবেগকে যারা অগ্রাহ্য করে আক্রমণ করছে তাদের নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করতে চাই না। আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধে কেউ চিড় ধরাতে পারবে না। দলের প্রত্যেকে সামির পাশেই রয়েছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sunil Gavaskar : নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশ নিয়ে চমকপ্রদ পরামর্শ সুনীল গাভাসকারের

রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত। হারলেই সেমিফাইনালে ওঠার কাজ অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বাকি ম্যাচগুলো জেতার পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে নিউজিল্যান্ডের দিকেও। কিউইদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথম একাদশ কী হওয়া উচিত, এই নিয়ে নানা রকম পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সুনীল গাভাসকারের পরামর্শ, প্রথম একাদশে দুটি পরিবর্তন করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামুক ভারত। ভারতের এই প্রাক্তন অধিনায়কের মতে, হার্দিক পান্ডিয়ার পরিবর্তে ফিনিশারের ভুমিকায় ঈশান কিষাণকে খেলানো যেতে পারে। এছাড়া ভুবনেশ্বর কুমারের জায়গায় শার্দুল ঠাকুরকে খেলানোর পরামর্শও দিয়েছেন গাভাসকার। আইপিএল চলাকালীন ঈশান কিষানের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতের এই প্রাক্তন অধিনায়ক। বলেছিলেন, ভারতীয় টি২০ দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য আর তাগিদ দেখাচ্ছেন না। শেষদিকে অবশ্য জ্বলে উঠেছিলেন ঈশান কিষান। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচেও রান পেয়েছিলেন। এবার তাঁকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন সুনীল গাভাসকার। তাঁর পরামর্শ, হার্দিক পান্ডিয়া যদি বোলিং করতে না পারেন, তাহলে শুধু ব্যাটার হিসেবে হার্দিককে খেলানোর কোনও যুক্তি নেই। বরং ফিনিশারের ভুমিকায় ঈশানকে খেলানো হোক।ভুবনেশ্বর কুমারের জায়গায় শার্দুল ঠাকুরকে খেলানোরও পক্ষপাতি গাভাসকার। আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বের আগে ভারতীয় দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। সিরিজে একটা ম্যাচে ৪ উইকেট নিযেছিলেন। তারপর থেকে একেবারেই দাগ কাটতে পারেননি। আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বেও ছন্দে ছিলেন না। ৬ ম্যাচে মাত্র ৩ উইকেট পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচেও ব্যর্থ। পাকিস্তান ম্যাচেও ব্যর্থতা অব্যাহত। শার্দুল ঠাকুর আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে দারুণ ছন্দে ছিলেন। ৮ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৫ উইকেট। তাছাড়া শার্দুলের ব্যাটের হাতও ভাল। তাই শার্দুলকে খেলানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন গাভাসকার। অন্যদিকে সঞ্জয় মঞ্জরেকারও স্পিন বিভাগে পরিবর্তনের কথা বলেছেন। ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে এমন স্পিনারদের সুযোগ দেওয়া উচিত, যারা উইকেট নিতে পারে। ভারতকে জিততে গেলে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পেতে হবে। রবীন্দ্র জাদেজা কিংবা রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সেই দক্ষতা নেই। ওরা রান আটকাতে পারে, কিন্তু উইকেট তুলতে পারবে না।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 19
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • ...
  • 34
  • 35
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

ইডেনে মোদীর জন্য ‘হোম’ ড্রেসিংরুম, শুভেন্দু'র ‘অ্যাওয়ে’! ১০ হাজার শিল্পীর অনুষ্ঠান, সাজছে ক্রিকেটের নন্দনকানন

কলকাতা: ইডেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে তুঙ্গে তৎপরতা। সূত্র মারফত জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ হচ্ছে ইডেন গার্ডেন্সের হোম ড্রেসিংরুমযে ড্রেসিংরুম ব্যবহার করে ভারতীয় ক্রিকেট দল এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য রাখা হবে অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম। দুই ড্রেসিংরুমের মাঝখানের মাঠে যাওয়ার কমন পথটিও থাকবে ব্যবহারের উপযোগী।দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থার হাতেই থাকছে ড্রেসিংরুম দুটির সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত। ড্রেসিংরুমে আহার-সহ আপ্যায়নের যাবতীয় ব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে ড্রেসিংরুমের সামনের লনেই।মাঠের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য মাঠের ভিতরে প্রায় ১২ ফুট জায়গা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঘাসের ক্ষতি না করেই যাবতীয় কাজ করার পরিকল্পনা। সামান্য বদল আসতে পারে শুধু ঘাসের রঙে।অনুষ্ঠান চলাকালীন গল্ফ কার্টে করে মাঠ প্রদক্ষিণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চের উপর থাকবে ছাউনি। ইডেনের বিভিন্ন ব্লকে চেয়ার সরিয়ে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ইডেন উদ্যান থেকে আতশবাজির প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছেন প্রায় ১০ হাজার সাংস্কৃতিক শিল্পী। তাঁদের পারফরম্যান্সের জন্য ইডেনের উল্টো দিকে থাকা মাঠ এবং নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও থাকছে কড়া ব্যবস্থা। ৯ অক্টোবর অফিসের সময় শেষ হওয়ার পর থেকেই এসপিজি নিরাপত্তার আওতায় ইডেনের ক্লাব হাউস কার্যত সিল করে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী যতক্ষণ সেখানে থাকবেন, প্রায় তিন ঘণ্টা ক্লাব হাউসের গতিবিধিতে থাকবে কড়া নিয়ন্ত্রণ। গোটা অনুষ্ঠান চলবে বিকেল ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।এদিকে, ক্লাব হাউসে সিএবির আধিকারিকদের উপস্থিতি নিয়ে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ পাঁচ অফিস বেয়ারার, সিইও এবং সিএও যাতে ক্লাব হাউসে থাকতে পারেন, তার জন্য এসপিজির অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অন্তত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়ার জন্যও অনুরোধ রাখা হয়েছে।সিএবির অ্যাফিলিয়েট সদস্যদের জন্যও বিশেষ বন্দোবস্তের আবেদন করা হয়েছে। অন্তত প্রতিটি ক্লাব থেকে দুজন করে যাতে অনুষ্ঠানটি দেখতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল তৈরির কাজ থেকে শুরু করে নৈশালোকের বন্দোবস্তসব ক্ষেত্রেই সিএবির তরফে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর ইডেনের ১৪ নম্বর গেটের কাছে কনফারেন্স রুমে অস্থায়ী অফিস তৈরি করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসা তারকা শিল্পীদের সেখানে অথবা কর্পোরেট বক্সে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।ইডেনের সাজসজ্জা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই পরিদর্শনে আসবে পূর্ত দফতর (PWD)। মাঠ, মঞ্চ, নিরাপত্তা এবং দর্শক ব্যবস্থাপনাসব দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।সব মিলিয়ে ক্রিকেটের বাইরের এক অন্য ভূমিকায় এবার সেজে উঠতে চলেছে ইডেন গার্ডেন্স। ক্রিকেটের নন্দনকাননেই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে হতে চলেছে এক বর্ণময়, বিশাল আয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
দেশ

নেপালের বিপর্যয়ে চারপেয়ে ত্রাতা! ভারতের সাম্বার নাকেই মিলল ২০টি দেহের সন্ধান

নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে বেশ কিছু দিন। ধ্বংসস্তূপের নীচে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছেন তাঁদের পরিজনেরা। কিন্তু উদ্ধারকাজ এখনও থামেনি। কাদামাটি, ভেঙে পড়া বাড়ির অংশ এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের খুঁজে চলেছেন নেপালের সেনা, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে প্রশিক্ষিত সারমেয় বাহিনীও।তাদের মধ্যেই অন্যতম সাম্বা। ল্যাব্রাডর প্রজাতির এই সারমেয় নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষিত সারমেয় দলের সদস্য। তবে সাম্বার সঙ্গে ভারতেরও যোগ রয়েছে। নেপালের প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেই তাকে আনা হয়েছিল। পরে নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে উদ্ধারকাজের উপযোগী করে তোলা হয়।মানুষের দেহের গন্ধ শনাক্ত করে ধ্বংসস্তূপের নীচে কোথায় দেহ থাকতে পারে, তা খুঁজে বার করাই সাম্বার মূল দায়িত্ব। সেই দায়িত্বই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে সে। রাসুয়া এবং ত্রিশূলী এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর সময় সাম্বার দেওয়া সংকেতের ভিত্তিতে ২০টি দেহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু কী ভাবে এত নিখুঁত ভাবে কাজ করে সাম্বা? তার প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বক্তব্য, সাম্বা ধ্বংসস্তূপের উপর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেত এবং মাটি শুঁকত। কোথাও মানুষের দেহের গন্ধ পেলে আচমকাই থেমে যেত সে। এরপর জোরে ডাকতে শুরু করত। সেটিই ছিল তার হ্যান্ডলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।সাম্বার সংকেত পাওয়ার পর নিরাপত্তারক্ষীরা সেই জায়গায় পৌঁছে মাটি খুঁড়ে দেখতেন। অনেক সময় সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে দেহ। সাম্বার কাজের সময় সবসময় তার সঙ্গে থাকেন এক জন প্রধান হ্যান্ডলার এবং এক জন সহযোগী। দুজনই নিরাপত্তারক্ষী। সাম্বার আচরণের অর্থ বুঝে সঠিক জায়গায় উদ্ধারকাজ শুরু করাই তাঁদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।সাম্বা সবসময় একই ভাবে সংকেত দেয় না। কখনও হাঁটতে হাঁটতে আচমকা থেমে যায়। কখনও কোনও নির্দিষ্ট জায়গার চারপাশে বার বার ঘুরতে থাকে। আবার কখনও মাটিতে বসে পড়ে পায়ের নখ দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করে। তার প্রতিটি আচরণই আসলে একটি সংকেত। সেই সংকেতের অর্থ বুঝতে পারেন শুধু তার সঙ্গে কাজ করা হ্যান্ডলার এবং সহযোগী।এই ভাবেই কাদামাটি এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিনের পর দিন কাজ করে চলেছে সাম্বা। নিখোঁজদের সন্ধানে তার ভূমিকা এখন নেপালের উদ্ধারকারী দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী সাম্বার মতো আরও পাঁচটি প্রশিক্ষিত সারমেয়কে উদ্ধারকাজে নামিয়েছিল। পাশাপাশি নেপাল সেনার তরফেও আরও ছটি সারমেয়কে কাজে লাগানো হয়েছে। বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজ যত দীর্ঘ হচ্ছে, প্রশিক্ষিত এই সারমেয়দের ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

প্রাদার পর এবার রালফ লরেন! ভারতীয় নকশা ‘চুরি’র অভিযোগে তোলপাড়

কিছুদিন আগেই নকশা চুরির অভিযোগ উঠেছিল প্রাদার বিরুদ্ধে। এ বার একই ধরনের অভিযোগের মুখে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড রালফ লরেন। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের নকশা ব্যবহার করে যথাযথ স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।সম্প্রতি রালফ লরেনের একটি গোলাপি পোশাক প্রকাশ্যে এসেছে। সেই পোশাকে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ছোঁয়া স্পষ্ট বলে দাবি করেছেন ফ্যাশন জগতের অনেকে। কিন্তু পোশাকটির বর্ণনায় ভারত বা ভারতীয় কারিগরদের কোনও উল্লেখ নেই। সেখানে শুধু হাতের কাজ করা সজ্জা হিসাবে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা নিয়েই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।১২ সেপ্টেম্বর রালফ লরেনের সমাজমাধ্যম পাতায় পোশাকটির ছবি প্রকাশ করা হয়। পোশাক তৈরির কাপড় এবং সুতো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলেও হাতের কাজের বিষয়ে মাত্র একটি শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পোশাকটির নকশায় যদি কোনও দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রভাব থাকে, তা হলে সেই শিল্প এবং কারিগরদের যথাযথ পরিচয় দেওয়া হল না কেন?এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার প্রখর রাও সিং চান্ডেল। তাঁর বক্তব্য, পোশাকের কাপড় নিয়ে দীর্ঘ বিবরণ দেওয়া হলেও যে কারিগররা সূক্ষ্ম হাতের কাজ করেছেন, তাঁদের শিল্পকে একটি অস্পষ্ট শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।রালফ লরেনের প্রচারে বলা হয়েছিল, প্রতিটি পোশাকের যেন নিজস্ব ইতিহাস ও চরিত্র থাকে। সেই কথাকেই সামনে রেখে প্রখর প্রশ্ন তুলেছেন, সেই পোশাকে আসলে কার ইতিহাস এবং কার চরিত্র তুলে ধরা হচ্ছে?প্রখরের দাবি, বিতর্কিত পোশাকটিতে ভারতের ঐতিহ্যবাহী সূচিশিল্প জরদৌসির ব্যবহার রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লখনউ এবং আশপাশের কয়েকটি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের চর্চা চলছে। বহু কারিগর এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাই এটিকে শুধুমাত্র পোশাকের অলঙ্করণ হিসেবে দেখলে সেই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষের ইতিহাস ও পরিশ্রমকে আড়াল করা হয়।এই প্রসঙ্গে প্রখর গত বছর প্রাদাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কোলাপুরি চটির নকশা ব্যবহার করা হলেও সেটিকে শুধুমাত্র চামড়ার স্যান্ডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে মহারাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য সংগঠনের তরফে চিঠি দেওয়ার পর ভারতের নাম যুক্ত করা হয় বলে দাবি তাঁর।নিজের দলের সঙ্গে কাজ করা জরদৌসি শিল্পী বাবলু ভাইয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন প্রখর। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের শিল্পের পিছনে বহু কারিগরের বছরের পর বছর পরিশ্রম রয়েছে। তাঁদের পরিচয় বাদ দিয়ে শুধু নকশাকে ব্যবহার করলে সেই শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না।রালফ লরেনের এই পোশাক নিয়ে শুধু জরদৌসি নয়, আরও একটি ভারতীয় সূচিশিল্প আরির ব্যবহার নিয়েও সমাজমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু নেটিজেনের দাবি, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী শিল্প বিদেশি ফ্যাশন সংস্থাগুলি ব্যবহার করলেও অনেক সময় সেই শিল্প বা কারিগরদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।কোলাপুরি চটি ছাড়াও বাঁধনি ছাপ, তামবুরা, কুমকোর মতো বিভিন্ন ভারতীয় নকশা নিয়েও বিদেশি ফ্যাশন সংস্থার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু কারিগর নিজেদের পরিশ্রমে এই শিল্পগুলিকে টিকিয়ে রেখেছেন। তাঁদের পরিচয় এবং প্রাপ্য সম্মান না পেলে ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে।ফলে রালফ লরেনের নতুন পোশাক ঘিরে বিতর্কটি শুধু একটি নকশা বা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ব্যবহার, কারিগরদের স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থাগুলির দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
দেশ

মেটার উপর কেন্দ্রের চাপ, অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত! নজরে শিশুদের ক্ষতিকারক কনটেন্ট

প্রায় দুমাস ধরে আলোচনা ও বৈঠকের পর কেন্দ্রের দাবি মেনে কাজ করতে রাজি হয়েছে মেটা। সরকারি সূত্রের খবর, শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক এবং আপত্তিকর কনটেন্টের বিষয়ে প্রশাসনকে তথ্য জানাতে রাজি হয়েছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যমকে আরও নিরাপদ করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রায় দুমাস আগে মেটার উপর চাপ বাড়ানো হয়েছিল। ডিপফেক, বিকৃত তথ্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মতো কনটেন্ট রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সংস্থাকে। পাশাপাশি মেটার অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং ক্ষতিকারক কনটেন্ট মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনাও জমা দিতে বলা হয়েছিল।তবে শুরু থেকেই শিশুদের নিয়ে তৈরি আপত্তিকর এবং ক্ষতিকারক কনটেন্ট বন্ধ করার উপর বিশেষ জোর দিয়েছিল কেন্দ্র। দীর্ঘ আলোচনা ও একাধিক বৈঠকের পর সেই দাবিতে মেটা সম্মত হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক কনটেন্ট চিহ্নিত হওয়ার পর সেই বিষয়ে প্রশাসনকে জানাবে মেটা। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন। শুধু মেটা নয়, আগামী দিনে অন্যান্য সমাজমাধ্যম সংস্থাকেও একই ধরনের ক্ষতিকারক কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত এবং আটকানোর আওতায় আনার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।শিশু নির্যাতনের কনটেন্টের পাশাপাশি ডিপফেক, ভুয়ো খবর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়েও মেটাকে সতর্ক করেছিল কেন্দ্র। সমাজমাধ্যমে এই ধরনের কনটেন্টের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।এর আগে প্রধানমন্ত্রীর একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রীর সেই ভিডিও সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেয় মেটা। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পরে মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ভিডিওটি সরানো হয়েছিল। ক্ষমা চেয়ে পরে পোস্টটি ফের প্রকাশ করা হয়।ঘটনার পর মেটার শীর্ষ কর্তাদের তলব করেছিল কেন্দ্র। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের উপর আরও কড়া নজরদারির বার্তাও দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্র এবং মেটার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে চাপানউতোর চলছিল।এখন শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক কনটেন্ট প্রশাসনের নজরে আনার বিষয়ে মেটার সম্মতির খবর সামনে আসায় সেই টানাপোড়েন অনেকটাই কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কী ভাবে কার্যকর হবে এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যম সংস্থার ক্ষেত্রেও কেন্দ্র একই ব্যবস্থা নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বিদেশ

ভ্রমণের ভিডিও করতেই কি বিপদ? আফগানিস্তানে কেরলের মহিলা ভ্লগারের ‘গ্রেপ্তার’ ঘিরে চাঞ্চল্য

কেরলের জনপ্রিয় মহিলা ভ্লগার অরুণিমা আফগানিস্তান সফরে গিয়ে বিপদে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। সোমবার সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি জানান, বামিয়ান শহরে তাঁকে মুজাহিদিনরা গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা নামে সোশাল মিডিয়ায় পরিচিত ওই তরুণী কিছুদিন আগে ভারত থেকে আফগানিস্তানে যান। সেখানে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিয়মিত ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করছিলেন। সোমবার একটি পোস্টে অরুণিমার দাবি, আফগানিস্তানে গিয়ে তিনি বিপদে পড়েছেন এবং বামিয়ান শহরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নিজের সোশাল মিডিয়া পাতায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া বলে দাবি করা গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত কিছু নথিও প্রকাশ করেছেন অরুণিমা। ফলে তাঁর দাবি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।তবে ঠিক কী কারণে অরুণিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। স্থানীয় প্রশাসন বা আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কী বলা হয়েছে, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়।এই ঘটনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অরুণিমার প্রকাশ করা পোস্ট এবং নথির সত্যতাও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে তাঁর দাবি কতটা সত্য, তা নিয়েও আপাতত ধোঁয়াশা রয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলেন অরুণিমা। সেখান থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। বিশেষ করে তালিবান শাসনে মহিলাদের জীবন, তাঁদের উপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং ভয়-আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সময় কাটানোর ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন অরুণিমা। সেই সফরের মধ্যেই হঠাৎ তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কী কারণে আটক হয়েছেন, কোথায় রয়েছেন এবং ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।সব মিলিয়ে কেরলের এই জনপ্রিয় ভ্লগারের আফগানিস্তান সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রহস্য। অরুণিমার দাবি এবং প্রকাশ করা নথি যাচাই হওয়ার পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কলকাতা

বামেদের নবান্নে ডেকে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণ! গণেশ পুজোর মঞ্চে শুভেন্দুর বিস্ফোরক বার্তা

গণেশ পুজোর সূচনা করে বামেদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মকে আফিং বলা এবং নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনও উপদেশ নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোকে শারদোৎসব বলা নিয়ে বিতর্ক এবং গণেশ পুজোর বিস্তারসবকিছু নিয়েই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শুভেন্দু।সোমবার গণেশ পুজোর সূচনা করে শুভেন্দু বলেন, সনাতন ধর্মের রীতিনীতি নিয়ে বাইরের কারও কাছ থেকে উপদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, কোনও দিন নিরামিষ খাবার দিয়ে পুজো হয়, আবার কোনও দিন মাছ দিয়ে দেবতাকে ভোগ দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মের মানুষ কোন পুজোয় কী নিয়ম মানবেন, তা তাঁরা নিজেরাই জানেন।বাগেশ্বর বাবা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, পুজোর পদ্ধতি, পুজোর পাঠ এবং পঞ্জিকার নিয়ম বদলে একসময় ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রাদেশিকতার নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হয়েছিল।এর আগে বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের পুজোর সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানেও পুজো এবং শারদোৎসব নিয়ে চলা বিতর্কের প্রসঙ্গ ওঠে। কমিউনিস্ট নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাঁদের পুজো নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁরা নবান্নে এসে তাঁর সঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারেন।শুভেন্দুর বক্তব্য, তিনি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নবান্নে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন। কমিউনিস্ট নেতাদেরও সেখানে এসে একসঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কটাক্ষ, তাতে তাঁরাও পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন।পুজোর নাম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পুজোকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান না কি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসাবে দেখা হবে, তা নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা চলছে, সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাঁর বক্তব্য।এ দিন বামেদের আক্রমণ করার পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর সূচনা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর মন্তব্য, পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে বের হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।দেশবিরোধী শক্তি নিয়েও এ দিন সতর্ক করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অসুরদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে এবং তাঁদের থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশবিরোধী শক্তি এবং টুকরে টুকরে গ্যাং থেকেও দূরে থাকার বার্তা দেন তিনি।গণেশ পুজো কেন বাড়ছে, তা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদেরও এ দিন পাল্টা জবাব দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গণপতি পুজো শুধু মহারাষ্ট্রের বিষয় নয়। সনাতন ধর্মের ঐক্যের মধ্যেই এর বিস্তার রয়েছে।শুভেন্দুর দাবি, একসময় মারাঠি, গুজরাতি, বিহারি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রাচীর তুলে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গণেশ পুজোর বিস্তারকে তিনি সনাতনীদের ঐক্যের প্রতীক হিসাবেই তুলে ধরেন।গণেশ পুজোর সূচনা থেকে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোর নাম নিয়ে রাজনৈতিক তরজা থেকে বামেদের নবান্নে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণসব মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সোমবারের বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর পরই কি বাড়ছে বাসভাড়া? মন্ত্রীর কথায় বড় ইঙ্গিত, কত হতে পারে ন্যূনতম ভাড়া?

পুজোর পর রাজ্যে বাসভাড়া বাড়তে পারে। সরকারি ও বেসরকারি বাসের পাশাপাশি দূরপাল্লার বাসের ভাড়াতেও পরিবর্তন হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে পুজোর আগে ভাড়া বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। সোমবার বেসরকারি বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।বৈঠক শেষে পরিবহণমন্ত্রী বলেন, পুজোর আগে বাসভাড়া নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। তবে পুজোর পরে বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে একই ভাড়া চলছে। ২০১৮ সাল থেকে বাসভাড়ার তালিকায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাই অনির্দিষ্টকাল ভাড়া না বাড়িয়ে রাখা সম্ভব নয়।বাসভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে বাম আমলেরও সমালোচনা করেন পরিবহণমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেই সময় নেতারা নিজেদের গাড়িতে যাতায়াত করলেও বাসের ভাড়া বাড়ানো হত না। এর ফলে ধীরে ধীরে বাসের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটতে চায় না বলেও জানান তিনি। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য আরও বেশি বাস রাস্তায় নামানোর পাশাপাশি পরিষেবার মান উন্নত করার কথাও বলেন মন্ত্রী।২০১৮ সালে শেষ বার সরকারি ভাবে বাসভাড়ার তালিকা পরিবর্তন হয়েছিল। তখন ন্যূনতম ভাড়া ছিল ৭ টাকা। যদিও কোভিডের সময় থেকে অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম ভাড়া ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী দিনে বাসভাড়া বাড়লে ন্যূনতম ভাড়া কত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।বাস মালিকদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল টোল নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, একই জেলার মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় আলাদা হারে টোল নেওয়া হচ্ছে। এই সমস্যা মেটাতে সব টোল প্লাজায় নির্দিষ্ট হারে টোল চালুর বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ছদিনের সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওড়িশার মতো নিয়ম চালুর কথাও জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী।বড় রাস্তায় টোটো চলাচল নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি। মূল রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মন্ত্রী। টোটো চলাচল নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সমাধানে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।বাস মালিকদের দীর্ঘদিনের আরও একটি সমস্যা ছিল রাতের বাস রাখার জায়গা নিয়ে। বৈঠকের পর সেই সমস্যা মিটেছে বলে জানিয়েছেন বাস মালিকদের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে যেসব বাস মালিকের দীর্ঘদিনের কর বকেয়া রয়েছে, তাঁদের জরিমানা কিছুটা কমানোর বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।এর মধ্যেই সামনে দুর্গাপুজো। পুজোর সময় রাস্তায় মানুষের ভিড় এবং যাতায়াতের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পুজোর আগেই আরও প্রায় ৩০০ সরকারি বাস রাস্তায় নামানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। ফলে শহর ও শহরতলির গণপরিবহণ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বৈঠক নিয়ে খুশি বাস মালিকদের সংগঠনগুলিও। সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তাঁরা খুশি। টোলের সমস্যা প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও মন্ত্রী দিয়েছেন বলে জানান তিনি।বাসভাড়া বাড়ানো নিয়েও পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর আশা, পুজোর পর এবার বাসভাড়া বাড়ানো হবে। একই সুর শোনা গিয়েছে সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহার বক্তব্যেও। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের নাইট পার্কিংয়ের সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। বৈঠকে খুশি ওয়েস্টবেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ বসুও।সব মিলিয়ে পুজোর আগে যাত্রীদের জন্য বাড়তি সরকারি বাস নামানোর সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি দিলেও পুজোর পর বাসভাড়া বাড়তে পারেপরিবহণমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই সম্ভাবনাই জোরালো হয়েছে। তবে ভাড়া কত বাড়বে বা নতুন ন্যূনতম ভাড়া কত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পুজোর পর রাজ্যের বাসযাত্রীদের পকেটে কতটা অতিরিক্ত চাপ পড়বে, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

প্রার্থী ঘোষণার পরেও কংগ্রেসের দরজায় মমতা! নন্দীগ্রাম নিয়ে কেন এত মরিয়া তৃণমূল?

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, বিজেপিকে আটকাতে দুই কেন্দ্রে একসঙ্গে লড়াই করার জন্য কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জোটের প্রস্তাব দিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বিষয়ে তিনি এআইসিসির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, ফোনে মমতা নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করুক, সেই আবেদনও জানান তিনি। এমনকি নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের ঘোষিত প্রার্থীকে সরিয়ে নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন বলে খবর।এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূলের মধ্যে জোট হতে চলেছে? তবে সূত্রের খবর, মমতার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। বরং প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে পাল্টা বার্তা দেওয়া হয়েছে, জোট চাইলে দুই আসনেই কালীঘাট তৃণমূলকে কংগ্রেসকে সমর্থন করতে হবে।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, কালীঘাট তৃণমূল যদি সত্যিই জোট চায়, তা হলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরদুই আসনেই কংগ্রেসকে সমর্থন করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, এমনটা হলে ভবিষ্যতে জোটের রাস্তা আরও খোলা থাকতে পারে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইতিমধ্যেই দুই কেন্দ্রেই কংগ্রেস এবং কালীঘাট তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও দুই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ফলে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রতীক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেস ও বিজেপির লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী এহতেশামুল হক। রেজিনগরে তাঁদের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ। অন্য দিকে, কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে।নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করা নিয়েও স্থানীয় স্তরে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তাঁর নাম ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় জড়িয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই প্রার্থীর ভাবমূর্তি নিয়ে দলের স্থানীয় স্তরে প্রশ্ন উঠেছে বলে খবর। যদিও প্রকাশ্যে এখনও কোনও বড় ধরনের ক্ষোভ দেখা যায়নি।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে অস্বস্তির কারণেই কি মমতা কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেন? নাকি মূল লক্ষ্য ছিল নন্দীগ্রামে বিজেপিকে আটকাতে বিরোধী ভোটকে এক জায়গায় আনা? রাজনৈতিক মহলে এই দুই সম্ভাবনা নিয়েই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।সোমবার সন্ধ্যায় কেসি বেনুগোপালকে ফোন করে মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করার প্রস্তাব দেন বলে সূত্রের খবর। নন্দীগ্রাম কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলকে সমর্থনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের তরফে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।রেজিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। রেজিনগরে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।মমতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পিছনে পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও সামনে আনছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামেদের সরাতে তৎকালীন সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিল তৃণমূল। সেই জোটের সুবিধা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন মমতা। এরপর রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা এবং খুনের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি কংগ্রেসের।মমতার এবারের জোটের প্রস্তাব সামনে আসার পর কংগ্রেসের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়েই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে আপাতত আলাদা পথেই লড়াই করতে চলেছে কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূল। তার উপর দুই কেন্দ্রেই তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রার্থী থাকায় লড়াই আরও জটিল হয়েছে। মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, নন্দীগ্রামে বিজেপি, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal