রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় সিদ্ধান্ত বদল! অগ্নিমিত্রার ঘোষণায় নতুন বিতর্ক, তৈরি হচ্ছে ৫০টি ঘাট
পুজোর আগে কলকাতার রাস্তা সৌন্দর্যায়নের জন্য গাঢ় রং ব্যবহার করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মোটরবাইক দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সেই রং সরিয়ে ফেলতে হয়েছিল। এ বার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়া নিয়েও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থান বদল করতে হল তাঁকে। পরিবেশ আদালতের নির্দেশের কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত বিকল্প ঘাট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। দক্ষিণ কলকাতায় মোট ৫০টি ঘাট তৈরি রাখা হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী।বুধবার রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবর পরিদর্শনের পর অগ্নিমিত্রা জানিয়েছিলেন, এ বছর দুই সরোবরেই ছটপুজোর অনুমতি দেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ ছিল, আগের সরকার রাজনীতির কারণে হিন্দুদের উৎসব বন্ধ করে রেখেছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এ বার স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থের কথা ভেবে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।কিন্তু পুরমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই শুরু হয় বিতর্ক। পরিবেশবিদ ও আইনজীবীদের একাংশ এর বিরোধিতা করেন। তাঁদের বক্তব্য, রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ রাখার বিষয়ে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ রয়েছে। সেই নির্দেশ অমান্য করে সেখানে পুজোর অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত, মোহিত রায় এবং সোমেন্দ্রমোহন ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বরা বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁরা কলকাতা মহানগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান, পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে এমন কোনও সিদ্ধান্ত যেন নেওয়া না হয়। তাঁদের বক্তব্য, দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ এলাকা রবীন্দ্র সরোবরের পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশের পর থেকেই রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ রয়েছে। ২০২০ সালে তৎকালীন তৃণমূল সরকারও সেখানে ছটপুজোর অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই অনুমতি পাওয়া যায়নি।এ বারও আদালতের নির্দেশের বিষয়টি সামনে এনে সরোবর দুটিতে ছটপুজোর ঘাট তৈরি না করার জন্য নবান্নকে অনুরোধ করেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। কলকাতা মহানগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ারেরাও বিকল্প ঘাট তৈরির প্রস্তাব দেন। পাটুলি, নোনাডাঙা, যোধপুর পার্ক এবং পোদ্দারনগরের মতো এলাকায় কী ভাবে ছটপুজোর ব্যবস্থা করা যায়, তার বিস্তারিত তথ্য পুরমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়।এর পরেই বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন অগ্নিমিত্রা। তিনি জানান, রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি না পাওয়া গেলে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনেই চলা হবে। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৫০টি বিকল্প ঘাট তৈরি রাখা হচ্ছে, যাতে ছটপুজোর পুণ্যার্থীদের কোনও অসুবিধা না হয়।রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা থেকে বিকল্প ঘাট তৈরির সিদ্ধান্তমাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুরমন্ত্রীর এই অবস্থান পরিবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক ও পরিবেশ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর, ছটপুজোর আগে বিকল্প ঘাট তৈরির কাজ কতটা সম্পূর্ণ করতে পারে প্রশাসন।

