• ১ ভাদ্র ১৪৩৩, বৃহস্পতি ২০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Vote

বিদেশ

ভারতের ভোটের মডেল টেনে আমেরিকায় নতুন দাবি ট্রাম্পের, কী বদলাতে চান?

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় ভোটার পরিচয়পত্রের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে ফের সরব হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৮ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ফোটো আইডি ছাড়া আমেরিকায় কী ভাবে নির্বাচন হয়।ট্রাম্পের দাবি, ভারতের শেষ লোকসভা নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১ শতাংশেরও কম ডাকযোগে ভোট দেন। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক ভারতীয় ভোটারের কাছেই বৈধ ফোটো পরিচয়পত্র ছিল। আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থায়ও এমন বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালুর যুক্তি দেখিয়ে সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।তবে আমেরিকায় ভোট দেওয়ার জন্য পরিচয়পত্রের নিয়ম সব রাজ্যে এক নয়। বর্তমানে ৩৬টি রাজ্যে ভোটকেন্দ্রে কোনও না কোনও ধরনের পরিচয়পত্র দেখানোর বিধান রয়েছে। পরিচয়পত্র হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স, রাজ্য সরকারের দেওয়া আইডি বা পাসপোর্ট গ্রহণ করা হতে পারে। অন্যদিকে ১৪টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ভোটারের স্বাক্ষর কিংবা ভোটার তালিকায় থাকা অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়। কিছু রাজ্যে পরিচয়পত্র না থাকলেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।আমেরিকায় ভোটার আইডি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। রিপাবলিকানদের যুক্তি, ভোটার পরিচয় বাধ্যতামূলক হলে ভুয়ো ভোট বা অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কমবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়বে। ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা বক্তব্য, অতিরিক্ত কড়াকড়ি সাধারণ ভোটারদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হতে পারে।২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আমেরিকার ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট বা HAVA পাশ হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিক রাজ্য ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করে।ট্রাম্পের সমর্থন করা সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট-এ ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সময় মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ফোটো আইডির মতো শর্ত জোরদার করার প্রস্তাব রয়েছে। ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আনার কথা বলা হয়েছে। বিলটির লক্ষ্য আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটারের যোগ্যতা ও পরিচয় আরও কঠোরভাবে যাচাই করা।এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েনও রয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধিত SAVE America Act হাউসে পাশ হলেও সেনেটে তা নিয়ে বড় বাধা রয়েছে। কারণ, সেনেটে কোনও বিল পাশ করাতে সাধারণত ৬০টি ভোট প্রয়োজন। ফলে ট্রাম্প ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ সামনে এনে চাপ বাড়ালেও প্রস্তাবটি আইনে পরিণত করা এখনও সহজ নয়।

আগস্ট ১৮, ২০২৬
রাজ্য

মাঠে পড়ে ছিল স্তূপের পর স্তূপ ভোটার কার্ড! বীরভূমে চাঞ্চল্য, আটক বিএলও

বীরভূমের নানুরে বিপুল পরিমাণ ভোটার কার্ড উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে কীর্নাহারের পশ্চিম পাড়া এলাকার একটি মাঠ থেকে প্রচুর ভোটার কার্ড উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, মাঠে স্তূপ করে পড়ে ছিল সেইসব কার্ড। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক হইচই পড়ে যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে কাজে যাওয়ার সময় কয়েকজন বাসিন্দার নজরে আসে মাঠের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা ভোটার কার্ডগুলি। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় কীর্নাহার থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত কার্ড উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে।পুলিশ সূত্রে খবর, যে মাঠ থেকে ভোটার কার্ডগুলি উদ্ধার হয়েছে, তার পাশেই এক বিএলও-র বাড়ি রয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই বিএলও-কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে উঠে এসেছে, পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ব্লকের চিনিশপুর গ্রামের এক প্রাক্তন বিএলও বর্তমানে কীর্নাহারের পশ্চিম পাড়ায় থাকেন। তিনি বিএলও হিসেবে কাজ করার সময় পুরনো ভোটার কার্ড সংগ্রহ করে নতুন কার্ড দিয়েছিলেন বাসিন্দাদের। নিয়ম অনুযায়ী পুরনো কার্ড নির্বাচন কমিশনের দফতরে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই কার্ড জমা না করে নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন তিনি।পুলিশের অনুমান, পরে সেই পুরনো ভোটার কার্ডই মাঠের ধারে ফেলে দেওয়া হয়। কেন তিনি এই কাজ করলেন এবং কেন কার্ডগুলি জমা দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।এসআইআর নিয়ে যখন বীরভূমে নাম বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক চলছে এবং বহু মানুষ ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন, ঠিক সেই সময় বিপুল ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

মে ১৭, ২০২৬
কলকাতা

ভোটগণনার আগে বড় চাল তৃণমূলের! জেলায় জেলায় বিশেষ টিম, ভোর থেকেই কড়া নজর

ভোটগণনাকে সামনে রেখে বড় কৌশল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক বৈঠকে জানান, রাজ্য থেকে বিভিন্ন জেলায় কিছু প্রতিনিধিকে পাঠানো হবে। তাঁরা আগের দিনই জেলায় পৌঁছে যাবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ পরিষেবা ঠিক রাখতে ট্রান্সফরমারগুলির উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটগণনার দিন ভোর ৬টা থেকেই পার্টি অফিস খুলে সেখানে কর্মীদের উপস্থিত থাকার কথাও বলা হয়েছে।জেলা ভিত্তিক দায়িত্বও ভাগ করে দিয়েছে দল। কোচবিহারে আলাদা করে কাউকে পাঠানো হচ্ছে না। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির দায়িত্বে থাকবেন সামিরুল ইসলাম। দার্জিলিংয়ের সমতল এলাকায় নজর রাখবেন গৌতম দেব এবং ইসলামপুরে যাবেন শান্তনু সেন। উত্তর চব্বিশ পরগনায় দায়িত্বে থাকবেন সৌগত রায় ও পার্থ ভৌমিক, আর বারাসতের দায়িত্বে থাকবেন রথীন ঘোষ। পূর্ব বর্ধমান জেলায় কীর্তি আজাদ ও রাসবিহারী হালদার নজরদারি করবেন।কলকাতার উত্তর অংশে দায়িত্বে থাকবেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিবেক গুপ্ত, কুণাল ঘোষ ও স্বপন সমাদ্দার। দক্ষিণ কলকাতার দায়িত্বে থাকবেন অরূপ বিশ্বাস ও ববি হাকিম। হাওড়ায় চারজন প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন পুলক রায়, অরূপ রায়, কৈলাশ মিশ্র ও গৌতম চৌধুরী। হুগলির দায়িত্বে একাই থাকবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রানাঘাটে শঙ্কর সিংহ ও দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় দায়িত্ব সামলাবেন।পূর্ব মেদিনীপুরে সায়নী ঘোষ ও ঋজু দত্ত থাকবেন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার দায়িত্বে নিজেই থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ দিনাজপুরে জয়প্রকাশ মজুমদার দায়িত্বে থাকবেন। মালদহে দোলা সেন এবং পলিটেকনিক কলেজ এলাকায় নাদিমুল হক নজর রাখবেন। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে আসিফ ইকবাল এবং বহরমপুরে প্রতিকুর রহমান ও সুখেন্দুশেখর রায় দায়িত্বে থাকবেন।বীরভূমে থাকবেন শতাব্দী রায়। বাঁকুড়ায় সুশান্ত ঘোষ, বিষ্ণুপুরে জীবন সাহা এবং ঝাড়গ্রামে অরূপ চক্রবর্তী দায়িত্ব সামলাবেন। পশ্চিম বর্ধমানে বাবুল সুপ্রিয় থাকবেন। মেদিনীপুরের সাংগঠনিক জেলায় জুন মালিয়া ও দেব নজর রাখবেন।সব মিলিয়ে ভোটগণনার দিন যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস।

মে ০২, ২০২৬
কলকাতা

রাত ২টো হলেও কেন্দ্র ছাড়বেন না! কর্মীদের কঠোর নির্দেশ মমতার, জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী

ফল ঘোষণার আগেই বড় দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি জানান, তৃণমূল ২০০-র বেশি আসন পেতে চলেছে। একই সঙ্গে তিনি এজেন্টদের সতর্ক করে বলেন, রাত ২টো বেজে গেলেও কাউন্টিং সেন্টার ছেড়ে যেন কেউ না যান, যতক্ষণ না তিনি নিজে অনুমতি দেন।মমতা বলেন, সবাই অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং লড়াই করেছেন। তাঁর কথায়, মনে রাখবেন আমরা জিতছি। ২০০-র বেশি আসন পাব। তিনি আরও বলেন, যেসব আসনে ভোটের ব্যবধান খুব কম থাকবে, সেখানে অবশ্যই পুনর্গণনার দাবি জানাতে হবে। বিশেষ করে ২০০-৩০০ ভোটের পার্থক্য থাকলে রিকাউন্টিংয়ের জন্য জোর দিতে বলেন তিনি।এছাড়া, গত কয়েক মাস ধরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও যারা কাজ করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, তাঁদের পুরস্কৃতও করা হবে।কাউন্টিংয়ের দিন কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে, সেই নিয়েও নির্দেশ দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, এজেন্টদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যেতে হবে এবং হালকা খাবার খেতে হবে। বাইরের খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, কেউ খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে দিতে পারে।অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি বিভিন্ন ধরনের প্রচার চালায়, এক্সিট পোল দেখিয়ে প্রভাব ফেলতে চায়। তিনি বলেন, গত ১০-১২ বছর ধরে এমনটা হচ্ছে, তাই এগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়াই ভালো।কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অত্যাচার হয়েছে, সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি ফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত চলতে পারে।শেষে কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত কাউন্টিং সেন্টারে থাকতে হবে এবং সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেউ যেন হল ছেড়ে না বের হন।

মে ০২, ২০২৬
রাজ্য

ভোররাতে তালিকা প্রকাশ, চমকে দিল সংখ্যা! শুরু রাজনৈতিক তরজা

সংবিধানের ১৪২ ধারার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হবে এবং যাঁরা অনুমোদন পাবেন, তাঁরা প্রথম দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার ভোররাতে ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই তালিকা ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে মাত্র ১৩৬ জন ভোটারই প্রথম দফায় ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া নামের মধ্যেই আবার ২ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই সংখ্যা সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।এই তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২৭ লক্ষ বিচারাধীন মানুষের মধ্যে মাত্র ১৩৬ জনের নাম নিষ্পত্তি হওয়া অত্যন্ত নগণ্য। তাঁর কথায়, এত মানুষের অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া কার্যত অকার্যকর।প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন ছিল। পরে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা সেই নামগুলির যাচাই করেন। যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, তাঁরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হবে, তাঁদের মধ্যে যাঁদের নাম তালিকায় থাকবে, তাঁরা ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। একইভাবে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া নামের ভিত্তিতে ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নেওয়া যাবে।তবে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই কারণে যে, ট্রাইব্যুনাল আগেই জানিয়েছিল, ভোটারদের বক্তব্য না শুনে কোনও নাম বাদ দেওয়া হবে না। অথচ প্রকাশিত তালিকায় ২ জনের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির।অন্যদিকে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা দাবি করেছেন, তথ্যপ্রমাণের অভাবেই বহু নাম বাদ পড়েছে। তাঁর মতে, যাঁরা সঠিক তথ্য দিচ্ছেন, তাঁদের নামই তালিকায় রাখা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে প্রথম দফার ভোটের আগে সম্পূরক তালিকা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগেই ফল ঘোষণা? আসনসংখ্যা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

সিউড়ির জনসভা থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বড় দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এ বার তৃণমূল অন্তত ২২৬টির বেশি আসন পাবে। এর আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ২০২১ সালের থেকে অন্তত একটি আসন বেশি জিতবে তৃণমূল। তবে এ দিন প্রথমবার নিজেই নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি আসনে জয় পেয়েছিল।সভা থেকে ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কোথাও ভোটযন্ত্রে সমস্যা হলে সেই যন্ত্রে ভোট না দিতে। গণনার সময় ধীরে ধীরে ফল প্রকাশ করা হতে পারে এবং আগে থেকেই কোনও পক্ষ জয়ের দাবি ছড়াতে পারে, সেইসব কথায় গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আর একদিন ধৈর্য ধরলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসন পাবে। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে বাহিনী এনে বা নানা প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাকে দখল করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, হামলার জবাব মানুষই দেবে ভোটের মাধ্যমে।এ দিন তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও চ্যালেঞ্জ জানান। মমতা বলেন, বাংলায় তৃণমূল সরকার চাইলে তিনি নিজেকে সবকটি আসনের প্রার্থী হিসেবেই মনে করেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী যদি সব আসনের প্রার্থী হওয়ার কথা বলেন, তবে তাঁকে ঠিক করতে হবে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন নাকি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে চান। সেই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানাতেও তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।এই মন্তব্য ঘিরে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
দেশ

‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে যাচ্ছে ভোটার! আদালতে কমিশনকে কড়া প্রশ্ন

ভোটার তালিকা ফ্রিজ করার সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হলেও তাতে সাড়া দিল না শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়ে ট্রাইবুনালের কাছেই যেতে হবে। একইসঙ্গে তারা জানায়, ট্রাইবুনালের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত।তবে শুনানির সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, বিহারে যে পদ্ধতিতে বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া হয়েছে, বাংলায় সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। তাঁর কথায়, একজন সাধারণ ভোটার দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে পড়ে কার্যত সমস্যায় পড়ছেন।তিনি আরও বলেন, বাংলার ক্ষেত্রে যে ধরনের যুক্তিগত অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে, তা অন্য কোনও রাজ্যে হয়নি। এদিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডুকে এই বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তিনি কমিশনের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং জানান, বিভিন্ন কারণে নিয়মের কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচী বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে যাঁরা ইতিমধ্যেই ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের আবার নতুন করে ফর্ম পূরণের জন্য বলা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।২০০২ সালের ভোটার তালিকার প্রসঙ্গও উঠে আসে শুনানিতে। বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, আগে যদি বলা হয়ে থাকে যে ওই তালিকায় নাম থাকলেই চলবে, তাহলে এখন নতুন করে নথি চাওয়ার প্রয়োজন কেন। এর উত্তরে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নাম পরিবর্তন বা পরিচয় যাচাইয়ের জন্যই এই নথি প্রয়োজন।বিচারপতি বাগচী তখন মন্তব্য করেন, এতে মনে হচ্ছে কমিশন তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।অন্যদিকে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ ছিল। তাঁদের দাবি, প্রায় অর্ধেক আবেদন বাতিল হয়েছে নিয়ম মেনে।তবে বিচারপতি আবারও স্পষ্ট করেন, এটি দোষারোপের বিষয় নয়, বরং একজন সাধারণ ভোটার যেন সমস্যার মধ্যে না পড়েন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে তারা ট্রাইবুনালের কাজে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
কলকাতা

হিন্দু বাঙালিদের নাম কাটা হচ্ছে? চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতি

ভোটের আগে নাম বাদ নিয়ে উত্তাল বাংলা। প্রায় নব্বই লক্ষেরও বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠতেই তীব্র আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাংবাদিক বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করেন, বাদ যাওয়া নামগুলির মধ্যে প্রায় তেষট্টি শতাংশই হিন্দু বাঙালির।অভিষেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, জোর করে বাংলা দখলের চেষ্টা চলছে, কিন্তু বাংলার মানুষ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, এই রাজ্য বিপ্লবীদের ভূমি, এখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ সবসময় লড়াই করে। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সরকার থাকলে কোনওভাবেই মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, এর জবাব মানুষ ভোটবাক্সেই দেবে এবং মানুষের শক্তির সামনে সব অন্যায় পরাজিত হবে।এর আগেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, মতুয়া, রাজবংশী এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়কে টার্গেট করেই এই কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রায় বত্রিশ লক্ষ নাম আবার তালিকায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে যাঁদের নাম এখনও বাদ রয়েছে, তাঁদের অধিকার ফেরাতে প্রয়োজন হলে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যারা বহু বছর ধরে এই দেশে বসবাস করছেন, তাঁদের কেন আবার নতুন করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও বৈধ ভোটারকে বাংলা থেকে বাদ পড়তে দেবেন না।তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনাকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে দেখছে না। বরং তারা মনে করছে, এটি বাঙালির পরিচয় এবং অধিকার খর্ব করার একটি বড় চক্রান্ত। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের সাহায্য করতে প্রতিটি ব্লকে বিশেষ আইনি সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

এপ্রিল ১০, ২০২৬
কলকাতা

নাম বাদ নিয়ে তোলপাড়, হঠাৎ ধর্না স্থগিত! কী বলল নির্বাচন কমিশন?

এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ধর্নায় বসার পরিকল্পনা করেছিল তৃণমূল। তবে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার সময় পাওয়ায় আপাতত সেই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।তৃণমূলের পক্ষ থেকে গতকাল দুপুরের পর নির্বাচন কমিশনের কাছে সময় চাওয়া হয়েছিল। প্রথমে কোনও উত্তর না মেলায় দলের তরফে ধর্নায় বসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। রাজ্যসভার সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী এবং প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখেল এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে কমিশনের তরফে জানানো হয়, পরের দিন সকাল দশটায় দেখা করার সময় দেওয়া হয়েছে। এর পরেই ধর্নার পরিকল্পনা আপাতত বন্ধ রাখা হয়।জানা গিয়েছে, চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে যাবে। সেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হবে।এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার পরিসংখ্যান সামনে আসতেই বিতর্ক আরও বেড়েছে। হিসেব অনুযায়ী, বিচারাধীন প্রায় ৫০ লক্ষ নামের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। এর আগে প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।জেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লক্ষের বেশি। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় মোট ভোটার ছিল ৫৭ লক্ষের বেশি। নতুন খসড়া তালিকায় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ লক্ষ ৮৫ হাজারে। অর্থাৎ শুধু এই জেলা থেকেই প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার নাম বাদ গিয়েছে।সব মিলিয়ে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। তৃণমূলের দাবি, বৈধ ভোটারদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে শাসক দল।

এপ্রিল ০৭, ২০২৬
কলকাতা

বাংলায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ, তবু শীর্ষে নয়! তালিকার শীর্ষে কোন রাজ্য জানলে চমকে উঠবেন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই নিয়ে রাজ্যে ক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং উদ্বেগের ছবি সামনে এসেছে। তবে অবাক করার বিষয়, নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় বাংলা শীর্ষে নেই।তথ্য বলছে, এই তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে খসড়া তালিকাতেই প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। ফলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বাংলায় মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতেও বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। সেখানে প্রায় ৭৪ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।কেরলে প্রায় ৯ লক্ষ নাম বাদ গেছে। পুদুচেরিতে মোট ভোটারের তুলনায় প্রায় ১ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এই রাজ্যগুলির মধ্যে অসমে এই প্রক্রিয়া হয়নি।বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে গুজরাটে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে। সেখানে প্রায় ৭৭ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। শতাংশের হিসাবে গুজরাট বাংলাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।মধ্যপ্রদেশে প্রায় ৩৪ লক্ষ, রাজস্থানে প্রায় ৩১ লক্ষ এবং ছত্তিশগড়ে প্রায় ২৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই সব রাজ্যেও শতাংশের হিসেবে নাম বাদ পড়ার হার বাংলার থেকে বেশি।তবে সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উত্তরপ্রদেশে। সেই কারণে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে দেরি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সময় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করছে বলে জানা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই তথ্যকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।

এপ্রিল ০৭, ২০২৬
কলকাতা

রাতারাতি প্রকাশ তালিকা! ২৭ লক্ষ নাম উধাও—সবচেয়ে বেশি ধাক্কা কোন জেলায় জানলে চমকে উঠবেন

অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া নামের প্রায় সম্পূর্ণ তালিকা। সোমবার গভীর রাতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকা সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ লক্ষ বিচারাধীন নামের মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। কোন জেলায় কত নাম বাদ গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে হিসেব কষা।প্রথম থেকেই আশঙ্কা ছিল, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরএই তিন জেলায় নাম বাদ পড়ার সংখ্যা বেশি হতে পারে। তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।মুর্শিদাবাদে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ১১ লক্ষের বেশি। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় এই জেলার মোট ভোটার ছিল ৫৭ লক্ষেরও বেশি। খসড়া তালিকায় নাম উঠেছে প্রায় ৫৪ লক্ষ ৮৫ হাজারের। বিচারাধীন তালিকা থেকে প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার নাম বাদ পড়েছে।এর পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা। এই জেলায় প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ গেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায়, যেমন বসিরহাট অঞ্চলে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা বেশি বলে জানা যাচ্ছে।তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালদহ জেলা। সেখানে প্রায় ২ লক্ষ ৩৯ হাজার নাম বাদ পড়েছে। এই জেলা আগে থেকেই নাম বাদ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল।দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পরিস্থিতি আরও উল্লেখযোগ্য। সেখানে বিচারাধীন ভোটারের প্রায় অর্ধেকের নাম বাদ গেছে। মোট ৫ লক্ষের বেশি বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ২২ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও ২ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। হাওড়া ও হুগলি জেলায় এক লক্ষের বেশি নাম বাদ গেছে। কোচবিহারে প্রায় ১ লক্ষ এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার নাম বাদ পড়েছে।এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দল ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতো করে বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

এপ্রিল ০৭, ২০২৬
রাজ্য

উকুন বাছার মতো নাম বাদ! চাকদহ থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষের বেশি মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর অভিযোগ, বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, মতুয়া, রাজবংশী এবং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়েছে।চাকদহের এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেখে দেখে একটি সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়া হচ্ছে। মতুয়া, রাজবংশী, সংখ্যালঘুদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। উকুন বাছার মতো করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই ৩২ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় তোলা হয়েছে এবং বাকিদের নামও তোলার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি বাংলায় বিজেপিকে শূন্য করার ডাক দেন তিনি ।সোমবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন জেলা অনুযায়ী বাদ পড়া নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মোট প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষের বেশি ভোটার, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে এবং প্রায় ৩২ লক্ষের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষে প্রকাশিত তালিকাতেও বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছিল।এই বিষয়টি অনুপ্রবেশ ইস্যুর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছে, রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাঁদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রক্রিয়া প্রয়োজন।অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, এটি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। তাঁদের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংখ্যালঘু ও বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে এবং ফেডারেল কাঠামোর উপর আঘাত করা হচ্ছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, অনুপ্রবেশকারী কারা? সীমান্ত পাহারা দেয় কারা? নতুন করে যারা আসছে, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে, আর যারা বহুদিন ধরে এখানে আছে, তাদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে কেন?এই ইস্যু ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়তে শুরু করেছে।

এপ্রিল ০৭, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বিস্ফোরণ! ৭০০ ভোটারের নাম উধাও, রাস্তায় আগুন হাসনাবাদে

ভোটের মুখে হাসনাবাদে উত্তেজনা ছড়াল ভোটার তালিকা নিয়ে। রবিবার সকাল থেকেই কাঁথি-মালঞ্চ রোডে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন শতাধিক মানুষ। তাদের অভিযোগ, তিনটি বুথ থেকে প্রায় ৭০০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাট উত্তর বিধানসভার মাখালগাছা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ২৫১, ২৫২ এবং ২৫৩ নম্বর বুথে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, নতুন তালিকায় ২৫১ নম্বর বুথের এক পঞ্চায়েত সদস্যের নামও নেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।বিক্ষোভকারীরা রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। ফলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহুদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করেও তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি আসা কিছু মানুষের নাম তালিকায় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।এক বাসিন্দা জানান, তাদের পরিবার বহু বছর ধরে এই এলাকায় থাকলেও এবার নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। কেন এমন হল, তা তারা বুঝতে পারছেন না। এই ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।গত এক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে একই ধরনের অভিযোগ উঠছে। তালিকা সংশোধন নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। কোথায় আবেদন করতে হবে, কীভাবে নাম তোলা যাবে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে।এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে বহু মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বড় বিক্ষোভের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

এপ্রিল ০৫, ২০২৬
রাজ্য

কার্গিল যোদ্ধার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ! তীব্র চাঞ্চল্য

দেশের জন্য প্রায় তিরিশ বছর কাজ করেছেন, অংশ নিয়েছেন কার্গিল যুদ্ধেও। সেই প্রাক্তন সেনা জওয়ান আজাদ আলির নামই এবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়া এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।জানা গিয়েছে, রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা আজাদ আলি ওই এলাকার দুইশো নয় নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। দুই হাজার দুই সালের ভোটার তালিকায় তাঁর এবং তাঁর বাবা-মায়ের নাম ছিল। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিও তাঁদের কাছে রয়েছে। কিন্তু নতুন পরিপূরক তালিকা প্রকাশের পর তিনি দেখেন, তাঁর এবং পরিবারের আরও এক সদস্যের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তিনি এবং তাঁর পরিবার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আজাদ আলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। কার্গিল যুদ্ধের পাশাপাশি অপারেশন বিজয় এবং অপারেশন পরাক্রমেও তিনি যুক্ত ছিলেন। উনিশশো পঁচানব্বই সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি এবং গত বছরের অক্টোবর মাসে সুবেদার পদ থেকে অবসর নেন।আজাদ আলির বক্তব্য, দেশের সুরক্ষার জন্য তিনি সবসময় প্রস্তুত ছিলেন এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। অথচ এখন নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার পরও তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর মতো যাঁদের কাছে এত নথি নেই, তাঁদের কী হবে।স্থানীয় আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের কাছেও দুঃখজনক, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এখন তাঁকে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক পক্ষের দাবি, প্রক্রিয়া সঠিকভাবেই চলছে এবং যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করলে সমাধান সম্ভব।এই ঘটনাকে ঘিরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
রাজ্য

সাত এপ্রিলেই সব পরিষ্কার! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় আশ্বাস, সন্তুষ্ট শীর্ষ আদালত

ভোটের আগে বড় স্বস্তির খবর এল আদালত থেকে। বিবেচনাধীন থাকা সমস্ত ভোটারের নাম খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টও।বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি চিঠি তুলে ধরা হয়। সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে, আগামী সাত এপ্রিলের মধ্যেই সব বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এই বক্তব্য শুনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।এদিন আদালতে জানানো হয়, মোট প্রায় ষাট লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় সাতচল্লিশ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই লক্ষ করে নাম যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।এর আগে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, ভোটের আগে এত বিপুল সংখ্যক নামের নিষ্পত্তি আদৌ সম্ভব কি না। বিশেষ করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ঘনিয়ে আসায় উদ্বেগ বাড়ছিল। তবে এদিন আদালতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাই কোর্টের এই অগ্রগতিতে তারা সন্তুষ্ট এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা করছে।এছাড়াও আদালত জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই ট্রাইবুনালের কাজও শুরু হবে। বৃহস্পতিবার থেকেই ট্রাইবুনাল কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে বুধবার প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হবে।এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
দেশ

ভোটার তালিকা নিয়ে বড় রায়! সাত এপ্রিলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়

ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। সাত এপ্রিলের মধ্যে বিবেচনাধীন সমস্ত ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে বলে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি হয়।প্রধান বিচারপতি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে তাঁরা একটি চিঠি পেয়েছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং প্রতিদিন লক্ষাধিক মামলার সমাধান করা হচ্ছে। সেই কাজ সাত এপ্রিলের মধ্যেই শেষ হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।শুনানির সময় আদালত জানিয়ে দেয়, বিচারকার্যে যুক্ত আধিকারিকদের সম্মানিক অর্থ, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে। কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডু আদালতকে জানান, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই ট্রাইবুনালের কাজ শুরু হবে।এদিন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, প্রাক্তন বিচারপতিদের কেন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর উত্তরে আদালত স্পষ্ট জানায়, এটি প্রশিক্ষণ নয়, বরং কীভাবে নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তার একটি প্রক্রিয়া বোঝানো হচ্ছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই এবং কমিশনের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ারও কারণ নেই।আদালত আরও জানায়, কোনও আবেদনকারীর নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কারণ উল্লেখ করতে হবে। সফটওয়্যারে সেই সুযোগ রয়েছে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুনানির সময় ভোটাধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে আদালত। জানানো হয়, কোনও ব্যক্তি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও তার ভোটাধিকার চিরতরে চলে যায় না। পরে আপিলের মাধ্যমে নাম যুক্ত বা বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।এদিন আদালতে বিপুল পরিমাণ ফর্ম জমা পড়ার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও হঠাৎ করে প্রচুর আবেদন জমা পড়ছে। তবে আদালত অনুমানের ভিত্তিতে কোনও মন্তব্য না করার পরামর্শ দেয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যে কেউ আবেদন করতে পারেন এবং তা আটকানো যায় না।আদালত জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের নাম বিবেচনা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার পরে আবেদন করলে নাম তালিকায় উঠতে পারে, কিন্তু সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে না।সব দিক বিবেচনা করে আদালত জানায়, সাত এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই নির্দেশের ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে চলা অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
রাজ্য

ভোটার তালিকা সংশোধন: ১৮ লক্ষ বাদ! ৪০ লক্ষ-র নিষ্পত্তি, এখনও অনিশ্চয়তায় ২০ লক্ষ নাম

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে রবিবার পর্যন্ত প্রায় ৪০ লক্ষের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এখনও প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিলের আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।এখন পর্যন্ত খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে রাজ্যে মোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ গিয়েছে। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা থেকেই বাদ পড়েছে প্রায় ১২ লক্ষ নাম। Supreme Court of India-এর নির্দেশে এই বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ করছেন বিচারকেরা। এই কাজে ভিন্রাজ্য থেকেও বিচারক আনা হয়েছে।২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে Election Commission of India। তখন বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এই বিশাল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন মোট ৭০৫ জন বিচারক। কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ধাপে ধাপে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ২৩ মার্চ রাতে প্রকাশিত হয় প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। যদিও ওই তালিকায় কতজনের নাম যুক্ত বা বাদ পড়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য এখনও জানানো হয়নি।এসআইআর শুরুর আগে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ নাম বাদ পড়ে এবং মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ যায়। ফলে ওই সময় পর্যন্ত মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২।খসড়া তালিকায় থাকা ৭ কোটি ৮ লক্ষের বেশি ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষকে শুনানির জন্য চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে নো-ম্যাপিং ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬যাঁরা ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে নিজেদের তথ্যের মিল দেখাতে পারেননি। বাকি প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে চিহ্নিত করা হয়।সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৮২ লক্ষ ভোটারের নথি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছে কমিশন। অন্যদিকে, শুনানির ভিত্তিতে বাছাই করে ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপরই প্রকাশিত হয় প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, যেখানে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। তবে সেই তালিকাতেও ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বিবেচনাধীন হিসেবে রেখে দেওয়া হয়।নির্বাচনের মুখে এই বৃহৎ পরিসরের যাচাই প্রক্রিয়া প্রশাসনের কাছে যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি থাকা ভোটারদের ভাগ্য কীভাবে নির্ধারণ করে কমিশন।

মার্চ ২৯, ২০২৬
রাজ্য

আজই বেরোচ্ছে সাপ্লিমেন্টরি তালিকা! আপনার নাম আছে তো? নাহলে বিপদ

আজ প্রকাশিত হতে চলেছে ভোটার তালিকার প্রথম সম্পূরক তালিকা। এই তালিকায় প্রায় আটাশ লক্ষ ভোটারের নাম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে (Supplementary List)। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনও বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে ষাট লক্ষেরও বেশি নাম। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় আটাশ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফলে এখনও প্রায় বত্রিশ লক্ষ নাম বাকি রয়েছে (Supplementary List)।কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মোট নামের প্রায় চল্লিশ শতাংশ বাদ দেওয়া হতে পারে। সেই হিসেবে প্রথম সম্পূরক তালিকাতেই প্রায় দশ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে (Supplementary List)। এই তালিকা আজ বিকেলের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।এই তালিকায় দুটি ভাগ থাকবে। একটি অংশে থাকবে নতুন করে যুক্ত হওয়া ভোটারদের নাম, অন্য অংশে থাকবে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের তালিকা। ফলে একই তালিকার মধ্যেই সংযোজন এবং বিয়োজনদুই ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে (Supplementary List)।সাধারণ মানুষ অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবেই এই তালিকা দেখতে পারবেন। অনলাইনে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের নাম খোঁজা যাবে। সেখানে রাজ্য এবং বছর নির্বাচন করে সম্পূরক তালিকার অপশনে গিয়ে পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে নাম খুঁজতে হবে। এছাড়া রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এই তথ্য পাওয়া যাবে (Supplementary List)।অফলাইনে তালিকা দেখতে চাইলে জেলাশাসকের দফতর, উপযুক্ত প্রশাসনিক অফিস অথবা স্থানীয় বুথে গিয়ে তা দেখা যাবে। প্রতিটি বুথেই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।যদি কারও নাম বাদ পড়ে, তাহলে তা তালিকার বিয়োজন অংশে দেখা যাবে। নাম বাদ গেলে নির্দিষ্ট ট্রাইবুনালে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের নিয়ে গঠিত একাধিক ট্রাইবুনালে এই বিষয়ে আবেদন জানানো যাবে।এই তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্বেগ দুইই বাড়ছে। কারণ ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকা সরাসরি ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করে।

মার্চ ২৩, ২০২৬
রাজ্য

শুক্রবার না শনিবার? অবশেষে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে বড় আপডেট

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছে। কিন্তু রাজ্যের প্রায় ষাট লক্ষ ভোটার এখনও জানেন না, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না। তাঁদের নাম এখনও বিবেচনাধীন তালিকায় ঝুলে রয়েছে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গত আটাশ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় প্রায় ষাট লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। এরপর দুই সপ্তাহের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা সেই সব নাম খতিয়ে দেখে নিষ্পত্তি করছেন।এখনও পর্যন্ত প্রায় একুশ লক্ষ ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, এই সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম সম্পূরক তালিকা প্রকাশ হতে পারে। তাঁর কথায়, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা খুব শীঘ্রই নিষ্পত্তি হওয়া নামগুলি কমিশনের হাতে তুলে দেবেন। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, শুক্রবার বা শনিবার এই তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।তবে বড় প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে বাকি প্রায় উনচল্লিশ লক্ষ ভোটারকে নিয়ে। ভোটের আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের নামের নিষ্পত্তি করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ রাজ্যে এবার দুই দফায় ভোট হবে তেইশ ও উনত্রিশ এপ্রিল।এছাড়াও যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁদের ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে এবং কবে শেষ হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টির দায় হাইকোর্টের উপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিচারব্যবস্থার উপর তাঁদের আস্থা থাকলেও কমিশন কীভাবে আদালতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, তা স্পষ্ট নয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁরা কবে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন এবং সেই প্রক্রিয়ার জন্য কত সময় দেওয়া হবে, সে বিষয়েও কোনও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না বলেই দাবি তাঁর।এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। ভোটের আগে এত বড় সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় উদ্বেগও বাড়ছে।

মার্চ ১৮, ২০২৬
রাজ্য

ভোটার তালিকায় নাম ঝুলে, তবু প্রার্থী কলিতা মাজি, আউশগ্রামে তুমুল বিতর্ক

সোমবার বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরই পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই তালিকায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নাম রয়েছে কলিতা মাজির। পেশায় পরিচারিকা কলিতাকে আগের বিধানসভা নির্বাচনেও প্রার্থী করেছিল বিজেপি, যদিও তখন তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। এবারও তার উপরেই ভরসা রেখেছে দল। তপসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এই আসনে তাকে প্রার্থী করা নিয়ে আগেও চমক তৈরি হয়েছিল, তবে এবার তার নাম ঘিরে অন্য কারণে জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে।গত আঠাশে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, কলিতা মাজির নাম এখনও বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে। গুসকরা পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা তিনি। গুসকরা পুরসভার একশো পঁচানব্বই নম্বর বুথে তিনশো সাতানব্বই নম্বরে তার নাম থাকলেও পাশে বিবেচনাধীন উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ তার ভোটার পরিচয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তিনি নিজে ভোট দিতে পারবেন কি না এবং এমন অবস্থায় তিনি কীভাবে প্রার্থী হলেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।যদিও এই বিতর্কের মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কলিতা মাজি। তার দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু নথি সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে তাকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল এবং তিনি সেখানে উপস্থিতও ছিলেন। তিনি জানান, তাদের সাত বোনের মধ্যে বাকি ছয়জনের নাম তালিকায় চূড়ান্ত হলেও শুধুমাত্র তার নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, এবার জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি তপসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসন। গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভেদানন্দ থাণ্ডার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি এক লক্ষের বেশি ভোট পেয়েছিলেন, আর বিজেপির প্রার্থী হিসেবে কলিতা মাজি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপির প্রার্থীর নাম যখন এখনও বিবেচনাধীন, তখন তাকে প্রার্থী করা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাদের মতে, এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনেই কাজ করছে।পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে আউশগ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ভোটের আগে এই বিতর্ক কোন দিকে যায়, তা নিয়েই এখন সবার নজর।

মার্চ ১৭, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

অপরিচিত যুবকদের ঘোরাঘুরি, রানিনগরে পুলিশের জালে ৭ বাংলাদেশি, কেন এসেছিল এই দেশে?

মুর্শিদাবাদে ফের অনুপ্রবেশের অভিযোগে একসঙ্গে সাত বাংলাদেশিকে আটক করল পুলিশ। রানিনগর থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে কাহারপাড়া এলাকা থেকে ওই সাতজনকে আটক করে। বুধবার তাদের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগেই তাদের আটক করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে রানিনগর থানার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ওই সাত বাংলাদেশি বেআইনিভাবে এদেশে প্রবেশ করে। সীমান্ত পেরনোর পর কাহারপাড়া এলাকায় তারা গা-ঢাকা দিয়ে ছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু এলাকায় বেশ কয়েকজন অপরিচিত যুবকের গতিবিধি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রাই রানিনগর থানায় খবর দেন।খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। এরপর তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় আটক ব্যক্তিরা দক্ষিণ ভারতে কাজের উদ্দেশ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের কথা জানিয়েছে।এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদে ফের অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে কীভাবে ওই সাতজন এ দেশে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, অথবা সীমান্ত পেরনোর ক্ষেত্রে কোনও দালাল বা চক্র তাদের সাহায্য করেছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।মুর্শিদাবাদ-সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। একের পর এক ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বাড়ছে। যদিও পুলিশ-প্রশাসনের তরফে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তিদের গতিবিধির উপরও নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।আটক সাত বাংলাদেশিকে বুধবার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের আগে তাদের পরিচয় এবং ভারতে প্রবেশের পথ-সহ অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হকি বিশ্বকাপে ফের পাকিস্তান-বধ, ৫-৩ গোলে উড়িয়ে দিল হরমনপ্রীতের ভারত

হকি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল ভারত। ১৯ অগস্ট নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনের ওয়াগনার হকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। হরমনপ্রীত সিংয়ের নেতৃত্বে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে ভারতীয় দল। শেষ পর্যন্ত ৫-৩ গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ভারত। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্র্যাগ-ফ্লিকে গোল করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দেয় ভারত। ১১ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মনদীপ সিং। তাঁর গোলে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও একই গতিতে আক্রমণ চালিয়ে যায় হরমনপ্রীতের দল।দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফের গোল করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। তিন গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চাপ আরও বেড়ে যায় পাকিস্তানের উপর। তবে হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা শুরু করে তারা। হন্নান শাহিদ পাকিস্তানের হয়ে প্রথম গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করেন। এরপর কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে ম্যাচ। পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ভারত আক্রমণের ধার একেবারেই কমায়নি।২৪ মিনিটে ফের ভারতীয় শিবিরে উচ্ছ্বাস। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় গোল করেন অভিষেক। একসঙ্গে ৪-৫ জন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তাঁর অসাধারণ ফিনিশ ভারতকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। যদিও এরপরই পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করেন।দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ভারত। প্রথমার্ধে হরমনপ্রীতের জোড়া গোল, মনদীপের একটি গোল এবং অভিষেকের দুর্দান্ত ফিনিশে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ভারত। পাকিস্তানের হয়ে হন্নান শাহিদ ও সুফিয়ানের গোল অবশ্য তাদের ম্যাচে ফেরার আশা জিইয়ে রাখে। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে ভারত। আক্রমণাত্মক হকির পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে রেখে শেষ পর্যন্ত ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে হরমনপ্রীতের দল।চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয় হকি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল টিম ইন্ডিয়া।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

পেনাল্টি শুটআউটে নাটকীয় জয়, ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল, প্রতিপক্ষ কে?

নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে এসসি দিল্লিকে হারিয়ে ২০২৬ ডুরান্ড কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ইস্টবেঙ্গল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পায় লাল-হলুদ। শুটআউটে ইস্টবেঙ্গলের পাঁচ শুটারই নিজেদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। শেষ পর্যন্ত রশিদের নিখুঁত স্পট-কিকেই নিশ্চিত হয় ফাইনালের টিকিট।টাইব্রেকারের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় এসসি দিল্লি। তাদের হয়ে প্রথম পেনাল্টি নিতে আসেন পেনা। তাঁর নেওয়া স্পট-কিক অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিল। শুরুতেই প্রতিপক্ষের পেনাল্টি রুখে দিয়ে দলকে বাড়তি সুবিধা এনে দেন তিনি। দিল্লির দ্বিতীয় পেনাল্টিতে রদ্রিগুইনহো গোল করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন।ইস্টবেঙ্গলের হয়ে প্রথম পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন আনোয়ার আলি। চাপের মুহূর্তেও ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। এরপর দিল্লির ডুভানও গোল করেন। ফলে টাইব্রেকারের উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।লাল-হলুদের দ্বিতীয় স্পট-কিক নিতে আসেন দানু। তিনিও কোনও ভুল করেননি। তাঁর শট জালে জড়িয়ে যায়। দিল্লির হয়ে আইমেনও নিজের পেনাল্টি থেকে গোল করে লড়াই জিইয়ে রাখেন। এরপর ইস্টবেঙ্গলের তৃতীয় শট নিতে আসেন চুংনুঙ্গা। তাঁর শটও সফল হয়।চতুর্থ পেনাল্টিতে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দায়িত্ব নেন ক্রিস ইকোনোমিডিস। তাঁর নিখুঁত শটে ফের বল জালে জড়িয়ে যায়। ফলে ফাইনাল থেকে আর মাত্র এক ধাপ দূরে ছিল লাল-হলুদ।এরপর ম্যাচ শেষ করার দায়িত্ব এসে পড়ে রশিদের উপর। চাপের সেই মুহূর্তেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি তিনি। অসাধারণ ঠান্ডা মাথায় স্পট-কিক নিয়ে বল গোলের বাঁ দিকের উপরের কোণে পাঠিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ইস্টবেঙ্গল শিবির। ৫-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে ফাইনালে উঠে যায় আন্তোনিও হাবাসের দল।তবে পুরো ম্যাচে এসসি দিল্লিও যথেষ্ট লড়াই করেছে। সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার জন্য শেষ পর্যন্ত তাদের খেসারত দিতে হয়। প্রথমার্ধে রদ্রিগুইনহোর পেনাল্টি বাঁচিয়ে দেন গিল। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের রশিদ ও জেসিনের শট-সহ মোট তিনটি প্রচেষ্টা গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা না মিললেও পেনাল্টি শুটআউটে নিজেদের স্নায়ুর জোর ধরে রাখে ইস্টবেঙ্গল। এখন ফাইনালে তাদের সামনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট অথবা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের চ্যালেঞ্জ।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

অনলাইন বেটিংয়ের অন্ধকার থেকে ফেরার বার্তা, নন্দনে ‘পুনর্জন্ম’

দুর্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অফিশিয়াল সিলেকশনে সূর্যদীপের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি, ২১ অগাস্ট নন্দনে প্রদর্শনরাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন। হাতে থাকা স্মার্টফোনে কয়েকটি ক্লিক। আর সেই সহজলভ্যতার হাত ধরেই ধীরে ধীরে অনলাইন গেম, বেটিং অ্যাপ, লটারি কিংবা ডিজিটাল জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন বহু মানুষ। শুরুটা হয় সামান্য বিনোদন কিংবা দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই নেশাই কেড়ে নিচ্ছে সঞ্চয়, সম্পর্ক এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন। এই বাস্তব সামাজিক সমস্যাকেই পর্দায় তুলে ধরতে তৈরি হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুনর্জন্ম।পরিচালক সূর্যদীপের এই ছবি এবার জায়গা করে নিয়েছে দুর্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অফিশিয়াল সিলেকশনে। আগামী ২১ অগাস্ট, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টায় কলকাতার নন্দন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির প্রদর্শন হবে।পুনর্জন্ম-এর মূল বিষয় শুধুমাত্র অনলাইন গেম বা বেটিং নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে আসক্তির ভয়াবহতা এবং সেই আসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে জীবন শুরু করার বার্তা। নির্মাতাদের বক্তব্য, প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু তার অপব্যবহার অনেকের কাছে ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একাংশ দ্রুত এবং সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় অনলাইন বেটিং ও বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল জুয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছেন।এর জেরে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, পরিবারে তৈরি হচ্ছে অশান্তি, ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্ক, বাড়ছে মানসিক চাপ। অনেক ক্ষেত্রেই সর্বস্ব হারিয়ে মানুষকে চরম সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই অন্ধকার বাস্তবতাকেই গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে পুনর্জন্ম।ছবির লেখক, পরিচালক এবং অভিনেতা সূর্যদীপের কথায়, ছবিটি তৈরির পিছনে তাঁদের মূল উদ্দেশ্য বিনোদনের পাশাপাশি একটি সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের নেশার মধ্যে অনলাইন গেম, বেটিং অ্যাপ এবং লটারির আসক্তি অত্যন্ত ভয়ংকর হয়ে উঠছে। তাঁর আশা, ছবিটি দেখে অন্তত একজন মানুষও যদি এই সর্বনাশা অভ্যাস থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলেই তাঁদের পরিশ্রম সার্থক হবে।নন্দনে প্রদর্শনের সুযোগকে তাই শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছেন না নির্মাতারা। তাঁদের কাছে এটি সামাজিক সচেতনতার বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দুর্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালকে ছবিটি অফিশিয়াল সিলেকশনের জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন পরিচালক।নন্দনের পর ইউটিউবে মুক্তিনন্দনে প্রদর্শনের পরও দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও একটি সুযোগ। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর, শিক্ষক দিবসে, এস. ডি এন্টারটেইনমেন্ট-এর ইউটিউব চ্যানেলে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্য পুনর্জন্ম আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ প্রেক্ষাগৃহের দর্শকদের পাশাপাশি পরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ছবিটি পৌঁছে যাবে বৃহত্তর দর্শকের কাছে।ছবির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সূর্য। অভিনয়ে রয়েছেন অনুপম মুখার্জী, সান্তনু চক্রবর্তী, পুষ্পিতা বক্সি, সূর্যদীপ, অভিক দাস, মেঘ কুন্ডু, অঞ্জন মাঝি, সুবির মুখার্জি, রাজা মুখার্জি, বিকাশ হালদার এবং দীপঙ্কর কাঁটাল।চিত্রগ্রহণের দায়িত্ব সামলেছেন সৌনক দাস। আলো ও স্থিরচিত্রের দায়িত্বে রয়েছেন সুমন বিশ্বাস।সব মিলিয়ে, পুনর্জন্ম শুধু একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নয়, বরং বর্তমান সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যাকে ঘিরে সচেতনতার বার্তা দেওয়ার প্রয়াস। অনলাইন গেম, বেটিং কিংবা লটারির নেশা যেখানে ক্রমশ সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব ফেলছে, সেখানে সেই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার গল্পই নন্দনের পর্দায় বলতে চলেছে পুনর্জন্ম।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
দেশ

অগস্টেই শেষ হওয়ার কথা চাকরি, তার আগেই সুপ্রিম কোর্টে এসএসসি! ২৬ হাজারকে নিয়ে কী চাইছে কমিশন?

২৬ হাজার চাকরিহারার ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ২৬ হাজার চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল সার্ভিস কমিশন যৌথ ভাবে শীর্ষ আদালতে এই আবেদন করেছে।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, অগস্ট মাসের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার কথা। সেই নির্দেশ মেনে নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছিল। নবম ও দশম শ্রেণির নিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া চলছিল। পাশাপাশি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগের জন্য কাউন্সেলিংও শুরু হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথেই সেই প্রক্রিয়ায় ফের বাধা তৈরি হয়।মূলত ওবিসি সংরক্ষণ নীতি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত নতুন নিয়ম তৈরি করেছে। সেই নিয়ম কী ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হবে, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। আইনজীবীদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করছে স্কুল সার্ভিস কমিশন।এর মধ্যেই ২৬ হাজার চাকরিহারার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ অগস্ট তাঁদের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে নতুন করে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই চাকরির মেয়াদ আরও কিছুটা বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।যাঁরা ইতিমধ্যেই সুপারিশপত্র পেয়েছেন, তাঁদের নিয়োগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে নিয়োগের যাচাই ও কাউন্সেলিং চলছে, অন্যদিকে সংরক্ষণ নীতি কার্যকর করার বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ফলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।এর আগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান দুষ্যন্ত নারিয়ালা জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা নিয়ে সমস্যা হলে সময় বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করা হবে। সেই মতোই এবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল কমিশন।এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে ২৬ হাজার চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
কলকাতা

বিদেশযাত্রায় সুপ্রিম কোর্টের স্বস্তি, এবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে নতুন ধাক্কা? অভিষেক মামলায় বড় দিন বৃহস্পতিবার

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার মামলা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে বুধবার শুনানি হল না। মামলাটি বৃহস্পতিবার শুনবেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তার আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফলে বৃহস্পতিবারের শুনানির দিকে নজর রয়েছে।অভিষেকের আইনজীবীর অভিযোগ, কী কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাঙ্কের তরফে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। তাঁর আরও দাবি, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১০৭ নম্বর ধারা অনুসরণ না করেই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে হলে পুলিশকে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হয় বলেই আদালতে জানানো হয়েছে।মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনও মামলা চলছে কি না। জবাবে তাঁর আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে অভিষেক তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তবে সেই মামলাগুলির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করা হয়।এরপরই মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। বুধবার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার করা হয়েছে। ওই দিন ব্যাঙ্কের রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলাটি ফের আদালতে উঠবে।এর আগে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন অভিষেক। রাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা ছিল। প্রথমে হাই কোর্ট বিদেশে চিকিৎসা করানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং কলকাতার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়।হাই কোর্টের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান অভিষেক। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বিষয়টি ফের হাই কোর্টে আসে। পরে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার জন্য ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সাংসদ। শর্তসাপেক্ষে তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয় শীর্ষ আদালত।এখন বিদেশযাত্রার অনুমতির পরেই ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কের রিপোর্টে কী তথ্য উঠে আসে এবং আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
রাজ্য

ভোট মিটেছে, বাহিনী ফেরেনি! বাংলায় এবার ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, কারণ কী?

ভোট শেষ হয়ে গিয়েছে। সাধারণত তার পর ধাপে ধাপে রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু এ বার ছবিটা অন্য রকম। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে বাংলায় এখন মোট ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকবে।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য বাংলায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোট মিটে যাওয়ার পর ধাপে ধাপে সেই বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে রাজ্যে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়া হয়েছিল।এ বার সেই সংখ্যাই আরও ৫০ কোম্পানি বাড়ানো হচ্ছে। নতুন করে যে বাহিনী বাংলায় আসছে, তার মধ্যে রয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী। নতুন ৫০ কোম্পানি যোগ হলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১০০ কোম্পানিতে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, ভোট শেষ হওয়ার পরও কেন বাংলায় এত বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হচ্ছে? প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এর পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জানা গিয়েছে, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহলদারি চালাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকানো, এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করাই হবে বাহিনীর মূল লক্ষ্য। স্থানীয় পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের বিশেষ দলের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করবে তারা।নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর বাহিনীর সংখ্যা কমার বদলে আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনও বিশেষ ঘটনার যোগ নেই। শুধুমাত্র বাংলার আইনশৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় রাখতেই রাজ্যে অতিরিক্ত ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
কলকাতা

ঘুম ভাঙতেই চারপাশ কালো ধোঁয়া, সামনে শুধু আগুন! বাথরুমে ঢুকে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে কী করলেন টিকন?

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রাতে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন টিকন সাউ, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। মেয়ের প্রশিক্ষণের জন্য কলকাতায় এসে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে ওই হোটেলে উঠেছিলেন টিকন। তিন দিনের জন্য ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকায়। কিন্তু রাতে ঘুমোতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি।রাতের খাওয়া সেরে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঘরে চলে যান টিকন। রাত ১২টা নাগাদ ঘুমিয়েও পড়েন তাঁরা। রাত ২টো নাগাদ হঠাৎ ঘরের ভিতরে ধোঁয়া ঢুকতে শুরু করে। প্রথমে ঘুমের মধ্যে থাকায় তাঁরা কিছু বুঝতে পারেননি। শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার পর ঘুম ভাঙে। চোখ খুলেই দেখতে পান, চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে।আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়েন টিকন। প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় কল খুলে দেন। বাইরে তখন আগুন, চারদিকে ধোঁয়া। বাথরুমের ভিতর থেকেই সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন তাঁরা।শেষ পর্যন্ত দমকলকর্মীরা বাথরুম থেকে টিকন, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে উদ্ধার করেন। হোটেলের লোহার সিঁড়ি দিয়ে তাঁদের কোনও রকমে নীচে নামিয়ে আনা হয়। তবে ততক্ষণে ওই হোটেলের আরও নয় জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার বেহালার তিন নম্বর রায়বাহাদুর রোডে। সেই সূত্র ধরে সকালে বেহালা ও নিউ মার্কেট থানার পুলিশ যৌথ ভাবে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়।পুলিশের তল্লাশিতে ফ্ল্যাটের ভিতরে বীরেশ্বর মিত্রকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির একতলাতেও খোঁজ চালানো হয়। তাঁর ফ্ল্যাটের নীচে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরেশ্বরের দুটি গাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি গাড়ি নিয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। অন্য গাড়িটি এখনও বাড়ির নীচে রয়েছে।এই ঘটনায় হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বহুতলের ভিতরে ঘরের পর ঘর তৈরি করা হয়েছিল। সরু জায়গার মধ্যে একাধিক কক্ষ থাকায় আগুন লাগার পর আবাসিকদের বেরিয়ে আসার পথও কঠিন হয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীও হোটেলের অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের হোটেল কী ভাবে বাণিজ্যিক অনুমতি পেল, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক প্রাণহানির পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কী ভাবে এমন একটি হোটেল এত দিন চলল এবং আগুন লাগার পর আবাসিকদের জন্য নিরাপদে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা কেন ছিল না। একই সঙ্গে হোটেল মালিকের খোঁজ না মেলায় তদন্তে নতুন করে রহস্যও তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal