• ২ কার্তিক ১৪৩৩, বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Tmc,

রাজনীতি

সুকান্ত, শুভেন্দুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার, পাল্টা দিলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি

শনিবার লোকসভা ভোটের প্রচারে বালুরঘাটের তপনে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বালুরঘাটের বিদায়ী সাংসদ তথা বঙ্গ বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনা প্রকল্পে কেন্দ্রের অর্থ আটকে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী দায়ী করেন সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীকে। মমতা বলেন, ওরা বাংলার গদ্দার, বাংলার কুলাঙ্গার। পাল্টা জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি।এ দিন জলপাইগুড়িতে ঝড়বিধ্বস্ত এলাকা প্রদর্শনে তাঁর যাওয়া ও বিরোধী বিজেপি নেতাদের না যাওয়া নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলার টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের আটকে রাখার প্রসঙ্গটি আসে। মমতা বলেন, আপনাদের এখানে ওই কুসান্তবাবু আছেন, আর ও দিকে আছে গদ্দার। এরা মনে করে, যা বলবে তা-ই করতে হবে। গায়ের জোরে চালাবে।এরপরই সুকান্ত মজুমদারের নাম ধরে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন মমতা। বলেন, চ্যালেঞ্জ করছি সুকান্তবাবুকে। ভোট দেওয়ার আগে বলেননি আপনি আর গদ্দার? বাংলাকে ১০০ দিনের টাকা দেওয়া যাবে না? বাংলার বাড়ি দেওয়া যাবে না? রাস্তা দেওয়া যাবে না? কোনও দিন সারি-সারনা ধর্ম নিয়ে কথা বলেছেন দিল্লিতে গিয়ে? তারপরই মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আপনারা বাংলার টাকা বন্ধ করেছেন, আপনারা বাংলার গদ্দার। আপনারা বাংলার কুলাঙ্গার। আপনারা বাংলার ভাল চান না। আপনারা উত্তরবঙ্গের ভাল চান না। আপনারা দক্ষিণবঙ্গেরও ভাল চান না।পরে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের জবাব দেন সুকান্ত। বলেন, ইয়ে ডর হামে আচ্ছা লগা। বালুরঘাট কেন, উত্তরবঙ্গেও গত বারে যেমন শূন্য হাতে তৃণমূল ফিরেছিল, এ বারও শূন্য হাতে ফিরবে। কংগ্রেসও তাই। উনি ১০০ দিনের টাকার কথা বলছেন, আমি এখনও বলছি, উনি হিসাব দিন, সব টাকা কেন্দ্র দেবে। হিসাব না দিলে একটি টাকাও পাবে না। কারণ, নরেন্দ্র মোদীর শপথ, উনি চুরি করবেন না। কাউকে করতেও দেবেন না। উনি আমাকে কুসান্ত বলুন বা যতই খারাপ কথা বলুন। আমি কোনও খারাপ কথা বলব না। তার জবাবও দেব না। আমার পারিবারিক শিক্ষা তেমন নয়।সাম্প্রতিক ঝড়ে বাড়ি ভেঙে পড়া নিয়ে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন সুকান্ত। বলেন, উনি বরং বলুন, এত বাড়ি ভেঙে পড়ল কেন? কেন এই মানুষজনকে উনি বাড়ি বানানোর টাকা পেতে দেননি।

এপ্রিল ০৬, ২০২৪
রাজনীতি

প্রাক্তন বিচারপতিকে ক্রমাগত নিশানা করে চলেছেন মমতা

আরও একবার প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় প্রাক্তন বিচারপতি তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ফের একবার অভিজিৎবাবুর বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, জনগণের আদালতে বিচার হবে প্রাক্তন বিচারপতির।এর আগে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় রাজনীতিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ সম্পর্কে তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেছিলেন, মুখ থেকে মুখোশ খুলে গিয়েছে। যেখানে দাঁড়াবেন সেখানেই হারবেন।শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে প্রচার সারেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানেই তিনি আক্রমণ করেন তমলুকের বিজেপি প্রার্থীকে। বলেন, দেখলেন একজন বিচারপতি কী করলেন। আপনি অনেকের চাকরি খেয়েছেন। এ বার জনগণের আদালতে আপনার বিচার হবে। আমরা ওখানে (তমলুক) ছাত্রনেতা দেবাংশুকে পাঠিয়েছি। গোহারা হারবেন।তমলুক অধিকারীদের গড় বলেই পরিচিত। এখান থেকেই জোড়-ফুল প্রতীকে জিতে দিল্লি গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে নন্দীগ্রাম থেকে তাঁকে জিতিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দুর পর তমলুকের সাংসদ ছিলেন তাঁর ছোট ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। তৃণমূল ছেডে় তিনিও এখন বিজেপিতে। তবে, তমলুক থেকে প্রাক্তন বিচারপতিকে এবার প্রার্থী করেছে পদ্ম শিবির। যাঁর প্রতিপক্ষ তৃণমূলের ছাত্রনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।অভিজিৎবাবুর বিরুদ্ধে কেন এত রাগ মমতার? হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশেই শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্ত শুরু হয়। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে শ্রীঘরে পাঠানোর নেপথ্যেও রয়েছে তাঁর নির্দেশ। শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁচাছোলা পর্যবেক্ষণ করেছেন অভিজিৎবাবু। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় শুরু থেকেই রাজনীতিক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মমতা দাবি কেরছিলেন যে, কথায় কথায় পিল গিলে বিজেপি যেমন নির্দেশ দিয়েছে, তেমনই উনি (অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়) রায় দিয়েছেন।

এপ্রিল ০৫, ২০২৪
রাজ্য

মালদায় দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে বৈঠক অভিষেকের, বিশেষ নির্দেশ নেতা-কর্মীদের

গত বিধানসভা নির্বাচনে মালদা ও মুর্শিদাবাদের জনগণ দুহাত তুলে আশীর্বাদ করেছিলেন। স্বাভাবিক কারণেই খুব ভালো ফল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও আমরা আশাবাদী বিরোধীদের পরাস্ত করে মালদায় ভালো ফল করবে তৃণমূল। শুক্রবার বিকালে দলের ১২১ জন কর্মকর্তাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করার পরে জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পুরাতন মালদা ব্লকের সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি বেসরকারি হোটেলে তৃণমূলের মালদা দুটি লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন কমিটির ৪২ জন সদস্য, দলীয় বিধায়ক, অঞ্চল কমিটির সভাপতি থেকে শুরু করে মোট ১২১ জন কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই গোপন বৈঠক করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এদিন দুপুর দুটো থেকে প্রায় বিকেল চারটা পর্যন্ত দুঘণ্টা ধরে রুদ্রদ্বার এই বৈঠক চলে। এই বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনের রণকৌশল ঠিক করা হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী তথা মালদার দুই বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন ও তাজমুল হোসেন, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী, দলের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক সমর মুখার্জী , মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ, তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দাস।এদিন দলীয় বৈঠক শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে মালদায় খুব ভালো ফল হয়েছে। মালদার দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে দুটি বিধানসভা কেন্দ্র মুর্শিদাবাদের মধ্যে পড়ে। সেটি হলো সামশেরগঞ্জ এবং ফারাক্কা। সেখানেও গত বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল হয়েছিল তৃণমূলের। এদিনের এই পর্যালোচনা বৈঠকে দলীয় নেতৃত্বের নানান কথা শোনা হয়েছে। আগামীতে নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি করতে কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, সেনিয়ে এদিন এই বৈঠকের মাধ্যমে মতামত বিনিময় করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে মালদা এবং মুর্শিদাবাদে আমরা ভালো ফল করেছিলাম। জনগণ দুইহাত তুলে আশীর্বাদ করেছিল। এবারও আমরা আশাবাদী মালদা এবং মুর্শিদাবাদে ভালো ফল করবে তৃণমূল। গত লোকসভা নির্বাচনে মালদার দুটি কেন্দ্রের মধ্যে উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছিল এবং দক্ষিণ মালদা লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। কিন্তু এবার সর্বত্র মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের জোয়ার বইছে গোটা রাজ্য জুড়ে। ফলে এবারে আর বিরোধীদের কোন জায়গা থাকবে না।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনী রণকৌশল ঠিক করতে এদিন পর্যালোচনার মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দলের বুথ স্তরের কর্মীরা প্রচার চালাবেন। যারা গত লোকসভা নির্বাচনে বিমুখ হয়েছিল, তাদের কাছে বুথ স্তরের কর্মীরা যাবেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নের প্রচার তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি কেন গত লোকসভা নির্বাচনে এই ধরনের ফলাফল হয়েছিল? সেটিও প্রান্তিক স্তরে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে হবে।

এপ্রিল ০৫, ২০২৪
রাজনীতি

মাথাভাঙার জনসভায় ডবল ইঞ্জিন মমতার মুখে! তীব্র আক্রমণ বিজেপির আইপিএস প্রার্থীকে

কোচবিহারে নির্বাচনী জনসভায় বিজেপিকে অলআউট আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এর মধ্যেই তৃণমূলনেত্রীর মুখে শোনা গেল বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন প্রসঙ্গও। যদিও তড়িঘড়ি মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দিতে শোনা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।কোচবিহার বিমানবন্দরে আমরা ৩০০ কোটি টাকা খরচ করেছি। আর বাবু একটি বিমান নিয়ে নেমে গেলেন। বাহ-বাহ। আমরা বলেছিলাম, ডাবল ইঞ্জিন দাও। সিঙ্গল ইঞ্জিন দিও না। কারণ, ওতে মানুষের জীবন রক্ষা পায় না। এখন সিঙ্গল ইঞ্জিন চলে না। ডাবল ইঞ্জিন চলে।বিতর্ক বাড়তে পারে বুঝেই তড়িঘড়ি উপরোক্ত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এরপর তৃণমূলনেত্রী বলেন, ওটা বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন নয়। মিথ্যা কথার ডাবল ইঞ্জিন নয়। ওটা প্লেনের ডাবল ইঞ্জিনের কথা বলছি আমি।কোচবিহারের মাথাভাঙার গুমানি হাটে এদিন দলের প্রার্থী জগদীশ চন্দ্র বাসুনিয়ার সমর্থনে সভা করেন তৃণমূলনেত্রী। কোচবিহারে এবারেও বিজেপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। এদিন নিশীথ প্রামাণিককেও বেনজির আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু রয়েছে বলেও এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এরই পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নিশানা করেছেন কোচবিহারের প্রাক্তন পুলিশ সুপার তথা এবারের লোকসভা নির্বাচনে বীরভূমের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ধরকে। শীতলকুচিতে এর আগেরবার নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় কোচবিহারের পুলিশ সুপার ছিলেন বর্তমানে বীরভূমের প্রার্থী।সেই দেবাশিস ধরকে আক্রমণ শানিয়ে এদিন তৃণমূলনেত্রী বলেন, শীতলকুচিতে ভোটের লাইনে দাঁড়ানো ৪ জনকে গুলি করে মেরেছিল। ভোট চলাকালীন এসেছিলাম, পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। কোচবিহারের তৎকলাীন এসপিকেই বিজেপি বীরভূমে প্রার্থী করেছে। শীতলকুচিতে গুলি চালিয়ে হাতের রক্ত মোছেনি। এখন বীরভূমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

এপ্রিল ০৪, ২০২৪
রাজ্য

সন্দেশখালি ইস্যুতে হাইকোর্ট: অভিযোগ ১ শতাংশ সত্যি হলেও লজ্জার

সন্দেশখালির মহিলাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের আগে একটি হলফনামার বিষয়বস্তুতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট বলেছে, অভিযোগ যদি এক শতাংশও সত্য হয় তবে এটি একেবারে লজ্জাজনক৷আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মহিলাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান বলে দাবি করার জন্যও তিরস্কার করেছে।সন্দেশখালিতে নারী নির্যাতন এবং জমি দখলের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে যুক্তি শুনে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম মন্তব্য করেছেন, পুরো জেলা প্রশাসন এবং শাসকদের অবশ্যই নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। এমনকি যদি (হলফনামা) ১% সত্য হয় তবে এটি একেবারে লজ্জাজনক। আর পশ্চিমবঙ্গ বলে নারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ? যদি একটি হলফনামা সঠিক বলে প্রমাণিত হয় তবে এই সব মিথ্যা হয়ে যাবে।হাইকোর্ট ফেব্রুয়ারিতে বন্দুকের মুখে মহিলাদের উপর যৌন নিপীড়নের দাবি এবং সন্দেশখালিতে আদিবাসীদের জমি জবরদখলের বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছিল।মার্চ মাসে, আদালত সন্দেশখালিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আধিকারিকদের উপর ৫ জানুয়ারি হামলার তদন্তের পাশাপাশি প্রধান অভিযুক্ত শাহজাহান শেখের হেফাজত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) এর কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।ঘটনার সূত্রপাত, যখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা যাঁরা সন্দেশখালিতে তৃণমূলের বরখাস্ত হওয়া জেলা পরিষদের সদস্য শক্তিশালী শেখ শাহজাহানের বাড়িচে ৫ জানুয়ারি তল্লাশি চালাতে এসেছিলেন, তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছিল। শাহজাহান এবং তাঁর অনুগামীরা পলাতক থাকায়, ৮ ফেব্রুয়ারি, রেখা পাত্র-সহ এলাকার মহিলারা রাস্তায় নেমে আসেন, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, হামলা এবং জমি দখলের অভিযোগ তোলেন।এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে বিরোধী দল সন্দেশখালি ইস্যুতে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। আরও, বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বলেছিলেন যে বাংলায় মহিলারা সবচেয়ে নিরাপদ।

এপ্রিল ০৪, ২০২৪
রাজনীতি

নির্বাচনী সভায় কৃষ্ণনগরের রাজ পরিবারকে তুলোধেনা, কি বললেন মমতা?

কৃষ্ণনগরে জনসভা দিয়েই আসন্ন লোকসভা নির্বাচন ২০২৩ এর প্রচার পুরোদমে শুরু করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কৃষ্ণনগরের ধুবুলিয়ার মাঠে প্রকাশ্য জনসভায় দলের প্রার্থী মহুয়া মৈত্রকে জেতানোর আবেদনের পাশাপাশি কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির ইতিহাস নিয়েও ফের ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এনেছেন তৃণমূলনেত্রী। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও একহাত নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।এবারের লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে রাজমাতা অমৃতা রায়কে প্রার্থী করেছে। সদ্য গেরুয়া দলে যোগ দেওয়া কৃষ্ণনগরের রাজমাতা অমৃতা রায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিকে, রবিবার কৃষ্ণনগরে প্রচারে এসে সেই রাজমাতা অমৃতা রায় ও তাঁর রাজ পরিবারের ইতিহাস নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মমতার বক্তব্য, কীসের রাজমাতা? এখন আমরা সবাই প্রজা। প্রজার ভূমিকাই পালন করুন। আর রাজা হলে তো রাজ প্রাসাদে থাকবেন। মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। মহুয়ার বিরুদ্ধে যাকে দাঁড় করিয়েছে তাঁর পরিবারের ইতিহাস ভুলে গেছেন? ইংরেজদের সাহায্য করে ভারতের স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে চেয়েছিলেন ওরা। মোদীবাবু ইতিহাস জানেন না।এরই পাশাপাশি মহুয়া মৈত্রকে ফের একবার কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে জেতানোর আবেদন জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, মহুয়াকে জেতাতে হবে। ওকে তাড়িয়ে দিয়েছে আপনাদের সমর্থনের পরেও। মহুয়াকে জেতাতেই হবে। ও যাতে বিজেপির মুখোশটা টেনে খুলে দিতে পারে।

মার্চ ৩১, ২০২৪
দেশ

সিবিআই তল্লাশির পর এবার ইডির তলব মহুয়াকে, কি করবেন তৃণমূল প্রার্থী?

সিবিআইয়ের পর ইডি। আগামী ৩১ মার্চ কৃষ্ণনগরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সভা করবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই সংসদে ঘুষের বদলে প্রশ্ন কাণ্ডে লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে সমন পাঠাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আগামী ২৮ মার্চ (বৃহস্পতিবার) কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থীকে দিল্লিতে ইডি দফতরে হাজির দিতে হতে বলা হয়েছে। মহুয়ার পাশাপাশি এই মামলায় অন্যতম অভিযোগকারী ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানিকেও সমন পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীর এজেন্সির তরফে।মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ, লোকসভায় প্রশ্ন করার জন্য তিনি নাকি শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে ঘুষ বাবদ নগদ ও নানা ধরণের উপহার নিয়েছেন। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এই ব্যাপারে প্রথম সরব হন। তারপর এই বিষয় নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ চলতে থাকে। অবশেষে এথিক্স কমিটির সুপারিশের পর সাংসদ পদ বাতিল হয় কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থীর। এরপরই মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় লোকপাল। ইতিমধ্যে মহুয়ার বাবার কলকাতা ও কৃষ্ণনগরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই।জানা গিয়েছে, বিদেশি মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় ফেমা, 1999-এর নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে মহুয়া এবং ব্যবসায়ী হিরানন্দানিকে। এর আগে মহুয়ার সাংসদ পদ বাতিল করে এথিক্স কমিটি। তা নিয়ে শোরগোল পরে যায় রাজনীতিতে।

মার্চ ২৭, ২০২৪
রাজ্য

দলীয় কর্মী ও নেতাদের কড়া হুঁশিয়ারি অভিষেকের, 'ফল ভালো না হলে সরতে হবে'

নিজের দুর্গ অটুট রাখতে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলের যুবরাজ। ডায়মন্ড হারবারে এবারও তৃণমূলের প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী কোনও শিবির-ই এই কেন্দ্রে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। এই অ্যাডভানটেজ-কেই কাজে লাগিয়ে ভোটপর্বের শুরুতেই কয়েক কদম এগিয়ে যেতে মরিয়া তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বুধবার দলীয় নেতা, স্থানীয় বিভিন্নস্তরের তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার ভোট প্রস্তুতি বৈঠক সারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে শুরুতেই সকলকে সেনাপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ডায়মন্ড হারবারে এবার তাঁর জয়ের ব্যবধান অন্তত চার লাখ হওয়া চাই। অর্থাৎ টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন তিনি। এর আগে বসিরহাটের জনসভায় তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন এবার ৪ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতবেন।দলীয় বৈঠকে অভিষেক মনে করিয়ে দিয়েছেন, জনগণই তৃণমূলের শক্তি। তাই বার বার মানুষের কাছে যেতে হবে। মানুষের চাহিদা কী, তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পরিষ্কারভাবে জানতে হবে। আগামী দুমাস আরও নিবিড়ভাবে মানুষের কাছে যেতে হবে। রাজ্য সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরার সঙ্গে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিষয়ও মানুষকে জানাতে হবে বেশি করে।৪,৬,৯ ও ১৬- ডায়মন্ড হারবার পুরসভার এই চার ওয়ার্ডে গত নির্বাচনে তৃণমূলের ফল ভাল হয়নি। কেন খারাপ হয়েছিল? সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে জানতে চান বিদায়ী সাংসদ। তাঁর নির্দেশ, এই সব ওয়ার্ডগুলিতে নেতা-কর্মীদের আরও বেশি করে মানুষের কাছে যেতে হবে, কথা শুনতে হবে। এসব বুথ ও ওয়ার্ডে কেন তৃণমূলের থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়েছিলেন তা জানতে হবে। সূত্রের খবর অভিষেক বলেছেন, মানুষ যদি না চায় আমাদের, তবে সরে যেতেই হবে।বৈঠকে এরপরই কড়া ভাষায় অভিষেকের হুঁশিয়ারি, কোনও ওয়ার্ডে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল লিড না পেলে তার দায়িত্ব নিতে হবে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং প্রেসিডেন্টদের। তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকী, তাঁদেরকে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে সরেও যেতে হবে।ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা সওকত মোল্লা বলেন, উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। তাই মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার করতে হবে। তাঁদের কোনও অভাব, অভিযোগ থাকলে শুনতে হবে জনপ্রতিনিধি ও তৃণমূল নেতাদের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বার্তাই বাতলেছেন ভোট প্রস্তুতি বৈঠকে।ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে বঙ্গ রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। জয়ের লক্ষ্যমাত্রার টার্গেট বেঁধে ও পার্টি নেতা, জনপ্রতিনিধিদের বেনজির হুঁশিয়ারি দিয়ে যেন সেই মডেলকেই আরেকবার চর্চায় ফেরালেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ই।

মার্চ ২৭, ২০২৪
রাজ্য

দুই মন্ত্রী সম্মুখ সমরে, সংঘর্ষে মাথা ফাটল পুলিশ আধিকারিকের, শহর বনধের ডাক

দুই মন্ত্রী সম্মুখ সমরে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতীশ অধিকারী ও রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ। এক মন্ত্রী আরেকজনের দিকে তেড়ে যাচ্ছে, অন্য জন জবাব দিচ্ছে, এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। মঙ্গলবার কোচবিহারে দিনহাটায় প্রচারে ধুন্ধুমার ঘটনা ঘটে। প্রচারিত একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দুই মন্ত্রীর বাকবিতন্ডা থেকে লাঠিসোটা নিয়ে দাপাদাপি। বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষের ঘটনায় মাথা ফেটেছে এক পুলিশ আধিকারিকের। এই ঘটনার জেরে আজ, বুধবার দিনহাটা বনধের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যে নির্বাচনের আগে পরে বারে বারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিনহাটা। এবার লোকসভা নির্বাচন আসতেই ফের উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারের দিনহাটায়। দুই মন্ত্রীর সামনেই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ও উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ মুখোমুখি বাকবিতন্ডায় জড়ান। একে অপরের দিকে তেড়ে যান। এই দৃশ্য দেখে স্বভাবতই বিজেপি ও তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়৷ জানা গিয়েছে, এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। দিনহাটার এসডিপিও মাথায় চোট পেয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ নাজেহাল হয়ে পড়ে। এমনকী মন্ত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষীদের দিকেও লাঠি নিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায় প্রচারিত ভিডিওতে।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, উদয়ন গুহের জন্মদিন পালনের জন্য দিনহাটা চৌপতি এলাকায় কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। তখন ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন নিশীথ প্রামানিক। তিনি নির্বাচনী প্রচার থেকে ফিরছিলেন। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্মীরা তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা করে। তা থেকে বিবাদের সূত্রপাত।বিজেপির অভিযোগ, সভা শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় দিনহাটার পাঁচমাথা মোড়ে তৃণমূলের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ভাবে রাস্তা দিয়ে আসছিলাম। হঠাৎ কনভয়ে ইট-পাটকেল, তির-ধনুক নিয়ে আক্রমণ করে তৃণমূল। এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের কাছে দিনহাটার ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বুধবার দিনহাটা বনধের ডাক দিয়েছে তৃণমূল অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে বিজেপি।

মার্চ ২০, ২০২৪
রাজনীতি

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে ভোটের লড়াই থেকে সরে আসার আহ্বান তৃণমূল নেতার, কেন এই অনুরোধ?

এবার সরাসরি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁর শুভানুধ্যায়ী হিসেবে কুণাল ঘোষ। এখনও সময় আছে, আপনি নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে থাকুন। পরাজয়ের দিনটি দেখা বড় কঠিন। এক্স হ্যান্ডলে প্রাক্তন বিচারপতিকে এই অনুরোধ জানিয়ে রবিবার সকালে এই পোস্টটি করেছেন তৃণমূল নেতা ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।কুণালের বার্তা, শ্রী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, পরিচয় থাকার সুবাদে একটি অনুরোধ। আপনি বিচারপতি থাকাকালীন বিতর্কিত। ইস্তফা দিয়ে প্রশ্নের মুখে। বিজেপিতে গিয়ে সমালোচিত। অনুরোধ, এখনও সময় আছে, ওদের বলে দিন, প্রার্থী হবেন না। তমলুকে তৃণমূল জিতবে। দুমাস পর আপনার সব সম্মান নষ্ট হবে। যে আপনাকে তমলুক নিয়ে যাচ্ছে, সেও আপনাকে হারাবে। তার দলে অন্য বড় নাম সে সহ্য করতে পারে না, বাড়তে দেবে না। এখনও সময় আছে, আপনি নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে থাকুন। পরাজয়ের দিনটি দেখা বড় কঠিন। শুভানুধ্যায়ী হিসেবে ভাবতে বললাম।শ্রী অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়,পরিচয় থাকার সুবাদে একটি অনুরোধ।আপনি বিচারপতি থাকাকালীন বিতর্কিত।ইস্তফা দিয়ে প্রশ্নের মুখে।বিজেপিতে গিয়ে সমালোচিত।অনুরোধ, এখনও সময় আছে, ওদের বলে দিন, প্রার্থী হবেন না।তমলুকে @AITCofficial জিতবে।দুমাস পর আপনার সব সম্মান নষ্ট হবে।যে আপনাকে তমলুক Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) March 17, 2024উল্লেখ্য, প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাঁর তমুলক কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, তমলুক থেকেই তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তরুণ তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। সিপিএম ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এদিকে, ইতিমধ্যেই তমলুকে গিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে এক দফায় আলোচনা সেরে এসেছেন অভিজিৎ গাঙ্গুলি। তাঁর সঙ্গে আগাগোড়া ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।বিজেপি এরাজ্যে প্রথম পর্বে ২০ টি কেন্দ্রে তাঁদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। বাকি কেন্দ্রগুলিতে সম্ভবত শীঘ্রই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেবে গেরুয়া দল। তবে তার আগে বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির প্রতি এমন বার্তা দিয়ে কুণাল ঘোষের এমন পোস্ট রাজ্য রাজনীতিতে নয়া মাত্রা যোগ করেছে।

মার্চ ১৭, ২০২৪
রাজনীতি

বাংলায় লোকসভা নির্বাচন, তৃণমূলের নিশ্চিত জয় ৩০-৩৫ টি আসনে! বিজেপির টার্গেটও ৩৫

আর আগের মতো ৪২ এ ৪২ নয়। বাংলা লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অনুমান তাদের নিশ্চয় জয় ৩০-৩৫ আসনে। ২০১৯এর মতো ২০২৪ এ তৃণমূলের হুঙ্কার ছিল বাংলার ৪২টির মধ্যে সবকটিতেই উড়বে জোড়াফুল পতাকা। ৪২এ ৩৫ টার্গেট বেঁধে দিয়েছিল বিজেপির চাণক্য অমিত শাহ। সময় এগোতে সেই সংখ্যাই যেন পাখির চোখ তৃণমূলের!লোকসভা ভোটের আগে শুক্রবারই প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সংস্থার জনমত সমীক্ষা। আর ভোট ঘোষণার দিনই তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলে দিলেন, এবার লোকসভা ভোটে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস কটি আসন পেতে পারে।শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে কুণাল ঘোষ বলেছেন, লোকসভা ভোটে তৃণমূল ৩০ থেকে ৩৫ আসন নিশ্চিতভাবে পাবে। বাম, কংগ্রেস শূন্য পাবে। কোথাও কোনও আসন পাবে না তারা। আর বিজেপিকে কীভাবে দুটি, তিনটি, চারটি আসনে বেঁধে রাখা যায়, তা দেখতে হবে। আমাদের টার্গেট বাংলায় বিয়াল্লিশটার মধ্যে বিয়াল্লিশটা আসন। তবে ৩০ থেকে ৩৫ আসন নিশ্চিত। এর পর তা কতটা এগোনো যায়, দেখতে হবে।অর্থাৎ ৪২টির বদলে এখন তৃণমূলের নজরে বাংলার ৩৫ আসন।২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল ৪২-এর মধ্যে ৩৪ টি আসন পেয়েছিল। ২০১৯-য়ের ভোটে তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২২-টিতে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বাংলার কটি আসন তৃণমূল পায় সেটিই এখন দেখার।

মার্চ ১৬, ২০২৪
রাজনীতি

অর্জুন, দিব্যেন্দু বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন দিল্লিতে! ভাইপো সৌরভ তৃণমূল প্রার্থীর এজেন্ট

২২ মাস পর ঘরওয়াপসি হচ্ছে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংয়ের। আজ বৃহস্পতিবার দিল্লি যাবেন, পরের দিন শুক্রবার বিজেপিতে যোগ দেবেন ব্যারাকপুরের বিদায়ী সাংসদ। এদিন তাঁর বিজেপিতে ফেরার খবর ঘোষণার সময়ই অর্জুন দাবি করেছেন যে, তাঁর সঙ্গেই তৃণমূলের আরও এক নেতা গেরুয়া শিবিরের নাম লেখাবেন। তাপস রায়, অর্জুন সিংয়ের পর আর কে ফুল বদব করবেন? তা নিয়ে দিনভর জল্পনা চলে।অর্জুন সিংয়ের ঘোষণার ঘন্টাখানেক পর জানা যায়, তমলুকের বিদায়ী তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী শুক্রবার বিজেপিতে যোগ দেবেন। ব্যারাকপুরের সাংসদের সঙ্গে তিনিও আজ রাজধানী যাচ্ছেন। দিব্যেন্দু সম্পর্কে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই। কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারীর ছোট ছেলে।গুঞ্জন যে, তমলুক লোকসভা আসনে এবার বিজেপি প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী করতে পারে। ইতিমধ্যেই তমলুক, নন্দীগ্রাম ঘুরে এসেছেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিজিৎবাবু শান্তিকুঞ্জে গিয়ে বর্ষীয়ান শিশির অধিকারীর সঙ্গেও দেখা করেন। রটনা সত্যি হলে তমলুকে দিব্যেন্দুর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম। এখন দেখার তমলুক, নাকি বাংলার অন্য কোনও লোকসভা কেন্দ্র থেকে দিব্যেন্দুকে পদ্ম বাহিনী প্রার্থী করে কিনা।#Barrackpore pic.twitter.com/QNCsF96sCh Arjun Singh (@ArjunsinghWB) March 14, 2024২০১৯ সালে তমলুক থেকে জোড়াফুল প্রতীকে লড়ে জয় পেয়েছিলেন দিব্যেন্দু অধিকারী। এরপর ২০২১ সালে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। তার পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বাড়ে। দিব্যেন্দুর বাবা তথা কাঁথির প্রবীণ সাংসদ শিশির অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের বাগযুদ্ধে সরগরম থেকেছে রাজ্য রাজনীতি। সেই সময় বিধানসভা ভোটের প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সভাতেও দেখা গিয়েছিল বর্ষীয়ান শিশিরকে। শিশির এবং দিব্যেন্দুর সাংসদ পদ বাতিলের জন্য লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করে তৃণমূলের সংসদীয় দল। সেই সময় থেকেই তৃণমূলে নিষ্ক্রিয় তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী।এদিকে ব্যারাকপুরে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ অর্জুন সিং জানিয়ে দেন, তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে। তাঁকে প্রার্থী করবে বলে কথা দিয়েও তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কথা রাখেনি। তারপর বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। বৃহস্পতিবার অর্জুন জানিয়ে দেন তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তিনি ব্যারাকপুরে বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিকে অর্জুনের ভাইপো সৌরভ সিং ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিকের নির্বাচনী এজেন্ট হচ্ছেন। জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী।

মার্চ ১৪, ২০২৪
রাজনীতি

দিদির বার্তায় চুপসে গেলেও বাবুনের ফোঁসের মুখে হাওড়ার তৃণমূল প্রার্থী

দিল্লি থেকে ফিরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাবুন বন্দোপাধ্যায়। হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায় তাঁকে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছেদ করছেন তিনি।এদিন সন্ধ্যায় শহরে ফিরে এসেই কলকাতা বিমানবন্দরে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। হাওড়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে এখনও তাঁর ক্ষোভ এক আনাও কমেনি। তবে দিদির সঙ্গে তিনি সমস্ত কিছু ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন দিদি বকেছে দরকারে পাও ধরে নেব।

মার্চ ১৩, ২০২৪
রাজনীতি

মুখ্যমন্ত্রীর এক হুঙ্কারেই গুটিয়ে গেলেন ভাই বাবুন, আর প্রার্থী নয়

দিনভর নাটকের পর দিদির হুঙ্কারে পুরো ডিগবাজি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বাবুন হাওড়া কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়াবেন, এই খবরে তোলপাড় হয়ে যায় রাজনৈতিক মহল। এব্যাপারে দিদির কথা শুনবেন না বলেও জানিয়ে দেন। এমনকী রটে যায় তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু ত্যাজ্য ভাই করেছেন বাবুনকে, এই হুঁশিয়ারিতে টনক নড়ে যায় বাবুনের। ছোটভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (বাবুন) সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার শিলিগুড়িতে মমতা সাফ বলেন, আমি যে দিন থেকে দল করি, কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে কাজ করি। আমার পরিবার বলে কিছু নেই। মা মাটি মানুষই আমার পরিবার। আমাদের পরিবারে রক্তের সম্পর্কে ৩২ জন সদস্য। কেউ এ রকম নয়। এতে সবাই ক্ষুব্ধ। আমি সরাসরি বলছি, যারা বেশি বড় হয়ে যায়, তাদের লোভও বেড়ে যায়। ওকে পরিবারের সদস্য বলেই আমি মনে করি না। সব সম্পর্ক ছেদ।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আমি পরিবারতন্ত্র করি না। যে যেখানে ইচ্ছে ভোটে লড়তে পারে। আমার কিছু যায় আসে না। যাঁর নাম করছেন তাঁর অনেক কাজই আমার পছন্দ নয়, তবে মেনে নিতে হচ্ছিল এতদিন। ও ছোটবেলা ভুলে গিয়েছে। যখন বাবা মারা গিয়েছিলেন তখন ওঁর বয়স মাত্র আড়াই বছর ছিল, দুধ বিক্রি করে মানুষ করেছি। ভোট আসলেই এসব করে। অনেক অশান্তি সহ্য করেছি, আর নয়।টিকিট না মেলায় এবার ক্ষোভের আগুন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েদর পরিবারেই। এদিন সকালে বিদ্রোহী তৃণমূল নেত্রীর ছোট ভাই স্বপণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুন! কলকাতা ছেড়ে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে তিনি জল্পনা বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন স্বপণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ের হুঙ্কারও ছেড়েছেন তিনি। তবে অসন্তোষের মধ্যেও দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভগবান বলেই উল্লেখ করেছেন ছোটভাই বাবুন।স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে যিনি মুখ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই। স্বপনের নিশানায় হাওড়ায় তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও হাওড়া থেকে তৃণমূলের বাজি গত দুবার ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী এই প্রাক্তন ফুটবলারই। প্রসূনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ মমতার ভাইয়ের।কীসের অভিযোগ? বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে ফোনে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যে মানুষটা হাওড়ায় প্রার্থী হয়েছেন, সেই প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় মোহনবাগান ক্লাবের এজিএমের সময় আমাকে গলাধাক্কা দিয়েছিলেন। আমাকে অপমান করেছিলেন। তাঁকে নিয়ে আমার প্রচুর অ্যালার্জি আছে। হাওড়ার মানুষ ওঁকে মেনে নিচ্ছেন কি না জানি না। কিন্তু আমি বলতে পারি, এই প্রার্থী ঠিক হয়নি। ওঁর যোগ্যতা নিয়ে আমার সংশয় আছে। আমি মনে করি, যে ক্লাস ফাইভ পাশ করতে পারে না। তাকে গ্র্যাজুয়েশন করানো হচ্ছে। এমপি ল্যাডের টাকা এলাকার মানুষের জন্য ঠিকমত খরচ করতে পারেননি, কোনও কাজ হয়নি। প্রসূনের থেকে অনেক ভাল প্রার্থী ছিল। ওর মতো বাজে লোককে না দেওয়াই উচিত ছিল।ভাই স্বপন কি প্রসূনকে নিয়ে তাঁর ক্ষোভের কথা দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন? জবাবে স্বপন বলেন, কিছু জিনিস জানিয়েও লাভ হয়নি। প্রথম থেকে বলা হয়েছে ওঁকে বাদ দিয়ে অন্যকে প্রার্থী করলে হাওড়ার মানুষ অন্যভাবে গ্রহন করবেন। অরূপ রায়, রাজীব ব্যানার্জীদের দাঁড় করানো হলে ভাল ফলফল হত।স্বপনের সাফ কথা, দিদি যতদিন বেঁচে আছে বিজেপিতে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যাইনি কখনও, যাবও না। ১৯৮১ সাল থেকে দলের সঙ্গে জড়িয়ে। দিদি যতদিন আছে আমি কোথাও যাব না। তবে তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর, ফুটবল প্রশাসক কল্যাণ চৌবে, পিটি উষাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতির যোগ নয়, ক্রীড়া প্রশাসক হওয়ার কারনেই এই যোগাযোগ বলে জানিয়েছেন তিনি।এরপরই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি হাওড়ার ভোটার হয়েছি। নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়াব। দিদিমনির সঙ্গে সরাসরি কথা বলব। দিদি আমার কাছে ভগবান। দিদির কথা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। দিদির কাছে আশীর্বাদ চাইব। দিদি হয়তো আমাকে না করবে। কিন্তু আমি দিদিকে বোঝানোর চেষ্টা করব কেন দাঁড়াচ্ছি।দিনভর এই কর্মকাণ্ডের পর মমতার এক হুঙ্কারে ফেসবুক পোস্ট করে নিজের বিপ্লব থেকে সরে আসেন স্বপন ব্যানার্জী তথা বাবুন। ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে জানিয়ে দেন দিদিই শেষ কথ। বিজেপিতে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।

মার্চ ১৩, ২০২৪
রাজনীতি

অর্জুন সিং কি বিজেপিতে ফিরছেন? 'তৃণমূল আমাকে বেইজ্জত করেছে', আক্ষেপ সাংসদের

এবার কি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বিজেপিতে ফেরা সময়ের অপেক্ষা? মঙ্গলবার ভাটপাড়ায় নিজের অফিস মজদুর ভবনে বসে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য আক্ষেপ করেছেন। তিনি সরাসরি জানিয়ে দিলেন, মানুষ নরেন্দ্র মোদীর পক্ষেই আছে। অর্জুনের ইঙ্গিত অনুযায়ী ব্যারাকপুরে তিনি বিজেপি প্রার্থী হতে পারেন।অর্জুন সিং এদিন বলেন, মানুষের আবেগ মোদীজির পক্ষে আছে। ব্যারাকপুর বিজেপির দখলেই থাকবে। তৃণমূলের আমাকে আর প্রয়োজন নেই। আমি তৃণমূলের কাছে আন-ওয়ান্টেড। আমাকে বেইজ্জত করা হল। ব্যারাকপুরে নির্বাচনে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। সবটাই পরিকল্পনা করে ডিপ্রাইভ করা হল। তৃণমূলে যাওয়াটা প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করছি। আমার ছেলে দূরদর্শী। ছেলে বলেছিল আমাকে তৃণমূলে নেওয়া একটা প্ল্যান। সত্যিকারের তৃণমূল কর্মীদের বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্জুন সিংয়ের দফতর থেকে মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে দেওয়া হল।

মার্চ ১২, ২০২৪
রাজ্য

"আজ ট্রেলার দেখালাম, সিনেমাটা নির্বাচনে বাংলার মানুষ দেখিয় দেবে”, হুঙ্কার অভিষেকের

রবিবাসরীয় তৃণমূল কংগ্রেসের জনগর্জন ব্রিগেড। এদিন যে জনজোয়ার ঘটেছে তা পুরোপুরি বলা যাবে না। লোকসভা নির্বাচনের আগে মাত্র ১২ দিনের ঘোষণায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাবেশ করল রাজ্যের শাসকদলের। ব্রিগেডে আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করতে আগাগোড়া আক্রমনাত্মক ভাষণ দেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ব্রিগেডের জনপ্লাবন দেখে তৃণমূল সাংসদের মন্তব্য, আজ ট্রেলার দেখালাম, সিনেমাটা নির্বাচনে বাংলার মানুষ দেখিয় দেবে। শুধু একথাই নয়, নাম না করে এদিন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কেও নিশানা করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ সেনাপতি।আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের মুখে ব্রিগেডে জনগর্জন সভার ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র ১২ দিনের ঘোষণায় ব্রিগেডে এই সভা তৃণমূলের। এই সভামঞ্চ থেকেই এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ ও বিজেপিকে নিশানা করে তুমুল হুঙ্কার ছাড়েন অভিষেক।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোট ED, CBI দেবে না। ভোট দেবেন মানুষ। দিল্লি থেকে বহিরাগত এসে বলছে মোদী গ্যারান্টি। চোর চুরি করে এখন BJP-তে যায়। এটাই মেদাীর গ্যারান্টি। ২০১৪-এর আগে বলেছিলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হলে প্রত্যেক ভারতীয়র অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ১৫ লাখ করে। কেউ পেয়েছেন? তাহলে বলুন মোদীর গ্যারান্টি জিরো গ্যারান্টি।এখানেই থামেননি তৃণমূলের শীর্ষ সেনাপতি। আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের লড়াই কার কার সঙ্গে সেব্যাপারেও কর্মীদের সতর্ক করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, তৃণমূলের লড়াই শুধু BJP-এর বিরুদ্ধে নয়। BJP, CPIM, বাংলার অধীর চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) নেতৃত্বাধীন থাকা Congress, ED, CBI, NIA, আয়কর, মোদী, অমিত শাহ, বিচার ব্যবরস্থার একাংশের বিরুদ্ধে। আমাদের বিশ্বাস, এই লড়াইয়ে আমরাই জিতব। বিজেপির সঙ্গে টাকা আছে, আমাদের সঙ্গে মানুষ আছেন।এছাড়াও নাম না করে এদিন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কেও নিশানা করেছেন অভিষেক। এপ্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এখন চুরি করেই বিজেপিতে যাচ্ছে। এখন বিচারপতিকে উত্তরীয় পরাচ্ছে চোরেরা।এদিন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও এদিন নাম না করে প্রাক্তন বিচারপতিকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি। চাকরি খেয়েছে বলে তোপ দাগেন মমতা। বিচারপতির বিচার জনগণ করবে বলে তিনি জানিয়ে দিলেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী।

মার্চ ১০, ২০২৪
রাজনীতি

৪২ লোকসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা তৃণমূল কংগ্রেসের, চমকের পর চমক

বিজেপি ইতিমধ্যে রাজ্যের ২০টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এবার তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ৪২টি আসনেই তাঁদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিল। শাসকদলের প্রার্থী তালিকায় চমকের পর চমক।এক নজরে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকাকোচবিহার-জগদীশ চন্দ্র বাসুনিয়াআলিপুরদুয়ার- প্রকাশচিক বরাইক।জলপাইগুড়ি- নির্মলচন্দ্র রায়। (ধূপগুড়ির বর্তমান বিধায়ক)দার্জিলিং-গোপাল লামা।রায়গঞ্জ- কৃষ্ণ কল্যাণী।বালুরঘাট-বিপ্লব মিত্র। (রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী)মালদহ উত্তর- প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন ব্যানার্জি। (সদ্য স্বেচ্ছাবসর নেওয়া রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা)মালদহ দক্ষিণ- শাহনওয়াজ আলি রেহান।জঙ্গিপুর-খলিলুর রহমান।বহরমপুর- ইউসুফ পাঠান। (ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার)মুর্শিদাবাদ- আবু তাহের খান।কৃষ্ণনগর-মহুয়া মৈত্র।রানাঘাট-মুকুটমণি অধিকারী।বনগাঁ-বিশ্বজিৎ দাস।ব্যারাকপুর-পার্থ ভৌমিক।দমদম- সৌগত রায়।বারাসত- কাকলি ঘোষদস্তিদার।বসিরহাট- হাজি নুরুল ইসলাম।জয়নগর- প্রতিমা মণ্ডল।মথুরাপুর- বাপি হালদার।ডায়মন্ড হারবার- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।যাদবপুর- সায়নী ঘোষ।কলকাতা দক্ষিণ- মালা রায়।কলকাতা উত্তর- সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।হাওড়া- প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।উলুবেড়িয়া-সাজদা আহমেদ।শ্রীরামপুর- কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।হুগলি- রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। (অভিনেত্রী)আরামবাগ- মিতালী বাগ।তমলুক- দেবাংশু ভট্টাচার্য।কাঁথি- উত্তম বারিক।ঘাটাল- দীপক অধিকারী।ঝাড়গ্রাম- কালীপদ সোরেন।মেদিনীপুর- জুন মালিয়া।পুরুলিয়া- শান্তিরাম মাহাত।বাঁকুড়া-অরূপ চক্রবর্তী।বর্ধমান পূর্ব- শর্মিলা সরকার।বর্ধমান-দুর্গাপুর- কীর্তি আজাদ।আসানসোল- শত্রুঘ্ন সিনহা।বোলপুর- অসিত মাল।বীরভূম- শতাব্দী রায়।বিষ্ণুপুর- সুজাতা মণ্ডল।এবারে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় রাজ্যর দুই মন্ত্রী, একজন রাজ্যসভার সাংসদ ও ১১ জন বিধায়ক রয়েছেন।

মার্চ ১০, ২০২৪
সম্পাদকীয়

এবার বঙ্গে নানা রঙ

দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে লোকসভা নির্বাচন। এবার লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চালচিত্রে অনেক রঙ। শুরুতে নির্বাচনী লড়াই তৃনমূল - বিজেপি এই binary তে ঘুরপাক খেলেও নির্বাচনের মুখে এসে তা কিছুটা ফিকে হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সংবাদ মাধ্যমে ভেসে ওঠা খবরের নীচে তাকালে এই ছবিটি ধরা পড়বে। সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে প্রভাবের দিক থেকে পরিসরে ছোট হলেও নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছে আই এস এফ। তবে, লোকসভা নির্বাচনের মতো বড় মাঠে তারা কতটা নজর কাড়তে পারবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।যদি তারা রাজ্যের ৪২ টি আসনের মধ্যে কিছু আসনে সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে কিছুটা টানতে পারে তাহলে তৃণমূলের কপালে দুঃখ আছে। রাজ্যের প্রায় ১২০ টি বিধানসভায় ২০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। ২০০৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে এই ভোট বামপন্থীদের দিক থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করে। ২০১১ র বিধানসভা নির্বাচন থেকে এখনো পর্যন্ত রাজ্যে যে নির্বাচন গুলি হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে সংখ্যালঘু ভোটের প্রায় পুরোটাই কংগ্রেস ও বামেদের থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কেই ইভিএম কে বেছে নিয়েছে। ফলে এই ভোটে ফাটল ধরলে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক আসনই প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়বে।বামপন্থীরা ও এবার দাবি করেছে তাদের স্বাভাবিক মিত্র সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ তাদের ঝোলায় ফিরবে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি দুহাত উপুড় করে ভোট দিয়েছেন রাজ্যের মহিলারা। ২০১৯-র লোকসভা ভোটে কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়লেও ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই ক্ষেত্রেই ভোটাররাই তৃণমূল সুপ্রিমোকে বিশাল জয় এনে দিয়েছেন।রাজ্যের মহিলা ভোটারদের সন্তুষ্ট রাখতেই লক্ষ্মীভান্ডার ও কন্যাশ্রীর মত প্রকল্প তৃণমূল সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সম্প্রতি, সন্দেশখালির ঘটনায় বিরোধীরা তাই সরকারি এই লোহার ঘরে আঘাত হানাই পাখির চোখ করেছে। রাজ্য বিজেপির ছোট বড় মাঝারি নেতারা পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা নিরাপদ নয় এই প্রচারে যে জোর দিয়েছেন তা সর্বভারতীয় স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রদেশ কংগ্রেস, বামপন্থীরা এবং আই এস এফ ও, এই তিরে তৃণমূল কে বিদ্ধ করা যাবে বলে মনে করছে। গত কয়েক বছর ধরে National Crime Record Bureau র রিপোর্টে মহিলাদের জন্য কলকাতাকে সবচেয়ে নিরাপদ শহর বলা হয়েছে। বিজেপি কে বিঁধতে গেরুয়া শাসিত রাজ্যের তুলনায় এই পরিচিতি কে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্দেশখালির ঘটনা তাই স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল শিবিরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।এর পাশাপাশি বিরোধীরা সন্দেশখালির সঙ্গে নন্দীগ্ৰামের ঘটনার মিল রয়েছে বলে প্রচার শুরু করেছেন। তবে এই প্রচারে তৃণমূলের অবশ্য বিশেষ উদ্বেগ নেই। তাঁর কারণ হলো নন্দীগ্রাম এবং সিঙ্গুরে যে জন-অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল তা ছিল সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। সন্দেশখালিতে অসন্তোষ কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নয়, সেখানে মহিলারা পথে নেমেছেন তৃণমূলের স্থানীয় বাহুবলী নেতাদের বিরুদ্ধে। সেই কারণেই কৌশল করে, জোর করে নেওয়া জমি ফিরে পেতে তাঁরা ভূমি রাজস্ব দপ্তরে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি, যে তৃণমূল নেতারা সেখানে রাজত্ব চালিয়েছেন তাদের আশ্রয় দাতা হিসেবে পুলিশ কে তুলোধুনা করলেও পুলিশের কাছে তারা অভিযোগ নথিভুক্ত করেছেন। একই সঙ্গে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও প্রশাসনের দারস্থ হওয়ার মধ্যে সরকার বিরোধিতা কতটা রয়েছে তা আগামী দিনে ইভিএম-ই বলতে পারবে। তবে এখনো পর্যন্ত সন্দেশখালির রেশ রাজ্যের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে যা তৃণমূলকে কিছুটা স্বস্তিতে রেখেছে। সন্দেশখালিতে মোট ১৮টি গ্ৰাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এখনো পর্যন্ত দুটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের ছবি দেখা গিয়েছে। তবে তৃণমূল কে অস্বস্তিতে ফেলতে বিজেপি ধারাবাহিক ভাবে সন্দেশখালিকে প্রচারের আলোয় রেখেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার পশ্চিমবঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্দেশখালি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। এই রাজ্যে মহিলারা তৃণমূলের বাহুবলীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন এই প্রচারই তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে থেকেছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩.৭৩ কোটি। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টিতে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা বেশি ভোট দিয়েছেন। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে আটটিতে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই তথ্য থেকেই বোঝা যায় পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মহিলা ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এবারে লোকসভা নির্বাচনের মুখে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিচারপতি পদে ইস্তফা দিয়ে বিজেপি তে যোগ দান। অতীতে সুপ্রিম কোর্টের অথবা হাইকোর্টের বিচারপতি পদ ছেড়ে দিয়ে রাজনীতিতে এসে ভোটে দাঁড়ানোর নজির থাকলেও এই রাজ্যে সেই নজির নেই। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন রঙ লেগেছে। তাঁর পক্ষে বিপক্ষে মত প্রকাশ শুরু হয়েছে।সাম্প্রতিক কালে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির মামলায় তাঁর বিচার তাঁকে তুমূল জনপ্রিয়তা দিয়েছে। অনেকেই তাকে প্রকাশ্যে ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর এজলাসে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় থাকা অনেক বিচারপ্রার্থী তাঁর এই সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও বিরূপ হননি। এই অবস্থায় আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে বিজেপি যদি প্রার্থী করে তাহলে ভোটযুদ্ধে তাঁর এই জনপ্রিয়তা কতটা ইভিএমে ধরা পড়বে তা দেখার অপেক্ষায় থাকা ছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোনো পথ নেই।

মার্চ ০৮, ২০২৪
রাজনীতি

'মুখোশ খুলে পড়েছে, এবার জনগণ জবাব দেবে', প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে তীব্র নিশানা মমতার

বৃহস্পতিবার দুপুরেই বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে গেরুয়া শিবির যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এই যোগ নিয়ে ধর্মতলা থেকে নাম না করে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, মুখোশ খুলে পড়ায় তিনি খুশি।বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দিয়েই মমতা সরকার ও তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শাসক শিবিরকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে তোপ দাগেন। এর ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। বিচারের চেয়ারে বসে বিজেপি বাবু বিজেপি পার্টির কথা ঘোষণা করছেন। এদের দিকে তাকিয়ে মানুষ বিচার পাবে? আমি বিচারপতি নিয়ে বলতে পারি না, আমি বিচার নিয়ে বলতে পারি। আমিও প্র্যাক্টিস করেছি এক সময়। আইনে কী বেঠিক কী সঠিক আমরাও জানি।নিজের খুশির কথা বোঝাতে গিয়ে মমতা বলেছেন, আমাকে বলছে তোমাদের যা সব রায় বেরোচ্ছে, এ দেখে তো রয়াল বেঙ্গল টাইগাররাও পালিয়ে যাবে ভয়ে। আমি বললাম কেউ কেউ আছেন কী আর করবেন? এরা কেউকেটা। তবে আমি খুশি এদের মুখোশটা বেরিয়ে গিয়েছে। মুখোশ খুলে পড়েছে। মুখ এবং মুখোশ।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এতদিন রায় দিতেন বিচারপতি। তাতে হাজার হাজার বেকার ছেলে-মেয়ে চাকরি থেকে বঞ্চিত। আগামিতে বিজেপি নেতা অভিজিৎবাবুর বিরুদ্ধে জনগণ রায় দেবেন। মমতার কথায়, আমরা প্রথম থেকে বলছিলাম হাজার হাজার চাকরি গিয়ে বড় নেতা হয়ে গিয়েছিলেন। অভিষেককে তো রোজ নাম করে গালাগালি দিত। অনেক কিছু দেখেছি আমি। আজ কোথায় গেলেন আপনি? কাল থেকে আপনার রায় জনগন দেবেন। আপনি হাজার হাজার ছেলে মেয়ের চাকরি খেয়েছেন। আপনার রায় জনগণ দেবেন।গুঞ্জন যে লোকসভা ভোটে তমলুক থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী। প্রাক্তন বিচারপতিকে নিশানা করে বললেন, তৈরি থাকুন। আপনি যেখানে দাঁড়াবেন আমি স্টুডেন্টদেরই নিয়ে যাব। স্টুডেন্টরাই লড়াই করবে। যাদের চাকরি আপনারা খেয়েছেন। স্বভাবিকভাবে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ভোটে দাঁড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করে তা নিয়ে কৌতুহল থাকবে রাজনৈতিক মহলের।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে এদিন চাকরি দুর্নীতিতে সংশোধনের কথা শোনা গিয়েছে। বলেছেন, চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা নেই, চাকরি কেড়ে নেন। বলতে পারতেন এর বদলে ওকে দিন। বলতে পারতেন এই প্যানেলটা বাতিল করে আরেকবার ডাকুন। আমার আপত্তি নেই। ভুল থাকে সংশোধন করে নিন। কোনও সুযোগ না দিয়ে ওয়ান সাইডেড গেম। এখনও ৫ লক্ষ চাকরি আমার তৈরি আছে। হিংসুটে বিজেপি, সিপিএম আর কংগ্রেস। এমন কর্কটে বাপ রে! কেউটে, গোখরোর থেকে ভয়ঙ্কর। চাকরি দিলেই পিল (জনস্বার্থ মামলা) করবে।উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একাধিক নির্দেশে বিড়ম্বনায় পড়েছে মমতা সরকার। তদন্তের মুখোমুখি অভিষেকও। তারপর একাধিকবার শাসক দলের নেতাদের তোপবাণে পড়তে হয়েছে তাঁকে। পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় অভিজিৎবাবু দাবি করেছিলেন যে, তৃণমূল নেতৃত্বের ভয়ঙ্কর সমালোচনার সামনে না পড়লে তিনি কোনওদিন রাজনীতিতে যোগদানের কথা ভাবতেন না।

মার্চ ০৭, ২০২৪
রাজ্য

শেষমেশ দীর্ঘ টালবাহানার পর সিআইডির হাত থেকে সিবিআইয়ের হেফাজতে শাহজাহান

বহু টালবাহানা, বিভ্রান্তি, শেষমেশ সন্দেশখালির তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শেখ শাহজাহনকে হেফাজতে পেল সিবিআই। কোর্টের নির্দেশে শাহজাহানকে সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরে বাধ্য হল সিআইডি।বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, শেখ শাহজাহানকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতেই হবে। বুধবার বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ধৃত বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতাকে সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তর করতেই হবে। এদিকে এদিন ইডি শেখ শাহজাহানকে হস্তান্তরে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করে। তারপরই বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, বুধবার বিকেল ৪.১৫-র মধ্যে শেখ শাহজাহানকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে হবে। সেই মত এদিন ৪টের মধ্যে ভবানী ভবনে পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। কিন্তু তখনও সন্দেশখালির বাঘকে হাতে পায়নি সিবিআই গোয়েন্দারা। ফলে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের দৃষ্টি আকর্ষণে ফের উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে সিবিআই।এসবের মধ্যেই সন্ধ্যার মুখে ভবানী ভবনের পিছনের দরজা দিয়ে শেখ শাহজাহানকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপরই শাহজাহানকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয় সিআইডি।সন্দেশখালি কাণ্ডে মঙ্গলবার দুপুরেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এছাড়াও, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে ধৃত শেখ শাহজাহানকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয় আদালত। খারিজ করে দেওয়া হয়েছে, সন্দেশখালি কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিশেষ তদন্তকারী দলগঠনের নির্দেশ। উচ্চ আদালতের নির্দেশ মত, বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবানী ভবনে চলে আসে কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকরা। অবশেষে টালবাহানার পর সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে সিবিআইয়ের হাতে শাহজাহানকে তুলে দেয় পুলিশ। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে বলে সিবিআই-কে জানিয়ে দেয় পুলিশ।গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালি কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত শাহজাহান। গত বৃহস্পতিবার মিনাখাঁর বামনপুকুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর থেকে সিআইডির হেফাজতে রাখা হয়েছে বহিষ্কৃত এই তৃণমূল নেতাকে। শাহজাহানের পুলিশি হেফাজের নির্দেশের পরই ইডি তাঁকে হেফাজতে চাইতে আদালতের দ্বারস্থ হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি ছিল, সন্দেশখালিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের উপর হামলার ঘটনার তদন্ত রাজ্য পুলিশে আস্থা নেই। সিবিআই ও রাজ্য পুলিশকে নিয়ে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলেও কোনও ভরসা নেই। কারণ, রাজ্য পুলিশ এই মামলায় সহযোগিতা করবে না। তাই এই তদন্তভার শুধু সিবিআইকেই দেওয়া হোক। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন মঞ্জুর করে।আদালত সূত্রে খবর, সন্দেশখালিতে ইডি অফিসারদের উপর হামলার ঘটনায় ন্যাজাট থানায় দুটি এফআইআর (৮ ও ৯ নম্বর) দায়ের হয়েছিল। এছাড়া বনগাঁ থানায় আরও একটি এফআইআর (১৮ নম্বর) দায়ের হয়। ওই মামলার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ।হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানায় রাজ্য। কিন্তু, বিচারপতি সঞ্জীব খান্না তাতে সাড়া দেননি। প্রক্রিয়া মেনে মামলা হবে বলে জানানো হয়। বুধবার প্রক্রিয়া মেনে আবেদন হলেও রাজ্যের আবেদনে সাড়া দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে।

মার্চ ০৬, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • ...
  • 43
  • 44
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal