‘১০ মার্চ পালন হোক পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস!’ নন্দীগ্রাম থেকে মমতাকে ফের তোপ শুভেন্দুর
২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচন। প্রচারে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পাঁচ বছর পর ফের সেই পুরনো ঘটনা ঘিরেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের শেষ প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করলেন, মমতার পা ভাঙার যে কথা বলা হয়েছিল, তার পক্ষে চিকিৎসা-নথিতে কোনও প্রমাণ নেই। তাঁর হাতে থাকা বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের একটি রিপোর্টও এ দিন সামনে আনা হয়েছে।শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতার পা ভাঙার যে প্রচার হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত করা হবে। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই রবিবার নন্দীগ্রামে শেষ প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, ১০ মার্চকে পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস হিসাবে পালন করা যায় কি না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলেন মমতা। ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়। পরে পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হুইলচেয়ারে বসেই নির্বাচনী প্রচারে ফিরেছিলেন তিনি। সেই সময় বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও উঠেছিল। ভাঙা পায়ে খেলা হবে স্লোগানকে ঘিরে তুমুল রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছিল রাজ্যে।এ বার সেই ঘটনাকেই সামনে রেখে শুভেন্দুর দাবি, তৎকালীন চিকিৎসা-নথিতে পা ভাঙা বা হাড় সরে যাওয়ার প্রমাণ নেই। তবে এই দাবি নিয়ে পাল্টা প্রশ্নও উঠেছে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ শুভেন্দুর বক্তব্য খারিজ করে জানিয়েছেন, হাড় না ভাঙলেও গুরুতর চোট হতে পারে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যান্ডেজ বা অন্য চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে। ফলে চিকিৎসা-নথির ব্যাখ্যা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।এ দিকে রবিবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের শেষ প্রচারে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে মিছিল করেন শুভেন্দু। টেঙ্গুয়া থেকে থানা মোড় পর্যন্ত এই মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে বিজেপির দাবি। মিছিল থেকে ফের ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ তুলে মমতাকে আক্রমণ করেন তিনি।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। ৯ অক্টোবর হবে ভোটগণনা। নন্দীগ্রাম আসনটি শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে দেওয়ার পরই সেখানে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপি এই আসনে হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। শেষ প্রচারে শুভেন্দু দাবি করেন, ভোট যত বেশি পড়বে, তাঁদের জয়ের ব্যবধানও তত বাড়বে। সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশও বিজেপিকে সমর্থন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।ফলে ভোটের ঠিক আগে নন্দীগ্রামে ফের সামনে চলে এসেছে ২০২১ সালের সেই পায়ের চোটের ঘটনা। শুভেন্দুর দাবি, চিকিৎসা-নথি ঘিরে প্রশ্ন রয়েছে এবং ভোট মিটলেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। অন্য দিকে তৃণমূল সেই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে নন্দীগ্রামের ভোটের আবহে পুরনো বিতর্ক নতুন করে কতটা রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

