• ২ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Newtown

রাজ্য

মুখ থেঁতলানো, শরীরে একাধিক ক্ষত! নিউটাউনে বস্তাবন্দি যুবকের দেহ ঘিরে রহস্য

নিউটাউনের স্বামীজি নগরে বস্তাবন্দি যুবকের দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। মৃতের নাম সৌরভ বিশ্বাস। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩২ থেকে ৩৫ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুতিন দিন আগেই তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মুখও থেঁতলানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।শনিবার সকালে স্বামীজি নগর এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় যুবকের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইকো পার্ক থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে মৃতের পরিচয় জানা যায়নি। পরে পুলিশ জানতে পারে, তাঁর নাম সৌরভ বিশ্বাস।তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক ভাবে ফুটেজে দেখা গিয়েছে, এক যুবক কাঁধে করে বস্তাবন্দি একটি দেহ নিয়ে এসে একটি দাঁড়িয়ে থাকা বাইকের পিছনে রেখে যায়। এরপর দেহের উপর ইট চাপা দিয়ে সে সেখান থেকে চলে যায়। রাতের অন্ধকারের কারণে ওই যুবকের মুখ স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাত প্রায় চারটে কুড়ি নাগাদ ওই যুবক সেখানে এসেছিল। দেহ ফেলে যাওয়ার পর প্রায় এক মিনিট সেখানে দাঁড়িয়েছিল সে। এরপর বাইকটি রেখে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। সকালে বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের শরীরে একাধিক ট্যাটু রয়েছে। তাঁর শরীরে বেশ কয়েকটি ক্ষতও পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সৌরভ প্রায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। ফলে নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, মৃতের পরিচয় এবং গত কয়েক দিনের তাঁর গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে বা কারা তাঁকে হত্যা করল এবং কেন দেহটি বস্তায় ভরে নিউটাউনে ফেলে যাওয়া হল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
কলকাতা

হোটেলের ঘরে লুকিয়ে ছিল কোটি কোটি টাকা! দেবরাজ যোগে চাঞ্চল্য, নিউটাউনে পুলিশের হানায় বড় রহস্য ফাঁস

নিউটাউনের একটি হোটেলে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হল কয়েক কোটি টাকা। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ, সাইবার অপরাধ দমন শাখা এবং নিউটাউন টেকনো সিটি থানার আধিকারিকেরা সোমবার কুড়ি নম্বর ট্যাঙ্ক এলাকার ওই হোটেলে তল্লাশি চালান। অভিযান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। এই ঘটনায় ভিনরাজ্যের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ধৃত তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে এই টাকার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই হোটেলে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ভুয়ো কল সেন্টারের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা করে বিপুল টাকা সংগ্রহ করা হত। পরে সেই নগদ টাকা একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার গাড়িতে করে হোটেলে আনা হতো। সেখান থেকে হাওলার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগও উঠে এসেছে।অভিযানের সময় হোটেলের বিভিন্ন ঘর থেকে নগদ টাকা, নথি এবং একাধিক সামগ্রী উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা টাকার একটি অংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং কিছু নোটে উইপোকার ক্ষতির চিহ্নও মিলেছে। যদিও এই বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া নথি খতিয়ে দেখে পুরো চক্রের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছেন।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লুট হওয়া টাকা ঘুরিয়ে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছিল। তাঁর মতে, উদ্ধার হওয়া টাকা কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তে স্পষ্ট হয়ে যাবে। পুলিশ এখন সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া নথি এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোটা ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

জুলাই ১৪, ২০২৬
কলকাতা

ঘুম ভাঙল আগুনের তাণ্ডবে, একসঙ্গে পুড়ল পনেরো দোকান, আতঙ্কে রাত কাটালেন স্থানীয়রা

গৌরাঙ্গ নগর বাজারে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একের পর এক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেল। অন্তত চোদ্দ থেকে পনেরোটি দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। বছরের শুরুতেই বড় ক্ষতির মুখে পড়ে অনেকেই হতাশায় ভেঙে পড়েছেন।রাজারহাট নিউটাউন সংলগ্ন বাগজোলা খাল পাড়ের এই ব্যস্ত বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকেই ভিড় থাকে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সারারাত চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, কিন্তু ততক্ষণে বহু দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে।প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। আগুন লাগার পর একটি দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে যায় বলে অভিযোগ। এর ফলে আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং দ্রুত পাশের দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। দমকল আপাতত আগুন লাগার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে।নিজেদের দোকান চোখের সামনে জ্বলতে দেখে অনেক ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পড়েন। দমকলের জন্য বারবার আর্জি জানাতে দেখা যায় তাঁদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পর কিছু সময় দমকল পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যায়।ঘটনার খবর পেয়ে মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এলাকার বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নির্ধারণ করা হবে বলে জানান। বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় পঞ্চায়েতকেও ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের সংখ্যা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের আগুন, নিউটাউনের বহুতলে দাউদাউ করে জ্বলল অফিস

বুধবার সন্ধ্যার পর বৃহস্পতিবার সকাল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। বৃহস্পতিবার সকালে নিউটাউনের থাকদাঁড়ি এলাকার একটি বহুতলে ভয়াবহ আগুন লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ছয়টি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা।আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই তা বহুতলের একাধিক তলায় ছড়িয়ে পড়ে। উপরের দিকের জানলা ভেঙে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাতে হয় দমকলকে। বহুতলের ভিতর থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। চারপাশ ঢেকে যায় ধোঁয়ায়।দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বহুতলে একাধিক বেসরকারি সংস্থার অফিস রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উপরের তলার জানলা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে দমকলে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে দুটি ইঞ্জিন পৌঁছলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরে আরও ইঞ্জিন পাঠানো হয়। বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়।এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় আনন্দপুরের নোনাডাঙার মাতঙ্গিনী কলোনি বসতিতেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ছটা নাগাদ সেখানে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক ঝুপড়ি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। প্রথমে দমকলের দুটি ইঞ্জিন পৌঁছলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে আরও পাঁচটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।নোনাডাঙার ওই অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক ঝুপড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। শীতের রাতে ঘরছাড়া হন বহু মানুষ। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে শহর জুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

হবু বরের সঙ্গে যাচ্ছিলেন বাইকে! মুহূর্তে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল হাত

নিউটাউন সিটি সেন্টারের সামনে মঙ্গলবার দুপুরেই ঘটে গেল শিউরে ওঠার মতো এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। চোখের পলকে থেঁতলে গেল এক তরুণীর হাত। সরকারি রুটের বাসের ধাক্কায় বাইক থেকে ছিটকে পড়ে ২৫ বছরের প্রতিশ্রুতি রায়চৌধুরীর ডান হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ব্যস্ত রাস্তায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও চিৎকার।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিশ্রুতি তাঁর হবু স্বামীর বাইকে চড়ে নিউটাউনের দিকে আসছিলেন। ঠিক সেই সময় এয়ারপোর্টমুখী সরকারি বাসটি দ্রুত গতিতে একই দিকে এগোচ্ছিল। হঠাৎই বাইকটি বাসের সামনে চলে আসায় ভারসাম্য হারিয়ে দুজনেই ছিটকে পড়েন। প্রতিশ্রুতি মাটিতে পড়তেই বাসের পিছনের চাকা গড়িয়ে যায় তাঁর হাতের উপর দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে হাতটি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাস্তায়।স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে ভিআইপি রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি বারাসতের আরও উন্নত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, প্রতিশ্রুতির অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সরকারি বাসের বেপরোয়া গতিতে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ভীষণ ভয়ঙ্কর ছিল দৃশ্যটা। বাসটার গতি খুব বেশি ছিল। মেয়েটা বাইক থেকে পড়ে যেতেই চাকা হাতের উপর দিয়ে গেল। সরকারি বাসগুলো এমনিতেই কোনও গতির পরোয়া করে না। ট্রাফিক পুলিশ সামনেই ছিল, তবুও এই বেপরোয়া চালানো আটকাতে পারে না।নিউটাউনের মতো ব্যস্ত এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দাবি ফের জোরদার হচ্ছে। সরকারি বাসগুলির গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত নজরদারির অভাবেই এমন দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শহরের বুকে এক তরুণীর এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে, রাস্তা কি সত্যিই সুরক্ষিত?

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
কলকাতা

নির্বাচনের আগে নিউটাউনের গাড়ি থেকে মিলল টাকার পাহাড়? জিজ্ঞাসাবাদে মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নির্বাচনের আগে বাংলায় ফের টাকার পাহাড় উদ্ধারকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। সোমবার সকালেই নারায়ণপুরের আকাঙ্ক্ষা মোড়ে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আচমকা তল্লাশি চালায় বেঙ্গল এসটিএফ। আর সেখানেই একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার নগদ। মুহূর্তে এলাকা জুড়ে তৈরি হয় উত্তেজনা। বিপুল পরিমাণ টাকা-সহ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে গাড়িটি। আটক করা হয়েছে গাড়ির মালিক-সহ দুই জনকে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিউটাউনের দিক থেকেই আনা হচ্ছিল এই টাকা। তবে টাকা কার, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং কেনতা এখনো ধোঁয়াশা।ইতিমধ্যেই বাংলায় জোরকদমে চলছে এসআইআর অভিযান, অন্যদিকে দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছাব্বিশের ভোট। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দলও সদ্য বাংলায় পরিদর্শন সেরে গিয়েছে। এর মধ্যেই গাড়ি ভর্তি এত টাকা উদ্ধারে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছেএই নগদের নেপথ্যে কি নির্বাচনী কারবার? নাকি সক্রিয় কোনও অন্য অর্থচক্র? সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।টাকার উৎস জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আটক দুই ব্যক্তিকে। কোথা থেকে টাকা তোলা হয়েছিল, কার নির্দেশে নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক বা অন্য কোনও চক্র জড়িত কি না, তা জানতেই জোরদার তদন্ত।উল্লেখ্য, মাত্র গত সপ্তাহেই ইডি-র অভিযানে কলকাতার তারাতলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল অঙ্কের নগদ। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সেই তল্লাশি চালানো হয়েছিল। একই দিন বেলেঘাটা-সহ শহরের আরও কয়েকটি জায়গা জুড়ে চলে তল্লাশি। চলতি মাসের শুরুতেও কলকাতার একাধিক এলাকায় হানা দিয়েছিল ইডি। সল্টলেক সেক্টর ওয়ানেও হয়েছিল তল্লাশি।তবে আজকের উদ্ধার হওয়া পাঁচ কোটি টাকা দুর্নীতির কোনও চক্রের ফল, নাকি সম্পূর্ণ অন্য কারণে নগদ পরিবহণতা নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে চাইছে না তদন্তকারী সংস্থা। এসটিএফ সূত্রে খবর, সবদিক খতিয়ে দেখে শিগগিরই সামনে আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আপাতত আটক দুই ব্যক্তির জেরা চলছে, আর সেই জেরার দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

নভেম্বর ১৭, ২০২৫
কলকাতা

SIR আতঙ্কে ফাঁকা নিউটাউন ও গুলশান কলোনি? বিস্ময়কর পরিসংখ্যান সামনে

শুভেন্দু অধিকারীর দাবিতেই কি মিলছে বাস্তবের প্রতিফলন? নিউটাউন ও গুলশান কলোনিতে শুরু হয়েছে অদ্ভুত নড়াচড়া। SIR চালু হতেই যেন হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন বহু মানুষ। প্রশাসনের খাতায় উঠেছে চমকপ্রদ তথ্যগুলশান কলোনির বাসিন্দাদের ৮৫ শতাংশই নাকি বহিরাগত! ভোটার তালিকায় যাঁদের নামই নেই।কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত গুলশান কলোনিজনসংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ। যা এক বিধানসভা কেন্দ্রের জনসংখ্যার প্রায় সমান। কিন্তু ভোটার সংখ্যা মেরেকেটে মাত্র ২০ হাজার! অর্থাৎ পুরো এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষ এই ওয়ার্ডের ভোটার নন। তাঁরা বহু বছর ধরে এখানে বসবাস করলেও স্থায়ী ভোটার তালিকায় নাম নেই। প্রশ্ন উঠছেএরা কারা?SIR-এর পঞ্চম দিনে গুলশান কলোনিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদে গিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন BLO-রা। কার্যত গোলকধাঁধা হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। এক একটি ভবন ৫ থেকে ৬ তলা, প্রতিটি ফ্লোরে অন্তত ৫-৬টি ফ্ল্যাট। অথচ এক বুথে গড়ে ১৬০০ ভোটার! একাধিক ফ্ল্যাটে ঘুরেও ভোটার খুঁজে পাচ্ছেন না কর্মকর্তারা।BLO ওয়াসিম আক্রম জানান, এক তলা থেকে চারতলা ঘুরে একজনের নাম পেলাম, বাকিরা কেউই স্থানীয় নন। কেউ বলছেন বিহার, কেউ রিপন স্ট্রিটের বাসিন্দা। কিন্তু ভোটার কার্ড নেই।তৃণমূলের স্থানীয় প্রতিনিধি মহম্মদ মিনাজও জানিয়েছেন, অনেকেই অন্য এলাকার ভোটার। ঠিকানা বদল করেননি। ফলে গুলশান কলোনিতে ভোটার সংখ্যা এতটাই কম।SIR চালু হওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, নিউটাউন ও গুলশান কলোনি ফাঁকা হচ্ছে, কারণ বেআইনি ভাবে থাকা বহিরাগতরা পালাচ্ছেন। প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য যেন সেই দাবিকেই আরও উসকে দিল।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বহু বছর ধরে এই এলাকায় ভাড়া থাকেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক, ব্যবসায়ী বা অস্থায়ী কর্মীরা। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও তাঁরা বছরের পর বছর এখানে বসবাস করছেন। এখন SIR-এর কারণে ভয় পেয়েছেন অনেকে।যদিও শাসক দলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনাএসআইআর ঘিরে বিরোধীর বক্তব্য কতটা রাজনৈতিক, আর কতটা বাস্তব, তা নিয়েই এখন তর্কের কেন্দ্রবিন্দু গুলশান কলোনি।

নভেম্বর ০৮, ২০২৫
কলকাতা

নিউটাউনে নাবালিকার শ্লীলতাহানি, গ্রেফতার রং মিস্ত্রি

নিউটাউনে নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ। অভিযোগ এক রংমিস্ত্রির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রংমিস্ত্রি গ্রেফতার। গ্রেফতার করল ইকোপার্ক থানার পুলিশ।নয় বছরের নাবালিকা শ্লীলতাহানির ঘটনায় তার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাড়ির রঙ মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর কমিশনারেটের ইকোপার্ক থানার পুলিশ। ধৃত কওসার আলি ওরপে বাপি (৩২)। যুবক পেশায় রঙ মিস্ত্রি। সে ইকোপার্ক থানার যাত্রাগাছি-ঘুনি এলাকার বাসিন্দা। বুধবার বিকেলে ওই এলাকা থেকেই অভিযুক্ত বাপিকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, দিনকয়েক ধরে নির্যাতিতা নাবালিকার টিয়া বাগানের বাড়িতে রঙের কাজ করছিল বাপি। বুধবার সকালেও সে কাজে গিয়েছিল। নিচের ঘরে রঙের কাজ করছিল। সে সময় নাবালিকার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যরা বাইরে বেরিয়েছিলেন। তখন নির্জন বাড়ির সুযোগ পেয়ে ওই নাবালিকাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির উপরের চারতলার ঘরে ডেকে নিয়ে যায় বাপি। অভিযোগ, সেখানেই বাড়ির রঙ মিস্ত্রির কাছে শ্লীলতাহানির শিকার হয় নাবালিকা। দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরে এলে কান্নাকাটি জুড়ে দেয় নাবালিকা। এরপর পরিবার অভিযুক্ত বাড়ির রঙ মিস্ত্রির বিরুদ্ধে ইকোপার্ক থানায় যৌন হেনস্থার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়, আজ বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে বারাসত আদালতে পাঠিয়ে দেয়।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
রাজ্য

নিউটাউনে নাবালিক খুন, ধর্ষণের ঘটনার পর টোটোর ওপর কড়া নজরদারি, বিশেষ ব্যবস্থা পুলিশের

নিউটাউনে নাবালিকা খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পর নড়ে চড়ে বসল বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেট। এবার টোটো ও ই রিক্সা চালকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে চলেছে বিধান নগর কমিশনারেট।পুলিশ সূত্রে খবর নিউ টাউনে যত টোটো ও ই রিকশা চলে তাদের প্রত্যেককেই সচিত্র পরিচয়পত্র ও কালার ছবি জমা দিতে হবে। পুলিশের তরফ থেকে একটি পরিচয় পত্র দেওয়া হবে। যে পরিচয় পত্র এক কপি টোটোর গায়ে লাগানো থাকবে, আরেক কপি থাকবে পুলিশের কাছে এবং আর এক কপি যাবে পরিবহণ দপ্তরে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই সমস্ত টোটো চালক ও রিক্সা চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফাই করে দেখা হবে। যদি কারও বিরুদ্ধে কোন পুরনো অপরাধমূলক কেস থাকে তাহলে তাদেরকে এই সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না এবং তারা টোটো ও ই-রিকশা চালাতে পারবেন না।পুলিশ সূত্রে খবর, স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও বহু টোটো চালক যারা বাইরে থেকে এসে এখানে ভাড়া নিয়ে থাকছে এবং টোটো বা ইরিক্সা চালাচ্ছে। সেখানে দাঁড়িয়ে কোন অপরাধ করে পালিয়ে গেলে তাদের কোন নথি বা ডকুমেন্স পুলিশের কাছে থাকছে না। এবার যাতে এই সমস্ত টোটো চালক বা রিক্সা চালকদের দ্রুত আইডেন্টিফাই করা যায় তার জন্য এই ব্যবস্থা বলে জানা গিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫
কলকাতা

নিউটাউনে বীভৎস কাণ্ড, উদ্ধার তরুণীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ

তরুণীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল নিউটাউনে। লোহার ব্রিজের কাছে একটি জঙ্গলের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় তরুণীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ। ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাঁকে এখানেই খুন করা হয়েছে কিনা বা অন্য জায়গায় খুন করে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে, তা থকিয়ে করে দেখছে পুলিশ। স্থানীয়রা ওই তরুণীকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউটাউন থানার পুলিশ। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য় পাঠিয়েছে পুলিশ। ওই এলাকার আশপাশ নির্জন, শুনশান। পাশে খাল বয়ে যাচ্ছে, রয়েছে ঝোপঝাড়। সেখানকার সিসি টিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পরিবারের তরফে দেহ সনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হওয়ার পর রাত ১০টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ওই নাবালিকা। একটি চিঠি লিখে যায়। তারপরই পরিবারের লোকজন খোঁজ শুরু করে। জানায় নিউটাউন থানায়।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৫
কলকাতা

নিউটাউনের কারিগরি ভবনে ধুন্ধুমার কাণ্ড, ছুটি নিয়ে বিবাদে ছুরি চালালেন সহকর্মীদের

ছুটি নিয়ে বিবাদ। তার জেরেই যত কাণ্ড। এবার অফিসে ছুটি নিয়ে নিজের সহকর্মীদের উপর ছুরি চালালেন এক ব্যক্তি। ছুরির কোপে এক পুলিশকর্মীও গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নিউটাউনের কারিগরি ভবনের ওই ঘটনার পর সেই রক্তমাখা ছুরি নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকেন। এমনকী পুলিশকর্মীরা তাঁকে থামতে বললে ছুরি উঁচিয়ে হুমকি দিতে দেখা যায় সরকারি ওই কর্মচারীকে। অবশেষে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ছুরিটিও।বৃহস্পতিবার নিউটাউনের কারিগরি ভবনে ধুন্ধুমার কাণ্ড। জানা গিয়েছে, ছুটি নিয়ে বিবাদের জেরেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ওই ব্যক্তি। তার ছুটির আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ায় মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি ওই ব্যক্তি। ছুরি দিয়ে আঘাত করে বসেন অফিসেরই তিন সহকর্মীকে। ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশকর্মীও তাঁর ছুরির কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ঘটনার পর রক্তমাখা সেই ছুরি নিয়েই প্রকাশ্য রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বেরিয়ে যান ঋষ্টপুষ্ট চেহারার ওই ব্যক্তি। তাঁকে থামতে বললে উল্টে হাতে থাকা ছুরি উঁচিয়ে পুলিশকর্মীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,একদম এগোবেন না, চালিয়ে দেব। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি মানসিক অবসাদে ভুগছেন। তারই জেরে তিনি এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে ছুরিটি তিনি কোথা থেকে পেলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৫
রাজনীতি

অভিষেকের নাম করে তোলাবাজি, নিউটাউনের তৃণমূল নেতা ধৃত!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাইটিং প্যাড ব্যবহার করে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার নিউটাউনের তৃণমূল নেতা কৌশিক সরকার। তাকে গ্রেফতার করেছে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, চার কোটি টাকার তোলাবাজি অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া স্থানীয় স্তরে জমি সংক্রান্ত অন্য অভিযোগ আছে। তাঁর গ্রেফতারের পর হাত ধুয়ে ফেলেছে তৃণমূল। যদিও বিরোধীরা এই গ্রেফতার নিয়ে রেরে করে উঠেছে। কৌশিক সরকার নিউ টাউন এলাকার তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত। তাঁর ফেসবুকেও রাজনৈতিক পোস্ট আছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই কৌশিক সরকারের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। একাধিক নেতাদের নাম করে সে তোলাবাজি করত। কখনও কখনও সে নিজেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করত। গতকাল রাতে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ চিনার পার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া নিউ টাউনের জমি সংক্রান্ত বিসয়েও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ।তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, কৌশিক সরকার দলের কেউ নয়। অনেকেই দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে ঘনিষ্ঠতা দেখানোর চেষ্টা করে। তারপর অপকর্ম করে। যদিও বিজেপি ও সিপিএমের বক্তব্য, এই সব তোলাবাজে ভর্তি তৃণমূল।

আগস্ট ৩০, ২০২৪
রাজ্য

অভিনব প্রতিবাদ কামদুনীর প্রতিবাদী টুম্পা কয়ালের, বেআইনি জবরদখল রুখতে নয়া পথ

বেআইনি জবরদখলের প্রতিবাদে এবার অভিনব প্রতিবাদ কামদুনীর প্রতিবাদী মুখ টুম্পা কয়ালের। বেআইনি জবরদখল জমিতে বৃক্ষরোপণ করে প্রতিবাদ জানালেন টুম্পা কয়াল। আজ নিউটাউনের টেকনোসিটি থানার অন্তর্গত একটি জমিতে মিছিল করে এসে বৃক্ষরোপণ করেন তারা। তাঁদের দাবি, বেআইনিভাবে জমি জবরদখল করে নেওয়ার প্রতিবাদে এই বৃক্ষরোপণ করা হলো এছাড়াও স্থানীয় তৃণমূল নেতা তার স্বামীকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছিলেন তারও প্রতিবাদ দেখালেন তারা, জানান টুম্পা কয়েল। রাস্তাতে বসে অবরোধও করনে টুম্পা কয়াল। ঘটানস্থলে আসে পুলিশ বাহিনী।

জুলাই ০৬, ২০২৪
রাজ্য

কলকাতায় একাধিক জায়গায় ইডির হানা, এবার কোন বেআইনি চক্রের সন্ধানে তল্লাশি?

ফের একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বুধবার নিউটাউন সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে সকালে কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযানে বেরিয়েছে ইডির একাধিক দল। ইডি সূত্রে খবর, ভুয়ো কল সেন্টার প্রতারণা মামলায় আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিল ব্যবসায়ী কুনাল গুপ্তা। ইডি জানতে পেরেছিল এই কল সেন্টার প্রতারণার টাকা তার ঘনিষ্ঠদের ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই এদিন সকালবেলায় কুনাল গুপ্তা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী এবং কয়েকজন আত্মীয়র অফিস, বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় হানা যায় ইডি। বেনিয়াপুকুর, এন্টলি, বাগুইআটির একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চলছে।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪
রাজ্য

নিউটাউনে অ্যাম্বুলেন্স এমার্জেন্সি সার্ভিস ১০২ চালকরা ধর্মঘটে

সকাল থেকেই সমস্ত জেলায় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ধর্মঘটের পথে। মূলত ১০২ অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে পথে নামেন। সকাল থেকেই পরিষেবা বন্ধ। মূলত তাদের দাবি চালক এবং তার সহযোগীদের বেতন বাড়াতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার বেশি ডিউটি করানো যাবে না। ডিউটি করলেও অতিরিক্ত সময়ের বেতন দিতে হবে। বিভিন্ন অনৈতিক কারণে ২৬ জন ড্রাইভার এবং তার সহযোগীদেরকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিলম্বে চাকরিতে বহাল করতে হবে। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দরুন অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ক্ষয়ক্ষতি এবং মৃত্যু হচ্ছে সেই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।জি; ভি কে ই এম আর আই গ্রীন হেলথ সার্ভিস বেসরকারি সংস্থা ড্রাইভারদের নিযুক্তের সময় ১৫০০০ টাকা ট্রেনিং ফি বাবদ নেওয়া হয়, কিন্তু কেন এই ফি নেওয়া হচ্ছে? সেই বিষয়ে অবগত নন ড্রাইভাররা। একাধিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের পথে আজ সকাল থেকেই অ্যাম্বুলেন্স চালক ও সহযোগিরা।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৪
বিদেশ

নিউটাউনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বহুজাতিক সংস্থা, মুখ্যমন্ত্রী দুবাইতে করলেন বৈঠক

বাংলায় শপিং মল করতে চলেছে দুবাইয়ের বহুজাতিক সংস্থা লুলু গোষ্ঠী। শুক্রবার এই সংস্থার একজিকিউটিভ ডিরেক্টর আশরফ আলির সঙ্গে একান্তে বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক সদর্থক হয়েছে বলে এক্সবার্তায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামিতে কলকাতার নিউটাউনে বিশ্ব মানের শপিং মল খুলতে পারে লুলু গোষ্ঠী।আগামী নভেম্বরে বাংলায় হবে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন। ওই বাণিজ্য সম্মেলন অংশগ্রহণের জন্য লুলু গোষ্ঠীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।বিশ্বের বহু দেশে এই গোষ্ঠীর শপিং মল রয়েছে। সেইসব শপিং মলে বিশ্ববাংলার জন্য পৃথক কাউন্টার খোলা হতে পারে। সেখানে বিক্রি হবে বিশ্ববাংলার পণ্য। পাশাপাশি আগামী সময়ে নিউটাউনে বিশ্ব মানের শপিং মল খুলতে পারে লুলু গোষ্ঠী।Todays meeting with Mr. @asharfalima, Executive Director of LuLu Group International, was immensely promising for Bengals growth!We delved into a range of exciting possibilities, foremost among them being the prospect of a world-class mall in Newtown. We discussed the global pic.twitter.com/KJaiE2miCn Mamata Banerjee (@MamataOfficial) September 22, 2023এরাজ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র খুলতেও আগ্রহী ওই নামজাদা সংস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর এক্সবার্তা অনুয়ায়ী মাছ, মাংস প্রক্রিয়াকরণ, পোলট্রি, ডেয়ারি শিল্পে বিনিয়োগেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে লুলু গোষ্ঠী।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩
দেশ

নিউটাউনে হিডকো জমি দুর্নীতি, যোগীরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার ২

জমি দুর্নীতি কাণ্ডে দুজনকে গ্রেফতার করলো বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের মথুরা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। ট্রাঞ্জিট রিমান্ডে তাদের নিয়ে আসা হচ্ছে।বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিডিডি বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, হিডকো জমি দুর্নীতি নিয়ে মোট দশটি কেস হয়েছে। বেশিরভাগ কেস হয়েছেনিউটাউনের টেকনোসিটি থানায়। এছাড়া লেকটাউন থানা ও বিধাননগর দক্ষিণ থানাতেও অভিযোগ হয়েছে। এই মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে প্রথমে তন্ময় নায়েক নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। এর মধ্যে এফআইআর এ নাম আছে এমন ২ জনকে ধরার জন্য বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার স্পেশাল টিমকে পাঠানো হয়। গোয়েন্দারা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাতে চালাতে অবশেষে মথুরাতে তাঁদেরকে চিহ্নিত করে। সেখান থেকে অশোক পাত্র ওরফে আকাশ পাত্র এবং সুদীপ্ত রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। আজকে তাদের ওখানকার কোর্টে তুলে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হচ্ছে। ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসার পরে এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই দুর্নীতিতপ আর কারা কারা জড়িত আছে তাদের খোঁজ চালানো হবে। এরা দুজন টেকনোসিটি থানার কেসে অভিযুক্ত ছিল কিন্তু গোটা ঘটনা এখন তদন্ত করছে বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ।

আগস্ট ১২, ২০২৩
কলকাতা

কলকাতার পাশেই এবার দ্বিতীয় চিড়িয়াখানা, দেখা মিলবে জিরাফ, জেব্রার সঙ্গে

আলিপুর চিড়িয়াখানা দেখার আক্ষেপ ভুলিয়ে দেবে নিউটাউনের চিড়িয়াখানা। নতুন চিড়িয়াখানায় নতুন জীবজন্তু দেখার সুযোগ নিউটাউনে। এই চিড়িয়াখানার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৬- তে। তখন সেটা ছিল ডিয়ার পার্ক। এখন আস্ত চিড়িয়াখানা।২০১৬-তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিউটাউনে উদ্বোধন করেছিলেন হরিণালয়ের। যেখানে এতদিন শুধু দেখা মিলত হরিণের দলের। এবার হরিণালয় বদলে গেল চিড়িয়াখানায়। এখন হরিণের সঙ্গে জিরাফ, জেব্রা, ম্যাকাও, কালো রাজহাঁস, নানান রঙিন পাখি, সবই দেখা যাবে সেখানে। খুব শীঘ্রই নিয়ে আসা হবে বাঘও।বৃহস্পতিবার দুপুরে এই চিড়িয়াখানার ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নয়া চিড়িয়াখানার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ বন দপ্তরের আধিকারিকরা। দ্বিতীয় এই চিড়িয়াখানাটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ১৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। এদিন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, এই চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়াতে বাঘ , সিংহ, শিম্পাঞ্জি সহ বিভিন্ন প্রজাতির বানর আনা হবে। আপাতত ঠিক হয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানার প্রবেশ মূল্যর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এখানে প্রবেশ টিকিটের মূল্য ধার্য করা হবে।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৩
রাজ্য

খাল সংস্কারের মাটি দিয়ে জলাশয় ভরাট নিউটাউনে, অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য, ঘটনায় তোলপাড়

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নিউটাউনের বাগজোলা খাল ও কেষ্টপুর খালের সংস্কার শুরু করেছে সেচ দপ্তর। প্রতি বছর সামান্য বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয় নিউটাউন, সল্টলেকের বিস্তীর্ণ এলাকা। অভিযোগ, বাগজোলা খাল সংস্কারের মাটি দিয়ে একাধিক জলাশয় ভরাট হচ্ছে নিউটাউনে পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের ছাপনা এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের সদস্য জইরুল হাজরা সহ স্থানীয় নেতাদের মদতে রাতের অন্ধকারে সেই মাটি গিয়ে পড়ছে এলাকার জলাশয় গুলিতে। তবে বিডিও, বিধায়ক ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জলাশয় ভরাটের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন।রাজারাহটের বিডিও ঋষিকা দাস বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় টেকনো সিটি থানার পুলিশ সহ সেচ দপ্তরের আধিকারিককে আমি চিঠি করেছি। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর কর বলেন, সেচ দফতর খাল কাটছে। আর সেই খাল কাটা মাটি নিয়ে জলাভূমি ভরাটের ঘটনাটা আমার কানে এসেছে। পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের প্রধানকে বলেছি যে কারা করছে তাদের নোটিশ ধরাতে এবং ভরাট কাজ বন্ধ করাতে। জলাশয় ভরাট করার আইন নেই যদি সেটা রেকর্ড নাও থাকে তাও জলাশয় ভরাট করা যায় না। এক্ষেত্রেও আমি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। যদি ভরাট করা হয়ে থাকে এক্ষেত্রেও মাটি তুলে দেওয়া হবে। দলের উচ্চ নেতৃত্বকে এবিষয়ে জানাবো।রাজারহাট নিউটাউন বিধায়ক তাপস চ্যাটার্জি বলেন, স্থানীয় প্রধান, সভাপতি এবং বিডিও সবাইকে বলেছি বিষয়টা দেখতে জলাভূমিতে যদি মাটি পড়ে থাকে ভরাট করা যাবে না। এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব আমরা পুলিশকেও বলছি। কোটি কোটি টাকা খরচা করে খাল কাটা হচ্ছে মানুষকে ভালো রাখার জন্য। মেম্বার হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তিনি আইনের উর্ধ্বে নন। কোন মেম্বারের জন্য যদি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২২
কলকাতা

এবার জেব্রার দেখা মিলবে নিউটাউনে, নতুন বছরে আসছে আরও অতিথি

নিউটাউনের একের পর এক চিত্তাকর্ষক আয়োজন করছে এনকেডিএ। এবার জেব্রা দর্শন করতে পারবেন নিউ টাউন বাসী। এতদিন হরিণ, কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখার সুযোগ ছিল নিউটাউনে।সেগুলির পাশাপাশি সাদা কালো জেব্রা দর্শন করতে পারবেন নিউ টাউন বাসী। আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে একটি জেব্রা আনা হয়েছে নিউ টাউনের হরিণালয়ে। আপাতত লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছে জেব্রাটি। এখনই সাধারণ মানুষের দর্শন করার সুযোগ থাকছে না। তবে এক সপ্তাহ পরে জেব্রাটিকে দেখতে পাবেন হরিনালয় মিনি চিড়িয়াখানার সব দর্শকরা। এরপর আরও সুখবর আসছে। নতুন বছরের শুরুতে জিরাপ ও হিপোপটেমাস দেখার সুযোগ থাকছে নিউটাউনে। আসতে পারে বাঘ-সিংহ, চিতাও। সেজন্য দ্রুততার সঙ্গে এনক্লোজার তৈরির কাজে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মিনি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।২০১৬ সালে নিউ টাউনের ইকোপার্ক লাগোয়া ৬ নম্বর গেটের পাশে একটি হরিণালয় তৈরি করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এজন্য প্রায় ১৩ একরের বেশি জমি দান করে হিডকো। প্রথমদিকে এটি হরিণালয় করার চিন্তাভাবনা থাকলেও পরে দর্শকদের চাহিদা ভেবে আরও কিছু পশু পাখি আনার চিন্তা ভাবনা করে কর্তৃপক্ষ। সেই মতো একে একে বিভিন্ন ধরনের পাখি কুমির এবং একাধিক প্রজাতির হরিণ রাখা হয়েছে পার্কে।আগামী দিনে এখানে বেঙ্গল টাইগার, লেপার্ড, সিংহ, জিরাফ, রেড ক্যাঙ্গারু, হিপোপটেমাস প্রভৃতি রাখার পরিকল্পনা করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এই মিনি চিড়িয়াখানার প্রবেশ মূল্য মাত্র ৩০ টাকা। সোমবার ছাড়া সপ্তাহে বাকি ৬ দিন খোলা থাকে পার্ক। ইতিমধ্যেই সপ্তাহান্তে বহু দর্শক ভিড় জমাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

ডিসেম্বর ২১, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal