ধৃত বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে আসানসোল থেকে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার পথে তার গাড়ি শক্তিগড়ে দাঁড়ায়। ২ নম্বর জাতীয় সড়কের শক্তিগড়ের একটি ল্যাংচার দোকানের সামনে তার গাড়ি দাঁড়ালেও অনুব্রত মণ্ডল গাড়ি থেকে নামেন নি। মিনিট দশেক তিনি গাড়ির মধ্যেই ছিলেন। তবে চারটি কচুরী, ছোলার ডাল প্যাকেট করে গাড়ির ভিতরে নিয়ে যায় পুলিশকর্মীরা। পাশাপাশি এক কাপ লিকার চা তিনি খান গাড়ির ভিতরে।
মেমারি ১ ব্লকের দুর্গাপুর গ্রামের বারোয়ারি তলায় গুরু গোবিন্দ বসু সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সাহায্যার্থে রক্তদান শিবির আয়োজন কগরা হয়। শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় ৫০ ইউনিট লক্ষ্যমাত্রা রেখে রক্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করে। এদিন একইসঙ্গে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছেলেমেয়েদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করা হয়। দুর্গাপুর গ্রামের আধুনিকতার রূপকার গুরু গোবিন্দ বসুর ছবিতে মাল্যদান করে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। তাঁর স্মৃতিতে গুরু গোবিন্দ বসু সংঘ সহ গ্রামবাসীরা উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক কাজে এগিয়ে আসেন।আজকের অনুষ্ঠানে মহিলাদের রক্তদানে বেশি উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়। বর্ধিষ্ণু গ্রাম দুর্গাপুরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে প্রতিবারের মত উদ্দীপনা ছিল দিনভর।
ক্লাসরুমের ভেতরে পড়ুয়াদের নাচের ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের ইউনিফর্ম পরে বাংলা গানে নাচের ভিডিও ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় গঙ্গারামপুর শহরজুড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে গঙ্গারামপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নিরঞ্জন ঘোষ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে।ঘটনা নিয়ে শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতির্ময় রায়।জানা গেছে গঙ্গারামপুর শহরের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত নিরঞ্জন ঘোষ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৪০০জন এবং শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছে প্রায় ৪০জন। জানা গেছে গত কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় যুব সংসদ প্রতিযোগিতা। সেইসময় বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর বেশকিছু ছাত্রছাত্রী ক্লাসরুমে ইউনিফর্ম পরে নাচ করে। ইতিমধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে পরে সোস্যাল মিডিয়ায়। যা নিয়ে নিন্দার ঝড় গোটা গঙ্গারামপুর শহরজুড়ে। ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতির্ময় রায়।
মঙ্গলবার দুপুরে জগদ্দলের বিচুলি ঘাটে গঙ্গায় তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল তিন কিশোর-সহ চারজন। ওইদিন রাতেই বিপর্যয় মোকাবিলার টিম বিচুলি ঘাট থেকেই শম্ভু রাম (১৯) ও সৌরভ প্রাসাদের (১৪) মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বুধবার সকালে ব্যারাকপুর দুই পয়সার ঘাট থেকে জিতু চৌধুরীর (১৪) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিন সন্ধায় ব্যারাকপুর দুই পয়সার ঘাট থেকেই গৌতম প্রাসাদের (১৫) দেহ উদ্ধার করা হয়। তারপর তাঁর দেহ জগদ্দল বিচুলি ঘাটে আনা হয়। চারজনই ভাটপাড়ার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগদ্দল স্টেশন সংলগ্ন পূর্বাশা কলোনির বাসিন্দা। মৃতদের পরিবার পিছু ব্যক্তিগতভাবে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেবার কথা বুধবার ঘোষণা করেছিলেন ব্যারাকপুর কেন্দ্রের সাংসদ অর্জুন সিং। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্বাশা কলোনি এলাকায় গিয়ে ৪ পরিবারের হাতে এক লক্ষ টাকা করে চেক তুলে দিলেন ব্যারাকপুরে সংসদ অর্জুন সিং। তার সাথে ছিলেন তৃণমূল নেতা মনোজ গুহ, স্থানীয় কাউন্সিলর সীমা মন্ডল সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতারা। শোকোস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেতা মনোজ গুহ বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই, তবে সাংসদ নিজ উদ্যোগে তিনি এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করেছেন।
এদিন আদালত থেকে মূল অভিযুক্ত বাপি পণ্ডিতের জামিনের খবর এলাকায় জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। তারা একজোট হয়ে রাত পৌনে দশটা নাগাদ আগরপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে বিটি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখতে থাকে। এদিকে জামিন পাওয়ার ঘটনার খবরে বিক্ষোভ চলাকালীনই অনুপম দত্তের স্ত্রী তথা ওই ওয়ার্ডের পৌরমাতা মীনাক্ষী দত্ত তার দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে কামারহাটি সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাকে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিক্ষোভকারী বলেন, যদি বাপিকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন ।এখানে উল্লেখ্য, ১৩ মার্চ ২০২২ অনুপমের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে, আগরপাড়া স্টেশন রোডে স্কুটারে ওঠার মুহুর্তে এক দুষ্কৃতী কয়েক হাত দূর থেকে অনুপমকে লক্ষ করে গুলি চালায়। তৎকালীন পানিহাটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুপমের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় । সেই রাতের মধ্যে গ্রেফতার হয় অমিত পণ্ডিত। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে আসে, খুনের সুপারি দিয়েছিল বাপি। জানাযায় এর আগে অন্য এক দুষ্কৃতীকে অনুপমকে মারা জন্য সুপারি দেইয়েছিল বাপি, সে কাজটি না করায় পুর ভোটের ঠিক পরেই অমিতকে কাজে লাগায়। সেই ঘটনার পরেই অনুপম দত্তের স্ত্রী মীনাক্ষী ও আত্মীয় পরিজনেরা দোষীদের চরম শাস্তির দাবি করে আসছিলেন। এমতবস্থায় বাপি জামিন পেয়ে গেলে তাঁদের কোনও ক্ষতি হতে পারে সেই আশঙ্কায় মীনাক্ষী ও তাঁর পরিবার।
শনিবার পূর্ব বর্ধ মানের খণ্ডঘোষে দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, টেট দুর্নীতির অন্যতম নায়ক মাণিক বাবু যেমন পালিয়ে বেড়াচ্ছে, বালি চুরিতে যুক্তদের তেমনই অবস্থা হবে। খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম যদিও বিজেপি সাংসদের এইসব বক্তব্যকে পাগলের প্রলাপ বলে কটাক্ষ করেছেন।আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে এদিন খণ্ডঘোষের রূপসায় বিজেপির একটি দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে পৌরোহিত্য করেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, রাজ্যে এখন মহম্মদ বিনতুঘলকের সরকার চলছে, ডাকাত রাণীর সরকার চলছে। যা ইচ্ছে তাই করছে। এরপরেই পুলিশ ও প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সৌমিত্র খাঁ বলেন, কিছু থানার ওসি ৬০০ কোটি টাকা এবং বিএলআরও ও ডিএলআরও যাঁরা হাজার হাজার কোটি টাকার বালি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে আমি চিফ সেক্রেটারিকে চিঠি পাঠিয়েছি। ধরে রাখুন, তদের ঠিক মতো করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সেটা কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সি হোক বা রাজ্য সরকারের এজেন্সি হোক, ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ঠিক সময়ে এদের মাণিক ভট্টাচার্য্য করে দেব। প্রাইমারি টেট দুর্নীতির অন্যতম নায়ক মাণিক বাবু যেমন লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন, এদেরও সেই ব্যবস্থা করা হবে। এদের সমস্ত টাকা রাজকোষে জমা পড়বে।
শিশু কিশোর আকাদেমি ও পূর্ব বর্ধমান জেলা তথ্য সংসস্কৃতি দপ্তরের যৌথ আয়োজনে দুই দিন ব্যাপী জেলাভিত্তিক সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার শুভারম্ভ হল ২৭ আগস্ট। প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করলেন ভাইরাল গায়ক মিলন কুমার। দুদিনব্যাপী আবৃত্তি, রবীন্দ্রগীত, নজরুগীত,রাগপ্রধান গান এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রতিযোগিতা চলবে। জেলা তথ্য ও সংসস্কৃতি দপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে বর্ধমান-কাটোয়া ট্রেনে গান গেয়ে ভাইরান হন গায়ক মিলন কুমার, সেই মিলন কুমারকে সরকারি মঞ্চে প্রধান অতিথি করে নিয়ে এসে সম্বর্ধনা দেওয়া খুবই তাৎপর্যপুর্ণ। মিলন নিজেও সে কথা জানান। তিনি মানুষের প্রতিনিধি মানুষের জন্য গান গেয়ে যেতে চান বলে জানান ভাইরাল গায়ক মিলন কুমার।
প্রতিবেশী দশ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবকের বিরুদ্ধে কুড়ি বছরের জেল এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায় আরও ছয় মাস জেলের সাজা ঘোষণা করল আদালত। শুক্রবার কালনা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক সুধীর কুমার এই সাজা ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত সুব্রত হালদারের বাড়ি কালনা থানার সাতগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের সুভাষপল্লী গ্রামে।গত ২০২০-র ১৪ ই অক্টোবর সন্ধ্যাবেলায় প্রতিবেশী ওই নাবালিকা মুদিখানা দোকানে গিয়েছিল। ফেরার পথে আসামি সুব্রত হালদারের সঙ্গে ওই নাবালিকার দেখা হয়। সুব্রত একটা মোবাইল দেখিয়ে নাবালিকাকে বলে চার্জ ফুরিয়ে গেছে, তুই এটা বাড়িতে দিয়ে আয়। সরল বিশ্বাসে মেয়েটি তার বাড়িতে মোবাইল পৌঁছে দিতে গেলে সুব্রতও চুপিসারে পিছন পিছন বাড়ি ফিরে আসে। নিজের বাড়ির ভিতরে পেঁপে গাছ তলায় তাকে ধর্ষণ করে।বাড়ি ফিরে নাবালিকা বাড়িতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার মাকে সব খুলে বললে পরিবার তরফে কালনা থানায় অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়। কালনা থানার পুলিশ সুব্রত হালদারকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ এ বি এবং পস্ক আইনের ৪ উপ-ধারায় মামলা রজু করে। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন পুলিশ অফিসার সোমনাথ নস্কর। এই মামলায় তদন্তকারী অফিসার সহ ১৬ জনের সাক্ষ্যদানের পর বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।কালনা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক সুধীর কুমার শুক্রবার তাকে কুড়ি বছর জেল এবং দশ হাজার টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন। অনাদায় আরও অতিরিক্ত ছয় মাসের জেলের সাজা দেন। সরকারি আইনজীবী মলয় পাঁজা বলেন, এই মামলার রায়ে সমাজে একটা বার্তা পৌঁছালো যে, নাবালিকার উপর অত্যাচার করলে তার পরিণতি এটাই হবে। তবে নির্যাতিতা ওই মহিলা কেস চলাকালীন আত্মহত্যা করেন এই ঘটনার চাপ সহ্য করতে না পেরে। যদিও তার আগেই এই কেসের তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছিল। নির্যাতিতা নাবালিকার মা এদিন শুক্রবার কালনা আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন আমার মেয়ে বেঁচে থাকলে আমি আজ আরও খুশি হতাম।
আজ শুক্রবার কৌশিকী অমাবস্যা। দুপুর ১২ টা ২৬ মিনিটে অমাবস্যা শুরু হচ্ছে। শনিবার দুপুর ১ টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অমাবস্যা থাকবে। এদিন মা তারার বিশেষ পুজার্চনা আয়োজন করা হয়। বহু পুণার্থী দ্বারকা নদীতে স্নান সেরে মা তারার পুজো দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষাধিক পুর্নার্থীর সমাগম হবে আশা করে সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা তারাপীঠ সিসিটিভিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।ভারতের শক্তিসাধনায় তন্ত্র সাধনার বিশেষ গুরুত্ব লোকমুখে প্রচারিত। স্বনামধন্য সাধকরা অনেক জায়গায় বলে গেছেন, একমাত্র তন্ত্রই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারে। কঠিন সাধন করে এই ক্ষমতা অর্জন করতে হয়। সেই সাধনার বেশ কিছু রীতিনীতি মেনে চলতে হয়, এবং বিশেষ তিথি ও ক্ষণে এই সাধনা করতে হয়। সেই বিশেষ তিথিগুলির অন্যতম এক তিথি বা ক্ষণ হল কৌশিকী অমাবস্যা। প্রত্যেক বছরের ন্যায় কৌশিকী অমাবস্যার এই পুন্য লগনে বীরভুম জেলার অন্যতম সতীপীঠ তারাপীঠে প্রচুর জনসমাগম হয়।জনশ্রুতি, কৌশিকী অমাবস্যার এই বিশেষ দিনেই বহু সাধক/সাধিকা তাঁদের দীর্ঘ সাধন ভজনের সায়াহ্নে সিদ্ধিলাভ করেছেন। এই তালিকায় প্রথম যাঁর নাম আসে তাঁদের অন্যতম হলেন তারাপীঠে দেবী তারার সন্তান বলে খ্যাত অন্যতম জগৎবিখ্যাত সাধক বামাচরণ। লোকমুখে বামাক্ষ্যাপা বলেই অধিক জনপ্রিয়। আরও জানা যায়, এই বিশেষ তিথিতে মা তারার মন্দিরের একদম পাস দিয়ে প্রবাহমান দ্বারকা নদীতে স্নান করে দেবী তারার পুজার্চনা করলে নাকি কুম্ভস্নানের পুণ্যলাভ অর্জন হয়। মনে করা হয় সেই পুণ্যের আশায়-ই শয়ে শয়ে মানুষ এই কৌশিকী অমাবস্যা দিন তারাপীঠ মন্দিরে মা তারার পুজার্চনা করতে ছুটে আসেন অগণিত ভক্ত।তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন হোটেল গুলিতে কোনও ঘড় খালি নেই বলে হোটেল অ্যাসোসিয়েশন তরফে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই অনেক পুণ্যার্থী এই পুণ্যভুমী তে চলে এসেছেন। হোটেলগুলোর প্রায় সবকটিই পুণ্যার্থীদের ভিড়ে ভরা। তারাপীঠ মন্দির কমিটির ধারণা, এই বছর করনা বিধিনিষেধ না থাকায় পুর্ণার্থীর ঢল নামবে, তাঁদের আশা এবছর কৌশিকী অমাবস্যায় প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি ভক্ত সমাগম হবে। এই ব্যাপক ভক্তসমাগমের কথা মাথায় রেখে কড়া নিরাপত্তার মুড়ে ফেলা হয়েছে রামপুরহাট সহ তারাপীঠের আশপাশ এলাকা।
নরেন্দ্রপুর থানার একটি কোচিং সেন্টারের এক ছাত্রীকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বলবীর সিং নামে এক কোচিং সেন্টারের মালিক কাম শিক্ষক। ঐ শিক্ষককে গ্রেপ্তার করলেন নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। নরেন্দ্রপুর থানার লস্করপুর এলাকার সিং এন্ড শাও নামে ওই কোচিং সেন্টারের এক ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হলো বলবীর সিং নামে ওই শিক্ষককে।ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্পোকেন ইংলিশ শেখানোর জন্য নিজের খুশি মত সময়ে ওই ছাত্রীকে ডেকে পাঠাতেন। তারপরে ওই ছাত্রী কে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতেন। কাউকে না জানানোর আবেদনের সঙ্গে ছিল খুনের হুমকি। লজ্জায়, ভয়ে, কাউকে বলতে না পেরে বাথরুমে আত্মহত্যার করার চেষ্টা করেন ওই নির্যাতিতা ছাত্রী টি। পরে মায়ের কাছে সমস্ত কথা খুলে বলায় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই ছাত্রীতির মা।মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করেন নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও অবধি সাতজনকে গ্রেফতার করেছে রায়না থানার পুলিশ। বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। এখানে উল্লেখ্য মঙ্গলবার রাতে রায়নার জোতসাদিতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন গোলাম মোস্তাফা মল্লিক নামে এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। তিনি রায়না-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বামদেব মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ স্থানীয় মানুষ জানান। জোতসাদি আর বেলসরের মাঝে কয়েকজন দুস্কৃতী তাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। গলাম পুলিসকে জানান তিনি বাইকে করে বর্ধমান থেকে দলীয় কার্যালয় হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, এসময় কয়েকজন দুস্কৃতী তার উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা সশস্ত্র ছিল। প্রচন্ড মারধর করে তাকে ফেলে চলে যায়। এলাকায় এখবর ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার মানুষ তাকে উদ্ধার করে। তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রাতে। তার পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
ফের অশান্ত পূর্ব বর্ধমানের রায়না। রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর আহত গোলাম মোস্তাফা মল্লিক নামে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। জানা গিয়েছে, তিনি ব্লক সভাপতি বামদেব মন্ডলের ঘনিষ্ঠ। বামদেব মন্ডলের অভিযোগ, গোলাম বর্ধমান শহর থেকে ফেরার সময় জোতসাদি আর বেলসরের মাঝে কিছু দুস্কৃতী তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। তিনি বাইকে করে দলীয় কার্যালয় হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় কিছু দুস্কৃতী তাঁর উপর হামলা চালায়। তাঁরা সশস্ত্র ছিল। প্রচন্ড মারধর করে তাঁকে ফেলে চলে যায়। এলাকায় এখবর ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার মানুষ তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।বামদেব বাবুর আরও অভিযোগ, আক্রান্ত নেতা এলাকায় ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। কিছু লোক গত বিধানসভার ভোটে দলকে হারাতে চেয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে এই এলাকায় দল বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে। তাই তাকে দমিয়ে দিতেই এই আক্রমণ বলে বামদেবের অভযোগ। এলাকা সূত্রে খবর, এলাকায় প্রভাব বাড়ানো নিয়ে ব্লক সভাপতি বামদেব মন্ডলের সাথে সভাধিপতি ও বিধায়ক শম্পা ধারার গোষ্ঠীর বিবাদ চলছে। এ ঘটনাও তারই জের বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। যদিও দলের সূত্রে এখনো এমন কিছু বলা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে রায়নায় নানা রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এসেছে। বর্ধমানের রাজনৈতিক মানচিত্রে রায়না রাজনৈতিক উপদ্রুত অঞ্চল বলেই অনেকের ধারণা। বার বার রাজনৈতিক ঘটনা চলে আসছে বাম আমল থেকে।
বির্তক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না অনুব্রত মণ্ডলের। বর্তমানে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল গরু পাচার মামলায় সিবিআইয়ের হেফাজতে। তবুও তার নাম উঠে আসছে। তার নাম করে প্রভাব খাটিয়ে জোর করে পেট্রোল পাম্প নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলো প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আইনের সাহায্য নিলে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে অস্ত্র নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, শ্লীলতাহানি করা হয় ব্যবসায়ীর স্ত্রীকেও। প্রাণহানির আশঙ্কায় পুলিশের দ্বারস্থ ওই ব্যবসায়ীর পরিবার।বর্ধমান শহরের কচিপুকুর চাঁদমারি লেনের বাসিন্দা অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০০৬ সাল থেকে বীরভূমের ইলামবাজারের ঘুড়িষা এলাকায় একটি ইণ্ডিয়ান অয়েলের পেট্রোল পাম্পের মালিকানা রয়েছে। বিভিন্ন কারণে পেট্রোল পাম্পটি নিয়ে তিনি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অরিন্দম বাবুর অভিযোগ সেই সময় ইলামবাজারের প্রাক্তন বিধায়ক নরেশ বাউরি তাকে সাহায্যের নাম করে এগিয়ে আসেন এবং পেট্রোল পাম্পটির শেয়ার নেওয়ার নাম করে বিভিন্ন কাগজপত্রে সই করিয়ে মালিকানা নিজের নামে করিয়ে নেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে অরিন্দমবাবু বিএলআরও অফিসে গিয়ে মালিকানা পরিবর্তন হওয়া আটকে দেন।ব্যবসায়ী অরিন্দমবাবুর অভিযোগ, এর পর থেকে জোর করে নরেশ বাউরি ও তার লোকজনেরা পেট্রোল পাম্পটি দখল নিয়েছে। পেট্রোল পাম্পে থাকা ১৩ হাজার লিটার ডিজেল তারা চুরি করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন অরিন্দমবাবু। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৩ লক্ষ টাকা বলে জানান তিনি । বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বোলপুর কোর্টে গেলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।অরিন্দম বাবুর অভিযোগ, গত মাসের (জুলাই) ১০ তারিখে নরেশ বাউরি, নরেশ বাউরির স্ত্রী তাপসী বাউড়ি দলবল নিয়ে ভোর পাঁচটা নাগাদ তার বাড়িতে যায়। অরিন্দমের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে পেট্রল পাম্পের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। স্ত্রী বাধা দিতে এলে তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। অরিন্দম বাবুর বাড়িতে থাকা ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় নরেশ বাউরি। মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে রাখায় কোনওরকম চিৎকার চেঁচামেচি করতে পারেননি বলে জানান অরিন্দম। নরেশ বাউরি ক্রমাগত অনুব্রত মণ্ডলের নাম করে হুমকি দিতে থাকে এবং কেউ তার কিছু করতে পারবেন না বলে জানান। এরপর বারাবাড়ি করলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন অভিযুক্তরা। গোটা বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার। এই পরিবারকে আতঙ্ক এতটাই গ্রাস করেছে যে ছেলেমেয়েদের টিউশন পড়তে বাইরে যেতে দিচ্ছে না তাঁরা। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসের নাম করেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে বর্ধমান থানার দ্বারস্থ হয়েছে অরিন্দম বাবু। নরেশ চন্দ্র বাউরি, তাপসি বাউরি সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।এই বিষয়ে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে নরেশ বাউরী কিছু বলতে অস্বীকার করেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন বলেই ফোন কেটে দেন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নরেশ বাউরী।
শিবের মাথায় জল ঢালতে যাওয়ার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ১০ পুণ্যার্থীর। গতকাল, রবিবার রাত ১২টা নাগাদ কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ থানার অন্তর্গত চ্যাংড়াবান্ধার ধরলা সেতু সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা কোচবিহারের শ্রীশ্রী শীতলকুচি থানা এলাকার বাসিন্দা।জানা গিয়েছে, শীতলকুচি থেকে ময়নাগুড়ি জল্পেশ মন্দিরে শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে জল ঢালতে যাচ্ছিলেন পুণ্যার্থীরা। তাঁরা সবাই একটি পিকআপ ভ্যানে রওয়ানা দিয়েছিলেন। পিকআপ ভ্যানে ডিজে সিস্টেম থেকে আচমকাই শর্ট সার্কিট হয়ে যায় বলে প্রশাসন দাবি করেছে। এর ফলেই নাকি দশজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়।জানা গিয়েছে, পিক আপ ভ্যান ছিল ঠাসা। ডিজে সিস্টেম থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন পিকআপে থাকা ২৭ জন পুণ্যার্থী। তাঁদের চ্যাংড়াবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা ১০ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকিদের জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গাড়ির চালক পলাতক। ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা পৌঁছায়।
মনে আছে ২৬ জুলাই দিনটির কথা? লালহলুদ সমর্থকদের নিশ্চয় ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ২০০৩ সালের ২৬ জুলাই। ১৯ বছর আগে ইন্দোনেশিয়া মাটিতে ইতিহাস গড়েছিল লালহলুদ ব্রিগেড। ভারতীয় ফুটবলকে আন্তর্জাতিক স্তরে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। বেকতেরো সাসানাকে হারিয়ে আশিয়ান কাপ জিতেছিল লালহলুদ ব্রিগেড।এশিয়ার অন্যতম সেরা দলগুলিকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় বসেছিল আশিয়ান কাপের আসর। ইন্দোনেশিয়ার সেরা দুটি দল পেত্রোকিমা পুত্রা, পার্সিতা তাঞ্জেরাং, কম্বোডিয়ার সামার্ট ইউনাইটেড, মায়ানমারের সেরা দল পেরাক এফসি, ফিন্যান্স অ্যান্ড রেভেনিউ, সিঙ্গাপুর আমর্ড ফোর্স, ব্রুনেইয়ের ডিপিএমেম এসসি, ভিয়েতনামের হোয়াং আন গিয়া লাই, থাইল্যান্ডের বেকতেরো সাসানা, ফিলিপিন্স আর্মির মতো দল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। ভারত থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল একমাত্র ইস্টবেঙ্গলকে।গ্রুপ ডিতে ছিল ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গেই এই গ্রুপে ছিল থাইল্যান্ডের হাইপ্রোফাইল দল বেকতেরো সাসানা ও ফিলিপিন্স আর্মি। গ্রুপ লিগের ম্যাচে বেকতেরো সাসানার কাছে ১০ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয় ম্যাচে ফিলিপিন্স আর্মিকে ৬ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছয় ইস্টবেঙ্গল। শেষ আটে ইন্দোনেশিয়ার পার্সিতা তাঞ্জেরাংকে ২১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় লালহলুদ ব্রিগেড। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোলদুটি করেন বাইচুং ভুটিয়া ও বিজেন সিং। সেমিফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার পেত্রোকিমিয়া পুত্রার মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফল ছিল ১১। প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে সমতা ফেরান বাইচুং। টাইব্রেকারেও খেলার মীমাংসা হয়নি। সাডেন ডেথে ৭৬ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠে ইস্টবেঙ্গল।জাকার্তার গিলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বেকতেরো সাসানার মুখোমুখি হয়েছিল গ্রুপ লিগের ম্যাচে সাসানার কাছে হারলেও ফাইনালে সেই ম্যাচের কথা মাথায় রাখেনি লালহলুদ ব্রিগেড। ফাইনালে দারুণ শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। মাইক ওকোরোর দুরন্ত গোলে প্রথমার্ধে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একটা গোল তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৫২ মিনিটে ২০ করেন বাইচুং ভুটিয়া। ২ মিনিটের মধ্যে বেকতেরো সাসানার হয়ে সমতা ফেরান পানাই কংপ্রাপুন। ম্যাচে ৭৮ মিনিটে গোল করে লালহলুদের আশিয়ান জয় নিশ্চিত করেন আলভিটো ডিকুনহা।আশিয়ান কাপ জয়ে ফুটবলারদের যেমন অবদান রয়েছে, তেমন অস্বীকার করা যাবে না প্রয়াত কোচ সুভাষ ভৌমিকের অবদানকেও। লালহলুদ ব্রিগেডকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনিই। ফুটবলারদের পাঁচতারা হোটেলে রেখে আসাবাসিক শিবির, ক্লাবে জাকুজি, সবই তিনি আশিয়ান কাপের প্রস্তুতির জন্য করেছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর দুর্দান্ত ফর্মেশন। গ্রুপ লিগে বেকতেরো সাসানার খেলা দেখে মনি হয়েছিল। মাঝমাঠই সবথেকে বেশি শক্তিশালী। আর বিপক্ষের সবথেকে সেরা ফুটবলার ছিলেন চাইম্যান। ফাইনালে ৩৫২ ছকে দল সাজানোর পাশাপাশি ষষ্ঠী দুলেকে চাইম্যানের মার্কার করে দিয়েছিলেন। ষষ্ঠী দুলেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, চাইম্যান যেখানে যাবেন, তাঁর সঙ্গে আঠার মতো লেগে থাকতে। ম্যাচ চলাকালীন চাইম্যান সাইড লাইনে জল খেতে এলেও ষষ্ঠী চাইম্যানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকছিলেন। ফাইনালে চাইম্যানকে পুরোপুরি বন্দী করে রেখেছিলেন ষষ্ঠী দুলে। ফলে বেকতেরো সাসানার সাপ্লাই লাইন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গোল না করেও সেদিনের হিরো হিসেবে কিন্তু ষষ্ঠী দুলের কথা বলতেই হবে।
এনডিএ-র রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু শিলিগুড়ি পৌঁছেছেন। সোমবার তিনি বাগডোগরা বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। বিধায়ক-সাংসদদের কাছে ভোট চাইতে তিনি বাংলায় এসেছেন। শিলিগুড়িতে দ্রৌপদী মুর্মু সিকিম ও আশেপাশের রাজ্যের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আগমিকাল তিনি কলকাতায় যাবেন। সেখানে এরাজ্যের দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন উত্তরবঙ্গে আছেন। তৃণমূল নেত্রী এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধীদের বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অবিজেপি দলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন যশবন্ত সিনহা। যদিও পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপি প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করেনি। দ্রোপদী মুর্মুর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
খুনোখুনি, আগুন, তোলাবাজি, ভাতের হোটেলে মদ এমন নানা খবরে ক্লান্ত বাঙালি। দুর্গাপুরের তিন নারীর মানবিক উদ্যোগ কিন্তু মন ভালো করে দিয়েছে সারা বাংলাকে। ওই তিন গৃহবধু মানবিকতার অনন্য নজির গড়েছেন। শনিবার দুস্থ মূক ও বধির মহিলার বিয়ের ব্যবস্থা করেছে দুর্গাপুরের তিন গৃহবধু। নগরনিগমের প্রান্তিকা সংলগ্ন মন্দিরে দুই বিশেষভাবে সক্ষম পাত্র-পাত্রীর চার হাত এক করে দিয়েছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, পাত্রী সম্পূর্ণ ভাবে মূক ও বধির। পাত্রের রয়েছে কথা বলার সমস্যা। দুর্গাপুরের তিন গৃহবধুর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিধাননগরের মনি চৌধুরী, সেপকোর বাসিন্দা শম্পা গিরি ও বেনাচিতির বুলু মন্ডল এই বিবাহের সম্পূর্ণ খরচ বহণ করেন।জানা গিয়েছে, শম্পা গিরি তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের কাছ থেকে জানতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী রাখী যাদব সম্পূর্ণরূপে মূক ও বধির। বাবা মারা যাওয়ার পর গোঁসাইনগরের ঘর বিক্রি করে মায়াপুরে একটি ভাড়া ঘরে মা-মেয়ে কোনরকমে দিনযাপন করছিলেন। আর্থিক সংকটের কারণে বিবাহযোগ্যা কন্যার বিয়ে হচ্ছিল না। একইসঙ্গে মেয়ে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ায় সেভাবে তাঁকে কেউ বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না। এই কথা শোনামাত্র শম্পাদেবী তাঁর দুই বন্ধু মনি চৌধুরী ও বুলু মণ্ডলকে বিষয়টা জানান। শোনামাত্রই তিন বন্ধু পাত্র খোঁজার কাজ শুরু করে দেন। বিয়ের আসর কোথায় হবে, তার সমস্ত খরচ তাঁরা খরচ করবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। যেমন ভাবা তেমনই কাজ। তিন গৃহবধূর প্রচেষ্টায় অবশেষে দুর্গাপুরের বেনাচিতির সুভাষ পল্লির বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী মুন্না যাদবকে পাত্র হিসাবে খোঁজ মেলে। পাত্রীর সঙ্গে বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের প্রান্তিকা সংলগ্ন মন্দিরে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। যাবতীয় খরচা বহন করেন তিন বন্ধু। আগামী দিনেও দম্পতির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা।মনি চৌধুরী বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে সারা বছর ধরেই সামাজিক কাজে যুক্ত থাকি। আমাদের লক্ষ্য দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। এই দুস্থ মূক ও বধির কন্যার কথা শুনতে পেয়ে আমরা এককথায় পাশে থাকার জন্য রাজি হয়ে যাই। বুলু মণ্ডলের বক্তব্য, এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পেরে আমরা খুব খুশি।
সারা রাজ্যে মহা সমারোহে পালিত হল হুল উৎসব। ইংরেজ অপশাসনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যে সংগ্রাম হয়েছিল তা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত, সেই বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণ করে পালিত হয় হুল দিবস। অলচিকি ভাষায় হুল কথার অর্থ বিদ্রোহ। ১৮৫৭ তে সিপাহী বিদ্রোহের ২ বছর আগে ১৮৫৫ তে সংগঠিত হওয়া এই বিদ্রোহ-ই আলো দেখিয়েছিলো ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে জোড়ালো করতে। একই পরিবারের ভাইবোন সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব,আর দুই বোন ফুলমনি এবং ঝানু মুর্মু-র এই আন্দোলন পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এই ছয় ভাইবোনের ডাকা আন্দোলনে এককাট্টা হয়েছিল চারশোটি গ্রাম। সে ডাকে সাঁওতালরা ছাড়াও সারা দিয়েছিলো সমস্ত নির্যাতিত মানুষ।বৈদ্যপুর রথতলায় হুল উৎসব-এ উপস্থিত অতিথিবর্গপূর্ব বর্ধমান জেলার অনগ্রসর, শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার কালনা-২ ব্লকের বৈদ্যপুর রথতলায় বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানে হুল উৎসব পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সম্পা ধারা, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি ও পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী শাখা সংগঠনের সভাপতি দেবু টুডু, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামানিক, কালনা মহকুমাশাসক সুরেশ কুমার জগৎ, কালনা-২ বিডিও ও জেলা অনগ্রসর শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধিকারিকগন।এদিনের এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের আম্বেদকর মেধা পুরস্কার প্রদান করা হয়। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, আদিবাসী আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে পথ দেখিয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে আমাদের আমরা ভুলতে পারি না। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা উপস্থিত সকলকে হুল দিবসের শুভেচ্ছা জানান। জেলাশাসক বলেন, বিদ্রোহের সময় যে অবদান আদিবাসীদের ছিল, আজকের সমাজেও তাদের অবদান ভোলার নয়।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কে আদিবাসী প্রথায় বরন করা হচ্ছেতিনি আরও বলেন,আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি যত উদযাপন করতে পারি সেটা আমাদের পক্ষে মঙ্গল। তিনি আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য যা যা সুবিধা দেয় সেটা তাঁরা যেন ঠিক ঠিক সময় সরকারি দপ্তরে উপস্থিত হয়ে গ্রহণ করেন। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে উপস্থিত হয়ে তাঁদের জাতিগত সংসাপত্র গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, জমির পাট্টা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সরাসরি সরকারি দপ্তরে তাঁরা যেন যোগাযোগ করেন। সরকার আপনাদের পাশে আছে।কালনার-২ বৈদ্যপুর রথতলা সংলগ্ন বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানের এই অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতির হার ছিল যথেষ্ট। এদিন নানারকম আদিবাসী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধামসা, মাদল এর ছন্দে পা মেলান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু।
২৮ শে জুন মঙ্গলবার রবীন্দ্রসদনে আবৃত্তি শিল্পী সংস্থা আয়োজিত আন্তর্জাতিক রবীন্দ্র আবৃত্তি প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হল। আবৃত্তি নিয়েই আবৃত্তিশিল্পী সংস্থার পথ চলা চুরু ২০১৫ সালে। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বিশাল ভাবনা চিন্তার চাষ শুরু হয়েছিল বহু আগে থেকেই আগে। সারা বিশ্ব যখন আতিমারির কবলে আটকে পড়েছিল সেই সময় আবৃত্তিশিল্পী সংস্থা অনলাইনের মাধ্যমে শুরু করেছিল আন্তর্জাতিক রবীন্দ্র আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। ভারত তথা বিশ্বের বহুপ্রান্তীয় সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। সংখ্যাটা ছিল ৪১৬৪ জন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও বহু প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ের শেষে গত ২৮ জুন চূড়ান্ত পর্বে ছিলেন তিনটে বিভাগে মোট ১৯ জন প্রতিযোগী।এদিন চূড়ান্ত পর্বের বিচারকের আসন অলংকৃত করেছিলেন স্বনামধন্য বাচিক শিল্পী প্রণতি ঠাকুর, রত্না মিত্র, সুকুমার ঘোষ। উদ্বোধন করা হয় গাছে জল সিঞ্চন এবং কবিগুরুর বিভিন্ন কথার মালা গাঁথা হয় গাছটিতে। উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী সংস্থার সভাপতি সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, সহ সভাপতি মধুমিতা বসু, কর্ণধার জয়ন্ত ঘোষ এবং বিচারকরা। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই মেন্টরদের সংবর্ধনা দেওয়া হয। এছাড়াও যে সমস্ত প্রতিযোগী সেমিফাইনালে উঠেছিলেন তাঁদেরকেও সংবর্ধিত করা হয়। কবি দিধিতি চক্রবর্তী এবং কবি মনীষা যুগ্ম সম্পাদনায় আবৃত্তি শিল্পী সংস্থার নিজস্ব পত্রিকা কন্ঠকথার তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগ ছিল ক-খ-গ, ক বিভাগে প্রথম হয় তৃষিত চক্রবর্তী (চিত্তরঞ্জন), দ্বিতীয়- পরিযায়ী চ্যাটার্জী (পুরুলিয়া), তৃতীয় - প্রমীতি পন্ডা ( পাটুলী)। খ বিভাগে প্রথম হয় সৃজা রায় ( পুরুলিয়া), দ্বিতীয় - শ্রীপর্ণা সিং (মুর্শিদাবাদ), এবং তৃতীয় -সোমশ্রী দেব ( হুগলি)। গ বিভাগ প্রথম- রীতি সেন(দক্ষিণ দিনাজপুর), দ্বিতীয়- স্বাগতা মির্জা (মুর্শিদাবাদ), তৃতীয়- সুশ্বেতা চক্রবর্তী ( উত্তর ২৪ পরগণা)। অনুষ্ঠানের শেষে সমস্ত প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।এইদিন সংস্থার নিজস্ব প্রযোজনা ছিল শতাধিক শিল্পীর কন্ঠে হে মোর চিত্ত পূণ্যতীর্থ কবিতাটি। দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন থেকে শুরু করে অফলাইনে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং তার গ্রান্ড ফিনালে - এই ভাবনা বাস্তবায়িত হয়েছে জয়ন্ত ঘোষের তত্বাবধানে।
২০১৫ সাল থেকে আইপিএলে খেলছেন। পাঁচ বার ফাইনালে উঠে পাঁচ বারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য নজির গড়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। কিন্তু এবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গুরুত্বই আলাদা তাঁর কাছে। কারণ এবারই প্রথম নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন আইপিএলের রঙ্গমঞ্চে। প্রথমবার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েই বাজিমাত। তবে এখানেই থেমে থাকতে চাননা হার্দিক। তাঁর এবার লক্ষ্য দেশকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া।গুজরাট টাইটান্সকে ট্রফি জেতানোর পর হার্দিক পান্ডিয়া বলেন, একসময় দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। সেই স্বপ্ন পূরম হয়েছে। দেশের হয়ে খেলার সময় সকলের সমর্থন ও ভালবাসা পেয়েছি। আমি সবসময় দেশের সাফল্যকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। এবার দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোই লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই কঠোর পরিশ্রম করছি। চেষ্টা করছি সেরাটা দেওয়ার। আশা করছি সফল হব।হার্দিক আরও বলেন, আমি বরাবরই দায়িত্ব নিতে ভালবাসি, সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করি। আমি যদি সামনে দাঁড়িয়ে পতাকা বহন করতে পারি, তাহলে সতীর্থদের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারব। আইপিএলে ৫ বার ফাইনালে উঠে ৫ বারই চ্যাম্পিয়ন হলাম। এবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এবছরই প্রথম নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমার আর একটা লক্ষ্য রয়েছে। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা।টি২০ ক্রিকেট নাকি ব্যাটারদের খেলা। হার্দিকের মত অবশ্য ভিন্ন। তিনি মনে করেন, ব্যাটাররা কয়েকটা ম্যাচ জেতাতে পারে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে জিততে গেলে ভাল বোলিং শক্তি দরকার। আইপিএলের মেগা নিলামে সেই দিকেই নজর দিয়েছিলেন বলে জানান হার্দিক। তাঁর কথায়, আমি আর বোলিং কোচ আশিস নেহরা ঠিক করেছিলাম, অভিজ্ঞ বোলিং শক্তি তৈরি করব। সেই লক্ষেই সামি, রশিদ, ফার্গুসনদের দলে নিয়েছিলাম। অভিজ্ঞ বোলারদের নিয়ে দল তৈরির সুফল পেয়েছি। বোলাররা প্রতি ম্যাচেই ১০২০ রান কম দিয়েছে। ওই রানগুলোই ম্যাচের ফয়সালা করে দিয়েছে। এবছর প্রতিটি ম্যাচে গ্যালারিতে ছিলেন হার্দিকের স্ত্রী নাতাশা স্তানকোভিচ। স্ত্রী ও পরিবার তাঁর সব থেকে বড় শক্তি বলে জানিয়েছেন হার্দিক। তিনি বলেন, নাতাশা আমার লড়াইয়ের সাক্ষী। ওই আমার অনুপ্রেরণা। আমি কতটা পরিশ্রম করেছি সেটা ও জানে। আমি সফল হওয়ায় ওর খুব আনন্দ হয়েছে। উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল।