• ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২, রবিবার ১৫ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mamata Banerjee

দেশ

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে প্রশ্ন, আদালতে মমতার পক্ষে জোরালো সওয়াল

সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে বুধবার শুরু হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি। নজিরবিহীন ভাবে এই শুনানিতে নিজে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও আপাতত মমতার মামলায় সওয়াল করছেন তাঁর আইনজীবীরাই।শুনানি শুরুর সময় প্রথমে সামনের সারিতে বসেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কিছুক্ষণ পরেই তিনি নিজের আসন বদলে এজলাসের একেবারে সামনের সারিতে এসে বসেন। শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত রয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। আদালতে মমতার পক্ষে সওয়াল করছেন আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান।আইনজীবীরা আদালতে গত দিনের নির্দেশ পাঠ করে শোনান। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর তরফে একটি নোট জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। সেই নোটটি বিচারপতিদের দেখার জন্য আবেদন জানান আইনজীবীরা। তাঁদের আর্জি, এই নোট অনলাইনে প্রকাশ করা হোক।আইনজীবীদের বক্তব্য, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে কেন এবং কোন যুক্তিতে ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, তা স্পষ্ট ভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এই তথ্য সামনে এলে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি কমবে বলেই আদালতে জানানো হয়।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
দেশ

শুনানির আগেই সুপ্রিম কোর্টে নতুন মামলা মমতার! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় দাবি

এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি বুধবার সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা। সেই শুনানিতে জনতার হয়ে নিজে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুনানির আগেই শীর্ষ আদালতে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের করলেন তিনি। এই নতুন মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর মূল আবেদন, অবিলম্বে ভোটারদের নাম বাতিল করার প্রক্রিয়া বন্ধ করা হোক।আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নামের বানান সংক্রান্ত অসঙ্গতির জন্য বহু ভোটারকে অকারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এই ধরনের নোটিস অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। তাঁর দাবি, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি রয়েছে এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। এই অবস্থায় নামের বানান নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হবেন বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, যেসব ভোটারের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা পড়েছে, তাঁদের নাম অনলাইনে প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন যেন আধার কার্ডকে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাঁরা ফর্ম-৭ জমা দিচ্ছেন, তাঁদের শুনানিতে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হোক।এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ থেকে সমস্ত মাইক্রো অবজার্ভারকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে মামলায়। মমতার বক্তব্য, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত নজরদারির মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলা হচ্ছে।বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই সব মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলাও একই দিনে শোনা হবে। কবি জয় গোস্বামীর করা মামলাও সেই তালিকায় রয়েছে।আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলবেন। সেই অনুযায়ী বুধবার সকাল ঠিক ১০টার কিছু পরে তিনি শীর্ষ আদালতে পৌঁছন। শুনানির আগেই তাঁর নতুন মামলার দায়ের হওয়া ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
দেশ

কালো গাউনে সুপ্রিম কোর্টে মমতা? এসআইআর শুনানিতে নজির গড়ার সম্ভাবনা

এসআইআর ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি এখন পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলায় প্রয়োজনে নিজে আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন, এমন ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। সূত্রের খবর, এদিন তাঁকে আইনজীবীর কালো গাউন পরেই দেখা যেতে পারে।এই সম্ভাবনার মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নীল পাড় সাদা শাড়ি পরে এক মহিলা সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন, গায়ে আইনজীবীর কালো গাউন। ছবির মাধ্যমে যে মুখ্যমন্ত্রীকেই বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে তৃণমূল শিবিরে কোনও সংশয় নেই। ছবির উপরে লেখা রয়েছে, শয়তানের উকিল বনাম জনতার উকিল।এসআইআর নিয়ে বাংলার মানুষকে অন্যায়ভাবে হেনস্তা করা হলে কাউকে ছাড়া হবে না বলে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাঁর সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এসেছে।বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি রয়েছে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং দোলা সেনের দায়ের করা মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এক নম্বর কোর্টে শুনানির তালিকায় রয়েছে ২১ নম্বরে। একই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে যে পিটিশন দায়ের করেছেন, তা রয়েছে ৩৭ নম্বরে। কবি জয় গোস্বামীর মামলাটি রয়েছে ৩৬ নম্বরে।আইন সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন পোর্টাল বার অ্যান্ড বেঞ্চ জানিয়েছে, বুধবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি গেট পাস ইস্যু করা হয়েছে। তিনি জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান এবং সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্রও ইতিমধ্যেই মিলেছে। ফলে এদিন তাঁর উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত।তবে তিনি আদৌ নিজে সওয়াল করবেন কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে হলে বার কাউন্সিলের সদস্য হওয়া এবং হাই কোর্টে অন্তত তিন বছরের প্র্যাকটিসের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগেশচন্দ্র ল কলেজ থেকে আইন পাশ করেছেন এবং আশির দশকে কিছুদিন আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসও করেছিলেন। কংগ্রেস নেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে তিনি নিম্ন আদালতে সওয়াল করেছিলেন বলেও জানা যায়।দীর্ঘদিন কোর্ট চত্বর থেকে দূরে থাকার পর আজ সত্যিই তাঁকে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এসআইআর মামলার শুনানিকে ঘিরে গোটা দেশের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকেই।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
কলকাতা

ইতিহাস গড়তে চলেছেন মমতা? এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করার জল্পনা

এসআইআর মামলায় প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক দিন আগেই তিনি সে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই সম্ভাবনাই কি বাস্তব হতে চলেছে বুধবার? মঙ্গলবার এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রারের কাছে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, মামলার আবেদনকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে তাঁর সঙ্গে কতজন নিরাপত্তারক্ষী থাকবেন, সেই বিষয়েও আলাদা করে অনুমতির আবেদন জানানো হয়েছে। এই সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স চাওয়াতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি সত্যিই শীর্ষ আদালতে নিজে সওয়াল করবেন মুখ্যমন্ত্রী।নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে কোনও নথিভুক্ত আইনজীবী অথবা মামলার আবেদনকারী নিজে সওয়াল করতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের নথিভুক্ত আইনজীবী নন। তবে এসআইআর ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের সিইও দফতরের বিরুদ্ধে তিনি নিজেই শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সেই কারণে আবেদনকারী হিসেবে তাঁর সওয়াল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বুধবার রাজ্যের এসআইআর মামলায় চাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেই বক্তব্য রাখতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও তৃণমূল কংগ্রেস বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। তবু নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমতির আবেদন জমা পড়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে।এই মুহূর্তে দিল্লিতেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার তিনি নির্বাচন সদনে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় বৈঠক চলার পর বাইরে এসে মমতা অভিযোগ করেন, তাঁদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। সেই কারণেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।এই আবহে বুধবার শীর্ষ আদালতে এসআইআর মামলায় আবেদনকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, তিনি সত্যিই সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে নিজে সওয়াল করেন কি না।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
দেশ

১০ কোটির হাওয়ালা যোগ, কিন্তু নথি আনেননি মমতা—হলফনামায় কী বলা হল?

সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযোগ খারিজ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, আইপ্যাকের অফিস থেকে তদন্ত সংক্রান্ত কোনও নথি তিনি নিয়ে যাননি। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টির কাজের সঙ্গে যুক্ত কিছু নথি তিনি সঙ্গে করে এনেছিলেন। ইডির তদন্তে কোনও রকম বাধা দেওয়া হয়নি বলেও হলফনামায় স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছিল ইডি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন এবং একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপরই তদন্তে বাধা দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।হলফনামায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কয়লা কাণ্ডের তদন্ত চলাকালীন তিনি খুব অল্প সময়ের জন্যই তল্লাশি চলা জায়গায় ছিলেন। ইডির কোনও নথি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে আসেননি। উল্টে তাঁর অভিযোগ, তদন্তের নামে তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন রাজনৈতিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়াই ছিল ইডির উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই অভিযান আইনি ভাবে বৈধ ছিল না এবং যথাযথ সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছে।হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটের আগে বিরোধী রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় সংস্থার হানা এখন একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে। এর আগেও মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভি এই অভিযোগ আদালতে তুলে ধরেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইডির বাজেয়াপ্ত করা কোনও নথিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে করে নিয়ে যাননি। শুধুমাত্র দলের অভ্যন্তরীণ কাজের সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল নথি এবং কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী তিনি এনেছিলেন। পঞ্চনামাতেও ইডির বাজেয়াপ্ত নথি নিয়ে যাওয়ার কোনও উল্লেখ নেই বলেই দাবি করা হয়েছে।এদিকে ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়লা কেলেঙ্কারিতে দেশের মোট ১০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি পশ্চিমবঙ্গে এবং চারটি দিল্লিতে। ইডির দাবি অনুযায়ী, অনুপ মাজির কয়লা পাচার চক্রের মাধ্যমে চুরি হওয়া কয়লা বাঁকুড়া, বর্ধমান ও পুরুলিয়ার একাধিক সংস্থায় বিক্রি করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চুরি হওয়া কয়লার বড় অংশ বিক্রি হয়েছে শাকম্ভরী গ্রুপ অফ কোম্পানিজে।ইডির দাবি, এই মামলায় হাওয়ালা লেনদেনেরও যোগ মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির বক্তব্য, আইপ্যাকের মধ্যস্থতায় হাওয়ালার মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্তদের বয়ানে প্রতীক জৈনের নাম উঠে আসায় তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
দেশ

ঘণ্টাখানেকের বৈঠক পরেই মমতা কমিশনকে তোপ, ERO অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগে তৃণমূল কী বলল?

ঘণ্টাখানেকের বেশি বৈঠক শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন সদনের বাইরে এসে সেই বৈঠক বয়কট করেছেন। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মিথ্যাবাদী বলে আক্রমণ করেছেন। মমতার অভিযোগ, কমিশন তাদের কথা শোনেনি এবং তাঁদের অপমান করা হয়েছে।বৈঠকের পরে নির্বাচন কমিশনও মুখ খুলেছে। কমিশন জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল এসেছিল এবং পশ্চিমবঙ্গে SIR সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দিয়েছেন। কমিশন জানিয়েছে, কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেন, তাহলে সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কমিশনের অভিযোগ, তৃণমূলের কিছু বিধায়ক প্রকাশ্যে কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে হুমকিস্বরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। তৃণমূল কর্মী ও বিধায়করা ERO অফিসেও ভাঙচুর করেছেন। এছাড়া SIR কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের উপর কোনও চাপ বা হস্তক্ষেপ করা যাবে না বলে কমিশন স্পষ্ট করেছে।কমিশনের আরেকটি অভিযোগ, রাজ্য সরকার BLO-এর সাম্মানিকের টাকা আটকে রেখেছে। কমিশন বলেছে, এই টাকা সময়মতো দিতে হবে। রাজনীতিকরা বলছেন, মমতা যখন অভিযোগ করছেন যে তাঁদের অপমান করা হয়েছে, তখনই কমিশন পাল্টা তোপ দিচ্ছে। এই দ্বন্দ্ব কতদূর গড়াবে, তা এখন দেখার।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
দেশ

‘উনি জমিদার, আমরা চাকর নই’, কমিশন বৈঠকের পর ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নির্বাচন সদনে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি অভিযোগ করেন, বৈঠকে তাঁদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। সেই কারণেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন তাঁরা।এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদ্য মৃত তিন জন বিএলও-র পরিবার এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবারও। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে বৈঠক চলে। বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মমতা বলেন, বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছেন যে, বিজেপির চাপে তিনি কাজ করছেন। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার মিথ্যে কথা বলেছেন এবং জেনে বুঝে তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এমন ভঙ্গিতে কথা বলা হয়েছে যেন কমিশনার নিজেকে জমিদার ভাবছেন আর অন্যরা তাঁর অধীনস্থ কর্মচারী।তিনি আরও বলেন, বহু নির্বাচন কমিশনার দেখেছেন তিনি, কিন্তু এমন আচরণ আগে কখনও দেখেননি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বিজেপির তোতাপাখি বলেও কটাক্ষ করেন মমতা। সেই সঙ্গে সীমা খান্নার নাম তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি কমিশনের কেউ নন, বিজেপির আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, সীমা খান্নার নির্দেশেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।তবে এত অভিযোগের মধ্যেও মমতা স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনওভাবেই নির্বাচন বয়কট করবে না। তিনি বলেন, এই ভুল তাঁর দল কখনও করবে না। ভোটের লড়াই তাঁরা রাস্তায় নেমেই লড়বেন।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
দেশ

হ্যালি রোড বন্ধ, পুলিশে ঘেরা বঙ্গভবন! বেরিয়ে এসে শাহকে চ্যালেঞ্জ মমতার

রবিবার বিকেলে দিল্লিতে পৌঁছান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানী। হঠাৎ করেই দিল্লি পুলিশ ঘিরে ফেলে বঙ্গভবন। সেই পরিস্থিতিতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন মমতা। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুজনেই সোজা চলে যান বঙ্গভবনে।সোমবার সকাল থেকে বঙ্গভবনে এক নজিরবিহীন ছবি দেখা যায়। এসআইআর সংক্রান্ত অভিযোগে বাংলায় স্বজন হারানো একাধিক পরিবারের সদস্য তখন বঙ্গভবনে ছিলেন। সেই ভবনই অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশে ভরে যায়। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় হ্যালি রোড। এই অবস্থায় বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সকাল থেকে দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবন ঘিরে রেখেছে। ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, কে কে এসেছে তা খোঁজা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এভাবে তল্লাশি চালানোর অধিকার পুলিশের নেই। বঙ্গভবন তাঁদের নিজস্ব জায়গা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই ওই পরিবারগুলি দিল্লিতে এসেছে। অনুমতি পেলে তাঁরা প্রতিবাদ জানাবেন বলেও জানান তিনি।মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশন রয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে, অভিযোগ জানানোর সাংবিধানিক জায়গা রয়েছে। তারপরও যদি এভাবে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে তৃণমূলও চুপ করে থাকবে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।সেই সময়ই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন মমতা। তিনি বলেন, বাংলায় গেলে তাঁরা সম্মান দেখান, রেড কার্পেট পেতে দেন। কিন্তু দিল্লিতে যদি ব্ল্যাক কার্পেট দেখানো হয়, তাহলে তার ফলও ব্ল্যাক রেজাল্ট হবে। মমতা জানান, মঙ্গলবার বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠক হবে। সেখানে স্বজনহারানো পরিবারগুলি নিজেরাই বলবেন, বাংলায় তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছে।এরপর বঙ্গভবনে ঢুকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা সাধারণ মানুষ। তাঁরা কোনও বিক্ষোভ করতে আসেননি। শুধু বিচার চাইতেই এসেছেন। দুই-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দিল্লি ছেড়ে চলে যাবেন বলেও জানান মমতা। এত বছর দিল্লিতে থেকেও এমন পরিস্থিতি কখনও দেখেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।এরপর স্বজনহারানো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে বঙ্গভবনের ভিতরে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে হ্যালি রোডের পুরনো বঙ্গভবনের দিকে রওনা দেন তিনি।এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির তরফেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, বঙ্গভবন দিল্লিরই অংশ, তাই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ ঢুকতেই পারে। নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
দেশ

মমতার কমিশন যাত্রার আগেই দিল্লিতে উত্তেজনা! ঘিরে ফেলা হল বঙ্গভবন

সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগেই দিল্লিতে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। সোমবার সকাল থেকেই হঠাৎ রাস্তায় নামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায় বঙ্গভবনের সামনে। কার্যত ঘিরে ফেলা হয় বঙ্গভবন। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় হ্যালি রোড।কী কারণে এত কড়া নিরাপত্তা, দিল্লি পুলিশের কাছে ঠিক কী তথ্য রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে বঙ্গভবনে যে একাধিক পরিবার অপেক্ষা করছেন, সেই বিষয়টি ঘিরেই জল্পনা বাড়ছে। এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আগেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অভিযোগ নিয়েই তিনি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১৫ জন প্রতিনিধি।যাঁদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন। তাঁরা বর্তমানে বঙ্গভবনে রয়েছেন। এখানেই শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, মৃতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কী কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। শুধুই কমিশনের সঙ্গে বৈঠক, নাকি সন্তপ্ত পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে কমিশন ঘেরাও করার পরিকল্পনা রয়েছে? একশোর বেশি মানুষ যখন একত্রিত হয়েছেন, তখন শুধু বৈঠক সেরে ফিরে যাবেন কি না, তা নিয়েই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা।এই পরিস্থিতির মাঝেই কার্যত দুর্গের চেহারা নিয়েছে বঙ্গভবন। মনে করা হচ্ছে, সেখান থেকে কেউ বেরোতে গেলে পুলিশ বাধা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা শঙ্কর ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যখন নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন, তখন যেন এসআইআর শুনানি কেন্দ্রের অশান্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, দিল্লি পুলিশ ভয় পেয়েছে। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ভারত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সংবিধান রয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে। তাহলে আলাদা সরকার থাকা সত্ত্বেও দিল্লির সরকার কেন ভয় পাচ্ছে, সেই প্রশ্নই উঠছে।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
কলকাতা

দিল্লি যাওয়ার আগে বিস্ফোরক চিঠি মমতার! ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সোমবার বিকেলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠির মূল বিষয়, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া।চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। মমতার চিঠি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সমস্যায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক মাস আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে মৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০। নতুন চিঠিতে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে।মমতা আরও লিখেছেন, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮,১০০ জন মাইক্রো-অবজার্ভার মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই নিয়োগের কোনও আইনি ভিত্তি নেই। শুরু থেকেই বাংলায় নির্বাচনী রোল সংশোধনের ক্ষেত্রে ERO এবং AERO-দের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের একমাত্র আইনগত ক্ষমতা ERO এবং AERO-দের। অথচ সেই ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।চিঠিতে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, দেশের অন্য রাজ্যগুলিতে যেখানে SIR প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে কেন এই ধরনের মাইক্রো-অবজার্ভার মোতায়েন করা হয়নি। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই কেন আলাদা নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ত্রিপুরা ক্যাডারের চার জন আইএএস অফিসার-সহ একাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।মমতার অভিযোগ, কিছু পর্যবেক্ষক বেআইনিভাবে CEO অফিস থেকে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তথ্য বদলের চেষ্টা করছেন। এর ফলে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে এবং তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। চিঠিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই বিষয়গুলির তাৎক্ষণিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।একই আইন সারা দেশে প্রযোজ্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে আলাদা নিয়মে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার দাবি, এই প্রক্রিয়া গণতন্ত্র এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মানুষের আস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

ভবানীপুরে গোপন বৈঠক মমতার, এসআইআর নিয়ে কড়া নির্দেশ বিএলএদের

এক মাসের ব্যবধানে ফের দলীয় বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আগের বারের মতো রাজ্যের সমস্ত বিএলএ নয়, এ বার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের কাউন্সিলর ও বুথ লেভেল এজেন্টদের নিয়েই রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন তিনি। শুক্রবারের এই বৈঠকে মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া।দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত কাউন্সিলর ও বিএলএদের কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যেসব ভোটারকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যুক্তিগত অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, শুধুমাত্র তাঁদেরই বিস্তারিত তালিকা দিতে হবে। মমতা স্পষ্ট করে জানান, সামান্য ভুল বা তথ্যগত ত্রুটির জন্য যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বা যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট ভোটারদের নাম-ঠিকানা ও নথি বিএলএদের হাতে থাকতে হবে।উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে এসআইআর সংক্রান্ত প্রায় সব নোটিসেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি শব্দবন্ধ ব্যবহার করছে। এই শব্দের আড়ালে যাতে অকারণে ভোটারদের নাম বাদ না পড়ে, সে বিষয়েই বিএলএদের সতর্ক থাকতে বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।রাজনৈতিক ভাবে ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই বিপুল লিডে জয় পান তিনি। বিশেষ করে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ওয়ার্ডের লিডই আবার তাঁকে ক্ষমতার শীর্ষে ফিরতে সাহায্য করেছিল।নতুন করে ভোটের আবহে বাংলার রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এসআইআর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই দাবি করেছিলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ হলে ভবানীপুরে আর তৃণমূল এত বড় লিড পাবে না। এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই শুভেন্দু মন্তব্য করেছিলেন, ভবানীপুর কখনওই তৃণমূলের নিরাপদ আসন নয়। তাঁর দাবি ছিল, ভবানীপুরে সংখ্যালঘু ভোটার মাত্র ২০ শতাংশ এবং চেতলার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই প্রায় ১৭ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এ বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের নাম বাদ গেলে সেই লিড আর থাকবে না বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।এসআইআর প্রক্রিয়া যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই ভবানীপুরের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইচ্ছাকৃত ভাবে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এর পিছনে কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাউন্সিলর ও বিএলএদের স্পষ্ট ভাবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও রকম গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
রাজ্য

সিঙ্গুর থেকে কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ, ‘আমাকে আঘাত করলে টর্নেডো হয়ে যাই’

প্রধানমন্ত্রীর সভার ঠিক দশ দিনের মাথায় সিঙ্গুরে জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চার বছর পরে আবার সিঙ্গুরের মাটিতে পা রাখলেন তিনি। সভার শুরুতেই আবেগঘন ভাষণে মমতা বলেন, সিঙ্গুর তাঁর খুব প্রিয় জায়গা। দিনের পর দিন এই মাটিতে পড়ে থেকেছেন তিনি। এই মাটিই তাঁর লড়াইয়ের সাক্ষী। সিঙ্গুরে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন বলেও স্মরণ করান মুখ্যমন্ত্রী।সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী SIR নিয়ে লেখা নিজের কবিতা পাঠ করে শোনান। তিনি জানান, হেলিকপ্টারে আসার সময়ই ওই কবিতা লিখেছেন। মমতা বলেন, এসআইআর-এর নামে মানুষকে ভয় দেখানো ও মারার চক্রান্ত চলছে। তিন দিনে তিনি ২৬টি কবিতা লিখেছেন, যার সংকলনের নাম স্যর বাংলায়। ইংরেজিতে যার নাম SIR।সভা থেকে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট ১,৬৯৪টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। এই সব প্রকল্পে মোট খরচ হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আগে এক কোটি পরিবারকে সাহায্য করা হয়েছে। সম্প্রতি আরও ১২ লক্ষ পরিবারকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং এ দিন আরও ২০ লক্ষ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছবে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ মাত্র দুমাসে ৩২ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পে কেন্দ্র এক টাকাও দেয় না।দুর্যোগে যাঁদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার ঘর তৈরি করে দিয়েছে বলেও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে মোট ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে তিনি জানান। ঘাটাল প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডিভিসির জলের জন্য বারবার বন্যায় ভেসেছে এলাকা। তিনি টানা ১০ বছর কেন্দ্রকে চিঠি লিখলেও কোনও উত্তর মেলেনি। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য সরকারই দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং ৩০০ কোটি টাকার কাজ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।মমতা বলেন, তাঁর সরকার ডাবল ইঞ্জিন সরকার নয়, মানুষের সরকার। যতদিন তাঁর সরকার থাকবে, কন্যাশ্রী-সহ সমস্ত সামাজিক প্রকল্প চলবে। সিঙ্গুরে ৮ একর জমির উপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। ২৮টি প্লটের মধ্যে ২৫টি ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কৃষিজমি দখল না করে কৃষি ও শিল্প পাশাপাশি চলবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।এ ছাড়া সিঙ্গুরে ৭৭ একর জমিতে একটি বেসরকারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সেখানে অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের বড় ওয়্যারহাউস তৈরি হবে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মমতা বলেন, মহাত্মা গান্ধীর নাম তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার তাই মহাত্মাশ্রী কর্মশ্রী প্রকল্প চালু করেছে। বাংলায় ১০০ দিনের কাজ চলছে এবং রাজ্যের টাকাতেই চলবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।ভাষা প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র মিথ্যা কথা বলছে। বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়েই সব ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি দিল্লিতে প্রমাণ-সহ পাঁচ বস্তা বই পাঠিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রকে বাধ্য হয়েই বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। সভার শেষে বলেন, তাঁকে আঘাত করলে তিনি প্রত্যাঘাত করেন এবং তখন তিনি টর্নেডোর মতো হয়ে ওঠেন।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
কলকাতা

গোডাউন আগুনে ছাই শ্রমিকদের জীবন, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এ বার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সিঙ্গুরের এক সভা থেকে তিনি মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য সরকার।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রবিবার রাতে প্রাইভেট সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই তিনি মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠান। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোমো সংস্থা ও ডেকোরেটর সংস্থা আলাদা করে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে। এ ছাড়াও মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।এদিকে, আনন্দপুরের দগ্ধ গোডাউন থেকে উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত তিনটি পোড়া কঙ্কাল-সহ মোট ১৬টি দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের খাতায় নিখোঁজের সংখ্যা এখনও ২৩ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলির পরিচয় জানতে ছাই থেকে ডিএনএ পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।এই ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে। অভিযোগ, ওই গোডাউনে কোনও রকম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। রবিবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ আগুন লাগে। ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু পৌঁছন প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে। ওই গোডাউন ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। জলাশয় বুজিয়ে কীভাবে গোডাউন তৈরি হল, কেন সেখানে ফায়ার অডিট হয়নি, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষতিপূরণ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, আনন্দপুরের ঘটনায় মৃত্যু নয়, খুন হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গরিব মানুষের জীবনের মূল্য ৫ লক্ষ বা ১০ লক্ষ টাকায় মাপা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ক্ষতিপূরণ নয়, দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। কীভাবে এত বড় বেআইনি কারবার চলছিল এবং কার অনুমতিতে, তার জবাব চেয়েছেন তিনি। অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবিও তুলেছেন অধীর চৌধুরী। অন্য দিকে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার দায় নিয়ে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
কলকাতা

অজিত পওয়ারের মৃত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা, না কি নেপথ্যে ষড়যন্ত্র? সুপ্রিম কোর্টে তদন্ত চান মমতা

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা দেশ জুড়ে শোকের আবহ। বুধবার সকালে বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর মধ্যেই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে করার দাবি তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বুধবার সিঙ্গুরে যাওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অজিত পওয়ারের মৃত্যুসংবাদে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। তাঁর কথায়, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা দেশের জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়। তিনি গোটা ঘটনার নিরাপত্তা দিক ও নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সমাজমাধ্যমে তিনি এমন কিছু মন্তব্য দেখেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল অজিত পওয়ার বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেন। সেই প্রেক্ষিতে এই দুর্ঘটনা নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দুর্ঘটনার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বলেন, অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার উপর তাঁর আস্থা নেই। তাঁর বক্তব্য, বহু সংস্থা টাকার কাছে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের উপরেই তাঁর ভরসা বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।প্রসঙ্গত, প্রায় তিন বছর আগে শরদ পওয়ারের সঙ্গে মতভেদে এনসিপি থেকে আলাদা হয়ে নিজের দল গড়েন অজিত পওয়ার। আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে এনসিপির ঘড়ি প্রতীকও তাঁর দখলে আসে। গত লোকসভা নির্বাচনে শরদ পওয়ারের শিবির এগিয়ে থাকলেও, বিধানসভা নির্বাচনে অজিত পওয়ারের গোষ্ঠী বড় সাফল্য পায়। এরপর থেকেই দুই এনসিপির ফের এক হওয়ার জল্পনা শুরু হয়।কয়েক মাস আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অজিত পওয়ার মুচকি হেসে বলেছিলেন, আপনার মুখে ঘি-শক্কর। সেই মন্তব্যের পর দুই শিবিরের মিলনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়। এমনকী শরদ পওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে ও অজিত পওয়ারের মধ্যে দল সংযুক্তিকরণ নিয়ে আলোচনা চলছিল বলেও শোনা যায়। একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাজুটি জোটের সঙ্গে অজিত পওয়ারের দূরত্ব বাড়ছে বলেও জল্পনা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে অজিত পওয়ারের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
রাজ্য

৩০ শতাংশের ইঙ্গিত করে সতর্কতা! কাদের উদ্দেশে বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

ভোটের আগে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে সরাসরি সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের পরে প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলায় কেউ কেউ ইচ্ছে করেই গোলমাল পাকাতে চাইছে। সেই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বাস করেন। যদি কোনও একটি বড় অংশ রাস্তায় নেমে ঝগড়া শুরু করে, তা হলে প্রতিদিন অবরোধ, বিক্ষোভ হবে। তাঁর কথায়, এতে প্রশাসনের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তফশিলি জাতি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের কথাও মাথায় রাখতে হবে। আদিবাসীদের ওপর সামান্য কিছু ঘটলেও ট্রেন অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু তিনি চান না এমন কিছু হোক। তাঁর ইচ্ছা, সবাই নিজের মতো শান্তিতে থাকুক, কেউ কারও বিষয়ে নাক না গলাক।ভোটের সময় কিছু মানুষ ইচ্ছে করে অশান্তি ছড়াতে চায় বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোট আসে আর যায়, কিন্তু তাঁকে তো সারা বছর রাজ্য চালাতে হয়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিতে থাকার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কারও প্ররোচনায় পা না দিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ৩০ শতাংশের কথা বললেও, কোনও সম্প্রদায়ের নাম নেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, তিনি সংখ্যালঘুদের কথাই ইঙ্গিতে বলেছেন। কারণ বাংলায় সংখ্যালঘু ভোটারদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টিতে সংখ্যালঘু ভোট বড় ভূমিকা নেয়। এই ১৪৬টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে ১৩১টি, বিজেপির ১৪টি এবং আইএসএফের একটি আসন। আবার ৭৪টি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটের হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে, আর ৭২টি বিধানসভায় তা ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ।এর মধ্যেই রাজ্য বিজেপিতে নেতৃত্ব বদলের পর সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজেপি সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, তিনি কখনও বলেননি যে মুসলিম ভোট চান না। তিনি শুধু বলেছেন যে তিনি সংখ্যালঘুদের ভোট পান না। তাঁর দাবি, অপরাধীর কোনও জাত বা ধর্ম হয় না, আর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাঁকে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সিপিএম। দলের নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, যদি পুলিশ-প্রশাসন তৃণমূলকে দেখলে ভয় পায়, তাহলে অশান্তি কে আটকাবে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও তৃণমূলদুপক্ষই ধর্ম ও জাতের রাজনীতি করছে, আর তার ফলেই রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে বিস্ফোরক বার্তা, মমতাকে জাতীয় নেতৃত্বের ডাক

রাজনীতিতে সম্পর্ক ও অবস্থান যে সময়ের সঙ্গে বদলায়, তা আবারও স্পষ্ট হল শুক্রবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে। এক সময় যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন, সেই চন্দ্র বসুকেই এ দিন দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে। শুধু তাই নয়, নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্র বসু প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের নেত্রী হিসেবে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানালেন।রেড রোডে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চন্দ্র বসু বলেন, তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই না থেকে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিন। তাঁর কথায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শই একমাত্র দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন চন্দ্র বসু।এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভোটের সময় সামনে এলে এ রকম অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। তাঁর মতে, কিছু নেতার অবস্থান ও গতিবিধি লক্ষ্য করলেই সব বোঝা যায়।এ দিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজির অবদান স্মরণ করে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আজ নেতাজি বেঁচে থাকলে তাকেও কি শুনানিতে ডাকা হত? পাশাপাশি নেতাজির জন্মদিনকে এখনও কেন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজও নেতাজির জন্মদিন জাতীয় ছুটির তালিকায় নেই। একই সঙ্গে নেতাজির মৃত্যুদিন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।নেতাজির ঐতিহাসিক আহ্বান তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব প্রসঙ্গে মমতা বলেন, তিনি কারও কাছে রক্ত চাইছেন না। তাঁর আবেদন, মানুষ যেন নিজেদের প্রাণ বাঁচায়। ছাত্রছাত্রী, খেলোয়াড় ও শিল্পীদের এগিয়ে আসার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোই আজ সবচেয়ে জরুরি।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
দেশ

নথি নেওয়ার অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে মামলা, কেন এই রায় জরুরি জানাল সুপ্রিম কোর্ট

এই মামলায় মূল অভিযোগ একটাই। ইডি যখন তল্লাশি চালাচ্ছিল, সেই সময় সেখানে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতির মতো গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দেশের সব তদন্তকারী সংস্থা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আড়ালে অপরাধীরা যেন রক্ষা না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। শীর্ষ আদালতের মতে, এই বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং একাধিক রাজ্যে আইন ভাঙার মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, ইডি দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করেছিল। সেই প্রসঙ্গে আদালত জানায়, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থারই রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্ত চললে রাজনৈতিক কাজের অজুহাতে তদন্তে বাধা দেওয়া চলবে না।এই মামলায় সব পক্ষকে আগামী দুসপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। নোটিসও জারি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে তল্লাশি হয়েছিল এবং সংলগ্ন এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও স্টোরেজ ডিভাইসও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।উল্লেখ্য, আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এই মামলার শুরু। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে ও পরে মিলিয়ে সারাদিন ধরে চলে দীর্ঘ শুনানি। শুনানি শেষে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, এই মামলায় রায় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশের সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
দেশ

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে ‘চুরি-ডাকাতি’র তুলনা ইডির

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। একটি পিটিশন দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিজে। অন্যটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই রাজ্য সরকারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি দক্ষিণ প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।ইডির দায়ের করা পিটিশনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডি অভিযানের সময় অযাচিত প্রবেশ এবং একটি ফাইল নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, ইডির কাজে যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।এই মামলায় নিজেদের যুক্তি জোরদার করতে ইডি অতীতের তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।পিটিশনে প্রথম যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তা ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির। সারদা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁদের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৭ মে-র। নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআইয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি ইডির।এতেই শেষ নয়। কলকাতা হাইকোর্টে একটি শুনানি ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বার্তা পাঠিয়ে জমায়েত করেছিলেন।এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে কোনও তথ্য যেন ডিলিট বা ক্লোন না করা হয়, সেই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা পাচার তদন্তে যুক্ত কোনও কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেন কলকাতা বা বাংলার কোনও থানায় এফআইআর গ্রহণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। শেক্সপিয়ার সরণী থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়েছে। সবশেষে আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

বাংলা ছবির প্রাইম টাইম রক্ষায় গড়া কমিটি কি অস্তিত্ব সঙ্কটে? টলিউডে বাড়ছে ফাটল, প্রশ্নের মুখে ‘স্ক্রিনিং কমিটি’

২০২৫ সালের ১৫ অগস্টস্বাধীনতা দিবসে বড়পর্দার দখল নিতে মুখোমুখি হয়েছিল একাধিক মেগা বাজেটের হিন্দি ছবি। সেই তালিকায় ছিল দিল্লি ফাইলস, ওয়ার ২, কুলির মতো বহুল প্রতীক্ষিত প্রজেক্ট। ঠিক সেই সময়েই মুক্তির অপেক্ষায় ছিল বাংলা ছবি ধূমকেতুযে ছবি ঘিরে বাঙালির প্রতীক্ষা প্রায় এক দশকের।এই পরিস্থিতিতে বাংলা ছবিকে প্রাইম টাইম ও প্রাইম ডেটে জায়গা করে দিতে একজোট হয়েছিল টলিউড। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালনায় দেব-শুভশ্রীর প্রত্যাবর্তনের ছবি যাতে হিন্দি ছবির দাপটে কোণঠাসা না হয়ে পড়ে, সে জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত মোহতা, নিসপাল সিংহ রানে, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বরূপ বিশ্বাস-সহ টলিউডের প্রথম সারির প্রযোজক, পরিবেশক ও হলমালিকেরা।তখনই উঠে এসেছিল দীর্ঘদিনের অভিযোগবড় বাজেটের হিন্দি ছবি মানেই বাংলার প্রেক্ষাগৃহে প্রাইম টাইম দখল, আর বাংলা ছবি নিজের রাজ্যেই হয়ে উঠছে নিজভূমে পরবাসী।এই আবহে টলিউডের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে স্বাক্ষর-সংবলিত চিঠি পৌঁছয়। তারই ভিত্তিতে গঠিত হয় একটি স্ক্রিনিং কমিটি। মন্ত্রী স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে তৈরি এই কমিটির সভাপতি করা হয় পিয়া সেনগুপ্তকে। উদ্দেশ্য ছিলবাংলা ছবিকে প্রাইম টাইমে প্রাধান্য দেওয়া, উৎসবের দিনে বাংলা ছবির মুক্তির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা।কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই সেই কমিটির ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।টলিউডের অন্দরে গুঞ্জন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গড়া ওই স্ক্রিনিং কমিটি নিয়েই তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। এমনকি কমিটি বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধও নাকি পৌঁছেছে নবান্নে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী সেই অনুরোধে সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দেবের অবস্থান। বছরের শেষে কমিটির আস্থা ভোটে তিনি নিরপেক্ষ ছিলেনএ কথা নিজেই জানিয়েছেন। আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেব বলেন, আমি নোটায় ভোট দিয়েছি। কিছু বিষয়ে সহমত, কিছু বিষয়ে নয়। কমিটি হওয়ার পর থেকে দেখছি ঝগড়াই বেশি হচ্ছে। আগে এতটা হত না।দেবের বক্তব্যে স্পষ্ট হতাশা। তাঁর কথায়, কমিটি তৈরির আগে সমস্যা ছিল, কিন্তু তা মিটেও যেত। এখন সেটা হচ্ছে না। কোথাও একটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ লাগছে, কেউ সরাসরি কথা বলছে না, অথচ কথা ছড়াচ্ছে।তবে একই সঙ্গে আশ্বাসও দিয়েছেন তিনিনতুন কমিটি মানেই মানিয়ে নিতে সময় লাগে, এই অস্থিরতা কেটে যাবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।কিন্তু টলিউডের অন্দরমহলের খবর বলছে, সমস্যার গভীরতা আরও বেশি। স্ক্রিনিং কমিটির কাছে শুধু প্রাইম টাইম বা মুক্তির সংখ্যা নিয়েই নয়, আরও গুরুতর অভিযোগ পৌঁছেছে। বাংলা ছবির ভুয়ো বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কুৎসিত আক্রমণ, প্রযুক্তির সাহায্যে অন্য ছবির রেটিং কমিয়ে নিজের ছবির রেটিং বাড়ানোর মতো অভিযোগও উঠেছে।খবর, বছরের শুরুতেই এই সমস্ত অভিযোগ লিখিত আকারে লালবাজারে জমা দিয়েছেন টলিউডের একাধিক খ্যাতনামী ব্যক্তি। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে। অভিযোগের তির যদিও নাম না করে, তবে এক প্রভাবশালী তারকা অভিনেতা-প্রযোজকের দিকেই বলে গুঞ্জন।এই সব মিলিয়েই প্রশ্ন উঠছেবাংলা ছবির স্বার্থরক্ষার জন্য যে স্ক্রিনিং কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেই কমিটিই কি এখন টলিউডের বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে? আর সেই কারণেই কি একদা ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা এই কমিটির ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নচিহ্নের মুখে?উত্তর এখনও অজানা। তবে স্পষ্টবাংলা ছবির লড়াই এখন শুধু বাইরের দাপটের বিরুদ্ধে নয়, ভিতরের সমন্বয়ের পরীক্ষাতেও।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
রাজ্য

আইপ্যাকের মাধ্যমে গোয়ায় খরচ কোটি কোটি টাকা! মেদিনীপুর থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

মেদিনীপুরে বিজেপির সংকল্প যাত্রা থেকে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়ে একটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েই সরব হন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আইপ্যাকের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা গোয়ার নির্বাচনে খরচ করা হয়েছে।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অথচ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, খসড়া তালিকার পরে আর তৃণমূলের সঙ্গে কোনও পার্থক্য নেই। এই নির্বাচন বাংলাকে বাঁচানোর নির্বাচন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সভা থেকে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, রাজ্যে আদিবাসীদের উপর নানা ভাবে অত্যাচার চলছে। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১৯ হাজার স্কুল বন্ধ করেছেন এবং ৬,৮৮৮টি শিল্প রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, শেষ এসএসসি নিয়োগ হয়েছিল ২০১৫ সালে এবং ৫১টি কর্মসংস্থান কেন্দ্রে তালা ঝুলছে।কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী একশো দিনের কাজে ৫৪ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ তা পাননি। একই ভাবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৩০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ৪০ লক্ষ বাড়ি তৈরির কথা বলা হলেও সেই টাকা কোথায় গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু।২০২২ সালের কয়লা কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ওই দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা আইপ্যাকের মাধ্যমে গোয়ার নির্বাচনে খরচ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইডির কাজে বাধা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন যে তাঁর আর এক মুহূর্তও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে থাকা উচিত নয়। শুভেন্দু বলেন, আইপ্যাক একটি কর্পোরেট সংস্থা, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে কয়লা কেলেঙ্কারির টাকা তৃণমূলের তহবিলে ঢুকেছে এবং হাওয়ালার মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে।সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হওয়ার সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ ছিল। তখন পরিবর্তনের জন্য বিজেপির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, তখন তিনি দিদি ছিলেন, এখন পিসি হয়ে গিয়েছেন।আগামী দিনে সনাতনী ও আদিবাসীদের একজোট হয়ে তৃণমূলকে সরানোর ডাক দেন শুভেন্দু। ইডি হাইকোর্টে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলা এখন অ্যাকশন দেখতে চায়। চোরদের নির্মূল করতে হবে। আইপ্যাক ও ইডি সংক্রান্ত ঘটনায় বিজেপি এক ইঞ্চিও ছাড়বে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শেষমেশ নন্দীগ্রাম ও নেতাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই আন্দোলন না হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 19
  • 20
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল আরজি করের ঘটনা! বিস্ফোরক বার্তা দিলেন মোদি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিগেডে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে মহিলারা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন। তিনি জানান, তৃণমূলের গুন্ডারাজ আর থাকবে না, কেউ দমন করতে পারবে না। মোদির দাবি, বর্তমানে রাজ্যে সন্ত্রাসবাদ ও অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মায়েরা কাঁদছে, বাঙালিরা নিজেদের জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। মোদী বলেন, বাংলার রুটি, মাটি, বেটি বিপন্ন, জনবিন্যাস পরিবর্তিত হয়েছে এবং হিন্দু বাঙালিদের সংখ্যালঘু করার চেষ্টা হচ্ছে।মোদী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের প্রকল্প রাজ্যে পৌঁছতে দিচ্ছে না তৃণমূল সরকার। বিশ্বকর্মা প্রকল্প থেকে টাকা দেওয়া সত্ত্বেও মানুষের কাছে তা পৌঁছায় না। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রকল্পও আটকানো হয়েছে। চা শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পিএম আবাস যোজনার নাম বদলানো হয়েছে, তালিকা বদল করা হয়েছে, গরিবদের বাড়ি দেওয়া হয়নি। জলজীবন মিশন এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পও চালু হতে দিচ্ছে না। মোদীর দাবি, বাংলার গরিবরা এ সব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কৃষকদের পরিস্থিতিও শোচনীয়। একজন আলু চাষি আত্মহত্যা করেছেন। তৃণমূলের নোংরা রাজনীতি মা-বোনেদের সম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মোদী স্মরণ করান, বাংলার মানুষ আগে একসময় বাম গুন্ডাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই বাম দলের কিছু নেতাকে তৃণমূল আশ্রয় দিচ্ছে। রাজ্যে অপরাধীরা নিরাপদ, কলেজে ও আদিবাসী মহিলাদের উপর হামলা হচ্ছে, এবং মানুষ এখনো সন্দেশখালি, আরজিকরের মতো ঘটনা মনে রাখে।মোদী স্পষ্ট জানান, বিজেপি সরকার এলে এসব অন্যায়ের অবসান হবে। আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে, অপরাধীদের জেল ভাড়া হবে, এবং গরিব ও সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
কলকাতা

পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি! বাংলার জন্য আঠারো হাজার আটশো ষাট কোটির প্রকল্প ঘোষণা

ভোটের আবহে কলকাতায় এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রায় পাঁচ বছর পর আবার ব্রিগেড ময়দানে তাঁর জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সভার মঞ্চে রাখা হয়েছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে সাজানো হয়েছে পুরো মঞ্চ।সভা শুরু হওয়ার আগে ব্রিগেডের সরকারি অনুষ্ঠান থেকে বাংলার জন্য প্রায় আঠারো হাজার আটশো ষাট কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সব প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন দিশা খুলবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ কলকাতার মাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতের উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। তাঁর কথায়, সড়ক, রেল এবং বন্দর পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত আঠারো হাজার কোটিরও বেশি টাকার প্রকল্পের সূচনা হয়েছে।তিনি জানান, এই সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলার উন্নয়নে নতুন গতি আসবে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন আরও সহজ ও উন্নত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, খড়গপুর থেকে মৌরিগ্রাম পর্যন্ত দ্রুতগতির সড়ক প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের বহু এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। এছাড়াও দুবরাজপুর বাইপাস এবং কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর উপর নতুন সেতু তৈরি হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।এই অনুষ্ঠানে ছয়টি রেলস্টেশনকে আধুনিকীকরণের প্রকল্পেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, কামাখ্যাগুড়ি, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বীরভূম এবং সিউড়ি এই ছয়টি স্টেশনকে নতুনভাবে উন্নত করা হচ্ছে।এছাড়াও তিনি জানান, হলদিয়া বন্দর এবং কলকাতা বন্দরের সংস্কার কাজও শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের ফলে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুরো পূর্ব ভারতের উন্নয়নেও বড় প্রভাব পড়বে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
কলকাতা

গিরিশপার্কে রণক্ষেত্র! ইটের আঘাত মন্ত্রীর পেটে, বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

কলকাতার গিরিশপার্ক এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়েছিল। সেই ইটের আঘাত তাঁর পেটে লেগেছে বলে তিনি জানান। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সেই আঘাতের দাগও দেখান। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে আনা হয়েছে এবং তারাই এই হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।শনিবার দুপুরে ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা রয়েছে। সেই সভায় যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা ব্রিগেডের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎ গিরিশপার্ক এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনের এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের কর্মী সমর্থকেরা বাসে করে ব্রিগেডে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাসে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষ সহ একাধিক কর্মী আহত হন। আহত হন বৌবাজার থানার ওসিও।অন্যদিকে মন্ত্রী শশী পাঁজার দাবি, বিজেপি কর্মীরাই প্রথম হামলা চালায়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উপর আক্রমণ করা হয় এবং মারধর করা হয়। মন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিজেপি আশ্রিত বহিরাগত দুষ্কৃতীরা বাসভর্তি ইট, বোতল এবং বিস্ফোরক নিয়ে যাচ্ছিল। তাঁর কথায়, তারাই তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে।শশী পাঁজা বলেন, তাঁর বাড়ি রাস্তার ধারে হওয়ায় দুষ্কৃতীরা সরাসরি সেখানে আক্রমণ চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, ইট, বোতল ও লাঠি নিয়ে তৃণমূল সমর্থকদের উপর হামলা করা হয় এবং তাকেও আঘাত করা হয়। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় তাঁর দলের একাধিক কর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ও নার্সিংহোমে ভর্তি করতে হয়েছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুষ্কৃতীরা পুলিশের উপরও হামলা চালায় এবং মহিলা পুলিশকর্মী ও এলাকার কাউন্সিলরের উপরও আক্রমণ করা হয়। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেকেই বাংলার বাসিন্দা নয়, বাইরে থেকে আনা হয়েছে।মন্ত্রী আরও বলেন, বিজেপির বয়কট সংক্রান্ত একটি ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে প্রথমে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় এবং ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। তাঁর কথায়, সেই সময় পুরো এলাকা যেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, একটি বড় ইট তাঁর পেটে লাগে এবং তখন তাঁকে দ্রুত ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

মার্চ ১৪, ২০২৬
রাজ্য

ব্রিগেডে যাওয়ার পথে বিজেপি সমর্থকদের বাসে হামলা! ভোরে বেলদায় ভাঙচুর, উত্তেজনা চরমে

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সভার আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় বিজেপি সমর্থকদের একটি বাসে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দুষ্কৃতীরা বাসটি ঘিরে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে বেলদা থানার পাতলি এলাকায়।জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর প্রায় পাঁচটা ত্রিশ মিনিট নাগাদ বাসটি আহার মুণ্ডা এলাকার দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী বাসটি থামিয়ে চালকের কাছে জানতে চায় বাসটি কোথায় যাচ্ছে। চালক জানান, তাঁরা ব্রিগেডে হওয়া সভায় যোগ দিতে যাচ্ছেন।অভিযোগ, এই কথা শুনেই কয়েকটি মোটরবাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা বাসটিকে ঘিরে ধরে। এরপর লাঠি নিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে বাসের কাচ ভেঙে ফেলা হয়। সেই সময় বাসের চালক এবং খালাসিও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাঙচুর চালিয়ে দুষ্কৃতীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।কিছু সময় বাসটি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকার পর পরে সেটিকে ঘুরিয়ে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ব্রিগেডের সভায় সমর্থকদের যাওয়া আটকাতেই শাসকদল ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে।অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। নারায়ণগড় ব্লকের তৃণমূল সভাপতি জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিশ তদন্ত করলেই সত্য সামনে আসবে। তাঁর দাবি, বিজেপি নিজেরাই এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে প্রচার পাওয়ার চেষ্টা করছে।তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বেলদা থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানা গিয়েছে।এদিকে শনিবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় জনসভা হওয়ার কথা। সেই সভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্রিগেডের মঞ্চ সাজানো হয়েছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে। এই বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, শনিবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে রেসকোর্সের হেলিপ্যাডে নামবেন। তারপর সেখান থেকে ব্রিগেড ময়দানে যাবেন।দুপুরের দিকে ব্রিগেডে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। মঞ্চে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের চা বাগান থেকে বাঁকুড়ার টেরাকোটা শিল্পের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে মঞ্চ।

মার্চ ১৪, ২০২৬
দেশ

যুদ্ধের মাঝেও ভারতের পাশে ইরান! হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাংকার যাওয়ার অনুমতি

ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। ইতিমধ্যেই গ্যাসের দাম বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। তেলের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় তেলের জোগান কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য স্বস্তির খবর এল ইরানের দিক থেকে। জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে দুটি পেট্রোলিয়াম পণ্যবাহী ট্যাংকারকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।গত প্রায় পনেরো দিন ধরে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত চলছে। এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়।ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আগেই আশার কথা শোনান। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, খুব শিগগিরই ইতিবাচক খবর আসতে পারে। তাঁর কথার কিছু সময় পরেই দুটি পেট্রোলিয়াম পণ্যবাহী ট্যাংকারকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে যেতে পারবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, অবশ্যই পারবে। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তার প্রমাণ মিলবে।রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি জানান, অনেক কঠিন সময়ে ভারত ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত নানা ক্ষেত্রে ইরানকে সাহায্য করেছে বলে তিনি স্মরণ করেন। সেই সম্পর্কের গুরুত্ব থেকেই ভারতের পণ্যবাহী ট্যাংকারকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
কলকাতা

ব্রিগেডে মোদীর সভা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা! তিন হাজার রক্ষী, আকাশে উড়বে না কিছুই

বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার ব্রিগেড ময়দানে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে জাতীয় সড়ক উদ্বোধনের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এই সভাকে ঘিরে বিজেপি শিবিরে তুঙ্গে প্রস্তুতি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলের আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ উড়ান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আকাশে কোনও ড্রোন উড়তে দেওয়া হবে না। তবে আশপাশের বহুতল ভবন থেকে দূরবীন নিয়ে নজরদারি চালাবে পুলিশ।সভাস্থলে প্রায় তিন হাজার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হচ্ছে। গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন উপকূল নিরাপত্তা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার আধিকারিক। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রিগেড ময়দানে গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন বিজেপির একাধিক নেতা।শনিবার সকাল থেকেই ব্রিগেড এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। গোটা এলাকাকে একাধিক সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন উপ পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকরা।চার থেকে পাঁচটি সেক্টর মিলিয়ে একজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনাররাও দায়িত্ব পালন করবেন।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে যে মিছিল ব্রিগেডের দিকে আসবে, সেই সব রাস্তায় প্রায় পঞ্চাশটি পিকেট বসানো হয়েছে।শিয়ালদহ, হাওড়া, শ্যামবাজার এবং দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল ব্রিগেডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেই সব রাস্তায় বসানো হয়েছে পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা। ব্রিগেডের মঞ্চ এবং আশপাশের এলাকাতেও ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালাবে পুলিশ।উড়ান নিষিদ্ধ এলাকা হওয়ায় আকাশে কোনও ড্রোন ব্যবহার করা হবে না। তবে আশপাশের বহুতল ভবন থেকে দূরবীন নিয়ে পুলিশ নজরদারি চালাবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
রাজ্য

‘১৪ মার্চ ভুলিনি’—নন্দীগ্রামে শহিদ বেদিতে শুভেন্দু, একই দিনে শ্রদ্ধা মমতারও

ভোটের আবহে আবারও আলোচনায় উঠে এল নন্দীগ্রাম। দুই হাজার সাত সালের চৌদ্দ মার্চের ঘটনাকে স্মরণ করে শনিবার নন্দীগ্রামে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে একই দিনে নন্দীগ্রাম দিবস উপলক্ষে শহিদদের স্মরণ করে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।শনিবার সকালেই নন্দীগ্রামের মালোপাড়ায় শহিদ বেদিতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতারা এবং বিজেপির একাধিক পদাধিকারী। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দুই হাজার সাত সালের চৌদ্দ মার্চের সেই দিনটি ভোলা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, জমি ও বাড়ি রক্ষার জন্য নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের যে লড়াই ছিল, সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতি আজও মানুষের মনে রয়েছে।অন্যদিকে নন্দীগ্রাম দিবস উপলক্ষে সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, নন্দীগ্রাম দিবসে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর ও নেতাই সহ সমস্ত শহিদদের প্রতি তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাচ্ছেন।প্রতি নির্বাচনের আগেই নন্দীগ্রামের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আসন্ন নির্বাচনের আগে আবারও নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে।সূত্রের খবর, পরে অধিকারী পাড়ার শহিদ বেদিতেও শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার কথা রয়েছে শাসকদলের নেতাদের। সেখানে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী এবং ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে যুক্ত নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীরা প্রথমে অধিকারী পাড়ায় কর্মসূচি পালন করছেন। তারপর সোনাচূড়া শহিদ মিনারে গিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে তাঁদের।অন্যদিকে বেলা এগারোটার দিকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকেও আলাদা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ভাঙাবেড়া এলাকায় শহিদদের স্মরণ করা হবে। এরপর অধিকারী পাড়া এবং মালোপাড়ায় কর্মসূচি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
কলকাতা

ব্রিগেড মঞ্চে বড় চমক? বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন পরিচিত চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ভোটের মুখে বাংলার রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, পরিচিত চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার মঞ্চেই তিনি পদ্ম শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত ঘোষণা হয়নি। নিজেও এই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি ওই চিকিৎসক।জানা গিয়েছে, ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ডাক পেয়েছেন নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং সভায় যাবেন বলেই ভাবছেন। তবে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কি না, সেই বিষয়ে সরাসরি উত্তর দিতে চাননি তিনি।এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক বলেন, তিনি সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনও সভায় আমন্ত্রিত হয়ে যাওয়া মানেই যে সেই দলে যোগ দেওয়া, এমনটা নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। আর জি কর হাসপাতালের এক তরুণী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।সেই সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের একাধিক মিছিল এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল। রাতভর আন্দোলন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন।শুধু তাই নয়, সেই সময় তিনি আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন।তবে পরে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।এরপর চিকিৎসকদের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও চিকিৎসক সংগঠনের প্রতিনিধি কি না, তা তারা জানে না। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কারও সঙ্গে দেখা করতেই পারেন, কিন্তু চিকিৎসকদের সম্মিলিত আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলার অধিকার তাঁকে কেউ দেয়নি বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।পরে আবার আন্দোলনের কিছু মুখের বিরুদ্ধে সমালোচনাও করতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।এখন সেই নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা করতে পারে বিজেপি।সেই কারণে প্রশ্ন উঠছে, নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় কি ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থীও হতে পারেন। তবে এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের হাতেই রয়েছে।

মার্চ ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal