• ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার ০৬ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Cid

রাজ্য

বর্ধমানের তৃণমূল সমর্থক কলেজ ছাত্রী তুহিনার মৃত‍্যুর ঘটনার ১১ দিন পরে তদন্তে এল ফরেন্সিক দল

পুর ভোটের ফল প্রকাশের দিন তৃণমূল সমর্থক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সদ্য জয়ী তৃণমূল কাউন্সিলার ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকার কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে ১১ টা দিন। এতদিন বাদ রবিবার তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে বর্ধমানে এল দুই সদস্যের ফরেন্সিক দল। যার নেতৃত্বে ছিলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ চিত্রাক্ষ সরকার।পুলিশের ডিএসপি অতনু ঘোষালের সঙ্গে ফরেন্সিক দলের সদস্যরা এদিন তুহিনা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। পাশাপাশি বেশ কিছু নমুনাও সংগ্রহ করেন। তুহিনা খাতুনের ব্যবহৃত একটি ডায়েরিও এদিন সংগ্রহ করে নিয়ে যায় ফরেন্সিক টিম। তদন্তের বিষয়ে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা এদিন সংবাদ মাধ্যমকে যদিও কিছু বলতে চাননি।তৃণমূল সমর্থক পরিবারের সদস্য তুহিনার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তাঁর দিদি সদ্য জয়ী ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সেখ বশির আহমেদ ও তাঁর ১৪ জন অনুগামীর বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ দুদফায় চারজনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত কাউন্সিলার এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ মৃতার পরিবার। বশির আহমেদ ঘটনার দায় অস্বীকার করলেও মৃতার পরিবার বশিরের গ্রেফতারের দাবিতে এখনও সোচ্চার রয়েছে।এদিকের তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা আনিস কাণ্ডের মতোই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। চলতি মাসের সাত তারিখ বর্ধমানে আসেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি তুহিনা বাড়িতে যান। পরিফারের পাশে থাকারও আশ্বাস দিয়ে যান অধীরবাবু। এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বও তুহিনার মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে। ষম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সদস্যরাও তুহিনার বাড়িতে যান। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। পুর ভোটের প্রাক্কালে তুহিনাদের বাড়ি লাগোয়া একটি দেওয়ালে আঁকা হয় বিভৎস দেওয়াল চিত্র। পুরভোটের ফল প্রকাশের পর তুহিনাদের তিন বোনকে গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে ঝুলে মরতে হবে এমন হুমকি ওই দেওয়াল চিত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এপিডিআর-এর সদস্যরা ওই দেওয়াল চিত্রের ছবি তুলে নিয়ে যান। এখনও এলাকার দেওয়ালে ওই ছবি থাকা নিয়ে বিভিন্ন মহল নিন্দায় সরব হয়েছেন।

মার্চ ১৩, ২০২২
রাজ্য

বিকট শব্দ বর্ধমানে করে উলটে গেলো যাত্রী বোঝাই বাস

প্রবল গতিতে আসা যাত্রীবোঝাই বাস উল্টে গেল রাজ্য সড়কের উপরে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার মীরেপোতা বাজার এলাকায়। দুর্ঘটনায় জখম ২০ জন বাসযাত্রী। যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে বাসটি দ্রুতগতিতে থাকা অবস্থায় বিকট শব্দ করে উল্টে যায় স্থানীয় সুত্র জানা গেছে। এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়েছে পুলিশ। প্রচুর স্থানীয় মানুষজন তারাও উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্রে।বারবার দুর্ঘটনার জেরে আতঙ্কিত বর্ধমান আরামবাগ রুটের যাত্রীরা। জানা গেছে, আরামবাগ থেকে বর্ধমান অভিমুখে আসছিলো যাত্রীবোঝাই বাসটি। প্রচন্ড গতিতে বাসটি আসছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন। হঠাৎ করেই বিকট শব্দ করে রাজ্য সড়কের উপরে উল্টে যায় বাসটি। শুরু হয় চিৎকার চেঁচামেচি। একটি পন্য বোঝাই পিক আপ ভ্যানকেও ধাক্কা মারে বাসটি। চলন্ত অবস্থায় বাসের পাতি ভেঙে এই ভয়াবহ বিপত্তি বলে প্রাথমিক পর্বে জানা গেছে। বর্ধমান আরামবাগ রাস্তায় বন্ধ যানবাহন চলাচল। দ্রুত রাস্তা থেকে উল্টে যাওয়া বাসটিকে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

মার্চ ১৩, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের কলেজ ছাত্রী তুহিনার মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বেনজির আক্রমন শানালেন অধীর

গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে তিন বোনকে ঝুলে মরতে হবে এমন ছবি পুর ভোটের সময়ে যাঁরা দেওয়ালে এঁকেছিল তাঁরা কি মুখ্যমন্ত্রীর দলেরই লোক? যদি তা হয় তবে সেটা বাংলার লজ্জা। পুর ভোটের ফলপ্রকাশের দিন বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সমর্থক তরুণী তুহিনা খাতুনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার এই ভাষাতেই তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারকে বিঁধলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী।শহর বর্ধমানে আঁকা ওই দেওয়াল চিত্র নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অধীরবাবু এও বলেন, আপনার বাড়ির সামনে দেওয়ালে ছবি এঁকে দিয়ে কেউ যদি বলে, আপনার গলায় দড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। তাহলে আপনি কি সেটা মানবেন? এদিন মৃত তুহিনা খাতুনের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে এসে অধীর চৌধুরি এলাকায় আঁকা ওই দেওয়াল চিত্র চাক্ষুষ করে স্তম্ভিত হয়ে যান। পরে তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু পরিবারের উপর এমন অত্যাচার কার্যত নজিরবিহীন। যে অত্যাচারের হাত থেকে হাওড়ার আমতার আনিস খান রেহাই পায়নি। বর্ধমানের তুহিনা খাতুনও পেল না। যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা সেখানে এমন ঘটনা খুবই লজ্জার। এই ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানিয়ে দেন।বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগের নতুনপল্লী এলাকায় বাড়ি তুহিনা খাতুনের (১৮)। ২ মার্চ পুর ভোটের ফল ঘোষণার পর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ওই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। সে বর্ধমান রাজ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। বোনের মৃত্যুর জন্য ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিার কাউন্সিলর বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের দায়ী করে বর্ধমান থানার অভিযোগ দায়ের করেন দিদি কুহেলী বিবি। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত কাউন্সিলর বসির আহমেদ এখনও বহাল তবিয়তেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। তা নিয়ে অধীর চৌধুরীর কাছে ক্ষোভ উগরে দেন মৃতার পরিবার। এই প্রসঙ্গে অধীরবাবু বলেন, বাংলায় এখন এমন জঙ্গলরাজই চলছে। সরকার, প্রশাসন ও তৃণমূলের মদত রয়েছে বলেই তুহিনার মৃত্যুর ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারছে ।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

বিয়ে বাড়ির আরোহী বাহী চারচাকা গাড়িতে লরির ধাক্কা -মৃত ২ জখম ৩

বেপরোয়া ভাবে চলা লরির ধাক্কায় মৃত্যু হল চারচাকা গাড়ির দুই আরোহীর। জখম হয়েছে আরও তিন জন। সোমবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার তক্তিপুরে মেমারি মালডাঙা সড়ক পথে।পুলিশ জানিয়েছে ,মৃতরা হল প্রকাশ বাগ (৩০) ও তার ভাই তাপস বাগ (২৬)। জখম রূপচাঁদ মান্ডি ,শিবু টুডু ও দীপঙ্কর কুন্ডুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মৃত ও জখমরা সকলেই মেমারির কালিবেলে এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ঘাতক লরির খোঁজ শুরু করেছে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চারচাকা গাড়ির পাঁচ আরোহী রবিবার জামালপুর থানার পাঁচড়ার ভেরিলি গ্রামে বিয়েবাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে এদিন সকালে তাঁরা চারচাকা গাড়িতে চড়ে মেমারির কালিবেলে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন।পথে তক্তিপুর এলাকায় মেমারি গামি দ্রুত গতীর একটি লরি চারচাকা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়।এই দুর্ঘটনায় চারচাকা গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারচাকা গাড়ির চালক প্রকাশ বাগের। বাকি আরোহী তাপস বাগ, রূপচাঁদ মান্ডি শিবু টুডু ও দীপঙ্কর কুন্ডুকে উদ্ধার করে মেমারি গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রকাশ বাগের ভাই তাপস কে মৃত ঘোষণা করেন।জখদের শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

আনিসের মৃত্যুর ছায়া বর্ধমানে, তুহিনার মৃত্যু নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতিতে কংগ্রেস ও বামেরা

পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে মরতে হবে তিন বোনকে। পুর ভোটের আচরণবিধি জারি থাকার সময়েই শহর বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালে আঁকা হয় হুমকি বার্তা দেওয়া এমন এক নজিরবিহীন ছবি। ওই ছবি আঁকানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল প্রার্থী শেখ বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশন বা পুলিশ, কারও তরফেই পুর ভোটের ফল প্রকাশের দিন পর্যন্ত ওই ছবি মোছানোর কোন উদ্যেগ নেওয়া হয়নি। তাই ওই ছবি এলাকায় দেওয়ালে রয়েই যায়। আর আঁকানো ছবির হুমকি মতোই কাণ্ড ২ মার্চ ঘটে শহর বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকায়। পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই বিকালে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সেখানকার তৃণমূল সমর্থক পরিবারের কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের(১৭) ঝুলন্ত দেহ। বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি শাসানি দিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত কারার অভিযোগ উঠেছে সদ্য নির্বাচিত ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শেখ বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। আর তুহিনার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এখন আমতার ছাত্র নেতা আনিসকে খুনের ঘটনার মতোই তোলপাড় ফেলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।বর্ধমান রাজ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তুহিনার খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শুক্রবার বর্ধমানের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন এসএফআইয়ের পূর্ব বর্ধামান জেলা সভাপতি বিশ্বরুপ হাজরা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই শাসক দলের রাজনৈতিক হিংসা ও অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ছাত্রী তুহিনা আত্মঘাতী হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকার মধেও তুহিনাদের বাড়ির ঠিক আগের একটি দেওয়ালে ছবি আঁকা হয় তিনটি মেয়ের দেহ ঝুলছে। এই ঘটনা অমানবিক ও আদিম হিংস্রতার চরম প্রকাশ বলে এসএফআই মনে করে। পুলিশের নির্দেশ পাওয়ার পরেও ওই এলাকার তৃণমূল প্রার্থী দেওয়াল লিখন মোছেননি। আমতার ছাত্র নেতা আনিস খানের মৃত্যু যেমন দুর্ভাগ্যজনক তেমনই দু্ঃখজনক। তাই তুহিনার মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও এসএফআই বৃহত্তর প্রতিবাদ আন্দোলনে নামবে বলে বিশ্বরুপ হাজরা এদিন জানিয়ে দেন। তুহিনার মৃত্যুর ঘটনার বিচার চেয়ে এদিন বিকালে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সদস্যরা বর্ধমান থানার সামনে ধরনায় বসেন। তুহিনার মৃত্যুর ঘটনায় সকল দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেন এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক অনির্বাণ হাজরা।এসএফআইয়ের মতোই কংগ্রেস দলের নেতৃত্বও তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি নেপাল মাহাতো এদিন জেলা কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বাবুরবাগে আত্মঘাতী কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের বাড়িতে যান। তিনি তুহিনার পরিবারের সদস্যদের মুখে দেওয়ালে হুমকি দেওয়া ছবি আঁকা ও ঘটনার দিনের কথা শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান। কংগ্রেস নেতাদের কাছে তৃণমূল কাউন্সিলার বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তুহিনার পরিবার। এখনও বসির আহমেদ হুমকি দিচ্ছে বলে তারা কংগ্রেস নেতাদের কাছে অভিযোগে জানান। সব শুনে নেপাল বাবু জানান, ভোটের সময়ে ছবি এঁকে হুমকি দিয়ে এই ধরনের দেওয়াল লেখা চরম থেকে চরমতম অপরাধ। এটা একটা নক্কারজনক ঘটনা। নির্বাচন চলাকালীন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের আওতায় থাকে। নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করেও এই ছবি মুছতে পারেনি। এর দ্বারাই বোঝা যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কতটা। পুলিশ গোটা বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে বলেও নেপালবাবু অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে নেপাল মাহাতো জানিয়ে দেন, দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে প্রয়োজনে তাঁরা আইনি লড়াই লড়বেন। যদিও বসির আহমেদ এদিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রয়োজনে সিআইডি দিয়ে ঘটনার তদন্ত হোক। তিনি চান আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসুক।তিন তরুণী গাছে ঝুলছে এমন ছবি পুর ভোটের আচরণবিধি জারি থাকার সময়ে যাঁরা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালে আঁকালো তাদের বিরুদ্ধে কি নির্বাচন কমিশন আইনগত কোন ব্যবস্থা নিয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ধমান সদর মহকুমা শাসক তথা পুর নির্বাচনী আধিকারিক তীর্থাঙ্কর বিশ্বাস বলেন, এই সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার কাছে কোন অভিযোগও আসেনি। তবে এই প্রসঙ্গে ডি এসপি (সদর) অতনু ঘোষাল বলেন, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা মিললে দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না ।

মার্চ ০৪, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূল সমর্থক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার চার, এফআইআরে নাম কউন্সিলারেরও

পুর ভোটের ফল প্রকাশ হতে না হতেই এক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগ উঠলো সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলার ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত থাকলো বর্ধমান পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ এলাকা। বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকার মৃত ছাত্রী তুহিনা খাতুন (১৭) এর দিদি কুহেলি বিবির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ধমান থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতার করে। মৃতার দিদির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে রুজু হওয়া এফআইআরে সদ্য জয়ী হওয়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শেখ বসির আহমেদ ওরফে বাদশারও নাম রয়েছে। কাউন্সিলার সহ অভিযুক্ত সকলের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছে মৃতার পরিবার সদস্যরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শেখ গোলাম নবি ওরফে গোলাপ, তহমিনা বিবি ওরফে তসমিনা, সোনাহার বিবি ওরফে সোনা বিবি, মানোয়ারা বিবি ওরফে মিনু। ধৃতদের সকলের বাড়ি বাবুরবাগের পশ্চিমপাড়ায়। বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর, হুমকি, শ্লীলতাহানি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতদের পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে গোলাম নবিকে ১০ দিন পুলিশি হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। সিজেএম গোলাম নবির ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত ও বাকি ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ১৭ মার্চ ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন ।এদিন ময়নাতদন্ত শেষে মৃত কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ বাড়িতে পৌছালে এলাকা নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলার বসির আহমেদের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে মৃতদেহ রেখে এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। প্রায় ঘন্টা দুয়েক ধরে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। কাউন্সিলার বসির আহমেদকে তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে বহিস্কারের দাবি তুলেও এলাকার বাসিন্দারা এদিন সোচ্চার হন।বিক্ষোভমৃতার দিদি কুহেলি বিবি পুলিশকে জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য শেখ বসির আহমেদ টিকিট পান। তার পর থেকেই তিনি অনুগামীরাদের নিয়ে তুহিনা সহ তাঁদের পরিবারের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো শুরু করে। অত্যাচার দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। কুহেলি জানান, তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন তৃণমূলের অপর একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াের্ডে কাজ করেন। বুধবার ভোটের ফল বের হওয়ার পর বেশ কয়েকজন একজোট হয়ে তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ির সামনে বোমা ফাটানো হয়। ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর বোন তুহিনা খাতুনকে প্রচণ্ড মারধর করে ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এমনকি তাঁদের পরিবারের অন্য মহিলাদের শ্লীলতাহানি পর্যন্ত করা হয়। এইসব সহ্য করতে না পেরেই ঘটনার পর বাড়িতে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁর বোন তুহিনা আত্মঘাতী হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে কুহেলিদের বাড়ির কাছের একটি দেওয়ালে আঁকা হয় গাছে তিন মহিলার ঝুলন্ত দেহের ছবি। বসির আহমেদ ভোটে জিতলে কুহেলি ও তাঁর দুই বোনের ওই ছবির মতন দশা হবে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। ভোটে জেতার পরই বেলা ৩টে নাগাদ বাদশা সহ কয়েকজন কুহেলিদের বাড়িতে হামলা চালায়। তুহিনাকে মারধর করা হয়।যদিও বসির আহমেদ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আদৌ ঘটনায় জড়িত নন। মিথ্যাভাবে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। পুলিসি তদন্তে আসল তথ্য উঠে আসবে। বসির আহমেদ এমনটা দাবি করলেও তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে শপথ নেওয়া নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার যথেষ্টই বিড়ম্বনায় পড়ে গিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে কলেজ ছাত্রী আত্মঘাতী, সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে অভিযোগের আঙুল

পুর ভোটের ফল প্রকাশ হতে না হতেই এক তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে উতপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমান। বিএ প্রথম বর্ষের পড়ুয়া মৃতা তুহিনা খাতুন(১৮)-র বাড়ি বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ মসজিদ সংলগ্ন নতুনপল্লীতে। বুধবার বিকালে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করছে। তবে তুহিনার মৃত্যুর জন্য ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে সদ্য জয়ী তৃণমূল প্রার্থী বসির আহমেদকেই (বাদশা) দায়ী করেছেন মৃতার পরিবার।মৃত ছাত্রীর পরিবারের দাবি, তাঁরা বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি মুক্তার মিঞার অনুগামী। জানা গিয়েছে, মুক্তার মিঞা সদ্য কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বসির আহমেদের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর। সেই কারণে, বুধবার জয়ের পরেই বসির আহমেদ তুহিনার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। তার জেরেই তুহিনা আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বসির আহমেদ। তিনি বলেন, কিভাবে এই ঘটনা ঘটল সেই বিষয় নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সঠিক তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।তিন বোনের ছবি এঁকে হুঁশিয়ারীর অভিযোগজয়হিন্দ বাহিনীর ওয়ার্ড সভাপতি মুক্তার মিঞা বলেন, প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বসির আহমেদ ওরফে বাদসা তুহিনাদের বাড়িতে হুমকি দেওয়া শুরু করে। বাড়ির দেওয়ালে তুহিনা সহ তাঁদের তিন বোনের ছবি এঁকে দিয়েও হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়। বুধবার বিকেলে দলবল নিয়ে বাদসা চড়াও হয় তুহিনাদের বাড়িতে। তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।সেই অপমানে তুহিনা আত্মঘাতী হয়েছে। একই অভিযোগ করেন মৃতার দিদি ঝর্ণা বেগম। তিনি বলেন, বাদশা বরাবরই বির্তকে থাকেন। তাঁকে নিয়ে বহুবার বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। কখনও রাজ কলেজের টিচার ইনচার্জকে চড় মারা তো কখনও কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিকে এক ঘরে করে রাখার মত ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। শুধুমাত্র শাসকদলের কাউন্সিলর হওয়ায় তিনি এইসব ঘটনা ঘটিয়েও বেঁচে গেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের একচেটিয়া জয়ও দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আটকাতে পারেনি।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

প্রৌঢ়ের চোখে অ্যাসিড ছুঁড়ে গা ঢাকা প্রতিবেশী মহিলার, থানায় অভিযোগ আক্রান্তের

অ্যাসিড ছুঁড়ে দিয়ে প্রৌঢ়ের দৃষ্টি শক্তি নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো প্রতিবেশী পরিবারের এক মহিলার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্রকরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার বড়বেলুন গ্রামে। অভিযুক্ত মহিলা রুপালি রায় ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। চোখের চিকিৎসা করিয়ে অ্যাসিড হামলায় জখম শুভাশীষ মুখোপাধ্যায় সোমবার ওই মহিলার বিরুদ্ধে ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ অভিযোগের তদন্তে নেমে অ্যাসিড হামলায় জড়িত মহিলার খোঁজ শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রৌঢ় শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি ভাতারের বড়বেলুন গ্রামে। বাড়িতে রয়েছে তাঁর বৃদ্ধা বিধবা মা। শুভাশীষ বাবুর অভিযোগ, দিন দুই আগে সন্ধ্যা নাগাদ তিনি তাঁর বৃদ্ধা মাকে দেখাশুনার জন্য একজন কাজের মেয়ের সন্ধানে বেড়িয়েছিলেন। ফেরার পথে প্রতিবেশী পরিবারের মহিলা রুপালি রায়ের বাড়ির কাছ দিয়ে তিনি আসছিলেন। ওই সময়ে তিনি ওই মহিলা সহ আরো কয়েকজন মহিলাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তারা সবাই মিলে আচমকাই লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয়। তারা তাঁকে ব্যাপক মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। ওই অবস্থার মধ্যেই প্রতিবেশী পরিবারের মহিলা রুপালি তাঁর চোখে অ্যাসিড ছুঁড়ে দেয়। চোখে ভীষণ জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হলে তিনি ঘটনাস্থলেই চিৎকার শুরু করে দেন। তাঁর চিৎকার শুনে এলাকার অন্য লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। শুভাশীষ বাবু এদিন জানান, তাঁর চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর চোখের রেটিনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রৌঢ়ার দিদি রুবি মুখোপাধ্যায় বলেন, চক্ষু বিশেষজ্ঞরা এও জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর ভাইয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।কি কারণে প্রতিবেশী পরিবারের মহিলা রুপালি অ্যাসিড হামলা করলেন? এর উত্তরে শুভাশীষ মুখোপাধ্যায় জানান, ওই মহিলার ধারণা তিনি নাকি আড়িপেতে তাকে দেখতেন। এমন মিথ্যা সন্দেহ ও ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়েই প্রতিবেশী পরিবারের মহিলা তাঁর উপর অ্যাসিড হামলা চালাই বলে শুভাশীষ বাবু দাবি করেছেন। একই সঙ্গে শুভাশীষ বাবু বলেন, মিথ্যা ধারণার বশবর্তী হয়ে ওই মহিলা আমার বাকি জীবনটাই অন্ধকারময় করে দিল। তিনি অ্যাসিড হামলায় জড়িত মহিলার কঠোর শাস্তির দাবিও করেছেন।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২২
রাজ্য

অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি ক্যামেরায় বন্দি করে বিয়ের জন্য পিস্তল দেখিয়ে প্রেমিকের হুমকি! কালনায় আত্মঘাতী কলেজ ছাত্রী

প্রেমিকের ব্ল্যাকমেল ও হুমকি শাসানির জেরে আত্মহত্যার পথ বেছেনিতে বাধ্য হলেন এক কলেজ ছাত্রী।মৃতার নাম গঙ্গা সেন (১৯)। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার শাসপুর পশ্চিমপাড়ায়। রবিবার কালনা মহকুমা হাসপাতাল পুলিশ মর্গে ছাত্রীর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। তারপর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে প্রেমিক। এইঘটনা নিয়ে জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শাসপুর এলাকায়। প্রেমিক যুবকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর পরিবারের আনা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে কালনা থানার পুলিশ। পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানা গিয়েছে, গঙ্গা সেন নামে ওই ছাত্রীটি কালনা কলেজের প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করতো। ছাত্রীর বাবা নগেন সেন জানান, কয়েক বছর হল তাঁর মেয়ে গঙ্গা এলাকার এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মনে কু-উদ্দেশ্য থাকায় ওই যুবক কোন এক সময়ে তাঁর মেয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের বেশ কিছু ছবি মোবাইল ফোনের ক্যামেরা বন্দি করে নেয়। পরে সেই ছবি দেখিয়েই গঙ্গাকে ব্ল্যাকমেল করেচলে তাঁর প্রেমিক। এরই মধ্যে গঙ্গা জানতে পারে যে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে একাধিক মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এরপর থেকে গঙ্গা তাঁর প্রেমিকে সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে মনস্থির করে নেয়। নগেন বাবুর অভিযোগ, তাঁর মেয়ে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে জানতে পেরে ওই প্রেমিক যুবক মাঝেমধ্যেই তাঁদের বাড়িতে এসে পিস্তল দেখিয়ে হুমকি শাসানি দিয়ে যেত।ছাত্রীর মা বিশাখা সেন বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ে করবে বলে ওই যুবক বাড়িতে এসে চাপ দেওয়া শুরু করে। কিন্তু অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় আমার মেয়ে ওই যুবককে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। তার জন্য ওই যুবক পিস্তল উঁচিয়ে আমাদের বাড়ির সবাইকে প্রাণে মেরে দেবে বলে কিছুদিন আগে হুমকি দিয়ে যায়। এইসব নিয়ে মেয়ে গঙ্গা মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। রবিবার সকালে তিনি ও তাঁর স্বামী কোভিডের ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। তার পরেই বাড়ির একটি ঘরে গলায় দড়ি ফাঁস দিয়ে গঙ্গা ঝুলেপড়ে। বাড়িতে তখন ছোট মেয়ে ছিল। সে তাঁর দিদিকে গালায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে আমাদের জানায়। এই খবর পেয়েই দ্রূত বাড়িতে ফিরে এসে মেয়েকে উদ্ধার করে আমরা কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গঙ্গাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নগেন সেন ও তাঁর স্ত্রী বিশাখাদেবী দুজনেই তাঁদের মেয়ে গঙ্গার মৃত্যুর জন্য ওই প্রেমিক যুবককেই দায়ী করেছেন। সেন দম্পতি দাবি করেন, প্রেমিক যুবকের ব্ল্যাকমেল ও হুমকি শাসানির জেরেই তাঁদের মেয়ে গঙ্গা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। সেই অভিোগের কথা পুলিশকেও এদিন মৌখিক ভাবে জানিয়ে এসেছেন। দাহকার্য শেষ করে সোমবার থানায় গিয়ে লিখিত ভাবে যুবকের বিরূদ্ধে অভিযোগ জমা দেবেন বলে নগেন সেন জানিয়েছেন। কালনা থানার পুলিশ জানিয়ছে, লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে তার ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃতার পরিবার ও তাঁর সহপাঠীদের প্রত্যাশা পুলিশ যুবকের দৃষ্টান্তমূলক সাজার ব্যবস্থা করবে।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২
দেশ

বিষাদে মিশল বিয়েবাড়ির আনন্দ, উত্তরপ্রদেশ কুয়োয় পড়ে মৃত্যু ১৩ জনের

বিয়ের আনন্দেই নেমে এল বিপর্যয়। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে আনন্দে, নাচেগানে মাতোয়ারা ছিলেন সকলে, যারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, পাশেই একটি সিমেন্টের স্ল্যাবের উপরে বসে পড়েন। যে সিমেন্টের স্ল্যাবের উপর বসেছিলেন একাধিক আমন্ত্রিত, তার নীচেই যে একটি পুরনো কুয়ো রয়েছে, তা জানা ছিল না। আচমকাই ওই সিমেন্টের স্ল্যাবটি ভেঙে পড়ায় কুয়োর মধ্যেই পড়ে যান ১৫ জনেরও বেশি। তৎপরতার সঙ্গে কুয়োর ভিতর থেকে উদ্ধার করা হলেও, ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত আরও ২ জন। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরে। বুধবার রাতে একটি বিয়েবাড়িতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।Kushinagar, Uttar Pradesh | Visuals from the spot where 13 women lost their lives during a wedding event last nightThe incident happened during a wedding program wherein some people were sitting on a slab of a well due to heavy load,the slab broke, police official said pic.twitter.com/LmPDQh3lOo ANI (@ANI) February 17, 2022পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুশিনগরের ওই বিয়েবাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলাকালীনই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মূলত বেশ কয়েকজন মহিলা ও শিশুই সিমেন্টের স্ল্যাবর উপর বসেছিলেন। তারা বুঝতেই পারেননি যে নীচে একটি কুয়ো রয়েছে। অতিরিক্ত ভারের কারণেই আচমকা ওই স্ল্যাব ভেঙে পড়ে। উপরে যারা বসেছিলেন, তারা সকলে হুড়মুড়িয়ে কুয়োর ভিতরে ঢুকে যান। চিৎকার শুনে হুঁশ ফেরে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাকিদের। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও আমন্ত্রিতদের সহযোগিতায় একে একে সকলকে তুলে আনা হয়। শরীরে কুয়োর পচা জল ঢুকে অনেকেই সংজ্ঞা হারিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ১১ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুইজনের গুরুতর আঘাত লেগেছে বলেও জানা গিয়েছে।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর মিলতেই দ্রুত উদ্ধারকার্য শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহতদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা নিয়েও প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২২
রাজ্য

জীবন বাজি রেখে শত চেষ্টা সত্বেও বৃদ্ধাকে বাঁচাতে পারলেন না রেল কর্মী, মেয়ের চোখের সামনেই দুর্ঘটনা

দূরন্ত গতিতে ধেয়ে আসছিল আপ সরাইঘাট এক্সপ্রেস। আর ঠিক ওই সময়েই রেল লাইন পার হতে যাচ্ছিলেন আশি উর্ধ্ব বৃদ্ধা গায়ত্রী ঘোষ। তা দেখে ছুটে যান রেলকর্মী পাঁচুগোপাল দাস। তিনি মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত হার মানেন। আর তারই মধ্যে সরাইঘাট এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বৃদ্ধার দেহ। চোখের সামনে মায়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে। সোমবার বিকালে রোমহর্ষক এমনই এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া- বর্ধমানের কর্ড শাখার মসাগ্রাম স্টেশনে। যা চাক্ষুষ করে কার্যত শিউরে ওঠেন মসাগ্রাম স্টেশনে থাকা রেল যাত্রী ও সাধারণ মানুষজন।রাতে ঘটনাস্থলে পৌছে রেল পুলিশ বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করে।মসাগ্রাম স্টেশন আধিকারিকদের কথায় জানা গিয়েছে, বৃদ্ধা গায়ত্রীদেবী বাঁকুড়া জেলার ইন্দাসের বাসিন্দা।এদিন বিকালে কর্ড লাইনের ট্রেনে চড়ে বৃদ্ধা তাঁর মেয়ে জাইয়ের সঙ্গে মসাগ্রম স্টেশনে নামেন। আনুমানিক বৈকাল ৪ টে ৫০ মিনিট নাগাদ মসাগ্রাম স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নেমে তারা সামনের বিডিআর রেলের স্টেশন প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য রেল লাইন পার হচ্ছিলেন।বৃদ্ধার মেয়ে ও জামাই রেল লাইন পার হয়ে গেলেও পিছনে পড়ে থাকেন বৃদ্ধা। ওই সময়েই আপ সরাইঘাট এক্সপ্রেস জোরে হর্ণ বাজাতে বাজাতে ওই লাইন ধরে ধেয়ে আসতে থাকে। তা দেখে মেয়ে ও জামাই বৃদ্ধাকে রেল লাইন পার না হয়ে দাঁড়িয়ে যেতে বলেন। কিন্তু কানে মাফলার জড়ানো থাকায় বৃদ্ধা তাঁর মেয়ে জাইয়ের কথা শুনতে পাননি। তিনি লইন পার হওয়ার জন্য আরও এগিয়ে আসেন। ওই সময়ে মসাগ্রাম স্টেশন প্ল্যাটফর্মে ডিউটি করছিলেন রেলকর্মী পাঁচুগোপাল দাস। পরিস্থিতি চাক্ষুষ করে তিনি বুঝতে পারেন বৃদ্ধা আর একটু এগোলেই দুর্ঘটনার কবলে পড়বেন। তৎক্ষনাৎ রেল কর্মী পাঁচুগোপাল বৃদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য ওই লাইনের দিকে ছুটে যান। কিন্তু দ্রুত ছুটে বৃদ্ধার কাছে পৌছতে গিয়ে পাঁচুগোপালবাবু লাইনের আগে পড়ে যান। পায়ে চোট পেয়ে তিনি আর এগিয়ে যেতে পারেননি। তারই মধ্যে সবার চোখের সামনে সরাইঘাট এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্ন বিচ্ছিন হয়ে যায় বৃদ্ধার দেহ।প্রত্যক্ষদ্শী মনোজ সাহানি বলেন, রেল কর্মী পাঁচুগোপাল দাস নিজের জীবন বাজি রেখে বৃদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেয়ে যাওয়ায় তিন আর এগিয়ে যেতে পারেননি।পড়ে না গেলে তিনি হয়তো বৃদ্ধাকে বাঁচাতে পারতেন। তা আর হল না।সবার চোখের সামনেই ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধার দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও মসাগ্রাম স্টেশন আধিকারিক এই বিষয়য়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে অস্বীকার করেন।বাঁকুড়ার ইন্দাস নিবাসী বৃদ্ধার মেয়ে শ্যামলী পাল ও তাঁর স্বামী অমল পাল জানিয়েছেন, সাবিত্রীদেবী তাঁদের কাছেই থাকতেন। শ্যামলী পাল বলেন, আমার ছেলে কর্মসূত্রে হুগলীর ডানকুনিতে থাকে। কিছুদিন আগে বৃদ্ধা মা কে সঙ্গে নিয়ে আমি ও তাঁর স্বামী ডানকুনিতে ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম। এদিন সেখান থেকেই ফিরছিলেন। কর্ড লাইনের ট্রেনে চড়ে বিকালে মসাগ্রাম স্টেশনে নামার পর সামনে থাকা বিডিআর রেলের স্টেশন প্ল্যাটফর্মের যাবার জন্য সবাই রেল লাইন পার হচ্ছিলেন। শ্যামলীদেবী বলেন, ওই সময়ে আমি ও আমার স্বামী রেল লাইন পেরিয়ে যেতে পারলেও বৃদ্ধা মা লাইন পার হতে না পেরে পিছনে রয়ে যায়। তারই মধ্যে এক্সপ্রেস ট্রেনটিও দ্রুত গতীতে এগিয়ে আসতে থাকে। তা দেখে আমি ও আমার স্বামী চিৎকার করে মাকে দাঁড়িয়ে যেতে বলি। কিন্তু কানে মাফলার জড়ানো থাকায় আমার মা কিচ্ছু শুনতে না পেয়ে আরও এগিয়ে আসতে থাকেন। তারই মধ্যে এক্সপ্রেস ট্রেনটিও অনেকটি কাছাকাছি চলে আসে। ওই পরিস্থিতির মধ্যেই স্টেশন প্ল্যাটফর্মে থাকা এক রেল কর্মী নিজের জীবন বাজি রেখে আমার বৃদ্ধা মা কে বাঁচাতে দৌড় দেন। চোখের জল মুছতে মুছতে শ্যামলীদেবী এদিন বলেন,মায়ের ভাগ্য সহায় না থাকায় ওই রেলকর্মী পড়ে গিয়ে চোট পেয়ে যাওয়ায় আর এগিয়ে যেতে পারেন না। ট্রেনের ধাক্কায় আমার বৃদ্ধা মা মারা যায়। শাশুড়ি মায়ের এমন করুন পরণতির জন্য জামাই অমল পালও অদৃষ্টকেই দায়ী করেছেন।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
রাজ্য

বাড়িতে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বন্দি

কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া এক বন্দি। মৃতর নাম উদয় মালিক (৪০)। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার শ্যামসুন্দরে। বৃহস্পতিবার সকালে উদয় মালিক নিজের বাড়িতেই কীটনাশক খেয়ে নেন। আশঙ্কাজনক অবস্থা তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতে সেখানেই তিনি মারা যান। এই ঘটনা জানার পরেই নড়েচড় বসেছে প্রশাসন ও সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,প্যারোলে মুক্ত থাকা বন্দির মৃতদেহের এদিন ময়নাতদন্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তও শুরু করেছে। পাশাপাশি বর্ধমানের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রে এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার জন্য ষষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়েছেন।প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বন্দির আত্মঘাতী হওয়ার বিষয়টি সম্বন্ধে রাজ্য ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়াও সংশোনাগার কর্তৃপক্ষ কারাদফতরের উচ্চ মহলেও বিষয়টি জানিয়েছে। বর্ধমান থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের লালগোলা সংশোধনাগারে ছিলেন উদয় মালিক। কোভিড পরিস্থিতির জন্য তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পুকুরে গিয়ে পড়ল চারচাকা গাড়ি ও রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স

দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেতে গিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পুকুরে গিয়ে পড়ল একটি চারচাকা গাড়ি ও রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স। শুক্রবার সকালে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের নবাবহাটের ১০৮ শিব মন্দিরের কাছে বর্ধমান-বোলপুর জাতীয় সড়কে। স্থানীয়দের তৎপরতায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি গাড়ির আরোহী প্রাণে বেচে যান। গাড়িগুলিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটলো তার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি বর্ধমানের দিকে যাচ্ছিল। তার পিছনে ছিল বোলপুর মুখী দ্রতগতির চারচাকা গাড়িটি। বর্ধমান-বেলপুর রোড ধরে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময়ে বর্ধমানের নবাবহাটের ১০৮ শিবমন্দিরের কছে হঠাতই চারচাকা গাড়িটি ডান দিয়ে বেশী চেপে যায়। তখন দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে অ্যাম্বুলেন্সটি নিজের বাঁদিকে সরে যেতে গেলে পুকুরে নেমে যায়। একই অবস্থা হয় পিছনে থাকা যাত্রী বোঝাই চারচাকা গাড়িটিরও। অ্যাম্বুলেন্সটি পুকুরের একেবারে ধারে গিয়ে আটকে গেলেও চারচাকা গাড়িটি গভীর পুকুরের জলে নেমে যায়। মাঝ জলে পড়ে গিয়ে আরোহী সহ চারচাকা গাড়িটি ডুবতে বসার উপক্রম হয়। এমন পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় যুবকরা একমুহুর্ত আর দেরি না করে পুকুরের জলে ঝাপ দিয়ে তলিয়ে যেতে বসা চারচাকা গাড়ি ও তার আরোহীদের উদ্ধারে নেমে পড়ে। ওই যুবকদের ততপরতাতেই নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যান চারচাকা গাড়িতে সওয়ার থাকা চার আরোহী।এরপর স্থানীয়রাই রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ও তাতে সওয়ার থাকা রোগী সহ তিনজনকে উদ্ধার করেন।অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীক বর্ধমান হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাণে বাঁচানোর জন্য দুই গাড়ির আরোহীরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান স্থানীয় যুবকদের। বর্ধমান থানার আই সি সুখময় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কিভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তার তদন্ত হবে। এলাকার যুবকরা জলে ঝাঁপ দিয়ে যেভাবে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের উদ্ধার করেছেন তার প্রশংসা করেছে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
রাজ্য

হাসপাতালের তিন তলায় আছড়ে পড়ে মৃত্যু বালকের

মর্মান্তিক মৃত্যু হল ৮ বছরের বালকের। শুক্রবার সকালে এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদা মেডিক্যাল কলেজে। ছয় তলার সিঁড়ির রেলিং বেয়ে নামতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা। পুলিশ ওই বালকের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত বালকের নাম হরষিত সিং (৮)।বাবার নাম বলবীর সিং। বলবীর বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, হরষিতের মৃগীরোগ ছিল। শুক্রবার সকালে বাবার সঙ্গে দোকানে এসেছিল হরষিত। এর পর সে সকলের অলক্ষ্যে মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরের ছয় তলায় উঠে যায়। সেখান থেকে খেলার ছলে সিঁড়ির রেলিং বেয়ে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। ছয় তলা থেকে তিন তলায় পড়ে মাথায় আঘাত পায় হরষিত। তার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু তার।মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবহাওয়া খারাপ থাকায় মেডিক্যাল কলেজের আউটডোর ফাঁকা ছিল। যার ফলে সকলের অলক্ষ্যে সহজেই হরষিত মেডিক্যাল কলেজের ছয় তলায় উঠে পড়ে। এর ফাঁকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
নিবন্ধ

সত্যিই কি বিড়ালের রাস্তা কাটা অশুভ? এর পিছনে কি আদৌও কোনও বিজ্ঞানসম্মত কারণ আছে? পড়ুন বিস্তারিত

নানা বিষয়ে নানা সংস্কার ও কুসংস্কারে বশীভূত আমাদের সামাজ। কেউ হাঁচলে যাত্রা অশুভ ভেবে দাঁড়িয়ে পড়েন, আবার কারও অনর্গল মিথ্যা প্রবচনের মাঝে টিকটিকি ডাকলে সেই অনাবিল মিথ্যাকে সত্যি বলে ধরা হয়! এগুলিকে কেউ কুসংস্কার, আবার কেউ কেউ অন্ধবিশ্বাসও বলে মনে করেন। ঠিক সেরকমই একটা কুসংস্কার বিড়ালের রাস্তা কাটা। আপনি হয়ত কোথাও যাচ্ছেন, আপনার যাত্রাপথে আপনার সামনে রাস্তা দিয়ে পেরলো একটা বিড়াল। সেটাকে অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করে আপনি দাঁড়িয়ে পরলেন, যদি তখন আপনি গাড়ি চালান, তাহলে স্টার্ট বন্ধ করে দিলেন, তাতে নাকি আশুভ যা-কিছু কেটে যায়! হয়ত কোনও যাত্রীবাহী গাড়ি যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে কেউ বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন তখন বিড়ালে রাস্তা কাটলে সকলেই সেখানে দাঁড়িয়ে যায়, ঠিক যেন ট্রাফিক সিগন্যাল। এর অশুভ প্রভাব কাটাতে কিছু তুকতাক-ও আমাদের জানা, যেমন এই অশুভ প্রভাব কাটানোর জন্য কেউ কেউ রাস্তায় বাঁ দিকে থুতু ফেলে আবার যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘকাল ধরে এই কুসংস্কার / অন্ধ-বিশ্বাস মানুষের মনে গেঁথে আছে। আবার বিড়ালের রঙ যদি কালো হয়, আর্থাৎ কালো বিড়াল যদি রাস্তা কাটে সেটা আরও ভয়ংকর অশুভ বলে মনে করেন অনেকে।এই অন্ধ-বিশ্বাস বা কুসংস্কার গড়ে ওঠার পিছনে কি কি কারণ থাকতে পারে তার পর্যালোচনা করেছেন কখনও? এর পিছনে কি আদৌও কোনও বিজ্ঞানসম্মত কারণ আছে? সত্যিই কি বিড়ালের রাস্তা কাটা অশুভ? সে বিষয়টা-ই আজ আমরা জানার চেষ্টা করব।ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে তিথি নক্ষত্রর প্রভাব অনুযায়ী রাহুকে অশুভ গ্রহ বলে মনে করা হয়। রাহুর প্রভাবে জীবনে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। নানাবিধ দুর্ঘটনার যোগ আসতে পারে রাহুর প্রভাবে। বৈদিক জ্যোতিষ অনুসারে বিড়ালকে রাহুর বাহন বলা হয়। সাধরণ ভাবে রাহুকে আমরা একটু সমঝে চলি, ঠিক সেই কারণেই বিড়াল পথ কাটলে রাহুর ভয়ে তা অশুভ বলে মনে করা হয়। কারণ বিড়ালে পথ কাটছে মানে সেখানে রাহুর কু-প্রভাব রয়েছে। সেই প্রভাবে দুর্ঘটনা হতে পারে।অন্যদিকে সনাতন হিন্দু ধর্ম অনুসারে ধন-সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন লক্ষ্মী। আর অলক্ষ্মী হলেন দেবী লক্ষ্মীর বোন। দেবী অলক্ষ্মীকে সাধরণ ভাবে গরীবের দেবী বলা হয়ে থাকে। সাধারনত দীপাবলির সময় অমাবস্যাতে কালীপুজোর রাতে দেবী অলক্ষ্মীর পুজা হয়। বিড়ালকে আবার দেবী অলক্ষ্মীর বাহন বলেও মনে করা হয়। তাই বিড়ালকে মনে করা হয় অশুভ সংকটের প্রতীক। অদ্ভুত ভাবে দীপাবলির দিন ঘরে বিড়ালের প্রবেশকে আবার খুব শুভ বলে মনে করা হয়। এই বিশেষ দিন ঘরে বিড়াল প্রবেশ করলে তার সঙ্গে সমৃদ্ধির আগমন ঘটে বলে মনে করেন কু-সংস্কারাচ্ছন্ন মানুষজন।দেবী মাঙ্গাম্মার মন্দিরভারতের দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকের মাণ্ড্য জেলার অবস্থিত বেক্কালালে গ্রামের মানুষজন বিড়ালকে খুব শুভ বলে মনে করে। সেখানে এক মন্দিরে বিড়ালকে দেবী মাঙ্গামার রূপ হিসাবে পূজা করা হয় এবং বিড়ালদের জন্য নিবেদিত তিনটি মন্দির স্থাপন করা আছে। স্থানীয় স্যত্রে জানা যায়, প্রায় ১,০০০ বছর আগে এর প্রচলন শুরু হয়েছিল। স্থানীয় মানুষজনের বিশ্বাস, তাদের প্রধান দেবতা দেবী মাঙ্গামা একটি বিড়ালের রূপ ধারণ করে বেক্কালালে গ্রামে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের রক্ষাকর্তা হিসাবে অবস্থান করেছিলেন, গ্রামটিকে সমস্ত খারাপ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করেছিলেন। স্থানীয় এক পুরোহিত বলেন, দেবী মাঙ্গামা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে বিড়ালরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দেবী তাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতা দেখানোর পরে অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং অদৃশ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে একটি মাটির স্তূপ তৈরি হয়ে গেল। সেই ঘটনার পরেই, আমাদের পূর্বপুরুষরা গ্রামের মধ্যে এবং আশেপাশে দেবতার অস্ত্বিত্ব অনুভব করেছিলেন এবং একটি বিড়ালের আকারে দেবী মাঙ্গামাকে পূজা করতে শুরু করেছিলেন। আমাদের জন্য, বিড়ালরা জীবন্ত দেবী এবং আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি, এখানে বেড়াল সাক্ষাৎ দেবতা।প্রাচীন মিশরেও বিড়ালকে দেবী জ্ঞানে আরাধনা করা হত। বাস্টেট, যাকে বাস্টও বলা হয়, প্রাচীন মিশরীয় দেবীরূপে প্রথমে একটি সিংহি এবং পরবর্তীকালে একটি বিড়ালের আকারে পূজা করা হত। রে এর কন্যা, সূর্য দেবতা ও বাস্টেট ছিলেন প্রাচীন মিশরীয় দেবতা। ভারত-সহ বিশ্বের আরও অনেক দেশেই বিড়ালকে ঘিরে বেশ কিছু শুভ ও অশুভ ধারনা প্রচলিত আছে। বিড়ালের কান্নাকেও অনেকে অশুভ বলে মনে করেন। আশপাশে কখনও বিড়াল কান্না করলে বাড়িতে কোনও বিপদ আসন্ন বলে প্রচলিত বিশ্বাস।রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডঃ সুভাষচন্দ্র দত্তজনতার কথার পক্ষ থেকে কিছু বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তাঁদের সকলেরই মোটামুটি একই মত। বর্ধমান শহরের রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডঃ সুভাষ চন্দ্র দত্ত জনতার কথাকে বলেন, বিড়াল রাস্তা কাটলেই দূর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী এরকমটা ভাবার ভিতরে কোনও বিজ্ঞানসম্মত কারণ নেই। তবে আমাদের বিশেষ করে যারা দু-চাকার যান ব্যবহার করি তাঁদের প্রত্যেককেই আকারে বড় যেকোনো জীব-জন্তুর থেকেই সাবধানে থাকা উচিত। সেটা বিড়াল, কুকুর, শিয়াল, গরু যেকোনো ধরনের জীবজন্তু হতে পারে। এছাড়া অনেক সময় দেখা যায় বিড়ালকে তারা করে পিছনে দ্রুত গতিতে কুকুর আসতে পারে, ফলে দুচাকার যানের দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী। তিনি আরও জানান, সাধারনভাবে কালো রঙকে আমরা অশুভ বলেই গন্য করি। কোনও শুভ অনুষ্ঠানে কালোকে আমরা বর্জন করে থাকি। তাই কালো বিড়ালকে বেশি অশুভ বলে মনে করা হয়। আমার ব্যাক্তিগত মত, কালো অনেক রঙয়ের থেকে বেশী আকর্ষনীয় ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ। যেকনো রঙ্গের বিড়ালের থেকে কালো বিড়ালকে আনেক বেশি ভয়ংকর লাগে। তাই হয়ত সেই ভয় থেকেই এই কুসংস্কারের জন্ম।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যের মন্ত্রীর স্ত্রী দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়েতে দুর্ঘটনার কবলে, বর্ধমান থেকে ছুটে গেলেন বাবা

দুর্ঘটনার কবলে রাজ্যের মন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী অনিন্দিতা দাস কবীরের গাড়ি। মঙ্গলবার বিকাল চারটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটে গুড়াপ থানার বশিপুর মোড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেলে বর্ধমানের দিক থেকে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলেন মন্ত্রীর স্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী অনিন্দিতা। গাড়িতে ছিলেন তাঁর সিকিউরিটি। দুর্ঘটনায় ড্রাইভারসহ তিন জনই জখম হয়েছেন।দুর্ঘটনাগ্রস্ত লালবাতি লাগানো গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ গুড়াপ থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা যাওয়ার পথে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে বশিপুর এর কাছে হুমায়ুনের স্ত্রীর গাড়িতে পিছন থেকে ধাক্কা মারে একটি লরি। যার ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকা একটি কনটেইনারের পিছনে ধাক্কা মারে। দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। লালবাতি গাড়িটির পিছনে ও সামনের অংশে ভেঙে গিয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গুড়াপ থানার পুলিশ।মেয়ের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অনিন্দিতার বাবা বর্ধমান থেকে চলে আসেন। ঘন্টা তিন পরে বাবার গাড়িতে তাঁরা কলকাতা রওয়ানা হয়ে যান।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২২
রাজ্য

কয়লাখাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, চারজনের মৃত্যুতে ব্যাপক উত্তেজনা খনি অঞ্চলে

লাউদোহার খোলামুখ খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটলো প্রজাতন্ত্র দিবসে। জানা গিয়েছে, কয়লা চুরি করতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোররাতে মাধাইপুর খোলামুখ খনিতে কয়লা চাপা পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তারপর উদ্ধারকার্য শুরু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।বুধবার ভোরে লাউদোহার মাধাইপুর খোলামুখ খনিতে ভায়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে অবৈধভাবে কয়লা চুরি করছিল কয়েকজন। হঠাৎ করেই ধ্বসে কয়লার বিশাল চাঁই পড়ে চাপা পরে একাধিক অবৈধ কারবারি। এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আটকদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানাতে থাকে স্থানীয়রা। ক্রমশ উত্তেজনা ছড়াতে থাকে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। এরপর জেসিপি দিয়ে শুরু হয় উদ্ধারের কাজ। উদ্ধার করা হয় কিশোর বাউড়ি নামের এক ব্যক্তিকে। তাঁকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। সূত্রের খবর, এরপর কয়লার চাঁই সরাতেই চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরা হলেন, আনাহরি বাউড়ি(৫০), নটবর বাউরি(২৫), শ্যামল বাউরি (২৩) ও পিংকি। স্থানীয়রা জানিয়েছে, মৃত ও আহত সকলেই একই পরিবারের সদস্য। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, যখন থেকে খোলামুখ খনি হয়েছে তখন থেকেই এখানে অবৈধভাবে কয়লা চুরি হয়ে যায়। প্রতিদিন ভোর রাতে চলে অবাধে চুরির ঘটনা। চুরি বন্ধ করার জন্য প্রশাসন আগে ব্যবস্থা নিলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রয়োজনে চুরি আটকাতে তার কাঁটা দিয়ে ঘের দরকার বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।

জানুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

লরি বাইক সংঘর্ষের জেরে আগুনে পুড়লো দুটি গাড়ি, মৃত্যু দুই বাইক আরোহীর

লরি ও বাইকের সংঘর্ষের কারণে ধরে যাওয়া আগুনে পুড়লো দুটি গাড়ি। মৃত্যু হল বাইকে সওয়ার থাকা দুই আরোহীর। মঙ্গলবার বিকালে ভয়াবহ এই পথ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসির মানিক বাজার মোড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে। খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌছে ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে বাইক আরোহী দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে। তাদের পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। প্রত্যক্ষদর্শীরা যদিও দাবি করেছেন দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই বাইক আরোহী দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি বাইক পুলিশ আটক করেছে। দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে গলসি থানার পুলিশ বাইক আরোহী দুই ব্যক্তির নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায় জানা গিয়েছে, এদিন বিকালে বাইকে চেপে দুই ব্যক্তি গলসির ঝাড়ুল গ্রাম থেকে জাতীয় সড়ক ক্রস করে দুর্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল। জাতীয় সড়কে প্রথম লেন পেরিয়ে তারা মাঝখানে না দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় লেনে দাঁড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ে ফলে বর্ধমান থেকে দুর্গাপুরগামী একটি বারো চাকা লরি তাদের ধাক্কা মারে। লরির গতী বেশি থাকায় আরোহী সহ বাইকটিকে বেশ কিছু দূরে হিঁচড়ে নিয়ে যায় লরিটি। তখন মোটর বাইকের দুই আরোহী রাস্তায় পরে যায়।তারই মধ্যে ঘর্ষণের ফলে লরির তলায় থাকা বাইকে আগুন লেগে যায়।সেই আগুন লরিতেও ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় উপরেই বাইক ও লরিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। খবর পেয়ে গলসি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।খবর দেওয়া হয় দমকলে। দমকলের প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
দেশ

মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত বিজেপি বিধায়কের ছেলে-সহ ৭ ডাক্তারি পড়ুয়া, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বিজেপি বিধায়কের পুত্র-সহ আরও ৬ জনের।মৃতরা সকলেই ডাক্তারি পড়ুযা।সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওয়ার্ধা থেকে দেওলি অভিমুখে যাচ্ছিল গাড়িটি। সেই সময় সেলসুরার কাছে একটি সেতু থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। মৃত্যু হয় গাড়িতে থাকা সাতজনেরই। তাঁরা সকলেই সাওয়াঙ্গি মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া।Maharashtra | 7 medical students, including BJP MLA from Tirora constituency Vijay Rahangdales son Avishkar Rahangdale, died after their car fell from a bridge near Selsura around 11.30 pm on Monday (January 24) pic.twitter.com/Hc9WC7sZvx ANI (@ANI) January 25, 2022ঘটনায় টুইটে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাশাপাশি, দুর্ঘটনাগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন নমো। টুইটেই জানিয়েছেন মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।Pained by the loss of lives due to an accident near Selsura in Maharashtra. In this hour of sadness, my thoughts are with those who have lost their loved ones. I pray that those injured are able to recover soon: PM @narendramodi PMO India (@PMOIndia) January 25, 2022দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে অন্যতম মহারাষ্ট্রের তিরোরা বিজেপি বিধায়ক বিজয় রাহাংদালের পুত্র আবিষ্কার রাহাংদালে। পবন শক্তি নামে আরও একজন ছিলেন প্রথম বর্ষের পড়ুয়া। বাকি চারজন ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র।PM @narendramodi announced that Rs. 2 lakh each from PMNRF would be given to the next of kin of those who have lost their lives in the accident near Selsura. Those who are injured would be given Rs. 50,000. PMO India (@PMOIndia) January 25, 2022

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
বিনোদুনিয়া

ক্যালিফোর্নিয়ায় দুর্ঘটনার কবলে জনপ্রিয় হলিউড তারকার গাড়ী

বড়সড় গাড়ি দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলেন জনপ্রিয় হলিউড তারকা তথা ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাক্তন গভর্নর আর্নল্ড সোয়ার্ৎজেনেগার। এই দুর্ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে শুক্রবার বিকেলে ৪:৩৫ নাগাদ ক্যালিফোর্নিয়ার সানসেট এবং অ্যালানফোর্ড অঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আর্নল্ডের গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে অন্য একটি গাড়িকে। এতটাই জোর ছিল যে একটি গাড়ি অন্যটির উপর প্রায় উঠে যায়! দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন এক মহিলা। তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর নেই। ফক্স নিউজ ডিজিট্যাল-কে জানিয়েছেন লস এঞ্জেলস পুলিশের ড্রেক ম্যাডিসন নামের এক আধিকারিক। আরও জানা গেছে টার্মিনেটর এর ইউকোন গাড়িটি লাল রঙের একটি টয়োটা প্রিয়াসকে সজোরে ধাক্কা মারেন। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দুটি গাড়িই। তবে অক্ষত আছেন হলি-তারকা। দুর্ঘটনায় কোনও আঁচড়ও পড়েনি তাঁর শরীরে। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে নেটপাড়ায় হু হু করে ভাইরাল হয়েছে সেই দুই গাড়ির ছবি। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দেখে মনে হয়েছিল কোনও ছবির ভয়ংকর স্টান্টের দৃশ্য দেখছি।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্থায়ীকরণ ও ‘সমকাজে সমবেতন’-এর দাবিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দ্বারস্থ SACTWA, ইতিবাচক আশ্বাসে বাড়ল প্রত্যাশা

উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মরত রাজ্য-সহায়তা প্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক কল্যাণ সমিতি (State Aided College Teachers Welfare Association - SACTWA)-এর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ হরেকৃষ্ণ বেরা-র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষ-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে SACT শিক্ষকদের কর্মজীবনের বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সমকাজে সমবেতন নীতি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত SACT শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোরালো দাবি তোলা হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও SACT শিক্ষকদের বেতন ও পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁদের ন্যায্য অধিকার দ্রুত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।এছাড়াও প্রতিনিধি দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র নির্বাচনী সংকল্প পত্রে SACT শিক্ষকদের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানায়। সংগঠনের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব রূপ দেওয়া উচিত।সংগঠনের দাবি ও বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর প্রতিমন্ত্রী ডাঃ হরেকৃষ্ণ বেরা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেন যে, আগামী দিনে বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও মন্ত্রীর এই আশ্বাসে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।এই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল দাস, জেলা সভাপতি নন্দন মান্না, মনোজ কুমার মাইতি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি অমিতাভ পাহাড়ি, পীযূষ দাস মহাপাত্র, সুব্রত ভট্টাচার্য-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, SACT শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! মুখ্যমন্ত্রীর ফোনের পরই সিট গঠন, একের পর এক গ্রেপ্তার

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার ভোরে দেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। দ্রুত তদন্তের স্বার্থে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।রবিবার দুপুরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানীভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের পরই তদন্তে আরও গতি আসে। সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের এগারো বছরের এক নাবালিকা। রবিবার ভোরে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। কুলপি রোডে নাবালিকার দেহ রেখে পথ অবরোধ করা হয়। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। এর জেরে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচলও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ, অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয় এবং একাধিক পুলিশ গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।এই ঘটনার জেরে বারুইপুর থানায় মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশকে আক্রমণ, অবরোধ, ভাঙচুর এবং এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
স্বাস্থ্য

বর্ষায় ত্বক ও চুলের যত্নে প্রসাধনী বাছাইয়ে সতর্কতা, কী রাখবেন বিউটি কিটে?

এ বছর বর্ষার আগমন কিছুটা দেরিতে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবে এখন বর্ষা সক্রিয় হওয়ায় একদিকে যেমন মিলেছে স্বস্তি, অন্যদিকে বেড়েছে বাতাসের আর্দ্রতা। এই পরিবর্তিত আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলের ওপরও পড়ছে বিশেষ প্রভাব। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলো এবং আর্দ্রতার কারণে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বর্ষাকালে সঠিক প্রসাধনী নির্বাচন এবং নিয়মিত ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, সুস্থ থাকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তির বৃষ্টি, অন্যদিকে ত্বক ও চুলের নানাবিধ সমস্যা। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ঘাম, ধুলো এবং বৃষ্টির জল মিলিয়ে এই সময়ে ত্বক হয়ে উঠতে পারে তৈলাক্ত, আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা দেয় ব্রণ, র্যাশ বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের আশঙ্কা। তাই বর্ষাকালে প্রসাধনী ব্যবহারে প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে ভারী বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত প্রসাধনীর বদলে হালকা, নন-কমেডোজেনিক (যা সহজে রোমছিদ্র বন্ধ করে না) এবং জলভিত্তিক পণ্য ব্যবহার করাই ভালো। এতে ত্বক সতেজ থাকে এবং ব্রণের ঝুঁকিও কমে।বর্ষার বিউটি কিটে কী কী রাখবেন?১. মৃদু ফেসওয়াশ:দিনে অন্তত দুবার মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকে জমে থাকা ঘাম, ধুলো ও অতিরিক্ত তেল দূর হয়। তবে অতিরিক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করাও ঠিক নয়, এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।২. হালকা ময়েশ্চারাইজার:অনেকেই মনে করেন বর্ষায় ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখতে হালকা জেল বা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।৩. সানস্ক্রিন:মেঘলা আকাশ থাকলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে উপযুক্ত এসপিএফ-যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।৪. ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ:বর্ষায় সাধারণ মেকআপ সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ওয়াটারপ্রুফ কাজল, মাসকারা, আইলাইনার ও লং-লাস্টিং ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ঠিক থাকে।৫. হালকা লিপ বাম:বৃষ্টির সময়েও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করলে ঠোঁট নরম ও সুরক্ষিত থাকে।চুলের যত্নেও নজর দিনবর্ষায় চুলে আর্দ্রতার প্রভাব বেশি পড়ে। ফলে খুশকি, চুল পড়া বা স্ক্যাল্পে সংক্রমণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখা বা অপরিষ্কার রাখা উচিত নয়।প্রসাধনী ব্যবহারে যেসব ভুল এড়াবেন* মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।* অন্যের মেকআপ বা প্রসাধনী ভাগ করে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।* ভেজা হাতে প্রসাধনীর পাত্রে বারবার হাত দেবেন না।* ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রসাধনী ব্যবহার বন্ধ করুন।* সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণপ্রসাধনী ব্যবহার যতই হোক, পর্যাপ্ত জল পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুমই ত্বক ও চুল ভালো রাখার অন্যতম চাবিকাঠি। বর্ষায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী নির্বাচন করলেই এই মৌসুমেও সৌন্দর্য থাকবে অটুট।মনে রাখবেন: বাজারে নতুন কোনও প্রসাধনী কেনার আগে তার উপাদান, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিন। প্রয়োজন হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই নতুন পণ্য ব্যবহার করুন।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

১৪ বছর পরও মেলেনি বিচার! বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় নতুন তদন্তের দাবিতে বড় পদক্ষেপ পরিবারের

আরও একটি পাঁচ জুলাই। প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে হত্যার চৌদ্দ বছর পূর্ণ হলেও এখনও প্রকৃত বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ তুলছে তাঁর পরিবার। দীর্ঘদিনের তদন্তেও মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি বলে দাবি তাঁদের। তাই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য সামনে আসুক এবং প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক।দুই হাজার বারো সালের পাঁচ জুলাই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে গুলিতে নিহত হন উত্তর চব্বিশ পরগনার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। তিনি কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার শিক্ষক ছিলেন। সুটিয়া গণধর্ষণ মামলায় তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই হত্যাকাণ্ড গোটা রাজ্যকে নাড়া দিয়েছিল।ঘটনার এত বছর পরেও মামলার পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে পরিবার ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে এখনও পর্যন্ত প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি। রাজনৈতিক মহলেও এই মামলাকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই সব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবার এবং সুটিয়ার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, মামলাটি আবার তদন্ত করে সমস্ত সত্য প্রকাশ্যে আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার নেপথ্যে যারা ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুবার্ষিকীতে এদিন সুটিয়ার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর স্মরণে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এলাকাজুড়ে তাঁর স্মৃতিতে ব্যানার ও শ্রদ্ধার্ঘ্য দেওয়া হয়। প্রতিবাদ মিছিল, শোকসভা এবং তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন স্থানীয় মানুষ। উপস্থিত বক্তারা একটাই দাবি তোলেন, এত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের সদস্য প্রমানন্দ কবিরাজ বলেন, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হয়নি। তাই নতুন করে তদন্ত করে সমস্ত সত্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঞ্চের সভাপতি ননীগোপাল পোদ্দারের বক্তব্য, নতুন সরকার বিভিন্ন পুরনো ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নিচ্ছে। তাই বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলাতেও নতুন তদন্ত শুরু হবে বলে তাঁদের আশা।বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমিলা রায় বিশ্বাস জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর।অন্যদিকে বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, প্রতিবাদী মঞ্চের উদ্যোগে বসানো আবক্ষ মূর্তিটি বরুণ বিশ্বাসের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি নয়। এই বিষয় নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জুলাই ০৫, ২০২৬
দেশ

দানবাক্সের চুরি বন্ধ হতেই অবিশ্বাস্য বদল! প্রতিদিন কোটি টাকার বেশী বাড়ছে রাম মন্দিরের

pরাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে নিয়মিত চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর বদলে গিয়েছে ছবিটা। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে দানবাক্সের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা বন্ধ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তার পরেই মন্দিরের দৈনিক নগদ আয়ে চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ষোলো থেকে আঠারো লক্ষ টাকা সরকারি হিসাবে জমা পড়ত, এখন সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে চব্বিশ থেকে ছাব্বিশ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় আট লক্ষ টাকা বেশি জমা পড়ছে।সূত্রের দাবি, বিশেষ উৎসব বা বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনে অনুদানের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তবে সাধারণ দিনগুলিতেও এতদিন যে পরিমাণ অর্থ জমা পড়ত, এখন তার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। মন্দিরের অনুদান গ্রহণের কাউন্টারগুলিতেও আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ষাট হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা জমা পড়ত, এখন সেই অঙ্কও বেড়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্স থেকে নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলেই সরকারি হিসাবে কম টাকা জমা পড়ছিল।শুধু নগদ অর্থ নয়, দানে পাওয়া সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়েও তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া সোনার কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সোনা গলিয়ে সোনার বিস্কুটে পরিণত করা হয়ে থাকতে পারে, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায় এবং লুকিয়ে রাখা যায়।বিশেষ তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই মন্দিরে গিয়ে পরিদর্শন করেছে। মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দানে পাওয়া গয়না, মূল্যবান সামগ্রী, সংরক্ষণের নথি এবং সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি সরকারি টাঁকশালের সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষের লেনদেনের নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক এবং সরকারি টাঁকশালে পাঠানো সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর পূর্ণাঙ্গ হিসাবও চাওয়া হয়েছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দানে পাওয়া সমস্ত সোনা ও মূল্যবান ধাতু নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংরক্ষণ বা জমা করা হয়নি। এর একটি অংশ নগদ অর্থের সঙ্গে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভক্তদের দানের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়ের হিসাব প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা করত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। তবে সেই বৈঠকগুলিতে সোনা, রুপো এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর পরিমাণ ও সংরক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হত না বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে পুলিশের জালে কুখ্যাত মিনি ফিরোজ! মাথায় ৩৭টি মামলা, ভোরে নাটকীয় গ্রেপ্তার

দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেপ্তার হল গুলশন কলোনির কুখ্যাত দুষ্কৃতী মিনি ফিরোজ ওরফে মহম্মদ ফিরোজ খান। তাঁর সঙ্গে ধরা পড়েছে ঘনিষ্ঠ সহযোগী মহম্মদ সাজিদও। রবিবার ভোরে ডানকুনি টোল প্লাজার কাছ থেকে গুন্ডাদমন শাখার বিশেষ অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের তপসিয়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে মোট সাঁইত্রিশটি মামলা রয়েছে। গুলিচালনা, বেআইনি অস্ত্র রাখা, ভয় দেখানো, দুষ্কৃতী কার্যকলাপ এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মামলা দায়ের হয়েছে। বহুবার পুলিশের নজরে এলেও তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে গিয়েছিলেন।গত প্রায় এক দশক ধরে মধ্য কলকাতার গুলশন কলোনিতে মিনি ফিরোজের দাপট ছিল বলে অভিযোগ। গত বছর গুলিচালনার একটি ঘটনায় তাঁর নাম সামনে আসে। সেই সময় অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয় এবং পরে দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পরও তাঁর দাপট কমেনি বলেই অভিযোগ।তদন্তে উঠে এসেছে, মিনি ফিরোজ একা নয়, নিজের একটি দল নিয়েই এলাকায় সক্রিয় ছিল। সেই দলে মহম্মদ সাজিদ, মুস্তাফা-সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। কসবার প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। এতদিন সবাই গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও পুলিশের নজরদারি থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই মেলেনি।রাজ্যে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে চলা বিশেষ অভিযানের মধ্যেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডানকুনি টোল প্লাজার কাছে অভিযান চালায় গুন্ডাদমন শাখা। সেখান থেকেই মিনি ফিরোজ এবং সাজিদকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে তপসিয়া থানায় একাধিক মামলা থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেপ্তারের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
উৎসব

রথযাত্রায় ঐতিহ্যের পাশে রাজ্য, ১০০-১৫০ বছরের প্রাচীন রথ কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান; জেলাজুড়ে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশ নবান্নের

রথযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথ উৎসবগুলিকে আরও সুষ্ঠু ও জাঁকজমকপূর্ণ করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ১০০ থেকে ১৫০ বছর বা তারও বেশি পুরনো ঐতিহ্যশালী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই জেলার প্রশাসনের মাধ্যমে এই ধরনের ঐতিহাসিক রথযাত্রা কমিটিগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী ১৩ জুলাই এই অনুদানের চেক সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদিত প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে পারেন বলেও নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, রাজ্যজুড়ে রথযাত্রা এবং উল্টোরথকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসক (ডিএম)-দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রথযাত্রা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটক এই উৎসবে অংশ নেন। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলায় রথযাত্রার রুট এবং প্রধান জনসমাগমস্থলে সেবা শিবির (ফ্যাসিলিটেশন ক্যাম্প) গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের শিবির উল্টোরথের দিনও চালু রাখতে হবে। প্রতিটি জেলার জন্য এই শিবির পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সেবা শিবিরে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস প্যাকেট, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, প্রবীণ নাগরিক, মহিলা, শিশু এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ভক্তবান্ধব পরিষেবাও চালু করা যাবে।এছাড়াও, কোনও জেলার প্রশাসনের মতে যদি কোনও রথযাত্রা কমিটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বিপুল জনসমাগম বা উৎসবের ব্যাপ্তির কারণে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার যোগ্য হয়, তবে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।রথযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উৎসবের আগেই জেলা প্রশাসনকে পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, দমকল, পূর্ত দপ্তর, পুরসভা, পঞ্চায়েত, পরিবহণ দপ্তর, রথযাত্রা কমিটি, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকগুলিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে।নবান্ন আরও জানিয়েছে, রথযাত্রার রুট ও সেবা শিবিরে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনেই করতে হবে। পাশাপাশি, ভক্তদের সুবিধার জন্য শিবিরে কী কী পরিষেবা পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কেও প্রচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।উৎসব শেষ হওয়ার পরে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে গৃহীত পদক্ষেপ, বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার, কর্মসূচির আলোকচিত্র এবং সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন দ্রুত তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জমা দিতে হবে। প্রশাসনের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলিকে সংরক্ষণ, উৎসাহ প্রদান এবং ভক্তদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রাচীন রথযাত্রা হিসেবে সর্বাধিক স্বীকৃত হল মাহেশ রথযাত্রা।মাহেশ রথযাত্রা (হুগলি),স্থান: মাহেশ,জেলা: হুগলী,শ্রীরামপুর মহকুমা,শুরু: আনুমানিক ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ,প্রতিষ্ঠাতা: ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী (Dhrubananda Brahmachari)-এর মাধ্যমে জগন্নাথদেবের পূজার প্রচলন হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয়।বয়স: প্রায় ৬৩০ বছরেরও বেশি (২০২৬ সালের হিসেবে)।বিশেষত্ব: এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, India-র অন্যতম প্রাচীন এবং Puri-র বাইরে সবচেয়ে বিখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রাগুলির একটি।ইতিহাসমাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে বহু শতাব্দী ধরে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমান বিশাল কাঠের রথটি ১৯শ শতকে নতুনভাবে নির্মিত হলেও রথযাত্রার ঐতিহ্য কয়েক শতাব্দী পুরোনো। প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্ত এই উৎসবে অংশ নেন।উল্লেখযোগ্য প্রাচীন রথযাত্রামহেশ রথযাত্রা, শ্রীরামপুর (হুগলী জেলা)(Mahesh Rath Yatra) প্রায় ৬৩০+ বছরের ঐতিহ্য।গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা (হুগলী জেলা) Guptipara Rath Yatra প্রায় ২৭০৩০০ বছরের ঐতিহ্য; ভাণ্ডার লুঠ উৎসবের জন্য বিখ্যাত।ময়না রথযাত্রা, চিরঞ্জীবপুর (পূর্ব মেদিনীপুর) Moyna Rath Yatra কয়েক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য।মহিষাদল রথযাত্রা, (পূর্ব মেদিনীপুর) Mahishadal Rath Yatra রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক রথযাত্রা।পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক ঐতিহাসিক রথযাত্রা হিসেবে হুগলির মাহেশ রথযাত্রা-ই স্বীকৃত। এর ইতিহাস প্রায় ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে ধরা হয়, ফলে এটি ৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

পলাতক সুমিতকে খুঁজতে এবার বড় পদক্ষেপ! রাতভর জেরায় উঠে এল কোন নতুন সূত্র?

জমি কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় এখনও অধরা। তাঁকে খুঁজে বের করতে তদন্তে গতি বাড়িয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে সুমিতের সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র ধরে দেবরাজ চক্রবর্তীকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বেঙ্গল বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের আশা, এই জেরার সূত্র ধরেই পলাতক সুমিতের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রাতে দেবরাজ চক্রবর্তীকে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, দেবরাজের সঙ্গে সুমিত রায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেই কারণেই দেবরাজের কাছ থেকে সুমিতের বর্তমান অবস্থান এবং তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।তদন্তে জানা গিয়েছে, জমি কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় প্রথম সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাঁকে খুঁজতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। পাশাপাশি সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি করা হলেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।অন্যদিকে, সম্প্রতি তোলাবাজি, হুমকি এবং প্রতারণার অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল বিশেষ তদন্তকারী দল। বর্তমানে তিনি তদন্তকারীদের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত সাড়ে দশটা থেকে বাগুইআটি থানায় তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।তদন্তকারীদের সন্দেহ, দেবরাজের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সুমিত রায়ের কোনও যোগ ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তোলাবাজির মাধ্যমে আদায় হওয়া টাকা সুমিতের কাছে পৌঁছত কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশ মনে করছে, দেবরাজের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে এই মামলার আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই কারণেই আগামী দিনেও তাঁকে ফের জেরা করা হতে পারে।

জুলাই ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal