• ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bengal

রাজ্য

দুর্গাপুর থেকে তৃণমূলে আক্রমণ নিতিন নবীনের, ‘এবার বাংলার পালা’

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর ভোটের রাজ্য বাংলায় এসে পৌঁছলেন বিজেপি নেতা নিতিন নবীন। মঙ্গলবার দুর্গাপুরে আসেন তিনি। বুধবার সেখান থেকেই জনসভা করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানান বিজেপির নতুন সভাপতি। সভামঞ্চ থেকে রাজ্যের দুর্নীতি, ধর্মীয় ইস্যু, প্রশাসনের ভূমিকা ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে একের পর এক কড়া মন্তব্য করেন তিনি।নিতিন নবীন বলেন, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তৃণমূলের একাধিক নেতা জেলে রয়েছেন, আবার অনেকে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাঁরা এখনও বাইরে আছেন, তাঁরাও জেলে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর দাবি, দুর্নীতির সঙ্গে যাঁরাই যুক্ত, কাউকেই ছাড়া হবে না।দুর্গাপুজো প্রসঙ্গে নিতিন নবীন বলেন, শক্তির আরাধনা দুর্গাপুজো থেকেই শুরু হয় এবং বাংলা থেকেই তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ এই রাজ্যেই মায়ের পুজোয় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আজান চলার সময় কোনও সমস্যা হয় না, কিন্তু দুর্গার আরাধনায় বাধা তৈরি করা হয়। বিজেপি নেতা বলেন, কোনও হিন্দুই এই পরিস্থিতি মেনে নেবে না এবং পরম্পরা রক্ষায় বিজেপি সব রকম ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক চরিত্র বদলের চেষ্টা চলছে। তামিলনাড়ুতে দীপম উৎসবে পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়েছে আজানের কারণে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই রাজ্যের সরকার ইন্ডি জোটে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নিতিন নবীন। আদালত পুজোর অনুমতি দেওয়ার পর বিচারপতিকে সরাতে ইমপিচমেন্টের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, সনাতনী সংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াই শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের।প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে নিতিন নবীন বলেন, এটি চার দিনের সরকার। তৃণমূলের কথায় নাচবেন না। কাঠের পুতুল হয়ে থাকবেন না। প্রশাসনের কাজ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঘরে ঘরে গিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা মানুষকে জানাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে, তার উল্টো গোনা শুরু করে দিয়েছে বাংলার মানুষ। খুব শিগগিরই বিজেপি বাংলার বিকাশের দায়িত্ব নেবে বলে দাবি করেন তিনি।এসআইআর ইস্যুতেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্য, দিল্লিতে গিয়ে কান্নাকাটি করা হবে, অথচ রাজ্যে এসপি ও ডিএমদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, কমিশন অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে চাইছে। যাঁদের জন্ম বাংলায়, যাঁরা এই মাটির মানুষ, তাঁরাই বাংলার অধিকার পাবেন। বাংলাদেশ থেকে আসা কোনও অনুপ্রবেশকারীকে বাংলায় থাকার অধিকার দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন বিজেপি সভাপতি।তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে নিতিন নবীন বলেন, একসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু এখন তার থেকেও বড় দুর্নীতির কারখানা তৈরি হয়েছে। বিজেপি আগেও উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো রাজ্যে তথাকথিত জঙ্গলরাজ শেষ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এবার বাংলার পালা। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, প্রত্যেক কর্মীর পিছনে পুরো বিজেপি পরিবার রয়েছে। লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
দেশ

ভোটের মুখে পদ্ম সম্মান! এগিয়ে বাংলা, কেরলকে কেন এত গুরুত্ব দিল কেন্দ্র?

এগিয়ে বাংলা, তার পরেই কেরল। ভোটের মুখে এই দুই রাজ্যে কেন্দ্র বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রবিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক চলতি বছরের পদ্ম সম্মান প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করার পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। সরাসরি কোনও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু না হলেও তালিকা প্রকাশের পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠছে।প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এ বছর বাংলা থেকে পদ্ম সম্মান পেয়েছেন ১১ জন, আর কেরল থেকে পেয়েছেন আট জন। এই দুই রাজ্যই চলতি বছরে বিজেপির কাছে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই সম্মানের তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক গুঞ্জন।চলতি বছরের পদ্ম সম্মান প্রাপকদের তালিকায় একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক মুখের নাম রয়েছে। এমনকি রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরাও। কেন্দ্রের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এ বছর পদ্মভূষণ সম্মান পাচ্ছেন মোট ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেন। ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে তিনি গুরুজি বা দিশম গুরু নামে পরিচিত ছিলেন।শিবু সোরেনের পাশাপাশি পদ্ম সম্মান পাচ্ছেন কেরলের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভি এস অচ্যুতানন্দন। সাধারণত বামপন্থীরা রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণ করেন না। অতীতে জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ভারতরত্ন এবং পদ্মবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে অচ্যুতানন্দনের নাম পদ্ম সম্মানের তালিকায় থাকায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বিষয়টি। প্রয়াত এই বাম মুখ্যমন্ত্রীকে এ বছর পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করছে কেন্দ্র।এই সম্মান নিয়ে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। দলের তরফে শুধু জানানো হয়েছে, কেরল সরকার অচ্যুতানন্দনের নাম পদ্ম সম্মানের জন্য সুপারিশ করেনি। একই সুর শোনা যাচ্ছে বাংলার বাম শিবিরেও। এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ তাঁরা।তবে অচ্যুতানন্দনের পুত্র অরুণকুমার কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাবার এই সম্মানে তিনি খুশি বলে জানান। উল্লেখ্য, শুধু অচ্যুতানন্দনই নন, কেরল থেকে এ বছর আরও সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তি পদ্ম সম্মান পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে পদ্ম সম্মানের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনা।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
কলকাতা

ফের কি রাজীব কুমার? রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদ ঘিরে বড় প্রশ্ন

আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসর নিচ্ছেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার। তাঁর সরকারি বিদায় সংবর্ধনার দিনও ঠিক হয়েছে ২৮ জানুয়ারি। গত দুবছর ধরে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদে ছিলেন তিনি। তাঁর অবসরের সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের পরবর্তী ডিজি কে হচ্ছেন।নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্য সরকার যে পুলিশকর্তাদের নাম ডিজি পদের জন্য কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে রাজীব কুমারের নামও। এর জেরে জল্পনা শুরু হয়েছে, তাঁকেই কি আবার ডিজি পদে রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিশের পরবর্তী ডিজি পদের জন্য মোট আট জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারের নাম প্রস্তাব করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওই তালিকায় রাজীব কুমারের পাশাপাশি রয়েছেন আইপিএস রাজেশ কুমারও। গত বুধবার এই তালিকা দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে।নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকার প্রথমে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কাছে সিনিয়র আইপিএস অফিসারদের নামের একটি প্যানেল পাঠায়। সেখান থেকে ইউপিএসসি তিন জনের নাম বেছে রাজ্যকে পাঠায়। ওই তিন জনের মধ্য থেকেই রাজ্য সরকার একজনকে স্থায়ী ডিজি হিসেবে নিয়োগ করে।রাজ্যের পাঠানো তালিকায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার, আইপিএস রাজেশ কুমার এবং আরও ছয় জন সিনিয়র আইপিএস অফিসার রণবীর কুমার, দেবাশিস রায়, অনুজ শর্মা, জগমোহন, এন রমেশ বাবু ও সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। একটি সূত্রের দাবি, পরবর্তী স্থায়ী ডিজি পদের জন্য পীযূষ পাণ্ডে, রাজেশ কুমার এবং রণবীর কুমারের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। পীযূষ পাণ্ডে প্রাক্তন এসপিজি অফিসার এবং বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। যদিও এই তিন জনের মধ্য থেকেই যে পরবর্তী ডিজি হবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।উল্লেখ্য, রাজ্য পুলিশের শেষ স্থায়ী ডিজি ছিলেন মনোজ মালব্য। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেন। নিয়ম অনুযায়ী, ডিজি অবসরের সময় রাজ্যের যে আট জন সিনিয়র আইপিএস অফিসার ছিলেন, তাঁদের নামই ইউপিএসসি-র কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই কারণেই বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারের নামও তালিকায় রয়েছে।এর আগে স্থায়ী ডিজি নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার একবার নামের তালিকা পাঠিয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে সেই প্রক্রিয়া আটকে যায়। ইউপিএসসি জানায়, ডিজি অবসরের অন্তত তিন মাস আগে প্রস্তাবিত নামের প্যানেল পাঠানো উচিত ছিল। অর্থাৎ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তালিকা পাঠাতে হত। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই তালিকা পাঠিয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর। ফলে সেই প্যানেল ফেরত পাঠানো হয়।এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন আইপিএস রাজেশ কুমার। ১৯৯০ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার বর্তমানে রাজ্যের গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের মুখ্যসচিব। তাঁর দাবি, ডিজি হওয়ার সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ট্রাইবুনাল নির্দেশ দেয়, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে নতুন করে ডিজি পদের জন্য প্রস্তাবিত নামের তালিকা ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হবে রাজ্য সরকারকে।

জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
রাজ্য

কলকাতা নয়, কেন বর্ধমান? বিজেপি সভাপতির সফর ঘিরে জল্পনা

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে বসেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছেন নীতীন নবীন। সামনে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যে বিজেপির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান দেখে ভোটের লড়াই যে সহজ হবে না, তা দলের অন্দরেও মানা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতি বুঝেই সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সফরের জন্য বাংলা বেছে নিলেন নীতীন নবীন।তবে কলকাতাকে এড়িয়ে তিনি যাচ্ছেন মধ্যবঙ্গে। বিজেপির মতে, এই অঞ্চল এখনও সম্ভাবনাময়। বর্ধমান ও দুর্গাপুরে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। মেলার উদ্বোধন, দলীয় বৈঠক এবং জনসভাসব মিলিয়ে ব্যস্ত সূচি তৈরি করা হয়েছে। শনিবার বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক নীতীন নবীনের চূড়ান্ত সফরসূচি প্রকাশ করেছেন।জানা গিয়েছে, ২৭ জানুয়ারি দুর্গাপুরে এসে কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রচারের জন্য আয়োজিত কমল মেলার উদ্বোধন করবেন নীতীন নবীন। পরদিন ২৮ জানুয়ারি সকালে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি জেলা কমিটির সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করবেন তিনি। দুর্গাপুরের মেলা ময়দানে একটি জনসভাও করার কথা রয়েছে তাঁর।নীতীন নবীনের বঙ্গ সফর শুরু হচ্ছে দুর্গাপুর থেকেই। ইস্পাত নগরীর রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে কমল মেলার উদ্বোধন দিয়েই তাঁর প্রথম কর্মসূচি। ওই দিন রাতে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হোটেলে বিজেপির রাজ্য কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এই হোটেলটি আগের বিধানসভা ভোটে বিতর্কের কেন্দ্রেও ছিল। প্রয়াত কয়লা মাফিয়া ও বিজেপি নেতা রাজু ঝাঁয়ের ওই হোটেলকে ঘিরে সে সময় রাজনৈতিক সমালোচনা হয়েছিল।২৮ জানুয়ারি সকালে ভিড়িঙ্গি কালীবাড়িতে পুজো দেওয়ার পর পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন নীতীন নবীন। পরে রানিগঞ্জে আসানসোল জেলার কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। দলীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা ভোটের রণকৌশল নিয়েই এই বৈঠকগুলি।২৭ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কমল মেলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নীতীন নবীন ছাড়াও উপস্থিত থাকার কথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ রাজ্য নেতৃত্বের। মেলায় প্রায় ৮০টি স্টল থাকবে, যেখানে কোনও টাকা ছাড়াই কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানো হবে।তবে এই কমল মেলাকে ঘিরে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। দুর্গাপুর নাগরিক সমাজ-এর নামে এই মেলার আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের বক্তব্য, যারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বোঝে না, তারা বহিরাগতদের এনে বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে বড়াই করছে।এর মধ্যেই জানা যাচ্ছে, নীতীন নবীনের পরপরই বাংলায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দলীয় সূত্রে খবর, ৩০ জানুয়ারি রাতে কলকাতায় পৌঁছবেন তিনি। ৩১ জানুয়ারি শিলিগুড়িতে কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। ওই দিন বারাসতেও জনসভা করার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে জানুয়ারি মাসেই একের পর এক কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতার বঙ্গ সফর রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াচ্ছে।

জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২২ জানুয়ারির শোক আরও গভীর! প্রয়াত ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন তারকা ইলিয়াস পাশা

চার বছর আগে এই দিনেই, ২২ জানুয়ারি, প্রয়াত হয়েছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ সুভাষ ভৌমিক। সেই শোকের দিনেই ফের এক দুঃসংবাদ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়াত হলেন প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার ইলিয়াস পাশা। লাল-হলুদ শিবিরের এক সময়কার নির্ভরযোগ্য রক্ষণভাগের এই ফুটবলার দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ময়দানে।ভারতীয় ফুটবলকে একাধিক তারকা উপহার দিয়েছে বেঙ্গালুরু। আমেদ খান, অরুময় নৈগম, বাবু মানি, নারায়ণস্বামী উলগানাথন, কার্লটন চ্যাপম্যানদের সেই তালিকায় ছিলেন ইলিয়াস পাশাও। ১৯৮৯ সালে আইটিআই থেকে কলকাতায় এসে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দেন তিনি। তার এক বছর পরেই ইস্টবেঙ্গলে নাম লেখান। গায়ে ওঠে ১৭ নম্বর জার্সি। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।ডান প্রান্তের রাইট ব্যাক হিসেবে পাশার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ওভারল্যাপিং দৌড়ে বিপক্ষ রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি করতেন তিনি। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত টানা নটি মরশুম ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছেন। এই সময়ে দুটি গোলও করেছিলেন। তার মধ্যে একটি মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। ১৯৯৬ সালের কলকাতা লিগে ডার্বিতে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন পাশা। সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।১৯৯৩ সালে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান ইলিয়াস পাশা। তাঁর নেতৃত্বেই ইরাকের শক্তিশালী ক্লাব আল জাওরার বিরুদ্ধে ৬-২ গোলে জয় পায় ইস্টবেঙ্গল। একই বছরে কাঠমান্ডুতে ওয়াই ওয়াই কাপও জেতে লাল-হলুদ। ইলিয়াস পাশা ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন ছবার কলকাতা লিগ, পাঁচবার ডুরান্ড কাপ, দুবার রোভার্স কাপ, চারবার এয়ারলাইন্স গোল্ড কাপ এবং একবার করে বরদলুই ট্রফি ও ফেডারেশন কাপ জেতেন। বাংলার জার্সিতে সন্তোষ ট্রফিও জয় করেছিলেন তিনি।ক্লাব ফুটবলে সফল হলেও জাতীয় দলে সেই সাফল্য পাননি পাশা। শুধুমাত্র ফুটবল খেলার জন্য চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। জীবনের শেষ দিকে আর্থিক সংকটে পড়লেও ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ লাল-হলুদ শিবির।

জানুয়ারি ২২, ২০২৬
কলকাতা

নির্দেশ অমান্য! রাজ্যকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল নির্বাচন কমিশন

চারজন নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, তাদের নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনেই সংশ্লিষ্ট ইআরও ও এইআরও-দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, একাধিকবার এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজ্য সরকার তা মানেনি। কেন কমিশনের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর চাওয়া হয়েছে।জানা গিয়েছে, গত বছরের অগস্ট মাসেই নির্বাচন কমিশনের তরফে এই বিষয়ে রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইআরও ও এইআরও-দের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ ছিল সেই চিঠিতে। সেই সময় রাজ্যের মুখ্যসচিব ছিলেন মনোজ পন্থ। তিনি দিল্লিতে গিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকও করেন। তবে সেই বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের শুধু সাসপেন্ড করা হয়, এফআইআর দায়ের করা হয়নি।চলতি বছরের শুরুতে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা প্রয়োজনে এফআইআর করতে পারবেন। এরপর নবান্ন থেকে চিঠি পাঠিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, কেন অপেক্ষাকৃত ছোট অপরাধে এত কঠোর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং কেন এফআইআর জরুরি। তার জবাবে কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, শাস্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাজ্য সরকারের নয়, নির্বাচন কমিশনের। সেই বিষয়টি ফের মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ, দ্রুত ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ করতে হবে।উল্লেখ্য, বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে ময়না ও বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। অভিযুক্ত চার আধিকারিক হলেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। তাঁদের সাসপেন্ড করার পাশাপাশি এফআইআর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় ফের রাজ্যকে চিঠি পাঠাল কমিশন।এই প্রসঙ্গে বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনকে যেন নাক-দন্তহীন প্রতিষ্ঠান বলে মনে না হয়, সেটাই তাঁদের দাবি। মুখ্যসচিব যদি কমিশনের নির্দেশ না মানেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধেও কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, যাঁরা মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ, তাঁরাই এখন শাস্তির কথা বলছেন, যা দুর্ভাগ্যজনক।

জানুয়ারি ২১, ২০২৬
কলকাতা

দুই দিনের মধ্যেই কর্মজীবন শেষ রাজীব কুমারের! রাজ্যকে কড়া নির্দেশ ক্যাটের

আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারের কর্মদিবসের শেষ দিন। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কড়া নির্দেশ দিল সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রাইবুনাল। বুধবার আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমারের মামলার প্রেক্ষিতে ক্যাট জানিয়ে দেয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই স্থায়ী ডিজি নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।ক্যাটের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে ই-মেল এবং বিশেষ বাহকের মাধ্যমে ইউপিএসসির কাছে ডিজিপি বা হেড অফ পুলিশ ফোর্স পদের জন্য এমপ্যানেলমেন্টের প্রস্তাব নতুন করে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে ইউপিএসসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির বৈঠক ডেকে নিয়ম মেনে প্যানেল চূড়ান্ত করতে হবে। সেই প্যানেল ২৯ জানুয়ারির মধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। প্যানেল হাতে পাওয়ার পর রাজ্য সরকারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।অর্থাৎ কার্যত আগামী পরশুর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ডিজি নিয়োগ নিয়ে ইউপিএসসির কাছে প্রস্তাব পাঠাতে বাধ্য রাজ্য সরকার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে স্থায়ী ডিজি মনোজ মালব্য অবসর নেওয়ার পর থেকে রাজ্যে আর স্থায়ী ডিজি নিয়োগ হয়নি। সেই সময় কোনও প্যানেল না পাঠিয়েই রাজীব কুমারকে ভারপ্রাপ্ত ডিজির দায়িত্ব দেয় রাজ্য সরকার।এই কারণেই ইউপিএসসি এখনও ২০২৩ সালের ডিসেম্বরকেই ডেট অব ভ্যাকেন্সি হিসেবে ধরে রেখেছে। যদিও ২০২৫ সালে রাজ্য সরকার দুবার ইউপিএসসির কাছে প্যানেল পাঠিয়েছিল, কিন্তু সেই প্যানেল গ্রহণ না করে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নিতে বলে ইউপিএসসি। বিষয়টি নিয়ে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানির দ্বারস্থ হয় কমিশন।অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শ ছিল, রাজ্য সরকারকে আগে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিতে হবে। শীর্ষ আদালত অনুমতি দিলে তবেই ইউপিএসসির পক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ করা সম্ভব। সেই অবস্থার মধ্যেই ক্যাটের এই নির্দেশ নতুন করে চাপ বাড়াল রাজ্য সরকারের উপর। এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিজি নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।

জানুয়ারি ২১, ২০২৬
রাজ্য

শীতের খেল বদল সোমবার থেকেই! রাতের ঠান্ডা কমছে, বাড়ছে পারদ

রবিবার পর্যন্ত রাজ্যে শীতের আমেজ থাকলেও সোমবার থেকেই আবহাওয়ার খোলনলচে বদলাতে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, উত্তুরে হাওয়ার দাপট কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে বাড়বে তাপমাত্রা। কলকাতায় এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ২৪ ডিগ্রির ঘরে।পশ্চিমের জেলাগুলিতে এখনও শীতের দাপট রয়েছে। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে সোমবার থেকেই এই জেলাগুলিতেও পারদ চড়তে শুরু করবে। আবহাওয়া দফতরের মতে, সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রিতে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।এদিকে সোমবার সকাল থেকেই বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই বর্ধমান, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় বিক্ষিপ্তভাবে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় যান চলাচলে সমস্যার সম্ভাবনাও রয়েছে।অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েক দিন কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদহ এবং দুই দিনাজপুরের কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারেরও নীচে নেমে যেতে পারে। সোমবার পর্যন্ত এই ঘন কুয়াশার সতর্কতা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।আগামী পাঁচ দিনে উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে নিচু জেলাগুলিতে পারদ ৮ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যেই থাকবে। সোমবারের পর সেখানে সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শীতের এই আচমকা বদলের পিছনে রয়েছে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে। এছাড়াও ১৯ জানুয়ারি ও ২১ জানুয়ারি নতুন করে আরও দুটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থানে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে এবং কোমোরিন এলাকায় তৈরি হয়েছে একটি ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ। এর জেরেই উত্তুরে হাওয়া বাধা পাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বাড়ছে।আগামী কয়েক দিন সকালবেলা কুয়াশার দাপট থাকলেও বেলা বাড়লে আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৪৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার তাপমাত্রা ১৩ থেকে ২৩ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
রাজ্য

মালদহ থেকে বন্দে ভারত স্লিপার চালু, অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর

বাংলা সফরের প্রথম দিনেই মালদহে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদা টাউন স্টেশন থেকে এ দিন দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি। নতুন এই ট্রেন অসমের উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রেন চালু হতেই খুশির হাওয়া মালদহ জুড়ে। উদ্বোধনের পরে ট্রেনের ভিতরে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি মালদহে একটি জনসভাও করেন তিনি।সভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব হন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, বিশ্বের সব উন্নয়নশীল দেশেই অনুপ্রবেশকারীদের বাইরে বের করে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের এক এক করে বের করে দেওয়া জরুরি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলে সেটা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল নেতারাই বছরের পর বছর অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় বসবাস করতে দিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের জমি সুরক্ষিত নয়, কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, টাকা লুট হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।মালদহের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার এলে মালদহের আম নির্ভর অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। রাজ্যে আরও বেশি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা হবে। রেশম চাষিদের জন্য কোটি টাকার প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাট শিল্পকে বাঁচাতে কেন্দ্র সরকার সব রকম চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের আগে যখন তৃণমূল কেন্দ্রের অংশ ছিল, তখন এমএসপি ছিল ২৪০০ টাকা, আর এখন তা বেড়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকারও বেশি হয়েছে।বন্যাত্রাণ নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, বহুবার ত্রাণের টাকা দেওয়া হলেও সেই টাকা সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছয়নি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা টাকা পায়নি। তাঁর দাবি, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হলে এই সব দুর্নীতি বন্ধ হবে।আম প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের কোনও উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নদীভাঙন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই সব ভেসে যায়, আর বন্যাত্রাণ নিয়ে কী হয়েছে, তা মানুষ নিজেরাই ভালো জানেন।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

শিলিগুড়িতে মহাকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস, বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি ও ১২ জ্যোর্তিলিঙ্গের প্রতিরূপে নতুন তীর্থক্ষেত্র

শিলিগুড়ি জেলার মাটিগাড়ায় এক ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রকল্পের সূচনা হল বুধবার। মহাকাল মহাতীর্থ-সহ একাধিক জনহিতকর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শুভ শিলান্যাস করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৭.৪১ একর জমির উপর গড়ে উঠতে চলা মহাকাল মহাতীর্থকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিবমন্দির নির্মাণ করা হবে। মন্দির চত্বরে থাকবে ভারতবর্ষের ১২টি জ্যোর্তিলিঙ্গের প্রতিরূপ এবং ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির। দুটি প্রবেশপথ, চার কোণে চার দেবতার মূর্তি, সাংস্কৃতিক হল ও কনভেনশন সেন্টার এই মহাতীর্থকে এক পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে। মহাকাল মূর্তির মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট, যার মধ্যে ১০৮ ফুট উচ্চ ব্রোঞ্জের মূল মূর্তি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই মন্দির নির্মাণের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু মন্দির নয়, মহাদর্শনের জন্য বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তিও এখানে তৈরি করা হচ্ছে। বাংলার এই পুণ্যতীর্থ যুগ-যুগান্ত ধরে বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে থাকবে।ভাষণে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলা সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভূমি। কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াক, দিঘায় জগন্নাথ ধাম ও দুর্গা অঙ্গন নির্মাণের পাশাপাশি রাজ্য সরকার বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের উন্নয়ন ও সংস্কারে নিরন্তর কাজ করেছে। তারকেশ্বর, তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা, জল্পেশ মন্দির, ফুল্লরা মন্দির, মদনমোহন মন্দির থেকে শুরু করে পাথরচাপুরি মাজার, মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরএকাধিক তীর্থক্ষেত্রের সংস্কার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফুরফুরা শরিফের উন্নয়ন, জাহের থান ও মাঝি থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, কবরস্থান সংস্কার এবং ইসকনকে ৭০০ একর জমি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ রাজ্যের সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভাবনাকেই তুলে ধরে। ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতি রক্ষায় দার্জিলিং ও কলকাতার বাড়ি রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও স্মরণ করান তিনি।মতুয়া সমাজ, রাজবংশী, তপশিলি ও আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ সব শ্রেণির মানুষের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম মুখে প্রচার করা যায় না, ধর্ম হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। ভাষণের শেষে তিনি মহাদেবের আশীর্বাদে বিশ্বচরাচরে শান্তি, সৌহার্দ্য ও কল্যাণ কামনা করেন।মাটিগাড়ার মহাকাল মহাতীর্থ প্রকল্প শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটন, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
কলকাতা

নিপা আতঙ্কের মাঝেই আশার খবর, কোমা কাটিয়ে সাড়া দিচ্ছেন আক্রান্ত নার্স

রাজ্যে নিপা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই মিলল কিছুটা স্বস্তির খবর। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত পুরুষ নার্স চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। এতদিন তিনি কোমায় ছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বারাসাতের নারায়ণা হাসপাতালে ভর্তি ওই নার্সকে ধীরে ধীরে ভেন্টিলেটর থেকে বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।একই সময়ে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত মহিলা নার্সের শারীরিক অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তিনি এখনও চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিপা সন্দেহে আইসোলেশনে থাকা কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তবে তাঁদের শরীর থেকে নেওয়া নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নদিয়া জেলা থেকে যাঁদের নমুনা পরীক্ষার জন্য কল্যাণী এইমস-এ পাঠানো হয়েছিল, সেই ৪৫ জনের রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে প্রশাসনের।এদিকে, দুই নার্স কীভাবে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য দফতরের অনুমান, কাটোয়ার এক নার্স ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া নদিয়া জেলার ঘুঘরাগাছি গ্রামে গিয়েছিলেন। ওই এলাকা থেকেই সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে কাঁচা খেজুরের রস ও খেজুরের গুড় তৈরির চল রয়েছে। ওই নার্স কাঁচা খেজুরের রস বা গুড় খেয়েছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল ওই গ্রামে যেতে পারে।নদিয়া থেকে ফেরার পর ১৮ ডিসেম্বর থেকে ওই নার্সের সর্দি-কাশির উপসর্গ দেখা দেয়। স্বাস্থ্য দফতরের অনুমান, তাঁর সংস্পর্শে এসেই পুরুষ নার্সের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দুজনে একই হাসপাতালে নাইট ডিউটি করেছিলেন। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়াই ভাল। তবে খেজুরের গুড় বা পাটালি খেলে সমস্যা নেই।নিপা আক্রান্ত দুই নার্সের চিকিৎসার জন্য দাদরা ও নগর হাভেলি থেকে বিশেষ ধরনের অ্যান্টিভাইরাল ইঞ্জেকশন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সহযোগিতায় মঙ্গলবার রাতে সেগুলি কলকাতায় পৌঁছয়। বুধবার সকালে সেই ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে।এর মধ্যেই নিপা সংক্রমণের আশঙ্কায় বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে আরও এক চিকিৎসক ও এক নার্সকে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়ার আক্রান্ত নার্সের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করতে গিয়েই তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়। তাঁরা দুজনেই বর্ধমান জেলায় কর্মরত ছিলেন। তাঁদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন এমন পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। প্রত্যেকের রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে।

জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
কলকাতা

সুপ্রিম কোর্টে বড় পদক্ষেপ ইডির, ডিজি রাজীব কুমারের সাসপেনশন চাইল কেন্দ্র

আইপ্যাক তল্লাশি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আরও একধাপ এগোল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির আগেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা শীর্ষ আদালতে নতুন করে একটি আবেদন জমা দিয়েছে। সেই আবেদনে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ডিজি রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়েছে ইডি।ইডির আবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ডিজি নন, আইপ্যাক তল্লাশির সময় যাঁরা যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, সেই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ইডির অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন রাজ্য পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক গুরুতর অসদাচরণ করেছেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি। এর ফলে তদন্তের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি ইডির।ইডি আরও অভিযোগ করেছে, ডিজি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার নজির এই প্রথম নয়। অতীতে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনায় বসেছিলেন, তখন কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন রাজীব কুমার। সেই সময় তিনিও ধরনায় বসেছিলেন, যা একজন আইপিএস অফিসারের দায়িত্ব ও আচরণবিধির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।এই আবেদনে ইডি সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয় রাজ্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য।এ বিষয়ে বিজেপি নেতা জগন্নাথ সরকার বলেন, রাজনীতি আর প্রশাসনকে আলাদা রাখা জরুরি। কিন্তু তৃণমূলের শাসনে সেই সীমারেখা মেনে চলা হয় না। এবার তার ফল ভোগ করতে হবে।উল্লেখ্য, আইপ্যাক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে মোট দুটি মামলা দায়ের করেছে ইডি। একটি মামলায় ইডি নিজে আবেদনকারী। অন্য মামলাটি করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে পক্ষ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তার আগেই ডিজি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানাল ইডি।

জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
রাজ্য

নিপা ভাইরাসে কাঁপছে বাংলায়! আবার রাজ্যে ফিরছে কোয়ারেন্টাইন ..

বাংলায় ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়াল। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি কল্যাণীর এইমস-এর ভাইরাস রিসার্চ ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় তাঁদের শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা পুণের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকারও নড়েচড়ে বসেছে। দিল্লি থেকে আজই একটি প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে আক্রান্ত নার্সদের সংস্পর্শে আসা এক চিকিৎসক, দুজন নার্স, একজন সাফাই কর্মী এবং একজন অ্যাম্বুলেন্স চালককে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিপা আক্রান্ত নার্স অসুস্থ অবস্থায় কাটোয়ায় যাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের খোঁজ চালাতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।জানা যাচ্ছে, ওই নার্স ২ জানুয়ারি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কাটোয়ার এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসক সিদ্ধেশ্বর গুপ্ত জানিয়েছেন, ওই তরুণী একবার জ্ঞান হারিয়েছিলেন ঠিকই, তবে তখন জ্বর বা গা ব্যথার মতো কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ চোখে পড়েনি।এর পর ৩ জানুয়ারি ফের সংজ্ঞা হারালে পরিবারের লোকজন তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত।এই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
কলকাতা

কবে ফিরবে ‘জিম লুক’? প্রকাশ্যে তরুণীর প্রশ্নে চমকপ্রদ জবাব অভিষেকের

অনেক আগেই নিজের ওজন কমিয়ে ছিপছিপে চেহারায় ফিরেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালো শার্ট পরে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে র্যালি করলে অনেকের চোখেই তিনি যেন সিনেমার নায়কের মতোই। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপির নেতারাও কটাক্ষ করতে গিয়ে তাঁকে হিরো বলেই ফেলেন। তবে রাজনীতির বাইরে তাঁর চলাফেরা, কথা বলার ভঙ্গি এবং স্টাইল ইতিমধ্যেই যুবসমাজের একাংশের মধ্যে আলাদা প্রভাব ফেলেছে।কয়েকদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে অভিষেক নিজের কয়েকটি জিম লুকের ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই ছবি দেখে অনেকেই প্রথমে চিনতেই পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় সেই পোস্ট। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই লুক নিয়ে প্রবল আলোচনা শুরু হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক কর্মসূচির মঞ্চে একেবারে অপ্রত্যাশিত প্রশ্নের মুখে পড়তে হল অভিষেককে।হাওড়ার বালিতে এক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য ও দেবাংশু ভট্টাচার্য। সেই সময় ভিড়ের মধ্য থেকে এক তরুণী সরাসরি প্রশ্ন করেন, দাদা, আপনি পরের জিম সেলফি কবে পোস্ট করবেন? প্রশ্ন শুনে মুহূর্তের মধ্যেই হাসির রোল ওঠে সভাস্থলে।একটুও না ভেবে অভিষেক মুচকি হেসে উত্তর দেন, ২৫০ করার পর। তৃণমূল জিতবে, ২৫০ হবে, তারপর হবে। এই কথার মধ্য দিয়েই তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের লক্ষ্য ২৫০ আসন। রাজনীতির বার্তার সঙ্গে হালকা মেজাজে দেওয়া এই জবাব মুহূর্তে উপস্থিত সকলের মন জিতে নেয়।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
রাজ্য

পৌষেই কামব্যাক শীতের! কলকাতায় নামতে পারে ১২ ডিগ্রির ঘরে পারদ

স্বাভাবিকের থেকে নীচেই রয়েছে তাপমাত্রা। আগামী দুদিনে পারদ আরও কিছুটা নামতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস। কয়েকদিন ধরে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া শীত আবার নতুন করে শক্তি ফিরে পাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই সক্রিয় হবে উত্তুরে হাওয়া। আবহবিদদের মতে, এই হিমেল হাওয়াই শীতকে ফের জাঁকিয়ে তুলবে। তাই পৌষ সংক্রান্তির সময় রাজ্য জুড়েই বজায় থাকবে শীতের আমেজ।আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে। খুব ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা কম হলেও কিছু এলাকায় বেলা পর্যন্ত কুয়াশা কাটতে দেরি হতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার কুয়াশার দাপট কিছুটা বাড়বে বলেই পূর্বাভাস।তাপমাত্রার দিক থেকে দেখা যাচ্ছে, দিনের বেলা খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও রাতের দিকে পারদ সামান্য নামতে পারে। আবহবিদদের অনুমান, পৌষ সংক্রান্তির দিন তাপমাত্রা আরও খানিকটা কমবে।উত্তরবঙ্গের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রাও কমবে। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় পারদ নেমে যেতে পারে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ৮ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।কলকাতাতেও আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রার পরিবর্তন স্পষ্ট হবে। মঙ্গলবার শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পারদ নামতে পারে ১২ ডিগ্রির ঘরে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকবে ৪৭ থেকে ৯৩ শতাংশের মধ্যে।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
রাজ্য

কাজের কাগজেই ভোটাধিকার! উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিকদের জন্য বড় ছাড় নির্বাচন কমিশনের

উত্তরবঙ্গের চা এবং সিঙ্কোনা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছাড় ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে এবার কাজের নথিই যথেষ্ট বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে বহু বাগান শ্রমিকের ভোটাধিকার পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হল।রবিবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে সংশ্লিষ্ট চা বা সিঙ্কোনা বাগানে কাজ করার প্রমাণপত্র জমা দিলেই হবে। তবে তার সঙ্গে বৈধ বাসস্থানের প্রমাণপত্র যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এই দুটি নথি থাকলেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আর কোনও সমস্যা হবে না।এই বিশেষ ছাড় শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের সাতটি জেলার জন্য প্রযোজ্য। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কোচবিহার জেলার চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকরাই এসআইআর পর্বে এই সুবিধা পাবেন।প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রথমে মোট ১১টি নথি নির্ধারণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরে আরও দুটি নথি যুক্ত করা হয়আধার কার্ড এবং বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত নথি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গের বহু চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকের কাছেই এই নথিগুলি নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা বাগানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আধুনিক পরিচয়পত্র অনেকের কাছেই অধরা।এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের সাত জেলার জেলাশাসকরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানান, যাতে বাগানের কাজের নথিকেই ভোটার তালিকাভুক্তির প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অবশেষে সেই দাবিতে সায় দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এর পাশাপাশি, রাজ্যের প্রান্তিক এবং বিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষের কথা মাথায় রেখে এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়াতেও বড় পরিবর্তন এনেছে কমিশন। ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার বা বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষও সহজে এসআইআর শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
রাজ্য

বাংলায় কথা বলায় মারধর? ওড়িশায় নির্যাতনের অভিযোগ পরিযায়ী শ্রমিকের

ফের বিজেপি শাসিত ওড়িশায় বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠল। আক্রান্ত যুবকের নাম রাজা আলি। তাঁর বাড়ি হুগলির গোঘাটে। অভিযোগ, মারধরের পাশাপাশি তাঁর রোজগারের ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। চরম আতঙ্কে রাতারাতি ওড়িশা ছেড়ে পালিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ওই যুবক। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার।ছেলের উপর নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজা আলির বাবা শেখ মইনুদ্দিন। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি জানান, ছেলের রোজগারেই চলত গোটা সংসার। উপার্জনের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ায় এখন সংসার চলবে কীভাবে, তা ভেবেই দিশাহারা পরিবার।জানা গিয়েছে, প্রায় আট মাস আগে ওড়িশার কটকে পাথর মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতে যান গোঘাটের ভাদুর পঞ্চায়েতের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজা আলি। অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে আগেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণে তিনি প্রায় লুকিয়ে কাজ করতেন। যে ঘরে তিনি ভাড়া থাকতেন, সেখানে ঝামেলা এড়াতে বাড়ির মালিক বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দিতেন বলেও অভিযোগ।বুধবার রাতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। রাজা আলির দাবি, হামলাকারীরা সকলেই বিজেপি কর্মী। তিনি বলেন, মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয় এবং জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়।এই ঘটনার জেরে গোঘাটের বিরামপুর গ্রামে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ওই গ্রামে প্রায় ১৭০টি পরিবার বসবাস করে, যাদের অধিকাংশই ভিনরাজ্যে কাজ করেন। সকলেই এখন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে আক্রান্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি হুগলি সফরে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দেখা করে পরিবারের দুরবস্থার কথা জানাতে চান রাজা আলির পরিবার।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি রটানো হচ্ছে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
রাজনীতি

‘৭–৫ নয়, ১২–০ চাই’— বাঁকুড়াকে বিজেপি-শূন্য করার রণসংকল্পে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

পাঁচ বছর আগের ঘাটতি মিটিয়ে বাঁকুড়াকে সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ায় আয়োজিত রণ সংকল্প সভা থেকে সেই লক্ষ্যই স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সোজাসাপ্টা বার্তা রাজ্য জয়ের পর এ বার বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভা আসনেই জয় চাই, কোনও রকম আপস নয়।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটিতে জিততে পেরেছিল তৃণমূল। বাকি আটটি চলে গিয়েছিল বিজেপির দখলে। ২০১৯ সাল থেকে জেলার দুই লোকসভা আসনই বিজেপির হাতে থাকলেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া লোকসভা পুনর্দখল করে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে শাসকদল। তবে এখনও শালতোড়া বিধানসভা বিজেপির দখলেই। সেই কারণেই রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্র থেকেই বিজেপি-শূন্য বাঁকুড়া-র ডাক দেন অভিষেক।সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ২০২১ সালে আপনারা আমাদের চারটি আসন দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে লোকসভায় চার থেকে ছয়ে পৌঁছেছি। এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপিও ছয়। কিন্তু এ বার দুটি ছয় মেরে ১২০ করতে হবে। স্পষ্ট করে দেন, ৭৫ বা কাছাকাছি ফল মানা হবে না, পূর্ণ জয়ই লক্ষ্য।বাঁকুড়া জেলার রাজনৈতিক বাস্তবতাও তুলে ধরেন অভিষেক। জেলার মোট ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কিছু অংশ অন্য জেলার লোকসভা এলাকায় পড়লেও ভোটের অঙ্কে বাঁকুড়া বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালের পর থেকেই সংগঠনের দুর্বলতা শুরু হয়েছিল বলে কার্যত স্বীকার করেন তিনি। তবে ২০২৪ সালে বাঁকুড়া লোকসভা পুনর্দখলের মাধ্যমে রুপোলি রেখা দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেতা।বক্তৃতায় খানিকটা অভিমানও ধরা পড়ে তাঁর গলায়। প্রত্যাশিত ভোট না পেলেও বাঁকুড়াবাসীর জন্য রাজ্য সরকার যে লক্ষ্মীর ভান্ডার, পানীয় জল প্রকল্পসহ নানা সামাজিক প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে, তা মনে করিয়ে দেন অভিষেক। খাদান শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়েও আশ্বাস দেন তিনি। জানান, আইনি জটিলতার কারণে বন্ধ থাকা পাথর খাদানগুলি চালু হলে অন্তত ২৫ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ৩১ মার্চের আগেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে, যার মধ্যে বাঁকুড়া জেলার প্রাপ্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ ছাড়া হলে জেলার উন্নয়নে গতি আসত বলেও দাবি করেন তিনি।বিজেপির বিরুদ্ধে রিপোর্ট কার্ড রাজনীতির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, আমরা আমাদের কাজের হিসাব নিয়ে মানুষের কাছে যাব। বিজেপি কী করেছে, তার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে ওদের মাঠে নামতে হবে। পাশাপাশি বিজেপি জিতলে বঞ্চনা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত, আর তৃণমূল জিতলে অধিকার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।বাঁকুড়ার সভামঞ্চে র্যাম্পে ঘুরে কর্মী-সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে অভিষেক বুঝিয়ে দেন আসন্ন নির্বাচনে বাঁকুড়া দখলই তৃণমূলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য। এখন দেখার, এই ১২০ রণহুঙ্কার বাস্তবে কতটা সফল হয়।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
রাজনীতি

চন্দ্রকোনায় শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে ফাঁড়িতে ধর্না বিরোধী দলনেতার

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে শনিবার রাত থেকে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার প্রতিবাদে চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে মেঝেতে বসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন শুভেন্দু অধিকারী।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া থেকে একটি জনসভা সেরে ফিরছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। পথে গড়বেতা থানার অন্তর্গত চন্দ্রকোনা রোড বাজার এলাকায় তাঁর কনভয় পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ চৌরাস্তার কাছে কনভয়ের পথ আটকানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, লাঠি ও বাঁশ নিয়ে একদল তৃণমূল কর্মী শুভেন্দুর গাড়ির উপর চড়াও হন এবং আঘাত করা হয়।ঘটনাস্থলে দুপক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। প্রকাশ্য রাস্তায় দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা চললেও পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ বিজেপির। পরিস্থিতি সামাল না পেয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে পড়েন এবং সেখানেই অবস্থানে বসেন।ফাঁড়িতে বসেই তিনি পুলিশ কর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে উঠবেন না। এসপি-সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের বিষয়টি জানাতে বলেন তিনি। ফাঁড়ির মেঝেতেই বসে আইনজীবী ডেকে অভিযোগপত্র লেখানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। যদিও অভিযোগপত্র গ্রহণ ও এফআইআর নথিভুক্ত করা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা বেঁধে যায়।প্রায় দুঘণ্টার বেশি সময় ধরে ফাঁড়িতে অবস্থান করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, এফআইআর নম্বর হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এবং কোন কোন ধারায় মামলা রুজু হচ্ছে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি থানা ছাড়বেন না। খুনের চেষ্টার অভিযোগ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজুর দাবিও তোলেন তিনি।পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, খড়্গপুর ও ডেবরায় তাঁকে একাধিকবার আটকানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি। চন্দ্রকোনায় এসে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচিত বিধায়করাও নিরাপদ নন।ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থল ও ফাঁড়িতে পৌঁছয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।এই ঘটনার জেরে চন্দ্রকোনায় রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। বিজেপি ও তৃণমূলদুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে, ফলে এলাকায় নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
রাজ্য

শীত কি এবার বিদায় নিতে ভুলে গেল? কলকাতায় ফের ধস নামাল পারদ

শীতের বিদায় এখনও দূরে। ঘুমপ্রিয় মানুষদের যেন আরও কিছুদিন বাড়তি সময় দিল শীত। সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে দাপট দেখাচ্ছে উত্তুরে হাওয়া। ভোর পেরিয়ে সকাল ছয়টা বাজলেও আলো ঠিকমতো ফুটল না। শীতের আমেজে আঁধার যেন ঘুম ভাঙাতে চায় না। বেলা বাড়লেও কুয়াশার চাদর সরছে না বহু জায়গায়। এই আবহেই কলকাতায় আরও আড়াই ডিগ্রি কমল তাপমাত্রা।সোমবার আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রেকর্ড অনুযায়ী, শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝঞ্ঝা বিদায় নিচ্ছে, ফলে আগামী কয়েক দিনে ঠান্ডা আরও বাড়বে। শহরজুড়ে কাঁপুনি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে শীতের দাপট আরও বেশি হবে। সেখানে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শীতের এই দফা বেশ কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে বলেই ইঙ্গিত হাওয়া অফিসের।উল্লেখ্য, বর্ষশেষের ভোরে কলকাতায় পারদ নেমেছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। নতুন বছরের শুরুতে অবশ্য তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছিল। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রায় তিন ডিগ্রি বেড়ে রবিবার তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ১৪ ডিগ্রিতে। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হল না। ফের ঠান্ডার গ্রাফ নামতে শুরু করেছে। খুব বড় পরিবর্তন না হলেও আগামী দিনে তাপমাত্রা অন্তত তিন থেকে চার ডিগ্রি কমতে পারে বলে পূর্বাভাস।সোমবার দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বহরমপুর, কল্যাণী ও শ্রীনিকেতনে পারদ ঘোরাফেরা করেছে ৯ ডিগ্রির আশেপাশে। বাঁকুড়া ও ব্যারাকপুরেও শীতের দাপট স্পষ্ট। বর্ধমান ও আসানসোলে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০ ডিগ্রি। দমদম ও মালদহে পারদ নেমেছে ১১.২ ডিগ্রিতে। কলকাতার আলিপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • 18
  • ...
  • 60
  • 61
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

মেসি-কাণ্ডে অরূপের রক্ষাকবচ বাড়ল, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বড় পদক্ষেপে নিষেধ! আদালতে কী হল?

মেসি-কাণ্ডে আপাতত স্বস্তিতে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৭ নভেম্বর।অরূপ বিশ্বাসকে আগেই রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাই কোর্টের একক বেঞ্চ। সেই নির্দেশই আপাতত বহাল রাখল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। অরূপের রক্ষাকবচ বাতিলের দাবিতে শতদ্রু দত্ত যে মামলা করেছিলেন, তাতেও এখনই কোনও হস্তক্ষেপ করেনি আদালত।মঙ্গলবার শুনানিতে মেসি-কাণ্ডের তদন্ত সংক্রান্ত দুটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র। তিনি জানান, তদন্তে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী সবরকম সহযোগিতা করছেন। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পুলিশ অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তদন্ত শেষ হলে চার্জশিটও জমা দেওয়া যাবে। তবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ করা যাবে না।গত ডিসেম্বর মাসে ভারতে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। তাঁকে সামনে থেকে দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক ফুটবলপ্রেমী যুবভারতীতে জড়ো হয়েছিলেন। অনেকেই মোটা টাকা খরচ করে টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত সময়ের আগেই যুবভারতী ছেড়ে বেরিয়ে যান মেসি। এরপর ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ ব্যাপক ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ।সেই ঘটনার পরই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার দিন মেসির সঙ্গে একাধিক বার তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সমাজমাধ্যমে মেসির সঙ্গে অরূপের ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও মেসির ছবি প্রকাশ্যে আসে।অব্যবস্থার অভিযোগে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মেসির ভারত সফরের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, প্রভাব খাটিয়ে অরূপ মেসির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।এই মামলায় অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই একাধিক বার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিয়েছেন। পুলিশের তলবে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়টিও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে। আপাতত সেই কারণেই তাঁর রক্ষাকবচ বহাল থাকল বলে মনে করা হচ্ছে।এখন প্রশ্ন, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অরূপের বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ না করার নির্দেশের পর মেসি-কাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে এগোয়। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ১১, ২০২৬
কলকাতা

আর জি কর কাণ্ডে ফের তৎপরতা, অভয়ার সঙ্গে ডিনার করা বন্ধুদের তলব! জেরার তালিকায় আর কারা?

খুলল কি ফের অভয়া ফাইলস? আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন করে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল এবং তার আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেছে। এবার ঘটনার রাতের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। সেই তালিকায় রয়েছেন অভয়ার সঙ্গে রাতে ডিনার করা বন্ধুরাও।শুধু অভয়ার বন্ধুদেরই নয়, ঘটনার সময় হাসপাতালে উপস্থিত থাকা নার্স, চিকিৎসক, নিরাপত্তারক্ষী এবং আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হাসপাতালের কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে জেলবন্দি আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকেও ফের জেরা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।আর জি কর-কাণ্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়, প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ মোট সাতজন এবং কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীর পলিগ্রাফ পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে সেই পরীক্ষা এবং তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে নতুন তদন্তকারীরা সন্তুষ্ট নন বলে সূত্রের দাবি। সেই কারণেই মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ফের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।ঘটনার রাতে অভয়ার সঙ্গে কারা ডিনারে ছিলেন, সেই বিষয়টিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময় হাসপাতালে উপস্থিত থাকা চিকিৎসক, নার্স এবং নিরাপত্তারক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে। একই সঙ্গে ফের পরীক্ষা করা হবে সিসিটিভি ফুটেজও। প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে জেলবন্দি সন্দীপ ঘোষকে জেরা করতে পারেন তদন্তকারীরা।অভয়ার মা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, ঘটনার রাতে তাঁর মেয়ের সঙ্গে যাঁরা ডিনার করেছিলেন, তাঁদের ভূমিকা যথাযথ ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের আওতায় আনার দাবিও তিনি একাধিক বার জানিয়েছেন। আদালতের তরফেও ঘটনার রাতে ডিনারে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে তদন্তের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছিল বলে জানা যায়।এর মধ্যেই তদন্তকারী আধিকারিক বদল করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব থেকে সীমা পাহুজাকে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সন্দীপনী গর্গকে। কয়েক দিন আগে দিল্লি থেকে চার সদস্যের একটি বিশেষ দলও আর জি কর হাসপাতালে পৌঁছয়। জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে ওই দলের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জায়গায় তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ উঠেছিল, সেই জায়গা ফের খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। নির্যাতিতার মায়ের আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশে তদন্তকারীদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।এবার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে ফের তলব করার খবর সামনে আসায় আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে নতুন করে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে। বিশেষ করে ঘটনার রাতে অভয়ার সঙ্গে থাকা বন্ধু, হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসক ও নার্স এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে ঘিরে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১১, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, কর্মীদের বেতনও আটকে! সুপ্রিম কোর্টে কপিল সিব্বলের বিস্ফোরক সওয়াল

তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সব তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরছে না বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে দলের নিয়মিত খরচের হিসাব আদালতের সামনে তুলে ধরেন কপিল সিব্বল। তিনি জানান, তৃণমূলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। এর ফলে দলের দৈনন্দিন কাজ চালানো এবং কর্মীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।ইডির তরফে আদালতে বলা হয়, যে অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়নি, সেগুলি থেকে টাকা নিয়ে দল কাজ চালাতে পারে। তার জবাবে কপিল সিব্বল জানান, ওই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি স্থায়ী আমানত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ৩৬টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৩১টি স্থায়ী আমানত এবং বাকি পাঁচটি সাধারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।সিব্বলের দাবি, স্থায়ী আমানত ভাঙলে সেই টাকা ফের ফ্রিজ করে রাখা অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে চারটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে সম্পূর্ণ তথ্য দিচ্ছে না।তৃণমূলের আইনজীবী আরও দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থার মামলায় অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। কেন এত বেশি অর্থ আটকে রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্নও আদালতে তোলেন তিনি।দলের কর্মীদের বেতন নিয়েও আদালতে বিস্তারিত তথ্য দেন সিব্বল। তাঁর দাবি, তৃণমূলের প্রায় ২৫০ জন কর্মী রয়েছেন। চলতি মাসে তাঁদের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। বেতন-সহ অন্যান্য খরচ মেটাতে প্রায় ৫৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে আদালতে জানান তিনি।এর পাশাপাশি দলের বিভিন্ন অফিসের খরচের কথাও আদালতে তুলে ধরেন সিব্বল। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের ১৭টি অফিস চালাতে প্রতি মাসে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়। নিরাপত্তা সংস্থা এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদেরও টাকা দিতে হয়। নির্বাচনের সময়ে যাঁরা কাজ করেছিলেন, তাঁদেরও কিছু টাকা এখনও বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি।সিব্বল আরও জানান, দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চের তরফে প্রাক্তন বিচারপতিকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করে নির্দিষ্ট অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, যখনই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখনই আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।তৃণমূলের হয়ে নেওয়া পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়টিও আদালতে তোলেন সিব্বল। তাঁর দাবি, ওই সংস্থা থেকে তৃণমূল একটি বিমান নিয়েছিল। সেই সংস্থার অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে বলে আদালতে জানান তিনি। তবে কী কারণে ওই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, তা তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট করেনি বলে অভিযোগ করেন সিব্বল।মামলায় তদন্তকারী সংস্থা এবং তৃণমূলের আইনজীবীর বক্তব্যের মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, মঙ্গলবারের শুনানিতে তা স্পষ্ট হয়েছে। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ রাখার যৌক্তিকতা, দলের দৈনন্দিন খরচ এবং কর্মীদের বেতন দেওয়ার বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আগস্ট ১১, ২০২৬
কলকাতা

২৬ হাজার চাকরির ভবিষ্যৎ কি ফের অন্ধকারে? ডেডলাইনের আগেই বড় সিদ্ধান্ত স্কুল সার্ভিস কমিশনের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের পর নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেই প্রক্রিয়ায় ফের বড় জট তৈরি হয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগের জেরে আদালতের নির্দেশে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। এরপর শূন্যপদগুলিতে নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রক্রিয়া ৩১ অগস্টের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই সময় পর্যন্ত চাকরিহারাদের বেতন দেওয়ার নির্দেশও ছিল।এর মধ্যেই নিয়োগের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে। চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডলের দাবি, নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগের ভেরিফিকেশন চলছিল। পাশাপাশি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগের কাউন্সেলিংও চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।কেন ভেরিফিকেশন বন্ধ করা হল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ সংক্রান্ত নতুন নিয়ম কার্যকর করার বিষয়টি নিয়েই এই মুহূর্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের নতুন সংরক্ষণ বিধি কী ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছে কমিশন।মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে স্কুল সার্ভিস কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ৩১ অগস্টের মধ্যে ২৬ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই নিয়োগ সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না।কমিশনের চেয়ারম্যান দুষ্যন্ত নারিয়ালা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও সময় চাওয়া হবে। কতদিন সময় চাওয়া হবে, তা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সংরক্ষণ নীতি কী ভাবে কার্যকর করা হবে, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।নতুন করে নিয়োগের জন্য যাঁরা সুপারিশপত্র পেয়েছেন, তাঁদের নিয়োগ নিয়েও এখন সংশয় তৈরি হয়েছে। ভেরিফিকেশন এবং কাউন্সেলিং থেমে যাওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।ফলে একদিকে আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা, অন্যদিকে সংরক্ষণ নীতি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি জটদুইয়ের মাঝে আটকে রয়েছে ২৬ হাজার নিয়োগের ভবিষ্যৎ। এখন সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে অতিরিক্ত সময় দেয় কি না, সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা।

আগস্ট ১১, ২০২৬
কলকাতা

হালিশহরের পর কলকাতাতেও মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ, ভিড়ের মধ্যে থেকে উঠল সেই স্লোগান

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ফের বিক্ষোভের অভিযোগ। হালিশহরের ঘটনার পর এবার খাস কলকাতায় একই ধরনের স্লোগান শুনতে হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। মঙ্গলবার শ্যামবাজারে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চোর, চোর স্লোগানের মুখে পড়েন তিনি।নেতাজির মূর্তির পাদদেশে ক্ষুদিরাম বসুর ছবি হাতে নিয়ে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী এবং মাতঙ্গিনী হাজরার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মমতা বলেন, এই সংগ্রামীদের কোনও দিন ভোলা যাবে না। তাঁর দাবি, শুধু দেখানোর জন্য নয়, হৃদয় থেকেই এই সমস্ত মহান ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করা হয়।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজির মূর্তিতে মালা দেওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। আচমকা ভিড়ের মধ্যে থেকে চোর, চোর স্লোগান উঠতে শুরু করে বলে অভিযোগ। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দাবি, বিজেপির কর্মীরাই মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। যদিও ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যক্তির বক্তব্য, মমতা মালা দেওয়ার সময় তাঁরা কোনও স্লোগান দেননি। পরে তাঁরা স্লোগান দেন বলে জানান তিনি।বিক্ষোভের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। তবে তাঁর গাড়ি চলে যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ স্লোগান ও বিক্ষোভ চলতে দেখা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।এই ঘটনার আগে রবিবার হালিশহরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। তাঁকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা করেছিল, তবে তিনি জনরোষের মুখে পড়েছিলেন।হালিশহরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলকাতার শ্যামবাজারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে একই স্লোগান ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হল। ঘটনাটি ঘিরে তৃণমূল ও বিরোধীদের মধ্যে নতুন করে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১১, ২০২৬
রাজ্য

জঙ্গলমহল নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! ধর্ম পরিবর্তন ও জমি কেনাবেচায় নতুন আইন, আর কী করতে চলেছে সরকার?

বাঁকুড়ায় সাত জেলার প্রশাসনিক বৈঠকের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জঙ্গলমহলের উন্নয়ন থেকে সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা, আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন তিনি।মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় সাতটি জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গত তিন মাসে তাঁর সরকার কী কী কাজ করেছে এবং আগামী দিনে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তার একটি হিসাব তুলে ধরেন তিনি।জঙ্গলমহল এবং প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে জঙ্গলমহলের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিদেশি অর্থের সাহায্যে ধর্মান্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং এ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।সাংবাদিক বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। সীমান্ত এলাকায় জমি হস্তান্তর, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা সংশোধন, ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বাতিল এবং গো-সুরক্ষার মতো একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মহরমের সময় তলোয়ার নিয়ে মিছিল বা প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।এরপরই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বড় মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, কিছুদিনের মধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে। একইসঙ্গে এক দেশ, এক প্রধান, এক রাজ্য, এক মুখ্যমন্ত্রী, এক আইন-এর কথাও বলেন তিনি।ধর্ম পরিবর্তন এবং জমি কেনাবেচা নিয়েও নতুন আইনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আরও দুটি কাজ তাঁর বাকি রয়েছে। তার মধ্যে ধর্ম পরিবর্তন এবং জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত আইন আনার বিষয়টি রয়েছে।তবে শুধু আইন বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, জঙ্গলমহলের উন্নয়নকেও আগামী দিনের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। আগামী তিন মাসের জন্য এই এলাকার উন্নয়ন নিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির কথাও জানিয়েছেন তিনি।বাঁকুড়ার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ধর্ম পরিবর্তন ও জমি কেনাবেচা নিয়ে প্রস্তাবিত আইন কেমন হবে এবং কবে তা কার্যকর হবে, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১১, ২০২৬
কলকাতা

দেবরাজের ‘১০০ কোটির’ সম্পত্তির হদিশ! তোলাবাজির অভিযোগের তদন্তে এবার নজরে ৩০টি সম্পত্তি

দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তদন্তে আরও তথ্য সামনে আসছে। সিন্ডিকেট চক্র চালানো এবং তোলাবাজির মতো একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এই তৃণমূল নেতার প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৩০টি সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই তথ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে জানানো হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি।বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে ঘিরে গ্রেপ্তারের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অদিতিকে আপাতত গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে দেবরাজ কোনও রক্ষাকবচ পাননি বলে জানা যায়। এরপর বেশ কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজারহাট এবং আশপাশের এলাকায় সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে বিপুল টাকা তোলা হয়েছিল। গত কয়েক বছরে সেই টাকা ব্যবহার করে দেবরাজ বিপুল সম্পত্তি তৈরি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৩০টি সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে দমদম, নিউটাউন এবং বাগুইআটির মতো এলাকায় সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। উত্তরবঙ্গেও তাঁর সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই সম্পত্তিগুলির সবকটি সরাসরি দেবরাজের নামে রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীদের অনুমান, পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠদের নাম ব্যবহার করে বেশ কিছু সম্পত্তি কেনা হয়ে থাকতে পারে। গত পাঁচ বছরে, অদিতি মুন্সি বিধায়ক থাকার সময়ে এই সম্পত্তিগুলির বেশিরভাগ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশের দাবি, ওই প্রায় ৩০টি সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা হতে পারে। সম্পত্তিগুলির মালিকানা, কেনার সময়, অর্থের উৎস এবং লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও রয়েছে। সেই অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পত্তি বৃদ্ধির কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তকারীদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একই সঙ্গে কার নামে সম্পত্তি কেনা হয়েছিল এবং সেই সম্পত্তি কেনার টাকা কোথা থেকে এসেছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এর মধ্যেই বারাসত আদালতে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা বলে জানা গিয়েছে। এবার সম্পত্তির নতুন তথ্য সামনে আসায় তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ১১, ২০২৬
বিদেশ

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের জটিলতা! ভারতে আসছেন না তারেক রহমান? দিল্লির বার্তায় বাড়ছে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে থাকার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে বর্তমান সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসে কথা বললেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?তবে তারেক রহমানের ভারত সফর এখনই বাতিল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি আলাদা করে বৈঠক হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই। ফলে হাসিনাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কদুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে দিল্লি বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না। তিনি এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না, আর সেই বৈঠকে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কোনও বরফ গলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal