• ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

রাজ্য

বন্দে ভারতের চালক গর্বিত করল বর্ধমানকে, স্টেশনে ভিড়ের মাঝে স্বামীকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা স্ত্রীর

বন্দে ভারতে মেতেছে বাংলা। ইতিমধ্যে ট্রেনের টিকিট পেতেই হিমশিম অবস্থা। হাওড়া থেকে ছাড়ার পর একে একে নানা স্টেশনেই দাঁড়িয়েছে বন্দে ভারত। জনতার উল্লাসে ভেসেছে মশাগ্রাম, বর্ধমান, বোলপুর স্টেশন। প্রথমবার বন্দে ভারতকে চোখের দেখা দেখতে জাতীয় পতাকা নিয়ে অনেকেই হাজির হয়েছেন। এই সুপার স্পিড ট্রেনের চালককে মালা পড়িয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বাংলার প্রথম বন্দে ভারতের চালকের বাড়ি বর্ধমানে লোকো সারদা পল্লীতে। বর্ধমান স্টেশনে যখন চালককে নিয়ে মাতামাতি চলছে তখন ভিড়ের মধ্যেই দূর থেকে স্বামীকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সুনিতা কুমারী। ওই ভিড়ের মধ্যেও পাল্টা হাত নাড়িয়েছেন চালক অনিল কুমার। অনেকে তো ভাবতেই পারেনি চালকের স্ত্রী সেখানে দাঁড়িয়ে। চালক পাল্টা হাত নাড়ানোয় উপস্থিত জনতার টনক নড়ে। বর্ধমান স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াতেই উৎসাহী মানুষজন অনিল কুমারের গলায় মালা পরিয়ে দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে দেখে আবেগঘন হয়ে পড়েন সুনীতা কুমারী। গর্বিত চালকের স্ত্রী বলেন, এই দিনটা আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে উপস্থিত থাকতে পারলে আরও ভালো লাগতো। আদতে বিহারের বিহারের বাসিন্দা অনিল কুমার। এখন পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন বর্ধমানের লোকো সারদাপল্লীতে থাকেন। বন্দেভারত এক্সপ্রেস চালানোর উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাতেই অনিল কুমার বর্ধমানের বাড়ি থেকে হাওড়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।এদিন সকালে টেলিভিশনের পর্দায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে উচ্ছ্বাস-উন্মাদনা দেখে বাড়িতে আর মন টেকেনি। সোজা বর্ধমান স্টেশনে চলে আসেন সুনীতা দেবী। তিনি জানিয়েছেন, ট্রেনের অ্যাসিন্ট্যান্ট ড্রাইভার হিসাবে ১৯৯০ সালে কাজে যোগ দেন তাঁর স্বামী। কর্মের প্রতি অবিচল অনিল কুমারের বরাবরই লক্ষ্য ছিল সবথেকে গুরত্বপূর্ণ ট্রেনগুলো চালানো। পূর্বা, কালকা, শতাব্দী, রাজধানী ও দুরন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনও তাঁর স্বামী চালিয়েছেন। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালানোর স্পেশাল ট্রেনিং নিতে চলতি মাসের ৭ তারিখ অনিল বাবু উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে যান। ট্রেনিং শেষে ১৯ ডিসেম্বর তিনি বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে আসেন। বন্দেভারত এক্সপ্রেসের মতো দুরন্ত গতির ট্রেন চালানোটা তার স্বামীর কাছে আলাদা মাইলস্টোন ছোঁয়ার মতো। এদিন সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকার জন্যই বর্ধমান স্টেশনে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে সুনীতাদেবী জানান। এদিন বর্ধমান স্টেশনে হাত নেড়ে, ইশারায় শুভেচ্ছা বিনিময় হলেও গর্বিত স্বামীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়নি সুনীতা দেবীর। কথা না হলেও আপশোষ নেই সুনীতা দেবীর। তিনি বলেন, স্বামী কাজের প্রতি দায়বদ্ধ।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২২
রাজ্য

মহা সমারোহে শুরু দু'দিন ব্যাপী বর্ধমান মডেল স্কুলের বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শুক্রবার বর্ধমানের বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল-র বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হল। ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর যথা শুক্র ও শনিবার এই অনুষ্ঠান চলবে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ওরিয়েন্টাল অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (OAER) র সচিব ও বর্ধমান মডেল স্কুলের কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল ও ওরিয়েন্টাল অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ র সহ-সভাপতি ডঃ নন্দন গুপ্ত।এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার অন্যান্য কলেজের অধ্যক্ষ যথা লিজা ব্যানার্জী (BIMS), ডঃ বিদ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (OIST), সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা (সোসাইটির সদস্য), বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শম্বুনাথ চক্রবর্তী, স্কুল পরিচালন সমিতি-র সদস্যা ডঃ ইন্দ্রানী মুখার্জি ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক ডঃ সুভাষ দত্ত। অথিতিদের বরণ করে নেন বর্ধমান মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক (প্রিন্সিপ্যাল) বিপিন বিহারী সিং।সুসজ্জিত মঞ্চওরিয়েন্টাল অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ র সচিব তথা বর্ধমান মডেল স্কুলের কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন সামগ্রিক শিক্ষার কথা। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বই-মুখী পড়াশোনার বাইরেও সমাজ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়, সমাজ যে শিক্ষা দেয় তা চিরস্থায়ী। তিনি জানান, করোনা অতিমারীর কারণে দীর্ঘ দুবছর অপেক্ষার পর এবছর আবার খুব জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে সংস্থার বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেসমারাইজ (Mesmerize-2K22) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।নৃত্য পরিবেশনওরিয়েন্টাল অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ র সহ-সভাপতি ডঃ নন্দন গুপ্ত তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন পড়াশোনায় টেকনোলজি-র প্রভাব। তিনি বলেন, আগের প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা জানতেই পারতো না যে, সে যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছে সেই বিষয়ে বিশ্বের সেরা শিক্ষক কে? আজকের ছাত্রদের কাছে সেটা খুবই মামুলি ব্যাপার, সেই শিক্ষক আজ তাদের মুঠোয় বন্দি (Mobile)। তিনি আরও বলেন, টেকনোলজিকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করে বাড়িতে বসেই অনেক দূর অবধি যাওয়া যায়। তিনি বেশ কয়েকজন ছাত্রের উদাহরণ টেনে বলেন, তাঁরা এই টেকনলজির সাহায্য নিয়েই (অন লাইন এডুকেশন) এই বছর সারা ভারতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য র্যাঙ্কিং করেছে।রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক ডঃ সুভাস চন্দ্র দত্ত তাঁর বক্তব্যে জানান, বিজ্ঞানমনস্ক না হলে উন্নতি কিছুতেই হবেনা। ছাত্রছাত্রীদের খুব অল্প বয়স থেকেই বিজ্ঞান শিক্ষায় উৎসাহী করে তুলতে হবে। তাঁর কথায়, জীবনের চলার পথে বিজ্ঞানকে আমরা কখনোই অবহেলা করতে পারবো না। এরপর বর্ধমান মডেল স্কুল-র বার্ষিক ম্যাগাজিন ড্যাজেল-র (Dazzle) শুভ উদ্বোধন করেন সম্মানিত অতিথিবর্গ। এছাড়াও স্কুলের ছাত্রদের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য পুরস্কৃত করা হয়।বার্ষীক ম্যাগাজিন ড্যাজেল-র (Dazzle) শুভ উদ্বোধনস্কুলের খুদে বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়দের নাচ, গান, নাটক ও আবৃত্তিতে ভরে ওঠে অনুষ্ঠান। অভিভাবক সহ সাধরণ দর্শককুল দারুণভাবে উপভোগ করেন আজকের এই অনুষ্ঠান। বিশেষ করে হিন্দি নাটকে বেড়ালের চরিত্রে ছোট্ট আদিত্য সিং-র অভিনয় দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। এছাড়াও স্কুলের আবৃত্তি শিক্ষিকা সুদেষ্ণা আচার্যের তত্ত্বাবধানে অনুপ্রাণ সমবেত আবৃত্তি এককথায় আসাধরণ। ৪০ জন ছাত্র ছাত্রী সম্বলিত এই প্রয়াস এক কথায় অনবদ্য। একেবারে অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান বার্তা নিয়ে সমগ্র দেশের বিভিন্ন নৃত্য শৈলীর সমন্বয় ঘটিয়ে স্কুলের নৃত্য শিক্ষিকা তুনা রুদ্রের প্রয়াস সত্যিই মেসমারাইজ (Mesmerize)।ছোটদের আবৃত্তিসঙ্গীত বিভাগের দুই শিক্ষক নম্রতা রায় ও সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়-র নিরলস প্রয়াস ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গীত প্রদর্শন এক অন্য মাত্রা পায়। এবছরের মেসমারাইজ-এর (Mesmerize) সবচেয়ে বড় পাওনা ব্যান্ড বিএমএস। স্কুলের এক ঝাঁক ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে তৈরি এই ব্যান্ড মুগ্ধ করে দেয় তাদের উপস্থাপনায়। নম্রতা রায়ের প্রচেষ্টা ও কর্নধার অচিন্ত্য মণ্ডলের উৎসাহে এই ব্যন্ড সত্যিই ব্রান্ড বিএমএস (Brand BMS)উল্লখ্য গতকাল ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার তিনদিন ব্যাপি ওরিয়েন্টাল অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-র কলেজ গুলির Mesmerize-2K22 শীর্ষক বার্ষিক সাংস্কৃতীক অনুষ্ঠান শুভ সূচনা হয়। ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কলকাতার ফকিরা ব্যান্ড গান পরিবেশন করেন।

ডিসেম্বর ২৪, ২০২২
রাজ্য

মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী যুবক

মানসিক অবসাদে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হল এক ব্যক্তি। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বেলেণ্ডার পুলের কাছে বুধবার রাতে দুর্ঘটনা ঘটে।ভাতারের রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা মফজ আলি শা( ৪৫)। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বাড়ির লোকজনকে প্রায়ই বলতেন তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাবেন। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন দ্বারস্থ হন ভাতার থানায়।বৃহস্পতিবার পরিবারের লোকজন ভাতার থানায় গিয়ে জানতে পারেন যে বেলেণ্ডার পুলের কাছে একজন ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মৃতদেহ দেখে পরিবারের লোকজন শনাক্ত করেন। বাড়ির লোকজন জানান যে তিনি বেশ কয়েক মাস ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।রেল পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় ময়নাতদন্তের জন্য।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২২
রাজ্য

স্ত্রী পঞ্চায়েত প্রধান, দপ্তর সামলাচ্ছেন স্বামী, সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

যত গণ্ডগোল খণ্ডঘোষে। ফের খবরের শিরোনামে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের শাঁখারি গ্রাম পঞ্চায়েত। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে নিয়ে শাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে। টেবিলের উল্টো দিকে থাকা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন একজন ব্যক্তি। তার পাশে নির্লিপ্ত ভাবে বসে আছেন একজন মহিলা। শাঁকারি ১ নম্বর পঞ্চায়েতের ওই ছবি ঘিরেই রাজনৈতিক বির্তক তৈরি হয়েছে। ছবি ঘিরে হইচই শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। জানাগেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবির মহিলা শিউলি খাঁ। শাঁখারী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তার পাশে বসে যিনি দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সেই পুরুষটি হলেন প্রধানের স্বামী প্রসেনজিৎ খাঁ।বিরোধীদের অভিযোগ গ্রামে প্রতিদিন পঞ্চায়েত দপ্তরে বিকেল পর্যন্ত প্রধানের পাশে একটি চেয়ারে বসে থাকেন তাঁর স্বামী। পঞ্চায়েতের, কাজকর্মে আসা লোকজনের সঙ্গে তিনিই কথা বলেন। কলেজে ভর্তির জন্য শংসাপত্র কিংবা জমি সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে পঞ্চায়েত গিয়ে প্রধানের স্বামীর সঙ্গেই কথা বলতে হয় স্থানীয়দের। স্বামীর নির্দেশের পরেই প্রয়োজনীয় শংসাপত্র মেলে। তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করেন প্রসেনজিৎ খাঁ। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে তিনি স্ত্রীকে বাইকে করে সকালে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। আবার বিকেলে বাড়ি নিয়ে যান। তিনি পঞ্চায়েতের কোন কাজে হস্তক্ষেপ করেন না।বিজেপি জেলার সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তিনি শুধু পঞ্চায়েত অফিসে বসে থাকেন না। তার নির্দেশ ছাড়া কোন সার্টিফিকেট ইস্যু হয় না। এমনকি গাড়ির তেলের বিলও নিচ্ছেন প্রধানের স্বামী। সেই ছবিও দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিউলি খাঁ বলেন, তার স্বামী কোনদিনই অফিসের কাছে হস্তক্ষেপ করেন না। এটা মিথ্যে অভিযোগ। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, স্বামী প্রধানের কাছে যেতেই পারেন। তার মানে এই নয় প্রধানের কাজে তার স্বামী তদারকি করছেন।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২২
রাজ্য

আবাস যোজনায় নেতা নেত্রীদের নাম প্রত্যহারের পালা অব্যহত

রাজ্য জুড়ে আবাস যোজনার তালিকায় থাকা নেতা নেত্রী ও তাঁদের পরিবারের নাম প্রত্যহার পালা অব্যহত। পূর্ব বর্ধমানের রায়না ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পর এবার রায়না ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তার ছেলের নাম আবাস যোজনার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন।সদ্য প্রকাশিত আবাস যোজনার তালিকায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্বতী ধারা মালিকের ছেলে তন্ময় মালিকের নাম থাকায় তিনি তা বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন বুধবার। তিনি পরিবারের অভিভাবক। তাই তিনি তালিকা থেকে তন্ময়ের নাম বাদ দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হন বলে তিনি জানান।ছোটো একটা ভাঙা মাটির বাড়িতে থাকতেন পার্বতী ধারা মালিকের ছেলে তন্ময়। সেখানকার ভিআরপিদের সাহায্যে তিনি আবাস যোজনার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তাঁর বাড়ির অবস্থা খুব খারাপ থাকায় নিজের বাবার দেওয়া জমি বিক্রি করে কয়েক দিন আগেই বাড়ি তৈরি করেন পাট্টা পাওয়া জায়গার উপর। কিন্তু কয়েকদিন আগে বাংলার আবাস যোজনায় পার্বতী ধারা মালিকের ছেলের নাম আসে। যেহেতু ছেলের বাড়ি তৈরি হয়ে গেছে তাই তিনি এই প্রকল্প থেকে তার ছেলের নাম বাদ দিয়ে দেন। তিনি চান অসহায় দুঃস্থ মানুষরা আবাস যোজনার সুযোগ পাক। এখানে উল্লেখ্য গত সোমবার রায়না ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রত্না মহান্ত তার নিজের নাম আবাস যোজনার তালিকা থেকে বাদ দেন তিনি নিজেই।মঙ্গলবার বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের রায়ান ১ নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্যা ফতেমা বিবি সেখও একই পথে হাঁটেন।আবাস যোজনা তালিকায় নাম ছিল ফতেমা বিবি সেখের।তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে তালিকা থেকে নাম বাদ দেন।আর বুধবার রায়না ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্বতী ধারা মালিকও নাম তালিকা থেকে বাদ দেন তার ছেলের। তবে লাগাতার আবাস যোজনার তালিকা থেকে শাসকদলের নেতানেত্রীদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, আবাস যোজনা তালিকা নিয়ে বিজেপির অভিযোগ যে সত্যি তা পরিস্কার হল। হৈচৈ হয়েছে বলেই এখন তৃণমূল নেতারা তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে সাধু সাজছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সব চালাকি বুঝতে পারছেন।অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ২০১৬-১৭ সালে আবাস যোজনার বাড়ির জন্য সার্ভে করা হয়। তখন অনেকেরই মাটির বাড়ি ছিল। কিন্তু এখন অনেকেই পাকা বাড়ি করেছেন। তাই নিয়ম অনুযায়ী নাম বাদ যাবে। অনেকেই আগেভাগেই নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন। এতে দোষের কি হল। বরং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই তারা এই পথ বেঁচে নিয়েছেন।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমান রেল স্টেশনের ভিতর আগুন লাগায় বুধবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে

বর্ধমান রেল স্টেশনের ভিতর আগুন লাগার ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্টেশনের আরপিএফ অফিসের ঠিক উল্টোদিকে দুই ও তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝে শেডের নিচে হটাৎই আগুনের ফুলকি চোখে প্লাটফর্মে অপেক্ষামান যাত্রীদের। তখন ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা হবে। আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগেই হাওড়া-বর্ধমান ৩৬৮৩৩ আপ লোকাল ২ নম্বর প্লাটফর্মে থামে। আতঙ্কিত যাত্রীরা ভয়ে ট্রেন থেকে নেমে বাইরে বেরোবার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন।ঘটনার খবর পেয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত আরপিএফ এবং জিআরপি কর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করে। কোন রকম দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাটি ঘিরে দেয় রেল পুলিশ। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় স্টেশনের অধিকাংশ বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে স্টেশন চত্বরের একটা বড় অংশ অন্ধকার হয়ে পড়ে। রেলকর্মীরা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ও বালি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।যদিও এই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ইলেকট্রিকের বক্সে তারে শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন লাগে। এই বিষয়ে পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী জানান, একটা ছোট আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।এতে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রেও কোন সমস্যা হয়নি। দশ মিনিটের মধ্যে আগুন নিভিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।তবে কি কারণে আগুন লাগে তা তিনি বলতে পারেন নি।তিনি বলেন, আগুনের উৎস খোঁজা হচ্ছে।প্রত্যক্ষদর্শী সেলিম মিঞা বলেন, হঠাৎই তারে আগুন জ্বলতে শুরু করে।তবে রেলপুলিশ এসে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায়। ওই সময়ে একটি লোকাল ট্রেন স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্মে ঢোকে।রেলপুলিশ যাত্রীদের সাবধান করে দেয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় প্লাটফর্মে আলো নিভে যায়।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২২
রাজ্য

আবাস যোজনার তালিকা থেকে নিজের নাম বাতিলের আবেদন পঞ্চায়েত সদস্যের

পূর্ব-বর্ধমানের রায়নার পর রায়ান। সদ্য প্রকাশিত আবাস যোজনার তালিকায় নাম থাকায় এক পঞ্চায়েত সদস্যা তা বাতিল করতে আবেদন করলেন প্রধানের কাছে। রায়ান ১ নম্বর পঞ্চায়েতেরবিজয়রাম সংসদের সদস্যা ফাতেমা বিবি, তার নিজের পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও আবাস যোজনায় তার ও তার পরিবারের ছসদস্যের নাম আসে। এরপরই তিনি সেই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন পত্র জমা দেন পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে ।তবে এতে বির্তক শেষ হয় নি।বরং শাসক বিরোধী রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ আবাস যোজনা নিয়ে আমরা যে অভিযোগ করেছিলাম স্বজনপোষণের সেটা আরো একবার পরিষ্কার হলো এবং আবাস যোজনার নিয়ে আমাদের যে আন্দোলন সে আন্দোলনের ফল স্বরূপই তৃণমূলের এক একজন নেতা নেত্রীরা যাদের নাম আবাস যোজনা এসেছিল তারা একপ্রকার বাধ্য হয়েই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে দাবী করেন বিজেপির জেলার সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র। তৃণমূলের পাল্টা জবাব কেউ যদি অন্যায় করে থাকে তার শাস্তি হবে আর এই আবাস যোজনার তালিকা ২০১৫ - ১৬ সালের সেই সময় হয়তো কারো কাঁচা বাড়ি থাকতেই পারে সেই কারণে তার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। এখন ২০২২ সাল। এই সময়ের মধ্যে কেউ পাকা বাড়ি করেছেন। তাই তারা নিজেদের নাম বাদ দিচ্ছেন তালিকা থেকে বলে জানান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস। এখানে উল্লেখ্য সোমবার রায়না ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রত্না মহন্ত তার আবাস যোজনা তালিকায় নাম থাকায় নিজেই নাম কেটে দেন। আর মঙ্গলবার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা ফতেমা বিবি রত্না মহন্তের দেখানো রাস্তায় হাঁটলেন।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২২
রাজ্য

জন্মের পর ছেলের দু'টি হাত নেই দেখে জ্ঞান হারিয়ে ছিলেন মা! সেই ছেলে এখন পা দিয়ে ট্রাক্টর চালান

দুটি হাত নেই, তাই দুপা দিয়ে ট্র্যাক্টর চালিয়ে বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় করছেন আইটিআই পাস করা বিশেষ ভাবে সক্ষম যুবক। জন্ম দেবার পর ছেলের দুটি হাত নেই দেখে জ্ঞান হারিয়ে ছিলেন মা। তখন কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছিল দুহাত না থাকা ছেলেকে শৈশবেই প্রাণে মেরে দিতে। কিন্তু না ,মা বাবা সহ পরিবারের কেউ সেই যুক্তি মেনে নেন নি। উল্টে তাঁরা সবাই দুহাত না থাকা ছেলে সুজিতকে পরম স্নেহে লালন পালন করেন ও বড় করে তোলেন। আজ ৩৭ বছর বয়সে পৌঁছে যাওয়া আইটিআই পাশ করা যুবক সুজিত দাঁ এখন তাঁর দুই পা দিয়ে ট্র্যাক্টর চালিয়ে নিজের অন্নের সংস্থান করছেন। অন্য সব প্রতিবন্ধীদের কাছেও সুজিত প্রেরণা হয়ে উঠেছেন।সুজিত কোন শহর বা মফস্বল এলাকার বাসিন্দা নন। পূর্ব বর্ধমানের রায়নার প্রত্যন্ত উচালন গ্রামে সুজিত দাঁয়ের বাড়ি। তাঁদের যৌথ পরিবার। ছোট বয়সেই সুজিত তাঁর বাবা স্বপন দাঁকে হারান। বাড়িতে বিধবা মা পুতুলদেবী সহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও রয়েছেন। সুজিত জানিয়েছে, হার না মেনে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার প্রেরণাটা ছোট বয়সে তাঁকে যে ব্যক্তি যুগিয়েছেন তিনি হলেন গ্রামের মাষ্টার মশাই শক্তিপদ ভট্টাচার্য্য। পায়ে পেনসিল গুঁজে দিয়ে হাতে করে পা ধরে ওই মাষ্টার মশাই তাঁকে লেখা পড়া শিখিয়েছেন। তার পর থেকে পায়ে করে লিখেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পাশাপাশি আইটিআই (ITI) সার্ভে ডিপ্লোমা কোর্সও সম্পূর্ণ করেছেন। সুজিত দাঁ এও জানান, তিনি আইটিআই পাশ করার পর ডিভিসির চাকরির পরীক্ষায় বসে পাশও করেন। প্যানেলে তাঁর নামও উঠেছিল। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর সব কোথায় কি হয়ে যায় তার কিছুই তিনি জানতে পারেন নি।এর পর আর বসে না থেকে এক পরিচিত চালকের সাহায্য নিয়ে তিন দুই পা দিয়েই ট্র্যাক্টর চালানো শেখেন। সুজিত জানান,ট্র্যাক্টর চালিয়েই তিনি প্রথম উপার্জন করা শুরু করেন।এখন ট্র্যাক্টর চালানোর পাশাপাশি ধানের ব্যবসাও করেন। সম্প্রতি খুড়তুতো ভাইয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপে স্পেয়ার পার্টসের ব্যবসাও শুরু করেছেন বলে সুজিত জানান।কিন্তু দোকানে ব্যবসার খাতা সারা,খরিদ্দারকে মালপত্র দেওয়া এসব কাজ করেন কিভাবে? উত্তরে সুজিত জানান, এই সবকিছু তিনি পায়ে করেই করেন। আর অ্যানন্ড্রয়েড ফোন পায়ে ধরে নিয়েই তিনি অন্যের সঙ্গে কথা বলেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক এইসবও তিনি পায়ে করেই করেন। খাওয়া দাওয়া করতে সমস্যা হয় না? এর উত্তরে সুজিত জানান, বাড়িতে থাকলে মা খাইয়ে দেন। বাইরে থাকলে চামচ পায়ের আঙুল দিয়ে ধরে নিয়ে খাবার তুলে খান।প্রতিবন্ধী সুজিত দাবি করেন,পা দিয়ে তাঁকে সবকিছু করতে হয় বলে তাঁর কোন আক্ষেপ নেই। বরং নিজেকে নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন। কারণ হাত না থাকলেও শুধমাত্র দুপা দিয়েও যে জগৎতের সবকিছুকে জয় করা যায়, সেটা তিনি করে দেখাতে পরেছেন। এত কিছুর পরেও সুজিত দাঁয়ের আক্ষেপ,সরকার বা প্রশাসন কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ালো না। কোথাও একটা স্থায়ী চাকরি পেলে তাঁর অনেক উপকার হত বলে সুজিত জানিয়েছেন।মা পুতুলদেবী বলেন,ছেলেকে জন্ম দেবার পর যখন দেখি আমার ছেলের দুটি হাতই নেই তখন আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফেরার পর শুধুই দেখেছি। অনেক ব্যঙ্গ বিদ্রুপ আমায় সহ্য করতে হয়েছে। পরিবারের সবাই পাশে ছিল বলে ছেলে সুজিত সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। পায়ে করে লেখাপড়া শিখে ছেলে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা যখন দেয় ওই মাসেই আমার স্বামী মারা যান। পুতুলদেবী গর্বের সঙ্গে বলেন, নিজের প্রচেষ্টায় ও ঈশ্বরের কৃপায় আজ আমার ছেলে সুজিত শুধু নিজেই সাবলম্বী হয়নি, অন্য প্রতিবন্ধীদেরও জীবন সংগ্রামের দিশা দেখাচ্ছে।সুজিতের ছোট কাকু তুলসি দাঁ বলেন,দুহাত না থাকা অবস্থায় ভাইপো সুজিত জন্মানোর পর অনেকেই ওকে প্রাণে মেরে দেবার যুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু বাড়ির প্রথম সন্তানের জীবন কেড়ে নেওয়ার যুক্তি তাঁরা কেউ মানেন নি। আজ ভাইপো তাঁর দুটি পাকে সম্বল করেই সাবলম্বী হয়েছে। সাধারণ মানুষ দুহাতে করে যা যা করে তার ৯০ শতাংশ সুজিত পায়ে করেই করে। তুলসি বাবু জানান,সরকার বা প্রশাসন কোথাও একটা স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দিলে ভাইপো সুজিতের খুবই উপাকার হত।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
রাজ্য

ফ্লাইওভারের দাবিতে জাতীয় সড়কে অবরোধ গ্রামবাসীদের

মঙ্গলবার বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়কের নলা বাসস্ট্যাণ্ডের কাছে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অবরোধ করেন এলাকাবাসিন্দারা। অবরোধের জেরে বেশ কিছুক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বর্ধমান থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।তারপর পুলিশি আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ এখানে প্রায় ছ থেকে সাতটি গ্রাম আছে। বেশ কয়েকটি বাস চলাচল করে, তার জন্য জাতীয় সড়কের নলা বাসস্ট্যাণ্ডের কাছে কাটাউট ছিল।কিন্তু রাস্তা সম্প্রসারণের করতে গিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সেই কাটাউটটি বন্ধ করে দেয়। যার কারণে এলাকার বাসিন্দাদের প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে আসতে হবে। এর ফলেই তারা চরম সমস্যার মধ্যে পড়বে। এই নিয়ে তারা জেলা পরিষদ, জেলাশাসক, পঞ্চায়েত অফিস সহ সমস্ত জায়গাতে লিখিত ভাবে তারা জানান যদি এই কাটআউট বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে তার বদলে যেন এখানে ফ্লাইওভার তৈরি করা হয়। কিন্তু এই বিষয়ে কোন সদুত্তর না মেলায় অবরোধে সামিল হন গ্রামবাসীরা।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
রাজ্য

পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতি আবাস যোজনার তালিকা থেকে নিজেই কাটালেন তাঁর নাম, কটাক্ষ বিরোধীদের

এযেন উলোট পূরাণ। আবাস যোজনার তালিকায় নাম থাকায় সেই নাম নিজেই কেটে দিলেন পূর্ব বর্ধমানের রায়না ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রত্না মহন্ত।যেখানে আবাস যোজনা তালিকা নিয়ে সরজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে আক্রমণের মুখে পড়ছেন আইসিডিএস ও অঙ্গনওয়াড়ীর কর্মীরা। অভিযোগ উঠছে শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে। পাকা বাড়ি থাকা স্বত্বেও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীদের নাম আবাস যোজনায় তালিকায় আছে। সেই নিয়ে সার্ভে করতে গিয়েই অশান্তি হচ্ছে। রোষের মুখে পড়ছেন সার্ভের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। কোথাও কোথাও আবার সরকারি আধিকারিকরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।জেলার খণ্ডঘোষের ব্লকের শাঁখারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখের পেল্লায় চারতলা বিশাল বাড়ি। তবু্ও তার নাম আবাস যোজনা তালিকায় জ্বল জ্বল করছে। প্রথম দিকে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কোন উদ্যোগ নেননি উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখ, অভিযোগ বিরোধীদের। পরে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে হৈচৈ হওয়ায় ব্লকের বিডিও তালিকা থেকে জাহাঙ্গীর সেখের নাম বাদ দেন।এখানে অবশ্য রায়না ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রত্না মহন্ত ঠিক উল্টো পথেই হেঁটেছেন। তালিকায় তার নাম দেখে নিজেই নাম কেটে দেন। তিনি বলেন, আগে যখন সার্ভে করা হয়েছিল সেই সময় তার কোনও পাকা বাড়ি ছিল না। ছিল মাটির বাড়ি। সেই সময় সার্ভে করতে গিয়ে ছবি তোলা হয় এবং সেই অনুযায়ী এবার আবাস যোজনার তালিকায় নামও আসে তার। কিন্তু রায়না ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সহ অন্যান্য দলীয় নেতৃত্বদের সাহায্যে বর্তমানে তার একটি পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তার যেহেতু পাকা বাড়ি মাথার ছাদ সবটাই রয়েছে তাই তার জায়গায় যাতে অন্য আরেকজন দুঃস্থ অসহায় মানুষ আবাস যোজনার তালিকায় আসতে পারেন সেই জন্য তিনি নিজের নাম সোমবার কেটে দেন। তবে বিরোধীরা অবশ্য এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। ঠেলায় পড়েই নাম কাটতে উদ্যোগী হয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলে দাবী করেন জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
রাজ্য

আবাস যোজনা’র স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার অভিযোগ জমা নেওয়ার উদ্যোগ জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা'র

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে যেকোনো ধরনের অভাব, অভিযোগ এবার জেলার প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরেরই জানানো যাবে। সেই উদ্দেশ্যেই পূর্ব-বর্ধমানের জেলাশাসক সহ জেলার প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরের সামনেই বসানো হল অভিযোগ বক্স।জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা জানিয়েছেন,ইতিমধ্যেই জেলায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সংক্রান্ত প্রায় ৭৩৭ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। যার বেশীরভাগটাই যোজনায় অন্তর্ভুক্তকরণের। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগ গুলোও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জেলায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার নাম নথিভুক্ত আছে। যে তালিকা আবার নতুন করে প্রশাসনিকভাবে যাচাই করার কাজ চলছে। মূলত বিডিও ও এসডিও স্তরে দুবার যাচাইয়ের পর ফের তৃতীয়স্তর হিসাবে এডিএম স্তরে সেই তালিকা যাচাইয়ের পরই ফের নতুন তালিকা তৈরী করা হবে।রাজ্যজুড়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে দুর্নীতির ও স্বজনপোষণের অভিযোগের শেষ নেই। এবং তা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজাও কম হচ্ছে না। এরই মাঝে জেলাপ্রশাসনের তরফে অভিযোগ বক্স বসানোকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ফের রাজনৈতিক চাপানউতর।জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এরপর এত অভিযোগ প্রতিদিন জমা পড়বে, প্রশাসনের আধিকারিকরা নাজেহাল হবেন। কারণ গরিব মানুষজনের নাম আবাস যোজনার তালিকায় নেই। যারা প্রকৃত দাবীদার তাদের নাম শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বাদ দিয়ে নিজেদের নাম তালিকায় নথিভুক্ত করেছেন। এই দাবী আমরা প্রথম থেকেই করে আসছি। দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ নিয়ে আমরা অভিযোগ করেছি বারে বারে। তখন তৃণমূল কান দেই নি। এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে তাই বক্স করছে প্রশাসনিক দপ্তরে। কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না বলে এতদিন মিথ্যে অভিযোগ করছিল রাজ্য সরকার ও তৃণমূল। এখন তা প্রমাণিত হল। আইসিডিএস কর্মী সার্ভে করতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। গেলে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। তৃণমূল নেতারা তাদের আক্রমণ করছে। হুমকি দিচ্ছে।অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস। তিনি বলেন,যখন সার্ভে হয়েছিল তখন তার পাকা বাড়ি ছিল না। এখন ২০২২ সালে আবাস যোজনার তালিকায় তার নাম আছে। এতে বেনিয়মের কি আছে। প্রশাসন তদন্ত করে দেখে তবেই তো নাম থাকবে। অনেকেই প্রশাসনের কাছে গিয়ে নাম কাটাচ্ছেন।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
রাজ্য

বেপড়োয়া চারচাকা গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত সিভিক ভলেন্টিয়ার

ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় জখম হলেন একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার। তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে অনানয় সুপার স্পেশালিষ্টি হাসপাতালে। জখম সিভিক ভলেন্টিয়ারের নাম সেখ নাজির হোসেন। বাড়ি মেমারির বাগিলায়।প্রত্যক্ষদর্শী আকাশ চৌধুরী বলেন, চারচাকা গাড়িটি পুলিশ লাইনের দিক থেকে উল্লাস মোড়ের দিকে যাচ্ছিল।প্রথমে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রিক্সাকে ধাক্কা মারে। তারপর বাইকের পিছনে ধাক্কা মারে গাড়িটি।পর পর ধাক্কা দেওয়ার পর বেগতিক বুঝে গাড়ির চালক আলিশা বাসস্ট্যাণ্ডের সামনে গাড়ি রেখে চম্পট দেয়।গাড়ির সামনে লেখা আছে অন ডিউটি গর্ভমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল। বর্ধমান থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জখম সিভিক ভলেন্টিয়ার বর্ধমান শহরের জিটি রোডের বাদামতলা মোড়ে সোমবার ডিউটি করছিলেন। দুপুরে ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
রাজ্য

রাস্তার ওপর বসেই চলছে দেদার বিকিকিনি! বর্ধমান আছে বর্ধমানেই

মাত্র কয়েকদিন আগেই বর্ধমান শহরের রাস্তাকে যানজট মুক্ত করতে বিশেষত বিসি রোড, বড়বাজার এলাকায় রাস্তায় হেঁটেছিলেন জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার থেকে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক। রীতিমতো ব্যবসাদার থেকে হকারদের হুঁশিয়ারী দিয়েছিলেন তাঁরা। মুল রাস্তায় হকার বসতে পারবে না বলেও তাঁরা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সময় যেতেই সেই একই চিত্র বিসি রোড থেকে বড়বাজার। পিচ রাস্তার ওপর বসেই চলছে দেদার বিকিকিনি। ফুটপাথ সেই আগের মতই দখলে চলে গেছে দোকানদারদের পসরা থেকে হকারদের মালপত্র। চুপ প্রশাসন। চুপ বিধায়ক। অথচ বর্ধমান শহর তথা বিসি রোডকে সৌন্দর্য্যায়ন ঘটাতে রাতারাতি বিসিরোডের ফুটপাথের পুরনো গ্রিলকে সরিয়ে সেখানে নীল সাদা রংয়ের ফেন্সিং বসানোও হয়েছে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে।কিন্তু বর্ধমান আছে বর্ধমানেই। পুলিশ সুপার থেকে বিধায়কের আস্ফালন, হুঁশিয়ারী যে কার্যতই অন্তসারশুন্য তা এখন হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছেন পথচারী থেকে সাধারণ মানুষ। শুধু তাইই নয় অভিযোগ উঠেছে খোদ হকার ইউনিয়নের নেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্রই নাকি বাধা দান করছেন পুলিশকে। এব্যাপারে তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র তথা হকার ইউনিয়নের ৩০ বছরের নেতা প্রসেনজিৎ দাস জানিয়েছেন, রাস্তা দখল করে ব্যবসা করলে তা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের।একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাম আমলে বার বার হকারদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হয়েছে। গরীব হকারদের জন্য তৃণমূল সরকারের নীতি ঘোষণা হয়েছে হকারদের উচ্ছেদ করা যাবে না। প্রসেনজিত দাস জানিয়েছেন, ব্যবসার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এই অবস্থায় প্রশাসনের উচিত হকারদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।অন্যদিকে, প্রশাসনের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ফের রাস্তায় হকারদের ব্যবসা নিয়ে রীতিমতো কটাক্ষ করেছেন জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি গৌরব সমাদ্দার থেকে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ। গৌরব সমাদ্দার জানিয়েছেন, রাস্তা থেকে হকারদের সরানো নিয়ে ছক কষা হয়েছে। খোদ বিধায়ক নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই বিসি রোডের কয়েকটি জায়গাকে হকারমুক্ত করেছেন। একই অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দও।

ডিসেম্বর ১২, ২০২২
রাজ্য

হোটেল থেকে যুগলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার বর্ধমানে

প্রেমিক প্রেমিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল বর্ধমানের তিনকোনিয়া এলাকার একটি হোটেল থেকে। রবিবার বিকেলে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। আত্মঘাতী যুগলের নাম মহাদেব মাঝি(২০) ও প্রিয়াঙ্কা মিত্র। মৃত দুজনেরই বাড়ি বাঁকুড়া জেলায়। তবে বর্তমানে প্রিয়াঙ্কা মিত্র বর্ধমান শহরের ইছলাবাদ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া থাকতো বলে জানা গেছে।হোটেল কর্মী তাপস কান্তি মণ্ডল বলেন, শনিবার বিকেলে মহাদেব মাঝি হোটেলের চার তলায় একটি রুম ভাড়া নেন। রবিবার সকাল ১০ টার সময় একটি মেয়েকে সঙ্গে হোটেলের রুমে ঢোকেন। হোটেল কর্মীরা জিজ্ঞাসা করলে মহাদেব মাঝি জানায় এটি তার বোন হয়। এখুনি চেক আপ করবো।কিন্তু তারপর দীর্ঘক্ষণ হোটেলের রুম না খোলায় হোটেল কর্মীদের সন্দেহ হয়। তারা ডাকাডাকি করলেও ভিতর থেকে কোন সাড়া পায় নি। তখন বর্ধমান থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে যুগলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।হোটেল কর্মীরা জানান, দুজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। দুজনের গলায় মালা ছিল। রুম থেকে একটি সিঁদুরের কৌটা পাওয়া যায়। তাদের অনুমান রবিবারই হোটেলের রুমে তারা মালা বদল করে বিয়ে করে। রুম থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। ডিএসপি ট্রাফিক রাকেশ চৌধুরী বলেন, ঝুলন্ত অবস্থায় দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত দুজনেরই বাড়ি বাঁকুড়ায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে হোটলের ভূমিকা নিয়েও। কেন এতক্ষণ পর থানায় খবর দেওয়া হয় হোটেল থেকে।

ডিসেম্বর ১২, ২০২২
রাজ্য

শীতের রাতে বর্ধমান শহরে ভয়াবহ আগুন। ভষ্মীভুত একটি দোকান সহ তিনটি গুমটি

শনিবার বর্ধমান শহরে জিটি রোড সংলগন মনিমার্টে ভয়াবহ আগুনের আতঙ্কে চাঞ্চল্য ছড়ালো । শনিবার রাত প্রায় সাড়ে নটা নাগাদ একটি গুমটি দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা যায়। একটি ইলেকট্রিক পোস্টেও আগুন জ্বলতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা দমকলকে খবর দেয় স্থানীয় মানুষজন। দমকলের একটি ইঞ্জিন গিয়ে মিনিট পনেরো-কুড়ির মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।স্থানীয় কাউন্সিলর আনন্দগোপাল সাহা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বলেন, গ্যাস ওভেন সারানোর একটি গুমটিতে আগুন লাগে। এই দোকানটি মনিমার্ট এলাকার এইচ পি গ্যাস সাপ্লাই অফিসের একেবার গায়ে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। আগুনে প্রবল উত্তাপে আশেপাশের দুটি গুমটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি নয়।দমকল আধিকারিক সুজিত দাস বলেন, বেআইনি ভাবে ইলেকট্রিক পোলের নীচে গুমটি এলপিজি গ্যাস সিলিণ্ডার মজুত ছিল। দুটি কর্মাশিয়াল গ্যাস সিলিণ্ডার মজুত ছিল গুমটিতে। আগুন ছড়ানোর আগেই তারা নিভিয়ে ফেলেন। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়লে মারাত্মক বিপদ হতে পারত। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হত। প্রাণহানিও হতে পারতো। আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে গোটা বিষয়টি জানাবো।

ডিসেম্বর ১০, ২০২২
রাজ্য

রাত পোহালেই টেট, প্রস্তুতি তুঙ্গে

রাত পোহালেই টেট পরীক্ষা। প্রস্তুতি প্রায় সাড়া। পূর্ব বর্ধমান জেলায় মোট ৫৬টি সেন্টার আছে। একজন সেন্টার ইনচার্জ আছেন।একজন এক্সটেনশন লেভেল অফি সার আছেন।আর আছেন একজন অবজার্ভার। এই তিনজন মিলে পরীক্ষা পরিচালনা করবেন।মোট ৩২ হাজার টেট পরীক্ষার্থী আছেন পূর্ব বর্ধমান জেলায়।যারা দায়িত্বে আছেন তাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, আর টি ও, বিদ্যুৎ দপ্তর ও দমকল সবাইকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠক হয়েছে। মোট ৫৬ জন অবজার্ভার রয়েছেন। যাতায়াতের জন্য আর টি ও দায়িত্বে আছেন। তিনি প্রতিটি সেন্টারে যাতে সকাল ১১ টা অবধি স্টেট বাস চলে তার ব্যবস্থা করবেন। ট্রাফিকে যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তা পুলিশ দেখবে। অন্যদিকে রেলকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে ওইদিন অর্থাৎ রবিবার ট্রেন ঠিকমতো চলে।পরীক্ষা যাতে কোন অশান্তি না হয় তার জন্য জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা দফায় দফায় প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।

ডিসেম্বর ১০, ২০২২
রাজ্য

মেমারি থেকে কাটোয়া রেল প্রকল্পের আশ্বাস দিয়ে পঞ্চায়েত ভোট প্রচার শুরু বিজেপি সাংসদ আলুওয়ালিয়া'র

পঞ্চায়েত ভোটের আগে দলীয় কর্মীদের নিয়ে সভা করলেন বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ এস এস আলুওয়ালিয়া। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর বিধানসভার কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। পাশপাশি, এদিন মেমারি ২ ব্লকে সাতগেছিয়া এলাকায় একটি হিমঘরে এই পঞ্চায়েত সম্মেলন ও বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীরা কিভাবে কাজ করবেন, কোন কোন বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এদিনের বৈঠকে সাংসদ ছাড়াও ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা ও অন্যান্যরা।সাংসদ এস এস আলুওয়ালিয়া বলেন, মেমারি কাটোয়া ভায়া মন্তেশ্বর একটি রেল লাইন করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এই রেল লাইন চালু হলে এলাকার মানুষের উপকার হবে। এই এলাকায় মানুষের উৎপাদিত ফসল সহজেই অন্যত্র পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এই রেলপথ দ্রুত চালু করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডিসেম্বর ১০, ২০২২
রাজ্য

আবাস যোজনার তালিকায় উপপ্রধানের নাম! তাঁর বিলাসবহুল অট্টালিকা নিয়ে কটাক্ষ বিরোধীদের

আবাস যোজনার তালিকা প্রকাশিত হতেই বিরোধীদের অভিযোগে শিলমোহর পড়লো পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে। আবাস যোজনার বাড়ি নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। বাম ডান সব আমলেই স্বজনপোষণ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ হয়েছে। শাসকদলের নেতারা কমবেশি অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতার জাহির করেছেন।কিন্তু খণ্ডঘোষের শাঁকারি গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশবপুর গ্রামে চুরি নয় রীতিমত পুকুর চুরি বললেও কম বলা হবে। এককথায় ডাকাতি হয়েছে। তাই নিয়ে সরব হয়েছেন শাসকদলের একাংশ।শাঁকারি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখ। গ্রামেই রয়েছে তার বিলাসবহুল চোখ ধাঁধানো চারতলা ইমারত। তবুও সদ্য প্রকাশিত আবাস যোজনার তালিকায় উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখের স্ত্রী সীমা সেখের নাম রয়েছে। এখানেই শেষ নয় পাশাপাশি তার মৃত বাবা সেখ মহসিন, ভাই আমনগীর সেখ ও আর এক ভাই আজমগীর সেখের নামেও আবাস যোজনার বাড়ি নথিভুক্ত হয়েছে। গোল বেঁধেছে এখানেই। এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অভিযোগ তারা গরিব হলেও তারা আবাস যোজনার বাড়ি পাচ্ছেন না। তাদের মাটির বাড়ি আছে,কারো মাটির বাড়ি ভেঙে গেছে। তবুও তাদের নামে আবাস যোজনার বাড়ি আসে নি।শাঁকারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শিউলী খাঁ বলেন, আমাকে কোন কাজ করতে দেওয়া হয় নি।আমাকে পুরোপুরি নিক্রিয় করে রাখা হয়েছে। উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখ নিজের খুশী মত সব ঠিক করেছে।এখানে আমার কোন ভূমিকাই নেই। এই বিষয়ে আমি উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছিলাম।এই বিষয়ে অভিযুক্ত উপপ্রধান জাহাঙ্গীর সেখের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তার সাফাই তিনি দলের কাজে ব্যস্ত থাকেন।অফিসে খুব একটা যান না। কে বা কারা এই লিস্ট করেছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি তার নজরে আসা মাত্র নাম বাতিলের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান। খণ্ডঘোষের বিডিও সত্যজিৎ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই সব নাম বাতিল করা হয়েছে।জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী পাকা বাড়ি থাকলে বা আর্থিক অবস্থা ভালো হল তিনি আবাস যোজনার বাড়ি পাবেন না। এই ক্ষেত্রে কি ভুল ভ্রান্তি হয়েছে প্রশাসন তা দেখছে। আর এটা আগেকার তালিকা।এই বিষয়ে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। চারতলা বাড়ির মালিক অথচ তার নামে আবাস যোজনার বাড়ি আসছে।প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো বলে তিনি হুঁশিয়ারী দেন।

ডিসেম্বর ১০, ২০২২
রাজ্য

জমির নাড়া পোড়াতে গিয়ে পুড়ে ছাই পাশের জমির ধান, পথে বসলেন চাষী

আগুনে ভস্মীভূত হল ধানের জমি। চরম ক্ষতির সন্মুখিন জমির মালিক। জমির মালিক বিকাশ ঘোষ জানান, পাশের জমির নাড়া পোড়ানোর আগুন ছড়িয়ে গিয়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তাঁর ১৫ কাঠা জমির গোবিন্দভোগ ধান।পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের পারহাট গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ ঘোষ তার ১৬ কাঠা জমিতে গোবিন্দভোগ ধানের চাষ করেছিলেন। চাষের ওপরেই নির্ভর গোটা পরিবার। ধান পেকে যাওয়ায় যথারীতি তিনি ধান কাটেন। পরের দিন কাটা ধান বাঁধতে গিয়ে তিনি দেখেন ১৬ কাটা জমির মধ্যে ১৫ কাঠা জমির ধান আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এ যেন পাকা ধানে মই।বিকাশ বাবু বলেন আশেপাশের জমির ধান কাটার পর অবশিষ্ট অংশে কেউ বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই আগুন ছড়িয়ে তাঁর জমির ধান সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পুলিশ ও কৃষি বিভাগে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ভাতার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুমন্ত বন্দোপাধ্যায় বলেন, নাড়া পোড়ানো নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে। একাধিকবার কৃষকদের নিয়ে বৈঠকও করা হয়েছে। তাতেও হুঁশ ফিরছে না। নাড়া পোড়ানোর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পারহাটের ওই কৃষক। ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। পাশাপাশি নাড়া পোড়ানোর বিষয়ে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২২
রাজ্য

‘জাতের নামে বজ্জাতি’র বিরুদ্ধে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি মাধ্যমে সুস্থ পৃথিবী গড়তে ফুটবলের মাঠে এসএফআই

আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখে খেলা হবে স্লোগান সামনে রেখে রে রে করে মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বস্তবের ফুটবল মাঠে সত্যি সত্যি বল পায়ে খেলতে নেমে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবল প্রতিপক্ষ সিপিএম-এর ছাত্র যুব সংগঠন। বিশ্বকাপকে ঘিরে উন্মাদনায় মাতলো এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই।সম্প্রীতির ফুটবল খেলা হল বর্ধমানে। ভারত কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব না করলেও বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে বাংলা সহ সারা ভারত। কাতারে যখন ধর্মীয় ফতোয়া, ধর্ম,বর্ণ বিশেষে বিভাজন চলছে, ঠিক তখনই বর্ধমানে রাজপথে সম্প্রীতির বর্ণময় মিছিল করলো এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআই।বর্ধমানের মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল মাঠে হল সম্প্রীতির ফুটবল ম্যাচ। বর্ণময় মিছিলে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন সহ বিভিন্ন দেশের জার্সি ছিল বাম ছাত্র ও যুবদের গায়ে। এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক অনির্বাণ চৌধুরী জানান আমাদের দেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজন চলছে, কাতারে চলছে ফতোয়া, চলছে লিঙ্গ বৈষম্য। আমরা সারা বিশ্বকে এই বার্তা দিতে চাইছি না ধর্ম, না বর্ণ, না লিঙ্গ বৈষম্য, না রাজনীতি। চাই ঐক্য ও সম্প্রীতির বিশ্ব।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • ...
  • 42
  • 43
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজোয় আজও ধূপ-ধুনোয় সেজে ওঠে ‘স্টিম সাহেব’, জলপাইগুড়ির বুকে ব্রিটিশ আমলের জীবন্ত স্মৃতি

জলপাইগুড়ি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নাম, স্টিম সাহেব। ব্রিটিশ আমলের কয়লা চালিত এই স্টিম রোলারকে ঘিরে এখনও আবেগ রয়েছে বহু মানুষের। প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরে পরম যত্নে পুজো করা হয় ঐতিহাসিক এই যন্ত্রটিকে।স্বাধীনতার বহু আগে সুদূর লন্ডন থেকে জলপাইগুড়িতে আনা হয়েছিল কয়লা চালিত এই স্টিম রোলার। ব্রিটিশ সাহেবদের হাত ধরে শহরে আসার কারণেই স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এর নাম হয়ে যায় স্টিম সাহেব। একসময় জলপাইগুড়ি থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর পর্যন্ত রাস্তা তৈরি ও মেরামতির কাজে নিয়মিত ব্যবহার করা হত এই রোলার।সেই সময়ের যান্ত্রিক প্রযুক্তির অন্যতম নিদর্শন ছিল এটি। রোলারের বয়লারে কয়লা দেওয়া থেকে শুরু করে স্টিয়ারিং ঘোরানোপুরো ব্যবস্থাটিই ছিল যান্ত্রিক পদ্ধতিনির্ভর। দেশভাগের পরেও দীর্ঘদিন নিজের দায়িত্ব পালন করেছে স্টিম সাহেব। তবে সময়ের সঙ্গে ডিজেল চালিত রোলারের ব্যবহার বাড়ায় ধীরে ধীরে গুরুত্ব কমতে থাকে এই পুরনো যন্ত্রটির। একসময় পূর্ত দপ্তরের এক কোণে অবহেলায় পড়ে ছিল এটি।১৯৬৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় রোলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটিকে উদ্ধার করে মেরামত করা হয়। সরকারি উদ্যোগে এরপর পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরেই স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় ঐতিহাসিক এই স্টিম রোলারকে। জানা যায়, কয়েক বছর আগে যে লন্ডন-ভিত্তিক সংস্থা এটি তৈরি করেছিল, তাদের পক্ষ থেকে রোলারটি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।তাই আজও জলপাইগুড়ির মাটিতেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্টিম সাহেব। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বর্তমান কর্মীদের পাশাপাশি বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীও নস্টালজিয়ার টানে ছুটে আসেন পূর্ত দপ্তরে।অবসরপ্রাপ্ত কর্মী পার্থপ্রতিম সেনের কথায়, স্টিম সাহেব এখনও তাঁদের কাছে এক জীবন্ত নস্টালজিয়া। বর্তমান কর্মী গৌতম দীক্ষিত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মধু সরকারও মনে করেন, এই ঐতিহ্য ও পরম্পরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও একইভাবে টিকে থাকুক। তাঁদের কাছে স্টিম সাহেব শুধু একটি পুরনো যন্ত্র নয়, বরং জলপাইগুড়ির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘ঝরা পাতা তৃণমূলে নয়’, কংগ্রেসের ‘বটগাছের’ ছায়ায় আসার ডাক অধীরের

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে হয়েছে। মমতা শিবিরের জন্য ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য খাম প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জোড়াফুল প্রতীক ও দলের পুরনো নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন।এই পরিস্থিতির মধ্যেই নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানান। রেজিনগর নিয়ে অবশ্য মমতার শিবিরের অবস্থান তখনও স্পষ্ট ছিল না।নন্দীগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল বা তৃণমূলের অন্য কোনও শিবিরের পরিবর্তে কংগ্রেসের পাশে আসা উচিত বিরোধীদের।অধীর বলেন, কংগ্রেস একটি বটগাছের মতো এবং তৃণমূল সেই বটগাছের ঝরা পাতা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করতে চান, তাঁদের কংগ্রেসের ছায়ায় আসা উচিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপি-বিরোধী ভোটার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে কংগ্রেসের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।তৃণমূলের নতুন প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করেন অধীর। তাঁর কথায়, মমতার শিবির ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক পেয়েছে এবং অন্য শিবির পেয়েছে খাম। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনাকেও তিনি তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে তুলে ধরেন। রেজিনগর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তবে সঞ্চিতা প্রধান দে কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন, সেই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ওই সাক্ষাৎ এবং তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।এর পর নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। মমতা জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হয়েছেন অধীর। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন এবং কমিশনকে বিজেপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন। তবে এটি অধীররঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ প্রতিনিধি দাবি করায় উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের কংগ্রেসকে সমর্থনএই তিনটি ঘটনা ঘিরে উপনির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রেজিনগরেও শেষ পর্যন্ত কী ছবি দেখা যাবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

খাম নিয়ে নতুন সংঘাত, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পথে আইএসএফ? কী বললেন নওশাদ

ঘাসফুল আপাতত বাইরে। নতুন নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস, আর প্রতীক খাম। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন বিতর্কে জড়াল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। কারণ, খাম প্রতীকটি আগে থেকেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই ভোটে লড়ার দাবি করেছে আইএসএফ। এবার সেই প্রতীকই ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নাম হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে খাম। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে আলাদা নাম ও প্রতীক। পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহার করা যাবে না।কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের নতুন প্রতীক সামনে আসার পরেই আপত্তি তোলে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, ২০২১ সাল থেকেই তাঁদের দল খাম প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়ছে। চলতি বছরেও ওই প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সেই পরিস্থিতিতে একই প্রতীক অন্য একটি দলকে কী ভাবে দেওয়া হল?শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নওশাদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গত ১০ মার্চ আইএসএফের খাম প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই ঋতব্রত শিবিরকে একই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।নওশাদ জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আইএসএফকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এই অভিযোগ নওশাদ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও ষড়যন্ত্রের কথা জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির অবশ্য নতুন প্রতীক নিয়ে সন্তুষ্ট। নন্দীগ্রামের ওই শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, তাঁরা খাম প্রতীক পেয়েছেন এবং সেই প্রতীক নিয়েই প্রচারে নামবেন। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন, আইএসএফের দাবি নির্বাচন কমিশন কী ভাবে বিবেচনা করবে এবং নন্দীগ্রামের ভোটে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কোন প্রতীকে লড়বেন। ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে কমিশন। এখন নওশাদ সিদ্দিকীর আপত্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে রোহিতের ভবিষ্যৎ কী? দলবদলের জল্পনার মধ্যেই মিলল তাঁর নিজের বার্তা

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেটমহলে নানা জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ঘিরে দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, রোহিত কি ফের মুম্বইয়ের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন? পাশাপাশি তাঁর অন্য কোনও আইপিএল দলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। সেই আলোচনাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ব্যাটিং কোচ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের হেড কোচ অভিষেক নায়ার।তবে এই জল্পনার সূত্রপাত কোনও ক্রিকেট ম্যাচে নয়, রোহিত শর্মার নতুন একটি রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা সেই অনুষ্ঠানের টিজারে রোহিত এবং অভিষেক নায়ারের কথোপকথনের একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে রোহিতের পোশাকের রং নিয়েই মজার ছলে শুরু হয় দলবদলের প্রসঙ্গ।টিজারে দেখা যায়, রোহিতের পরনে হলুদ পোশাক। সেই রং দেখে অভিষেক নায়ার মজা করে চেন্নাইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানতে চান, রোহিত কি তবে দল বদলানোর কথা ভাবছেন? কারণ হলুদ রং চেন্নাইয়ের সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন শুনে রোহিতও মজার ছলে পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, তাঁর পোশাকের রং সরষের মতো হলুদ।এর পরেই কথোপকথনে উঠে আসে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রসঙ্গ। অভিষেক নায়ার বলেন, সোনালি এবং হলুদ রঙের সঙ্গে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজিরও যোগ রয়েছে। ফলে রোহিত কি এবার কলকাতার দলে যোগ দেবেন, সেই ইঙ্গিতও মজার ছলে দেওয়া হয়।অভিষেকের প্রশ্নের মধ্যেই দর্শকদের একাংশ মুম্বইয়ের নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই সময় রোহিত মৃদু হেসে বলেন, চিরকাল। তাঁর এই এক শব্দের উত্তর থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে অনেকেই এই বক্তব্যকে দলবদলের জল্পনার প্রেক্ষিতে দেখছেন। তবে টিজারের এই কথোপকথন থেকে রোহিতের আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিতের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তাঁর নেতৃত্বে দলটি আইপিএলে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবেও রোহিতের সাফল্য রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে।এ বার ক্রিকেটের মাঠের পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে রোহিতকে। তাঁর নতুন অনুষ্ঠানের প্রথম টিজার প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টিজারে অভিষেক নায়ারের সঙ্গে রোহিতের কথোপকথনও সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।রোহিত সত্যিই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়বেন কি না, কিংবা অন্য কোনও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে আপাতত কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। তবে নতুন অনুষ্ঠানের টিজারে মুম্বই নিয়ে রোহিতের চিরকাল মন্তব্য দলবদলের জল্পনার মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছে। এখন দেখার, টেলিভিশনের মঞ্চে রোহিতের এই নতুন ইনিংস দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

সারা ঘরে বেলুন দিয়ে সাজানো, ফ্রিজে মেয়ের দেহ, পাশে চকলেট! ঘরে উদ্ধার বাবার ঝুলন্ত দেহ

গুজরাটের আমরেলি জেলায় এক পাঁচ বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু এবং তার বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ৪০ বছরের কিশোর ধনক তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে হিংমাশীকে হত্যা করার পর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘরের ভিতর থেকে তিনটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি মেয়েকে কেন হত্যা করেছিলেন, তারও ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনাটি আমরেলি জেলার সাভরকুণ্ডলা এলাকার হাদিদা গ্রামের। কিশোর ধনক নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী মঞ্জুবেন বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোন বন্ধ থাকায় তিনি তাঁর ভাইকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই কিশোরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়।এর পর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ ফ্রিজের ভিতর হিংমাশীর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, শিশুটিকে হত্যা করার পর তার দেহ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর আরও স্পষ্ট হবে।ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তদন্তকারীদের আরও ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরটি বেলুন ও মোমবাতি দিয়ে সাজানো ছিল। শিশুটির জন্য চকোলেটও রাখা হয়েছিল। এমনকি ফ্রিজের উপরে শুভ জন্মদিন হিংমাশী লেখা একটি কাগজ পাওয়া যায়। অথচ সেদিন হিংমাশীর জন্মদিন ছিল না। শিশুটিকে সাদা পোশাক পরানো হয়েছিল এবং মাথায় ওড়নাও দেওয়া ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফ্রিজের ভিতর কুশন রাখা ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ঘরে পুজোর আয়োজনও করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই সমস্ত বিষয় দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মেয়ের জন্য শেষবারের মতো জন্মদিন পালনের মতো একটি আয়োজন করেছিলেন কিশোর। তবে কেন এমন আয়োজন করা হয়েছিল, কেনই বা মেয়েটিকে হত্যা করা হল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। পুলিশের তরফে ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি চিরকুট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি চিরকুটে কিশোর তাঁর আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে নির্মাণকাজে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে সেখানে লেখা ছিল। তাঁর দাবি ছিল, ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকার বেশি পাওনা ছিল। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন।অন্য একটি চিরকুটে মেয়েকে হত্যা করার কারণ হিসেবে কিশোর এমন কথা লিখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পরে মেয়েকে যেন কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর একটি চিরকুটে নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে চিরকুটে লেখা কথাগুলি তদন্তের অংশ হিসেবেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরের স্ত্রী কয়েক দিন আগে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছন। সেখান থেকেই প্রথমে কিশোরের দেহ এবং পরে ফ্রিজের ভিতর শিশুকন্যার দেহের সন্ধান মেলে। ঘটনার পর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।আর্থিক সমস্যাই এই ঘটনার মূল কারণ কি না, শিশুকন্যাকে হত্যার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ঘরটি কেন জন্মদিনের মতো করে সাজানো হয়েছিলএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, চিরকুট এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য মিলিয়ে গোটা ঘটনার ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

মমতা পাশে দাঁড়াতেই বড় ধাক্কা! পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হলেন মিলন। শুক্রবার তাঁকে একটি পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি খুনের মামলায় তিনি অভিযুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বড় রাজনৈতিক ঘোষণাকে ঘিরে। তাঁর দলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। দেশের কথা এবং বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মমতার সেই ঘোষণার পরেই মিলন প্রধানের গ্রেফতারির খবর সামনে আসে। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এবং সেই মামলায় পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। ফলে গ্রেফতারির সঙ্গে পুরনো মামলার যোগ রয়েছে বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে।কংগ্রেস অবশ্য এই গ্রেফতারিকে স্বাভাবিক ভাবে দেখছে না। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার অর্থ বিজেপি কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে। তবে এটি অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; বিজেপির তরফে এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনও বক্তব্য এই ঘটনায় সামনে আসেনি।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের ঠিক আগে মিলন প্রধান সকাল থেকেই প্রচারে ছিলেন। তার পর তাঁকে হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় থানাগুলির কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।শুভঙ্কর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের কাছেও লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হবে, কেন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল এবং বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি কমিশনের নজরেও থাকা উচিত।অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র এই গ্রেফতারিকে প্রশাসনের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ প্রার্থী হলেই তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না, এমন কোনও নিয়ম নেই। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজন মনে হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি নন্দীগ্রামে মমতার কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন।এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে সেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পুরনো মামলায় গ্রেফতারিদুই ঘটনাই একই দিনে সামনে এসেছে। ফলে গ্রেফতারির সময় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও, পুলিশ জানিয়েছে পুরনো মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মিলন প্রধানের গ্রেফতারির ঘটনায় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের পর এই ঘটনায় নন্দীগ্রামের ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

পুজোর আগে সিকিমে বড় বিপদ! পাহাড় থেকে নামছে কাদা-পাথরের স্রোত, বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা

একটানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসের খবর মিলছে। কোথাও জাতীয় সড়ক বন্ধ, কোথাও হাইওয়ে অবরুদ্ধ। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকেরাও। পুজোর মরসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলেও।উত্তর সিকিমে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টি চলছে। শুক্রবার ভোরে সিকিম-শিলিগুড়ি যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বারডাংয়ের ২০ মাইল এলাকায় ধস নামে। রাস্তার উপর দিয়ে কাদা ও পাথরের স্রোত নামায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রী থেকে পর্যটক, সকলেই সমস্যায় পড়েন।গ্যাংটক জেলাতেও একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদাধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। ধসের কারণে বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও বাড়ি ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার কবি-টিংদা কেন্দ্রের বিধায়ক শেরিং টি ভুটিয়ার নেতৃত্বে একটি যৌথ দল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে।বোজোগহারি সংলগ্ন লুয়িং-রাঙ্কা সড়ক, লোয়ার বোজোগহারি, লিংডিং, হাইকোর্ট রোড, টিএনএ গেট, ভিআইপি কলোনি, আপার জেড-বোজোগহারি, পাংথাং-লিংডক সড়ক, পামরো গাঁও, লিং পারবিং, আপার ও মিডল লুয়িং, ফেনজং, রাঙ্কা, রকডং তিনটেক, দারাগাঁও, আপার বুরতুক, সিচে এবং আরিথাং-সহ একাধিক এলাকায় ধসের প্রভাব পড়েছে।বহু জায়গায় এখনও রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু বহুতলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। সিচের নিকাশি জল পরিশোধন কেন্দ্র এবং এনচে স্কুলের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কাছেও ধ্বংসস্তূপ জমে রয়েছে। ফলে ওই এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।উত্তর সিকিমেও ব্যাপক ধসের খবর এসেছে। ফেনসং, কবি এবং লিংচুম-টিংদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা ফের চালু করার কাজ চলছে। ধসপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির জল যাতে মাটির গভীরে ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ না করে, সে জন্য ত্রিপল বিছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ধসপ্রবণ এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাতে আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ৩২ মাইলের কাছে রাডাং এলাকাতেও ধসের কারণে রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার খবর মিলেছে।পূর্ব সিকিমের দুগা এলাকাতেও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। এই পথটি গ্যাংটকের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রাস্তা। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের সমস্যাও বেড়েছে।শুধু সিকিম নয়, নেপালেও ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জামিরেঘাটে ভূমিধসের কারণে পৃথ্বী হাইওয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। রাস্তার উপরের দিক থেকে বড় ধস নেমে কাঠমান্ডুগামী দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধাদিংয়ের ট্রাফিক পুলিশ প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, ধসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রাস্তা পরিষ্কার করতে সময় লাগতে পারে। কৃষ্ণভির এলাকাতেও ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।ভুটানেও কয়েকটি পাহাড়ি রাস্তায় বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। দোচুলা-ওয়াংদুয়ে সড়কের পেনজালুম দ্রুবচু এলাকায় একমুখী যান চলাচল শুরু হলেও পর্যটকদের সতর্ক হয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পানবাং-মাথাংগুড়ি সংযোগ সড়কের কিছু অংশও অবরুদ্ধ হয়েছে।সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথে ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পুজোর আগে পর্যটন শিল্প নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সময় পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। ফলে আগামী দিনে বৃষ্টি ও ধসের পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, তার দিকে নজর রাখছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে’, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ নিয়ে সরব শুভঙ্কর সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ফুল-ঘাস ফ্রিজ করে দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করলেন, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে টালবাহানা করে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও সংরক্ষিত ফুল-ঘাস প্রতীক আপাতত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।এই পরিস্থিতিতে শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই বিতর্কের সমাধান করা। কিন্তু মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর, স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ থাকে।কংগ্রেস সভাপতির মতে, ভারতের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। তাঁর কথায়, এই বহুদলীয় ব্যবস্থাই ভারতের বহুত্ববাদের প্রতিফলন। কংগ্রেস বরাবরই এই বহুত্ববাদে বিশ্বাসী।শুভঙ্কর সরকার মহারাষ্ট্রে শিবসেনার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গেও তৈরি করা হচ্ছে।তবে তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জায়গাটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মতাদর্শগত লড়াই থাকবেসংসদীয় গণতন্ত্রে এটাই কাম্য। কাউকে পরাজিত করতে হলে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই করব। কাউকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, সেটা বাংলার মানুষ তাঁদের ভোটের রায়ের মাধ্যমে করবেন।এরপরই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, আজ আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে। তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার খেলায় নেমেছে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ইঙ্গিত।একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই চলেছে এবং চলবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় দখল এবং রাজ্যে অপশাসনের অভিযোগও তোলেন তিনি।তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী পরিচয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কংগ্রেস মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার।শেষে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচন কমিশনের এই দলদাসসুলভ আচরণ গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal