• ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

UNGA

কলকাতা

ছাব্বিশ হাজার চাকরি বাতিলের জটিল মামলা আবার আলোচনায়, দাগি প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এল নাম!

কলকাতা হাইকোর্টের একটি উল্লেখযোগ্য রায়ের আলো আবার সমালোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যারা চাকরি পাননি, তাদের মধ্যে কয়েকজন দাগি প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়। এখন ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসএসসি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করেছে ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টের দাগি প্রার্থীদের নাম।এই তালিকায় নাম থাকা মাত্রই বিতর্ক শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামের লক্ষ্মী তুঙ্গারের নামও তালিকায় রয়েছে, যিনি ২০১৬ সালে নিয়োগ বৈধতা নিয়ে মামলা করেছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন, বঞ্চিত প্রার্থীর নামে মামলা হয়েছে, যারা লড়েছেন তাঁদের নাম এখন দাগি তালিকায়। এটা একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ। অনেক চূড়া এখনও প্রকাশ পায়নি। তিনি আরও বলেন, নিয়োগ আটকানোর চেষ্টা অনেকবার হয়েছে। তবে যোগ্য শিক্ষকের নিয়োগ বাধ্যতামূলক। তবে এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা কিছুটা প্রকাশ পেয়েছে।চাকরিহারা রাকেশ আলম বলেন, যখন তালিকা প্রকাশিত হলো, তখন স্পষ্ট হলো এই প্যানেল রাজনৈতিক প্রভাবের ফলে তৈরি। আমরা যোগ্য শিক্ষকদের পক্ষে, কোনও রাজনৈতিক পক্ষ নই। ওএমআর মিসম্যাচের অভিযোগে দাগিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অযোগ্য প্রার্থীরাও উঠে এসেছে।এসএসসি সূত্রে জানা যায়, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একজনও দাগি প্রার্থী থাকবেন না, সেই নির্দেশনা মেনে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত তালিকা ভোটের আগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

রাখে হরি মারে কে? সাক্ষাৎ যমরাজকে ফাঁকি দিয়েছেন মালগাড়ির সহকারী চালক, জানুন উপস্থিত বুদ্ধি

সত্য়ি! রাখে হরি তো মারে কে? কিছু প্রবাদ প্রবচন তৈরি হয় নির্দিষ্ট কিছু ভাগ্য়বান মানুষের জন্য়ই। মালগাড়ি ও কাঞ্চনজঙ্ঘার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও বেঁচে গিয়েছেন মালগাড়ির সহচালক মন্নু কুমার। বেসরকারি হাসপাতালে লড়াই করছে এই সহকারী চালক। দুর্ঘটনায় মৃত্য়ু হয়েছে চালকের।এদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় মালগাড়ির চালক ও সহকারী চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হল। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের যাত্রী চৈতালি মজুমদারের ভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে রেল। চালক অনিল কুমার এবং সহকারী চালক মন্নু কুমারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগ, বেপরোয়া গতিতে ট্রেন চালানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।সোমবার দুর্ঘটনায় লোকো পাইলট অনিল কুমারের মৃত্যু হলেও উপস্থিতবুদ্ধির জোরে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন সহকারী চালক মন্নু কুমার। প্রাথমিকভাবে মন্নু তদন্তকারী দলের কাছে যে বিবৃতি দিয়েছেন সেই অনুযায়ী, চোখের সামনে মৃত্যু অবধারিত দেখে চালকের আসন থেকে নেমে নীচের দিকে বসে গিয়েছিলেন তিনি। আর এতেই যমরাজের হাত থেকে নিজের প্রাণ ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন বছর ৩২-এর মন্নু। আপাতত শিলিগুড়ির খালপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সহকারী লোকো পাইলট। তাঁর মাথায় এবং বুকে চোট রয়েছে। আইসিইউতে রাখা হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই তরুণ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। যদিও রেলের কোনও আধিকারিক এনিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। রেল সূত্রের খবর, সহকারী লোকো পাইলট সুস্থ হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।গতকাল নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে মালগাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন লোকো পাইলট অনিল কুমার। সঙ্গে ছিলেন সহকারী মন্নু কুমার। দুজনে কর্মসূত্রে পরিবার নিয়ে শিলিগুড়িতেই থাকেন। মালগাড়ি নিয়ে বেরিয়ে রাঙ্গাপানি স্টেশন পর্যন্ত এসেছিলেন তাঁরা। আটটা নাগাদ অনিল বাড়িতে ফোন করে স্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেন। সিগন্যাল পেয়ে রাঙ্গাপানি স্টেশন থেকে বেরিয়ে কিছুটা এগিয়ে যায় মালগাড়ি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার আগে বাঁক নিয়ে মেন লাইনে প্রবেশ করে সেটি। এরপরই সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখন একমাত্র জানা রয়েছে সহকারীর। চোখের সামনে বিপদ দেখে জরুরি ব্রেক কষেছিলেন লোকো পাইলট অনিল। কিন্তু মন্নু বুঝে গিয়েছিলেন যে ব্রেক কষলেও বিপদ অবধারিত। তাই নিজের আসন ছেড়ে নীচে বসে পড়েন তিনি। দুর্ঘটনায় চোট পেয়ে জ্ঞান হারালেও নিজের বুদ্ধিতে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন মন্নু। জ্ঞান ফেরার পর থেকে তিনি শুধু খোঁজ করে চলেছেন অনিলের।

জুন ১৮, ২০২৪
রাজ্য

গভীর রাতে শিয়ালদহে পৌঁছল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, চোখেমুখে আতঙ্ক যাত্রীদের

অভিষপ্ত রেল যাত্রা শেষ। গন্তব্যে পৌঁছাল কাঞ্চনজঙ্ঘা। সোমবার রাত ৩.১৬ মিনিট নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছল দুর্ঘটনাগ্রস্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের অক্ষত অংশ। তখনও ট্রেন যাত্রীদের চোখেমুখে আতঙ্কে লর স্পষ্ট ছাপ।সেইসময় স্টেশনে হাজির ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং পূর্ব রেলের কর্তারা। ছিলেন শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম দীপক নিগম এবং অন্য আধিকারিকরা। শিয়ালদহে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন ফিরহাদ এবং রেল আধিকারিকরা। কারও কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না খোঁজ নেন তাঁরা। যাত্রীদের খাবার এবং জলের বোতল দেওয়া হয়।সোমবার গা শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। ফাঁসিদেওয়ার রাঙাপানি স্টেশনের কাছে সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ আচমকা ওই ট্রেনে পিছন দিক থেকে একটি মালগাড়ি এসে ধাক্কা মারে। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের চারটি কামরা লাইনচ্যুত হয়। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর রেল জানিয়েছে। আহতের সংখ্যা ৪১। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন ছাড়ার পর কিছুটা দূরেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।

জুন ১৮, ২০২৪
রাজ্য

কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের ভয়াবহ দুর্ঘটনার মনমরা খবরের মাঝেও এক মানবিকতার অনন্য নজির

মানবিকতার অপরূপতা দেখল শিলিগুড়ি। দুর্ঘটনার পরপরই জখমদের রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রক্ত দিতে ছুটলেন প্রচুর মানুষ। উদ্ধারকার্যে এগিয়ে এলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ও মালগাড়ির সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯ জন যাত্রীর। আহতের সংখ্যাও বহু। হতাহদের মধ্যে বহু রেলকর্মী আছেন। মালগাড়ির চালকের প্রাণ চলে গিয়েছে। এদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ডও মারা গিয়েছেন। জানা গিয়েছে, নির্ধারিত সময় মেনেই আজ সকালে নিউ জলপাইগুড়িতে পৌঁছায় ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। ফাঁসিদেওয়ার নিজবাড়ি এবং রাঙাপানি স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এই ঘটনায় উদ্ধারকার্যে হাত লাগায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়রাও। উদ্ধারকার্যে এগিয়ে আসেন বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠন। দুর্ঘটনার পর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে মোট ৬২ জনকে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। এদের মধ্যে ১৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। এই মুহূর্তে মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ৪৭ জন জখম যাত্রী। জানা গিয়েছে, এদিন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকার্যে হাত বাড়াতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সদস্যরা। আহতদের উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে নিজেদের অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তাঁরা। মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে রক্ত সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে, আহতদের রক্তের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে রক্তের বন্দোবস্ত করেন তাঁরা। সংস্থার তরফে এদিন মেডিকেল কলেজে গিয়ে রক্তদান করেছেন সংগঠনের ২০ জন সদস্য। এই প্রসঙ্গে, সংগঠনের সম্পাদক জ্যোতির্ময় পাল বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছেন তাঁরা। আহতদের উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করেছেন। রক্তের অভাবে যাতে আহতদের চিকিৎসায় ব্যাঘাত না ঘটে, সেই কারণে ২০ ইউনিট রক্তের ব্যবস্থা করেছেন। প্রয়োজনে আরও রক্তের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। এদিন শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষকেও রক্তদানে এগিয়ে আসতে দেখা যায়।

জুন ১৭, ২০২৪
রাজ্য

কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ৯, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা রেলের, ছুটলেন রেলমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী

গা শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনার কবলে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। সময় যত গড়াচ্ছে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ততই বাড়ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলেছে উদ্ধারকাজ। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন ছাড়ার পর কিছুটা দূরেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।ওই লাইনে পিছন থেকে আসা একটি মালগাড়ির সজোরে ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে দলা পাকিয়ে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুটি কামরা। ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে মৃতদেহগুলি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ড ও মালগাড়ির দুই চালক।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই দুর্ঘটনার পর তদন্তে নেমে অনুমান করা হচ্ছে যে মালগাড়ির চালকের ভুলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপরণ দেওয়ার ঘোষণা রেলের। গুরুতর আহতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা এবং অল্প আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে রেল।রাঙাপানি স্টেশনের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। ট্রেনের ২টি কামরা দুমড়ে মুচড়ে যায়। ট্রেনটির বাকি কামরাগুলিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মালদা টাউন স্টেশনের দিকে।ফাঁসিদেওয়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শিলিগুড়ি থেকে ফাঁসিদেওয়ায় পৌঁছোন রেলমন্ত্রী। বাইকে চেপে দুর্ঘটনাস্থলে যান রেলমন্ত্রী। অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, কাল সকালের মধ্যে উদ্ধারকাজ শেষ হয়ে যাবে।কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বিকেলে দুর্ঘটনা স্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, জেলাশাসক, এসপি, ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ চলছে। পাশাপাশি রেলের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, রেল এখন অভিভাবকহীন, রেলের পরিষেবা এখন অত্যন্ত নীচে নেমে গিয়েছে, খাবার থেকে শৌচাগার নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে নানান অভিযোগ। সময়মতো উদ্ধারকার্য্য শুরু না হলে আরও অনেকের মৃত্যু হতে পারত। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে কোন খেয়াল রাখা হয়নি। অ্যান্টি কোশিলন ডিভাইস আমি তৈরি করে দিয়ে এসেছিলাম। এখন রেলের বাজেট নেই, উঠিয়ে দিয়েছে।

জুন ১৭, ২০২৪
ভ্রমণ

বিস্তীর্ণ দু'পাড়ে অসংখ্য বিদেহী আত্মার হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে নীরবে দানিয়ুব বয়ে চলেছে, যুগ যুগ ধরে

স্পন্দিত নদীজল ঝিকিমিকি করে...I দুকুলপ্রবাহিনী অতিকায় এক স্রোতস্বিনী... দশটি দেশের মাটি ছুঁয়ে চলা তার দুর্দম প্রবাহ... কত কবি-চারণ-গায়ক -নাট্যকারের সৃষ্টিসুখের জননী সেই পযস্বিনী আজ আমার দুচোখের সামনে... দানিয়ুব!পয়লা মে , ২০১৮, পূর্ব-মধ্য ইউরোপ আন্ডা-বাচ্চা নিয়ে সদলবলে ঘুরতে ঘুরতে আগের রাতে এসে পৌঁছেছি বুদাপেস্ট। হাঙ্গেরির রূপসী রাজধানী রাতের আলোয় যে মায়াকাজল বুলিয়ে দিয়েছে চোখে, তার ঘোর কাটতে না কাটতেই সকাল সকাল ছোট্ট বাসে আমরা পনের জন বেরিয়ে পরেছি আবার, দানিয়ুব -এর দুপাশে ছড়ানো যমজ নগরী বুদা ও পেস্ট -এর রূপ-রস-শব্দ-গন্ধ চেটেপুটে খেতে। সঙ্গে ফ্রেন্ড-ফিলোসফার-গাইড হিসেবে আমার কলেজজীবনের বন্ধু প্রবাল, গত চার বছর ধরে যে টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসের স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান হয়ে এ দেশে অধিষ্ঠান করছে!আজ থেকে চারদিন এদেশে জাতীয় ছুটি। পথেঘাটে যানবাহন কম, মানুষজন ফুর্তির মেজাজে দলে দলে রাস্তায়। সুন্দর পথঘাট... নয়নশোভন বাগান -ঝিল -বুলেভার্ড... ভীমকায় গীর্জা-স্মারকসৌধ-দুর্গ -প্রাসাদ ঘুরে দুপুরের মুখে এলাম দানিয়ুব -এর পূব পারে।কাতারে কাতারে মানুষ চড়া রোদে অধীর আগ্রহে বসে আছে নদীপারের বাঁধানো চত্বরে; একটু পরেই শুরু হবে চোখধাঁধানো এয়ার-শো। নদীতটে সুরম্য হর্ম্যরাজির মধ্যে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ইউরোপের বৃহত্তম পার্লামেন্ট বলে কথিত হাঙ্গেরিয়ান আইনসভা-- তার অপরূপ শুভ্র রাজসিক গরিমায় চোখ ধাঁধিয়ে যায়!কিন্তু এসব দেখতে আমরা আসি নি। আমাদের চঞ্চল পদবিক্ষেপের প্রাথমিক উদ্দেশ্য, ইউরোপ তথা আধুনিক মানবসভ্যতার সবচেয়ে মর্মান্তিক এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের স্মারকদর্শন-- Shoes on the Danube, চলতি কথায় The Shoe Memorial। চারের দশকের মাঝামাঝি। হিটলার হাঙ্গেরি জয় করে অপসারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী Miklos Horthy -কে; ক্ষমতায় এলো এক পুতুল সরকার, নেতৃত্বে Ferenc Szalasi, যাঁর চরম দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক বিশ্বাস হিটলারের কাছাকাছিই I ক্ষমতায় এসেই তিনি গঠন করলেন Arrow Cross Militia বাহিনী I এরা জার্মানি-পন্থী , চরম ইহুদী-বিরোধী I এদের প্রধান কাজই হলো ইহুদী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের খতম করা I ধনসম্পত্তি -পূর্বপুরুষের ভিটে ছেড়ে তাদের ঠাই হলো বুদাপেস্টের মনুষ্যেতর ইহুদী ঘেটো গুলিতে I সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রাউল ওয়ালেনবার্গ বা সুইস কনসাল Carl Lutz -এর মতো কিছু কুশলী মানবদরদী রাষ্ট্রদূত ও সমাজকর্মীর চেষ্টায় বেশ কয়েক হাজার ইহুদী প্রাণে বেঁচে অন্য দেশে পালাতে পারলেও, Arrow Cross -এর মৃত্যুদূতদের যথেচ্ছাচারে প্রলয় ঘটে গেল আর্থিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মানবিক সম্পর্কে সমৃদ্ধ হাঙ্গেরীয় ইহুদিদের গোষ্ঠী-জীবনে ! লক্ষ লক্ষ হাঙ্গেরীয় ইহুদিকে মৃত্যুমিছিলে সামিল করে পার করে দেওয়া হলো অস্ট্রীয় সীমান্ত , গ্যাস চেম্বারে প্রাণ দিলেন অগণন মানুষ ! ৪৪ -এর অক্টোবর থেকে ৪৫ -এর মার্চ রাজত্ব করেছিল Arrow Cross বাহিনী। এর মধ্যে ৪৪-এর ডিসেম্বর থেকে ৪৫ -এর জানুয়ারী -- বার বার ইহুদী ঘেটোগুলি থেকে বন্দুকের ডগায় তুলে আনা হয়েছিল কাতারে কাতারে ইহুদী নরনারী, এমনকি বয়স নির্বিশেষে শিশু-কিশোর-কিশোরী দেরও!দানিয়ুব-এর এই পূব পারে জলের ধারে জুতো খুলে রেখে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাজারে ইউরোপের সর্বত্র জুতো ছিল বড়ই প্রয়োজনীয় ও মহার্ঘ্য সামগ্রী!) নদীর দিকে পিছন ফিরে বেয়নেটধারী মৃত্যুদাতাদের দিকে তাকিয়ে সারি দিয়ে দাঁড়াতেন শিশু-মহিলা-যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে হতভাগ্য মানুষ (প্রধানতঃ ইহুদী ), তিনজন তিনজন করে মাঝের জনের দুই পায়ের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হতো দুপাশের দুজনের পা তারপর মাঝের মানুষটি শরীরে বুলেট নিয়ে উল্টে পরতেন দানিয়ুব -এর হিমশীতল জলে, সঙ্গে সঙ্গে বাকি দুজনও খরস্রোতে উল্টিপালটি খেতে খেতে শয়ে শয়ে মৃতদেহ ভেসে যেত কৃষ্ণসাগরের দিকে.....ঠিক কত প্রাণপ্রদীপ নিভে গিয়েছিল এভাবে? সঠিক হিসেব জানে না কেউ।তবে সংখ্যাটা সাড়ে তিন হাজারের কম নয়। ছেড়ে যাওয়া জুতোগুলি নিজেরাই ব্যবহার করত, বা বেচে পয়সা কামাতো মিলিশিয়া -বাহিনী!বিস্তীর্ণ দুপাড়ে অসংখ্য বিদেহী আত্মার হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে নীরবে দানিয়ুব বয়ে চলেছে, যুগ যুগ ধরে, শীতল ঔদাসীন্যে ....এলো ২০০৫ সাল। বিখ্যাত চিত্র পরিচালক Can Togay ও স্বনামধন্য স্হপতি Gyula Pauer উদ্যোগ নিলেন সেই সব হতভাগ্যের স্মৃতির উদ্দ্যেশ্যে এই মৃত্যুভূমিতে এক অভিনব নির্মানের, যা পরবর্তীকালে হয়ে উঠলো সারা ইউরোপের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে গড়ে ওঠা মহত্তম স্মারকগুলির একটি -- Shoes on the Danube!লোহা ঢেলে গড়া হলো ষাট জোড়া খুলে রাখা জুতো, সেই চারের দশকের রচনাশৈলীতে I ছোট্ট শিশুর মিষ্টি জুতুয়া... মায়ের হিল তোলা কেতাদুরস্ত জুতো ...সম্পন্ন ব্যবসায়ীর গম্ভীর বুটজুতো... ক্রীড়াপ্রেমী নওজোয়ানের তৎকালীন স্পোর্টস শু...সবই ছিল সেই পাদুকা -সম্ভারে, যা আজও মনে করিয়ে দেয় বয়স-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সেই মৃত্যুমিছিল। বাঁধানো নদীতটের কঠিন শিলায় সংবদ্ধ অনড় জুতোগুলি এলোমেলো চেয়ে আছে আকাশপানে। পিছনে ৪০ মিটার লম্বা ও ৭০ সে.মি. উঁচু এক পাথরের বেঞ্চি, যার তিন জায়গায় লোহার ক্রস লাগানো। লেখা আছে হিব্রু, হাঙ্গেরীয়, ও ইংরেজি ভাষায়-- To the memory of the victims shot into the Danube by Arrow Cross militia men in 1944 -45, erected 16 April 2005.আজও সেই সব হতভাগ্যদের উত্তরসুরীরা ফুল গুঁজে দিয়ে যান মৃত্যুঞ্জয়ী জুতোগুলির পেটে... জ্বালান মোমবাতি... আমাদের মতো উটকো ভ্রমনার্থীরা উদগত দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে ক্যামেরায় ক্লিক করেন...বিকেলের সূর্যের অস্তরাগ লালে লাল করে দেয় দানিয়ুবের বুক...যেমনটি হয়েছিল পঁচাত্তর বছর আগে...। এত জানে, তবু নদী কথা বলে না! ফ্যাসিবাদ মরে নি আজও ! Those who forget history, are condemned to repeat it!!ড. সুজন সরকার, বর্ধমান

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

‌তিন ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি, বিদেশি বাছাইয়ে চমক দিতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল

ডুরান্ড কাপকে পাখির চোখ করে জোর কদমে চলছে ইমামি ইস্টবেঙ্গলের প্রস্তুতি। এর পাশাপাশি দল গঠনের ব্যাপারেও অনেক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নতুন নতুন স্বদেশি ফুটবলারের পাশাপাশি বিদেশি ফুটবলার নির্বাচনেও চোখ লালহলুদ কর্তাদের। বিদেশি বাছাইয়ের ব্যাপারে চমক দিতে চলেছে লালহলুদ। অস্ট্রেলিয়ার এক ডিফেন্ডারের সঙ্গে কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছে। লালহলুদ কর্তাদের নজরে রয়েছেন সাইপ্রাসের এক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারও।এশিয়া কোটার বিদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ইভান্সকে নেওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। সূত্রের খবর, কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত। বড় কোনও অঘটন না ঘটলে কয়েকদিনের মধ্যেই চুক্তিপত্রে সই হয়ে যাবে। আদপে ডিফেন্ডার হলেও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পজিশনেও খেলতে পারেন ২৭ বছর বয়সী অ্যারন ইভান্স। অস্ট্রেলিয়ার এ লিগ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ার লিগ ১এ খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে এই অসি ডিফেন্ডারের।সাইপ্রাসের মিডফিল্ডার অ্যালেক্স গজিকের এজেন্টের সঙ্গেও একপ্রস্থ কথা বলেছেন লালহলুদ কর্তারা। ইংল্যান্ডের প্রথম সারির দল সোয়ান্স সিটির ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট থেকে উঠে এসেছেন অ্যালেক্স। এই মুহূর্তে সাইপ্রাসের হিবারনিয়ানে খেলছেন তিনি। সাইপ্রাসের জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন অ্যালেক্স।এদিকে, বৃহস্পতিবার তিন ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করল ইমামি ইস্টবেঙ্গল। মূলত কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইনের সুপারিশেই গোলকিপার কমলজিৎ সিং, ডিফেন্ডার লালচুংনুঙ্গা ও ফরোয়ার্ড সুমিত পাসিকে দলে নেওয়া হয়েছে। কনস্ট্যান্টাইনের প্রিয় ফুটবলার সুমিত। ভারতের কোচ থাকাকালীন তাঁকে জাতীয় দলে সুযোগ দিয়েছিলেন কনস্টানটাইন। তবে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। মাত্র ৮টি ম্যাচ খেলেছিলেন। গত মরসুমে আই লিগে রাউন্ডগ্লাস এফসির হয়ে খেলেছিলেন সুমিত। তার আগে জামশেদপুর এফসির হয়ে আইএসএলে ৩২টি ম্যাচ খেলেছেন।গোলকিপার কমলজিৎ সিংকে ওড়িশা এফসি থেকে রিলিজ করে নিয়ে আসা হয়েছে। আইএসএলে এখনও পর্যন্ত ৪৪টি ম্যাচ খেলেছেন কমলজিৎ। ওড়িশা এফসির জার্সি গায়ে খেলেছেন ১২টি ম্যাচ। ওড়িশা ছাড়াও আইএসএলে এফসি পুণে সিটি এবং হায়দরাবাদ এফসির হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। লালচুংনুঙ্গাকে নেওয়া হয়েছে আই লিগের ক্লাব শ্রীনিধি ডেকান এফসি থেকে। গত মরসুমে শ্রীনিধির হয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

আগস্ট ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Bangladesh Win: ইতিহাস গড়ে মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের ড্রেসিংরুমে বেঙ্গল টাইগারদের গর্জন, ভিডিও ভাইরাল

মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের ড্রেসিংরুমে একঝাঁক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন। মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, এবাদত হোসেনদের কন্ঠে আমরা করব জয় একদিন। টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট জয় স্বপ্ন বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে।আরও পড়ুনঃ টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে রূপকথা বাংলাদেশেরভোরের আলো ফোটার আগেই দেশবাসী টিভির সামনে। ইতিহাসের সাক্ষী থাকার অপেক্ষায়। মোমিনুলরা জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছনোর পরই আবেগে ভেসে যান কোটি কোটি বাঙালী। এতো গেল দেশের কথা। মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের ড্রেসিংরুমে অন্য ছবি। ধরা পড়েছে বাঙালির আবেগ। মোমিনুল, মুশফিকুরদের কন্ঠে আমরা করব জয় একদিন। আগামীর শপথ। হার না মানা জেদের বহিঃপ্রকাশ। টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস তৈরির সূচনা নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই যেন তৈরি করলেন মোমিনুলরা। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নতুন প্রভাতের দিশা দেখালেন।Bangladesh Team dressing room celebrations following the historic win at Mount Maunganui.#BCB #cricket #BANvsNZ pic.twitter.com/78pGFQ30wP Bangladesh Cricket (@BCBtigers) January 5, 2022টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বসেরাদের তাদের মাটিতেই হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করে আবেগে ভাসছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। একসময় ভলি খেলতেন। সেখান থেকে ক্রিকেটে উত্তরন এবাদত হোসেনের। বাংলাদেশের জয়ের নায়ক তিনিই। ম্যাচের সেরা এবাদত হোসেন বলছিলেন, আমি বাংলাদেশ বায়ুসেনার একজন সৈনিক। কীভাবে স্যালুট করতে হয় জানি। ভলিবল খেলোয়াড় থেকে টেস্ট ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে লম্বা ইতিহাস রয়েছে। গত ১১ বছরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আমরা কখনও জিতিনি। আমাদের দলও কখনও জেতেনি। কিন্তু নিউজিল্যান্ড আসার আগে আমরা একটা লক্ষ্য স্থির করে নিয়েছিলাম। আমরা প্রত্যেকেই হাতে হাত মিলিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমাদের জিততেই হবে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আমরা এটা করে দেখাতে পারি। সেটাই করে দেখিয়েছি। এবাদত আরও বলেন, আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছি। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মও আশা করছি জিতবে।আরও পড়ুনঃ গাঙ্গুলি পরিবারে আবার করোনার হানা, আক্রান্ত সৌরভের কন্যা সানাটেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছেন, বিশ্বাসই করতে পারছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক মোমিনুল হক। তিনি বলেন, আমার কাছে সত্যিই অবিশ্বাস্য লাগছে। এই জয় আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আগের রাতে ঘুমাতে পারিনি। কী হবে এটা ভেবেই টেনশনে ছিলাম। গত দুবছরে আমরা খুব বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলিনি। আমরা টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।

জানুয়ারি ০৫, ২০২২
বিদেশ

Modi-UNGA: আফগানিস্তান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘে বাংলায় কবি-স্মরণ মোদির

ফের একবার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কবিগুরুর স্মৃতিচারণা করতে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। রাষ্ট্রসঙ্ঘর ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার অংশ উদ্ধৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের ভাষণ শেষ করার সময় আজ রবীন্দ্রনাথের কবিতার অংশ তুলে ধরে তিনি বলেন, শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান। সব দুর্বল সংশয় হোক অবসান।আরও পড়ুনঃ প্রতিহিংসাবশত আমায় রোম যেতে দেওয়া হল না, বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতি না মেলায় ক্ষুব্ধ মমতা নিজের ভাষণ শেষে রবীন্দ্রনাথের কবিতার অংশ উদ্ধৃত করার আগে আফগানিস্তান ইস্যু নিয়ে কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আফগানিস্তান নিয়ে আগামী দিনে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে, সেই সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই কথা বলছিলেন তিনি। বলেন, আফগানিস্তানের মাটি সন্ত্রাসবাদের জন্য নয়। এই বিষয় নিয়ে আমাদের সতর্ক করতে হবে। কেউ নিজের স্বার্থের জন্য যেন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার না করে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, এই সময়ে আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিক বিশেষ করে মহিলা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাহায্য প্রয়োজন। রাষ্ট্রসঙ্ঘকে এই নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সেই প্রসঙ্গে কথা বলার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার অংশ তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বাংলায় বলেন, শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান, সব দুর্বল সংশয় হোক অবসান। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, আফগানিস্তান ইস্যুকেই ইঙ্গিত করে এই পংক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এরপর রবীন্দ্রনাথের কবিতার পংক্তির ব্যাখাও দেন। বলেন, নিজে যে শুভ কর্মপথে এগোচ্ছ, সেই পথে নির্ভীক হয়ে এগিয়ে যাও। সকল দুর্বলতা ও শঙ্কা দূর হোক। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের জন্য যতটা প্রাসঙ্গিক, অন্যান্য সদস্য দেশগুলির জন্যও একইরকম প্রাসঙ্গিক। এতে বিশ্ব শান্তি ও বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal