রাশিয়ার তেল কিনলেই কি ১০০ শতাংশ শুল্ক? ট্রাম্পের সইয়ের পর ভারতের সামনে নতুন বিপদ!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার নতুন বিলে সই করেছেন। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি বিলটিতে সই করেন। এর ফলে বিলটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে। আইনটির মাধ্যমে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলির পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে দেওয়া হয়েছে। তবে এই আইন সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসে যায়নি। শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, তা মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।আইনটির আওতায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস ক্রেতা দেশগুলির পণ্যে শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য করতে সাহায্য করা দেশ বা সংস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলির উপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। সেই কারণে নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ভারতের উপর সম্ভাব্য শুল্কের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে ভারতীয় পণ্যের উপর নতুন ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছেএমন কোনও ঘোষণা নেই।নতুন আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি রুশ প্রশাসনের একাধিক ব্যক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা হয়েছে। রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য।ভারত অবশ্য আগেই জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৪০ কোটি মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করা ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দিল্লি।ভারতের পক্ষ থেকে আরও সতর্ক করা হয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হলে তার প্রভাব শুধু দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি।অর্থাৎ, ট্রাম্পের সইয়ের পর ভারতের সামনে ১০০ শতাংশ শুল্কের সম্ভাবনার দরজা খুলেছে ঠিকই, কিন্তু সেই শুল্ক এখনই কার্যকর হয়েছেএমনটা নয়। আগামী দিনে মার্কিন প্রশাসন এই নতুন ক্ষমতা ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রাশিয়ার তেল কেনা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও তাই নজর থাকবে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

