• ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩, মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Sarbamangala Temple

ভ্রমণ

একদিনেই ঘুরে নিন বর্ধমান, সীতাভোগ-মিহিদানার শহরের কোনায় কোনায় ইতিহাসের হাতছানি, মুঘল আমল থেকে রাজকাহিনী, মন্দির

রাজ্যের অন্যতম বর্ধিষ্ণু জেলা বর্ধমান। বর্ধমান প্রকৃতই ক্রম-বর্ধমান। একদিনের ভ্রমণে বর্ধমান শহরকে বেছে নিলে জানতে পারবেন অনেক অজানা ইতিহাস। বঙ্গের অন্য়তম প্রাচীন জনপদ বর্ধমান। দূরে ভ্রমণের আগে একবার বর্ধমান শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরলে আপনি সমৃদ্ধ হবেনই। এমনকী আপনার ভ্রমণ কাহিনীতে জুড়ে যাবে বিরাট রসদের ভান্ডার। তাই আর দেরি না করে বর্ধমান শহরে ইতিহাসকে জেনে নিন এক ঝলকে। রাজ্যের যে কোনও স্থান থেকে বর্ধমান শহরের যোগাযোগও খুব সহজ।বর্ধমানের নাম নিয়ে নানা মতবাদ আছে। বর্ধমান শব্দটি সংস্কৃত বর্ধ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বৃদ্ধি পাওয়া, উন্নতি হওয়া বা সমৃদ্ধি লাভ করা। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল কৃষি, বাণিজ্য ও জনবসতির দিক থেকে সমৃদ্ধ ছিল। তাই এলাকাটির নাম বর্ধমান হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে, ২৪তম তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীরের অপর নাম ছিল বর্ধমান। বলা হয়, তাঁর জন্মের পর রাজ্য ও পরিবারের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাই তাঁর নাম রাখা হয় বর্ধমান। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলে মহাবীরের আগমন ও ধর্মপ্রচারের স্মৃতি নিয়ে বিভিন্ন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। এই কারণে অনেকের মতে জেলার নাম বর্ধমান মহাবীর বর্ধমানের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, জেলার নামের মূল উৎস হলো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধির ধারণা, যদিও জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রভাবও স্থানীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শহরের মধ্যস্থলে রাজবাড়ি যাওয়ার পথেই দেখা মিলবে বিখ্যাত কার্জন গেটের যা এখন বিজয় তোরণ নামেই পরিচিত। বর্ধমান রাজবাড়ি এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস।সর্বমঙ্গলা মন্দিরবর্ধমানের অধিষ্ঠার্থী দেবি মা সর্বমঙ্গলা। বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় শক্তিপীঠসদৃশ তীর্থস্থান। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী সর্বমঙ্গলা অত্যন্ত জাগ্রত, অর্থাৎ তিনি ভক্তদের প্রার্থনা শোনেন এবং তাঁদের মনোবাসনা পূরণ করেন। বহু মানুষ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানত পূরণ এবং অলৌকিক ঘটনার কাহিনি এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মাহাত্ম্য মূলত বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা, দেবীর অলৌকিক কাহিনি এবং দীর্ঘকালীন লোকবিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। কথিত আছে, এক জেলের জালে দেবীর মূর্তি উঠে আসে। পরে বর্ধমানের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই দেবী সর্বমঙ্গলার পূজা শুরু হয় এবং মন্দিরটি বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।গড়গড়াঘাটের গুরুদোয়ারাপ্রচলিত ঐতিহাসিক ও শিখ ধর্মীয় সূত্র অনুযায়ী, **গুরু নানক দেব জি প্রায় ১৫০৫-১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পূর্ব ভারত ভ্রমণের সময় বর্ধমানে এসেছিলেন। তিনি এখানে কিছুদিন অবস্থান করেন এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে মানবতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও এক ঈশ্বরের বাণী প্রচার করেন। এই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই পরে বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা পাড়ার পাশেই গড়গড়া ঘাটে গুরুদোয়ারা বড়া সঙ্গত প্রতিষ্ঠিত হয়। শিখ সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। বলা হয়, গুরু নানক এখানে ধর্মীয় আলোচনা ও কীর্তন করেছিলেন এবং তাঁর পদধূলিতে স্থানটি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।কমলাকান্তের কালীবাড়িবর্ধমান শহরের কোটালহাটে অবস্থিত কমলাকান্তের কালীবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রসিদ্ধ কালীমন্দির। এই মন্দিরটি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য এর সাধনাক্ষেত্র হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (প্রায় ১৭৬৯১৮২১) ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাক্ত কবি, শ্যামাসংগীত রচয়িতা ও তন্ত্রসাধক। তাঁর জন্ম পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনায়। তিনি ছোটবেলা থেকেই মা কালীর উপাসনায় আকৃষ্ট হন এবং পরে তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন বলে ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস প্রচলিত। বর্ধমানের মহারাজা তেজচন্দ্র তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি ও পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজগুরু ও সভাসদ হিসেবে সম্মানিত করেন। মহারাজা তেজচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্ধমানের কোটালহাটে মা কালীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সাধক কমলাকান্ত পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা করতেন। বর্তমানে এই মন্দিরই কমলাকান্তের কালীবাড়ি নামে বিখ্যাত। কথিত আছে, মহারাজা তেজচন্দ্র একবার তাঁর অলৌকিক শক্তি পরীক্ষা করতে চাইলে কমলাকান্ত অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন। বর্ধমানের মানুষের মুখে মুখে একথা প্রচলিত। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব প্রায়ই কমলাকান্তের শ্যামাসংগীত গাইতেন এবং তাঁর ভক্তিভাবের অত্যন্ত প্রশংসা করতেন। ফলে কমলাকান্তের গান ও সাধনা সমগ্র বাংলায় আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।শের আফগানের সমাধিবর্ধমান শহরের শের আফগানের সমাধি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুঘল যুগের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। এটি বিখ্যাত মূলত শের আফগান ও মেহেরুন্নিসা (পরবর্তীকালে সম্রাজ্ঞী নূরজাহান)-এর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে। শের আফগানের প্রকৃত নাম ছিল আলি কুলি ইস্তাজলু। তিনি ছিলেন একজন পারস্য বংশোদ্ভূত মুঘল সেনাপতি। সম্রাট আকবর তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে শের আফগান(বাঘ-বধকারী) উপাধি দেন। শের আফগানের স্ত্রী ছিলেন মেহেরুন্নিসা, যিনি পরে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী এবং বিখ্যাত সম্রাজ্ঞী নূরজাহান নামে পরিচিত হন। এই কারণে শের আফগানের জীবন ও মৃত্যু ভারতীয় ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের ফৌজদার কুতুবউদ্দিন খান কোকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে শের আফগানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সংঘর্ষের সময় শের আফগান কুতুবউদ্দিনকে হত্যা করেন, কিন্তু তিনিও গুরুতর আহত হয়ে নিহত হন। পরে তাঁকে বর্ধমানে সমাহিত করা হয়। দুজনকে পাশাপাশি সমাধিস্ত করা হয়। ইতিহাস বলছে, মেহেরুন্নিসাকে নিয়ে যেতেই কুতুবুদ্দিনকে পাঠিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। শের আফগানের মৃত্যুর পর মেহেরুন্নিসাকে মুঘল দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক বছর পরে তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরকে বিবাহ করেন এবং নূরজাহান নামে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নারী হয়ে ওঠেন। তাই বর্ধমানের এই সমাধি শুধু একটি কবরস্থান নয়, বরং মুঘল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।শুলি পুকুরবর্ধমান শহরের শুলি পুকুর একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বর্ধমান রাজাদের আমলে গুরুতর অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এই এলাকার কাছে শুলি (ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ডের এক প্রকার ব্যবস্থা) কার্যকর করা হতো। সেই কারণেই পুকুরটির নাম হয় শুলি পুকুর। বর্ধমান রাজবাড়ির গেটের উল্টোদিকের রাস্তার বাদিকেই এই শুলি পুকুরের অবস্থান। বর্ধমান রাজবংশের শাসনামলের সঙ্গে এই স্থানের নাম জড়িত।সীতাভোগ ও মিহিদানাবর্ধমানে ভ্রমণ করবেন আর মিষ্টি খাওয়া হবে না তা হয় নাকি! বর্ধমানে নানা স্বাদের মিষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু মূল আকর্ষণ সীতাভোগ ও মিহিদানায়। সীতাভোগ ও মিহিদানা বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্ববিখ্যাত মিষ্টি। এই দুই মিষ্টি বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয় এবং আজও বর্ধমানের পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। মিহিদানা কী? মিহিদানা দেখতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বোঁদের মতো। বেসনের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের চালের গুঁড়ো ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম দানার আকারে এটি তৈরি করা হয়। এর দানাগুলি খুবই ছোট ও নরম হওয়ায় এর নাম হয়েছে মিহি (সূক্ষ্ম) + দানা। সীতাভোগ কী? সীতাভোগ দেখতে অনেকটা সাদা ভাতের মতো। চালের গুঁড়ো, ছানা ও চিনি দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছোট ছোট মিষ্টি দানাও মেশানো থাকে। দেখতে ভাতের মতো হলেও এটি একটি সুস্বাদু মিষ্টান্ন। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড কার্জন বর্ধমান সফরে এলে রাজা বিজয়চাঁদ মহতাবের উদ্যোগে ময়রা ভৈরবচন্দ্র নাগ এই দুই মিষ্টি পরিবেশন করেন। লর্ড কার্জন এর স্বাদে মুগ্ধ হন। এরপর থেকেই সীতাভোগ ও মিহিদানা সারা দেশে খ্যাতি লাভ করে।বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দিরবর্ধমান শহরের নবাবহাটে অবস্থিত ১০৮ শিবমন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত শৈব তীর্থস্থান। এটি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য নয়, এর অনন্য স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও প্রসিদ্ধ। ১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে বর্ধমান রাজবংশের মহারাণী বিষ্ণুকুমারী দেবী (কিছু সূত্রে মহারাজ তেজচন্দ্রের মাতৃকা) এই ১০৮টি শিবমন্দির নির্মাণ করান। মন্দিরগুলি প্রায় ১৭৮৮-১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়। হিন্দুধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয়। জপমালায় ১০৮টি দানা থাকে এবং শিবের ১০৮টি নামও প্রচলিত। সেই কারণেই এখানে ১০৮টি পৃথক শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্ধমান শহর লাগোয়া নবাবহাটে আয়তাকারে ১০৮টি শিব মন্দির আছে। এই মন্দিরগুলির বাইরে আরেকটি শিব মন্দির আছে। অন্যদিকে কালনায় আরেকটি ১০৮ শিব মন্দির আছে। এখানে বিশেষত্ব হল মন্দিরগুলি দুটি বৃত্তাকার সারিতে নির্মিত। বাইরের বৃত্তে ৭৪টি এবং ভিতরের বৃত্তে ৩৪টি মন্দির রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে একটি করে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। কালো ও সাদা রঙের শিবলিঙ্গ পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। শ্রাবণ মাসে হাজার ভক্ত এই দুই ১০৮ শিব মন্দিরে পুজো দেন। একই জেলায় দুটি জায়গায় একই স্থানে ১০৮টা শিব মন্দির বিরল।বীরহাটা বড়মা কালীবর্ধমান শহরের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় স্থান হল বীরহাটা বড়মা কালীমন্দির। এই মন্দিরটি বর্ধমান রাজপরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। জনশ্রুতি অনুসারে, বর্ধমানের মহারাজারা তাঁদের কুলদেবী হিসেবে মা কালীর আরাধনা করতেন এবং সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বীরহাটা অঞ্চলে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবীকে অনেকে জাগ্রত মা কালী বলে মনে করেন। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে মা কালী মনোবাসনা পূরণ করেন। তাই সারা বছরই এখানে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে, বিশেষ করে কালীপূজা, দীপাবলি ও অমাবস্যা তিথিতে। বীরহাটা একসময় বর্ধমান রাজবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল। ফলে মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বর্ধমানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু বছর ধরে এখানে নিয়মিত পূজা, হোম-যজ্ঞ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।কঙ্কালেশ্বরীশহরের কাঞ্চননগরে অবস্থিত কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দির জেলার অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় তীর্থস্থান। ধারণা করা হয়, মন্দিরটির ইতিহাস কয়েকশো বছরের পুরোনো। কাঞ্চননগর একসময় গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল এবং এখানেই দেবী কঙ্কালেশ্বরীর পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেবীর মূর্তি সাধারণ কালীমূর্তির মতো নয়; তাঁর রূপে কঙ্কালসদৃশ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা তন্ত্রসাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।সোনার কালীবাড়িবর্ধমান শহরের মিঠাপুকুর এলাকায় অবস্থিত সোনার কালীবাড়ি (ভুবনেশ্বরী মন্দির) বর্ধমান রাজপরিবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৮৯৯ সালে বর্ধমানের রাজা মহতাব চাঁদ এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে প্রচলিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী রানি নারায়ণী দেবী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর ভুবনেশ্বরী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে এখানে সোনার তৈরি দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই কারণেই মন্দিরটি সোনার কালীবাড়ি নামে পরিচিত হয়। ১৯৭০-এর দশকে সোনার মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। পরে সেখানে অষ্টধাতুর ভুবনেশ্বরী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়, কিন্তু সোনার কালীবাড়ি নামটি আজও রয়ে গেছে। এখানে দেবীর জিভ বাইরে বেরিয়ে নেই। দেবীর পদতলে শিব নেই, যা সাধারণ কালীমূর্তির থেকে আলাদা। প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজা হয়।বর্ধমান ও জৈন ধর্মের ঐতিহাসিক সম্পর্কবর্ধমান শহরের নামকরণ নিয়ে একটি সুপ্রচলিত মত হলো, এটি ২৪তম জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর বর্ধমানের নামানুসারে হয়েছে। জৈন ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি এই অঞ্চলে কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তাই প্রাচীনকাল থেকেই বর্ধমানে জৈন সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল। সোনার কালীবাড়িতে জৈনদের ডান্ডিয়া করার কারণ ধর্মীয় নয় বরং বর্ধমানের গুজরাটি-জৈন সমাজের নবরাত্রি উদ্যাপনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সম্প্রীতির প্রকাশ। এমনকী বর্ধমান রাজ পরিবারের কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরেও ডান্ডিয়া উৎসবের প্রচলন আছে। নানা ধর্মীয় উৎসবে এই মন্দিরে হাজির হন রাজ পরিবারের সদস্যরা।বর্ধমান ভ্রমণে এলে গোলাপবাগ চত্বরে যেতে ভুলবেন না। সেখানে কৃষ্ণসায়র পার্ক, সায়েন্স সেন্টার, রমনাবাগান মিনি জু, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ক্যাম্পাস, তারা মন্ডল নানা কিছু রয়েছে পর্যটকদের জন্য। এমন গাছগাছালির প্রাকৃতিক পরিবেশে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। তাহলে আর দেরি কেন? বর্ধমান শহরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ুন।

আগস্ট ০১, ২০২৬
রাজ্য

অভিষেক ব্যানার্জীর আরোগ্য কামনায় পুজোর আয়োজন করা হয় বর্ধমান সর্বমঙ্গলা মন্দিরে

সারা ভারত তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীর আরোগ্য কামনায় পুজোর আয়োজন করা হয় বর্ধমান সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক খোকন দাসের উদ্যোগে রবিবাসরীয় সকালে পুজোপাঠ ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। কয়েকদিন আগে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীর বাঁ চোখে বিদেশে অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি এখন কলকাতায় ফিরেছেন। বিধায়ক খোকন দাস বলেন, তাদের দলের নেতা অভিষেক ব্যানার্জীর চোখ যাতে তাড়াতাড়ি ভালো হয় তার জন্য মা সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে।এখানে উল্লেখ্য কয়েক বছর আগে ২০১৬র নভেম্বর মাসে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী মুর্শিদাবাদ থেকে দলীয় কর্মসূচি সেরে কলকাতা ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে তার গাড়ি। হুগলির ২ নম্বর জাতীয় সড়কের সিংহের ভেড়ি এলাকায় তার কনভয় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির পিছনে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। সাংসদ অভিষেকের চোখ দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এদিন সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বর্ধমান পৌরসভার বেশীর ভাগ কাউন্সিলর পুজোপাঠ আয়োজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান বিধায়ক খোকন দাস। তার ছবিকে সামনে রেখে মন্দিরের পুরোহিতরা যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন।তার চোখ দ্রুত সেরে ওঠার জন্য মা সর্বমঙ্গলার কাছে প্রার্থনা করা হয় বলে জানান খোকন দাস।

অক্টোবর ১৬, ২০২২
রাজ্য

Sarbamangala Temple: ৩০০ বছরের পুরনো বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট প্রতিষ্ঠার সঙ্গেই রাঢ়বঙ্গে দামামা বাজল শারদ উৎসবের

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মায়ের ঘট উত্তোলন ও প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে মহালয়ার পরদিন থেকে শারদ উৎসবের সূচনা হয়ে গেল রাঢ়বঙ্গে। বৃহস্পতিবার থেকে নবমী পর্যন্ত চলবে পুজো। তবে রাজ আমলের রীতি মেনে পুজো হলেও কোভিড বিধি মেনে এবারও সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ভক্তদের ভিড় জমানোয় নিষেধাঞ্জা বলবৎ রেখেছে সর্বঙ্গলা ট্রাস্টি বোর্ড। বৃহস্পতিবার রীতি মেনে বর্ধমান শহরের কৃষ্ণসায়র থেকে রুপোর ঘটে জল ভরে সেই ঘট ঘোড়ার গাড়িতে চাপিয়ে শোভাযাত্রা ও বাদ্যযন্ত্র সহযোগে নিয়ে যাওয়া হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মন্দিরের পুরোহিত অরুণ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে দেবী সর্বমঙ্গলার জন্য ঘটে জল ভরে আনার নিয়ম রয়েছে। কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী ঘাট থেকে ঘটে জল ভরে সেই ঘট মন্দিরে নিয়ে গিয়ে এদিন প্রতিষ্ঠা করা হল। কৃষ্ণসায়র থেকে ঘট আনার জন্য শোভাযাত্রা করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরোহিত জানান, ঘটস্থাপনের পর থেকে নবমী পর্যন্ত পুজো চলবে। সঙ্গে হবে চণ্ডীপাঠ ও দেবীকে ভোগ নিবেদন। সর্বমঙ্গলা মায়ের পুজো শুরু নিয়ে বর্ধমানে নানা কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। প্রচলিত কাহিনী অনুসারে জানা যায়, বহুকাল পূর্বে বর্ধমানের বাহিরসর্বমঙ্গলা অঞ্চলে জেলেদের জালে একটি অদ্ভূত দর্শন পাথর উঠে আসে। কিছুটা শিলার মত দেখতে ওই পাথর দিয়েই তখনকার দিনে গুগলি, শামুক থেঁতো করতেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই শিলা যে আদতে দেবী মূর্তি, তা পরে বুঝতে পারেন এলাকার এক পুরোহিত। কাহিনী অনুসারে আরও জানা যায়, সেই সময় দামোদর নদ লাগোয়া চুন তৈরির কারখানার জন্য শামুকের খোলা নেওয়ার সময় শিলামূর্তিটি চলে যায় চুন ভাটায়। তখন শামুকের খোলের সঙ্গে শিলামূর্তিটি পোড়ানো হলেও মূর্তির কোনো ক্ষতি হয়নি। সেই রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পাওয়া মাত্রই বর্ধমানের তৎকালীন রাজা শিলামূর্তিটিকে নিয়ে এসে সর্বমঙ্গলা নামে পুজো শুরু করেন। ঐতিহাসিক মতে বর্ধমানের মহারাজা শ্রী কীর্তিচাঁদ ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে সর্বমঙ্গলা মায়ের পুজোর জন্য মন্দিরটি নির্মাণ করান। কিন্তু এই মন্দিরে থাকা মাতা সর্বমঙ্গলার মূর্তিটি মন্দিরের থেকেও বেশি প্রাচীন। অনেকের মতে মূর্তিটি ১০০০ বছর পুরোনো, আবার কারও মতে ২০০০ বছরের পুরনো। এই মূর্তিটি হল কষ্টিপাথরের অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী মহিষমর্দিনী। যাঁর দৈর্ঘ্যে বারো ইঞ্চি, প্রস্থে আট ইঞ্চি। মন্দিরে রুপের সিংহাসনে দেবী আসীন থাকেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হবার পরে বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজা উদয় চাঁদ ১৯৫৯-তে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন, তাঁদের হাতে এই প্রাচীন মন্দিরটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন ও তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত সেই ট্রাস্টি বোর্ডই এই মন্দিরের দেখাশোনা করে। আগে সন্ধি পুজোয় কামান দাগা হতো, মেষ, মহিষ ও ছাগ বলি হতো। এখন আর হয় না। পূর্বে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে সন্ধিপুজোয় কামানের আওয়াজ শুনে আশেপাশের সমস্ত জমিদার বাড়িতে সন্ধিপুজো শুরু হতো। নবমীতে নব কুমারি মায়ের পুজোর রীতি আজও চালু রয়েছে।

অক্টোবর ০৭, ২০২১

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

বাংলার আকাশে গভীর নিম্নচাপ, সোমবারই ভয়ঙ্কর বৃষ্টি! ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সতর্কতা, এরপর কোন পথে যাবে?

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বহু জায়গায় জল জমেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা। রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে দুর্যোগের পরিস্থিতি। এর মধ্যেই ধীরে ধীরে ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোচ্ছে গভীর নিম্নচাপ।আবহাওয়া দফতরের সোমবার বিকেলের খবর অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছে। বর্ধমান থেকে সেটি প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে। বাঁকুড়া থেকে দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে। ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গভীর নিম্নচাপটি রয়েছে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব আরও কিছুটা সময় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।সোমবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে চরম বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই তিন জেলায় ২০০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে। সেখানে ১১০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।প্রবল বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় জল জমেছে। রাস্তার পাশাপাশি নিচু এলাকাগুলিতেও জল ঢুকেছে। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন অফিসযাত্রী এবং অন্যান্য নিত্যযাত্রীরা।মঙ্গলবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকবে। এই জেলাগুলির কিছু এলাকায় ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।অর্থাৎ, গভীর নিম্নচাপটি বাংলার পশ্চিমাঞ্চল ছেড়ে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে এগিয়ে গেলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত তার প্রভাব পুরোপুরি কাটছে না। ফলে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকা জেলাগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
কলকাতা

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে নতুন রহস্য! মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি ঋতব্রতর, উঠল টেন্ডার-হুমকির প্রশ্ন

বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রবিবার তাঁর কার্যালয় থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠিও পাওয়া গিয়েছে। সেই চিঠিতে নিজের রাজনৈতিক জীবন, দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার দাবি এবং তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ রয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হাতে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ছাত্রজীবন বা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনও দুর্নীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না। কোনও কাজের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি দলীয় নানা বিষয়ে আপত্তি থাকলেও সব সময় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।ওই চিঠিতেই তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ থাকায় মৃত্যুর নেপথ্যে ওই সংস্থার কোনও বিষয় রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই মুহূর্তে এমন কোনও যোগের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।এর মধ্যেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আসল তৃণমূল-এর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশঙ্কা, তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর কোনও ধরনের চাপ বা হুমকি তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।চিঠিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে উন্নয়ন নিগমের টেন্ডার নিয়ে তাঁকে কোনও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা দরকার বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগম-সহ অন্যান্য উন্নয়ন পর্ষদে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ঋতব্রত।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মৃত্যুর আগে আশিসের লেখা চিঠিতে যেহেতু উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ রয়েছে, তাই ওই সংস্থার টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা জরুরি।ফলে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এখন একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। শেষ চিঠিতে কেন তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ এল, টেন্ডার নিয়ে তাঁর উপর কোনও চাপ তৈরি হয়েছিল কি না এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই বিষয়গুলির আদৌ কোনও যোগ রয়েছে কি নাসবই তদন্তের বিষয়। আপাতত এই প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি। তদন্ত এগোলেই মৃত্যুর নেপথ্যের প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
রাজ্য

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ঘুমের মধ্যেই ৯ জনের মৃত্যু! শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বীরভূমে এই ঘটনায় প্রাণহানিতে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানীয় প্রশাসন সাহায্য করছে বলেও জানানো হয়েছে।সোমবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তারাপীঠের একটি হোটেলে আচমকা আগুন লাগে। সেই সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন আরও কয়েক জন। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি কী ভাবে ঘটল এবং নিরাপত্তার কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলাশাসক এবং পুলিশ, প্রশাসন ও দমকলের আধিকারিকেরা। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভিডিয়ো কলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।এর পরেই দমকল প্রতিমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মৃতদের ক্ষেত্রে ৪ লক্ষ টাকা জেলাশাসকের তহবিল থেকে এবং ৫ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হবে।তারাপীঠের এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।হঠাৎ আগুন লাগার পর ঘুমন্ত অবস্থায় এত মানুষের মৃত্যু কী ভাবে হল, হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং শর্ট সার্কিটই আগুনের একমাত্র কারণ কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

গল টেস্টে ভয়াবহ মুহূর্ত! রাহুলের শটে হেলমেটে বল, হাসপাতালে শ্রীলঙ্কার ওপেনার

ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই গলে তৈরি হল উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কেএল রাহুলের জোরালো সুইপ শটের বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করল শ্রীলঙ্কার ওপেনার নিশান মধুশকার হেলমেটে। শর্ট লেগে ফিল্ডিং করার সময় এই আঘাত পান তিনি। ঘটনার পর দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও। কনকাশন পরীক্ষা করার পর মধুশকাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে। প্রভাত জয়াসূর্যের করা ওভারের পঞ্চম বলটি রাহুল সুইপ করেন। বলটি ব্যাটের মাঝখান থেকে প্রচণ্ড গতিতে শর্ট লেগ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধুশকা বিপদ বুঝে দ্রুত মাথা নিচু করার চেষ্টা করলেও বলের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি তাঁর হেলমেটের মাঝামাঝি অংশে সজোরে আঘাত করে।আঘাতের পর বলটি ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। ফলে রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের ব্যাটাররা রান সম্পূর্ণ করেন। রাহুল অবশ্য প্রথমে রান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু করে দেওয়ায় রানটি সম্পূর্ণ করতে হয়। রান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুশকার দিকে ছুটে যান রাহুল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এরপর দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও এবং চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মধুশকার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তাঁকে আর মাঠে রাখা হয়নি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর চোটের প্রকৃতি বা গুরুতরতা এবং তিনি পরবর্তীতে এই টেস্টে ব্যাট করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মধুশকার চোটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় সরাসরি বল লাগার ঘটনায় ক্রিকেটে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুলের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় দল। প্রথম উইকেটে দুজনে ৬৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন।তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে ছন্দপতন ঘটে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সওয়াল। ৩৭ বলে ৩২ রানের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রাহুল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দুজনেই ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাড়িক্কল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করার পাশাপাশি রাহুলও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলে প্রথম সেশনেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।লাঞ্চের সময় ২৭ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০১ রান। একদিকে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট, অন্যদিকে মধুশকার চোটপ্রথম দিনের প্রথম সেশন তাই দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন ছবি তুলে ধরল। এখন সকলের নজর নিশান মধুশকার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাতঙ্গিনীর রক্তাক্ত পতাকা, বাঙালির হৃদয়ে অমর এই পাঁচ স্বাধীনতা সংগ্রামী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবীকে, তেমনই তাম্রলিপ্তের মাটিতে উঠে এসেছে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা স্বাধীনতার লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে উঠে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। ১১ আগস্ট ১৯০৮ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর নির্ভীকতা ও হাসিমুখ বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবলিদান বাংলার নারীশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুশীল ধারা-র। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের যুদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিদ্যুৎ বাহিনী, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রথম সর্বাধিনায়ক। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত এই সমান্তরাল সরকার তমলুক ও কাঁথি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকারের কার্যক্রম ছিল উল্লেখযোগ্য।এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান থেকে মাতঙ্গিনীর পতাকা হাতে মৃত্যুবরণ, আর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সংগঠিত প্রতিরোধ, এই সমস্ত অধ্যায় প্রমাণ করে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন বিপ্লবীর কাহিনি নয়। এটি ছিল অসংখ্য মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal