• ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Sand

রাজ্য

নতুন গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত গলসি, নজর রাখছে জেলা নেতৃত্ব

নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং তার জেরে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ ঘিরে তেতে উঠেছে গলসি ১ ব্লকের রাজনৈতিক পারদ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে তাতে রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা বড় বিপদে পড়তে পারে শাসক তৃণমূল। এমনকি ওই ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির কাজকর্ম শিকেয় উঠতে পারে।রাজনৈতিক মহলের দাবি, দিন দুয়েক আগে শাসকদলের পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনে দলেরই কোন্দল রয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজ না করে তৃণমূল পরিচালিত গলসি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারের টাকা পাওয়ার অভিযোগ তুলে সবর হয়েছেন ওই সমিতিরই সদস্য-সদস্যাদের একাংশ, বেশ কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ সহ খোদ সভাপতি রোকেয়া বেগমও। যদিও লিখিত কোন অভিযোগ নেই। তবে তাঁদের দাবি, ঠিকাদার কোন কাজ না করেই দুদফায় কাজের অনুমোদিত সমস্ত অর্থ তুলে নিয়েছে। আর তা হয়েছে ঠিকাদার অনুপবাবুর ঘনিষ্ঠ বলে। আর এই অভিযোগকে ঘিরে সরগরম গলসির রাজনীতি। কিন্তু সেই সব অভিযোগ উড়িয়ে অনুপবাবুর পাল্টা দাবি, যা হয়েছে সব নিয়ম মেনেই হয়েছে। ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে দলের ভাবমূর্তি, প্রাশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছেন অভিযোগকারীরা। কিন্তু, দলের জেলা নেতৃত্ব জানেন কোথায় কি হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, গলসি ১ ব্লকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলেও তার তীব্রতা সব থেকে বেশি দেখা যাচ্ছে গত এক মাসধরে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দলের আদিগোষ্ঠীর পরিবর্তে নতুন গোষ্ঠী মাথা চড়া দিয়েছে ওই ব্লকে। ফলে দিন যত যাচ্ছে ততই নতুন গোষ্ঠীর কোন্দল প্রকাশে চলে আসছে। এলাকায় কোন গোষ্ঠী আধিপত্য বিস্তার করবে, তা নিয়েই নতুন গোষ্ঠী-বিরোধ। যার এক দিকে রয়েছেন ব্লক তৃণমূল প্রাক্তন সভাপতি তথা জেলা সহ সভাপতি জাকির হোসেন এবং তাঁর অনুগামীরা। অন্য দিকে, পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চট্রোপাধ্যায় ও তাঁর গোষ্ঠী।স্থীনায় সূত্রে খবর, গলসি ১ পঞ্চায়েত সমিতিতে আধিপত্য রয়েছে অনুপবাবুর। আর সভাপতি রোকেয়া সহ বেশ কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ আর সদস্য রয়েছেন জাকিরের দিকে। কিন্ত এমনটা ছিল না। মাস পাঁচেক আগেও জাকিরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিল অনুপ। আর তাঁদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল দলের ব্লক সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ের। এলাকার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের ওই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলছে। তারই জেরে মারপিট, পার্টি অফিস ভাঙচুর, বোমাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠছে দুই পক্ষের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই লড়াইয়ে তিতিবিরক্ত ছিলেন। কিন্ত নতুন করে জাকির আর অনুপের কোন্দল দলকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমান সফরের আগেই গলসির এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব ঘুম ছুটিয়েছে জেলা নেতৃত্বের।কিন্তু কেন এমন হলো?রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাকির আর অনুপের দূরত্ব বেড়েছে পারাজ-শিল্ল্যা রোডের উপর পঞ্চায়েত সমিতির টোল নিয়ে। তাঁদের দাবি, ওই টোল নিজের ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়ার জন্য উঠে-পরে লেগেছিলেন জাকির হোসেন। কিন্তু, পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ম মেনে দরপত্র ডেকে দেওয়াতে তা হয়নি। এরপর যত দিন গড়িয়েছে ততই দূরত্ব বেড়েছে জাকির আর অনুপের। সম্প্রতি পারাজে কাঠের সেতুর উপর টোল আদায় বন্ধ করেছে প্রশাসন। যে কাঠের সেতুর উপর অবৈধভাবে টোল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল জাকিরের অনুগামীদের বিরুদ্বে। এই টোল আদায় বন্ধ করার পেছনে অনুপ কলকাটি নেড়েছে বলে মনে করছেন জাকিরের অনুগামীরা। ফলে জাকির আর অনুপের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের ভেঙে দেওয়া গলসি ১ ব্লক সভাপতি পদে দুজনই দৌড়ঝাঁপ করছেন। আর সেই দৌড়ে অনুপকে পেছনে ফেলতে জাকির গোষ্ঠী অনুপ ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারকে কাজের আগে টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সবর হয়েছেনে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।জেলাস্তরে এক নেতার বক্তব্য, গলসির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবৈধ বালি খাদান চালানো, বৈধ বালি খাদান থেকে টাকা তোলার অভিযোগ ছিলই। তারপরে নতুন করে এমন সব অভিযোগ আসছে যা দলকে ভাবিয়ে তুলছে। তবে দল এইসব বেনিয়ম বরদাস্ত করবে না। আগামীতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তৃণমূলের জেলা শীর্ষ জানিয়ে দিয়েছে।

জুন ২৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

শিল্পীদের পাশে অভিনেতা সন্দীপ ভট্টাচার্য

ফাউন্ডার অভিনেতা সন্দীপ ভট্টাচার্যের উদ্যোগে এফবিএসি আইসিসিআরে এফবিএসসির সূচনা হল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। এখানে সুদর্শন চক্রবর্তী পারফর্ম করেন এবং গান গেয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে দেন সৌম্য শংকর রায়। উদ্যোক্তা সন্দীপ ভট্টাচার্য তার বোর্ড মেম্বার এবং তাদের সহযোগী সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাদের সঙ্গে এই পবিত্র কাজে যোগ দেয়ার জন্য। এনাদের মূল লক্ষ্য ব্যবসা সামাজিক সংস্কৃতি এক ছাতার তলায় আনা। এটাকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বললেও ভুল হবে না। যারা ব্যবসা করতে উদ্যোগী তাদের উদ্যোগ দেখে তাদেরকে সাহায্য করা আর্থিকভাবে এবং তাদেরকে ব্যবসার বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দান করা যাতে তারা কি করে ব্যবসাটি কে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে তারা ভীষণভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। শুধু ব্যবসাই না সামাজিক কাজ বলতে মানুষকে শুধু টাকা দিয়ে না সমস্ত দিক থেকে সমস্ত রকম ভাবে কিভাবে সাহায্য করতে যাওয়া যায় তা খতিয়ে দেখা এবং তাদেরকে সমাজে স্বাবলম্বী করে তোলা। আরেকটি মূল বিষয় আমাদের সমাজের একটি বড় অংশ সংস্কৃতি, অর্থাৎ শিল্পীদের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া যেহেতু সন্দীপ ভট্টাচার্য নিজে একজন শিল্পী। তাই শিল্পীদের সমাজের উন্নতি কিভাবে ঘটানো যায় এবং একজন শিল্পী হিসাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় এই সমাজে তার ধারণা রয়েছে সন্দীপের। তার এই ধারণা তিনি সমাজের ছোট থেকে বড় সমস্ত শিল্পীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চায়। তাদের একটি মূলমন্ত্র আমি বলে কিছু হয়না এখানে আমি বলতে এখানে আমরা। এর অর্থ হলো আমরা চাইলে সমাজের অনেক কিছু বদলাতে পারি একা কিছু করা যায় না। ব্যবসা, সামাজিক কাজ এবং সংস্কৃতিকে একসূত্রে গাঁথার উদ্দেশ্য নিয়ে সমাজের মধ্যে এক নতুন রকম ঐক্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা তারা করেছেন।

মে ০২, ২০২২
রাজ্য

গ্রাম বাঁচাতে অবৈধ বালি খাদান বন্ধের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের

অন্ধকার নামলেই শুরু হয়ে যায় দামোদরের পাড় লাগোয়া চর থেকে অবৈধ ভাবে বালি তুলে পাচার। তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার শম্ভুপুর এলাকার দামোদরের পাড়ের বোল্ডার পিচিং। এই ঘটনা দেখে গ্রাম বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা ঘটনা নিয়ে গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ পত্র ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পঠিয়েছেন। পাশাপাশি জেলাশাসকের দফতরেও জমা দিয়েছেন অভিযোগ পত্র। মুখ্যমন্ত্রী কি ব্যবস্থা নেন সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, এত কিছুর পরেও যদি নদি পাড়ের বোল্ডার পিচিংয়ের ক্ষতি করে বালি তোলা বন্ধ না হয় তবে তা রুখতেই নিজেরাই আশরে নামবেন। জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম শম্ভুপুর। এই গ্রামেের এক পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে দামোদর নদ। পূর্বে নদি পাড়ের ভাঙনে এলাকার অনেক চাষির জমি নদি গর্ভে চলে যায়। বিপন্ন হতে বসে শম্ভুপুর গ্রামের একটা বড় অংশ।বিপর্যয়ের হাত থেকে শম্ভুপুর গ্রামকে বাঁচাতে দামোদর পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা বোল্ডার দিয়ে বাঁধিয়ে দেওয়া হয়। তার পরথেকে শম্ভুপুর গ্রামের মানুষজন স্বস্তিতেই ছিলেন।কিন্তু সম্প্রতি গ্রামবাসীদের রাতের ঘুম ফের কেড়ে নিয়েছে অসাধু বালি কারবারী।গ্রামবাসীরা ওই বালিকারবারীদের বিরুদ্ধেই এখন রুখে দাঁড়িয়েছেন। গ্রামবাসীরা লিখিত ভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, এক বালি কারবারী বর্ধমান সদর ২ ব্লকের বড়শুলের গোপালপুর মৌজায় বালি খাদানের লিজ পেয়েছেন। সেই খাদান থেকে বালি লোড হওয়া ট্রাক ও ডাম্পারগুলির গোপালপুর মৌজার ঘাট দিয়েই যাবার কথা। কিন্তু তা না করে ওই বালি কারবারী জামালপুর ব্লকের শম্ভুপুরে অবৈধ ভাবে নদির বাঁধ কেটে গাড়ি যাতায়াতের ঘাট চালু করেছে। এমনকি সন্ধ্যা নামলেই ওই বালি কারবারীর লোকজন জেসিবি মেশিন নিয়ে গোপালপুর থেকে শম্ভুপুর মৌজা এলাকায় চলে আসছে। এরপর তারাই শম্ভুপুর এলাকার দামোদর পাড়ের বোল্ডার পিচিং লাগোয়া চর থেকে দেদার বালি তুলে নিয়ে ট্রাকে ও ডাম্পারে লোড করে পাচার করাচ্ছে। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, গ্রীন ট্রাইব্যুনালের রায়কে সম্পূর্ণ ভাবে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই শম্ভুপুর এলাকায় অবৈধ ভাবে বালি তুলে পাচার করা হচ্ছে। একারণে শম্ভুপুর গ্রামে দামোদর পাড়ের বোল্ডার পিচিং মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বোল্ডার পিচিং ধসে পড়লে শম্ভুপুর গ্রাম ফের দামোদরের গ্রামের মুখে পড়ে বিপন্ন হবে বলে গ্রামবাসীরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন অতিমাত্রায় ওভারলোড বালির লরি ও ডাম্বার এই এলাকা দিয়ে গিয়ে একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে কালাড়াঘাট থেকে পলেমপুর যাবার নবনির্মিত পিচ রাস্তা। এই বিষয়েটি নিয়ে খুব শীঘ্রই তাঁরা রাজ্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন।গ্রামবাসীদের তোলা অভিযোগ যে অমূলক নয় তা ব্লক ভূমি দফতরের আধিকারিকদের কথাতেই এদিন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভূমি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শম্ভুপুর এলাকা দিয়ে বালির গাড়ি নিয়ে যাবার জন্য যে ঘাট করা হয়েছে সেটি অবৈধ ভাবেই করা হয়েছে। সেই কারণে ভূমি দফতর জামালপুর থানায় এফআইআর করেছে।এছাড়াও জামালপুরের জোড়বাঁধ ও সেলিমাবাদ মৌজা এলাকায় অবৈধ খাদান খোলার অভিযোগ পেয়ে ভূমি দফতর তা নিয়েও এফআইআর করেছে। যদিও এই দুই এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এফআইআর যাই হোক না কোন, সন্ধ্যায় পর থেকে ভোর পর্যন্ত এই দুই এলাকার অবৈধ খাদান থেকে নিত্যদিন বালি লুঠ চলেই যাচ্ছে। বালি লুঠ বন্ধের কোন ব্যবস্থাও হয়নি । জানা গিয়েছে, শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের আনা অভিযোগের বিষয়টি জানার পরেই পুলিশ বুধবার রাতে ওই অবৈধ ঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। চারটি বালির লরি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি পুলিশ ওই লরিগুলির চালককে গ্রেফতার করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে বৃহস্পতিবার পুলিশ চার ধৃতকেই পেশ করে বর্ধমান আদালতে। যদিও আদালতের নির্দেশে ধৃত চার লরিটালকই এদিন জামিনে ছাড়া পেয়ে যান।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

সুরলোকে বিলিন হয়ে যাওয়া লতা,সন্ধ্যা ও বাপ্পি স্মরণে হোম-যজ্ঞ, প্রার্থনা

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ভারত হারিয়েছে সুরের জগতের তিন নক্ষত্র লতা মঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও বাপ্পি লাহিড়ীকে। সুরের জগতের এই তিন নক্ষত্রের প্রয়াণে আজও শোকাতুর গোটা দেশবাসী। শুক্রবার এই তিন সংগীত শিল্পীকে স্নরণ করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় হল হোম যজ্ঞ ও প্রার্থনা। যার উদ্যোক্তা পূর্ববর্ধমানের জামালপুরের বসুন্ধরা উৎসব কমিটি। প্রয়াত তিন শিল্পীকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে বসুন্ধরা উৎসব কমিটি এদিন তাদের কৃষি, পুষ্প ও হস্ত শিল্প প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করে। উৎসব প্রাঙ্গনে উপস্থিত হওয়া সকল সংগীত প্রেমী মানুষজনও এদিন সংগীত জগৎতের তিন নক্ষত্রের ছবিতে পুষ্পার্ষ নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানান। উৎসব প্রাঙ্গনও মাতোয়ারা থাকে তিন সংগীত শিল্পীর সুর মুর্ছনাতে।জামালপুরের শুঁড়েকালনার বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি প্রতি বছর শীতের মরশুমে কৃষি, পুষ্প, হস্তশিল্প প্রতিযোগিতা ও মেলার আয়োজন করে। এই বছর তা ত্রয়োদশ বর্ষে পদার্পণ করল। সিঙ্গারকোন রামকৃষ্ণ আশ্রমের মহারাজ স্বামী মুক্তানন্দ সহ বিশিষ্ট জনেরা এদিন বসুন্ধরা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আগামী ১০ দিন ধরে চলবে বসুন্ধরা উৎসব।বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, চলতি মাসে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশ সুরের জগৎতের তিন নক্ষত্রকে হারিয়েছে। তাঁদের কণ্ঠের জাদু যুগের পর যুব মুগ্ধ করে গিয়েছেন ভারত সহ গোট বিশ্বের সংগীত প্রেমীদের। লতা মঙ্গেশকারের মতন সুরসাম্রাজ্ঞীর প্রয়াণ দেশের সুর জগৎতের অপূরণীয় ক্ষতি। সুরসাম্রাজ্ঞীর মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতে চির ঘুমের দেশে চলে যান গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুর পরের দিনেই চির ঘুমের দেশে চলেযান সংগীত জগৎতের আর এক নক্ষত্র বাপ্পি লাহিড়ী। প্রদীপ পাল জানান, দেশের এই তিন সংগীত নক্ষত্রের স্মরণে এবছরের বসুন্ধরা উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে। তাঁদের স্মরণে প্রার্থনা ও আত্মার শান্তি কামনায় হোম যজ্ঞের মধ্য দিয়েই এদিন উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়। উৎসবে উপস্থিত হয়ে জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার, জেলাপরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামাণিক সহ সকল মানুষজন তিন স্বনামধন্য শিল্পীর ছবিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। প্রদীপ পাল বলেন, উৎসব প্রাঙ্গণ আগামী ১০ দিন এই তিন সংগীত নক্ষত্রের সুর মুর্ছনাতেই মাতোয়ারা থাকবে।হোম যজ্ঞে অংশ নেওয়া দিলীপ ভট্টাচার্য্য জানান, প্রয়াত লতা মঙ্গেশকার, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও বাপ্পি লাহিড়ী স্মরণে এদিন উৎসব প্রাঙ্গণে হোম যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। সেখানে তাঁরা সাত জন ব্রাহ্মণ মিলে হোম যঞ্জ ও চণ্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে কিংবদন্তি শিল্পীদের আত্মার শান্তি কামনায় ঈশ্বরের কাছে প্রর্থনা করেছেন। বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, হোম যজ্ঞ,চণ্ডীপাঠ,শঙ্খ ও উলুর ধ্বনির মধ্যদিয়ে প্রয়াত তিন কিংবদন্তি শিল্পীকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের যে আয়োজন বসুন্ধরা উৎসব কমিটি করেছে তা প্রকৃত অর্থেই নজিরবিহীন।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

প্রয়াত কিংবদন্তীদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে বিশেষ ভাবনা-"গানের জন্য খেলা"

একের পর এক ইন্দ্রপতন। লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে যখন শিল্পী থেকে শ্রোতা আপামর ভারতবাসী শোকস্তব্ধ, তার রেশ কাটার আগেই চলে গেলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। একসময় বাংলা গানের সুরে যে সুরজোয়ার এনেছিলেন, বদলে গেছিল গানের গতিপ্রকৃতি, সুরঝঙ্কার, তেমনই আচম্বিতে অমৃতলোকের পথে যাত্রা করলেন বাপ্পি লাহিড়ী। গান যতদিন থাকবে, এই সব শিল্পীদের নামও সমুজ্জ্বল থাকবে ততদিন৷ গান ভালবাসা, গান শেখা সমস্ত ক্ষেত্রেই কিংবদন্তী এই ত্রয়ী একেকটা প্রতিষ্ঠান। সঙ্গীতপ্রেমী মানুষ তাই আন্তরিক শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মাধ্যমেই শিল্পীকে মনের মণিকোঠায় চিরকালের জন্য ধরে রাখতে চান৷ গানে গানে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন চিরাচরিত রীতি৷ কিন্তু এই রীতির বাইরে একেবারে অন্যরকমভাবে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পরিকল্পনা এবং আয়োজন করেছেন তিন সঙ্গীতপ্রেমী কৌশিক রাহুল, গৌরব সরকার এবং তন্ময় কর৷ লতা মঙ্গেশকর ভালোবাসতেন ক্রিকেট, বাপ্পি লাহিড়ীও ছিলেন খেলার অনুরাগী৷ তাই শুধু গান নয়, গানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলাকে সংযুক্ত করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এর আয়োজন করা হয়েছে প্লে ফর মিউজিক অনুষ্ঠানে৷ তিনটি দল এই ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করছেন৷ তিন শিল্পীর পদবী অনুসারে তিনটি দলের নাম মঙ্গেশকর টিম, মুখোপাধ্যায় টিম এবং লাহিড়ী টিম। প্রত্যেকটি টিমে ১৬ জন করে খেলোয়াড় রয়েছেন যাঁরা সকলেই সঙ্গীতের সঙ্গে ওতোপ্রতভাবে যুক্ত৷ কেউ গান করেন, কেউ সুর করেন কেউ বা যন্ত্রশিল্পী৷ এই অভিনব উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অংশগ্রহণ করেছেন শিল্পীরা৷ খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন, বাবুল সুপ্রিয়, জয় সরকার, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, রূপঙ্কর, মনোময় ভট্টাচার্য, রণজয় ভট্টাচার্য, রথীজিৎ ভট্টাচার্য, আরফিন রানা, আকাশ ভট্টাচার্য, অর্কদীপ মিশ্র।অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা এবং আয়োজকদের অন্যতম কৌশিক রাহুল জানিয়েছেন, যতক্ষণ খেলা চলবে ততক্ষণ মাঠে লতা মঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এবং বাপ্পি লাহিড়ী এই তিন শিল্পীর গান বাজবে৷ গানের সঙ্গে খেলার সমন্বয়ে মিউজিক ফ্রেটার্নিটির সদস্যদের নিয়ে আগামীদিনেও এই ধরনের খেলার আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন কৌশিক রাহুল। প্রবীণ এবং নবীন সঙ্গীতশিল্পীদের এই ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কলকাতা বিবেকানন্দ পার্ক এর মেইনল্যান্ড সম্বরণ ব্যানার্জী ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে আজ। অভিনব এই উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানাই আয়োজক ত্রয়ী কৌশিক রাহুল, গৌরব সরকার এবং তন্ময় কর কে৷

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২২
কলকাতা

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চভূতে বিলীন হলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

বুধবার সন্ধ্যায় পঞ্চভূতে বিলীন হলে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে পরিসমাপ্তি ঘটল একটি অধ্যায়ের। এর আগে শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় রবীন্দ্রসদনে। সেখানে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্পীর দেহে পরিয়ে দেন উত্তরীয়। তিনি ছাড়াও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজন। রবীন্দ্রসদনে ছিলেন বিশিষ্ট এই শিল্পীর কন্যা সৌমী মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রী মাতৃস্নেহে তাঁকে কাছে টেনে নেন। শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রবীন্দ্রসদন পৌঁছন প্রবীণ বামনেতা বিমান বসু। শ্রদ্ধা নিবেদনপর্ব শেষ হলে শিল্পীর নিথর দেহ কালীঘাটের উদ্দেশ্য রওনা দেয়। অন্তিম যাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ যাত্রায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলান বহু মানুষ। রাস্তার দুধারে শুধু কালো মাথার ভিড়। বিকেল ছটা নাগাদ শিল্পীর দেহ পৌঁছয় কালীঘাটে। সেখানে তাঁকে দেওয়া হয় গান স্যালুট। কালীঘাটে অন্ত্যেষ্টি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কার্যত এদিন তাঁকে দেখা গেল অভিভাবকের ভূমিকায়। শিল্পীর অন্তিম যাত্রার সঙ্গে অনেকেই তুলনা করেন বাঙালির ম্যাটিনি আইডল উত্তম কুমারের শেষ যাত্রা।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২
কলকাতা

আজ গীতশ্রীর শেষকৃত্য, উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরছেন মুখ্যমন্ত্রী

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর পেয়ে উত্তরবঙ্গ সফর মাঝপথে ছেড়েই কলকাতায় ফিরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কোচবিহারে ছিলেন তিনি। সেখানেই গীতশ্রীর মৃত্যুর খবর পৌঁছয় তাঁর কাছে। সেখান থেকে কলকাতায় প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিজের সফরসূচিতে কাঁটছাট করেন মমতা। জানিয়ে দেন, বুধবার সরকারি তত্ত্বাবধানেই হবে সন্ধ্যার শেষকৃত্য।কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। মমতা বলেন, কোচবিহারে আমার সভা রয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যাদির মৃত্যু খবর পেয়ে মন খারাপ হয়ে গেল। তাই বুধবার দ্রুত কাজ সেরে আমি কলকাতায় ফিরে আসছি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সর্ব্বোচ্চ সম্মান দিয়ে সন্ধ্যার শেষকৃত্য করবে। আজ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রবীন্দ্রসদনে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা নিবেদন করা যাবে। বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে পূর্ণ মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।মঙ্গলবার কোচবিহারে অনন্ত মহারাজের একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী। তারপর উত্তরবঙ্গের শিল্পপতিদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক কর্মসূচি রয়েছে। সেই কর্মসূচি দ্রুত শেষ করে কলকাতায় ফিরে আসবেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২
কলকাতা

গীতশ্রীর প্রয়াণে শোকবিহ্বল মুখ্যমন্ত্রী

সন্ধ্যার প্রয়াণে ব্যথিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গ সফরে। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ভাবতে পারিনি মারা যাবেন। গতকাল রাতে অস্ত্রোপচারের পর খবর এসেছিল। কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। এত তাড়াতাড়ি এমনটা ঘটে যাবে তা বুঝতে পারিনি। আমরা যকৃতের চিকিৎসকে পাঠাব বলে ঠিক করেছিলাম। তখন জানতে পারলাম উনি আর নেই। কোভিড থেকে মুক্ত হওয়ার পর সব ঠিক ছিল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত। কী যে হয়ে গেল! উনি স্বর্ণালি সময়ের শিল্পী। সেই যুগের সকলেই চলে গিয়েছেন। উনি ছিলেন। উনিই শেষ সুরের ঝঙ্কার, সুরের স্পন্দন, গানের ইন্দ্রধনু। ওঁর গাওয়া কত গান মনে পড়ছে এখন।মমতা আরও বলেন, একটা শতাব্দীর আর কেউ রইলেন না। এ ক্ষতি অপূরণীয়। আমি মনে করি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ভারতরত্ন। আজ রাতে ওঁকে পিস ওয়ার্ল্ডে রেখে দেব। বুধবার ১২টার সময় দেহ নিয়ে রবীন্দ্র সদনে রাখা হবে। ৫টা পর্যন্ত ওখানে থাকবে সম্মান প্রদর্শনের জন্য। আমি যেমন করে হোক পৌঁছনোর চেষ্টা করব। এর পর রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান গান স্যালুট দিয়ে ওঁর শেষকৃত্য হবে। শিল্পীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উনি আমাকে গান গাওয়ার অনুরোধ করতেন। ওঁকে কখনও কখনও গান শোনাতে হয়েছে। আমি অবাক হয়ে যেতাম সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় আমার কাছে গান শুনতে চাইছেন। জন্মদিনে ওঁকে ফোন করেছিলাম। তখন গান শোনাতে বলেছিলেন।গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি টুইটারে লিখেছেন, কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী বঙ্গবিভূষণ গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অতুলনীয় মমতা ও দেশপ্রেম প্রকাশ করেছেন জাতীয় পুরষ্কারজয়ী সঙ্গীতশিল্পী। তাঁর মৃত্যু সঙ্গীত জগতে অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর পরিবার এবং অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ওম শান্তি!Her demise is huge loss to the world of music that would be felt forever.Her iconic songs like Amader Chuti Chuti and Ore Sakol Sona Molin Holo will continue to bless our souls for years to come.My deepest condolences to her family and numerous admirers. Om Shanti ! 2/2 Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) February 15, 2022তিনি এক শোকবার্তা দিয়ে বলেন, কিংবদন্তীপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী, অমর সুরসাধিকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীরতম শোকপ্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দশকের পর দশক ধরে তিনি তাঁর অবিস্মরণীয় কণ্ঠমাধুর্যের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান সঙ্গীতপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় আজও শীর্ষে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ২০১১ সালে বঙ্গবিভূষণ, ২০১২ সালে সঙ্গীত মহাসম্মান ও ২০১৫ সালে ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলি বিশেষ সঙ্গীতসম্মান প্রদান করে। এছাড়া তিনি ভারত নির্মাণ অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড সহ বহু সম্মানে ভূষিত হন। তিনি আমৃত্যু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত একাদেমির সভাপতিও ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সঙ্গীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল।স্বর্ণকণ্ঠী গীতশ্রী সন্ধ্যাদির সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের হৃদ্য সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে আমি আমার অগ্রজাকে হারালাম। আমি সন্ধ্যাদির পরিবার-পরিজন ও অসংখ্য অনুরাগীকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি ।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
রাজ্য

"তীর বেঁধা পাখী আর গাইবে না গান", প্রয়াত বাংলার নাইটিঙ্গেল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

তীর বেঁধা পাখী আর গাইবে না গান, ভুলে গেছে জীবনের হাসি কলতান। গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়-র সুরেলা গলা আর কোনওদিন বলে উঠবে না, গানে মোর কোন ইন্দ্রধনু......। করোনার কারল গ্রাস কেড়ে নিলো আরও এক প্রবাদপ্রতীম শিল্পীকে। লতা মঙ্গেশকরের শোক কাটতে না কাটতেই আরেক ধাক্কা দেশবাসীর কাছে।১৯৩০-র ৪ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা স্বর্ণ যুগের শেষ অবিসংবদিত প্লেব্যাক ও আধুনিক গানের শিল্পী ঘুম ঘুম চাঁদ, ঝিকিমিকি তারা গাইতে গাইতে ৯০ বছর বয়সে চিরঘুমের দেশে চলে গেলেন। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় আধুনিক ও সিনেমার গানের সাথে সাথে সমান পারদর্শী ছিলেন ভরতীয় মার্গসঙ্গীতে। তিনি পণ্ডিত সন্তোষ কুমার বসু, অধ্যাপক এ টি ক্যানন এবং অধ্যাপক চিন্ময় লাহিড়ীর নিকট ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষা লাভ করেন। এছাড়াও প্রবাদপ্রতীম সঙ্গীত গুরু উস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান-র কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষা নেন। উস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান-র অবর্তমানে তাঁর সুযোগ্য পুত্র উস্তাদ মুনাওয়ার আলী খান-র কাছেও তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষালাভ করেছিলেন।১৯৭০ রে জয় জয়ন্তী এবং নিশি পদ্ম চলচ্চিত্রে তার গানের জন্য তিনি সেরা নেপথ্য গায়িকার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১১ তে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়।যদিও তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে সু-প্রশিক্ষিত, তবুও তাঁর বেশিরভাগ সাফল্য বাংলা আধুনিক গানে। ১৯৫০ এ তারানা সিনেমায় একটি গান দিয়ে তাঁর মুম্বাইতে হিন্দি গান গাওয়ার যাত্রা শুরু করেন। তিনি ১৭টি হিন্দি সিনেমায় গান গেয়েছিলেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে ১৯৫২ তে তিনি কলকাতায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১৯৬৬ তে কবি শ্যামল গুপ্তের সাথে তাঁর বিবাহ হয়। বাংলা গানের এক অমর কথা শিল্পী শ্যামল গুপ্ত সন্ধ্যার বহু কালজয়ী গানের কথা লিখেছেন।২৬ জানুয়ারি বুধবার প্রজাতন্ত্র দিবসের সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাংলার স্বর্ণযুগের শেষ সঙ্গীতশিল্পী। তার ঠিক পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গ্রিন করিডোর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। সেইসময় হাসপাতাল কতৃপক্ষ মেডিকেল বুলেটিন-এ জানায় শিল্পীর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পরেছে। তাঁর মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পদ্ম সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই নিয়ে নানামহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।অসুস্থ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মেডিক্যাল বোর্ড জানায় আগেরদিন রাতে শৌচাগারে পড়ে গিয়ে চোট পান তিনি। তার সঙ্গে শুরু হয়েছিল শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও। তাঁর দুটি ফুসফুসেই ভয়ানক সংক্রমণ দেখা দেয়। এর পর বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সোমবার রাতে তার অস্ত্রোপচার হয়েছিল, ফুসফুসের সংক্রমণও অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল।সন্ধ্যা - হেমন্ত বাংলা সিনেমার সঙ্গীতের এক অবিস্মরনীয় জুটি। তাঁদের গলায় উত্তম-সুচিত্রা সিনেমায় একের পর এক অমর গান মানুষের মুখে মুখে আজও ঘুরে বেড়ায়। সেইসময় সুচিত্রা সেনের কণ্ঠের সাথে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ছাড়া কারুর গানই সেভাবে শোনা যেতো না। হেমন্ত মুখার্জির সুরে তিনি বহু গান গেয়েছেন, এছাড়াও রবিন চট্টোপাধ্যায় ও নচিকেতা ঘোষের সঙ্গেও তিনি অনেক কাজ করেন।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন, যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে আগত লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তুদের জন্য তিনি ভারতীয় বাঙালি শিল্পীদের সঙ্গে গণ আন্দোলনে যোগ দেন এবং তাদের সাহায্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। কারাগারে বন্দী নতুন বাংলাদেশের কারিগর বাংলাদেশের মুক্তিসুর্য শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির উপলক্ষে তার গাওয়া বঙ্গবন্ধু তুমি ফিরে এলে গানটি বাংলাদেশে দারুন জনপ্রিয়। ১৯৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারির উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকায় পল্টন ময়দানের একটি উন্মুক্ত কনসার্টে অনুষ্ঠান করা তিনিই ছিলেন অন্যতম প্রথম বিদেশি শিল্পী।১৯৭১ সালে জয় জয়ন্তী এবং নিশিপদ্ম ছবিতে যে দুটি গান গেয়ে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, তার একটি হল ওরে সকল সোনা মলিন হল আপরটি আমাদের ছুটি ছুটি গাইতেই গাইতেই যেন তিনি সত্যিই চির ছুটিতে চলে গেলেন।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
দেশ

ফের সামান্য বাড়ল দৈনিক করোনা সংক্রমণ, একদিনে আক্রান্ত ৭১ হাজারের বেশি

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই কমতে শুরু করেছে দেশের দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। তবে বুধবারই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ফের সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৭১ হাজারের গণ্ডি পার করেছে। মঙ্গলবার দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৭ হাজার ৫৯৭। অন্যদিকে, দেশে একদিনেই ১২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা সংক্রমণে। এই নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ লক্ষ ৫ হাজার ২৭৯-এ।লাখের গণ্ডির নীচে থাকলেও, দেশে সামান্য বাড়ল করোনা সংক্রমণ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ হাজার ৩৬৫ জন, যা গতকালের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। এই নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪ কোটি ২৪ লক্ষ ১০ হাজার ৯৭৬-এ। দেশের সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নীচে নেমে দাঁড়িয়েছে।এদিকে, দেশের করোনা সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কমায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে দেশের সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮ লক্ষ ৯২ হাজার ৮২৮। দেশের মোট আক্রান্তের ২.১১ শতাংশ সক্রিয় রোগী। একইসঙ্গে কমেছে সংক্রমণের হারও। বর্তমানে দেশে সংক্রমণের হার ৪.৫৪ শতাংশ। সাপ্তাহিক সংক্রমণের হার ৭.৫৭ শতাংশ।কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ৫টি রাজ্য থেকেই দৈনিক সংক্রমণের ৬৭.২১ শতাংশের খোঁজ মিলছে। এরমধ্যে শীর্ষে রয়েছে কেরল, সেখানে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজার ৪৭১। দেশের মোট সংক্রমণের ৪১.৩ শতাংশই কেরল থেকে খোঁজ মিলছে। এরপরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র, এই রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬১০৭ জন। এরপরে রয়েছে তামিলনাড়ু, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫১৯। কর্নাটক ও রাজস্থানেও দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৪৫২ এবং ৩৪১১।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২২
রাজ্য

অবৈধ বালি খাদান ও ওভারলোড গাড়ি নিয়ে সরব তৃণমূলের একাংশ, বর্ধমানে হামলার মুখে সরকারি আধিকারিকরা, ছড়াল উত্তেজনা

নদ-নদী থেকে বালি লুট ও বালির ওভার লোডিং বন্ধে প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কে কার কথা শোনে। মুখ্যমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন তার কোন কিছুই পূর্ব বর্ধমান জেলায় মানা হচ্ছে না বলে এতদিন জেলাবাসী অভিযোগ করে আসছিলেন। এবার বিষয়টি নিয়ে খোদ খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব কর্মাধ্যক্ষ জেলা প্রশাসনের দফতরে অভিযোগ জানালেন। পাশাপাশি জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা ভূতনাথ মালিকও ওভারলোড বালির লরি চলাচল নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। তারই মধ্যে বৃহস্পতিবার বর্ধমানের ইদিলপুরের বালি খাদানে বালির গাড়ির চালান চেক করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন ভূমি দফতরের আধিকারিকা। যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব কর্মাধ্যক্ষ শ্যামল কুমার পাঁজা ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ওই অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, খণ্ডঘোষের শশঙ্গা অঞ্চলে দামোদর নদে বেশ কয়েকটি অবৈধ খাদান চলছে। তার মধ্যে গৈতানপুর মৌজায় থাকা একটি অবৈধ বালি খাদান দীর্ঘদিন যাবৎ ধারাবাহিক ভাবে অনুপম পাঁজা নামে এক ব্যক্তি চালিয়ে যাচ্ছেন।গত ২৮ জানুয়ারি খণ্ডঘোষ বিএলআরও এবং এসডিএলআরও দফতরের আধিকারিকগণও ওই বালি খাদান খতিয়ে দেখতে আসেন। সবকিছু খতিয়ে দেখে তাঁর প্রমাণ করেন খাদানটি সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবেই চলছে। তার পরেও ওই অবৈধ খাদান থেকে আরও বেশি পরিমাণে খননকার্য চলছে। শ্যামলবাবু তাঁর অভিযোগে আরও জানিয়েছেন, এলাকার মানুষজন অবৈধ বালি খাদান বন্ধ করার কথা অনুপম পাঁজাকে বলেছিলেন। প্রত্যুত্তরে অনুপম পাঁজা এলাকার মানুষজনকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তাঁর খাদান নিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না। অনুপম পাঁজার এমন বক্তব্যে এলাকার বাসিন্দা মহলে ব্যাপক ক্ষোভ বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওই অবৈধ বালি খাদান নিয়ে যে কোনওদিন এলাকায় বড়সড় অশান্তির ঘটনা ঘটে যেতে পারে।এমন আশঙ্কার কথাও প্রশাসনকে জানিয়েছেন, খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব কর্মাধ্যক্ষ।অবৈধ বালি খাদানযদিও এইসব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অনুপম পাঁজা। তিনি বালির চালান দেখিয়ে দাবি করেন বৈধ ভাবে লিজ পেয়েই তিনি তাঁর খাদান চালাচ্ছেন। তাঁর খাদান অবৈধ বলে যিনি দাবি করছেন তিনি সঠিক বলছেন না। বিএলআরও দফতরের লোকজন একদিন তাঁর বালি খাদান মাপজোক করতে এসেছিলেন। সেই কাজে তিনিও তাঁদের সাহায্য করেছিলেন। কোনও অনিয়ম ধরা পড়ার কথা বিএলআরও দফতরের কেউ তাঁকে জানায়নি। অনুপম পাঁজা এও জানান, শ্যামল পাঁজা এমন অভিযোগ আগেও তাঁর বিরুদ্ধে করেছিলেন। কারণ ওনার ব্যক্তিগত কিছু দাবিদাওয়া আছে। যা তিনি পূরণ করেননি। তাই শ্যামল পাঁজা প্রশাসনের কাছে এইসব মিথ্য অভিযোগ করছেন বলে অনুপম পাঁজা মন্তব্য করেছেন। খণ্ডঘোষ ব্লকের বিএলআরও রোহিত রঞ্জন ঠাকুর জানিয়েছেন, শশঙ্গা অঞ্চলে অবৈধ বালি খাদান চলছে এমন কোন অভিযোগের এদিন পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ ব্লক ভূমি দফতরে কিছু জানাননি। তবে তাঁরা অনুপম পাঁজার খাদান নিয়ে এনকোয়ারি করে ছিলেন। সব খতিয়ে দেখে তাঁরা অনিয়ম কিছু পাননি। সেই রিপোর্ট জেলার ভূমি আধিকারিককে (এডিএম এলআর ) পাঠিয়ে দিয়েছেন।পরে এসডিএলআরও দফতর থেকেও আধিকারিকরা এসে অনুপম পাঁজার খাদান খতিয়ে দেখে যান। ওনারা কি রিপোর্ট দিয়েছেন সেই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে খণ্ডঘোষের বিএলঅরও জানিয়েছেন।অবৈধ বালি খাদান চলার অভিযোগ শুধু খণ্ডঘোষের বাসিন্দারাই অভিযোগ তুললেন এমনটা নয়।জামালপুরের জোড়বাঁধ, পুলমাথা ও সারাংপুর এলাকায় অবৈধ বালিখাদান চলছে বলে ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসনের দফতরে অভিযোগ জমা পড়েছিল।এখনও জোড়বাঁধ এলাকায় দামোদর থেকে দেদার চলছে বালি লুট। এই বিষয়ে ওই বালি খাদানের প্রাক্তন লিজ হোল্ডার বাসুদেব মাজি ওরফে হোবেকে ফোন করা হলে তিনি জানান, জোড়বাঁধে দামোদর থেকে বালি তোলার লিজ এবার কেউ পায়নি। তাই তিনি জোড়বাঁধ থেকে বালি তোলেন না। স্থানীয় কাঁঠালতলা এলাকায় যাঁর বালি খাদান রয়েছে তাঁরাই জোড়বাঁধ থেকে এখন বালি তোলেন। বালি কারবারি বাসুদেব মাঝির এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় জোড়বাঁধে দামোদর থেকে বালি লুটের অভিযোগ মোটেই অসত্য নয়। জোড়বাঁধের পাশাপাশি জামালপুরের বেরুগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দারাও অবৈধ বালিখাদান ও ওভারলোড বালির লরি চলাচল নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বেরুগ্রাম অঞ্চলেও প্রকাশ্যে অবৈধ বালি খাদান চলছে। বিষয়টি জানার পর সম্প্রতি জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক নিজে ব্লকের ভূমি দফতরে গিয়ে অবৈধ বালি খাদান বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এই অঞ্চলে দামোদরে নৌকা নামিয়েও বালি তুলে পাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে পুলিশি অভিযানে বালি চোর ধরা পড়ার পর। বেরুগ্রাম অঞ্চলের ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ছাড়াও ভূতনাথ মালিক অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে শয়ে শয়ে ওভারলোড পাথর ও বালির লরি কালাড়াঘাট থেকে পলেমপুর যাওয়ার সড়ক পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। বহু সংখ্যায় ওভারলোড বালির লরি যাতায়াতের কারণে সদ্য তৈরি হওয়া ওই পাকা পিচ রাস্তা সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। অথচ প্রশাসনের কেউ এই বিষয়টি নিয়ে হেলদোল দেখাচ্ছেন না। ক্ষুব্ধ জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক বলেন, রাস্তা বাঁচাতে এরপর হয়তো জামালপুরের জনপ্রতিনিধিদেরই পথে নেমে ওভারলোড বালি ও পাথরের লরি ধরতে হবে।সরকার ওভারলোড গাড়ি চলাচল বন্ধে কড়া বার্তা দেওয়ার পরেও কিভাবে ওভার লোড বালির লরি সড়ক পথে চলাচল করছে তা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার বলেও ভূতনাথ মালিক জানিয়েছেন।বিরোধীরা যদিও দাবি করেছে, কোথায় কিভাবে বালি লুট হচ্ছে তার সবই জানেন পুলিশ ও শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরা। তার পরেও জনপ্রতিনিধিদের যে সব অভিযোগ করছেন সেটা নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। জনপ্রতিনিধিদের আনা এইসব অভিযোগের মাঝেই বৃহস্পতিবার বর্ধমানের ইদিলপুরে বালি ঘাটে বালির চালান খতিয়ে দেখতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হলেন ভূমি দফতরের আধিকারিকরা। চালান বিহীন বালি বোঝাই একটি ট্র্যাক্টর ধরা নিয়ে বালিঘাটে থাকা লোকজন ভূমি দফতরের আধিকারিদের উপরে চড়াও হয়। তাঁরা আধিকারিকদের গাড়িতেও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ডিএসপি(হেডকোয়ার্টার) অতনু ঘোষালের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে ধরপাকড়। কয়েকদিন আগে তেলিপুকুর সংলগ্ন এলাকায় বলিঘাট পরিদর্শনে এগিয়ে একই ভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন ভূমি দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেরিয়ে বারে বারে ভূমি দফতরের আধিকারিকদের এইভাবে হেনস্থার শিকার হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসনের কর্তারা। অতিরিক্ত জেলা শাসক (এডিএম এলআর) ঋদ্ধি ব্যানার্জী জানিয়েছেন, খণ্ডঘোষের শশাঙ্গা অঞ্চলে অবৈধ বালি খাদান চলছে এমন অভিযোগ কেউ তাঁকে জানায়নি। তবে গৈতানপুরে থাকা অনুপম পাঁজার বালি খাদান নিয়ে খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ অভিযোগ করেছিলেন। বিএলআরও এবং এসডিএলআরও দফতরের আধিকারিকরা ওই খাদান নিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। রিপোর্ট এখনও দেখা হয়নি। রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরে ওই খাদানের বিষয়ে জানাতে পারবেন। জামালপুরের জোড়বাঁধ ও বেরুগ্রাম অঞ্চলে অবৈধ ভাবে বালি খাদান চলা ও কালাড়াঘাট থেকে পলেমপুর যাওয়ার রাস্তায় ওভারলোড বালির গাড়ি অতিমাত্রায় চলছে এমন অভিযোগও কেউ তাঁর দফতরে জানায়নি। আভিযোগ পেলে কড়া ব্যবস্থা নেবেন বলে অতিরিক্ত জেলাশাসক জানিয়েছেন। এদিনের ইদিলপুরের ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, বালির গাড়ির চালান দেখতে চাইলেও বালির গাড়ির লোকেদের গাত্রদাহ হচ্ছে। সেই জন্য তারা বারে বারে ভূমি দফতরের লোকজনের উপর চড়াও হচ্ছে। এদিনের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে বলে অতিরিক্ত জেলাশাসক জানিয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
কলকাতা

এখনও সংকটজনক সন্ধ্যা, রয়েছেন অক্সিজেন সাপোর্টে

এখনও সংকটজনক গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। ইএম বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন সাপোর্টেই রয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, নবতিপর শিল্পীর চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হচ্ছে। তাঁর হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে বলে খবর। তার মধ্যে তিনি কোভিড আক্রান্তও। সূত্রের খবর, আজ শিল্পীর চিকিৎসা নিয়ে আলোচনায় বসবে মেডিক্যাল বোর্ড।বৃহস্পতিবার সন্ধে নাগাদ গায়িকাকে দেখতে এসএসকেএমে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই জানান, সন্ধ্যাকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। অসুস্থ গায়িকাকে গ্রিন করিডর করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে। নিউমোনিয়াও আছে। একই সঙ্গে বিকেলে সন্ধ্যার কোভিড রিপোর্টও পজিটিভ আসে। চিকিৎসাধীন শিল্পীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন শিল্পী মহল থেকে সাধারণ মানুষ।

জানুয়ারি ২৮, ২০২২
কলকাতা

করোনা আক্রান্ত গীতশ্রী, সরানো হচ্ছে অ্যাপেলো হাসপাতালে, এসএসকেএমে দাঁড়িয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

করোনা পজিটিভ গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে অ্যাপোলো হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালে দাঁড়িয়েই এ কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, শিল্পীর হার্টেরও সমস্যা রয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত। প্রথম থেকেই অসুস্থ সঙ্গীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকেই শরীরটা ভাল ছিল না সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের। রাতেই ফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।অসুস্থ সঙ্গীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে এসএসকেএম হাসপাতালে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় মুখ্যমন্ত্রী এসএসকেএমে ঢুকেই চিকিৎসক সোমনাথ কুণ্ডু, অসীম কুণ্ডু, নীলাদ্রি সরকারদের সঙ্গে কথা বলেন। শিল্পীর শারীরিক পরিস্থিতি কেমন তার খোঁজখবর নেন। আপাতত আইসোলেশনে রয়েছেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।বৃহস্পতিবার দুপুরে গুরুতর অসুস্থ শিল্পীকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর জ্বর, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা রয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে শিল্পীর জামাতা জানান, সন্ধ্যার ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে। বুধবার রাত থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাঁদের পারিবারিক চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। সেই মতোই রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শিল্পীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।বুধবার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সে সময় শিল্পীকে কিছুটা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বলে মনে হয়েছিল মমতার। সূত্রের খবর, এর পর শিল্পীর কন্যা সৌমী সেনগুপ্তকে ফোন করে সন্ধ্যার খবরাখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও জানিয়ে দেন, তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত যে কোনও প্রয়োজনে রাজ্য সরকার সাহায্য করবে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২২
কলকাতা

গুরুতর অসুস্থ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, গ্রিন করিডর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসএসকেএমে

গুরুতর অসুস্থ সঙ্গীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তাঁকে গ্রিন করিডোর করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে নিজে ফোন করে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময় শিল্পীকে কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে হয় মুখ্যমন্ত্রীর। সূত্রের খবর, এর পর শিল্পীর মেয়েকে ফোন করে সন্ধ্যা দেবীর খবরাখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনও প্রয়োজনে রাজ্য সরকার সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।সূত্রের খবর, ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে তাঁর। বুধবার সন্ধ্যে থেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শিল্পী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। কিন্তু বুধবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেয় পরিবার। বিষয়টি জানানো হয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মৌসুমী দাসকে।বুধবার রাত থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ে শিল্পীর। শিল্পীর আরটিপিসিআর টেস্ট করা হয়েছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেই সব পদক্ষেপ করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, সঙ্গীতশিল্পীকে এসএসকেএমের উডবার্ন ভর্তি করা হচ্ছে। সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকও রয়েছেন। দু দিন আগেই কেন্দ্রের পদ্ম সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন গীতশ্রী।

জানুয়ারি ২৭, ২০২২
দেশ

পদ্ম-সম্মান ফেরালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়! আর কে কে পদ্ম পাচ্ছেন দেখে নিন

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দেওয়া পদ্মসম্মান কি গ্রহণ করবেন বাংলার শেষ কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী? মঙ্গলবার রাত থেকে সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। বুদ্ধদেব নিজেই সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন। তাঁর পরিবারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বুদ্ধদেবের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কেউ এক জন ফোন করেছিলেন। তখন সম্মতি দেওয়া হয়। বুদ্ধদেব বিষয়টি তখন জানতেন না। পরে খবর জেনে পত্রপাঠ সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাতে তাঁর তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হবে। পাশাপাশি পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ও।#UPDATE | In a statement, former West Bengal CM Buddhadeb Bhattacharjee says he will not accept the Padma Bhushan award https://t.co/YiEYyxTNGH ANI (@ANI) January 25, 2022সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে মঙ্গলবার সন্ধেয় পদ্ম সম্মান প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করে কেন্দ্র। মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মানে সম্মানিত করা হল দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল বিপিন রাওয়াত। চারজনকে পদ্মবিভূষণ সম্মানে সম্মানিত করল কেন্দ্র। এই তালিকায় নাম রয়েছে মহারাষ্ট্রের প্রভা আত্রে (কলা)। মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন তিনজন। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং (সামাজিক অবদান), উত্তরপ্রদেশের রাধেশ্যাম খেমকা (শিক্ষা ও সংস্কৃতি)। পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন মাইক্রোসফটের সিইও সত্যনারায়ণ নাদেলা এবং অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই। একই সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউটের কর্ণধার আদর পুনাওয়ালার বাবা সাইরাস পুনাওয়ালা। সামাজিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা গুলাম নবি আজাদও সম্মানিত হয়েছেন এই সম্মানে। বাংলা থেকে কলাক্ষেত্রে অবদানের জন্য পদ্মবিভূষণ সম্মান পাচ্ছেন অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়। টাটা অ্যান্ড সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণও পাচ্ছেন পদ্ম সম্মান।Microsoft CEO Satya Nadella, Alphabet CEO Sundar Pichai, SII MD Cyrus Poonawalla to be conferred with Padma BhushanOlympians Neeraj Chopra, Pramod Bhagat Vandana Kataria, and singer Sonu Nigam to be awarded Padma Shri pic.twitter.com/J5K9aX9Qxz ANI (@ANI) January 25, 2022বাংলা থেকে পদ্মশ্রী প্রাপকের তালিকায় নাম রয়েছে দুজনের। তাঁরা হলেন প্রহ্লাদ রাই আগরওয়াল এবং সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় (বিজ্ঞান)। অলিম্পিকে সোনাজয়ী নীরজ চোপড়াও পেয়েছেন এই সম্মান।পদ্ম-বিজয়ী

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
রাজ্য

ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ, একদিনে হাজারেরও বেশি আক্রান্ত, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের

রাজ্যে ফের কিছুটা বাড়ল দৈনিক সংক্রমণ। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ করোনা বুলটিন অনুযায়ী, দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৪৪৭। মঙ্গলবার এই পরিসংখ্যান ছিল ১০ হাজার ৪৩০। অর্থাৎ, শেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় এক হাজারেরও বেশি বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। বুধবারের করোনা বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। জেলাওয়াড়ি তালিকায় মৃতদের মধ্যে ১৪ জনই কলকাতার।সংক্রমণের নিরীখেও কলকাতায় সংক্রমণ সর্বোচ্চ। শেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরই উদ্বেগজনক সংক্রমণ পরিস্থিতি উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানে ১ হাজার ৭৯৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে রাজ্যে পজিটিভিটি রেট কিছুটা কমেছে আগের তুলনায়। রাজ্যে বর্তমানে পজিটিভিটি রেট ১৬.৯৮ শতাংশ। শেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬৭ হাজার ৪০৪ জনের। সেই সঙ্গে সুস্থও হয়ে উঠেছেন অনেকে। সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। রাজ্যে বর্তমানে সুস্থতার হার ৯১.০৯ শতাংশ।এদিকে স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ২,১৫৪ জন কলকাতার। অর্থাৎ দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে এদিন ফের প্রথমে ওই জেলা। আগের দিনের তুলনায় সামান্য হলেও কমেছে সংক্রমণ। দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা। একদিনে আক্রান্ত সেখানকার ১,৭৯৮ জন। আগেরদিন সংক্রমণ ছিল এর থেকে সামান্য কম। নিম্নমুখী কোভিড গ্রাফ স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি দিচ্ছে ওই জেলার বাসিন্দাদের।দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে ফের তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। একদিনে ওই জেলায় নতুন করে সংক্রমিত ৮৮৮ জন। চতুর্থ স্থানে নদিয়া। সেখানে একদিনে সংক্রমিত ৬৮১ জন। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের কম বেশি সব জেলা থেকেই নতুন আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। ফলে রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯,২৮, ৯৬১। একদিনে করোনাকে পরাস্ত করে ঘরে ফিরেছেন ১৫, ৪১৮ জন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট করোনাজয়ীর সংখ্যা ১৭, ৫৭, ০৬৬। গত ২৪ ঘণ্টায় পজিটিভিটি রেট ১৬.৯৮ শতাংশ। বর্তমানে রাজ্যে সেফ হোমের সংখ্যা ২০০। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য। বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে কনটেনমেন্ট জোন।অন্যদিকে, ভারতে ফের বাড়ল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৮২ হাজার জন। মঙ্গলবার দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ১৮ জন। বুধবার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল ১৮ শতাংশ। দৈনিক সংক্রমণের হার ১৪.৪৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫.১৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ওমিক্রন রূপে আক্রান্ত হয়েছেন ৮,৯৬১ জন। মঙ্গলবারের তুলনায় ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৪৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩১০ জন। এই সময়ের মধ্যে দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৮ লক্ষ ৬৯ হাজার। যা মঙ্গলবারের চেয়ে প্রায় ২ লক্ষ বেশি।

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ATK Mohun Bagan : রক্ষণ সামলাতে পুরনো ডিফেন্ডারকে ফেরাল এটিকে মোহনবাগান

বিদেশি ক্লাবের জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন পূরণ হল না সন্দেশ ঝিংগানের। আবার ফিরতে হল সেই দেশের ক্লাবেই। পুরনো ক্লাব এটিকে মোহনবাগানের জার্সি গায়ে চলতি মরশুমে আবার আইএসএলে খেলতে দেখা যাবে দেশের সেরা এই ডিফেন্ডারকে।আরও পড়ুনঃ সুরাতে গ্যাস লিক করে মর্মান্তিক মৃত্যু ৬ কারখানা শ্রমিকেরগত মরশুম শেষে এটিকে মোহনবাগান ছেড়ে ক্রোয়েশিয়ার এইচ এন কে সিবনিকে যোগ দিয়েছিলেন সন্দেশ ঝিংগান। সিবনিকে যোগ দেওয়ার সময় বলেছিলেন এগিয়ে যাওয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। কিন্তু সেই সুযোগই পেলেন না সন্দেশ। ক্রোয়েশিয়ায় যাওয়ার পর একটা ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি এই ভারতীয় ডিফেন্ডার। কয়েকটা ম্যাচে অবশ্য রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন। মরশুমের শেষের দিকে আবার চোটের কবলে পড়েন সন্দেশ। চোট সারানোর জন্য তিনি দেশে ফিরে আসেন। নিজের ব্যক্তিগত ফিজিওর কাছে চিকিৎসা শুরু করেন। ফিট হওয়ার পর এটিকে মোহনবাগান কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।আরও পড়ুনঃ রাজ্যজুড়ে শীতের আমেজ কমিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রাসবুজমেরুণ কর্তারা একজন ভাল মানের ডিফেন্ডারের খোঁজে ছিলেন। হাবাস দায়িত্বে থাকার সময় দীপক টাংরিকে স্টপারে খেলাচ্ছিল। বেশ কয়েকটা ম্যাচে দলকে ডুবিয়েছেন দীপক। তাই সন্দেশ ঝিংঘানকে ফেরাতে এটিকে মোহনবাগান কর্তারা রাজি হয়ে যান। বাগান কর্তারা সন্দেশকে দলে নেওয়ার আগে কোচ জুয়ান ফেরান্দোর সঙ্গে কথা বলেন।আরও পড়ুনঃ হাবড়া স্টেশনে কেন ভেঙে দেওয়া হল এমএ ইংলিশ চায়েওয়ালির দোকান?ট্র্যান্সফার-ফি দিয়ে সন্দেশকে নিতে রাজি ছিলেন না এটিকে মোহনবাগান কর্তারা। তাঁরা সন্দেশকে বলেন সিবনিক থেকে রিলিজ নিয়ে আসতে। সিবনিকের কর্তাদের কাছে রিলিজ চান সন্দেশ। রিলিজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটিকে মোহনবাগানের সঙ্গে চুক্তি করে জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢুকে পড়েন। বৃহস্পতিবারই জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢুকে পড়লেও পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না। কারণ এটিকে মোহনবাগানের পরের ম্যাচ ৮ জানু্যারি ওড়িশা এফ সির বিরুদ্ধে। এই ম্যাচের আগে সন্দেশ ঝিংঘানের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হবে না। ১৫ জানুয়ারি বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে অবশ্য তাঁর মাঠে নামতে কোনও অসুবিধা হবে না।

জানুয়ারি ০৬, ২০২২
রাজ্য

Corona: রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণে রেকর্ড, উদ্বেগ বাড়িয়ে আক্রান্তের সংখ্যা পার করল ৯০০০

একদিকে যখন বাংলার চিকিৎসকেরা তৃতীয় ঢেউয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তখন বাংলায় বড়সড় লাফ দিল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। দৈনিক সংক্রমণ একধাক্কায় বেড়ে ৯ হাজার পেরিয়ে গেল মঙ্গলবার। শুধুমাত্র কলকাতাতেই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ছুঁইছুঁই। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। কলকাতাতেই মৃতের সংখ্যা ৫।সোমবার স্বাস্থ্য দপ্তরের যে বুলেটিন প্রকাশ হয়, তাতে দেখা গিয়েছিল দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ৬ হাজারের কিছু বেশি। সাধারণত রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় টেস্ট তুলনামূলকভাবে কম হয়। সম্ভবত সেই কারণেই শনিবার ও রবিবার আক্রান্তের সংখ্যায় খুব বেশি হেরফের হয়নি বলেই অনুমান করা হয়। আর মঙ্গলবার একলাফে সেই সংক্রমণ বাড়ল অনেকটাই। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, সাধারণ মানুষের সতর্কতার অভাবেই এই পরিস্থিতি। তারপরও অসতর্কতার ছবি দেখা যাচ্ছে বাসে-ট্রেনে সর্বত্র। তবে মঙ্গলবারের করোনার গ্রাফ বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবার সত্যিই আরও বেশি সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।আরও পড়ুনঃ করোনাকালে বাড়ি বাড়ি খাবার পাঠাবে রাজ্য গত সপ্তাহের মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) কলকাতায় দৈনিক সংক্রমণ ছিল ৯১০। এক সপ্তাহে তা বাড়ল ১,১৪৬ শতাংশ। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর প্রকাশিত বুলেটিন জানাচ্ছে মঙ্গলবার রাজধানী শহরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সংখ্যা ৪,৭৫৯। প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় গত ৩ মে কলকাতায় দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা পৌঁছেছিল ৩,৯৯০-এ। তৃতীয় ঢেউয়ের অষ্টম দিনেই সেই রেকর্ড ভেঙে গেল।

জানুয়ারি ০৪, ২০২২
রাজ্য

Group Clash: বালি খাদানের দখল নিয়ে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে চললো গুলি, জখম ১

বালিখাদানের দখল নিয়ে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হল এক তৃণমূল কর্মী। জখম ওই তৃণমূল কর্মীর নাম শেখ পান্নালাল ওরফে ফটিক। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের ইদিলপুর এলাকায়। এই ঘটনা নিয়ে এদিন সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার বাসিন্দাদের কথায় জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকালে। ওইদিন বর্ধমানের সদরঘাট এলাকায় পিকনিক করতে গিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কয়েকজনের মধ্যস্থতায় তখনকার মত অশান্তি মিটে গেলেও রবিবার সকালে ফের অশান্তি বাঁধে। অভিযোগ, শেখ ফটিক এদিন সকালে বালিখাদে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি বিরুদ্ধ গোষ্ঠির সুনীল চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বোমাও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ফটিক জানিয়েছে, গুলি তাঁর পায়ে লাগে। ফটিককে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় বর্ধমান হাসপাতালে। এলাকায় দখলদারি কায়েম করতেই ছেলে ফটিকের উপরে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মা মদিনা বিবি। যদিও তিনি এই ঘটনাকে গোষ্ঠী সংঘর্ষ বলে মানতে চাননি। মদিনা বিবি দাবি করেছেন, যাঁরা তাঁর ছেলেকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে তারা বিজেপির লোক। ঘটনার পর স্থানীয় বালি ব্যবসায়ী রাজনাথ চৌধুরী জানিয়েছেন, শেখ ফটিক রবিবার সকালে দলবল নিয়ে তার ভাই অরুন চৌধুরীর বাড়িতে হামলা করে।এমনকি তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। বাড়িতে থাকা একটি মোটর সাইকেল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। রাজনাথ চৌধুরী দাবি করেন, হামলা চালানোর সময়ে শেখ ফটিক তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি লক্ষভ্রষ্ট হয়। তবে পান্নালাল কিভাবে গুলিবিদ্ধ হল সে বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করে রাজনাথ চৌধুরী। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ যাই থাক বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। উত্তেজনা থাকায় এলাকাজুড়ে চলছে পুলিশি টহলদারি।জেলার পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগ্নেআস্ত্র কি ভাবে এল তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানুয়ারি ০২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

New song : পথের গানওয়ালা মিউজিক্যাল স্যান্ডউইচ এর প্রথম গান মুক্তি নতুন বছরে

বছর শুরুতে পাহাড়ের গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন কলকাতার স্ট্রিট মিউজিকে অতি চেনা নাম মিউজিক্যাল স্যান্ডউইচ। এই ব্র্যান্ডে বেশ পরিচিত নীলাঞ্জন সাহা। গোলপার্কে সাইকেলকে সম্বল করে স্ট্রিট মিউজিক নিয়ে কাজ করার তাগিদেই স্যান্ডউইচ বিক্রির এই অভিনব পন্থা নেন নীলাঞ্জন। দেখতে, দেখতে বছর তিন পার করে ফেলেছেন এই তরুণ তুর্কী।এই প্রথম অরিজিনাল গান করলেন নীলাঞ্জন। সম্ববত এই প্রথম শহরের কোনো স্ট্রিট মিউজিশিয়ান গান রেকর্ড করলেন।আর এই গানের নেপথ্যে থাকা মানুষটি শহরের প্রথম স্ট্রিট মিউজিক ফেস্টিভ্যাল এর উদ্যোক্তা, পাশাপাশি মাউন্টেন মিউজিক ফেস্টিভ্যাল এরও আয়োজক, সুদীপ্ত চন্দ। গানের কথা,সুর তাঁর এবং এই প্রথম গানও গাইলেন নীলাঞ্জনের সাথে। সুদীপ্ত মূলত পাহাড়ের গান করেন।এর আগে দুটো গানই পাহাড় নিয়ে বানিয়েছেন। গেয়েছেন রূপঙ্কর। এই প্রথম স্ট্রিট মিউজিশিয়ানকে সঙ্গী করে গান বানালেন সুদীপ্ত।গানের শুট হলো দার্জিলিং এর দাওয়াইপানির আনাচেকানাচে, লামাহাটার পাইন বনে,ত্রিবনীতে। গান জুড়ে পাহাড়ের দৃশ্যগুলো বেশ নজর কাড়ে। পাহাড়ের কোলে দুই বন্ধুর জার্নি নিয়ে বছর শুরুতে এই গান প্রকাশ পাবে দ্যা ড্রিমার্স মিউজিক পি আর এজেন্সি এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে। গানের সঙ্গীত আয়োজন করেছেন মাধুর্য মুখোপাধ্যায়। সুদীপ্ত চন্দ বললেন, ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে পড়ার সময় প্রথম গান করেছিলাম। পরে সুরঙ্গমা-তে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষা।মূলত মিউজিক নিয়ে সাংবাদিকতা করেই পরিচিত হই। নতুন গান তৈরি করার ইচ্ছে অনেক দিন ধরেই ছিল।কিন্তু নিজে গান রেকর্ড করবো আগে ভাবিনি।নীলাঞ্জনকে তিন বছর ধরেই চিনি। ওঁর কাজ বহু মানুষকে আনন্দ দেয়।আমাকও দেয়। তাই মনে হলো একজন স্ট্রিট মিউজিশিয়ানের সঙ্গেই গানটা রেকর্ড করি।আর পাহাড়ের প্রেক্ষাপটে গানটা শোনার সাথে দেখতেও বেশ ভালো হয়েছে।অন্যদিকে নীলাঞ্জন সাহা বলেন, সুদীপ্ত দা আমার থেকে বয়েসে অনেকটাই বড়। বয়েসের এই পার্থক্যকে উপেক্ষা করে গড়ে ওঠা একটা বন্ধুত্বের গল্প বলে আমাদের এই গান এ পথ চলা,যেটা খুব একটা দেখা যায় না বলে আমার মনে হয়। ফুটপাথের গানওয়ালা থেকে একজন রেকর্ডেড আর্টিস্ট হয়ে উঠতে পেরে সত্যি খুব ভালো লাগছে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

৮.৪ ওভারেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে ভারত, বোলিংয়ে ঝড়—তবু ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভাবাচ্ছে হরমনপ্রীতদের

দুবাইয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে জয় ভারতের। বোলারদের দাপটে ম্যাচ একতরফা হলেও মাত্র ৫৬ রান তাড়া করতে গিয়ে তিন উইকেট হারানোয় প্রশ্ন উঠল ভারতের টপ অর্ডার নিয়ে। নকআউটের আগে এটাই এখন হরমনপ্রীতদের সবচেয়ে বড় চিন্তা।দুবাইয়ের আকাশে তখনও ম্যাচের উত্তাপ। কিন্তু মাঠে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার পরই যেন ফলাফল লেখা হয়ে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫৫। ভারতের সামনে লক্ষ্য ৫৬। ক্রিকেটের হিসাব বলছিল, এই রান তাড়া করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। শেষ পর্যন্ত হলও তাই।মাত্র ৮.৪ ওভারেই জয় তুলে নিল ভারত। পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপে নিজেদের দাপট আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল হরমনপ্রীত কৌরের দল।তবে এই জয় যতটা স্বস্তির, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ছোট্ট একটা অস্বস্তি। কারণ, ৫৬ রানের মতো মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতেও ভারতের টপ অর্ডারের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারশেফালি বর্মা, প্রতিকা রাওয়াল এবং স্মৃতি মন্ধানাদ্রুত ফিরে গেলেন। ম্যাচের গুরুত্বের নিরিখে যা হয়তো বড় সমস্যা নয়, কিন্তু নকআউটের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ভারতকে এই জায়গাটাই ভাবাবে।প্রথম বলেই ছক্কা, তারপরই থেমে গেল শেফালির ঝড়৫৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা। শেফালি বর্মা যেন শুরুতেই ঘোষণা করে দিলেনএই ম্যাচকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই।কিন্তু সেই ঝড় স্থায়ী হল না।মাত্র ১২ রানেই শেফালিকে ফিরিয়ে দিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে তিনিই পাকিস্তানের একমাত্র উল্লেখযোগ্য লড়াইটা উপহার দিলেন।এরপর তিন নম্বরে নেমে প্রতিকা রাওয়ালও ব্যর্থ। জেমাইমা রদ্রিগেজের জায়গায় এখনও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অপেক্ষায় থাকা প্রতিকা মাত্র ৪ রান করেই ফাতিমার শিকার। একই ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে সামান্য উত্তেজনা ফিরিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। কিন্তু সেই উত্তেজনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।মন্ধানার আউট নিয়েও রয়ে গেল প্রশ্নআগের ম্যাচে দুর্দান্ত শতরান। ফলে স্মৃতি মন্ধানার দিকে প্রত্যাশার চোখ ছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু এ দিন শুরু থেকেই তাঁকে কিছুটা মন্থর দেখাচ্ছিল।৯ রানেই ফাতিমা সানার বলে আউট হয়ে গেলেন মন্ধানা। যদিও তাঁর আউট নিয়ে বিতর্কের জায়গা থাকল। বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কিন্তু এই এশিয়া কাপে ডিআরএস না থাকায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অবশ্য আর কোনও বিপদ হতে দেননি হরমনপ্রীত ও দীপ্তি শর্মা।অভিজ্ঞতার ভারেই ম্যাচ শেষ করে দিল ভারতের মিডল অর্ডার। হরমনপ্রীত অপরাজিত থাকলেন ১৮ রানে, দীপ্তির অপরাজিত ইনিংস ১২ রানের। আর শেষটা এল অধিনায়কের ছক্কায়।৮.৪ ওভার। ৭ উইকেটের জয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও একটি সহজ সাফল্য।ভারত-পাকিস্তানফারাকটা ক্রমেই স্পষ্টমহিলাদের টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের আধিপত্য যে কতটা একপেশে, এই ম্যাচ তারই আরেকটি উদাহরণ।দুদল এখনও পর্যন্ত ১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। ভারত জিতেছে ১৫ বার, পাকিস্তান তিনবার। এশিয়া কাপে ছবারের সাক্ষাতে এটি ভারতের পঞ্চম জয়। ২০২২ সালে পাকিস্তানের জয়টি এখনও এই ফরম্যাটে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের শেষ সাফল্য।অর্থাৎ পরিসংখ্যানের খাতাতেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দাপট অটুট। কিন্তু এ দিন ভারতের আসল শক্তি ব্যাট হাতে নয়বল হাতে।চার স্পিনার, ৯ উইকেটদুবাইয়ে ঘূর্ণির সামনে অসহায় পাকিস্তানটস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ফাতিমা সানা। পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কারস্কোরবোর্ডে বড় রান তুলে ভারতকে চাপে ফেলা।শুরুটাও মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার সাবধানে খেলছিলেন। প্রথম উইকেটে ২৭ রানও উঠে গিয়েছিল। তারপরই ম্যাচের চেহারা বদলে গেল।ভারতীয় স্পিনাররা বল হাতে আসতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং যেন হঠাৎ পথ হারিয়ে ফেলল। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে মুনিবা আলিকে ফিরিয়ে শেফালি শুরু করলেন ধসের। তারপর একের পর এক উইকেট।পরের ১৩ ওভারে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপের পতন ছাড়া আর কিছুই দেখা গেল না। দুই ওপেনার বাদে কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারলেন না। মন্থর উইকেটে ভারতীয় স্পিনের মোকাবিলা করার কোনও উত্তরই যেন ছিল না পাকিস্তানের ব্যাটারদের কাছে। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানেই অল আউট পাকিস্তান।চরণি-রাওয়াতের ঘূর্ণিতে কাঁপল পাকিস্তানভারতের চার স্পিনার মিলে তুলে নিয়েছেন পাকিস্তানের নয়টি উইকেট। বাকি একটি রান আউট।সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শ্রী চরণি। চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে তিন উইকেট। চলতি বছরে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর উইকেট সংখ্যা এখন ৩৪। আর দুটি উইকেট পেলেই এক বছরে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি উইকেটের রেকর্ড তাঁর দখলে চলে আসবে।প্রেমা রাওয়াতও সমান বিধ্বংসী। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে তিন উইকেট।দীপ্তি শর্মা ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট। শেফালি বর্মার ঝুলিতেও এসেছে একটি উইকেট।অর্থাৎ পাকিস্তানের ১০ উইকেটের মধ্যে নয়টিই ভারতীয় স্পিনের শিকার। এটাই সম্ভবত ম্যাচের সবচেয়ে বড় ছবি।শুধু একটি জায়গাতেই অস্বস্তিবোলিং নিয়ে ভারতের চিন্তার কারণ প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে একটি ঘটনা নজরে পড়েছে। দুই পেসার ক্রান্তি গৌড় এবং নন্দিনী শর্মার বলে মুনিবা আলির ক্যাচ ফস্কেছেন প্রতিকা রাওয়াল। ক্যাচ দুটি ধরা পড়লে পেসারদের নামের পাশেও উইকেট থাকত।কোচ অমল মুজুমদারের কাছে সেটিও অবশ্যই নোট করার মতো বিষয়।তবে তার থেকেও বড় প্রশ্ন টপ অর্ডার।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার সুযোগও কি নষ্ট হল?ম্যাচ যখন কার্যত হাতের মুঠোয়, তখন ভারত চাইলে রিচা ঘোষ বা ভারতী ফুলমালিদের আগে নামিয়ে কিছুটা পরীক্ষা করতে পারত। কম রান তাড়া করার ম্যাচে তাঁদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত।ভারত অবশ্য সেই পথে হাঁটেনি।জয় এসেছে দ্রুত। কিন্তু নকআউটের আগে এমন ম্যাচেই তো বেঞ্চের শক্তি যাচাই করে নেওয়া যায়।আর এখানেই ভারতের সামনে প্রশ্নটা আরও স্পষ্টবোলিং যদি এতটাই শক্তিশালী হয়, ব্যাটিংয়ের প্রথম সারিও কি একই রকম ধারাবাহিক?নকআউটের আগে সতর্কবার্তাপাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারানোর জয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বরং ভারতীয় স্পিনাররা যে ভয়ঙ্কর ছন্দে রয়েছেন, তা প্রতিপক্ষের জন্য বড় সতর্কবার্তা।কিন্তু পাকিস্তানের মতো দুর্বল স্কোরের দলের বিরুদ্ধে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে যায়। বড় ম্যাচে সেই সুযোগ মিলবে না।আজ ৫৬ রান তাড়া করতে গিয়ে তিন উইকেট পড়েছেতবু জয় এসেছে অনায়াসে।কাল যদি লক্ষ্য হয় ১৫০ বা ১৬০, তখন?সেই কারণেই এই জয় ভারতের জন্য নিছক আর একটি জয় নয়। ৫৫ রানে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেওয়া যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনই টপ অর্ডারের অনিয়মিত ছন্দ নকআউটের আগে হরমনপ্রীতদের কপালে সামান্য ভাঁজও ফেলবে।দুবাইয়ে পাকিস্তানের রাতটা ছিল দুঃস্বপ্নের। ভারতের কাছে রাতটা ছিল স্বস্তির। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালেই ভবিষ্যতের বড় ম্যাচের জন্য একটি প্রশ্ন রেখে গেল এই জয়স্পিনাররা পথ দেখাচ্ছেন, এবার কি ব্যাটাররা সেই পথ ধরে শেষ পর্যন্ত হাঁটতে পারবেন?

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

শতবর্ষের মঞ্চে মোদীর মুখে জেন জি-র ভাষা! এসআরসিসির প্রাক্তনীদের নিয়ে বললেন, ‘ওজি’

দেশের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিল্লির শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিক্ষক দিবসের দিনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের যুব সমাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি এসআরসিসির প্রাক্তনীদেরও বিশেষ ভাবে সম্মান জানান তিনি। তাঁদের প্রশংসা করতে গিয়ে জেন জি-র প্রচলিত ভাষা ব্যবহার করে ওজি শব্দটিও বলেন প্রধানমন্ত্রী।এসআরসিসিতে দীর্ঘ ১৩ বছর পর গেলেন মোদী। এর আগে ২০১৩ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি এই প্রতিষ্ঠানে এসেছিলেন। সেই পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসআরসিসির যাত্রা শুরু হয়েছিল দরিয়াগঞ্জের একটি ছোট জায়গা থেকে। একশো বছরে সেই প্রতিষ্ঠান এখন বিশাল এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে এবং বহু প্রজন্মের পড়ুয়াকে পথ দেখিয়েছে।কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি স্যার শ্রী রামের কথাও স্মরণ করেন মোদী। তিনি বলেন, ১৯২৬ সালে শ্রী রাম এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একশো বছরে এই প্রতিষ্ঠান দেশকে বহু বিদ্বান, প্রশাসক, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারক দিয়েছে। আগামী ২৫ বছরে বিকশিত ভারতের যাত্রাতেও এসআরসিসির পড়ুয়ারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।এর পরেই এসআরসিসির প্রাক্তনীদের কৃতিত্বের কথা বলতে গিয়ে জেন জি-র পরিচিত শব্দ ব্যবহার করেন মোদী। তিনি বলেন, তরুণদের ভাষায় এসআরসিসির প্রাক্তনীরাই আসল ওজি। তাঁদের সাফল্য শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও তাঁরা প্রতিষ্ঠানের গৌরব বাড়িয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে দেশের যুব সমাজের সঙ্গে সরাসরি মত বিনিময়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মোদী বলেন, তিনি তরুণদের স্বপ্ন, তাঁদের সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের নিজেদের মুখ থেকে শুনতে চান। সেই লক্ষ্যেই বিজেপির তরফে জেন জি-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।এসআরসিসির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে মেট্রোয় সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়। ফলে একই দিনে মেট্রো থেকে শুরু করে এসআরসিসির মঞ্চদুই জায়গাতেই যুব সমাজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ নিয়ে বিশেষ নজর পড়ে।এসআরসিসির শতবর্ষ উপলক্ষে এর আগেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এপ্রিল মাসে কলেজের শতবর্ষ স্মরণে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এ দিনের অনুষ্ঠানে এসআরসিসিকে জাতীয় কর্পোরেট পরিচালন কেন্দ্রের মর্যাদা পাওয়ার জন্যও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই স্বীকৃতি পাওয়া একমাত্র কলেজ এসআরসিসি। শতবর্ষের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি, যুব সমাজ নিয়ে তাঁর বক্তব্য এবং প্রাক্তনীদের ওজি বলে প্রশংসাসব মিলিয়ে এ দিনের অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধ থামাতে মস্কোয় ট্রাম্পের দুই দূত! তার মধ্যেই তিন দিনের জন্য হামলা বন্ধ করল রাশিয়া

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ফের তৎপর আমেরিকা। সেই লক্ষ্যেই শনিবার মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। তাঁদের সফরের মধ্যেই বড় ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী তিন দিন ইউক্রেনে কোনও হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছে মস্কো।রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ এই সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বার বার আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে বড় কোনও সমাধান হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই ফের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা শুরু করেছে আমেরিকা।এর আগে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক বার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের মস্কো সফরকে নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ হিসাবেই দেখা হচ্ছে।শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, মার্কিন দূতেরা রাশিয়া সফরে থাকাকালীন কিয়েভের তরফে কোনও বিমান হামলা চালানো হবে না। একই সঙ্গে মস্কোকেও একই পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি। জেলেনস্কি বলেন, আলোচনা এবং মার্কিন দূতদের সফর সুষ্ঠু ভাবে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া উচিত।এর পরেই শনিবার রাশিয়ার তরফে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়। পুতিনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই তিন দিনের বিরতি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পরিণত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।জানা গিয়েছে, স্থায়ী ভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় গিয়েছেন স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। সেই প্রস্তাবে ঠিক কী রয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে এই সফরকে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী রবিবার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন দূতদের। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা। ফলে মস্কো এবং কিয়েভদুই জায়গাতেই আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর পথ খোঁজা হচ্ছে।তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগেও ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার কিয়েভের নিরাপত্তা পরিষেবার সদর দফতর-সহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে মস্কোর বিরুদ্ধে। পাল্টা রাশিয়ার ভূখণ্ডেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন।এই পরিস্থিতিতে পুতিনের তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই বিরতি কতটা কার্যকর হয় এবং এর পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কতটা এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

পহেলগাঁওয়ের সেই হামলার নেপথ্যে কে? কাশ্মীরে সেনার গুলিতে লস্কর কমান্ডার ইয়াসিরের মৃত্যু

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার স্মৃতি এখনও দেশবাসীর মনে তাজা। এর মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে লস্কর-ই-তইবার কমান্ডার ইয়াসির নিহত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পহেলগাঁও হামলার অন্যতম চক্রী হিসেবে তার নাম উঠে এসেছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।সূত্রের খবর, কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় ইয়াসিরের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়েছিলেন নিরাপত্তাবাহিনীর গোয়েন্দারা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ইউসমার্গের জঙ্গলঘেরা পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু করে সেনার বিশেষ বাহিনী এবং ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস।তল্লাশি অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে ইয়াসিরের গুলির লড়াই শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইয়াসির গুলি চালায় বলে সূত্রের দাবি। পাল্টা জবাব দেয় সেনাও। বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলার পর ইয়াসির নিহত হয় বলে খবর।সূত্রের আরও দাবি, পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী হিসেবে পরিচিত সুলেমান মুসার গোষ্ঠীর সঙ্গে ইয়াসিরের যোগাযোগ ছিল। সে ওই গোষ্ঠীর সদস্যও ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রায় এক বছর আগে সেই গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে যায় ইয়াসির। এরপর আলাদা ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াসির নিরাপত্তাবাহিনী ও গোয়েন্দাদের নজরে ছিল বলে সূত্রের খবর। তার গতিবিধি এবং যোগাযোগের উপর নজর রাখা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত বুদগামের জঙ্গলঘেরা এলাকায় অভিযানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ইয়াসিরের সঙ্গে আর কার কার যোগাযোগ ছিল, তার নেটওয়ার্ক কতটা ছড়িয়েছিল এবং পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে তার ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তার যোগাযোগের সূত্র ধরে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।এর আগে গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে সেনার অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে জানা যায়। নিহতদের মধ্যে সুলেমান মুসা এবং তার দুই সঙ্গী ছিল বলে সূত্রের খবর। পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে ওই জঙ্গিদের যোগ থাকার অভিযোগও উঠেছিল।ইয়াসিরের মৃত্যুর পর পহেলগাঁও হামলার তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। তার যোগাযোগ এবং জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত এগোলে হামলার নেপথ্যের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
শিক্ষা

‘শিক্ষাষ্টকম্’ মডেলের জাতীয় স্বীকৃতি, জাতীয় সম্মানে সম্মানিত পূর্ব বর্ধমানের জেলা শিক্ষা আধিকারিক

আনন্দ, সৃজনশীলতা আর সামগ্রিক বিকাশবিদ্যালয় শিক্ষার এই নতুন ভাবনাই এবার পেল জাতীয় স্বীকৃতি। পূর্ব বর্ধমানের জেলা শিক্ষা আধিকারিক পৌষালী চক্রবর্তীর পরিকল্পিত শিক্ষাষ্টকম্ মডেল জাতীয় স্তরে পুরস্কৃত হল। বিদ্যালয়কে শুধু পুঁথিগত শিক্ষার জায়গা না রেখে শিশুদের আনন্দ, সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগই এনে দিল এই বিশেষ সম্মান।৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর সভাগৃহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পৌষালী চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার ও শংসাপত্র। পূর্ব বর্ধমানের শিক্ষাক্ষেত্রে এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।শিক্ষাষ্টকম্ মডেলের মূল ভাবনা হলবিদ্যালয়ের সঙ্গে পড়ুয়াদের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে তোলা এবং শিক্ষার পরিবেশকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে কোনও পড়ুয়া মাঝপথে স্কুলছুট না হয়। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা কমানো এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।এই মডেলটি গড়ে উঠেছে আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর। ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রয়েছে পরিবেশ সচেতনতা, ডিজিটাল শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন বা স্কিলিং, শিক্ষাগত সহায়তা, স্বাস্থ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র পরীক্ষার ফল নয়একজন পড়ুয়ার সার্বিক বিকাশকেই এখানে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হয়েছে।এই মডেলের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিসরে এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে পড়ুয়ারা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাবে, আনন্দের সঙ্গে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। একইসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামাজিক সচেতনতার যোগসূত্রও তৈরি করছে শিক্ষাষ্টকম্।জাতীয় স্বীকৃতি পাওয়ার পর পৌষালী চক্রবর্তীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে এই উদ্যোগের নেপথ্যে থাকা সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা। তিনি বলেন, জেলাশাসকের সহযোগিতা না পেলে এই পুরস্কার আমরা পেতাম না। বিদ্যালয় পরিদর্শক থেকে শিক্ষকরা সবাই সঙ্গ দিয়েছেন। তাই এই পুরস্কার সবার সঙ্গেই ভাগ করে নিয়েছি।তবে জাতীয় সম্মানের আনন্দের মধ্যেও তাঁর নজর রয়েছে আরও বড় লক্ষ্যের দিকে। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ রোধের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও এখনও যে পথ অনেকটা বাকি, তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাল্যবিবাহ রোধ করতে পেরেছি অনেকটা। পুরোটা তো পারিনি। চেষ্টা করব আগামীতে শূন্য বাল্যবিবাহ করার জন্য।একদিকে স্কুলছুট রোধ, অন্যদিকে পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করে তোলা, তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার বিকাশ এবং সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতাএই সমস্ত লক্ষ্যকে একসূত্রে বেঁধেছে শিক্ষাষ্টকম্। আর সেই ভাবনাই এবার দিল্লির মঞ্চে পেল জাতীয় স্বীকৃতি। পূর্ব বর্ধমানের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই সম্মান তাই শুধু একজন আধিকারিকের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিদর্শক, প্রশাসন এবং পড়ুয়াদের সম্মিলিত প্রয়াসেরও স্বীকৃতি।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

এক মাসে ৮৯ শিশুর মৃত্যু! মালদহ মেডিক্যালে বড় পদক্ষেপ, সরানো হল হাসপাতালের সুপারকে

মালদহ মেডিক্যাল কলেজে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দপ্তর। বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সামনে আসার পর হাসপাতালের সুপার তথা এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি, প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর কারণ আলাদা ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কয়েক দিন আগে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এক দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, সরকারি হাসপাতালে কী ভাবে এত শিশুর মৃত্যু হল।এর পরেই স্বাস্থ্যভবনের তরফে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যায়। তদন্তের পরে তৈরি করা রিপোর্টে এক মাসে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৮৯ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান প্রলয় আচার্য জানিয়েছিলেন, শিশুমৃত্যুর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তদন্তে অপুষ্টিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা, জন্ডিস এবং কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে।বিশেষজ্ঞ দলের তরফে জানানো হয়েছিল, শিশুমৃত্যুর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পরেই এবার স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে পদক্ষেপ করা হল।শিশুমৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা আলাদা ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর। কোন শিশুর কী শারীরিক সমস্যা ছিল, হাসপাতালে কখন ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসার সময় কী পরিস্থিতি ছিল, সেই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।মালদহ মেডিক্যাল কলেজে এক মাসে এত শিশুমৃত্যুর তথ্য সামনে আসার পরেই হাসপাতালের পরিষেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে একাধিক চিকিৎসাগত ও শারীরিক কারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।এখন প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর পৃথক তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই গোটা পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ধস, আরও বড় বিপদ সামনে? গঙ্গা-পদ্মা মিশে গেলে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে বহু এলাকা!

নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ধসের জেরে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ কার্যত ব্যাহত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মেরামতের কাজ চলছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আজকের মধ্যেই রেললাইনের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ধসের ঘটনায় শুধু রেল যোগাযোগ নয়, ফরাক্কার ভাঙন নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।নিউ ফরাক্কা রেলস্টেশনের কাছে রেললাইনের এক দিকে রয়েছে ভাগীরথী বা হুগলি নদীর প্রবাহ, অন্য দিকে রয়েছে গঙ্গার মূল স্রোত বা পদ্মার দিক। স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের জায়গা হল, এই দুই জলধারার মধ্যের স্থলভাগের দূরত্ব এখন প্রায় দেড় কিলোমিটার বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।নদীভাঙন আরও বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে এই স্থলভাগের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গঙ্গা ও পদ্মার জলধারা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও দাবি বিশেষজ্ঞের।নদী বিশেষজ্ঞ কৌশিক চক্রবর্তীর দাবি, ফরাক্কা বাঁধ তৈরি হওয়ার পর থেকেই নদীর জলপ্রবাহ এবং চর তৈরির ক্ষেত্রে নানা পরিবর্তন দেখা যায়। তাঁর মতে, জল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাংলাদেশে জল সরবরাহ এবং ১৯৯৬ সালের জলচুক্তির পর পরিস্থিতির পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, এরপর নদীর গতিপথে চর তৈরি হওয়া এবং নীচের দিকে জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা যায়। কয়েক বছর পর থেকেই ভাঙন ভয়াবহ আকার নেয়।নিউ ফরাক্কার কাছে ভাঙন আরও বাড়লে তার প্রভাব শুধু রেললাইনের উপরেই পড়বে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মধ্যে রেল ও সড়ক যোগাযোগও দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে। ধুলিয়ান, বল্লারপুরের মতো এলাকাও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞের দাবি।রেললাইন মেরামত করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও নদীভাঙন ঠেকানো না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ নদীভাঙনের জেরে বসতি, রাস্তা, রেলপথ এবং চাষের জমি একসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।গঙ্গা ও পদ্মার জলধারা সত্যিই এক জায়গায় মিশে যাবে কি না, তা নিয়ে অবশ্যই আরও বিস্তারিত সমীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে নিউ ফরাক্কার কাছে নদীভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি যে উদ্বেগের, সে বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।কৌশিক চক্রবর্তীর দাবি, ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে ওই এলাকার ভৌগোলিক চরিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু জমি বা নদীর উপর সীমাবদ্ধ থাকবে না, সরাসরি অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।ফলে নিউ ফরাক্কার রেললাইন মেরামত হয়ে গেলেই যে গোটা সমস্যা মিটে যাচ্ছে, তা নয়। আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নদীভাঙন কী ভাবে ঠেকানো হবে এবং গঙ্গা-পদ্মার মাঝের বিস্তীর্ণ স্থলভাগকে কী ভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

চার বছর পর ফের অন্ধকারের আশঙ্কা? কয়লার মজুত তলানিতে, উৎসবের মরশুমে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা

চার বছর বাদে ফের কি বড় বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশে? কয়লার সরবরাহে সমস্যা এবং বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশের একাধিক বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম কয়লা মজুত রয়েছে বলে খবর।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বরের হিসাব বলছে, দেশের ৫০টি বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত সীমার মাত্র ৪৮ শতাংশ কয়লা মজুত রয়েছে। এই পরিমাণ কয়লায় বড়জোর ৯ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো সম্ভব বলে জানা গিয়েছে। ফলে কয়লার সরবরাহ দ্রুত না বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার ঘাটতির পিছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রথমত, আগস্ট মাসে প্রবল গরমের কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে।দ্বিতীয়ত, বর্ষার কারণে কয়লা উত্তোলন এবং সরবরাহে সমস্যা হয়েছে। এর ফলে দেশের সবচেয়ে বড় ৫০টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার মজুত কমেছে বলে খবর। বর্তমানে ওই কেন্দ্রগুলিতে প্রায় ২ কোটি ৮২ লক্ষ টন কয়লা রয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী মজুত থাকার কথা প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লক্ষ টন। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় মজুত অনেকটাই কম।এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কয়লার সরবরাহ না বাড়ানো হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ বার ২০২২ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এবার সেপ্টেম্বরে উৎসবের মরশুমে চাহিদা আরও বাড়লে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কয়লার গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি। মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আসে বলে জানা যায়। ফলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার সরবরাহ ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। কয়লার জোগানে দীর্ঘ সময় সমস্যা হলে তার প্রভাব সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর পড়তে পারে।তবে এখনই দেশে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মানতে চাইছে না কয়লা মন্ত্রক। মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লা সরবরাহের উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আন্তঃমন্ত্রক বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে।প্রয়োজনে কয়লা আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে বলে মন্ত্রক সূত্রে খবর। উৎসবের মরশুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে যাতে সরবরাহে বড় কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য আগেভাগেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।তবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার মজুত কম থাকা এবং সামনে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাএই দুই বিষয় একসঙ্গে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন দ্রুত কয়লার জোগান বাড়ানো যায় কি না, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal