• ৩২ শ্রাবণ ১৪৩৩, মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Purba Bardhaman

রাজ্য

রায়নার সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও অবধি সাতজনকে গ্রেফতার করেছে রায়না থানার পুলিশ। বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। এখানে উল্লেখ্য মঙ্গলবার রাতে রায়নার জোতসাদিতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন গোলাম মোস্তাফা মল্লিক নামে এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। তিনি রায়না-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বামদেব মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ স্থানীয় মানুষ জানান। জোতসাদি আর বেলসরের মাঝে কয়েকজন দুস্কৃতী তাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। গলাম পুলিসকে জানান তিনি বাইকে করে বর্ধমান থেকে দলীয় কার্যালয় হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, এসময় কয়েকজন দুস্কৃতী তার উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা সশস্ত্র ছিল। প্রচন্ড মারধর করে তাকে ফেলে চলে যায়। এলাকায় এখবর ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার মানুষ তাকে উদ্ধার করে। তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রাতে। তার পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি।

আগস্ট ১৭, ২০২২
রাজ্য

গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে উতপ্ত রায়না, সংঘর্ষে গুরুতর আহত তৃণমূল কর্মী

ফের অশান্ত পূর্ব বর্ধমানের রায়না। রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর আহত গোলাম মোস্তাফা মল্লিক নামে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। জানা গিয়েছে, তিনি ব্লক সভাপতি বামদেব মন্ডলের ঘনিষ্ঠ। বামদেব মন্ডলের অভিযোগ, গোলাম বর্ধমান শহর থেকে ফেরার সময় জোতসাদি আর বেলসরের মাঝে কিছু দুস্কৃতী তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। তিনি বাইকে করে দলীয় কার্যালয় হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় কিছু দুস্কৃতী তাঁর উপর হামলা চালায়। তাঁরা সশস্ত্র ছিল। প্রচন্ড মারধর করে তাঁকে ফেলে চলে যায়। এলাকায় এখবর ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার মানুষ তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।বামদেব বাবুর আরও অভিযোগ, আক্রান্ত নেতা এলাকায় ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। কিছু লোক গত বিধানসভার ভোটে দলকে হারাতে চেয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে এই এলাকায় দল বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে। তাই তাকে দমিয়ে দিতেই এই আক্রমণ বলে বামদেবের অভযোগ। এলাকা সূত্রে খবর, এলাকায় প্রভাব বাড়ানো নিয়ে ব্লক সভাপতি বামদেব মন্ডলের সাথে সভাধিপতি ও বিধায়ক শম্পা ধারার গোষ্ঠীর বিবাদ চলছে। এ ঘটনাও তারই জের বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। যদিও দলের সূত্রে এখনো এমন কিছু বলা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে রায়নায় নানা রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এসেছে। বর্ধমানের রাজনৈতিক মানচিত্রে রায়না রাজনৈতিক উপদ্রুত অঞ্চল বলেই অনেকের ধারণা। বার বার রাজনৈতিক ঘটনা চলে আসছে বাম আমল থেকে।

আগস্ট ১৭, ২০২২
রাজ্য

টাকার বিনিময়ে চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারনার অভিযোগ শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্যর বিরুদ্ধে

আশাকর্মী পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে ৫৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলো শাসকদলের এক পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মনিকা রায় পূর্ববর্ধমানের মেমারির দুর্গাপুর পঞ্চায়েতের সদস্যা।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আশাকর্মীর চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৫৫ হাজার টাকা নেয়। পাশাপাশি এলাকার তৃণমূল কর্মী শুভঙ্কর মজুমদারের নাম জড়িয়েছে এই ঘটনায়।মেমারির বড়োর এলাকার বাসিন্দা রাজকুমার হাজরা ওরফে ভোম্বল হাজরা তিনি নিজের স্ত্রীর চাকরীর জন্য মনিকা রায় ও শুভঙ্কর মজুমদারকে ৫৫ হাজার টাকা দেন। তার অভিযোগ স্ত্রী আশাকর্মী পদে চাকরি পায় নি। আবার টাকাও ফেরত পান নি। মঙ্গলবার প্রতারিত রাজ কুমার হাজরা বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।ঘটনার পরই মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। রাজ কুমার হাজরা বলেন, একটি বেসরকারি সংস্থার কাছে চড়া সুদে ঋণ করে তিনি শুভঙ্কর মজুমদার ও মনিকা রায়কে টাকা দেন। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যা মনিকা রায় জানান, এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত, রাজনৈতিকভাবে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। একই কথা বলেন তৃণমূল কর্মী শুভঙ্কর মজুমদারও। রাজ কুমার হাজরা মেমারি থানায় অভিযোগ করেন গোটা বিষয়টি নিয়ে। এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সহসভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি আসলে কি ঘটনা হয়েছে।

আগস্ট ১৬, ২০২২
রাজ্য

প্লাস্টিক ও ডেঙ্গু মুক্ত গ্রাম তৈরির লক্ষ্যে জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত

দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে ৭৬ তম স্বাধীনতা দিবস। এদিন পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিল জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত। আজকের দিনেই প্লাস্টিক ও ডেঙ্গু মুক্ত গ্রাম তৈরির লক্ষ্যে পদযাত্রার আয়োজন করে জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত। পদযাত্রা থেকে লিফলেট ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে পথ চলতি সাধারণ মানুষজন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের প্লাস্টিক না ব্যবহার করার আবেদন জানানো হয়। তুলে ধরা হয় প্লাস্টিকের ক্ষতিকারক দিকগুলি। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়েও সচেতন বার্তা প্রেরণ করা হয়। সামনের সারিতে থেকে পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সাহাবুদ্দিন মন্ডল। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এমন অভিনব উদ্যোগকে সাদুবাদ জানিয়েছেন সকল স্তরের মানুষজন। এদিন সরেজমিন নেমে ব্যবসায়ীদের প্লাস্টিক কিংবা প্লাস্টিকজাত জিনিস না ব্যবহার করার অনুরোধ রাখেন স্বয়ং উপপ্রধান সাহাবুদ্দিন মন্ডল। এছাড়াও তিনি ডেঙ্গু নিয়েও সচেতন করেন। পাশাপাশি এদিন কচিকাঁচাদের হাতে একটি করে জীবনস্বরূপ গাছ তুলে দেওয়া হয়। কারণ, পরিবেশ ও দেশ ভালো রাখতে গাছের বিকল্প কিছু হয় না। এভাবেই স্বাধীনতা দিবস পালন করলো জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত।

আগস্ট ১৫, ২০২২
রাজ্য

দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে স্বাধীনতা দিবসে বন্দিমুক্তি

স্বাধীনতা উপলক্ষ্যে বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু বন্দিকে। এরা সংখ্যায় কুড়ি জন। এছাড়াও বেশ কিছু যাবজ্জীবন দন্ডাজ্ঞা প্রাপ্ত বন্দীও এই তালিকায় আছেন। এই উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও প্রদীপ মজুমদার। এছাড়াও কারা বিভাগের ডিআইজি সহ জেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও অন্যান্যরা এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। উপস্থিতি ছিলেন বন্দি ও তাঁদের নাচ-গানের প্রশিক্ষকরাও। এদিন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান,যে সব মহিলা ও পুরুষ বন্দি সাজার অর্ধেক বা ষাট শতাংশ কাটিয়েছেন তাঁরা ছাড়া পেলেন। এছাড়াও অল্প বয়সী বন্দি ও গরিব যাঁরা জরিমানা দিতে অপারগ তাঁরাও ছাড়া পেলেন। নিয়ম অনুসারে যাবজ্জীবন বন্দিদের কয়েকজন ছাড়া পাবেন। এক্ষেত্রে অন্য কোনও অপরাধ না করাও বিবেচিত হয়েছে। বিবেচিত হয়েছে সংশোধনাগারে থাকাকালীন তাঁদের অন্য গুণের বিকাশকে। জানা গিয়েছে, এঁরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন সে জন্য সাহায্য করা হবে।

আগস্ট ১৫, ২০২২
রাজ্য

নৌকা উল্টে দুই যুবক নিখোঁজ, তল্লাসিতে ডুবুরি নামলো দামোদরে

নৌকা উল্টে দামোদর নদে তলিয়ে যায় চার যুবক। দুজনকে উদ্ধার করা গেলেও বাকি দুজন নিখোঁজ। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের জ্যোতশ্রীরাম পঞ্চায়েতের জ্যোতচাঁদ ঘাট এলাকায়। নিখোঁজ দুই যুবকের খোঁজ চলছে দামোদরে। বিপর্বয় মোকাবিলা দপ্তরের ২৫ জনের টিম সহ ডুবুরি খোঁজ চালাচ্ছে। রয়েছে জামালপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরাও। নিখোঁজ দুই যুবকের নাম সৌগত বেরা ও সৈকত মান্না। প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন সমরেশ বাগ, সৌরভ ধারা। নিখোঁজ সৈকত মান্না ব্যাঙ্গালোরের একটি কলেজের প্যারামেডিকেলের ছাত্র আর সৌগত বেরা কলেজ ছাত্র। চারজনেই জ্যোতচাঁদ এলাকার বাসিন্দা।শনিবার সন্ধ্যার পরে চারজন বন্ধু মিলে দামোদর নদে পানসি নৌকা চেপে বেড়াতে বের হন। নিজেরাই ছোট্ট নৌকাটি চালাচ্ছিলেন। জ্যোতচাঁদ ঘাট সংলগ্ন পাইকপাড়ায় হঠাৎ করেই পানসি নৌকাটি উল্টে যায়। তলিয়ে যায় দামোদরে চারজন। দুজন কোনওরকমে রক্ষা পেলেও বাকি দুজনের খোঁজ মেলেনি। বর্ষার মরশুমে ও দুদিনের বৃষ্টিতে জল বেড়েছে দামোদরে। স্থানীয় বাসিন্দা কিশোর দাস বলেন, দামোদরের শাখানদী মুণ্ডেশ্বরী নদীতে খনন কাজ চলছে। চার বন্ধু পানসি নৌকা নিয়ে নদীর খনন কাজ দেখতে যায়। কিন্তু নৌকায় জল ঢুকে নৌকা উল্টে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটে বেলে তিনি জানান।

আগস্ট ১৪, ২০২২
রাজ্য

বিচারের দাবীতে থানায় বিক্ষোভ জানালেন পূর্ব বর্ধমানের গলসির বন্দুটিয়া গ্রামের শ'খানেক মানুষ

শুক্রবার সন্ধ্যায় দুটি ট্রাক্টর, দুটি চারচাকা ও বেশকিছু মোটর সাইকেল নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের গলসির বন্দুটিয়া গ্রামের শখানেক মানুষ গলসি থানার উপস্থিত হন। উল্লেখ্য গত ২৬ জুন রবিবার গলসির ইরকোনাতে এক যুবকের ঝুলন্ত পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। গাম সুত্রে জানা যায় মৃত ওই যুবকের নাম সেখ মনিরুল(২৭)। তিনি গলসি থানার বন্দুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সেই ঘটনায় মৃতের পরিবার থানায় অভিযোগ জানায়। মৃতের বাবা ও ভাইয়ের অভিযোগ, খায়রুল সেখকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু দোষীদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। ওই ঘটনায় তারা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। গত ২৩ জুন বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছিল মনিরুল। পরিবারের লোকেরা বিভিন্ন আত্মীয় পরিজনদের কাছে খোঁজ খবর নেন। ওই বিষয়ে তারা গলসি থানায় একটি নিখোঁজ ডাইরিও করেন। এরপরই, পাশের গ্রাম ইরকোনার একটি গোয়াল ঘরের দোতালার পরিত্যক্ত ঘর থেকে মনিরুলের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্তদের আটক করার দাবীতে আজ তাঁরা গলসি থানায় বিক্ষোভ জানাতে হাজির হয়।

আগস্ট ১৩, ২০২২
রাজ্য

পরিবহন ব্যবস্থার পরিকাঠামো পর্যালোচনা করতে বর্ধমানে প্রশাসনিক সভা পরিবহন মন্ত্রীর

দক্ষিণবঙ্গের পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনিক সভা করতে বর্ধমানে এলেন রাজ্যের নতুন পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। এদিন দক্ষিবণবঙ্গের মোট পাঁচটি জেলার পরিবহন দপ্তরের পরিকল্পনা নিয়ে সভা করেন তিনি। রাজ্যস্তরের আধিকারিকরা ছাড়াও এই সভায় জেলাগুলির আধিকারিকরাও অংশ নেন। নবনিযুক্ত পরিবহনমন্ত্রী জানান, পরিবহন ব্যবস্থা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত নিরসনের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হচ্ছে। এছাড়াও ওভারলোডিং বা অন্যান্য অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি পরিবহন, কর্পোরেশনগুলিকে আরো আধুনিক করে তোলা হবে। এছাড়াও তিনি জানান, ১৫ বছরের বেশি গাড়িগুলি বাতিল করার নির্দেশ এসেছে। সরকারি ও ব্যক্তিগত স্তরে রাতারাতি এত গাড়ি পরিবর্তন করা বড় ধরণের খরচের ব্যাপার। এ ব্যাপারে তারা নির্দিষ্ট স্তরে দরবার করবেন যাতে একাজের জন্য আরো সময় পাওয়া যায়।

আগস্ট ১২, ২০২২
রাজ্য

দুদিনের টানা বৃষ্টিতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়লো মাটির দোতলা বাড়ি

হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়লো দোতলা মাটির বাড়ির একাংশ। দুর্ঘটনায় মারা যায় ১০ টি গবাদি পশু। জখম হন এক মহিলা। বৃহস্পতিবার রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের শিলাকোট গ্রামে।ভাতারের শিলাকোট গ্রামের বাসিন্দা জগন্নাথ প্রামানিকের পরিত্যক্ত দোতলা মাটির বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে বিপদজনক অবস্থায় ছিল। বৃহস্পতিবার রাতভর টানা বৃষ্টির ফলে বাড়িটির একাংশ ভেঙে পড়ে প্রতিবেশী জয়দেব প্রামানিকের চালা ঘরের উপর। ইঁটের তৈরি ওই চালা ঘরটির এক পাশে গবাদি পশু ও অন্য পাশে রান্নাঘর। জয়দেবের স্ত্রী বন্দনা দেবী রাত আটটা নাগাদ রান্না করছিলেন। সেই সময় বিকট শব্দে বিপজ্জনক বাড়িটির একাংশ তাদের ওপর ভেঙ্গে পড়ে। দেওয়াল চাপা পড়ে যান বন্দনা দেবী ও তাঁদের গবাদি পশুগুলি। স্থানীয় মানুষজন তড়িঘড়ি উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। বন্দনা দেবীকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠায়। একটি গরু ও একটি ভেড়াকে উদ্ধার করা হলেও দশটি ভেড়ার মৃত্যু হয়।ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির গৃহকর্তা জয়দেব প্রামাণিক জনতার কথাকে বলেন, বিপদজনক দোতালা মাটির বাড়ির মালিক জগন্নাথকে বারবার বাড়িটিকে বিপদমুক্ত করতে বলা হয়েছিল কিন্তু তিনি কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। বৃহস্পতিবার রাতের ওই দুর্ঘটনার ফলে সব মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

আগস্ট ১২, ২০২২
রাজ্য

বহুজাতিক সংস্থার লোগো নকল করে যন্ত্রাংশ বিক্রীর অভিযোগে গ্রেপ্তার বর্ধমানে

বহুজাতিক সংস্থার ওয়াটার ফিল্টার কোম্পানীর লোগো নকল করে যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলো পূর্ব বর্ধমান জেলা দুর্নীতিদমন শাখা ও বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে বহুজাতিক ওয়াটার ফিল্টার কোম্পানীর নকল লোগো লাগানো যন্ত্রাংশ।পুলিস সুত্রে জানা যায় ধৃতের নাম লক্ষ্মণ প্রসাদ। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৬৯, ২৭২, ১২০বি ও ৪২০ ধারায় এবং কপিরাইট অ্যাক্ট এর ৬৩ ও ৬৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।পুলিস আধকারিক জানান, তাঁরা গোপনসূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান শহরের বি সি রোডের বড়বাজার এলাকায় একটি দোকানে বহুজাতিক সংস্থার আধিকারিকদের নিয়ে অভিযান চালায় জেলাদুর্নীতি দমনশাখা ও বর্ধমান থানার পুলিশ। অভিযানে প্রচুর পরিমাণে নকল যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।এবং নকল যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগে দোকান মালিক লক্ষ্মণ প্রসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আগস্ট ০৯, ২০২২
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর নামে অশ্লীল পোস্ট সোশাল মিডিয়ায়, অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানে গ্রেফতার যুবক

সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নামে অশ্লীল পোষ্টকে তুলকালাম বর্ধমানে। এই অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করলো পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘী থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম বিজয় মণ্ডল ওরফে বিজয় মল্লিক। দেওয়ানদিঘী থানার কুড়মুন নতুনপল্লীতে তার বাড়ি।পুলুশ সূত্রে খবর, ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৫ নম্বর ধারার ২ নম্বর উপধারায় মামলা রুজু করে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করে মঙ্গলবার তাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। বিরোধীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল। পূর্ববর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস জানান, এসব বিরোধীদের চক্রান্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির জন্য তারা পরিকল্পিতভাবে এধরনের নোংরামি করছে।আমরা দোষীর উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। যদিও বিজেপি বর্ধমান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, বিজেপি এই ধরনের ঘটনাকে প্রশ্রয় দেয় না বা সমর্থনও করে না। এই ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিক এটা আমরাও চাই।

আগস্ট ০৯, ২০২২
রাজ্য

১০০ দিনের কাজে বেনিয়মের অভিযোগ কেন্দ্রের, শাস্তি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে অবরোধ কর্মসূচি বর্ধমানে

মঙ্গলবার বর্ধমান শহরের ইতিহ্যবাহী টাউন হল থেকে মিছিল করে জেলার ত্রিস্তর পঞ্চায়েত কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা কার্জনগেটের কাছে জিটি রোডে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। সভার শেষে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) কাজল রায়ের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল রাজ্যে গ্রামীন উন্নয়ন প্রকল্পের (১০০ দিনের) কাজের অসংগতি ও পদ্ধতিগত ত্রুটির জন্য ২০১৯ -এ কিছু নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের প্রতিবাদে আজ রাজ্যের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা জেলায় জেলায় প্রতিবাদ সভা করেন। ২০১৯-এ রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও পদ্ধতি যাচাই করতে দিল্লি থেকে প্রতিনিধি দল জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েত পরিদর্শন করেন। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের রিপোর্ট অনুযায়ী পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েতের ৩ জন নির্মাণ সহায়ক, ১ জন এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্টান্টের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে ও ৪ জন গ্রাম রোজগার সহায়ক (GRS), ২ জন এসটিপি (STP) এবং ১ জন ভিএলই (VLE) বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত কর্মচারী সংগঠন সমূহের সমন্বয় কমিটির আজকের এই আন্দোলন কর্মসুচি।অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) কাজল রায় বলেন, বিভাগীয় তদন্ত মানে শাস্তি নয়, ব্লক আধিকারিকরা দেখে শুনেই নির্দেশ দিয়েছেন। এখন দেখা যাক তদন্তকারী আধিকারিকরা কি রিপোর্ট দেয়, তারপর পরবর্তী চিন্তাভাবনা করা হবে।কর্মচারি সংগঠনের প্রতিনিধি দলের তরফে জনতার কথা কে জানানো হয়, ২০১৯ -এ কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দল রাজ্যে গ্রামীন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও পদ্ধতি খতিয়ে দেখতে বেশ কিছু পঞ্চায়েত পরিদর্শন করেন। এবং তাঁদের পাঠানো রিপোর্টের ভিত্তিতে বেশ কিছু কর্মচারি স্বার্থের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁরা তাঁদের ডেপুটেশনে উল্লেখ করে জানান, উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনও কাজই পঞ্চায়েত স্তরে হয় না। আর্থিক বছরের শুরুতে অ্যানুয়াল অ্যাকসান প্ল্যান মোতাবেক সকল কাজ হয় এবং তাঁরা আরও জানান, অ্যানুয়াল অ্যাকসান প্ল্যান পঞ্চায়েত তৈরি করে ঠিক-ই কিন্তু তা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের অনুমদন না দিলে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায় না। সেক্ষেত্রে কোনও ভুল যদি হয়ে থাকে, তাহলে কেন একতরফা ভাবে শুধুমাত্র কয়েকজন চুক্তি ভিত্তিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তির খাঁড়া ঝুলবে?জেলাশাসক করণের সামনে অবস্থান কর্মসূচিপ্রশাসন সুত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল রাজ্যে গ্রামীন উন্নয়ন প্রকল্পের বিশেষত ১০০ দিনের কাজের পদ্ধতিতে রীতিমত অসন্তুষ্ট। ১০০ দিনের কাজের পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বেশ কিছু কাজে বেনিয়ম হয়েছে বলে তাঁরা মনে করে। সেই নিয়ম বহির্ভূত প্রকল্পের জন্য তাঁরা পঞ্চায়েতগুলিকে জরিমানাও করেন। পঞ্চায়েতগুলি জরিমানার টাকা বেশ কিছুটা ফেরতও দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তর থেকে বাকি জরিমানার টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে জানতে চাওয়া হয় সেই সমস্ত পঞ্চায়েতের কর্মীদের বিরুদ্ধে কি শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ আসামাত্র নড়ে চড়ে বসে জেলা প্রশাসনিক মহল।ত্রিস্তর পঞ্চায়েত কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা জেলা শাসকের কাছে আবেদন রাখেন, তাঁদের পাঁচদফা দাবি বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। যে সমস্যার সম্মুখীন তাঁরা তা থেকে যেন দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারেন। তাঁরা জেলাশাসকের কাছে অনুরোধ রাখেন, জেলা প্রশাসনের অধীনস্ত ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত সকল কর্মচারীর স্বার্থে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কর্মচারীদের নির্ভয়ে উন্নয়নমূলক সরকারি কর্মসূচি সমূহের রূপায়ণে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এবং অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পদ্ধতি যেন প্রত্যাহার করা হয়। তাঁরা জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ আধিকারিকের কাছে বিনীত অনুরোধ রাখেন যাতে, সাধারণ কর্মচারীদের জীবন, জীবিকা ও পরিবারের স্বার্থে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।

আগস্ট ০৩, ২০২২
রাজ্য

র‍্যালির পর পূ্র্ব বর্ধমানের প্রথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ, অবরোধ- বিক্ষোভ

পূর্ব বর্ধমানের আউশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে আউশা প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের একটি শোভাযাত্রা বের হয়। সেই র্যালির পর পড়ুয়াদের কেক ও গ্লুকোজ জল দেওয়া হয়। এরপরই পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে যায়। মাথাঘোরা, ঘা বমি শুরু হয়। অচেতন হয়ে পড়ে তারা। অসুস্তদের একটি গাড়ি ও একটি বাসে করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে আনা হয়েছে। তারা বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এই ঘটনায় স্থানীয় নবস্থা পঞ্চায়েত অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় এলাকার মানুষজন। রাস্তায় গাছ ফেলে চলে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় মেমারী থানার পুলিশ। নবস্থা পঞ্চায়েতে থাকা একটি এ্যাম্বুলেন্সে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, শেষমেশ বিক্ষোভকারীদের হঠাতপতে লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অসুস্থ ছাত্রছাত্রীদের দেখতে বর্ধমান হাসপাতালে পৌঁছায় বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি দেবু টুডু, বিধায়ক অলোক মাঝি প্রমুখ।

জুলাই ২২, ২০২২
রাজ্য

মানবিক মুখ সরকারি আধিকারিকের, অঙ্গহানি থেকে রক্ষা দুর্ঘটনাগ্রস্তের

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে রাজ্য জুড়ে নানাবিধ অভিযোগে বিদ্ধ রাজ্যের সরকার, কখনো অভিযোগের তীর বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দিকে তো, কখনো সরকারি কর্মচারীদের দিকে। কয়েকদিন আগেই পুর্ব-বর্ধমান জেলার জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা এক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য সাথী সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে নিজে সরজমিনে তদন্তে যান। আবার উল্টো চিত্রও দেখা যাচ্ছে পুর্ব-বর্ধমান জেলার বর্ধমান-১ ব্লকে। বর্ধমান-১ ব্লকের বিডিও অভিরুপ ভট্টাচার্য তাঁর সামাজিক মাধ্যমে জানান, রায়ান-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাড়ানদিঘী গ্রামের বাসিন্দা এক প্রতিবন্ধী মা শিখা মণ্ডল তাঁর কাছে কাতর আবেদন নিয়ে আসেন যে, ওঁর পুত্র রণজিৎ মণ্ডল মোটরবাইক দুর্ঘটনায় একটি হাত (বাম হাত) গভীর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। যদি সঠিক সময়ে অপারেশন না করা যায় তাহলে হয়ত তাঁর হাত টি শরীর থেকে বাদ দিতে হবে।আরও পড়ুনঃ বর্ধমান বিষমদকাণ্ডে মৃত্যু বেড়ে ৮অভিরুপ ভট্টাচার্য খোঁজ নিয়ে জানেন যে সঞ্চিতা মণ্ডলের পরিবারের কোনও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নেই। তিনি কালবিলম্ব না করে নিজে উদ্যোগ নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য সাথী দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেন। এবং জেলা স্বাস্থ্য সাথী দপ্তর পরিস্থিতি গুরুত্ব পর্যালোচনা করে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে পরিচয়পত্র ক্ষতিয়ে দেখে ইউ আর এন জেনারেট করে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বিডিও-র হাতে তুলে দেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন যাতে তাঁরা যেন স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় আহত রঞ্জিত মণ্ডলের অপারেশন অতি বিলম্বে শুরু করেন।সোশ্যাল পোস্ট ও স্বাস্থসাথী কার্ডরণজিৎ মণ্ডলের স্ত্রী সঞ্চিতা মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, বিডিও সাহেব না থাকলে হয়ত আমার স্বামীর হাত ফিরে পেতো না, আমার তরফে তাঁকে অনেক ধন্যবাদ। তিনি যে ভাবে নিজে দায়িত্ব নিয়ে আমাদের সাহায্য করলেন, সারাজীবন আমরা তাঁর কথা মনে রাখবো। সোমবার তিনি যখন জনতার কথা র সাথে কথা বলছিলেন তখন রণজিৎ মণ্ডলের বাম হাতের সেলাই কাটা হচ্ছিল। সঞ্চিতা জানান, ডাক্তার বাবু বললেন এই মুহুর্তে আমার স্বামী বিপদমুক্ত, কিন্তু আগামী ছয় মাস কোনও রকম কাজ সেই হাতে করতে পারবেন না। আমরা চিন্তায় আছি আমার স্বামী রাজমিস্ত্রী-র কাজ করে, সেই একমাত্র বাড়িতে কাজের মানুষ। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকার জন্য আমি বা আমার শাশুড়ি কেউই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের অনুদান পায় না।আরও পড়ুনঃ আপনি কি বিছানার চাদরের নিচে সাবান রেখে শুচ্ছেন? একটু চেষ্টা করে দেখুনঅভিরুপ ভট্টাচার্য তাঁর সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দপ্তরের সাথে জড়িত ব্লক অফিস ও জেলার সকল সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি তাঁর সামাজিক মাধ্যমে আরও জানিয়েছেন আক্রমনাত্মক ভাবে, সক্রিয় থেকে, দৃঢ় পদক্ষেপে সঠিক পথে সামান্য চেষ্টা করলে, অনেক ভাল জিনিস ঘটতে পারে। তিনি জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর বক্তব্য উল্লেখ করে লিখেছেন আপনি অন্যদের মধ্যে যে পরিবর্তন দেখতে চাইছেন সেটা আগে নিজের মধ্যে আনুন।

জুলাই ১১, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে বিষমদকাণ্ডে মৃত্যু বেড়ে ৮

বর্ধমানে বিষমদকাণ্ডে ফের দুজনের মৃত্য হল। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮। এর আগে ৬জনের মৃত্য়ু হয়েছিল। গতকাল মৃত্যু হয়েছিল শম্ভু শর্মা ও ভবানীপ্রসাদ সাঁইয়ের। তাঁর আগে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল ভাতের হোটেলে মদ খেয়ে। তাঁরা হলেন, শেখ সুবরতি (৩৪), শেখ হালিম (৪০), চিন্ময় দে (৩৮), গৌতম দে (৪২)। রবিবার বর্ধমানের খাগড়াগড় পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মীর মেহবুব(২৬) ওরফে বাপ্পা এবং বাপন শেখ(২৮)-এর মৃত্যু হয়েছে। এদের পরিবারের দাবি, এরা দুজনেই বর্ধমানের কলেজমোড় এলাকার তারামা হোটেল থেকে মদ খেয়েছিল। এরা মাঝে-মধ্যেই কলেজ মোড়ের এই হোটেল থেকে মদ খেত বলে জানিয়েছে তাঁদের পরিবার।তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তারামা হোটেল থেকে মদ খাওয়ার পরেই তাঁরা অসুস্থতা বোধ করে। ক্রমাগত বমি ও পেটে যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। মীর মেহবুবকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাপন শেখ স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় দুজনের। পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাগড়াগড়ের বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, ভাতের হোটেলে কিভাবে মদ বিক্রি হয়? দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন তাঁরা।

জুলাই ১০, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে রহস্যজনক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬, বন্ধ মদের দোকান, হানা চোলাইয়ের ঠেকে

হোটেলের খাবার (মদ?) খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় ফের বর্ধমান শহরে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন শম্ভু শর্মা ও ভবানীপ্রসাদ সাঁই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মদ খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল। এদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। ভাতের হোটেলে মদকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে দুটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের বক্তব্য, মদ নয় তাঁরা শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিল।মদ খেয়ে অসুস্থ না খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু? সেই রহস্য রয়েই গিয়েছে। শনিবার বর্ধমান শহরের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ ছিল। কেন মদের দোকান বন্ধ তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি আবগারি দফতর। তবে মদে খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক থাকলেও শহরের অভিযুক্ত হোটেলগুলি থেকে সরকারি মদ ক্যাপটেন উদ্ধার হয়েছে। সেই ক্যাপটেন আদৌ সরকারি কাউন্টার থেকে এসেছে না এর পিছনে অন্য রহস্য আছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে।এদিকে এদিন বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় চোলাইয়ের ঠেকে হানা দেয় পুলিশ ও আবগারি দফতর। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এদিকে উদ্ধার হওয়ার মদের নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্য ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সহজে প্রকাশ্যে এলেও এক্ষেত্রে রহস্যজনক ভাবে মৃতদের পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক রিপোর্টে কী উল্লেখ আছে তা জানায়নি পুলিশ। তবে ভাতের হোটেলে মদের অবৈধ কারবারের রমরমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বর্ধমানবাসী।

জুলাই ০৯, ২০২২
রাজ্য

ভাতের হোটেলে বেআইনি মদ খেয়ে বর্ধমানে রহস্যমৃত্যু ৪ জনের, গাফিলতি কার?

ভাতের হোটেলে মদ। অভিযোগ, সেই অবৈধ ভাবে বিক্রি হওয়া মদ খেয়ে মৃত্যু হল চার জনের। মৃতরা হলেন শেখ হালিম (৪০), শেখ সুবরতি (৩৪), চিন্ময় দে (৩৮) ও গৌতম দে (৪২)। মৃতদের বাড়ি বর্ধমান শহরে। বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়ায় বাড়ি হালিম ও সুবরতির। ময়ুরমহলে বাড়ি চিন্ময় ও গৌতমের। অসুস্থরা ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে। তাঁদের খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। তবে শহরের নানা ভাতের হোটেলে বেআইনি ভাবে মদ বিক্রী নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার পর পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা শহরজুড়ে তল্লাশি শুরু করে। নড়ে-চড়ে বসেছে আবগারি দফতরেও।জানা গিয়েছে, যে হোটেলে মৃতরা মদ খেয়েছিল সেখান থেকে আবগারি দফতরের অনুমোদিত দেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছে আবগারি দফতর। ওই মদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখবে তারা। মদ প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আবগারি দফতর।রহস্যজনক ভাবে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় বর্ধমান শহরে। শুক্রবার সকাল থেকে এডিজি ওয়েস্টার্ন জোন সঞ্জয় সিং ও জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেনের নেতৃত্বে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন হোটেল ও ধাবায় হানা দেয় পুলিশ। এদিকে মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্ত হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই প্রাথমিকভাবে বোঝা যাবে মৃত্যুর কারণ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের লক্ষ্মীপুরে জিটি রোডের ধারে মৃত ও অসুস্থরা বৃহস্পতিবার রাতে ওই হোটেল থেকে মদ কিনে খেয়েছিল। তবে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁরা সবাই কি আলাদা আলাদা হোটেল থেকে মদ কিনে খেয়েছিল? এক মৃতের স্ত্রীর বক্তব্য, তাঁর স্বামী আরও চারজনের সঙ্গে মদ খেতে বসেছিল। মদ খাওয়ার পরেই তাঁর স্বামীর খিঁচুনি শুরু হয়। মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হতে শরু করে। স্বামীকে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।বর্ধমান শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাত খাওয়ার হোটেলে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রী নতুন কোন ঘটনা নয়। তাঁদের বক্তব্য, শহর লাগোয়া ও জাতীয় সড়কের পাশের খাওয়ার হোটেলগুলিতে বেআইনি ভাবে মদ বিক্রি হয়। কোনও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ও আবগারি দফতর এই বেআইনি কারবার বন্ধ করতে কখনও উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ। স্বভাতই বেআইনি কারবার ক্রমশ বেড়েছে। চিন্ময় ও গৌতমের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য় মদ খেয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেনি।জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেন এদিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মদ খেয়ে দুজন মারা গেছে বলে আমরা বর্ধমান হাসপাতাল থেকে খবর পাই। এদিন আরও দুজন মারা যাওয়ার খবর আসে। তবে এই মৃতদের পরিবার মদ খাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্ধমানের কোনও হাসপাতালে কেউ ভর্তি হয়েছে কিনা সেই ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আবগারি দফতর মদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠিয়েছে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার রিপোর্ট চলে আসবে।

জুলাই ০৮, ২০২২
রাজ্য

দেওয়ানদিঘীতে পানীয় জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করলেন কাকলি তা গুপ্ত

বর্ধমানের দেওয়ানদিঘীতে সর্বসাধারণের জন্য পানীয় জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করলেন বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত। সরাইটিকর গ্রাম পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি রূপায়ন করেছে বর্ধমান রোটারি ক্লাব। সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সুবিধার্থে এই জল প্রকল্প কাজে আসবে বলে জানিয়েছেন কাকলি তা গুপ্ত। পানীয় জল পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ।দেওয়ানদিঘী মোড়ে বহু মানুষের যাতায়াত। এখান থেকে অনেকেই দূরদূরান্তের বাসে যাতায়াত করেন। নানা কাজে দেওয়ানদিঘী এলাকায় বহু সাধারণ মানুষের আনাগোনা। তীব্র গরমে পথিকদের স্বার্থে এই পানীয় জলপ্রকল্প খুবই উপযোগী, বলেন বিডিএ-র চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত। ব্যক্তিগত ভাবে এই প্রকল্প রূপায়নের জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ডা. গোলাম মহম্মদ, বর্ধমান ১-এর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অভিরূপ ভট্টাচার্য।

জুন ২৩, ২০২২
রাজ্য

আরবি ছেড়ে চিকিৎসক হওয়ার নেশায় মশগুল সপ্তম স্থানাধিকারী ফারুক

হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় সেরা ১০ এ স্থান করে নিলেন শহর বর্ধমানের ছাত্র। পুর্ব-বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষের বারিশাল গ্রামের আদি বাসিন্দা সৈয়দ আব্দুল্লাহ বারিশাল হাইস্কুলের আরবি ভাষার শিক্ষক। মা সৈয়দ আসমা সুলতানা গৃহবধূ। তাঁদের দুই সন্তান। তাঁর মধ্যে ফারুক-ই ছোট। ফারুকের দাদা সৈয়দ মহম্মদ জুবের এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে বর্ধমানের এক স্কুল থেকে। ফারুক সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত তার বাবার যে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন সেখানেই পড়তেন। পাঁচ বছর আগে সৈয়দ আব্দুল্লাহ সপরিবারে বর্ধমানের ভাতছালায় বসবাস করতে থাকেন। তিনি ফারুক ওমরকে বর্ধমান হাইমাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছিলেন তিনি।ফারুকের প্রিয় বিষয় আরবি ভাষাশিক্ষা। তাঁর বাবা জানান, ছোট থেকেই তাঁর স্মরণশক্তি ছিল ঈর্ষনীয়। সোমবার হাইমাদ্রাসা পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে জানা যায়, ফারুক মেধা তালিকায় সপ্তম স্থান দখল করেছেন। ফারুকের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। তিনি জানান, বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে ইচ্ছা। ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে আছে। চিকিৎসক হলে বহু মানুষের সেবা করতে পারব।ফারুক বাংলায় ৯৪, ইংরাজিতে ৯১, অঙ্কে ১০০, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৬, জীবনবিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৯৮, ভূগোলে ৯৬, ইসলামিক পরিচয়ে ৯৫ এবং আরবিতে ৯০ পেয়েছেন। তিনি হাইমাদ্রাসা পরীক্ষায় মোট ৭৬৭ নম্বর পেয়েছেন। বাবা আব্দুল্লাহ বলেন, ফারুক আরবি ভাষায় খুব দক্ষ। ভেবেছিলাম, ওই ভাষা নিয়ে গবেষণা করবে ছেলে। তিনি বলেন আমি বা পরিবার জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবো না। অর মন যা চায়, তা-ই করবে।বর্ধমান-১ সমষ্টি উন্নয়ন দপ্তরের এলাকায় অবস্তিত বর্ধমান হাইমাদ্রাসার-র ছাত্র হওয়ায় ওই দপ্তরের যুগ্ম-সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারীক সন্দীপ চাঁদ ও বিআইও খন্দেকর জাহির আলি আহমেদ ভাতচালা-য় ফারুকের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে আসেন। ব্লকের তরফ থেকে তাঁকে পুষ্প স্তবক, মিষ্টান্ন ও মানপত্র প্রদান করা হয়। বিআইও জাহির জনতার কথা কে জানান, যে কোনও সাফল্য-ই আনন্দের। ফারুক যেভাবে এক প্রত্যন্ত গ্রাম্য পরিবেশ থেকে উঠে এসে নিজেকে রাজ্য স্তরে প্রতিষ্ঠিত করল সেটা সত্যিই তারিফ করার মত। কোভিড অতিমারির যে ভয়ঙ্কর প্রভাব ছাত্রজীবনে পরেছিল তাঁর জন্য তো এই ফলাফল খুবই দৃষ্টান্তমূলক খানিক্টা শাপমুক্তি।

জুন ০১, ২০২২
রাজ্য

ঝুপড়িবাসী সেজে অপরাধ কাজকর্ম চালাচ্ছিল দুই দাগী দুস্কৃতি-সেই ঝুপড়ি থেকেই উদ্ধার প্রচুর চোরাই সামগ্রী-গহনা-আগ্নেআস্ত্র

রেললাইনের ধারে আলাদা আলাদা ঝুপড়ি ঘরে থকতো দুই যুবক। কেউ ঘুণাক্ষরেরও টের পায়নি ওই যুবকরা আসলে দাগী অপরাধী।তবে তাঁরা এলাকাবাসীর চোখে ধুলো দিয়ে থাকতে পারলেও পুলিশের চোখ এড়িয়ে বেশিদিন থাকতে পারেনি। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পুলিশ হওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখার ঝাপানডাঙ্গা রেল স্টেশন লাগোয়া ঝুপড়িতে হানা দিয়ে দুই দুস্কৃতিকে গ্রেপ্তার করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হল ইমান হোসেন মোল্লা ওরফে রাজা এবং তপন দাস। পুলিশ জেনেছে, ইমানের আদি বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার বাহেরা গ্রামে। আর অপর ধৃত তপনের আদি বাড়ি নদীয়া জেলার শান্তিপুর থানার বাগদিয়া গ্রামে। দুজনেই ঝাপানডাঙ্গার রেল স্টেশনের ধারে ঝুপড়িতে থেকে অপরাধ মূলক কাজকর্ম চালাচ্ছিল। পুলিশের দাবী দুই ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর চোরাই সামগ্রী, গহনা, আগ্নেআস্ত্র ও কার্তুজ। নিরীহ সেজে থাকা ঝুপড়িবাসী যুবকদের এই কীর্তির কথা জেনে স্তম্ভিত ঝাপানডাঙ্গার বাসিন্দারা।বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) সুপ্রভাত চক্রবর্তী সোমবার জানিয়েছেন, ঝাপানডাঙ্গা রেল স্টেশনের ধারে ঝুপড়িতে থাকতো ইমান হোসেন মোল্লা ও তপন দাস। তাঁরা যে অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত তা এলাকার কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায় নি। সম্প্রতি জামালপুর থানার পুলিশ গোপন সূত্রে ওই যুবকদের অপরাধ মূলক কাজে জড়িত থাকার কথা জানতে পারে। ঝুপড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ প্রথমে ইমান হোসেন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জানতে পারে অপরাধ মূলক কাজে ইমানের সঙ্গী হল ঝাপানডাঙ্গায় রেল লাইনের ধারে অপর ঝুপড়িতে বসবাস করা যুবক তপন দাস। পুলিশ তাঁকেও গ্রেপ্তার করে।এসডিপিও আরো জানিয়েছেন, দুই ধৃতকে পুলিশি হেপাজতে নিয়ে তাঁদের ডেরায় তল্লাশী চালানো হয়। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে দামী মিউজিক সিস্টেম, কম্পিউটার সামগ্রী, দুটি মোবাইল ফোন, বেশ কিছু গহনা, এক রাউণ্ড কার্তুজ সহ একটি আগ্নেআস্ত্র ও একটি চোরাই মোটর বাইক। ধৃতদের অপরাধ চক্রের জাল কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে সেই বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তদন্তের প্রয়োজনে দুই ধৃতকে ফের পুলিশি হেপাজতে নেওয়া হতে পারে বলে এসডিপিও র কথায় ইঙ্গিত মিলেছে।

মে ২৩, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • 18
  • ...
  • 33
  • 34
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

বাংলার আকাশে গভীর নিম্নচাপ, সোমবারই ভয়ঙ্কর বৃষ্টি! ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সতর্কতা, এরপর কোন পথে যাবে?

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বহু জায়গায় জল জমেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা। রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে দুর্যোগের পরিস্থিতি। এর মধ্যেই ধীরে ধীরে ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোচ্ছে গভীর নিম্নচাপ।আবহাওয়া দফতরের সোমবার বিকেলের খবর অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছে। বর্ধমান থেকে সেটি প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে। বাঁকুড়া থেকে দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে। ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গভীর নিম্নচাপটি রয়েছে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব আরও কিছুটা সময় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।সোমবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে চরম বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই তিন জেলায় ২০০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে। সেখানে ১১০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।প্রবল বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় জল জমেছে। রাস্তার পাশাপাশি নিচু এলাকাগুলিতেও জল ঢুকেছে। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন অফিসযাত্রী এবং অন্যান্য নিত্যযাত্রীরা।মঙ্গলবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকবে। এই জেলাগুলির কিছু এলাকায় ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।অর্থাৎ, গভীর নিম্নচাপটি বাংলার পশ্চিমাঞ্চল ছেড়ে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে এগিয়ে গেলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত তার প্রভাব পুরোপুরি কাটছে না। ফলে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকা জেলাগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
কলকাতা

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে নতুন রহস্য! মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি ঋতব্রতর, উঠল টেন্ডার-হুমকির প্রশ্ন

বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রবিবার তাঁর কার্যালয় থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠিও পাওয়া গিয়েছে। সেই চিঠিতে নিজের রাজনৈতিক জীবন, দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার দাবি এবং তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ রয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হাতে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ছাত্রজীবন বা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনও দুর্নীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না। কোনও কাজের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি দলীয় নানা বিষয়ে আপত্তি থাকলেও সব সময় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।ওই চিঠিতেই তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ থাকায় মৃত্যুর নেপথ্যে ওই সংস্থার কোনও বিষয় রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই মুহূর্তে এমন কোনও যোগের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।এর মধ্যেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আসল তৃণমূল-এর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশঙ্কা, তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর কোনও ধরনের চাপ বা হুমকি তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।চিঠিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে উন্নয়ন নিগমের টেন্ডার নিয়ে তাঁকে কোনও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা দরকার বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগম-সহ অন্যান্য উন্নয়ন পর্ষদে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ঋতব্রত।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মৃত্যুর আগে আশিসের লেখা চিঠিতে যেহেতু উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ রয়েছে, তাই ওই সংস্থার টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা জরুরি।ফলে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এখন একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। শেষ চিঠিতে কেন তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ এল, টেন্ডার নিয়ে তাঁর উপর কোনও চাপ তৈরি হয়েছিল কি না এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই বিষয়গুলির আদৌ কোনও যোগ রয়েছে কি নাসবই তদন্তের বিষয়। আপাতত এই প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি। তদন্ত এগোলেই মৃত্যুর নেপথ্যের প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
রাজ্য

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ঘুমের মধ্যেই ৯ জনের মৃত্যু! শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বীরভূমে এই ঘটনায় প্রাণহানিতে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানীয় প্রশাসন সাহায্য করছে বলেও জানানো হয়েছে।সোমবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তারাপীঠের একটি হোটেলে আচমকা আগুন লাগে। সেই সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন আরও কয়েক জন। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি কী ভাবে ঘটল এবং নিরাপত্তার কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলাশাসক এবং পুলিশ, প্রশাসন ও দমকলের আধিকারিকেরা। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভিডিয়ো কলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।এর পরেই দমকল প্রতিমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মৃতদের ক্ষেত্রে ৪ লক্ষ টাকা জেলাশাসকের তহবিল থেকে এবং ৫ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হবে।তারাপীঠের এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।হঠাৎ আগুন লাগার পর ঘুমন্ত অবস্থায় এত মানুষের মৃত্যু কী ভাবে হল, হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং শর্ট সার্কিটই আগুনের একমাত্র কারণ কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

গল টেস্টে ভয়াবহ মুহূর্ত! রাহুলের শটে হেলমেটে বল, হাসপাতালে শ্রীলঙ্কার ওপেনার

ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই গলে তৈরি হল উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কেএল রাহুলের জোরালো সুইপ শটের বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করল শ্রীলঙ্কার ওপেনার নিশান মধুশকার হেলমেটে। শর্ট লেগে ফিল্ডিং করার সময় এই আঘাত পান তিনি। ঘটনার পর দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও। কনকাশন পরীক্ষা করার পর মধুশকাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে। প্রভাত জয়াসূর্যের করা ওভারের পঞ্চম বলটি রাহুল সুইপ করেন। বলটি ব্যাটের মাঝখান থেকে প্রচণ্ড গতিতে শর্ট লেগ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধুশকা বিপদ বুঝে দ্রুত মাথা নিচু করার চেষ্টা করলেও বলের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি তাঁর হেলমেটের মাঝামাঝি অংশে সজোরে আঘাত করে।আঘাতের পর বলটি ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। ফলে রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের ব্যাটাররা রান সম্পূর্ণ করেন। রাহুল অবশ্য প্রথমে রান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু করে দেওয়ায় রানটি সম্পূর্ণ করতে হয়। রান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুশকার দিকে ছুটে যান রাহুল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এরপর দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও এবং চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মধুশকার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তাঁকে আর মাঠে রাখা হয়নি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর চোটের প্রকৃতি বা গুরুতরতা এবং তিনি পরবর্তীতে এই টেস্টে ব্যাট করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মধুশকার চোটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় সরাসরি বল লাগার ঘটনায় ক্রিকেটে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুলের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় দল। প্রথম উইকেটে দুজনে ৬৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন।তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে ছন্দপতন ঘটে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সওয়াল। ৩৭ বলে ৩২ রানের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রাহুল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দুজনেই ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাড়িক্কল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করার পাশাপাশি রাহুলও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলে প্রথম সেশনেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।লাঞ্চের সময় ২৭ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০১ রান। একদিকে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট, অন্যদিকে মধুশকার চোটপ্রথম দিনের প্রথম সেশন তাই দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন ছবি তুলে ধরল। এখন সকলের নজর নিশান মধুশকার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাতঙ্গিনীর রক্তাক্ত পতাকা, বাঙালির হৃদয়ে অমর এই পাঁচ স্বাধীনতা সংগ্রামী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবীকে, তেমনই তাম্রলিপ্তের মাটিতে উঠে এসেছে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা স্বাধীনতার লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে উঠে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। ১১ আগস্ট ১৯০৮ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর নির্ভীকতা ও হাসিমুখ বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবলিদান বাংলার নারীশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুশীল ধারা-র। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের যুদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিদ্যুৎ বাহিনী, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রথম সর্বাধিনায়ক। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত এই সমান্তরাল সরকার তমলুক ও কাঁথি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকারের কার্যক্রম ছিল উল্লেখযোগ্য।এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান থেকে মাতঙ্গিনীর পতাকা হাতে মৃত্যুবরণ, আর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সংগঠিত প্রতিরোধ, এই সমস্ত অধ্যায় প্রমাণ করে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন বিপ্লবীর কাহিনি নয়। এটি ছিল অসংখ্য মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal