• ২ চৈত্র ১৪৩২, সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Om

রাজ্য

ফের বাংলায় লোকসভার টার্গেট দিয়ে গেলেন অমিত শাহ

তিনি প্রথমে বলেছিলেন, বাংলায় ৩৫ আসন চাই। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রথমবার বাংলায় নির্বাচনী সভা থেকে বাংলায় টার্গেট কমিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বললেন, ২০১৪ সালে বাংলার মানুষ দুটি আসন দিয়েছিল। ২০১৯-এ সেটা বেড়ে হয়েছিল ১৮, এবার ২০২৪-এ ১৮ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করতে হবে। যাতে বিজেপির গোটা দেশে আসন ৩৭০ পেরিয়ে যায়।বুধবার বালুরঘাটে নির্বাচনীয় সভায় এসে নয়া লক্ষ্যমাত্রা দিলেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। কিছুদিন আগে পর্যন্তও ৩৫ আসনের লক্ষ্যমাত্রার কথা বলেছিলেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, বাংলায় ৪২-এ ৪২ করতে হবে। তবে শাহ এদিন বললেন, ৩০ আসন চাই। আর বাংলায় বিজেপি ৩০ আসন পেরোলে কী হবে সেটাও জানিয়ে দিলেন তিনি। বললেন, বিজেপি অসমে অনুপ্রবেশ খতম করেছে। বাংলায় লোকসভা ভোটে ৩০ আসন পেলে এখানে সীমান্ত টপকে কোনও পরিন্দা বা পাখিও ঢুকতে পারবে না।কীভাবে ভোটে দেবেন সেটাও বলেছেন জনতাকে। বলেছেন, স্নান করে শিবের পুজো করে ১৯ তারিখে পদ্মপ্রতীকে বোতাম টিপতে হবে। এদিনের সভায় ভিড় দেখে খুশি প্রকাশ করেছেন অমিত শাহ। তিনি বালুরঘাটের বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদারকে বলেন, আপনার ভোটের ফল তো এখানেই হয়ে গেল। বলেছেন, এত রাগে বালুরঘাটে বোতাম টিপবেন যেন কলকাতায় মমতা দিদির গায়ে কারেন্ট লাগে।বাংলায় সিএএ নিয়ে শাহ বলেছেন, হাতজোড় করে বাংলার জনতাকে বলতে চাই, মমতা দিদি বাংলার লোকেদের বোকা বানাচ্ছেন। আমি বলতে চাই, ভয় না পেয়ে যত শরণার্থী এসেছেন, তাঁরা যেন নাগরিকত্বের আবেদন করেন। কারও নাম বাদ যাবে না।কয়েকদিন আগেই ভূপতিনগরে বোমা বিস্ফোরণে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের ধরতে এসে আক্রান্ত হন এনআইএ আধিকারিকরা। সরাসরি এনআইএ শাহের অধীনে পড়ে। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেছেন, সবাইকে উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করা হবে।

এপ্রিল ১০, ২০২৪
দেশ

খেলা হবে কিন্তু মাঠ কই

২০২১ শের বিধানসভা নির্বাচনে আবহে রাজ্যে স্লোগান উঠেছিল খেলা হবে। নির্বাচন তা কোনো রাজ্যের হোক অথবা দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের নির্বাচনে অতি বিশেষ স্থান রয়েছে। সেখানে এই ধরণের স্লোগান অনেকের কাছে Infantile Disorder বলে মনে হয়েছিল। আবার অনেকের কাছে দবশ রহস্যগন্ধী মজাদার ঠেকেছিল। এবার লোকসভা নির্বাচনের প্রচার কালে কিছু কিছু ঘটনা ও দ্রুত পট পরিবর্তন দেখে মনে হচ্ছে সত্যি ই যেন দেশ জুড়ে খেলা হচ্ছে। আর সেই খেলার পিছনে ধুরন্ধর কোচের মস্তিস্কের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই খেলায় ফুটবলের ভাষায় বললে Movement আর দাবার ভাষায় বললে চাল দুটোতেই শাসক দল আক্রমনাত্মক Strategy বেছে নিয়েছে। আর শাসক দলের এই চলন নিয়ে অন্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন উঠছে। যা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পথ চলার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে।বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দলবদল INDIA জোটকে ধাক্কা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সাড়া না দেওয়ায় এই জোট দেশের পূর্ব প্রান্তে অস্তিত্বহীন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের ক্রমাগত রক্তক্ষরণ। এই সব মিলিয়ে বিরোধী জোটকে ছন্নছাড়া দেখাচ্ছিল। অন্য দিকে শাসকদলকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে হচ্ছিল। এই অবস্থায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালের গ্ৰেপ্তারি বিরোধী দলগুলির পালে জোরালো হাওয়া এনে দিয়েছে। এক দশক ধরে দিল্লির দুই যুযুধান রাজনৈতিক দল কে এক মঞ্চে এনেছে। শুধু তাই নয় গত ৩১ মার্চ দিল্লির রামলীলা ময়দানে India Gate -র জনসভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও ছড়িয়েছে। এর আগে দিল্লির যন্তরমন্তরে এবং মুম্বাইয়ে INDIA মঞ্চের জনসভা হয়েছে। কিন্তু দেশের সব প্রান্ত থেকে শীর্ষ বিরোধী নেতাদের মঞ্চে উপস্থিতি রামলীলা ময়দানে জনসভার ধার এবং ভার দুইই বাড়িয়েছে। সবকিছু কে ছাপিয়ে এই জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার বার্তায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বার্তা দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের চেহারা ভবিষ্যতে কেমন হবে সেই ভাবনা কে উস্কে দিয়েছে।আরও পড়ুনঃ টাকা দাও, ভোট নাও, প্রচারে বেরিয়ে শুনতে হল শতাব্দী রায়কেINDIA -র মঞ্চ থেকে যে পাঁচটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়েছে তার প্রথম দুটি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে । ১৯৫২ সাল থেকেই নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল গুলি একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। কিন্তু এই দুটি দাবি মামুলি অভিযোগের গন্ডই ছাড়িয়ে এক বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশ করেছে। দেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় একশো চল্লিশ কোটি। এবার লোকসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৯৮ কোটি। তারমধ্যে ৭০-৭৫ কোটি মানুষ ভোট দেবেন। ফলে দেশের প্রথম নির্বাচন থেকে নির্বাচন কমিশন যে কাজ করে আসছে তার ক্রমশ আড়ে বহরে বাড়ছে। এই কাজ শুধু নির্বাচন করিয়ে দেওয়া নয়, নির্বাচন যেন অবাধ শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্টুভাবে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের কর্তব্য। এই কাজ করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিষয়টি হলো যে দলগুলি নির্বাচনে লড়বে তারা যেন সমান জমিতে দাঁড়িয়ে লড়তে পারে। অর্থাৎ শক্তিশালী দল আর দুর্বল দলের লড়াইয়ের জমি যেন সমান থাকে। আর জমি সমান রাখতেই আদর্শ নির্বাচনী বিধি জারি করে কমিশন। এই বিধির মূল নিশানায় থাকে শাসকদল। কারন দাপট আর প্রশাসনিক প্রভাবে শাসক দল-ই এগিয়ে থাকে। এই কারণে ই INDIA মঞ্চের প্রথম দুটি দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দাবিটি হল লোকসভা ভোটের ময়দানে সবাইকে সমান ভাবে লড়তে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। দ্বিতীয় দাবিটি হল ভোটের মুখে যেভাবে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তকারি সংস্থা গুলির ব্যবস্থা নিচ্ছে তা বন্ধ করুক নির্বাচন কমিশন।আরও পড়ুনঃ প্রাক্তন বিচারপতিকে ক্রমাগত নিশানা করে চলেছেন মমতাঅবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি কারি নানান কৌশল ও প্রকরণের তালিকা এদেশে দীর্ঘ এবং অনেক পুরনো। এই পথ ধরেই হিংসা, ভয় দেখানো, এবং ভোট লুঠের মতো অগণতান্ত্রিক আচরণ যে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে রয়ে গিয়েছে তা নাগরিকরা বিলক্ষণ জানেন। এর পাশাপাশি রয়েছে নির্বাচনী ফলকে প্রভাবিত করার বিভিন্ন কৌশল। আর এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি যে শাসকদল তা ও সবাই জানে। কারণ ক্ষমতা ছাড়া পেশীশক্তি বা অর্থবলের দাপট দেখানো যায় না। এই কারণেই শাসকদলকে ভোটের সময় নির্বাচন বিধির ঘেরাটোপের মধ্যে না রাখতে পারলে বিরোধী দলগুলি কে অসমান জমিতে দাঁড়িয়ে লড়তে হয়। অবশ্য সীমাবদ্ধ অঞ্চলে যেখানে তাদের ক্ষমতা থাকে সেখানে বিরোধী রাও এক ই পথে হাঁটে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বর্তমান শাসক দল রাষ্ট্রক্ষমতা কে যে ভাবে ব্যবহার করছে তা বিপজ্জনক।আরও পড়ুনঃ সুকান্ত, শুভেন্দুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার, পাল্টা দিলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতিএই প্রেক্ষাপটে রাজধানীর রামলীলা ময়দান থেকে কমিশনের কাছে বিরোধীরা যে দাবি তুলেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরোধীদের অভিযোগ নির্বাচনে শাসকদলের রাষ্ট্রক্ষমতার ব্যবহার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিপন্ন করে তোলে। রাষ্ট্রক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভোটের মুখে প্রধান বিরোধী দল গুলির শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্বল করতে পারলে জেতার পথে অর্ধেক রাস্তা এগিয়ে থাকা যায়। শুধু তদন্ত কারি সংস্থা দিয়ে বিরোধী নেতাদের গ্ৰেপ্তার নয় তার সঙ্গে আয়কর দপ্তরের ও অতি সক্রিয়তা সবার নজর কেড়েছে। কংগ্রেসের আর্থিক সংস্থান বন্ধ করে নির্বাচনী ব্যয় কে কঠিন করে তুলতেই এই সক্রিয়তা কিনা তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে। বিশ্বের মধ্যে ভারত বৃহত্তর গনতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই বিশাল জনসংখ্যার দেশে নির্দিষ্ট সময় নিয়মিত ভোট দানের প্রক্রিয়া গনতান্ত্রিক পথে সম্পন্ন হওয়ার কারণেই এই সম্মান পাওয়া গিয়েছে। এর জন্য স্বশাষিত সংস্থা নির্বাচন কমিশন অবশ্যই কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। তাই বিরোধীদের দুটি দাবির মুখে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ করবে তার উপর দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যত কাঠামো অনেক টাই নির্ভর করছে ।

এপ্রিল ০৭, ২০২৪
রাজ্য

বর্ধমানের নয়া জেলাশাসক কে রাধিকা আয়ার, আরও তিন জেলায় পরিবর্তন

নির্বাচন কমিশন রাজ্যের চার জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করল। মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকাকে চিঠি দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমের জেলাশাসক পদে চার জনের নাম অনুমোদন করল কমিশন। বৃস্পতিবার ওই চার জেলার জেলাশাসককে পদ থেকে সরায় নির্বাচন কমিশন।২০১০ ব্যাচের আইএএস জয়শী দাশগুপ্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নতুন জেলাশাসক হলেন। ঝাড়গ্রামের নতুন জেলাশাসক পদে বসানো হয়েছে মৌমিতা গোদারা বসুকে। মৌমিতা ২০০৭ ব্যাচের আইএএস। পূর্ব বর্ধমান জেলায় কে রাধিকা আয়ারের নাম জেলাশাসক হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে, এবং বীরভূমে শশাঙ্ক শেঠিকে নতুন জেলাশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাধিকা ২০১১ এবং শশাঙ্ক ২০১০ ব্যাচের আইএস। চার নয়া জেলাশাসকই পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের এবং তারা প্রত্যকেই একাধিক বার জেলাশাসকের দায়িত্বভার পালন করেছেন। কমিশন নির্দেশ দিয়েছেন, আগামিকাল, শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে নবনিযুক্ত জেলাশাসকদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে কমিশনকে জানাতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে।বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম ও ঝাড়গ্রামের জেলাশাসকদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, ওই চার জেলার জেলাশাসকেরা কেউই আইএএস ক্যাডারের অফিসার নন। ৪ জনই ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক। সেই কারণেই তাঁদের জেলাশাসক পদ থেকে সরানো হয়েছে। এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দেয় পশ্চিমবঙ্গের সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের সংগঠন। সেই আবেদনে চার জেলার জেলাশাসকের অপসারণের যে কারণ নির্বাচন কমিশন দেখিয়েছেন সেই বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের সংগঠন দাবি করেছে এই অপসারণ বৈষম্যমূলক। তাঁদের বক্তব্য যে কারণ দেখিয়ে ওই চার জেলার জেলাশাসকদের অপসারণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আধিকারিকদের আবেগ, নীতিতে ধাক্কা দিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

মার্চ ২২, ২০২৪
রাজ্য

ফের বদল রাজ্য পুলিশের ডিজি, নতুন পদে সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে নিয়োগ কমিশনের

ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের ডিজির পদ থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন আইপিএস রাজীব কুমারকে অপসারণ করেছিল। নির্বাচনী সব প্রক্রিয়া থেকে তাঁকে বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর রাজ্যের ডিজি কে হবেন তা নির্ণয়ে নবান্নের কাছে তিনটি নাম চেয়েছিল কমিশন। সেই তালিকা থেকে রাজ্যে কর্মরত সবচেয়ে অভিজ্ঞ আইপিএস বিবেক সহায়কে ডিজির চেয়েরে বসার সিলমোহর দেয় কমিশন। ওইদিনই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন বিবেক সহায়। কিন্তু ২৪ ঘন্টা না কাটতেই ফের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি পরিবর্তন করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিবেক সহায়ের বদলে নবান্নের তরফে কমিশনের কাছে পাঠানো তালিকায় নাম থাকা আইপিএস সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে ডিজি-র দায়িত্ব দেওয়া হল। আজ, অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেল ৫টর মধ্যেই ডিজি-র দায়িত্বভার গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।রাজীব কুমারের উত্তরসূরি হিসাবে আইপিএস বিবেক সহায়ের সঙ্গে আরও দুই সিনিয়র আইপিএস অফিসার সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় এবং রাজেশ কুমারের নাম নবান্ন কমিশনে পাঠিয়েছিল। তার মধ্যে থেকেই এ দিন ১৯৮৯ সালের আইপিএস সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে ডিজি নিয়োগ করল কমিশন।কেন ২৪ ঘন্টার আগেই ডিজি-র পদ থেকে আইপিএস বিবেক সহায়কে সরাল কমিশন? সূত্রের খবর, আইপিএস বিবেক সহায়কে সিনিয়ারিটির ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদে বসানো হয়েছিল। কিন্তু লোকসভা ভোট চলাকালীনই আগামী মে মাসে তাঁর অবসর। তখনও সাত দফা নির্বাচনের শেষ দফা ভোট (১ জুন) বাকি থাকবে। ফলে আইন-শৃঙ্খলার অসুবিধা হতে পারে। কমিশনের যুক্তি, ভোট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন ডিজিপি দায়িত্বে থাকলে কাজের সুবিধা হয়। তাই আইপিএস সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কেই রাজ্যের ডিজি-র চেয়ারে বসানো হল।অপসারণের দিন রাতেই আইপিএস রাজীব কুমাকে রাজ্যের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ করেছে রাজ্য প্রশাসন।

মার্চ ১৯, ২০২৪
দেশ

এক দেশ এক ভোট

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে শোরগোল চলছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার আশ্বাস আর আশংকার মাঝে এবার এক দেশ এক ভোট। এই নীতি খতিয়ে দেখার জন্য গতবছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্ডের নেতৃত্বে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শীর্ষ আদালত ও হাইকোর্টের কয়েকজন প্রাক্তন বিচারপতি এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের মত নেওয়ার পাশাপাশি ৬৫ টি বৈঠক করেন।অবশেষে গত বৃহস্পতিবার কোভিন্ড কমিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। এই নীতি প্রয়োগের বছর হিসেবে ২০২৯ সাল কে চিহ্নিত করেছে কমিটি। অর্থাৎ আসন্ন লোকসভা ভোটে সরকার গঠনের পরে যে সমস্ত রাজ্যে বিধানসভার ভোট হবে তাদের মেয়াদ এই কেন্দ্রীয় সরকারের মেয়াদ পর্যন্ত স্থায়ী হবে। সেক্ষেত্রে অনেক রাজ্যে সরকারের মেয়াদই পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে। যদি কেন্দ্রে বা কোনো রাজ্যে মাঝপথে সরকার ভেঙে যায় তাহলে কি হবে? কোভিন্ড কমিটির সুপারিশ হলো, সেক্ষেত্রে নির্বাচন হবে তবে সেই নির্বাচিত সরকার ২০২৯ সালের আগে যে সময়কাল থাকবে সেই সময় পর্যন্তই ক্ষমতায় থাকবে।এর ফলে লোকসভা ও সব রাজ্যের বিধানসভার ভোট করতে কোনো বাধা থাকবে না। রাষ্ট্রপতির কাছে কমিটির যে ২৮১ পাতার রিপোর্ট জমা পড়েছে তাতে সংবিধানের কিছু আইন সংশোধন ও নতুন আইন সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে ঘন ঘন ভোট হলে যে বিপুল অর্থ ব্যায় হয় তা এড়াতে লোকসভা ও বিধানসভার ভোট একসঙ্গে হওয়া উচিত। পাশাপাশি লোকসভা ও বিধানসভা ভোট হওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলির ভোটের সুপারিশ ও করা হয়েছে।এই সার্বিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুটি সংবিধান সংশোধনী বিল আনার কথা বলা হয়েছে।এই দুটি বিলের মাধ্যমে সংবিধানে ১৫ টি সংশোধনী আনার সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রথম বিলটির মাধ্যমে লোকসভা ও বিধানসভার ভোট একসঙ্গে করতে মেয়াদ ফুরোনোর আগেই বিধানসভা গুলি কে ভেঙে দেওয়া যাবে। সংসদে এই বিল পাশ করানোর জন্য রাজ্য গুলির মতামত নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মত দিয়েছে কমিটি। দ্বিতীয় বিলটির মাধ্যমে লোকসভা, বিধানসভা, পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটের জন্য একটি ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা দেওয়া হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। তবে দ্বিতীয় বিলটির জন্য দেশের অর্ধেকের বেশি রাজ্যে অনুমোদন প্রয়োজন বলে কমিটি জানিয়েছে।পাশাপাশি প্রথম বিলটি রাজ্য গুলির অনুমোদন ছাড়াই যাতে পাশ করাতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার তার জন্য সংবিধানের নতুন ধারা সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে। কোভিন্ড কমিটির ওই সুপারিশ অনুযায়ী সংবিধানে নতুন ৮২(ক) ধারা সংযুক্ত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাজ্য গুলির অনুমোদন ছাড়াই ওই বিল পাশ করানোর ক্ষমতা আসবে। এই লোকসভা ভোটের পরে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তারা যদি কোভিন্ড কমিটির রিপোর্ট গ্ৰহণ করে তাহলে ২০২৯ সালে লোকসভা ও বিধানসভার ভোট একসঙ্গে হবে। সেক্ষেত্রে চলতি বছরে লোকসভা ভোট শেষ হলেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ২০২৯ সালের ভোট প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করতে হবে। যদি তাই হয় তাহলে অনেক রাজ্যের বিধানসভা মেয়াদ ই পূর্ণ সময়ের আগে শেষ হয়ে যাবে।যেমন গতবছর যে দশটি রাজ্যে বিধানসভার ভোট হয়েছে সেই রাজ্য গুলিতে বিধানসভার মেয়াদ ফুরোনোর কথা ২০২৮ সালে। সেক্ষেত্রে ২০২৮ সালেই ওই রাজ্যগুলিতে বিধান সভার ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২৯ সালে যদি এক দেশ এক নীতি চালু হয় তাহলে ওই রাজ্য গুলিতে সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছরের পরিবর্তে এক বছরের মধ্যে ই ফুরিয়ে যাবে। এই রাজ্য গুলি হল হিমাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, মিজোরাম, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগঢ় ও রাজস্থান। অন্য দিকে পাঞ্জাব , উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটে ২০২৭ সালে বিধানসভার ভোট হওয়ার কথা। ওই তিন রাজ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠিত হলেও তার মেয়াদ দুবছরের বেশি হবে না।২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরল ও তামিল নাড়ু তে বিধানসভার মেয়াদ ফুরোবে। ওই রাজ্য গুলিতে ভোটে যে সরকার ক্ষমতায় বসবে তার মেয়াদ তিন বছরের বেশি হবে না। দেশের ৪৭টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল কোভিন্ড কমিটি কে নিজেদের মতামত জানিয়েছিল। এই ৪৭টই দলের মধ্যে ৩২টি দল এক দেশ এক ভোট নীতি কে সমর্থন করেছে। বাকি ১৫ টি দল এই নীতির বিরুদ্ধে মত জানায়। যে ৩২টি রাজনৈতিক দল এই নীতিকে সমর্থন করেছে তারা হয় বিজেপির সহযোগী নয়তো বন্ধু ভাবাপন্ন দল। কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম ও DMK সহ যে ১৫ টি রাজনৈতিক দল বিরোধীতা করেছে তাদের বক্তব্য হল এই নীতি চালু হলে দেশের সংবিধানে যে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে তা ক্ষুন্ন হবে।এর ফলে সংসদীয় গণতন্ত্রের দিন ফুরোবে।পাশাপাশি যে কমিটি এই সুপারিশ গুলি করেছে তার এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল গুলি। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য হল দেশে ঘন ঘন ভোট হলে বিপুল অর্থ ব্যায় হয় । একসঙ্গে ভোট হলে সেই ব্যায়ভার কমানো যাবে। এছাড়াও প্রতি বছরে কোন না কোন ভোট হওয়ার ফলে নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়। এর ফলে উন্নয়নের কাজ বাধা পায়। এছাড়াও কেন্দ্রের দাবি এক দেশ এক ভোট নীতি চালু হলে নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার কমবে।

মার্চ ১৬, ২০২৪
দেশ

ভোটের অর্ধেক আকাশ

যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। সৈন্য সজ্জ্বার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গেলে বুহ্য রচনা হবে। তবে এ তো আর কামান,বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ নয়। ভোট যুদ্ধের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে বাকযুদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দল গুলির মধ্যে একে অপরের আক্রমণের অস্ত্র কখনও জাতিগননা, কখনও প্রতিশ্রুতির নামে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ। ভোটের ময়দানে একে অপরের যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী সেখানে তো এমনটা হওয়াই দস্তুর। একের সঙ্গে অপরের সব ইস্যুতেই দ্বৈরথ। মিল খুঁজে না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।তবে অমিলের এই রাজত্বে অসাধ্য সাধন করেছেন দেশের মহিলারা। মহাভারতে কৃষ্ণের আর্শীবাদ পেতে জান লড়িয়ে দিয়েছিল কৌরব পান্ডব দুপক্ষই। তেমনই সাম্প্রতিক পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন থেকে দরজার দাঁড়িয়ে থাকা লোকসভা নির্বাচনেও সবদলের নজরেই রয়েছে মহিলা ভোট। সম্মান, লিঙ্গসাম্য, শিক্ষার হার, কাজের সুযোগ সব কিছুতে পিছিয়ে থাকলেও ভোটার সংখ্যায় যে তারা বেড়েছেন। অতএব, এই রত্ন ভান্ডারে নজর তো থাকবেই। নারী উন্নয়নে কে কতটা আন্তরিকতা বোঝানোর উদগ্ৰ প্রতিযোগিতা চলছে। তাঁর সঙ্গে চলছে নানা গালভারি প্রকল্পের নামে হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিযোগিতা।যে মুল সমস্যাগুলির নিচে চাপা পড়ে রয়েছে সেগুলি সমাধান কোনো দিশা নেই। গত কয়েক দশকে labour force participation সূচকে মহিলাদের সংখ্যা ক্রমশই কমছে। বর্তমানে দেশের কাছের বাজারে ৯০ শতাংশ-ই যুক্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রে। এই ক্ষেত্রের উৎপাদন শিল্প এবং পরিসেবা প্রদান সংস্থায় কাঠামোগত কারণে মেয়েদের কাজের সুযোগ অত্যন্ত কম। এই পরিস্থিতিতে বহু ক্ষেত্রেই সমস্যা আরও বাড়িয়েছে লিঙ্গ বৈষম্য এবং জাতপাতের ছুৎমার্গ। এর ফলে কাজের বাজারে মহিলাদের স্থান ক্রমশ তলানিতে পৌঁছেছে। এই বিষয়গুলি নিয়ে বহুদিন ধরেই বহু চর্চা এবং গবেষণা চলছে। সম্প্রতি ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলিতে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্রটির বিষয়টি হলো জাতপাতের নিরিখে গ্ৰামীন অসংগঠিত ক্ষেত্রে মহিলাদের উপস্থিতি কতোটা।আশয় কদম এবং কিংশুক সরকার এই দুই গবেষকের সমীক্ষায় এই বিষয়টি ছাড়াও দেখা গিয়েছে সমাজের প্রান্তিক অবস্থানের মহিলারা এই কারণে labour pyramid-র একেবারে নিচে থেকে যাচ্ছেন। ফলে তাদের সামাজিক উত্তরন ঘটছে না। দুই গবেষক বিহার, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের তহশিল স্তরে ২০১১ সালের socio economic and cast census য়ের তথ্যের ভিত্তিতে এই সমীক্ষা করেছেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে মহিলারা কাজের বাজারে বহু বাধার মুখে পড়েন। দেশে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েরা ঘরকন্না করবে, সংসারের অন্য সদস্যদের দেখাশোনা করবে এটাই আশা করা হয়। এই সামাজিক বাধা কাটিয়ে যদি বা কোনো মহিলা কাজের বাজারে পৌঁছন সেখানে তাঁকে আইনি বাধা এবং বেতন বৈষম্যের মুখে পড়তে হয়।যেমন অনেক সংস্থাতে রাতের শিফটে মহিলা কর্মীদের কাজ করানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে অসংগঠিত কাজের বাজারে labour force participation য়ের নিরিখে নিম্নবর্গের মহিলাদের উপস্থিতি বেশি। গবেষকরা দেখিয়েছেন কাজের মজুরি কম এবং সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন না হলেও বেশি সংখ্যায় মহিলারা কাজে যুক্ত হওয়ার পিছনে অন্য কারন রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঐতিহাসিক ভাবেই দেখা গিয়েছে গৃহ পরিচর্যার এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ নিম্নবর্গের মহিলা ও পুরুষরাই করবেন বলে সমাজে স্বীকৃত। ফলে পুরুষরা শারীরিক পরিশ্রমের কাজে যুক্ত হন আর মহিলারা ঊচ্চবর্ণের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে বাধ্য হন। তবে, গবেষণায় দেখানো হয়েছে জাতপাতের তারতম্য মহিলাদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ। কাজের বাজারে এই তারতম্য অত্যন্ত প্রকট। এই কারণে ঊচ্চবর্ণের মহিলাদের তুলনায় কাজের বাজারে নিম্নবর্গের মহিলাদের উপস্থিতির হার অনেক বেশি। এর কারণ শিক্ষার মান অনুযায়ী কারা কি ধরনের কাজ পাবেন তার ঠিক হয়। আর্থিক সমস্যার কারণে শিক্ষায় নিম্নবর্গের মহিলারা অনেকটাই পিছিয়ে থাকেন। এই কারণে অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিচুতলার কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ পান না। প্রবল চেষ্টায় নিম্নবর্গের কোনো মহিলা যদি স্কুলের গন্ডি টপকাতে পারেন তাহলে সরকারি সংগঠিত ক্ষেত্রে সংরক্ষণ নীতিতে তাঁরা কিছুটা কাজের সুযোগ পান।এই প্রসঙ্গে গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল অসংগঠিত এবং সংগঠিত এই দুই ক্ষেত্রে labour force য়ে মহিলাদের সংখ্যা বাড়লে কাজের বাজার এবং সমাজের নানা স্তরে উন্নয়ন সূচক বাড়ে । পাশাপাশি দেখা গিয়েছে আর্থিক সক্ষমতা থাকলে পরিবার পরিচালনার ক্ষেত্রে মহিলাদের মতামতের গুরুত্ব বাড়ে। এক ই সঙ্গে গবেষকরা দেখিয়েছেন মহিলাদের শিক্ষা এবং কাজের সুযোগ বাড়লে বাল্য বিবাহ এবং অল্প বয়সে সন্তান ধারণের সংখ্যা ও কমে। গবেষকরা তো তাদের কাছ করে চলেছেন। সমাজের নানা দিকের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁরা আলো ফেলছেন।তবে সেই বিষয় গুলি ভোট শিকারী এবং নীতি নির্ধারকদের চোখে পড়লে হয়।

মার্চ ১৪, ২০২৪
রাজ্য

এবার লক্ষ্মীর ভান্ডারের বড় প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর, কবে থেকে চালু?

ভোট সত্যি বড় বালাই। বাজেট বক্তৃতাতেই অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছেন যে, আগামী মে মাস থেকে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারে মিলবে হাজার টাকা করে। বারশো করে পাবেন এসটি-এসসি ভুক্তরা। লোকসভা ভোটের মুখে প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে ছাপিয়ে গেলেন বিরোধী দলনেতা। রানাঘাটের দলীয় সভায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারে মিলবে তিন হাজার টাকা করে। অর্থাৎ, এখনকার প্রাপ্যের একেবারে তিনগুণ বৃদ্ধি।মোদী সরকার দেশবাসীকে কি কি সুবিধা দিয়েছেন রানাঘাটে তারই ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তখনই তিনি জানান রাজ্য পদ্ম ফুটলে কোন কোন সুবিধা দেওয়া হবে। তখনই ওঠে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারের কথা। বিরোধী দলনেতা বলেন,লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব সম্পত্তি। উনি ১ হাজার করে দেবেন বলে মা-বোনেদের মাথা কিনে নেবেন ভাবছেন। আগেই বলেছিলাম ২ হাজার করে দেব বিজেপি ক্ষমতায় এলে। আর আজ বলে গেলাম আমরা এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৩ হাজার করে দেব।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম জনকল্যাণকারী প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। মহিলাদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাংলার সব মহিলাই যাতে হাত খরচের টাকা পেতে পারেন সেই জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করে রাজ্য সরকার। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে উপভোক্তার সংখ্যা এখন বেড়ে হয়েছে ২কোটি ১৩ লক্ষ। যার আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে রয়েছে রাজ্য সরকার।এদিন শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, বাংলায় এবার লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এমন ফল করবে আমার মনে হয় না বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আরও দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে

মার্চ ১৩, ২০২৪
দেশ

নতুন হাওয়া আসুক - "মেরা পহেলা ভোট দেশ কে লিয়ে"

আজ বাদে কাল দেশে লোকসভা নির্বাচন হবে। কিছুদিনের মধ্যেই নির্বাচনের দিন ঘোষণা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। তারপরেই নির্বাচনী প্রচারের ভরা জোয়ারে ভাসবে দেশ। তবে রাজনৈতিক দল গুলির তাল ঠোকাঠুকি জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। এর মাঝে দেশের যে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ভূখণ্ডে সুষ্ঠ ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে সেই নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা ও তুঙ্গে উঠেছে। এবার নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দেশের যুবশক্তিকে ভোটদানে উৎসাহিত করা।এবারের নির্বাচনে যারা প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তারাও যাতে দলে দলে ইভিএম মুখি হন তার জন্য এক অভিনব প্রচার শুরু করেছে কমিশন। এই প্রচার পরিকল্পনার নাম মেরা পহেলা ভোট দেশ কে লিয়ে। শুধু ভোট দেওয়াই নয় আনুমানিক দু কোটি নতুন ভোটার দের মধ্যে সামাজিক কর্তব্য বোধ ও দেশের জন্য গর্ব বোধ তৈরি করা ও এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে যে অল্প বয়সী দের মধ্যে রাজনীতি সম্পর্কে অনাগ্ৰহ তৈরি হয়েছে। তারা সরাসরি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে উৎসাহ পাচ্ছেন না। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যদি নতুন রক্ত সঞ্চালিত না হয় তাহলে তার কাঠামোয় নানান ত্রুটি দেখা যাবে। এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হবে।এখন Digital মাধ্যমের যুগ। তরুণ প্রজন্ম এই মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশ করতে সাচ্ছন্দ বোধ করেন। তাই এই প্রচারাভিযানে মঞ্চে যদি কম বয়সীরা আসতে থাকেন তাহলে হয়তো তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া আগ্ৰহ বাড়তে পারে। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্য কে অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে Digital মাধ্যমে জনপ্রিয়তার একটি প্রধান কারণ এই মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরে মানুষ-ই অংশ নিতে পারেন। তাই ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের এই প্রচারাভিযানে বিপুল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।কমিশনের প্রচারাভিযানে দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের যুক্ত করায় এই প্রচার দুরন্ত গতি পেয়েছে। জনপ্রিয় ক্রিকেটার, ফুটবলার, ক্রীড়াবিদ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রভাবশালীরা প্রচারে যুক্ত হওয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। কমিশনের ভোটদানের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে এই প্রচারে যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে তা যদি ইভিএমে এসে পৌঁছায় তা যে দেশের গণতান্ত্রিক স্বাস্থের পক্ষে সুলক্ষণ হবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তরুণ প্রজন্ম মানেই নতুন চিন্তা নতুন পথ। দেশের রাজনৈতিক পরিসরে সাম্প্রতিক কালে যে দূষণ চোখে পড়ছে তার হয়তো নতুন হাওয়ায় পরিশোধিত হবে এই আশা করাই যায়।এবারের নির্বাচনে কমিশনের আরেকটি লক্ষ্য হল ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডের সংযুক্তিকরন। এই লক্ষ্যে সম্প্রতি কমিশন কেন্দ্রের কাছে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে সংশোধনী আনার জন্য প্রস্তাব দেয়। একই সঙ্গে ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার ফর্মেও পরিবর্তন আনার অনুরোধ করেছে কমিশন। কমিশনের বক্তব্য কোনো ভোটার যদি তাঁর আধার কার্ড সংযুক্ত করতে না চান তার জন্য কারণ দর্শানোর সুযোগ রয়েছে এই ফর্মে। কমিশন তাই ফর্ম থেকে এই অপশনটি বাদ দিতে বলেছে। তবে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক কমিশনের এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার H S Brahma ঘোষণা করেন চলতি মাস থেকেই ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড সংযুক্তিকরনের কাজ শুরু হবে। ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম এবং ডুপ্লিকেট নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো। তবে আধার কার্ড সংযুক্তিকরন বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Brahma । তবে শুরু হলেও ওই বছরের অগাষ্ট মাসে সুপ্রিমকোর্টের এক নির্দেশের ফলে সংযুক্তিকরনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দেশের শীর্ষ আদালত তার নির্দেশে সরকারের খাদ্য সুরক্ষার মতো প্রকল্পগুলি ছাড়া আধার কার্ড বাধ্যতামুলক নয়। ২০১৮ সালে একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ডের সাংবিধানিক গ্ৰাহ্যতা রয়েছে বলে জানানোর পরে কমিশন নির্বাচনী আইন সংশোধনের জন্য কেন্দ্রের কাছে ফের আবেদন জানান। এবার কেন্দ্রীয় সরকার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে The Election Laws (Amendment) Bill 2021 সংসদে পাশ করায়। এই bill পাশ হওয়ার পরে ২০২২ সাল থেকে কমিশন ফের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সংযুক্তিকরনের কাজ শুরু করে। এই লক্ষ্যে নতুন 6B Form চালু হয়। তবে সেই Form য়ে দুটি অপশন রয়েছে। একটি হল আধার কার্ডের নম্বর সংযুক্ত করা এবং অপর টি হল আধার কার্ড নেই বলে জানানো।এই পরিস্থিতিতে তেলেঙ্গানার কংগ্রেস নেতা G Nilanjan সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। মামলায় তাঁর আবেদন যদি কোন ব্যক্তি আধার কার্ড সংযুক্তি না চান তাহলে ফর্মে তাঁর জন্য সেই অপশন রাখা হোক। এই মামলার কারণে গতবছরের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশন আবার ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানায়। অনেকেই মনে করছেন ভোটার দের আধার কার্ড সংযুক্তিকরনের ফলে তার নাগরিকত্ব প্রমানের সহায়ক হবে। যদিও আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমান নয় বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। দেশের নাগরিক হিসেবে কারা পরিচিত হবেন তা নিয়ে হাওয়ায় নানান কথা ভাসছে। এই অবস্থায় কমিশনের এই প্রচেষ্টা কোন পথে যাবে তার উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে রয়েছে।

মার্চ ১০, ২০২৪
সম্পাদকীয়

অন্ধকারে আলো পড়ুক

নির্বাচন কমিশনের তথ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ও তাদের ভোটদানের হার যতই বাড়ছে ততই নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক দল গুলির প্রচারের Focal Point য়ে গুরুত্বপূর্ণ ঠাঁই পাচ্ছেন মহিলারা। এই পরিস্থিতির মাঝে এসেছে বিশ্ব নারী দিবস। শুধু তাই নয় এই দিনটি কে যেন আরো ব্যাঙ্গাত্বক অর্থে দৃশ্যমান করে তুলেছে সন্দেশখালি। সেখানে নারী নির্যাতন-ই মূল অভিযোগ। তার উপর আন্দোলনের পুরোভাগে রয়েছেন মহিলারা। স্বাভাবিক ভাবেই বিরোধীরা এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দলীয় স্বার্থ মেটানোয় কোনো খামতি রাখছে না। আর সেই আন্দোলনকে ভোঁতা করতে শাসক দল ও কোমর বেঁধেছে। অতএব এক দিকে যেমন নারী নির্যাতন নিয়ে একে অপরের প্রতি বিষোদগার করছে তেমনই চলছে নারী শব্দের বন্দনা। অবশ্যই এই বন্দনা নতুন কিছু নয়। রাষ্ট্রশক্তি থেকে বিরোধী শক্তি যখনই যার প্রয়োজন পড়েছে তখনই সে নারী বন্দনার বান ডাকিয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তারে যাতে সেনার যোগান কম না পড়ে তার জন্য জাতীয়তাবাদের মহিমার কাজল পরিয়ে মেয়েদের অধিক সন্তান প্রসবে উৎসাহিত করেছিল। আর এ বিষয়ে হিটলারের চালু করা মাদারস ক্রস র কথা তো অনেকেরই জানা আছে। যার মূল লক্ষ্য ছিল আদর্শ মা হয়ে ওঠার পাঠের আড়ালে অধিক সন্তান প্রসব করার আহ্বান।তবে পুতিনের অবশ্য আড়াল আবডালের কোনো বালাই নেই। তিনি সরাসরি তীব্র অপছন্দের সোভিয়েত ইউনিয়নের অতীত থেকে মাদার হিরোইন প্রকল্পটি ফিরিয়ে এনেছেন। এই প্রকল্পে যে রুশ নারীরা দশ বা ততোধিক সন্তানের জন্ম দেবেন তাঁরা সন্মানের সঙ্গে দশ লক্ষ রুবল আর্থিক পুরষ্কার পাবেন। সিংহ হৃদয় শাসক যে ইউক্রেন কে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পণ করেছেন। তার জন্য যুদ্ধে অসংখ্য সৈনিক প্রান হারাচ্ছেন। এমনিতে অকুতোভয় দন্ডমুন্ডের কর্তার মনে ভয় ঢুকেছে যদি সেনা কম পড়ে। তাই সেই খামতি মেটাতে এই সন্মান দান। এই স্বার্থসিদ্ধির জন্য মহিলা দলের স্বাস্থের কি হাল হবে তা ভেবে দেখার মতো সময় শাসকদের থাকতে নেই।সন্তান ধারণের জন্য মহিলাদের পুষ্টির সঙ্গে স্বাস্থের কারনে প্রয়োজন দুটি সন্তান প্রসবের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় সময়ের ব্যবধান। এই সমস্যাগুলি নজরে রাখার প্রয়োজন শাসকদলের কোনকালেই নেই। তাই ভোট এলে প্রতিপক্ষ কে বিঁধতে অথবা মহিলা ভোটারদের কাছে টানতে অজস্র কৌশল ব্যবহার করা হয়। তাই মেয়েরা যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে যান। অন্য দিকে, বিশ্ব নারী দিবস ঘিরে বহু সেমিনার, আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হয়। ভরে ওঠে দিস্তা দিস্তা কাগজের পাতা। ভরে যায় কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক। অথচ নারী স্বাধীনতা, নারী শিক্ষা, বৈষম্য দূরীকরণ বা সমানাধিকার সব ই কথার কথা রয়ে যায়। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে India justice report , সেই রিপোর্টে দেখানো হয়েছে লিঙ্গ বৈষম্য কতটা গভীরে পৌঁছেছে। ন্যায় বিচারের জন্য যে প্রতিষ্ঠান গুলি রয়েছে সেই পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা, সংশোধনাগার, লিগাল এড এবং মানবাধিকার কমিশন গুলিতে সময়ের সঙ্গে লিঙ্গ বৈষম্য কমেনি বরং বেড়েছে।India justice report য়ের editor Maja Daruwala Indian express য়ের পত্রিকার উত্তর সম্পাদকীয় লিখেছেন বর্তমানে justice delivery system য়ে গোটা দেশে মাত্র তিন লক্ষ মহিলা রয়েছেন। সংরক্ষণ ব্যবস্থার কল্যানে ওই মহিলার সিস্টেমে ঢুকতে পারলেও পদাধিকারের সিঁড়িতে তাদের অধিকার সেই নিচের ধাপে রয়েছে। রিপোর্টে উল্লিখিত তথ্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন বিচার ব্যবস্থায় নিম্ন আদালতে যদি ৩৫ শতাংশ মহিলা থাকেন তাহলে হাইকোর্টে এই সংখ্যা টা ১৩ শতাংশ। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে মাত্র তিন জন মহিলা বিচারপতি রয়েছেন। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে constabulary পর্যায় বারো শতাংশ মহিলা রয়েছেন। আর অফিস পর্যায় ওই সংখ্যা টা আরও কম, মাত্র ৮ শতাংশ। এছাড়া প্রিজন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মহিলা কর্মীর সংখ্যা ১৪ শতাংশ।Maja Daruwala লিখেছেন আজ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আসনে কোনো মহিলা বিচারপতি বসেননি। যদিও ১৯৮৯ সালে সুপ্রিমকোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি হন ফাতিমা বিভি। দেশের হাইকোর্ট গুলিতেও এক ই ছবি দেখা যাচ্ছে। স্বাধীনতার সাত দশকে মাত্র ষোলো জন মহিলা বিচারপতি হয়েছেন হাইকোর্টে। দেশের মানবাধিকার কমিশনের বিচার্য বিষয় গুলির মধ্যে অন্যতম হলো লিঙ্গ বৈষম্য। কিন্তু সেখানেও একই আঁধার। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে রাজ্যে রাজ্যে মানবাধিকার কমিশন গুলিতেও এক ই অবস্থা। এখনো পর্যন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে মাত্র তিন জন মহিলা সদস্য হয়েছেন। কমিশনের chair person হওয়া তো দূরের কথা। ঘটা করে বিশ্ব নারী দিবস পালন না করে দেশের আইন প্রণেতারা যদি সত্যিই মহিলাদের উন্নয়ন চান তাহলে এই অন্ধকার কোণগুলিতে একটু নজর দিলে পরিস্থিতি সত্যি ই বদলাতে পারে।

মার্চ ০৯, ২০২৪
রাজনীতি

'মুখোশ খুলে পড়েছে, এবার জনগণ জবাব দেবে', প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে তীব্র নিশানা মমতার

বৃহস্পতিবার দুপুরেই বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে গেরুয়া শিবির যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এই যোগ নিয়ে ধর্মতলা থেকে নাম না করে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, মুখোশ খুলে পড়ায় তিনি খুশি।বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দিয়েই মমতা সরকার ও তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শাসক শিবিরকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে তোপ দাগেন। এর ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। বিচারের চেয়ারে বসে বিজেপি বাবু বিজেপি পার্টির কথা ঘোষণা করছেন। এদের দিকে তাকিয়ে মানুষ বিচার পাবে? আমি বিচারপতি নিয়ে বলতে পারি না, আমি বিচার নিয়ে বলতে পারি। আমিও প্র্যাক্টিস করেছি এক সময়। আইনে কী বেঠিক কী সঠিক আমরাও জানি।নিজের খুশির কথা বোঝাতে গিয়ে মমতা বলেছেন, আমাকে বলছে তোমাদের যা সব রায় বেরোচ্ছে, এ দেখে তো রয়াল বেঙ্গল টাইগাররাও পালিয়ে যাবে ভয়ে। আমি বললাম কেউ কেউ আছেন কী আর করবেন? এরা কেউকেটা। তবে আমি খুশি এদের মুখোশটা বেরিয়ে গিয়েছে। মুখোশ খুলে পড়েছে। মুখ এবং মুখোশ।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এতদিন রায় দিতেন বিচারপতি। তাতে হাজার হাজার বেকার ছেলে-মেয়ে চাকরি থেকে বঞ্চিত। আগামিতে বিজেপি নেতা অভিজিৎবাবুর বিরুদ্ধে জনগণ রায় দেবেন। মমতার কথায়, আমরা প্রথম থেকে বলছিলাম হাজার হাজার চাকরি গিয়ে বড় নেতা হয়ে গিয়েছিলেন। অভিষেককে তো রোজ নাম করে গালাগালি দিত। অনেক কিছু দেখেছি আমি। আজ কোথায় গেলেন আপনি? কাল থেকে আপনার রায় জনগন দেবেন। আপনি হাজার হাজার ছেলে মেয়ের চাকরি খেয়েছেন। আপনার রায় জনগণ দেবেন।গুঞ্জন যে লোকসভা ভোটে তমলুক থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী। প্রাক্তন বিচারপতিকে নিশানা করে বললেন, তৈরি থাকুন। আপনি যেখানে দাঁড়াবেন আমি স্টুডেন্টদেরই নিয়ে যাব। স্টুডেন্টরাই লড়াই করবে। যাদের চাকরি আপনারা খেয়েছেন। স্বভাবিকভাবে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ভোটে দাঁড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করে তা নিয়ে কৌতুহল থাকবে রাজনৈতিক মহলের।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে এদিন চাকরি দুর্নীতিতে সংশোধনের কথা শোনা গিয়েছে। বলেছেন, চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা নেই, চাকরি কেড়ে নেন। বলতে পারতেন এর বদলে ওকে দিন। বলতে পারতেন এই প্যানেলটা বাতিল করে আরেকবার ডাকুন। আমার আপত্তি নেই। ভুল থাকে সংশোধন করে নিন। কোনও সুযোগ না দিয়ে ওয়ান সাইডেড গেম। এখনও ৫ লক্ষ চাকরি আমার তৈরি আছে। হিংসুটে বিজেপি, সিপিএম আর কংগ্রেস। এমন কর্কটে বাপ রে! কেউটে, গোখরোর থেকে ভয়ঙ্কর। চাকরি দিলেই পিল (জনস্বার্থ মামলা) করবে।উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একাধিক নির্দেশে বিড়ম্বনায় পড়েছে মমতা সরকার। তদন্তের মুখোমুখি অভিষেকও। তারপর একাধিকবার শাসক দলের নেতাদের তোপবাণে পড়তে হয়েছে তাঁকে। পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় অভিজিৎবাবু দাবি করেছিলেন যে, তৃণমূল নেতৃত্বের ভয়ঙ্কর সমালোচনার সামনে না পড়লে তিনি কোনওদিন রাজনীতিতে যোগদানের কথা ভাবতেন না।

মার্চ ০৭, ২০২৪
রাজ্য

আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান, কড়া নিরাপত্তা

আশা কর্মীদের বঞ্চনার প্রতিবাদে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান ঘিরে কোনওরকম বিশৃংখলার পরিস্থিতি না তৈরি হয় সেই জন্য স্বাস্থ্য ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের পাশেই নির্দিষ্ট স্থানে ঘেরাটোপে মধ্যে রাখা হয়েছে আশা কর্মীদের।বঞ্চনার প্রতিবাদে ১ মার্চ থেকে ঘোষিত লাগাতার কর্ম বিরতি, আজ পঞ্চম দিনে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান, উত্তরবঙ্গের দুটি জেলা বাদে ২১ টি জেলা থেকে আশা কর্মীরা স্বাস্থ্য ভবনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে। আশা কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা বঞ্চনার শিকার। অবিলম্বে আশা কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি করে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে, ইনসেনটিভ এর টাকা ভাগে ভাগে পাঠানো বন্ধ করে সমস্ত বকেয়া পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে, সরকারি কর্মীর নেয় আশা কর্মীদের জন্য প্রতিবছর সুনির্দিষ্ট হারে ইনক্রিমেন্ট করা এবং সমস্ত ছুটি বরাদ্দ করতে হবে, কাজের সুবিধার জন্য মোবাইল প্রদান করতে হবে। বাকি দাবিগুলোর মধ্যে করোনা আক্রান্ত আশা কর্মীদের জন্য ঘোষিত এক লক্ষ টাকা অবিলম্বে দিতে হবে, কোন প্রকল্পের কর্মী নয় আশা কর্মীদের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য কর্মীর স্বীকৃতি দিতে হবে, যেকোনো কাজের অর্ডারের সাথে পারিশ্রমিক অর্ডার দিতে হবে এবং তা সহজে পাওয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও সমস্ত আশা কর্মীদের বিশেষ করে জিটিএর অন্তর্গত জেলা ও ব্লকের আশা কর্মীদের টিয়ে বরাদ্দ করতে হবে এই সমস্ত দাবিদাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের গেটের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন আশা কর্মীরা।

মার্চ ০৫, ২০২৪
কলকাতা

বিধাননগরে রং, তুলি হাতে দেওয়াল লিখনে ব্যস্ত তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা

রং, তুলি হাতে শাড়ি পড়ে মহিলারা। ভোট প্রচারের দেয়াল লিখনে শঙ্খ বাজিয়ে স্লোগান দিয়ে ব্যস্ত তারা। বিধান নগর, মহিলা কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এভাবেই দেওয়াল লিখনের কাজে হাত লাগালো মহিলারাই। বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধান নগরে ভোটের প্রচারে দেয়াল লিখন শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলারা। আর এই প্রচার শুরু হল বিধাননগর কর্পোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলো দত্তর হাত ধরে। লোকসভা ভোটের দিন ঘোষণা হয়নি এখনও। প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিধান নগরের দত্তাবাদ এলাকায় তৃণমূল এর তরফ থেকে দেওয়াল লিখন শুরু করলো মহিলারা। শাড়ি পড়ে, রং তুলি হাতে ভোট প্রচারের কাজে দেয়াল লেখায় ব্যস্ত তাঁরা। তবে যেহেতু প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা হয়নি, সেই কারণে নামের জায়গা ফাঁকা রেখেই দেওয়াল লেখা হচ্ছে।

মার্চ ০৫, ২০২৪
রাজনীতি

শেষমেশ শুভেন্দুর হাত থেকে গেরুয়া পতাকা তুলে নিলেন কৌস্তভ

দীর্ঘ মতবিরোধের পর হাতের সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন বুধবার। এরপর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বিজেপির দিকেই ধাবিত হবে? এই নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত বিজেপিতে-ই যোগ দিলেন আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী। বৃহস্পতিবার বিজেপি দফতরে কৌস্তভের হাতে পদ্মপতাকা তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা।বিগত বেশ কয়েকমাস যুব নেতা কৌস্তভের সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সম্পর্ক ভাল ছিল না। ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের অবস্থানকে কেন্দ্র করে ফাটলের সূত্রপাত। পরে তৃণমূল বিরোধীতায় অধীর চৌধুরীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন এই আইনজীবী নেতা। কংগ্রেস থেকেই সেই পর্বে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা শোনা গিয়েছিল কৌস্তভ বাগচীর গলায়। এমনকী পতাকাছাড়া শুভেন্দু ও কৌস্তুভকে ডিএ আন্দোলন বা শিক্ষা দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনেও দেখা যায়। শেষমেষ গতকাল কংগ্রেস ছাড়েন তিনি। আর বৃহস্পতিবার যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে।কেন বিজেপিতে তাঁর যোগদান? সেই ব্যাখ্যায় এদিনও কৌস্তভ বাগচীর মুখে কংগ্রেসের সমালোচনা শোনা গেল। বললেন, মানুষের চাহিদা পূরণ না করতে পারলে তো রাজনীতি করার কোনও অর্থ নেই। যেখানে প্রদেশ কংগ্রেসের গুরুত্ব নেই। সেখানে সে দলের সঙ্গে থাকার কোনও অর্থ নেই। এখনও সেখানে থাকলে নিজেকে অসম্মানিত করা হবে। সন্দেশখালি নিয়ে কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্ব চুপ। আমার মনে হচ্ছে দিনের পর দিন কংগ্রেস যেভাবে তৃণমূল নিয়ে নরম মনোভাব দেখাচ্ছে, সেখানে আত্ম মর্যাদা নিয়ে সেই দলে থাকা যায় না।কৌস্তভের সাফ দাবি, সন্দেশখালিকাণ্ডে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অথচ কংগ্রেসের কোনও বক্তব্য নেই। দলের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষের থাকলেও কেউ বলছেন, কেউ বলছেন না। আমার মনে হয়েছে এখানে থাকাটা নিজের আত্মমর্যাদার সঙ্গে সমঝোতা করা। এই তৃণমূলের প্রতি নরম অবস্থান নিয়ে রাজ্যে তৃণমূলকে উৎখাত করা যাবে না।দুয়ারে লোকসভা ভোট। পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী হবেন তিনি? কৌস্তভ বলেন, আমি কোনও শর্তে দল করি না। চাওয়া পাওয়ার জায়গা নেই। অত্যাচারী শাসকদলকে এ রাজ্য থেকে উৎখাত করতেই বিজেপিতে যোগদান।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, কৌস্তভ ভাল যুবনেতা। মমতা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এলাকায় যান। এ জন্য পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারও করেছে। আমরা চাই কৌস্তভ বাগচী বিজেপিতে ভাল করে কাজ করতে পারবেন। আমাদের সকলের একটাই লক্ষ্য- দেশে মোদীজির হাত শক্তিশালী করা ও বাংলা থেকে মমতা কোম্পানিকে উৎখাত করা।বিজেপিতে যোগ দিয়েই কৌস্তভ বাগচী বলেন, মানুষের চাহিদা পূরণ না করলে তো রাজনীতি করার কোনও অর্থ নেই। যেখানে প্রদেশ কংগ্রেসের গুরুত্ব নেই। সেখানে সে দলের সঙ্গে থাকার কোনও অর্থ নেই। সন্দেশখালি নিয়ে কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্ব চুপ। আমার মনে হচ্ছে দিনের পর দিন কংগ্রেস যেভাবে তৃণমূল নিয়ে নরম মনোভাব দেখাচ্ছে, সেখানে আত্ম মর্যাদা নিয়ে সেই দলে থাকা যায় না।কৌস্তভ ছাড়াও এদিন হাত শিবির ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখান কংগ্রেস নেতা শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ মজুমদার এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সৌমিত্র দত্ত।

ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪
রাজনীতি

হাইকমান্ডকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দল ছাড়লেন আইনজীবী কংগ্রেস নেতা, লক্ষ্য কি গেরুয়া শিবির?

অবশেষে দল ছাড়লেন আইনজীবী কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী। হাইকমান্ডের সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের সখ্যতা নিয়ে বারবার প্রতিবাদ করেছেন, প্রশ্ন তুলেছিলেন নানা মহলে। তৃণমূল বিরোধিতায় নানা পরিস্তিতিতে তুলোধোনা করতে ছাড়েননি রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত।রাজ্যের নানা বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি কংগ্রেস হাইকমান্ডের শীতল মনোভাব নিয়ে বহুবার কড়া সমালোচনা করেছেন। গর্জে উঠেছেন সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে টিভি প্যানেল ডিসকাশান অবধি। এরই পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে কৌস্তভের।২০২৩ এর মার্চ মাসে কৌস্তভের গ্রেপ্তারের অব্যবহিত পরেই শুভেন্দু অধিকারী কৌস্তভের গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন। রাজনীতির ময়দানে দুজনে চরম বিরোধী হলেও কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সম্প্রতি মমতা সরকারের দুর্নীতি, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যে কয়েকজন যুবক সোচ্চার হয়েছেন তাঁদের মধ্যে কৌস্তভ অন্যতম। তাঁর দ্রুত মুক্তির দাবি করি। পুলিশ যে কায়দায় রাত তিনটের সময় ওঁর বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়েছে তার প্রতিবাদ করছি। আমরা সোচ্চার হবো। এর পর থেকেই দুজনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবী। বিশিষ্টদের ধারণা এখন হাতএ ফুল (পড়ুন পদ্ম) ধরা সময়ের অপেক্ষা।লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন, তার উত্তরে কৌস্তভ বাগচীর জানান, কংগ্রেস হাইকমান্ডের কাছে রাজ্য তৃণমূলরেই বেশি গুরুত্ব। প্রদেশ কংগ্রেসের কোনও গুরুত্বই নেই। কংগ্রেস তার রাজনৈতিক সত্তা হারিয়েছে, ঠিক সেই কারণেই পদত্যাগ বলে দাবি করেছেন আইনজীবী কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪
রাজ্য

সন্দেশখালিতে নির্যাতনের প্রতিবাদে অভিনব প্রতিবাদ মহিলা সমিতির

সন্দেশখালি নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সল্টলেক অভিনব প্রতিবাদ সর্বভারতীয় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির। মঙ্গলবার বিকাল থেকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে সল্টলেক সিটি সেন্টার মেট্রো স্টেশনের সামনে হাতে পোস্টার ব্যানার নিয়ে সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপর অত্যাচার তথা সারা বাংলা জুড়ে সাধারণ মানুষের উপর তৃণমূলের অত্যাচারের প্রতিবাদে সামিল হয় সর্বভারতীয় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিত। পাশাপাশি শেখ শাহজাহান এখনো অধরা, কুনাল ঘোষের বক্তব্য চাইলেই শেখ শাহজাহানকে এক সপ্তাহের মধ্যে ধরা যেতে পারে পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীরা বলেন সরকারি মদতে শাহজাহানকে আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪
রাজনীতি

তৃণমূলে প্রবীণ-নবীন বিতর্কে ইতি টানলেন অভিষেক, কটাক্ষ ব্রিগেডের সভাকে

রবিবারের ডিওয়াইএফআইয়ের ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে বামেদের কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পৈলানের বিষ্ণুপুরের যুব সঙ্ঘের মাঠে অভষেক বলেন, আজ রবিবার দুপুরে অনেক দল সভা করছে। আমাদের সঙ্গে সেই সব দলের ফারাক আছে। সবাই তাঁদের সভায় যান ভাষণ শুনতে। আর, আমাদের সভায় আসেন স্বপ্নকে বাস্তবায়িত হওয়া দেখার জন্য। আমি আগে ভোট, পরে কাজের কথা বলি না। আমি আগে কাজ করি। পরে ভোটের কথা বলি। এটাই আমাদের সঙ্গে অন্য দলের ফারাক। বাম-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, কেউ বলছেন ইনসাফ। কেউ বলছেন ন্যায়। কেউ বলছেন সবকা বিকাশ। আর আমরা যেটা করেছি, সেটা হল আসল ইনসাফ। সেটাই হল আসল ন্যায়। আজ ডায়মন্ড হারবারে যা হচ্ছে, সেটাই হল সবকা সাথ, সবকা বিকাশ।তাঁর এই সবকা সাথ, সবকা বিকাশ সম্পর্কেও মুখ খুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এদিন তিনি নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েও যাঁরা বার্ধক্য ভাতা পাননি, নিজের লোকসভা কেন্দ্রের এমন প্রবীণদের দলীয় ভাবে বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করলেন। এই প্রবীণরা প্রতিমাসে ১ হাজার টাকা করে পাবেন। এটা সরকারি বার্ধক্য ভাতা নয়। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, এটা করতে আমার মাত্র দুমাস সময় লেগেছে। ১ জানুয়ারি আমাদের দলের প্রতিষ্ঠা দিবস। তাই আরও সাত দিন সময় নিয়ে ৭৬ হাজার ১২০ জনকে বার্ধক্যভাতা দেওয়া হল। আগেই রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছিল। তারপর ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করা হয়েছে। ডেটা চেক করা হয়েছে। তারপর বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশন করে ৭৬ হাজার ১২০ জনকে ভাতা দেওয়া হল। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ১৬,৩৮০ স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। তাঁরা জনপ্রতি ৪-৫ জনের দায়িত্ব নিয়ে কাজগুলো করেছেন। এভাবেই আমরা ৭৬ হাজার ১২০ জনের মুখে হাসি ফোটালাম।তৃণমূলের নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও এদিন মুখ খোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন বলেন, তৃণমূলের মধ্যে কোথাও দ্বন্দ্বের জায়গা নেই। দল আমাকে যে দায়িত্বই দিয়েছে, আমি তা পালন করেছি। ২০২১ সালে দলকে নেতৃত্ব দিতে বলেছিল, সেই সময় দিয়েছি। ২০২৪ সালে আমাকে প্রার্থী করা হলে, দায়িত্ব দেওয়া হলেও আমি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত সুসংহত ভাবেই দল চালাচ্ছেন। আমি সব শক্তি দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়াব। আমি শুধু বলেছি যে, বয়স হলে কর্মক্ষমতা কমে। আমি ৩৬ বছর বয়স বলেই আড়াই মাস নবজোয়ার কর্মসূচির সময় রাস্তায় থাকতে পেরেছিলাম। আমার ৭০ বছর বয়স হলে সেই ক্ষমতা কমে যাবে। এই কথা নিয়ে এত বাজার গরম করার কী আছে? তৃণমূল কংগ্রেস একসঙ্গেই লড়বে। আমার প্রায়োরিটি হয়ত ডায়মন্ড হারবার। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছবি আর জোড়া ফুলের ঝান্ডা নিয়ে দল যেখানে আমাকে যেতে বলবে, যে বুথে ঢুকতে বলবে, আমি যাব।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৪
রাজ্য

সেনা ও আধা-সেনার চাকরিতে জাল ডোমিসিয়াল সার্টিফিকেটের ছড়াছড়ি! অভিযোগ পেয়ে কাঁকিনাড়া থেকে গ্রেপ্তার দুই

ভারতীয় সেনা ও আধা-সেনার চাকরিতে বাংলার কোটায় জাল ডোমিসিয়াল শংসাপত্র দাখিল করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ বাংলা পক্ষের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁকিনাড়া থেকে দুই বহিরাগত দালালকে আজ বৃহস্পতিবার ডায়ামন্ড হারবার জেলা পুলিস গ্রেপ্তার করে।সরকারি সুত্রে জানা গেছে, ডোমিসিয়াল সার্টিফিকেট সাধারণত দুধরনের হয়, ক্যাটাগরি-এ ও ক্যাটাগরি-বি। এ সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য অন্য রাজ্য থেকে আসা ওই ব্যক্তিকে সেই রাজ্যে দশ থেকে পনের বছর স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে হবে। আর বি ক্যাটাগরি সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য অন্য রাজ্য থেকে আসা ওই ব্যক্তির কোনও নিকটাত্মীয়কে সেই রাজ্যে দশ বছরের বেশী স্থায়ী ভাবে বসবাসের প্রমান দাখিল করতে হবে।বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালি সংগঠন বাংলা পক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই এই জাল ডোমিসিয়াল বিষয়ে আওয়াজ তুলেছে। তাঁরা জনতার কথাকে জানায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা থানার ঠিকানা দিয়ে জাল ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বানিয়ে বাংলার রাজ্য কোটায় আধাসেনার চাকরি দখল করেছিল আদিত্য প্রতাপ সিং এবং অমিত সিং নামে দুই ব্যাক্তি৷ বাংলা পক্ষের স্থানীয় সদস্যেরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, তাঁরা কেউই পশ্চিমবঙ্গে থাকে না, তাঁরা সকলেই অন্য রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। বাংলা পক্ষর মহেশতলা বিধানসভার সম্পাদক সুশাস্ত চক্রবর্তী মহেশতলা থানায় অভিযোগ জানিয়ে একটি এফআইআর করেন। সেই এফআইআর নং (FIR) - 535/23, Dated- 07/10/2023.বুধবার গভীর রাতে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের কাঁকিনাড়া থেকে জাল ডোমিসাইল ও জাল কাস্ট সার্টিফিকেট চক্রের অন্যতম দুই বহিরাগত পাণ্ডা বিক্কি চৌধারী ও রাজু চৌধারীকে গ্রেপ্তার করে ডায়ামন্ড হারবার পুলিস জেলার মহেশতলা থানা। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালত পেশ করলে বিচারক দুই অভিযুক্তের ৪ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে এই চক্রের আর এক মাথা কাঁকিনাড়ার এক সেনা জওয়ান রাহুল শার বিরুদ্ধে ১৭ মাহার রেজিমেন্টে তথ্য প্রমাণ সহ অভিযোগ জানানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী।বাংলা পক্ষের শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, আধাসেনায় বাংলার রাজ্য কোটার হাজার হাজার চাকরি দখল হয়ে যাচ্ছে। জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে দালাল মারফৎ ভিন রাজ্যের লোকজন বাংলার চাকরি দখল করছে। গত এক বছর বাংলা পক্ষ এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করছে। CRPF ভবনে বিক্ষোভ কর্মসূচীও করেছিল বাংলা পক্ষ। গত কয়েক মাসে ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর সহ বিভিন্ন মহকুমা শাসকের অফিসে, পুলিস সুপারের অফিসে বিক্ষোভ কর্মসূচী করেছে বাংলা পক্ষ। বিএসএফ, সিআইএসএফ সহ বিভিন্ন সেনা ক্যাম্পের বাইরেও ঘেরাও কর্মসূচী করেছে বাংলা পক্ষ। কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও করেছিল বাংলা পক্ষ। কৌশিক মাইতি আরও জানান তাঁরা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটা দালাল কে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে। বাংলা পক্ষ বাংলার বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের বঞ্চিত হতে দেবে না বলে তিনি জানান।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৪
রাজ্য

২১ হাজার ডিটোনেটর, ২৪ হাজার জিলোটিন এবং ৫০ কেজির ১৪ বস্তা নাইট্রেট উদ্ধার বীরভূমে

প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার হল বীরভূমের নলহাটি পাথর শিল্পাঞ্চলে। বোমা বিশেষজ্ঞ দল গ্রামে গিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধার করে নিয়ে যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নলহাটি থানার চন্দননগর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বিস্ফোরকগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে ২১ হাজার ডিটোনেটর, ২৪ হাজার জিলোটিন এবং ৫০ কেজির ১৪ বস্তা নাইট্রেট। দিন দুয়েক আগেই রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র বিস্ফোরকগুলি উদ্ধার করে বোম স্কোয়াডকে খবর দেয়। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ সেগুলি উদ্ধার করে বোম স্কোয়াড। তবে এনিয়ে কেউ মুখ খুলতে চায়নি। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক পাথর শিল্পাঞ্চলে ব্যবহারের জন্য মজুত করা হয়েছিল না অন্য কোনও অভিসন্ধি ছিল দুষ্কৃতীদের। উদ্ধার হওয়া পরিত্যক্ত বাড়ির মালিক মারা যাওয়ায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৩
রাজ্য

অভিযুক্ত প্রমোটারের দেখা মিলতে পারে নেতাজি ইন্ডোরে, বিচারপতির মন্তব্যে হইচই

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একাধিক পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্যে হইচই পড়ে যায়। রীতিমতো চর্চা চলে সব মহলেই। বিচারে রায়ের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে ভগবান তকমা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে আপাতত নিয়োগ দুর্নীতির কোনও মামলাই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে নেই। তবুও এই বিচারপতির মন্তব্যে তোলপাড় পড়েছে। হাওড়ার লিলুয়ায় পার্থ ঘোষ নামে এক প্রোমোটারের বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্টে। উচ্চ আদালত আগেই সেই নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু মামলাকারী সন্ধ্যা ঘোষের অভিযোগ যে, আদালতের নির্দেশের পরেও সেই নির্মাণ ভাঙা হয়নি। বৃহস্পতিবার ছিল এই মামলার শুনানি। যা নিয়ে এদিন এজলাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দুপুর সাড়ে তিনটের মধ্যে অভিযুক্ত প্রোমোটার পার্থ ঘোষকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। পুলিশকেও ভর্ৎসনা করেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় পুলিশকে অভিযুক্ত নির্মাণকারীর দালাল বলে কটাক্ষ করেন।শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে এজলাসে বলতে শোনা যায়, ওকে (পার্থ ঘোষ) কোথাও খুঁজে না পাওয়া গেলে নেতাজি ইন্ডোরে গিয়ে খুঁজুন। পেয়ে যাবেন। পরে ওই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার সময়ও নির্দিষ্ট করে দেন বিচারপতি। আদালতের নির্দেশ, আগামী ৬ দিনের মধ্যে বালির বেআইনি ওই নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে, কাল সকাল ১১টা থেকেই ভাঙার কাজ শুরু করেত হবে।বৃহস্পতিবার বেলায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশন ছিল। সাংসদ, বিধায়ক মন্ত্রীদের সঙ্গে এসেছিলেন তাঁদের অনুগামীরা ও দলের বিভিন্নস্তরের কর্মীরা। এই সভার মূল বক্তা ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ হেন অবস্থায় ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অভিযুক্ত প্রোমোটারের দেখা মিলতে পারে- বিচারপতির এই মন্তব্য বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নভেম্বর ২৩, ২০২৩
রাজ্য

মালদার বামনগোলায় খাটিয়ায় বয়ে নিয়ে যাওয়া বধূ মৃত্যুর অভিযোগে দিনভর শোরগোল

মালদার বামগোলায় তরুণী মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দার ঝড়। খাটিয়ায় রোগী নিয়ে যাওয়ার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে দিনভর তোলপাড় হল বাংলা। চলেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এসবের মধ্যেই ওই তরণীর মর্মান্তির পরিণতি নিয়ে বড় দাবি করে বসলেন রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রীর মতে, হতশ্রী রাস্তার জন্য নয়, ভাগ্যের কারণেই মালডাঙা গ্রামের তরুণীর মৃত্যু হয়েছে!খাটে শুয়ে অসুস্থ গৃহবধূ। আর সেই খাট বাঁশ আর দড়ি দিয়ে পালকির মতো বেঁধে বেহাল রাস্তা দিয়ে হেঁটে নিয়ে যাচ্ছেন অসুস্থ গৃহবধুর পরিবারের লোকেরা। যদিও ওইভাবে হাসপাতালে যাওয়ার সময়ই মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ভাইরাল ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়তেই তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনাটি মালদার আদিবাসী অধ্যুষিত বামনগোলার গোবিন্দপুর মহেশপুর পঞ্চায়েতের মালডাঙা গ্রামের। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, গ্রামের এই কাঁচামাটির রাস্তায় কোনও গাড়ি ঢুকতে চায় না। তাই ওই গৃহবধুর পরিবারের লোকেরা মাচা তৈরি করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই গৃহবধূকে। কিন্তু শেষমেশ আর তাঁকে বাঁচানো যায়নি।মালদার বামগোলায় তরুণী মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দার ঝড়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এসবের মধ্যেই ওই তরণীর মর্মান্তির পরিণতি নিয়ে বড় দাবি করলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রীর মতে, হতশ্রী রাস্তার জন্য নয়, ভাগ্যের কারণেই মালডাঙা গ্রামের তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।মৃতের নাম মামনি রায় (২০)। দুই বছর আগে এলাকার বাসিন্দা কার্তিক রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মামনির। সম্প্রতি তিনি জ্বরে ভুগছিলেন বলে খবর। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় করেন। বাড়িতে তাঁর ২ বছরের এক সন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, বেহাল রাস্তার বলি হলেন বছর কুড়ির গৃহবধূ।দীর্ঘ দিন ধরেই বেহাল ওই রাস্তা। প্রশানের কাছে জানিয়েও কাজের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গা শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন বলেই দাবি জেলা তৃণমূল নেতাদের।কিন্তু, বামগোলার ঘটনা নিয়ে শোরগোল ফেলা মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়িয়েছেন মমতা মন্ত্রিসভার সদস্য সিদ্দকুল্লা চৌধুরী। শনিবার বর্ধমান শহরে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের যুদ্ধ বিরতি মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, রাস্তার কারণে নয়, ভাগ্যে ছিল তাই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। ১০০ জনের মধ্যে ১ জনের অবস্থার ভিত্তিতে বাকি ৯৯ জনকে খারাপ বলব কি করে। হাতে কষ্ট হলে কি বলব মাথা খারাপ হয়েছে? আমাদের বললেই সারিয়ে দিতাম।বামনগোলা নিয়ে সিদ্দিকুল্লার বক্তব্য প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলছে। এ ধরণের অসংবেদনশীল মানুষই রাজ্যের মন্ত্রী। এবার এসএসকেএম সহ রাজ্যের সব হাসপাতালে তান্ত্রিক, ওঝা বসবে। আসলে বিরোধী জনপ্রতিনিধি হলেই সেই পঞ্চায়েত, পুরসভার ওয়ার্ড বা বিধানসভায় কাজ করার সুযোগ নেই। টাকা অনুমোদনই হয় না। ফলে রাস্তার ওই বেহাল অবস্থা।সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ওনার কথা মুখ্যমন্ত্রী লুফে নেবেন। যাঁরা চাকরির দাবিতে রাস্তায় বসে রয়েছেন মন্ত্রী তাঁদের কাছে গিয়ে বলুন যে ভাগ্যের জন্যই তারা ন্যায্য চাকরি থেকে বঞ্চিত, দুর্নীতির দায়ে জেলবন্দি পার্থ, বালুদের বলুন ভাগ্যের কারণেই তাঁদের এই পরিণতি। উনি মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন ভাগ্য ভাল তাই মমতা এখনও টিঁকে গেছেন। এরা মন্ত্রী বলতে লজ্জা করে।

নভেম্বর ১৮, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • ...
  • 47
  • 48
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

অবশেষে ভোটের দিন ঘোষণা! বাংলা সহ পাঁচ রাজ্যে কবে ভোট জানলে চমকে যাবেন

অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বাংলা সহ দেশের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানা গেছে, ঊনত্রিশে এপ্রিলের মধ্যেই পাঁচ রাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। ভোটগণনা হবে চার মে। গতবারের তুলনায় এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দফা কমানো হয়েছে। বাংলায় এবার দুই দফায় ভোট হবে।প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে তেইশে এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ঊনত্রিশে এপ্রিল। এই দুই দফাতেই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে।বাংলা ছাড়াও আরও চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এবারে বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে। সেই তালিকায় রয়েছে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এই চার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এক দফাতেই ভোটগ্রহণ হবে।অসমে মোট বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা একশো ছাব্বিশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সেখানে ভোটগ্রহণ হবে নয় এপ্রিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন তেইশে মার্চ। ভোটগণনা হবে চার মে।কেরলে মোট বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা একশো চল্লিশ। এই রাজ্যেও ভোট হবে নয় এপ্রিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন তেইশে মার্চ এবং ভোটগণনা চার মে।তামিলনাড়ুতে মোট বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে দুইশো চৌত্রিশটি। এই রাজ্যেও এক দফাতেই ভোট হবে। ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে নয় এপ্রিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন তেইশে মার্চ এবং ভোটগণনা চার মে।কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে মোট বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা তিরিশ। এখানেও ভোট হবে নয় এপ্রিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন তেইশে মার্চ এবং ভোটগণনা চার মে।নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার পর থেকেই পাঁচ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ভোটের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সব রাজনৈতিক দল এখন ভোটের লড়াইকে সামনে রেখে নিজেদের প্রচার এবং কৌশল ঠিক করতে শুরু করেছে।

মার্চ ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা, দুই দফায় ভোট বাংলায়— দেখে নিন আপনার কেন্দ্রের তারিখ

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। রবিবার বিজ্ঞান ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলাসহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির ভোটের নির্ঘণ্টও প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলায় এবার দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে তেইশে এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ঊনত্রিশে এপ্রিল। ভোট গণনা হবে চার মে।প্রথম দফার ভোটের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছয় এপ্রিল। মনোনয়ন যাচাই হবে সাত এপ্রিল এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন নয় এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন নয় এপ্রিল। মনোনয়ন যাচাই হবে দশ এপ্রিল এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন তেরো এপ্রিল।প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভোটগ্রহণ হবে। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ, মাথাভাঙা, কোচবিহার উত্তর, কোচবিহার দক্ষিণ, শীতলকুচি, সিতাই, দিনহাটা, নাটাবাড়ি এবং তুফানগঞ্জে ভোট হবে প্রথম দফায়। আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম, কালচিনি, আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা ও মাদারিহাট কেন্দ্রেও এই দফাতেই ভোটগ্রহণ হবে।জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি, মাল ও নাগরাকাটা কেন্দ্রে ভোট হবে প্রথম দফায়। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার কালিম্পং, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি ও ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্রেও প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে।উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ ও ইটাহার কেন্দ্রেও এই দফায় ভোট হবে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট, তপন, গঙ্গারামপুর ও হরিরামপুরেও প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে।মালদহ জেলার হবিবপুর, গাজোল, চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর, রতুয়া, মানিকচক, মালদহ, ইংরেজবাজার, মোথাবাড়ি, সুজাপুর ও বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রে ভোট হবে প্রথম দফায়। মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, সুতি, জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘি, লালগোলা, ভগবানগোলা, রানিনগর, মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, খড়গ্রাম, বড়ঞা, কান্দি, ভরতপুর, রেজিনগর, বেলডাঙা, বহরমপুর, হরিহরপাড়া, নওদা, ডোমকল ও জলঙ্গিতেও এই দফাতেই ভোটগ্রহণ হবে।এ ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রথম দফায় ভোট হবে।দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার সব আসনে। নদিয়া জেলার করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট উত্তর পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটা কেন্দ্রে ভোট হবে দ্বিতীয় দফায়।উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া, হাবড়া, অশোকনগর, আমডাঙা, বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, বারাকপুর, খড়দহ, দমদম উত্তর, পানিহাটি, কামারহাটি, বরানগর, দমদম, রাজারহাট নিউটাউন, বিধাননগর, রাজারহাট গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর ও হিঙ্গলগঞ্জেও দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে।দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমান জেলার সব কেন্দ্রেও দ্বিতীয় দফাতেই ভোট হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দুই দফার এই নির্বাচনে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দল এখন ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

মার্চ ১৫, ২০২৬
কলকাতা

ব্রিগেডে জনসমুদ্র না ফাঁকা চেয়ার? মোদীর সভা ঘিরে শুরু তুমুল রাজনৈতিক তরজা

বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল। সভায় ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত বিজেপি নেতৃত্ব পরিবর্তনের স্লোগান তুলেছে। তাদের দাবি, এই ভিড়ই প্রমাণ করছে বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। অন্যদিকে ভিড়ের সংখ্যা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।ব্রিগেডের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দূর চোখ যাচ্ছে শুধু মানুষ আর মানুষ। এই দৃশ্য তাঁকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এই ভিড়ই বুঝিয়ে দিচ্ছে বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। সভা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সভার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন এবং মানুষের উপস্থিতির প্রশংসা করেন।বিরোধী দলনেতার দাবি, ব্রিগেডের সভায় আট থেকে দশ লক্ষ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁর কথায়, গোটা ব্রিগেড ময়দান কানায় কানায় ভর্তি ছিল এবং কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায়ও মানুষের ভিড় ছিল।বিজেপি নেতাদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস স্পষ্ট ছিল। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে মঞ্চে গলা থেকে উত্তরীয় খুলে ঘোরাতে দেখা যায়। সেই ভিডিও তিনি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। দলের সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্যও কর্মীদের উচ্ছ্বাসের ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, বাংলার প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ ব্রিগেডে এসেছেন। তাঁর কথায়, কলকাতা যেন গেরুয়া সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল এবং এই উচ্ছ্বাসই বুঝিয়ে দিচ্ছে পরিবর্তনের সময় এসেছে।তবে এই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল। তাদের দাবি, ব্রিগেডে বিজেপির সভায় তেমন ভিড় হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে সারিবদ্ধ ফাঁকা চেয়ারের ভিডিও প্রকাশ করে তৃণমূল দাবি করেছে, বাংলার মানুষ বিজেপিকে গ্রহণ করেননি।তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও কটাক্ষ করে বলেন, একটি অংশের ছবি দেখিয়ে বড় সভা বলা যায় না। তাঁর দাবি, এর থেকেও বড় সমাবেশ অন্য রাজনৈতিক দল আগে করেছে।এদিকে বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মীদের ব্রিগেডে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় বাস আটকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।সব মিলিয়ে ব্রিগেডের সভা শেষ হলেও ভিড় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও জোরদার। ভোটের আগে এই সভা যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে, তা বলাই যায়।

মার্চ ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ভোট ঘোষণার ঠিক আগে বড় ঘোষণা মমতার, সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে আসছে বকেয়া ডিএ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি মাস থেকেই সেই টাকা কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে। ভোট ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে সামাজিক মাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি পেয়েছেন বহু সরকারি কর্মচারী।মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ করছে মা-মাটি-মানুষের সরকার। রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার কর্মীরাও এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাবেন।তিনি আরও জানান, রাজ্যের অর্থ দপ্তরের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী রোপা দুই হাজার নয় অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। মার্চ মাস থেকেই সেই টাকা কর্মীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করবে।উল্লেখ্য, এর আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেখানে আদালত বকেয়া মহার্ঘ ভাতার পঁচিশ শতাংশ পরিশোধ করার নির্দেশ দেয় এবং তার জন্য ছয় সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়।কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে বকেয়া ভাতা মেটানো হয়নি। পরে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও ছয় মাস সময় চেয়ে আবেদন করে। দুই হাজার পঁচিশ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই মামলার শুনানি শেষ হয়। এরপর গত পাঁচ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, মহার্ঘ ভাতা কর্মীদের আইনি অধিকার এবং তা মেটাতেই হবে।আদালত জানায়, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার পঁচিশ শতাংশ দুই দফায় পরিশোধ করতে হবে এবং তা মে মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তি দিতে হবে একত্রিশে মার্চের মধ্যে।এর পর বাকি কত টাকা দেওয়া হবে এবং কত সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি।রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছিল, ডিএ দেওয়ার জন্য তিন লক্ষ সতেরো হাজারেরও বেশি কর্মীর নথি খতিয়ে দেখতে হচ্ছে। দুই হাজার ষোলো সালের আগের অনেক তথ্য এখনও ডিজিটাল নয়, সেগুলি হাতে লেখা সার্ভিস বুক আকারে রয়েছে। সেই সব নথি ডিজিটাল করতে সময় লাগছে বলেও জানানো হয়।এ ছাড়াও প্রশাসনিক কাজের চাপ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার কথাও আদালতে উল্লেখ করেছিল রাজ্য সরকার। তবে দীর্ঘদিন ধরে ডিএ না মেলায় সরকারি কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। সম্প্রতি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ধর্মঘটের ডাকও দিয়েছিল। যদিও সেই ধর্মঘট খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি।এর মধ্যেই রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় পরিষ্কার হয়েছে, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার পঁচিশ শতাংশ চলতি মাসেই কর্মীদের দেওয়া হবে।

মার্চ ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ভোট ঘোষণার ঠিক আগে বড় ঘোষণা মমতার, পুরোহিত ও মুয়াজ্জেমদের ভাতা বাড়ল

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকার পরিমাণ আগেই বাড়ানো হয়েছিল। যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণাও করা হয়েছে। তবে বাজেট ঘোষণার সময় পুরোহিত ও মুয়াজ্জেমদের জন্য আলাদা কোনও ঘোষণা করা হয়নি। এবার ভোট ঘোষণার ঠিক আগেই তাঁদের ভাতা বাড়ানোর কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সূত্রের খবর, রবিবার বিকেল চারটের সময় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। তার কিছু আগেই দুপুর দুটো চল্লিশ মিনিট নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে পুরোহিত ও মুয়াজ্জেমদের ভাতা বাড়ানোর কথা জানান।এতদিন পর্যন্ত পুরোহিত ও মুয়াজ্জেমরা মাসে এক হাজার পাঁচশো টাকা করে ভাতা পেতেন। সেই ভাতা পাঁচশো টাকা বাড়িয়ে এখন থেকে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সমাজে পুরোহিত ও মুয়াজ্জেমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন করে যাঁরা পুরোহিত ও মুয়াজ্জেম হিসেবে ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের আবেদনও রাজ্য সরকার গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সমাজের সব সম্প্রদায় যেন সম্মান পায় এবং সব সংস্কৃতি যেন সমান মর্যাদা পায়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।তবে এই ঘোষণা ঘিরে বিরোধীদের তরফে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এখন পুরোহিত ভাতা বাড়িয়ে বাংলার মানুষকে পাঁচশো টাকা দিয়ে খুশি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।ভোটের ঠিক আগে এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্চ ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বিকেলে ভোট ঘোষণা, তার আগে রাজ্য জুড়ে পুলিশ বদলির নির্দেশ

আজ রবিবার বিকেল চারটেয় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজ্য পুলিশের ভিতরে বড় রদবদল করল নবান্ন। সূত্রের খবর, মোট সাতাশ জন ইন্সপেক্টর এবং বারোটি থানার আইসি-কে বদলি করা হয়েছে।ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় একাধিক ইন্সপেক্টরকে নতুন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিধাননগর, বারাকপুর এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের বেশ কয়েকটি থানার আইসি-রও বদলি করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও কয়েক জন ইন্সপেক্টরকে অন্যত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার ঠিক আগে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে হবে।উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, জলপাইগুড়ি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বিধাননগর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং হুগলি সহ একাধিক জেলায় এই বদলি করা হয়েছে। ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরাও প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন যাতে পরে আর বদলি করতে না পারে, সেই কারণেই আগেভাগে এই বদলি করা হয়েছে। তবে তাঁর মতে, এতে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কমে যায় না। প্রয়োজনে কমিশন এই সব আধিকারিকদের অতীত কাজ এবং ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পারে।উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেও রাজ্য পুলিশে বড় বদলি করা হয়েছিল। সে সময় চার জন আইপিএস আধিকারিককে অন্যত্র পাঠানো হয়। আলিপুরদুয়ার, বসিরহাট এবং জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার এবং রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিকেরও বদলি করা হয়েছিল।সাধারণত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেলে আদর্শ আচরণবিধি জারি হয়ে যায়। তার পর প্রশাসনে বড় কোনও বদলি করতে গেলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি প্রয়োজন হয়। সেই কারণেই ভোট ঘোষণার ঠিক আগে এই রদবদলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মার্চ ১৫, ২০২৬
রাজ্য

কারা পাচ্ছেন তৃণমূলের টিকিট? সামনে এল সম্ভাব্য প্রার্থীদের চমকপ্রদ তালিকা

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। যে কোনও মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে পারে। তার আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে জোর আলোচনা। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এবার বেশ কিছু নতুন ও তরুণ মুখকে টিকিট দেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে।দলের অন্দরে শোনা যাচ্ছে কয়েকটি নাম নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন মুখদের মধ্যে প্রথমেই উঠে আসছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি জয়া দত্তের নামও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে তিনি অশোকনগরের কাউন্সিলর। যদিও অতীতে ছাত্র সংগঠনের ভর্তিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাঁর নাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং সেই সময় তাঁকে সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।প্রাক্তন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ঘুরছে। সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। বিভিন্ন আন্দোলন এবং কর্মসূচিতে তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে।আরেক রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি সম্প্রতি সংসদে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁকে বীরভূম জেলার কোনও একটি আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে।দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কয়েকজন মুখপাত্রের নামও ঘুরছে। সেই তালিকায় রয়েছেন কুণাল ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী এবং তন্ময় ঘোষ। আগের উপনির্বাচনের সময় কুণাল ঘোষকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জল্পনা হয়েছিল। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।সম্প্রতি সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতীকূর রহমানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাঁর পাশাপাশি নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মন। তিনি এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন এবং কিছুদিন আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।দলের তরুণ নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের নামও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। আগের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছিল। পরে লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল তমলুক থেকে। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি জয় পাননি।এ ছাড়াও আরও কিছু নতুন নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। শোনা যাচ্ছে এন্টালির বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার ছেলে সন্দীপন সাহা প্রার্থী হতে পারেন। তিনি বর্তমানে কলকাতা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন এবং জোকা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র।রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা চলছে সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিতের নাম নিয়েও। তাঁকে খড়দা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জল্পনা। বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শুভাশিস চক্রবর্তীর নামও শোনা যাচ্ছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার একটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে।এছাড়াও তারকাখচিত তালিকায় গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর নামও উঠে আসছে। উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। যদিও অতীতেও এমন জল্পনা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই সময় প্রার্থী হননি।অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ঘুরছে। বিনোদন জগতের পরিচিত এই মুখকে প্রার্থী করলে ভোটের প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।এই সব নাম নিয়ে জোর আলোচনা চললেও তৃণমূলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা এখনও প্রকাশ হয়নি। ভোট ঘোষণার পরেই দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ১৫, ২০২৬
কলকাতা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল আরজি করের ঘটনা! বিস্ফোরক বার্তা দিলেন মোদি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিগেডে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে মহিলারা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন। তিনি জানান, তৃণমূলের গুন্ডারাজ আর থাকবে না, কেউ দমন করতে পারবে না। মোদির দাবি, বর্তমানে রাজ্যে সন্ত্রাসবাদ ও অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মায়েরা কাঁদছে, বাঙালিরা নিজেদের জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। মোদী বলেন, বাংলার রুটি, মাটি, বেটি বিপন্ন, জনবিন্যাস পরিবর্তিত হয়েছে এবং হিন্দু বাঙালিদের সংখ্যালঘু করার চেষ্টা হচ্ছে।মোদী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের প্রকল্প রাজ্যে পৌঁছতে দিচ্ছে না তৃণমূল সরকার। বিশ্বকর্মা প্রকল্প থেকে টাকা দেওয়া সত্ত্বেও মানুষের কাছে তা পৌঁছায় না। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রকল্পও আটকানো হয়েছে। চা শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পিএম আবাস যোজনার নাম বদলানো হয়েছে, তালিকা বদল করা হয়েছে, গরিবদের বাড়ি দেওয়া হয়নি। জলজীবন মিশন এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পও চালু হতে দিচ্ছে না। মোদীর দাবি, বাংলার গরিবরা এ সব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কৃষকদের পরিস্থিতিও শোচনীয়। একজন আলু চাষি আত্মহত্যা করেছেন। তৃণমূলের নোংরা রাজনীতি মা-বোনেদের সম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মোদী স্মরণ করান, বাংলার মানুষ আগে একসময় বাম গুন্ডাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই বাম দলের কিছু নেতাকে তৃণমূল আশ্রয় দিচ্ছে। রাজ্যে অপরাধীরা নিরাপদ, কলেজে ও আদিবাসী মহিলাদের উপর হামলা হচ্ছে, এবং মানুষ এখনো সন্দেশখালি, আরজিকরের মতো ঘটনা মনে রাখে।মোদী স্পষ্ট জানান, বিজেপি সরকার এলে এসব অন্যায়ের অবসান হবে। আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে, অপরাধীদের জেল ভাড়া হবে, এবং গরিব ও সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

মার্চ ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal