• ৭ আশ্বিন ১৪৩৩, শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

OC

শিক্ষা

“মেয়েরা সুস্থ থাকলেই এগিয়ে যাবে সমাজ”—কাঞ্চননগর স্কুলে নারী স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা শিবির

নারী সুস্থ থাকলেই সুস্থ পরিবার, সুস্থ সমাজকাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে নারী স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা শিবিরনারীর স্বাস্থ্য শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের সুস্থতা। ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি, সংক্রমণ প্রতিরোধ, মানসিক সুস্থতা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধিনারী স্বাস্থ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ সচেতনতা শিবির।শিবিরে ছাত্রীদের সামনে নারী স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছোট বয়স থেকেই গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিজের শরীর ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও প্রত্যেকের রয়েছে।বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুনীতা সাহা বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারীস্বাস্থ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি পরিবারের সুস্থতার সঙ্গে মেয়েদের স্বাস্থ্য সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাড়িঘর এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও ছাত্রীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, পরিচ্ছন্নতা শুধু অভ্যাস নয়, সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি।অন্যদিকে শিক্ষিকা নন্দিনী দে স্বাস্থ্যকে শুধুমাত্র শারীরিক সুস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানসিক সুস্থতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুস্থ শরীরের পাশাপাশি সুস্থ মনও প্রয়োজন। তাই দৈনন্দিন জীবনে একটি সাধারণ পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও ছাত্রীদের সচেতন করা হয়। এই সময়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সংক্রমণের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং শরীরের কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং অলসতা এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়।খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টিও উঠে আসে শিবিরে। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। শরীরে ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে নিয়মিত পর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণ এবং খাদ্যতালিকায় উপযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক তথা জাতীয় শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত নারীস্বাস্থ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, অনেক ক্ষেত্রেই নারীর স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক পরিকাঠামো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসও নারীস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেকেরই নিজের সুস্থতার পাশাপাশি অন্যের সুস্থতার কথাও ভাবতে হবে। কারণ, একটি সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই সমাজের মেয়েরা সুস্থ, সচেতন এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।শিবিরে নারীস্বাস্থ্য নিয়ে এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ছাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়, দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই যে সুস্থ ভবিষ্যতের অন্যতম চাবিকাঠিসেই বার্তাই উঠে আসে এই সচেতনতা শিবির থেকে।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

১৮-র আগেই মা—বর্ধমানে দুই নাবালিকার ঘটনায় গ্রেফতার স্বামী, পকসো-সহ একাধিক ধারায় মামলা

বর্ধমান: বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকাদের গর্ভধারণ রুখতে প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যেই পূর্ব বর্ধমানে পরপর দুই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দুই নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৃথক দুই মামলায় তাদের স্বামীদের গ্রেফতার করেছে ভাতার ও রায়না থানার পুলিশ। দুটি ঘটনাতেই পকসো আইন, বাল্যবিবাহ রোধক আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।সম্প্রতি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৮ বছরের আগে কোনও মেয়ের সন্তান হলে সংশ্লিষ্ট স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার কথা বলা হয়েছিল। সেই ঘোষণার পরেই পূর্ব বর্ধমানে নাবালিকার গর্ভধারণকে ঘিরে পরপর দুই মামলায় পুলিশের সক্রিয়তায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাল্যবিবাহ ও নাবালিকাদের সুরক্ষার বিষয়টি।পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথম ঘটনাটি ভাতার থানা এলাকার। স্থানীয় বাসিন্দা ১৪ বছরের এক কিশোরী গর্ভবতী অবস্থায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বর্ধমান থানার নজরে আনে। এরপর নিয়ম মেনে জিরো এফআইআর দায়ের করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য ভাতার থানায় পাঠানো হয়।অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে ভাতার থানার পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরীর বয়ানও নথিভুক্ত করা হয়। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে ভাতার থানা এলাকার একটি বাড়ি থেকে কিশোরীর স্বামীকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। নাবালিকার বয়স এবং গর্ভধারণের বিষয়টি সামনে আসার পরই তাঁর বিরুদ্ধে পকসো-সহ একাধিক আইনে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।দ্বিতীয় ঘটনাটি রায়না থানা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর হুগলির তারকেশ্বরের একটি হাসপাতালে এক নাবালিকা পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নাবালিকার বিয়ে এবং গর্ভধারণের বিষয়টি জানতে পেরে তা তারকেশ্বর থানাকে জানায়। সেখানেও জিরো এফআইআর দায়ের করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য রায়না থানায় পাঠানো হয়।মামলার তদন্তভার হাতে নিয়ে রায়না থানার পুলিশ সংশ্লিষ্ট নাবালিকার বিয়ে এবং গর্ভধারণ সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখে। তদন্তের পর সোমবার ভোররাতে দেরিয়াপুরে অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়।দুটি মামলাতেই তদন্তকারীরা নাবালিকাদের বয়স, বিয়ের পরিস্থিতি এবং গর্ভধারণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।সোমবার দুই অভিযুক্তকেই বর্ধমানের পকসো আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের আবেদনের ভিত্তিতে ধৃতদের মেডিক্যাল পরীক্ষার অনুমতি দেয় আদালত। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক স্টেট মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পকসো আদালতের বিচারক দেবশ্রী হালদার।আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতারের ঘটনায় ধৃতকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর তাঁকে ফের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে রায়নার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তকেও বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে আগামী ১ অক্টোবর আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পরপর দুই ঘটনায় নাবালিকাদের সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং পকসো আইনের প্রয়োগ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশি তদন্তে বিয়ের প্রকৃতি, নাবালিকার বয়স এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত দুই মামলাতেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও বিরাট নাটক! ভোটে না লড়ার ঘোষণার পর তড়িঘড়ি কেন অবস্থান বদল মমতা ঘনিষ্ঠ রবিউল আলমের?

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও কি প্রার্থীহীন হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির? শনিবার সকাল থেকে এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয় জল্পনা। প্রথমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল করলেন রেজিনগরে মমতা গোষ্ঠীর তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানান, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচনী প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।রবিউলের কথায়, নতুন নির্বাচনী প্রতীক অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমার সিদ্ধান্তের কথা নেত্রীকে জানিয়েছি। কর্মীদের মাঠে-ময়দানে নামানো যাচ্ছে না। সিম্বল একটা বড় ফ্যাক্টর।বেলডাঙা থানায় যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদলতবে বেলা বাড়তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। রবিউল জানান, একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এরপর তিনি বেলডাঙা থানায় যান। সেখানে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর ফের নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।রবিউলের বক্তব্য, পাশে মাত্র ১০ জন কর্মী থাকলেও তিনি ভোটের লড়াই চালিয়ে যাবেন। নির্বাচনী প্রচারেও নামবেন বলে জানিয়েছেন রেজিনগরের এই প্রার্থী। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে রেজিনগরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি।নন্দীগ্রামে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহার, গ্রেফতার মিলন প্রধানএর আগে শুক্রবার নন্দীগ্রামে মমতা গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। পরে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপরই ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার হন মিলন প্রধান। তাঁর গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।নতুন নাম ও প্রতীক ঘিরে বদলেছে সমীকরণতৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রতীক অল্প সময়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সমস্যা নিয়ে রবিউলের মন্তব্যও সেই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন রবিউল আলম চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে থাকেন কি না, এবং প্রচারে দলের কর্মীরা কতটা সক্রিয় হন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উপনির্বাচনের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
কলকাতা

খাম নিয়ে নতুন সংঘাত, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পথে আইএসএফ? কী বললেন নওশাদ

ঘাসফুল আপাতত বাইরে। নতুন নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস, আর প্রতীক খাম। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন বিতর্কে জড়াল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। কারণ, খাম প্রতীকটি আগে থেকেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই ভোটে লড়ার দাবি করেছে আইএসএফ। এবার সেই প্রতীকই ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নাম হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে খাম। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে আলাদা নাম ও প্রতীক। পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহার করা যাবে না।কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের নতুন প্রতীক সামনে আসার পরেই আপত্তি তোলে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, ২০২১ সাল থেকেই তাঁদের দল খাম প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়ছে। চলতি বছরেও ওই প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সেই পরিস্থিতিতে একই প্রতীক অন্য একটি দলকে কী ভাবে দেওয়া হল?শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নওশাদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গত ১০ মার্চ আইএসএফের খাম প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই ঋতব্রত শিবিরকে একই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।নওশাদ জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আইএসএফকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এই অভিযোগ নওশাদ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও ষড়যন্ত্রের কথা জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির অবশ্য নতুন প্রতীক নিয়ে সন্তুষ্ট। নন্দীগ্রামের ওই শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, তাঁরা খাম প্রতীক পেয়েছেন এবং সেই প্রতীক নিয়েই প্রচারে নামবেন। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন, আইএসএফের দাবি নির্বাচন কমিশন কী ভাবে বিবেচনা করবে এবং নন্দীগ্রামের ভোটে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কোন প্রতীকে লড়বেন। ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে কমিশন। এখন নওশাদ সিদ্দিকীর আপত্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

জোড়াফুল গেল! ঋতব্রতদের নতুন দলের নাম কী, কমিশনে জমা পড়ল তিন প্রতীকের প্রস্তাব

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে বিকল্প নাম ও প্রতীকের আবেদন করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত শিবিরের তরফে দুটি সম্ভাব্য দলের নাম এবং তিনটি সম্ভাব্য প্রতীকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ঋতব্রত শিবিরের পছন্দের দুটি নাম হল জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। এই দুটির মধ্যে যে কোনও একটি নামে উপনির্বাচনে লড়তে চায় তারা। প্রতীক হিসেবে খাম, টর্চ এবং ব্ল্যাকবোর্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য নাম ও প্রতীকের তালিকা চেয়েছিল। সেই মতো দলের তরফে দুটি নাম এবং তিনটি প্রতীকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন নাম এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের দাবিদার কে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে নথি জমা দিয়েছে। কমিশন দুই পক্ষের বক্তব্যও শুনেছে।এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আপাতত কোনও পক্ষকেই মূল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়তে হতে পারে।৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। দুই শিবিরই ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কিন্তু কোন নামে এবং কোন প্রতীকে প্রার্থীরা ভোটে লড়বেন, তা এখনও কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব কমিশনে পাঠিয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে এখন নজর রয়েছে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের ঘোষণার দিকে।সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ডের প্রস্তাব এবং সম্ভাব্য দুই দলের নাম নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন নাম এবং কোন প্রতীক বরাদ্দ হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

আটটি চেম্বার, প্রেসক্রিপশনে বিদেশি ডিগ্রি! রোগী সেজে পুলিশ যেতেই ধরা পড়লেন ‘ডাক্তার’

সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকায় একের পর এক চেম্বার খুলে চিকিৎসা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিজেকে অঙ্কোলজিস্ট বলে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম বিশ্বরূপ আচার্য। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা ফি নেওয়া হলেও তিনি আদৌ চিকিৎসক নন। তাঁর প্রেসক্রিপশন প্যাডে বিদেশি ডিগ্রির উল্লেখ থাকলেও তদন্তে সেগুলি ভুয়ো বলে অভিযোগ উঠেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে ঘাসিয়াড়া এলাকায় মোট আটটি চেম্বার খুলেছিলেন বিশ্বরূপ। রোগী পিছু ৮০০ টাকা করে ফি নেওয়া হত বলে অভিযোগ। ধীরে ধীরে এলাকায় তাঁর পরিচিতিও তৈরি হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি এই ভাবেই তিনি বিপুল টাকা উপার্জন করছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।সম্প্রতি একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নতুন করে চেম্বার খোলেন বিশ্বরূপ। সেই সময় বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়। তাঁর পরিচয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় বাড়ির মালিকের মনে। এরপরই সোনারপুর থানায় অভিযোগ জানান তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্তে নেমে পুলিশ অভিনব কৌশল নেয়। সোমবার রাতে রোগীর ছদ্মবেশে বিশ্বরূপের চেম্বারে পৌঁছে যান পুলিশকর্মীরা। রোগীর মতো করেই তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করা হয়। কয়েক মিনিটের কথোপকথনের পরই পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয় বলে জানা গিয়েছে।এরপর বিশ্বরূপকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি কোনও স্বীকৃত চিকিৎসক নন। তাঁর প্রেসক্রিপশন প্যাডে থাকা একাধিক ডিগ্রিও ভুয়ো বলে অভিযোগ। নিজেকে অঙ্কোলজিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে এত দিন কী ভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা নিয়েই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে।পুলিশের আরও প্রশ্ন, বিশ্বরূপ কোথা থেকে এই ভুয়ো ডিগ্রিগুলি সংগ্রহ করেছিলেন এবং এর পিছনে অন্য কেউ জড়িত কি না। ভুয়ো শংসাপত্র তৈরির সঙ্গে কোনও চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার বিশ্বরূপকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে আটটি চেম্বারে তাঁর চিকিৎসার নামে কী ধরনের কাজ চলছিল এবং তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

প্রতীক কার? তার আগেই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঋতপন্থী তৃণমূলের, বাড়ল টানটান উত্তেজনা

প্রতীক নিয়ে জটিলতার মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতপন্থী তৃণমূল। সোমবার সন্ধ্যায় দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। নন্দীগ্রামে এহেতাশ মুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখকে প্রার্থী করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির।উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। এক দিকে রয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল। ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই তৃণমূলের ভোটের লড়াই কতটা তীব্র হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।এই পরিস্থিতিতে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলও ইতিমধ্যে দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। ফলে দুই শিবিরের প্রার্থী ঘোষণার পর উপনির্বাচনের অঙ্ক আরও জটিল হয়েছে।এরই মধ্যে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। কে দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি দলের আর্থিক সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আইনি লড়াই চলছে।নন্দীগ্রাম নিয়ে অবশ্য আলাদা করে জল্পনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল, এই কেন্দ্রে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতে পারেন। ঋতপন্থী তৃণমূলের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁরা নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেবেন না। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না আসায় সোমবার ঋতপন্থী শিবির প্রার্থী ঘোষণা করে।প্রার্থী ঘোষণার পর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রতীকের প্রশ্ন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে তাঁদের দাবি। সেই কারণেই উপনির্বাচনে জোড়া ফুল প্রতীকেই লড়াই করবেন তাঁরা। নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।অন্য দিকে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলও জোড়া ফুল প্রতীকেই নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে। ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে দুই শিবিরই কি একই জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামবে?ঋতব্রত শিবির জানিয়েছে, ১৬ তারিখ নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সময়সীমার দিকে তাঁরা তাকিয়ে রয়েছেন। অন্য দিকে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ তারিখ। তার আগে কমিশন কী নির্দেশ দেয়, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সেই সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করতে পারে দুই শিবিরের প্রতীক ব্যবহার এবং নির্বাচনী প্রচারের পরবর্তী পরিস্থিতি।ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন শুধু প্রার্থী বনাম প্রার্থীর লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তৃণমূলের নাম, প্রতীক এবং দলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শিবিরের টানাপড়েনও ভোটের ময়দানে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ পর্যন্ত জোড়া ফুল প্রতীক কার হাতে থাকে এবং দুই শিবিরের লড়াই কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
কলকাতা

রবিবার মেট্টো চলাচল কোন দিকে কতক্ষণ বন্ধ থাকবে? অসুবিধায় না পড়তে এই খবর আগে পড়ুন

রবিবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে মেট্রো রেলের এই ঘোষণা জেনে নিন। ওই দিন কয়েকটি স্টেশনের মধ্যে মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের কাজের সুবিধার্থে ১৩.০৯.২০২৬ (রবিবার) ব্লু লাইনের গীতাঞ্জলি এবং কবি নজরুল মেট্রো স্টেশনের মধ্যে যান চলাচল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর ফলে, ওই দিন সকাল ০৯:০০টা থেকে সন্ধ্যা ১৮:৩০টা পর্যন্ত শহীদ ক্ষুদিরাম এবং মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশনের মধ্যে কোনো মেট্রো পরিষেবা পাওয়া যাবে না।তবে, ওই দিন অর্থাৎ ১৩.০৯.২০২৬ (রবিবার) দক্ষিণেশ্বর এবং মহানায়ক উত্তম কুমার মেট্রো স্টেশনের মধ্যে স্বাভাবিক মেট্রো পরিষেবা পাওয়া যাবে। রবিবার ব্লু লাইনের সম্পূর্ণ অংশে, অর্থাৎ দক্ষিণেশ্বর থেকে শহীদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত স্বাভাবিক মেট্রো পরিষেবা সন্ধ্যা ১৮:৩০টার পর (আনুমানিক) পুনরায় চালু হবে। যাত্রীদের এই অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
রাজ্য

এক রেজিস্ট্রেশন নম্বর, দুই চিকিৎসক! শিশুমৃত্যুর তদন্তে ‘ভুয়ো ডাক্তারি’ নথির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

বর্ধমানের বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে সামনে এল চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর একাধিক চিকিৎসকের নামে ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধান।বর্ধমানের নবাবহাটের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের এক শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। শিশুটির অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক সইদুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসক হিসেবে তাঁর রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে আসে বেশ কিছু অসঙ্গতি। এরপরই বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।তদন্ত সূত্রে জানা যায়, সইদুল হক চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার জন্য বিহারের একটি মেডিক্যাল কলেজের নথি পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে জমা করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই নথির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। মূলত ওই নথি সত্যিই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কি না, তিনি আদৌ ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাশ করেছিলেন কি নাসেই বিষয়টিই যাচাই করার চেষ্টা শুরু হয়।কিন্তু বিহারের ওই মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের জবাব আসতেই তদন্তে তৈরি হয় নতুন মোড়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সইদুল হক নামে কোনও ব্যক্তি তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাশ করেননি। ফলে তাঁর জমা দেওয়া শিক্ষাগত নথির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।এরই মধ্যে আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে আসে। অভিযোগ, একই চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্য এক চিকিৎসকের নামেও ব্যবহৃত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার এক চিকিৎসকের নথি যাচাই করতে গিয়ে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অস্তিত্ব সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়।একজন চিকিৎসকের নামে বরাদ্দ রেজিস্ট্রেশন নম্বর কীভাবে অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, তা নিয়েই এখন মূল প্রশ্ন। কারণ, চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইন্টার্নশিপ এবং সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই যাচাই প্রক্রিয়া পেরিয়েও যদি কোনও ব্যক্তি চিকিৎসা করার সুযোগ পেয়ে থাকেন, তা হলে গোটা ব্যবস্থার নজরদারি ও যাচাই-বাছাই নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।তদন্তকারীদের আশঙ্কা, ঘটনাটি হয়তো শুধুমাত্র একটি নার্সিংহোম বা একজন চিকিৎসকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম কিংবা অন্যান্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ভুয়ো বা জাল নথি ব্যবহার করে কেউ চিকিৎসা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।বিশেষ করে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর একাধিক ব্যক্তির নামে ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনও ব্যক্তি যদি ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি দেখিয়ে চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন, তা হলে তিনি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করেছেন, কতদিন ধরে চিকিৎসা করেছেন এবং তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে আরও কোনও রোগীর ক্ষতি বা অনিয়মের যোগ রয়েছে কি নাসেই প্রশ্নগুলিও এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।এই ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। কোনও চিকিৎসককে হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আগে তাঁর ডিগ্রি, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করার কথা। সেই প্রক্রিয়ায় কোনও ফাঁক থেকে থাকলে, তা কীভাবে তৈরি হল এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।চার বছরের শিশুর মৃত্যুর মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তাই এখন সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্নরাজ্যে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন কতটা নির্ভুলভাবে যাচাই করা হয়?তদন্ত যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হতে পারে সইদুল হকের জমা দেওয়া নথির প্রকৃত সত্যতা, একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের নেপথ্যে কী রয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগ আছে কি না। আপাতত গোটা ঘটনায় তদন্তকারীদের নজর রয়েছে নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার দিকে।তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। তদন্তের ফলেই স্পষ্ট হবে, এই ঘটনায় আদৌ কোনও জালিয়াতির চক্র কাজ করেছে কি না এবং থাকলে তার পরিধি কতটা।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর মুখে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট! শুক্রবারের পর টানা ৩ দিন পরিষেবা বন্ধের আশঙ্কা, চাপে ATM-ও

সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসের দাবিতে একদিনের ধর্মঘটের ডাক | পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রাষ্ট্রায়ত্তের পাশাপাশি একাধিক বেসরকারি ব্যাঙ্কেওদুর্গাপুজোর প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক খোলা রাখার দাবিতে শুক্রবার একদিনের ধর্মঘটে নামছে অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশন (AIBOC)। ধর্মঘটের পরেই শনি ও রবিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কার্যত টানা তিন দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।ধর্মঘটের প্রভাব শুধু ব্যাঙ্কের শাখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই আশঙ্কা। নগদ টাকা তোলা, জমা দেওয়া, চেক সংক্রান্ত কাজ, বিভিন্ন কাউন্টার পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে ধর্মঘটের সময়ে ATM-এ নগদের জোগান এবং রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবাতেও কোনও কোনও এলাকায় প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও UPI, মোবাইল ব্যাঙ্কিং এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের মতো ডিজিটাল পরিষেবা সাধারণত চালু থাকার কথা, তবুও নগদ লেনদেনের উপর নির্ভরশীল গ্রাহকদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকছে।বিশেষ করে পুজোর আগে বাজার-হাট, কেনাকাটা, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত আর্থিক কাজকর্মের চাপ বাড়ে। ফলে এই সময় ব্যাঙ্ক পরিষেবায় সামান্য বিঘ্নও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।কেন এই ধর্মঘট?AIBOC-এর দাবি, সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক খোলার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বেতন সংশোধনের সময় পাঁচ দিনের কর্মদিবস চালুর বিষয়ে লিখিত চুক্তিও হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে ব্যাঙ্ক অফিসারদের মধ্যে।সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, চুক্তির পর প্রায় আড়াই বছর কেটে গেলেও পাঁচ দিনের কর্মদিবস কার্যকর হয়নি। বারবার আইনি জটিলতার কথা বলে বিষয়টি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ সংগঠনের। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার বাধ্য হয়েই ধর্মঘটের পথে হাঁটতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।একদিনের ধর্মঘটেই শেষ নয়ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবারের কর্মসূচির পরও যদি দাবি পূরণে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না করা হয়, তাহলে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।সংগঠনের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হলে ২৮, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘট করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এরপরও সমাধান না হলে ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার ধর্মঘটে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। ফলে আগামী দিনে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে আরও বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বেসরকারি ব্যাঙ্কেও কি প্রভাব পড়বে?এই ধর্মঘটের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলAIBOC-এর সদস্যদের মধ্যে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অফিসাররাই নন, একাধিক বেসরকারি ব্যাঙ্কের অফিসারও রয়েছেন। ফলে ধর্মঘটের প্রভাব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে কিছু বেসরকারি ব্যাঙ্কের পরিষেবাতেও পড়তে পারে। তবে কোন ব্যাঙ্কে কতটা পরিষেবা ব্যাহত হবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কর্মীদের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।গ্রাহকদের কী সতর্কতা?ধর্মঘট এবং পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির কথা মাথায় রেখে জরুরি নগদ প্রয়োজন থাকলে আগেভাগেই টাকা তোলা, গুরুত্বপূর্ণ চেক বা ব্যাঙ্কিং কাজ সময়ের মধ্যে সেরে রাখা এবং যতটা সম্ভব ডিজিটাল লেনদেনের বিকল্প ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।পুজোর আগে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে এমনিতেই লেনদেনের চাপ বাড়ে। তার মধ্যে ধর্মঘটের জেরে যদি ATM-এ নগদের জোগানেও সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এখন নজর থাকবে, ধর্মঘটের আগে আলোচনার মাধ্যমে কোনও সমাধানসূত্র বেরোয় কি না।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

সঙ্গীত আকাশের ধ্রুবতারা: সুরের জাদুকর ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের জীবন ও কালজয়ী সৃষ্টির কোলাজ

বাংলা গানের স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং ভক্তিগীতি ও শ্যামা সঙ্গীতের প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্র ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য। বাংলা সঙ্গীত জগতের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেননি। আধুনিক গান দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও, পরবর্তীকালে তিনি আপামর বাঙালির হৃদয়ে ভক্তি ও সুরের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন।প্রথম রেকর্ড থেকেই সাফল্যের শিখরে ১৯৪০ সালে প্রণব রায়ের কথায় এবং সুবল দাশগুপ্তের সুরে পাইওনিয়ার কোম্পানির ব্যানারে তাঁর প্রথম বেসিক রেকর্ড প্রকাশিত হয় যদি ভুলে যাও মোরে, জানাবো না অভিমান। প্রথম গানেই তিনি বাঙালি শ্রোতাদের মণিকোঠায় জায়গা করে নেন। এর পর চলচ্চিত্রের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শহর থেকে দূরে ছবিতে রাধে ভুল করে তুই চিনলে না তোর প্রেমিক শ্যাম রায় গানটি গেয়ে তিনি তুমুল সাড়া ফেলেন।১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পাশের বাড়ি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি সলিল চৌধুরীর সুরে ঝিরঝির ঝিরঝির বরষায় গানটি তৎকালীন সময়ে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। এছাড়াও তাঁর গাওয়া মাটিতে জন্ম নিলাম, এই ঝিরঝির ঝির বাতাসে এবং ঝনন ঝনন বাজে-র মতো আধুনিক গানগুলো আজও শ্রোতাদের নস্টালজিক করে তোলে।সাধক রামপ্রসাদ ও শ্যামা সঙ্গীতের স্বর্ণযুগধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের সঙ্গীত জীবনের এক অবিস্মরণীয় কীর্তি হলো ১৯৫৬ সালের সাধক রামপ্রসাদ চলচ্চিত্রটি। এই ছবির মোট ২৪টি গানের মধ্যে ২৩টি গানই গেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে মা আমার রাজার মেয়ে, ডুব দে রে মন কালী বলে, এমন দিন কি হবে মা তারা এবং মন রে কৃষি কাজ জানো না গানগুলো প্রতিটি বাঙালি পরিবারে ভক্তিরসের জোয়ার এনেছিল।সঙ্গীত মহলে একটি প্রচলিত তথ্য হলো, তাঁর অনুজ পান্নালাল ভট্টাচার্যের কণ্ঠে ভক্তিরসের গভীরতা দেখে ধনঞ্জয় বাবু একটা সময় নিজেকে ভক্তিগীতি থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৬৬ সালে ভাইয়ের অকাল প্রয়াণের পর, পান্নালালের পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পাশাপাশি ভক্তিমূলক গানের ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি আবারও ভক্তিগীতি গাওয়া শুরু করেন।সুরকার ও অন্তরালের গীতিকারকণ্ঠশিল্পী পরিচয়ের বাইরেও তিনি ছিলেন এক অসামান্য সুরকার ও গীতিকার। মহাপ্রস্থানের পথে চলচ্চিত্রে তাঁর দেওয়া সুর আজও মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়। খুব কম মানুষই জানেন, তিনি নিজের পরিচয় আড়াল করে শ্রী পার্থ ও শ্রী আনন্দ ছদ্মনামে প্রায় ৪০০ গান রচনা করেছিলেন, যার অনেকগুলোতেই সুর দিয়েছিলেন এবং তাঁর ভাই পান্নালাল ভট্টাচার্যকে দিয়ে গাওয়ানো হয়েছিল।প্রথিতযশা শিল্পীদের চোখে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের বহুমুখী কণ্ঠস্বর ও রাগপ্রধান গানের ওপর অসামান্য দখল শুধু শ্রোতাদেরই নয়, সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের কিংবদন্তি শিল্পীদেরও বিস্মিত করেছিল:সলিল চৌধুরী (কিংবদন্তি সুরকার ও রচয়িতা): ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কণ্ঠের ক্ষমতা ও নিখুঁত তান নিয়ে সলিল চৌধুরী একবার মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন ধনঞ্জয়ের কণ্ঠের রেঞ্জ ও গায়কী এতটাই উঁচুদরের যে তাঁর কণ্ঠকে অনায়াসে মোহাম্মদ রফি বা তালাত মাহমুদের সমকক্ষ বলা যায়।লতা মঙ্গেশকর (সুর সম্রাজ্ঞী): হিন্দি ছবি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (১৯৫৩)-তে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের সাথে দ্বৈত গান গাওয়ার পর লতা মঙ্গেশকর তাঁর গায়নীতে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি ধনঞ্জয় বাবুকে মুম্বাইয়ে গিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে স্থায়ীভাবে প্লেব্যাক করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু বাংলার প্রতি টানে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য সেই প্রস্তাব বিনম্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও শ্যামল মিত্র: তাঁর সমসাময়িক এই দুই প্রথিতযশা শিল্পী বহু সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, রাগপ্রধান গান এবং ভক্তিগীতির ক্ষেত্রে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের যে তান ও তালের নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা তৎকালীন সঙ্গীত দুনিয়ায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।তাঁর আমর সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম কয়েকটি গানের উল্লেখ না করলেই নয়, মা আমার রাজার মেয়ে, ডুব দে রে মন কালী বলে, এমন দিন কি হবে মা তারা, মন রে কৃষি কাজ জানো না। শেষের গানটি পরে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিস এর জনপ্রিয় বাঙালি গায়ক অরিজিৎ সিং মানবজমিন (Manobjomin) নামক বাংলা একটি বাংলা চলচ্চিত্রে পুনরায় গেয়েছেন। এবং ভীষণ জনপ্রিয় হয় সে গান।১৯৯২ সালের ২৭ ডিসেম্বর এই সুরের জাদুকর না ফেরার দেশে চলে গেলেও, তাঁর সৃষ্টি আজও কোটি কোটি বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের সকালে ভোরের আলো আর সন্ধ্যায় ভক্তি আরতির সুর হয়ে বেঁচে আছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ নেই, অপেক্ষা ডিএনএ রিপোর্টের! শুভ্রাংশুর নতুন ছবিতে বাড়ল উৎকণ্ঠা

নেপালে হড়পা বানের পর নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা রায়। প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। প্রশাসন থেকে বিদেশ মন্ত্রক, এমনকি কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসেও যোগাযোগ করেছেন পরিবার। কিন্তু এখনও কোনও ইতিবাচক খবর মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে স্ত্রী শর্মিষ্ঠাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সাদা-কালো ছবি নিজের প্রোফাইলের ছবি করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। সেই ছবি ঘিরেই নতুন করে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে ওই ছবি দেখে শর্মিষ্ঠার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অগস্ট। হাওড়ার একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে কয়েক জন সহযোগীর সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। ২৫ অগস্ট রাতেও স্বামীর সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু পরের দিন, ২৬ অগস্ট নেপালে হড়পা বান আসার পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর তাঁর সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ হয়নি।স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যান শুভ্রাংশু। নেপালের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে থাকেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরেও যোগাযোগ করেন।ভবানী ভবন থেকে স্থানীয় থানা, বিদেশ মন্ত্রকসব জায়গাতেই শর্মিষ্ঠার খোঁজে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি।এর মধ্যেই নেপালে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি পরিচয়হীন দেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।ফলে এক দিকে শর্মিষ্ঠার সন্ধান না মেলা, অন্য দিকে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষাসব মিলিয়ে পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। তার মধ্যেই শুভ্রাংশুর সাদা-কালো ছবি সামাজিক মাধ্যমে নজর কাড়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।শুভানুধ্যায়ীদের একাংশ ওই ছবিকে উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে শর্মিষ্ঠার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এবং নেপালে চলা অনুসন্ধানের পরেই গোটা বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলেই বড় সিদ্ধান্ত! প্রার্থী দেবে না ঋত শিবির, জানালেন ঋজু দত্ত

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁরা কোনও প্রার্থী দেবেন না বলে জানাল ঋত শিবির। বুধবার বিধানসভার সামনে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা করেন আসল তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ঋজু দত্ত। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হলে তাঁদের শিবির ভোটে প্রার্থী দেবে না।ঋজু দত্ত বলেন, তাঁরা চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন এবং জিতে বিধানসভায় ফিরে আসুন। তাঁর কথায়, মমতা প্রার্থী হলে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও প্রার্থী দেওয়া হবে না।পুজোর আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে এই দুই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভিতরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি দুই পক্ষেরই। বর্তমানে দলটি কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত শিবিরএই দুই শিবিরে বিভক্ত বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা রয়েছে।দলের নাম এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কোন গোষ্ঠীর হাতে থাকবে, তা নিয়েও টানাপড়েন চলছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতেই নন্দীগ্রাম নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন ঋজু দত্ত। তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সে বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। ভবানীপুরেও দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই হয়েছিল। কিন্তু এবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী নেই। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা।অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থিতা নিয়ে কার্যত পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আবু তাহের। তাঁর দাবি, দলের সুসময়ের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এবং ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার উপনির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।আবু তাহেরের আরও দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নিজের বক্তব্যে তিনি ২০২১ সালের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তখন মমতা নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করেছিলেন। তাঁদের দীর্ঘ আন্দোলন এবং অতীতে করা একাধিক মামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।আবু তাহেরের বক্তব্য, বাম আমল থেকে তাঁরা নন্দীগ্রামে লড়াই করে এসেছেন। পরবর্তীকালে বিজেপির তরফেও তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, দলের সুসময় থাকাকালীন তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়নি। এখন দলের দুর্দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন তিনি।ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থিতা ঘিরে দুই ধরনের বার্তা সামনে এল। এক দিকে ঋত শিবিরের তরফে মমতাকে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা, অন্য দিকে আবু তাহেরের সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এই দুই বক্তব্যের জেরে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদহে রাতভর ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক! একাধিক লোকাল বাতিল, বদল ট্রেন পরিষেবায়

শিয়ালদহ স্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজের জন্য টানা সাত ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক নিতে চলেছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। পয়েন্ট কনভার্সন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজের জন্য শনিবার, ২৯ আগস্ট এবং রবিবার, ৩০ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে এই ব্লক নেওয়া হবে। এর জেরে ৩০ আগস্ট, রবিবার সকালে শিয়ালদহ শাখায় একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল এবং একটি ট্রেনকে নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই থামিয়ে দেওয়া হবে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ আগস্ট রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদহ স্টেশনের DN/Main Line-এর KM 0/19 থেকে KM 0/20 অংশে Point No. 208B/219A-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান 52 Kg DSS-কে 60 Kg DSS-এ রূপান্তর করা হবে। ট্র্যাকের ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্টও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।শুধু ট্র্যাক পরিবর্তন নয়, এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত কাজের অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিংয়ের প্রয়োজনীয় ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের সংশ্লিষ্ট লাইনে ট্রেন চলাচল এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, Track Circuit পরিবর্তনের কাজও ব্লকের সময় করা হবে। একই সঙ্গে Line No. 6 এবং Line No. 11-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট এই সময় প্রভাবিত থাকবে। এত বড় মাপের কাজ যাতে যাত্রী পরিষেবায় তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে, সে কারণেই সপ্তাহান্তের গভীর রাত থেকে ভোরের সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।বাতিল একাধিক লোকালএই পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ৩০ আগস্ট বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বাতিল থাকবে। রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ীশিয়ালদহহাবড়া: 33651 UP / 33652 DNশিয়ালদহকল্যাণী সীমান্ত: 31313 UP / 31316 DNশিয়ালদহডানকুনি: 32217 UP / 32218 DNশিয়ালদহরানাঘাট: 31615 UP / 31620 DNশিয়ালদহহাবড়া: 33653 UP / 33654 DNএছাড়াও Train No. 53172 DN (লালগোলাশিয়ালদহ)-কে ৩০ আগস্ট দমদম জংশনে (DDJ) শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। অর্থাৎ ওই দিন ট্রেনটি শিয়ালদহ পর্যন্ত না গিয়ে দমদম জংশনেই যাত্রা শেষ করবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনটির খালি রেক শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়ে আসা হবে।যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্তারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমানোর লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে এই কাজ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কর্মীদের সাইটে মোতায়েন রাখা হবে।শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, কাজটি নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং এবং কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সাময়িক পরিবর্তন সম্পর্কে জানাতে শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।রেলের দাবি, এই পয়েন্ট কনভার্সন ও ট্র্যাক নবীকরণের ফলে শিয়ালদহ স্টেশনের ট্র্যাক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দক্ষতা আরও বাড়বে। যদিও কাজের সময়সূচির কারণে রবিবার কিছু ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করতেই এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক জরুরি বলে জানিয়েছে রেল।তাই ৩০ আগস্ট যাঁদের শিয়ালদহমুখী বা শিয়ালদহ থেকে বিভিন্ন শাখায় যাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। সাময়িক এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতার আবেদনও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নিবন্ধ

জর্জ বিশ্বাস: রবীন্দ্রনাথের গানের ভিতর এক বিদ্রোহী মানুষের বসত

বাংলা গানের ইতিহাসে কিছু কিছু কণ্ঠ আছে, যাদের শুধু গায়ক বললে অন্যায় হয়। তাঁরা যেন একটি সময়ের কণ্ঠস্বর, একটি মননের প্রতিনিধি, কখনও বা একটি অসমাপ্ত তর্কের নাম। দেবব্রত বিশ্বাস তেমনই একজন। বাঙালির কাছে তিনি জর্জ বিশ্বাস, আরও আপন করে বললে জর্জদা।আজও তাঁর গলায় যেতে যেতে একলা পথে কিংবা এ মণিহার আমার নাহি সাজে ভেসে এলে মনে হয়একজন মানুষ গান গাইছেন না, নিজের সমস্ত জীবনটাকে খুলে রেখে গেছেন শ্রোতার সামনে। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ কখনও নিছক সুর নন; তিনি হয়ে ওঠেন অভিমান, প্রেম, প্রতিবাদ, নিঃসঙ্গতা এবং মানুষের অন্তর্গত দীর্ঘশ্বাস।দেবব্রত বিশ্বাসের জন্ম ১৯১১-র ২২ আগস্ট অবিভক্ত বাংলার বরিশাল জেলার কিশোরগঞ্জে। ছোটবেলাতেই তাঁর জীবনে গানের প্রবেশ। মায়ের কাছ থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও ভক্তিগীতি শোনা, পরে কলকাতায় এসে নানা বিশিষ্ট শিল্পী ও সুরকারের সংস্পর্শসব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছিল এক অদ্ভুত সঙ্গীতমন।কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের মুহূর্তগুলির একটি এসেছিল ১৯২৮ সালে। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের ভাদ্রোৎসবে প্রথমবার তিনি কাছ থেকে দেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে। তখন কবির বয়সের ভার, শরীরের ক্লান্তিতবু দেবব্রতের চোখে তিনি ছিলেন যেন সুরের রাজা। সেই দর্শন তাঁর মনে এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিল যে, বহু বছর পরেও রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাছে কোনও দূরের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেননি; বরং থেকে গিয়েছিলেন এক অন্তরঙ্গ অথচ অধরা মানুষ।সম্ভবত সেই কারণেই রবীন্দ্রসঙ্গীত তাঁর কাছে কখনও শুধু গান হয়ে ওঠেনি।গান, না কি মানুষের কথা?জর্জদার গলার প্রথম যে জিনিসটি শ্রোতাকে থামিয়ে দিত, তা হল তাঁর কণ্ঠস্বর। গভীর, ভারী, উদাত্তকখনও যেন মেঘের মতো, কখনও আবার শুকনো পাতার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়ার মতো বিষণ্ণ। তাঁর গলায় শব্দেরও যেন আলাদা শরীর ছিল।তিনি জ্যোৎস্না বললে জ্যোৎস্না দেখা যেত। বেদনা বললে শব্দটির মধ্যে যেন সত্যিই একটা ব্যথা জন্ম নিত। পাতায় পাতায় উচ্চারণে মনে হত, অন্ধকার বাগানে কোথাও জলবিন্দু পড়ছে।এখানেই তাঁর গায়কির আসল জাদু।রবীন্দ্রসঙ্গীতকে তিনি কেবল স্বরলিপির অনুগত সুর হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে গান ছিল কবিতার উচ্চারণ, আর সেই উচ্চারণের মধ্যে মানুষের নিঃশ্বাস থাকা চাই। তাই তাঁর গানে কোথাও দীর্ঘ টান, কোথাও শব্দের উপর বিশেষ চাপ, কোথাও বা হঠাৎ থেমে যাওয়াসবই যেন গানের কথাকে জীবন্ত করে তুলত।এই কারণেই তাঁর গান শুনলে কখনও মনে হয় তিনি গাইছেন নাকথা বলছেন। আর কখনও মনে হয়, কথা বলতে বলতে হঠাৎ গান হয়ে গেলেন।জর্জ নামটির গল্পটিও কম মজার নয়দেবব্রত নামের মানুষটি কী করে জর্জ হয়ে গেলেন?ছোটবেলায় অসুস্থতার সময়ে তাঁকে দেখাশোনা করা এক ইংরেজ নার্সের দেওয়া নাম থেকেই জর্জ নামটির সূত্রপাত বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক লেখায় উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে রাজা ছিলেন পঞ্চম জর্জ। পরে সেই নামই এমনভাবে তাঁর সঙ্গে মিশে যায় যে, দেবব্রত বিশ্বাসের চেয়ে জর্জদা নামটিই মানুষের মুখে বেশি আপন হয়ে ওঠে।অদ্ভুত ব্যাপারযে মানুষটির নামের সঙ্গে এক ব্রিটিশ রাজার ছায়া জড়িয়ে ছিল, তিনিই পরে গানের ভিতর দিয়ে ঔপনিবেশিক মানসিকতার বাইরে এক সম্পূর্ণ বাঙালি সত্তাকে প্রতিষ্ঠা করলেন।জর্জদা ছিলেন গম্ভীর, আবার বেশ মজার মানুষওতাঁকে শুধু গম্ভীর রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ভাবলে ভুল হবে। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বেশ রসিক, খানিকটা খামখেয়ালি, এবং অনেকটাই নিজের মতো করে চলা মানুষ। দক্ষিণ কলকাতার ছোট ভাড়াবাড়িতে তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। অথচ সেই ছোট ঘরেই গান, চিঠিপত্র, পান সাজানোর সরঞ্জাম, বই আর অসংখ্য মানুষের আনাগোনাসব মিলিয়ে যেন এক আশ্চর্য সাংস্কৃতিক আড্ডা বসত।তিনি রান্না করতেও ভালবাসতেন। মশলাদার রান্নার প্রতি তাঁর বিশেষ টান ছিল বলে তাঁর সম্পর্কে লেখা স্মৃতিচারণে জানা যায়। আবার কলকাতার রাস্তায় তাঁকে মোটরবাইক চালিয়েও দেখা যেতএই দৃশ্য তাঁর গম্ভীর রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়ক ভাবমূর্তির সঙ্গে বেশ বেমানান, অথচ মানুষটি যে এমনই ছিলেন, সেটাই তাঁর চরিত্রের মজা।আর ছিল তাঁর পানপ্রেম। ছোট ঘরে বসে পান সাজছেন, সামনে হারমোনিয়াম, পাশে চিঠির ফাইলএই ছবিটি যেন তাঁর জীবনের এক অদ্ভুত প্রতিকৃতি।কেউ কেউ তাঁকে একটু পাগলাটে বলতেন। কিন্তু সেই পাগলামির মধ্যেও ছিল গভীর শৃঙ্খলাগানের প্রতি, শব্দের প্রতি, নিজের বিশ্বাসের প্রতি।রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর কাছে গণমানুষের গানজর্জদার সঙ্গীতজীবন শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতে আটকে ছিল না। গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল মানুষের আরও কাছে। তিনি গণসঙ্গীত গেয়েছেন, রাজনৈতিক মঞ্চে গান গেয়েছেন, মানুষের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কণ্ঠের সেই বজ্রগম্ভীর শক্তি শুধু প্রেমের গানেই নয়, মানুষের অধিকারের গানেও সমানভাবে ধ্বনিত হয়েছে।দেশভাগ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তাঁর কণ্ঠ মানুষের কাছে পৌঁছেছিল। রবীন্দ্রনাথকে তিনি তাই কেবল অভিজাত ড্রয়িংরুমের কবি বলে ভাবেননি। তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মাঠের মানুষেরও কবি, দুঃখী মানুষেরও কবি, প্রতিবাদী মানুষেরও কবি।সেই জায়গা থেকেই হয়তো তাঁর রবীন্দ্রসঙ্গীত এতখানি মাটির গন্ধ বহন করে।আর তারপর শুরু হল বড় সংঘাতজর্জ বিশ্বাসের জীবনকে যদি একটি নদী ভাবা যায়, তবে ষাটের দশক ছিল সেই নদীর সবচেয়ে উত্তাল বাঁক।রবীন্দ্রসঙ্গীত কীভাবে গাওয়া হবেস্বরলিপি কতটা মানতে হবে, কোন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে, গানের প্রকাশভঙ্গি কতখানি স্বাধীন হতে পারেএই প্রশ্নে তাঁর সঙ্গে বিশ্বভারতী-নির্ভর প্রচলিত রীতির সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে।১৯৬৪ সালে তাঁর গাওয়া মেঘ বলেছে যাব যাব এবং এসেছিলে তবু আসো নাই নিয়ে আপত্তি ওঠে। পরে পুষ্প দিয়ে মারো যারে ও তোমার শেষের গানের মতো গান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর গানে অতিনাটকীয়তা, স্বরলিপি থেকে বিচ্যুতি এবং অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।কিন্তু জর্জদা পিছিয়ে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না।তাঁর যুক্তি ছিল সরলরবীন্দ্রনাথের গান যদি মানুষের অনুভূতির গান হয়, তবে তাকে শুধু কাগজের স্বরলিপির মধ্যে বন্দি করে রাখা যায় না। রবীন্দ্রনাথ নিজেই ভারতীয় ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের নানা উপাদানের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন; তাহলে তাঁর গানে নতুন বাদ্যযন্ত্র বা নতুন প্রকাশভঙ্গির দরজা বন্ধ থাকবে কেন?এই প্রশ্নই তাঁকে ক্রমশ একা করে দিয়েছিল।অবশেষে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড করা প্রায় বন্ধ করে দেন। বাইরে অনুষ্ঠান করাও কমিয়ে দেন। অথচ তখন তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে যে তাঁর রয়্যালটি সমসাময়িক বহু প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর চেয়েও অনেক বেশি ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।এ যেন আশ্চর্য এক পরিহাসযে শিল্পীকে শ্রোতা আরও শুনতে চায়, সেই শিল্পীই একদিন নিজের গান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন।ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীতনিজের জীবন ও সঙ্গীতভাবনা নিয়ে তিনি লিখেছিলেন ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত। বইটি শুধু আত্মজীবনী নয়; এক অর্থে নিজের শিল্পীসত্তার পক্ষে তাঁর জবানবন্দি। রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রচলিত রীতির সঙ্গে তাঁর সংঘাত, নিজের গায়কির দর্শন এবং শিল্পীর স্বাধীনতাসবকিছু নিয়েই সেখানে তাঁর অকপট বক্তব্য রয়েছে।নামটিই যেন তাঁর জীবনকে বলে দেয়ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত।তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের একনিষ্ঠ প্রেমিক, অথচ রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রাতিষ্ঠানিক পাহারাদারদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের গানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাওয়া এক শিল্পী, অথচ সেই পথেই তাঁকে একসময় প্রায় একঘরে হতে হয়েছিল।এই দ্বন্দ্বই জর্জদাকে এত বড় করে।তাঁর গান শুনলে আজও কেন বুকের ভিতর কেঁপে ওঠে?কারণ জর্জ বিশ্বাস গানকে সাজিয়ে দেননিতিনি গানকে বাঁচিয়েছেন।যেতে যেতে একলা পথে তাঁর গলায় নিছক একাকিত্বের গান নয়; মনে হয়, কোনও এক সন্ধ্যায় জীবনের সমস্ত পরিচিত মুখ পিছনে ফেলে একজন মানুষ সত্যিই একা পথে বেরিয়ে পড়েছেন।এ মণিহার আমার নাহি সাজে যেন আত্মসম্মানের গান।যে রাতে মোর দুয়ারগুলি হয়ে ওঠে অন্ধকার ঘরের একান্ত স্বগতোক্তি।আর এসেছিলে তবু আসো নাইসেখানে অপেক্ষা যেন জল হয়ে পাতায় পাতায় ঝরে পড়ে।হে মাধবী, দ্বিধা কেন? সে এক আকুল আহ্বান।নীল- অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায় সম্বৃত অম্বর হে গভীর! জলদ গম্ভীর কণ্ঠ।তুমি তো সেই যাবেই চলে বিজয়ার বিষাদের মধ্যে আবার আসার আনন্দ।কেনো চেয়ে আছো গো মা মুখো পানে মাতৃ স্নেহের এক আকুল আবেদন।এই যে গানের মধ্যে দৃশ্য তৈরি করার ক্ষমতা, এটাই জর্জ বিশ্বাসের অনন্যতা।তিনি শব্দকে শুধু উচ্চারণ করেননি; শব্দের ভিতরে ঢুকে তার দরজা খুলে দিয়েছেন।দেবব্রতর কণ্ঠ থেকে হেমন্তর রেকর্ডেঅবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমিজন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমিঅবাক পৃথিবী আমরা যে পরাধীন...তৎকালীন গ্রামোফোন কোম্পানির কাছে রেকর্ড হওয়া মানেই একটি গানকে বৃহত্তর শ্রোতৃমহলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিরাট সুযোগ। কিন্তু ১৯৫০ সালের পরিস্থিতিতে দেবব্রত বিশ্বাসের পক্ষে সহজে গানটি রেকর্ড করা সম্ভব হচ্ছিল না।স্লিল চৌধুরির সুরে গানটি তখনও মূলত গণনাট্যের পরিসরে দেবব্রত বিশ্বাস ও প্রীতি সরকার গাইছেন। মঞ্চে শোনা যাচ্ছে, মানুষের মুখে মুখে ফিরছে, কিন্তু গ্রামোফোনের রেকর্ডে বন্দি না হলে তার বিস্তার সীমিতই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।এই জায়গাতেই এসে পড়েন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।দেবব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে হেমন্তর সম্পর্ক ছিল গভীর স্নেহ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার। দেবব্রতর বাড়িতেই কোনও এক সময়ে হেমন্ত গানটি শুনেছিলেন। সেই শোনা যেন পরবর্তী ইতিহাসের দরজা খুলে দিয়েছিল।গ্রামোফোন কোম্পানির কাছে হেমন্ত তখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় শিল্পী। তাঁর কণ্ঠে কোনও গান রেকর্ড হওয়া মানে সেই গানকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। দেবব্রতর উৎসাহ এবং স্নেহের সূত্র ধরেই হেমন্ত গানটি রেকর্ড করার উদ্যোগ নেন।শেষ পর্যন্ত তিনি একাই রইলেনজীবনের শেষ পর্বে শরীর তাঁকে ক্রমশ দুর্বল করে দিয়েছিল। ১৯৭১-এর পর তাঁর সক্রিয় সঙ্গীতজীবন কার্যত থেমে যায়। ১৯৮০ সালের ১৮ আগস্ট কলকাতায় তাঁর মৃত্যু। কিন্তু আশ্চর্যভাবে তাঁর গান থামেনি।আজও বাঙালির ঘরে যখন সন্ধে নামে, পুরনো রেডিয়ো বা রেকর্ড থেকে যখন ভেসে আসে তাঁর ভারী, গভীর কণ্ঠমনে হয়, মানুষটি বুঝি এখনও কোথাও বসে আছেন।হয়তো সামনে পান সাজা।হয়তো পাশে হারমোনিয়াম।হয়তো টেবিলের উপর ছড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি চিঠি।আর কেউ তাঁকে বলছেজর্জদা, গানটা আর একবার গাইবেন?তিনি হয়তো একটু বিরক্ত মুখে বলছেন, এক গান বারবার গাইতে হয় নাকি?তারপরই হারমোনিয়ামের রিড কেঁপে উঠছে।ঘরটা একটু অন্ধকার হয়ে আসছে।আর জর্জদার গলা ভেসে উঠছে আমার রাত পোহালোরবীন্দ্রনাথের গান।সেই গান, যার ভিতরে প্রেম আছে, অভিমান আছে, মানুষের কান্না আছে, বিদ্রোহ আছেআর আছে এক শিল্পীর নিজের মতো করে বাঁচার একগুঁয়ে স্বাধীনতা।তাই দেবব্রত বিশ্বাস শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতের একজন গায়ক নন। তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের ইতিহাসে এক দীর্ঘ প্রশ্নচিহ্ন।রবীন্দ্রনাথের গান কীভাবে গাইতে হবে?জর্জ বিশ্বাস যেন সারাজীবন তার উত্তর খুঁজেছেন।আর তাঁর উত্তরটি ছিলগান আগে মানুষের কাছে পৌঁছবে, তারপর তার সমস্ত নিয়ম-কানুন।সেই কারণেই এত বছর পরেও জর্জদা পুরনো হননি।কারণ কিছু কণ্ঠ সময়ের সঙ্গে পুরনো হয় না।তারা সময়কে অতিক্রম করেগানের ভিতর দিয়ে, মানুষের ভিতর দিয়ে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হকি বিশ্বকাপে ফের পাকিস্তান-বধ, ৫-৩ গোলে উড়িয়ে দিল হরমনপ্রীতের ভারত

হকি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল ভারত। ১৯ অগস্ট নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনের ওয়াগনার হকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। হরমনপ্রীত সিংয়ের নেতৃত্বে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে ভারতীয় দল। শেষ পর্যন্ত ৫-৩ গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ভারত। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্র্যাগ-ফ্লিকে গোল করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দেয় ভারত। ১১ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মনদীপ সিং। তাঁর গোলে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও একই গতিতে আক্রমণ চালিয়ে যায় হরমনপ্রীতের দল।দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফের গোল করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। তিন গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চাপ আরও বেড়ে যায় পাকিস্তানের উপর। তবে হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা শুরু করে তারা। হন্নান শাহিদ পাকিস্তানের হয়ে প্রথম গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করেন। এরপর কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে ম্যাচ। পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ভারত আক্রমণের ধার একেবারেই কমায়নি।২৪ মিনিটে ফের ভারতীয় শিবিরে উচ্ছ্বাস। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় গোল করেন অভিষেক। একসঙ্গে ৪-৫ জন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তাঁর অসাধারণ ফিনিশ ভারতকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। যদিও এরপরই পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করেন।দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ভারত। প্রথমার্ধে হরমনপ্রীতের জোড়া গোল, মনদীপের একটি গোল এবং অভিষেকের দুর্দান্ত ফিনিশে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ভারত। পাকিস্তানের হয়ে হন্নান শাহিদ ও সুফিয়ানের গোল অবশ্য তাদের ম্যাচে ফেরার আশা জিইয়ে রাখে। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে ভারত। আক্রমণাত্মক হকির পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে রেখে শেষ পর্যন্ত ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে হরমনপ্রীতের দল।চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয় হকি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল টিম ইন্ডিয়া।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
দেশ

মোদির ভিডিও সরাতেই বড় বিপাকে মেটা! ফের তলব শীর্ষ কর্তা, এবার কী হতে চলেছে?

ফেসবুক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাইরাল সেলফি ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার মেটার বৈশ্বিক জননীতি বিষয়ক প্রধানকে তলব করল কেন্দ্র। বুধবার সকালে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে মেটার শীর্ষ কর্তা জোয়েল কাপলানকে। সূত্রের খবর, একই বিষয়ে ইনস্টাগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে।জেন-জি প্রজন্মের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৈরি সেলফি ভিডিও হঠাৎ ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরে মেটা এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও তাতে সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্র।তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর কমিটির প্রধান নিশীকান্ত দুবে স্পষ্ট জানান, শুধু ক্ষমা চাইলেই দায় শেষ হয় না। এই ঘটনার পূর্ণ দায় মেটাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।প্রসঙ্গত, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের আবহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা বলে উল্লেখ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও প্রকাশের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ইনস্টাগ্রামে মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটির দর্শকসংখ্যা তিনশো তিন মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। সেই সাফল্যের মধ্যেই ফেসবুক থেকে ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এখন কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ০৪, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের সুরযাত্রার অবসান: প্রয়াত বিষ্ণুপুর ঘরানার কিংবদন্তি সঙ্গীতাচার্য অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতীয় হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের জগতে এক যুগের অবসান ঘটল। বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী, বিশিষ্ট সঙ্গীতগুরু, গবেষক এবং শিক্ষাবিদ সঙ্গীতাচার্য অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত হলেন। বুধবার দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে শতবর্ষ স্পর্শ করা এই কিংবদন্তি শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শুধু শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অঙ্গনেই নয়, সমগ্র বাংলা তথা দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে।গত ৮ জুলাই কোমরের অস্থিভঙ্গের কারণে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় কয়েক দিন আগে তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাসভবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত বুধবার দুপুরে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট-এ তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর পুত্র শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিবারের সকলেই আশাবাদী ছিলেন যে তিনি আবার সুস্থ হয়ে মঞ্চে ফিরবেন। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হল না।১৯২৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উত্তর কলকাতার টেগোর ক্যাসল স্ট্রিটে এক ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পিতা ছিলেন বিষ্ণুপুর ঘরানার কিংবদন্তি সঙ্গীতাচার্য সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। পিতার কাছেই শৈশব থেকে তাঁর সঙ্গীত শিক্ষার সূচনা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর অসামান্য কণ্ঠস্বর, রাগসংগীতের গভীর অনুধাবন এবং সুরের প্রতি নিবেদন সকলের নজর কেড়েছিল।প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা হয় কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে। পরবর্তীকালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৪৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীতের নন্দনতত্ত্ব, ইতিহাস ও দর্শন নিয়ে তাঁর গভীর আগ্রহ তাঁকে একজন অনন্য গবেষকে পরিণত করে।কর্মজীবনের শুরুতে ডেপুটি অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের দপ্তরে চাকরিতে যোগ দিলেও সেই পেশায় বেশিদিন নিজেকে আবদ্ধ রাখতে পারেননি। সঙ্গীতই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র সাধনা। ১৯৫০-এর দশকে তিনি আকাশবাণীর সঙ্গীত বিভাগে যোগ দেন এবং সেখান থেকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।সঙ্গীতের নন্দনতত্ত্ব ও শিল্পদর্শন নিয়ে তাঁর গবেষণা বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। ১৯৬৮ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণাগ্রন্থ পরে সঙ্গীতের শিল্পদর্শন নামে প্রকাশিত হয় এবং ভারতীয় সঙ্গীত-চিন্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।দীর্ঘ প্রায় তিরিশ বছর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন তিনি। পরবর্তীকালে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বও সামলান। ১৯৯২ সালে অবসর গ্রহণের পরও তাঁর কর্মজীবন থেমে থাকেনি। ২০০০ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনয়ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন শিল্পী নন, ছিলেন একজন অসামান্য শিক্ষকও। তাঁর হাত ধরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য শিল্পী। বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা নীহাররঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, পুত্র শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বহু শিষ্য-শিষ্যা আজ দেশের সঙ্গীতজগতে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁদের সকলের কাছেই তিনি ছিলেন একজন কঠোর অথচ স্নেহময় গুরু।যদিও তাঁর পরিচয়ের মূল ভিত্তি ছিল বিষ্ণুপুর ঘরানা, তবুও তিনি কখনও নিজেকে ঘরানার সংকীর্ণ সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখেননি। পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, পরিবর্তনকে যদি আমি গ্রহণ না করি, তা হলে আমাকে কেউ নেবে না। সেই কারণেই আমি ঘরানার সীমা অতিক্রম করেছি। তাঁর প্রিয় শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন তারাপদ চক্রবর্তী ও উস্তাদ আমির খান, যাঁদের গায়কী তাঁর শিল্পচিন্তাকে সমৃদ্ধ করেছিল।জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সঙ্গীত ছিল তাঁর একমাত্র সাধনা। শতবর্ষ স্পর্শ করার দিনও তিনি মঞ্চে প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে রাগ বেহাগ পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন। অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত নিয়মিত শিষ্য-শিষ্যাদের গান শেখাতেন এবং সঙ্গীতচর্চায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত রেখেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টির মধ্য দিয়েই রাগ পূরবী নতুন জীবন লাভ করেছে যা তাঁর গভীর সঙ্গীতবোধ ও নন্দনতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচয় বহন করে।ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক বিরল প্রতিভা, বিশিষ্ট গবেষক এবং আদর্শ শিক্ষক হিসেবে অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান আগামী প্রজন্মের শিল্পী ও গবেষকদের পথ দেখাবে। তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত রাগসংগীত, তাঁর গবেষণা, তাঁর দর্শন এবং তাঁর অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর মধ্যে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে তাঁর নাম এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

জুলাই ৩০, ২০২৬
দেশ

টানা সাঁইত্রিশ দিনের লড়াই শেষে প্রথম শান্তির ঘুম! কিন্তু ঘুম ভাঙতেই অভিজিতের এক কথায় নতুন জল্পনা

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে টানা সাঁইত্রিশ দিন ধরে দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। বিক্ষোভ, মিছিল, অবস্থান এবং প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে লাগাতার কর্মসূচি চলেছে। আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সহযোগীদের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজ্যে এই কর্মসূচি আরও জোরদার হয়। শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেন। পরে কেন্দ্র আন্দোলনকারীদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানায়। এরপরই ককরোচ জনতা পার্টি তাদের অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।রবিবার সকালে নিজের সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অভিজিৎ। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘ সাঁইত্রিশ দিনের পর কোনও দুশ্চিন্তা ছাড়াই শান্তিতে ঘুমিয়েছেন। এত দিন প্রতিদিন পরবর্তী কর্মসূচি, আন্দোলনের পরিকল্পনা এবং নানা চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কিন্তু এবার কয়েক দিনের জন্য অন্তত সেই উদ্বেগ থেকে মুক্তি মিলেছে বলেই জানান তিনি।তবে ভিডিওর শেষের মন্তব্যই নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিজিৎ বলেন, এটা সবে শুরু। ককরোচ জনতা পার্টিকে আরও অনেক দূর যেতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে কি আবার কোনও নতুন ইস্যুতে আন্দোলনের পথে নামতে চলেছে সংগঠন? যদিও এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে অভিজিতের এই বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।

জুলাই ২৬, ২০২৬
কলকাতা

‘বিজেপির পাশবালিশ হয়ে যান’— ঋত শিবিরকে মমতার কড়া বার্তা

এবারের ২১ জুলাইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এক ভিন্ন ছবি সামনে এল। একদিকে মেয়ো রোডে বিদ্রোহী ঋত শিবিরের কর্মসূচি, অন্যদিকে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের সভা। একই সময়ে দিল্লিতেও বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের উদ্যোগে একুশে স্মরণ পালন করা হয়। সব মিলিয়ে দলের ভিতরের বিভাজন প্রকাশ্যে চলে আসে।কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চ থেকে বিদ্রোহী শিবিরকে একের পর এক আক্রমণ করা হয়। ভিড়ের তুলনা টেনে কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষও।কুণাল ঘোষ বলেন, ওখানে ফাঁকা চেয়ার। বিজেপিকে ফোন করে লোক আনার চেষ্টা চলছে। তৃণমূলের প্রতীকে জিতে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, বাংলার মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী একজন, বাকি আমরা সৈনিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ও প্রতীকের বিরুদ্ধে কেউ গেলে তার কোনও জায়গা নেই।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্রোহী শিবিরকে কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী র বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, এক দেশ, এক ভোট চালু হলে ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা নির্বাচন হবে। তখনই ডেট অফ এক্সপায়ারি দেখা যাবে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভাষণে বিদ্রোহী ঋত শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, নকল বেড়াল তপস্বী না হয়ে, বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান। দলের প্রতীক নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। আমি ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট। আইনত আমাদের প্রতীক কাড়তে পারবে না। যদি কাড়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে মনে রাখবে তোমাদের সবটা কেড়ে নেব।মমতা আরও বলেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে চারশো মামলা হয়েছে। কিন্তু কোনও মামলায় প্রমাণ দিতে পারবে না। তিনি দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রতিও সমর্থন জানান। তাঁর বক্তব্য, দরকার হলে আমি নিজেও তাদের কর্মসূচিতে যাব। কারণ আমাদের সমর্থন প্রথম থেকেই ছিল, আছে, থাকবে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী শিবিরকে উদ্দেশ করে বলেন, পাঁচ ওয়াট, দশ ওয়াটের বাল্ব এখন ভাবছে সে হ্যালোজেন হয়ে গিয়েছে। আমি নেত্রীকে অনুরোধ করব, যারা দল ছেড়ে গেছে, তাদের কাউকে আর ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।তিনি আরও বলেন, ইডি, সিবিআই, আয়কর, সিআইডি, এসটিএফ সবাই একসঙ্গে লাগলেও ভয় পাই না। গলা কেটে দিলেও আমার শরীর থেকে জয় বাংলা আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ শোনা যাবে।মঞ্চ থেকে উপাসনা চৌধুরীও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, যখনই মা-মাটি-মানুষের উপর আঘাত আসবে, তখনই সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়াবে।এবারের একুশে জুলাই তাই শুধু শহিদ স্মরণ নয়, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রকাশ্য মঞ্চ হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকল।

জুলাই ২২, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 22
  • 23
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

বিজেপির সংগঠন থেকে সরলেন রাজ্যের মন্ত্রীরা, বর্ধমান-সহ ৭ জেলায় সভাপতি বদল

রাজ্য বিজেপিতে রদবদল নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছিল। শুক্রবার রাজ্যের শীর্ষ পদ থেকে জেলা সভাপতিসহ বেশ কিছু পদে ব্যাপক রদবদল করল বঙ্গ বিজেপি। সামনেই রাজ্যে পুরসভা নির্বাচন। তার আগে এই রদবদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এমনকী দলের মহিলা, যুব, এসসি এবং ওবিসি মোর্চার সভাপতিও বদল করা হয়েছে। বিজেপি দলের ঘোষিত নীতিই হল দলে এক ব্যক্তি, এক পদ। সেই অনুযায়ী রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, ইন্দ্রনীল খান, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পলকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চমকে দেওয়ার মতো খবর অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু বিজেপির মহিলা মোর্চার নতুন রাজ্য সভানেত্রী হয়েছেন। এই পদে ছিলেন ফাল্গুনী পাত্র। যুব মোর্চার সভাপতি ইন্দ্রনীল খানকে সরিয়ে বিধায়ক অমিত সামন্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওবিসি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন ধনঞ্জয় ঘোষ, এসসি মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্বজিৎ বিশ্বাসকে।পাশাপাশি লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই পদে রয়েছেন আরও তিন জন। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিজন গোস্বামী ও শশী অগ্নিহোত্রী।এদিন রাজ্যের সাতটি সাংগঠনিক জেলা বর্ধমান, কাটোয়া, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, বারাসত, বনগাঁ, মেদিনীপুরে নয়া জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বর্ধমান জেলায় সভাপতি হয়েছেন আইনজীবী আশিষ পাল। এর আগে সভাপতি ছিলেন অভিজিৎ তা। কাটোয়ায় সভাপতি হয়েছেন মানিক রায়। বাকি পাঁচ জেলার সভাপতিরা হলেন, বণগাঁ নৃপেন বিশ্বাস, বারাসাত দীপঙ্কর চক্রবর্তী, শ্রীরামপুর শশী সিং, আরামবাগ প্রশান্ত দীগর, মেদেনীপুর সৌমেন তিওয়ারী। এছাড়া এদিন দলীয় সংগঠনের ৯টি বিভাগে ১৫ জনকে দায়িত্ব দিয়েছেন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

সর্বমঙ্গলার চরণে পুষ্পার্ঘ্য, করলেন আরতি, বর্ধমানে নতুন নজির শুভেন্দুর?

এই প্রথমবার বর্ধমানের অধিষ্ঠার্থী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিলেন রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রী। নতুন ইতিহাস তৈরি হল। শুক্রবার শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দিরে গিয়ে পুজো দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুধু পুজোই দিয়েই মন ভরেনি দেবীর সামনে আরতিও করেন তিনি। পরে মায়ের কাছে মাথা নত করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দিরে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আগমন উপলক্ষে এদিন বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল মন্দির চত্বর। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বর্ধমানের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে মন্দির চত্বরেও বহু মানুষের ভিড় জমে যায়। শুক্রবার বেলা ১২টার কিছু পর হেলিকপ্টারে বর্ধমানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রথমে পুলিশ লাইন মাঠে প্রশাসনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে শক্তিগড়ে তৈরি অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামার পর তিনি সরাসরি চলে যান সর্বমঙ্গলা মন্দিরে।মন্দিরে পৌঁছে পুজারি অরুণ কুমার ভট্টাচার্যের সঙ্গে গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং আর এক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। তাঁরাও পুজোয় অংশ নেন। গর্ভগৃহের মেঝেতে বসে পুজারি অরুণ কুমার ভট্টাচার্যের সহযোগিতায় সর্বমঙ্গলা দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে পুজো সম্পন্ন করার পর দেবীর সামনে আরতি করেন তিনি। পুজো শেষে মাথা নত করে দেবীকে প্রণাম জানিয়ে গর্ভগৃহ থেকে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মন্দিরে ভোগ অন্নের আয়োজনও করা হয়েছিল। তবে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ব্যস্ততা থাকায় তিনি ভোগ গ্রহণ করতে পারেননি। এরপর মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে গাড়িতে করে পুলিশ লাইন মাঠে পৌঁছে প্রশাসনিক সভায় যোগ দেন তিনি।পুজারি অরুণ ভট্টাচার্য জানান, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ভক্তিভরে সর্বমঙ্গলা দেবীর কাছে পুজো নিবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারীই বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, যিনি সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দিরে এসে পুজো দিলেন। সেই কারণেই শুক্রবার বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে একটি নতুন ইতিহাস তৈরি হল বলে জানান পুজারি।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
শিক্ষা

“মেয়েরা সুস্থ থাকলেই এগিয়ে যাবে সমাজ”—কাঞ্চননগর স্কুলে নারী স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা শিবির

নারী সুস্থ থাকলেই সুস্থ পরিবার, সুস্থ সমাজকাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে নারী স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা শিবিরনারীর স্বাস্থ্য শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের সুস্থতা। ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি, সংক্রমণ প্রতিরোধ, মানসিক সুস্থতা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধিনারী স্বাস্থ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ সচেতনতা শিবির।শিবিরে ছাত্রীদের সামনে নারী স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছোট বয়স থেকেই গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিজের শরীর ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও প্রত্যেকের রয়েছে।বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুনীতা সাহা বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারীস্বাস্থ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি পরিবারের সুস্থতার সঙ্গে মেয়েদের স্বাস্থ্য সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাড়িঘর এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও ছাত্রীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, পরিচ্ছন্নতা শুধু অভ্যাস নয়, সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি।অন্যদিকে শিক্ষিকা নন্দিনী দে স্বাস্থ্যকে শুধুমাত্র শারীরিক সুস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানসিক সুস্থতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুস্থ শরীরের পাশাপাশি সুস্থ মনও প্রয়োজন। তাই দৈনন্দিন জীবনে একটি সাধারণ পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও ছাত্রীদের সচেতন করা হয়। এই সময়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সংক্রমণের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং শরীরের কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং অলসতা এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়।খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টিও উঠে আসে শিবিরে। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। শরীরে ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে নিয়মিত পর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণ এবং খাদ্যতালিকায় উপযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক তথা জাতীয় শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত নারীস্বাস্থ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, অনেক ক্ষেত্রেই নারীর স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক পরিকাঠামো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসও নারীস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেকেরই নিজের সুস্থতার পাশাপাশি অন্যের সুস্থতার কথাও ভাবতে হবে। কারণ, একটি সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই সমাজের মেয়েরা সুস্থ, সচেতন এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।শিবিরে নারীস্বাস্থ্য নিয়ে এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ছাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়, দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই যে সুস্থ ভবিষ্যতের অন্যতম চাবিকাঠিসেই বার্তাই উঠে আসে এই সচেতনতা শিবির থেকে।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
কলকাতা

রক্ষাকবচ গেল, এবার জামিনের আবেদন! মিলন প্রধানের মামলায় হাই কোর্টে বড় নির্দেশ

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়। সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া রক্ষাকবচের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য ডিভিশন বেঞ্চে যায়। সেই মামলায় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ মিলনের রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ করে তাঁকে জামিনের আবেদন করতে বলেছে।এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন মামলায় আপাতত কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। ওই মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেফতারও দেখানো যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এই সুরক্ষা বহাল থাকার কথা ছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য।ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় মিলন প্রধানের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য জানান, তাঁর মক্কেল নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী। তাঁর দাবি, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়। ভোটের আগে নতুন মামলায় জামিন চাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই বলেও আদালতে সওয়াল করেন তিনি।জবাবে প্রধান বিচারপতি জানান, এই ধরনের পরিস্থিতিতে জামিনের আবেদন করাই উপযুক্ত আইনি পথ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আগাম জামিন বা গ্রেফতারের পরে জামিনের আবেদন করা হয়নি কেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া আইনের বাইরে কোনও বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কারণ হতে পারে না। আইন সকলের জন্য সমান।প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, নির্বাচনে লড়ার অধিকার থাকলেও আইন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জামিনের আবেদন করা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আদালত দ্রুত শুনানির ব্যবস্থাও করতে পারে বলে তিনি জানান। ছুটির দিন হলেও প্রয়োজন হলে আদালত বসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।অন্য দিকে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, মিলন প্রধানকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, সেখানে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রাজ্যের দাবি। নতুন যে মামলাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানেও ১৯ সেপ্টেম্বরই তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল বলে জানায় রাজ্য।রাজ্যের আরও দাবি, পুরনো মামলাগুলি আগের সরকার প্রত্যাহার করতে চেয়েছিল। সেই কারণে দীর্ঘ সময় ওই মামলাগুলিতে কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। রাজ্যের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে ২০২১ সাল থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই বর্তমানে পদক্ষেপ করা হয়েছে।মিলন প্রধানকে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলন পর্বের পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, জমায়েত এবং লুটপাট-সহ একাধিক অভিযোগের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির পর থেকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।এদিকে মিলনের জামিনের আবেদন নিয়েও আলাদা করে শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে সেই মামলায় মিলনকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয় এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার বিষয়েও আদালত মত জানায়। ফলে মিলন প্রধানের ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ এবং জামিনদুই আইনি প্রক্রিয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর। ভোটের আগে মিলন প্রধানের আইনি পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
কলকাতা

‘বেইমানি করতে পারব না গুরু’, বিজেপির টাকা বিতর্কে আচমকাই মুখ খুললেন বং গাই

বাংলার জনপ্রিয় ইউটিউবার কিরণ দত্ত, যিনি বং গাই নামে পরিচিত, ইনফ্লুয়েন্সারদের রাজনৈতিক প্রচারে টাকা নেওয়া নিয়ে তৈরি বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। সমাজমাধ্যমে তিনি জানালেন, কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি কোনও দিন ভিডিও বানাননি এবং ভবিষ্যতেও তা করবেন না। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বিজেপির নির্বাচনী খরচের হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে এই বিতর্ক শুরু হয়। সেই হিসাবে দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কনটেন্ট তৈরির জন্য শমীক অধিকারীর নামে ১৩ লক্ষ টাকা এবং সায়ক চক্রবর্তীর নামে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর দুই কনটেন্ট নির্মাতাকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।এই বিতর্কের মধ্যেই কিরণ দত্ত নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় লেখেন, কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি কোনও দিন একটি ভিডিওও বানাননি। ভবিষ্যতেও এমন করবেন না বলে স্পষ্ট জানান তিনি। নিজের অনুরাগীদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, তাঁকে তাঁরা যে জায়গা দিয়েছেন এবং খারাপ সময়ে যেভাবে পাশে থেকেছেন, তার সঙ্গে তিনি বেইমানি করতে পারবেন না।কিরণ আরও লেখেন, তিনি নদিয়ার একটি ছোট জায়গার ছেলে। সেখান থেকে তাঁকে যে জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন দর্শকেরাই, সেই সম্পর্ক তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, তিনি যা পেয়েছেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। তাই এভাবেই ভালো থাকতে চান তিনি।বিজেপির নির্বাচনী খরচের হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর শুধু কিরণ দত্তই নন, আরও কয়েক জন পরিচিত মুখ এই বিতর্কে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিকও দাবি করেছেন, বিজেপির হয়ে প্রচারের জন্য তিনি কোনও টাকা নেননি। অন্য দিকে, সমাজমাধ্যমে শমীক অধিকারী এবং সায়ক চক্রবর্তীকে নিয়ে সমালোচনা ও পাল্টা মন্তব্যও শুরু হয়েছে।শমীক অধিকারীর বাটন নামে ভিডিওটি নির্বাচনের আগে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল। অন্য দিকে, সায়ক চক্রবর্তী একটি রেস্তরাঁয় গোমাংস পরিবেশন নিয়ে তৈরি বিতর্কের কারণে আলোচনায় এসেছিলেন। এখন নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া খরচের হিসাব সামনে আসায় সেই পুরনো ঘটনাগুলিও নতুন করে আলোচনায় ফিরেছে।তবে কোনও নির্দিষ্ট ভিডিও বা ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক দলের অর্থ থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট নথি, বক্তব্য এবং প্রেক্ষাপট দেখা জরুরি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া খরচের হিসাবে কারও নামে টাকা দেখানো হয়েছে মানেই সেই ব্যক্তির প্রতিটি রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রতিটি ভিডিও ওই অর্থের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি টানা যায় না।এই পরিস্থিতিতে কিরণ দত্তের বক্তব্যের মূল কথা হল, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভিডিও তৈরি করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। ইনফ্লুয়েন্সারদের রাজনৈতিক অবস্থান, অর্থের বিনিময়ে প্রচার এবং দর্শকের প্রতি তাঁদের দায়এই তিনটি বিষয় নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
বিদেশ

ভয়াবহ বন্যার পর রাষ্ট্রপুঞ্জে বড় বার্তা বলেন্দ্রর! হিমালয় বাঁচাতে ভারত-চিনকে একসঙ্গে চান নেপালের প্রধানমন্ত্রী

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বন্যা ও তার পরবর্তী বিপর্যয়ের প্রভাব নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় সরব হলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিপর্যয় শুধু নেপালের সমস্যা নয়, গোটা বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা।সাম্প্রতিক বন্যায় নেপালের পার্বত্য অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় ১,৪০০ ছাড়িয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। নেপালের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, উদ্ধার ও পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে দশ হাজার মৃত্যু এখনও নিশ্চিত সংখ্যা নয়, সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আশঙ্কা হিসেবেই তা উল্লেখ করা হয়েছে।এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন্দ্র জানিয়েছেন, হিমালয়ের পরিবেশ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিমবাহ গলছে, পাহাড়ের ঢাল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে এবং নদীগুলির আচরণও আগের তুলনায় অনিশ্চিত হচ্ছে। এর ফলে বন্যা, ধস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।বলেন্দ্রর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনও দেশের সীমান্ত মেনে চলে না। হিমালয়ের এক প্রান্তে বিপর্যয় শুরু হলে তার প্রভাব অন্য দেশেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষেত্রেও নেপাল থেকে নেমে আসা জলের প্রভাব ভারত পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চ থেকেই ভারত ও চিনকে নিয়ে একটি নতুন যৌথ ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রস্তাব, নেপাল, ভারত ও চিনের নেতৃত্বে একটি হিমালয় জলবায়ু সহনশীলতা ব্যবস্থা তৈরি করা হোক। এর মাধ্যমে উপগ্রহের তথ্য ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ভাগ করে নেওয়া, বিপজ্জনক হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কবার্তা জোরদার করা এবং বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত পেরিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণে সমন্বয় করা যেতে পারে।বলেন্দ্র আরও বলেন, হিমালয় যেন শুধু বিভিন্ন দেশের মধ্যে সীমান্ত হয়ে না থাকে। বরং এই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, তিন দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিপর্যয়ের আগে সতর্কতা এবং বিপর্যয়ের পরে উদ্ধারদুই ক্ষেত্রেই প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।বিপর্যয়ের পর নেপালকে দ্রুত সাহায্য করার জন্য ভারত ও চিনকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক দুর্যোগের পর দুই দেশই উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে সহযোগিতা করেছে বলে তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জে জানান।হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জল, কৃষি, জীবিকা এবং পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বলেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, হিমালয়ের পরিবেশগত পরিবর্তন তাই শুধু নেপাল, ভারত বা চিনের বিষয় নয়, এর প্রভাব অনেক বড় এলাকায় পড়তে পারে।সাম্প্রতিক বিপর্যয়কে সামনে রেখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু দুর্যোগের পরে উদ্ধারকাজ করলেই হবে না। আগাম সতর্কতা, তথ্য আদানপ্রদান, বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকাঠামো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর জোর দিতে হবে। হিমালয় অঞ্চলে ভবিষ্যতের বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত, চিন এবং নেপালকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানই তাঁর বক্তব্যের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

পুজো মিটলেই পুরভোটের দামামা! কলকাতা-সহ সাত পুরসভায় কবে ভোট, সামনে এল সম্ভাব্য দিন

পুজোর মরসুম শেষ হলেই রাজ্যে পুরভোটের আবহ তৈরি হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংএই সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। তবে এখনও ভোটের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি। সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই গোটা প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।এই সাতটি পুরসভায় মোট ৬৩০১টি বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ভোটের পরিকাঠামো চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। কোথায় কত বুথ, কত ইভিএম এবং কত সংখ্যক ভোটকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজন, সেই বিষয়গুলি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ইভিএম পাঠানোর কাজ শুরু হতে পারে।প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুজোর পর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। তার পর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ভোট হতে পারে। তবে চূড়ান্ত দিনক্ষণ কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই নিশ্চিত হবে।এই পুরভোটে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে কলকাতা ও হাওড়ার দিকে। হাওড়া পুরসভায় শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে সেই পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে সেখানে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। প্রশাসকের মাধ্যমে পুর পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর পর হাওড়ায় পুরভোট হতে পারে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। প্রশাসক বসিয়ে সেখানে পুর পরিষেবা চালানো হচ্ছে। হাওড়া ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন হয়নি এমন পুরসভাগুলির মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি, বালি এবং ধূপগুড়ি।এর পাশাপাশি আগামী বছরের শুরুতেই রাজ্যের আরও বেশ কিছু পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত বোর্ড না থাকা পুরসভা এবং মেয়াদ শেষ হতে চলা পুরসভাগুলিকে নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বড় আকারের পুরভোটের প্রস্তুতি নিতে হবে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে।নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হল সময়মতো ভোটের সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করা। ভোটার তালিকা, বুথ, ইভিএম, ভোটকর্মী এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাপ্রতিটি বিষয়েই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাত পুরসভার ভোটের প্রস্তুতি শেষ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাকি পুরসভাগুলির নির্বাচন কী ভাবে করা যায়, সেই পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।ফলে পুজোর মরসুম শেষ হওয়ার পরেই রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কলকাতা ও হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা-সহ সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হলে ডিসেম্বরের শুরুতেই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সূচির জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
দেশ

গাঁজার পর এবার মদ! বিমান ওড়ানোর আগেই পরীক্ষায় ধরা পড়লেন এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট

জুরিখ থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান ওড়ার ঠিক আগে মদ্যপ অবস্থায় ধরা পড়লেন সংস্থার এক পাইলট। উড়ানের আগে নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেই তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ে বলে জানা গিয়েছে। এরপরই তাঁকে বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে।ঘটনাটি গত ৪ সেপ্টেম্বরের। জুরিখ বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটির। উড়ানের আগে পাইলটের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষাতেই তাঁর শরীরে নির্ধারিত সীমার বেশি অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।বিষয়টি সামনে আসার পরই পাইলটকে বিমান চালানো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে অন্য এক পাইলট বিমানটি নিয়ে দিল্লি রওনা দেন। চূড়ান্ত চিকিৎসা পরীক্ষার রিপোর্ট এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই পাইলট সাসপেন্ড থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তা এবং সংস্থার নির্ধারিত নিয়ম মানার ক্ষেত্রে তারা কোনও আপস করে না। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পাইলটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। সমস্ত বিমানকর্মীকে নিরাপত্তার সর্বোচ্চ মান মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনার আগে এয়ার ইন্ডিয়ার আরও একটি বিমানকে ঘিরে পাইলটের মাদক পরীক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছিল। গত ৪ আগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লিগামী একটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান মাঝআকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়। ঘটনায় যাত্রী এবং বিমানকর্মী মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। প্রাথমিক তদন্তে বিমানের তিনটি জলচাপ ব্যবস্থা সাময়িক ভাবে বিকল হয়ে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে।ওই ঘটনার তদন্তের সময় বিমানের চালকের মাদক পরীক্ষাতেও নিষিদ্ধ মনঃপ্রভাবকারী পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরবর্তী পরীক্ষায় ওই ফল নিশ্চিত হয় এবং পরে এয়ার ইন্ডিয়া সংশ্লিষ্ট পাইলটের চাকরি বাতিল করে। তবে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ওই পাইলটের মাদক গ্রহণের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তে এখনও নিশ্চিত হয়নি।ফুকেত-দিল্লি বিমানের ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া তাদের পাইলটদের মাদক পরীক্ষার ব্যবস্থাও আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জুরিখে আরও এক পাইলটের শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ায় বিমানকর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা এবং উড়ানের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।বিমান চালানোর ক্ষেত্রে পাইলটের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উড়ানের আগে পরীক্ষায় কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নিয়ম রয়েছে। জুরিখের ঘটনাতেও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।এখন চূড়ান্ত চিকিৎসা পরীক্ষার রিপোর্ট এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর। তার পরেই ওই পাইলটের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal