ফুসফুসে আটকে বিশাল চুম্বক, বন্ধ হচ্ছিল শ্বাস! অভিনব কৌশলে ৬ বছরের শিশুর প্রাণ বাঁচালেন কলকাতার চিকিৎসকেরা
ফুসফুসের ভিতরে আটকে গিয়েছিল বড়সড় চুম্বক। ক্রমশ বন্ধ হয়ে আসছিল শ্বাস নেওয়ার পথ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ছবছরের এক শিশুকে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, শিশুটির ডান দিকের ফুসফুসের শ্বাসনালিতে আটকে রয়েছে চুম্বক। শেষ পর্যন্ত অভিনব পদ্ধতিতে সেই চুম্বকই বের করে শিশুটির প্রাণ বাঁচালেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা। চুম্বক বের করতে ব্যবহার করা হল বিশেষ ভাবে তৈরি আরও একটি ছোট চুম্বক। চিকিৎসকদের দাবি, এই পদ্ধতি অত্যন্ত বিরল।হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত ৩ নভেম্বর ওই শিশুকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। শারীরিক পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, পরিস্থিতি বেশ জটিল। ফুসফুসের ডান দিকের শ্বাসনালির ভিতরে আটকে রয়েছে একটি বড় চুম্বক। তার জেরে শিশুটির স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। সাধারণ পদ্ধতিতে চুম্বকটি বের করার চেষ্টা করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারত। তাই বিকল্প পদ্ধতির কথা ভাবতে শুরু করেন চিকিৎসকেরা।এর পরেই নেওয়া হয় অভিনব উদ্যোগ। মানিকতলার প্রভাকর কাঁড়ার নামে এক কারিগরের সাহায্যে তৈরি করা হয় প্রায় ৩ মিলিমিটারের একটি বিশেষ চুম্বক। সেটিকে একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসার যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তার পর ব্রঙ্কোস্কপির সাহায্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ফুসফুসের শ্বাসনালিতে পৌঁছে দেওয়া হয় যন্ত্রটি। শেষ পর্যন্ত ছোট চুম্বকের সাহায্যে ভিতরে আটকে থাকা বড় চুম্বকটি বের করে আনতে সক্ষম হন চিকিৎসকেরা।চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল। সামান্য ভুলেও শিশুটির শ্বাসনালির ক্ষতি হতে পারত। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। কলকাতার কোনও মেডিক্যাল কলেজে তো বটেই, দেশের অন্য সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালেও এর আগে এমন পদ্ধতি প্রয়োগ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে চিকিৎসক মহলের একাংশের।এই চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক চিকিৎসক সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় এবং অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক দেবাশিস ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক আত্রেয়ী বসু, শুভ্রজিৎ নস্কর এবং উদিতা সোরেন।এই বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি ঘিরে চিকিৎসক মহলে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই উদ্যোগে খুশি শিশুটির পরিবারের সদস্যেরাও। স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নানা অভিযোগের মধ্যে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

