• ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

MI

কলকাতা

ভোটের মুখে সিপিএমে বড় ভাঙন! রাজ্য কমিটি ছাড়লেন প্রতীক-উর-রহমান

ভোটের মুখে সিপিএমে বড়সড় ধাক্কা। দলের রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতীক-উর-রহমান। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। নিজের পদত্যাগপত্র দলকে পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন এসএফআই রাজ্য সভাপতি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।পদত্যাগপত্রে প্রতীক-উর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত ও কাজের ধরন তাঁর সঙ্গে মিলছে না। সেই কারণে তিনি মানসিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়াই ঠিক বলে মনে করেছেন তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধ নেই।এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি রাজনৈতিক পর্ব। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিজের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি গড়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, নিজের দল নিয়ে ভোটে লড়বেন এবং তৃণমূল ছাড়া অন্য সব বিরোধী দলকে জোটের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে সিপিএমকেও প্রস্তাব পাঠানো হয়।এরপর নিউটাউনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন। এই বৈঠক ঘিরেই দলের অন্দরে মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানা যায়। দলের একাংশ এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে। যদিও তখন তরুণ নেতা শতরূপ এই বৈঠকের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সিপিএম এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্য দল হুমায়ুনকে প্রার্থী করলে বা মন্ত্রী করলে আপত্তি না থাকলেও, সিপিএম কথা বললেই কেন সমস্যা হবে সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।শতরূপের ওই মন্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন প্রতীক-উর। সেখানে তিনি লেখেন, নীতি ও নৈতিকতা ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি হতে পারে না। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, কিন্তু দলের অন্দরে জল্পনা শুরু হয় যে এই মন্তব্য আসলে শতরূপকেই উদ্দেশ্য করে।এরপর রবিবার দলকে পাঠানো চিঠিতে প্রতীক-উর স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। তাই সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।প্রতীক-উরের পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সিপিএমকে কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, সিপিএমের নেতৃত্বের একাংশ ও ফেসবুক নির্ভর রাজনীতির জেরে দলের প্রথম সারির যুবনেতাদের এই পরিণতি হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।ভোটের আগে সিপিএমের এই পদত্যাগ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা। প্রতীক-উরের এই পদক্ষেপ কি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি বড় কোনও ভাঙনের ইঙ্গিত সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিদেশ

জিতে পরদিনই আওয়ামি লিগের অফিসের তালা খুললেন বিএনপি সাংসদ! পঞ্চগড়ে চমক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আবু দাউদ প্রধান। নির্বাচনে জয়ের পরদিনই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামি লিগ-এর একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলায়। আবু দাউদ প্রধান পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিএনপির সভাপতি এবং সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর দেশের নানা প্রান্তে দলটির দপ্তরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার ভিন্ন ছবি দেখা গেল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পরদিন চাকলাহাট ইউনিয়নে আওয়ামি লিগের একটি অফিস খুলে দেন আবু দাউদ।এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তুমুল আলোচনা। ভিডিওতে স্থানীয় আওয়ামি লিগ নেতারা বলেন, এই পদক্ষেপ মহৎ উদ্যোগ। অন্যদিকে কয়েকজন স্থানীয় নেতা শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা দেন।আবু দাউদ প্রধান বলেন, তিনি জানতে পারেন যে অফিসটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা না বাড়ানোর জন্যই তিনি তালা খুলে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এটি দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং শান্তি বজায় রাখার উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, কোনও দলই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, অফিসটি আগে অন্য একটি গোষ্ঠী তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। এখন সেটি খুলে পরিষ্কার করা হচ্ছে। আপাতত সেখানে কোনও রাজনৈতিক কার্যক্রম হবে না বলেই জানানো হয়েছে।বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই পদক্ষেপ নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। বিরোধী দলের দপ্তর খুলে দেওয়ার ঘটনায় দেশে সহাবস্থানের নতুন ইঙ্গিত মিলছে কি না, তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
কলকাতা

চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়নি কেন? জবাব চাইল কমিশন

এসআইআর ও ভোটার তালিকা পরিমার্জন নিয়ে দিল্লিতে প্রশ্নের মুখে বাংলার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কাজ বিলম্বের দায় রাজ্যের ওপর চাপাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের প্রস্তুতি নিয়েও চাইল রিপোর্ট।ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দিল্লিতে প্রশ্নের মুখে পড়লেন বাংলার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, জাতীয় নির্বাচন কমিশন-এর ফুল বেঞ্চের বৈঠকে তাঁকে একাধিক বিষয়ে জবাব দিতে হয়।কমিশনের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য যে পদমর্যাদার আধিকারিকদের চাওয়া হয়েছিল, রাজ্য সময়মতো তা দেয়নি। তার ফলেই ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। এই বিলম্বের দায় রাজ্যের ওপরই চাপিয়েছে কমিশন।তবে মুখ্যসচিব বৈঠকে জানান, রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে এক দফতর থেকে অন্য দফতরে আধিকারিকদের দ্রুত সরানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু কমিশনের দাবি, যেসব আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজ্য গড়িমসি করছে।এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের দরবারে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। রাজ্যকে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে বলা হলেও তা জমা পড়েনি বলে অভিযোগ। চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। এই সমস্ত বিষয়েই ব্যাখ্যা চাইতে মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছিল। সমন মেনে তিনি দিল্লিতে হাজির হন এবং বৈঠকে অংশ নেন।এদিনের বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভোটের আগে নির্দেশিকা অনুযায়ী আধিকারিক বদলির কী অবস্থা, তা জানতে চেয়েছে কমিশন। প্রশাসনিক প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।রাজ্য সরকার যে রিপোর্ট দেবে, তার ভিত্তিতেই কত দফায় ভোট হবে, তা নির্ধারণ করবে কমিশন। পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো পাওয়া গেলে ভোটের দফা কমানো সম্ভব হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
কলকাতা

বিদেশি ভোটার ইস্যুতে কড়া নির্বাচন কমিশন! একাধিক জেলাশাসক তিরস্কৃত

ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, কোন কর্তৃত্বে এআরও-রা ইআরএমও-দের ডেকেছিলেন। একাধিক জেলার জেলাশাসকের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিশন।কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও মালদার জেলাশাসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। কোচবিহারের জেলাশাসককে নথি আপলোডে দেরির জন্য তিরস্কার করা হয়েছে। দুই ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাজ নিয়েও অসন্তোষ জানানো হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসককে রাজনৈতিক মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এসআইআর শেষ হওয়ার আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বৈঠক করেন। ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকও। বৈঠকে স্পষ্ট বলা হয়, কোনও বিদেশি নাগরিকের নাম যেন ভোটার তালিকায় না থাকে। ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব জেলাশাসককে ব্যক্তিগতভাবে তথ্য যাচাই করতে হবে। সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যদি ভবিষ্যতে কোনও নাম থেকে যায়, তা হলে এক বা পাঁচ বছর পরেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মামলা পর্যন্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান যাঁদের বৈধ ভোটার বলে চিহ্নিত করে, তাঁদের বাইরে কাউকে বৈধ ভোটার হিসেবে মানা যায় না। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ ভোটার হিসেবে দেখছেন। নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে তৃণমূলের সোশাল মিডিয়া সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, তাঁরাও চান না কোনও বিদেশি ভোটার থাকুক। তবে বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক বা গরিব মানুষদের বারবার নোটিস দিয়ে ডাকা হচ্ছে। তাঁদের পক্ষে বারবার যাতায়াত করা সম্ভব নয়। ফলে তাঁদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিদেশি ভোটার বিতর্কে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
রাজ্য

পুণেতে খুন পুরুলিয়ার শ্রমিক! ভাষা বিতর্ক না কি মদের ঝামেলা—রহস্যে ঘনাচ্ছে মৃত্যু

ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল পুরুলিয়ায়। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র-এর পুণে থেকে উদ্ধার হয়েছে পুরুলিয়ার বরাবাজারের বাসিন্দা সুখেন মাহাতোর দেহ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আমিন সওকত শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই খুন হতে হয়েছে সুখেনকে। যদিও তদন্তে নেমে পুণে পুলিশের দাবি, ভাষা নয়, মত্ত অবস্থায় বচসা থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তরফে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।মঙ্গলবার পুণে শহরের কাছে শিকরাপুর থানার এলাকায় একটি হোটেলের পিছন থেকে সুখেনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, সহকর্মীদের হাতে খুন হয়েছেন সুখেন এবং এর নেপথ্যে রয়েছে ভাষাগত বিদ্বেষ।অন্যদিকে, সুখেনের ভাই তুলসীরাম মাহাতো পুণেতে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন। তাঁর সম্মতিক্রমেই এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিকরাপুর থানায় মারাঠি ভাষায় এফআইআর লেখা হলেও তা হিন্দিতে অনুবাদ করে তাঁকে শোনানো হয়। তুলসীরাম জানিয়েছেন, তাঁর সম্মতি নিয়েই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।তুলসীরামের বয়ান অনুযায়ী, ৯ তারিখ দুপুরে সুখেন বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশে বের হন। সন্ধ্যায় তিনিও কাজে যান, কিন্তু সেখানে সুখেনকে দেখতে পাননি। ফোন করলেও যোগাযোগ হয়নি। রাতেও একাধিকবার ফোন করা হয়, কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। পরদিন সকালে শিফট শেষ করে বাড়ি ফিরে সুখেনকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে সুপারভাইজার সন্দীপ জানান, একটি হোটেলের পিছনে সুখেনের দেহ পড়ে রয়েছে। সেখানে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন তুলসীরাম।শুক্রবার দুপুরে সুখেনের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পুরুলিয়ার বরাবাজারে যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এই ঘটনায় ভাষা-বিদ্বেষ না কি ব্যক্তিগত বচসা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুণে পুলিশ। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, তা জানতে অপেক্ষা তদন্তের অগ্রগতির দিকে।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ছোট দলের বিরুদ্ধে জয়, তবু স্পষ্ট দুর্বলতা — পাকিস্তান ম্যাচের আগে চিন্তায় ভারত

নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৯৩ রানের দাপুটে জয়। স্কোরবোর্ড বলছে একতরফা ম্যাচ। কিন্তু মাঠের ছবিটা অন্য কথা বলছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ উইকেটে ২০৯ রান তুলে ভারত জিতলেও, ব্যাটিংয়ের শেষভাগের ধস ও স্পিন-দুর্বলতা পাকিস্তান ম্যাচের আগে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।ঝড়ো শুরু, কিন্তু শেষটা ধসঅভিষেক শর্মার অসুস্থতায় সুযোগ পান সঞ্জু স্যামসন। ৮ বলে ২২ রান করে শুরুটা ভালো হলেও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। নিউ জিল্যান্ড সিরিজেও ব্যর্থ সঞ্জু বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না।তবে পাওয়ারপ্লেতে ভারত ছিল অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৬.৫ ওভারে ১০০ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এত দ্রুত ১০০ করার নজির আগে ছিল না। এই কৃতিত্বের বড় অংশ জুড়ে ঈশান কিশন। অনুশীলনে চোট পাওয়ার পরও ২৪ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন তিনি। ৬টি চার ও ৫টি ছয়ে নামিবিয়ার বোলিং ছিন্নভিন্ন করে দেন।কিন্তু মাঝের ওভারে তাল কাটে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ১৩ বলে মাত্র ১২ রান করেন। তিলক বর্মা ২৫ করে থামেন। শেষদিকে ইনিংস টেনে নেন হার্দিক পান্ডিয়া ২৮ বলে ৫২ রানের ইনিংস ভারতকে ২০০ পার করায়।তারপরই চরম ধস। শেষ ১১ বলে ৫ উইকেট, শেষ দুই ওভারে মাত্র ১০ রান। ২০৯ থেকে স্কোর আরও বড় হতে পারত, কিন্তু নামিবিয়ার স্পিনে ছন্দ হারায় ভারত। অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ভিত কাঁপিয়ে দেন। স্পিনারদের দাপটে ভারতের ৯ উইকেটের মধ্যে ৫টিই স্পিনে।ছোট দলের বিরুদ্ধে বড় সতর্কবার্তানামিবিয়ার মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিরুদ্ধেও স্পিন সামলাতে হিমশিম খেল ভারত। বিশেষ করে ইনিংসের শেষভাগে ব্যাটারদের শট-নির্বাচন ও রানিং বিটুইন দ্য উইকেট ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। রিঙ্কু-শিবমের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট, অক্ষরের প্রথম বলেই বোল্ড এসব বিশ্বচ্যাম্পিয়নসুলভ নয়।আরও বিস্ময়, নতুন বলে জসপ্রীত বুমরাহ-কে আনা হয়নি। সপ্তম ওভারে আক্রমণে আসেন তিনি। পাওয়ারপ্লেতে ৫.৪ ওভারে ৫০ তোলে নামিবিয়া যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম ৫০। প্রথম ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়া মোহাম্মদ সিরাজ-কে একাদশে না রাখাও কৌশলগত প্রশ্ন তুলেছে।বোলারদের হাত ধরে রক্ষাতবে ম্যাচ জেতালেন বোলাররাই। বরুণ চক্রবর্তী ৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। হার্দিক ও অক্ষর দুটি করে উইকেট নেন। ১৮.২ ওভারে ১১৬ রানে থামে নামিবিয়া।পাকিস্তান ম্যাচের আগে উদ্বেগস্কোরলাইন বড় জয় দেখালেও বাস্তব বলছে ভারতের ব্যাটিং এখনও স্থিতিশীল নয়। আমেরিকার বিরুদ্ধে সমস্যার ইঙ্গিত মিলেছিল, নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও তা স্পষ্ট হল। স্পিনের বিরুদ্ধে দুর্বলতা, ইনিংসের শেষভাগে ধস, নতুন বলের ব্যবহার নিয়ে দ্বিধা সব মিলিয়ে পাকিস্তান ম্যাচের আগে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।নামিবিয়ার মতো ছোট দলের বিরুদ্ধেও যদি এমন ফাঁকফোকর দেখা যায়, তবে পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে ভারত কতটা প্রস্তুত সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। জয় এসেছে, কিন্তু বিশ্ব ত্রাস দলের ভিত যে পুরোপুরি মজবুত নয়, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
দেশ

পুণেতে খুন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক! বজরং দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, বিজেপিকে বয়কট পরিবারের

বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের পুণেতে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বজরং দলের সদস্যরা তাঁদের ছেলেকে খুন করেছে। সেই কারণে বিজেপির কোনও নেতা বা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের বরাবাজারের তুমড়াশোলের বাঁধডি গ্রামের বাসিন্দা সুখেন মাহাতো পুণেতে কাজ করতেন। বুধবার রাতে তাঁর খুনের ঘটনা সামনে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের প্রতিনিধি দল নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। সমবেদনা জানানো হয় পরিবারের সদস্যদের।বৃহস্পতিবার বিজেপির পক্ষ থেকেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা নিহতের বাড়িতে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেই খবর পেতেই পরিবার বিজেপিকে কার্যত বয়কট করার ঘোষণা করে। কুড়মি জনজাতির ওই পরিবার জানিয়ে দেয়, তারা বিজেপির কোনও নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে না।এই ঘটনায় জঙ্গলমহলের বিভিন্ন কুড়মি সংগঠন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নিহতের কাকা দীনেশচন্দ্র মাহাতো অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে বজরং দলের সদস্যরা তাঁদের ছেলেকে নির্মমভাবে খুন করেছে। তাঁর দাবি, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সুবিচার চান।নিহতের বাবা ধীরেন মাহাতো বলেন, পেটের দায়ে ছেলে মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়েছিল। অর্থের অভাবে ছেলেদের বেশি পড়াশোনা শেখাতে পারেননি। মারাঠি ভাষা জানত না। হয়তো বাংলা ভাষায় কথা বলেছিল, সেটাই কারও অপছন্দ হয়েছিল। সেই কারণেই ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে তাঁর সন্দেহ।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, তিনি ওই পরিবারের পাশে রয়েছেন। অন্যদিকে পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, যে কোনও মৃত্যু দুঃখজনক। তিনি স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, জঙ্গলমহল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজের জন্য ভিনরাজ্যে যাচ্ছেন, তাহলে উন্নয়ন কোথায় হয়েছে?পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো অভিযোগ করেন, বাংলা ভাষায় কথা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে প্রান্তিক কুড়মি সম্প্রদায়ের ওই যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনা জঙ্গলমহল মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।পুণে হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

‘ভাষার জন্য অত্যাচার, তারপর খুন’— পুণে কাণ্ডে ক্ষুব্ধ মমতা, গ্রেপ্তারের দাবি

মহারাষ্ট্রের পুণেতে পুরুলিয়ার এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের ঘটনায় শোক প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত এবং একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ। মৃত শ্রমিকের পরিবারের পাশে পুরো বাংলা রয়েছে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এক যুবককে তাঁর ভাষা, পরিচয় এবং শিকড়ের কারণে অত্যাচার করা হয়েছে। শেষে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, আমি অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সুখেনের পরিবারকে বলছি, এই অকল্পনীয় শোকের মুহূর্তে বাংলা আপনাদের পাশে আছে।নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম সুখেন মাহাতো, বয়স ৩১ বছর। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের বরাবাজারের তুমড়াশোলের বাঁধডি গ্রামে। তিনি পুরুলিয়ার ৭৮ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। পুণের কোরেগাঁও ভিমা এলাকার সনৎ বাড়ি অঞ্চলে একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় কাজ করতেন সুখেন। তাঁর দাদা তুলসিরাম মাহাতোর সঙ্গেই একই সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তিনি।অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই রাজ্যের পিছিয়ে পড়া কুড়মি জনজাতির এই পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করা হয় এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার শিফটে কাজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন সুখেন। কর্মস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।বুধবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি মহারাষ্ট্র পুলিশ। পুণের শিকারপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা এবং ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

সরকারি অনুষ্ঠানে এবার বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’! বড় নির্দেশ শাহের মন্ত্রকের

সরকারি অনুষ্ঠানে এবার থেকে রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম গাওয়া এবং বাজানো বাধ্যতামূলক করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম এবং জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন একসঙ্গে গাওয়া বা বাজানো হয়, তবে প্রথমে বন্দে মাতরম বাজাতে হবে। এছাড়া গান চলাকালীন উপস্থিত সকলকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বন্দে মাতরম-এর পূর্ণ ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের সংস্করণ, যাতে মোট ছয়টি স্তবক রয়েছে, সেটিই সরকারি অনুষ্ঠানে গাওয়া বা বাজানো উচিত। এতদিন সাধারণত দুটি স্তবক গাওয়া হত। বাকি চারটি স্তবক বাদ থাকত। নতুন নিয়মে ছয়টি স্তবকই গাইতে হবে।জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়, সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থানকালে, জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে ও পরে রাষ্ট্রীয় গীত বাজানো হবে। পদ্ম সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও বন্দে মাতরম বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে রাজ্যপালের আগমন ও ভাষণের আগে এবং পরে এই গান গাওয়া বা বাজানো হবে। তবে সিনেমা হলে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়নি।উল্লেখ্য, জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন গাইতে সময় লাগে ৫২ সেকেন্ড। তার তুলনায় বন্দে মাতরম-এর পূর্ণ সংস্করণ গাইতে সময় লাগবে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্র বছরভর নানা কর্মসূচি নিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, হঠাৎ করে বন্দে মাতরম নিয়ে নতুন করে কথা বলা হচ্ছে। গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুর দিয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, পরের স্তবকগুলো নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করা হতে পারে।কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে একদিকে সমর্থন, অন্যদিকে প্রশ্নদুইই সামনে এসেছে। সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করার এই নির্দেশিকা নিয়ে দেশজুড়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

নির্বাচন কমিশনে জমা তালিকা নিয়ে কারচুপি? শেষ পর্যায়ে নতুন বিতর্ক

এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও বিতর্ক থামছে না। এবার রাজ্য সরকার অভিযোগ তুলেছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। এই নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। কারা এই ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা করছে, তা স্পষ্ট না করলেও স্বার্থান্বেষী মহল-এর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে।রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসআইআর-এর কাজের জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে মোট ৮৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিকের নাম জমা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, সেই তালিকাই ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। রাজ্যের দাবি, নির্বাচন কমিশনে যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত পে-লেভেল মানদণ্ড মেনেই প্রস্তুত করা হয়েছে।নবান্ন আরও জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ৯ ফেব্রুয়ারির পর্যবেক্ষণের পরই এই তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ এ, বি, সি ও ডি হিসেবে যে শ্রেণিবিভাগ রয়েছে, তা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত। সেই নিয়ম মেনেই অত্যন্ত সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে গ্রুপ বি কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করে কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে কোনও অনিয়ম বা বিচ্যুতি হয়নি বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।নবান্নের বক্তব্য, সম্প্রতি যে অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া। বাস্তবের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বলে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়েও রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যে চাপানউতোর চলছে, এই বিজ্ঞপ্তি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

দোলের পরেই ভোটের দিন ঘোষণা! বাংলায় আসছে কমিশনের হাইভোল্টেজ টিম

মার্চের ১ ও ২ তারিখে রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল। তারা রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করবে। সেই বৈঠকের পর দোলের পরেই ঘোষণা করা হতে পারে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। তার আগে কোনও ঘোষণা হবে না বলেই সূত্রের খবর।আগে ঠিক ছিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা হবে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। ফলে ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এখন জানা যাচ্ছে, নেড়া পোড়া বা হোলিকা দহনের আগে কোনওভাবেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে না।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশন স্বশাসিত সংস্থা হলেও তারা কেন্দ্রের ইঙ্গিত মেনেই চলে। বিজেপি উত্তর ভারতের ধর্মীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেয়। সেই মতে হোলিকা দহনের আগে কোনও শুভ কাজ শুরু করা ঠিক নয় এমন বিশ্বাস থেকেই ভোটের নির্ঘণ্ট দোলের পরে ঘোষণা করা হতে পারে বলে মত অনেকের। উল্লেখ্য, বাংলার পাশাপাশি অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতেও নির্বাচন রয়েছে। সব রাজ্যের ভোট একসঙ্গেই ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা।বাংলায় কত দফায় ভোট হবে তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে, তারা এক দফায় ভোট করাতে প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় লোকবল তাদের হাতে রয়েছে। যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যায়, তবে এক দফায় ভোট করা সম্ভব এবং তাতে হিংসাও কমবে। তবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তিন দফায় ভোট করানোর পক্ষেই ঝুঁকছে বলে জানা গিয়েছে। লোকবল ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়ার বিষয়টিই এখন প্রধান চিন্তার কারণ।এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার পরেই ১ ও ২ মার্চ রাজ্যে আসবে কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের দল। সেই বৈঠকের পরই দোলের পরে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
দেশ

আরএসএস প্রধানের টেবিলে আদনান শামি, ‘দেশদ্রোহিতা’ তকমা দিল কংগ্রেস

জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও সুরকার আদনান শামির সঙ্গে নৈশভোজ করেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে আরএসএস। পাকিস্তানি বায়ুসেনার প্রাক্তন আধিকারিকের পুত্র আদনানের সঙ্গে ভাগবতের নৈশভোজকে দেশবিরোধী বলে কটাক্ষ করেছে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। এই ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে মুম্বইয়ে দুদিনের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে বলিউডের একাধিক শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আদনান শামিও। তাঁর সঙ্গে মোহন ভাগবতের নৈশভোজের ছবি সামনে আসতেই কংগ্রেসের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডেল থেকে লেখা হয়, আদনান শামির বাবা আরশাদ শামি খান ছিলেন পাকিস্তানি বায়ুসেনার পাইলট। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে তিনি পাঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তির ছেলের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়া করা আরএসএস-এর পক্ষ থেকে দেশদ্রোহিতার সামিল বলে দাবি কংগ্রেসের।তবে এই মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ আরএসএস এবং পদ্মশ্রী প্রাপক আদনান শামি। সোশাল মিডিয়ায় ভাগবতের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, তাঁর সঙ্গে একটি চমৎকার দিন কাটিয়েছেন। দীর্ঘ আলোচনায় ভাগবত তাঁর অনেক ভুল ধারণা দূর করে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন শামি। তিনি ভাগবতকে অত্যন্ত ভদ্র ও ব্যক্তিত্ববান মানুষ বলেও প্রশংসা করেন।ওই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ভাগবত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১.২৫ কোটি হিন্দু বাস করেন। তাঁরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করেন, তবে বিশ্বের সব হিন্দু তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন এবং সাহায্য করবেন।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

মিমির মামলায় জামিন পেলেন তনয়, তবু জেলেই থাকতে হবে কেন?

অভিনেত্রী ও সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর করা মামলায় অবশেষে জামিন পেলেন তনয় শাস্ত্রী। তবে এখনই জেল থেকে মুক্তি মিলছে না তাঁর। পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশকে হেনস্থার মামলায় তনয় শাস্ত্রী-সহ আরও দুজনকে চার দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ জানুয়ারি। সেদিন বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ, সেই অনুষ্ঠান চলাকালীনই তাঁকে হেনস্থা করা হয়। গান বন্ধ করে তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জন্য ক্লাবের এক কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মিমি।/pএরপর ২৯ জানুয়ারি তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত তনয়কে গ্রেফতার করা হয়। মিমিকে হেনস্থার অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশকে হেনস্থার অভিযোগেও তনয়-সহ আরও দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।/p৩০ জানুয়ারি অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সাত দিনের জেল হেফাজতের আবেদন জানালেও বিচারক চার দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেন। সেই মেয়াদ শেষ হলে চলতি মাসের ৩ তারিখ ফের আদালতে তোলা হয় তাঁদের। আবারও সাত দিনের হেফাজতের আবেদন করে পুলিশ এবং মামলায় শ্লীলতাহানির ধারা যোগ করার আবেদন জানানো হয়। তনয়ের আইনজীবীরা জামিন চাইলেও তা খারিজ করে দেন বিচারক। একই সঙ্গে মিমি চক্রবর্তীর গোপন জবানবন্দি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সেই জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।বর্তমানে মিমি চক্রবর্তীর করা হেনস্থার মামলায় জামিন মিললেও পুলিশের কাজে বাধা ও হেনস্থার মামলায় আগামী ১১ তারিখ পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে তনয় শাস্ত্রীকে। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সব পক্ষ।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর শুনানিতে নাটকীয় মোড়, হঠাৎ নিয়ম বদলে ডোমিসাইল মানল কমিশন

এসআইআর শুনানির একেবারে শেষ পর্বে এসে নিয়ম বদলাতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের লাগাতার চাপের মুখে এবার থেকে কমিশন নির্ধারিত ১১টি নথির পাশাপাশি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেটকেও প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা রাজ্য নির্বাচনী দপ্তরকে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।তবে এই ক্ষেত্রে শর্তও স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের সই করা ডোমিসাইল সার্টিফিকেটই গ্রহণযোগ্য হবে। অন্য কোনও আধিকারিকের সই করা শংসাপত্র নথি হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে না। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় এই নতুন সংযুক্তি নিঃসন্দেহে বহু ভোটারের কাছে বড় স্বস্তির খবর।এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের একাধিক নির্দেশিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকায় নাম থাকার জন্য যে নথিগুলির তালিকা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড কিংবা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট না থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়। এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর প্রশ্ন ছিল, বিহারে এসআইআর চলাকালীন যদি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তবে বাংলায় তা করা হচ্ছে না কেন।এই একই প্রসঙ্গ ওঠে সুপ্রিম কোর্টেও। গত বুধবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সওয়াল করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ না করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের চাপ এবং বিহার ও বাংলার জন্য আলাদা নিয়ম করা নিয়ে সমালোচনার মুখেই শুনানির শেষ দিনে এসে নিয়ম বদলাতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন।ডোমিসাইল সার্টিফিকেট হল স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অনুমোদিত আধিকারিকদের দেওয়া শংসাপত্র। সাধারণত যাঁরা অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে একই এলাকায় বসবাস করছেন, তাঁরাই এই সার্টিফিকেট পাওয়ার যোগ্য। এই নথিতে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের সই থাকে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৫ সালে বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকেই প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে তা বাদ দেওয়ায় বহু ভোটারকে নথি জোগাড় করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। আজ, ৭ ফেব্রুয়ারি, শুনানির শেষ দিনে কমিশনের তরফে জানানো হল, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এবার গ্রহণযোগ্য হবে। কয়েকটি জেলায় এখনও শুনানি শেষ হয়নি। সেই জেলাগুলিতে যদি শুনানির সময় বাড়ানো হয়, তবে ওই অতিরিক্ত সময়ে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন ভোটাররা।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
কলকাতা

সময় ফুরোল, কাজ বাকি! ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছোল, বড় ঘোষণা কমিশনের

নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রাজ্যের একাধিক জায়গায় এখনও ভোটার তালিকার কাজ অসম্পূর্ণ। কোথাও শুনানি শেষ হয়নি, আবার কোথাও নথি আপলোডের কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসকদের আবেদনের ভিত্তিতে এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় বাড়াল নির্বাচন কমিশন।শনিবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তিনি জানান, আপাতত আরও সাত দিন শুনানির কাজ চলবে, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ওই দিনই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। তবে সময় বাড়ানোয় সেই তালিকা প্রকাশও পিছিয়ে যাচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, ধাপে ধাপে সমস্ত কাজ শেষ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার পরেই বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্বে এসে দেখা যায়, বেশ কিছু জেলায় এখনও ভোটারদের নথি যাচাই এবং শুনানির কাজ শেষ করা যায়নি।এই কারণেই কয়েকটি জেলার জেলাশাসক কমিশনের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানান। শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন মেনে নেওয়া হয়েছে। ফলে শুনানির সময় যেমন বাড়ল, তেমনই পিছোল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনও।এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও শুনানির কাজ বাকি রয়েছে। তবে মোট কাজের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। খুব বেশি কাজ বাকি নেই বলেই জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী সাত দিনের মধ্যেই সব শুনানি শেষ করা সম্ভব হবে।চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ফেব্রুয়ারির শেষে যাবে কি না, এই প্রশ্নে তিনি জানান, শুনানির কাজ শেষ হলে তার পর আরও কয়েক দিন সময় লাগবে তথ্য চূড়ান্ত করতে। সেই হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
কলকাতা

সংখ্যালঘু বাজেট নিয়ে আগুন মন্তব্য, থমকে গেল বিধানসভার কাজ

বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে শুক্রবার নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়াল। সংখ্যালঘু উন্নয়নের বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল ও তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের মধ্যে তীব্র বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। দুপক্ষের সংঘাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বিধানসভা।বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি অনুপ্রবেশকারী ও অপরাধের প্রসঙ্গ এনে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন। তাঁর মন্তব্যে বিধানসভায় তুমুল হইচই শুরু হয়। তিনি বলেন, সরকার মাদ্রাসা শিক্ষায় বাজেট বাড়ালেও সেই শিক্ষা থেকে কেন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘু উন্নয়নের নামে সরকার অপরাধীদের রক্ষা করছে।এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষের আত্মত্যাগ রয়েছে। তাঁদের অপরাধী বলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি কাজী নজরুল ইসলাম ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, তাঁরা কি অপরাধী ছিলেন। অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।এরপর বিধানসভায় তুমুল হইচই শুরু হয়। তৃণমূল বিধায়করা প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকেন। বিজেপি বিধায়করাও পাল্টা স্লোগান শুরু করেন। দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না, যাতে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায় আঘাত পান। সংখ্যালঘু ও অপরাধ সংক্রান্ত অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার।অধিবেশন শেষে বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, তিনি কোনও অন্যায় কথা বলেননি। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার তোষণের রাজনীতি করছে, যা সকলেই জানেন। ধর্মের রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য গত ১৫ বছরে কী উন্নয়ন হয়েছে এবং মাদ্রাসা থেকে কতজন উচ্চপদস্থ পেশাদার তৈরি হয়েছেন, তার হিসাব দিতে হবে।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬
দেশ

আমেরিকার পর নজর পশ্চিম এশিয়ায়! ভারতের বাণিজ্য কৌশলে বড় বদল

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার পর এবার পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে নতুন বাণিজ্যচুক্তির পথে এগোচ্ছে ভারত। উপসাগরীয় সহযোগিতামূলক পর্ষদ বা গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করল নয়াদিল্লি। এই পর্ষদে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরিন।এই ছটি দেশের সঙ্গে ভারতের আগে থেকেই বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত ও জিসিসি-র দেশগুলির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ১৭ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারে। এবার সেই সম্পর্ক আরও শক্ত করতে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি বা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে জিসিসি-র ছটি দেশে শুল্ক ছাড়াই পণ্য রপ্তানি করতে পারবে ভারত। গত বৃহস্পতিবারই এই নিয়ে প্রাথমিক চুক্তিতে সই হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে ভারতের সঙ্গে এই দেশগুলির বাণিজ্যিক যোগাযোগ রয়েছে। নতুন চুক্তি হলে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হবে।বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, খাদ্যশস্য উৎপাদনে ভারত বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির মধ্যে রয়েছে। অন্য দিকে, জিসিসি-র দেশগুলি তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে এগিয়ে। ফলে এই চুক্তি কার্যকর হলে দুপক্ষই লাভবান হবে বলে মত তাঁর।এই প্রসঙ্গে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রসংঘের উপদেষ্টা জেফ্রি স্যাক্স বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ভারতের জন্য একটি বড় বাজার। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিও দ্রুত বাড়ছে। চিনের সঙ্গেও ভারতের বাণিজ্যের সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, শুধু আমেরিকার বাজারের উপর নির্ভর না করে ভারতের উচিত বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬
দেশ

মেঘালয়ের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, ধসে চাপা অন্তত ১৬ শ্রমিক, নিখোঁজ আরও বহু

মেঘালয়ের তাসখাই এলাকার একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে ধস নামল খনির ভিতরে। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বহু শ্রমিক এখনও নিখোঁজ। তাঁদের অনেকেই খনির ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিচার করে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন উদ্ধারকারী দল। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকদের অধিকাংশই অসমের বাসিন্দা।দুর্ঘটনার পরেই খনির মুখ থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে। বাইরে থাকা শ্রমিকেরা আতঙ্কিত হয়ে খনির সামনে ভিড় জমান। ঘটনাস্থলে কয়েকজন মহিলা ও শিশুকেও দেখা যায়। জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণটি খনির ভিতরেই ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মেঘালয় পুলিশ। দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার অভিযান।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খনির ভিতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেখানে এখনও দাহ্য গ্যাস জমে আছে কি না, নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত শ্রমিকদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনুমান করা হচ্ছে, খনির ভিতরে দাহ্য গ্যাস জমে আচমকা বিস্ফোরণ হতে পারে। আবার অবৈধ ভাবে বিস্ফোরক ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। কারণ যাই হোক, আপাতত নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬
দেশ

তুষারে ঢাকা পাহাড়ে এনকাউন্টার, কিস্তওয়ারে খতম পাক জঙ্গি আদিল

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জম্মু-কাশ্মীর সফরের আগেই বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তাবাহিনী। কিস্তওয়ার ও উধমপুরে পৃথক সংঘর্ষে জইশ-ই-মহম্মদের তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদিল, যাকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল নিরাপত্তাবাহিনী। বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, আদিল পাকিস্তানের নাগরিক এবং জঙ্গি সংগঠন লস্করের শীর্ষ নেতা সইফুল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল।নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে খবর, গত ১৮ মাস ধরে আদিলকে ধরার চেষ্টা চলছিল। একাধিকবার অভিযান হলেও সে প্রতিবারই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যায় কিস্তওয়ার জেলার তুষারাবৃত চাতরু এলাকায় নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এলাকা ঘিরে ফেলে গুলির লড়াইয়ের পর আদিলকে খতম করা হয়। এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানান, প্রায় ২০ বার ধরা পড়ার মুখ থেকেও পালিয়ে গিয়েছিল আদিল, তবে এবার আর রেহাই পায়নি।এর আগে বুধবার সকালেই উধমপুর জেলায় একটি গুহায় আটকে পড়া জইশের দুই কমান্ড্যান্টের মৃত্যু হয়। ওই দুই জঙ্গির নাম রুবানি ওরফে আবু মাভিয়া এবং তার সহযোগী জুবায়ের। বাহিনীর সঙ্গে প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে তাদের গুলির লড়াই চলে। সকালে গুহার ভিতর থেকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই দুই জঙ্গির দেহ।এই অভিযানে একটি এম-৪ কার্বাইন, একটি একে অ্যাসল্ট রাইফেল, তিনটি গ্রেনেড এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স ডেল্টা, হোয়াইট নাইট কোর, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ যৌথভাবে অংশ নেয়।আদিল নিহত হওয়ার পর এবার লস্কর নেতা সইফুল্লার খোঁজে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকে সইফুল্লা। এরপর কিস্তওয়ার ও দোদা এলাকায় একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে সে জড়িত বলে অভিযোগ। এখনও উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং তল্লাশি অভিযান চলছে।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬
কলকাতা

বাজেটে মমতার চমক, পাল্টা তিন হাজারের প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর—ভাতার লড়াই তুঙ্গে

ভাতার পাল্টা ভাতা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের পর লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি তৃণমূল ও বিজেপি। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর রাজ্য বিধানসভায় পেশ হয়েছে অন্তর্বর্তী বাজেট। সেই বাজেটেই একের পর এক জনমুখী ঘোষণায় কল্পতরু হয়ে উঠেছেন মুখ্যমন্ত্রী, মত রাজনৈতিক মহলের।ভোটের আগে শেষ বাজেটে আবারও নারী ভোটব্যাঙ্ককে গুরুত্ব দিয়েছে তৃণমূল, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এদিন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এর ফলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অসংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডারে পাবেন মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত মহিলারা পাবেন ১ হাজার ৭০০ টাকা করে।তবে এই ঘোষণার পাল্টা বড় দাবি করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করা হবে। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, বিজেপির সংকল্পপত্র কমিটির কনভেনরের উপস্থিতিতেই তিনি এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এপ্রিল মাসে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে পয়লা জুনের আগেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে ঢুকে যাবে।লক্ষ্মীর ভান্ডারে ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ভোটমুখী বলেও অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর দাবি, শুধুমাত্র ভোটের কথা মাথায় রেখেই এই প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হয়েছে। তাঁর মতে, সিভিক ভলান্টিয়ার, প্যারা টিচার এবং যুবশ্রী প্রকল্পের টাকা এপ্রিল মাসে দেওয়া হলেও লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা মার্চের মধ্যেই দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এছাড়াও গোয়ার উদাহরণ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিজেপি সেখানে মহিলাদের পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাহলে বাংলায় মহিলাদের দেড় হাজার টাকা কেন দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এই বিষয়টি বিধানসভাতেও তিনি তুলেছেন বলে জানান বিরোধী দলনেতা।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • ...
  • 112
  • 113
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

নিট কেলেঙ্কারির ভয়ংকর ফাঁস! “৫০০-৬০০ নম্বর নিশ্চিত”, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে বিস্ফোরক তথ্য

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্ত শুভম খয়েরনার পরীক্ষার্থীদের ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকেই ফাঁস হয়েছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।নিট ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তভার এখন সিবিআইয়ের হাতে। ইতিমধ্যেই জাতীয় পরীক্ষাকর্তা সংস্থা পরীক্ষা বাতিল করেছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দিনও ঘোষণা করা হয়েছে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া শুভম খয়েরনার গত এপ্রিল মাসেই তার সাপ্লায়ার যশ যাদবকে জানিয়েছিল যে প্রশ্নপত্রের কপি জোগাড় হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ২৯ এপ্রিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি হয়। তারপর থেকেই শুরু হয় পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করে প্রলোভন দেখানো।অভিযুক্তরা পড়ুয়াদের বোঝাত, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিলে তারা নিশ্চিতভাবে বেশি নম্বর পাবে এবং দেশের নামী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ চলত মূল অভিযুক্তদের মধ্যে। সেখানে পরীক্ষার্থীদের ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হত।সিবিআই ইতিমধ্যেই শুভমের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। চ্যাটের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কপিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে উঠে এসেছে, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর ও শিকর-সহ দেশের বিভিন্ন বড় কোচিং কেন্দ্রে এই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, জম্মু-কাশ্মীর, বিহার এবং কেরলেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।শুভম খয়েরনার বয়স ৩০ বছর। নাসিকের ইন্দিরানগরের বাসিন্দা সে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র হলেও কখনও ডাক্তারি পাশ করতে পারেনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে নিটের প্রশ্নপত্র কিনে পরে তা ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয় সে।এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে বড় চক্র কাজ করছিল, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে তদন্তে।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আরজি কর কাণ্ডে বড় অ্যাকশন! একসঙ্গে সাসপেন্ড তিন আইপিএস অফিসার

ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নির্যাতিতা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্তও।যাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা হলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ডের সময় পুলিশের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি। এফআইআর করতে দেরি এবং তদন্তে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সেই সময় পুলিশের আধিকারিক এবং অফিসারদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মূল মামলার তদন্ত যেহেতু সিবিআই করছে, তাই সেই তদন্তে রাজ্য সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।আরজি কর কাণ্ড সামনে আসার পর নির্যাতিতার পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছিল বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দুই পুলিশ অফিসার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।আরজি কর কাণ্ডের সময় কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে ছিলেন বিনীত গোয়েল। ডিসি সেন্ট্রাল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় পুলিশের মুখপাত্রের মতো আচরণ করেছিলেন এবং সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এত প্রশ্ন কেন উঠেছিল।এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে শুরু থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল নতুন সরকার।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

শাহজাহানদের জেল নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা! মোবাইল উদ্ধার, সাসপেন্ড দুই শীর্ষ আধিকারিক

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দিদের হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জেলের ভিতর থেকেই অপরাধচক্র চালানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।শুক্রবার বিধানসভা থেকে নবান্নে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি জানান, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। এরপর রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তদন্তে অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসির উপস্থিতিতে এবং কারা দফতরের ডিজির নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকেই অপরাধচক্র চালানো হচ্ছিল। তাঁর কথায়, গোটা রাজ্যের অপরাধীরা জেলের ভিতর থেকেই নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে।এই ঘটনায় পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষ আক্রমণও শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কাজ একদিনের নয়। বছরের পর বছর ধরে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দুর্নীতির আঁতাত তৈরি হয়েছে। সেই চক্র ভাঙতে সময় লাগবে।শুভেন্দু আরও জানান, দমদম থেকে বহরমপুর পর্যন্ত একাধিক সংশোধনাগারে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বন্দিদের আলাদা সেলে রাখা থেকে শুরু করে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলে বসে যারা অপরাধচক্র চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, দায়িত্বে গাফিলতি হলে শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে নয়, যারা তাদের সাহায্য করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোন কোন বন্দির কাছে মোবাইল ছিল, কার নামে সিম ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং কীভাবে সেই ফোন জেলের ভিতরে পৌঁছল, তা জানতে সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আরজি কর কান্ডে বড় পদক্ষেপ! তিন আইপিএস সাসপেন্ড, ফের খুলছে তদন্তের ফাইল; মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের বহুল আলোচিত চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে নতুন করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস অফিসারবিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-র ভূমিকা নিয়েও খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে লিখিত রিপোর্ট তলব করেছিলেন। আরজি করের ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামলেছিল, কোথায় কোথায় গাফিলতি হয়েছে এবং কোন স্তরে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রাথমিক তদন্তেই উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ। বিশেষ করে ঘটনার পর যথাসময়ে এফআইআর দায়ের, প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্তের প্রাথমিক ধাপগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্যের উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সরকারি স্তরে আর্থিক সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড সামনে আসতেই সারা রাজ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। চিকিৎসক সমাজের লাগাতার আন্দোলন, প্রতিবাদ মিছিল এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষের মুখে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়। পরবর্তীতে তাঁকে কলকাতা পুলিশের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে এসটিএফ-এর এডিজি ও আইজিপি পদে বদলি করা হয়েছিল।একই সময়ে কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে থাকা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ও আরজি কর-পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের মুখপাত্র হিসেবে বারবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেছিলেন। তাঁর ভূমিকাও এখন তদন্তের আওতায় আসছে।শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই তদন্ত শুধু প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজন হলে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে ন্যায়বিচারের পথে বড় পদক্ষেপ বলে দাবি করলেও, শাসকদলের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই কটাক্ষ করেছে।আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের দরজা খোলায় ফের সামনে আসছে সেই ভয়াবহ রাতের বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন। এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

ঘরছাড়াদের ফেরাতে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! তবে মানতে হবে কড়া শর্ত

ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছিল, বিভিন্ন জেলায় তাঁদের বহু নেতা-কর্মী আক্রান্ত এবং ঘরছাড়া। শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনেও সেই অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আর সেই অভিযোগের পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।বিধানসভায় এদিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হন শাসকদলের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। বিরোধীরা কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তোলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অত্যাচারে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন।এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর জানা মতে বর্তমানে কেউ ঘরছাড়া নন। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিরোধী দলনেতাকে নামের তালিকা জমা দিতে বলেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, আপনারা তালিকা দিন, কারা ঘরছাড়া হয়েছেন জানিয়ে দিন।তবে এখানেই একটি স্পষ্ট শর্ত বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তালিকায় থাকা কেউ যদি একুশের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর থাকে, তাহলে তাঁকে ঘরে ফেরানো হবে না। বরং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু যদি কেউ নির্দোষ হয় এবং সত্যিই ঘরছাড়া থাকেন, তাহলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার তাঁকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু।বিধানসভায় এই আলোচনা শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে দেখা করেন ডায়মন্ড হারবারের বিধায়ক পান্নালাল হালদার। সূত্রের খবর, তিনি শুভেন্দুকে বলেন যে বাইরে পরিস্থিতি এখনও অশান্ত। তখন মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরের দিন পুলিশের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে এবং সেখানে পান্নালালকেও থাকতে বলেন তিনি।শোনা যাচ্ছে, সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য লিখিত আমন্ত্রণপত্র চান পান্নালাল। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ, বিধানসভায় আগেই শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, বিরোধীদেরও সমানভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আর এবার পুলিশের বৈঠকে বিরোধী বিধায়ককে ডাক দিয়ে তিনি যেন সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট করে দিলেন।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আর গোপন কিছু নয়! বিধানসভার সব কার্যকলাপ লাইভ দেখানোর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিধানসভার প্রথম দিন থেকেই বড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়করা কে কতটা কাজ করছেন, কে নিয়মিত বিধানসভায় উপস্থিত থাকছেন, তা যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি জানতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিধানসভার কার্যকলাপ লাইভ সম্প্রচারের ঘোষণা করলেন তিনি। তাঁর কথায়, জনগণের নজরদারি আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, অতীতের অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা তিনি আর টেনে আনতে চান না। পুরনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ভুলে গিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নিয়ম মেনেই বিধানসভা চালানোর উপর জোর দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিধানসভাকে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ করে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য।তিনি জানান, বিধায়কদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারেন না তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কী কাজ করছেন। তাই বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার-সহ বিধানসভার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ সরাসরি সম্প্রচার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।বিধানসভায় বিশৃঙ্খলা ও অশালীন আচরণের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও বিধায়ককে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা উচিত নয়। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং গণতান্ত্রিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মঞ্চ।শুভেন্দু আরও জানান, বিধানসভায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এখনও ভোটাভুটির ক্ষেত্রে কাগজে লিখে মত জানাতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশন হলে বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণেই নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।বিরোধীদের উদ্দেশেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বিরোধীদের আরও বেশি করে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বিরোধী বিধায়করা সরাসরি মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। পাশাপাশি কোনও মন্ত্রী এলাকায় গেলে স্থানীয় বিধায়ককে আগাম জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।শেষে বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে চিঠি পাঠালেও উত্তর পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাবে। বিরোধীরা চিঠি দিলে তিনি নিজে তার উত্তর দেবেন বলেও জানান শুভেন্দু।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

নাম না করেই অভিষেককে নিশানা তাপস রায়ের! “বিজেপি নয়, ওর ব্যবস্থা করবে জনগণ আর তৃণমূল”

নতুন সরকার গঠনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা। স্পিকার নির্বাচনের দিন তৃণমূলকে একের পর এক আক্রমণ শানালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। নাম না করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। তাপসের বক্তব্য, বিজেপি তাঁর কিছু করবে না। তাঁর ব্যবস্থা করবে জনগণ এবং তৃণমূলই।শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন বিজেপির রথীন্দ্র বসু। এরপর বিভিন্ন দলের বিধায়করা বক্তব্য রাখেন। সেই সময় বক্তব্য রাখতে উঠে তাপস রায় শুরু থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করতে থাকেন। তৃণমূল বিধায়কদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, অনেক তো করেছেন। এবার দেখতে খারাপ লাগছে নাকি?এরপরই তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের ভোট ছিল না, এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। সেই ধর্মযুদ্ধে যারা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানান তিনি।নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে তাপস বলেন, বিধানসভায় কোনও দেশবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান যেন না ওঠে, তার জন্য প্রয়োজন হলে আইন আনতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।এরপরই নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তাপস রায়। তিনি বলেন, একজন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। যদিও বাংলার দলের আবার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক! এই মন্তব্যে তৃণমূল বিধায়করা প্রতিবাদ শুরু করলে তাপস বলেন, সব বলা যায়। বলতে দিতে হবে।তাপস আরও বলেন, সে বলেছিল হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলছি, এবার সে বাইরে বেরোক। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ আর তৃণমূলই করবে।ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়েও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাপসের দাবি, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে বিজেপির বহু কর্মী খুন হতেন। তিনি বলেন, আজ যদি ওরা ক্ষমতায় ফিরত, তাহলে দেড়শোর বেশি বিজেপি কর্মীর লাশ গুনতে হত। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হত। লক্ষ লক্ষ বিজেপি সমর্থক ঘরছাড়া থাকতেন।একসময় তৃণমূলেরই নেতা ছিলেন তাপস রায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাপস বলেন, আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, তাহলে আমাকে জেলে পাঠান।শেষে জয় শ্রীরাম এবং ভারত মাতার জয় ধ্বনি দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন বিজেপি বিধায়ক।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

পদ হারিয়েই বিস্ফোরক পোস্ট কাকলির! তৃণমূলে কি বাড়ছে বিদ্রোহ?

লোকসভায় মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। আর তারপর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ পদ হারানোর পর সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন কাকলি। সেই পোস্ট ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের একাংশ নেতার মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনে, কেউ আবার সমাজমাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকেই দলের খারাপ ফলের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাককে দায়ী করেছেন। সেই আবহেই কাকলির পোস্ট নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।গত বছরের অগস্ট মাসে আচমকাই লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দায়িত্ব দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। কিন্তু মাত্র নমাসের মধ্যেই ফের সেই পদে ফিরিয়ে আনা হল কল্যাণকে। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত?পদ থেকে সরানোর পর সমাজমাধ্যমে কাকলি লেখেন, ৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম। এই পোস্ট থেকেই স্পষ্ট, সিদ্ধান্তে তিনি যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।এর আগেও কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার একাধিক পোস্ট করে দলের অন্দরে চাঞ্চল্য ফেলেছিলেন। সমাজমাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে সিপিএম নেতৃত্ব এবং মহম্মদ সেলিমের প্রশংসাও করেছিলেন।আরও একটি পোস্টে বৈদ্যনাথ লিখেছিলেন, আমার মাকে প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই। প্রশ্ন করুন সব্যসাচী দত্ত কোথায়? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পোস্টের পর থেকেই কাকলির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।এখন ছেলের পর মা-ও প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখানোয় তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও কাকলির পোস্ট নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মে ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal